• ১৬ কার্তিক ১৪৩৩, শুক্রবার ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

ENT

দেশ

আবারও ডেডলাইন শেষ! স্পিকারের নোটিসের জবাব দিতে আরও ৪ সপ্তাহ চাইলেন সুদীপ-কাকলিরা

আবারও সময়সীমা শেষ। কিন্তু লোকসভার স্পিকারের নোটিসের জবাব এখনও দেননি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ। ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানাতে চলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ওই সাংসদেরা। ফলে সাংসদ পদ খারিজের আবেদনকে ঘিরে ফের তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন।লোকসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্পিকারকে চিঠি দিয়ে নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আরও চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হবে। অর্থাৎ আরও প্রায় এক মাস সময় চেয়েছেন তৃণমূলত্যাগী সাংসদেরা। এর আগে প্রথমে তাঁদের এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত সময়ের আবেদনের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এবার সেই সময়সীমাও শেষ হওয়ার মুখে।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন ২০ জন সাংসদ। তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথক ভাবে ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হয়।স্পিকার দীর্ঘ সময় কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে গত ২৫ অগস্ট ২০ জন সাংসদের কাছে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। তাঁদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে স্পিকারের কাছেও এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়েছিল আদালত।এর পর লোকসভার স্পিকারের সচিবালয়ও ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠায়। প্রথমে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সাংসদদের তরফে আরও সময় চাওয়া হয়। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন স্পিকার ওম বিড়লা।কিন্তু ২২ সেপ্টেম্বরও জবাব জমা না দিয়ে ফের সময় চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ সাংসদ। এবার তাঁদের আবেদনে চার সপ্তাহ সময় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। স্পিকার সেই আবেদন মঞ্জুর করবেন কি না, এখন সেটাই দেখার।এই ২০ সাংসদের দলবদল এবং তাঁদের সাংসদ পদ নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েন চলছে। তৃণমূলের অভিযোগ, তাঁরা দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও লোকসভার নথিতে এখনও তাঁদের তৃণমূল সাংসদ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।অন্য দিকে, সাংসদদের বক্তব্য এখনও স্পিকারের কাছে সম্পূর্ণ ভাবে জমা পড়েনি। ফলে অভিযোগের জবাব এবং তাঁদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্পিকার নতুন করে চার সপ্তাহ সময় দেন কি না, নাকি দ্রুত পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করেন, এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।অর্থাৎ, একবার নয়পরপর সময়সীমা পেরিয়ে ফের সময় চাওয়ার পথে হাঁটছেন সুদীপ-কাকলিরা। এবার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের আরও এক মাস সময় দেন কি না, নাকি নোটিসের জবাব না পাওয়ার পর অন্য কোনও পদক্ষেপ করেন, সেটাই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
স্বাস্থ্য

মন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শনের পরই তৎপরতা, বর্ধমানের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: কলেজের নিজস্ব ভবন রয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল? তার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছিল ভাড়ার প্রতিষ্ঠানের উপর। সেই হাসপাতালও শেষ পর্যন্ত জানিয়ে দিল, চুক্তি আর নেই। আর তার পরেই বর্ধমানের তালিতে চলা ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর। ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে এতদিন ভাড়ার হাসপাতালকে দেখিয়ে মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম চলছিল?গত মাসে পূর্ব বর্ধমান জেলা সফরে এসে আচমকাই তালির ওই মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। শুধু কলেজ পরিদর্শনেই থামেননি তিনি। যে বেসরকারি হাসপাতালকে দেখিয়ে মেডিক্যাল কলেজটি পরিচালিত হচ্ছিল, বর্ধমান শহরের উল্লাস এলাকার সেই হাসপাতালেও পৌঁছে যান মন্ত্রী।সেখানেই সামনে আসে বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ দিকটি।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মেডিক্যাল কলেজটির নিজস্ব ভবন থাকলেও হাসপাতালটি ছিল ভাড়ায়। অর্থাৎ, চিকিৎসা পরিষেবা ও শিক্ষার প্রয়োজনীয় হাসপাতাল পরিকাঠামোর জন্য অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করছিল প্রতিষ্ঠানটি।পরে ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য দপ্তরকে ই-মেল করে জানায়, মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে হাসপাতালটির আর কোনও সম্পর্ক নেই। এই পরিস্থিতিতেই ওই মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।সোমবার পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে একটি কর্মসূচিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের নিজস্ব কলেজ ভবন থাকলেও হাসপাতাল ছিল ভাড়ায়। আমি নিজেই তা খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেইল করে জানিয়েছিল, আমাদের চুক্তি বাতিল হয়ে গিয়েছে। তাই ওই মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শনেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?গত মাসে চার দিনের জেলা সফরে পূর্ব বর্ধমানে এসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই সফরেই তালিতের মেডিক্যাল কলেজে তাঁর আচমকা উপস্থিতি ঘিরে তৎপরতা শুরু হয়। কলেজ পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালেও যান তিনি।সূত্রের খবর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় মেডিক্যাল কলেজটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন মন্ত্রী। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন ওই হাসপাতাল মেডিক্যাল কলেজটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।ওই হাসপাতালের কর্ণধার চিকিৎসক দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আবার ওই মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল পদেও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের পর তিনি মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পদ থেকে সরে দাঁড়ান বলে সূত্রের খবর। স্বাস্থ্য দপ্তরকেও জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে হাসপাতালের আর কোনও সম্পর্ক নেই।মালিকের মৃত্যুর পর উঠেছিল একাধিক অভিযোগমেডিক্যাল কলেজটি ঘিরে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রতিষ্ঠাতা মালিকের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী স্বাস্থ্য দপ্তরে অভিযোগ করেন, স্বামীর সই নকল করে প্রতিষ্ঠানে কিছু অনৈতিক কাজ করা হচ্ছে। শুধু স্বাস্থ্য দপ্তরেই নয়, মেডিক্যাল কাউন্সিলেও প্রমাণ-সহ অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই সমস্ত অভিযোগের মধ্যেই হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে হাসপাতাল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশে বন্ধ হতে চলেছে বর্ধমানের তালিতের ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ। ভাড়ার হাসপাতালের উপর নির্ভর করে মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরে দাঁড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগসব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় স্বাস্থ্য দপ্তরের পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
রাজ্য

২৪৯ বছরের ঐতিহাসিক মহাকরণে ফিরছে সচিবালয়! ১৩ বছর পর বদলাতে চলেছে বাংলার প্রশাসনিক ঠিকানা

দীর্ঘ ১৩ বছরের ব্যবধানের পর ফের ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং থেকে প্রশাসনিক কাজকর্ম শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার আবহে পুরনো মহাকরণে ফিরতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের ছয় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর দফতরের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।বর্তমানে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয় নবান্ন থেকে। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সচিবালয় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। সেই মতোই চলছে সংস্কারের কাজ।১৩ বছর আগে নবান্নে সরেছিল সচিবালয়প্রায় ২৪৯ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং একসময় ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র। ১৩ বছর আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সচিবালয় স্থানান্তরিত হয় নবান্নে। এরপর থেকে সেখান থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে পুরনো ভবনের সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ না হওয়ায় এতদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে পুরোপুরি ফেরা সম্ভব হয়নি। এবার সেই কাজ দ্রুত শেষ করে ঐতিহাসিক মহাকরণ থেকেই প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।সংস্কারকাজ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকরাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। পূজা উৎসবের আগেই কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের দফতরও দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর দফতর তৈরির প্রস্তুতিরাইটার্স বিল্ডিংয়ে যাঁদের দফতর চালু করার প্রস্তুতি চলছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেনশুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীদিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রীঅগ্নিমিত্রা পাল পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীশঙ্কর ঘোষ পর্যটন মন্ত্রীশারদ্বত মুখোপাধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রীঅজয় পোদ্দার পূর্তমন্ত্রীসব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাজ্য প্রশাসনের প্রত্যাবর্তন ঘিরে প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ করে ঠিক কবে থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে, তা সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
দেশ

‘অনলাইন পেমেন্ট নেব না’! নতুন মাশুলের আতঙ্কে দোকানে দোকানে নগদের দাবি

ইউপিআই লেনদেনে নতুন মাশুল চালু হওয়ার কথা ১৫ অক্টোবর থেকে। তার আগেই দেশের কয়েকটি জায়গায় ব্যবসায়ীদের একাংশ অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে আপত্তি জানাতে শুরু করেছেন। কোথাও দোকানের বাইরে পোস্টার দিয়ে জানানো হচ্ছে, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হবে না। আবার কোথাও ক্রেতাদের নগদে বিল মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গাজিয়াবাদে এমনই একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনে দুই হাজার টাকার বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের উপর শূন্য দশমিক চার শতাংশ হারে মাশুল বসবে। এই মাশুলের সর্বোচ্চ সীমা প্রতি লেনদেনে ৩০০ টাকা। নিয়মটি ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সাধারণ ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির ইউপিআই লেনদেন এই মাশুলের আওতায় পড়বে না। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বহু ব্যবসায়িক লেনদেনও মাশুলমুক্ত থাকবে।সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই মাশুল সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার কথা নয়। মাশুল দেওয়ার দায়িত্ব ব্যবসায়ীর। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্ক এবং অর্থপ্রদানের পরিষেবা সংস্থাগুলির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। ১৫ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ব্যবসায়ীরা এই খরচ ক্রেতার উপর চাপিয়ে দিতে না পারেন।কিন্তু নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গাজিয়াবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাঁর দোকানে সাধারণত দুই হাজার টাকার বেশি দামের পণ্য বিক্রি হয়। ফলে নতুন নিয়মে মাশুলের প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মনে করছেন। সেই কারণেই ক্রেতাদের নগদে টাকা মেটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।একই ধরনের বক্তব্য এসেছে একটি সৌন্দর্য পরিষেবা প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকেও। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসায় এমনিতেই খরচ বেড়েছে এবং লাভের পরিমাণ কম। তার উপর নতুন মাশুলের বোঝা কেন ব্যবসায়ীরা বহন করবেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ক্রেতাদেরও বুঝতে হবে কোন মাধ্যমে টাকা দিলে ব্যবসায়ীর উপর অতিরিক্ত খরচ তৈরি হবে।শুধু বড় দামের পণ্য বিক্রির দোকানেই নয়, কিছু মুদিখানা দোকানেও এই নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সাধারণত মুদিখানায় দুই হাজার টাকার বেশি অঙ্কের লেনদেন কম হলেও কোনও কোনও ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের কেনাকাটা হয়। তাই নতুন নিয়ম নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের একাংশও সতর্ক হয়ে উঠেছেন।মধ্যপ্রদেশের একাধিক পেট্রল পাম্পেও ইউপিআই মাশুল নিয়ে নোটিস দেওয়ার খবর সামনে এসেছে। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই কোথাও কোথাও নগদ লেনদেনের উপর জোর দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।তবে এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। নতুন মাশুলের অর্থ সরাসরি গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়ার নিয়ম নেই। কেন্দ্রের বক্তব্য, সাধারণ গ্রাহকের ইউপিআই ব্যবহারে এই মাশুল চাপানো যাবে না। দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যবসায়িক লেনদেন এবং ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের বড় অংশ আগের মতোই মাশুলমুক্ত থাকবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যবসায়িক ইউপিআই লেনদেনের প্রায় ৯৬ শতাংশই এই পরিবর্তনের বাইরে থাকবে।এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, ব্যবসায়ীদের উপর মাশুল বসলে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের একাংশের বর্তমান অবস্থান সেই আশঙ্কাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। যদিও কেন্দ্র জানিয়েছে, কোনও ভাবেই এই খরচ সাধারণ মানুষের উপর চাপানো ঠেকাতে নজরদারি করা হবে।অর্থাৎ, ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন মাশুল চালু হলেও সাধারণ গ্রাহককে ইউপিআই ব্যবহারের জন্য সরাসরি অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যদি মাশুলের আশঙ্কায় ইউপিআই নিতে অস্বীকার করেন বা অন্য ভাবে ক্রেতার উপর অতিরিক্ত খরচ চাপানোর চেষ্টা করেন, তা হলে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা বদলাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
রাজ্য

গুগল ম্যাপ দেখেই বাইক চালাচ্ছিলেন! হঠাৎ রাস্তা শেষ, বাইক-সমেত খাদের নীচে যুবক

মোবাইলে গুগল ম্যাপ খুলে সেই পথ দেখেই বাইক চালিয়ে যাচ্ছিলেন যুবক। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, সেটি যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এবং পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পারেননি তিনি। আচমকাই রাস্তার একটি ভাঙা অংশের কাছে গিয়ে বাইক-সহ গভীর খাদে পড়ে যান। দীর্ঘ সময় পর গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। দুর্গাপুরের পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।আহত যুবকের নাম প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পেশায় কেবল অপারেটর। কাঁকসার বনকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙাল এলাকার বাসিন্দা প্রসূন শুক্রবার রাতে বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। অচেনা পথে সুবিধার জন্য মোবাইলে গুগল ম্যাপ চালু করেছিলেন তিনি। ম্যাপে যে রাস্তা দেখানো হচ্ছিল, সেই পথ ধরেই বাইক চালাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।পাণ্ডবেশ্বরের ভাঁটমুড়া মহালক্ষ্মী এলাকায় পৌঁছনোর পর বিপদ ঘটে। ওই এলাকা পরিত্যক্ত খনি এলাকার মধ্যে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে গিয়ে সেখানে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাপে সেই বিপজ্জনক অংশের কোনও ইঙ্গিত ছিল না বলে জানা গিয়েছে।অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তা দিয়ে বাইক চালানোর সময় প্রসূন সেই খাদের কাছে পৌঁছে যান। বাইকের গতি বেশি থাকায় পরিস্থিতি সামলানোর সুযোগ পাননি বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। বাইক-সহ তিনি খাদের নীচে পড়ে গুরুতর জখম হন।এ দিকে রাতে অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও প্রসূন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপর তাঁর মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়। মোবাইলের অবস্থান পাণ্ডবেশ্বরের ওই খনি এলাকার আশপাশে দেখাচ্ছিল।এর পরেই পাণ্ডবেশ্বর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকালে এলাকায় গিয়ে পুলিশ দেখতে পায়, খাদের মধ্যে পড়ে রয়েছে প্রসূনের বাইক। কিছুটা দূরে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি।পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ। শেষ পর্যন্ত প্রসূনকে খাদের নীচ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে দ্রুত দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। খনি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ। তা হলে প্রসূন কী ভাবে সেই পথে পৌঁছলেন, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কি শুধুমাত্র গুগল ম্যাপে দেখানো পথ অনুসরণ করেই ওই এলাকায় পৌঁছেছিলেন, নাকি অন্য কোনও কারণে সেই রাস্তা ব্যবহার করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।দুর্ঘটনার সময় বাইকের গতি কত ছিল, রাস্তার পরিস্থিতি কেমন ছিল এবং ঠিক কোন জায়গায় বাইকটি খাদে পড়ে যায়, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গুগল ম্যাপে ওই রাস্তা কেন দেখাচ্ছিল এবং বিপজ্জনক অংশটি কেন চিহ্নিত ছিল না, সেই প্রশ্নও উঠছে।তবে আপাতত পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি আহত প্রসূনের চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় পর তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুর্ঘটনার কারণ পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত শেষ হলেই জানা যাবে, ঠিক কী ভাবে গুগল ম্যাপের পথ ধরে চলতে গিয়ে পরিত্যক্ত খনি এলাকার গভীর খাদে বাইক-সহ পড়ে গেলেন ওই যুবক।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'ধ্যনমগ্ন' অভিষেকের ঝড়ে আফগানিস্তান উড়ে গেল, ১২৭ রানে জয় ভারতের

সিরিজ় আগেই পকেটে চলে এসেছিল। তাই বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি ছিল কার্যত নিয়মরক্ষার। কিন্তু মাঠে নামার পর ভারত বুঝিয়ে দিল, সিরিজ় জেতাই তাদের শেষ কথা নয়শেষ ম্যাচটিও নিজেদের দাপটে জিততে চায় তারা। আর সেই জয়ের মঞ্চ তৈরি করে দিলেন অভিষেক শর্মা। তাঁর বিধ্বংসী শতরানের পর ভারতীয় বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে মাত্র ৯৪ রানেই গুটিয়ে গেল আফগানিস্তান। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ়ে আফগানিস্তানকে চুনকাম করল ভারত।টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ়েই সাফল্যের মুখ দেখলেন শ্রেয়স আয়ার। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ২২১/৭ রান তোলে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৯৪ রানেই। ভারতের হয়ে নীতীশ রেড্ডি এবং রবি বিশ্নোই তিনটি করে উইকেট নেন। অক্ষর পটেল নেন দুটি, আর একটি করে উইকেট পান জসপ্রীত বুমরাহ ও যশ ঠাকুর।শুরু থেকেই ঝড় তুললেন অভিষেকভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল একেবারেই অন্য রকম। ওপেন করতে নেমে অভিষেক শর্মা প্রথম ওভারটি কিছুটা দেখে খেললেও তার পর থেকেই বদলে যায় ম্যাচের ছবি। ফজলহক ফারুকি-সহ আফগান বোলারদের উপর একের পর এক আক্রমণ শুরু করেন তিনি।দ্বিতীয় ওভারে আসে ১৭ রান, পরের ওভারে ২৩। আফগান অধিনায়ক ইব্রাহিম জ়াদরান দ্রুত স্পিন আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মহম্মদ নবির ওভারও বাঁচাতে পারেনি আফগানিস্তানকে। সেই ওভার থেকেই ভারত পেয়ে যায় ২৯ রান।পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় ১০০-তে। অভিষেক তখন কার্যত একাই আফগান বোলিংকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছেন। অন্য প্রান্তে সঞ্জু স্যামসনও তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন। এমনকি ২২ রানের মাথায় সঞ্জুর ক্যাচ পড়ে যাওয়াও আফগানিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।১৬ বলে অর্ধশতরান, ৩০ বলে শতরানঅভিষেকের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল তাঁর গতির ধারাবাহিকতা। মাত্র ১৬ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। এরপরও থামার কোনও লক্ষণ ছিল না। বরং সময় যত গড়িয়েছে, তাঁর ব্যাট থেকে বেরিয়েছে আরও বেশি বড় শট।মাত্র ৩০ বলে শতরান পূর্ণ করেন অভিষেক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে দ্রুততম শতরানের নজিরগুলির তালিকাতেও নিজের জায়গা আরও শক্ত করেন তিনি। শতরানের পর তাঁর উদযাপনও ছিল নজরকাড়া। ব্যাট তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পর হঠাৎ মাঠে বসে ধ্যানের ভঙ্গিতে উদযাপন করতে দেখা যায় তাঁকে। ফুটবল তারকা আর্লিং হালান্ডের গোল উদযাপনের সঙ্গে সেই দৃশ্যের মিল খুঁজে পান অনেকেই।শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের বলে অভিষেকের ইনিংস থামে। ৩৪ বলে ১০৮ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার এবং ১১টি ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে ১০২ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি অভিষেকের তৃতীয় শতরান।সঞ্জুর ব্যাটেও অর্ধশতরানঅভিষেকের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের মাঝে নিজের ইনিংসটি ধৈর্য ধরে এগিয়ে নিয়ে যান সঞ্জু স্যামসন। অভিষেক যখন একের পর এক ছক্কা মারছিলেন, তখন অন্য প্রান্ত থেকে তাঁকে সঙ্গ দেওয়াই ছিল সঞ্জুর প্রধান দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত তিনিও পৌঁছে যান অর্ধশতরানে।সঞ্জুর ৫০ রানের ইনিংস শেষ হয় অর্ধশতরান পূর্ণ করার পরেই। তিলক বর্মা মাত্র ২ রান করে ফেরেন। শিবম দুবে ১৪ রান করে আউট হন। ঈশান কিশনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননিতাঁর সংগ্রহ ১০।মাঝের দিকে পর পর উইকেট পড়ায় ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। তিনি করেন ২৯ রান। শেষ পাঁচ ওভারে ভারত মাত্র ৩৭ রান তুলতে পারায় ৩০০ রানের সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণত হয়নি। তবুও ২২১ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তানের সামনে যথেষ্ট বড় হয়ে দাঁড়ায়।তিন ওভারে ৩১, তারপরই ধসজবাবে আফগানিস্তানও শুরুটা করেছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। প্রথম তিন ওভারেই উঠে যায় ৩১ রান। মনে হচ্ছিল, ভারতের বড় রান তাড়া করতে গিয়ে অন্তত শুরুটা শক্তিশালী রাখতে চাইছে আফগান দল।কিন্তু এরপরই ভারতীয় বোলারদের সামনে দ্রুত পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। রহমানুল্লাহ গুরবাজ় ১৫ এবং ইব্রাহিম জ়াদরান ২৫ রান করে ফিরে যাওয়ার পর আফগান ব্যাটিংয়ে আর কোনও প্রতিরোধ দেখা যায়নি।একটার পর একটা উইকেট পড়তে থাকে। ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে অভিজ্ঞ রশিদ খান, মহম্মদ নবিরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ইনিংস গড়ে তুলতে পারেননি। মাত্র দুজন আফগান ব্যাটার দুই অঙ্কের বেশি রান করতে সক্ষম হন।বোলারদের দাপটে ৯৪ রানেই শেষআফগানিস্তানের রান তাড়া থেমে যায় ৯৪ রানেই। নীতীশ রেড্ডি এবং রবি বিশ্নোই তিনটি করে উইকেট নিয়ে আফগান ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। অক্ষর পটেল তুলে নেন দুটি উইকেট। বুমরাহ এবং যশ ঠাকুর পান একটি করে।ভারতের পক্ষে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল বুমরাহকে খুব বেশি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি। মাত্র দুই ওভার বল করেই নিজের কাজ সেরে নেন তিনি।তিন ম্যাচেই ভারতের একতরফা দাপটতিন ম্যাচের সিরিজ়ের কোনও ম্যাচেই ভারতকে সেভাবে চাপে ফেলতে পারেনি আফগানিস্তান। ব্যাটিং হোক বা বোলিংদুই বিভাগেই ভারত ধারাবাহিক ভাবে এগিয়ে থেকেছে।শেষ ম্যাচে সেই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। অভিষেক শর্মার বিস্ফোরক ব্যাটিং ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়, আর পরের কাজটি নিখুঁত ভাবে শেষ করেন বোলাররা। ফলে সিরিজ়ের শেষ ম্যাচেও আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ানোর মতো সুযোগ তৈরি হয়নি।শ্রেয়স আয়ারের নেতৃত্বে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ়েই ভারতের এই সাফল্য যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেন অভিষেক শর্মা। ৩৪ বলে ১০৮ রানের সেই ইনিংস শুধু ম্যাচের মোড় ঘোরায়নি, সিরিজ়ের শেষ ম্যাচটিকেও পরিণত করেছে এক ক্রিকেটীয় প্রদর্শনীতে।

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
দেশ

ব্রিকসের পর হঠাৎ শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক? ভাইরাল দাবিতে তোলপাড়, কী বলল দিল্লি?

ভারতের মাটিতে সদ্য শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা যোগ দেন। শি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকসের দুই অধিবেশনেও অংশ নেন। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে।চিনের গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে বিশেষ বিমানে শিকে চিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিও জানিয়েছে, দাবিটি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।এদিকে চিনের সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভাইরাল দাবির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের প্রথম অধিবেশনে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নেন। দুই অধিবেশনেই তিনি বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।চিনের বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর কর্মসূচি শেষ করে বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ সরকারি নথিতে তাঁর সফর নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।শুধু শি জিনপিং নন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া একাধিক রাষ্ট্রনেতা দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্বাস্থ্য নিয়েও এমন আলোচনা শুরু হয়।এই ধরনের দাবির বিরুদ্ধে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য যাচাই সংক্রান্ত শাখা সামাজিক মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতা নিয়ে ছড়ানো পোস্টকে ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্টে বিশ্বাস না করারও বার্তা দেওয়া হয়েছে।তবে শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ তাঁর স্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্ত্রোপচারের দাবি কোনও সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। একই সঙ্গে চিনের সরকারও এমন কোনও স্বাস্থ্যগত ঘটনার কথা ঘোষণা করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ওই দাবিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে চিনের সরকারি নথি রয়েছে। সম্মেলনের পর তাঁর বেজিং ফেরার বিষয়টিও চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের পর শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে যে দাবি ছড়িয়েছে, তার কোনও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে ছড়ানো অসুস্থতার দাবিকে ভুয়ো বলে সতর্ক করেছে। তাই এই মুহূর্তে শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক বা জরুরি অস্ত্রোপচারের দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় আপডেট, ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩,০০০ টাকা? অতিরিক্ত ১০ লক্ষ মহিলা পাবেন সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় আপডেট। সেপ্টেম্বর মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়বে। ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবেও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার খবর অনুযায়ী, অগস্টে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও প্রায় ১০ লক্ষ মহিলা এই কিস্তির আওতায় আসবেন।মাসে কত টাকা মিলবে?২০২৬ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে উপভোক্তার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। স্থায়ী সরকারি চাকরিতে থাকা এবং কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়মিত বেতন বা পেনশন পাওয়া মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাও বাদ পড়বেন। পাশাপাশি আয়করদাতারাও এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন।১৭ সেপ্টেম্বর কারা টাকা পাবেন?সেপ্টেম্বরের কিস্তির জন্য উপভোক্তার নাম যোগ্য তালিকায় থাকা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের মধ্যে গরমিল, DBT সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে টাকা জমা পড়তে দেরি হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তথ্যের ভুলের কারণে কিছু উপভোক্তার টাকা আটকে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।তাই যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ সঠিক রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আবেদন ও স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্যও নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জানা যায়।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

১০০ কেজি সোনার দুর্গা! বাংলার বুকে এবার পুজোর সেরা আয়োজন, সোনার দুর্গাকে ঘিরে তুমুল আগ্রহ

দুর্গাপুজোয় এবার নজরকাড়া আয়োজন শিলিগুড়িতে। নিউ জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির দাবি, এ বছর তাদের প্রতিমা এবং দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে সাজানো হবে ১০০ কেজি সোনার গয়নায়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোনও পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলে দাবি তাঁদের।এবার সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো পা দিতে চলেছে তাদের ৬৪তম বর্ষ। প্রতি বছরই নতুন আকর্ষণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানান, এ বছর দুর্গা প্রতিমা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রতিমাকে ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় এর আগে কোনও পুজোয় এত বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।বছরের পর বছর নিউ জলপাইগুড়ির গেট বাজার এলাকার কাছে রেলওয়ে ইনস্টিটিউট গ্রাউন্ডে এই পুজোর আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে বর্তমানে রেল কর্তৃপক্ষ ওই মাঠকে ক্রিকেট মাঠ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। সেই কারণে এ বছর পাশের একটি জমিতে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। জমিটি নিউ জলপাইগুড়িতে অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতরের কাছেই অবস্থিত।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি নামী গয়না প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা সংস্থা প্রতিমার জন্য প্রয়োজনীয় সোনার গয়না সরবরাহ করবে। এত বিপুল পরিমাণ সোনা থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুজো প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি প্যান্ডেলে মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।দর্শনার্থীদেরও প্রতিমার খুব কাছে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমার প্রায় আট ফুট আগে ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সশস্ত্র রক্ষীদেরও মোতায়েন করা হবে।পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সোনার গয়না সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুজোর দিনগুলিতে গোটা এলাকা সিসিটিভির নজরদারিতে রাখা হবে। ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সজ্জিত দুর্গা প্রতিমা ও দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে দেখতে এবার শিলিগুড়ির এই পুজোয় বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

মধ্যমগ্রামে কল সেন্টারে তল্লাশি, বিপুল সিম-মোবাইল উদ্ধার, গ্রেফতার ২৫

মধ্যমগ্রামের দোলতলা সংলগ্ন এলাকায় একটি কল সেন্টারে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হলেন ২৫ জন। ধৃতদের মধ্যে ৭ জন যুবক এবং ১৮ জন যুবতী বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার দুপুরে মধ্যমগ্রাম থানা ও সাইবার থানার যৌথ বাহিনী ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে ওই কল সেন্টার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়ার পরই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ দোলতলা সংলগ্ন এলাকায় অ্যাসিওর মোটিভেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে হানা দেন পুলিশকর্মীরা। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়।অভিযানের সময় অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯টি মোবাইল ফোন। পাশাপাশি পাওয়া গিয়েছে শতাধিক সিম কার্ড, একাধিক নথি এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি ঘিরে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এরপরই ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ২৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৭ জন যুবক ও ১৮ জন যুবতী রয়েছেন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারাসাত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।তবে এই কল সেন্টারে ঠিক কী ধরনের কাজ চলত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উদ্ধার হওয়া বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড এবং মোবাইল ফোন কী কাজে ব্যবহার করা হতো, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কোনও সাইবার অপরাধের যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কল সেন্টারের কাজকর্ম এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ব্যবহার সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাজ্য

কলকাতার একাধিক জনপ্রিয় রাস্তার নাম বদল? কেন তড়িঘড়ি বড় সিদ্ধান্তের পথে বিজেপি সরকার?

কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাব ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং হো চি মিন সরণির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে বঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি। রাস্তা, সেতু এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় পাবলিক প্লেসের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এই কমিটি সুপারিশ করবে। ভারত সেবাশ্রম সংঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ, যিনি কার্তিক মহারাজ নামে পরিচিত, এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। দুর্গাপুজোর পর কমিটির প্রথম বৈঠক হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং হো চি মিন সরণি নাম পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে। তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।কার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, যে ব্যক্তিদের নামে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে, তাঁদের ভারতীয় ও বাঙালি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর বক্তব্য, লেনিন সরণি, কার্ল মার্কস সরণি এবং হো চি মিন সরণির নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা পড়েছে। কমিটির সুপারিশ রাজ্য বিধানসভায় পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।তথাগত রায়ের পক্ষ থেকেও একাধিক নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, লেনিন সরণির নাম করা হতে পারে প্রাক্তন ভারতীয় জনসঙ্ঘ সভাপতি দেবপ্রসাদ ঘোষের নামে। কার্ল মার্কস সরণির নাম বাঙালি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত অথবা রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকার সঙ্গে দুই কবিরই যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন তথাগত রায়। অন্যদিকে, হো চি মিন সরণির নাম বদলেরও প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতার কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামে করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।উল্লেখ্য, লেনিন সরণি একসময় ধর্মতলা স্ট্রিট নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭০ সালে লেনিনের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাস্তার নাম পরিবর্তন করে লেনিন সরণি করা হয়। এর পরের বছর সার্কুলার গার্ডেনরিচ রোডের নাম বদলে করা হয় কার্ল মার্কস সরণি। শুধু বামপন্থী নেতাদের নাম নয়, মুসলিম ব্যক্তিত্বদের নামে থাকা কিছু জায়গার নাম পরিবর্তনেরও প্রস্তাব এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে বারাসতের কাছে তিতুমিরের নামে থাকা বাসস্ট্যান্ডের নামও বদল করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। তবে দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাস্তার নাম বদলের উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, ঐতিহাসিক নাম পরিবর্তনের ফলে শহরের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলি মুছে যেতে বা তার চরিত্র বদলে যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর মাসে আরও একদিন সরকারি ছুটি! ভোটের কারণে বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

অক্টোবর মানেই দুর্গাপুজোর মরশুম। ফলে সরকারি কর্মীদের ছুটির তালিকাতেও থাকে একাধিক ছুটি। এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের কারণে আরও একটি সরকারি ছুটি ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। আগামী ৬ অক্টোবর ওই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরকারি কার্যালয়, বিভিন্ন সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, নিগম, বোর্ড, বিধিবদ্ধ ও স্থানীয় সংস্থা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছুটি থাকবে।সোমবার অর্থ দপ্তরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা এলাকার সমস্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ছুটির আওতায় থাকবে। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণের কাজ গভীর রাত পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে ভোটকর্মীদের ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে রিসেপশন কেন্দ্রে পৌঁছতে এবং সেখান থেকে ছাড়া পেতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ৭ অক্টোবর নিয়েও বিশেষ সুবিধার কথা জানিয়েছে অর্থ দপ্তর। ভোটের কাজে যুক্ত যোগ্য সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ওই দিন বিশেষ ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে। অর্থাৎ ভোটের কাজের কারণে রাতে দেরি হলে পরের দিন অফিসে যোগ দিতে সমস্যা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই সুবিধা পেতে পারেন।শুধু ভোটের দিন বা তার পরের দিনই নয়, ভোটের প্রস্তুতির জন্য ৫ অক্টোবরও স্থানীয় ছুটির সুযোগ রাখা হয়েছে। যে সব সরকারি কার্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র, সেক্টর অফিস কিংবা নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ ও গ্রহণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে, সেই সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৫ অক্টোবর স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করতে পারে।এবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে আসন দুটি বিধায়কশূন্য হয়ে যাওয়ায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরদুই কেন্দ্রেই জয়ী হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর ওই কেন্দ্র বিধায়কশূন্য হয়ে যায়।অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদাদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগরও বিধায়কশূন্য হয়ে পড়ে।এই দুই কেন্দ্রেই আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ফলে দুর্গাপুজোর ছুটির মধ্যেই ভোট ঘিরে আরও এক দফা ছুটি পেতে চলেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি কর্মী ও বাসিন্দারা। তবে ৭ অক্টোবরের বিশেষ ছুটি সকলের জন্য নয়, ভোটের কাজে যুক্ত যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী তা মঞ্জুর করা যেতে পারে বলেই জানিয়েছে অর্থ দপ্তর।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাজ্য

কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি? কেনার আগে মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি, সঠিক নিয়মে পুজোয় পাবেন হাতে নাতে ফল

ভগবান গণেশকে উৎসর্গ করে পালিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব গণেশ চতুর্থী। বিঘ্নহর্তা, জ্ঞানদাতা এবং শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে গণেশের আরাধনা করেন ভক্তরা। ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর। ওই দিন থেকেই শুরু হবে দশ দিনব্যাপী গণেশ উৎসব।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস, এই সময় বাপ্পাকে বাড়িতে স্বাগত জানালে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সুখ-সমৃদ্ধি আসে। তবে মূর্তি কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা সাজসজ্জা দেখলেই হবে না। ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, মূর্তির উচ্চতা, ভঙ্গি, রং, শুঁড়ের দিক এবং বাহনের উপস্থিতিরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়।কেমন হওয়া উচিত গণেশের মূর্তি?বাস্তুশাস্ত্রের প্রচলিত মত অনুযায়ী, বাড়িতে পুজোর জন্য গণেশের মূর্তি খুব বড় হওয়া উচিত নয়। সাধারণত ৯ থেকে ১১ ইঞ্চি উচ্চতার মূর্তিকে গৃহস্থের পুজোর জন্য উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। এর তুলনায় বড় মূর্তি রাখলে পুজো ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যা হতে পারে বলেও মত রয়েছে।মূর্তির ভঙ্গির দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়। বাড়িতে পুজোর জন্য উপবিষ্ট গণেশের মূর্তি শুভ বলে মনে করা হয়। এই ভঙ্গি শান্তি, স্থায়িত্ব ও সুখের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, চার হাতের গণেশ মূর্তির ক্ষেত্রে উপরের বাম হাতে পাশ, ডান হাতে অঙ্কুশ, নীচের বাম হাতে মোদক এবং নীচের ডান হাত অভয় মুদ্রায় থাকা শুভ বলে মনে করা হয়।গণেশের শুঁড় কোন দিকে থাকবে?গণেশের মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাম দিকে বাঁকানো শুঁড়যুক্ত গণেশের মূর্তি বাড়িতে স্থাপনের জন্য শুভ। এই ধরনের গণেশকে বামামুখী গণেশ বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রূপ শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক।অন্যদিকে, ডান দিকে বাঁকানো শুঁড়ের গণেশকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। এই রূপকে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করা হয় এবং তাঁর পুজোয় বিশেষ নিয়মকানুন মেনে চলার প্রচলন রয়েছে। তাই বাড়ির পুজোর জন্য মূর্তি কেনার সময় শুঁড়ের দিকটি খেয়াল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।গণেশের বাহন ইঁদুর থাকা কি জরুরি?ভগবান গণেশের বাহন ইঁদুর। তাই মূর্তি কেনার সময় গণেশের পায়ের কাছে তাঁর বাহন ইঁদুরের মূর্তি রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়।প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের মূর্তির সঙ্গে তাঁর বাহন ইঁদুরের উপস্থিতির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তাই সম্পূর্ণ মূর্তি কেনার সময় এই বিষয়টিও নজরে রাখা হয়।কোন দিকে মুখ করে থাকবে গণেশের মূর্তি?বাড়িতে গণেশের মূর্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে দিকেরও গুরুত্ব রয়েছে বলে বাস্তুশাস্ত্রে প্রচলিত মত রয়েছে। সেই অনুযায়ী, গণেশের মুখ পূর্ব বা উত্তর দিকে রেখে মূর্তি স্থাপন করা শুভ বলে মনে করা হয়। পুজোর সময়ও গণেশের মুখ যেন পূর্ব অথবা উত্তর দিকে থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।তবে গণেশের মূর্তির আকার, ভঙ্গি, শুঁড়ের দিক কিংবা মূর্তি স্থাপনের দিক নিয়ে প্রচলিত এই ধারণাগুলি মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্রভিত্তিক মত। ব্যক্তিগত বিশ্বাস, পারিবারিক রীতি এবং স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী গণেশ পুজোর নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পথচারীর মৃত্যুর পর উত্তপ্ত আউসগ্রামের বড়া চৌমাথা, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির যাত্রীদের উপর হামলা, তান্ডবের অভিযোগ

পথ দুর্ঘটনায় এক চাষির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বড়া চৌমাথা। দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তার ভিতরে থাকা শনিবার দুপুরে বড়া চৌমাথা মোড়ের কাছে দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের একাংশের বিরুদ্ধে। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি তার ভিতরে থাকা তিন পুরুষ যাত্রীকে মারধর এবং এক মহিলা যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আউশগ্রাম ও ভাতার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বর্ধমান-বোলপুর NH 114 নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বিহার থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল একটি চারচাকা গাড়ি। বড়া চৌমাথা মোড়ের কাছে আচমকাই এক পথচারীকে ধাক্কা দেয় গাড়িটি। দুর্ঘটনার জেরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় বিনোদ মল্লিক রায় (৩৮)। তিনি বড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় চাষি ছিলেন।ঘটনার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে তাতে ভাঙচুর চালায়। এরপর গাড়ির যাত্রীদের বাইরে বের করে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। গাড়িতে থাকা মহিলা যাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে বড়া চৌমাথা মোড় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়।দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিতে মোট চারজন যাত্রী ছিলেন একজন মহিলা এবং তিনজন পুরুষ। হামলা ও দুর্ঘটনায় তাঁরা আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সকলকেই বর্ধমান হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় মৃত বিনোদ মল্লিক রায়ের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিও আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে বর্ধমান-বোলপুর জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর, যাত্রীদের মারধর এবং মহিলা যাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
বিদেশ

বৈধ ভারতীয় ভিসা, তবু মিলল না ছাড়পত্র! পাকিস্তানে হেনস্থা ১০৪ শিখ তীর্থযাত্রীকে

শিখ তীর্থস্থান পরিদর্শনের জন্য ভারতে গমনকারী মোট ১০৪ জন পাকিস্তানি শিখ তীর্থযাত্রী শুক্রবার পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদ বিমানবন্দরে আটকে পড়েন, কারণ অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে অতিরিক্ত ছাড়পত্রের নথি দাবি করে। ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁরা আটকে থাকেন। তীর্থযাত্রীদের মতে, প্রথমে ওয়াঘা-আটারি স্থল সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার অনুমতি তাদের দেওয়া হয়নি, এরপর তাঁরা মোটা টাকা দিয়ে ফ্লাইটের টিকিট কেনেন। ফয়সালাবাদ বিমানবন্দরে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এফআইএ) কর্মকর্তারা তাদের থামিয়ে দেন এবং পাকিস্তান সরকার, স্বরাষ্ট্র দপ্তর ও পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছ থেকে এনওসি দাবি করেন। ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে তীর্থযাত্রীরা শুক্রবার সারা রাতা তাদের টার্মিনালে কেটে যায়।বিমানবন্দরে নিজের ভিসার কাগজপত্র দেখিয়ে এক তরুণ তীর্থযাত্রী বলেন, আমাদের কাছে ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ ভিসা রয়েছে। কোনও বাধ্যতামূলক অতিরিক্ত এনওসি প্রয়োজন হবে কিনা, সে বিষয়ে আমাদের আগে থেকে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। যদি সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজনই থাকত, তাহলে শুরুতেই আমাদের এত দামী টিকিট কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কেন? ধর্ম এবং তীর্থযাত্রাকে রাজনৈতিক বিবাদ থেকে আলাদা রাখা উচিত। এই দলটি ভারতজুড়ে প্রধান শিখ তীর্থস্থানগুলিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছিল, যার মধ্যে রয়েছে গুরুদ্বার শ্রী হেমকুন্ত সাহেব, অমৃতসরের শ্রী হরমন্দির সাহেব (গোল্ডেন টেম্পল) এবং দিল্লি ও পাঞ্জাবের ঐতিহাসিক গুরুদ্বারগুলি।অবিলম্বে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে, প্রতিনিধিদলের নেতারা শ্রী আকাল তখত সাহেবের জথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গারগাজ্জ, এসজিপিসি সভাপতি হরজিন্দর সিং ধামি এবং দিল্লি শিখ গুরুদ্বার ম্যানেজমেন্ট কমিটির (ডিএসজিএমসি) সভাপতি হরমীত সিং কালকাসহ বিশিষ্ট ভারতীয় শিখ ব্যক্তিত্বদের কাছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য আবেদন জানান। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ধামি এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছেন: তীর্থযাত্রীদের থামানো অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই শিখ তীর্থযাত্রীরা, যাঁরা ইতোমধ্যেই ভারত সরকারের কাছ থেকে বৈধ ভিসা সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁদের ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। যদি স্থলপথে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তাঁদের আকাশপথে ভ্রমণের অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল। তাঁদের ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত করা এই সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে।

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরের নিয়োগে ‘বড় গরমিল’! সিবিআই তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার সিআইডি, সিবিআই অথবা কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাল সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।সংগঠনের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সময় প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ঠিক ভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্যই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।চিঠিতে ডেপুটি রেজিস্ট্রার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেটের সচিব পদে ভোটের বিধিনিষেধ চলাকালীন কী ভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, স্বজনপোষণ, প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক অনিয়মের মতো অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগকেই তদন্তের আওতায় আনা হোক। তবে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়।সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে গত ১৫ মে এবং ১২ জুনও একই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফের সেই দাবি জানানো হল।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, যেদিন বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ হয়েছে, সেদিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি সামনে এল। সংগঠনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এরই মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নিয়েও বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংগঠনের সদস্যদের অতীত এবং বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, তাঁদের সমস্ত ইতিহাস বের করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই যাদবপুরের নিয়োগ নিয়ে তদন্তের দাবিতে উপাচার্যের কাছে চিঠি যাওয়ায় রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।এখন উপাচার্য এই চিঠির পর কী পদক্ষেপ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কোনও তদন্ত হয় কি না এবং হলে কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শিক্ষা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মী বদলির বিল বিধানসভায় পাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার যুক্তি সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবেআপত্তি শিক্ষকমহলের।কলকাতা: রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকমহল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিলটি পেশ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছিল। সংশোধিত আইনে ২০১৭ সালের আইনের ১৪এ ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করতে পারবে সরকার।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই বদলি, দাবি সরকারেরসরকারের যুক্তি, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো হলে সেখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এ পরিণত করার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে পিএইচডি-র তত্ত্বাবধান বা গবেষণা প্রকল্পে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পাঠানো হলে তাঁরা পরিকাঠামো তৈরি, ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পৌঁছনোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মানবসম্পদের আদানপ্রদানও হবে।সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সরব শিক্ষকমহলতবে সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষকমহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত স্বশাসিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি বদলির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক সাগরময় ঘোষের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরাসরি বদলির পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করানো যেত।তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্পদ ও দক্ষতার ভাগাভাগির মতো মডেল জাতীয় শিক্ষানীতিতেও রয়েছে। কিন্তু জোর করে অধ্যাপকদের বদলি করলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।এক অধ্যাপকও প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগ করে, সেই শিক্ষকদের পরে রাজ্য সরকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাবে কেন?গবেষণা নিয়েও আশঙ্কাবিলটি ঘিরে গবেষণার ক্ষেত্রেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ। তাঁর দাবি, একটি বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকলেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব। হঠাৎ করে শিক্ষক বদলি শুরু হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।তাঁর মতে, বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থদাতা সংস্থা কোনও অধ্যাপকের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে। ঘন ঘন বা ইচ্ছেমতো বদলি শুরু হলে সেই অর্থসাহায্যও প্রভাবিত হতে পারে।প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্ণব হালদারও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করুক সরকারকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যার মূল কারণ যদি পরিকাঠামোগত দুর্বলতা হয়, তাহলে তার সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের বদলি না করে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।তাঁর মতে, সাধারণত অভিজ্ঞ অধ্যাপকেরা উন্নত গবেষণার সুযোগ, ল্যাবরেটরি, পরিকাঠামো এবং একাডেমিক পরিবেশের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু শিক্ষক বদলি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।বদলি নিয়ে নতুন বিতর্কএকদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মানবসম্পদ কাজে লাগানোর যুক্তি দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কাএই ক্ষমতা ভবিষ্যতে নির্বাচিতভাবে কোনও শিক্ষককে বদলি বা চাপের মুখে ফেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।ফলে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বনাম সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।Source: Telegraph India

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিদেশ

গালওয়ানের ক্ষত এখনও তাজা, তার মধ্যেই দিল্লিতে শি! মোদির সঙ্গে বৈঠক ঘিরে তুঙ্গে চর্চা

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শির ভারত সফরের কথা নিশ্চিত করেছে বেজিং।ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে পৌঁছনোর কথা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। ফলে সাত বছর পর ফের ভারতে আসছেন শি জিনপিং। তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কারণ, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এটাই হতে চলেছে শির প্রথম ভারত সফর।সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দিকে। যদিও এমন বৈঠক হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর দুই দেশই সম্পর্কের উন্নতির রাস্তা খুঁজতে পারে।ভারত ও চিনের সম্পর্কে অবিশ্বাসের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ সেই সম্পর্কে আরও বড় ধাক্কা দেয়। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিনও তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা সরকারি ভাবে স্বীকার করেছিল।গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে। সীমান্তে সেনা মোতায়েন, অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন এলাকা নিয়ে টানাপড়েন এবং একাধিক কূটনৈতিক বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, ব্রিকসের মঞ্চে কি মোদি এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে? যদি বৈঠক হয়, তবে সীমান্ত সমস্যা, সামরিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তবে বৈঠকের বিষয়বস্তু বা তার সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এর আগে কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল মোদি এবং শি জিনপিংকে। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে করমর্দন হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি।এবার দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে পরিস্থিতি কতটা বদলায়, সেদিকেই নজর থাকবে। গালওয়ানের পর প্রথম বার ভারতে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠক ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বার্তা দেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

জলপাইগুড়ির স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধর! ঘটনার নেপথ্যে আসলে কী, তদন্তে শিক্ষা দপ্তর

জলপাইগুড়ির জেলা স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর। ঘটনার আগে ঠিক কী হয়েছিল, ছাত্রদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কী নিয়ে সমস্যা হয়েছিল এবং কেন পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখতে বুধবার স্কুলে পৌঁছন জেলা স্কুল পরিদর্শকের নেতৃত্বাধীন দল।স্কুল পরিদর্শক সুজিত সরকারের নেতৃত্বে এদিন তদন্ত শুরু হয়। স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিদর্শক দলের সদস্যরা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কারা ছিলেন, ছাত্রদের কী অভিযোগ ছিল এবং প্রধান শিক্ষককে মারধরের আগে পরিস্থিতি কেন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি, সেই সব বিষয় জানতে চাওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, গোটা ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী ভাবে পরিস্থিতি বদলেছিল, তা খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। জলপাইগুড়ির জেলা স্কুল পরিদর্শককে এই নির্দেশ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিব বিনোদ কুমার।মঙ্গলবার শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ খাওয়াদাওয়ার আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্কুলের মিড ডে মিলের ঘরে ওই আয়োজন হয়েছিল। কয়েক জন ছাত্র সেখানে উঁকি দেওয়ায় তাঁদের প্রধান শিক্ষক মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই পরে ছাত্রদের একাংশ প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয় বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ, ছাত্ররা প্রধান শিক্ষককে মারধর করে তাঁর মাথায় আঘাত করে। এর পর স্কুল চত্বরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ স্কুলে পৌঁছয়। পরে পুলিশই প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।প্রধান শিক্ষক ধর্মুচাঁদ বারুইয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্রদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগগুলির সঙ্গে মঙ্গলবারের ঘটনার কী সম্পর্ক রয়েছে, তা-ও তদন্ত করে দেখছে শিক্ষা দপ্তর।এখন মূল প্রশ্ন, শিক্ষক দিবসের আয়োজন ঘিরে ঠিক কী থেকে এত বড় অশান্তি তৈরি হল এবং প্রধান শিক্ষককে মারধরের আগে স্কুলে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী দলের রিপোর্টেই সেই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
কলকাতা

পুজোর আগে সরকারি বিজ্ঞাপনে ‘বড় ভুল’! দুর্গার ১১ হাত দেখে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দুর্গার ছবি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সরকারি বিজ্ঞাপনে দশভুজার বদলে ১১ হাতের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম, বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা শুরু হয়।পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সেই বৈঠকের আগে সরকারি একটি আমন্ত্রণপত্র উদ্যোক্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। সেখানেই দুর্গার ১১ হাতের ছবি দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে দেবী দুর্গাকে দশভুজা হিসাবেই দেখা হয়। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ছবিতে একটি হাত অতিরিক্ত দেখা যাওয়ায় প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি এই ছবি নিয়ে কটাক্ষও করেন। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা শুরু হয়।এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই তিনি এই ভুলের জন্য ক্ষমা চান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সকালে একটি ত্রুটিপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ভুলের জন্য তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপন প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাকে সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, তিনি বিজ্ঞাপনটি দেখেননি। তবে তাঁর কথায়, কোনও সংস্থার ছাপার ভুল থেকেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সংশোধন করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে এ দিনের বৈঠকে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের আগেই সরকারি বিজ্ঞাপনে দুর্গার ১১ হাতের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কই বিশেষ নজর কেড়ে নেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার পর সেই বিতর্কে আপাতত ইতি পড়ে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 68
  • 69
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

নেতানিয়াহুর গদি কি টলমল? ইজরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী নেতাকে সমর্থন আরব দলগুলির!

ইজরায়েলের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলি। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে আইজেনকোটের পক্ষে ১২০ আসনের সংসদে ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইজরায়েলে সরকার গড়তে প্রয়োজন ৬১ জন সাংসদের সমর্থন। সেই হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারেন বিরোধী নেতা।বৃহস্পতিবার যৌথ তালিকা জোট জানায়, তারা দেশের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগের কাছে আইজেনকোটকে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করবে। এর আগে আর একটি আরব-নেতৃত্বাধীন দল রাআমও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ তালিকা জোটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।যৌথ তালিকা জোটের হাতে রয়েছে ১১টি আসন। অন্য দিকে, রাআমের আসন সংখ্যা আট। দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯ জন সাংসদ রয়েছেন। ইজরায়েলের সংসদে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলির পক্ষে এই সংখ্যা রেকর্ড বলে জানা যাচ্ছে। এই দুই দলের সমর্থন নিশ্চিত হলে আইজেনকোটের পক্ষে মোট ৬৭ জন সাংসদের সমর্থন থাকতে পারে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তাঁর শিবির।অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর শিবিরের সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁদের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন। তবে প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুকে কত জন সাংসদ সমর্থন করবেন, সেই সংখ্যা আরও কম হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের একটি অংশও তাঁর পাশে নেই। ওই জোটের সাতটি আসনের মধ্যে চারটি আসন রয়েছে দেগেল হা তোরাহের হাতে। তারা জানিয়েছে, নেতানিয়াহু বা আইজেনকোটকাউকেই প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন করবে না। টাইমস অফ ইজরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় দেওয়ার আইন পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে নেতানিয়াহু সরকার। সেই কারণেই জোটের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।সব মিলিয়ে ইজরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কাকে আমন্ত্রণ জানাবেন, তা ঠিক করবেন। আরব দলগুলির সমর্থনে আপাতত সেই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন গাদি আইজেনকোট। তবে শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলের ক্ষমতা কার হাতে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

এসএসসি গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগে বড় খবর! ইন্টারভিউয়ের তালিকায় কারা, দেখে নিন নাম

এসএসসি-র গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় খবর। বৃহস্পতিবার ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ৩৮ হাজার প্রার্থীকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে। কারা এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন, তা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে নিতে পারবেন চাকরিপ্রার্থীরা।কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জমা দেওয়া সংশোধিত শূন্যপদের হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম রাজ্যস্তরের বাছাই পরীক্ষা বা এসএলএসটি-র মাধ্যমে নন-টিচিং স্টাফের ক্লার্ক পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের নাম এই তালিকায় রাখা হয়েছে।প্রার্থীরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকাশিত তালিকায় নিজেদের নাম খুঁজে নিতে পারবেন। নামের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যও মিলিয়ে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে প্রার্থীদের মূল নথি, শংসাপত্র এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে। পাশাপাশি নেওয়া হবে ইন্টারভিউ। তবে নথি যাচাই এবং ইন্টারভিউয়ের দিনক্ষণ এখনও জানায়নি কমিশন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে কমিশনের ওয়েবসাইটে।কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষা হয়েছে ১ মার্চ। অন্য দিকে, গ্রুপ সি পদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ৮ মার্চ। গ্রুপ সি পদে শূন্যপদের সংখ্যা ২,৯৮৯। গ্রুপ ডি পদে শূন্যপদ রয়েছে ৫,৪৮৮টি। এই দুই পদে নিয়োগের জন্যই প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তার পর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আলাদা দিনে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি পদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে ফল প্রকাশ পিছিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ফলে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

ভেন্টিলেশনে প্রাক্তন মন্ত্রী ! কিডনি বিকল, ব্রেন স্ট্রোকের পর কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। কলকাতার একটি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তিনি। কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ায় চলছে ডায়ালিসিস। এর পাশাপাশি ব্রেন স্ট্রোক এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যাও রয়েছে তাঁর। চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর কথা ভাবলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আপাতত অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। উজ্জ্বল বিশ্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।উজ্জ্বল বিশ্বাসের অসুস্থতা নিয়ে সমাজমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর উজ্জ্বল বিশ্বাসের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার ধাক্কা তাঁর শরীর ও মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কুণাল। অন্য দিকে, মহুয়া মৈত্রও উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার কামনা করেছেন তিনি।গত কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ উজ্জ্বল বিশ্বাস। গত ৫ অক্টোবর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর হৃদ্যন্ত্রের বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরের দিনই ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। প্রায় ১৪ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা।কিন্তু দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রাক্তন মন্ত্রী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সপ্তমীর দিন তাঁকে কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর নিউমোনিয়া হয়েছে বলে জানান। সেই সঙ্গে ফুসফুসের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। একের পর এক শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হয়। শ্বাস নিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য গলায় অস্ত্রোপচার করে শ্বাস নেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে।উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিঃস্বার্থ ভাবে কৃষ্ণনগরের মানুষের সেবা করার পরেও উজ্জ্বল বিশ্বাসের উপর হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, জেল থেকে ফেরার পর থেকেই শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে হৃদ্যন্ত্রের অস্ত্রোপচার, ব্রেন স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হন তিনি।সব মিলিয়ে উজ্জ্বল বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে নজর রাখছেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি তাঁর। পেসমেকার বসানোর বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
কলকাতা

সিঙ্গুরে কি ফিরছে গাড়ি কারখানা? শিল্পনীতি ঘোষণার দিনেই বড় ইঙ্গিত শুভেন্দুর!

রাজ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করল বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতির কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই নীতিতে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে একাধিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিদ্যুতের শুল্ক থেকে শুরু করে কর্মীদের ভবিষ্যনিধি সংক্রান্ত বিষয়েও বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে সরকার। আর নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার দিনেই সিঙ্গুর নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সিঙ্গুরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন করে কিছু করার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।গত ১৫ বছর তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলায় বড় শিল্প আসেনি বলে বারবার অভিযোগ করেছে বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর শিল্পের প্রসার নিয়ে নতুন সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বাংলায় নতুন শিল্প আসুক, তৈরি হোক কর্মসংস্থানএমনটাই চাইছেন সাধারণ মানুষ। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনার কথা বলে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে শিল্প দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা। কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগও এসেছে। এরই মধ্যে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। তবে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানো নিয়ে কী ভাবছে সরকার, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিলই।সেই প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সিঙ্গুর নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ করব। সেই বিষয়ে অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিছু একটা করব। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি সিঙ্গুরে আবার গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে উঠতে পারে? যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করেননি মুখ্যমন্ত্রী।সিঙ্গুরের সঙ্গে বাংলার শিল্পায়নের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। ২০০৬ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে হুগলির সিঙ্গুরে প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটরসের ন্যানো গাড়ির কারখানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের উদ্যোগে বাংলায় ছোট গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন একাংশের কৃষক। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জমি আন্দোলনের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন তিনি। টানা ২৬ দিন অনশনের পর তা প্রত্যাহার করেন।২০০৮ সালের অগস্ট মাসে সিঙ্গুরে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। পরিস্থিতির চাপে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে টাটা মোটরস কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রতন টাটা। পরে গুজরাতের সানন্দে তৈরি হয় ন্যানো গাড়ির কারখানা।২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তৃণমূল সরকার। তবে জমি ফেরত পাওয়ার পরেও সেখানে চাষবাস সেভাবে শুরু হয়নি। অন্য দিকে, নতুন করে শিল্পও গড়ে ওঠেনি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গুরে শিল্প ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের দিন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য তাঁদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে সিঙ্গুরে ঠিক কী ধরনের শিল্প গড়ে উঠবে, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে ফের ভয়াবহ বিপর্যয়! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ি, মৃত ২, ধ্বংসস্তূপে বহু?

দিল্লিতে ফের বাড়ি ভেঙে বড়সড় বিপর্যয়। বৃহস্পতিবার সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা বাড়ি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে গলি সিতারা এলাকায় নির্মাণকাজ চলছিল বাড়িটিতে। আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তিনতলা বাড়িটি। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ, দমকল এবং উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত দুজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদের নাম চন্দরপাল (৬০) এবং বিজয় কুমার (৩৩)।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বাড়িটির নির্মাণকাজ চলছিল। সেই সময় পুরনো ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। তার জেরেই গোটা বাড়িটি ভেঙে পড়ে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সব ঘটনায় প্রাণহানিও হয়েছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এমন দুর্ঘটনা ঘটল রাজধানীতে। পর পর এই ধরনের ঘটনায় দিল্লির নিরাপত্তা ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এই পরিস্থিতিতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। রাজধানীতে একের পর এক বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
দেশ

এসআইআর নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের! ফর্ম ৬ জমা দিতে আর লাগবে না এই নথি

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিতে গেলে আর দিতে হবে না এসআইআর সংক্রান্ত ডিক্লারেশন বা ঘোষণা। যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলছে, সেখানেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কমিশন। এর ফলে নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হল।এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই ফর্ম ৬-এ ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। প্রথম থেকেই এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের বক্তব্য ছিল, আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে ফর্ম ৬-কে যুক্ত করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আপত্তির বিষয়টিই গুরুত্ব পেল বলে মনে করা হচ্ছে।ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তুলতে হলে ফর্ম ৬ পূরণ করতে হয়। এত দিন এসআইআর চলাকালীন এই ফর্ম জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীদের একটি অতিরিক্ত ঘোষণা দিতে হচ্ছিল। সেই ঘোষণায় আবেদনকারীর পরিবারের পুরনো ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছিল। বিশেষ করে আবেদনকারীর বাবা-মা, দাদু-দিদার নাম শেষ এসআইআরের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, সেই তথ্য দিতে হচ্ছিল।অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করার সময়ও এই সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হচ্ছিল। ফর্মের নির্দিষ্ট অংশে এসআইআর সংক্রান্ত ঘোষণা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এই নিয়ম নিয়েই আপত্তি ওঠে। বিরোধীরাও প্রশ্ন তোলেন, নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করতে গেলে কেন এসআইআরের অতিরিক্ত ঘোষণা দিতে হবে?নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যও এই নিয়ম নিয়ে আপত্তি জানান। কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধুর বক্তব্য ছিল, আইন সংশোধন না করে ফর্মে এই ধরনের পরিবর্তন করা যায় না। সংসদের মাধ্যমে আইন সংশোধনের পরেই ফর্মে প্রয়োজনীয় বদল আনা উচিত। কিন্তু সেই আপত্তি সত্ত্বেও নিয়ম চালু করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত ঘোষণা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়া ১৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই নতুন করে ফর্ম ৬ জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।বৃহস্পতিবার কমিশন আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে, সেখানেও ফর্ম ৬ জমা দেওয়ার সময় আর অতিরিক্ত ঘোষণা দিতে হবে না। অর্থাৎ, অনলাইনে ফর্ম পূরণের ক্ষেত্রেও এই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হল।এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার ক্ষেত্রে এত দিন যে অতিরিক্ত নিয়ম মানতে হচ্ছিল, তা আর মানতে হবে না। তবে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দুই নির্বাচন কমিশনারের আগের আপত্তি এবং বিরোধীদের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বাবরি মসজিদ নিয়ে সুর বদল হুমায়ুনের! মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন বিধায়ক?

বাবরি মসজিদ বিতর্কে আচমকাই সুর বদল নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। মুর্শিদাবাদে বাবরের নামে মসজিদ তৈরি হলে কোনও অনুমতি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেন হুমায়ুন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানালেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি বাবরি নাম না চান, তা হলে তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে হবে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল তৈরি করেন হুমায়ুন কবীর। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে সেই দল গড়ে ভোটের ময়দানে নামেন তিনি। সেই সময়ই মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরির ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এর পর মুর্শিদাবাদে মসজিদ তৈরির কাজও শুরু হয়।গত ২ নভেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি সভায় আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তাঁকে। সেখানে মসজিদ নির্মাণের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সভা থেকেই আগামী ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন জাতীয় সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন হুমায়ুন। প্রশাসনের ক্ষমতা থাকলে তাঁকে আটকে দেখাক বলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।এর পরেই বুধবার বাবরি মসজিদ বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদের অনেক কৃতী মানুষের নামে মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু বাবরের নামে মসজিদ তৈরি হলে কোনও পরিকল্পনা বা অনুমোদন মিলবে না। এই বিষয়ে জেলার জেলাশাসককে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই বৃহস্পতিবার সকালে সুর নরম করেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি যদি বাবরি নাম না চান, তা হলে তাঁর ইচ্ছাকে মান্যতা দিতেই হবে। হুমায়ুনের এই মন্তব্যের পরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এত দিন যে বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি, সেই অবস্থান থেকে কি তবে সরে আসছেন নওদার বিধায়ক?হুমায়ুনের মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, বাবরি মসজিদ তৈরি হবে না। হুমায়ুনের কথারও কোনও স্থিরতা নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। সজলের কটাক্ষ, কখনও এক কথা, কখনও অন্য কথা বলেন হুমায়ুন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। তাই তাঁর কথায় গুরুত্ব দিতে চান না বলেও জানান বিজেপি বিধায়ক।বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে হুমায়ুনের এই নতুন মন্তব্যে বিতর্কে আরও একটি নতুন মোড় এল। মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির পর সত্যিই কি মসজিদের নাম বদলাবেন তিনি, নাকি ভবিষ্যতে আবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করবেন? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬
রাজ্য

বোতলের ভিতরে মা কালী! মহাদেবের কোলে শিশুর মতো শুয়ে দেবী, বাঁকুড়ার শিল্পীর সৃষ্টি দেখে অবাক নেটপাড়া

কাচের বোতলের ভিতরে আস্ত মা কালী! তাও আবার প্রচলিত রূপে নয়। মহাদেবের বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে নেই দেবী। বরং দেবাদিদেব মহাদেবের কোলেই শিশুর মতো শুয়ে রয়েছেন তিনি। আর এমনই এক অভিনব শিল্পকর্ম তৈরি করে সকলকে অবাক করে দিয়েছেন বাঁকুড়ার শিল্পী ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।সাধারণত কালীমূর্তিতে মহাদেবের বুকের উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দেবীকে। কিন্তু সেই চেনা ছবির বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য ভাবনায় মূর্তিটি তৈরি করেছেন ইন্দ্রনীল। সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, গোটা মূর্তিটি তৈরি হয়েছে একটি কাচের বোতলের ভিতরে। ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন রঙের সুতো। সরু তারের সাহায্যে একের পর এক সুতো বোতলের ভিতরে ঢুকিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন তিনি।কাজী নজরুল ইসলামের লেখা কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন গানটি মা কালীর ভক্তদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রচলিত কালীমূর্তির সঙ্গে এই গানের ভাবনা জড়িয়ে রয়েছে। তবে ইন্দ্রনীলের তৈরি মূর্তিতে ফুটে উঠেছে দেবী ও মহাদেবের সম্পর্কের এক অন্য দিক।এই শিল্পকর্ম তৈরির পিছনে রয়েছে শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা। ইন্দ্রনীলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অসুর বধের পর প্রচণ্ড ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন দেবী। তাঁকে শান্ত করতে মহাদেব তাঁর সামনে শুয়ে পড়েন। দেবীর পা মহাদেবের বুকে পড়তেই শান্ত হন তিনি। পৌরাণিক কাহিনির এই পরিচিত দৃশ্যের পরের অংশটিই নিজের কল্পনায় সাজিয়েছেন শিল্পী।তাঁর ভাবনায়, দেবী শান্ত হওয়ার পর মহাদেব তাঁকে নিজের কোলে তুলে নেন। ছোট্ট শিশুর মতো বুকে আগলে আদর করেন। দেবী ও মহাদেবের সম্পর্কের মধ্যে থাকা ভালোবাসা, স্নেহ এবং মমতার সেই ছবিই ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। প্রচলিত চিত্রকল্পের বাইরে গিয়ে এমন ভাবনা তাঁর শিল্পকর্মকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ বছর ধরে ছবি আঁকা এবং নানা ধরনের সৃজনশীল শিল্পকর্মের সঙ্গে যুক্ত। বোতলের ভিতরে বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করাই তাঁর বিশেষ পরিচিতি। বাংলার পরিচিত বোতলশিল্পীদের মধ্যেও তিনি অন্যতম।দীর্ঘ শিল্পীজীবনে দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সামনে নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন ইন্দ্রনীল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ভারতীয় ক্রিকেটের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের সাধনা, ধৈর্য এবং অভিনব ভাবনার জোরেই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন বাঁকুড়ার এই শিল্পী।একটি ছোট্ট কাচের বোতলের ভিতরে রঙিন সুতোর সাহায্যে এমন সূক্ষ্ম কাজ সত্যিই নজর কাড়ার মতো। আর মা কালী ও মহাদেবের পরিচিত সম্পর্ককে এক নতুন ভাবনায় তুলে ধরে শিল্পী বুঝিয়ে দিয়েছেন, শিল্পের জগতে কল্পনার কোনও সীমা নেই।

নভেম্বর ০৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal