• ৬ কার্তিক ১৪৩৩, সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Died

রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

দ্বিতীয়বার ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টাতেই সর্বনাশ, র‌্যাডার থেকে উধাও হয়ে গেল বিমান

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী কারণ, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। টেবিলটপ রানওয়ে না কি কম দৃশ্যমানতাকোনটি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি সকালে মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অজিত পওয়ার। সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাঁর প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রানওয়েতে নামার সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছলে যায়। তার পরেই আছড়ে পড়ে বিমানে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনার পর ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটর্যাডারের তথ্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ফ্লাইটর্যাডারের তথ্য অনুযায়ী, বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে উড়ান শুরু করে। আরব সাগরের উপর দিয়ে উড়ে সেটি বারামতীর দিকে যায়। সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দৃশ্যমানতা কম থাকায় তখন বিমানটি নামতে পারেনি বলে জানিয়েছে এয়ারক্রাফ্ট অপারেটর ভিএসআর ভেনচার।এর পরে সকাল ৮টা ৪২ মিনিট নাগাদ দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করা হয়। ঠিক তিন মিনিট পর, অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ র্যাডার থেকে উধাও হয়ে যায় বিমানটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর আসে, রানওয়ে ১১-র প্রান্তে একটি বিমান আছড়ে পড়ে আগুন ধরে গিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটি মাটিতে পড়তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের গোলায় পরিণত হয়। ঘন কালো ধোঁয়া ও লেলিহান শিখা পুরো বিমানটিকে গ্রাস করে নেয়। ওই বিমানে অজিত পওয়ার ছাড়াও ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী, একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, পাইলট এবং ফার্স্ট অফিসার। দুর্ঘটনায় কেউই বাঁচেননি।ডিজিসিএ এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ না করলেও, বিমান সংস্থার তরফে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে, কম দৃশ্যমানতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে রানওয়ের গঠন ও অবতরণ প্রক্রিয়ায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
দেশ

দ্বিতীয়বার নামার চেষ্টাতেই সর্বনাশ, ১০০ ফুট উপর থেকে আছড়ে পড়ল অজিত পওয়ারের বিমান

বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতি বিমানবন্দরে নামার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের ব্যক্তিগত বিমান। প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তার পর পাইলট দ্বিতীয়বার বিমান নামানোর চেষ্টা করেন। সেই সময়ই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমানটি ভেঙে পড়ে।ওই বিমানে অজিত পওয়ার ছাড়াও ছিলেন আরও চার জন। তাঁদের মধ্যে দুজন ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী এবং দুজন ছিলেন বিমানকর্মী। অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা নিয়ে সামনে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমবার অবতরণে ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটি দ্বিতীয়বার নামার চেষ্টা করে। সেই সময় প্রায় ১০০ ফুট উপর থেকে খুব দ্রুত গতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে বিমানটি। দেখেই মনে হচ্ছিল, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে চলেছে। মুহূর্তের মধ্যেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।বিমানটি ভেঙে পড়ার পর পরই একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে এবং কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রবল আগুনের কারণে কেউই বিমানের কাছে পৌঁছতে পারেননি।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যে মাঝারি মাপের চার্টার্ড বিমানে করে মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার, সেটি ছিল লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমান। বিমানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ভিটি-এসএসকে। বম্বার্ডিয়ার এরোস্পেস সংস্থার তৈরি এই বিমানটি বারামতিতে দ্বিতীয়বার অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরেডার২৪-ও জানিয়েছে, দ্বিতীয় অবতরণের চেষ্টার সময়ই বিমানটি ভেঙে পড়ে।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
দেশ

প্রাইভেট প্লেন ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত, প্রয়াত অজিত পাওয়ার

আজ সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতীতে খুবই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের। একটি প্রাইভেট চার্টার্ড বিমান মুম্বাই থেকে বারামতীর দিকে যাচ্ছিল, সেখানে জরুরি অবতরণ করার সময় বিমানটি ছাড়িয়ে গিয়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে ভস্মীভূত হয়। দুর্ঘটনার কারণে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ বিমানের সাথে থাকা সকলেই মারা গেছেন।DGCA ও স্থানীয় প্রশাসনের খবর অনুযায়ী, সকাল ৮:৪০ টার সময় বারামতী বিমানবন্দরেই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে ছিল মোট ছয়জন, যার মধ্যে পাওয়ারসহ পাইলট, সহকারী পাইলট ও অন্যান্য সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং কেউই বাঁচেননি।স্থানীয় ঘটনাস্থলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আগুনে ঘিরে যায় এবং ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। নিহতদের দেহ সংগ্রহ করে হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে, দলিলাগুলো নিশ্চিত হওয়ার পর আরও বিস্তারিত জানানো হবে।এই শোকাবহ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে গভীর শোক দেখা দিয়েছে। নেতারা এবং সাধারণ মানুষ অজিত পাওয়ারের অকাল প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
রাজ্য

প্রয়াত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রয়াত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুর ১২.৩৫ নাগাদ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। অর্থনীতির অধ্যাপক নির্মলাদেবীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অসুস্থতার খবর পেয়েই বৃহস্পতিবার নির্মলাদেবীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন এক্সবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নোবেলজয়ী প্রফেসর অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। আমি গতকাল তাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। অধ্যাপক নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সে প্রশিক্ষিত ছিলেন এবং কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সে অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রয়াত অধ্যাপক দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আমি নির্মলাদিকে ভালো করে চিনতাম এবং ওনার সঙ্গে আমার অনেক মধুর স্মৃতি আছে। তাঁর মৃত্যু আমাদের জনজীবনের এক বিরাট ক্ষতি। অভিজিৎ, অনিরুদ্ধ, এসথার ডুফলো সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি নির্মলাদির বন্ধু ও ছাত্রদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।শুক্রবার সকালে কলকাতায় এসে পৌঁছন নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই তাঁর মায়ের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুরু থেকেই ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক ছিল বলে গতকালই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল, শুক্রবারই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নভেম্বর ০৩, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

মূল্যহীন হয়ে গেল চৈতি ফারহানার লড়াই, মারণ ব্যাধির কাছে হার রুবেলের

মিরপুরের শেরইবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাঁচ ঘেরা শববাহী যানে চিরনিদ্রায় শুয়ে রয়েছেন মোশারফ হোসেন রুবেল। কাঁচের দেওয়ালে মাথা রেখে প্রিয় মানুষটির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে চৈতি ফারহানা রুপা। চোখ দুটো যেন কাঁচের দেওয়ার ভেদ করে কাছে পৌঁছতে চাইছিল। কিন্তু সম্ভব ছিল না। চৈতির কোলে একমাত্র সন্তান রুশদান। মায়ের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে সেও তাকিয়ে মোশারফ হোসেন রুবেলের দিকে। হয়তো মায়ের কোলে বসে ভাবছিল, কখন উঠে আসবে আব্বু। তার যে এখনও বোঝার বয়স হয়নি তার জানের আব্বু না ফেরার দেশে চলে গেছেন। কী ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে তাঁদের জীবনে। এইরকম যে হতে পারে, কল্পনা করেননি কেউই। দেশের হয়ে পাঁচটি একদিনের ম্যাচ খেলা মোশারফ হোসেন রুবেলের মস্তিষ্কে ২০১৯ সালের মার্চে টিউমার ধরা পড়ে। ২৪টি কেমোথেরাপি লেগেছিল তাঁর। সিঙ্গাপুরে গিয়ে অস্ত্রোপচার করিয়ে সেই টিউমার কেটে বাদও দেওয়া হয়েছিল। মোটামুটি সুস্থই হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আবার মাঠে ফেরার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু মারণরোগ তার পিছু ছাড়েনি। পুনরায় ফিরে আসা ঘাতক ব্যাধিকে আর হারাতে পারেননি রুবেল।জানুয়ারি মাসে তাঁর মস্তিষ্কে নতুন করে টিউমার ধরা পড়ে। আবারও শুরু হয় কেমোথেরাপি। অবশ হয়ে যায় শরীরের একদিক। গত মাসে তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। তবে প্রায় এক মাস পর ১৫ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন রুবেল। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালোমন্দের মধ্য দিয়েই যাচ্ছিল। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল তাঁর পরিবার। তবে দেশের ক্রিকেটমহল তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহেই তাঁর আবার কেমোথেরাপি নেওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রুবেলকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।তিন বছর ধরে জীবনের প্রিয় মানুষকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন চৈতি ফারহানা রুপা। প্রেম করে মোশারফ হোসেন রুবেলকে বিয়ে করেছিলেন। ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। ছোট বাচ্চা রয়েছে। সংসার, বাচ্চা ও ব্যাঙ্কের চাকরি সামলে প্রিয় মানুষটির জন্য লড়াই করে গেছেন। গত তিন বছর ধরে হাসপাতালই হয়েছিল চৈতি ফারফানার ঘরবাড়ি। স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। ঢাকার একমাত্র ফ্ল্যাটটাও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। অর্থ সংগ্রহের জন্য চারিদিকে ছোটাছুটি করছে হয়েছে। অনেকেই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সাকিব আল হাসান তুলে দিয়েছিলেন ১৫ লাখ টাকা। আর্থিক সাহায্য করেছিলেন মোশারপ হোসেনও। যেখানে যতটুকু অর্থ ছিল, সব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বামীকে বাঁচাতে। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি। স্বামীর জন্য কী না করেননি চৈতি ফারহানা? হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা রুবেলকে গল্পের বই পড়ে শোনাতেন। স্বামীকে দেখাশোনার পাশাপাশি হাসপাতালে বসেই ল্যাপটপে অফিসের কাজ করতেন। রুবেলকে সবসময় মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করতেন। প্রিয় মানুষটির জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবু মারণ ব্যাধি সবকিছু কেড়ে নিয়ে গেল চৈতির। ৪০ বছর বয়সী মোশারফ হোসেন রুবেল দেশের হয়ে ৫টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। ৪টি উইকেট পেয়েছেন। ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাঁর জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক। জাতীয় দলের হয়ে শেষ খেলেন ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

এপ্রিল ২০, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজনের

সোমবার ভোরে ডাম্পারের সঙ্গে টোটোর সংঘর্ষে বর্ধমান বোলপুর জাতীয় সড়কের ঝিঙ্গুটিতে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই পথ দুর্ঘটনাই মৃত্যু হল একই পরিবারের চার সদস্যের। স্থানীয় মানুষের কথা অনুযায়ী সকলেই দুর্ঘটনা স্থলেই মারা যান। মৃতরা হলেন গঙ্গা সাঁতরা(৬৫), সরস্বতী সাঁতরা(৫৯), সীমা সাঁতরা(৪০),মামণি সাঁতরা(৩২) এবং টোটোচালক মইনউদ্দিন মিদ্যা(৩৬)।ভোর পাঁচটা নাগাদ একটি একটি টোটোতে চেপে একই পরিবারের চারজন মাছ ধরার উদ্দ্যেশ্যে যাচ্ছিলেন। এদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের পালিতপুর গ্রামে। টোটোচালক মইনউদ্দিনের বাড়ি সিজেপাড়া এলাকায়। জানা গেছে গ্রাম থেকে টোটোটি বর্ধমান সিউড়ি রোডে উঠতেই গুসকরার দিক থেকে একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার সজোরে ধাক্কা মারে টোটোটিকে। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় টোটোচালক সহ পাঁচ জনের। পুলিশ মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পুলিশ মর্গে। আটক করা হয়েছে ঘাতক ডাম্পারটিকে। তবে এই দুর্ঘটনার পর পলাতক ডাম্পারের চালক ও খালাসি।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
বিদেশ

এক বছর পর ফের কোভিডে মৃত্যু দেখল চিন

চিনে আবারও ফিরল করোনার নতুন আতঙ্ক। প্রায় দু বছর পর করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল চিনে। জিলিন প্রদেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।শনিবার চিনের ন্যাশনাল হেল্থ অথরিটি করোনায় মৃত্যুর এই খবর জানিয়েছে। গত বছর অর্থাৎ ২০২১-এর জানুয়ারি মাসে শেষবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল চিনে। তারপর গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনও মৃত্যু হয়নি। তবে সম্প্রতি সংক্রমণের এক নতুন ঢেউ প্রবেশ করার ইঙ্গিত পেয়েছেন চিনা বিশেষজ্ঞরা। চিনের বিভিন্ন প্রদেশে নতুন করে বিধি নিষেধ জারি হয়েছে। আর এবার মৃত্যুর ঘটনা ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত চিনে মোট ৪ হাজার ৬৩৮ জনের মৃত্যু হল করোনায়।শনিবার চিনে নতুন করে ২ হাজার ১৫৭ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে জিলিন প্রদেশেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ওই প্রদেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। সেই কারণেই ওই প্রদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।বিগত কয়েকদিন ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে চিনে, কখনও ২-হাজার, কখনও আবার ৩-হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বিগত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২,২২৮ জন সংক্রমিত হওয়ার পর চিনে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১২৮,৪৬২ জন। দুজনের মৃত্যুর পর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪,৬৩৮ জনের। চিনে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০৫,২৩৮ জন।

মার্চ ১৯, ২০২২
বিদেশ

ঘূর্ণিঝড় ইউনিসের দাপটে বিধ্বস্ত ব্রিটেন, মৃত অন্তত ১০

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ব্রিটেন। ঝড়ের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছে একের পর এক বাড়ির ছাদ। ঘণ্টায় ১৯৫ কিমি বেগে প্রবল হাওয়ার দাপটে ভেঙেছে গাড়ি, উপড়ে গিয়েছে গাছ। ঝড়ে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক কালে এমন বিধ্বংসী ঝড় ইংল্যান্ডে এই প্রথম।🚨💨 Storm Eunice is battering the UK with powerful winds of up to 122 mph. Heres whats happening pic.twitter.com/GHn6iPCWZk LADbible (@ladbible) February 18, 2022শুক্রবার লিভারপুলে ঝড়ের তাণ্ডবে গাড়ি উল্টে মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ের। আয়ারল্যান্ডে গাছ ভেঙে পড়ে ৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধার উপর। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঝড়ের বেগে লন্ডনের ও-টু অ্যারেনা স্টেডিয়ামের ছাদ উড়ে গিয়েছে। একের পর এক বাড়ি তছনছ হয়ে গিয়েছে। বিধ্বস্ত পরিবহণ ব্যবস্থাও। বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডসেও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এই ঝড়ের। ক্ষতির মুখে বহু বাড়ি ও জনজীবন। নেদারল্যান্ডসের আমস্টার্ডামের কাছে গাছের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের বলে জানিয়েছে পুলিশ। উত্তর গ্রনিনজেন এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি। ইউনিস ঝড়টি শুক্রবারই পশ্চিম ইংল্যান্ড উপকূলে জোর ধাক্কা দিয়ে কর্নওয়ালে আছড়ে পড়ে। প্রবল ঢেউয়ে ভেসে যায় উপকূল এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে লিভারপুল, কর্নওয়াল, আয়ারল্যান্ড ইত্যাদি জায়গার করুণ ছবি। লন্ডন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একাধিক জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা নেই। পরিষেবা সচল রাখা এবং উদ্ধারকাজে কাজ করে চলেছে প্রশাসন। ঝড়ের জন্য একের পর এক বিমান বাতিল করা হয়েছে। লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ বিমান বন্দরগুলিতে সব মিলিয়ে দুলক্ষ মানুষ আটকে পড়েন।

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২২
রাজ্য

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় গ্যাস লিক করে মৃত ৩ শ্রমিক, আশঙ্কাজনক ৪

গ্যাস লিক করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিন ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের মিশ্রণে তৈরি হয় বিওএফ গ্যাস। এই মারণ কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এই ঠিকা কর্মীরা।কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ ডিএসপি কারখানার বেসিক অক্সিজেন ফার্নেস (বিওএফ) বিভাগের দুনম্বর কনভার্টারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই কনভার্টার পরিচর্যার কাজ করছিলেন তিন ঠিকা শ্রমিক। এই কনভার্টারে হট মেটাল গ্যাসের সাহায্যে ব্লো করে লিকিউড স্টিল তৈরি করা হয়। কনভার্টার পরিচর্যার কাজে যাওয়া ওই তিন ঠিকা কর্মীর ফিরতে দেরি হওয়ায় বিষয়টি দেখতে সেখানে যান আরও এক ঠিকা কর্মী। তিনিই দেখেন, জ্ঞান হারিয়ে পড়ে রয়েছেন ওই তিন ঠিকা কর্মী। এর পরেই তিনি বাকিদের খবর দেন। এর ঘণ্টা দুয়েক পর তাঁদের উদ্ধার করে ডিএসপি ইস্পাত কারখানার দমকল ও সিআইএসএফ। উদ্ধারের সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও চার জন। সঙ্গে সঙ্গেই আহতদের ইস্পাত কারখানার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন ঠিকা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের নাম সিন্টু যাদব (২৭), সন্তোষ চৌহান (২৭) ও সজন চৌহান (৪৮)।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২
দেশ

বিষাদে মিশল বিয়েবাড়ির আনন্দ, উত্তরপ্রদেশ কুয়োয় পড়ে মৃত্যু ১৩ জনের

বিয়ের আনন্দেই নেমে এল বিপর্যয়। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে আনন্দে, নাচেগানে মাতোয়ারা ছিলেন সকলে, যারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, পাশেই একটি সিমেন্টের স্ল্যাবের উপরে বসে পড়েন। যে সিমেন্টের স্ল্যাবের উপর বসেছিলেন একাধিক আমন্ত্রিত, তার নীচেই যে একটি পুরনো কুয়ো রয়েছে, তা জানা ছিল না। আচমকাই ওই সিমেন্টের স্ল্যাবটি ভেঙে পড়ায় কুয়োর মধ্যেই পড়ে যান ১৫ জনেরও বেশি। তৎপরতার সঙ্গে কুয়োর ভিতর থেকে উদ্ধার করা হলেও, ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত আরও ২ জন। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে। বুধবার রাতে একটি বিয়েবাড়িতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।Kushinagar, Uttar Pradesh | Visuals from the spot where 13 women lost their lives during a wedding event last nightThe incident happened during a wedding program wherein some people were sitting on a slab of a well due to heavy load,the slab broke, police official said pic.twitter.com/LmPDQh3lOo ANI (@ANI) February 17, 2022পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশিনগরের ওই বিয়েবাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালীনই দুর্ঘটনাটি ঘটে। মূলত বেশ কয়েকজন মহিলা ও শিশুই সিমেন্টের স্ল্যাবর উপর বসেছিলেন। তারা বুঝতেই পারেননি যে নীচে একটি কুয়ো রয়েছে। অতিরিক্ত ভারের কারণেই আচমকা ওই স্ল্যাব ভেঙে পড়ে। উপরে যারা বসেছিলেন, তারা সকলে হুড়মুড়িয়ে কুয়োর ভিতরে ঢুকে যান। চিৎকার শুনে হুঁশ ফেরে বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাকিদের। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও আমন্ত্রিতদের সহযোগিতায় একে একে সকলকে তুলে আনা হয়। শরীরে কুয়োর পচা জল ঢুকে অনেকেই সংজ্ঞা হারিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ১১ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুইজনের গুরুতর আঘাত লেগেছে বলেও জানা গিয়েছে।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার খবর মিলতেই দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা নিয়েও প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২২
দেশ

গুরুগ্রামে বহুতলের ছাদ ভেঙে মৃত্যু দু’জনের

গুরুগ্রামে বহুতল আবাসনের ছাদ ধসে পড়ে ঘটনাস্থলে মৃত্যু দুই জনের। জানা গিয়েছে আহত হয়েছেন বেশ কয়েক জন। ধ্বংসাবশেষে আটকেও রয়েছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ১০৯-এর একটি আবাসনে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, আচমকা বহুতল আবাসনের ছাদ ভেঙে এই বিপত্তি ঘটেছে। আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে নেমেছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা।Haryana: NDRF team reaches roof collapse site in Chintels Paradiso housing complex in Gurugrams Sector 109 pic.twitter.com/HS8YNUT3Xu ANI (@ANI) February 10, 2022গুরুগ্রামের সেক্টর ১০৯-এ অবস্থিত চিন্টেলস প্যারাডিসো নামে একটি বহুতল আবাসনের সাত তলার ডি ব্লক-এর একটি বাড়ি সারানোর কাজ চলছিল। সেই সময় ড্রয়িং রুম-এর ছাদ ভেঙে পড়ে। মূহূর্তের মধ্যে হুড়মুড় করে সাত তলার গোটা ছাদটাই ধসে পড়ে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর টুইটারে জানান, প্রশাসনিক কর্তা ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। উদ্ধারের কাজ চলছে।আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারেই এই বিপত্তি। গোটা ঘটনায় তাঁরা আঙুল তুলেছেন নির্মাণকারী সংস্থার দিকে। আপাতত চলছে উদ্ধারের কাজ।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

হাসপাতালের তিন তলায় আছড়ে পড়ে মৃত্যু বালকের

মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৮ বছরের বালকের। শুক্রবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদা মেডিক্যাল কলেজে। ছয় তলার সিঁড়ির রেলিং বেয়ে নামতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা। পুলিশ ওই বালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে মৃত বালকের নাম হরষিত সিং (৮)।বাবার নাম বলবীর সিং। বলবীর বিহারের কাটিহারের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, হরষিতের মৃগীরোগ ছিল। শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে দোকানে এসেছিল হরষিত। এর পর সে সকলের অলক্ষ্যে মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরের ছয় তলায় উঠে যায়। সেখান থেকে খেলার ছলে সিঁড়ির রেলিং বেয়ে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। ছয় তলা থেকে তিন তলায় পড়ে মাথায় আঘাত পায় হরষিত। তার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু তার।মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবহাওয়া খারাপ থাকায় মেডিক্যাল কলেজের আউটডোর ফাঁকা ছিল। যার ফলে সকলের অলক্ষ্যে সহজেই হরষিত মেডিক্যাল কলেজের ছয় তলায় উঠে পড়ে। এর ফাঁকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২২
কলকাতা

নেতাজিনগরে বাড়িতেই ঝলসে মৃত্যু বৃদ্ধার

নেতাজিনগরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার। নাম বকুল অধিকারী। এদিন সকালে কলকাতা পুরসভার ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিদ্যাসাগর কলোনি এলাকায় থিম পার্কের কাছে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। যায় নেতাজিনগর থানার পুলিশও। জানা গিয়েছে, পুরোপুরি দগ্ধ বকুলদেবীকে বাঘাযতীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।কীভাবে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটল তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। কোনওভাবে রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন লেগে গিয়েছে নাকি শর্ট সার্কিটের জেরে এই অগ্নিকাণ্ড তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে ঘরে আগুন লেগেছে সেখানে শুধু বৃদ্ধাই থাকতেন নাকি আরও কেউ থাকতেন সে বিষয়গুলিও খোঁজ খবর নিয়ে দেখছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে যাবেন। জায়গাটি খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। নমুনা সংগ্রহ করবেন তাঁরা।সূত্রের খবর, বিদ্যাসাগর কলোনি এলাকার বস্তির একটি ঘরে আগুন লাগে এদিন। ঘরে সেই সময় এক বৃদ্ধা ছিলেন। পরে দমকলের ইঞ্জিন ও পুলিশ সেখানে পৌঁছলে ঘর থেকে ওই বৃদ্ধার দগ্ধ দেহ উদ্ধার করে।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌শোকস্তব্ধ ময়দান, ‘‌অপূরণীয় ক্ষতি ভারতীয় ফুটবলের’‌

মারা গেলেন ময়দানের প্রিয় ভোম্বলদা। শোকস্তব্ধ ময়দান। তাঁর সতীর্থ, ছাত্রদের স্মৃতিচারণে উঠে এল নানা কথা। সকলের মুখে একটাই কথা, ভারতীয় ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।সুব্রত ভট্টাচার্যঃ সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে আমার প্রায়ই ফোনে কথা হত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগেও কথা হয়েছে। ভোম্বলদা যে আর নেই ভাবতেই পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে। অনেক বড় মাপের ফুটবলার ছিল। ১৯৭৫ সালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৫ গোল খাওয়ার পর ধীরেন দাকে বলে সুভাষ ভৌমিকদের ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে নিয়ে এসেছিলাম। ১৯৭৬ বড় ম্যাচে আকবরের ১৭ সেকেন্ডের গোলে আমরা ডার্বি জিতেছিলাম। ওই ম্যাচের আগে ভোম্বলদা যেভাবে আমাদের উৎসাহিত করেছিল, জীবনে ভুলব না। একজন আসাধারণ ফুটবল ব্যক্তিত্ব চলে গেল। সত্যিই ভারতীয় ফুটবলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। শ্যাম থাপাঃ ভোম্বল যে এভাবে চলে যাবে, ভাবতেই পারছি না। কয়েকবছরের ব্যবধানে চুনী গোস্বামী, পিকে ব্যানার্জি মারা গেলেন। এবার সুভাষ ভৌমিক। ভারতীয় ফুটবলের একের পর এক দিকপাল চলে যাচ্ছেন। এটা সত্যিই ফুটবল জগতের কাছে বড় ক্ষতি। এই ক্ষতি কীভাবে পূরণ হবে জানি না। একসঙ্গে দীর্ঘদিন খেলেছি। কত মধুর স্মৃতি রয়েছে। আজ সব চোখের সামনে ভেসে উঠছে।সমরেশ চৌধুরিঃ ২৫ দিন আগেও কথা হয়েছিল। আমাদের সবাইকে ছেড়ে ভোম্বল যে এভাবে চলে যাবে, মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। ৫৭ বছরের সম্পর্ক। ১৯৬৫ সালে বাংলা স্কুল দলে খেলার সময় থেকে পরিচয়। তারপর ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, বাংলা, ভারতীয় দলে একসঙ্গে কত ম্যাচ খেলেছি। কত ভাল স্মৃতি রয়েছে। সেইসব স্মৃতি কখনও ভোলার নয়। ভোম্বলের মতো বন্ধু পাওয়া সত্যিই কঠিন। গৌতম সরকারঃ শারিরীক ভাবে হয়তো সুভাষ ভৌমিক হয়তো আমাদের মধ্যে থাকবে না। কিন্তু ফুটবলপ্রমীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। ওর মতো ফুটবলার, কোচ ভারতীয় ফুটবলে খুব কমই এসেছে। আলভিটো ডিকুনহাঃ ইস্টবেঙ্গলে খেলার সময় থেকেই সুভাষ ভৌমিকের সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি শুধু আমার কেচ ছিলেন না, আমার অভিভাবকও ছিলেন। বাবার মতো আমাকে আগলে রাখতেন। যখন খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমাকে বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। আমি আজকে আবার পিতৃহারা হলাম। আমার ফুটবল জীবনে ওনার যা অবদান, কখনও ভোলার নয়। মেহতাব হোসেনঃ ২ দিন আগেও ভৌমিক স্যারের ছেলে রনিকে ফোন করেছিলাম। বলেছিল, বাবা মোটামুটি ঠিক আছে। শনিবার সকালে উঠে মৃত্যুর খবর পেলাম। সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। এভাবে চলে যাবেন, ভাবতে পারছি না। ভারতীয় ফুটবলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। রহিম নবিঃ আজ আমি যে রহিম নবি হয়ে উঠেছি, সুভাষ ভৌমিকের জন্যই। ওনার জন্যই আজ আমার ওএত নাম ডাক। আমার অলরাউন্ডার ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে ভৌমিক স্যারের অবদান কখনও ভুলব না। বাঙালীর ফুটবলের একটা আবেগের নাম। সেই আবেগটাই শেষ হয়ে গেল।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ভারতীয় ফুটবলে ইন্দ্রপতন, চলে গেলেন সুভাষ ভৌমিক

ভারতীয় ফুটবলে ইন্দ্রপতন। মারা গেলেন প্রাক্তন ফুটবলার ও ময়দানের কিংবদন্তী কোচ সুভাষ ভৌমিক। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। শনিবার ভোরে কলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশিয়ানজয়ী ইস্টবেঙ্গলের এই কোচ। সুভাষ ভৌমিকের মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রীড়াজগতে নেমে এসেছে শোকের ছাড়া। দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। সুগার ও কিডনির অসুখে ভুগছিলেন। নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে হত। প্রতিদিন বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডায়ালিসিস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ওপর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ায় সমস্যা আরও বেড়ে যায়। শারিরীক অবস্থা এমন অবনতি হয়েছিল যে কিছুদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আরও ভাল চিকিৎসার জন্য শুক্রবার নব মহাকরণে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দপ্তরে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে ঠিক হয়েছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হবে সুভাষ ভৌমিককে। কিডনি প্রতিস্থাপনের বিষয়টিও খতিতে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শনিবার ভোরে মারা যান তিনি।ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের জার্সি গায়ে কলকাতা ময়দানে একসময় দাপিয়ে খেলেছেন সকলের প্রিয় ভোম্বলদা। সবুজমেরুণের তুলনায় লালহলুদ জার্সিতেই বেশি সময় কাটিয়েছিলেন। রাজস্থান থেকে ১৯৬৯ সালে প্রথম লালহলুদ জার্সি গায়ে তুলে নিয়েছিলেন। পরের বছরই লালহলুদ জার্সি ছেড়ে যোগ দেন মোহনবাগানে। ৩ বছর মোহনবাগানে কাটিয়ে ১৯৭৩ সালে আবার ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসেন। ১৯৭৬ সালে আবার মোহনবাগানে যোগ দেন। ১৯৭৯ সালে লালহলুদে ফিরে আসেন। ইস্টবেঙ্গল থেকেই ফুটবলকে বিদায় জানান। ভারতীয় দলের হয়েও দীর্ঘদিন দাপিয়ে খেলেছেন সুভাষ ভৌমিক। ১৯৭০ সালে এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন, মারডেকা, পেস্তা সুকানের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দেশের জার্সি গায়ে দুদুটি হ্যাটট্রিকও করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তার মধ্যে মারডেকা কাপে ফিলিপাইন্সের বিরুদ্ধে একটা। ওই ম্যাচে ৫১ ব্যবধানে জিতেছিল ভারত। ১৯৬৯ সালে বাংলার সন্তোষ ট্রফি জয়ী দলের সদস্যও ছিলেন সুভাষ ভৌমিক। দীর্ঘ ৬ বছর পর সেবার সন্তোষ ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। বাংলার জার্সি গায়ে মোট ৪ বার সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সুভাষ ভৌমিক। ২ বার বাংলাকে নেতৃত্ব দিলেও রেলওয়েজের কাছে সেমিফাইনালে হারতে হয়েছিল। কোচ হিসেবেও দারুণ সাফল্য পেয়েছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তবে লালহলুদকেই বেশি সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ এবং ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলের কোচ ছিলেন। ২০০২০৩ এবং ২০০৩০৪ মরশুমে তাঁর কোচিংয়েই জাতীয় লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ২০০৩ সালে লালহলুদকে আশিয়ান কাপে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। ২০০৬ সালে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরের বছর সালগাঁওকারে যোগ দেন। ২০০৮০৯ মরশুমে আবার ইস্টবেঙ্গলে ফিরে আসেন। ২ মরশুম লালহলুদে কাটিয়ে মোহনবাগানের দায়িত্ব নেন। চার্চিল ব্রাদার্সের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন সুভাষ ভৌমিক। তাঁর কোচিংয়েই ২০১২১৩ মরশুমে আই লিগ জেতে চার্চিল।

জানুয়ারি ২২, ২০২২
রাজ্য

ফের ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণ, একদিনে হাজারেরও বেশি আক্রান্ত, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের

রাজ্যে ফের কিছুটা বাড়ল দৈনিক সংক্রমণ। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ করোনা বুলটিন অনুযায়ী, দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৪৪৭। মঙ্গলবার এই পরিসংখ্যান ছিল ১০ হাজার ৪৩০। অর্থাৎ, শেষ ২৪ ঘণ্টায় প্রায় এক হাজারেরও বেশি বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। বুধবারের করোনা বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। জেলাওয়াড়ি তালিকায় মৃতদের মধ্যে ১৪ জনই কলকাতার।সংক্রমণের নিরীখেও কলকাতায় সংক্রমণ সর্বোচ্চ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় দুই হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরই উদ্বেগজনক সংক্রমণ পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে ১ হাজার ৭৯৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে রাজ্যে পজিটিভিটি রেট কিছুটা কমেছে আগের তুলনায়। রাজ্যে বর্তমানে পজিটিভিটি রেট ১৬.৯৮ শতাংশ। শেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৭ হাজার ৪০৪ জনের। সেই সঙ্গে সুস্থও হয়ে উঠেছেন অনেকে। সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী রাজ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। রাজ্যে বর্তমানে সুস্থতার হার ৯১.০৯ শতাংশ।এদিকে স্বাস্থ্যদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ২,১৫৪ জন কলকাতার। অর্থাৎ দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে এদিন ফের প্রথমে ওই জেলা। আগের দিনের তুলনায় সামান্য হলেও কমেছে সংক্রমণ। দ্বিতীয় স্থানে উত্তর ২৪ পরগনা। একদিনে আক্রান্ত সেখানকার ১,৭৯৮ জন। আগেরদিন সংক্রমণ ছিল এর থেকে সামান্য কম। নিম্নমুখী কোভিড গ্রাফ স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তি দিচ্ছে ওই জেলার বাসিন্দাদের।দৈনিক সংক্রমণের নিরিখে ফের তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। একদিনে ওই জেলায় নতুন করে সংক্রমিত ৮৮৮ জন। চতুর্থ স্থানে নদিয়া। সেখানে একদিনে সংক্রমিত ৬৮১ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের কম বেশি সব জেলা থেকেই নতুন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। ফলে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯,২৮, ৯৬১। একদিনে করোনাকে পরাস্ত করে ঘরে ফিরেছেন ১৫, ৪১৮ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট করোনাজয়ীর সংখ্যা ১৭, ৫৭, ০৬৬। গত ২৪ ঘণ্টায় পজিটিভিটি রেট ১৬.৯৮ শতাংশ। বর্তমানে রাজ্যে সেফ হোমের সংখ্যা ২০০। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য। বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হচ্ছে কনটেনমেন্ট জোন।অন্যদিকে, ভারতে ফের বাড়ল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লক্ষ ৮২ হাজার জন। মঙ্গলবার দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ১৮ জন। বুধবার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ল ১৮ শতাংশ। দৈনিক সংক্রমণের হার ১৪.৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫.১৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ওমিক্রন রূপে আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৯৬১ জন। মঙ্গলবারের তুলনায় ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৪৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩১০ জন। এই সময়ের মধ্যে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ লক্ষ ৬৯ হাজার। যা মঙ্গলবারের চেয়ে প্রায় ২ লক্ষ বেশি।

জানুয়ারি ১৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Ashim Ganguly : ফাইনাল দেখে যেতে পারলেন না এন্টালি হকি অ্যাকাডেমির প্রাণপুরুষ

এন্টালি হকি অ্যাকাডেমির মাঠে চলছিল আমন্ত্রণমূলক সারা বাংলা ছোটদের হকি প্রতিযোগিতা। যে প্রতিযোগিতার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তিনিই। কিন্তু ফাইনাল দেখে যেতে পারলেন না অসীম গাঙ্গুলি। ফাইনালের আগেই রবিবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হকি অন্তপ্রাণ এই ক্রীড়াবিদ। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।এন্টালি হকি অ্যাকাডেমির মাঠে চলছে ছোটদের সারা বাংলা হকি প্রতিযোগিতা। শুক্রবারও মাঠে হাজির ছিলেন অসীম গাঙ্গুলি। খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিতি হন। মাঠে বসে খেলা দেখেন। দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। মাঠে উপস্থিত অন্যরা তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন। সন্ধের দিকে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে অকৃতদার অসীম গাঙ্গুলিকে মৌলালির একটি বেসরকারি নার্সিকহোমে ভর্তি করেন এন্টালি হকি অ্যাকাডেমির যুগ্মসচিব শুভ্র ভট্টাচার্যসহ অন্যরা। শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ অকেজো হতে শুরু করে। রবিবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।আরও পড়ুনঃ নির্বাচনী প্রচারে কোভিড বিধি ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি বিধায়কএকসময় এয়ারফোর্সে চাকরি করতেন অসীম গাঙ্গুলি। এয়ারফোর্সের হয়ে চুটিয়ে হকি খেলতেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে পাকাপাকি চলে আসেন নিজের কলকাতায়। যোগ দেন এ জি বেঙ্গলে। হল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবশিষ্ট ভারতের হয়ে একটা ম্যাচও খেলেছিলেন। দীর্ঘদিন বাংলার হয়ে জাতীয় হকিতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কলকাতার ঘরোয়া হকিতে এন্টালির হয়ে নিয়মিত খেললেও ১৯৮১ সালে খেলেছেন মোহনবাগানের হয়ে। সেই বছর মোহনবাগান হকি লিগ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যও ছিলেন অসীম গাঙ্গুলি। খেলতেন মাঝমাঠে।আরও পড়ুনঃ পিকনিকে এসে অজয়ের চেরাবালিতে তলিয়ে গেল এক, আশঙ্কাজনক দুজন হাসপাতালেখেলোয়াড়ের থেকেও অসীম গাঙ্গুলির বেশি পরিচয় ছোটদের কোচ হিসেবেই। তাঁর হাত ধরেই একসময় গড়ে ওঠে এন্টালি হকি অ্যাকাডেমি। যার খ্যাতি এখন ভারত জুড়ে। এই অ্যাকাডেমির ছোটদের সর্ব ভারতীয় প্রতিযোগিতা দারুণ জনপ্রিয়। একাদিকবার জাতীয় প্রতিযোগিতায় বাংলার বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের কোচ হয়েছেন। বাংলার নির্বাচকেরও দায়িত্ব সামলেছেন। ২০২০ সালে পেয়েছেন রাজ্য সরকারের ক্রীড়াগুরু পুরস্কার।আরও পড়ুনঃ আজব কান্ড! ছক্কা ছাড়াই ১ বলে ৭ রান!অসীম গাঙ্গুলির উদ্যোগেই বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক নির্মল কুমার সাহা হকি মিরর নামে একটা বুলেটিন বার করতেনন। পরে যার নাম হয় হকি দর্পন। যার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন অসীম গাঙ্গুলি ও নির্মল কুমার সাহা। দুজনে মিলে হকির ওপর একটা বইও লিখেছিলেন। ননাম হকি নলেজ ও কুইজ ১৯৯৯ সালে বইটি প্রকাশিত হয়। এদিন অসীম গাঙ্গুলির মরদেহ বাড়ি হয়ে এন্টালি হকি অ্যাকাডেমিতে নিয়ে আসা হয় সেখানে সকলে শ্রদ্ধা জানানো হয়। হাজির ছিলেন অনেক ক্রীড়াবিদ। এরপর বাংলার হকি সংস্থা হয়ে দুপুরে নিয়ে যাওয়া হয় নিমতলা মহাশ্মশানে। সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

জানুয়ারি ০৯, ২০২২
দেশ

Surat Gas Leak: সুরাতে গ্যাস লিক করে মর্মান্তিক মৃত্যু ৬ কারখানা শ্রমিকের

রাসায়নিক বোঝাই ট্যাংকার থেকে বেরোনো বিষাক্ত গ্যাসে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৬ কর্মীর। বিষাক্ত গ্যাসে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন প্রায় ২০ জন। বৃহস্পতিবার সকালেই গুজরাতের সুরাতে গ্যাস লিকের এই ভয়াবহ কাণ্ডটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরাতের শচিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় অবস্থিত বিশ্বপ্রেম ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং মিলে এই ঘটনাটি ঘটে। ওই কারখানার বেশ কয়েকজন কর্মী রাতে কারখানার ভিতরেই ঘুমাচ্ছিলেন। ভোর ৪ টে নাগাদ তাদের নাকে কড়া একটি রাসায়নিকের গন্ধ আসে। কয়েকজন কর্মী উঠে দেখতে যান যে কোথা থেকে গন্ধটি আসছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সকলে সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এক কর্মী কোনও মতে দমকলে খবর দেন।দমকল বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, ভোর ৪টে ২৫মিনিট তাদের কাছে ফোন আসে। বলা হয় যে, কারখানার ভিতরে আচমকাই ২৫-২৬ জন কর্মী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গিয়েছে। বিষাক্ত কোনও গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে হয়তো। এরপরই দমকল বিভাগের তরফে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে কারখানায় যাওয়া হয়। কিন্তু কারখানার ভিতরে কোনও বিষাক্ত গ্যাসের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে দেখা যায়, রাস্তার ধারে দাঁড়ানো একটি কেমিক্যাল বোঝাই ট্যাংকার থেকেই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে ওই ট্যাংকারের ঢাকনা বন্ধ করে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় কর্মীদের সুরাত সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা ৫জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জানুয়ারি ০৬, ২০২২
রাজ্য

child died: মন্দির দর্শনে এসে পানা পুকুরে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু শিশু পুত্রের

খেলার মাঠ ভেবে কচুরিপানা ভর্তি জলাশয়ে নেমে পড়ায় তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক শিশুর। মৃত শিশুর নাম প্রহ্লাদ মণ্ডল (৮)। তাঁর বাড়ি বীরভূমের লাভপুরের মহদরী গ্রামে। রবিবার ঘটনাটি ঘটে পূর্ব বর্ধমানের কালনার উঁচু জাপটের ভবা পাগলা মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। রাতে ওই জলাশয় থেকে শিশুর দেহ উদ্ধার করে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু পুত্রকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কি ভাবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বীরভূমের মহদারী গ্রাম থেকে একদল পর্যটক রবিবার কালনার বিভিন্ন মঠ ও মন্দির পরিদর্শনে আসেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিশুপুত্র প্রহ্লাদ মণ্ডলও কালনার ভবা পাগলা মন্দির ও বাড়ি দর্শন করতে যায়। সন্ধ্যার প্রাক্কালে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎই ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গার্ডওয়াল বিহীন ভবা পাগলার বাড়ি লাগোয়া পানা পুকুরের মধ্য থেকে মেলে শিশু প্রহ্লাদের দেহ। ভবা পাগলার মন্দির দর্শনে আসা সকলের অনুমান সবুজ পানায় ঢাকা পুকুরটিকে খেলার মাঠ মনেকরে সেখানে যেতে গিয়ে শিশুটি জলে তলিয়ে যায়। তার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে।

ডিসেম্বর ২৭, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

জেল থেকে ফিরেই হুমকির অভিযোগ! আমোদপুরে তৃণমূল নেতাকে দড়ি বেঁধে ঘোরালেন স্থানীয়রা

বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার আমোদপুরে এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। জামিনে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফের বিভিন্ন জনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযুক্তের নাম তাহিরুল শেখ। তিনি সাঁইথিয়া ব্লকের ভ্রমরকোল অঞ্চলের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি। ঘটনার খবর পেয়ে আমোদপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।ঘটনার সূত্রপাত সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের দিন। অভিযোগ, ওই দিন ভ্রমরকোল অঞ্চলের ৬৮ নম্বর বুথে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়ক দেবাশিস ওঝার ছেলে, নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ বিজেপির কয়েকজন নেতাকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তাহিরুল শেখের নাম জড়ায়। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় দুমাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।বিজেপির অভিযোগ, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফের দলের কর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন তাহিরুল। রবিবার বেলার দিকে তিনি আমোদপুর লাগোয়া ঈশ্বরপুর গ্রামে প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সাধুর বাড়িতে যান। সেই খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ধরে কোমরে দড়ি বেঁধে আমোদপুর বাজার এলাকায় ঘোরান। পরে তাঁকে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির হাতে তুলে দেওয়া হয়।বিজেপির ভ্রমরকোল মণ্ডল সভাপতি সুদীপ ঘোষের দাবি, ভোটের দিন তাহিরুলের নেতৃত্বে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের মারধর করা হয়েছিল। তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলারও চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, জামিনে মুক্তির পর ফের বিজেপি কর্মীদের হুমকি দিচ্ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। সেই খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁরা তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি মহম্মদ ইউনুসের বক্তব্য, বিজেপি অনেক জায়গাতেই পুলিশের মদতে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের হেনস্থা করছে। তবে আমোদপুরের এই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের দিন বিজেপি নেতাদের মাথা ফাটানোর অভিযোগের জেরেই তাহিরুল জনরোষের মুখে পড়েছেন। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নেতার কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। আমোদপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনার নেপথ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রং-তুলিতে সমাজের মুখ আঁকা থামল! প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী, বয়স ৮৭

ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে ১৪ মাসের লড়াই, সঙ্গে মূত্রনালির সংক্রমণকলকাতার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস শিল্পীর। চিত্রকলার পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও রেখেছিলেন স্বতন্ত্র ছাপ।বাংলার শিল্পজগতে নেমে এল শোকের ছায়া। প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রকর যোগেন চৌধুরী। রবিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বিরল ধরনের ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বিশিষ্ট শিল্পী। তার উপর মূত্রনালির সংক্রমণ এবং শারীরিক নানা জটিলতা ক্রমশ তাঁর অবস্থাকে সংকটজনক করে তোলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হল।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৪ মাস ধরে মাইলোপ্রোলিফেরেটিভ নিওপ্লাজম নামে এক ধরনের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। চলছিল কেমোথেরাপিও। শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকায় দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সংক্রমণের কারণে সেপসিসের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন বর্ষীয়ান শিল্পী।ফরিদপুর থেকে কলকাতা, শিল্পী হয়ে ওঠার দীর্ঘ যাত্রা১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে জন্ম যোগেন চৌধুরীর। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি তাঁর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। পরিবারের পরিবেশও তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর মা সুন্দর আল্পনা আঁকতেন। মায়ের সেই শিল্পচর্চা ছোট্ট যোগেনের মনে ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিল।দেশভাগের সময় পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। এই শহরেই শুরু হয় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পশিক্ষা। কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অফ আর্ট অ্যান্ড ক্রাফ্টে পড়াশোনা করেন তিনি। শিল্পশিক্ষা শেষ করে হাওড়া জেলা স্কুলে অঙ্কন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। শিল্পচর্চার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৬৫ সালে প্যারিসে পাড়ি দেন যোগেন চৌধুরী। ইউরোপীয় শিল্পধারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় আরও গভীর হয় সেই সময়। ভারতীয় শিল্পের ঐতিহ্য এবং পাশ্চাত্যের আধুনিক শিল্পভাবনার সংমিশ্রণ তাঁর কাজকে স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারির কিউরেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।ব্যঙ্গ, সমাজ ও রাজনীতিক্যানভাসে ধরা পড়ত সময়ের ছবিযোগেন চৌধুরীর শিল্পকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল সমাজ ও রাজনীতির নানা অসংগতি তুলে ধরার ক্ষমতা। তাঁর ছবিতে কেবল রং, রেখা কিংবা অবয়বের প্রকাশ ঘটত না; ফুটে উঠত সমকালীন সমাজের নানা প্রশ্ন, দ্বন্দ্ব ও বাস্তবতা। ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলিকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করতেন। সেই স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে ভারতীয় চিত্রকলার জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।ভারতীয় ঐতিহ্য এবং ইউরোপীয় আধুনিক শিল্প আন্দোলনের প্রভাব তাঁর কাজে লক্ষ করা যায়। তবে প্রভাবের মধ্যেও নিজস্ব শিল্পভাষা নির্মাণ করেছিলেন তিনি। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষের অবয়ব, অভিব্যক্তি এবং সামাজিক বাস্তবতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ-বিদেশে তাঁর শিল্পকর্ম প্রশংসিত হয়েছে এবং বিভিন্ন সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনাতেও ছিল তাঁর ছোঁয়াক্যানভাসের বাইরেও বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন যোগেন চৌধুরী। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দুর্গাপুজোর থিম এবং প্রতিমা-ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে বেহালা নূতন দল দুর্গাপুজোর প্রতিমার স্কেচ তৈরি করেছিলেন এই শিল্পী। পরের বছর ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক সর্বজনীনের দুর্গাপ্রতিমার চালচিত্রের নকশাতেও তাঁর শিল্পভাবনার প্রতিফলন ঘটেছিল।বাংলার দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে শিল্পের যে বিস্তৃত পরিসর তৈরি হয়েছে, সেখানে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথাগত শিল্পচর্চা থেকে জনপরিসরের শিল্পবিভিন্ন ক্ষেত্রেই নিজের সৃজনশীলতার পরিচয় রেখেছিলেন তিনি।শিল্পের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেওচিত্রকর হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনও ছিল যোগেন চৌধুরীর। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের সঙ্গে যুক্ত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে উপস্থিতি তাঁকে অন্য পরিচিতিও দিয়েছিল।তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে থাকবে শিল্পচর্চা। রং, রেখা ও ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজকে দেখার যে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তিনি তৈরি করেছিলেন, তা ভারতীয় আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণে হারালেন বাংলা তথা ভারতের শিল্পজগতের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর সৃষ্টি, শিল্পভাবনা এবং সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি আগামী দিনেও শিল্পপ্রেমীদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে। মানুষটি চলে গেলেন, কিন্তু ক্যানভাসে রেখে গেলেন সময়, সমাজ ও মানুষের বহু না-বলা কথার চিহ্ন।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
দেশ

হস্টেলে আত্মহত্যা রুখতে বিশেষ ফ্যান! অতিরিক্ত ওজন পড়লেই খুলে যাবে, বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন

সুরাট: পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় অভিনব উদ্যোগ বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়েরছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হস্টেলের ঘরে বিশেষ প্রযুক্তির সিলিং ফ্যান বসাল গুজরাটের সুরাটের বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় (Veer Narmad South Gujarat University)। আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এই বিশেষ ফ্যানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি স্প্রিং মেকানিজম। ফ্যানে অতিরিক্ত ওজন পড়লে সেটি খুলে নীচে নেমে আসবে এবং একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে ফ্যানকে আত্মহত্যার কাজে ব্যবহার করা কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলিতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই উদ্যোগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ সিলিং ফ্যানের পরিবর্তে বিশেষ ব্যবস্থাযুক্ত এই ফ্যান ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হল, কোনও পড়ুয়া চরম মানসিক সংকটের মুহূর্তে আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সেই ঝুঁকি কমানো।বিশেষ স্প্রিং ব্যবস্থার কারণে নির্দিষ্ট সীমার বেশি ওজন পড়লে ফ্যানটি তার মাউন্টিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি। এর ফলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এই প্রযুক্তি কতটা কার্যকর, তা নির্ভর করবে যন্ত্রটির নকশা, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।#WATCH | Surat, Gujarat | Veer Narmad South Gujarat University installs anti-suicide ceiling fans, with special spring mechanism, in hostels, designed to detach under excessive weight and cut off the power supply. https://t.co/1GM7E91n3K ANI (@ANI) October 24, 2026শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পড়াশোনার চাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেক পড়ুয়াই মানসিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, কাউন্সেলিং এবং সময়মতো সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থাও জরুরি।বিশেষ ফ্যান বসানোর এই উদ্যোগ হস্টেলের নিরাপত্তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বিকল্প প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়পড়ুয়াদের পাশে থাকা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং প্রয়োজনে দ্রুত পেশাদার সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’! বুধবার কোথায় আছড়ে পড়বে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়? বাংলায় কোথায় কতটা বৃষ্টি?

দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। অভিমুখ বদলে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে মঙ্গলবার তীব্র এবং বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে সেটি। অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলার উপকূলেও বাড়ছে সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং সমুদ্রে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ইতিমধ্যেই শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, রবিবারের মধ্যে সেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এর পর অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে সোমবার সকালের মধ্যেই ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির নাম হতে পারে অর্ণব।আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটির গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোলেও পরে সেটি বাঁক নিয়ে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের উপর দিয়ে এগোনোর সময় ক্রমশ শক্তি বাড়িয়ে বুধবারের মধ্যে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে সেটি। ফলে আগামী কয়েক দিন বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়ার উপর বিশেষ নজর রাখছেন আবহবিদেরা।কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ? কোন দিকে এগোচ্ছে?আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নিম্নচাপটির অবস্থান ছিল আন্দামানের শ্রীবিজয়পুরম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর পশ্চিমে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে। কাকিনাড়া থেকে প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে, মছলিপত্তনম থেকে ১,০৬০ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে প্রায় ১,১৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছিল নিম্নচাপটি।প্রাথমিক ভাবে ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার গতিতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগোচ্ছিল সেটি। রবিবার দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়ার পর পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর গতিপথ বদলে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর মঙ্গলবারের মধ্যে তা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের চেহারা নিতে পারে। পরে আরও শক্তি সঞ্চয় করে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বুধবার কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়?সম্ভাব্য গতিপথের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে বুধবার দুপুর নাগাদ স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।তবে ঘূর্ণিঝড়ের নির্দিষ্ট গতিপথ, তীব্রতা এবং স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় আবহাওয়ার পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। তাই চূড়ান্ত ল্যান্ডফলের স্থান ও সময় সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতানিম্নচাপের প্রভাবে ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে আবহাওয়ার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রবিবার থেকেই সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট বাড়তে পারে। সোমবার ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মঙ্গলবার তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তা ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। বুধবার অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সময় হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার বেগ ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও মঙ্গলবার থেকে সতর্কতা জারি থাকার কথা জানানো হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যে মাছ ধরতে গিয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে।কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।অর্থাৎ, উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অভ্যন্তরীণ জেলাগুলিতেও ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সব জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ সমান হবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী সতর্কতার মাত্রা বদলাতে পারে।উত্তরবঙ্গেও কি বাড়বে বৃষ্টি?ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিন দুই বঙ্গেই তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তার পর তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।কলকাতার তাপমাত্রা কত?রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৪ ডিগ্রি বেশি। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৫ ডিগ্রি কম।সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের পরবর্তী গতিপ্রকৃতিই এখন আবহাওয়াবিদদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও বাংলার উপকূলেও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মৎস্যজীবীদের সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৩০০তম ম্যাচেই ইতিহাস ভারতের! আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ জয়ের বিশ্বরেকর্ড, জোড়া মাইলফলকে উজ্জ্বল টিম ইন্ডিয়া

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আরও একবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৩০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমেই জোড়া মাইলফলক স্পর্শ করল টিম ইন্ডিয়া। একদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে ৩০০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার নজির, অন্যদিকে প্রথম দল হিসেবে ২০০টি ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এই দুই সাফল্য ভারতীয় ক্রিকেটের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।শনিবারের ম্যাচটি ভারতের কাছে শুধুমাত্র সিরিজের আর একটি লড়াই ছিল না, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে নিজেদের জায়গা আরও শক্তিশালী করে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও ছিল। টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় ভারত। ফলে মাঠের লড়াইয়ে সাফল্যের পাশাপাশি রেকর্ডের পাতাতেও স্মরণীয় হয়ে থাকল এই ম্যাচ।৩০০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ, তালিকায় দ্বিতীয় ভারতছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে ভারত। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচটি ছিল এই ফরম্যাটে ভারতীয় দলের ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় দল হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত।এই তালিকায় এখনও শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। প্রতিবেশী দেশটি এখনও পর্যন্ত ৩০৪টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। অর্থাৎ, ম্যাচ খেলার সংখ্যার বিচারে পাকিস্তানের থেকে মাত্র চারটি ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছে ভারত। অন্যদিকে, শনিবারের ম্যাচের পর নিউ জ়িল্যান্ডের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৯।পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারত কতটা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ফরম্যাটে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি সাফল্যের নিরিখেও ভারতীয় দল যে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তা স্পষ্ট হয়েছে তাদের জয়ের পরিসংখ্যানে।২০০ জয়ের নজির গড়ে বিশ্বের এক নম্বর ভারত৩০০তম ম্যাচে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে ২০০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জয়। এই কৃতিত্ব অর্জন করে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে নজির গড়ল ভারত। অর্থাৎ, শুধু ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেই নয়, জয় তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করল টিম ইন্ডিয়া।জয়ের পরিসংখ্যানে ভারতের ধারেকাছে আপাতত রয়েছে পাকিস্তান। তারা এখনও পর্যন্ত ১৭৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেয়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা নিউ জ়িল্যান্ডের জয়ের সংখ্যা ১৩৫। ফলে এই পরিসংখ্যানে ভারতের সঙ্গে অন্য দলগুলির ব্যবধান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।এই সাফল্য ভারতীয় দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলা, চাপের মুখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ভারতকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।চলতি বছরেও সাফল্যের ধারায় টিম ইন্ডিয়াআন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে চলতি বছরেও ভারতের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে। এখনও পর্যন্ত ৩৭টি ম্যাচ খেলে ২৫টিতে জয় পেয়েছে ভারতীয় দল। ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির মধ্যেও এই জয়ের হার দলের ধারাবাহিকতার পরিচয় বহন করছে।অন্যদিকে, পরাজয়ের সংখ্যার নিরিখেও ভারতের রেকর্ড উল্লেখযোগ্য। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৮৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারতে হয়েছে ভারতকে। এই বিভাগে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ।ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া, দুই দলই ৯২টি করে ম্যাচে পরাজিত হয়েছে। ফলে এই তালিকায় তারা যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ের সংখ্যা ১০১।রেকর্ডের সঙ্গে শেষ বল পর্যন্ত লড়াইনজির গড়ার ম্যাচে ভারতীয় দলের জয়ও এসেছে যথেষ্ট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এক বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে ভারত। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় ছিল।আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩০০ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং ২০০ জয়ের সাফল্যদুইয়ের মেলবন্ধন ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তির পরিচয় দিচ্ছে। এই ফরম্যাটে বিশ্বের প্রথম দল হিসেবে ২০০ জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে বড় কৃতিত্ব।সব মিলিয়ে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ভারতের কাছে হয়ে থাকল দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ। একদিকে মাঠে জয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। পরিসংখ্যানের নিরিখে ভারত যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান শক্তি, ৩০০তম ম্যাচে ২০০ জয়ের নজির সেই দাবিকেই আরও জোরালো করল।

অক্টোবর ২৫, ২০২৬
রাজ্য

ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটিতে ইতি! সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বতের

২০২৭ সালের দুর্গাপুজো থেকে বদলাতে চলেছে সরকারি হাসপাতালের ছুটির রীতি। সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত বিশেষ রোস্টার, অর্ধেক থাকবেন অ-চিকিৎসক কর্মী। চিকিৎসক ও নার্সদের থাকতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী ডিউটিতে।কলকাতা: দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি বা ছুটি-ছুটি মেজাজের দিন শেষ হতে চলেছে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে। স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসা দীর্ঘদিনের এক অলিখিত রীতিতে এবার ইতি টানার কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটিতে হাসপাতালের পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো জরুরি ক্ষেত্রে দীর্ঘ ছুটির প্রচলিত ধারণা বদলানোই সরকারের লক্ষ্য।শুক্রবার, বিজয়া দশমীর পর দ্বাদশীর দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, অন্যান্য সরকারি দফতরের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কাজের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি অফিসে ছুটির প্রভাব এক রকম হলেও হাসপাতালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে রোগীর চিকিৎসা, জরুরি বিভাগ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা কোনওভাবেই বন্ধ রাখা যায় না। তাই পুজোর সময়েও পর্যাপ্ত কর্মী নিয়ে হাসপাতাল চালু রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ১৯৪৭ সালের পর থেকে রাজ্যে কার্যত একটি অলিখিত রীতি চলে আসছিল। ষষ্ঠী থেকেই সরকারি দফতরগুলিতে পুজোর আবহে কাজের গতি কমে যেত, আর সেই ছুটির রেশ চলত লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। কিন্তু হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘ ছুটি-ছুটি ভাব আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়ার প্রচলিত রেওয়াজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।আগামী বছর থেকে কী নিয়ম চালু হবে?স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের দুর্গাপুজো থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীএই চার দিনের জন্য বিশেষ ডিউটি রোস্টার চালু থাকবে। হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। অ-চিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে এই চার দিনে মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় অর্ধেককে কাজে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য আগাম নির্দিষ্ট ছুটির রোস্টার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। হাসপাতালের প্রয়োজন এবং পরিষেবার চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থাৎ, পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসক ও নার্সদের উপস্থিতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কাজের প্রয়োজনের উপর।এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পুজোর সময়েও হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা, রোগী সামলানো এবং জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।এ বছর থেকেই কাজে ফেরার নির্দেশশুধু আগামী বছরের পরিকল্পনাই নয়, চলতি বছরেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত। তাঁর দাবি, অন্যান্য সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলির শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে শুরু করে সাফাইকর্মীবিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।এমনকি যাঁরা আগে থেকেই ছুটিতে ছিলেন, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির অবসান ঘটিয়ে হাসপাতালগুলিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন অগ্রাধিকার।পরিষেবা সচল রাখাই মূল লক্ষ্যদুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির প্রচলন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে পুজোর সময় চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে নতুন রোস্টার কীভাবে কার্যকর হবে, হাসপাতালভিত্তিক কর্মী বণ্টন কীভাবে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সদের দায়িত্ব নির্ধারণে কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, আগামী বছর থেকে সরকারি হাসপাতালগুলিতে পুজোর ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় বদল আনতে চাইছে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমেও যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় কোনও শিথিলতা না আসে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির বদলে দায়িত্ব পালনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
কলকাতা

চোরবাগান কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের! আতঙ্কের মাইকিংয়ে গ্রেফতার আরও এক ঘোষক, ধৃতের সংখ্যা ২

সপ্তমীর সন্ধ্যায় মণ্ডপে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণার অভিযোগ। তদন্তে উঠে এসেছে দুই ঘোষকের নাম। কেন এমন ঘোষণা, নেপথ্যে কারও নির্দেশ ছিল কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।কলকাতার চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয় ঘিরে তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল পুলিশ। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো ঘোষণার ঘটনায় দ্বিতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কুশল মজুমদার। তাঁকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এই ঘটনায় চোরবাগান পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফলে মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই।পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে প্রবল ঠেলাঠেলি ও হুড়োহুড়ি চলছিল, তখন মাইকে ঘোষণা করা হয়, মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। আতঙ্কিত দর্শনার্থীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাতেই বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। যদিও ওই ঘোষণার উদ্দেশ্য এবং তার সঙ্গে বিপর্যয়ের সম্পর্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।সিসিটিভি ফুটেজে দুই সন্দেহভাজনের খোঁজঘটনার পরই মণ্ডপে মাইক থেকে কে বা কারা ওই ঘোষণা করেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুজনকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছিল। অবশেষে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন কুশল মজুমদারকেও পাকড়াও করা হল।পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর থেকেই সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুর খোঁজ মিলছিল না। তাঁর বাড়িতে গিয়েও পুলিশ তাঁকে পায়নি। তদন্তকারীদের দাবি, বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্য নম্বর ব্যবহার করে পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন আটটি মোবাইল নম্বরের উপর নজরদারি চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত সেই সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার নদিয়া থেকে সেন্টুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।আতঙ্কের ঘোষণা ঘিরে বাড়ছে প্রশ্নচোরবাগান কাণ্ডের পর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োতে মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা যায়। একটি ভিডিয়োতে গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়। অন্য একটি ভিডিয়োতে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটের ভিতরে কয়েক মিটার দূরেই ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। আতঙ্কিত দর্শনার্থীদের চিৎকারের মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায় এক পুলিশকর্মীকে।এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইক থেকে মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘোষণার পর দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং অনেকে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি। তদন্তের স্বার্থে ভিডিয়োগুলির সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা জরুরি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজেও ওই ঘোষণার বিষয়টি তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে।নির্দেশ দিয়েছিল কে? খতিয়ে দেখছে পুলিশতদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। মণ্ডপে যখন ভিড়ের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তখন ঠিক কী পরিস্থিতিতে ওই ঘোষণা করা হয়? ঘোষকরা কি নিজেরাই এমন কথা বলেছিলেন, নাকি তাঁদের পিছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করা হলেও তা কীভাবে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সঞ্জীব রাহা ও কুশল মজুমদারদুজনেরই বাড়ি অমর বসু সরণিতে, চোরবাগানের পুজোমণ্ডপ থেকে প্রায় ৫০ মিটারের মধ্যে। বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হওয়া সঞ্জীবকে শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করানোর কথা ছিল বলে জানা গিয়েছিল। দ্বিতীয় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য উঠে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে পুলিশের।চোরবাগানের বিপর্যয় ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। তার মধ্যে মাইকে করা ওই ঘোষণা কেন এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তা তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে গ্রেফতারের পর এবার এই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই নজর কলকাতার।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
রাজ্য

পরকীয়ার সন্দেহে দাম্পত্যে অশান্তি, বাড়ি ফিরতেই চরম পরিণতি! বংশীহারিতে স্বামী খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী

দেড় বছরের দাম্পত্যে তৃতীয় ব্যক্তিকে ঘিরে বিবাদ, ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার স্ত্রী, তদন্তে পুলিশ।পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতে এক যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরেই স্বামীকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মৃতের স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বিকাশ রায়। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি থানার এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কড়ই কলোনির দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় দেড় বছর আগে এলাকারই বাসিন্দা শিউলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সংসার চালানোর জন্য কলকাতায় কাজ করতেন বিকাশ। সেই কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হত তাঁকে।অভিযোগ, বিকাশ বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক অনুপ দাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শিউলি। অনুপ পেশায় টোটোচালক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই সম্পর্কের কথা ক্রমে জানাজানি হয়ে যায়। সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পর বিষয়টি বিকাশেরও নজরে আসে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি বাড়তে থাকে। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল বলে দাবি পরিবারের।ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সকালে। দীর্ঘক্ষণ ধরে বিকাশ ও শিউলিকে ঘরের বাইরে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা বারবার ডাকাডাকি করলেও প্রথমে কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। পরে শিউলি দরজা খুললে ঘরের মেঝেতে বিকাশের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বংশীহারি থানায়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কীভাবে বিকাশের মৃত্যু হল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারের তরফে শিউলির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।বিকাশের পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী যুবকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ, নিজের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই পরিকল্পনা করে তাঁর দাদাকে খুন করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।দেড় বছরের দাম্পত্যের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের পিছনে থাকা সমস্ত তথ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal