• ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

রাজনীতি

বর্ধমানের ভোট লুট নিয়ে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি সিপিএমের যুব নেত্রীর

রাজ্যে ইতিমধ্যেই যে কটি পুরসভার নির্বাচন হয়েছে তার সবকটাতে তৃণমূলেরই জয় জয়কার। আর তৃণমূলের এই জয়কে ভোট লুটের জয় বলে দাবি করে সোচ্চার হয়েছে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারী হবে বর্ধমানসহ পূর্ব বর্ধমান জেলার ৬ টি পুরসভার ভোট।তার প্রক্কালে মঙ্গলবার ভোট লুট নিয়ে বর্ধমানের পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন সিপিএমের যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু সিপিএমের যুব নেত্রীর এই হুঁশিয়ারিকে পরাজয়ের আগে মান বাঁচানোর কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন।বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের আসনে তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছিলেন মীণাক্ষী মুখার্জী। ভোটে পরাজিত হলেও সেই থেকে বাংলার রাজনীতিতে মীণাক্ষী এখন পরিচিত মুখ। বর্ধমানের পুরভোটে সেই মীণাক্ষীকে লড়াইয়ের মুখ হিসাবে সামনের সারিতে রেখেছেন সিপিএম নেতৃত্ব। এদিন বিকালে বর্ধমানের মহকুমা শাসকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে যুব নেত্রী মীনাক্ষী বলেন, বিগত যে কটি পুরভোট হয়েছে সেই ভোটকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। তাই বর্ধমান পৌরসভার ভোটে ভোট লুট আটকানোর জন্য তিনি তাঁর দলের কর্মী ও বাড়ির মা-বোনেদের তৈরি হওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের দিন বহিরাগতরা ভোট লুট করতে এলে যে পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে সেই সব পুলিশ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অফিসেই থাকবে। বাইরে বের হতে দেবেন না। কারণ ওদের কাজ ওরা রাস্তায় করতে পারবে না। তাই ওদের অফিসেই রেখে দিন। দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মীনাক্ষী আরও বলেন, এলাকার তৃণমূলের গুণ্ডা দুস্কৃতিরা যারা ভোট লুট করতে আসবে তাদের দাপটের সঙ্গে বলুন, এক মাঘে শীত যায় না। আজ ভোট লুট করতে এসেছ। কালকে এই পাড়া দিয়েই হেঁটে যেতে হবে। তখন পা নিয়ে হাঁটতে পারবে না।রাজ্যে পুর নির্বাচনকে প্রহসন করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে এদিন প্রতিবাদে সামিল হয় বর্ধমানের সিপিআইএম নেতা ও কর্মীরা। তারা দলের যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জীর নেতৃত্বে পদযাত্রায় অংশ নিয়ে বিকালে বর্ধমানের মহকুমাশাসকের দপ্তরে সামনে হাজির হয়। সেখানে হওয়া সমাবেশেও বক্তব্য রাখেন মীণাক্ষী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মীনাক্ষী দাবি করেন, রাজ্যের চার কর্পোরেশনের ভোটে ব্যাপক বেনিয়ম হয়েছে। মৃত মানুষও ভোট দিয়েছেন। ভোটের দিন পিস্তল; মেশিন নিয়ে গুণ্ডারা দাপিয়ে বেড়িয়েছে।এর নামই কি ভোট? বর্ধমানে পুর পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, বর্ধমানে পুর পরিষেবা তলানিতে পৌছেছে। সময়ে এই পুরসভার ভোট যেমন হয়নি, তেমনই হয়নি কর্মী নিয়োগও। মীণাক্ষী মুখার্জী আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি বর্ধমান পৌরসভার ভোট শান্তিতে করাবার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি রাখেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজ্য

জীবন বাজি রেখে শত চেষ্টা সত্বেও বৃদ্ধাকে বাঁচাতে পারলেন না রেল কর্মী, মেয়ের চোখের সামনেই দুর্ঘটনা

দূরন্ত গতিতে ধেয়ে আসছিল আপ সরাইঘাট এক্সপ্রেস। আর ঠিক ওই সময়েই রেল লাইন পার হতে যাচ্ছিলেন আশি উর্ধ্ব বৃদ্ধা গায়ত্রী ঘোষ। তা দেখে ছুটে যান রেলকর্মী পাঁচুগোপাল দাস। তিনি মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মানেন। আর তারই মধ্যে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বৃদ্ধার দেহ। চোখের সামনে মায়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। সোমবার বিকালে রোমহর্ষক এমনই এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া- বর্ধমানের কর্ড শাখার মসাগ্রাম স্টেশনে। যা চাক্ষুষ করে কার্যত শিউরে ওঠেন মসাগ্রাম স্টেশনে থাকা রেল যাত্রী ও সাধারণ মানুষজন।রাতে ঘটনাস্থলে পৌছে রেল পুলিশ বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করে।মসাগ্রাম স্টেশন আধিকারিকদের কথায় জানা গিয়েছে, বৃদ্ধা গায়ত্রীদেবী বাঁকুড়া জেলার ইন্দাসের বাসিন্দা।এদিন বিকালে কর্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে বৃদ্ধা তাঁর মেয়ে জাইয়ের সঙ্গে মসাগ্রম স্টেশনে নামেন। আনুমানিক বৈকাল ৪ টে ৫০ মিনিট নাগাদ মসাগ্রাম স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নেমে তারা সামনের বিডিআর রেলের স্টেশন প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার জন্য রেল লাইন পার হচ্ছিলেন।বৃদ্ধার মেয়ে ও জামাই রেল লাইন পার হয়ে গেলেও পিছনে পড়ে থাকেন বৃদ্ধা। ওই সময়েই আপ সরাইঘাট এক্সপ্রেস জোরে হর্ণ বাজাতে বাজাতে ওই লাইন ধরে ধেয়ে আসতে থাকে। তা দেখে মেয়ে ও জামাই বৃদ্ধাকে রেল লাইন পার না হয়ে দাঁড়িয়ে যেতে বলেন। কিন্তু কানে মাফলার জড়ানো থাকায় বৃদ্ধা তাঁর মেয়ে জাইয়ের কথা শুনতে পাননি। তিনি লইন পার হওয়ার জন্য আরও এগিয়ে আসেন। ওই সময়ে মসাগ্রাম স্টেশন প্ল্যাটফর্মে ডিউটি করছিলেন রেলকর্মী পাঁচুগোপাল দাস। পরিস্থিতি চাক্ষুষ করে তিনি বুঝতে পারেন বৃদ্ধা আর একটু এগোলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়বেন। তৎক্ষনাৎ রেল কর্মী পাঁচুগোপাল বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য ওই লাইনের দিকে ছুটে যান। কিন্তু দ্রুত ছুটে বৃদ্ধার কাছে পৌছতে গিয়ে পাঁচুগোপালবাবু লাইনের আগে পড়ে যান। পায়ে চোট পেয়ে তিনি আর এগিয়ে যেতে পারেননি। তারই মধ্যে সবার চোখের সামনে সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ছিন্ন বিচ্ছিন হয়ে যায় বৃদ্ধার দেহ।প্রত্যক্ষদ্শী মনোজ সাহানি বলেন, রেল কর্মী পাঁচুগোপাল দাস নিজের জীবন বাজি রেখে বৃদ্ধাকে বাঁচানোর জন্য ছুটে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পেয়ে যাওয়ায় তিন আর এগিয়ে যেতে পারেননি।পড়ে না গেলে তিনি হয়তো বৃদ্ধাকে বাঁচাতে পারতেন। তা আর হল না।সবার চোখের সামনেই ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধার দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার কথা স্বীকার করে নিলেও মসাগ্রাম স্টেশন আধিকারিক এই বিষয়য়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।বাঁকুড়ার ইন্দাস নিবাসী বৃদ্ধার মেয়ে শ্যামলী পাল ও তাঁর স্বামী অমল পাল জানিয়েছেন, সাবিত্রীদেবী তাঁদের কাছেই থাকতেন। শ্যামলী পাল বলেন, আমার ছেলে কর্মসূত্রে হুগলীর ডানকুনিতে থাকে। কিছুদিন আগে বৃদ্ধা মা কে সঙ্গে নিয়ে আমি ও তাঁর স্বামী ডানকুনিতে ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এদিন সেখান থেকেই ফিরছিলেন। কর্ড লাইনের ট্রেনে চড়ে বিকালে মসাগ্রাম স্টেশনে নামার পর সামনে থাকা বিডিআর রেলের স্টেশন প্ল্যাটফর্মের যাবার জন্য সবাই রেল লাইন পার হচ্ছিলেন। শ্যামলীদেবী বলেন, ওই সময়ে আমি ও আমার স্বামী রেল লাইন পেরিয়ে যেতে পারলেও বৃদ্ধা মা লাইন পার হতে না পেরে পিছনে রয়ে যায়। তারই মধ্যে এক্সপ্রেস ট্রেনটিও দ্রুত গতীতে এগিয়ে আসতে থাকে। তা দেখে আমি ও আমার স্বামী চিৎকার করে মাকে দাঁড়িয়ে যেতে বলি। কিন্তু কানে মাফলার জড়ানো থাকায় আমার মা কিচ্ছু শুনতে না পেয়ে আরও এগিয়ে আসতে থাকেন। তারই মধ্যে এক্সপ্রেস ট্রেনটিও অনেকটি কাছাকাছি চলে আসে। ওই পরিস্থিতির মধ্যেই স্টেশন প্ল্যাটফর্মে থাকা এক রেল কর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে আমার বৃদ্ধা মা কে বাঁচাতে দৌড় দেন। চোখের জল মুছতে মুছতে শ্যামলীদেবী এদিন বলেন,মায়ের ভাগ্য সহায় না থাকায় ওই রেলকর্মী পড়ে গিয়ে চোট পেয়ে যাওয়ায় আর এগিয়ে যেতে পারেন না। ট্রেনের ধাক্কায় আমার বৃদ্ধা মা মারা যায়। শাশুড়ি মায়ের এমন করুন পরণতির জন্য জামাই অমল পালও অদৃষ্টকেই দায়ী করেছেন।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২
রাজ্য

শিক্ষাগুরু বাম প্রার্থীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে বর্ধমানে পুরভোটের ময়দান চোষে বেড়াচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী

রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধ রয়েছে ঠিকই। তাবলে পুরভোটের যুদ্ধে নেমে শিক্ষাগুরু ও তাঁর ছাত্রের কেউই পারস্পরিক স্নেহ ভালবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ককে জলাঞ্জলি দিতে চান না। আর সেই কারণেই এবার বর্ধমান পৌরসভার ভোটে সবার নজর কেড়েছে গুরু শিষ্যের লড়াই।যে লড়াইয়ের শেষ ফল দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বর্ধমান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।রাজ্যের যে কটি পৌরসভার নির্বাচন ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে তার সবকটাতেই তৃণমূলেরই জয়জয়কার। এমন ঘাসফুল ঝড়ের মধ্যেই আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি হবে বর্ধমান পৌরসভা ৩৫ টি ওয়ার্ডের নির্বাচন। তার মধ্যে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন নুরুল আলম ওরফে সাহেব। আর তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দি সিপিআইএম প্রার্থী লুৎফর রহমান মুন্সী। যুজুধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর বাড়ি একই ওয়ার্ডে। সেই ওয়ার্ডেরই দুবরাজদিঘী এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান মল্লিক দুবরাজদিঘী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক।আর সেই বিদ্যালয়েই পড়াশুনা করে বড় হয়ে ওঠা ছাত্র নুরুল আলম আজ তাঁর প্রতিদ্বন্দি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। একজন বয়সে প্রবীন হলেও আপাদমস্তক কমিউনিষ্ট। অপর জন তৃণমূলের তরুণ তুর্কী নেতা।সে যাইহোক ভোট যুদ্ধে অংশ নিয়ে দুজনের কেউ এই বিষয়টিকেই বেশী গুরুত্ব দিতে চান না। বরং দুজনেই চান ভোট যুদ্ধের ময়দানেও অটুট থাকুক গুরু ও শিষ্যের পারস্পরিক স্নেহ ও শ্রদ্ধার বন্ধন। তাই প্রতিদিন ভেটের প্রাচার নেমেই সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে শিষ্য নুরুল পৌছে গেলেন শিক্ষা গুরু লুৎফর রহমান মুন্সীর বাড়িতে। শিক্ষা গুরুর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে গুরুর কাছেও ভোট ভিক্ষা চাইলেন ছাত্র। পাল্টা শিক্ষা গুরুও তাঁর শিষ্যকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আশীর্বাদ ও শুভকামনা জানালেন। একই সঙ্গে শিক্ষক লৎফর রহমান সবাইকে শুনিয়ে বললেন ,আজকের দিনে রাজনীতিতে আমার ছাত্র নুরুলের মত যুবশক্তির উঠে আসা প্রয়োজন রয়েছে। ভোটের দিন লুৎফর রহমান মুন্সী কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ হয়তো নুরুল আলমকে ভোট দেবেন না। তবুও রাজনৈতিক সৌজন্যতার এই দৃশ্য চাক্ষুষ করে কার্যতই অবিভূত দুবরাজদিঘীর বাসিন্দারা। শিক্ষা গুরুর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে সোমবার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলি গলি ঘুরে নুরুল সারলেন ভোটের প্রচার।নুরুল আলম এদিন বলেন, আমার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময়েই দলের সবাইকে রাজনৈতিক সৌজন্যতা বজায় রেখে চলার বার্তা দেন। নিজেকে বিনয়ী রেখে সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের সাথী হবার কথা বলেন। সেই আদর্শেই আমি দীক্ষিত।শিক্ষা গুরু আমার প্রতিদ্বন্দি হলেও তিনি আমার গুরুই। তাই ভোট যুদ্ধে শিক্ষা গুরুর আশীর্বাদ মাথায় থাকাটাও বড় প্রাপ্তি। বাকিটা বিচার করবেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জনতা জনার্দন। অন্যদিকে সিপিআইএম প্রার্থী লুৎফর রহমান মুন্সী বলেন, আমার ছাত্র নুরুল আলমের সৌজন্যতা বোধ আমায় মুগ্ধ করেছে। ওর ভবিষ্যৎ জীবন ভালো হোক এই শুভ কামনাই করছি। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস জানিয়েছেন, বর্ধমান পুরসভায় লড়াইটা মূলতই তাঁদের সঙ্গে সিপিএমেরই। তবে তিনি আশাবাদী বর্ধমান পৌরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাই জয়ী হবেন।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

স্কুলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট, তবুও এসেছে প্রায় লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পুর্ব-বর্ধমানে রায়নার স্কুল

বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যালয়ে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট। তা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ দফতর পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ ব্লকের একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে প্রায় লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল। শুধু এত বিশাল পরিমান টাকার বিদ্যুৎ বিল পাঠানোই নয়।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই বিল সংশোধনের আবেদন করার পর উল্টে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।তার কারণে এখন বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন জারি রাখার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে চুড়ান্ত অচলাবস্থা। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ ও স্কুল দফতর সহ প্রশাসনের নানা মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিদ্যালের প্রধান শিক্ষক। কিন্তু সুরাহার কোনও ব্যবস্থা হয়নি। সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই কথা মাথায় রেখে প্রশাসন কি ব্যবস্থা করে সেই দিকেই এখন তাকিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পড়ুয়ার।বিদ্যালয় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মইদুল হক জানান, প্রথম থেকেই রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের দেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল তাঁর বিদ্যালয়ে।পরবর্তী সময়ে রাজ্য সরকার বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎতের চাহিদা মেটাতে সৌরশক্তির উপর ভরসা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।সেই মত ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট চালু হয়। সেই সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট থেকে বিদ্যালয়ও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়।তার পরেই বিদ্যুৎ দফতর বিদ্যালয়ে থাকা পূর্বের মিটার রিডিং যন্ত্রটি খুলে নিয়ে নেট মিটার যন্ত্র লাগিয়ে দেয়।প্রধান শিক্ষক তাঁর অভিযোগে বলেন, ওই নেট মিটার যন্ত্র লাগানো হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন কেটে গেলেও বিদ্যুৎ দফতরের কেউ মিটার রিডিং দেখতে আসেনি।তারই মধ্যে করোনা অতিমারির প্রভাব বেড়ে যায়। তার কারণে রাজ্য সরকার স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ও বন্ধ থাকে। এর পরেও ২০২১ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ দফতরের লোকজন মিটার রিডিং সংগ্রহ করতে আসেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিদ্যুৎ দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তার পর বিদ্যুৎ দফতরের লোকজন মিটার রিডিং নিয়ে যায়। পরে তারা ৯৮ হজার ৭৮৮ টাকার বিদ্যুৎ বিল বিদ্যালয়ে পাঠায়।এত বিপুল পরিমাণ টাকার বিল সঠিক মনে না হওয়ায় এরপর তিনি বিল সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ দফতরে লিখিত আবেদন করেন।কিন্তু সেই আবেদন গ্রাহ্য না করে উল্টে বিদ্যুৎ দফতরের কোন নোটিশ না দিয়েই ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর লোকজন পাঠিয়ে বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।এদিকে বিদ্যুৎ না থাকার তার কারণে এখন বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন চালু রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।পড়ুয়ারা জানিয়েছে, বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁরা কম্পিউটার ক্লাস করতে পারছে না।পাম্প চালাতে পারা না যাওয়ায় স্কুলে পানীয় জলও পাওয়া যাচ্ছে না।এমনকি জলের অভাবে সাফাই কাজ বন্ধ থাকায় স্কুলের শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে।মিড ডে মিল রান্না করার জন্য দূর থেকে জল আনাতে হচ্ছে। এছাড়াও পড়ুয়াডের সরকারী সূযোগ সুবিধা পাবার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষে অনলাইনে যে যে বিষয়ে আবেদন করতে হয় সেই কাজও করতে পারা যাচ্ছেন না বলে পড়ুয়ারা অভিযোগ করেছে।বিদ্যুৎ বিল সঠিক মনে না হওয়ার কারণ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মহম্মদ মইদুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে থাকা সৌরবিদ্যুৎ ইউনিট থেকে কতটা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় তার হিসাব নেট মিটার যন্ত্রে দেখা যায়।উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিদ্যালয় তার প্রয়োজন মত ব্যবহার করার পর বাকি সবটা বিদ্যুৎ দফতর নিয়ে নেয়।অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর ধরে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল।তাহলে আমাদের বিদ্যালয় বিদ্যুৎ খরচ করলো কোথায়! প্রধান শিক্ষক এও দাবি করেন, অতিমারির কারণে তাঁদের বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময়ে উৎপাদিত সমস্ত সৌরবিদ্যুৎ বিদ্যুৎ দফতরই গ্রহন করেছে।কিন্তু বিলে বিদ্যুৎ দফতর কতটা সৌরবিদ্যুৎ গ্রহন করেছে আর বিদ্যালয় কতটা বিদ্যুৎ খরচ করেছে তার কোন হিসাবও দেওয়া হয় নি। নেট মিটারে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎতের যে হিসাব ধরা পড়েছে তার সবটাই একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবহার করেছে দেখিয়ে মনগড়া বিল তৈরিকরে বিদ্যুৎ দফতর বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন।প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ওই বিল পাওয়ার পর তিনি সৌরবিদ্যুৎ বিভাগের (ডাব্লুবিআরইডিএ) সুপারেনটেন্ডেন্ট ইঞ্জিয়ার পিসি রাউতকে বিস্তারিত জানান। উনি সবকিছু খতিয়ে দেখে জানান, নেট মিটার রিডিং ফলো করে ডাব্লু বি এ সি ডি সি এল বিল পাঠিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সিস্টেম মেনে ওই বিলে উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎতের পরিমাণ ও স্কুল কতটা বিদ্যুৎ ব্যায় করেছে তার হিসাব আলাদা করা হয়নি। তার কারণেই এই সমস্যা তেরি হয়েছে।প্রধান শিক্ষক বলেন,সুপারেনটেন্ডেন্ট ইঞ্জিয়ার তাঁকে জানিয়েছেন, এমন সমস্যা শুধু একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই তৈরি হয় নি। রায়না ও ভাতার এলাকার আরও তিনটি বিদ্যালয় সহ রাজ্যের ১৪ টি বিদ্যালয়ে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে ।এই বিষয়ে যদিও বিদ্যুৎ দফতরের রায়নার সেহারাবাজারের স্টেশন ম্যানেজার জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী সংবাদ মাধ্যকে কোনকিছু জানাতে অস্বীকার করেন।তবে রায়না ২ ব্লকের বিডিও অনিষা যশ জানিয়েছেন, উদ্ভুত সমস্যার সমাধানে আগামী মঙ্গলবার তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ,বিদ্যুৎ দফতর ও পঞ্চায়েত সমিতির কার্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর আগে একলক্ষী উচ্চ বিদ্যালয় যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ পায় সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২
রাজ্য

শতাধিক কচ্ছপসহ বর্ধমান স্টেশন থেকে গ্রেফতার ভিন রাজ্যের দুই মহিলা

কচ্ছপ পাচার করতে গিয়ে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ল ভিন রাজ্যের দুই মহিলা। রবিবার সকালে বর্ধমান স্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি ও আরপিএফ আলাদা আলাদা ভাবে অভিযানে নেমে কচ্ছপ উদ্ধার করে।কচ্ছপ পাচারের ঘটনার জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে দুই মহিলা। ধৃতদের নাম পান্নি ও সিমা। তাঁদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের পাকড়ী থানার সুলতানপুরে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে এদিনই ধৃতদের পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। বিচারক ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতো পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আরপিএফের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন সকালে আরপিএফ বর্ধমান স্টেশনে রুটিন তল্লাশি চালানোর সময় ডাউন হাওড়া-চম্বল এক্সপ্রেসের এস-১ কম্পার্টমেন্টে দুটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে। সন্দেহ হওয়ায় আরপিএফ দুটি ব্যাগ উদ্ধার করে। ব্যাগগুলির মুখ খোলা হলে তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ৩৯ টি কচ্ছপ।অন্যদিকে এদিন সকালে জিআরপি বর্ধমান স্টেশনে স্পেশাল চেকিং চালানোর সময় ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের হাওড়ার দিকে দুটি থলি ও পিটব্যাগ নিয়ে থাকা দুই মহিলাকে দেখে। সন্দেহ হওয়ায় জিআরপি ওই মহিলাদের কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৭২টি কচ্ছপ। কচ্ছপ পাচারের অভিযোগে জিআরপি দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২২
রাজ্য

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক

মাছ নয়, দিঘির জল থেকে উদ্ধার হল আস্ত একখানি মোটরবাইক। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমরাল দিঘী এলাকায়। দীঘিতে মাছ ধরার জন্য জাল টানা হলে দিঘির জলে কোথাও একটা জায়গায় বারবার জাল আটকে যেত। শনিবার ফের জাল নামানোর আগে দিঘির চাষিরা নিজেরা জলের তলায় সেই জায়গাটিতে নেমে দেখেন কেন বারবার এই জায়গায় জাল আটকে যায়। তারপর তারা দেখেন কোন একটা ভারী বস্তু জলের তলায় পড়ে রয়েছে। চাষীরা সেই বস্তুটি সঙ্গে রসার দড়ি বেঁধে জলের তলা থেকে দিঘির পারে টেনে তোলে দেখেন আস্ত একটি মোটর বাইক জলের তলায় পড়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে চাষিরা খণ্ডঘোষ থানায় খবর দেন, খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ মোটরবাইকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তবে কিভাবে জলের তলায় মোটরবাইক এল, কেনই বা এল, সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ।লকাই ঘোষ বলেন, মোটর বাইকটি কেন দিঘীর জলে ফেলে দিল তা নিয়ে রহস্য উন্মোচন হওয়া দরকার। স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক ঘোষ বলেন, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয় বাইকটি কার নামে আছে।তবে গ্রামের বাসিন্দাদের ধারণা এটা চোরাই বাইক।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২
রাজ্য

বাড়িতে কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দি

কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া এক বন্দি। মৃতর নাম উদয় মালিক (৪০)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার শ্যামসুন্দরে। বৃহস্পতিবার সকালে উদয় মালিক নিজের বাড়িতেই কীটনাশক খেয়ে নেন। আশঙ্কাজনক অবস্থা তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাতে সেখানেই তিনি মারা যান। এই ঘটনা জানার পরেই নড়েচড় বসেছে প্রশাসন ও সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,প্যারোলে মুক্ত থাকা বন্দির মৃতদেহের এদিন ময়নাতদন্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তও শুরু করেছে। পাশাপাশি বর্ধমানের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রে এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার জন্য ষষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দির আত্মঘাতী হওয়ার বিষয়টি সম্বন্ধে রাজ্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। তা ছাড়াও সংশোনাগার কর্তৃপক্ষ কারাদফতরের উচ্চ মহলেও বিষয়টি জানিয়েছে। বর্ধমান থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের লালগোলা সংশোধনাগারে ছিলেন উদয় মালিক। কোভিড পরিস্থিতির জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

কালনায় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে মামলার প্রস্তুতি শুরু সিপিএমের

পরপর দুবার সিপিএমের প্রার্থী হয়ে পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। এবারও সিপিএম পূর্ব বর্ধমানের কালনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী করেছিল মণিপ্রভা ভাদুড়িকে। কিন্তু কালনা পৌরভার অস্থায়ী কর্মী হয়ে তাঁর ভেটে লড়াটা মেনে নেননি প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী সুনীল চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে কালনার মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানান। তার কারণে রাজ্য নির্বাচন কমিশন বৃহষ্পতিবার স্ক্রুটিনির দিনে সিপিএম প্রার্থী মণিপ্রভাদেবীর মনোনয়ন বাতিল করে দেয়। পৌরসভার একই কাজে যুক্ত থেকে ইতিপূর্বে দুবার ভেটে লড়ে কাউন্সিলার হওয়া মণিপ্রভাদেবীর মনোনয়ন এবার কমিশন বাতিল করায় বেজায় চটেছে সিপিএম নেতৃত্ব। তাঁরা বিয়টি নিয়ে আদালের দ্বারস্থ হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিপিএমের হয়ে মণিপ্রভা ভাদুড়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী সুনীল চৌধুরী কালনা মহকুমা শাসকের দফতরে অভিযোগ জানান। তার অভিযোগ, মণিপ্রভা ভাদুড়ী কালনা পৌরসভার বেতনভুক স্বাস্থ্যকর্মী। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্কুটিনির দিনে সিপিএম প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। পৌরসভা থেকে তিনি বেতন পান।সেই তথ্য মহকুমা শাসকের দফতরে তিনি দাখিল করে মণিপ্রভাদেবীর প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে পৌর নির্বাচন বিধি মেনে কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়েছে। যদিও তৃণমূল প্রার্থীর আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে সিপিএম প্রার্থী মণিপ্রভা ভাদুড়ি বলেন, আসলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিততে চান। তাই তিনি এমন অভিযোগ করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে। মণিপ্রবাদেবী দাবি করেন, তিনি পৌরসভার স্বাস্থ্য কর্মী নন। তাই পৌরসভা থেকে বেতন পান না। তিনি একটি সংস্থার অধীনস্ত স্বাস্থ্যকর্মী। ওই সংস্থা থেকে তিনি বেতন পান। মণিপ্রভাদেবী বলেন, ভোটে লড়ে জিততে পারবেন না বলে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল প্রার্থী মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। আর সেটাকেই মান্যতা দিয়ে তাঁর মনোনয়ন কমিশন বাতিল করে দিয়েছে।এই বিষয়ে সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, আমরা আইনের পথে যাব। তার প্রস্তুতিও শুরে করে দেওয়া হয়েছে। কারণ একই কাজ করেও এর আগেও দুবার মণিপ্রভা ভাদুড়ী কাউন্সিলর ছিলেন। তাহলে এখন হঠাৎ করে আইনের কি পরিবর্তন হল? যদি পরিবর্তন হয়েও থাকে তাহলে তা সর্বদলীয় বৈঠকে প্রশাসন জানালো না কেন? যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, আইন তো সবার জন্য সমান। সিপিএম প্রার্থীর জন্য তো আলাদা আইন হতে পারে না। এদিকে মণিপ্রভাদেবীর মনোনয়ন বাতিল করা নিয়ে সিপিএমের নেতারা যখন সোচ্চার তখন পৌরভোট নিয়ে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা এদিন জানিয়ে দিল জেলা প্রশাসন। এদিন সর্বদলীয় বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জেলাশাসক প্রিয়ংকা সিংলা বলেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, দাঁইহাট, মেমারি ও গুসকরা পৌরসভার নির্বাচন হবে। ভোটে এই ছটি পুরসভার প্রতিটি বুথে সিসি ক্যামেরা থাকবে। সিসি ক্যামেরা ছাড়াও প্রতিটি বুথে থাকবে দুজন করে সশস্ত্র পুলিশ।এছাড়াও প্রতিটি পৌরসভার জন্য একজন করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। জেলার জন্যেও বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আরও জানানো হয়েছে, ছটি পৌরসভার ১১৯টি ওয়ার্ডে ৪ লক্ষ ৬২হাজার ৮৪৮ জন ভোটার রয়েছেন। ২৪১টি চত্বরে ৫৭১টি বুথে ভোট নেওয়া হবে। সব ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেই বিষয়টি সুনিশ্চিৎ করার জন্য এদিন সর্বদলীয় বৈঠকে জেলশাসক আবেদন রাখেন।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা হাওড়াগামী সুপারফাস্ট ট্রেনের, প্রশংসিত গেটম্যান

চলন্ত ট্রেনের যাত্রী কামরার নীচে দাউদাউ করে জ্বলছিল আগুন। তা দেখে ট্রেনের গার্ড সহ স্টেশন কর্তৃক্ষকে সতর্ক করেন গেটম্যান। আর গেট ম্যানের এই তৎপরতার জেরেই শুক্রবার বড়সড় অঘটনের হাত থেকে রক্ষা পেলেন ডাউন শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসের যাত্রীরা।হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার ডাউন লাইন ধরে এদিন দুপুরে শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া যাচ্ছিল। পথে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানা এলাকার মসাগ্রাম স্টেশন পেরিয়ে ট্রেনটি এগিয়ে যেতে থাকে। ওই সময়ে মসাগ্রাম লেভেল ক্রশিংয়ে থাকা গেটম্যান সৌমেন সাঁতরা শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেসের চালকের ইঞ্জিনের পরের যাত্রী কামরার নিচে আগুন জ্বলতে দেখেন। আগুন দেখেই গেটম্যান তৎক্ষণাৎ খবর দেন স্টেশন ম্যানেজারকে। এই খবর পাওয়ার পর এক মুহুর্ত আর দেরি না করে স্টেশন ম্যানেজার ট্রেনের চালককে সতর্ক করেন। তৎতক্ষণাৎ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক ট্রেনটি রেলগেটের অদূরে দাঁড় করিয়ে দেন।আগুন লাগার খবর জানতে পেরে ট্রেন যাত্রীদের কামরা ছেড়ে লাইনে নেমে পড়ে। নিমিষে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। যদিও চালক ও রেল কর্মীদের তৎপরতায় আগুন ভয়াবহ রুপ নিতে পারেনি। মসাগ্রাম স্টেশন ম্যানেজার এ কে বালা জানিয়েছেন, এদিন দুপুর ২টা ৪০ মিনিট নাগাদ ডাউন ২৩৩৮ শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস মসাগ্রাম স্টেশন পার হয়।ট্রেনটি মসাগ্রাম লেবেল ক্রসিং পার হয়ে যাওয়ার সময় গেটম্যান সৌমেন সাঁতরা ট্রেনটির ইঞ্জিনের পরের যাত্রী কামরার নিচে আগুন জ্বলতে দেখেন। তা দেখেই গেটম্যান তাঁকে ঘটনার কথা জানায়। তৎক্ষণাৎ তিনি বিষয়টি ট্রেনের চালককে জানান। চালক মসাগ্রাম রেল গেটের অদূরে ট্রেন দাঁড় করিয়ে দিয়েই ইঞ্জিনে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশার বের করে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। একে বালা আরও জানান, এর খানিক পরেই তিনি ও অন্য রেল কর্মীরা মিলে দুটি ফায়ার এক্সটিংগুইশার সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সবাই মিলে ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় রেল আধিকারিকদের পাশাপাশি রেল যাত্রীদেরও দুশ্চিন্তা কাটে। ঘটনার পর থেকে প্রায় এক ঘন্টা পর ৩ টে ১৩ মিনিট নাগাদ ডাউন শান্তি নিকেতন এক্সপ্রেস মসাগ্রাম থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে ফের রওনা দেয় বলে স্টেশন ম্যানেজার জানিয়েছেন। আগুন লাগার কারণ প্রসঙ্গে স্টেশন ম্যাণেজার বলেন,হাইড্রোলিকের গা ঘেঁষে থাকা ট্রেনের চাকার ব্রেক জ্যাম হয়ে যাবার কারণে আগুন ধরে গিয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে রেলের মেকানিকরা সঠিক কারণ জানাতে পারবে। স্টেশান ম্যাণেজার এও বলেন, আগুন নেভার পর বোঝা গিয়েছ ট্রেনটি নিরাপদেই হাওড়া যেতে পারবে। বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হওয়ার জন্য স্টেন কর্তৃপক্ষ গেটম্যান সৌরভ সঁতরার প্রশংসা করেছেন।গেটম্যান সৌরভ সাঁতরা বলেন, ডাউন শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস ট্রেনটি লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময়েই ইঞ্জিনের পিছনের বগির নীচে আগুন জ্বলতে দেখে ট্রেনটির গার্ডকে লাল পতাকা দেখান। পাশাপাশি স্টেশন ম্যানেজারকেও খবর দেন। চালক রেল গেট পার করেই ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর চালক সহ রেল কর্মীদের সবার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় কোন অঘটন ঘটেনি। ট্রেনের যাত্রীরা একই ট্রেনে চড়ে নিরাপদেই গন্তব্যের উদ্দেশ্য রওনা হতে পেরেছেন।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

বাসে চালকলের মালিকের ব্যাগ থেকে ২ লক্ষাধিক টাকা গায়েব, গ্রেফতার দুই মহিলা

যাত্রী সেজে বাসে উঠে এক চালকল মালিকের হাতে থাকা ব্যাগ থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে পগারপাড় হয়ে যায় দুই মহিলা। তবে অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশের তৎপরতায় বুধবার রাতে ধরা পড়ে যায় কেপমারি চক্রের দুই মহিলা আয়েষা রায় ও এসবেরিয়া বেদি। তবে অবশ্য কেপমারি হওয়া চালকল মালিকের লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার হয়নি। এই ঘটনা যথেষ্টই শোরগোল ফেলে দিয়েছে ভাতারের ব্যবসায়ী মহলে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বছর ত্রিশ বয়সী আয়েষা রায় ও এসবেরিয়া বেদির বাড়ি বীরভূম জেলার আমোদপুর থানার সাহানিপুরে। কেপমারিতে জড়িত থাকার কথা ধৃতরা কবুল করেছে বলে পুলিশের দাবি। কেপমারি হওয়া টাকা উদ্ধার ও চক্রের চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে। বৃহস্পতিবার দুই ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশ ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়।বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, টাকা খোয়ানো চালকল মালিক অরূপ ভট্টাচার্যের বাড়ি জেলার রায়না থানার সেহারাবাজারে। ভাতারের নর্জায় তাঁর একটি চালকল রয়েছে। লিখিত অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ভাতার থানায় জানান,অন্য ব্যাবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা আনতে ওইদিন দুপুরে তিনি বর্ধমান শহরে গিয়েছিলেন। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট ২ লক্ষ ৪১ হাজার ২৩০ টাকা সেদিন সংগ্রহ করেন। একটি হাত ব্যাগে সেই টাকা ভরে নিয়ে তিনি বাসে চেপে মিলে ফিরছিলেন। বাসটি দেওয়ানদিঘি স্টপেজে দাঁড়াতেই কয়েকজন মহিলা শিশুসন্তান কোলে ওই বাসে ওঠে। মহিলারা তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। বাস ভিড়ে ঠাসা থাকার কারনে তিনি অন্যত্র সরতে পারেননি। ফলে গাদাগাদি সহ্য করেই বাসে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। অরুপবাবু জানান, খানিক বাদে ওই মহিলা দলটি মাঝ রাস্তায় বাস থেকে নেমে পড়ে। ভিড় একটু খালি হতেই তিনি দেখেন তাঁর হাত ব্যাগের নিচের দিকের কিছুটা অংশ ধারালো কিছু দিয়ে কাটা। ব্যাগে যে টাকা রেখেছিলেন সেই টাকা আর ব্যাগে নেই। কেপমারির শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে অরূপবাবু নর্জায় আর না নেমে সোজা ভাতার থানায় চলে আসেন। থানার পুলিশ কর্তাদের কাছে তিনি সমস্ত ঘটনার কথা খুলে বলে অভিযোগ দায়ের করেন।চালকল মালিকের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই ভাতার থানার পুলিশ নড়েচড়ে বসে। দেওয়ানদিঘির মুখে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য সড়কে পুলিশ অভিযানে নামে। তখনই কর্জনার কাছে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় আয়েষা রায় নামে এক মহিলা। তাঁকে জেরা করে পুলিশ বীরভূমের আমাদপুরের এসবেরিয়া বেদির নাম জানতে পারে। রাতে পুলিশ আমাদপুর থেকে এসবেরিয়াকেও পাকড়াও করে। এরপর দুই মহিলাকে একসঙ্গে থানায় বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ভাতার থানার পুলিশ অফিসাররা। জেরায় ধৃতরা পুলিশকে জানায়, বেশ কিছু দিন ধরে তারা অরূপ ভট্টাচার্যের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। এরপর তারা বুধবার পরিকল্পনা মাফিক স্বদলবলে বাস উঠে অপারেশন চালিয়ে চালকল মালিকের ব্যাগ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যজুড়ে পুরভোটের মুখে কেতুগ্রামে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ-গ্রেফতার তিন

ক্লাবঘরে বসে বোমা বাঁধার সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ায় আহত হল এক দুস্কৃতী। বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম-১ ব্লকের আনকোনা পঞ্চায়েতের ইছাপুর গ্রামে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তারা ঘটনাস্থল থেকে ১১ টি তাজা বোমা ও বেশ কিছু পরিমাণ বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার করে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ আহত একজন সহ মোট ৩ দুস্কৃতীকে গ্রেফতার করে। এদিকে পুরভোটের সময়ে ঘটনা ক্লাবঘরে বসে বোমা তৈরির ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর।পুলিশ জানিয়েছে, বোমা কাণ্ডে ধৃতদের নাম বিকাশ ঘোষ, অপূর্ব পাল ও উৎপল দাস। ধৃতদের মধ্যে প্রথম দুজনের বাড়ি কেতুগ্রাম থানার ইছাপুর ও মহুলা গ্রামে। উৎপল মুর্শিদাবাদের সালার থানার মাখালতোড় উত্তর মাঝিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এলাকা সৃত্রে খবর, বোমা বিস্ফোরণে বিকাশ ঘোষের একটি হাতের তালু কার্যত উড়ে যায়। সঙ্গীসাথীরা তাঁকে লুকিয়ে স্থানীয় এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। তারই মধ্যে এই খবর পৌছে যায় কেতুগ্রাম থানায়। পুলিশ তিন জনকেই ধরে ফেলে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বৃহস্পতিবার তিন ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে পেশ করে। বিচারক ধৃতদের ১৪ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া বোমা এদিন নিস্কৃয় করে বোম স্কোয়াড। ঘটনার বিষয়ে কেতুগ্রামের তৃণমূলের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ দাবি করেছেন, ওই ক্লাবটি বিজেপি আশ্রিত দুস্কৃতিদের দ্বারা পরিচালিত হয়। অশান্তি পাকানোর জন্য বিধানসভা ভোটের আগে ওই ক্লাবঘরে বোমা মজুত করেছিল বিজেপির দুস্কৃতিরা। বিষয়টি জানতে পেরে তখন তিনি পুলিশকেও জানিয়ে ছিলেন। বাস্তবেই যে ওই ক্লাব ঘরে বসে বিজেপির দুস্কৃতিরা বোমা বাঁধে তা এবার প্রমাণ হয়ে গেল। তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যের বিরোধিতা করে কেতুগ্রামের বিজেপি নেতা অনিল দত্ত বলেন, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই । তৃণমূলের চক্রান্তেই এই ঘটনা ঘটেছে ।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

বিষক্রিয়ায় মর্মান্তিক পরিণতি একই পরিবারের দুই শিশুর, হাসপাতালে ভর্তি ওই আরও চার

অজানা বিষক্রিয়ার ফলে মৃত্যু হল একই পরিবারের দুই শিশু সন্তানের। মৃতরা হল শুভঙ্কর ঘোষ (১২) ও রাহুল ঘোষ(৯)। তারা সম্পর্কে দুই ভাই। অসু্স্থ হয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পরিবারের আরও চার সদস্য। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে শহর বর্ধমানের রথতলা এলাকায়। ঘটনা নিয়ে এলাকায় জনমানসে ব্যাপক চাঞ্চল্যও চড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃত কি কারণে দুই শিশুর মৃত্যু হল তার তদন্ত শুরু করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহর বর্ধমানের রথতলা এলাকায় বাড়ি মৃত শিশুদের পরিবারের। খাবারে বিষক্রিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে মৃত দুই শিশুর বাবা রবি ঘোষ, দিদি শর্মিলা ঘোষ, ঠাকুরমা সন্ধ্যা ঘোষ ও পিসি শমিষ্ঠা ঘোষ। রবি ঘোষ বর্ধমান সিএমওএইচ অফিসের গাড়ির চালক। এদিন হাসপাতালের বেডে শুয়েই বাবা রবি ঘোষ বলেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁদের বাড়িতে মাংস রান্না হয়। মাংস খাওয়ার পর থেকেই একে একে তাঁদের পরিবার সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বুধবার সবার চিকিৎসা হলেও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পরিবারের সবার অসুস্থতা বাড়ে। তাই সবাই এদিন সকালে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই পরিবারের দুই শিশু সন্তান শুভঙ্কর ও রাহুলের মৃত্যু হয়। মৃত শিশুদের দিদিমা আভা চন্দ্র বলেন, বাড়িতে ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ায় ইঁদুর মারার বিষ দেওয়া হয়েছিল। আভাদেবীর অনুমান ইঁদুর মারার ওই বিষ কোনভাবে বাড়িতে রান্না হওয়া খাবারে মিশে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে গেল। তার জেরে অকালে প্রাণ গেল তাঁর দুই নাতির। মৃতদের প্রতিবশী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অসুস্থ হয়ে পড়া ঘোষ পরবারের সদস্যদের তাঁরাই এদিন সকালে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু ওই পরিবারের দুই শিশু সন্তান মারা যাবে এটা তাঁরা কেউ কল্পনাও করতে পারেন নি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তপস ঘোষ জানিয়েছেন, অজানা বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কি থেকে বিষক্রিয়া তা জানার জন্য এদিনই দুই শিশুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে আসলেই কি থেকে বিষক্রিয়া তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

মদ্যপ যুবকদের বেধরক পিটুনিতে মৃত্যু প্রতিবাদী যুবকের, ধৃতদের ফাঁসির দাবিতে ফুঁসছে কাটোয়া

চিকিৎসকরা প্রতিবাদী যুবককে প্রাণে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হল না। টানা পাঁচ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলেই ঢলে পড়লেন মদ্যপ যুবকদলের মারধরে গুরুতর জখম হওয়া পার্থপ্রতিম ঘোষ(৩৩)। তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের নন্দলাল বসু রোডে। সরস্বতী পুজোর রাতে মদ্যপ যুবকের দল এলাকায় তাণ্ডব শুরু করলে পার্থপ্রতিম তার প্রতিবাদ করে রুখে দাঁড়ায়। তার কারণে ওই মদ্যপ যুবকরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে পার্থপ্রতিমের উপর চড়াও হয়ে তাঁকে ব্যাপক মারধর করে। মাথায় গুরুতর চোট নিয়ে সেই দিন থেকে পার্থপ্রতিম বর্ধমানের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই খবর এদিন ছড়িয়ে পড়তেই কাটোয়া শহরজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পার্থপ্রতিমকে মারধোরের ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের সকলের ফাঁসির দাবিতে সরব হয়েছে কাটোয়াবাসী । কাটোয়া শহরের নন্দলাল বসু রোডের বাসিন্দারা এদিন জানান, পার্থপ্রতিম কাটোয়া পুরসভায় অস্থায়ী কর্মী ছিলেন। বছর ছয়েক আগে তাঁর বিয়ে হয়। বাড়িতে রয়েছেন পার্থপ্রতিমের বাবা, মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তান। ক্রিকেট খেলাতেও পার্থপ্রতিম যথেষ্ট পারদর্শী ছিল। অত্যন্ত ভদ্র সভ্য এই যুবক কোথাও কোন অন্যায় দেখলেই রুখে দাঁড়াতন। সেই প্রতিবাদী যুবককে মদ্যপ যুবকের দল হত্যা করায় ক্ষোভে ফুঁষছেন কাটোয়াবাসী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সরস্বতী পুজোর রাতে ১০-১২ জনের মদ্যপ যুবকের একটি দল এলাকার দোকান ঘরের শাটার ও গৃহস্থের বাড়ির গেট ভাঙচুর করা শুরু করে। তা দেখে প্রতিবাদ না করে থাকতে পারেননি পার্থপ্রতিম। সে তাঁর দুই প্রতিবেশী বন্ধু অপরূপ চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জয় সিংকে সঙ্গে নিয়ে মদ্যপ যুবকদের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ওই সময় মদ্যপ যুবকরা লাঠি-সোঁটা, ইঁট-পাটকেল নিয়ে পার্থপ্রতিম ও তার বন্ধুদের উপর হামলা চালানো শুরু করে। তখন প্রাণ বাঁচাতে দুই বন্ধু লুকিয়ে পড়লে মদপরা পার্থপ্রতিমকে একা পেয়ে তাঁকে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় পার্থপ্রতিম ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তখনও রেহাই মেলেনি। হামলাকারীদের একজন সরস্বতী পূজো মণ্ডপে সাজিয়ে রাখা একটি ভারি ফুলের টব তুলে এনে সজোরে পার্থপ্রতিমের মাথায় মারে। মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্তপাত শুরু হয়। পার্থপ্রতিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, মরে গেছে ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অপরূপ ও সঞ্জয় এরপর চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে স্থানীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পার্থপ্রতিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে।এই ঘটনা নিয়ে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কাটোয়া থানার পুলিশ স্থানীয় ছোট্ট চন্দ্র, বাবু রায়, হুলু পণ্ডিত, সোমনাথ থাণ্ডার, মানিক পণ্ডিত সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে। দুদফায় কাটোয়া থানার পুলিশ ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এখন জেল হেফাজতে থাকা ওই সকল ধৃতের বুরুদ্ধে খুনের ধারা সংযুক্ত করে তাদের ফাঁসির শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি করেছেন মৃতর পরিজন ও কাটোয়া শহরের বাসিন্দারা।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

’পাড়ায় শিক্ষালয়ের’ প্রাঙ্গন মাতাচ্ছে বর্ধমানের চতুর্থ শ্রেণীর খুদে পড়ুয়া

করোনা অতিমারীর প্রভাব শিথিল হতেই খুদে পড়ুয়াদের স্বার্থে রাজ্য সরকারের নির্দেশে শুরু হয়েছে পাড়ায় শিক্ষালয়। সেই শিক্ষালয় নিয়েই গান রপ্ত করে গেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে খুদে ছাত্র অভিষেক সানা। পূর্ব বর্ধমানের বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অভিষেকের গাওয়া গান পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচীকে মাধুর্য দিয়েছে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের কর্তারা। তাঁদের মতে, অভিষেকের গাওয়া গান খুদে পড়ুয়াদের পাড়ার শিক্ষালয় মুখী হতে উৎসাহ যোগাচ্ছে। করোনা অতিমারীর বাড়বাড়ন্তে তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক।তার কারণে প্রায় দুবছর ধরে এই রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে স্কুলমুখী আর হতে না পেরে খুদে পড়ুয়াদের দিন কাটছিল ঘরে বন্দি থেকেই । শুধু তাই নয়, করোনা স্কুল গুলি থেকে কেড়ে নিয়েছিল পড়ুয়াদের কোলাহলও। বাজেনি স্কুলের ক্লাস শুরুর ঘন্টা। ক্লাসের চেয়ার, টেবিল সবেতেই পড়ে গিয়েছিল ধুলোর আস্তরণ । চলতি সময়ে সংক্রমণ শিথিল হতেই এই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে জোরদার আন্দোলনে নামে। পড়ুয়াদের অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে সরব হন। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলাও হয়। এরপরেই রাজ্য সরকার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফের খুলে যায় এই রাজ্যের সমস্ত স্কুলের সদর দরজা। পড়ুয়া কোলহলে ফের ভরে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গন। শুধুমাত্র প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীর খুদে পড়ুয়াদের জন্য সরকার ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। ক্লাসরুমে পড়াশুনার বদলে খুদে পড়ুয়াদের জন্য পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচি নেয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়াদের মতই বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালের পড়ুয়ারাও সরকারের পাড়ায় শিক্ষালয় খোলার সিদ্ধান্তের কথা জেনে খুশিতে ভরে ওঠে। আর সেই খুশিতেই নিজের সংগীত গুরু মঙ্গল কালিন্দির লেখা ও সুর দেওয়া গান রপ্ত করে ফেলে বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিষেক সানা। ওই গান গেয়েই এখন অভিষেক পাড়ায় শিক্ষালয়ের আসরও মাতাচ্ছে। পাড়ায় শিক্ষালয় নিয়ে খুদে ছাত্র অভিষেকের গাওয়া গান মুগ্ধ করেছে বর্ধমান সদর ২ ব্লকের বিডিও সুবর্ণা মজুমদারকেও। তিনি বলেন, করোনা অতিমারীর কারণে পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন স্কুলমুখী হতে পারেনি। বাচ্চারা অনেকদিন স্কুলচ্যুত ছিল। তাদের কথা বিবেচনা করে সরকার পাড়ায় শিক্ষালয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এটা খুব ভালো উদ্যোগ। বড়শুল নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপম সাধু বলেন, প্রায় দুবছর বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। মুক্ত প্রাঙ্গনের পাড়ায় শিক্ষালয়ে এখন আবার ফিরে এসেছে খুদে পড়ুয়াদের কোলাহল। সেখানে শিশুদের পাঠদান করতে পেরে আমরা শিক্ষকরাও খুশি। তারই মধ্যে সেখানে উপরি পাওনা হিসাবে মিলছে পাড়ার শিক্ষালয় কর্মসূচী নিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অভিষেক সানার গান।

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২২
রাজ্য

পৌরভোটে প্রার্থী হতে না পেরে কেঁদে ভাসালেন বর্ধমানের ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা

অনেক প্রত্যাশা থাকলেও পৌরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করার টিকিট মেলেনি। তাই বুধবার বর্ধমান শহরে থাকা জেলাশাসকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে কেঁদে ভাসালেন শহরের ডাকাবুকো তৃণমূল নেতা আব্দুল রব। শুধু কেঁদে ভাসানোই নয়, চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেও ফেললেন তাঁর দল তাঁর সঙ্গে সুবিচার করলো না। আব্দুল রবের কান্না দেখে সতীর্থরা তাঁকে সান্তনা দেন। তবে প্রার্থী হতে না পারার জন্য দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করার জন্য তৃণমূলের নেতারা তাঁকে বার্তা দিয়েছেন। আব্দুল রব শহর বর্ধমানের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। এদিন তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে রাজনীতি করছি। তৃণমূল কংগ্রেস দল করার জন্য সি পি এমের আমলে পাঁচ বার জেল খেটেছি। এতকিছুর পরেও দল তাঁর প্রতি সুবিচার করলো না। ৩ নম্বর ওয়ার্ড এবার মহিলা সংরক্ষিত হওয়ার দলের তরফে এবার তাঁর স্ত্রী তনুজা বেগমকে প্রার্থী করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু দল অন্য একজনকে প্রার্থী করে তালিকা প্রকাশ করে। তার পরেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল প্রার্থী পরিবর্তন করে তাঁর স্ত্রীকেই প্রার্থী করা হবে বলে। শেষমেশ সেটাও দল করেনি বলে আব্দুল রব আক্ষেপ প্রকাশ করে কান্নায় ঙেঙে পড়েন। আর প্রার্থীপদ না পেয়ে তৃণমূলের ডাকাবুকো নেতাকে কেঁদে ভাসাতে দেখে কার্যতই হতবাক হয়েযান বর্ধমান শহরবাসী। এদিকে প্রার্থী হতে না পেরে আব্দুল রব এদিন যখন কেঁদে ভাসাচ্ছেন সেই সময়ে বর্ধমান পৌরসভার ছয়টি ওয়ার্ডে মণোনয়ন জমা দেন ছয় জন গোঁজ প্রার্থী। তার মধ্যে আব্দুল রবের স্ত্রী তনুজা ছাড়াও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের ঘোষিত প্রার্থী চামেলী বেগমের স্বামী ইফতিকার আহমেদও রয়েছেন। এবিষয়ে বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক জানান, এবার বর্ধমান পৌরসভার ৩৫ টি ওয়ার্ডে টিকিটের দাবিদার অনেকেই ছিলেন।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

দুস্কৃতীদের গুলিতে খুন পূর্ব বর্ধমানের লটারি ব্যবসায়ী

লটারি টিকিট বিক্রি সেরে বাড়ি ফেরার সময়ে দুস্কৃতিদের গুলিতে খুন হলেন এক তৃণমূল সমর্থক। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার ছোট বৈনানের ছাতা দীঘিরকোন এলাকায়। মৃতর নাম হামিদ আলি খাঁন (৪৬)। তার বাড়ি মাধবডিহির আরুই পঞ্চায়েতের আরিকপুর গ্রামে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই মাধবডিহি থানা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দুস্কৃতীদের সন্ধানে রাতেই মাধবডিহি সহ আসপাশের সব থানা এলাকার বিভিন্ন সড়কপথে শুরু হয় পুলিশি তৎপরতা। যদিও মধ্যরাত পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী দুস্কৃতীদের কেউ ধরা পড়েনি। দলের একনিষ্ঠ একজন সমর্থকের এমন মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন রায়না ২ ব্লক তৃণমূলের নেতা ও কর্মীরা। রায়না ২ ব্লক তৃণমূলের সহ সভাপতি শেখ কলিমুদ্দিন ওরফে বাপ্পা জানিয়েছেন,মাধবডিহির ছোট বৈনান বাজারে রয়েছে হামিদ আলি খাঁনের লটারি টিকিটের দোকান। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলের একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। অন্যান্য দিনের মতো এদিনও রাত ১০ টার পর তিনি লটারি টিকিট বিক্রি সেরে দোকান বন্ধকরে বাইকে চেপে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। ব্যবসার টাকার ব্যাগটিও তার সঙ্গে ছিল। পথে মাধবডিহির ছোট দীঘিরকোন এলাকায় বাইকে চেপে আসা তিন জনের দুস্কৃতি দল হামিদের পথ আটকে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিতে যায়। হামিদ বাধা দিলে দুস্কৃতীরা তার কোমরে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় হামিদ পথে লুটিয়ে পড়েন। তখন দুস্কৃতীরা হামিদের কাছে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে এই খবর পেয়ে মাধবডিহি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায়। রক্তাক্ত অবস্থায় হামিদকে উদ্ধার করে পুলিশ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হামিদ আলি খাঁনকে মৃত বলে ঘোষনা করেন বলে সেখ কলিমুদ্দিন জানিয়েছেন। লটারি ব্যবসায়ীর পরিচিত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এদিন লটারিতে ২ লক্ষ টাকা পায় হামিদ। সেই টাকা হামিদের কাছে থাকা ব্যাগে আছে তা কোনও ভাবে জেনে গিয়েই সশস্ত্র দুস্কৃতীরা হামিদের উপর চড়াও হয়েছিল। আরিকপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে দুর্ঘটনায় হামিদের একমাত্র পুত্র মারা যায়। আর এদিন হামিদের মর্মান্তিক মৃত্যু হল। পরিবারকর্তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও কন্যারা।মাধবডিহি থানার পুলিশ জানিয়েছে ,ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুস্কৃতিদের খৌঁজ চলছে। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন বলেন, এই খুনের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোন যোগ নেই। টাকা ছিনতাই করতে গিয়েই দুস্কৃতিরা হামিদ আলি খানকে গুলি করে। তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি অপরাধীরা ধরা পড়বে বলে জানান পুলিশ সুপার।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

ডাক্তার স্টিকার লাগানো গাড়িতে চোলাই মদ পাচার, গ্রেফতার ভূয়ো ডাক্তারসহ দুই অভিযুক্ত

ডাক্তার স্টিকার লাগানো চারচাকা গাড়িতে চোলাই মদ পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হল এক ভুয়ো ডাক্তার ও তার সাগরেদ। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থানা এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সাধন মণ্ডল ও অমল হালদার। ধৃত সাধনের বাড়ি জেলার ভাতার থানার বসতপুর গ্রামে। সে নিজেকে ডাক্তার বলে লোকজনকে পরিচয় দিত। অপর ধৃত অমল ওই চোলাই মদবাহী গাড়িটি চালাচ্ছিল। তার বাড়ি মঙ্গলকোটের সুরুলিয়ায়। পুলিশের দাবি ধৃতদের ব্যবহৃত ডাক্তার স্টিকার লাগানো চারচাকা গাড়িটি থেকে প্রায় ৬০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার হয়েছে।গাড়িটির প্রকৃত মালিক কে তা জানার জন্য পুলিশ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার দুই ধৃতকে পেশ করে কাটোয়া মহকুমা আদালতে। বিচারক দুই ধৃতকেই জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গোলকোট থানার পুলিশ অফিসারদের কথায় জানা গিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় মঙ্গলকোট থানার গুসকরা নতুনহাট রোডে নাকা চেকিং চালাচ্ছিল। ওই সময়েই ডাক্তার স্টিকার লাগানো চারচাকা গাড়িটি গুসকরা মুখে যাচ্ছিল। ডাক্তার স্টিকার লাগানো থাকলেও পুলিশ ডাক্তার গাড়িটি দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালানো শুরূ করে। তল্লাশী চালানোর সময়েই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশ কর্মীদের।তারা দেখেন গাড়িতে থাকা একাধিক ব্যাগে মধ্যে ভরা রয়েছে চোলাই মদ ভর্তি প্লাসটিকের জার। এরপর আর একমুহুর্ত দেরি না করে পুলিশ ওই গাড়ি তার দুই আরোহীকে ধরে থানার নিয়ে যায়। জেরায় ধৃতরা কবুল করে পুলিশের নজর এড়াতেই তারা চোলাই মদ পাচারের জন্য চারচাকা গাড়িতে ডাক্তার স্টিকার লাগিয়ে ছিল। জেরার ধৃতরা এমনটা কবুল করার পরেই পুলিশ দুই চোলাই মদ পাচারকারীকেই গ্রেফতার করে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
রাজ্য

কাটারি দিয়ে নিজের দাদাকে কোপানোর অভিযোগে গ্রেফতার ভাই

কাটারি দিয়ে নিজের দাদাকে কোপানোর অভিযোগে গ্রেফতার হল ভাই। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার কেন্না গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম জামির আলি মল্লিক ওরফে পল্টু।কেন্না গ্রামেই তার বাড়ি। মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কাটারিটিও সেখান থেকে উদ্ধার করেছে। দাদা জামশেদ আলি মল্লিকের অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতকে পেশ করে বর্ধমান আদালতে। সিজেএম ধৃতকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে শুক্রবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জমির মল্লিকের দাদা হলেন জামশেদ আলি মল্লিকের বনিবনা নেই। গত বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির সামনের ঢালাই রাস্তায় জামশেদের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। ওইসময় জামির ও তাঁর স্ত্রী সেখানে হাজির হয়। অভিযোগ, উভয়ের মধ্যে বচসা চলাকালীন জামির আচমকাই তাঁর দাদার মাথা লক্ষ্য করে ধারালো কাটারি চালিয়ে দেয়। কাটারির কোপে জামশেদের কপালে গভীর ক্ষত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জামশেদকে উদ্ধার করে মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর কপালে কয়েকটি সেলাই হয়। ঘটনার কথা জানিয়ে পরের দিন জামশেদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ মঙ্গলবার জামিরকে গ্রেপ্তার করে।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
রাজ্য

রায়নায় সেচ ক্যানেলের পাড় থেকে উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত মৃতদেহ

সেচ ক্যানেলের পাড়ের গাছ থেকে উদ্ধার হল ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা যুগলের মৃতদেহ। যা নিয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার নাড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের নান্দাল গ্রামে।খবর পেয়ে রায়না থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে গাছ থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম রুপনাথ হাজরা(২৪) ও পুতুল রাণা(৩১)। দুজনেরই বাড়ি রায়নার নান্দাল গ্রামে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে পাঠায়। রায়না থানার পুলিশ যুগলের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রুপনাথ হাজরা ও পুতুল রাণা দুজনেরই বাড়ি রায়নার নান্দাল গ্রামে। তবে এরা কেউ স্বামী স্ত্রী নয়। পেশায় লরি চালক রুপনাথ অবিবাহিত। তাঁর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল গ্রামেরই বধূ পুতুলের। এলাকাবাসীর কথায় জানা গিয়েছে, পুতুল ও রুপনাথের অবৈধ সম্পর্কের কথা দুজনের পরিবারের কেউই মেনে নেননি। এই পরিস্থিতিতে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে যুগল আত্মঘাতী হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দুই মৃতের পরিবারের কেউ এদিন বিকাল পর্যন্ত থানায় কারও বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানায়নি। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে যুগলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি তা খতিয়ে দেখছে।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
রাজ্য

রেল পুলিশের তৎপরতায় ফের বেশকিছু টিয়াপাখি সহ গ্রেফতার পাচারকারী

রেল পুলিশের তৎপরতায় ফের পাচারের আগেই উদ্ধার হল বেশকিছু টিয়া পাখি গ্রেফতার করা হয়েছে পাচারকারীকে। মঙ্গলবার সকালে বর্ধমান স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফুট ওভারব্রিজে টহলদারি চালাচ্ছিল রেল পুলিশ। ওই সময়ে তারা এক যুবককে একটি বড় ব্যাগে ভরে কিছু নিয়ে যেতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় রেল পুলিশ মহম্মদ শরিফ নামে বর্ধমানের দুবরাজদিঘী হরেরডাঙ্গা এলাকা নিবাসী ওই যুবকের পথ আটাকায়। রেল পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর শিলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, যুবকের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় খাঁচা বন্দি অবস্থায় থাকা সাতটি টিয়া পাখি। পাচারের উদ্দেশ্যে খাঁচায় ভরে টিয়া পাখিগুলি নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল বলে জেরায় যুবক স্বীকার করার পরেই তাঁকে ধরে আরপিএফ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি খবর দেওয়া হয় বর্ধমানের বনবিভাগে। এদিনই বন বিভাগের কর্মী ও অফিসাররা বর্ধমান আর পি এফ অফিসে হাজির হয়ে টিয়া পাখিগুলি ও ধৃত যুবককে নিজেদের হেফাজতে নেয়। বর্ধমান বন বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে বন্য প্রাণী পাচারের অভিযোগে মামালা রুজু করে মহম্মদ শরিফ নামে ওই ব্যক্তিকে এদিনই বর্ধমান আদালতে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন,কিছুদিন আগে বর্ধমান স্টেশনে থাকা রেল পুলিশ ডাউন দানাপুর এক্সপ্রেসের কামরায় তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক টিয়াপাখি উদ্ধার করেছিল। সেবারও টিয়া পাচারের অভিযোগে রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়ে বর্ধমানের দুবরাজদিঘীরই এক ব্যক্তি। ওই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে রেল পুলিশ জানতে পারে পাচারের উদ্দেশ্যে সে বিহারের পাটনা থেকে শতাধিক টিয়াপাখি বর্ধমানে আনিয়েছে। পরে সে টিয়াপাখিগুলি বর্ধমান থেকে অন্যত্র পাচার করা হত।যদিও রেল পুলিশের তৎপরতায় পাচারের আগেই ওইদিন শতাধিক টিয়াপাখি সহ পাচারকারী ধরা পড়েযায়। রেল পুলিশ তৎপর থাকায় এদিনও বর্ধমান স্টেশনে বেশ কিছু টিয়া পাখি সহ পাচারকারী ধরা পড়লো বলে বন দফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • 29
  • 30
  • ...
  • 41
  • 42
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

উপনির্বাচনের আগেই বড় প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর! পদ্ম ফুটলেই ‘দু’হাত ভরে দেব’ ঘোষণা

উপনির্বাচনের আগেই রেজিনগর থেকে বড় রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জনসভার মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রেজিনগরের মানুষ যদি বিজেপিকে জয়ী করেন, তাহলে এলাকার উন্নয়নের জন্য বড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর প্রতিশ্রুতি, একটি নয়, দুটি নতুন সেতু তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদেরও রাজ্যে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যে বর্তমানে বিজেপির দুইশো আটটি আসন রয়েছে। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় নিশ্চিত। সেই আসন ধরে রেখে সংখ্যা হবে দুইশো নয়। এরপর রেজিনগরেও জয় পেলে বিধানসভায় বিজেপির আসন আরও বাড়বে।ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, রেজিনগরে পদ্মফুল ফুটলে উন্নয়নের কোনও অভাব হবে না। এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে বহু পরিযায়ী শ্রমিককে নিজের এলাকায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে, যাতে মানুষ পরিবার নিয়ে নিজের এলাকাতেই থাকতে পারেন।জনসভা থেকে তিনি রেজিনগরের প্রাক্তন জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ না করেই কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষকে ধর্মের নামে বিভক্ত করার রাজনীতি নয়, উন্নয়নের রাজনীতি প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা কি সাম্প্রদায়িক বিভাজন চান, নাকি কাজ, উন্নয়ন এবং উন্নত জীবনযাত্রা চান।মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিজেপি সরকারের আমলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা ছড়িয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই আশঙ্কা সত্যি হয়নি। তাই উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপিকে সমর্থন করার আবেদন জানান তিনি।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামদুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর রেজিনগর এবং নওদাদুটি আসনে জয় পান। নিয়ম অনুযায়ী দুজনকেই একটি করে আসন ছাড়তে হয়েছে। সেই শূন্য আসনগুলিতেই এবার উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রেজিনগরের ফল আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।

জুলাই ১০, ২০২৬
রাজ্য

মমতার প্রিয় কেষ্ট এবার ঋতব্রতের পাশে! বীরভূমে বড় পালাবদলের জল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিল অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে বড় খবর। সূত্রের দাবি, তিনি এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আসল তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁকে বীরভূম জেলার সভাপতির দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এই খবরে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।শুধু অনুব্রত মণ্ডলই নন, বীরভূমের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাজল শেখ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিজিৎ সিংহ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা। জানা গিয়েছে, এই নেতাদের আসল তৃণমূল-এর জাতীয় কর্মসমিতিতেও জায়গা দেওয়া হয়েছে।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক তপসিয়ায় শুরু হয়েছে। দুই দিনের এই বৈঠকে রাজ্য এবং বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সেই বৈঠকেই বীরভূম জেলার সভাপতির দায়িত্ব অনুব্রত মণ্ডলের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।এই বিষয়ে অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তাঁর জ্বর রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল কলকাতায় যেতে পারেন। যদিও শিবির পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।উল্লেখ্য, গরুপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর অনুব্রত মণ্ডল দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। সেই সময় তাঁকে বীরভূম জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয় দল। পরে কোর কমিটি গঠন করে তাঁকে সেই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতিতে খুব বেশি দেখা যাননি। বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই অনুব্রত মণ্ডলের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বীরভূমে তাঁর প্রভাব এবং সংগঠনিক দক্ষতা আসল তৃণমূল-এর শক্তি আরও বাড়াতে পারে বলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুলাই ১০, ২০২৬
রাজ্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হঠাৎ পরিদর্শনে চাঞ্চল্য! হাসপাতালের ভিতরে যা ধরা পড়ল, তারপরই বড় পদক্ষেপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচমকা পরিদর্শনের পর বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হল। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা এবং পরিষেবা নিয়ে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ সামনে আসার পর বারো জন কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার জন ওয়ার্ড মাস্টার, চার জন নন-মেডিক্যাল সুপার, একজন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিস্টার, প্রসূতি বিভাগের দুই জন সিস্টার ইনচার্জ এবং একজন পরিষেবার মান নিয়ন্ত্রণ আধিকারিক।হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আচমকা পরিদর্শনে এসে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং বারান্দায় পরিচ্ছন্নতার অভাব লক্ষ্য করেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের বারান্দায় বিড়াল ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেই নির্দেশ মেনেই তদন্তের পর বারো জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারাসত মেডিকেল কলেজ আগে জেলা হাসপাতাল ছিল। এখনও পুরনো ভবনেই অনেক পরিষেবা চালাতে হচ্ছে। ফলে কিছু পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প তৈরি করে স্বাস্থ্য দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। খুব শীঘ্রই সেই প্রস্তাব পাঠানো হবে।বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই একাধিক সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বারাসত মেডিকেল কলেজেও তিনি পরিষেবা, পরিকাঠামো এবং পরিচ্ছন্নতার অবস্থা খতিয়ে দেখেন। এরপরই রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে আরও কঠোর নজরদারির ঘোষণা করেন।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিষেবার মান উন্নত করতে সরকারি হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। গ্রামীণ হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালেও একই ব্যবস্থা চালু হবে। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন ব্যবহার বন্ধ করতে প্রতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ দল হাসপাতালগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন চালাবে।হাসপাতালে দালালচক্রের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করা হবে। যাঁদের কাছে সেই পরিচয়পত্র থাকবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

জুলাই ১০, ২০২৬
কলকাতা

একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ নিয়ে চরম টানাপোড়েন! এবার আদালতের দ্বারস্থ কালীঘাট তৃণমূল

একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়ল। ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মেলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। পুলিশের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা। ফলে একুশে জুলাইয়ের সভা কোথায় হবে, তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এর আগে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা পুলিশ। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ধর্মতলার মতো ব্যস্ত এলাকায় সভার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর বিকল্প জায়গার অনুমতি চেয়ে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতপন্থীরা। গান্ধীমূর্তির পাদদেশে সভা করার অনুমতিও চাওয়া হয়। তবে সেই আবেদনেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।এই পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। তাদের দাবি, একুশে জুলাই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাই সভা আয়োজনের জন্য উপযুক্ত জায়গার অনুমতি প্রয়োজন।একুশে জুলাই দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি। উনিশশো তিরানব্বই সালে মহাকরণ অভিযানের সময় গুলিতে নিহত তেরো জনের স্মৃতিতে প্রতি বছর এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণেই ধর্মতলায় শহিদ দিবসের সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে।তবে এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধের আবহে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রাখা এবং কর্মীদের একজোট করার লক্ষ্যেই এবারের সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল।ইতিমধ্যেই ধর্মতলায় সভার প্রস্তুতির জন্য কয়েকজন নেতা জায়গা পরিদর্শনে গেলে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর কলকাতা পুলিশ জানিয়ে দেয়, ওই এলাকায় সভার অনুমতি দেওয়া হবে না। সেই সিদ্ধান্তের পরই আইনি পথ বেছে নিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুলাই ১০, ২০২৬
কলকাতা

বেআইনি দখল মামলায় বড় মোড়! উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান হাইকোর্টের

ভিআইপি থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত বেআইনি নির্মাণ এবং রাস্তা দখল সংক্রান্ত মামলায় উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলাশাসকের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট । আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সন্তোষজনক রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় জেলাশাসককে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তেইশে জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানিতে তাঁকে হলফনামা এবং পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।শুক্রবার মামলার শুনানিতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একাধিকবার রিপোর্ট চাওয়া হলেও স্পষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দেওয়া হয়নি। এমনকি আদালতের নির্দেশের পরও দায়সারা রিপোর্ট জমা পড়েছে বলে মন্তব্য করা হয়।শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, একজন নিম্নপদস্থ কর্মীর মাধ্যমে কেন এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, জেলাশাসক কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের চেয়েও বড় মনে করছেন। আদালতের মতে, এই ধরনের আচরণ আদালতের নির্দেশকে গুরুত্ব না দেওয়ারই ইঙ্গিত বহন করছে।আদালত জানায়, এর আগেই সতর্ক করে বলা হয়েছিল, পরবর্তী রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে হবে। সেই নির্দেশও মানা হয়নি। তাই এবার তাঁকে আদালতে উপস্থিত থেকে রিপোর্টের ব্যাখ্যা দিতে হবে।বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী আরও বলেন, আদালতের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ও প্রশ্ন তোলেন, জেলাশাসক কি এতটাই ব্যস্ত যে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময় পাচ্ছেন না।মামলাকারীর অভিযোগ, ভিআইপি থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত রাস্তার ধারে বেআইনিভাবে দখল করে পার্কিং এলাকা এবং বিয়েবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নয়ানজুলি ভরাট করে একাধিক বেআইনি নির্মাণও হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে দুই হাজার বাইশ সালে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়।মামলার আগের শুনানিতে জেলা প্রশাসন স্বীকার করেছিল যে ওই এলাকায় জবরদখলের ঘটনা ঘটেছে। এরপর আদালত জানতে চেয়েছিল, সেই বেআইনি দখল সরাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একাধিকবার জেলাশাসক বদল হলেও এখনও পর্যন্ত আদালতে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়েনি। সেই কারণেই এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।

জুলাই ১০, ২০২৬
বিদেশ

ফাঁসির আশঙ্কা জেনেও দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা! বিস্ফোরক বার্তায় তোলপাড় বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেন। তিনি জানিয়েছেন, আর বিদেশে থেকে নয়, এবার নিজ দেশেই ফিরতে চান। দেশে ফিরে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এই ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। দেশে ফিরে তিনি আইন মেনে আত্মসমর্পণ করবেন। কোনও চাপের মুখে নয়, সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তেই তিনি দেশে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন।শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুর মুখেও পড়তে পারেন। তবুও তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। তাঁর কথায়, যদি মৃত্যু আসে, তবে তা নিজের দেশেই হোক। যেখানে তাঁর বাবা-মায়ের সমাধি রয়েছে, সেই মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে চান তিনি।তবে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বার্তা পাঠাননি শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন কোনও গোপন আলোচনার বিষয় হতে পারে না।গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তিনি ভীত নন বলে জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য, অতীতেও একাধিকবার তাঁকে গ্রেফতার হতে হয়েছে। কিন্তু গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তাঁর জীবনের উপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে কোনও সরকারের ভুল হতেই পারে। তবে সেই ভুলের বিচার করার অধিকার জনগণের। দেশের মানুষই ঠিক করবে কোন সরকার ভালো কাজ করেছে আর কোন সরকার ব্যর্থ হয়েছে।আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, যদি দল সত্যিই মানুষের সমর্থন হারিয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত জনগণ ভোটের মাধ্যমে নিক। কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা যায় না বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।উল্লেখ্য, গত বছরের ছাত্র-যুব আন্দোলন এবং তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে গণহত্যার মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করে। যদিও সেই রায় তিনি মানতে অস্বীকার করেছিলেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হতে পারে। পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জুলাই ১০, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেককে কড়া বার্তা হাইকোর্টের! আর এড়ানো যাবে না, দিতেই হবে কণ্ঠস্বরের নমুনা

কলকাতা হাইকোর্টে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলায় নতুন মোড় এল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্ধারিত দিনেই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে। তদন্তকারী সংস্থাকে সহযোগিতা করা তাঁর আইনি দায়িত্ব বলেও আদালত জানিয়েছে।ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে একাধিকবার দিন নির্ধারণ করা হলেও তিনি নমুনা দিতে যাননি। তাঁর দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট মন্তব্য যে তাঁরই, তা তিনি অস্বীকার করেননি। তাই নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই যুক্তি মানতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্ট বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে। তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশও দেন তিনি।শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত আট জুলাই কেন হাজির হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশ থাকা অবস্থায় ফের নতুন মামলা করারও সমালোচনা করেন তিনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আদালতের নির্দেশকে এভাবে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আদালতে জানান, কণ্ঠস্বর দিতে আপত্তি নেই। শুধু কেন এই নমুনা প্রয়োজন, সেই বিষয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর আর্জি ছিল, এই কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার করা না হয়।তবে সেই আবেদনেও সায় দেয়নি আদালত। বিচারপতি জানিয়ে দেন, আগামী পনেরো জুলাই দুপুর বারোটায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নমুনা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনও ধরনের হেনস্থার ঘটনা যাতে না ঘটে, তা প্রশাসনকে দেখতে হবে।

জুলাই ১০, ২০২৬
রাজ্য

জলমগ্ন কলকাতা, ফুঁসছে নদী, উত্তাল সমুদ্র! বাংলাজুড়ে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা

রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত ভিজেছে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হওয়া বৃষ্টি গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে। শুক্রবার সকালেও কলকাতা এবং আশপাশের জেলায় একইভাবে বৃষ্টির দাপট বজায় রয়েছে। একাধিক এলাকায় জল জমতে শুরু করেছে। ফলে সকাল থেকেই যান চলাচলে সমস্যার মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এখনই বৃষ্টি থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। সঙ্গে দমকা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। শনিবার পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। একই সঙ্গে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামেও দফায় দফায় বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাস।শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দমদমে প্রায় সাতানব্বই মিলিমিটার এবং আলিপুরে প্রায় সাঁইত্রিশ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও প্রবল বর্ষণ চলছে। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একাধিক এলাকায় জল জমেছে।কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই জল জমতে শুরু করেছে। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, হলদিরাম মোড় এবং সেক্টর পাঁচ মেট্রো সংলগ্ন এলাকায় জল জমায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। যদিও এখনও বড় ধরনের জলাবদ্ধতার খবর নেই, তবে দিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।উপকূলবর্তী এলাকাগুলির জন্যও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আগামী বারো জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। দিঘা, দিঘা মোহনা, মন্দারমণি-সহ বিভিন্ন উপকূল এলাকায় পুলিশ মাইকিং করে সতর্ক করছে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে জলোচ্ছ্বাসের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। পর্যটক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে সমুদ্রের কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে সুবর্ণরেখা নদীর জল দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকের একাধিক এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেউলবাড় এবং গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায় মানুষের যাতায়াত এখন নৌকার উপর নির্ভর করছে। এতে সাধারণ মানুষ, পড়ুয়া, কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।অজয় নদীর জলও ক্রমশ বাড়ছে। নদীর বাঁধের একাধিক অংশ দুর্বল হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় এই এলাকায় প্লাবনের সমস্যা দেখা দেয়। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

জুলাই ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal