• ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Final

খেলার দুনিয়া

‌৫ বার বিশ্বজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ভারত, কোহলির বার্তায় কতটা উদ্বুদ্ধ যশরা?‌

গত বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও অল্পের জন্য শেষরক্ষা হয়নি। বাংলাদেশের কাছে ফাইনালে ডাকওয়ার্থলুইস নিয়মে হেরে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল। এবার আবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি ভারতের সামনে। যশ ধুল কি পারবেন মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি, উন্মুক্ত চাঁদ, পৃথ্বী শদের কৃতিত্ব স্পর্শ করতে? ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলেই কাইফ, কোহলিদের সঙ্গে একাসনে বসবেন যশ ধুল। ২০২২র আগে ৭ বার অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল ভারত। ৪ বার চ্যাম্পিয়ন। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের মতো চমকপ্রদ পারফরমেন্স আর কোনও দলের নেই। এবার সামনে ৫ বার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। দেশকে আবার বিশ্বসেরা করার দায়িত্ব যশ ধুল, শেখ রশিদ, ভিকি অস্তোয়াল, রবি কুমারদের সামনে। ইতিমধ্যেই একটা অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করে ফেলেছে ভারতীয় দল। টানা ৩ বার ফাইনালে ওঠা। ভারতের আগে কোনও দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ফাইনালে ওঠার পথে একটা ম্যাচও হারেনি ভারত। ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের পরিসংখ্যানও একই। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই ভারতের মতো দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এসেছে ইংল্যান্ড। ফাইনালে ভারত তাকিয়ে অধিনায়ক যশ ধুল ও সহঅধিনায়ক শেখ রশিদের ব্যাটের দিকে। সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ভারতের জয়ের ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন এই দুই ব্যাটার। করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছিলেন যশ ও রশিদ। পরে বল হাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন ভিকি অস্তোয়াল ও নিশান্ত সিন্ধু। জোরে বোলার রবি কুমার ও রাজ্যবর্ধন হাঙ্গারগেকরও দাপটের সঙ্গে বোলিং করছেন। তবে ফাইনালে নামার আগে ভারতীয় দলকে চিন্তায় রেখেছে দুই ওপেনার হার্নুর সিং ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর ফর্ম। ফাইনালে ভারতের লড়াই অবশ্য সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডও প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই দারুণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে এসেছে। ব্যাটিংয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক টম প্রেস্ট। বাঁহাতি জোরে বোলার জোসুয়া বাইডেন ১৩ উইকেট নিয়ে চমক দিয়েছেন। রেহান আমেদের স্পিনও ভারতকে সমস্যায় ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে ফাইনালে যে জোরদার লড়াই হবে, সেকথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তবে ফাইনালে আগে যশ ধুলদের বড় প্রাপ্তি বিরাট কোহলির ভিডিও বার্তা। ভিডিও বার্তায় কোহলি নিজের বিশ্বকাপ জেতার অভিজ্ঞতা যেমন শেয়ার করেছেন, তেমনই উদ্বুদ্ধ করেছেন যশ ধুলদের।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

U19 Asia Cup : ‌ব্যর্থ পাকিস্তান, অনূর্ধ্ব১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে গ্রুপ লিগে পাকিস্তানের কাছে হেরে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়ছিল ভারতীয় দল। সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেতে গেলে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জিততেই হয়। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে অবশেষে সেমিফাইনালে। সেমিফাইনালেও অপ্রতিরোধ্য ভারতীয় দল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে ১০৩ রানে হারিয়ে পৌঁছে গেল অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে। যশ ঢুলের দলের সামনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। ফাইনালে সামনে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার শারজায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রান তোলে ভারত। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন শাইক রশিদ। তিনি ১০৮ বলে ৯০ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে তিনটি চার ও একটি ছয়। ভিকি অস্তবল ১৮ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক যশ ঢুল ২৬ ও রাজ বাওয়া ২৩ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে রকিবুল হাসান নেন ৪১ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট।জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করে বাংলাদেশ। ৫ ওভারে তোলে ৩১। এরপরই প্রথম উইকেট হারায়। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। ৩৮.২ ওভারে ১৪০ রানেই গুটিয়ে যায়। আরিফুল ইসলাম সর্বাধিক ৪২ রান করেন। ভারতের হয়ে রাজ্যবর্ধন হঙ্গরগেকর, রবি কুমার, রাজ বাওয়া ও ভিকি অস্টওয়াল দুটি করে উইকেট নেন।অন্য সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ২২ রানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। ৪৪.৫ ওভারে ১৪৭ রানে শেষ হয় তাদের ইনিংস। ৭০ রানেই পড়ে গিয়েছিল ৮ উইকেট। সেখান থেকে ইয়াসিরু রডরিগো (অপরাজিত ৩১) ও মহীশ পাথিরানা (৩১) শ্রীলঙ্কাকে ১১৭ রানে পৌঁছে দেন। দশম উইকেটের জুটিতে ওঠে আরও মূল্যবান ৩০ রান। পাকিস্তানের হয়ে জিশান জমির ৩২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নেন। জবাবে খেলতে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ১২৫ রানেই শেষ পাকিস্তান। আহমেদ খান করেন সর্বাধিক ৩৬। শ্রীলঙ্কার হয়ে ১৪ রানে ৪ উইকেট নেন ত্রিভীন ম্যাথু।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Asian Champions Trophy Hockey : জাপানি ‘‌সুনামি’‌তে উড়ে গেল ভারত, ফাইনালের স্বপ্ন অপূর্ণ মনপ্রীতদের

এ যেন গ্রুপ লিগের উল্টোপূরান। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হকির গ্রুপ লিগের ম্যাচে জাপানকে হাফডজন গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত। সেমিফাইনালে সেই জাপানেরই মুখোমুখি হয়েছিলেন মনপ্রীতরা। গ্রুপ লিগের ফলাফলে হয়তো একটু বেশিই আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ছিল ভারতীয় শিবির। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিতে হল মনপ্রীতদের। জাপানের কাছে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন চূরমার হয়ে গেল টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ীদের। ভারতকে ৫২ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ লিগে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল জাপান। একই সঙ্গে পৌঁছে গেল এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকির ফাইনালে। গ্রুপ লিগে মনপ্রীতরা শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে জাপানকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়নি। সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে সেই একই স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিল জাপান। শুরু থেকেই ভারতীয় রক্ষণে আক্রমণের ঝড় তোলে। ১ মিনিটের মধ্যেই পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। যা কাজে লাগিয়ে জাপানকে এগিয়ে দেন সোতা ইয়ামাদা। প্রথম মিনিটে গোল খাওয়ার ধাক্কা ভারত সামলে ওঠার আগেই ব্যবধান বাড়ায় জাপান। দ্বিতীয় মিনিটে আবার পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। যা থেকে গল করে আবার ব্যবধান বাড়ায় জাপান। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে ভারতের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে দেয় জাপান। ম্যাচের প্রথম ৬ মিনিটের মধ্যে ৬টি পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। প্রথম কোয়ার্টারে কোনও আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ পায়নি ভারত। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে শুরুতেই প্রথম আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মনপ্রীতরা। ১৬ মিনিটে ভারতের হয়ে ব্যবধান কমান দিলপ্রীত সিং।এরপর মনপ্রীত সিংদের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচে ফিরতে পারে ভারত। জাপানি আক্রমণ সামলে মাঝে মাঝে প্রতি আক্রমণে উঠে আসছিল। কিন্তু ভারতের ম্যাচে ফেরার স্বপ্নে আবার ধাক্কা দেয় জাপান। ২৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান কেনতা তানাকা। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৩১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল জাপান। ৩৫ মিনিটে ভারতীয় রক্ষণের ভুলে ৪১ করে জাপান। ৪১ মিনিটে জাপানকে ৫১ গোলে এগিয়ে দেন গ্রিম। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ব্যবধান কমান হরমনপ্রীত সিং। ৫২ হওয়ার পর শেষদিকে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। একের পর এক পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। কিন্তু কাজে লাগাতে পারছিলেন না হরমনপ্রীতরা। ৬০ মিনিটে হার্দিক সিং ৫৩ করেন।

ডিসেম্বর ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustak Ali T20 : সুপার ওভারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ, কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় বাংলার

গ্রুপ লিগে পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নিল কর্ণাটক। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বাংলাকে সুপার ওভারে হারিয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল কর্ণাটক।টস জিতে কর্ণাটককে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বাংলার অধিনায়ক সুদীপ চ্যাটার্জি। বাংলার দুই জোরে বোলার মুকেশ কুমার ও আকাশ দীপের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারছিলেন না কর্ণাটকের দুই ওপেনার বিআর শরথ। রান তোলার গতি ভাল ছিল না কর্ণাটকের। তার মধ্যেই চতুর্থ ওভারে ধাক্কা খায় কর্ণাটক। ওভারের পঞ্চম বলে আকাশ দীপ তুলে নেন বিআর শরতকে (৯বলে৪)। কর্ণাটকের রান তখন ১৯। নবম ওভারের শেষ বলে উইকেটে জমে যাওয়া রোহন কদমকে (২৯ বলে ৩১) আউট করে বাংলাকে ব্রেক থ্রু দেন শাহবাজ আমেদ। বাংলার বোলারদের বিরুদ্ধে একেবারেই সাবলীল ছিলেন না কর্ণাটক অধিনায়ক মনীশ পান্ডে। ৩৪ বলে ২৯ রান করে তিনি সায়ন ঘোষের বলে প্রদীপ্ত প্রামানিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ক্রিজে এসেই ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন অভিনব মনোহর (৯ বলে ১৯)। তাঁকে থামিয়ে দেন ঋত্বিক চ্যাটার্জি। ১০ বলে ১৬ রান করে মুকেশ কুমারের বলে আউট হন অনিরুদ্ধ। করুণ নায়ারের ঝোড়ো ব্যাটিং কর্ণাটককে ২০ ওভারে ১৬০/৫ রানে পৌঁছে দেয়। করুণ নায়ার ২৯ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। বাংলার হয়ে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ, ঋত্বিক চ্যাটার্জি, সায়ন ঘোষ ও শাহবাজ আমেদ ১টি করে উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে দারুন শুরু করে বাংলা। ভি ব্যাসকের প্রথম ওভারেই ২০ রান তোলেন শ্রীবৎস গোস্বামী। দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় বাংলা। মাত্র ১ বল খেলে কোনও রান না করে বিদ্যাধর পাটিলের বলে করুণ নায়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন অভিষেক দাস। তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে আউট হন শ্রীবৎস গোস্বামী। ১০ বলে ২২ রান করে তিনি রান আউট হন। অধিনায়ক সুদীপ চাটার্জিও রান পাননি। ৯ বলে ২২ রান করে তিনি এমবি দর্শনের বলে মনীশ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। বাংলার রান তখন ৫.৪ ওভারে ৫১। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি ও কাইফ আমেদ। চতুর্দশ ওভারে পরপর দুবলে কাইফ আমেদ (২৬ বলে ২০) ও শাহবাজ আমেদকে (০) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। পরের ওভারেই ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জিকে তুলে নেন দর্শন। ৪০ বলে ৫১ রান করেন ঋত্ত্বিক চ্যাটার্জি। এক ঋত্ত্বিক আউট হলেও ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি ও প্রদীপ্ত প্রামানিক বাংলাকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ ওভারে বাংলার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২০ রান। ভি পাটিলের প্রথম দুটি বলে ৬ মারেন ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি। পরের বলে ১ রান নেন তিনি। চতুর্থ বলে ৪ মারেন আকাশ দীপ। পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে ম্যাচ করেন। শেষ বলে ১ রান করলেই জয়। মিড অফে ঠেলে রান নিতে দৌড়েছিলেন আকাশ দীপ। মণীশ পান্ডের সরাসরি থ্রো নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের উইকেট ভেঙে দেয়। ক্রিকেট পৌঁছতে পারেননি আকাশ দীপ। ম্যাচ টাই হয়। ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি ১৮ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।সুপার ওভারে বাংলার হয়ে ব্যাট করতে নামেন কাইফ আমেদ ও ঋত্ত্বিক রায় চৌধুরি। কারিয়াপ্পার প্রথম বলে ১ রান নেন কাইফ। পরের বলে তিনি আউট। কাইফ আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন শ্রীবৎস গোস্বামী। একটা বাউন্ডারি মেরে পরের বলে তিনি আউট। ৪ বলে ৫ রান তোলে বাংলা। পরপর দুবলে ২ রান নিয়ে ও ৬ মেরে কর্ণাটককে সেমিফাইনালে তোলে মণীশ পান্ডে।

নভেম্বর ১৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Syed Mustafa Ali T20 : গ্রুপ লিগের জয়ই বাংলার কাছে আত্মবিশ্বাসের রসদ

সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিযোগিতার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে বাংলার লড়াই ছিল মরণবাঁচনের। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র পেতে গেলে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না বাংলার সামনে। মরণবাঁচন ম্যাচে জ্বলে উঠেছিলেন বাংলার ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে বোলারদের দাপটে দুরন্ত জয় তুলে নিয়েছিল বাংলা। পেয়েছিল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ। অন্যদিকে, প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে হয়েছিল কর্ণাটককে। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে সৌরাষ্ট্রকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে কর্ণাটক। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে চেনা শত্রু সেই কর্ণাটকের বিরুদ্ধেই মাঠে নামছে বাংলা।গ্রুপ লিগে শক্তিশালী কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জয় নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বাংলার। কিন্তু টি২০ ক্রিকেটে কখন কী হয় বলা খুব কঠিন। শক্তির বিচারে অবশ্য কর্ণাটক অনেকটাই এগিয়ে। দেবদত্ত পাড়িক্কল, মণীশ পান্ডে, করুণ নায়ার, জগদেশা সুচিথ, কেসি কারিয়াপ্পার মতো ক্রিকেটাররা রয়েছেন। তবে বাংলার কাছে বড় সুবিধা কোয়ার্টার ফাইনালে কর্ণাটক পাচ্ছে না মায়াঙ্ক আগরওয়াল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ায় তিনি জাতীয় শিবিরে রয়েছেন। বাংলাও এই ম্যাচে পাচ্ছে ঋদ্ধিমান সাহাকে। তিনিও মায়াঙ্কের সঙ্গে রয়েছেন জাতীয় শিবিরে।গ্রুপ লিগে ছত্তিশগড়ের কাছে হারতে হয়েছিল বাংলাকে। হারিয়েছিল বরোদা, মুম্বই, কর্ণাটকের মতো শক্তিশালী দলকে। কোয়ার্টার ফাইনালেও সেই ছন্দ ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলা শিবির। কর্ণাটকের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বাংলার অধিনায়ক সুদীপ চ্যাটার্জি বলেন, প্রতিযোগিতায় নিজেদের পারফরমেন্সে আমরা আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছ্বসিত। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জয় আমাদের মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এখনও পর্যন্ত যে ক্রিকেট খেলেছি, তাতে মানসিকভাবে উজ্জীবিত। সব কটা ম্যাচেই আমরা দল হিসেবে খেলেছি। দলের প্রত্যেক সদস্য বিশ্বাস করে যে আমরা ভাল ক্রিকেট খেলছি। কোয়ার্টার ফাইনালেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারব। এটাই দলের ইএসপি।গ্রুপ লিগে দলে না থাকলেও নক আউটের জন্য শ্রীবৎস গোস্বামীকে দলে ফিরিয়েছেন বাংলার নির্বাচকরা। ঋদ্ধিমান সাহা না থাকায় তিনি প্রথম একাদশে খেলবেন। শ্রীবৎস গোস্বামীকে খেলানোর প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়ায় ঋদ্ধিমান সাহাকে পাব না। ঋদ্ধির পরিবর্তে শ্রীবৎস আমাদের প্রথম পছন্দ। ওর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। কর্ণাটক ম্যাচকে বড় ম্যাচ হিসেবে দেখছেন বাংলার অধিনায়ক। সুদীপ বলেন, কর্ণাটক যথেষ্ট শক্তিশালী দল। তবে তার জন্য আমাদের কোনও চাপ নেই। আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই এটাকে দেখছি। সেরাটা দিয়ে জেতার জন্য ঝাঁপাব।

নভেম্বর ১৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : প্রতিশোধের স্বপ্ন চূরমার, নিউজিল্যান্ডকে ৮ উইকেটে হারিয়ে প্রথম টি২০ বিশ্বজয় অস্ট্রেলিয়ার

২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে হেরে একদিনের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। এবছর টি২০ বিশ্বকাপে প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। প্রতিশোধ নিতে ব্যর্থ কিউয়িরা। ৭ বল বাকি থাকতে নিউজিল্যান্ডকে ৮ উড়িয়ে প্রথমবারের মতো টি২০ বিশ্বকাপ ঘরে তুলল অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের নায়ক মিচেল মার্শ। ৫০ বলে ৭৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টস জিতেও সেই একই সিদ্ধান্ত। সতর্কভাবে শুরু করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার ড্যারিল মিচেল ও মার্টিন গাপটিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চতুর্থ ওভারের পঞ্চম বলে জস হ্যাজেলউড তুলে নেন ড্যারিল মিচেলকে। ৮ বলে ১১ রান করে তিনি ম্যাথু ওয়েডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান মার্টিন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।১০ ওভারে কিউয়িরা তোলে ৫৭/১। একাদশতম ওভারে মিচেল স্টার্কের বলে ১৯ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। পরের ওভারের প্রথম বলে অ্যাডাম জাম্পাকে ছয় মারতে গিয়ে মার্কাস স্টয়নিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন গাপটিল। ৩৫ বলে তিনি করেন ২৮। এরপর গ্লেন ফিলিপকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান উইলিয়ামসন। জুটিতে ওঠে ৬৮। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে পরপর দুটি ৬ মেরে ৩৩ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন উইলিয়ামসন। ১৭ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে গ্লেন ফিলিপকে তুলে নেন জস হ্যাজেলউড। ১৭ বলে ১৮ রান করেন তিনি। একই ওভারের পঞ্চম বলে আউট হন কেন উইলিয়ামসন। ৪৮ বলে ৮৫ রান করেন তিনি। উইলিয়ামসনের ইনিংসে রয়েছে ১০টি ৪ ও ৩টি ৬। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭২ তোলে নিউজিল্যান্ড। ৭ বলে ১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন জিমি নিশাম। দুর্দান্ত বল করেন জস হ্যাজেলউড। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে আউট হন অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ট্রেন্ট বোল্টের বলে ড্যারিল মিচেলের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৭ বলে ৫ রান করেন ফিঞ্চ। এরপর জ্বলে ওঠেন ডেভিড ওয়ার্নার। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও তিনি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। ৩৮ বলে ৫৩ রান করে বোল্টের বলে বোল্ড হন ওয়ার্নার। তিনি মারেন চারটি ৪ ও ৩টি ৬। ওয়ার্নার ফিরে গেলেও চাপে পড়েনি অস্ট্রেলিয়া। কিউয়ি বোলারদের ওপর নিরঙ্কুশ প্রভাব বিস্তার করেন মিচেল মার্শ। তাঁর দাপটে ইশ সোধি, টিম সাউদিরা দিশা খুঁজে পাননি। তাঁকে যোগ্য সহায়তা করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ১৮.৫ ওভারে ১৭৩/২ রান তুলে প্রথম বারের মতো টি২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ৫০ বলে ৭৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মিচেল মার্শ। তিনি মারেন ৬টি ৪ ও ৪টি ৬। ১৮ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল। ট্রেন্ট বোল্ট ১৮ রানে ২ উইকেট নেন।

নভেম্বর ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : ফাইনালে কারা এগিয়ে?‌ কনওয়ের না থাকা বড় ধাক্কা নিউজিল্যান্ডের

টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। দুটি সেরা দল যে ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।এখন প্রশ্ন হল ফাইনালে এগিয়ে কোন দল? সত্যি কথা বলতে কী এই ধরণের ম্যাচে বিশেষ কোনও দলকে এগিয়ে রাখা বোকামি। একেই খেলাটার নাম ক্রিকেট। তার ওপর টি২০ ফর্ম্যাট। এই ফর্ম্যাটে ভবিষ্যতবানী করা খুবই কঠিন। টি২০ ক্রিকেটে টস জেতাটা অনেক সময় বড় ফ্যাক্টর হয়ে যায়। যেটা চলতি বিশ্বকাপের প্রায় সব ম্যাচেই দেখা গেছে। সুতরাং আমার মনে হয় না ফাইনালেও এর ব্যতিক্রম হতে পারে।ফাইনালে মুখোমুখি দুটি দল এর আগে কখনও টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। ফলে অস্ট্রেলিয়া যেমন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য মুখিয়ে, তেমনই নিউজিল্যান্ডও মুখিয়ে থাকবে। ২০১০ সালের টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই পরাজয়ের পর আবার টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে অসিরা। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড এই প্রথমবার। ফলে এবারের বিশ্বকাপ উপহার দেবে নতুন চ্যাম্পিয়নকে। নিউজিল্যান্ড ২০১৯ সালে একদিনের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ফাইনালে হেরেছিল। এইবছর আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়েছে। আইসিসি ইভেন্টে টানা তিনটি ফাইনাল খেলতে চলেছে। ফলে মানসিকভাবে ড়িউজিল্যান্ড কিন্তু এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে।আইসিসির প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়া কিন্তু বড় শক্তি। ধারাবাহিকতার দিক দিয়ে ওরা অনেক এগিয়ে। এই বিশ্বকাপের প্রথম থেকে ভাল ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। সবথেকে বড় কথা দলে একাধিক ম্যাচ জেতানোর ক্রিকেটার রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি দারুণ ভয়ঙ্কর। ছন্দে থাকলে ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ জুটি যে কোনও দলের বোলিং শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে পারে। আইপিএলের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওয়ার্নার ছন্দ ফিরে পেয়েছেন। মিডল অর্ডারে রয়েছে স্টিভ স্মিথের মতো ব্যাটসম্যান। বড় ম্যাচের ঘোড়া। ম্যাক্সওয়েলও যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন। ম্যাথু ওয়েড সেমিফাইনালে দেখিয়ে দিয়েছেন কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। বোলিং শক্তিও অসাধারণ। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউডের মতো জোরে বোলার রয়েছে। অ্যাডাম জাম্পার মতো স্পিনার যে কোনও দলকে বেগ দিতে পারেন।নিউজিল্যান্ডে সেই অর্থে কোনও তারকা নেই। ওদের আসল শক্তি দলগত খেলা। নিউজিল্যান্ড বরাবরই দল হিসেবে খেলে। এই বিশ্বকাপেও সেই একই ধারা অব্যাহত। মার্টিন গাপটিল, ড্যারিল মিচেল ছন্দে থাকলে যে কোনও বোলারের মাথাব্যথা হয়ে উঠতে পারে। কেন উইলিয়ামসন নিঃশব্দে বিপক্ষে খুন করতে পারেন। তবে ফাইনালে ডেভন কনওয়ের খেলতে না পারাটা বড় ধাক্কা। মিডল অর্ডারে বড় শূন্যতা তৈরি হবে। এমনিতেই লকি ফার্গুসন আগেই ছিটকে যাওয়ায় বোলিং কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ডেভিড ওয়ার্নারদের থামানোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, জিমি নিশামদের। দল হিসেবে খেললে নিউজিল্যান্ডকে আটকানো মুশকিল হবে। ভারতপাকিস্তান ম্যাচে যেমন চাপ থাকে, তেমনই অস্ট্রেলিয়ানিউজিল্যান্ড ম্যাচও স্নায়ুচাপের। এটাও অনেকটা ফ্যাক্টর করবে ফাইনালে।

নভেম্বর ১৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

T20 World Cup : থেমে গেল বিজয়রথ, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় পাকিস্তানের

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকেই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগোচ্ছিল পাকিস্তান। সেমিফাইলানে এসে সব জারিজুরি শেষ। অসিদের কাছে থেমে গেল বিজয় রথ। পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া। ১৪ নভেম্বর ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালে তোলার মূল কারিগড় মার্কাস স্টয়নিস ও ম্যাথু ওয়েড। টস জিতলে বিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠানোর ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে চলতি টি২০ বিশ্বকাপে। একদিকে যেমন টার্গেট দেখে ব্যাট করার সুবিধা পাওয়া যায়, তেমনই শিশিরের জন্য সমস্যায় পড়তে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ টস জিতে শিশিরের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন। গ্রুপ লিগের মতোই সেমিফাইনালে ধারাবাহিতা দুই পাক ওপেনারের। দারুণ শুরু করেছিলেন মহম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৭১। দশম ওভারের শেষ বলে জুটি ভাঙেন অ্যাডাম জাম্পা। জাম্পাকে ৬ মারতে গিয়ে লং অনে ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে ধরা পড়েন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। ৩৪ বলে তিনি করেন ৩৯। বাবর আজম ফিরে যাওয়ার পর দলকে টেনে নিয়ে যান মহম্মদ রিজওয়ান ও ফখর জামান। শুরুর দিকে কিছুটা মন্থর ব্যাটিং করলেও পরের দিকে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন দুই পাক ব্যাটসম্যান। ৫৭ বলে ৬৭ রান করে মিচেল স্টার্কের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মহম্মদ রিজওয়ান। তিনি মারেন ৩টি ৪ এবং ৪টি ৬। রিজওয়ান যখন আউট হন পাকিস্তান ১৭.২ ওভারে ১৪৩। পরের ওভারেই ১ বল খেলে কোনও রান না করে আউট হন আসিফ আলি। তাঁকে তুলে নেন প্যাট কামিন্স। শেষ দিকে ঝড় তুলেছিলেন ফখর জামান। শোয়েব মালিক (২ বলে ১) ব্যর্থ হলেও দলকে দারুণ জায়গায় পৌঁছে দেন ফখর। ৩২ বলে ৫৫ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। ফখর জামানের ইনিংসে রয়েছে ৩টি ৪ ও ৪টি ৬। ২০ ওভারে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত তোলে ৪ উইকেটে ১৭৬। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ভাল বল করেন অ্যাডাম জাম্পা। ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান দেন তিনি। তুলে নেন ১ উইকেট। মিচেল স্টার্ক ৪ ওভারে ৩৮ রানে ২ উইকেট তুলে নেন। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই ফিরে যান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। মাত্র ১ বল খেলে তিনি কোনও রান না করেই শাহিন আফ্রিদির বলে এলবিডব্লু হন। এরপর ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে চাপে পড়ে যান পাকিস্তান বোলাররা। জুটিতে ওঠে ৫১। শাদাব খানের বলে আফি আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন মার্শ (২২ বলে ২৮)। স্টিভ স্মিথ (৬ বলে ৫) ব্যর্থ। তিনিও শাদাব খানের শিকার। ডেভিড ওয়ার্নার (৩০ বলে ৪৯) জ্বলে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। তঁকে তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় ধাক্কা দেন শাদাব। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে (১০ বলে ৭) ফিরিয়ে অসিদের আরও চাপে ফেলে দেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ১২.২ ওভারে ৯৬/৫। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান মার্কাস স্টয়নিস ও ম্যাথু ওয়েড। শাহিন আফ্রিদির ১৯ তম ওভারই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। শেষ ১২ বলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য দরকার ছিল ২২ রান। শাহিন আফ্রিদির প্রথম বলে কোনও রান হয়নি। দ্বিতীয় বলে ১ রান লেগ বাই থেকে আসে। তৃতীয় বলে ম্যাথু ওয়েডের ক্যাচ ফেলে দেন হাসান আলি। পরের ৩ বলে তিনটি ছক্কা মেরে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ম্যাথু ওয়েড। ১৭ বলে ৪১ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। মার্কাস স্টয়নিস ৩১ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১৯ ওভারে ১৭৭/৫ তুলে ফাইনালে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের হয়ে শাদাব খান ২৬ রানে ৪টি, শাহিন আফ্রিদি ৩৫ রানে ১ উইকেট নেন।

নভেম্বর ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

TWO World Cup : মধুর প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

২০১৯ একদিনের বিশ্বকাপ ফাইনালের হারের মধুর প্রতিশোধ। আবু ধাবিতে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ ওভার বাকি থাকতে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল নিউজিল্যান্ড। কিউয়িদের স্মরণীয় জয় এনে দেন ড্যারিল মিচেল। তিনিই ম্যাচের সেরা।টস জিতে এদিন ইংল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। চোটের জন্য জেসন রয় খেলতে না পারায় সেমিফাইনালে জস বাটলারের সঙ্গে ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেন করতে নামেন জনি বেয়ারস্টো। ১৭ বলে ১৩ রান করে দলের ৩৭ রানের মাথায় আউট হন তিনি। অ্যাডাম মিলনের বলে বেয়ারস্টোর ক্যাচ অসামান্য দক্ষতায় তালুবন্দি করেন কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ইংল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ৪০। ৭.৩ ওভারে ৫০ রান পূর্ণ হয়। দলের ৫৩ রানের মাথায় আউট হন ইংল্যান্ডের অন্য ওপেনার জস বাটলার। ২৪ বলে ২৯ রান করে তিনি ইশ সোধির বলে এলবিডব্লু হন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৬৩ রান যোগ করেন ডেভিড মালান ও মইন আলি। চারটি চার ও একটি ছয়ের সাহায্যে ৩০ বলে ৪১ রান করে আউট হন মালান।মালান ফিরে গেলেও লিভিংস্টোনকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান মইন আলি। ১৮ তম ওভারে অ্যাডাম মিলনের বলে ১৬ রান তোলেন মইন ও লিভিংস্টোন। ১৯.২ ওভারে জিমি নিশামের বলে মিচেল স্যান্টনারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিভিংস্টোন। ১০ বলে তিনি করেন ১৭। টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম অর্ধশতরান করে ৩৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন মইন আলি। তিনি মারেন ৩টি ৪ ও ২টি ৬। অধিনায়ক মর্গ্যান ২ বলে ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তোলে ইংল্যান্ড। টিম সাউদি ৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট পান। ট্রেন্ট বোল্ট ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে কোনও উইকেট পাননি। অ্যাডাম মিলনে, ইশ সোধি ও জিমি নিশাম ১টি করে উইকেট নেন।ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আউট হন মার্টিন গাপটিল (৪)। তাঁকে তুলে নেন ক্রিস ওকস। কেন উইলিয়ামসনও (৫) দ্রুত ফেরেন। তিনিও ওকসের শিকার। ১৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পরে নিউজিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান ড্যারেল মিচেল ও ডেভন কনওয়ে। জুটিতে ওঠে ৯২ রান। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে আউট হন কনওয়ে। তাঁকে ফেরান লিয়াম লিভিংস্টোন। জিমি নিশাম ১১ বলে ১৭ রান করে আউট হন। দুর্দান্ত ব্যাট করেন মিচেল। ৪৭ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনি দলকে জয় এনে দেন। ১৯ ওভারে ১৬৭/৫ তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

নভেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

SAFF Championship : মেসিকে স্পর্শ সুনীলের, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আধিপত্য ভারতের

লিগ পর্বে প্রথম দুটি ম্যাচে ড্র করে একসময় ফাইনালে ওঠাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ দুটি ম্যাচ জিতে ফাইনালের ছাড়পত্র। অবশেষে নেপালকে ৩০ ব্যবধানে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আধিপত্য বজায় রাখল ভারত। এই নিয়ে ৮ বার চ্যাম্পিয়ন হল। ২০১৫ সালে কেরলে আফগানিস্তানকে হারিয়ে শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সুনীল ছেত্রিরা। ফাইনালেও গোল করে লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করলেন সুনীল। নেপালের বিরুদ্ধে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাক বলেছিলেন, তাঁর দল যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী নয়। সুনীল ছেত্রিরা যে সত্যিই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই তার প্রমাণ মিলেছে। লিগ পর্যায়ের মতো এদিনও রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল নেপাল। ওই ম্যাচের না হয় আলাদা উদ্দেশ্য ছিল। ১ পয়েন্ট পেলেই ফাইনালের ছাড়পত্র পেয়ে যেত নেপাল। ফাইনালে তো আর সেই ব্যাপার ছিল না। আসলে নেপাল কোচ আব্দুল্লাহ আলমুতাইরির লক্ষ্য ছিল শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে রক্ষণ শক্ত করে প্রতিআক্রমণভিত্তিক ফুটবল খেলা। রক্ষণে জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন নেপাল কোচ। ফলে বারবার আক্রমণে উঠে গিয়েও তিন কাঠি খুঁজে পাচ্ছিলেন না সুনীল ছেত্রি, মনবীর সিংরা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ঝড় তুলেছিল ভারত। ৪ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও এসেছিল। মহম্মদ ইয়াসিরের দুরপাল্লার শট আংশিক প্রতিহত করেন নেপাল গোলকিপার লিম্বু। ফিরতি বল যায় অনিরুদ্ধ থাপার কাছে। তাঁর শট আবার বাঁচান নেপাল গোলকিপার। ৬ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে গোল করার সুযোগ পেয়েছিল নেপাল। নোয়াং শ্রেষ্ঠা কাজে লাগেতে পারেননি। বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে এলেও নেপাল পেনাল্টি বক্সে রক্ষণের ভুলে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন মনবীররা। তবে প্রথমার্ধে সবথেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সুনীল ছেত্রি। ডানদিক থেকে মহম্মদ ইয়াসিরের ভেসে আসা সেন্টার সুবিধাজনক জায়গা থেকেও জালে রাখতে পারেননি সুনীল। তাঁর ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মালদ্বীপের বিরুদ্ধে লিগের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় ফাইনালে রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন না ভারতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাক। তাঁর পরিবর্তে দল পরিচালনা করেন সহকারী কোচ বেঙ্কটেশ। ম্যাচের বিরতিতে তাঁর পেপ টকই বদলে দেয় ভারতীয় দলকে। প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন স্টিম্যাক। তাঁর পরামর্শেই দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ভারত। শুরু থেকেই গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠেন সুনীলরা। মাঝখান দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে কোনও ফায়দা না ওঠায় দুপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিলেন মহম্মদ ইয়াসির, প্রীতম কোটালরা। ফলও পেয়ে যায়।ম্যাচের ৪৯ মিনিটে কাঙ্খিত গোল পেয়ে যায় ভারত। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে এসে সেন্টার করেন প্রীতম কোটাল। দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুনীল ছেত্রি। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে লিওনেল মেসিকে স্পর্শ করেন তিনি। দেশের হয়ে দুজনের গোল সংখ্যাই ৮০। এক মিনিট পরেই ব্যবধান বাড়ান সুরেশ সিং। মহম্মদ ইয়াসিরের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে তিনি গোল করেন। ৯০ মিনিটে ভারতের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন সাহাল।

অক্টোবর ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IPL Final : মধুর প্রতিশোধ, ২০১২–র বদলা নিয়ে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস

গতবছর আইপিএলের প্লে অফেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি চেন্নাই সুপার কিংস। এবছর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। শুরু থেকেই ছন্দ ধরে রেখে ফাইলানে। তারা যে ফ্লুকে ফাইনালে ওঠেনি, প্রমাণ করে দিল ধোনি ব্রিগেড। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ২৭ রানে হারিয়ে আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংস। ২০১২ সালে ফাইনালের হারের মধুর প্রতিশোধ। এই নিয়ে ৪ বার আইপিএল শিরোপা জিতল চেন্নাই। আইপিএল ফাইনালে নতুন কীর্তি মহেন্দ্র সিং ধোনির। অধিনায়ক হিসেবে ৩০০তম টি২০ ম্যাচে মাঠে নেমে দলকে খেতাব এনে দিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন হল চেন্নাই। এবছর আইপিএলে ৬ ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে ৬টি ম্যাচেই জিতেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। তাই হয়তো বিপক্ষকে রান তাড়া করার সুযোগ দেননি কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক ইওয়িন মর্গ্যান। তাছাড়া তাঁর দল যেভাবে রান তাড়া করে পরপর ম্যাচ জিতেছে, তাতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়েছে। রাতের দিকে শিশিরের কথাও তিনি মাথায় রেখেছিলেন। তাই হয়তো ফাইনালে টস জিতে চেন্নাই সুপার কিংসকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন নাইট ক্যাপ্টেন। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে নিজেদের মেলে ধরেন চেন্নাই সুপার কিংসের দুই ওপেনার ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ও ফাফ ডুপ্লেসি। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে দুজনে তোলেন ৫০। ওপেনিং জুটিতে ৮ ওভারের ওঠে ৬১। জুটি ভাঙেন সুনীল নারাইন। তঁার বলে শিবম মাভির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ২৭ বলে তিনি করেন ৩২। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান রবিন উথাপ্পা ও ফাফ ডুপ্লেসি। ঝড় তুলে ১৫ বলে ৩১ রান করে সুনীল নারাইনে বলে আউট হন উথাপ্পা। ঋতুরাজ, উথাপ্পা আউট হলেও মনসংযোগে চিড় ধরেনিই ডুপ্লেসির। শুরুর দিকে যেমন ইনিংস গড়ার দিকে মন দিয়েছিলেন, ডেথ ওভারে ঝড় তোলেন। তাঁর ঝড়েই উড়ে গেলেন লকি ফার্গুসনরা। ডুপ্লেসিকে যোগ্য সহায়তা দেন মঈন আলি। ডেথ ওভারে এই দুজনের দাপটে দিশেহারা হয়ে পড়েন নাইট বোলাররা। শেষ ৫ ওভারে চেন্নাই তোলে ৬১। ডুপ্লেসি ও মঈনে জুটিতে ৩৯ বলে ওঠে ৬৮। ইনিংসের একেবারে শেষ বলে আউট হন ডুপ্লেসি। ৫৯ বলে ৮৬ রান করেন তিনি। অন্যদিকে মঈন ২০ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে চেন্নাই তোলে ১৯২/৩। ইওয়িন মর্গ্যানের লক্ষ্য ছিল কম রানে চেন্নাইকে বেঁধে রেখে জয় তুলে নেওয়া। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন চেন্নাইয়ের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। তবে সামনে বড় রানের লক্ষ্য দেখেও ঘাবড়ে যাননি নাইট রাইডার্সের দুই ওপেনার। দলকে ফাইনালে তোলার কৃতিত্ব দাবি করতেই পারেন শুভমান গিল ও বেঙ্কটেশ আয়ার। ফইনালেও দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন নাইটদের দুই ওপেনার। ওপেনিং জুটিতে ৯১ তুলে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন চেন্নাই শিবিরের ওপর। এই সময় বেশ দিশেহারা লাগছিল চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। শার্দূল ঠাকুর বল করতে এসে ক্যাপ্টেনকে চাপমুক্ত করেন। একাদশতম ওভারের চতুর্থ বলে বেঙ্কটেশ আয়ারকে (৩২ বলে ৫০) তুলে নিয়ে নাইটদের প্রথম ধাক্কা দেন। এক বল পরেই ফেরান নীতীশ রানাকে (০)। এক বলের ব্যবধানে উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলাতে পারেনি নাইটরা। সুনীল নারাইনকে (২) তুলে নিয়ে নাইটদের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে দেন জস হ্যাজেলউড। এরপর শুভমান গিলকে (৪৩ বলে ৫১) দীপক চাহার ফেরাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে নাইটদের মিডল অর্ডার। পরপর ফিরে যান দীনেশ কার্তিক (৯), সাকিব আল হাসান (০), রাহুল ত্রিপাঠী (২), ইওয়িন মর্গ্যান (৪)। লকি ফার্গুসন (১১ বলে অপরাজিত ১৮) ও শিবম মাভি (১৩ বলে ২০) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৬৫/৯ রানে থেমে যায় নাইটদের ইনিংস। ৩৮ রানে ৩ উইকেট নেন শার্দূল ঠাকুর। হ্যাজেলউড ও রবীন্দ্র জাদেজা ২টি করে উইকেট নেন। ২০১২ সালের পুনরাবৃত্তি হল না। মর্গ্যান ব্রিগেডকে ২৭ রানে হারিয়ে ২০১২ সালের ফাইনালের হারের মধুর প্রতিশোধ নিল চেন্নাই।

অক্টোবর ১৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

K‌KR-Russell : ফাইনালে প্রথম একাদশে ফিরবেন আন্দ্রে রাসেল?‌ দ্বিধায় নাইট টিম ম্যানেজমেন্ট

দীর্ঘদিন ঘরে ট্রফি আসেনি। চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে কি এবারের আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কলকাতা নাইট রাইডার্স? নাইট রাইডার্স শিবির যেমন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, তেমনই ২০১২র আইপিএলের ফাইনালের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। সেবার নাইটদের কাছে হেরে খেতাব জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনিদের। হাইভোল্টেজ ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর নাইট রাইডার্স শিবির। মর্গ্যান ব্রিগেডের মনোবল বাড়িয়েছে সম্প্রতিক পারফরমেন্স। প্রথম পর্বে ৭ ম্যাচে ৫টিতে হেরে প্লে অফের লড়াই থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল নাইট শিবির। দ্বিতীয় পর্বে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। এলিমিনেটরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে অবশেষে ফাইনালের ছাড়পত্র। এটাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে নাইট শিবিরের।চেন্নাই সুপার কিংসকেও পিছিয়ে রাখা যাবে না। আইপিএলের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল ধোনি ব্রিগেড। বিপক্ষের যাবতীয় চ্যালেঞ্জ হেলায় উড়িয়ে একের পর এক ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছিল। লিগ পর্যায়ে শেষদিকে কয়েকটা ম্যাচে হোঁচট খেতে হলেও প্লে অফের প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৪ উইকেটে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে ফাইনালের ছাড়পত্র জোগাড় করে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস। আবার ফিনিশারের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। দলকে জিতিয়ে ধোনির যেমন আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে, চেন্নাই শিবিরেরও মনোবল তুঙ্গে। দুই দলের ফাইনালের লড়াই যে জমে উঠবে সেকথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামার আগে নাইট শিবিরকে স্বস্তি দিচ্ছে আন্দ্রে রাসেলের সুস্থ হয়ে ওঠা। খেলার জায়গায় চলে এসেছেন নাইটদের এই অলরাউন্ডার। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের জন্য বেশ কয়েকটা ম্যাচে খেলতে পারেননি রাসেল। আপাতত তিনি ফিট। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে নেটে বোলিংও করেছিলেন। তিনি যে প্রথম একাদশে ফিরতে পারেন, তেমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন দলে মেন্টর ডেভিড হাসি। রাসেল ফিরলে দল আরও শক্তিশালী হবে, সেকথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। তবে কার জায়গায় তাঁকে খেলানো হবে, তা নিয়ে দ্বিধায় নাইট টিম ম্যানেজমেন্ট। রাসেলের পরিবর্তে এতদিন সাকিব আল হাসানকে প্রথম একাদশে সুযোগ দিয়েছিল। সুযোগ পেয়েই প্রতিটা ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরেছেন সাকিব। দুবাইয়ের মন্থর উইকেটে তাঁর স্পিন বোলিং কার্যকরী হতে পারে। সবদিক মিলিয়ে প্রথম একাদশ নিয়ে দ্বিধায় নাইট টিম ম্যানেজেমন্ট।

অক্টোবর ১৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ডুরান্ড জয়ের স্বপ্নভঙ্গ, বাংলার সম্মান রক্ষা করতে পারল না মহমেডান

স্বপ্ন ছিল, ছিল আশাও। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে রবিবার যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন মহমেডান সমর্থকরা। দীর্ঘদিন পর সর্বভারতীয় ট্রফি জয়ের হাতছানি। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হল না। ৮ বছরের পুরনো ইতিহাস স্পর্শ করতে পারল না সাদাকালো ব্রিগেড। এফসি গোয়ার কাছে ১০ ব্যবধানে হেরে ডুরান্ড কাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল মহমেডান স্পোর্টিংয়ের কাছে। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে এডু ভেদিয়ার দুরন্ত গোলে স্বপ্নভঙ্গ মহমেডান সমর্থকদের।বিকেল থেকেই যুবভারতীর পথে গাড়ি লম্বা লাইন। সাদাকালো পতাকায় সাজানো। আরোহীদের গন্তব্য যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। মহমেডান সমর্থকদের সৌজন্যে দীর্ঘদিন পর কলকাতায় ফুটবল ঘিরে উন্মাদনা। ডুরান্ড ফাইনালে বাংলা বনাম গোয়ার লড়াই। মহমেডান ক্লাবের হাতে ছিল বাংলার সম্মান রক্ষার ব্যাটন। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের অবর্তমানে স্পোর্টিং। ফেরাতে পারল না ২০১৩ সালের স্মৃতি। এফসি গোয়া আইএসএলের দল। ডুরান্ড কাপকে আইএসএলের প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছিল। তাই পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে খেলতে এসেছিল। এইরকম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে লড়াই যে সহজ হবে না, জানতেন মহমেডান স্পোর্টিং কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ। তাই শুরু থেকেই আক্রমণের রাস্তায় হাঁটেননি। প্রতি আক্রমণভিত্তিক ফুটবলের দিকে নজর দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, এফসি গোয়া শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহমেডানের ওপর। কিন্তু মহমেডান রক্ষণ সতর্ক থাকায় তেমন সুবিধা করতে পারেনি। এফসি গোয়ার যাবতীয় আক্রমণ এসে আটকে যাচ্ছিল পেনিট্রেটিভ জোনে। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করার মতো ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।অন্যদিনের তুলনায় মহমেডানের আক্রমণ এদিন অনেকটাই নিস্প্রভ ছিল। তার অন্যতম কারণ নিকোলা স্টোজানোভিচ। ডিফেন্সকে মজবুত করতে এদিন তাঁকে একটু পেছন থেকে ব্যবহার করেন মহমেডান কোচ আন্দ্রে চেরনিশভ। ফলে বল সরবরাহ বেশি না হওয়ায় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেননি মার্কাস জোসেফ। তার মাঝেই ৩৪ মিনিটে দুরন্ত শটে মিলন সিং এফসি গোয়ার জালে বল রাখলেও অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও সেই বিরক্তিকর ফুটবল। কোনও দলই ঝুঁকি না নেওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের নিশ্চিত সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচের ফল থাকে গোলশূন্য। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মহমেডান। নিকোলার কর্নারে ওয়েন ভাজের হেড এফসি গোয়া গোলকিপার নবীনকুমারের হাতে চলে যায়। ১০৫ মিনিটে বাজিমাত এফসি গোয়ার। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া দুরন্ত ফ্রিকিকে গোল করেন এডু ভেদিয়া। তাঁর বাঁপায়ের শট মহমেডান গোলকিপার জোথানমাইওয়ার নাগাল এড়িয়ে দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে নিকোলার বাঁপায়ে শট অসাধারন দক্ষতায় বাঁচান গোয়ার গোলকিপার নবীনকুমার।

অক্টোবর ০৩, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Fashion Show : এমডিজে জোড়ি নাম্বার ওয়ানের গ্র্যান্ড ফিনাল

এমডিজে জোড়ি নাম্বার ওয়ানের গ্র্যান্ড ফিনাল হয়ে গেল কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে। যেখানে বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিল অভিনেত্রী রিচা শর্মা, সেলিব্রিটি মোটিভেশনাল স্পিকার ন্যায়না মোর, লোপামুদ্রা মণ্ডল, ডলি জৈন, মডেল অ্যাডোলিনা গাঙ্গুলি সহ আরও অনেকে।এই জোড়ি নাম্বার ওয়ানে জয়ী হন ঋতু জয়সওয়াল ও আকাশ জয়সওয়াল। ক্রাউন জিতে তারা জানালেন,খুবই ভালো লাগছে জিততে পেরে। এত সুন্দর একটা ইনিশিয়েটিভ সত্যিই খুব ভালো। লোপামুদ্রা মণ্ডল বললেন,জোড়ি নাম্বার ওয়ান কনটেস্টের সঙ্গে আমি প্রথম থেকেই যুক্ত। আজ এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। জোড়িরা খুব সুন্দরভাবে পারটিসিপেট করেছে। অভিনেত্রী রিচা শর্মা জানালেন,খুব ভালো লাগছে। আমার নিজের ২২ বছর বিয়ে হয়েছে। আর এখানে এত সুন্দর সুন্দর ম্যারেড কাপেল পারফর্ম করল। দারুণ এক্সপিরিয়েন্স। এরকম ইউনিক জিনিস আগে কেউ দেখেনি। ডলি জৈন জানালেন,সব কাপলই সমানভাবে দারুণ পারফরম্যান্স করে। যেটা আমাকে মুগ্ধ করেছে।আরও পড়ুনঃ টিকা নেওয়ার পর অ্যান্টিবডি কমে গিয়েছে? কী বলল আইসিএমআর?জয়ী কাপেলের হাতে আইফোন তুলে দেওয়া হয়। ক্রাউন পড়িয়ে তাদের সম্মানিত করা হয়। প্রত্যেক জোড়িই এই বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজেদের অভিনবত্বের ছাপ রাখে। জোড়ি দুই কাপল সব শেষে কিছুক্ষণ নাচের তালে মেতেও ওঠেন।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১
বিনোদুনিয়া

Indian Idol: ১২ ঘন্টার দীর্ঘ লড়াই শেষে ১২ তম ইন্ডিয়ান আইডল স্নিগ্ধ হাওয়া পবনদীপ

উত্তরাখণ্ডের এক মনোরম জায়গা চম্পাওয়াতের পবনদীপ রাজন যেন পড়ন্ত বিকালের পাহাড়ি এলাকার ঝলক শান্ত স্নিগ্ধ হাওয়া। তাঁর কন্ঠ মাধুর্যে মনমুগ্ধ গুনাগ্রাহীদের আশ্বস্ত করে ১২ তম ইন্ডিয়ান আইডলের বিজয়ী হলেন পবন। সারা ভারতের অসংখ্য সঙ্গীত প্রেমীর ভোটের নিরিখে বিজয়ী হন পবনদীপ, তাঁকে বিজয়ীর ট্রফির সঙ্গে সঙ্গে ২৫ লাখের নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও মারুতি ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে একটি ব্র্যান্ড নিউ মারুতি সুইফট গাড়ি উপহার স্বরুপ দেওয়া হয়।দীর্ঘ কয়েকমাসের কঠিন প্রতিযোগিতা শেষে যুগ্ম রানার্স আপ হন বাংলার অরুণিতা কাঞ্জিলাল এবং সায়লি কাম্বলে। বাংলার অসংখ্য মানুষের নয়নের মনি অরুণিতা তাঁর সুরের মায়াজালে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন সমগ্র অনুষ্ঠানে, সঙ্গীত বিশেষজ্ঞদের অনেকেই তাঁর মধ্যে শ্রেয়া ঘোষালের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। বাংলার মেয়ে অরুণিতার অসংখ্য গুনাগ্রাহী সারাটা দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর জয়ের আশায়, যে কোনও প্রতিযোগিতায় বিজয়ী একজনই হয়, কিন্তু অরুণিতা রানার্স আপ হয়েও মানুষের মন জয় করে নিতে সমর্থ হয়েছেন।রবিবারের গ্র্যান্ড ফিনাল পর্বের মধ্যরাতে পবনদীপকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর তাঁর পরিবারও উপস্থিত থেকে পাবনকে নিয়ে উচ্ছাস-আবেগে ভেসে যান। সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে পবনদীপ বলিউডের বিভিন্ন গায়কের জনপ্রিয় গানগুলি তাঁর নিজের মতো করে পরিবেশন করে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন দর্শককুলকে। তাঁর সাথে বাংলার অরুণিতার বেশ কিছু রোমান্টিক গান এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে উপস্থিত দর্শক থেকে শুরু করে বিচারকরা পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে রোম্যান্টিক কিছু খোঁজার চেষ্টা করে গিয়েছেন। যদিও তাঁরা খুব সন্তর্পনে এই আলোচনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখে নিজেদের উপস্থাপনাতেই ব্যস্ত ছিলেন।বিজয়ী ঘোষণার পর অনুষ্ঠান সম্পর্কে বলতে গিয়ে পবনদীপ বলেন, ইন্ডিয়ান আইডল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা শিল্পীদের সম্মানের উচ্চশিখরে পৌছে দেয়। এটি আপনাকে যে ধরনের এক্সপোজার দেয় তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো কথা এই মুহূর্তে আমার মনে আসছে না। অতুলনীয়! শো চলাকালীন আমি একক ভাবে ও সহ শিল্পীদের সঙ্গে এবং বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্টিত শিল্পীদের এত গান গাইতে পেরেছি, এবং আমাদের গাইড করার জন্য দেশের অন্যতম সেরা বিচারক এবং বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত থেকেছেন। আমার ইন্ডিয়ান আইডল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার মূল কারণ ছিল অনেক কিছু শেখার চেষ্টা, বিজয়ী হওয়ার ইচ্ছায় আমি আসিনি। আমি কৃতজ্ঞ যে এই শোতে এত মাস কাটানোর পরে আমরা এখন প্লেব্যাকের জন্য প্রস্তুত।তিনি আরও বলেন যে বেশ কয়েক মাস ধরে এখানে একসঙ্গে এতজন বন্ধুর সাথে থাকা, গান গাওয়া, খাওয়া, ঘুরে বেড়ানো, রেওয়াজ করা, খুনসুটি করার পর শো ছেড়ে চলে যেতে হবে বলে আমরা সবাই ব্যাথিত ও ভারাক্রান্ত। এত মাস পরে, আমরা যখন বাক্স গোছাচ্ছি যে যার নিজের জায়গায় ফিরে যাবার জন্য, খুব মনখারাপ লাগাছে। শোটি আমাদের নতুন বাড়ি হয়ে উঠেছিল এবং মনে হচ্ছে যেন আমরা গতকালই এসেছি। এখন মনে হচ্ছে আরও কিছুদিন আমরা থেকে যেতে পারলে আরও বেশি আনন্দ হতো, আরও বেশী শিখতে পারতাম।চূড়ান্ত পর্বে কিয়ারা আডবাণী, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, দ্য গ্রেট খালি, কুমার শানু, উদিত নারায়ণ এবং অন্যান্য বিশিষ্ঠরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক হিসাবে হাজির ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী সোনু কাক্কর, হিমেশ রেশমিয়া, বিশাল দাদলানি এবং অনু মালিক।ফিনাল পর্বটি সঞ্চালনা করেন উদিত নারায়ণের সুপুত্র আদিত্য নারায়ণ, ভারতী সিং এবং হর্ষ লিম্বাচিয়া। ইন্ডিয়ান আইডলের সমাপ্তি অনুষ্ঠানটি টানা ১২ ঘণ্টা ব্যাপী চলছে এবং এটি কোনও রিয়েলিটি শোয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘতম। ফাইনালিস্ট পবনদীপ রাজন, অরুণিতা কাঞ্জিলাল, নিহাল তাওরো, সায়লি কাম্বলে, মোহাম্মদ দানিশ এবং শন্মুখপ্রিয়া রবিবারের পর্বে বিজয়ীর ট্রফির জন্য লড়াই করছেন।দ্য গ্রেট খালি সহ অন্যান্য বিশেষ অতিথিরা ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ পর্বের জন্য শোতে যোগ দিয়েছিলেন। আলকা ইয়াগনিক লতা মঙ্গেশকরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অলকা ও উদিত নারায়ণ -এর পুরনো দিনের ঝলক এই অনুষ্ঠানের উপরি পাওনা। বিচারক সোনু কক্করের সঙ্গে দানিশের বিখ্যাত সূফি শিল্পী নসরত ফতেহ আলি খানের গান এক অন্য মাত্রা পায়।ফিনাল পর্বে উপস্থিত থেকে সনি এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্ক-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (Chief Executive Officer ) এনপি সিং বলেন যে কোনও প্রতিযোগিতায় একজনই বিজয়ী হয়। কিন্তু প্রতিযোগিতা না হলে সেই বিজয়ীর মর্যাদা থাকে না। তিনি আরও বলেন, চুড়ান্ত পর্বের সকলেই বিজয়ী,প্রতিযোগিতার নিয়ম মেনে আমরা এক জনের নাম ঘোষণা করব। দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা এই অনুষ্ঠানের সকল সদস্যকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

আগস্ট ১৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Bajrang Punia : ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইলের সেমিফাইনালে হেরে গেলেন বজরং পুনিয়া

সোনার স্বপ্ন দেখিয়েও শেষরক্ষা হল না। টোকিও অলিম্পিকে পুরুষদের কুস্তিতে ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের সেমিফাইনালে আজারবাইজানের হাজি আলিয়েভের কাছে হেরে গেলেন বজরং পুনিয়া। ১২৫ ব্যবধানে উড়ে গেলেন এই ভারতীয় কুস্তিগীর। তবে পদক জয়ের সম্ভাবনা এখনও শেষ হয়নি বজরং পুনিয়ার। রেপেসেজের মাধ্যমে তাঁর এখনও ব্রোঞ্জ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেমিফাইনালে আক্রমণাত্মক মেজাজেই বাউট শুরু করেছিলেন বজরং। কিন্তু শুরু থেকে হাজি আলিয়েভের বিরুদ্ধে একের পর এক ভুল করতে থাকেন। বজরংকে দুদুবার ট্যাকেল করে এবং লেগ অ্যাটাক করে ৮ পয়েন্ট তুলে নেন রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী আজারবাইজানের আলিয়েভ। একসময় ৯২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। এই অবস্থায় আর লড়াইয়ে ফেরা সম্ভব হয়নি বজরং পুনিয়ার। যখন তিনি পয়েন্ট সংগ্রহ করেন, ততক্ষণে বাউট প্রায় পকেটে ভরে ফেলেছেন আলিয়েভ। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালের দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন বজরং পুনিয়া। ইরানের মোর্তাজা ঘিয়াসিকে ২১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন। শুরু থেকেই ইরানের কুস্তিগীরের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। বিশ্ব ক্রমতালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বজরংয়ের সব আক্রমণই দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক রণনীতিতে নির্বিষ করে দেন প্রতিপক্ষ। উল্টে এক পয়েন্টে এগিয়ে যান ইরানের মোর্তেজা। সেই পয়েন্টের ব্যবধান মিটিয়ে ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করেন পুনিয়া। সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের পাতা ফাঁদ থেকেও নিজেকে রক্ষা করেন ভারতীয় কুস্তিগীর। একদম শেষ মুহুর্তে বজরং পুনিয়ার কাছে দুর্দান্ত সুযোগ আসে। তার সদ্ব্যবহার করেন ভারতীয় কুস্তিগীর। ২ পয়েন্ট অর্জন করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে উল্টে ম্যাচ জিতে নেন পুনিয়া। ফল পয়েন্টের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। অন্যদিকে মহিলাদের ৫০ কেজি ফ্রিস্টাইল ক্যাটেগরির প্রথম রাউন্ডেই হারের মুখ দেখতে হয় ভারতের সীমা বিসলাকে। ১-৩ ফলাফলে ম্যাচ হারেন এই মহিলা কুস্তিগীর। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা থেকেও ছিটকে গিয়েছেন এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগীর। প্রথম রাউন্ডে সীমাকে হারানো কুস্তিগীর কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়ায় রেপেচেজ রাউন্ডেও খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছেন ভারতীয় তারকা।

আগস্ট ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Hockey : ‌বেলজিয়ামের কাছে হেরে সোনার স্বপ্ন শেষ মনপ্রীতদের

২ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। তাতেও শেষরক্ষা হল না। বেলজিয়ামের কাছে ৫২ ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল মনপ্রীতদের। হ্যাটট্রিক করে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকস। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে ভারতের। ব্রোঞ্জ জয়ের লড়াইয়ে নামতে হবে। ম্যাচের ২ মিনিটেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি কর্ণার থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লয়িক লুপার্ট। পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে খেলায় ফিরে আসে। প্রথম ৫ মিনিট বেলজিয়ামের আধিপত্য থাকলেও আস্তে আস্তে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাত নিয়ে নেয় ভারত। ৭ মিনিটে পরপর দুটি পেনল্টি কর্ণার আদায় করে। দ্বিতীয় পেনাল্টি কর্ণার থেকে সমতা ফেরান হরমনপ্রীত সিং। প্রতিযোগতিতায় এটা তাঁর পঞ্চম গোল। পরের মিনিটেই আবার গোল। ডানদিক থেকে দুর্দান্ত পাস বাড়ান অমিত রোহিদাস। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসে ভারতকে এগিয়ে দেন মনদীপ সিং। প্রথম কোয়ার্টারে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ভারত।আরও পড়ুনঃ স্বপ্ন শেষ, অলিম্পিক থেকে বিদায় বক্সার সতীশ কুমারেরদ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরু থেকেই সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। ১৭ মিনিটে পরপর তিনটি পেনাল্টি কর্ণার আদায় করে। কিন্তু অমিত রোহিদাস দুর্দান্তভাবে ব্লক করায় গোল পায়নি বেলজিয়াম। ২ মিনিট পরেই অবশ্য পেনাল্টি কর্ণার থেকে সমতা ফেরান আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকস। ২৪ মিনিটে ভারতকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি দিলপ্রীত সিং। ২৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হয় ভারত।আরও পড়ুনঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে দুটি অলিম্পিক পদক, ইতিহাসে পিভি সিন্ধুতৃতীয় কোয়ার্টারে ম্যাচের গতি কিছুটা কম ছিল। আসলে ভারতের তারুণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে খেলার গতি কমিয়ে দিয়েছিল রেড লায়ন্সরা। লক্ষ্য ছিল প্রতি আক্রমণে উঠে এসে গোল তুলে নেওয়া। কিন্তু ভারতীয় ডিফেন্সে রুপিন্দার, অমিতরা সে সুযোগ দেননি। ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার পেয়েছিল ভারত। হরমনপ্রীতের শট আটকে দেন বেলজিয়ামের ডিফেন্ডাররা। এদিন স্কুপ বল দারুণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ব্যবহার করছিলেন মনপ্রীতরা। কিন্তু বেলজিয়াম ডিফেন্স অনেক বেশি সংগঠিত থাকায় সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিল না।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াচতুর্থ কোয়ার্টারের জ্বলে ওঠেন আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকসরা। ৪৯ মিনিটে পরপর তিনটি পেনাল্টি কর্ণার পায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে দলকে ৩২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আলেক্সজান্ডার হেনড্রিকস। এইসময় গ্রিন কার্ড দেখে ২ মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হয়েছিল ভারতীয় অধিনায়ক মনপ্রীত সিংকে। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করেন হেনড্রিকস। প্রতিআক্রমণ থেকে উঠে এসে দলের হয়ে শেষ গোল করেন ডোহমেন।

আগস্ট ০৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India Hockey : ‌মনপ্রীতরা কি পারবেন ৪১ বছরের শাপমুক্তি ঘটাতে?‌

মঙ্গলবার টোকিও অলিম্পিকে বেলজিয়ামকে হারাতে পারলেই ঘটবে ৪১ বছরের শাপমুক্তি। ভারতীয় পুরুষ হকি দলের সামনে খুলে যাবে পদকের দরজা। হারলেও পদকের সম্ভাবনা থাকতে। সেক্ষেত্রে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামতে হবে মনপ্রীতদের। ভারত কি পারবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বেলজিয়ামকে হারিয়ে টোকি অলিম্পিকের ফাইনালে পৌঁছতে? সেমিফাইনালে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী মনপ্রীতরা।২০১৬ রিও অলিম্পিকে এই বেলজিয়ামের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। মনপ্রীতদের সামনে এবার প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। মনপ্রীতদের কাছে কাজটা কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। মহিলাদের হকিতে রানি রামপালরা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রমান করে দিয়েছে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। রানি রামপালদের সাফল্য তাগিদ বাড়িয়ে দিয়েছে মনপ্রীতদের। বিশ্বের ১ নম্বর দল হলেও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ভারতের আশার আলো সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান। রেড লায়ন্সদের বিরুদ্ধে শেষ ৫ ম্যাচে ৪টিতে জয় মনপ্রীতদের। ২০১৬ রিও অলিম্পিকে এই বেলজিয়ামের কাছেই হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ভারতকে। অতীত মাথায় রাখছেন না মনপ্রীতরা। আগের ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় শিবিরের। গ্রুপ লিগের ম্যাচের কথা ভুলে কোয়ার্টার ফাইনালে নতুনভাবে শুরু করেছিলেন মনপ্রীতরা। আগের ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে দারুণ জয় তুলে নিলেও বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বারবার সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। সতীর্থদের বলেছেন, আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এখনও দুটো ম্যাচ বাকি। মাটিতে পা রেখে বেলজিয়াম ম্যাচে ফোকাস করতে হবে। বিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন মনপ্রীত। তাঁর কথায়, গত দেড়দুবছর ধরে অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়াম বিশ্বের ১ নম্বর জায়গা ধেরে রেখেছে। সুতরাং বেলজিয়াম যথেষ্ট কঠিন প্রতিপক্ষ, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ওদের বিরুদ্ধে জিততে গেলে আমাদের দক্ষতার শীর্ষে উঠতে হবে। কোয়ার্টার ফাইনালে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে হয়েছিল অধিনায়ক মনপ্রীতকে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কোচ গ্রাহাম রিড খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেলজিয়ামের মতো দলের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচ ১১ জন মাঠে থাকা জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। কার্ড দেখা চলবে না।

আগস্ট ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Olympic: সেমিফাইনালেও পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে পিভি সিন্ধুর

টোকিও অলিম্পিকের সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তারকা চাইনিজ তাইপের তাই জু-র কাছে হেরে গেলেন ভারতের পিভি সিন্ধু। সেমিফাইনালে হারলেও পদক জয়ের সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে না সিন্ধুর। রবিবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে চিনের হি বিংজিয়াওর মুখোমুখি হবেন ভারতের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শাটলার।সেমিফাইনালে চাইনিজ তাইপের তাই জু-র বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেও প্রথম গেম হারেন সিন্ধু। দ্বিতীয় গেমে সিন্ধুকে দাঁড়াতে দেননি তাই জু। স্ট্রেট গেমে ম্যাচ হারেন হায়দরাবাদি শাটলার। সিন্ধুর বিরুদ্ধে চাইনিজ তাইপের ২৭ বছর বয়সী তাই জু জিতেছেন ২১-১৮, ২১-১২ পয়েন্টের ব্যবধানে। এর ফলে টোকিও অলিম্পিকে সিন্ধুর রুপো বা সোনা জয়ের স্বপ্নে ইতি ঘটেছে। যদিও ব্রোঞ্জ জয়ের সম্ভবনা রয়েছে।ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্তভাবেই করেন পিভি সিন্ধু। প্রথম গেমে চাইনিজ তাইপেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পয়েন্টের ব্যবধান বাড়িয়েও নিয়েছিলেন ভারতীয় শাটলার। একটা সময় ৯-৬ এবং ১১-৮ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন পিভি। অভিজ্ঞতায় ভর করে সেখান থেকেই ম্যাচে ফিরতে শুরু করেন তাই জু। ১৪-১৪ হয়ে যাওয়ার পর প্রথম গেমে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। কখনও ভারতীয় শাটলার এগোচ্ছিলেন তো কখনও টেক্কা দিচ্ছিলেন বিশ্বের এক নম্বর শাটলার। ১৮-১৮ হওয়ার পর গেমে সিন্ধুকে আর ফিরতে দেননি তাই জু-ইং। ২১-১৮ ব্যবধানে তিনি প্রথম গেম জেতেন।দ্বিতীয় গেমে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তাই জু। কোর্টের নানা প্রান্তে ছোট ছোট চকিত শট খেলে পিভি সিন্ধুকে নাজেহাল করতে থাকেন চাইনিজ তাইপেইয়ের শাটলার। মাঝে বেশ কয়েকবার রণনীতি পরিবর্তন করেন ভারতীয় তারকা। তাই জু-ইংয়ের ছন্দ কাটতে আক্রমণাত্মক ঢঙে খেলা শুরু করেন পিভি। কিন্তু সব কিছুরই জবাব ছিল চাইনিজ তাইপেই শাটলারের কাছে। দ্বিতীয় গেমে একটা সময় ৪-৫ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সিন্ধু। এরপর ৪-৭, ৫-৭ থেকে ৭-১১ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েন ভারতের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। একটা সময় সিন্ধুর থেকে ১৬-৯ পয়েন্টে এগিয়ে যান চাইনিজ তাইপেইয়ের শাটলার। সেখান থেকে কোনও মতে আরও তিন পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হন পিভি। সবশেষে ২১-১২ পয়েন্টের ব্যবধানে সেমিফাইনাল জিতে যান বিশ্বের এক নম্বর শাটলার। সেমিফাইনালে জাজমেন্টে অনেক ভুল করেন পিভি সিন্ধু। আবার নিজের দুর্দান্ত অনুমান ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিন্ধু মারা শটের আনফোর্সড এরর থেকেও পয়েন্ট অর্জন করেন তাই জু। সেমিফাইনাল হেরে গেলেও পিভি টোকিও অলিম্পিকে পিভি সিন্ধুর লড়াইয় মুগ্ধ করেছে দেশের ক্রীড়া জগতকে।

জুলাই ৩১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Sindhu: টোকিও অলিম্পিকে সিন্ধুগর্জন, পৌঁছে গেলেন পদকের আরও কাছে

টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় নারী শক্তির দাপট। ভারোত্তোলনে পদক জিতে দেশে ফিরে এসেছেন মীরাবাই চানু। বক্সার লাভলিনা বরগোঁহাইয়ের বক্সিংয়ে পদক নিশ্চিত করেছেন। এবার পদকের দিকে পিভি সিন্ধুও অনেকটাই এগিয়ে গেলেন।২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের রুপোজয়ী ভারতীয় শাটলার সিন্ধু এদিন কোয়ার্টার ফাইনালে হারালেন চতুর্থ বাছাই জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে। সিন্ধু জেতেন ২১-১৩, ২২-২০ ব্যবধানে। এদিনের আগে ১৮টি সাক্ষাতেই ইয়ামাগুচি পরাস্ত হয়েছিলেন সিন্ধু কাছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না।বিশ্বের ষষ্ঠ বাছাই সিন্ধু প্রথম গেমে আগাগোড়া দাপট বজায় রাখেন। ইয়ামাগুচিও যথেষ্ট ভালোই টক্কর দিচ্ছিলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার সঙ্গে। কিন্তু সিন্ধুর সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না। ২৩ মিনিটে প্রথম গেম জিতে নেন ২১-১৩ ব্যবধানে। দ্বিতীয় গেমের প্রথম দিকেও সমানে সমানে টক্কর দিতে থাকেন ইয়ামাগুচি। কিন্তু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সিন্ধু দাপট দেখাতে থাকেন। দ্বিতীয় গেমের মাঝামাঝি অবস্থাতেও সিন্ধু এগিয়ে ছিলেন ১১-৬ ব্যবধানে। এরপর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে সমতা ফেরান ইয়ামাগুচি। ১৫-১৫ করে ফেলেন ইয়ামাগুচি, পরে এগিয়েও যান। যদিও স্নায়ুযুদ্ধ জিতে শেষ হাসি হাসেন সিন্ধু। খেলার ফল ২১-১৩, ২২-২০। ৩১ জুলাই তাঁর সেমিফাইনাল ম্যাচ। তবে শীর্ষ বাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে না সেমিফাইনালে।

জুলাই ৩০, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

মাঠে চাষ করতেন, এবার রাজ্যের মন্ত্রী! দিবাকর ঘরামীর জীবনের অবিশ্বাস্য উত্থান

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চায় উঠে এসেছে একটি নাম। তিনি দিবাকর ঘরামী। বাঁকুড়ার এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান দিবাকর এবার জায়গা পেয়েছেন রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায়। তাঁর এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকা।দেশভাগের পর দিবাকর ঘরামীর পরিবার পূর্ববঙ্গের বরিশাল থেকে এপারে চলে আসে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের কুরুমপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন তাঁর পূর্বপুরুষেরা। সেখানেই জন্ম এবং বড় হয়ে ওঠা দিবাকরের।ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় চাষাবাদই ছিল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজও সেই সম্পর্ক অটুট। বিধায়ক হওয়ার পরও তিনি মাঠে যাওয়া বন্ধ করেননি। ফসলের খোঁজ নেওয়া, জমিতে জল দেওয়া এবং চাষের কাজ দেখা এখনও তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ।দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনামুখী কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন দিবাকর ঘরামী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং মাটির মানুষের ভাবমূর্তি তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। এবার ফের দলের আস্থা অর্জন করে তিনি জায়গা পেলেন রাজ্যের মন্ত্রিসভায়।দিবাকরের মন্ত্রী হওয়ায় কুরুমপুর গ্রাম এবং সোনামুখী জুড়ে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মানুষের আশা, এলাকার উন্নয়নে এবার আরও বড় ভূমিকা নিতে পারবেন তিনি।মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দিবাকর ঘরামী বলেন, সোনামুখীর মানুষ এবং দলের কর্মীদের সহযোগিতাতেই তিনি এতদূর পৌঁছেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং আগামী দিনেও সেই কাজ চালিয়ে যাবেন। দল তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছে, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একইসঙ্গে বলেন, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা একজন মানুষকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়।এক সময় যে মানুষটি প্রতিদিন মাঠে নেমে ফসলের পরিচর্যা করতেন, তিনিই আজ রাজ্যের মন্ত্রী। দিবাকর ঘরামীর এই পথচলা এখন অনেকের কাছেই সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং সাফল্যের এক অনুপ্রেরণার গল্প।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

লাইভে এসে বিস্ফোরক মমতা! ‘গায়ের জোরে তৃণমূল ভাঙা যাবে না’

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন একের পর এক বিতর্ক এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন সামনে আসছে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙা সম্ভব নয়।সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি আর নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করবেন না। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য রাখবেন। সোমবার দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই তিনি লাইভে এসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।মমতার অভিযোগ, তৃণমূলের বিধায়কদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দল ছাড়ার জন্য ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, কয়েকজন বিধায়ক তাঁকে জানিয়েছেন যে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার নাম করে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই ধরনের রাজনীতি গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক জল্পনার মাঝেই মমতা দাবি করেন, কয়েকজন বিধায়ক বা সাংসদকে প্রভাবিত করে তৃণমূলকে দুর্বল করা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, দল অতীতেও কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং আগামী দিনেও লড়াই চালিয়ে যাবে। বাংলার মানুষের আত্মসম্মান রক্ষার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।ছাত্রসমাজের উদ্দেশেও বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করা উচিত। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছে এবং সেই কারণেই তরুণ প্রজন্মকে সমাজের বিভিন্ন ইস্যুতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।লাইভ বক্তব্যে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও অভিযোগ তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, দলের মিছিল, সভা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগও করেন তিনি। পাশাপাশি নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং কয়েকটি আসনে ভোট গণনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গও তুলে আনেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র আন্দোলন এবং অতীতের বিভিন্ন গণআন্দোলনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক দাবির প্রশ্নে তিনি সবসময় আন্দোলনের পাশে থেকেছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের অন্দরে অস্থিরতার আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশেই দেওয়া। একইসঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সুর আরও চড়ালেন তিনি।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

পরিচারিকার কাজ থেকে সরাসরি মন্ত্রী! কলিতা মাঝির জীবনকাহিনি শুনলে অবাক হবেন

নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে অন্যতম কলিতা মাঝি। আউশগ্রামের সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা এই নেত্রীর মন্ত্রী হওয়া এখন জেলার মানুষের গর্বের বিষয়। রবিবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার খবর পেয়ে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি তিনি।কলিতা মাঝি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে একটি ফোন আসে এবং তাঁকে কলকাতায় যেতে বলা হয়। কেন যেতে হবে, সেই বিষয়ে তখন কিছুই জানানো হয়নি। পরে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তাঁকে মন্ত্রী করা হচ্ছে। খবরটি শোনার পর কিছু সময়ের জন্য তিনি নির্বাক হয়ে যান। তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল, বিধায়ক হওয়ার সুযোগ পাওয়াটাই তাঁর কাছে অনেক বড় বিষয় ছিল, মন্ত্রী হওয়ার কথা কোনওদিন কল্পনাও করেননি।আউশগ্রামের এক অত্যন্ত সাধারণ এবং দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন কলিতা। অল্প বয়সেই তাঁর বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পরও আর্থিক কষ্ট তাঁর পিছু ছাড়েনি। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে পরিচারিকার কাজ করতে হয়েছে। প্রতিদিনের জীবন ছিল অভাব আর সংগ্রামের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প।তবে নিজের কষ্টের মধ্যেও এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো কখনও বন্ধ করেননি তিনি। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার এবং মহিলাদের বিভিন্ন সমস্যায় সাহায্য করার চেষ্টা করতেন। সেই কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।দলের স্থানীয় কার্যালয়ে নিয়মিত যেতেন তিনি। মানুষের কথা শুনতেন, সংগঠনের কাজ শিখতেন এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতেন। সেই সময় বাংলায় দলের সংগঠন খুব শক্তিশালী ছিল না। প্রকাশ্যে দলের সমর্থক পরিচয় দেওয়াও অনেকের কাছে কঠিন ছিল। সেই কঠিন সময় থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন কলিতা মাঝি।দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলেও জয় পাননি। তবে রাজনৈতিক লড়াই ছাড়েননি। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। পরবর্তীতে আবারও নির্বাচনী লড়াইয়ে নামেন এবং মানুষের সমর্থনে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এবার সেই পথ পেরিয়ে তিনি পৌঁছে গেলেন রাজ্যের মন্ত্রিসভায়।মন্ত্রী হওয়ার পর কলিতা মাঝি জানিয়েছেন, মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তিনি বলেন, ক্ষমতা বা পদ বদলালেও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বদলাবে না। আগের মতোই মানুষের সমস্যা শুনবেন এবং তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।আউশগ্রামের সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী কলিতা মাঝির এই যাত্রাপথ এখন বহু মানুষের কাছে সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং সাফল্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

জুন ০১, ২০২৬
রাজ্য

বড় ফাঁস! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে কোটি টাকার জালিয়াতি? সিট গঠনের নির্দেশ শুভেন্দুর

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা ভুয়ো উপায়ে তোলার অভিযোগে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র যাচাই করতে গিয়ে প্রশাসনের হাতে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, মহিলাদের জন্য চালু হওয়া প্রকল্পের টাকা কয়েকটি ক্ষেত্রে পুরুষদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছিল।সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এখনও পর্যন্ত মোট বাইশটি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পুরুষদের নামে জমা হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তদন্তে কয়েকটি নির্দিষ্ট নাম উঠে এসেছে। তাঁদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিতভাবে প্রকল্পের টাকা জমা পড়ছিল বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনার পেছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। আবেদনপত্রের পৃষ্ঠাসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রকৃত তথ্য গোপন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের টাকা কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ভুয়ো উপায়ে তোলা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অন্যদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। সোমবার থেকে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও বহু আবেদন জমা পড়বে বলে প্রশাসনের আশা।সরকারি প্রকল্পের টাকা বণ্টন নিয়ে এই নতুন বিতর্ক সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

ধর্মতলায় মমতার ধরনা ঘিরে বড় ধাক্কা! শেষ মুহূর্তে অনুমতি দিল না পুলিশ

ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে মঙ্গলবার ধরনায় বসার ঘোষণা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলার কথা। দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।তবে ধরনার একদিন আগে সামনে এসেছে বড় জটিলতা। সূত্রের খবর, রানি রাসমণি রোডে এই কর্মসূচির জন্য এখনও পুলিশের অনুমতি মেলেনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ওই স্থানে ধরনার অনুমতি না দিয়ে বিকল্প হিসেবে ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে এখনও সম্মতি দেওয়া হয়নি বলে সূত্রের দাবি। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে এবং কোথায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অতীতে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েও একাধিকবার সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। সে সময় অনুমতি না মেলায় তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।অন্যদিকে, ধরনা বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁরা দলের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে একদিকে ধরনা বিতর্ক, অন্যদিকে দুই বিধায়কের বহিষ্কার সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

জুন ০১, ২০২৬
রাজ্য

‘বাড়িতে হামলা হল, দল ফোনও করল না’! তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর এক মাসের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষের সুর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সই সংক্রান্ত বিতর্ক, দুই বিধায়কের বহিষ্কার এবং সাংগঠনিক অস্থিরতার আবহে এবার দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ও মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।সোমবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অরূপ রায় অভিযোগ করেন, গত শনিবার তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলেও দলের তরফে কেউ তাঁর খোঁজ পর্যন্ত নেননি। এমনকি একটি ফোনও আসেনি বলে দাবি করেছেন তিনি।অরূপ রায়ের কথায়, এই পরিস্থিতিতে দলের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল আক্রান্ত কর্মী এবং নেতাদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা হামলার শিকার হচ্ছেন, কিন্তু দল তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।তিনি আরও বলেন, অতীতেও দল কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে। এমন সময় এসেছে যখন বিধানসভায় খুব কম আসন পেয়েও তৃণমূল লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর মতে, সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।প্রসঙ্গত, গত শনিবার মধ্য হাওড়ার কাসুন্দিয়া এলাকার অরূপ রায়ের বাড়ির সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁর বাড়ির সামনের একটি গুদামঘর থেকে ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি, ধুতি-সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভও দেখানো হয়।ঘটনার পর অরূপ রায় দাবি করেছিলেন, ওই ত্রাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি আগেই প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে প্রশাসন সেগুলি সরাতে গেলে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।সাংবাদিক বৈঠকে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে। উত্তরে কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর অরূপ বলেন, এই সময়ে দলের উচিত ছিল আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সেই দায়িত্ব দল সঠিকভাবে পালন করতে পারেনি।সামনেই পৌরসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে তিনি সক্রিয়ভাবে প্রচারে নামবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন অরূপ রায়। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে তিনি এখনও নিজের অবস্থান চূড়ান্ত করেননি।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি এবং অসন্তোষ বাড়ছে, অরূপ রায়ের এই মন্তব্য তারই আরও একটি বড় ইঙ্গিত। পৌরসভা নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি দলের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

বহিষ্কারের পর বিস্ফোরক সন্দীপন! ‘সই জাল হয়েছে, অভিযোগ না করে উপায় ছিল না’

সই সংক্রান্ত বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার পর ইতিমধ্যেই বহিষ্কৃত হয়েছেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বহিষ্কারের পরও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, নিয়ম বহির্ভূত কাজ হয়েছে বলেই তিনি অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন।সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, দুই বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতেই সই সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।সন্দীপন সাহার অভিযোগ, গত ৬ মে তৃণমূলের একটি বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতিতে আলোচনা হলেও সেখানে বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে কোনও প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। কিন্তু পরে ১৯ মে যে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়, তাতে ৬ মে উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কয়েকজন বিধায়ক ওই বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের নাম রেজোলিউশনে যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ এবং অনৈতিক।সন্দীপনের বক্তব্য, যাঁরা বৈঠকে ছিলেন না, তাঁদের উপস্থিত দেখিয়ে রেজোলিউশন জমা দেওয়া হয়েছে। এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও দাবি করেন, উপস্থিত বিধায়কদের স্বাক্ষর দিয়েই রেজোলিউশন জমা দেওয়া সম্ভব ছিল। তা না করে কেন অন্য পথ নেওয়া হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সন্দীপন। তাঁর দাবি, এত বড় ভুলের দায় এড়ানো যায় না।দলকে না জানিয়ে কেন তিনি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছেন সন্দীপন। তাঁর কথায়, একজন বিধায়ক হিসেবে তিনি সংবিধান ও নিয়ম মেনে চলার শপথ নিয়েছেন। সেই দায়িত্ব থেকেই তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে কোনও অভিযোগ বা প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া যায় না বলেই তিনি অন্য পথ বেছে নিয়েছেন।সন্দীপন আরও অভিযোগ করেন, দলের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করার পরিবেশ নেই। কোনও প্রশ্ন তুললে তার উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে দলের ভিতরে নিজের মতামত বা আপত্তি জানানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁর।বহিষ্কৃত এই বিধায়কের কথায়, সই সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রশ্ন করছেন। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা এবং অভিযোগ জানানো ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনও পথ খোলা ছিল না বলেই দাবি করেছেন সন্দীপন সাহা।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

সিআইডির জেরায় ফাঁস নতুন তথ্য? তিন বিধায়কের স্বীকারোক্তির দাবি শুভেন্দুর

বিধানসভার একটি রেজোলিউশনকে কেন্দ্র করে সই সংক্রান্ত বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে সিআইডি। ইতিমধ্যেই একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিয়ে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়।শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত যে রেজোলিউশন বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই দুই বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রেজোলিউশনে থাকা কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি স্পিকারের নির্দেশে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়।তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তদন্ত চলাকালীন তিন জন বিধায়ক জানিয়েছেন যে রেজোলিউশনে থাকা সই তাঁদের নয়। তিনি দাবি করেন, ওই তিন জন হলেন বাহরুল ইসলাম, শুভাশিস দাস এবং অরূপ রায়। তাঁদের মধ্যে একজন নাকি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি সেদিন কলকাতায়ই ছিলেন না।সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, তদন্তে উঠে আসা তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, যাঁরা সই নিজেদের নয় বলে জানিয়েছেন, তাঁদের কোনও ব্যক্তিগত লাভ নেই। তাই তাঁদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে।এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগকারী দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে সই সংক্রান্ত বিতর্কের তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal