জেল হেফাজতে থাকাকালীন মদন কুমার ঘোড়ইয়ের মৃত্যু আরেকটি ভয়ংকর ঘটনা। ওই বিজেপি কর্মীকে অমানবিকভাবে অত্যাচার করা হয়েছে। সংবিধান মেনে রাজ্যে শাসকদল চলছে না। এমনই অভিযোগ করে রবিবার টুইট করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সে দিকে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আরও পড়ুনঃ বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে এ কি বললেন অমিত শাহ ! এছাড়া রাজ্য পুলিশের ডিজি, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করে আরও একবার তাদের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল । এদিন এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও লেখেন তিনি।
সঙ্গত কারণেই বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতারা। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আমফানের ত্রাণের টাকা নিয়ে চরম দুর্নীতি হয়েছে। বাংলার জেলায়-জেলায় বোমা কারখানার হদিশ মিলছে। সর্বভারতীয় নিউজ চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এমনই মন্তব্য করেন। তবে তিনি বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল দাবি করতেই পারে। কিন্তু, রাষ্ট্রপতি শাসন কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার দাবি মেনে হয় না ৷ ভারতীয় সংবিধানে যে নিয়ম রয়েছে , সেই নিয়ম মেনেই একমাত্র রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয় ৷ কোথাও রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে গেলে আগে রাজ্যপালের রিপোর্ট দেখতে হবে ৷ সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে, তারপর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। তবে, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের মত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি রয়েছে। আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্ত নির্মল মাজি তৃ্ণমূলের সমালো্চনা করে তিনি আরও বলেন, ভারতের আর কোনও রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের মতো পরিস্থিতি নেই। বাংলায় বিরোধীদের উপর অনবরত আক্রমণ চলছে। বিরোধীদের খুন করা হচ্ছে। মিথ্যা মামলায় তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পালাবদল হবেই, প্রত্যয়ী অমিত শাহ। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলায় বদল আসবে। তৃণমূলকে বাংলা থেকে সরানোই প্রধান লক্ষ্য।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৮৬৫ জন।এখনও পর্যন্ত এটাই সর্বাধিক দৈনিক সংক্রমণ। ফলে রাজ্যে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৩ জন।পুজোর মুখে করোনা সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ নিঃসন্দেহে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৯৯২। আরও পড়ুনঃ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হল ৩ হাজার ৭৭১ জন গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৬১ জন। বর্তমানে সক্রিয় করোনা রোগী ৩৩,১২১ জন। তবে সুস্থতাও বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২,৭৭ ,৯৪০ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাজয়ীর সংখ্যা ৩১৮৩। রাজ্যে সুস্থতার হার ৮৭.৬৬ শতাংশ।
করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে ফের বিশেষজ্ঞদল পাঠাচ্ছে কেন্দ্র। সেইসঙ্গে কেরল, কর্নাটক, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও যাবে কেন্দ্রীয় দল। এই রাজ্যগুলিতে করোনা পরিস্থিতি খারাপ। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আরও পড়ুনঃ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ধর্মঘট , বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, প্রতিটি টিমে একজন যুগ্মসচিব, একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, একজন ক্লিনিসিয়ান থাকবেন। রাজ্যগুলির করোনা মোকাবিলায় তাঁরা সহায্য করবেন। কীভাবে করোনা পরীক্ষা এবং তার চিকিৎসা আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও তারা নজর দেবেন।
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। একদিন সত্যি ঠিক সকলের সামনে বেরিয়ে আসবেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে রাজ্য সরকারের সমালোচনায় এভাবেই সরব হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। আরও পড়ুনঃ ইংরেজি বলতে না পারার অপরাধে আয়কর দফতর পাঁচজন কর্মীকে ছাঁটাই , ডেপুটেশন বাংলা পক্ষের রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি আরও লেখেন, রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ চলছে। পুলিশ সন্ত্রাস চালাচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে বলেও সুর চড়ান রাজ্যপাল। এই টুইটের পরে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ যে আরও বাড়তে চলেছে , সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই রাজনৈ্তিক মহলের।
ইংরেজি বলতে না পারার অপরাধে আয়কর দফতর পাঁচজন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বাঙালিদের জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষের তরফ থেকে শুক্রবার কলকাতার আয়কর দফতরে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হল। আয়কর দফতরের ভাইস চেয়ারম্যান এবং সম্পাদককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ভাইস চেয়ারম্যান বাংলা পক্ষের এই দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। আরও পড়ুনঃ দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী এবং সপ্তমীতে বৃষ্টির পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের স্মারকলিপিতে তাদের দাবি, অবিলম্বে বরখাস্ত হওয়া পাঁচ কর্মীকে পুনরায় চাকরিতে বহাল করতে হবে। কারণ, যখন এই পাঁচজনকে চাকরিতে নিয়োগ করা হয়েছিল, তখন কোথাও বলা ছিল না যে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক। বাংলা পক্ষের প্রশ্ন, উত্তরপ্রদেশ, বিহারে তো সরকারি অফিসে সকলে হিন্দিতেই কথা বলে। সেখানে তো ইংরেজিতে কেউ কথা বলে না। আর পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অফিসে বাংলা বললেই পাপ ? শেষ আদমসুমারী অনুযায়ী বাংলার ৮৩ শতাংশ মানুষ শুধু বাংলা বোঝেন, হিন্দি- ইংরেজি বোঝেন না। বাংলা না জানলে বরং বরখাস্ত করা উচিত। আরও পড়ুনঃ অনুদান কি শুধু দুর্গাপুজোতেই দেয় সরকার? প্রশ্ন হাইাকোর্টের এদিনের কর্মসূচিতে অনৈতিক ও বেআইনিভাবে ছাঁটাই হওয়া পাঁচজন কর্মীই উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি, কাজ চালানোর মতো ইংরেজি তারা বলতে পারেন। চাকরির শর্ত ছিল না যে ইংরেজি বলতেই হবে। বাংলা পক্ষের তরফ থেকে এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অমিত সেন , জয়দীপ দে, কৌশিক মাইতি ও সম্রাট বোস সহ আরও অনেকে।
ভারতের মাথা পিছু জাতীয় উৎপাদন বাংলা্দেশের থেকেও কম হবে। ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের এই পূর্বাভাসের পর কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধীরা। এবার এই বিষয়ে সাফাই দিয়ে কেন্দ্রের তরফ থেকে এক সরকারি আধিকারিক বলেন , ,২০১৯ সাল পর্যন্ত হিসেবে ভারতের মোট জিডিপির পরিমাণ বাংলাদেশের ১১ গুণ। শুধু মোদি সরকারের আমলেই দেশে মাথাপিছু সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও পড়ুনঃ জিডিপি নিয়ে মোদিকে কটাক্ষ রাহুল-অভিষেকের সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ওই আধিকারিক আরও বলেছেন,মোদি জমানায় দেশের পার ক্যাপিটাল জিডিপি বেড়েছে ৩০.৭ শতাংশ। আগে যেটা ৮৩ হাজার ৯১ টাকা ছিল। এখন সেটা ১ লক্ষ ৮ হাজার ৬২০ টাকা। তাই বাংলাদেশ মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে টপকে যাবে , সেরকম কোনও সম্ভাবনা নেই।
ফের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে শাসকদল ও রাজ্য প্রশাসনের উপর ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর মতে, সরাসরি প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্যপালের বাক্যবিনিময় অনেক পরিস্থিতিই সহজ করে দেয়। কিন্তু বাংলায় তা হচ্ছে না। উলটে একজন রাজ্যপালকে শাসকদলের নেতা,মন্ত্রীরা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ট বলে বারবার উল্লেখ করছেন, যা আদতে সাংবিধানিক প্রধানের পদ এবং কার্যালয়ের পক্ষে অবমাননাকর। তাঁর আরও অভিযোগ, প্রশাসনই বরং সাংবিধানিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। তাঁর পরামর্শ, পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে। অন্যথায় তা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকারক হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে ডিজিপিকে তলব এবং বিজেপির নবান্ন অভিযানে বলবিন্দর সিংয়ের আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে তাঁকে গ্রেপ্তারি নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের ভূমিকার উল্লেখ করেছেন। দুটি বিষয়ই তাঁর কাছে যথেষ্ট অপ্রত্যাশিত বলে মনে হয়েছে। আরও পড়ুনঃ বলবিন্দার সিংএর মুক্তির দাবিতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ পরিবারের সদস্যরা চিঠির শেষে তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, একজন রাজ্যপালের যা কর্তব্য, তা তিনি করতে বদ্ধপরিকর। খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন সেই কাজ অনেক মসৃণভাবে করার রাস্তা তৈরি করে দিতে পারে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নাম করে তিনি লেখেন যে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় তাঁকেই এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশাবাদী ধনকড়। চিঠিতে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, সংঘাতের মধ্যে দিয়ে নয়, রাজভবন-নবান্ন একজোট হয়ে কাজ করলে, তবেই সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হবে।
এখনও সংকটে অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে রাখা হয়েছে বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর হৃদস্পন্দন অনিয়মিত। এছাড়া তাঁর পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়ামের মাত্রাও ওঠানামা করছে। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার জন্য মানসিক অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে তাঁর। এখনও তাঁর ১০২ ডিগ্রির মতো জ্বর রয়েছে। ক্যানসার ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে মস্তিষ্কে এবং ফুসফুসে। দ্বিতীয় প্লাজমা থেরাপির পর খানিকটা স্থিতিশীল হয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার রাতে ফের আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অভিনেতার শারীরিক অস্বস্তি বাগে আনা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যেই তাঁর জ্বর আসছে। সোমবারই তাঁর এমআরআই করা হয়েছে।হাসপাতাল সূত্রে খবর, দিনেরবেলা একটু ঘুমিয়েছেন অভিনেতা। কিন্তু টানা ঘুম হচ্ছে না তাঁর। অক্সিজেনের অভাব হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। প্রয়োজনমতো অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। আপাতত তাঁকে আর প্লাজমা দেওয়া হবে না। চিকিৎসকরা বলছেন, স্নায়ুর সমস্যা শুরু হয়েছে অভিনেতার। স্নায়ুর চিকিৎসা এই মুহূর্তে জরুরি। পাশাপাশি ফুসফুসকে পূর্ণ মাত্রায় সচল রাখাটাও চ্যালেঞ্জ। আপাতত ১৬ জন চিকিৎসকের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ফের করোনা আক্রান্ত মানুযের কথা চিন্তা করে পুজো্র আগে জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও শহরতলিতে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কোভিড টেস্ট করাতে গেলে এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হয় ২২৫০। কিন্তু রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে , এই বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলিতে এখন থেকে টেস্ট করাতে গেলে লাগবে ১৫০০। এছাড়াও রাজ্য সরকার ও কলকাতা পুরসভা বিনামূল্যে রাজ্যের সকল কোভিড রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দেয়। কিন্তু যে সকল কোভিড রোগী বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি হন , তাদের জন্যও অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কমানো দরকার। রাজ্য সরকার সেই সংক্রান্ত রেগুলেটরি কমিশনের কাছে অনুরোধ করছে , অবিলম্বে পুজো্র আগেই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া সহনশীল স্তরে নামিয়ে আনা হোক। আরও পড়ুনঃ স্পা-এর আড়ালে মধুচক্র , ধৃত টেলি অভিনেতা সহ ১৬ এছাড়াও গত ১০ অক্টোবর হাওড়ার এএসআই বালটুকরিতে ইতিমধ্যেই কোভিড রোগীদের ৪৮ টি শয্যা্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতার এম আর বাঙুরে সো্মবার থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য চালু হল ৫৬ টি শয্যা। আরও ৪৯৬ টি শয্যা আগামী দু থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চালু হবে। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে ২৪৭৫ জন নার্স শীঘ্রই নিযুক্ত করা হবে। পুজোর সময় প্রশাসনের জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অফিসার ও আধিকারিকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল ৩ পথচারীর। মৃতদের নাম দিলওয়ার শেখ (৬০) , কিতাবুদ্দিন শেখ (৫০) , মনিরুল শেখ (৩৫)। এরা তিনজনেই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা । জানা গিয়েছে, সোমবার ভোরে স্থানীয় মসজিদে নমাজ পড়ার পর ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে ফিরছিলেন তারা । সেই সময় রেজিনগর এলাকায় বহরমপুরগামী একটি ট্রাক ধাক্কা দেয় তাঁদের। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ৩ জনই। স্থানীয়দের নজরে পড়তেই তাঁরাই আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রথমেই ২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করে। আহত তৃ্তীয় ব্যক্তির প্রাণ ফেরানো্র লড়াই চলছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে সেও মারা যান। আরও পড়ুন ঃ রাজ্যে করোনা আক্রান্ত তিন লক্ষের কাছাকাছি এই ঘটনার জেরে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের কথায়, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ট্রাক চালক। সেই কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি গাছে ধাক্কা দেয় ট্রাকটি। এরপর ধাক্কা দেয় ওই তিনজনকে। পুলিশ জানিয়েছে , চালক ও ঘাতক গাড়ির হদিশ পেলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সংকীর্ণতা দেখিয়ে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। নাম না করে বিজেপির সমালোচনা করা হল রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে। রবিবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফ থেকে টুইটে লেখা হয় , এ রাজ্যে শিখ ভাইবোনেরা খুব শান্তিতেই বসবাস করেন। সেদিন বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক শিখের গ্রেপ্তারির ঘটনাকে এখন অন্যভাবে দেখা হচ্ছে। একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সংকীর্ণতা দেখিয়ে রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাজ্যবাসী মোটেই এসবে অভ্যস্ত নয়। তাই তাঁরা নিজেদের মতো করে শান্তি বজায় রাখবেন। শিখ ভাইবোনদের প্রতি আমাদের সরকারের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা, সম্মান আছে। সম্প্রতি একটি অন্য ঘটনা হয়েছে । একজন ব্যক্তি মিছিলে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিলেন। তাঁকে সেই অস্ত্রের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় । কিন্তু এখন সেই বিষয়টিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে স্বরাষ্ট্র দপ্তর । টুইটে লেখেন, তথ্য বিকৃত করা হচ্ছে । ঘটনায় সংকীর্ণ পক্ষপাতী সাম্প্রদায়িক রং দেওয়া হচ্ছে । আরও পড়ুন ঃ মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফের সিবিআই তদন্তের দাবিতে রাজ্যপালের দ্বারস্থ বিজেপি বিজেপি-র নবান্ন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রর চেহারা নেয় হাওড়া ও কলকাতা । সেই মিছিল থেকেই পুলিশ পিস্তল উদ্ধার করে । গ্রেপ্তার করা হয় বলবিন্দর সিংকে । মিছিলের একদিন পর বলবিন্দর সিংয়ের গ্রেপ্তারের ভিডিয়ো ভাইরাল হয় । ভিডিয়োয় দেখা যায়, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময়ে বলবিন্দর সিংয়ের পাগড়ি খুলে যাচ্ছে । এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের তীব্র নিন্দা করে বিজেপি । পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দিষ্ট পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান । অভিযোগ ওঠে, শিখ সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে ।
দীর্ঘ লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতশিল্পীদের লাভের মুখ দেখাচ্ছে কালনা মহকুমার দুই তাঁতের হাট। পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম শিল্প তাঁতকে বাঁচাতে দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের উদ্যোগে কালনা ১-এর ধাত্রীগ্রাম ও পূর্বস্থলী ১-এর শ্রীরামপুরে দুটি অত্যাধুনিক তাঁত কাপড়ের হাট তৈরি হয়। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে উদ্বোধন হয় দুটি হাটের। লকডাউনে সেগুলি বন্ধ হলেও পুজোর কথা ভেবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট দুটি পুনরায় চালু হয়। প্রতি বুধ ও শনিবার এই দুটি হাটে দুই বর্ধমান, নদিয়া, হুগলি-সহ বিভিন্ন জেলার তাঁতি ও ক্রেতারা আসছেন। এই দুটি হাটে বিগত কয়েক মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হয়েছে। শনিবার ১০ অক্টোবর ধাত্রীগ্রামের তাঁতের হাটে এসেছিলেন প্রায় তিনশো তাঁতি। বিক্রি হয় ১৬৪৫টি শাড়ি, যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা। শ্রীরামপুরের তাঁতের হাটে এসেছিলেন প্রায় ১৫০ জন তাঁতি, বিক্রি হয় ১২৮৭টি শাড়ি, মূল্য ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তার অন্যতম এই তাঁতের হাট। এই হাটগুলি থেকে তাঁতিরা নগদে শাড়ি বিক্রি করতে পেরে উপকৃত হচ্ছেন এবং মহাজনের হাত থেকেও বাঁচছেন। বিভাগীয় মহকুমা আধিকারিক পলাশ পাল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটগুলি চলছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে, স্যানিটাইজেশন তো হচ্ছেই। প্রথমে স্টল পিছু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১০টাকা নেওয়া হলেও এখন তাও এই সময় নেওয়া হচ্ছে না। ছবি ও সংবাদ: মোহন সাহা
যৌন হেনস্তা কিংবা ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমেই পুলিশকে নিতে হবে এফআইআর। এছাড়াও ধর্ষণের ক্ষেত্রে খুব বেশি হলে দুমাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতেই হবে। দুষ্কৃতীদের ধরতে যে কোনও ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে জাতীয় ডেটাবেসও ব্যবহার করতে পারেন তদন্তকারীরা। এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে অনেক সময় পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে। এক্ষেত্রে কোন থানার অন্তর্গত এলাকায় যৌন হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। যে কোনও থানাতেই এফআইআর করা যেতে পারে। আরও পড়ুন ঃ বিশ্বের মধ্যে ভারতীয় মুসলিমরাই সবচেয়ে সন্তুষ্ট : ভাগবত তেমন অভিযোগ সামনে এলে ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা। যৌন হেনস্তাকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার নির্দেশ শনিবার জারি করেছে কেন্দ্র। এছাড়াও যে মহিলার ধর্ষণ বা যৌন হেনস্তা হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনও সরকারি চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করাতে হবে। ধর্ষণের পর নির্যাতিতা মৃত্যুর আগে যদি কোনও বয়ান দিয়ে যান, তবে সেটিকে প্রমাণ হিসাবে মান্যতাও দিতে হবে।
শুক্রবার ডে সেন্টারের উদ্বোধন করলেন রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি বেশ কিছু নানা জাতের পাখি ছাড়া হয় ৷বনমন্ত্রী ছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন পানাগড় ও দুর্গাপুরের বন দফতরের আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কাঁকসার বিডিও সুদীপ্ত ভট্টাচার্য সহ কাঁকসা ব্লকের অধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বনকাটি পঞ্চায়েতের প্রধান পিন্টু বাগদি সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যরা। প্রসঙ্গত, কাঁকসা ব্লকের বনকাটি শিবপুর এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গলে পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য রয়েছে দেউল পার্ক,ইছাই ঘোষের পৌরাণিক শিব মন্দির, শ্যামরূপ মন্দির। এছাড়াও ঘন জঙ্গলে পশু পাখি থেকে শুরু করে ময়ূর দেখার সুযোগ,দেখা পাওয়া যেতে পারে দীর্ঘায়তনের পাইথন। পর্যটকরা ট্রেকিংয়ের পর ডে সেন্টারে বিশ্রাম ও খাওয়াদাওয়া করে সেখানে আদিবাসীদের হাতের তৈরি হস্তশিল্পের সরঞ্জাম কিনতে পারবেন। ডে সেন্টারে থাকছে নানান হস্তশিল্পের স্টল।
দিল্লির বাসভবনে নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ানের মরদেহ । তাঁকে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা । অন্যান্য দলের রাজনৈতিক নেতারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। রামবিলাসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার রাষ্ট্রপতিভবন এবং সংসদে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে । শনিবার বিহারে তাঁর শেষকৃ্ত্য সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে। আরও পড়ুনঃ পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির একটি মামলায় জামিন লালুপ্রসাদ যাদবের প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী তথা লোক জনশক্তি দলের নেতা ছিলেন রামবিলাস পাসওয়ান । বৃহস্পতিবার দিল্লির এইমসে তাঁর মৃত্যু হয় । বিগত কয়েকদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই নেতা । সম্প্রতি দিল্লির এক হাসপাতালে হার্ট সার্জারিও হয়েছিল তাঁর । টুইট করে তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানান ছেলে চিরাগ পাসোয়ান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে তিনটি টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী । টুইটে তিনি লেখেন, শোকপ্রকাশ করার ভাষা নেই । আমার এক বন্ধু, এক সহকর্মীকে হারালাম । গরিবরা যাতে সম্মানের সঙ্গে জীবন কাটাতে পারে, তা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি ।
আলিপুরদুয়ারের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কমিটি নিয়ে একঝাঁক ক্ষোভ উগড়ে কমিটির পদ থেকে অব্যহতির সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশিষ দত্ত। মঙ্গলবারই আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর বুধবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের সহ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আশিস দত্ত। আশিসবাবু বলেন, দলে ব্লক কমিটি হয়েছে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমন ব্যক্তিদের নিয়ে। নতুন জেলা কমিটিতে যাঁরা কোনওদিন দল করেননি তাঁদের পদে বসানো হয়েছে। সেই কারণেই আমি এই দলের পদ ছাড়লাম। আরও পড়ুনঃ হাতির হানায় মৃতের পরিবারের সদস্যকে হোমগার্ড পদে চাকরি দেওয়া হবেঃ মমতা দীর্ঘদিন ধরেই আলিপুরদুয়ারের এই বর্ষীয়ান নেতা তৃনমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জেলা কমিটির সহ সভাপতি পদে। তিনি দলের পদে না থেকে সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করার বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন।এছাড়াও তিনি জানান, দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাব।
রাজস্থানের আলোয়ারে গত বছর ঘটে যাওয়া একটি গণধর্ষণ মামলায় চার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর ওই গণধর্ষণ-এর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করার জন্য পাঁচ বছরের জেল হেফাজত দেওয়া হয়েছে আরেক অভিযুক্তকে। মঙ্গলবার পাঁচ অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক।মূল অভিযুক্ত ছোটে লাল (২২), হংসরাজ গুজ্জর (২০), অশোক কুমার গুজ্জর (২০) এবং ইন্দ্রজিৎ সিং গুজ্জর (২২)-এর নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭,১৪৯, ৩২৩, ৩২৭ ও ৩৭৬ডি-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাজস্থানের আলোয়ার-এর থানাগাজি এলাকায় দলিত সম্প্রদায়ের ২২ বছরের এক যুবতীকে তাঁর স্বামীর সামনেই ধর্ষণ করে এক নাবালক-সহ পাঁচজন। আর আরেকজন ব্যক্তি সেই পাশবিক ঘটনার ভিডিও তোলে। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নির্যাতিতার কাছ থেকে ১০ হাজার দাবিও করে। নির্যাতিতা তা দিতে রাজি না হওয়া ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টও করে দেয়। এই বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে গেলে তারা এফআইআর নিতে চায়নি।পরে মে মাসের ২ তারিখে এফআইআর দায়ের করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১৮ মে আদালতে চার্জশিট জমা করে পুলিশ। তদন্ত চলার মাঝেই কর্তব্যে গাফিলাতির অভিযোগে আলোয়ার পুলিশ সুপার রাজীব পাছারকে সরিয়ে দেওয়া হয় ও থানাগাজি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সর্দার সিংকে বরখাস্ত করা হয়।
দেশে আর কোথাও গণতন্ত্রের ছিটেফোঁটা নেই। রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে যাচ্ছে। বিজেপির আমলে ওয়ান নেশন, ওয়ান পলিটিক্যাল পার্টি হয়ে যাচ্ছে।হাথরসে দলিত তরুণীর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এভাবেই গর্জে উঠলেন।তিনি সুদূর কলকাতা থেকে সমবদেনার বার্তা জানিয়ে বলেন, মন পড়ে আছে গ্রামে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করছে সেই গ্রামে। দলের প্রতিনিধিদলকে পাঠিয়ে কী দেখা গেল? গ্রামে ঢোকার ১ কিলোমিটার আগে পুলিশ আটকে দিল। এমনকী মহিলাদের গায়েও হাত তোলা হল। তিনি আরও বলেন,মিডিয়া যাতে হাতরসের ঘটনা সম্প্রচার না করে, সে জন্য ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।দিল্লির দাঙ্গার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ও তো মুসলমানদের তোয়াজ করে।আমি সংখ্যালঘুর পাশে দাঁড়াই। শিখ-খৃষ্ট্রান, আদিবাসীদের পাশে আছি। আমাদের জাতি মানবিকতা। এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,আজ উত্তরপ্রদেশেই নয়, সারা জায়গায় এ জিনিস চলছে। দিল্লিতে কত লোক মারা গিয়েছিল। কত দেহ জলাশয়ে পড়েছিল! কেউ জানে? হিন্দুরা বিপদে পড়লে জিজ্ঞেস করো না, মমতা তোমার টাইটেল কী? তোমরা কে? সবার টাইটেল নিয়ে খেলা করবে!বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে মমতার মন্তব্য, উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টারে কত লোক মারা গেল। কত সাংবাদিক মারা গিয়েছে! কত লোককে হরিয়ানা, দিল্লিতে মেরেছে। কেউ বিচার পেয়েছে? বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদছে। সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে।হাথরাসে তরুণীর গণধর্ষণ ও মৃত্যুর প্রতিবাদে শনিবার শহরের রাস্তায় নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত মিছিলে হাঁটেন তিনি।দলিত তরুণীর গণধর্ষণ, খুনের প্রতিবাদ আজ মমতার প্রতিবাদী পদক্ষেপে পা মিলিয়েছেন আমজনতাও। সঙ্গে ফেস্টুন, ব্যানার, গান, স্লোগান। বিড়লা তারামণ্ডল থেকে জওহরলাল নেহরু রোড, পার্ক স্ট্রিট ফ্লাইওভার ধরে ধর্মতলার মেয়ো রোডে মিছিল পৌঁছতে লাগল মেরেকেটে ২৩ মিনিট। সেখানে সামান্য বিশ্রাম নিয়ে বক্তব্য রাখতে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।শুক্রবার হাথরাসে নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গ্রামের পথ ধরেছিলে তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। পুলিশি বাধায় সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে রীতিমত আহত হন ডেরেক ও ব্রায়েন-সহ জনা কয়েক সাংসদ। রেহাই পাননি মহিলা সাংসদরাও। তার বিরোধিতাতেই আজ প্রতিবাদে নামেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তৃণমূলের এই মিছিলে দলের অন্যান্য নেতানেত্রীরা।এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন,বাংলায় গোষ্ঠী সংক্রমণ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
পিনকন চিটফান্ড মামলার সাজা ঘোষণা করল তমলুক জেলা দায়রা আদালতের অধীন অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালত। সংস্থার কর্ণধার মনোরঞ্জন রায় ও মৌসুমী রায়-সহ আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। এই মামলায় মোট ২০ জন আসামি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দশজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।মামলা চলাকালীন দু-জনের মৃত্যু হয়েছে। এই আটজনের মধ্যে মূল অভিযুক্ত মনোরঞ্জন ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমী অসুস্থতার কারণে হাজির হতে না পারায় ভিডিও কনফারেন্সে তাঁদের সাজা শোনানো হয়।বেআইনি অর্থলগ্নী সংস্থা পিনকন মামলার রায় ঘোষণার দিন ওই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর মনোরঞ্জন রায়কে সমস্তরকম মেডিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে তমলুক আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। সেই সঙ্গে মনোরঞ্জনের স্ত্রী মৌসুমী রায়কেও হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।সকাল থেকেই আদালত চত্বরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী।বে-আইনি অর্থলগ্নি সংস্থা পিনকনে টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছিলেন অনেকেই। সেই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের একাংশ ২০১৭ সালে পিনকন সংস্থার বিরুদ্ধে খেজুরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ওই বছরের ৪ নভেম্বর রাজস্থান থেকে পিনকনের অন্যতম ডিরেক্টর মনোরঞ্জন রায় সহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ডিরেক্টর অফ ইকোনমিক অফেন্স এর আধিকারিকরা। একে একে মনোরঞ্জনের স্ত্রী সহ কুড়িজন ডিরেক্টর গ্রেফতার হন।তমলুক জেলা দায়রা আদালতের অধীন অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়।পরবর্তীকালে মনোরঞ্জনের স্ত্রী মৌসুমী রায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। বিচারপর্ব চলাকালীন দুই ডিরেক্টর মারাও যান।দীর্ঘ শুনানির শেষে বিচারক শনিবার এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য করেন।অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দীর্ঘায়িত করার জন্য অন্যতম অভিযুক্ত পিনকন কর্তা মনোরঞ্জন রায় অসুস্থ রয়েছেন বলে চিকিৎসকের শংসাপত্র তমলুক আদালতে জমা করেন। বিচারপতি সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ মনোরঞ্জন রায়কে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মনোরঞ্জনের স্ত্রী মৌসুমীকেও হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু দুজনেই অনুপস্থিত থাকায় ভিডিও কনফারেন্সে তাঁদের সাজা শোনানো হয়।