• ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Leader

রাজ্য

শিবপুরে তৃণমূল নেতার বাড়িতে পুলিশের হানা, ভিতরে যা মিলল তাতে হতবাক সবাই

শিবপুরে তৃণমূল নেতা মহম্মদ শামিম ওরফে বরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চমকে উঠল পুলিশ। বাইরে থেকে সাধারণ বাড়ি মনে হলেও ভিতরে ঢুকতেই সামনে আসে একের পর এক গোপন ব্যবস্থা। বাড়ির ভিতরে রয়েছে একাধিক সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় নীচের ফ্লোরে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে বিলাসবহুল ঘর। দামী কাঠের আসবাব, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা, ফ্রিজ-সহ নানা আধুনিক সুবিধায় সাজানো এই বাড়ি দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এলাকায়।জানা গিয়েছে, হাওড়া পুরসভার ছত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সামিমা বানোর স্বামী মহম্মদ শামিম। তিনি তৃণমূলের ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার শিবপুরে বিজেপির জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার আহ্বায়কের বাড়িতে হামলা, গুলি ও বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার তদন্তে শামিমের নাম সামনে আসে।বোমাবাজির ঘটনায় ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে পলাতক ছিলেন শামিম। শুক্রবার তাঁর খোঁজে শিবপুরে বাড়িতে যায় পুলিশ। সেখানেই এই বিলাসবহুল বাড়ির ভিতরের ছবি সামনে আসে। স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার এমন জীবনযাপন দেখে বিস্মিত তদন্তকারীরাও।যদিও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও শামিমের খোঁজ মেলেনি। তিনি এখনও পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এর আগেও একাধিক অসামাজিক কাজের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। শিবপুরে রামনবমীর মিছিল ঘিরে অশান্তির ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই ঘটনার পর বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে। বিজেপির অভিযোগ, সমাজবিরোধীদের আশ্রয় দিচ্ছে শাসক দল। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১২, ২০২৬
রাজ্য

সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর ইডির জালে সুজিত বসু, রাতে গ্রেফতার সদ্য-পরাজিত তৃণমূল নেতা

অবশেষে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডির জালে ধরা পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসু। সোমবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দফতরে হাজিরা দেওয়ার প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনিভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার অভিযোগে তাঁকে তলব করা হয়েছিল। রাত সওয়া ৯টা নাগাদ বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সদ্য-পরাজিত এই বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়।এর আগে গত ১ মে-ও ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত। তবে ৪ মে ভোটের ফলপ্রকাশের পর এই প্রথম তিনি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। সোমবার তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবীও। পরে ইডি দফতরের বাইরে বেরিয়ে সুজিতের আইনজীবী জানান, তাঁর পুত্র সমুদ্র বসু এখনও দফতরের ভিতরেই রয়েছেন।বিধানসভা ভোটের আগে একাধিকবার সুজিতকে তলব করেছিল ইডি। কিন্তু ভোটের প্রচারে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়ান এবং বিষয়টি আদালতেও জানান। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন।এর আগেও সুজিতের বাড়ি, অফিস এবং তাঁদের মালিকানাধীন ধাবায় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। শুধু তাই নয়, তাঁর পুত্র সমুদ্র বসু-সহ পরিবারের একাধিক সদস্যকেও ডেকে পাঠিয়ে বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল।বারবার তলবের মুখে সুজিতের দাবি ছিল, যে মামলায় তাঁকে ডাকা হচ্ছে, সেই মামলায় সিবিআই ইতিমধ্যেই চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং সেখানে তাঁর নাম নেই। তবে শেষরক্ষা হল না। তদন্তকারী সংস্থার জাল এড়াতে পারলেন না তিনি।ইডি সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করানো হবে। এরপর তাঁকে হেফাজতে রাখা হবে। মঙ্গলবার সকালে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

মে ১১, ২০২৬
কলকাতা

শুভেন্দুর শপথ মঞ্চে নজর কাড়লেন এই প্রবীণ নেতা, জানেন তাঁর পরিচয়?

রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইতিহাস গড়ল বিজেপি। বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে ব্রিগেড ময়দান।তবে শপথ অনুষ্ঠানের মাঝে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন ৯৭ বছরের প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকার। শিলিগুড়ির এই প্রবীণ নেতাকে মঞ্চে বিশেষ সম্মান জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রী এবং শাল পরিয়ে সম্মান জানান। সেই মুহূর্ত ঘিরে আবেগ ছড়িয়ে পড়ে গোটা মঞ্চে।মাখনলাল সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। তাঁকে শিলিগুড়িতে বিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবেও ধরা হয়। বিজেপি বরাবরই বাংলায় নিজেদের রাজনৈতিক লড়াইকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে এসেছে। ফল ঘোষণার দিনও বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করেছিলেন।এদিন মাখনলাল সরকারকে নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দেশের সংবিধান এবং অখণ্ডতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আর সেই সময়ের অন্যতম সাক্ষী ছিলেন মাখনলাল সরকার। ৯৭ বছর বয়সেও তিনি দলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন বলে তাঁকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়েছে।জানা গিয়েছে, স্বাধীনতার পর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে প্রথম সারি থেকেই যুক্ত ছিলেন মাখনলাল সরকার। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলনের আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অংশ নেওয়ার সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের পর পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বও সামলান তিনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার সদস্যকে বিজেপিতে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে দাবি দলের।শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, একসময় দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। আদালতে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। উল্টে বিচারকের সামনেই সেই গান আবার গেয়েছিলেন। পরে বিচারক তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য প্রথম শ্রেণির টিকিট এবং যাত্রার খরচ হিসেবে টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন শমীক।ব্রিগেডের শপথ মঞ্চে মাখনলাল সরকারকে ঘিরে এই আবেগঘন মুহূর্ত এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মে ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে বিস্ফোরণ! অভিষেককে নিশানা করতেই শোকজ

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। দলের একাধিক নেতা ও মুখপাত্র এবার সরাসরি নিশানা করতে শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ করল তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় পাঁচ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে তাঁদের।১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এবারের নির্বাচনে তৃণমূল তিন অঙ্কের আসনও পায়নি। নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সভা থেকে তিনি বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করেছিলেন। ভোটের ফল বেরনোর পর দলের ভরাডুবি হলেও অভিষেকের প্রশংসা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে সবাইকে উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেককে অভিনন্দন জানানোর নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।সেই বৈঠকেই মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলের ভিতরে বা বাইরে কেউ মন্তব্য করলে কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কিন্তু সেই সতর্কবার্তার পরও দলের অন্দরে অসন্তোষ থামেনি। তৃণমূল মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার প্রকাশ্যে দাবি করেন, দলের পরাজয়ের জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, তাহলে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও নেতাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো।মালদহের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীও অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হন। অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র ঋজু দত্ত সমাজমাধ্যমে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বিজেপির পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একইভাবে দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষও।এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ থামাতেই সক্রিয় হয়েছে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েনের তরফে পাঁচজনকে শোকজ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছেন কোহিনুর মজুমদার, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, ঋজু দত্ত, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ।শোকজ নোটিসে বলা হয়েছে, দলের বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে উত্তর না মিললে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দল।

মে ০৮, ২০২৬
রাজ্য

তিলক বিতর্কে চরম নাটক! শোরুমে ঢুকে কর্মীদের কপালে তিলক এঁকে দিলেন বিজেপি নেত্রী

চশমার জনপ্রিয় সংস্থা লেন্সকার্টকে ঘিরে তিলক ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক নতুন দিকে মোড় নিল। সংস্থা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কর্মীরা তাঁদের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে পারবেন। কিন্তু সেই ঘোষণার মধ্যেই মুম্বইয়ে এক শোরুমে ঘটে গেল নতুন ঘটনা।জানা গিয়েছে, বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার সদস্য নাজিয়া ইলাহি কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে একটি শোরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি কর্মীদের কপালে তিলক পরিয়ে দেন এবং জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলেন। একই সঙ্গে সংস্থার আগের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। শোরুমের ফ্লোর ম্যানেজারের কাছে তিনি জানতে চান, কেন তিলক পরায় আপত্তি করা হয়েছিল।শোরুমের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে নাজিয়া ইলাহি বলেন, সংস্থা ক্ষমা না চাইলে বয়কট করা হবে। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে কোনও বাধা থাকা উচিত নয়।এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে। এক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেন, সংস্থার কর্মীদের জন্য এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেখানে হিজাব পরা যাবে, কিন্তু তিলক বা টিপ পরা যাবে না। সেই দাবি সামনে আসতেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।পরবর্তীতে সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, কর্মীরা স্টোরে কাজ করার সময় তিলক, টিপ, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র, হিজাব বা পাগড়িসব ধরনের ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবেন। এই ঘোষণার পরেও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি, বরং নতুন করে তা আরও তীব্র হয়েছে।

এপ্রিল ২১, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে রহস্য! গুরুতর আহত নতুন সর্বোচ্চ নেতা, নাকি গোপন রাখা হচ্ছে সত্য

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরই তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বার্তা প্রকাশ পেলেও তিনি নিজে কোথাও প্রকাশ্যে দেখা দেননি।ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর প্রথম বক্তব্য প্রচার করা হয়। তবে সেই বার্তাটি একটি সংবাদপাঠক পড়ে শোনান। খামেনেই নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি। কেন তিনি প্রকাশ্যে আসেননি, সে বিষয়ে ইরানের সরকারি মাধ্যম কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। এরই মধ্যে নানা মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে যুদ্ধের প্রথম হামলাতেই তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।ছাপ্পান্ন বছর বয়সী এই নতুন আয়াতোল্লা তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি তাঁর নিহত বাবার নীতিই অনুসরণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কথা বলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলিকে দ্রুত ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা ধরনের খবর সামনে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কায় তিনি আহত হয়েছিলেন। সেই হামলাতেই তাঁর বাবা, মা, স্ত্রী, বোন ও ভাইঝির মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাঁকে রমজানের যোদ্ধা বলে উল্লেখ করেছে। সাধারণত দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আহত হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির রিপোর্টেও তাঁর আঘাত পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি তুলনামূলকভাবে হালকা আহত হয়েছেন। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর পায়ে চোট লেগেছে, চোখের পাশে আঘাত রয়েছে এবং মুখেও সামান্য ক্ষত রয়েছে।তবে একটি বিদেশি সংবাদপত্রে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি নাকি এখন কোমায় রয়েছেন এবং হামলায় তাঁর একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সেই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর যকৃত ও পেটেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাঁর প্রথম বার্তা প্রকাশ করা হয়েছিল মূলত তাঁর শারীরিক অবস্থা আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে। জানা গিয়েছে, রাজধানীর একটি ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের একটি অংশ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ ট্রমা সার্জন মোহাম্মদ রেজা জাফারঘান্দি তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন। সূত্রের দাবি, হামলায় তাঁর একটি পা হারাতে হয়েছে এবং শরীরের ভেতরের অঙ্গেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানকে ঘিরে নানা ধরনের জল্পনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বও ছড়াতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন, দেশটি নাকি এখন এক অদৃশ্য আয়াতোল্লার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তাটি তিনিই লিখেছেন।

মার্চ ১৩, ২০২৬
বিদেশ

খামেনেইয়ের পর ক্ষমতায় তাঁরই ছেলে! ইরানে কি শুরু হল নতুন অধ্যায়?

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করা হল আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতাবা খামেনেইয়ের নাম। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস তাঁকেই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতোল্লা খামেনেই। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তারপর থেকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কে নেবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল।খামেনেই মৃত্যুর আগে কোনও উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করে যাননি। তাঁর মৃত্যুর পর তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। সেই কাউন্সিলে ছিলেন আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি মোহসেনি এজেই। অন্তর্বর্তী দায়িত্ব সামলাচ্ছিল এই পরিষদ। আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি অস্থায়ী ভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন। শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে মোজতাবা খামেনেইকেই স্থায়ী সুপ্রিম লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।ছাপ্পান্ন বছর বয়সি মোজতাবা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। জানা যায়, তিনি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত এবং একাধিক শিয়া সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে চলমান যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর হাতেই থাকবে।সুপ্রিম লিডারের দৌড়ে আরও কয়েকটি নাম ঘুরছিল। আলি লারিজানির নাম নিয়েও জল্পনা ছিল। তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আরেকটি বড় জল্পনা ছিল, ইরানে কি রাজতন্ত্র ফিরে আসতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পেহলভির নামও আলোচনায় উঠে আসে। শোনা যাচ্ছিল, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রেজা পেহলভিকে সমর্থন করতে পারেন। এমনকি তাঁকে ইরানে ফেরানোর চেষ্টাও হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছিল।তবে শেষ পর্যন্ত সেই সব জল্পনায় ইতি টেনে মোজতাবা খামেনেইয়ের হাতেই ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হল। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
রাজ্য

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম নেই কালনার প্রধানের, বাংলাদেশি বিতর্কে নতুন মোড়

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই পূর্ব বর্ধমানের কালনায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তী মণ্ডলের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর নামের পাশে ডিলিটেড উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে।শনিবার নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, প্রধানের নাম আর সক্রিয় ভোটারের তালিকায় নেই। বিষয়টি নিয়ে জানতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি তাঁর বাড়িতে গেলে প্রথমে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে রাস্তায় দেখা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকার করেন। ছবি তুলতে গেলে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এরপর দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যান তিনি।প্রসঙ্গত, আগে বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল যে হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাংলাদেশি। তাদের দাবি ছিল, তিনি অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে এসে নথি তৈরি করে প্রধান হয়েছেন। সেই সময় এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন শ্রাবন্তী মণ্ডল। তিনি পাল্টা বলেছিলেন, যারা অভিযোগ করছেন, তারাই আগে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করুন।এ দিন নাম বাদ পড়ার ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্ব নতুন করে সরব হয়েছে। কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার এক পদাধিকারী জানান, তাঁদের করা অভিযোগই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দিনে প্রধানের পদ খারিজের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন তাঁরা।এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই কি অভিযোগ প্রমাণিত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর সকলের।

মার্চ ০১, ২০২৬
দেশ

এক সপ্তাহের মধ্যেই আবার অসুস্থ শরদ পওয়ার, চিন্তায় পরিবার ও সমর্থকরা

মহারাষ্ট্রের প্রবীণ রাজনীতিক শরদ পওয়ার আবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন। ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির শীর্ষ নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রবিবার দ্রুত পুণের রুবি হল ক্লিনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত সপ্তাহেও একই হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল।শরদ পওয়ারের মেয়ে ও বারামতীর সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন, সর্দি, কাশি ও গলার সংক্রমণে ভুগছেন তিনি। রবিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।এর আগেও একটানা কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল প্রবীণ এই নেতাকে। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় বুকে সংক্রমণের কথা ধরা পড়ে। কয়েক দিন চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন এবং বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পুণেতে নিজের বাড়িতে বিশ্রামে থাকলেও রবিবার আবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনে কঠিন সময়ের মধ্যেও রয়েছেন শরদ পওয়ার। পারিবারিক শোক ও শারীরিক অসুস্থতার জেরে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিও সীমিত রাখা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন দলের নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা।

ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
রাজ্য

মমতার প্রকল্পে নাম লিখালেন বিজেপি নেত্রী, সামনে আসতেই তোলপাড় রাজনীতি

ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত যুব সাথী প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভাতার রাজনীতি করে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে সরকার। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই হুগলির আরামবাগ এলাকায় যুব সাথীর ফর্ম জমা দেওয়ার লাইনে দেখা গেল বিজেপি নেত্রী সুদেষ্ণা অধিকারী মোহান্তকে। শুক্রবার গোঘাট দুই নম্বর ব্লক অফিসে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম পূরণ করতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি জানান, ছেলের জন্য ফর্ম জমা দিচ্ছেন, তবে নথিতে গ্রাহক হিসেবে তাঁর নিজের নামই দেখা যায়। ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, বহু শিক্ষিত যুবক এখনও বেকার, তাঁদের তথ্য নথিভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। এই অর্থ কোনও দলের নয়, সরকারের, তাই সকলের প্রাপ্য বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প চালুর জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক বেকার যুবকযুবতীর চাকরির আবেদন করতে অর্থের অভাব থাকে, তাঁদের জন্য এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। গোঘাট দুই ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সৌমেন দিগার বলেন, সব স্তরের মানুষের জন্য কাজ করার ফলেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পে বিরোধীরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। যদিও বিজেপির তরফে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে এবং ভোটের আগে এই ছবি নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের মুখে জঙ্গলমহলে ‘মাওবাদী’ পোস্টার! তৃণমূল নেতাদের নামে গণ-আদালতের হুঁশিয়ারি

বিধানসভা নির্বাচনের আগে জঙ্গলমহলে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টারকে ঘিরে। রবিবার ভোরে বান্দোয়ান থানার কুমড়া অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় এবং যজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা একাধিক পোস্টার দেখা যায়। স্থানীয় মানুষ বিষয়টি দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে পোস্টারগুলি খুলে নিয়ে যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কে বা কারা এই পোস্টার সাঁটিয়েছে এবং এর পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পোস্টারে তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি ভবতোষ দাস-সহ মোট আট জনের নামে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গণ-আদালতে তাঁদের বিচার হবে। পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে ওই পোস্টারে।এর আগেও সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদী নামাঙ্কিত পোস্টার উদ্ধার হয়েছিল। তালডাংরা ও ওন্দা থানা এলাকার গাছের গুঁড়ি এবং বাসস্ট্যান্ডের দেওয়ালে সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা পোস্টার মিলেছিল। সেখানেও নিহত মাওবাদী নেতা হিডমাকে সম্মান জানানো হয়েছিল।ভোটের আগে জঙ্গলমহলে এই ধরনের পোস্টার ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকাজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
কলকাতা

ফের হাসপাতালে সৌগত রায়! অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ সাংসদ

ফের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। কলকাতার একটি নামী বেসরকারি হাসপাতালে আপাতত চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে গিয়েছিলেন সৌগত রায়। সেখানে খাওয়াদাওয়ার পর বাড়ি ফিরে তিনি অসুস্থবোধ করেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, সৌগত রায়ের ডায়েরিয়া হয়েছে। পাশাপাশি আচমকাই তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়। রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁর বুকে পেসমেকার বসানো হয়েছিল। সেই কারণে পেসমেকারের কোনও সমস্যা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকেরা।হাসপাতাল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, আপাতত সাংসদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। রিপোর্টে সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দুতিন দিনের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে সৌগত রায়কে। গত বছরের ১০ মার্চ লোকসভা অধিবেশন শেষে সংসদ ভবন থেকে বেরোনোর সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তখন সংসদের কর্মীরা তাঁকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে বাইরে নিয়ে যান।গত ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন আড়িয়াদহে একটি মন্দির উদ্বোধনে যাওয়ার সময় আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন সৌগত। তড়িঘড়ি তাঁকে বেলঘরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই সময়ই তাঁর বুকে পেসমেকার বসানো হয়।এছাড়াও গত ২২ জুন ফের তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তাঁর শরীরে ভিটামিন বি ওয়ানের ঘাটতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি শিরদাঁড়ার নিচে ব্যথা, জটিল স্নায়ুরোগ এবং ফুসফুসের সংক্রমণও দেখা গিয়েছিল। বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সে বার সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন বর্ষীয়ান এই সাংসদ।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
দেশ

কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমনে ‘বড় সাফল্য’—২৩ বছরের পুরনো মামলার প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসবাদকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে বড় পদক্ষেপ নিল নিরাপত্তাবাহিনী। প্রায় তিন দশক পুরনো একটি মামলায় অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উপত্যকার বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জাভেদ মিরকে। ১৯৯৬ সালে শ্রীনগরে ভয়াবহ হিংসার ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জাভেদ কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মূল মাথা ইয়াসিন মালিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী।১৯৯৬ সালের ঘটনায় অভিযোগ, কাশ্মীরের এক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের মৃত কমান্ডারের দেহ নিয়ে শ্রীনগরে মিছিল করছিলেন জাভেদ ও তাঁর সঙ্গীরা। নাজ ক্রসিং এলাকায় সেই মিছিল হঠাৎই চরম উগ্র হয়ে ওঠে এবং পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়। জাভেদের নেতৃত্বেই সেই হামলা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। সেই সময় বহু পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন। এই ঘটনাতেই জাভেদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।পুলিশের দাবি, ৯০-এর দশকে জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (JKLF)-এর শীর্ষ কমান্ডারদের অন্যতম ছিলেন জাভেদ মির। উপত্যকাজুড়ে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগ ছিল। সংগঠনের প্রধান ইয়াসিন মালিকের অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন বলেও মনে করা হয় তাঁকে। ইয়াসিন মালিক বর্তমানে বায়ুসেনার চার কর্মীকে খুনের মামলায় কারাবন্দি। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার পর কেন্দ্র সরকার JKLF-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।এদিকে, গত সোমবার এই একই মামলায় শ্রীনগর পুলিশ আর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা শাকিল আহমেদ বকশিকেও গ্রেপ্তার করেছে। যদিও JKLF অস্ত্র ছাড়ার ঘোষণা করেছিল, তার পরেও জাভেদ মির বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর তিনি গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

বাবু মণ্ডলকে গুলি করে চুপ করাতে চাওয়া হয়েছিল? বিস্ফোরক অভিযোগ মৃত পরিবেশকর্মীর স্ত্রীর

তৃণমূল নেতা বাবু মণ্ডলকে কেন গুলি করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন নিহত পরিবেশকর্মী তপন দত্তর স্ত্রী প্রতিমা দত্ত। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি খুনের উদ্দেশ্য থাকত, তবে মাথায় গুলি না করে কোমরে গুলি করা হল কেন। তাঁর দাবি, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল খুন নয়, শুধুমাত্র ভয় দেখানো।গত শুক্রবার বসুকাঠি সাঁপুইপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রতিমা দত্ত জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর খুনের মামলায় শুরুতে চার্জশিটে বাবু মণ্ডলের নাম ছিল। পরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাদ পড়ে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নামও। যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তাঁরাও পরে ছাড়া পেয়ে যান।সেই সময় সুবিচার ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে প্রতিমা দত্ত উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২২ সালের ৯ জুন আদালতের নির্দেশে CBI তদন্ত শুরু করে। তাঁর দাবি, আগামী মাসেই এই মামলায় চার্জশিট জমা দিতে পারে সিবিআই। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, তদন্তে গতি আসায় এবং সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাবু মণ্ডলকে গুলি করে ভয় দেখানো হয়েছে, যাতে তিনি কিছু বলতে না পারেন।তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে খুন করার চেষ্টা নয়, শুধু আতঙ্ক তৈরি করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, তপন দত্ত খুনের মামলার মূল মাথারাই এই গুলি চালানোর নেপথ্যে রয়েছে।২০১১ সালের ৬ মে বালিতে খুন হয়েছিলেন পরিবেশবিদ তপন দত্ত। তৎকালীন CID-এর চার্জশিটে একাধিক তৃণমূল নেতার নাম ছিল, যার মধ্যে বাবু মণ্ডলও ছিলেন। পরে সেই নাম বাদ পড়ে। প্রতিমা দত্তের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চললেও এখন সিবিআই তদন্তে নতুন গতি এসেছে। আর ঠিক সেই কারণেই এই গুলি চালানোর ঘটনা বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
রাজ্য

ভোটের মুখে হাওড়ায় ৬ রাউন্ড গুলি! পঞ্চায়েত প্রধান মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা

ভোটের মুখে ফের গুলির আতঙ্ক রাজ্যে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার সাঁপুইপড়া বসুকাঠি এলাকায় চাঞ্চল্যকর হামলার শিকার হলেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডল। তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ছ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। তাঁর সঙ্গী অনুপম রানাও গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে একটি বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন বাবু মণ্ডল। সেখান থেকে বাইকে চেপে বাড়ি ফেরার পথেই ওঁত পেতে থাকা দুষ্কৃতীরা আচমকাই গুলি চালায়। বাইক চালাচ্ছিলেন অনুপম রানা। প্রথমেই গুলি লাগে তাঁর গায়ে। এরপর আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চলে, তার একাধিকটি লাগে বাবু মণ্ডলের কাঁধ ও পেটে। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হাওড়ার একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে এসএসকেএমে স্থানান্তরিত করা হয়।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের এক জন জানিয়েছেন, প্রধানের বাইকের ঠিক পিছনেই ছিলেন তিনি। হঠাৎই সামনে থেকে নয়, পাশ দিক থেকে গুলি ছোড়ে এক দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। রাস্তায় ছুটোছুটি শুরু হয়। কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। শাসক দল তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই হামলার পিছনে রয়েছে বিজেপি। যদিও স্থানীয় সূত্রে উঠছে আরেকটি তত্ত্বতৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এই হামলার অন্যতম কারণ হতে পারে। পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উঠে আসছে আরও ভয়াবহ তথ্য। গত বুধবার রাতেই কসবা এলাকায় এক যুবককে লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। বছরখানেক আগেই সেই এলাকাতেই এক কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। একই দিনে দিনের আলোতেই মালদাতেও গুলিচালনার ঘটনা সামনে আসে। ভোটের মাস কয়েক আগে রাজ্যের একের পর এক প্রান্তে এভাবে গুলি চলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগে প্রশাসনও।এলাকাবাসীর বক্তব্য, ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই যেন মাথাচাড়া দিচ্ছে হিংসা। সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেনরাস্তায় বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন অনেকে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ কি এবার আরও বড় আকার নিতে চলেছে, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজ্যজুড়ে।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
দেশ

নকশাল দমন অভিযানে ঐতিহাসিক সাফল্য! নিহত কুখ্যাত মদভি হিদমা ও তার স্ত্রী

ভারতের নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাবাহিনীর মাথাব্যথার কারণ হওয়া শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার মদভি হিদমা অবশেষে নিহত। অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরী সীতারামারাজু জেলার গভীর জঙ্গলে সোমবার ভোরে তুমুল বন্দুকযুদ্ধের মধ্যেই শেষ হয় দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত নকশাল নেতাদের এক জনের অধ্যায়। হিদমার সঙ্গে তার স্ত্রী রাজে ওরফে রাজাক্কাসহ মোট ছয় মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আরও আছেন চেল্লুরি নারায়ণ ওরফে সুরেশ, এসজেডসিএম এবং টেক শঙ্কর।ঘটনাস্থল মারুদ পল্লি। পশ্চিম গোদাবরী জেলার গভীর অরণ্যের এক এমন জায়গা, যেখানে ছত্তীসগড়, তেলঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশের সীমানা মিলেছে। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ছটা। ঘন জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙে গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে তিন রাজ্যের মিলনসীমা। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাকর্মীরা রাতে থেকেই ওই এলাকায় কম্বিং অপারেশন শুরু করেছিলেন। জঙ্গলের ভেতরে মাওবাদীরা ক্যাম্প গেড়েছেএমন তথ্য পাওয়ার পরই যৌথ বাহিনী অভিযানে নামে। মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হতেই দুপক্ষের মধ্যে টানা গুলির লড়াই চলে। সংঘর্ষ থামার পর ধীরে ধীরে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে হিদমাসহ ছয়জনের নিথর দেহ।পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান এখনও চলছে। জঙ্গলের ভেতর আরও মাওবাদী লুকিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ। তবে সবচেয়ে বড় খবরমদভি হিদমার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ায় নিরাপত্তাবাহিনী ও গোয়েন্দা মহলে স্বস্তির হাওয়া। ১৯৮১ সালে ছত্তীসগড়ের সুকমায় জন্ম হিদমার মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। সিপিআই (মাওবাদী)-র সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে একসময় তার নাম প্রথম সারিতে ছিল। কমপক্ষে ২৬টি বড় হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বহু বছর ধরে তার সন্ধানে ছিল দেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা। কয়েকটি রাজ্যের সীমান্তজুড়ে তার টিমের ত্রাসের জন্য তাকে ধরা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হত। এবার সেই অধ্যায় শেষ।এই অভিযানের পরে গোটা অঞ্চলেই নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে। গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, এ অপারেশন নকশাল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা দেবে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও একাধিক জঙ্গলের গভীরে একই ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে।

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
কলকাতা

টানা মেয়র, বিধায়ক— তবুও ভোটার তালিকায় নাম নেই সব্যসাচীর! ক্ষোভে ফুঁসছেন তৃণমূল নেতা

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি ১৯৯৫ সাল থেকে বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর, ২০১৫ সালে বিধাননগরের মেয়র, ২০১৬ সালে নিউটাউনের বিধায়ক এমন একজন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta) নিজেই খুঁজে পাচ্ছেন না নিজের নাম ভোটার তালিকায়! শুধু তিনি নন, নেই তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী দত্তের নামও। বিষয়টি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য।বিধাননগর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সব্যসাচীর অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে উধাও তাঁর নাম। অথচ, এক সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, প্রাক্তন সাংসদ সরলা মাহেশ্বরী, অ্যাডভোকেট জেনারেল নরনারায়ণ গুপ্ত প্রমুখ ছিলেন তাঁরই ভোটার! নিজেকে প্রমাণে তিনি সামনে আনেন ২০০০ সালের কাউন্সিলর পদে জেতার সার্টিফিকেটও।ক্ষুব্ধ সব্যসাচীর কথায়, আমার নাম যদি ২০০২ সালের তালিকায় না থেকে থাকে, তবে সেই সময় জ্যোতি বসুর মতো ব্যক্তিত্বরা আমার ভোটার হলেন কী করে? আমি টানা কাউন্সিলর ছিলাম, মেয়রও হয়েছি। আজ আমার নামটাই উধাও! তিনি আরও বলেন, এই এনুমারেশন ফর্ম কীভাবে পূরণ করব জানি না। অনেকবার জেলাশাসক এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কোনও সুরাহা নেই। ফর্ম ফাঁকাই জমা দেব বলে ভাবছি।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্যসাচীর সল্টলেকের বাড়ি ডিএল ২৩৯ নম্বরে, থানা বিধাননগর পূর্ব। ওই পাড়ার মোট আটটি বাড়ি ডিএল ২৩২ থেকে ২৪০ সবগুলিই উধাও ২০০২ সালের ভোটার তালিকা থেকে। অনুমান করা হচ্ছে, ডিলিমিটেশনের পর হয়তো ওই সব ঠিকানা ভুলবশত অন্য কোনও বিধানসভার সাপ্লিমেন্টারি পার্টে চলে গিয়েছে।একসময় এই অঞ্চল ছিল রাজ্যের অন্যতম বড় বিধানসভা বেলগাছিয়া পূর্বের অন্তর্ভুক্ত। এখন সেটি বিধাননগর বিধানসভা। প্রশাসনের দাবি, তালিকার ডেটা মার্জিং ত্রুটি-র কারণেই এমন বিপত্তি ঘটেছে।রাজনৈতিক মহল বলছে, নির্বাচন কমিশনের এই গাফিলতি শুধু প্রশাসনিক নয়, বড়সড় লজ্জার বিষয়। টানা জননেতা হিসেবে জনপ্রিয় সব্যসাচীর নিজের নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে তাহলে সাধারণ ভোটারদের অবস্থা কী!

নভেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

SIR-এর তৃতীয় দিনেই ফাঁস কেলেঙ্কারি! তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে ফর্ম বিলির অভিযোগ

বাংলা জুড়ে চলছে এসআইআর (SIR) ভোটার তালিকা পর্যালোচনার বিশেষ অভিযান। আজ তৃতীয় দিনেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মালদহের চাঁচলে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসেই নাকি ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি করছিলেন এক বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)। সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়।ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্রীরামপুর এলাকায়। অভিযোগ উঠেছে, কর্তব্যরত বিএলও অলোক চক্রবর্তী ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করার নিয়ম ভেঙে, সরাসরি চাঁচল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝর্ণা দাস বর্মণের বাড়িতে বসে ফর্ম দিচ্ছেন। ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক, বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।চাঁচলের বিজেপি নেতা প্রশান্ত পাল বলেন, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বিএলওদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করতে হবে। অথচ এখানে দেখা যাচ্ছে, তারা পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে বসে ফর্ম দিচ্ছেন। এটা স্পষ্টতই বিধি ভঙ্গ। আমরা বিষয়টি কমিশনের কাছে লিখিতভাবে জানাব।অভিযোগের মুখে পড়া বিএলও অলোক চক্রবর্তী অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি কোনও অনিয়ম করেননি। তাঁর কথায়, আমি শুধু ফর্মগুলো গোছাচ্ছিলাম। বিলি করা হচ্ছিল না। প্রথম দিন হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছিল, তাই ওই জায়গায় বসে কাজ করছিলাম।অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি, বিজেপি অকারণে রাজনৈতিক রঙ চড়াচ্ছে। মালদহ জেলা পরিষদের সহকারী সভাপতি জানিয়েছেন, বিএলওদের পাশে থাকেন বিএলএ-২, যিনি তাঁদের কাজে সাহায্য করেন। সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়, তাই এই সমন্বয় জরুরি। বিজেপি হয়ত এসব নিয়ম জানে না।তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ভাইরাল হতেই চাঁচল ও মালদহ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। কমিশনের নির্দেশ মেনে পুরো ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনের চোখ এখন সরাসরি সেই পঞ্চায়েত ও সংশ্লিষ্ট বিএলওর দিকে।রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে রাজ্যের নানা প্রান্তে যখন এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে নানা বিভ্রান্তি চলছে, তখন এমন ঘটনায় কি আরও সন্দেহের মেঘ ঘনীভূত হল? এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

নভেম্বর ০৬, ২০২৫
রাজ্য

স্কুলে মদের আড্ডা, ছাত্রের রহস্যমৃত্যু.... গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

পুরুলিয়ার কেন্দায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। ঘটনার জেরে অবশেষে গ্রেফতার হলেন সংশ্লিষ্ট বেসরকারি স্কুলের সম্পাদক জগন্নাথ মাহাতো। তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছিল, মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রকে তিনি নৃশংসভাবে মারধর করেছিলেন। মঙ্গলবার ভোরেই কেন্দ্রা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।ঘটনা রবিবার সন্ধ্যার। স্কুলের হস্টেলের ঘর থেকে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। স্কুল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে বাড়ি হলেও পড়ার সুবিধার জন্য এই হস্টেলেই থাকত সে। রবিবার কোচিং শেষ করে প্রতিদিনের মতোই নিজের ১২ নম্বর ঘরে ঢুকে পড়ে। রাতের দিকে চাঞ্চল্য ছড়ায়, যখন তার নিথর দেহ উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।অভিযোগ, ছাত্রের মৃত্যুর খবর পরিবারকে সময়মতো জানায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। বরং অন্য শিক্ষার্থীরাই ফোন করে মৃতের বাবামাকে খবর দেয়। শোকস্তব্ধ মায়ের অভিযোগ, শনিবার স্কুলের এক শিক্ষক নাকি মারধর করেছিলেন ছেলেকে। সেই কারণেই পরদিন বন্ধুরা দেখতে গিয়েছিল তার সঙ্গে কথা বলতে, কিন্তু দরজা খোলে না। পরে জানা যায়, ঘরের ভিতর ঝুলছে তাঁর দেহ।শুধু পরিবারের অভিযোগ নয়, স্কুলের বহু ছাত্রের দাবি, শনিবার স্কুল সম্পাদক জগন্নাথ মাহাতো নিজেই ওই ছাত্রকে মারধর করেছিলেন। ঘটনার জেরে সোমবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। মানবাজার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে টানা ৯ ঘণ্টা বিক্ষোভ চলে। দাবি ওঠে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করলে অবরোধ ওঠানো হবে না।চাপের মুখে সোমবার রাতেই জগন্নাথ মাহাতো ও তাঁর ভাইকে আটক করে পুলিশ। যদিও ভাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয় জগন্নাথ মাহাতোকে।শুধু জগন্নাথ নয়, এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নারায়ণ মাহাতো, সহপ্রধান শিক্ষক গুণধর মাহাতো এবং শিক্ষক বিদ্যুৎ মাহাতোর বিরুদ্ধেও। এলাকাবাসীর দাবি, জগন্নাথ মাহাতো শুধু স্কুল সম্পাদকই নন, তিনি স্থানীয় তৃণমূলের দাপুটে নেতা এবং পুরুলিয়া তৃণমূল সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য। ২০০৮ সালে এই স্কুল নির্মাণ করেন তিনি।বিজেপি জেলা নেতৃত্বের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি নেত্রী ময়না মুর্মু বলেন, এই রাজ্যে ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ নয়। আমরা পরিষ্কার তদন্ত চাই, নিহতের মা যেন ন্যায় বিচার পান। অন্যদিকে বাম নেতাদের অভিযোগ, এই স্কুলে নাকি নিয়মিত মদ্যপানের আসর বসত। তাঁদের দাবি, এটা স্কুলের নামে অন্যায় কারবার চলছিল। এখনই বন্ধ করা উচিত।এখন প্রশ্নএ মৃত্যু কি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি মারধরের জেরে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা? এলাকাবাসীর দাবি একটাইদোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।

নভেম্বর ০৪, ২০২৫
রাজ্য

বাড়ি-বাড়ি ফর্ম, রাস্তায় আতঙ্ক—হাসপাতালে তৃণমূল কাউন্সিলর

এখন বাংলায় এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ফর্ম বিলি, বাড়ি-বাড়ি যাবেন বিএলওরা। আর সেই গরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী সাকির আলি। তৃণমূল বলছে, মানুষের আতঙ্ক সামলাতে গিয়েই অসুস্থ তিনি। বিজেপি-র ভাষায়এ সবই নাটক।রবিবার আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাকির আলি। ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শয্যায় শুয়েই তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ওয়ার্ডে একটি বড় বস্তি এলাকা আছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই সেখানে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দিনভর বহু মানুষ তাঁর কাছে ছুটে এসেছেনতাঁদের নাম বাদ যাবে না তো? কাগজপত্র ঠিক আছে তো? কী করতে হবে? কারও হাতে পাকা নথি নেই, কারও তথ্য মেলে না। সেই আতঙ্ক সামলাতে সামলাতেই ধকল যায় তাঁর, দাবি কাউন্সিলরের। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমনটাই বলছে তৃণমূল শিবির।অন্যদিকে বিজেপি একেবারে পাল্টা সুরে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, পুরোটাই নাটক! তাঁর অভিযোগ, দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চলছে, কোথাও এমন কেউ অসুস্থ হচ্ছে না। কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের কাউন্সিলরই কেবল অসুস্থ হচ্ছেন! অভিযোগ আরও এগিয়ে গিয়ে বলেন, রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাকির আলির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই প্রচারের আলোয় আসতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।এদিকে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক যে বাস্তব, তা স্পষ্ট রাজ্যের নানা প্রান্তে। ইতিমধ্যেই একাধিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আতঙ্ককে দায়ী করা হচ্ছে। হুগলির ডানকুনিতে রবিবার সন্ধ্যায় মারা গিয়েছেন ষাট বছর বয়সি হাসিনা বেগম। স্থানীয়দের দাবি, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মানুষ এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, কী কী নথি লাগবে, কীভাবে নাম নথিভুক্ত হবে। তার মধ্যেই আতঙ্ক যেন ছায়ার মতো তাড়া করছে সাধারণ মানুষকে।রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন একটাইএসআইআর কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসন কি ন্যায়সঙ্গতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে? নাকি আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে? মানুষের ঘরে ঘরে অস্থিরতা বাড়ছে, রাজনৈতিক পালটা-যুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। আর এই সবকিছুর মধ্যেই হাসপাতালে শুয়ে আছেন সাকির আলিতাঁর দাবি, মানুষ বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নিজের শরীরই হার মানল। বিজেপি বলছে, সবটাই সাজানো দৃশ্য। সত্যি কোনটা? উত্তর চাইছে রাজ্যবাসী।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিরাটির পর দত্তপুকুরে রাতভর তাণ্ডব! একে একে পাঁচ সিপিএম অফিসে ভাঙচুর-আগুন, উঠল বিজেপির নাম

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটিতে সিপিএমের সভা ঘিরে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের দিকে দত্তপুকুরে একের পর এক সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বামেদের দাবি, দত্তপুকুরে মোট পাঁচটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকটি অফিসে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।সিপিএমের অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা রড ও হাতুড়ি নিয়ে একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অফিসের আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। দেওয়ালে থাকা বাম নেতাদের ছবিও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি দলের। দত্তপুকুরের দুনম্বর রেলগেট, গঙ্গাপুর মোড় এবং দত্তপুকুর স্টেশনের কাছে-সহ একাধিক এলাকায় এই হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি কার্যালয়ে কাগজপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।এই হামলার পিছনে সরাসরি বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খান দাবি করেছেন, রাতের অন্ধকারে বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার বারাসত এক নম্বর বিডিও দফতরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সিপিএমের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির পরেই পার্টি অফিসগুলিতে হামলার ঘটনা ঘটায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনায় পুলিশে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।তবে সিপিএমের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা অরিন্দম দে জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে দত্তপুকুরের ঘটনা নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।এর আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের একটি পথসভা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। সভামঞ্চে ভাঙচুর, চেয়ার ভাঙা এবং ব্যানার নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। বামেদের দাবি, সভায় হামলার পাশাপাশি তাঁদের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। সভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।বিরাটির ঘটনার ক্ষেত্রেও সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, পুলিশের উপস্থিতিতেই সভামঞ্চে হামলা হয়েছে এবং পুলিশ হামলাকারীদের আটকাতে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। সুজন চক্রবর্তী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপির তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি, সভায় স্থানীয়রা কিছু স্লোগানের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং উল্টে তাঁদের দলের মহিলা কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।একই রাতে হাবড়াতেও বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে। হাবড়া এক নম্বর রেলগেটের কাছে এসএফআইয়ের পথসভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।বিরাটি, হাবড়া এবং দত্তপুকুরের পরপর ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। দত্তপুকুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এসএফআই নেতা আকাশ করকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ-সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন। তবে সিপিএম যে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার মূল অভিযোগ তুলেছে, সেই অভিযোগের সঙ্গে ওই গ্রেফতারের যোগসূত্র বা হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিলের কাছে ৪-০ হার, তবু যুবভারতীতে লড়াইয়ের গল্প লিখল ভারত

যুবভারতীতে ফলাফলটা ভারতের পক্ষে নয়। স্কোরবোর্ডে ৪-০। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে শনিবার যে লড়াই উপহার দিল ভারত, তা নিছক চার গোলের হারের গল্প নয়। গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর দুটি বড় ভুলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারত। তবে রায়ান উইলিয়ামস, মনবীর সিংহ, অভিষেক সিংহদের লড়াকু ফুটবল প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের মন জিতে নিল।ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটাই প্রশ্নব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ভারত কত গোল হজম করবে? মাঠে সেই আশঙ্কার ছাপ অবশ্য শুরুতে খুব একটা দেখা যায়নি। বরং প্রথমার্ধের একটা বড় সময় ভারত রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসেছে। ব্রাজিলের তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে বেশ কিছুটা সময় আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় রক্ষণ।কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলের মূল্য যে কতটা চড়া হতে পারে, যুবভারতী তারই সাক্ষী থাকল।গুরপ্রীতের দুই ভুলেই পিছিয়ে পড়ল ভারতশুরুতেই ভিনিসিয়াসের শট আটকে গুরপ্রীতকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। গ্যালারি থেকেও এসেছিল প্রশংসার আওয়াজ। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না।২৮ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে এস্তেভাওর নেওয়া শট ছিল গুরপ্রীতের নাগালের মধ্যেই। বলের গতি বেশি থাকলেও সেটি সামলানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল ভারতীয় গোলরক্ষকের। কিন্তু তাঁর হাতের নীচ দিয়ে বল গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়। ব্রাজিল এগিয়ে যায় ১-০।প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ভারত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে ফের বিপর্যয়। ৪২ মিনিটে এস্তেভাওর তৈরি করা সুযোগ থেকে পেদ্রোর শট আটকাতে গিয়ে গুরপ্রীতের ডান হাতের গ্লাভসে বল লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়।মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল। অথচ প্রথমার্ধে ভারত যে ভাবে রক্ষণ সামলাচ্ছিল, তাতে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।এরপর আরও একটি বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ভিনিসিয়াসের শট গুরপ্রীতের গায়ে লেগে গোলের দিকে যাচ্ছিল। পিছন থেকে দানিলো ছুটে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রক্ষণ কোনও রকমে পরিস্থিতি সামলে নেয়।ব্রাজিলের তারকাদের আটকে রাখল ভারতব্রাজিল যে ভারতকে হালকা ভাবে নেয়নি, প্রথম একাদশেই তার প্রমাণ ছিল। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোসদের সঙ্গে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলাররাও ছিলেন দলে।তবু ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের আক্রমণকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয়নি। ভিনিসিয়াস বাঁ দিক দিয়ে বারবার আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও তাঁকে বেশির ভাগ সময় নজরে রেখেছিলেন অভিষেক সিংহ। ব্রাজিলীয় তারকা কয়েক বার ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অভিষেক পিছনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।শুধু রক্ষণ নয়, সুযোগ পেলেই ভারতীয় ফুটবলাররা পাল্টা আক্রমণে উঠেছেন। রায়ান উইলিয়ামস ও মনবীর সিংহের গতির উপর ভর করে ব্রাজিলের বক্সে ঢোকার চেষ্টাও হয়েছে একাধিক বার।বিরতির পর বদলে গেল ব্রাজিলদ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। মাঠে আসেন গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ়, স্যামুয়েল লিনোর মতো ফুটবলাররা। পরিবর্তিত দল নিয়েও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি।৫৮ মিনিটে বিজয়ের পা থেকে বল কেড়ে নেয় ব্রাজিল। দূর থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। ভারত তখন ৩-০ পিছিয়ে।তবে এই সময়েও ভারত লড়াই থেকে সরে যায়নি। ৬৪ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামস ব্রাজিলের বক্সে ঢুকে পড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর শট আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক মাউরো।এর কিছুক্ষণ পর রায়ান ও মনবীরের দারুণ বোঝাপড়ায় ফের সুযোগ তৈরি হয়। রায়ান বল বাড়ান মনবীরকে। পরে মনবীরের ক্রস ফের রায়ানের দিকে। চলতি বলে শট নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।সেই মুহূর্তে যুবভারতীর গ্যালারিতে হয়তো অনেকেরই মনে হয়েছিলএকটি গোল অন্তত প্রাপ্য ভারতের।শেষ মুহূর্তেও গোলের ধাক্কাম্যাচের বাকি সময়ে দুদলই আক্রমণে উঠেছে। ভারত চেষ্টা করেছে ব্যবধান কমানোর, ব্রাজিল খুঁজেছে আরও গোল। শেষ পর্যন্ত সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ দিকে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল।লিনোর শট প্রভসুখন গিলের শরীরের নীচ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।চার গোলের ব্যবধান নিঃসন্দেহে বড়। কিন্তু ম্যাচের পুরো ছবিটা শুধু স্কোরলাইন দিয়ে বোঝা যাবে না। ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ভুল এবং আক্রমণে শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ের অভাব।তার বিপরীতে ইতিবাচক দিকও কম নয়। বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ভারত ভয় পেয়ে গুটিয়ে থাকেনি। রায়ান, মনবীর, অভিষেক, বিজয়রা বারবার প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে অভিষেকের ভিনিসিয়াসকে সামলানোর চেষ্টা এবং রায়ানের আক্রমণাত্মক মানসিকতা নজর কেড়েছে।সামনে আরও কঠিন পরীক্ষাব্রাজিলের বিরুদ্ধে ০-৪ হার দিয়ে ভারতের এই পর্ব শেষ হচ্ছে না। বরং সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।যুবভারতীর রাত ভারতের জন্য ফলের দিক থেকে হতাশার হলেও, লড়াইয়ের মানসিকতা পরের ম্যাচের আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাতেই পারে। চার গোলের ব্যবধানের আড়ালে তাই থেকে গেল অন্য এক ছবিবিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবলারদের হার না মানা লড়াই।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের চেয়ার এবার কাকলির হাতে! দোলার জায়গায় বিজেপি, সংসদে রদবদল ঘিরে তুমুল চর্চা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হাতছাড়া হয়েছে। রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির থেকে বেরিয়ে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে।শনিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠনের পরই এই রদবদলের কথা প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের স্থায়ী কমিটির নতুন চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিগুলির মধ্যে রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন সুধাংশু ত্রিবেদী।এই বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে মূলত কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁরা কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছিলেন। পরে সংসদে তাঁদের আসনেও পরিবর্তন করা হয়।এ বার সেই বিদ্রোহী শিবিরেরই অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদের জায়গায় রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে সংসদীয় কমিটির এই রদবদলকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে দোলা সেনের জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। অর্থাৎ একই রদবদলে তৃণমূল দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হারাল। একটি পদ গেল বিজেপির হাতে, অন্যটি গেল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রীর হাতে।তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ সাংসদপদ এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। লোকসভার সচিবালয় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তাঁদের সাংসদপদ বাতিল হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।ফলে এক দিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান পদ হাতছাড়া হওয়া, অন্য দিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সময়ে বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকাসব মিলিয়ে সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেয়েদের পর ছেলেরাও সোনা! মালয়েশিয়াকে ৫-১ উড়িয়ে ইতিহাস, অলিম্পিকের টিকিটও পাকা ভারতের

৪৪ বছর পর মেয়েদের হকিতে সোনা এসেছিল। এ বার পুরুষদের দলও সেই পথেই ইতিহাস গড়ল। মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকির সোনা ধরে রাখল ভারত। শুধু সোনাই নয়, এই জয়ের সঙ্গে ২০২৮ সালের অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতাও অর্জন করল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম একই আসরে ভারতের পুরুষ ও মহিলা হকি দল দুটিই সোনা জিতল। পুরুষ হকিতে পরপর দুবার সোনা জেতার নজিরও এই প্রথম ভারতের।শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তবে বেশিক্ষণ সেই ব্যবধান থাকেনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবার ভারতকে এগিয়ে দেন যুগরাজ সিং। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই আসে সেই গোল।বিরতির পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিল ভারত। ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান বাড়ান হার্দিক সিং। এর পর ৫৪ মিনিটে শিলানন্দ লাকরা গোল করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোর ৫-১ করেন হরমনপ্রীত। ১৪টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও ভারত তার মধ্যে তিনটি কাজে লাগাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই সোনা নিশ্চিত করে ভারত।হকির পাশাপাশি কুস্তিতেও সোনা এসেছে। পুরুষদের ৫৭ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আমন সেহরাওয়াত। এক সময় এগিয়ে থেকেও পরে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় কুস্তিগির। এই বিভাগে এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন আমন। অন্য দিকে মহিলাদের ৫৩ কেজিতে রুপো পেয়েছেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। পুরুষদের ৯৭ কেজিতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন দীপক পুনিয়া।তিরন্দাজিতেও ইতিহাস তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ বিভাগে সোনা জিতেছেন কুমকুম মহোদ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ সেটের পর লড়াই ৫-৫ সমতায় শেষ হয়। শুট-অফে নিখুঁত ১০ পয়েন্ট তুলে সোনা নিশ্চিত করেন কুমকুম। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজ তিনি। পুরুষদের রিকার্ভে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন নীরজ চৌহান।গলফেও এল ঐতিহাসিক সাফল্য। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে ১৫ আন্ডার ২৬৫ স্কোর করে সোনা জিতেছেন প্রণবী উরস। এশিয়ান গেমসে এই বিভাগে ভারতের প্রথম সোনা এটি। দলগত বিভাগেও রুপো পেয়েছে ভারত।দিনের শেষে ক্রিকেটেও সোনার মুকুট পেল ভারত। পুরুষদের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে। অভিষেক শর্মা ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তিলক বর্মা ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। জবাবে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থেমে যায়। হাসান নওয়াজ ৫১ বলে ৯৬ রান করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও পাকিস্তানকে জেতাতে পারেননি।এর ফলে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের দুই সোনাই এ বার ভারতের দখলে। মহিলা দলও আগে সোনা জিতেছিল। হকি এবং ক্রিকেটের পাশাপাশি কুস্তি, তিরন্দাজি ও গলফে সাফল্য মিলিয়ে শেষ দিনে ভারতের সোনার সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৮৫টি পদক নিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে ভারত। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এস্তেভাঁও-পেদ্রো-লিনোর গোলের ঝড়, তবু ভারতকে নিয়ে কেন আলোচনা? ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুবভারতীর ম্যাচে চমক

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ। ফল অবশ্য ভারতের পক্ষে গেল না। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারাল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এস্তেভাঁও, পেদ্রো এবং স্যামুয়েল লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলোত্তির দল। তবে স্কোরলাইন যতই একপেশে হোক, ভারতের ফুটবলাররা বেশ কিছু সময়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলেছেন এবং একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন।বিশ্ব ক্রমতালিকায় ব্রাজিল পঞ্চম এবং ভারত ১৩৮ নম্বরে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। ভারতের সামনে ছিল দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার বিরল সুযোগ। শেষ পর্যন্ত হার এলেও ম্যাচের শুরুতে ভারত যথেষ্ট লড়াই করেছে। ব্রাজিল প্রথম গোল পায় ২৮ মিনিটে। এস্তেভাঁওয়ের বাঁ পায়ের শটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে পেদ্রো ব্যবধান বাড়ান। প্রথমার্ধ শেষ হয় দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই।দ্বিতীয়ার্ধে ভারত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ব্রাজিলের আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েল লিনো ৫৮ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ৪-০ করেন তিনি। ফলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হলেও ভারতের লড়াইয়ের কয়েকটি মুহূর্ত আলাদা করে নজর কেড়েছে।ভারতের আক্রমণেও সুযোগ এসেছিল। মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামস গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণ এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তাঁরা। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভারত আক্রমণে উঠেছে এবং শুধু নিজেদের অর্ধে আটকে থাকেনি।রক্ষণেও আনোয়ার আলি ও আকাশ মিশ্রকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায়। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা থাকলেও ভারত শুরুতে তাঁদের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুও একাধিক বার ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকান।এই ম্যাচে ভারতীয় গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলেরও আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলাটাই তাঁর কাছে বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। ভারতের কোচ খালিদ জামিলের কৌশল নিয়েও ম্যাচের আগে যথেষ্ট আলোচনা ছিল। পানামার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের পর ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর দল কী ভাবে খেলবে, ছিল সেটাই বড় প্রশ্ন।ভারত শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এবং চার গোল হজম করেছে। কিন্তু দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও ম্যাচটিকে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।ফল ভারতের পক্ষে নয়, সেটাই সত্যি। কিন্তু যুবভারতীর সেই সন্ধ্যায় ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে ভারতের ফুটবলাররা যে লড়াইয়ের কিছু ছবি রেখে গেলেন, সেটাই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। ০-৪-এর স্কোরলাইন তাই ম্যাচটির পুরো গল্প বলে না।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ককপিটে হামলার পর যাত্রীরাই ধরলেন সহ-পাইলটকে! তারপর তাঁকে ছেড়ে দিতে কেন চাপ এসেছিল?

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা। তার পর যাত্রীদের তৎপরতায় আটক হলেন অভিযুক্ত সহ-পাইলট। তাঁকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি যাত্রীদের। কিন্তু সেই সময় বিমানের অন্য কর্মীদের কয়েক জন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অন্য কর্মীরা কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চলছে।ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ককপিটের জরুরি কুঠার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।হামলার পর বিমানটি আচমকা নীচে নামতে শুরু করে। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তখন কয়েক জন যাত্রী ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এই তৎপরতার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে অন্য দুই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।বিমানে থাকা দুই যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটার দাবি করেছেন, কয়েক জন যাত্রী মিলে হামামকে আটকেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, হেডফোনের তার এবং টেপ ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর পর বিমানের অন্য কয়েক জন কর্মী এসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কেন তাঁকে মুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ওই যাত্রীরা।এই দাবিই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুধু যাত্রীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিমানের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, এমন তথ্য এখনও নেই। ফ্লাইদুবাইয়ের ওই কর্মীরা কেন অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে যাত্রীরা দাবি করছেন, তা তদন্তের বিষয়।এদিকে হামাম আল-হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর আগে ওমানের বিমান সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর পরিচয় ও অতীত নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির সবটাই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের অতীত এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।ফ্লাইদুবাই বিমানের এই ঘটনায় দ্রুত যাত্রীদের হস্তক্ষেপ এবং পরে অন্য পাইলটদের বিমান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনাই বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে বেঁধে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্মীদের চাপ দেওয়ার যে দাবি যাত্রীরা করেছেন, সেটি তদন্তে কতটা সত্যি, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
কলকাতা

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? পুজোর পর কীসের প্রস্তুতি

দিল্লি, মুম্বইয়ের পর এবার কি কলকাতার রাস্তাতেও নামতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত এই কর্মসূচির দিনক্ষণ বা স্থান চূড়ান্ত হয়নি।এর আগে নিট পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে সেই কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি বলে দাবি। এবার এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কলকাতায় নতুন করে কর্মসূচি করার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর।সূত্রের খবর, কলকাতায় প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব। কোথায় এবং কবে সভা করা হবে, তা নিয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির তরফে অভিজিৎ দীপকেরা এই বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে সূত্রের দাবি।এর মধ্যেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওই কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে দিল্লির পর কলকাতাতেও একই ধরনের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে তৃণমূলের সাহায্যের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে সিপিএম। সংগঠনের এই উদ্যোগকে ঘিরে বামেদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, স্যান্ডো গেঞ্জির আবার বুকপকেট। ওদের দলে কতজন আছে যে সহযোগিতা করবে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলন থেকে শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসএফআই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। কলকাতায় কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বও কথা বলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ফলে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির আদৌ কোনও সভা হয় কি না, হলে তাতে কারা যোগ দেন এবং এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কী কর্মসূচি নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বারবার ধসে বন্ধ শিলিগুড়ি-সিকিমের পথ! এবার বদলে যাবে দশ নম্বর জাতীয় সড়ক, তৈরি হবে সুড়ঙ্গ-উঁচু সেতু

বর্ষা এলেই ধস, কখনও মাটি বসে যাওয়া, আবার কখনও যানজটে থমকে যায় পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ দশ নম্বর জাতীয় সড়কের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ শুরু হল। রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার রাস্তার আমূল উন্নয়নের জন্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার প্রকল্পের দরপত্র ডেকেছে জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি একাধিক সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধসপ্রবণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দশ নম্বর জাতীয় সড়কের রংপো থেকে রানিপুল অংশটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫.৮৭ কিলোমিটার। বর্তমানে এই রাস্তার একাধিক অংশ বর্ষায় ধস এবং মাটি বসে যাওয়ার সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন প্রকল্পে বর্তমান রাস্তা দুই লেনে উন্নীত করা হবে। রাস্তার দুপাশে পাকা অংশও রাখা হবে। পাশাপাশি ধসপ্রবণ এবং মাটি বসে যাওয়ার এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এই প্রকল্পে একাধিক সুড়ঙ্গ এবং উঁচু সেতুপথ তৈরির পরিকল্পনা। পাহাড়ের যে অংশগুলিতে রাস্তা বারবার ধসের কবলে পড়ে বা মাটি বসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নতুন পরিকাঠামোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। ফলে প্রকল্পটি শুধু রাস্তা চওড়া করার কাজ নয়, বরং গোটা রংপো-রানিপুল পথের পরিকাঠামো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা।এই প্রকল্পের জন্য দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ৬ নভেম্বর থেকে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তা জমা দেওয়া যাবে। ১৭ নভেম্বর দরপত্র খোলার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রয় ও নির্মাণ পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা হয়েছে। সরকারি নথিতে কাজের সময়সীমা ৪৭৪৫ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা দীর্ঘদিন ধরেই দশ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই রাস্তা শুধু সিকিম বা কালিম্পংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, পর্যটন, পণ্য পরিবহণ এবং সীমান্ত এলাকার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।বর্ষায় দশ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামলে সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী থেকে পণ্যবাহী গাড়িসবাইকে তার প্রভাব সামলাতে হয়। সেই কারণে নতুন প্রকল্পে রাস্তার নিরাপত্তা এবং সারা বছর যোগাযোগ সচল রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সরকারি দরপত্রের নথিতে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ ৪০ হাজার ১৮৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দরপত্রের কাজের বিবরণে দুই লেনের রাস্তা, পাকা পাশের অংশ, সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধস ও মাটি বসে যাওয়ার প্রবণ এলাকার চিকিৎসার কথা স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত দশ নম্বর জাতীয় সড়কের চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। পাহাড়ি পথে ধসের ঝুঁকি কমানো, যান চলাচল আরও মসৃণ করা এবং সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal