• ১০ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Messi

কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে অরূপের রক্ষাকবচ বাড়ল, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বড় পদক্ষেপে নিষেধ! আদালতে কী হল?

মেসি-কাণ্ডে আপাতত স্বস্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তাঁর রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৭ নভেম্বর।অরূপ বিশ্বাসকে আগেই রক্ষাকবচ দিয়েছিল হাই কোর্টের একক বেঞ্চ। সেই নির্দেশই আপাতত বহাল রাখল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ। অরূপের রক্ষাকবচ বাতিলের দাবিতে শতদ্রু দত্ত যে মামলা করেছিলেন, তাতেও এখনই কোনও হস্তক্ষেপ করেনি আদালত।মঙ্গলবার শুনানিতে মেসি-কাণ্ডের তদন্ত সংক্রান্ত দুটি রিপোর্ট আদালতে জমা দেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র। তিনি জানান, তদন্তে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী সবরকম সহযোগিতা করছেন। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পুলিশ অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তদন্ত শেষ হলে চার্জশিটও জমা দেওয়া যাবে। তবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ করা যাবে না।গত ডিসেম্বর মাসে ভারতে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। তাঁকে সামনে থেকে দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক ফুটবলপ্রেমী যুবভারতীতে জড়ো হয়েছিলেন। অনেকেই মোটা টাকা খরচ করে টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যুবভারতী ছেড়ে বেরিয়ে যান মেসি। এরপর ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।সেই ঘটনার পরই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার দিন মেসির সঙ্গে একাধিক বার তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সমাজমাধ্যমে মেসির সঙ্গে অরূপের ছবি ও ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও মেসির ছবি প্রকাশ্যে আসে।অব্যবস্থার অভিযোগে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মেসির ভারত সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাব খাটিয়ে অরূপ মেসির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।এই মামলায় অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই একাধিক বার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছেন। পুলিশের তলবে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার বিষয়টিও আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত সেই কারণেই তাঁর রক্ষাকবচ বহাল থাকল বলে মনে করা হচ্ছে।এখন প্রশ্ন, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অরূপের বিরুদ্ধে কোনও কঠিন পদক্ষেপ না করার নির্দেশের পর মেসি-কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে এগোয়। আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘মেসি’ হয়ে ওঠার নেপথ্যের মানুষ আর নেই, প্রয়াত জর্জ মেসি

৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মেসির পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলেজর্জ মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, ছেলের দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও পরামর্শদাতাও ছিলেন। মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকে তাঁর পাশে ছিলেন জর্জ। ছেলের প্রতিভার উপর আস্থা রেখে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।রোজারিওতেই ছোটবেলায় ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল মেসির। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দলে খেলার সময় তাঁর প্রতিভা নজর কাড়ে। শারীরিক বৃদ্ধির জন্য হরমোনের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল মেসির। সেই পরিস্থিতিতে ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জর্জই তাঁকে নিয়ে স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বার্সেলোনায় মেসির ফুটবলজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় থেকেছেন জর্জ। মেসির পেশাদার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সাঁ জাঁ এবং ইন্টার মায়ামিমেসির ক্লাবজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।শুধু ফুটবল নয়, মেসির ব্যক্তিগত জীবনেও বাবার প্রভাব ছিল গভীর। কঠিন সময়েও জর্জ ছেলের পাশে থেকেছেন। তাই মেসির জীবনে জর্জ ছিলেন একইসঙ্গে বাবা, অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাদার প্রতিনিধি।চলতি বছর বিশ্বকাপের সময় থেকেই জর্জের অসুস্থতার খবর সামনে আসতে শুরু করেছিল। মেসিও একসময় জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা কারণে তিনি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পরে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষ হল জর্জ মেসির।মেসির ফুটবলজীবনের উত্থানের সঙ্গে জর্জের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে যে মানুষটি তাঁর পথচলার শুরু থেকে পাশে ছিলেন, তাঁর প্রয়াণে মেসির জীবনে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা। ফুটবল দুনিয়াতেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
দেশ

‘ধন্যবাদ, ভারত!’ বিশ্বকাপ হারলেও ভারতীয় সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো। সামাজিক মাধ্যম এক্স (X)-এ এক আবেগঘন বার্তায় তিনি ভারতীয় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আর্জেন্টিনা দলের প্রতি এই বিশ্বকাপ জুড়ে ভারতীয় মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আবারও ধন্যবাদ, ভারত!বিশ্বকাপে শিরোপাধারী হিসেবে অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে স্পেনের কাছে পরাজিত হয় লিওনেল মেসির দল।ম্যাচের একমাত্র এবং জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস, অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে। এই জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে স্পেন।পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে বহুবার রক্ষা করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, যিনি একাধিক দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন।Deeply grateful to the Indian People for the endless displays of support for the Argentine team during this latest World Cup. Thank you, India, once again! pic.twitter.com/kd9hmTBnON Mariano Caucino (@CaucinoMariano) July 20, 2026তবে ম্যাচের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মেসিদের।অতিরিক্ত সময়ে প্রথমে নিকো উইলিয়ামস গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই উইলিয়ামসের পাস থেকে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দেন।এই জয়ের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে নতুন নজির। একইসঙ্গে ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার আর্জেন্টিনার স্বপ্নও ভেঙে যায়।তবুও গোটা টুর্নামেন্টে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে ঘিরে ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ বরাবরের মতোই নজর কেড়েছে। সেই ভালোবাসার স্বীকৃতি দিতেই বিশ্বকাপ শেষ হতেই ভারতীয় সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা দেন রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউচিনো।বিশ্বকাপ জয় হাতছাড়া হলেও, ভারত ও আর্জেন্টিনার ফুটবল-সম্পর্ক যে আরও গভীর হয়েছে, রাষ্ট্রদূতের এই বার্তাই যেন তারই প্রমাণ।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন মেসি, আর্জেন্টিনার আবেগঘন পোস্টে কি লুকিয়ে অবসরের ইঙ্গিত?

ফাইনালে আর্জেন্টিনার হার শুধু সমর্থকদেরই হতাশ করেনি, কাঁদিয়েছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকেও। একপেশে ম্যাচে পরাজয়ের পর মাঠ ছাড়ার সময় মেসিকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নীরব অবস্থায়। তাঁর চোখে জল ছিল স্পষ্ট, কিন্তু মুখে কোনও কথা ছিল না। সাংবাদিক সম্মেলনেও তিনি হাজির হননি। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটাই কি মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ?এই জল্পনায় নতুন করে আগুন জ্বালিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন -এর একটি আবেগঘন পোস্ট। সেখানে দেখা যায়, গলায় রানার্স-আপের পদক ঝুলিয়ে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। তাঁর চোখে জল স্পষ্ট ধরা পড়েছে। সেই ছবির সঙ্গে সংস্থাটি লিখেছে, অধিনায়ক, তোমার কান্না আমাদেরও কাঁদায়। তুমি আমাদের জীবনের সেরা আনন্দ দিয়েছ। দেশের জন্য তোমার নিষ্ঠা, জাদু এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইকে সেলাম। তোমাকে সারা জীবন ভালোবাসব, লিও। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।এই বার্তাকে ঘিরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সংস্থার এই পোস্টে যেন মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ইতি টানার ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত মেসি নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেননি।এদিকে আরেকটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, আর্জেন্টিনার মাটিতে একটি বিশেষ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হতে পারে। সেই ম্যাচেই দেশের সমর্থকদের সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন মেসি। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।ফাইনালের পর মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেছেন আর্জেন্টিনার কোচ। তিনি বলেন, এখন ওর বয়স উনচল্লিশ। অবিশ্বাস্য। ওর থেকে নতুন কিছু বার করার নেই। আগেও বলেছি, আজও বলছি, মেসি যত দিন চাইবে তত দিন খেলতে পারে। সমর্থক, সতীর্থ, সবাই ওর পাশে থাকবে। ও যা অর্জন করেছে, তাতে নিঃসন্দেহে সে বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন।এখন ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে, মেসি অবসর নিয়ে মুখ খোলেন কি না। আর যদি সত্যিই দেশের মাটিতে বিদায়ী প্রীতি ম্যাচ হয়, তবে সেটিই হতে পারে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মহানায়কের নীরব প্রস্থান? অশ্রুভেজা চোখে থমকে গেল ফুটবলের মহাকাব্য

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই যেন থমকে গেল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদস্পন্দন। মাঝমাঠে একা দাঁড়িয়ে লিয়ো, যেন যুদ্ধে পরাজিত ত্রস্ত, বিদ্ধস্ত, পরিশ্রান্ত সেনানায়ক । গলায় রানার্স-আপের পদক, চোখ ভরা জল, মুখে কোনও কথা নেই। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি, তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। আর সেই নীরবতাই আরও জোরালো করে তুলেছে এক প্রশ্নআর্জেন্টিনার জার্সিতে কি এটাই ছিল লিওনেল মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ?স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের হতাশা যেমন ছিল, তার থেকেও বড় হয়ে উঠেছে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করা এই কিংবদন্তিকে এবার ফাইনালের মঞ্চে দেখা গেল চোখের জলে ভেঙে পড়তে। তাঁর সেই আবেগঘন মুহূর্ত ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।এই জল্পনার মাঝেই আবেগঘন বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন (AFA)। সংস্থার সরকারি সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, রানার্স-আপের পদক গলায় ঝুলিয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মেসি। ছবির সঙ্গে লেখা হয়েছে, অধিনায়ক, তোমার কান্না আমাদেরও কাঁদায়। তুমি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ এনে দিয়েছ। তোমার নিষ্ঠা, তোমার জাদু এবং দেশের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাকে আমরা স্যালুট জানাই। তোমাকে সারাজীবন ভালোবাসব, লিও। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ।ফেডারেশনের এই বার্তা অনেকের কাছেই বিদায়ের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা পড়েছে। যদিও মেসি নিজে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেননি, তবুও বয়সের কথা বিবেচনা করলে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাঁকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।তবে ফুটবলপ্রেমীদের আশা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, দেশের মাটিতে মেসিকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হতে পারে। সেই ম্যাচেই হয়তো নিজের দেশের সমর্থকদের সামনে শেষবারের মতো আকাশি-সাদা জার্সি পরে মাঠে নামবেন আটবারের ব্যালন ডিঅরজয়ী তারকা। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিও। ফাইনালের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, মেসির বয়স এখন ৩৯। কিন্তু ও এখনও অবিশ্বাস্য। ওর সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছিমেসি যতদিন চাইবে, ততদিন খেলবে। পুরো দল, সমর্থক এবং দেশ ওর পাশে থাকবে। আমরা সবাই ওকে নিয়ে গর্বিত। ও যা অর্জন করেছে, তা ইতিহাসে বিরল। আমার কাছে ও-ই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।একটি হার হয়তো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে, কিন্তু লিওনেল মেসির নাম ইতিমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষাতিনি কি নিজেই বিদায়ের ঘোষণা দেবেন, নাকি আরও একবার দেশের জার্সিতে মাঠে নেমে সমর্থকদের শেষ উপহার দেবেন? কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ এখন সেই উত্তর খুঁজছে।

জুলাই ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে বড় রহস্য! কোচের দুই শব্দে তোলপাড় ফুটবল দুনিয়া

বিশ্বকাপের আগে লিওনেল মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে চলেছে (Fifa World Cup)। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি শুধু খেলেনই না, নিজের নেতৃত্বে আর্জেন্টিনাকে আরও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে আনেন। এবার নতুন প্রশ্ন, স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল কি দেশের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ?ফাইনালের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির কাছে এই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। তবে তিনি সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। শুধু বলেন, লিওকে জিজ্ঞাসা করুন। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে ফুটবল মহলে (Fifa World Cup)।এরপর অবশ্য মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্কালোনি। তাঁর কথায়, মেসি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব। স্কালোনি বলেন, যতদিন মেসি মাঠে আছেন, ততদিন তাঁর খেলা উপভোগ করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এই দলের সঙ্গে মেসি যা অর্জন করেছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Fifa World Cup)।ফাইনালের আগে প্রতিযোগিতার সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তাঁর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর পর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দুপুরের গরমে অনুশীলনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দলের প্রস্তুতিতে সমস্যা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। স্কালোনির মতে, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলেও বাস্তবে উল্টো পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।এদিকে, ব্রাজিলের কাফুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছেন মেসি। ফাইনালের আগে চাপ অনুভব করছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আগের বিশ্বকাপ ফাইনাল এখন অতীত। সেই স্মৃতি নিয়ে আর ভাবছেন না তিনি। বরং দলকে নিয়ে নতুন লড়াইয়ের দিকেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন। মেসির বিশ্বাস, ফুটবল সবসময় উপভোগ করার খেলা। ছোটবেলার মতো আজও সেই আনন্দ নিয়েই তিনি মাঠে নামতে চান।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘লিও, দয়া করে থেকো…’ মেসির উদ্দেশে ১৫ বছরের এনজোর আবেগঘন চিঠি ফের ভাইরাল, বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

স্পোর্টস ডেস্ক | জনতার কথা২০১৬ সালে লিওনেল মেসিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল না ছাড়ার অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠি ফের ভাইরাল।২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই সময় গোটা আর্জেন্টিনার মতোই ভেঙে পড়েছিলেন এক কিশোর ফুটবলারএনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নিজের ফুটবল-আইডল মেসিকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন। দশ বছর পর, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সেই চিঠিই আবার ভাইরাল হয়েছে।চিঠিতে এনজো লিখেছিলেন, লিও, দয়া করে থেকে যাও। আমাদের ক্ষমা করে দাও। খেলাটা শুধু আনন্দের জন্য খেলো। তুমি আমাদের অসীম আনন্দ দিয়েছ। তোমার মতো কাউকে আর কখনও পাব না। সেই সময় তিনি অনুরোধ করেছিলেন, সমালোচকদের জন্য নয়, বরং কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের জন্য যেন মেসি জাতীয় দলে থেকে যান।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তভাগ্যের কী আশ্চর্য পরিহাস! যে কিশোর একদিন মেসিকে অবসর না নিতে অনুরোধ করেছিল, আজ সেই এনজোই আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম স্তম্ভ। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে ফাইনালে তুলেছেন এনজো। এখন দুজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।মেসি শেষ পর্যন্ত অবসরের সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন। এরপর আর্জেন্টিনা জেতে কোপা আমেরিকা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং আরও একাধিক আন্তর্জাতিক সাফল্য। সেই ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন এনজো ফার্নান্দেজও। ফলে ২০১৬ সালের সেই আবেগময় চিঠি এখন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে শুধুই একটি পোস্ট নয়, বরং স্বপ্ন, বিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ফাইনালে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই, সামনে এল চমকপ্রদ কারণ

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে রবিবার স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই মহারণে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তবে সবার নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সিদ্ধান্ত।ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও তিনি বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না।কুসংস্কারই সিদ্ধান্তের মূল কারণআর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মিলেই বিশ্বাস করেন যে তিনি যেভাবে পুরো বিশ্বকাপ চলাকালীন বুয়েনস আইরেসের সরকারি বাসভবন থেকেই প্রতিটি ম্যাচ দেখেছেন, সেই রীতি ভাঙলে দলের ভাগ্যে প্রভাব পড়তে পারে।তিনি নিজের এই ম্যাচ-ডে রুটিনকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। এমনকি একটি নির্দিষ্ট জ্যাকেটও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরেন, যা তাঁর বিশ্বাস অনুযায়ী আর্জেন্টিনার জন্য শুভ। তাই ফাইনালের মতো ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে সেই অভ্যাস বদলাতে নারাজ তিনি।আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে কাবালাআর্জেন্টিনায় ফুটবলকে ঘিরে কাবালা (Cbala) বা সৌভাগ্যের কুসংস্কার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন।আরও পড়ুনঃ ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথম! বিশ্বকাপজয়ী দলকে ট্রফির সঙ্গে দেওয়া হবে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং, ফিফার নজিরবিহীন সিদ্ধান্তবিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট মিলেইও সেই সংস্কৃতিরই অংশ। তাঁর বিশ্বাস, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলবেন, ততক্ষণ আর্জেন্টিনার সৌভাগ্য অটুট থাকবে।ঐতিহাসিক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বরবিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা।বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর এখন এই মহারণের দিকে। আর সেই সময় দেশের প্রেসিডেন্ট মাঠে না থাকলেও, নিজের লাকি রুটিন বজায় রেখে টেলিভিশনের সামনে থেকেই দলের জন্য শুভকামনা জানাবেন হাভিয়ের মিলেই।

জুলাই ১৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'বোতলবন্দী' পেনেল্টি রহস্য! পিকফোর্ডের ‘গোপন অস্ত্র’ মেসিদের হাতে! ইংল্যান্ড গোলকিপারের জলের বোতলে মিলল আর্জেন্টিনার সব পেনাল্টি শুটারের নোট

ছোটবেলায় পারস্যের রহস্য-রোমাঞ্চের গল্পে পড়া যেত রাজা-রানির প্রাণভোমরা নাকি বন্দি থাকত একটি বোতলে। সেই বোতল এমন গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হতো, যাতে শত্রুরা কোনওভাবেই তার নাগাল না পায়। শতাব্দী পেরিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যেন সেই বোতলবন্দি রহস্য-রই আধুনিক সংস্করণ দেখা গেল। তবে এখানে প্রাণভোমরা নয়, বোতলের গায়ে বন্দি ছিল ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের সবচেয়ে গোপন অস্ত্র আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিটি পেনাল্টি শুটারের বিরুদ্ধে তৈরি করা বিস্তারিত পরিকল্পনা।বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে সম্ভাব্য টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে নিজের জলের বোতলেই একটি চিট শিট সাঁটিয়ে রেখেছিলেন পিকফোর্ড। সেখানে লেখা ছিল আর্জেন্টিনার প্রতিটি সম্ভাব্য পেনাল্টি শুটারের অভ্যাস, কে কোন দিকে শট নিতে পারেন এবং কোন কৌশলে ঝাঁপ দিলে বল আটকানোর সম্ভাবনা বেশি।কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, ম্যাচ গড়ায়ইনি টাইব্রেকারে। নির্ধারিত সময়েই আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে যায়। আর ম্যাচ শেষে সেই গোপন অস্ত্রই চলে আসে লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থদের হাতে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পিকফোর্ডের জলের বোতল হাতে নিয়ে মেসি ও একাধিক আর্জেন্টাইন ফুটবলার কৌতূহল নিয়ে সেটি পরীক্ষা করছেন। বোতলের গায়ে ইংরেজিতে লেখা ছিল বিভিন্ন ফুটবলারের পেনাল্টি নেওয়ার প্রবণতা এবং কোন দিকে ঝাঁপ দিলে বল আটকানোর সম্ভাবনা বেশি।ভাইরাল ছবিটিতে দেখা যায়, মেসির নামের পাশে লেখা Fake left, dive right, অর্থাৎ প্রথমে বাঁ দিকে যাওয়ার ভান করে পরে ডান দিকে ঝাঁপ দেওয়ার পরামর্শ। এনজো ফার্নান্দেজের ক্ষেত্রে লেখা ছিল Stand central, আর থিয়াগো আলমাদার জন্য উল্লেখ ছিল Feel on the day, অর্থাৎ ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ।যদিও এই পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়নের সুযোগই পাননি পিকফোর্ড, তবু ম্যাচ শেষে তাঁর সেই বোতলবন্দি কৌশল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আধুনিক ফুটবলে প্রতিপক্ষের প্রতিটি খেলোয়াড়ের অভ্যাস বিশ্লেষণ করে এমন তথ্যভান্ডার তৈরি করা এখন বড় দলগুলির নিয়মিত প্রস্তুতির অংশ। কিন্তু সেই গোপন নথি প্রতিপক্ষের হাতেই চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত।এই প্রসঙ্গে বাংলা সাহিত্যের রসিক সম্রাট দাদাঠাকুর শরৎচন্দ্র পণ্ডিতর বিখ্যাত বোতল পুরাণ-এর কথা মনে পড়তেই পারে। সেখানে বোতলকে ঘিরে ছিল ব্যঙ্গ, হাস্যরস আর সমাজের নানা চরিত্রের কৌতুকপূর্ণ উপস্থাপনা। আর কাতারের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও যেন আর এক বোতল পুরাণ-এর জন্ম দিলেন জর্ডান পিকফোর্ড। পার্থক্য শুধু একটাই দাদাঠাকুরের বোতলে ছিল রসিকতার নেশা, আর পিকফোর্ডের বোতলে বন্দি ছিল ডেটা অ্যানালিটিক্স, কৌশল আর প্রতিপক্ষকে হারানোর স্বপ্ন!শেষ পর্যন্ত সেই বোতল পুরাণ-এর পরিণতিও কম মজার নয়। যে বোতল লুকিয়ে রাখার কথা ছিল ইংল্যান্ডের সবচেয়ে গোপন পরিকল্পনা, সেটিই ম্যাচ শেষে হাতে নিয়ে পড়ছেন লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থরা! যেন পারস্যের সেই প্রাণভোমরার বোতল শেষমেশ শত্রুর হাতেই ধরা পড়েছে। পার্থক্য শুধু এটুকুই এখানে রাজ্য হারায়নি ইংল্যান্ড, কিন্তু ফাইনালে ওঠার স্বপ্নটা যে সেই বোতলের সঙ্গেই বোতলবন্দি হয়ে রইল, তা বলাই যায়।এবার বিশ্বকাপের শিরোপার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে স্পেন। তবে সেমিফাইনালের এই বোতল রহস্য এবং বোতল পুরাণ ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে বহুদিন রয়ে যাবে কারণ বিশ্বকাপে ট্রফির লড়াইয়ের পাশাপাশি, কখনও কখনও একটি সাধারণ জলের বোতলও হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় গল্প।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ইংল্যান্ডকে হারিয়েই মাঠে যুদ্ধের বার্তা! আর্জেন্টিনার কাণ্ডে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়, শাস্তির মুখে মেসির দল?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর ফুটবলের চেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে মাঠের এক বিতর্কিত ঘটনাকে ঘিরে। জয়ের আনন্দে আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার হাতে মাঠে উদযাপন করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার জেরে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছুক্ষণ দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাও চলে। সেই সময়ই আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার একটি ব্যানার হাতে মাঠে নামেন। সেখানে লেখা ছিল, মালভিনাস আমাদেরই। আর্জেন্টিনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে মালভিনাস নামে ডাকা হয়। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতেও একই স্লোগান ও ব্যানার দেখা গিয়েছিল।ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আর্জেন্টিনা বহু বছর ধরে সেটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই বিরোধ থেকেই উনিশশো বিরাশিতে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে আর্জেন্টিনা পরাজিত হয় এবং দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের হাতেই থেকে যায়। সেই যুদ্ধে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি ফুটবল ইতিহাসেও জড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের কয়েক বছর পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেই আবেগ এখনও আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে গভীরভাবে রয়ে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।তবে এবার মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা সমস্যায় পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী খেলার মাঠে কোনও রাজনৈতিক বা ভূখণ্ড সংক্রান্ত বার্তা প্রকাশ করা যায় না। তাই ফিফা এই ঘটনার তদন্ত করে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির 'হাঁটা' কি অলসতা, নাকি ২০ মিনিটের ঝড়ের প্রস্তুতি? পরিসংখ্যান যা বলছে

লিওনেল মেসিকে নিয়ে একটি প্রশ্ন বহু বছর ধরেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ঘুরপাক খায়। ম্যাচের প্রথম ১০-১৫ মিনিটের পর কেন যেন তিনি নিজেকে আড়াল করে ফেলেন। ডেড বল, ফ্রি-কিক কিংবা কর্নার ছাড়া অনেক সময় তাঁকে বলের আশপাশেও দেখা যায় না। দেখে মনে হয়, তিনি যেন ক্লান্ত। কিন্তু ম্যাচের শেষ ১৫-২০ মিনিটে যেন সম্পূর্ণ অন্য এক মেসির আবির্ভাব ঘটে। প্রতি আক্রমণের কেন্দ্রে তিনিই, কখনও নিজে গোল করছেন, কখনও এমন নিখুঁত পাস দিচ্ছেন, যেখান থেকে গোল করতে না পারাটাই অপরাধ।তাহলে কি এটি কেবল কাকতালীয়, নাকি মেসির দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত খেলার ধরন?আধুনিক ফুটবল বিশ্লেষণ বলছে, এটি অনেকাংশেই একটি সচেতন কৌশল।মেসির খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ইকোনমি অব মুভমেন্টঅর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় দৌড় কমিয়ে, প্রয়োজনের সময় সর্বোচ্চ কার্যকারিতা দেখানো। তিনি এমন একজন ফুটবলার, যিনি পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিটি মুহূর্তে দৌড়ানোর চেয়ে ম্যাচ পড়তে বেশি সময় ব্যয় করেন। কোথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে, কোন ডিফেন্ডার অবস্থান হারাচ্ছে, কোন মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে পড়তে পারেএসব পর্যবেক্ষণই যেন তাঁর আসল কাজ।এই কারণেই অনেক সময় মনে হয় তিনি হাঁটছেন। বাস্তবে তিনি খেলা পড়ছেন।পরিসংখ্যান কী বলছে?ফিফার ট্র্যাকিং ডেটা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ এবং স্পোর্টস অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মেসি একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচে গড়ে প্রায় ৭ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেন। যেখানে অনেক মিডফিল্ডার বা ফুলব্যাক ১১ থেকে ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ান।অর্থাৎ, মেসি তুলনামূলকভাবে কম দৌড়ান।বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ম্যাচের বড় একটি অংশ তিনি হালকা হাঁটা বা ধীর গতিতে চলাফেরা করেন। কিছু গবেষণায় দেখা যায়, ম্যাচের প্রায় ৭০ শতাংশ সময়ই তিনি হাঁটা বা খুব ধীর গতিতে অবস্থান পরিবর্তন করেন। কিন্তু এই সময়টাতেই তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করেন।একটি বিখ্যাত বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছিল, মেসি বল ছাড়া থাকার সময়ও প্রতিপক্ষের চারজন ডিফেন্ডারের অবস্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে সঠিক মুহূর্ত এলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের বিস্ফোরণেই পুরো ডিফেন্স ভেঙে ফেলতে পারেন।কেন শেষ ২০ মিনিটে বদলে যান?ফুটবল ম্যাচের শেষ ১৫-২০ মিনিট সাধারণত সবচেয়ে ক্লান্তিকর সময়। তখন ডিফেন্ডারদের মনোযোগ কমে যায়, দৌড়ানোর সক্ষমতা কমে এবং পজিশনিংয়ে ভুল বাড়ে।ঠিক এই সময়েই মেসি নিজের জমিয়ে রাখা শক্তি ব্যবহার করেন।পুরো ম্যাচে যেখানে তিনি অপ্রয়োজনীয় স্প্রিন্ট এড়িয়ে গেছেন, সেখানে শেষ দিকে হঠাৎ করে ছোট ছোট বিস্ফোরক দৌড়, ওয়ান-টু পাস, ড্রিবল কিংবা থ্রু বল দিয়ে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেন।এ কারণেই ম্যাচের শেষ দিকে প্রায় প্রতিটি আক্রমণে তাঁকে দেখা যায়। শুধু শক্তি বাঁচানো নয়, প্রতিপক্ষকেও বিভ্রান্ত করা।মেসির হাঁটা শুধুই শক্তি সঞ্চয় নয়, এটি প্রতিপক্ষের জন্যও একটি মানসিক ফাঁদ।ডিফেন্ডাররা যখন দেখেন তিনি অনেকক্ষণ নিষ্ক্রিয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনোযোগ কিছুটা অন্যদিকে সরে যায়। কেউ কেউ লাইন ভেঙে এগিয়ে আসেন, কেউ পজিশন হারান।মেসি ঠিক সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় থাকেন। মাত্র একটি পাস, একটি টার্ন কিংবা একটি ড্রিবলেই তিনি পুরো ডিফেন্সকে অচল করে দিতে পারেন। বল পায়ে সময় কম, প্রভাব সবচেয়ে বেশি, মেসি পুরো ম্যাচে খুব বেশি সময় বল নিজের কাছে রাখেন না।আধুনিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি ম্যাচে তিনি মোট সময়ের খুব অল্প অংশসাধারণত কয়েক মিনিটেরও কমবল নিয়ন্ত্রণে রাখেন। কিন্তু সেই স্বল্প সময়েই তিনি ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেন। একটি থ্রু পাস, একটি কাটব্যাক, একটি ডিফেন্স-ভাঙা পাস কিংবা একটি ফিনিশএসবই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।অর্থাৎ, মেসির খেলার মূল দর্শন হলো কম স্পর্শে সর্বোচ্চ প্রভাব।বয়সও বদলে দিয়েছে তাঁর ভূমিকা২০ বছর বয়সী মেসি এবং বর্তমান মেসির মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য এখানেই। আগে তিনি পুরো মাঠজুড়ে দৌড়াতেন। এখন তিনি দৌড়ান বেছে বেছে। ৩৫ বছর পার করার পর থেকে তাঁর খেলার ধরনে শক্তি ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, কম দৌড়েও ম্যাচে তাঁর প্রভাব কমেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। কারণ এখন তিনি গতি নয়, সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেন।তাহলে কি মেসি ইচ্ছা করেই ম্যাচ স্লো করেন?এর সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে ম্যাচ বিশ্লেষণ, ট্র্যাকিং ডেটা এবং দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ থেকে বলা যায়, মেসি সচেতনভাবেই নিজের শক্তি সংরক্ষণ করেন, অপ্রয়োজনীয় দৌড় এড়িয়ে যান এবং সঠিক মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেন।তাই ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টায় তাঁকে যতটা শান্ত দেখা যায়, শেষ ২০ মিনিটে ঠিক ততটাই ভয়ংকর হয়ে ওঠেন।হয়তো এ কারণেই ফুটবলবিশ্বে একটি কথা বারবার শোনা যায়মেসি হাঁটছেন মানেই তিনি খেলার বাইরে নন; বরং তিনি পরের আঘাতের পরিকল্পনা করছেন।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসিকে আটকে রেখেও রক্ষা পেল না ইংল্যান্ড! স্কালোনির মাস্টারস্ট্রোকে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা, টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলেই ভাঙল স্বপ্ন

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। গোল না করেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন লিওনেল মেসি। স্কালোনির আক্রমণাত্মক পরিবর্তন ও টমাস টুখেলের রক্ষণাত্মক কৌশলই গড়ে দিল ম্যাচের ভাগ্য।বিশ্বকাপের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, লিওনেল মেসিকে আটকে দিতে পারলেই আর্জেন্টিনাকে থামানো সম্ভবএই ধারণা অনেক দলেরই ছিল। কিন্তু বর্তমান আর্জেন্টিনা সেই ধারণাকে একেবারে ভুল প্রমাণ করে দিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসিকে কার্যত গোলশূন্য রেখেও ২-১ ব্যবধানে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল লিওনেল স্কালোনির দল।এই ম্যাচ শুধু একটি জয় নয়, বরং আর্জেন্টিনার দলগত শক্তি, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং মানসিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।মেসিকে আটকে রাখার পরিকল্পনা সফল, তবুও হার ইংল্যান্ডেরম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল স্পষ্টমেসিকে যতটা সম্ভব খেলার বাইরে রাখা। মাঝমাঠে জায়গা না দিয়ে একাধিক ফুটবলারকে তাঁর উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে গোটা ম্যাচে খুব কমবারই ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে পেরেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।তবে মেসি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আক্রমণের নতুন রাস্তা খুলে দেন। গোল করতে না পারলেও ম্যাচের দুই গোলের সূচনায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।মেসি নয়, দলই আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তিএই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আর্জেন্টিনার মানসিকতায়। আগে দলের প্রায় সব আক্রমণ মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও এখন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজদের মতো ফুটবলাররা।৮৪ মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরে। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় আর্জেন্টিনার হাতে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই মেসির নিখুঁত ক্রসে অসাধারণ হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।খাতায়-কলমে দুটি অ্যাসিস্ট মেসির হলেও গোল দুটির কৃতিত্ব সমানভাবে প্রাপ্য গোলদাতাদের। এই সমষ্টিগত শক্তিই বর্তমান আর্জেন্টিনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।স্কালোনির সাহসী সিদ্ধান্ত বদলে দিল ম্যাচপ্রথম এক ঘণ্টা পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবলে বারবার সমস্যায় পড়ছিল আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ।কিন্তু গোল হজম করার পরেও স্কালোনি ভয় পাননি। বরং আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন। রক্ষণভাগ থেকে একজন ফুটবলার তুলে অতিরিক্ত স্ট্রাইকার নামিয়ে দেন। ফলে ইংল্যান্ডের বক্সে ক্রমাগত চাপ তৈরি হতে থাকে।স্কালোনির এই সাহসী সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।টুখেলের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক মানসিকতাই কাল হলোইংল্যান্ডের হারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে কোচ টমাস টুখেলের কৌশলগত ভুল।গোল করার পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার বদলে তিনি দলকে প্রায় পুরোপুরি নিজেদের অর্ধে নামিয়ে আনেন। অতিরিক্ত ডিফেন্ডার নামিয়ে ৫-৪-১ ফরমেশনে চলে যান। এমনকি হ্যারি কেনকেও রক্ষণ সামলাতে দেখা যায়।এই সিদ্ধান্তের ফলে ইংল্যান্ডের আক্রমণ পুরোপুরি থেমে যায়। বলের দখল, ম্যাচের গতি এবং আত্মবিশ্বাসসবকিছুই ধীরে ধীরে আর্জেন্টিনার দিকে চলে যেতে থাকে।আধুনিক ফুটবলে এক গোলের ব্যবধান কখনও নিরাপদ নয়। অথচ দ্বিতীয় গোলের খোঁজে না গিয়ে শুধুমাত্র লিড ধরে রাখার চেষ্টা করেই বড় মূল্য চুকাতে হলো টুখেলকে।ফাইনালের আগে বড় বার্তা দিল আর্জেন্টিনাম্যাচ শেষে সেন্টার সার্কেলে হাঁটু গেড়ে বসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন লিওনেল মেসি। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে উদযাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্য যেন একটি বার্তাই দেয়এই দল শুধু একজন সুপারস্টারের নয়, বরং ১১ জনের সম্মিলিত লড়াইয়ের প্রতীক।মেসি গোল না করলেও আর্জেন্টিনা জিততে পারেএই বিশ্বাস এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বে একের পর এক ম্যাচে বিভিন্ন ফুটবলার দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়েছেন। সেমিফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, বরং প্রতিপক্ষের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তামেসিকে আটকালেই আর্জেন্টিনাকে থামানো যাবে, সেই ধারণার দিন শেষ।

জুলাই ১৬, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

১৩ মিনিটে মহাকাব্য! মৃত্যুকূপ থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুললেন মেসি, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা

এভাবেও ফিরে আসা যায়?প্রথমার্ধেই পেনাল্টি নষ্ট। তারপর যেন কিছুই ঠিক হচ্ছিল না। আক্রমণে ছন্দ নেই, মাঝমাঠে সংযোগ নেই, রক্ষণে একের পর এক ভুল। আর সেই সুযোগে পিরামিডের মতো অটল রক্ষণ গড়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল হতাশা। মাঠে যেন দিশেহারা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, নির্বাক লিওনেল মেসি।কিন্তু মহান দলগুলোর পরিচয়ই হলতারা শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত হারে না।খেলা শেষ হতে আর মাত্র ১৩ মিনিট বাকি। ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ! বদলে গেল ম্যাচের গতি, বদলে গেল ইতিহাসের খাতা। মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে ভেঙে পড়ল মিশরের অদম্য রক্ষণ। মাত্র ১৩ মিনিটে তিন গোল! ২-০ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আর্জেন্টিনার।যে ম্যাচে ৭৭ মিনিট পর্যন্ত লেখা হচ্ছিল পরাজয়ের কাহিনি, শেষ ১৩ মিনিটে সেটাই হয়ে উঠল প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য। পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ, ২ গোলের পিছিয়ে পড়া, ছন্দহীন ফুটবলসবকিছু ঢেকে দিল এক দুর্দান্ত জয়।ফুটবল আবারও মনে করিয়ে দিলশেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত কোনও ম্যাচ শেষ হয় না। আর মাঠে যখন মেসি থাকেন, তখন অসম্ভবও কখনও কখনও ইতিহাস হয়ে ওঠে।বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন প্রত্যাবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। একসময় মনে হচ্ছিল, লিয়োনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হতে চলেছে। ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ছিল কার্যত বিদায়ের দোরগোড়ায়। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে যাঁদের নাম কিংবদন্তির অক্ষরে লেখা থাকে, তাঁরা সংকটের মুহূর্তেই নিজেদের প্রকৃত পরিচয় দেন। সেই কাজটাই করলেন লিয়োনেল মেসি। মাত্র ১৩ মিনিটের বিস্ফোরক ফুটবলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে ৩-২ ব্যবধানে লড়াকু মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা।তবে এই জয় যতটা আনন্দের, ততটাই সতর্কবার্তাও। কারণ স্কোরলাইন জয় দেখালেও পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল ছিল উদ্বেগজনক। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর মিশরের বিপক্ষেও আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণতিন বিভাগেই একের পর এক ভুল ধরা পড়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই ফুটবল ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।প্রথমার্ধ থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মিশর। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক এবং মোহাম্মদ সালাহদের তীক্ষ্ণ পাসিংয়ে বারবার বিপাকে পড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দল। এমনকি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) হস্তক্ষেপ না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।অন্যদিকে মাঝমাঠেও দেখা যায় অদ্ভুত নিষ্প্রভতা। রদ্রিগো ডি পল কিংবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো ফুটবলাররা প্রত্যাশামতো খেলতে পারেননি। সামনের দিকে সৃজনশীল পাসের বদলে নিরাপদ ব্যাকপাস বা স্কোয়ার পাসেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তাঁরা। ফলে বল তৈরি করার দায়িত্বও এসে পড়ে মেসির কাঁধে। মাঝমাঠ থেকে নেমে বল সংগ্রহ করে আবার আক্রমণে উঠতে হচ্ছিল তাঁকেই।এর মধ্যেই সহজ একটি পেনাল্টি নষ্ট করেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। কিছুক্ষণ পর একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৭০ মিনিট পর্যন্ত তিনজন ডিফেন্ডারের কড়া নজরে প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। মনে হচ্ছিল, এ দিন হয়তো মেসির জাদুও কাজ করবে না।কিন্তু ৭৩ মিনিটে বদলে যায় পুরো ছবিটা। মাঝখান ছেড়ে ডান প্রান্তে সরে যান মেসি। সেই কৌশলগত পরিবর্তনই যেন ভেঙে দেয় মিশরের রক্ষণভাগ।৭৯ মিনিটে ডান দিক থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর আবার মেসির পা থেকেই আসে সমতা ফেরানোর গোল। নিজের তৈরি করা আক্রমণ শেষ করেন নিজেই, ফিরতি বলে জোরালো শটে জালে বল জড়িয়ে।ম্যাচ তখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে আবারও ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠে। লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৩ মিনিটে তিনটি গোল করে অসম্ভবকে সম্ভব করে আর্জেন্টিনা।শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগে ভেঙে পড়েন মেসি। চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি তিনি। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন, আর তাঁরাও অধিনায়ককে কাঁধে তুলে উদ্যাপনে মেতে ওঠেন। সেই দৃশ্যই বুঝিয়ে দেয়, এই জয় শুধুমাত্র একটি ম্যাচ জেতা নয়এটি ছিল বিশ্বকাপে বেঁচে থাকার লড়াই।পরিসংখ্যানও বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও ০-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে জয় পায়নি আর্জেন্টিনা। এমনকি ড্রও করতে পারেনি। সেই ইতিহাস বদলে দিলেন মেসি ও তাঁর দল। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি আলবিসেলেস্তেদের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন হিসেবে জায়গা করে নিল।তবে এই নাটকীয় জয় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট এনে দিলেও সব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। বরং নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলো। রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব, মাঝমাঠে সৃজনশীলতার সংকট এবং আক্রমণে অতিরিক্ত মেসি-নির্ভরতাএসব সমস্যা দ্রুত মেটাতে না পারলে ফ্রান্স, স্পেন বা অন্য শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিপদ আরও বাড়বে।মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু একজন মেসি নয়, প্রয়োজন গোটা দলের সমান লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সেই কঠিন পরীক্ষার মুখেই দাঁড়িয়ে লিয়োনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।

জুলাই ০৮, ২০২৬
কলকাতা

মেসি বিতর্কে ফের চাপে অরূপ! পুলিশের নতুন নোটিসে বাড়ল জল্পনা

মেসি-সংক্রান্ত বিতর্কে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উপর চাপ আরও বাড়ল। মামলার তদন্তে তাঁকে ফের তলব করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগামী সাত জুলাই সকাল এগারোটার মধ্যে থানায় হাজির থাকার নির্দেশ দিয়ে নতুন নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর আগে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশ মেনে আঠারো জুন প্রথমবার থানায় হাজিরা দেন। এরপর বাইশ জুনও তদন্তে সহযোগিতা করতে থানায় গিয়েছিলেন তিনি।গত বছরের ডিসেম্বর মাসে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। সেই ঘটনার পর থেকেই তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, আর্থিক প্রতারণা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক বিষয়ের উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।অরূপ বিশ্বাসকে একাধিকবার থানায় হাজিরার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি প্রথমে হাজির হননি। পরে বিষয়টি কলকাতা উচ্চ আদালতে পৌঁছায়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুলিশের ডাকা নির্ধারিত দিনে তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, হাজিরার অন্তত আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে এবং তদন্তে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না।যদিও আদালত প্রাক্তন মন্ত্রীর জন্য অন্তর্বর্তী সুরক্ষাও দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সতেরো অগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্ত চলবে স্বাভাবিক নিয়মেই।এই মামলার তদন্ত চলাকালীন অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। থানায় হাজিরা দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যেতে দেখা যায়। পরে নতুন কমিটিতে তাঁকে সহ-সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হয়।

জুলাই ০৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মারাদোনার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের শিখরে মেসি! গোলেও একের পর এক নজির

বয়স যত বাড়ছে, ততই যেন নতুন নতুন ইতিহাস লিখে চলেছেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের দুরন্ত ফর্ম অব্যাহত। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুধু দলকে জেতাতেই বড় ভূমিকা নেননি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন একটি রেকর্ড গড়েছেন, যা এতদিন ছিল আর্জেন্টিনার আর এক কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার দখলে।ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড় করালেন ৯-এ। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক অ্যাসিস্টের মালিক এখন এককভাবে লিওনেল মেসি। এতদিন ৮টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল দিয়েগো মারাদোনার নামে। সেই নজির ভেঙে আরও একবার নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে ফেললেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।গোল করাতেও অতুলনীয় মেসিফুটবল বিশ্বে মেসিকে সাধারণত অসাধারণ গোলদাতা হিসেবেই বেশি চেনা হয়। তবে তাঁর খেলার অন্যতম বড় শক্তি হল সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। নিখুঁত পাস, অসাধারণ ভিশন এবং ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকারেও পরিণত করেছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই দক্ষতারই আরও একটি উজ্জ্বল প্রমাণ মিলল।বিশ্বকাপে ৯টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড শুধু তাঁর ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরও প্রতীক।গোলেও নতুন মাইলফলকঅ্যাসিস্টের পাশাপাশি গোল করেও ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের বাড়ানো বল থেকে দুরন্ত ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে তাঁর ২০তম গোল।এই গোলের সুবাদে আরও একটি অনন্য নজির গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। শুধু তাই নয়, দুটি পৃথক বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নিজের নাম লেখান মেসি।গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই সাতটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসি। তবে লড়াই এখনও শেষ হয়নি। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপে ছয় গোল করে খুব কাছেই রয়েছেন। ফলে টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই জমে উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার প্রতিযোগিতা।নাটকীয় লড়াইয়ের শেষে আর্জেন্টিনার জয়কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলই ২-২ গোলে সমতায় ছিল। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় এক আত্মঘাতী গোলে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির নেওয়া একটি শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনে বোরজেস নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন। সেই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।এই জয়ের সুবাদে লিওনেল স্কালোনির দল নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট। আর ব্যক্তিগতভাবে লিওনেল মেসি আরও একবার প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু গোল করার জন্যই নন, দলের আক্রমণ গড়ে তোলা এবং ইতিহাস সৃষ্টিদুই ক্ষেত্রেই অনন্য। প্রতিটি ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি যেন নিজের কিংবদন্তিকে আরও সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

'কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক?' আর্জেন্টিনার জয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের বন্যা, ভবিষ্যদ্বাণী উল্টে দিল লা অ্যালবিসেলেস্তে

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই চমক, নাটকীয়তা আর নানান ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী। কখনও অক্টোপাসের ভবিষ্যদ্বাণী, কখনও আবার কার্টুন সিরিজ The Simpsons-এর কাকতালীয় মিলপ্রতিটি বিশ্বকাপেই এমন নানা ঘটনা ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। তবে এবার সবকিছুকে ছাপিয়ে ভাইরাল হয়ে ওঠেন ঘানার এক স্বঘোষিত তান্ত্রিক।বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে তিনি দাবি করেছিলেন, লিওনেল মেসিদের দল নাকি কেপ ভার্দের কাছেই আটকে যাবে এবং প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে পারবে না। তাঁর এই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কেউ সেটিকে নিছক বিনোদন হিসেবে নিলেও, অনেকেই আবার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হবে বলেই ধরে নিয়েছিলেন।কিন্তু মাঠে নেমে সব হিসেবই বদলে দেয় আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট ধরে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-তে জায়গা নিশ্চিত করে লা অ্যালবিসেলেস্তে। কঠিন লড়াইয়ের পর পাওয়া এই জয় শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকদেরই উচ্ছ্বসিত করেনি, একইসঙ্গে ঘানার সেই তান্ত্রিকের দাবিকেও সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করেছে।আর্জেন্টিনার জয়ের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে হাস্যরসের ঝড়। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইনস্টাগ্রামসব জায়গাতেই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, কোথায় গেল ঘানার সেই তান্ত্রিক? কেউ লিখছেন, ধরে আন ব্যাটাকে! আবার কেউ মিম বানিয়ে দেখাচ্ছেন, ভবিষ্যদ্বাণী ব্যর্থ হতেই তিনি নাকি গায়েব হয়ে গিয়েছেন। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মিম এবং ট্রোল ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়।ঘটনার মজার দিক আরও একটি। যে ঘানার তান্ত্রিক আর্জেন্টিনার বিদায়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেই ঘানার দলই শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়। ফলে সমর্থকদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছেন, অন্যের ভাগ্য গণনা করতে গিয়ে নিজের দলের ভবিষ্যৎই দেখতে পেলেন না!ফুটবল যে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনও ফলাফল মেনে নেয় না, আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচ যেন তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কুসংস্কার, অলৌকিক দাবি কিংবা ভাইরাল ভবিষ্যদ্বাণীর চেয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াই, কৌশল এবং ফুটবল দক্ষতাই যে আসল কথাতা আরও একবার প্রমাণ করলেন মেসিরা।এখন শেষ ১৬-র লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর। তবে এই মুহূর্তে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় একটাইঘানার সেই তান্ত্রিক এখন

জুলাই ০৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির জন্য শতবর্ষী বৃদ্ধার উন্মাদনা! গ্যালারিতে যা করলেন, মুহূর্তে ভাইরাল

লিওনেল মেসির ভক্তের সংখ্যা যে কতটা বিশাল, তার নতুন প্রমাণ মিলল বিশ্বকাপের মঞ্চে। বয়স যেখানে অনেকের কাছে সীমাবদ্ধতা, সেখানে একশো বছর বয়সেও প্রিয় ফুটবলারের খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে সকলকে চমকে দিলেন এক বৃদ্ধা। ডালাসের গ্যালারিতে তাঁর উপস্থিতিই এখন সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে বসেছিলেন একশো বছর বয়সি পউলিনে কানা। ধবধবে সাদা চুল, গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি আর হাতে একটি প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল, তিনি একশো বছর বয়সি মেসি-ভক্ত। সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।তবে পউলিনে শুধু মেসির ভক্ত হিসেবেই পরিচিত নন। সামাজিক মাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। নাতির সঙ্গে মজার ভিডিও বানিয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। বহু বছর ধরেই তিনি অনলাইনে জনপ্রিয়। তাঁর নাম রয়েছে বিশ্বরেকর্ডের তালিকাতেও। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেসির প্রতি তাঁর ভালোবাসাই তাঁকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।এর আগেও মেসির খেলা দেখতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন তিনি। তখন একটি পোস্টারে মজার ছলে লিখেছিলেন, মেসি, তুমি কি আমায় বিয়ে করবে? সেই ছবিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। এবারও ব্যতিক্রম হল না। বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।অন্যদিকে মাঠেও ছিল মেসি-ম্যাজিক। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করলেও পরে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। প্রথম গোলটি আসে দুর্দান্ত ফিনিশে, যা গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, যা আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।এই জোড়া গোলের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন মেসি। ফলে একদিকে মাঠে ইতিহাস, অন্যদিকে গ্যালারিতে একশো বছর বয়সি ভক্তের আবেগ সব মিলিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বলছেন, মেসির আসল সাফল্য শুধু গোল বা ট্রফিতে নয়, বরং এমন প্রজন্ম পেরোনো ভালোবাসায়। কারণ একশো বছরের এক বৃদ্ধা থেকে শুরু করে কোলে থাকা শিশুও যখন একই ফুটবলারের জন্য গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে, তখন বোঝা যায় তাঁর জনপ্রিয়তার বিস্তার কতটা।

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেসির বিশ্বরেকর্ডের ম্যাচেই বিস্ফোরক অভিযোগ! গোলটা কি আদৌ বৈধ ছিল?

বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনাকেও তুলে দিয়েছেন নকআউট পর্বে। কিন্তু ম্যাচ শেষের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর গোল নয়, বরং সেই গোলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। ফুটবল মহলের একাংশের প্রশ্ন, অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মেসির প্রথম গোলটি কি আদৌ বৈধ ছিল?ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তবে সেই হতাশা কাটিয়ে পরে জোড়া গোল করে দলকে জয় এনে দেন। ম্যাচের আটত্রিশ মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু গোল হওয়ার আগে মাঝমাঠে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে ঘিরেই এখন শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।অভিযোগ, গোল হওয়ার ঠিক আগে অস্ট্রিয়ার এক ফুটবলারের উপর ট্যাকল করেছিলেন আর্জেন্টিনার এক মিডফিল্ডার। সেই ঘটনায় রেফারি খেলা থামাননি। পরে সেই আক্রমণ থেকেই গোল আসে। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, গোলের আগে আক্রমণ তৈরির পর্যায়ে যদি ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত ছিল।এই বিতর্কে সরব হয়েছেন ডেনমার্কের কিংবদন্তি গোলরক্ষক পিটার স্মাইকেলও। তাঁর মতে, গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তিনি দাবি করেন, অস্ট্রিয়ার ফুটবলারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ফাউল হয়েছিল এবং সেই কারণে আক্রমণ শুরুই হওয়া উচিত ছিল না। প্রযুক্তিনির্ভর পর্যালোচনা ব্যবস্থাও এই বিষয়টি দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।ফুটবল মহলের একাংশের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আরও বেশি বিতর্ক তৈরি করে। বিশেষ করে যখন সেই গোলের মাধ্যমেই ইতিহাস গড়েন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার।এটাই অবশ্য প্রথম নয়। এর আগেও আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে মেসিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের অধিনায়কের বিরুদ্ধে একটি চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে। সেই ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় আপত্তি জানিয়েছিল আলজেরিয়া।অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে মেসি আবারও নিজের অসাধারণ প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে রেকর্ড গড়ার রাতেও বিতর্ক যে তাঁর পিছু ছাড়ল না, তা বলাই যায়। এখন ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, গোলটি কি নিয়ম মেনেই হয়েছিল, নাকি রেফারির একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারত ম্যাচের গল্প?

জুন ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে বড় স্বস্তি! অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে হাইকোর্টে কী হল জানলে চমকে যাবেন

মেসি সফর ঘিরে বিতর্কের মামলায় আপাতত স্বস্তি বজায় থাকল প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তা এখনই বাতিল করতে রাজি হয়নি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ফলে অন্তত পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত স্বস্তিতেই থাকছেন তিনি।মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। অরূপ বিশ্বাসকে দেওয়া রক্ষাকবচের বিরুদ্ধে আবেদন করেছিলেন যুবভারতী বিতর্কের অন্যতম অভিযুক্ত শতদ্রু দত্ত। তাঁর পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।অন্যদিকে অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবী আদালতে জানান, তদন্ত চলার সময় অভিযোগকারী পক্ষের এই ধরনের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্ত এগোচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হচ্ছে।শুনানির সময় আদালত জানতে চায়, অরূপ বিশ্বাস তদন্তে সহযোগিতা করছেন কি না। এর উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী জানান, প্রাক্তন মন্ত্রী নিয়মিত তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের ডাকে হাজিরাও দিচ্ছেন।রাজ্যের এই বক্তব্যের পর ডিভিশন বেঞ্চ মামলার শুনানি আপাতত মুলতুবি রাখে। আগামী দুই জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এর ফলে আপাতত অরূপ বিশ্বাসের রক্ষাকবচ বহাল থাকছে।এই মামলার সূত্রপাত গত বছরের মেসি সফরকে কেন্দ্র করে। আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকার ভারত সফর ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ থাকলেও অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। বহু দর্শক অভিযোগ করেন, টাকা খরচ করেও তাঁরা প্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা পাননি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনার পর আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় মেসির সফরের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রভাব খাটিয়ে মেসির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সেই কারণেই গোটা ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল।যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অরূপ বিশ্বাসের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে। ফলে শেষ পর্যন্ত মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

জুন ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এক ম্যাচেই রেকর্ড, জোড়া গোল, নকআউট! আবারও বিশ্বজয়ীর ছন্দে আর্জেন্টিনা

পেনাল্টি মিস দিয়ে শুরু। কিন্তু ম্যাচ শেষ হল ইতিহাস গড়ে। বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। একইসঙ্গে ২-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গাও নিশ্চিত করে ফেলল আর্জেন্টিনা।প্রথম ম্যাচে দুরন্ত জয় পাওয়ার পর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন মেসি, লাউতারো মার্টিনেজরা। খুব দ্রুতই গোলের সুযোগ তৈরি হয়। এক সময় পেনাল্টিও পায় আর্জেন্টিনা।সেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। গোটা স্টেডিয়াম অপেক্ষা করছিল আরেকটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু সবাইকে অবাক করে বল লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় সমর্থকেরা।তবে মেসির গল্প কখনও এত সহজে শেষ হয় না। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ডান প্রান্ত থেকে আসা বল নিখুঁত দক্ষতায় জালে জড়িয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তোলেন মেসি। সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থানে উঠে আসেন।দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করেছিল। কয়েকবার আক্রমণও শানায় তারা। তবে আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বড় কোনও সমস্যায় ফেলতে পারেনি। উল্টে পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা।ম্যাচের একেবারে শেষদিকে আবারও নিজের জাদু দেখান মেসি। প্রতিপক্ষ যখন সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় ব্যস্ত, তখন দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়।জোড়া গোলের সৌজন্যে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ালেন মেসি। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এই দিনেই চার দশক আগে দিয়েগো মারাদোনার এক ঐতিহাসিক ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। সেই স্মরণীয় দিনে মেসির নতুন বিশ্বরেকর্ড যেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের গৌরবকে আরও একবার উজ্জ্বল করে তুলল।তবে জয়ের মাঝেও কিছুটা চিন্তা রয়েছে আর্জেন্টিনা শিবিরে। মেসির ব্যক্তিগত উজ্জ্বলতা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলেও দলের সামগ্রিক খেলায় এখনও উন্নতির জায়গা রয়েছে। নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে সেই দিকেই নজর থাকবে কোচ এবং সমর্থকদের।

জুন ২৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal