• ৬ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Virat Kohli

খেলার দুনিয়া

‌কোহলির পথ অনুসরণ করবেন?‌ সন্ধিক্ষণের মুখে রোহিত ও ভারত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রবিবার একদিনের সিরিজ খেলতে নামছে ভারত। ভারতের কাছে এটি হাজারতম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। একদিকে ভারত যেমন সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে, তেমনি সন্ধিক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে অধিনায়ক রোহিত শর্মাও। এই প্রথম দেশকে একদিনের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিতে নামবেন। নতুন অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, বিরাট কোহলির পথ অনুসরণ করেই তিনি দেশকে নেতৃত্ব দেবেন।গত বছর ডিসেম্বরেই একদিনের ক্রিকেটে তাঁকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নির্বাচকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে যেত নেতা রোহিতের। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে পারেননি। তাঁর জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড হাতে মাঠে নামবেন রোহিত।আমেদাবাদে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে রোহিত বলেন, কোহলি অধিনায়ক থাকার সময় আমি সহঅধিনায়ক ছিলাম। কোহলির দেখানো পথেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। অধিনায়ক হয়েই যে আমি সবকিছু বদলে দেব, এমন ভাবার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলায় পরিবর্তন হতেই পারে। কোন ক্রিকেটারের কাছ থেকে দল কী প্রত্যাশা করছে, সে ব্যাপারে সবাই যাতে সুস্পষ্ট ধারণা পায়, সেটা নিশ্চিত করব। দলের সবাই নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। দলের একটা কাঠামো রয়েছে, সেই অনুযায়ীই আমরা খেলব।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে ব্যাটিং নিয়ে চিন্তায় ভারতীয় দল। করোনার জন্য শিখর ধাওয়ান, ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, শ্রেয়স আয়ারকে পাবে না ভারত। মায়াঙ্ক আগরওয়ালও রয়েছেন কোয়ারেন্টিনে। বোনের বিয়ের জন্য লোকেশ রাহুলও প্রথম ম্যাচে নেই। ব্যাকআপ হিসেবে ডাকা হয়েছে ঈশান কিশান ও শাহরুখ খানকে। প্রথম ম্যাচে রোহিতের সঙ্গে ওপেন করবেন ঈশান কিশান। মোতেরায় মাঠে নামার আগে খোলসা করে দিয়েছেন রোহিত।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বোলিং কম্বিনেশনে পরিবর্তন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর আবার দেখা যাবে কুলচা জুটি। যুজবেন্দ্র চাহালের সঙ্গে কুলদীপ যাদবকে খেলানোর কথা সাংবাদিক সম্মেলনে বলে গেছেন রোহিত। যশপ্রীত বুমরা ও মহম্মদ সামিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। শার্দূল ঠাকুর, মহম্মদ সিরাজ, দীপক চাহারদের ওপর জোরে বোলিং সামলানোর দায়িত্ব। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে অলরাউন্ডার হিসেবে ভেঙ্কটেশ আয়ারকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ভেঙ্কটেশ। অলরাউন্ডার হিসেবে দীপক হুডা অথবা ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলানো হতে পারে।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌বেঙ্গালুরুতে কোহলির শততম টেস্ট খেলার ইচ্ছেপূরণে বাধা হতে চলেছে বোর্ড

প্রিয় মাঠ বেঙ্গালুরুর চিন্নস্বামী স্টেডিয়ামে কি জীবনের শততম টেস্ট খেলা হবে না বিরাট কোহলি? সেই সম্ভাবনাই ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠছে। আর কোহলিকে বেঙ্গালুরুতে শততম টেস্ট খেলতে না দেওয়ার পেছনে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ভুমিকা বড় হয়ে দাঁড়াতে চলেছে। অর্থাৎ বোর্ড কর্তারা ইচ্ছে করেই হয়তো বেঙ্গালুরুতে কোহলির আটকে দিতে পারেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কোহলির সম্পর্ক একেবারেই ভাল নয়। বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির গায়ে যেভাবে মিথ্যাবাদী তকমা সাঁটিয়ে দিয়েছেন, তা ভালভাবে নেননি অন্য বোর্ড কর্তারা। যার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে কোহলিকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তিনটি টেস্টেই খেললে এতদিন শততম টেস্ট খেলা হয়ে যেত বিরাট কোহলির। কিন্তু জোহানেসবার্গে চোটের অজুহাতে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন কোহলি। জোহানেসবার্গে খেললে সেটাই হত কোহলির ৯৯ তম টেস্ট। পরে কেপ টাউনে সিরিজের শেষ টেস্টে খেলেন। ফলে ৯৯তম টেস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেই খেলে ফেলেছেন। ভারতের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। দুটি টেস্ট হবে বেঙ্গালুরু ও মোহালিতে। বেঙ্গালুরুতেই প্রথম টেস্ট হওয়ার কথা। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরের হয়ে খেলেন কোহলি। সেই সুবাদে বেঙ্গালুরু তাঁর ঘরে মাঠ। বেঙ্গালুরুতে প্রচুর সমর্থকও রয়েছে কোহলির। সেসব কথা মাথায় রেখে কোহলি চেয়েছিলেন বেঙ্গালুরুতে শততম টেস্ট খেলতে। তাই দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে পরিকল্পিতভাবে চোটের অজুহাতে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ভারত ও শ্রীলঙ্কা সিরিজে তিনটি টি ২০ ম্যাচও হবে। টেস্ট সিরিজ শেষ হলে তিনটি টি ২০ ম্যাচ হওয়ার কথা মোহালি, ধরমশালা ও লখনউতে। যদিও এই সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দুটি টেস্ট বেঙ্গালুরু ও মোহালি। একটি টেস্ট দিনরাতের করার ব্যাপারে উদ্যোগী বোর্ড। কিন্তু মোহালিতে দিনরাতের টেস্ট আয়োজন করা সমস্যা। কারণ মোহালিতে সন্ধেবেলা খুব বেশি শিশির পড়ছে। তাই বেঙ্গালুরুতে গোলাপি বলের টেস্টের সম্ভাবনা বেশি। করোনার জন্য যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সূচিতে অদলবদল হতে পারে। বোর্ডের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, টি২০ সিরিজ শেষ করে তারপর টেস্ট সিরিজ হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রথম দুটি টি২০ ম্যাচ ধরমশালায় খেলার পর দুটি দল মোহালি আসবে। সেখানে ১টি টি২০ ও ১টি টেস্ট ম্যাচ হতে পারে। তারপর দ্বিতীয় টেস্ট হতে পারে বেঙ্গালুরুতে। সেক্ষেত্রে বেঙ্গালুরুতে দিনরাতের টেস্ট হলেও কোহলিকে দর্শকহীন মোহালিতে শততম টেস্ট খেলতে হবে।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌আবার বিতর্কে সৌরভ গাঙ্গুলি?‌ ভারতীয় বোর্ড প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ

বিরাট কোহলিকে একদিনের নেতৃত্ব থেকে সরানো নিয়ে বিতর্কে জনিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। আবার নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট। যা নিয়ে উত্তাল ক্রিকেটমহল। তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলির অবশ্য কোনও বিবৃতি পাওয়া যায়নি।কী এমন করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি যে তাঁকে নিয়ে আবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে? এক্তিয়ার বহির্ভূতভাবে তিনি নাকি ভারতীয় দল নির্বাচনের বৈঠকে হাজির ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিনিধির টুইটে এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি কখনোই জাতীয় দল নির্বাচনের বৈঠকে থাকতে পারেন না। দল নির্বাচনের বৈঠকে আহ্বায়ক হিসেবে বোর্ড সচিব জয় শাহ থাকতে পারেন। কিন্তু বেশ কয়েকটা বৈঠকে সৌরভ গাঙ্গুলি নাকি হাজির ছিলেন।You know what else is problematic apart from the obvious Ganguly- Shah duo? The presence of Rohit Sharma.The day a leader decides to share power is the day he loses the room. So many news saying that dressing room is a divided house.Two lions never ruled a jungle together! https://t.co/dYhornzxAN Cricketjeevi (@wildcardgyan) February 1, 2022একটি সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল একটি অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তুলেছে কোন নিয়মে সৌরভ গাঙ্গুলি দল নির্বাচনী বৈঠকে হাজির থাকেন। ওই অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলি দল নির্বাচনী বৈঠকে হাজির ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের অভিযোগ প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি সৌরভ। এমনকি কোনও বোর্ড কর্তাও এই ব্যাপারে মন্তব্য করেননি। তবে অনেক কর্তা এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।টি২০ ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে বিরাট কোহলি দাবি করেছিলেন, তিনি বোর্ড কর্তাদের জানিয়েই নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে বোর্ড কর্তারা জানান, কোহলির নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে তাঁরা কিছু জানতেন না। এরপর একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে বিরাট কোহলিকে সরিয়ে দেন নির্বাচকরা। এরপরই কোহলিপ্রেমীরা সৌরভের অপসারণের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে ওঠেন।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌‌বিশ্বকাপ জেতেনি বলে কোহলি খারাপ ক্রিকেটার?‌ কী বললেন শাস্ত্রী

মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত থেকে নেতৃত্বের আর্ম ব্যান্ড পাওয়ার পর ভারতীয় দলকে অন্য উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। লালবলের ক্রিকেটে তাঁর নেতৃত্বেই দীর্ঘদিন শীর্ষে ছিল ভারত। একদিনের ক্রিকেটেও দুর্দান্ত সাফল্য। তবে একটাই আক্ষেপ, কখনও আইসিসির প্রতিযোগিতায় দেশকে চ্যাম্পিয়ন করতে পারেননি। এরজন্য কোহলিকে অনেকেই হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। বিশ্বকাপ জেতেননি বলে কোহলি খারাপ ক্রিকেটার, এমনটা মনে করছেন না রবি শাস্ত্রী। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় দলের এই প্রাক্তন হেডস্যার বলেন, একজন ক্রিকেটারকে বিশ্বকাপ জয়ের মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। দীর্ঘদিন ধরে সেই ক্রিকেটার কেমন খেলছে, আইকন হয়ে উঠেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। অনেক বড় বড় ক্রিকেটারও বিশ্বকাপ জেতেনি। সৌরভ, কুম্বলে, দ্রাবিড়, লক্ষ্মণও তো বিশ্বকাপ জেতেনি। তাহলে এরা খারাপ ক্রিকেটার হয়ে গেল? বিশ্বকাপ জেতার জন্য শচীন তেন্ডুলকারকে ৬টি বিশ্বকাপ খেলতে হয়েছে। আমাদের দেশে মাত্র দুজন অধিনায়ক বিশ্বকাপ জিতেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সাদা ও লালবলের ক্রিকেটে সিরিজ হারতে হয়েছে ভারতকে। ভারতের তুলনায় অনেক কম শক্তিশালী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এইরকম দলের কাছে টেস্ট ও একদিনের সিরিজে পরাজয় অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। শাস্ত্রী অবশ্য মনে করছেন, এই হারে সমর্থকদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, ভারতের এই ব্যর্থতা সাময়িক। সব ম্যাচ কখনোই জেতা সম্ভব নয়। ৫ বছর ধরে ভারত বিশ্বের একনম্বর দল ছিল। সাফল্যের অনুপাত ৬৫ শতাংশ। হঠাৎ করে তাদের পারফরমেন্স নেমে যাবে? এই ব্যর্থতা কাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি ভারত ঘুরে দাঁড়াবে। গতবছরই টি২০ নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে একদিনের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেন জাতীয় নির্বাচকরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ হারের পরের দিনই টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ান কোহলি। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেন, নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত কোহলির ব্যক্তিগত ব্যাপার। ওর এই সিদ্ধান্তকে সবাইকে সম্মান জানাতেই হবে। সুনীল গাভাসকার, শচীন তেন্ডুলকার, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো অধিনায়করাও ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য নেতৃত্ব ছেড়েছিল।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

একদিনের সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ ভারত, বিতর্কে বিরাট কোহলিও

পার্লের বোল্যান্ড পার্কে পরপর দুম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ পকেটে ভরে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতকে হোয়াইট ওয়াশ করার লক্ষ্য নিয়েই তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নেমেছিল প্রোটিয়া শিবির। অন্যদিকে, ভারতের লক্ষ্য ছিল হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা বাঁচানো। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৪ রানে হারল ভারত। হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা বাঁচাতে পারলেন না লোকেশ রাহুলরা। ভারত যেমন হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা বাঁচাতে পারল না, তেননই তৃতীয় একদিনের ম্যাচে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন বিরাট কোহলি। ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় সব ক্রিকেটার গলা মিলিয়েছিলেন। টিভি ক্যামেরায় দেখা যায় জাতীয় সঙ্গীতে গলা না মিলিয়ে চুইংগাম চিবোচ্ছেন কোহলি। জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় তাঁর এই চুইংগাম চিবোনোর ছবি দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় তোলেন নেট নাগরিকরা। অনেকেই কোহলির আচরণ নিয়ে কটাক্ষ করেন। ব্যাটিংয়েও যেভাবে দায়সারা শট খেলে আউট হয়েছেন, তাও অনেকে মেনে নিতে পারছেন না।এদিন প্রথম একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করে মাঠে নেমেছিল ভারত। ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে ভেঙ্কটেশ আয়ারের পরিবর্তে সূর্যকুমার যাদবকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। ছন্দে না থাকে ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গায় দীপক চাহার, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের জায়গায় জয়ন্ত যাদব, শার্দূল ঠাকুরের পরিবর্তে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে নিয়ে মাঠে নেমেছিল ভারত। কেপ টাউনের নিউল্যান্ডে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। তৃতীয় ওভারে জানেমান মালানকে (১) তুলে নিয়ে প্রোটিয়া শিবিরকে প্রথম ধাক্কা দেন দীপক চাহার। বাভুমাও (৮) দ্রুত ফিরলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। কুইন্টন ডিকক ও এইডেন মার্করাম চাপ কাটিয়ে দেন।ত্রয়োদশ ওভারে মার্করামকে (১৫) তুলে নিয়ে দীপক চাহার জুটি ভাঙলেও ডিকককে টলাতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। রাসি ভ্যান ডার ডুসেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান ডিকক। ভারতকে সামনে দেখলেই যেন জ্বলে ওঠা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন এই প্রোটিয়া উইকেটকিপারব্যাটার। ডুসেনের সঙ্গে জুটিতে তোলেন ১৪৪ রান। যশপ্রীত বুমরাকে মাঠের বাইরে পাঠাতে গিয়ে বাউন্ডারিতে শিখর ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ডিকক। ১৩০ বলে ১২৪ রান করেন তিনি। ডিককের ইনিংসে রয়েছে ১২টি ৪ ও ২টি ৬। ডিকক আউট হওয়ার পরের ওভারেই ফিরে যান ডুসেন। ৫৯ বলে ৫২ রান করেন তিনি। ফেলুকায়ো (৪) আউট হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে টানেন ডেভিড মিলার ও প্রিটোরিয়াস। ২০ রান করে প্রিটোরিয়াস প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে আউট হন। ডেভিড মিলারও (৩৯) প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর শিকার। শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে ২৮৭ রানে শেষ হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ৫৯ রানে ৩ উইকেট নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। দীপক চাহার, যশপ্রীত বুমরা ২টি করে উইকেট নেন। যুজবেন্দ্র চাহাল নেন ১ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে ভারতও শুরুতে ধাক্কা খায়। নেতৃত্বের চাপ যে তাঁর ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তিনটি ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন লোকেশ রাহুল (৯)। এদিনও লুঙ্গি এনগিডির অফস্টাম্পের বাইরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ভারতের রান তখন ১৮। শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে ভালোই টেনে নিয়ে যান শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি। ৭৩ বলে ৬১ রান করে ফেলুকায়োর বলে আউট হন ধাওয়ান। একই ওভারের ঋষভ পন্থকেও (০) তুলে নেন ফেলুকায়ো। ৩২তম ওভারে কেশব মহারাজের বলে দায়সারা শট খেলে আউট হন কোহলি। ৮৪ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। ১৫৬ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত।এরপর জয়ের জন্য শ্রেয়স আয়ার ও সূর্যকুমার যাদবের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দল। ৩৪ বলে ২৬ রান করে মাগালার বলে ফেলুকায়োর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন শ্রেয়স। জয়ন্ত যাদব (২) ব্যর্থ হলেও ভারতকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান দীপক চাহার। ৩৪ বলে ৫৪ রান করে এনগিডির বলে প্রিটোরিয়াসের হাতে চাহার ধরা পড়তেই চাপে পড়ে যায় ভারত। ১৫ বলে ১২ রান করে ফেলুকায়োর বলে আউট হন বুমরা। শেষ ওভারে ভারতের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৬ রান। প্রিটোরিয়াসের বলে চাহাল (২) আউট হতেই ভারতের সম্মান রক্ষার লড়াই শেষ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌৭ উইকেটে বিধ্বস্ত ভারত, সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার, শেহবাগের রেকর্ড স্পর্শ কোহলির

টেস্ট সিরিজে পিছিয়ে থেকে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একদিনের সিরিজে ভারতকে কোনও সুযোগই দিল না। প্রথম একদিনের ম্যাচে ৩১ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ৭ উইকেটে হারিয়ে একম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে একদিনের সিরিজ হারের মধুর প্রতিশোধ নিল প্রোটিয়ারা।পার্লের বোল্যান্ড পার্কে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে টস ভাগ্য অবশ্য সহায় হয়েছিল লোকেশ রাহুলের। আগের ম্যাচে পরে ব্যাট করতে গিয়ে মন্থর উইকেটে সমস্যা হয়েছিল। সেকথা মাথায় রেখে এদিন টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লোকেশ রাহুল। ভাল শুরু করেছিলেন ভারতীয় দলের দুই ওপেনার রাহুল ও শিখর ধাওয়ান। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৬৩। এরপরই ছন্দপতন। ৩৮ বলে ২৯ রান করে এইডেন মার্করামের বলে আউট হন শিখর ধাওয়ান। পরের ওভারেই বিরাট কোহলিকে (০) তুলে নেন কেশব মহারাজ। ভারত হারলেও এদিন বীরেন্দ্র শেহবাগের রেকর্ড স্পর্শ করলেন বিরাট কোহলি। বীরেন্দ্র শেহবাগ ৩৭৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৩১ বার শূন্যে আউট হয়েছিলেন। বিরাট কোহলি নিজের ৪৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে শেহবাগের সেই রেকর্ড স্পর্শ করলেন। শেহবাগ টেস্টে ১৬ বার, একদিনের আন্তর্জাতিকে ১৪ বার এবং টি ২০ আন্তর্জাতিকে একবার শূন্যে আউট হয়েছেন। ফলে বিরাট এদিন একদিনের আন্তর্জাতিকে শেহবাগের ১৪ বার শূন্য রানে আউট হওয়ার নজির স্পর্শ করলেন।এক ওভারের ব্যবধানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পন্থের চওড়া ব্যাট ভারতকে চাপ থেকে বার করে নিয়ে আসে। জুটিতে ওঠে ১১৫ রান। জুটি ভাঙেন সিসান্দা মাগালা। তুলে নেন লোকেশ রাহুলকে। ৭৯ বলে ৫৫ রান করে আউট হন রাহুল। পরের ওভারেই তাবরেজ সামসির বলে আউট হন ঋষভ পন্থ। ৭১ বলে তিনি করে ৮৫। এটাই ঋষভের একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান। পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে আবার চাপে পড়ে যায় ভারত রান তোলার গতিও কমে যায়। এর মাঝেই ৩৬.৫ ওভারের মাথায় আউট হন শ্রেয়স আয়ার (১১)। ভারতের রান তখন ২০৭/৫। ভেঙ্কটেশ আয়ার ৩৩ বলে ২২ রান করে আউট হন। শার্দূল ঠাকুর (৩৮ বলে অপরাজিত ৪০) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের (২৪ বলে অপরাজিত ২৫) সৌজন্যে ৫০ ওভারে ২৮৭/৬ রানে পৌঁছয় ভারত। তাবরেজ সামসি ৯ ওভারে ৫৭ রানে ২টি, কেশব মহারাজ ৯ ওভারে ৫২ রানে ১টি, এইডেন মার্করাম ৮ ওভারে ৩৪ রানে ১টি, সিসান্ডা মাগালা ৮ ওভারে ৬৪ রানে ১টি, ফেলুকায়ো ৮ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার জানেমান মালান ও কুইন্টন ডিকক। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও এদিন ভারতীয় বোলারদের কোনও সুযোগই দেননি। যশপ্রীত বুমরা, ভুবনেশ্বর কুমারদের ওপর চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে ওপেনিং জুটিতে মালান ও ডিকক তোলেন ১৩২। শার্দূল ঠাকুর এসে জুটি ভাঙেন। তুলে নেন ডিকককে। ৬৬ বলে ৭৮ রান করে আউট হন ডিকক। ডিকক ফিরে গেলেও চাপে পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। জানেমান মালামনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। দলের ২১২ রানের মাথায় যশপ্রীত বুমরার বল ব্যাটের ভিতরের দিকে কানায় লাগিয়ে আউট হন জানেমান মালান। ১০৮ বলে ৯১ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই যুজবেন্দ্র চাহালের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাভুমা (৩৬ বলে ৩৫)। উইকেটে জমে যাওয়া দুই ব্যাটারকে পরপর দুওভারে তুলে নিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। ধীরে ধীরে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান এইডেন মার্করাম (৪১ বলে অপরাজিত ৩৭) ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন (৩৮ বলে অপরাজিত ৩৭)। ৪৮.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২৮৮ রান তুলে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের হয়ে যশপ্রীত বুমরা, যুজবেন্দ্র চাহাল ও শার্দূল ঠাকুর ১টি করে উইকেট নেন।

জানুয়ারি ২১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আইসিসি–র বর্ষসেরা দলে বাংলাদেশের ৩, কেন বাদ কোহলি?‌

বর্ষসেরা দল নির্বাচন নিয়ে নিজেদের ক্রমশ হাস্যকর করে তুলছে আইসিসি। একদিন আগেই ২০২১ সালের বর্ষসেরা টি২০ দল বেছে নিয়েছে। সেই দলে জায়গা হয়নি ভারতের কোনও ক্রিকেটারের। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে একদিনের দল। আশ্চর্যজনকভাবে সেই দলেও কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার নেই! হ্যাঁ, জায়গা হয়নি বিরাট কোহলি কিংবা যশপ্রীত বুমরার। অথচ শ্রীলঙ্কার দুষ্মন্ত চামিরা, আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং, সিমি সিংরা জায়গা পান। আইসিসির বর্ষসেরা একদিনের দলে পাকিস্তানের ২ জন ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। এরা হলেন বাবর আজম ও ফকর জামান। টি২০ দলের মতো একদিনের আইসিসির বর্ষসেরা দলের নেতৃত্বেও বাবর আজম। বর্ষসেরা দলে শুধু ভারতীয় ক্রিকেটারদের নয়, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনও ক্রিকেটারের জায়গা হয়নি। ১১ জনের দলে সুযোগ পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুজন ক্রিকেটার, জ্যানম্যান মালান ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন। সবথেকে বেশি ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে। এরা হলেন সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান ও মুশফিকুর রহিম। শ্রীলঙ্কা থেকে সুযোগ পেয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও দুষ্মন্ত চামিরা। এছাড়া রয়েছেন আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিং ও সিমি সিং।বিরাট কোহলি, যশপ্রীত বুমরা, রোহিত শর্মাদের আইসিসির বর্ষসেরা দলে সুযোগ না পাওয়ার কারণ রয়েছে। আসলে ২০২১ সালে মাত্র ৬টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে ভারত। এই ৬ ম্যাচের মধ্যে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, লোকেশ রাহুল মাত্র ৩টি ম্যাচে খেলেছিলেন। বোলারদের মধ্যে সবথেকে বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। ৫ ম্যাচ খেলে তিনি মাত্র ৯ উইকেট পেয়েছিলেন। আর ব্যাটারদের মধ্যে সবথেকে বেশি খেলেছিলেন শিখর ধাওয়ান। ৬ ম্যাচে তিনি করেছিলেন ২৯৭ রান। পারফরমেন্সের বিচারে পল স্টার্লিং, জ্যানম্যান মালান, ফকর জামান, বাবর আজমরা ধাওয়ানের থেকে অনেক এগিয়ে। আইসিসির বর্ষসেরা দল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পারফরমেন্সকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়। নামের দিকে তাকানো হয় না। একদিনের ক্রিকেট বেশি না খেলার জন্য কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের নাম বিবেচিত হয়নি।

জানুয়ারি ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌কার ওপর নির্ভর করছে সিরিজে ভারতের সমতা ফেরানোর ভাগ্য?‌

টেস্ট সিরিজের পর একদিনের সিরিজেও কি হারতে হবে ভারতকে? পার্লের বোল্যান্ড পার্কে প্রথম ম্যাচে হারে সেই আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে ভারতীয় দলের সামনে। সিরিজ বাঁচাতে গেলে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া রাস্তা নেই লোকেশ রাহুলদের। সমতা ফরানোর জন্য ব্যাটারদের দিকেই তাকিয়ে ভারতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়ক। সিরিজের প্রথম ম্যাচে পরাজয় ভারতীয় দলকে নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেছে। অধিনায়ক লোকেশ রাহুল পর্যন্ত প্রথম ম্যাচের পর মেনে নিয়েছেন ব্যাটারদের ব্যর্থতার জন্যই ডুবতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার তেম্বা বাভুমা ও রাসি ভ্যান ডার ডুসেন মিডল অর্ডারে যেরকম বড় পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছিলেন, ভারতীয় দলের মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে সেরকম বড় কোনও পার্টনারশিপ গড়ে ওঠেনি। শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি আউট হওয়ার পর ধস নামে ভারতীয় শিবিরে। সব থেকে বড় কথা, ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ২ বছরেও বেশি সময় অতিক্রান্ত, এখনও চার নম্বর জায়গায় উপযুক্ত ব্যাটার খুঁজে পেল না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ঋষভ পন্থকে খেলানো হয়েছিল। তিনিও ব্যর্থ।প্রশ্ন উঠেছে প্রথম ম্যাচে লোকেশ রাহুলের নেতৃত্ব নিয়েও। হার্দিক পান্ডিয়ার পরিবর্তে অলরাউন্ডার হিসেবে ভেঙ্কটেশ আয়ারকে দলে নেওয়া হয়েছে। অথচ প্রথম ম্যাচে তাঁকে ১ ওভারও বল দেওয়া হয়নি। বুমরা, অশ্বিনরা যখন বাভুমাডুসেনের জুটি ভাঙতে পারছিলেন না, তখন ভেঙ্কটেশকে দেখে নিতেই পারতেন লোকেশ রাহুল। মাঠের মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও ইতিবাচক ছিল না। তার ওপর পরের দিকে উইকেট মন্থর হয়ে যাওয়ায় ভারতীয় ব্যাটারদের শট খেলতেও অসুবিধা হয়েছে। সিরিজে সমতা ফেরাতে গেলে ব্যাটারদের যেমন দায়িত্ব নিতে হবে, জ্বলে উঠতে হবে বোলারদেরও। বিশেষ করে দুই স্পিনারকে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। বোলিং বিভাগে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকলেও ব্যাটিং অর্ডারে বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূর্যকুমার যাদবকে প্রথম একাদশে খেলানোর ভাবনা টিম ম্যানেজমেন্টের। একটা ম্যাচে ব্যর্থ বলে ভেঙ্কটেশ আয়ারকেও আবার বসানোর পক্ষপাতি নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সব মিলিয়ে প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। তবে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে ভারতীয় ব্যাটারদের বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে। পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে লোকেশ রাহুলকেও।

জানুয়ারি ২০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

নেতৃত্ব ছেড়েও রানে কোহলি, তবু হার ভারতের

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচে কতটা নম্বর পাবেন লোকেশ রাহুল? ৭ বছর পর সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে নেমে কতটা জ্বলে উঠতে পারবেন বিরাট কোহলি? নেতার আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমে প্রথম ম্যাচে দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না লোকেশ রাহুল। তবে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন বিরাট কোহলি। মরণবাঁচন ম্যাচে রান শিখর ধাওয়ানেরও। তবু জয় অধরা থেকে গেল ভারতের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হারতে হল ৩১ রানে।জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে টস ভাগ্য এদিন সহায় ছিল না লোকেশ রাহুলের। পার্লের বোল্যান্ড পার্কের মন্থর উইকেটের কথা মাথায় রেখে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। পঞ্চম ওভারেই ধাক্কা খায় প্রোটিয়ারা। যশপ্রীত বুমরার বলে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জ্যানম্যান মালান। ১০ বলে তিনি করেন ৬। এরপর দলকে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যান কুইন্টন ডিকক ও অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ১৬তম ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের প্রথম বলেই বোল্ড হন ডিকক। ৪১ বলে ২৭ রান করে তিনি আউট হন। ২ ওভার পরেই ভেঙ্কটেশ আয়ারের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হন এইডেন মার্করাম (৪)।৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান তেম্বা বাভুমা ও ভ্যান ডার ডুসেন। দুজনে দারুণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। অশ্বিন, চাহাল, বুমরারা এই দুই প্রোটিয়া ব্যাটারকে টলাতে পারছিলেন না। অশ্বিন, চাহালদের একের পর এক সুইপ করে নির্বিষ করে দেন বাভুমা ও ডুসেন। এই দুই প্রোটিয়া ব্যাটার যখন উইকেটে জমে গিয়েছেন তখন জুটি ভাঙতে কেন ভেঙ্কটেশ আয়ারকে লোকেশ রাহুল ব্যবহার করলেন না, বোধগম্য নয়। চতুর্থ উইকেটের জুটিতে বাভুমা ও ডুসেন তোলেন ২০৪। ১৩৩ বলে একদিনের ক্রিকেটে জীবনের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাভুমা। ৮৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ডুসেন। অবশেষে জুটি ভাঙেন যশপ্রীত বুমরা। তুলে নেন বাভুমাকে। ১৪৩ বলে ১১০ রান করে আউট হন প্রোটিয়া অধিনায়ক। ভ্যান ডার ডুসেনও জীবনের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেলেন। ৯৬ বলে ১২৯ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। ৫০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে তোলে ২৯৬। ৪৮ রানে ২ উইকেট নেন বুমরা। ৫৩ রানে ১ উইকেট নেন অশ্বিন।ব্যাট করতে নেমে ভাল শুরু করেছিলেন ভারতের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও শিখর ধাওয়ান। এদিন পার্টটাইম অফস্পিনার এইডেন মার্করামের হাতে নতুন বল তুলে দিয়ে চমক দিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা। তাঁর হাত ধরেই প্রথম সাফল্য পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। নবম ওভারে তুলে নেন লোকেশ রাহুলকে (১২)। এরপর বাইশ গজে আগমন বিরাট কোহলির। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ ধাওয়ানের কাছে অগ্নিপরীক্ষা। ব্যর্থ হলেই দল থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠবে। মরণবাঁচন ম্যাচে রীতিমতো জ্বলে উঠলেন ধাওয়ান। ৮৪ বলে ৭৯ রান করে তিনি কেশব মহারাজের বলে বোল্ড হন। ধাওয়ান আউট হওয়ার ৩ ওভারে পরেই ফেরেন বিরাট কোহলি। ৬৩ বলে ৫১ রান করে তিনি তাবরেজ শামসির বলে বাভুমার হাতে ক্যাচ দেন। কোহলি আউট হওয়ার পরপরই ধস নামে ভারতীয় ইনিংসে। শ্রেয়স আয়ার (১৭), ঋষভ পন্থরা (১৬) ব্যর্থ। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচে রান পেলেন না ভেঙ্কটেশ আয়ারও (২)। শেষ দিকে শার্দূল ঠাকুর (অপরাজিত ৫০) জ্বলে উঠলেও জয় অধরা থেকে যায় ভারতের। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ রান তোলে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এনগিডি, শামসি ও ফেলুকায়ো ২টি করে উইকেট নেন।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

টেস্ট দলের অধিনায়ক হতে চান?‌ কী বললেন বুমরা

ভারতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিরাট কোহলি। তার জায়গায় লাল বলের ক্রিকেটের নেতৃত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। লড়াইয়ে যেমন রয়েছেন রোহিত শর্মা, তেমনই রয়েছেন লোকেশ রাহুলও। ভেসে উঠছে যশপ্রীত বুমরার নামও। তাঁর সামনে যদি সুযোগ আসে, দেশকে নেতৃত্ব দিতে তৈরি বুমরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শেষ। বুধবার থেকে শুরু একদিনের সিরিজ। তার আগে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন যশপ্রীত বুমরা। আপাতত তিনি এই সিরিজের জন্য সহ অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। সোমবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বুমরা বলেন, আমার সামনে যদি ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ আসে, দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তৈরি। আমার মনে হয় কোনও ক্রিকেটারই প্রত্যাখান করবে না। আমি যে কোনও লিডারশিপ গ্রুপে অবদান রাখার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে কেপ টাউন টেস্টের পরই যে কোহলি নেতৃত্ব ছাড়বেন স্বপ্নেও ভাবেনি ভারতীয় শিবির। সেই কথা জানা গেছে বুমরার মুখে। তিনি বলেন, কোহলি নেতৃত্ব ছাড়ায় আমরা সকলেই অবাক হয়েছিলাম। কেপ টাউন টেস্টে হারের পর ড্রেসিংরুমে টিম মিটিংয়েই জানায় যে, ও আর টেস্টে অধিনায়ক থাকবে না। তবে এটা সিদ্ধান্ত একান্তই ওর ব্যক্তিগত। কোহলির এই নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্তকে গোটা দল শ্রদ্ধা করে। তবে একটা কথা বলতে পারি, কোহলির নেতৃত্বে খেলতে পেরে আমি গর্বিত। ওর নেতৃত্বেই আমার টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। দলের মধ্যে কোহলি অন্যরকম এনার্জি নিয়ে এসেছে। খাতায়কলমে নেতৃত্বে না থাকলেও কোহলি আমাদের দলে নেতা হয়েই থাকবে। কোহলি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও দলে এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন যশপ্রীত বুমরা। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না কোহলি নেতৃত্ব ছাড়ায় দলে এর কোনও প্রভাব পড়বে। নিজেরা একে অপরকে সাহায্য করার জন্য সবসময় তৈরি থাকি। কেউ না কেউ দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তৈরি। যদি আমার সামনে সুযোগ আসে অবশ্যই ভাবব। তবে কখনও নেতৃত্বের পেছনে ছুটব না।

জানুয়ারি ১৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

টেস্ট ক্রিকেটেও শেষ বিরাট অধ্যায়, নেতৃত্ব ছাড়লেন কোহলি

ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে আর কোনও ধরণের ফরম্যাটে নেতৃত্বে দেখা যাবে না বিরাট কোহলিকে। লাল বলের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকেও এবার সরে দাঁড়ালেন তিনি। টুইট করে তিনি টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নতুন নেতা বেছে নিতে হবে।গতবছর টি২০ বিশ্বকাপের আগে টি২০ ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন বিরাট কোহলি। তাঁর এই সিদ্ধান্তে চমকে গিয়েছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্ব। গত বছর ডিসেম্বরে কোহলিকে একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেন নির্বাচকরা। এই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। টি২০ ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছাড়া নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলিকে মিথ্যেবাদী প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিলেন কোহলি। তিনি বলেছিলেন, তাঁর নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়ে বোর্ড প্রেসিডেন্ট সব জানতেন। কিন্তু সৌরভ গাঙ্গুলি পরে বিবৃতি দেন, কোহলির নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়ে তিনি একেবারেই অন্ধকারে ছিলেন। এই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।🇮🇳 pic.twitter.com/huBL6zZ7fZ Virat Kohli (@imVkohli) January 15, 2022বোর্ড সচিব জয় শাহ থেকে শুরু করে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান চেতন শর্মা পর্যন্ত সৌরভের পক্ষে দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেন। কোহলি টি২০ ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোয় নির্বাচকরা চাননি সাদা বলের ক্রিকেটে দুজন নেতা রাখতে। তাই একদিনের নেতৃত্ব থেকে কোহলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় ক্রিকেটে ক্রমশ কোনঠাসা হয়ে পড়েন কিং কোহলি। তাছাড়া রাহুল দ্রাবিড়কে কোচ করে কোহলিকে অন্য বার্তাও দিতে চেয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে কোহলির সরে দাঁড়ানোটা যে শুধু সময়ের অপেক্ষা, সেটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারার পরপরই টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কোহলি।টুইটারে নেতৃত্ব ছাড়ার কথা ঘোষণা করে কোহলি লিখেছেন, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও উদ্যমের সাথে দলকে সঠিকভাবে চালনা করার চেষ্টা করেছি। সততা বজায় রেখেই নিজের কর্তব্য পালন করেছি। সব কিছুরই পরিসমাপ্তি থাকে। আমার ক্ষেত্রেও ছিল। আমার এই যাত্রাপথে নিশ্চিতভাবেই ওঠানামা ছিল। কিন্তু প্রয়াসে কোনও কমতি ছিল না। সবসময় লক্ষ্য থাকে ১২০ শতাংশ দেওয়া। সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রেখে চলেছি। সততার প্রশ্নে কখনও আপোষ করিনি।গত ৭ বছর ধরে তাঁর ওপর আস্থা রাখায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কোহলি। টুইটারে তিনি লিখেছেন, দীর্ঘদিন দেশকে নেতৃত্বের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সতীর্থ, সাপোর্ট স্টাফদের জন্যই আমার এই সফর স্মরণীয় ও সুন্দর হয়েছে। দেশের টেস্ট ক্রিকেট যে জায়গায় পৌঁছেছে তার জন্য প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী ও অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফদের বড় ভুমিকা রয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে আমার প্রতি আস্থা রাখার জন্য মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ধন্যবাদ।

জানুয়ারি ১৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ইতিহাস তৈরি করতে ব্যর্থ কোহলিরা, ভারত নেমে গেল পাঁচে

পটভূমি তৈরি হয়েও ইতিহাস সৃষ্টি হল না। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয় অধরাই থেকে গেল ভারতের কাছে। কেপ টাউনে তৃতীয় টেস্টে ৭ উইকেটে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেঞ্চুরিয়নে প্রথম টেস্ট হেরে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন জোহানেসবার্গে। আর কেপ টাউনে এসে সিরিজ জয়। ২০১৮ সালের পুনরাবৃত্তি ৪ বছর পরেও।আরও পড়ুনঃ এবার পাড়ায় সমাধান-এর প্রতিশ্রুতি তৃণমূলেরতৃতীয় দিন ঋষভ পন্থের দুরন্ত সেঞ্চুরি আশা জাগিয়েছিল ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু দিনের শেষ বেলায় এলগার, পিটারসেনদের ব্যাটিংয়ে অ্যাডভান্টেজ পজিশনে চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশেষজ্ঞরা পর্যন্ত মনে করছিলেন কেপ টাউনে চতুর্থ ইনিংসে ২১২ রান তাড়া করা যথেষ্ট কঠিন হবে। পরিসংখ্যানও সেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যতবানীকে বুড়ো আঙুল দেখালেন প্রোটিয়া ব্যাটাররা। এর আগে ওয়ান্ডারার্সে যত টেস্ট হয়েছে, ২০০ রান তাড়া করে মাত্র তিনটি টেস্টে জয় এসেছে। ৬টি ড্র। আর ১৪ বার পরাজয় স্বীকার করতে হয়েছে রান তাড়া করা দলকে।আরও পড়ুনঃ কোভিড পরীক্ষা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরেরজয়ের জন্য ২১২ রান তাড়া করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ১০১/২। শেষ দিনে জয়ের জন্য দরকার ছিল ১১১ রান। চতুর্থ দিন শুরু থেকেই দুরন্ত ছন্দে ব্যাট করতে থাকেন কিগান পিটারসেন ও ভ্যান ডার ডুসেন। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ৫৪ রান তুলে ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন দুজনে। ৫৯ রানের মাথায় বুমরার বলে স্লিপে পিটারসেনের ক্যাচ ফেলেন চেতেশ্বর পুজারা। শেষ পর্যন্ত ৮২ রান করে শার্দূল ঠাকুরের বল ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বোল্ড হন পিটারসেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন ১৫৫। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় প্রোটিয়াদের রান ছিল ১৭১/৩। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির কিছুক্ষণ পরই ৬৩.৩ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা (২১২/৩)। ৯৫ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন ভ্যান ডার ডুসেন। তেম্বা বাভুমা ৫৮ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভারতের হয়ে বুমরা, সামি ও শার্দূল ১টি করে উইকেট নেন।আরও পড়ুনঃ কুঁড়ে ঘরের খুদে শিল্পীর মায়াবী গানের সুরের জাদুতে মুগ্ধ সংগীতপ্রেমীরাভারতের এই পরাজয়ের ফলে ফিরে এল ২০০৭ সালের স্মৃতি। সেই বছর রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে ভারত সিরিজে এগিয়ে গিয়েও ২১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল। কেপ টাউন টেস্টে ভারতকে ৪ দিনে হারিয়ে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট তালিকায় ৪ নম্বরে উঠে এল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত নেমে গেল পাঁচ নম্বরে।

জানুয়ারি ১৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : ‌ভামিকার জন্মদিনে সেঞ্চুরি হাতছাড়া, রান পেলেও ‘‌ব্যর্থ বাবা’‌ কোহলি

স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অনুরাগীদের। স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন পরিবারকে। সেঞ্চুরি করে মেয়ে ভামিকার জন্মদিনে উপহার দেওয়া। একই সঙ্গে ৯৯ তম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখা। ব্যর্থ বাবা বিরাট কোহলি। সেঞ্চুরি না পেলেও তাঁর ব্যাটই কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ঢাল হয়ে দাঁড়াল অধিনায়ক কোহলির ব্যাট। তাঁর ৭৯ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ভারত তুলল ২২৩। কাগিসো রাবাডামার্কো জানসেনদের সুইংয়ে বেসামাল ভারতীয় ব্যাটাররা।আরও পড়ুনঃ লিটন যেন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তবু লড়াই জমাতে পারল না বাংলাদেশকেপ টাউনের নিউল্যান্ডসের উইকেট বরাবরই বোলারদের সহয়তা করে এসেছে। এই মাঠে ভারতের পরিসংখ্যানও ভাল নয়। তার ওপর সকাল থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। জোরে বোলারদের আদর্শ এইরকম পরিবেশেও টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোহলি। তাঁর সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল না, ভারতের ২২৩ রানে গুটিয়ে যাওয়াতেই প্রমাণ।আরও পড়ুনঃ চীনা নয়, আইপিএলের স্পনসর এবার ভারতীয় গোষ্ঠীটস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব একটা খারাপ করেনি ভারত। দুই ওপেনার সতর্কভাবে ব্যাট করছিলেন। মনে হচ্ছিল ওপেনিং জুটি বড় রান আসবে ভারতের। কিন্তু দ্বাদশ ওভারে ধাক্কা খায় ভারত। ডোয়েন অলিভিয়েরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লোকেশ রাহুল। ৩৫ বলে তিনি করেন ১২। পরের ওভারেই মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে তুলে নেন কাগিসো রাবাডা। শূন্যরানে একবার জীবন পেয়েও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তুলে নেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও চেতেশ্বর পুজারা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় ভারতের রান ছিল ৭৫/২।আরও পড়ুনঃ ইতিহাস গড়ে জয় এল না এসসি ইস্টবেঙ্গলেরমধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আউট হন পুজারা। ৭৭ বলে ৪৩ রান করে তিনি মার্কো জানসেনের বলে উইকেটের পেছনে ভেরেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। কোহলি ও পুজারার জুটিতে ওঠে ৬২। দলকে নির্ভরতা দিতে ব্যর্থ অজিঙ্কা রাহানেও। ১২ বলে মাত্র ৯ রান করে তিনি রাবাডার বলে ভেরেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সতর্কভাবে ব্যাট করলেও ঋষভ পন্থও (২৭) বড় রান পেলেন না। রবিচন্দ্রন অশ্বিন (২), শার্দূল ঠাকুরের (১২) মতো টেল এন্ডাররাও ব্যর্থ। বিপর্যয়ের মধ্যে একা কুম্ভর মতো লড়াই করে গেলেন কোহলি। যদিও সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাগিসো রাবাডা ৭৩ রানে ৪টি, মার্কো জানসেন ৫৫ রানে ৩ উইকেট নেন।

জানুয়ারি ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Kohli-Rishabh : কেপ টাউন টেস্টের আগে ঋষভকে কেন সতর্ক করলেন কোহলি?‌

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও ভারতীয় দল সিরিজ জিতে ফিরে আসতে পারেনি। বিরাট কোহলির দলের সামনে সেই সুযোগ। প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। জোহানেসবার্গে জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মঙ্গলবার থেকে কেপ টাউনে শুরু হচ্ছে তৃতীয় টেস্ট। দুই দলের মধ্যে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, সেকথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়।আরও পড়ুনঃ এসটিএফের অভিযানে ৬৫ কোটি টাকার হেরোইনসহ গ্রেফতার বাবা ও ছেলে, ব্যাপক চাঞ্চল্য বর্ধমানেতৃতীয় টেস্টে মাঠে নামার আগে প্রথম একাদশ নিয়ে দ্বিধায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সিরিজে প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রথম একাদশ খোলসা করেননি ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। জোহানেসবার্গে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে তৃতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন মহম্মদ সিরাজ। তাঁর জায়গায় উমেশ যাদব, না ইশান্ত শর্মাকে খেলানো হবে তা এখনও ঠিক করে উঠতে পারেনি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ইশান্তের পাল্লাই ভারি। চোটের জন্য আগের টেস্টে খেলতে পারেননি বিরাট কোহলি। এই টেস্টে তিনি ফিরছেন। কোন ব্যাটার বাদ যাবেন, এখন সেটাই দেখার। তবে হনুমা বিহারীর প্রথম একাদশ থেকে বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ঋষভ পন্থকে নিয়েও জল্পনা রয়েছে। দ্বিতীয় টেস্টে তিনি যেভাবে আউট হয়েছেন, স্বয়ং ভারতীয় দলের হেডস্যার খুশি নন। বিরাট অবশ্য মহেন্দ্র সিং ধোনির পরামর্শর কথা উত্থাপন করে ঋষভকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ধোনি একবার কোহলিকে বলেছিলেন, একই ভুল যেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৬৭ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার না ঘটে।আরও পড়ুনঃ আইএসএলে ইতিহাস গড়তে চলেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। কীভাবে দেখে নিনমঙ্গলবার কন্যা ভামিকার জন্মদিন। মেয়ের জন্মদিনেই ৯৯ তম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখতে চান কোহলি। দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই। মেয়ের জন্মদিনে সুযোগ পেলে সেঞ্চুরি করে স্মরণীয় করে রাখতে চান। তবে তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে যেভাবে চারিদিকে চর্চা হচ্ছে তা নিয়ে একেবারে চিন্তিত নন কোহলি। তিনি জানিয়েছেন, কারও কাছে তাঁর নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই।আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনন্য কৃতিত্ব ট্রেন্ট বোল্টেরকেপ টাউনে ভারতের পরিসংখান একেবারেই ভাল নয়। এর আগে নিউল্যান্ডসে ৫টি টেস্ট খেলেছে ভারত। ৩টিতে হার, দুটি ড্র। এবার ইতিহাস বদলানোর সুযোগ ভারতীয় দলের সামনে। কিন্তু ভারতের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে নিউল্যান্ডসের বাইশ গজ ও কেপ টাউনের আবহাওয়া। জোহানেসবার্গের মতো এখানেও বৃষ্টির হানা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জানুয়ারি ১০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

India vs South Africa Test : কোহলির না থাকার ধাক্কা সামলাতে ব্যর্থ ভারত, দ্বিতীয় টেস্টে কেন ব্যাটিং বিপর্যয়?‌

ওয়ান্ডারার্সে ইতিহাসের হাতছানি ভারতীয় দলের সামনে। দ্বিতীয় টেস্ট জিতলেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পাবে। অথচ এইরকম গুরুত্বপূর্ণ টেস্টে চোটের জন্য ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলি? যতই ফর্মে না থাকুন, কোহলির খেলা আর না খেলার মধ্যে আকাশপাতাল পার্থক্য রয়েছে। যেটা প্রমাণ হয়ে গেল জোহানেসবার্গে। ওয়ান্ডারার্সে চূড়ান্ত ব্যাটিং বিপর্যয় ভারতের। ৬৩.১ ওভারে গুটিয়ে গেল মাত্র ২০২ রানে। সর্বোচ্চ রান ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের।জোহানেসবার্গের উইকেট বরাবরই জোরে বোলারদের সহায়ক। যার ফায়দা তুলে নিলেন ডোয়েন অলিভিয়ের, মার্কো জানসেন, কাগিসো রাবাডারা। যদিও উইকেট দেখে শুরুর দিকে কিছুটা ফ্ল্যাট মনে হয়েছিল। টসে জিতে লোকেশ রাহুল ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভাল শুরু করেছিলেন ভারতীয় দলের দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৩৬। পঞ্চদশ ওভারের প্রথম বলেই মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে (২৬) তুলে নেন মার্কো জানসেন। ক্রিজে নেমে সতর্কভাবে ব্যাট করছিলেন চেতেশ্বর পুজারা। মাথার ওপর বাদ যাওয়ার খাঁড়া ঝুলছে। চাপ নিতে পারলেন না। ডোয়েন অলিভিয়েরের বলে বাভুমার হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে আউট হন পুজারা (৩)। পরের বলেই খোঁচা দিয়ে ড্রেসিংরুমের পথে অজিঙ্ক রাহানে (০)। নিজেদের টেস্ট কেরিয়ার বাঁচাতে আর মাত্র একটা ইনিংস সুযোগ পাবেন ভারতীয় দলের এই দুই মিডল অর্ডার ব্যাটার।বিরাট কোহলি চোটের জন্য ছিটকে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েছেন হনুমা বিহারী। কারণ শ্রেয়স আয়ারও অসুস্থ। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না বিহারী। ব্যক্তিগত ২ রানের মাথায় একবার জীবন পেয়ে ৫৩ বলে ২০ রান করে রাবাডার বলে আউট হন। ঋষভ পন্থ ১৭ রান করে মার্কো জানসেনের ভেতরে ঢুকে আসা বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।নেতৃত্বের ব্যাটন দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দিয়েছিল লোকেশ রাহুলের। শুরু থেকেই সতর্কভাবে ব্যাট করে দলকে টানছিলেন। অর্ধশতরান পূরণ করার পর মনসংযোগ হারান। মার্কো জানসেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে কাগিসো রাবাডার হাতে ধরা পড়েন। ১৩৩ বলে ৫০ রান করেন লোকেশ রাহুল। লোকেশ রাহুল আউট হওয়ার পরই ভারতের বড় রানের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। পরের দিকে সঙ্গী পাবেন না ভাবেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৫০ বলে ৪৬)। তাঁর ও যশপ্রীত বুমরার (অপরাজিত ১৪) সৌজন্যে ২০০ রানের গন্ডি পার হয় ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মার্কো জানসেন ৩১ রানে ৪টি, কাগিসো রাবাডা ও ডোয়েন অলিভিয়ের ৬৪ রানে ৪টি করে উইকেট পান।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Virat Kohli : কেন জোহানেসবার্গ টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন কোহলি?‌ জানুন গোপন রহস্য

জোয়ানেসবার্গে লোকেশ রাহুলকে টস করতে যেতে দেখেই অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। বিরাট কোহলি কোথায়? বিতর্কে জেরবার হয়ে তিনি কি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন? ওয়ান্ডারার্সে টেস্ট জিতলেই ইতিহাস তৈরি হবে। এই রকম পরিস্থিতিতে কিনা প্রথম একাদশ থেকে সরে দাঁড়ালেন অধিনায়ক! আসল কারণটা জানা গেল ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের মুখে। পিঠের ওপরের দিকে ব্যাথার জন্য বিরাট কোহলি খেলতে পারছেন না। তিনি ফিজিওর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।বিরাট কোহলি জোহানেসবার্গ টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সত্যিই কি তিনি চোটে কাবু? না, ব্যর্থতার আতঙ্কে সরে গেলেন। দীর্ঘদিন ব্যাটে বড় রান নেই। আগের টেস্টে যেভাবে আউট হয়েছেন, তা নিয়ে সমালোচনার বন্যা বয়ে গেছে। ওয়ান্ডারার্সের সবুজ উইকেটে যদি আবার ব্যর্থ হন। সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে অন্য কারণ জোরালোভাবে সামনে এসে পড়েছে।জোহানেসবার্গে মাঠে নামলে ৯৯ তম টেস্ট খেলা হয়ে যেত বিরাট কোহলির। কেপটাউনে শততম টেস্ট খেলতে নামতেন। কিন্তু জোহানেসবার্গ টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ানোয় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে শততম টেস্ট খেলতে হচ্ছে না বিরাট কোহলিকে। দক্ষিণ আফ্রিকার পর ভারত টেস্ট সিরিজ খেলবে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ফর্মে ফেরার দারুণ সুযোগ পাবেন কোহলি। একদিকে ফর্মে ফেরার সুযোগ, অন্যদিকে ঘরের মাঠে শততম টেস্ট খেলার হাতছানি। এইরকম সুযোগ কেউ কি হাতছাড়া করতে চাই? এই প্রশ্নটাই জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ঘরের মাঠে দুর্বল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বড় ইনিংস খেলে শততম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখতে চান বিরাট কোহলি। তাই পিঠের ব্যাথার অজুহাতে জোহানেসবার্গ টেস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন বিরাট কোহলি।কোহলির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। নেতৃত্ব বিতর্ক নিয়ে কয়েকদিন আগেই বিরাট কোহলির বক্তব্য খন্ডন করেছেন নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান চেতন শর্মা। তারপর কোহলি জোহানেসবার্গ থেকে সরে দাঁড়ালেন। তাহলে কি অভিমানেই অধিনায়কের এই সিদ্ধান্ত। কোহলি সরে দাঁড়ানোয় দ্বিতীয় টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন লোকেশ রাহুল। সহঅধিনায়কের দায়িত্বে যশপ্রীত বুমরা। আর কোহলির পরিবর্তে প্রথম একাদশে হনুমা বিহারী।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

India Vs SA: ওয়ান্ডারার্সে ‘‌ওয়ান্ডার’‌ ঘটাতে পারবে ভারত?‌ ইতিহাস তৈরির লক্ষ্যে নামছে কোহলি ব্রিগেড

সেঞ্চুরিয়ন নাকি দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্জয় ঘাঁটি। সেই মাঠেই প্রোটিয়াদের হারিয়ে সিরিজে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত। সোমবার থেকে জোয়ানেসবার্গে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু। এই মাঠে ভারতের পরিসংখ্যান দারুণ চমকপ্রদ। ৫টেস্টে একটাও হারেনি ভারত। ২টিতে জয়, তিনটি ড্র। ৪ বছর আগে এই জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সেই টেস্ট জিতেছিল বিরাট কোহলি ব্রিগেড। পয়া মাঠে ভারতের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে ইতিহাস তৈরি করবে কোহলির দল। কারণ এর আগে কোনও ভারতীয় দল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সিরিজ জিতে ফেরেনি।ওয়ান্ডারার্সের বাইশ গজে গতি আছে। তবে সেঞ্চুরিয়নের মতো বাউন্স নেই। ভারতীয় ব্যাটারদের কাছে এটাই বাড়তি সুবিধা। এটাই স্বপ্ন দেখাচ্ছে ভারতীয় শিবিরকে। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারত প্রথম টেস্ট জিতেছিল ২০০৬ সালে। সেবার দলের অধিনায়ক ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। এবার তিনিই দলের হেড কোচ। জোয়ানেসবার্গে ভারতীয় ব্যাটাররা যে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য তৈরি, সেকথা জানিয়েছেন দ্রাবিড়। তিনি বলেছেন, ওয়ান্ডারার্সের বাইশ গজে গতি আছে। তবে বাউন্স কম। সেই কারণে ভারতীয় ব্যাটাররা এখানে ভাল খেলে। এখানকার উইকেট যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা তৈরি। আশা করছি দল ভাল ক্রিকেট উপহার দিতে পারবে।প্রথম টেস্টে বোলাররা ভাল বোলিং করলেও প্রত্যাশাপূরণে ব্যাটাররা। চেতেশ্বর পুজারা, অজিঙ্ক রাহানে রান পাননি। তা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে প্রথম একাদশ ভাবছে না ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে দ্রাবিড়ের কথায়। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে ব্যাট করা যথেষ্ট কঠিন। তাছাড়া দলের সবাই একসঙ্গে রান করবে, এটা ভাবাও ঠিক নয়। অনেকেই ভাল শুরু করে বড় ইনিংস খেলতে পারছে না। আশা করছি সামনের ম্যাচে ওরা বড় ইনিংস খেলবে।ওয়ান্ডারার্সের বাইশ গজে প্রচুর ঘাস রয়েছে। স্পিনারদের কার্যকরী ভুমিকা নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সেই কথা মাথায় রেখেই রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে ব্যাটিং শক্তি বাড়ানোর কথা ভাবছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সেক্ষেত্রে হনুমা বিহারীকে খেলানো হতে পারে। বিহারীকে খেলালে তিনি অফস্পিনও করতে পারবেন। শার্দূল ঠাকুরের জায়গায় উমেশ যাদবকে খেলানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

জানুয়ারি ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

India SA: জোহানেসবার্গে রানে ফিরবেন বিরাট কোহলি?‌ কী বললেন ভারতীয় দলের হেডস্যার

কয়েকদিন আগেই নেতৃত্ব বিতর্ক নিয়ে বিরাট কোহলির সমালোচনা করেছিলেন জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান চেতন শর্মা। জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগে বিরাট কোহলির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর নেতৃত্বে ভূয়সী প্রশংসা করলেন ভারতীয় দলের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়। শুধু পাশে দাঁড়ানোই নয়, কোহলির মতো অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করে দারুণ খুশি তিনি।ওয়ান্ডারার্সে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগে রবিবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন রাহুল দ্রাবিড়। সেই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, কোহলি দলকে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছে। মাঠ ও মাঠের বাইরে নিজেকে দুর্দান্ত নেতা হিসেবে মেলে ধরেছে। ওর নেতৃত্বের জন্যই প্রথম টেস্টে আমরা ভাল জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কোহলির মতো অধিনায়কের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি দারুণ খুশি।প্রায় ২ বছর হতে চলল বিরাট কোহলির ব্যাটে বড় রান নেই। সেঞ্চুরিয়নে দুই ইনিংসেই ভাল শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ। রাহুল দ্রাবিড়ের আশা জোয়ানেসবার্গে দ্বিতীয় টেস্টেই বড় রানে ফিরবেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। দ্রাবিড় বলেন, কোহলি ভাল শেপে রয়েছে। দুই ইনিংসেই দারুণ শুরু করেছিল। কিন্তু বড় রান করতে পারেনি। ওকে নেটে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। ভাল ছন্দে রয়েছে। আশা করছি এই টেস্টেই রানে ফিরবে।একদিনের ক্রিকেটে নেতৃত্ব বিতর্কে যথেষ্ট চাপে রয়েছেন বিরাট কোহলি। তা সত্ত্বেও ফোকাস হারাননি ভারতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক। কোহলির এই মনোবলের প্রশংসা শোনা গেছে ভারতীয় দলের হেডস্যারের মুখে। কোহলি সম্পর্কে দ্রাবিড় বলেন, গত ২০ দিন ধরে বিতর্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে কোহলিকে। ওকে নিয়ে নানা কথা উঠেছে। তা সত্ত্বেও যেভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছে, এককথায় অসাধারণ। দলকে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রথম টেস্টে দলকে জয় এনে দিয়েছে। দুটি টেস্টের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে আসেননি কোহলি। কেপটাউনে জীবনের শততম টেস্ট খেলবেন। তার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে কোহলি আসবেন বলে জানিয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়।

জানুয়ারি ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Kohli-Shami : ‌প্রথম টেস্ট জিতে সামি সম্পর্কে কেন একথা বললেন বিরাট কোহলি?‌

বিদেশের মাঠে একসময় দেশের পারপরমেন্সে আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে ভারতীয় ক্রিকেট। এখন বিদেশের মাটিতেও সিরিজ জিততে শুরু করেছে। বিদেশে সিরিজ জয়ে মূল অবদান রাখছেন জোরে বোলাররা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টেও সেই ভারতীয় জোরে বোলারদের দাপট। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট তুলে নিয়ে প্রোটিয়া ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন মহম্মদ সামি। সেঞ্চুরিয়নে জয়ের পর জোরে বোলারদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কোহলি বলেন, গত দুতিন বছর ধরে বোলাররা একটা ইউনিট হিসেবে বল করে আসছে। এর ফলে বিদেশের মাটিতে সাফল্য আসছে। এটাই হল আমার দলের সাফল্যের মূল রসায়ন। সেঞ্চুরিয়নে টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছেছেন মহম্মদ সামি। দলের এই জোরে বোলারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক কোহলি। তিনি বলেন, সামি বিশ্বমানের প্রতিভা। এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ৩ জোরে বোলারের মধ্যে ও একজন। যে কোনও উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করার দারুণ ক্ষমতা আছে। ওর শক্তিশালী কব্জি, সিমের ব্যবহার এবং ধারাবাহিকভাবে একই জায়গায় বল করার দক্ষতা সামিকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। টেস্টে ও ২০০ উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছনোর জন্য আমি খুশি। এই টেস্টেও দুর্দান্ত বোলিং করেছে।গোড়ালিতে চোটের জন্য সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের প্রথম ইনিংসে বেশ কিছুক্ষণ বোলিং করতে পারেননি যশপ্রীত বুমরা। ভারতীয় দলের কাছে এটা একটা ধাক্কা ছিল বলে মনে করেন কোহলি। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা কিছুটা সুবিধা পেয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। কোহলি বলেন, বুমরা প্রথম ইনিংসে বেশি বল করতে পারেনি। এরজন্য দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা সুবিধা পেয়ে গিয়েছিল। ওরা ৪০ রান বেশি তুলে ফেলেছিল। বুমরা যদি চোট না পেত তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ১৯৭ রানে পৌঁছতে পারত না।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India vs South Africa-Kohli : ‌ব্যাটিং বিপর্যয় ভারতের, বছরটা কেন ভাল গেল না কোহলির কাছে?‌

বছরটা একেবারেই ভাল গেল না ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলির কাছে। আইপিএল, টি২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতা, একদিনের নেতৃত্ব থেকে অপসারন। অনেকেই আশা করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে সবকিছুর যোগ্য জবাব দেবেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় রান পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ব্যর্থতা সঙ্গী। একবার জীবন পেয়েও বড় রান করতে পারলেন না ভারতীয় দলের অধিনায়ক। চলতি বছরেও সেঞ্চুরি পেলেন না কোহলি।টেস্টে বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে শেষ সেঞ্চুরি এসেছিল ২০১৯এ। তারপর থেকে আর ব্যাটে বড় রান নেই। অনেকেই ভেবেছিলেন সাদা বলের ক্রিকেটের নেতৃত্বভার কাঁধ থেকে নেমে যাওয়ায় চাপমুক্ত হয়ে মাঠে নামতে পারবেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ৩৫। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও অনেক বাইরের বল তাড়া করে আউট হলেন। দুই ইনিংসেই যেভাবে উইকেট ছুঁড়ে দিয়েছেন, তাতে তাঁর মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু কোহলিই নয়, দ্বিতীয় ইনিংসে চূড়ান্ত ব্যাটিং ব্যর্থতা ভারতের। ৫০.৩ ওভারে মাত্র ১৭৪ রানে শেষ হয়ে গেল ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। আগের দিনের ১৬/১ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে ভারত। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় রান ছিল ৩২ ওভারে ৭৯/৩। এদিন প্রথম আউট হন শার্দুল ঠাকুর (১০), তারপর লোকেশ রাহুল (২৩)। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর প্রথম বলেই আউট হন কোহলি। এরপর প্রোটিয়া বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন ভারতীয় ব্যাটারদের। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ১ ঘন্টার মধ্যে ৪টি উইকেট হারায় ভারত। চেতেশ্বর পুজারা (১৬) আবার ব্যর্থ। রাহানে (২০), অশ্বিনরা (১৪) রান পাননি। ঋষভ পন্থ (৩৪) কিছুটা লড়াই করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কাগিসো রাবাডা ৪২ রানে ৪টি, মার্কো জানসেন ৫৫ রানে ৪টি ও লুঙ্গি এনগিডি ৩১ রানে ২টি উইকেট নেন। জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য ৩০৫।

ডিসেম্বর ২৯, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal