• ২২ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SA

রাজ্য

বিশ্বভারতীতে নয়া উপাচার্য, মেয়াদ বৃদ্ধি নয় বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর

বিতর্কে বারং বার জড়িয়ে সংবাদ শিরোনামে এসেছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বুধবারই তাঁর কাজের মেয়াদ শেষ হল। তাঁর মেয়াদ কী ফের বাড়বে? গত কয়েকদিনে চর্চায় বারে বারে এই প্রশ্ন উঠেছে। এসবের মধ্যেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য করা হল ডঃ সঞ্জয়কুমার মল্লিককে।৫৬ বছর বয়সী অধ্যাপক সঞ্জয়কুমার মল্লিক কলাভবনের অধ্যক্ষ। বিশ্বভারতীর কর্মসমিতিরও সদস্য তিনি। বিশ্বভারতী অ্যাক্ট অ্যান্ড স্ট্যাটু অনুযায়ী সিনিয়র মোস্ট অধ্যাপক হিসাবে উপাচার্যের ভার সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হল সঞ্জয় মল্লিককে। উপাচার্য পদে সঞ্জয়বাবুর নিয়োগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই উচ্ছ্বাস দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, অধ্যাপক ও কর্মীদের মধ্যে৷ এই বদলকে তাদের আন্দোলনের জয় বলে দাবি করেছে রাজ্যের শাসক শিবিরের একাংশ।উপাচার্য পদে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী যতদিন ছিলেন ততদিনই তাঁর বহু সিদ্ধান্ত ঘিরে তোলপাড় হয়েছে। থানা, পুলিশ, আইন-আদালত কিছুই বাকি নেই। মেয়াদ শেষের দিনও তাঁকে ঘিরে আন্দোলন, বিক্ষোভ হতে পারে, এই আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, উপাচার্যের বাড়ি ও দফতর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে উপাচার্যের বাসভবন ল থেকে বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে স্বাক্ষর করেন বিদ্যুৎবাবু। কোনও উপাচার্যের মেয়াদ শেষে এই দৃশ্য বিশ্বভারতীতে নজিরবিহীন বলে দাবি আশ্রমিকদের।নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের বাড়ি বিতর্ক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার দাবি থেকে পৌষ মেলা বন্ধ, আশ্রমিকদের একাংশকে আক্রমণ। বহু কারণে কখনও মুখ খুলে, কখনও আবার তাঁর সিদ্ধান্তের কারণে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিধানসভা ভোটে বিজেপির পরাজয় নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন। বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা বিদ্যাৎবাবুকে টানা আক্রমণ করে গিয়েছেন। শেষমেষ বিতর্কের অবসান হল, নয়া ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য পেল কবিগুরুর বিশ্বভারতী।

নভেম্বর ০৮, ২০২৩
নিবন্ধ

মানুষ নেই! হু হু করে জনবিরল হয়ে পড়ছে গ্রাম...

ঢাকের আওয়াজে কান পাতা দায়; সঙ্গে দুটি কাঁসর ও পেটানো ঘণ্টার সোচ্চার সঙ্গত। ঠাকুরঘরের বারান্দায় কজন মেয়ে-বৌয়ের জটলা, তাদের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে উঁকি মারছে মা দুর্গার চকচকে মুখখানা আর শিবঠাকুরের ঢুলুঢুলু শ্রীনয়ন। ধুনুচির ধোঁয়া ঘণ্টার অবিরাম টুংটুং নীচে একপাল কুচোকাঁচার হাঁ করে কুশলী ঢাকীদের দিকে তাকিয়ে থাকাসন্ধ্যারতি করছে সামান্য দুলে দুলে আমাদের পুরোহিত বুড়োদা, মানে ব্রজদুলাল মুখোপাধ্যায়। অহেতুক দেখনদারি নেই; নেই প্রয়োজনাতিরিক্ত অঙ্গসঞ্চালন। প্রায় তিন দশক বুড়োদা এমনি করেই পুজোর চারদিন সকাল-সন্ধ্যা নিষ্ঠাভরে মায়ের আরতি করে আসছে। বুড়োদার বাবা, স্বর্গত ব্রজরাখাল মুখোপাধ্যায় (যাঁকে আমরা দাদামশাই বলতাম) পূজারী ছিলেন এর আগে। কৃশ দীর্ঘকায় বৃদ্ধ মানুষটির ঈষৎ ঝুঁকে পড়ে দেবার্চনার স্মৃতি মনে গাঁথা হয়ে আছে আমার! সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে আজও, কোথাও তার ব্যতিক্রম হয় নি গত পঞ্চাশ বছরে রীতি-ভক্তি-আচার-অর্চনায়!ভুল বললাম! মস্ত তফাৎ হয়ে গেছে পুজোতলার ভীড়ে। যে মণ্ডপে আরতির সময় দাঁড়ানোর ঠাঁই মেলা দুষ্কর হতো একদিন, আজ তা বেশীর ভাগ সময় শুনশান। প্রসাদ বিতরণের সময় নরক গুলজার হতো এখানে, ইদানীং ডেকে ডেকে প্রসাদ বিলিয়েও শেষ হতে চায় না ফলপ্রসাদের বিশাল পিতলের রেকাব।মানুষ নেই। হু হু করে জনবিরল হয়ে পড়ছে গ্রাম। নাগরিক জীবনের দুর্নিবার আকর্ষণে গাঁ-গঞ্জ থেকে একমুখী জনস্রোত ধেয়ে চলেছে শহরপানে। আগে পুজোর সময় শহরবাসী মানুষ মাটির টানে ফিরে আসতেন দেশ-গাঁয়ে এই কয়টা দিন ; ইদানীং সেই প্রবণতাও নিভু নিভু । রাঢ়বঙ্গের গ্রামে গ্রামে আজ শুধু কিছু বয়স্ক মানুষ বাপপিতেমো-র ভিটে আগলে বসে আছেন ; পরের প্রজন্মে বোধ হয় একেবারেই তালা ঝুলে যাবে এই সব শূণ্য জনপদে !কৈশোর-তারুণ্যের দিনগুলিতে দূরের বাসা থেকে শত অসুবিধা-যোগাযোগের অপ্রতুলতা তুচ্ছ করে যখন গ্রামে ফিরতাম পুজোর সময়, প্রতিবার দেখতাম গাঁয়ের বন্ধুরা বড় হয়ে গেছে আরেকটু ঘোমটা টেনে ঘুরছে ফিরছে কিছু নতুন বউ ঝুমঝুমিয়ে খেলে বেড়াচ্ছে কটা ব্র্যান্ড নিউ গুড়গুড়ে (এরা কে যে কার বাচ্চা, সেটা সমঝে নিতেই সময় লেগে যেত অনেকটা) বিয়ে হয়ে গেছে দুচারটি মেয়ের (আর কোনো দিন দেখা হতো না তাদের সঙ্গে)... সকালবেলা দুয়ারের সামনে জলের ঘটি পাশে নিয়ে মাদুর-এ পা ছড়িয়ে রোদ পোয়াতে থাকা দুয়েকজন দাদু পরের বছর অদৃশ্য হতেন...দিন গেল... বছর গড়ালো আমাদের পুজোতলা চাতোর (চত্বর -এর অপভ্রংশ) -এর কাছের বাঁশবনে সাঁঝবেলায় ভয়ের হাতছানি কমতে লাগলো ধীরে ধীরে পাশের পুকুরপাড়ে তেঁতুলগাছগুলোর মগডালের দিকে রাতে ভয়ে তাকাতে না পারা কমে গেল বিদ্যুতের আলো-বোকাবাক্স-কেবললাইন - দুর্বল ওয়াইফাই-সবল মোটরসাইকেলের ঝাঁক গ্রাম-শহরের ফারাক কমিয়ে দিল দিনে দিনে। তবু খামারবাড়ির ছয়ফুটিয়া দাঁড়াশসাপ... কার্নিশে ঝুলন্ত মাটির হাঁড়ির বাসিন্দা কবুতরের দল... প্রাচীন অশ্বত্থগাছে দিনশেষে ঘরে ফেরা টিয়াপাখিরা সবাই দেখতে পেল, পাড়া নীরব হচ্ছে। মাটির বাড়িগুলি যত বদলে যেতে লাগলো রঙিন পাকাবাড়িতে, তত শূণ্য হয়ে গেল সেসব বাড়ির তকতকে আঙিনা। বহু ভিটেতে তুলসীতলায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে না আর; সদর দরজার মরচেধরা তালায় কুমড়েপোকার মাটি জমানো বসত!অষ্টমীর সকালে রূপা এসে গেল মেয়েকে নিয়ে। সঙ্গে এসেছে তিস্তা-র সহপাঠী অরুণিমা। আজন্ম সল্টলেকবাসী বন্ধুটির জীবনে এই প্রথম একটা গোটা পুজো কলকাতার বাইরে গাঁয়ে কাটানো!অষ্টমী-নবমী দুদিন ধরে চাতোর-এর মর্মরবেদীতে বসে রইলাম পুজোর সময়। কিছু কথাবার্তা পাড়াতুতো দাদাদের সাথে মেয়েকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে আরতি দেখা ফুলের মালা-দীপের আলো-ধূপের ধোঁয়ার পিছন থেকে খুঁজে নেওয়া শরণাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণা জগজ্জননীকে স্তবের বাণীর আড়াল থেকে নীরবে ডেকে যাওয়া সর্বস্যার্তিহরা নারায়ণী মা-টিকে!নবমীর দুপুরে ওপাড়ার বারোয়ারিপুজোয় পশুবলির আয়োজন। আশৈশব কখনোই সেই সহিংস আচারে সামিল হতে পারি নি। বলির পর ওপাড়া থেকে উৎসাহীরা দলে দলে এসে সমবেত হয় হরগৌরীতলায়। দুই পুজোর দুই দুই চার ঢাকির উচ্চ-ডেসিবেল বৃন্দবাদন যার যার নিজের সেরা পুজোর পোশাকটির সগর্ব উপস্থাপনা ভীড়ে ভীড়াক্কার চাতোর-এ গরমে হাঁসফাঁস বিনবিনে ঘাম আনকোরা শাড়ির খসখস... বছরপরে দেখা হওয়া সখীদের উচ্ছ্বাস তরুণদলের সতৃষ্ণ দৃষ্টিপাত মহানবমীর মধ্যাহ্নই এ গ্রামে পুজোর শীর্ষবিন্দু!সেদিন আর নেই! ফাঁকায় ফাঁকায়, অনুচ্চকিত ছন্দে এবার যাপিত হলো মহানবমীর দুপুরের আরতি... যজ্ঞ... হোমের ফোঁটা... শান্তিজলসিঞ্চন তুমি নির্মল করো মঙ্গলকরে মলিন মর্ম মুছায়ে বেলা তিনটের মধ্যে পুজো শেষ । রূপা-তিস্তা-অরুণিমা-জ্যাঠতুতো দাদা ও দুই বৌদি মিলে দুখানা টোটো বোঝাই হয়ে বেরোনো হলো সাড়ে তিনটে নাগাদ বাসুদা গ্রামের উদ্দেশ্যে । পড়ন্ত বেলা ফলন্ত ধানক্ষেতের উপচে পড়া সবুজ পথের দুধারে হলুদ ফুলে ঝিকমিক লম্বা সোনাঝুরি গাছের গ্রীন টানেল ঘরমুখো পাখিদের কলতান চার কিমি দূরে বনপাশ-কামারপাড়া থেকে গাড়ি বাঁদিকে ঢুকে পড়লো খুরুল গ্রামের রাস্তায়। শুনশান পথ খানিক খোবলানো রাস্তা মাথার ওপর অসহ্য নীল আকাশ, সেথায় গাভীর মতো চড়ছে সাদা মেঘের পাল হরিয়ালা বন্যায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর! এ পথে আসি নি আগে কখনো। হে ধরিত্রীমাতা, কী বিচিত্র শোভা তব, কী বিচিত্র সাজ!মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগনমাঝে,বিশ্বজগৎ মণিভূষণবেষ্টিত চরণে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজিত সেই সত্যসুন্দরের অপরূপ রূপ দেখতে দেখতেই খুরুল পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম বাসুদা। গ্রামের শুরুতে শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনে যাত্রাবিরতি। খোলামেলায় অবস্থিত আশ্রমে ঢুকেই রামকৃষ্ণদেব-মা সারদা-স্বামীজীর স্মৃতিমন্দির; পাশেই অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন। পুকুর-বাগান-বিদ্যাপীঠ-ভক্তকর্মীআবাস ছড়ানো আশ্রমটি ভালোই পুরোনো; এ অঞ্চলে সমাজসেবা ও শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আসছে বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে।থাকার ইচ্ছে ছিল বেশ কিছুক্ষণ, কিন্তু সহসাই পুব আকাশে নিবিড়কৃষ্ণমেঘসঞ্চার ভড়কে দিল আমাদের। এই মাঠঘাটের রাস্তায় ঝেঁপে ঝড়বৃষ্টি এলে হাঁড়ির হাল হবে সবার। অগত্যা মহারাজের সঙ্গে দেখা না করেই দুড়দাড় করে টোটো-সমাসীন হলাম আবার।সময় সংক্ষেপ করতে অন্য পথ ধরা হলো এবার। বিকেল গড়িয়ে আসছে । পুব আকাশ কালো হচ্ছে বাতাসে ভিজে গন্ধ পাখপাখালী ঘরে ফিরছে দ্রুত ডানায়। এ পথের অনেকটা জঙ্গুলে; গ্রামের মধ্যে দিয়ে শর্টকাট করতে গিয়ে পেরোতে হলো প্রায় এক কিমি উঁচুনীচু মাটির রাস্তা, প্রতি মুহূর্তে টোটো উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে। কিমিদশেক পথ সবুজে ভেসে, মেঠো নালা-বুনোফুলে বানভাসি বনবিতান-নিবিড় বাঁশবন-শস্যময়ী প্রান্তর পেরিয়ে ঘরে ফিরে এলাম সাঁঝের মুখে।সন্ধ্যা ঘনালো। আরতির পর পুজোতলার আলোছায়ায় মা-বোনদের সিঁদুরখেলা। কয়েক বছর পর পরই এয়োস্ত্রীদের এই নবমীসন্ধ্যার শুভলোকাচার থেকে নীরবে সরে যান কেউ কেউ। শূণ্যসিঁথি.. কৃচ্ছ্রসাধন... মঙ্গলানুষ্ঠান থেকে নির্বাসন তাঁদের গোপন দীর্ঘশ্বাস বুঝি ভেসে বেড়ায় পুজোর পূণ্যময় পরিসরে!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।।

অক্টোবর ২৮, ২০২৩
রাজ্য

রাস্তা তৈরি প্রকল্পের কাজে দুর্নীতির গন্ধ! জেলাশাসকের উপরই আস্থা গ্রামবাসীদের

পথশ্রী প্রকল্পের কাজ ঘিরে দুর্নীতির গন্ধ! গ্রামবাসীরা নিম্নমানের কাজ রুখে দিতেই সদলবদলে পালালেন সুপারভাইজার। ঘটনা পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নং ব্লকের পূর্ব সাতগেছিয়া গ্রামে। আজ সকালে বৃষ্টির মধ্যে পিচের রাস্তার কাজ চলছিল। তখনই বাধা দেন গ্রামবাসীরা।সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমার বাড়ির কাছেই কাজ হচ্ছিল। দেখি পিচের উপর পাথর ফেলে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এটি পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তা। এভাবে সংস্কারের কাজ হওয়ার কথা নয়। ঠিকাদার বা ইঞ্জিনিয়ার কেউই ছিলেন না। রাস্তা তৈরির বৈধ নথিপত্র বা শেডিউল তিন-চার দিন ধরেই দেখতে চাইছিলাম আমরা। কিন্তু আজও সুপারভাইজার দেখাতে পারেননি।এরপরই ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী ও পঞ্চায়েতের সদস্যরা। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীও ছিলেন। এক গ্রামবাসীর কথায়, বৃষ্টিতে পিচ রাস্তার কাজ হওয়া উচিতই নয়। কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া খারাপ। তারই মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে কাজ হচ্ছিল। যে সব জায়গায় কাজ হয়েছে, বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই তার বেশ কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজ হচ্ছে আঁচ করেই প্রধান হরেকৃষ্ণ মণ্ডলকে আমরা জানিয়েছি। আজ সকালেও কাজে বাধা দেওয়ার সময় প্রধানকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি অন্য কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি। প্রধান ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের সংশয় দূর করতে পারতেন বলেও মন্তব্য গ্রামবাসীদের।জনতার কথা কে প্রধান হরেকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের কাজে শেডিউল চাই। কেন না, নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আমি কনট্রাক্টরের কাছে নথি দেখতে চাই। তিনি আজ অবধি তা অজ্ঞাত কারণে দেখাতে চাননি। আমরা সকলেই চাই রাস্তার কাজ ভালোভাবে হোক।প্রধানের কথায়, গ্রামবাসীরাও ন্যায্য কথাই বলছেন। রাস্তা খুঁড়ে নতুন রাস্তা হবে, নাকি রাস্তা রিপেয়ার হবে, সেটা তো নথি দেখলেই স্পষ্ট হবে। সেই নথি আমাকেও দেখাতে পারেননি কনট্রাক্টর। ফলে গ্রামবাসীরা কাজে বাধা দিলে আমার পক্ষে তাঁদের সংশয় দূর করা সম্ভব নয়। কাজ বন্ধের কথা কালনা ২ নম্বর ব্লকের বিডিওকেও জানিয়েছি। উপ প্রধান অনিমেষ ভাঙ্গি বলেন, রাজ্য সরকার রাস্তা তৈরির কাজ করছে। সেখানে নিম্নমানের কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তবে পিচের রাস্তার কাজ বৃষ্টির সময় করা উচিত নয়। গ্রামবাসীদের পঞ্চায়েতের তরফে বলাই আছে, যেখানে রাস্তার কাজ হবে নিয়ম মেনে তা হচ্ছে কিনা নথি দেখে যাচাই করে নিতে। ফলে গ্রামবাসীরা সঠিক কাজই করেছেন।সূত্রের খবর, পথশ্রী প্রকল্পে এসটিকেকে রোডে মাঠের পাড়া বাস স্টপ থেকে সাতগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত অবধি আড়াই কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের কাজের সূচনা হয়। কিছুটা অংশের কাজ হয়েছে আগেই। বাকি রাস্তার কিছুটা অংশ আগে থেকে পিচের, সেখানে বেহাল দশা।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও বারবার বলেছেন, এমন কাজ করতে হবে যাতে টাকা জলে না যায়। এমনকী রাস্তা মেয়াদ ফুরানোর আগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকেই ওই রাস্তা পূর্বাবস্থায় ফেরানোর দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। গ্রামবাসীরা সে কথা তুলে ধরেই বলেন, যা কাজ হচ্ছিল তাতে ৩০ লক্ষ টাকার কাজ বলেই মনে হচ্ছে।যেখানে ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ সেখানে নিম্নমানের কাজ কেন হবে? এই প্রশ্ন তুলেই রুখে দাঁড়ান গ্রামবাসীরা। তার উপর প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেই কেন হঠাৎ করে কাজ শুরু হলো এবং গ্রামবাসীদের বাধা পেয়ে বৈধ নথি দেখাতে না পেরে সুপারভাইজারের পলায়ন সন্দেহ জোরালো করছে। কাটমানির কারণেই এই অবস্থা কিনা তার তদন্ত দাবি করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিষয়টি প্রশাসনিক মহলের নজরে আনতে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হন গ্রামবাসীরা। কিছুদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি রায়নায় গিয়ে নিম্নমানের রাস্তার কাজ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নতুন করে রাস্তা তৈরির নির্দেশ দেন। সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা। গ্রামবাসীরা জেলাশাসকের উপরই আস্থা রাখছেন।

অক্টোবর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ‍্যাসাগরের জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন বাংলা পক্ষের

২৬ সেপ্টেম্বর বাঙালির গর্ব পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মদিবস। বাংলা পক্ষ বিগত ২০১৮ সাল থেকেই এই দিনটিকে বাঙালির জাতীয় শিক্ষক দিবস রূপে পালন করে আসছে। সংগঠনের মতে রাধাকৃষ্ণণের মত গবেষণা নকলের অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তির জন্মদিনে নয়, শিক্ষক দিবস পালন হোক বাঙালি জাতির মহান শিক্ষক বিদ্যাসাগরের জন্মদিনেই। বাঙালি জাতিকে তিনি আক্ষরিক অর্থেই বর্ণ পরিচয়ের মাধ্যমে শিক্ষা দান করেছিলেন, আধুনিক শিক্ষাবিস্তারে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর জন্মদিনের মত উপযুক্ত দিন শিক্ষক দিবসের জন্য আর নেই। বাংলা পক্ষর এই দাবিকে অতীতে সমর্থন করেছেন সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, এই সমর্থন প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশিষ্ট বাঙালিদের স্বাক্ষর সহ একটি চিঠি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছে দিয়েছে বাংলা পক্ষ। চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে যাতে এইদিনটিকে বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণা করা হয় ও সংসদে বাংলার প্রতিনিধিরা এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয় শিক্ষক দিবস করার দাবি উত্থাপন করেন। বিগত বছরগুলোর মত আজকের দিনে ২৪টি সাংগঠনিক জেলার একজন করে বিশিষ্ট শিক্ষককে বিদ্যাসাগর জাতীয় শিক্ষক সম্মান ১৪৩০ এ ভূষিত করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক, প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন এমন ব্যক্তিদেরই নির্বাচন করা হয়েছে। চাবাগানের হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবার থেকে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাবিস্তারে কাজ, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় ব্যক্তিগত স্কলারশিপ, পুলিশ, সেনার চাকরির উপযুক্ত করে বাঙালি যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মত ব্যতিক্রমী কাজ করে যাওয়া শিক্ষকরা রয়েছেন এবারের তালিকায়। আছেন বাঙালির অপমানের প্রতিবাদ করে সাসপেণ্ড হওয়া বিশ্বভারতীর সোজা মেরুদণ্ডের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য। তালিকায় আছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশিক্ষক কুন্তল রায়, আছেন নাট্য অভিনেতা, প্রশিক্ষক পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথাগত শিক্ষার বাইরেও ক্রীড়া, সামাজিক, সাংস্কৃতিক শিক্ষার গুরুত্বের কথাও স্মরণ করিয়েছে এই তালিকার নির্বাচন। রাজ্য জুড়ে সারাদিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মাননা অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। বীরসিংহে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মভিটায় বাংলা পক্ষ এদিন সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বীরসিংহের পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে বাংলার সরকারের কাছে আরও একবার দাবি করছি আজকের দিনটিকে বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণা করা হোক। বাংলা ভাষার উন্নতিসাধন ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যাসাগরের যা ভূমিকা, তারপরও অন্য কোন ব্যক্তির জন্মদিনে শিক্ষক দিবস বাঞ্ছনীয় নয়। বাংলার সকল সাংসদ, বিশেষত ঘাটালের সংসদের কাছে অনুরোধ বিদ্যাসাগরের জন্মদিনকে রাষ্ট্রীয় শিক্ষক দিবস করার দাবিতে সংসদে সোচ্চার হন। বাংলা পক্ষ বিগত ছবছর এই দাবিতে লড়ছে, আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি আগামিদিনে এই ২৬ শে সেপ্টেম্বরই হবে শিক্ষক দিবস।বিশ্ববভারতীর প্রতিবাদী অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকে সম্মানিত করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি সহ জেলার সহযোদ্ধারা। বিশ্বাভারতীতে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুদীপ্তবাবুর প্রতিবাদ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করছে, বাঙালি তাঁর পাশে আছে বলে কৌশিকবাবু উল্লেখ করেন। এরপর পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে কৌশিক মাইতি বলেন - বিদ্যাসাগর বাঙালি জাতির শিক্ষক। তাঁর জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আজ বাংলা পক্ষর নেতৃত্বে বাঙালি বাংলা জুড়ে মহাসমারোহে শিক্ষক দিবস পালন করলো। অনেক স্কুলেও শিক্ষক দিবস পালিত হল আজ। আমরা আপ্লুত। আগামীতে প্রতিটা স্কুলে ২৬ শে সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হবে।আজকের দিনের স্মরণে রক্তদান শিবির করে শিলিগুড়ি জেলা সংগঠন, সেখানে শতাধিক রক্তদাতা রক্তদান করেন। এছাড়াও মালদা, উত্তর ২৪ পরগণা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর সহ একাধিক জেলায় মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
রাজ্য

ঈশ্বরচন্দ্রর দেখানো পথে বাল্য বিবাহ রোধে শপথ নিল মুখ্যমন্ত্রীর মামার বাড়ির স্কুল

বাল্য বিবাহ সামাজিক অভিশাপ। এই সামাজিক অভিশাপ দূর করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গিয়েছেন বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগার। মঙ্গলবার তাঁর ২০৪ তম জন্মজয়ন্তীতে তাঁরাই দেখানো পথে ফের একবার বাল্য বিবাহ রুখতে শপথ নিল স্কুলের পড়ুয়ারা। অভিনব এই অনুষ্ঠানটি হয়ে গেল বীরভূমের রামপুরহাট থানার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি কুসুম্বা গ্রামের কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ে।কেন্দ্র থাকে রাজ্য সরকার বাল্য বিবাহ রোধে লাগাতার প্রচার করে চলেছে। বাল্য বিবাহের খবর পেলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কিন্তু যে বয়সের মেয়েদের এই প্রবনতা দেখা দিচ্ছে সেই বয়সের মেয়েদেরই এবার বাল্য বিবাহ না করার শপথ গ্রহণ করালেন কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। সেই সঙ্গে বাড়ি ফিরে বাল্যবিবাহ রোধে তাদের পথে নামার পরামর্শও দেওয়া হলশুরুটা হয়েছিল গতবছর থেকে। গ্রাম্য এলাকায় কম বয়সী-ছেলে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। সেইসব দেখে বাল্য বিবাহ রুখতে উদ্যোগ গ্রহন করেন কুসুম্বা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্দীপ কুমার মণ্ডল। গতবছর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রথম বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথবাক্য পাঠ করার আবেদন জানান। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে স্কুলের পড়ুয়া থেকে সহকর্মীরা।মঙ্গলবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৪ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কুসুম্বা হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের একটি আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় স্কুলের বাইরে। এদিন সেই মূর্তির উন্মোচন করেন রামপুরহাট বিধায়ক, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পরেই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে স্কুলের পড়ুয়াদের শপথ গ্রহন করালেন প্রধান শিক্ষক সন্দীপ মণ্ডল। অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শপথ বাক্য পাঠ করান। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে শপথ নিলেন স্কুলের ছাত্র ও ছাত্রীরা। একই অনুষ্ঠানে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্কুলের ছাত্রদের মাদক দ্রব্য সেবন থেকে বিরত থাকারও শপথ বাক্য পাঠ করালেন বীরভূম জেলা স্কুল পরিদর্শক চন্দ্রশেখর জাউলিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষার অ্যাডহক কমিটির সদস্য প্রীতম হালদার, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক নিখিল কুমার সিনহা, এ আই অফ স্কুল গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।সন্দীপবাবু বলেন, গ্রাম বাংলায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা ভাঙতেই আমাদের এই পদক্ষেপ। শুধু শপথবাক্য পাঠ করাই নয়, নিয়মিত ছাত্রীদের বিষয়ে খোঁজ খবর করি আমরা। সেই সঙ্গে সারা রাজ্যে বাল্য বিবাহ রোধের বার্তা পৌঁছে দিতেই আমাদের এই উদ্যোগ।এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জেলা অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক চন্দ্রশেখর জাউলিয়া। তিনি বলেন, মাধ্যমিক স্তর থেকে এই বার্তা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারলে বাল্য বিবাহ অনেকাংশে কমবে। কুসুম্বা উচ্চ বিদ্যালয় ভালো উদ্যোগ নিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
কলকাতা

ডেঙ্গুতে সল্টলেকে মৃত্যু, পুরনিগমের খোদ চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডের ঘটনা

সল্টলেকে এবছর প্রথম ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল। সল্টলেকের এই (AE) ব্লকের ৭৯১ নাম্বর বাড়ির বাসিন্দা ৬৬ বছরের পিনাক সরকার। গতকাল রাত ১০ টা ১৫ নাগাদ একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ডেথ সার্টিফিকেটে মৃত্যুর কারণ হিসাবে লেখা রয়েছে সিভিয়ার ডেঙ্গি সিন্ড্রোমের কথা।পরিবার সূত্রে খবর, গত মাসের ২৭ তারিখ পিনাক সরকারের জ্বর আসে। পরের দিন ২৮ অগাস্ট সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর পর কিছু সমস্যার কারণে তাঁকে ১৫ তারিখ ভর্তি করা হয় বাইপাস এর কাছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ২১ তারিখ রাত ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে আজ সকালে মৃতের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছান বিধান নগর পৌর নিগমের চেয়ারম্যান তথা ৩১ নাম্বার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। সেখানে গিয়ে পৌর নিগমের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।সব্যসাচী দত্ত বলেন, এটা দুর্ভাগ্য যে আমার ওয়ার্ডেই আজকে মাঝ বয়সী এবং আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এটা খুব দুঃখজনক ঘটনা কিন্তু সব মানুষকেই বারবার করে অনুরোধ করছি আপনাদেরও জানাচ্ছি নিজের বাড়িটা পরিষ্কার রাখুন এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িতে যদি কেউ পরিষ্কার না রাখে দয়া করে অনুরোধ করুন। অনুরোধ কেউ রাখছেন না। এই একটা গলিতে অন্তত ১০-১২ জনের ডেঙ্গু হয়ে গিয়েছে। মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্টে প্রভিশন আছে আপনার প্রেমিসেসের ভেতরে যেটা রয়েছে সেটা যদি আপনি ক্লিয়ার না করেন এফআইআর করে লিগ্যাল একশন নেওয়া।আসি যায় মাইনে পাই কাজ করলে ওভারটাইম চাই আর বলবো কিছু। কাজ হলে এরকম ভাবে মানুষ মারা যায়? আপনারা ছবি তুলেছেন বাড়ির ভেতরে আবর্জনা আছে সেই আবর্জনা দিনের পর দিন নয়, মাসের পর মাস নয় বছরের পর বছর ধরে আছে। কি করবো আমি? বলেন সব্যসাচী দত্ত।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - তৃতীয় পর্ব

ঢুকে যখন পড়েছি একবার ছাড়াছাডি নেই আর! কোনোমতে ঘুষিয়ে ঘাষিয়ে সেই ভীড়ে ঠাসা সর্বোচ্চ গ্যালারীর পরিধি বেয়ে এগোতে লাগলাম অনীক আর আমি। কারো কোল ডিঙিয়ে, কারো বগলের তলা দিয়ে উঁকি মেরে, কোনো শালপ্রাংশু মহাভুজের পিঠের পিছন দিয়ে পিছলে গিয়ে, দুরধিগম্য এক অভিযানে ব্রতী হলাম আমরা এমন একটুকরো পা রাখার জায়গার সন্ধানে যেখান থেকে অন্তত এক চোখ দিয়েও দেখা যাবে সীমানাফটকে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে কী মহানাট্য! লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে সড়রা মেরে শেষতক পৌঁছোতেও পারলাম সেই গ্যালারীর পশ্চিমতম প্রান্তে, আর হাডগোডভাঙ্গা দ-এর মতো বেঁকেচুরে কোনোমতে দাঁড়িয়ে দেখলাম সেখান থেকে দুই দেশের সীমান্তফটক আর মধ্যবর্তী নো ম্যানস ল্যান্ড দেখা যায় চমৎকার!সীমান্তচৌকির এই অনুষ্ঠান দেখার পরমোৎসাহ ছিল মূলত চিত্রা ও সুকন্যা-র; আমরা বাকিরা বিনে পয়সায় দুশো মজা দেখার মতলবে সামিল হয়েছিলাম হইহই করে। কিন্তু এ যা ভুতোভুতি কান্ড দেখছি, চিত্রা গ্যালারীর ভেতর ঠিকঠাক জায়গায় ঘাঁটি গাড়তে পেরেছে তো! আর সুকন্যা-রূপার উইকেট তো পড়ে গেছে প্রথম ওভারেই! নিজেরাও হাত-পা-গুলো আস্ত নিয়ে বেরোতে পারবো কি না কে জানে!চোখের সামনে সুবিশাল পাঁচতলা অশ্বক্ষুরাকৃতি দর্শনার্থী-গ্যালারি, খচাখচ ভরা হুয়া হ্যায়। গাঁকগাঁক করে দেশপ্রেম উগড়োচ্ছে মহাশক্তিমান সব সাউন্ডসিস্টেম, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উল্লসিত কলরোল আবেগাপ্লুত জনগনেশের। মধ্যিখানের মসৃন পিচঢালা রাস্তাটি বন্ধ ফটক পেরিয়ে গিয়ে পড়েছে নো ম্যানস ল্যান্ডে। সেই রাস্তায় বলিউডি দেশভক্তিগীতির তালে তালে তুমুল নৃত্যকলা প্রদর্শন করছেন শয়ে শয়ে উত্তেজিত দেশপ্রেমী সে দলে ঝুঁটিবাঁধা নবযুবক-ফাটাজিন্স তরুণী-পৃথুলা মাঝবয়সী পন্জাবিনী-ছকরাবকরা শার্টশোভিত চকচকে-টাক আঙ্কলজী, কে নেই! ভূমিতলের গ্যালারীর প্রথম কয়টি ধাপে সমাসীন কিছু বিদেশী অতিথি পরম কৌতুকভরে অবলোকন করছেন এই অমৃত মহোৎসব!সীমান্তের ওপাড়ের গ্যালারি খাঁ খাঁ করছে। রমজান মাস। উপবাসভঙ্গের সময় এখন। তাই বোধ হয় ওদিকের দেশপ্রেমীরা তেমন আসর জমান নি। মখমলি সবুজ ঘাসজমি ঘিরে অর্ধচন্দ্রাকার গ্যালারীটি আয়তনে এদিকের এই দানবিক নির্মাণের কাছে পঁচিশ গোল খাবে; তবে বেশ একটা সংযত ওল্ড ওয়ার্ল্ড চার্ম জড়িয়ে আছে ওয়াগা সীমান্তফটকের ওই দিকের পরিকাঠামোয়।নববর্ষের বৈকালিক সূর্য ঢলে পড়লো উল্টোদিকের গ্যালারীর আডালে। এখন ছাদেও উঠে এসেছেন বহু মানুষ। সুকন্যা-রূপাকে নিয়ে বাদশাদা ফিরে এলো কি? ঢুকতে পারলো? প্রবেশদ্বারগুলির কাছে চরম বিশৃঙ্খলা এখন মনে হচ্ছে অনেকখানি স্তিমিত। সোয়া পাঁচটা বেজে গেছে। চারটি দশাসই সারমেয় শান্ত পায়ে হেঁটে গেল তাদের হ্যান্ডলারদের পাশে পাশে; তার পরেই সতেজ সাবলীল পদক্ষেপে কদম কদম এগিয়ে গেলেন বি.এস.এফ-এর চার তরুণী সদস্যা সীমান্তফটকের কাছে গিয়ে পোজিশন নিলেন এঁরা সবাই।এবার অকুস্থলে অবতীর্ণ হলেন বি.এস.এফ-এর কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক। তাঁর পরবর্তী ক্রিয়াকলাপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আমাদের দেশাত্মবোধ জাগাতে কী না করলেন ভদ্রলোক লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে-দৌড়ে গিয়ে- ঢিল মারার ভঙ্গী করে সবাইকে অনুপ্রাণিত করলেন তাঁর বাজখাঁই গলায় দেওয়া স্লোগানে গলা মেলাতে। কত রকমভাবে যে গলা খেলালেন তিনি! আর থেকে থেকে অদ্ভুত এক কালোয়াতী ঢঙে ছো-ও-ও শব্দে মিনিটখানেক টান দিয়ে শেষে হা-আ-আ করে সংক্ষিপ্ত হুঙ্কার পাবলিক পুরো ফিদা সেই রণনির্ঘোষ শুনে!এই উচ্চকিত দেশভক্তির ফুটন্ত বাতাবরণে অনীক আর আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছি বেশ! স্লোগানে তেমন গলা তোলা হয় নি একবারও। গ্যালারীতে উঠে এসে আমাদের ঘাড় ধরে ওপাড়ে ছুঁড়ে ফেলে না দ্যায়! তবে ভয়ে ভয়ে এধার ওধারে তাকিয়ে দেখে নিয়েছি, কাছাকাছি ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আরো কিছু বাঙালী পরিবারের অবস্থাও তথৈবচ! জ্বলন্ত দেশপ্রেমের সাম্প্রতিক মাপকাঠিতে আমাদের বাঙালিদের নম্বর যে নেহাতই কম সে কথা মালুম হলো, তা সে আন্দামানের সেলুলার জেল-এর বন্দীতালিকায় মোট ৫৮৫ জনের মধ্যে ৩৯৮ জনই বাঙালী যতই না হোক!!প্রায় সাড়ে পাঁচটা। দৃপ্ত পদক্ষেপে কুচকাওয়াজ করে এগিয়ে গেলেন একদল জওয়ান। তাঁদের তলোয়ার খেলানো.. অঙ্গসন্চালন.. আকাশমুখী পদবিক্ষেপ সবই বিস্ফারিতচক্ষে দেখার মতো। ভয় হচ্ছিল, নিজের পায়েই না কারো কপালে চোট লেগে যায়! উপস্থিত তিন-সাড়ে তিন লাখ জনতা উৎসাহে-রোমান্চে-গর্বে উদ্বেল! থেকে থেকে বজ্ররবে উছলে উঠছে জনসমুদ্র ভারতমাত্তা কি-ই ঝ্যায়! আমরা এখান থেকে দিব্যি দেখতে পাচ্ছি, ফটকের ওপারের ঘাসজমিতেও অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে রণরঙ্গ; তবে তাতে উত্তেজনা অনেক কম। শুরুতে ঢাউস ঢাক বাজাতে বাজাতে নেচে গেছেন জনাকয় ভাঙরা-শিল্পী, তাতে মৃদু হর্ষোল্লাস শোনা গেছে একটু একটু করে জমে ওঠা শখানেক দর্শকের ওমনি প্রবল প্যাঁক দিয়েছে এপাড়।ঠিক সাড়ে পাঁচটায় খুলে গেল দুদিকের ফটক। দুদেশের জওয়ানরা সেলাম ঠুকলেন পরস্পরকে খোলা হলো পতাকার দড়ির গিঁট টানটান করে কোনাকুনি দড়ি ধরে দাঁডিয়ে রইলেন দুপাড়ের সান্ত্রীরা ধীরে ধীরে নেমে এলো দুদেশের নিশান ভাঁজ করে রেখে দেওয়া হোলো পরদিন সকালে পুনর্বার ঝান্ডোত্তোলনের জন্য গড়গডিয়ে বন্ধ হয়ে গেল দুপাড়ের সীমান্তফটক, আজ রাতের মতো।অনুষ্ঠান শেষ। একটি প্রাত্যহিক রিচ্যুয়াল ঘিরে এই মাপের হাইপ ভাবা যায় না! স্লুইস গেট খুলে যাওয়া অতিকায় বাঁধের জলসমুদ্রের মতো দ্রুত খালি হয়ে যাচ্ছে গ্যালারী। ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলাম দুজনে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে দুচোখ ভরে দেখলাম সীমান্তের ওপাড়ে দিনের সূর্যের ডুবে যাওয়া সেই একই হরিয়ালা শষ্যক্ষেত্র একই মাটি জল একই নীলাকাশ!নীচের বাগানে মানুষের মেলা সাজিয়ে রাখা পুরোনো বিমানের সামনে ফটো-সেশনের ভীড়কোনোমতে ফোনের লাইন পেতেই খুঁজে পাওয়া গেল বাকিদের। চিত্রা ভীড়ের চাপে চিঁডেচ্যাপটা হয়েও দেখতে পেয়েছে ভালোই! বাদশাদা-সুকন্যা-রূপা আমার আশাকে সম্মান জানিয়ে ফিরে এসেছিল ও ফাঁকতালে ভালো জায়গাতেই দাঁড়াতে পেরেছিল। সমবেত নৃত্যভুবনের মায়াবী পরিবেশে আত্মহারা হয়ে সুকন্যা ও রূপা গ্যালারীতেই বেশ দুপা নেচেও নিয়েছে শুনলাম। শুনে পরম আশ্বস্ত হওয়া গেল। সতীর পুণ্যে পতির পুণ্য! এই সুমহান দেশভক্তিমূলক নৃত্যসমাবেশে আমারও যাকে বলে মহত্বপূর্ণ যোগদান রয়ে গেল!বাইরে শাহী কিলা রেস্তরাঁয় পয়সাওয়ালা দর্শনার্থীদের ভীড়। একপাশে ছোট্ট মন্চে গাইছেন ঝিকিমিকি আলোজ্বলা পোশাকপডা গাইয়ে।রূপা প্রচন্ড ক্ষেপে রয়েছে ওকে ছেড়ে আমি ভিতরে ঢুকে যাওয়ায়। একগ্লাস কোল্ড কফি সেই উত্তপ্ত চিত্তে কিন্চিৎ ছায়াবিস্তার করলো। বিস্তর ঝামেলা গেছে আজ সারাদিন, বেশী গন্ডগোলের দরকার কী!ঝামেলার অবশ্য বাকি ছিল আরো! পার্কিংলট থেকে গাড়ি বেরোতেই লেগে গেল ঘন্টাখানেক, এমন বিচ্ছিরি যানজট! যে যেদিকে পারে গাড়ি ঢুকিয়ে দিচ্ছে, যাননিয়ন্ত্রণের কোথাও কোনো নামগন্ধই নেই। অবশেষে একসময় ফেরার পথ ধরলো আমাদের ইনোভা ক্রিস্টা। পেটে তখন চুহাদের উন্মত্ত ছোটাছুটি; সারাদিন তো সেভাবে গুছিয়ে খাওয়াই হয় নি! গৌরব গাড়ি দাঁড় করালো মাঝপথে, বল্লে বল্লে ধাবা-য়।বেশ জম্পেশ ব্যাপার; পাশেই আছে সাবা সাবা ধাবা। বল্লে বল্লে আর সাবা সাবা মিলে বেশ জনচিত্তজয়ী পরিবেশ রচনা করে রেখেছে রাজপথের পাশে। ভিতরে প্রশস্ত চাতাল.. বাগান.. ফোয়ারা.. খাটিয়া বা কুর্সিতে ইচ্ছামতো বসার আয়োজন!টনটনে পা ছড়িয়ে বসে জম্পেশ খাওয়া হোলো চাওল-রাজমা - বেসন দা রোটি - মক্কি দা রোটি - সর্ষুঁ দা শাগ - পায়েস-লস্যি! প্রৌঢ সর্দারজী বাঙালী মেহমানদের খাতিরদারি করলেন দিল খুলে। পন্চনদ -এর দেশে প্রথম সন্ধ্যার পেটপুজো নেহাত মন্দ হলো না!আধঘন্টায় অমৃতসর শহর পুরোনো ও নতুন হাতধরাধরি করে দাঁডিয়ে পেরোলাম বিখ্যাত গুরু নানকদেব বিশ্ববিদ্যালয় তার পাশেই বিশাল উদ্যানশোভিত ক্যাম্পাসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো আলোকিত এক অপরূপ সৌধ দেখে মুগ্ধ হলাম, জানলাম ওটি খালসা কলেজ! হোটেল গোল্ডেন সিরাজ ক্যাসল খুঁজে পেতে বেগ পেলেও জায়গাটা পছন্দ হোলো বেশ!কোন ভোরে উঠেছি সবাই! ঝটপট তাই বিছানায়। কাল সকাল সকাল উঠে সোজা স্বর্ণমন্দির!

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধর-এর কাছাকাছি - দ্বিতীয় পর্ব

বৈশাখী উৎসব কাল রং ছড়িয়েছে সারা পন্চনদ জুড়ে; সেই রঙের স্বপ্নমায়া যেন জড়িয়ে আছে পথের দুধারের প্রকৃতিতে। পাকা গমের ক্ষেতে সোনালী আলো, তার মাঝে মাঝে গাছগাছালির সবুজ সঙ্গৎ। মধ্যদিনে গান বন্ধ করে নি পাখিরা; স্বাস্থ্যবান টিয়ার ঝাঁক ওড়াউডি করছে গাছে গাছে আর গমের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়.অমৃতসর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে হোটেলে না উঠে সরাসরি চলেছি চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি সীমান্তের দিকে, উল্টোদিকের পাকিস্তানী সীমান্ত ওয়াগা-র নামেই যা খ্যাতি পেয়েছে ওয়াগা বর্ডার রূপে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মুখোমুখি দুই দেশের সীমান্তচৌকিতে জাতীয় পতাকা অবনমনের অনুষ্ঠানটি দেখেই ফিরবো আমরা, তারপর পূর্বনির্ধারিত হোটেলে গিয়ে আশ্রয়গ্রহণ।নিদাঘদগ্ধ অপরাহ্নের নিষ্করুণ রৌদ্র গড়িয়ে নামছে দুপাশারি নিম-বট-অশ্বত্থের ডাল বেয়ে। প্রশস্ত সড়কের ডান পাশে একের পর এক পাঁচিলঘেরা সামরিক ছাউনি। পথে মাঝে মাঝেই পেরোচ্ছি পেছনের ডালাখোলা টেম্পো-ম্যাটাডর-ছোটোহাতি গাড়িদের; সেসব গাড়িতে বোঝাই হয়ে সীমান্তচৌকির অনুষ্ঠান দেখতে যাচ্ছে তেরঙা টুপি-ফেট্টি-পতাকায় সজ্জিত তরুণ ভারত। পথের বাঁ ধারে মাঝে মাঝেই বিলাসবহুল দুর্দান্ত সব ফার্মহাউস বা অনুষ্ঠানস্থল বাগান-মূর্তি-স্থাপত্যের আড়ম্বরে যা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, দেখিয়ে দেয় সবুজ বিপ্লবোত্তর পন্জাব-এর সমৃদ্ধি-চিত্র।অকুস্থলের কাছাকাছি এসে লম্বা গাড়ির লাইনের পেছনে থেমে যেতে হোলো। গাড়ির আশেপাশে হাতে-গালে তেরঙা আঁকনেওয়ালা টুপি-ফেট্টি-আর্মব্যান্ড বেচনেওয়ালা ছোটোখাটো স্মারক- সি.ডি - টি-শার্ট গছানেওয়ালারা উপচে পড়লো। ভারতীয় সেনার প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের পরিচিতিপত্র দেখিয়ে, গাড়ির আগাপাস্তালা চেকিংয়ের অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে, পৌঁছে গেলাম সীমান্তচৌকির কাছে বিশাল পার্কিংলটে। ওয়াশরুম - কাফেটারিয়া - ওয়েটিং শেড সবকিছু নিয়ে জমজমাট এক পরিকাঠামো সারথী গৌরব এখানেই আমাদের ভূমিস্থ করে সাময়িক বিদায় নিল।কাতারে কাতারে মানুষ; লম্বা লাইন এগোচ্ছে দ্রুত। বাইরের গেট-এর কাছে এসে দেখি পুরুষ ও মহিলাদের লাইন আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, পৃথক জায়গায় তাদের শরীর তল্লাশির বন্দোবস্ত। সেই অবশ্যপালনীয় খিটকেলটি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে বাদশাদা-অনীক-আমি আর খুঁজে পেলাম না আমাদের মহিলা ব্রিগেডকে!নিশ্চয়ই ঢুকে গ্যাছে ভিতরে! অনুষ্ঠানের সময় হয়ে আসছে; লোকজন প্রায় ছুটছে দুপাশ দিয়ে। কাজেই গ্যালারিতে জায়গা পেতে হলে কালক্ষেপ না করে এগোও। ওদের ফোন করতে গিয়ে দেখি ফোনের সিগন্যাল হাওয়া! তা হলে যোগাযোগ হবে কী করে! মহা মুশকিল হোলো তো!তিনজনে ফোন টেপাটেপি করতে করতেই পা চালাচ্ছি; হঠাৎ বাদশাদা ফোন পেল সুকন্যার কোথায় তোমরা, কোথায় তোমরা করতে করতেই সে ফোন কেটেও গেল। অতঃপর তিনজনেই প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, কখনো সখনো কানেকশন হচ্ছেও, কিন্তু কথা বলার আগেই কেটে যাচ্ছে। এই লাখখানেক লোকের ভীড়ে একসাথে না মিললে চিত্তির; কিন্তু ওরা যে কোথায় বোঝাই যাচ্ছে না! দাঁড়িয়ে যাবো কোনো এক জায়গায় নাকি এগোবো তাও ঠিক করতে পারছি না!এই কুনাট্য অভিনীত হোলো আরো প্রায় মিনিট দশেক। ততক্ষণে বন্যার মতো জনস্রোত বয়ে যাচ্ছে মূল অনুষ্ঠানস্থলের দিকে। দূর ছাই, নিশ্চয়ই ওখানেই পাবো ওদের। চলো এগোই। বলে প্রায় দৌড়োলাম তিনজনে।সামনেই বিশাল এক অট্টালিকাসম নির্মাণ, মাথায় লেখা INDIA; সামনে সুউচ্চ দণ্ডশীর্ষে বিশাল জাতীয় পতাকা উড়ছে পতপত করে। গ্রাউন্ড লেভেল-এর প্রবেশপথটি জনস্ফীতিহেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। প্রহরীর নির্দেশ, উঠে যাও পাশের সিঁড়ি দিয়ে ওপরের গ্যালারিতে। সে দিকে তাকিয়েই দেখি সিঁডির পাশে বিপন্ন মুখে দাঁড়িয়ে সুকন্যা আর রূপা!!হারানিধি ফিরে পেলেও সেলিব্রেশন-এর সময় নেই। চিত্রা কই? সে নাকি আমাদের দেরী দেখে একাই গুঁতিয়ে গাঁতিয়ে ঢুকে গেছে ভীড়ে ভীড়াক্কার গ্যালারিতে! দোষারোপ - পাল্টা দোষারোপের সময় নেই; তেডে সিঁড়ি বাইতে শুরু করলাম পাঁচজনে। ঠাসাঠাসি ভীড় প্রায় এগোনোই যায় না ভারতবর্ষের নানান প্রান্তের ভাষায় চিল্লামিল্লি ভেতর থেকে তারস্বরে মাইক উগরে দিচ্ছে জয় হো, জয় হো-ও .দোতলা তেতলার গ্যালারিতে তিলধারণের ঠাঁই নেই, ঢোকাই গেল না। চারতলার ল্যান্ডিংয়ে এসে স্নায়ুবিপর্যয় হোলো সুকন্যা-রূপার আর এক পা-ও যাবো না আমরা, মরবো নাকি এই ভীড়ে লোকের পায়ের তলায়!অনেক চেষ্টাতেও বোঝানো গেল না তাদের। অগত্যা বাদশাদা ওদের দুজনকে নিয়ে নামার পথ ধরলো। অনীক-এর হাত জাপটে ধরে আমি বল্লাম, যা থাকে কপালে, ফিরবো না। চলো দেখা যাক কী হয়!সর্বোচ্চতলার গ্যালারি প্রবেশপথের আগে সিঁড়িতে একদম ঠাসাঠাসি ভীড়, চরম বিশৃঙ্খলা। ওপরের লোকেরা ঢুকতে না পেরে নেমে আসতে চাইছে, নীচের লোকেরা চাইছে ওপরে উঠতে। কঘন্টা আগের দিল্লী-অমৃতসর উড়ানে মাঝের কিছুক্ষণ ভয়ানক এয়ার টার্বুলেন্স-এ পড়েছিল আমাদের বিমান; বারকয়েক মাঝআকাশে এয়ারপকেটে ধাঁইধপ্পাস পড়ে ভীষণ আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। আমি তখন ওয়াশরুমের ভেতর হাতল আঁকড়ে সিঁটিয়ে দাঁড়িয়ে! কিন্তু তখনো এতো ভয় লাগে নি, এই মূহুর্তে যতটা বিপন্নবোধ করছি। এখন আর নেমে যাওয়ারও সুযোগ নেই। বাংলা নববর্ষের বিকেলে, এই দূর সীমান্তচৌকিতে পদপিষ্ট হয়ে যাওয়াই কপালে লেখা ছিল!সারাক্ষণ কোনো ভীড় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বা ব্যবস্থা চোখেই পড়ে নি সেভাবে। চিৎকার.. কান্নাকাটি.. গালাগালি.. তার মধ্যেই দুজনে দুজনার হাত জাপটে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে, দেওয়াল ঘেঁষে ঘষটে ঘষটে, অ্যামিবার মতো ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া এদিক সেদিক বাড়িয়ে বাড়িয়ে, একসময় কোনোমতে উঠে এলাম সর্বোচ্চ গ্যালারির প্রবেশপথে। তারপর একঝটকায় ভিতরে। মাইকে তখনো অমায়িক নির্দোষ ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া, ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া..

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৩
কলকাতা

জোড়াসাঁকোর মাটি যাচ্ছে দিল্লি, স্থান পাবে আমার মাটি আমার দেশে

দিল্লির অমৃত উদ্দ্যানের জন্য মাটি সংগ্রহ কর্মসূচি বিজেপি। আজ, রবিবার রবীন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করল রাজ্য বিজেপি। জোড়াসাঁকোর সেই সংগৃহীত মাটি পাঠানো হবে দিল্লিতে। বিজেপির এই মাটি সংগ্রহ অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক বলেন, ওনারা মাটি পাঠান, আমরা মা-মাটি মানুষের দল। আমরা মাটি পাঠানোর বিরোধী নই।জোড়াসাঁকোর পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, কালীঘাট মন্দির থেকেও মাটি সংগ্রহ করা হবে। মোদীর স্বপ্নের আমার মাটি আমার দেশ উপলক্ষ্যে ভারতের প্রতিটি মহান ব্যক্তিত্বের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা হবে মাটি। এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সোনারপুর থানার সুভাষগ্রামে নেতাজির বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয়।বিজেপি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে আমার মাটি আমার দেশ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। দিল্লিতে তৈরি হচ্ছে অমৃত বাটিকা নামে একটি বাগান। গোটা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি সংগ্রহ করে সেই বাগানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্বাধীনতা সংগ্রামী, দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া পুলিশ বা সেনাদের বাড়ি থেকে এই মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেই উদ্দেশ্যেই আজকের এই মাটি সংগ্রহ অভিযান।এপ্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের অভিযান আমার মাটি আমার দেশ। রাজধানী দিল্লিতে অমৃত বাটিকা তৈরি হচ্ছে। সারা দেশ জুড়ে সেই মাটি সংগ্রহের কাজ চলছে। আমরা আজ রবীন্দ্রনাথের বাড়ি থেকে মাটি সংগ্রহ করতে পেরে গর্বিত। সংগ্রহ করা মাটি আমরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেব।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
উৎসব

দেশ-বিদেশের ১৫০০ বাঙালি ১২ দিন ধরে কলকাতায় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহাযজ্ঞে সামিল

বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা ঘোষণার দাবিকে সামনে রেখে শেষ হলো ১২ দিন ব্যাপী যতদূর বাংলা ভাষা অনুষ্ঠান। ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা যুগসাগ্নিকের উদ্যোগে গত সাতাশে অগাস্ট গঙ্গা বক্ষে এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ বারোদিনব্যাপী বঙ্গীয় সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, গল্পপাঠ, শ্রুতিনাটক, সংগীত, নৃত্য, শিল্পকলা, ও নাট্যাভিনয় অনুষ্ঠিত হয়। গোটা অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য সহ ৬টি দেশের বাংলা ভাষার ১৫০০ বেশি কবি, সাহিত্যিক অংশ গ্রহণ করেন।এ প্রসঙ্গে, যুগসাগ্নিক পত্রিকার সম্পাদক প্রদীপ গুপ্ত বলেন, সমগ্র ভূখণ্ডে যেখানেই বাংলাভাষা উচ্চারিত হয় আমরা সেখানেই পৌঁছাতে চাই। আর এই কার্যসিদ্ধি সম্ভব হয়েছে কবিতা-সাহিত্য-সংস্কৃতির হাত ধরে। যুগসাগ্নিক ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ছাড়াও আরও কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকার সহযোগিতায় বিগত তিন বছর ধরে হয়ে আসছে যতদূর বাংলা ভাষা শীর্ষক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতের সমস্ত রাজ্যের বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যকদের মিলনক্ষেত্র গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি আমরা। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবারের অনুষ্ঠানসূচি আরও বৃহৎ আঙ্গিকে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ১২ দিন ব্যাপী এই সূচি ভারতবর্ষে ইদানীংকালে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম ও সর্ববৃহৎ বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতির মিলন মেলার চেহারা নিয়েছে। ভারতের ১২ টি রাজ্য ও বিশ্বের ছটি দেশের মোট ১৫০০ কবি-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি মনষ্ক মানুষ এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও অন্তোদয় অনাথ আশ্রমের শিশুদের বিশেষ অংশগ্রহণ ছিল সমগ্র অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠান থেকে সকল ভাষাকে সম্মান জানিয়েই বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা ঘোষণার দাবি তোলা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
নিবন্ধ

ধৌলাধরের কাছাকাছি, প্রথম পর্ব

নববর্ষের ফুরফুরে সকালে যখন হু হু করে ছুটছে আমাদের গাড়ি রাজারহাট-নিউটাউন এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে, লালপেডে শাড়িতে সুশোভিতা একঝাঁক বঙ্গললনার ছোট্ট পদযাত্রা চোখে পডলো; হাতে তাঁদের ঢাউস মাপের শুভ নববর্ষ লেখা তালপাতার পাখা। সকাল আটটার রোদ আটকাতেই অনেকে সে পাখা ব্যবহার করছেন ছাতার মতো। বঙ্গসংস্কৃতি উদযাপন করতে তাঁদের অভিমুখ সেন্ট্রাল মলের সামনের নববর্ষ মেলায় এটা যেমন বোঝা গেল, তেমনই সকাল আটটাতেই ঘামিয়ে দেওয়া এই রুদ্রবৈশাখকে ফাঁকি দিতে চলেছি হিমাচলের ওক-পাইন-দেওদারের ছায়ায় ছায়ায় এই ভাবেই মনটা গার্ডেন গার্ডেন হয়ে গেল!সস্ত্রীক বাদশাদা-অনীক-আমি মোট ছয়জনের নাতিদীর্ঘ বাহিনী। অমৃতসর দিয়ে শুরু করে হিমাচলপ্রদেশের পশ্চিমাংশটা সমঝে নেবো আগামী আটদিনে। প্ল্যানটা দানা বেঁধেছিল মাত্রই মাসখানেক আগে; তাই ফেরার পথে চন্ডীগড থেকে কালকা মেল-এর বাতানুকূল সেকেন্ড টায়ার-এর টিকিট কষ্টেসৃষ্টে পেয়ে গেলেও অমৃতসর অবধি যাওয়ার টিকিট আকাশপথেই কাটতে হোলো। চারমাস আগে ট্রেনের আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমাদের মতো উঠলো বাই তো বিনসর যাই- মার্কা উড়ুউডু মনদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। কটা পেশাজীবী মানুষ আর চারপাঁচমাস আগে থেকে আজকাল বেড়ানোর ছক সাজিয়ে উঠতে পারে!বাদশাদা-সুকন্যা আর অনীক-চিত্রা ভোর ভোর বেরিয়ে গাড়ি নিয়ে আসছে বর্ধমান থেকে। রূপা আর আমি কাল সন্ধ্যেতেই চলে এসেছিলাম বারুইপুরের কাছে শ্বশুরবাডিতে। মেয়েও চলে এসেছিল হোস্টেল থেকে; তার সাথে সময় কাটিয়ে সকাল সকাল দুজনে চলেছি দমদম হাওয়াই আড্ডায়। আমাদের পৌঁছে দিয়ে সারথী মিঠু ফিরে যাবে বর্ধমান।3A গেট-এ নামলাম যখন, উড়ান-এর বাকি পৌনে দুঘন্টা। দুজনের দুটি সুটকেস, সাথে দুই পিঠব্যাগ। টিকিটের প্রিন্টআউট নিয়ে গেটের সি.আই.এস.এফ সান্ত্রী দেখছেন তো দেখছেনই। কী হোলো রে বাবা! আমার আধারকার্ড দেখে মিলিয়েছেন; রূপারটা বারবার উল্টাচ্ছেন ওনার তো টিকিট নেই।মানে? টিকিট হাতে নিয়ে স্মার্টলি দেখাতে গিয়ে আমার চক্ষুস্থির! টিকিট কেটে দিয়েছিলেন এক নিকটজন; রূপার পোশাকী নাম যে ইতি সরকার সেটা বোধ হয় জানা ছিল না তাঁর। ফলত টিকিটে নাম আছে রূপা সরকার। এদিকে আধারকার্ডে জ্বলজ্বল করছেন ইতি সরকার! আর এই মাসখানেক-এর মধ্যে আমরা কেউই একবারও শ্রীনয়ন মেলে তাকাই নি টিকিট-এর পানে!!সর্বনাশের মাথায় বাড়ি! কী হবে এবার! রূপা প্রায় কেঁদে ফেলে আর কি! অন্যেরা ইতিমধ্যে ভিতরে ঢুকে চেক ইন করে করে ফেলেছে। ফোন লাগালাম কাঁপা হাতে। শুনে ওদেরও আক্কেলগুডুম! ভিস্তারা-র কাউন্টারের মে আই হেল্প ইউ আসনের মহিলা প্রথমে সটান বলে দিলেন কিছু করার নেই । পরে অন্য এক ভদ্রলোকের সহায়তায় কাস্টমার কেয়ার-এ ফোন করে জানা গেল নামের বানান ভুল হলে ঠিক করে দেওয়া যেত, কিন্তু নাম পরিবর্তন অসম্ভব!রূপার টিকিট ক্যানসেল করে ইতি সরকার নামে নতুন টিকিট কাটো; গচ্চা যা যায় যাবে, কিছু করার নেই ! সে গুড়ে বালি; কলকাতা-দিল্লী আর দিল্লী-অমৃতসর দুটো উড়ানই পুরো ঠাসা। ভিস্তারা-র পরবর্তী দিল্লী যাত্রা অনেক বেলায়; আর বেশ কয়েকঘন্টা ট্র্যানজিট টাইম দিল্লিতে কাটিয়ে পরের অমৃতসর উড়ান ধরে পৌঁছাতে রাত দশটার কাছাকাছি হয়ে যাবে!মাথা ঝাঁঝাঁ করছে। কী করি! বাদশাদা আর অনীক ছোটাছুটি করছে ভিতরে, ফোনাফুনি চলছে, আর আশ্বাস পেয়ে চলেছি দেখছি আমরা, কিছু একটা ব্যবস্থা হবে নিশ্চয়ই!আচ্ছা, রূপার টিকিটটা ক্যান্সেল হলেই তো একটা সিট খালি হয়ে যাবে; সেখানেই তো জায়গা পেয়ে যাবে ইতি সরকার এটাই বলো না ওদের!এক একটা মিনিট এক এক ঘন্টা যেন! কলকাতা বিমানবন্দরের সাথে কোনো সূত্রে যোগাযোগ আছে এমন প্রায় সব বন্ধুকে ফোন করা হয়ে গেছে। উড়ান-এর সময় এগিয়ে আসছে। অবশেষে ভিস্তারা-র কর্মীরা সফল হলেন ঐ প্লেন-য়েই নতুন টিকিট কাটায়। গচ্চা গেল একগাদা; তবু..., যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!!ওয়েব চেক ইন করে দিয়েছে ওরা। হুড়মুড় করে ব্যাগপত্র জমা দিয়ে, সিকিউরিটি চেক করে, ঢুকে পড়লাম ভিতরে। বোর্ডিং শুরু হয় হয়। তা বলে মোমো না খেয়ে প্লেনে ওঠা যায় বুঝি! ওটা যে দমদম-এ এসে আকাশে ওড়ার আগে আমার অবশ্যপালনীয় মঙ্গলাচরণ! অতএব ওয়াও মোমো-র কাউন্টারে হামলে পড়লাম সবাই। কাউন্টার-বর্তিনী জানালেন ছপ্লেট ফ্রায়েড চিকেন মোমো পাকাতে বিশ মিনিট সময় দিতে হবে। আপাতত তৈরী আছে এক প্লেট। কিছু পরোয়া নেহি! ঐ এক প্লেটই ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে একটা করে মোমো দিয়ে মুখশুদ্ধি করে নিয়ে দে দৌড় বোর্ডিং লাইনের দিকে। তবে তার মধ্যেই পাশের বইয়ের দোকান থেকে রিডার্স ডাইজেস্ট আর আউটলুক ট্র্যাভেলার পত্রিকার সাম্প্রতিকতম সংখ্যাদুটি তুলে নিতে ভুল হয় নি।ভিস্তারা আমার বেশ পছন্দের বিমানসংস্থা। মাঝে তিন বছরের কোভিডকাল বাদ না সাধলে এতোদিনে এরা ইন্ডিগো-কে বেশ কড়া প্রতিদ্বন্দিতার মুখে ফেলে দিতো বলেই আমার বিশ্বাস। কালো চামড়ায় মোড়া মোটা গদীতে ডুবে গিয়ে পরবর্তী দুঘন্টায় দিল্লী পাড়ি দিলাম বইয়ের পাতায় চোখ রেখে। রসনাতৃপ্তির আয়োজনও নেহাত মন্দ ছিল না। তবে দিল্লিতে নেমে মাত্র মিনিট পঁয়তাল্লিশের ব্যবধানে অমৃতসর উড়ান ধরার জন্য যা ছুটতে হোলো টার্মিনাল থ্রি-র অন্তহীন অলিন্দ বেয়ে, সে আর বলার নয়! তবে ভিস্তারা-র গ্রাউন্ডস্টাফ প্রায় পরমপ্রভু-প্রেরিত মেষপালকের মতো সযত্নে আমাদের তাড়িয়ে নিয়ে গেলেন প্রার্থিত বিমান অভিমুখে। সেই পাগডি-অধ্যুষিত উড়ানে যেই না ঢোকা, গড়গড়িয়ে বিমানের দরজা গেল বন্ধ হয়ে; আবার আকাশচারী হলাম সবাই।একঘন্টার সংক্ষিপ্ত উড়ান; পবিত্রশহরগামী বলেই বোধ হয় খাবারটাও নিরামিষ দিল। মেজাজটা ঈষৎ খিঁচডে গেলেও বেশ নীচু দিয়ে ওড়ায় হরিয়ানা-পন্জাবের মাঠঘাট-সেচখাল-গ্রামগঞ্জ দেখতে দেখতে মন ভালো হয়ে গেল। বিমান অমৃতসরের মাটি ছুঁলো মসৃণভাবে।হিসেবমতো অমৃতসর পন্জাব-এর এক জেলাশহরমাত্র হলেও আন্তর্জাতিকস্তরে এর নিবিড় ধর্মীয়-সামাজিক-ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য বিমানবন্দরটি বেশ জোরদার.. সুন্দর.. গাম্ভীর্যপূর্ণ। এখান থেকে বার্মিংহাম-গামী আন্তর্জাতিক উড়ান চালু হয়ে গেছিল ভারতীয় বিমান-ইতিহাসের একেবারে ঊষাকালেই। বহু নিয়মিত ও চার্টার্ড ফ্লাইটের সতত আনাগোনা এখানে। ভ্রমণসূচী ঠিকঠাক জায়গা দিয়েই শুরু করেছি আমরা।মালপত্র পেতে দেরী হোলো না। বাইরে বেরিয়ে ড্রাইভারকে ফোন করতেই মিনিট দশেকের মধ্যেই ইনোভা ক্রিস্টা নিয়ে এসে হাজির ঝাঁকড়াচুলো বেঁটেখাটো চেহারার ড্রাইভার গৌরব। ঝটপট গাড়িবোঝাই হয়ে রওনা দিলাম চল্লিশ কি.মি. দূরে আটারি-ওয়াগা সীমান্তের উদ্দেশে। ঘড়িতে তখন বিকেল সাড়ে তিনটে । ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের হেলিপ্যাড বেদখল, আবর্জনার স্তুপে দুর্গন্ধে এলাকায় টেকাই দায়

আবর্জনার স্তুপে মুখ ঢেকেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের হেলিপ্যাড। মুখ্যমন্ত্রী বোলপুর সফরে এলেই ওই হেলিপ্যাড ব্যবহার করেন। এখন সেই জায়গার উপর নজর পড়েছে ঠিকাদারদের। ফলে লোকচক্ষুর আড়ালে হেলিপ্যাডটিকে রীতিমতো ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। ফাঁকা অংশ ঠিকাদারদের ফেলে রাখা ইমারতি দ্রব্য দখল করে নিয়েছে। তবে বিষয়টি নাকি জানা নেই পুরসভার। শুক্রবার সেই হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ, বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা।রাজ্যে পালা বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্র এবং পর্যটন কেন্দ্র থেকে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হেলিকপ্টার চলাচলের সিদ্ধান্ত নেন। সেই তালিকায় বোলপুরের পাশাপাশি ছিল তারাপীঠ, দিঘা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় হেলিপ্যাড। বোলপুরে গীতাঞ্জলী প্রেক্ষাগৃহ সংলগ্ন এলাকায় সেই হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বোলপুর সফরে এলে তাঁর হেলিকপ্টার সেখানেই অবতরণ করত। এখন সেই জায়গা কার্যত ঠিকাদারদের দখলে চলে গিয়েছে। হেলিপ্যাডের চারিদিক আগাছায় ঢেকেছে। পুরসভা শহরের আবর্জনা সেখানে ফেলে ভাগাড়ের রুপ দেওয়া হয়েছে। আর এক শ্রেণির ঠিকাদার বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য ইমারতি দ্রব্য মজুতের জায়গা করে নিয়েছে সেই হেলিপ্যাড। এনিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। তবে বিষয়টি জানা নেই বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষের। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে খোঁজ নেবেন।এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার সেই হেলিপ্যাড পরিদর্শনে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। তিনি বলেন, তৃণমূল এক বিচিত্র দল। বোলপুরে স্বয়ং দলনেত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জায়গাটার অর্ধেক দখল করে নিয়েছে দিদিমনির স্থানীয় কিছু প্রমোটার এবং তোলাবাজ ভাইয়েরা। এলাকায় গিয়ে দেখলাম কেষ্টবাবুর পাচার করতে না পারা দু-চারটে গরু ঘুরে বেড়াচ্ছে। আশপাশটা আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। পুরসভার সহযোগিতায় দুর্গন্ধে পারিপার্শ্বিক এলাকা সুরভিত। যারা মুখ্যমন্ত্রীর হেলিপ্যাড দখল করতে পারে তারা সমস্ত জায়গা দখল করতে পারে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বোলপুরে এসে তাঁর হেলিপ্যাড একবার দেখে যান।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৩
দেশ

এক দেশ এক ভোট

১৮-২২ শে সেপ্টেম্বর সংসদে বিশেষ অধিবেশন বসবে। এই ঘোষণার পরের দিন ই এক দেশ এক ভোটের লক্ষ্যে অর্থাৎ লোকসভা, সব রাজ্যের বিধানসভার, পুরসভা ও পঞ্চায়েতের ভোট একসঙ্গে করার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এক উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরি করে কেন্দ্র। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের এই কমিটি সবদিক পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দেবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ও এক দেশ এক ভোটের লক্ষ্যে কমিটি গঠনের মধ্যে কোন যোগসূত্র রয়েছে কিনা তার এখনও পরিষ্কার নয়। যদিও বিষয়টি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এক দেশ এক ভোটের বিষয়টি দেশে নতুন কিছু নয়। ১৯৫২ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সময় থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত লোকসভার সঙ্গেই সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়। ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে প্রথমবার রাজ্যে ও কেন্দ্রে কংগ্রেসের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যায়। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু, ও কেরলে ক্ষমতা হারায় কংগ্রেস। কংগ্রেসের এই শক্তি ক্ষয়ের ফলে দেশের রাজনৈতিক শক্তির বিন্যাসেও বড়সড় বদল হতে থাকে। রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তনের কারণে দেশের ভোট ক্যালেন্ডারেও পরিবর্তন আসে। যেমন ১৯৬৭-১৯৭২ এই পাঁচ বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে চার বার বিধানসভা ভোট হয়। ১৯৬৮-১৯৭২ এই চার বছরে পশ্চিমবঙ্গে চারবার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়। এই সমস্ত কারণে ১৯৬৭ সালে ই দেশে শেষ বার লোকসভা সঙ্গে সব রাজ্যে বিধানসভা ভোট হয়।আরও পড়ুনঃ কেন সমাজতন্ত্র: অ্যালবার্ট আইনস্টাইনপরবর্তী সময় এক সঙ্গেই সব নির্বাচন করার বিষয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে বহুবার আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। সারা বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে কোনো না কোনো নির্বাচন হতে থাকায় অর্থ খরচের বহর বেড়েছে। পাশাপাশি ভোটের জন্য আদর্শ নির্বাচন বিধি বিভিন্ন সময় জারি হওয়ায় উন্নয়ন মূলক কাজের পরিকল্পনাও বাধা পায়। এর ওপর ভোটের বৈতরণী পার হতে বিভিন্ন শাসক দল জনতার মন পেতে একেরপর এক চট জলদি লাভের প্রকল্প ঘোষণা করে থাকেন। এর ফলে দেশে দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনাও ব্যাহত হয়।কিন্তু প্রশ্ন হল সংসদীয় আইন মেনে এখন লোকসভার সঙ্গে সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট গ্ৰহন কিভাবে সম্ভব? এখন তো বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ একসঙ্গে শেষ হয় না। তাহলে সব রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ এক ই সময় শেষ করার বিষয়ে কী পদক্ষেপ হবে?আরও পড়ুনঃ কর্মক্ষেত্রে বার্ধক্যের আধিক্য উদ্বেগজনকএক দেশ এক ভোট নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দেশের আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করতে কমিশন প্রস্তুত। মুখের নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেছেন দেশের সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে কোনো নির্বাচিত সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছমাস আগে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা যেতে পারে। এই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশন প্রস্তুত।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন সব ভোট একসঙ্গে করতে হলে অন্তত তিরিশ লক্ষ ইভিএম এবং voter verified paper audit trail বা VVPAT য়ের প্রয়োজন। এর পাশাপাশি সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের জন্য দেশ জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এই অল্প সময়ের মধ্যে ২০২৪ সালে একসঙ্গে সব ভোট গ্রহণ অত্যন্ত কঠিন কাজ। ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে ভোট গ্ৰহনের বিষয় নির্বাচন কমিশনকে সুবিধা অসুবিধাগুলি খতিয়ে দেখতে বলে। তখন কমিশন জানিয়েছিল লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভা ভোট একসঙ্গে করতে হলে সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে কিছু সংশোধনী আনতে হবে। এর পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছিল একসঙ্গে ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম ও অন্যান্য যন্ত্রাদি কিনতে যথেষ্ট সময় ও অর্থের প্রয়োজন।আরও পড়ুনঃ ইতিহাসের বারান্দায় অনাস্থা প্রস্তাববিভিন্ন সংবাদ পত্রে প্রকাশ গত মার্চ মাসে সংসদে আইন মন্ত্রী জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনের হাতে ইভিএমের ১৩.০৬ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট ও ১৭.৭৭ লক্ষ ব্যালট ইউনিট রয়েছে। আরো ৯.০৯ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট ও ১৩.২৬ লক্ষ ব্যালট ইউনিট তৈরির কাজ চলছে। এই কাজ সম্পূর্ণ হলে ২২.১৫ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৩১.০৩ লক্ষ ব্যালট ইউনিট কমিশনের হাতে থাকবে। প্রযুক্তিবিদদের মতে ছয় থেকে সাত লক্ষ ইভিএম তৈরি করতে এক বছর সময় লাগে। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হল ২০২৪ সালে এক সঙ্গে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম কি কমিশনের হাতে থাকবে?কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি সারা বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন হতে থাকার কারণে নির্বাচনী খরচ যেমন বাড়ছে তেমনি মুল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে কেন্দ্রের এই যুক্তি সঠিক। তবে তাঁদের মতে একসঙ্গে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ইভিএম ও VVPAT কিনতে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। এছাড়াও অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য দেশ জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করাও একটা বড়সড় চ্যালেঞ্জ। কারণ ভোট এলে সব রাজ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি ওঠে। এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভোট কর্মীদের দেশের সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও অত্যন্ত কঠিন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদ পত্রে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টি এস কৃষ্ণমূর্তি জানিয়েছেন, একসঙ্গে ভোট হলে আর্থিক ব্যায় প্রশাসনিক কাজের বোঝা যে কমবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে এই কঠিন কাজ সম্পূর্ণ করতে হলে তিন থেকে চার মাস ধরে ভোট গ্ৰহন পর্ব চলতে পারে।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
রাজ্য

এক ধাক্কায় কত বেতন বাড়ল বাংলার মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন?

শহিদ মিনারের নীচে এখন অবস্থানে বসে আছে ডিএ আন্দোলনকারীরা। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এদিকে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণায় এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল বিধায়ক মন্ত্রীদের বেতন। বাংলা দিবস নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার শেষে এই বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।রাজ্য সরকারী কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলছে। টানা শহিদ মিনারে বসে রয়েছেন সরকারী কর্মীরা। নতুন নিয়োগ বা উন্নয়ন প্রকল্পও থমকাচ্ছে অর্থের অভাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের রাজ্যের বিধায়কদের বেতন দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। চলাফেরা, দুটো খাওয়া, সবই ওই টাকায় করতে হয়। সেটা পর্যবেক্ষণ করেই আমাদের সরকার তাই বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কত বাড়ছে বেতন?মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মোতাবেক- বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন একধাক্কায় ৪০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।এতদিন বিধায়কদের বেতন ছিল প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে। তা বেড়ে হল ৫০ হাজার টাকা।রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীরা এত দিন মাসে ১০ হাজার ৯০০ টাকা করে বেতন পেতেন। এখন তা বেড়ে হল ৫০ হাজার ৯০০ টাকা।পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা। তাঁরা বেতন বাবদ এবার থেকে পাবেন ৫১ হাজার টাকা করে।বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে পূর্ণমন্ত্রীরা মন্ত্রীরা এখন থেকে প্রতি মাসে পাবেন দেড় লক্ষ টাকার বেশি। প্রতিমন্ত্রীরা পাবেন প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকা। বিধায়করা পেতে চলছেন মাসিক ১ লাখ ২১ হাজার টাকা বেতন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বেতন নেন না বলে জানিয়েছেন।মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন করছি না। আমরা চাই আশাকর্মী, ভিলেজ পুলিশ, সিভিক পুলিশ, চুক্তিভিত্তিক সব শিক্ষক, ভোকেশনাল টিচাররা সম কাজে সম বেতন পাক। আর আমরা যখন হাউজে ছিলাম না তখন উনি একতরফাভাবে মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন।সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, কর্মীরা ডিএ বাড়াতে বললেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন টাকা নেই। কর্মীও বহু জায়গায় নিয়োগ হচ্ছে না। অথচ মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বাড়ালেন উনি। এটাকেই বলে তেলা মাথায় তেল দেওয়া। বাংলার মানুষকে পুরোটায় নজর রাখতে অনুরোধ করছি। আদালতেও এটা আমরা জানাবো। আমরা আন্দোলন আরও জোরদার করবো।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
নিবন্ধ

হুউউউস..

পুজো। দুগ্গাপুজো।পুজোয় চাই নতুন জুতো। খবরের কাগজে ইয়া বড় পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন।সদ্য হড়কা বান দেখলো শ্রীলেদার্সের নতুন আউটলেট।প্রয়োজন! নাকি সস্তা! তাহলে কি বিজ্ঞাপনের টোপ! হুজুগ! আবেগী বাঙালি!জানেনা হরিপদ।পুজোর পঞ্চাশ দিনও বাকি নেই।হরিপদ দিল্লীতে। শাস্ত্রী ভবনের কাছে এশিয়া খ্যাত মলে।নাইকির শো রুমে। স্নিকার টেন থাউজেন্ডস অনওয়ার্ডস। প্রয়োজনে নাম লিখে দেবে নাইকি। সিগনেচার প্রোডাক্ট।বিটেক করে সদ্য সামান্য মাইনের কাজ জুটিয়ে দিল্লীতে ভাইয়ের ছেলে। দাদা নেই। বৌদি বলেছে একবার দেখে এসোনা ঠাকুরপো। কেমন আছে কে জানে।আমরা বলি কাজ। চাকরি। ওরা বলে জব।তাই ভাইপোর কাছে দিল্লীতে হরিপদ। কিন্তু কি আর দেখবে সে !ভাবলে, একটা কিছু কিনে দিলে হয়। পুজোয় বাড়ী ফেরা হবে না ওর। ভাইপোই কাকুকে নিয়ে এসেছে মলে।তবে এও ঠিক ..একটা সময় হরিপদই দেখেছে।ভাইপোর জন্মের পর পরই দুর্ঘটনা। চলে গেলো দাদা। ছমাসের অন্নপ্রাশনের আয়োজন থেকে স্কুল কলেজ সবটাই।ভাইপোর প্রথম জন্মদিন।কাগজের বক্স।ওপরটা সেলোফেনজিরো সাইজ।সঙ্গে আবার ঝুমঝুমি।জনসনের পাউডার।বাক্স ভর্তি আনন্দ!আজও সেই নস্টালজিক গন্ধ টের পায় হরিপদ।তারপর ..সময় গড়ালো।শেষ বেলায় দোকানে গুঁতোগুঁতি। কোনরকমে দোকানদার কে বুঝিয়ে বলা..এই ধরুনবছর দেড়েক বয়স।ভীষণ ভিড় তো..ঠাকুমার কাছে রেখে এলাম।বড্ড কান্নাকাটি করে।এইটা দেখুন।মাথায় টুপি দেওয়া।পুজোয় বেশ ঠান্ডা পড়ে যাবে। মোজাও আছে।গলদঘর্ম দোকানি দেখাতে লাগলো।সে মোজা..কি জানি কোন মন্ডপে পড়ে রইল।কাঁধে মুখ রেখে ঘুমে কাদা।নাল ঝোল ঝরেনা কাঁধে আর।জীবনে স্কুল এলো।এলো, এক দুই তিন।পিঠে ফেলে মাপবো..ওমা.. দোকানময় ছুটছে।হরিপদর মেয়ে আর দাদার ছেলে পিঠোপিঠি। দিনে দশ বার জামাকাপড় দেখা। এটা সকালে এটা বিকেলে।ওটা অষ্টমীর.. বেশ জমকালো!না না। পিসির টা পরুক।ওটা বরং নবমীতে, ফাংশানে..তারপর অফিস ফেরতাপ্যাকেট টা ছিনিয়ে নিয়ে ছুটমা দেখো।বিছানায় প্যাকেট ফেলেএক ঝটকা নাচ!তারপর হঠাৎ কবে যেনরঙ এলো..খয়েরি ফুলপ্যান্ট টা ভালো না।আরে বাবা নীল টা তো ছোটো। ফেরত দিতে হবে।ডেনিম..ডাংরি নতুন নতুন শব্দ শিখছে হরিপদ তখন।ক্লান্ত হয়ে রেস্টুরেন্টেছোলা বাটোরাএক চামচ মুখে দেওয়াও চাই..আবারঝাল বলে চিত্কার ও।এই যা: সান গ্লাস কেনা হোলো না তো!!বাড়ী টায় মানুষ কমলো ধীরে..কার্নিসে বাড়ল বট।বিজয়ার দিন তুঁতের ওপর মা দূর্গার মুখ আঁকা গালিচা..হরেন কাকা ..বেতের ধামা..নাড়ু .. ঢিপ ঢিপ প্রণাম..ফটাস করে কালি ফটকা ..কুয়োয় বালতির ঝপাং শব্দ!আবার এসো মা।মা আসে। মা যায়।টিভির পরিক্রমা আসে। আসে ফ্রেন্ডশিপ ডে। ভ্যালেন্টাইনস ডে জায়গা করে নেয় টিচার্স ডের সঙ্গে।আর্চিসের কার্ড কখন যে এলো আবার হারিয়ে গেলো মনে করতে পারেনা হরিপদ।বাড়তে থাকে ওরা ভাই বোনে।এটা তো অফারে কেনাসেজো পিসি কক্ষনোব্র্যান্ডেড ছাড়া দেয় নাট্রায়াল রুমও প্রয়োজনহীন। সাইজ, কালার, ডিজাইন..সিভিভি নম্বর দাও। বাড়ীর দরজায় এসে দাঁড়াবে আলাদিন...ওটিপি টা বলুন।যা..ই বলেতরতরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায় ওরা।পর্দার পাশ থেকে উঁকি দিয়ে ভাইপোর ট্রিম করা .. মেয়ের সঙ্গে মায়ের মাসের কটা দিনের গোপন কথা।সবটাই দেখেছে হরিপদ।বলছিলাম না কাকু তোমায়..এইটা সেইটা..ইউনিক না!হুঁ হুঁ বাবা,তক্কে তক্কে থাকতে হয়কেবল একদিনের অফার ছিল!অ ..তাই বুঝি।হরিপদর অজ্ঞানতা শোনার সময় নেই সময়ের। দুদ্দাড় ছুটে চলে যায় নতুন প্রজন্ম। মেয়ের সঙ্গে প্যাক খুলতে বসে যায় ভাই বোনে।প্রজন্মগত তফাৎ বোঝে হরিপদ। যেটুকু বোঝে না ..আপত্তি করেনা।বেনিফিট অফ ডাউট আরকি!তাহলে কি করব.. কাকু!ও কাকু!!আনমনা হয়ে গেছিল হরিপদ। সম্বিৎ ফেরে ভাইপোর কথায়।স্নিকার টা বিল করতে বলবো !! দারুন ওটা। ওর থেকে কমে কিছু আর দেখছি না।হরিপদ কি করবে। দশ হাজারের জুতো!আশকারা.. প্রশ্রয়। বৌদির অসহায় বোধ। নির্ভরতা। মুহুর্মুহু অন্তর্লীন আক্রমনের মুখে হরিপদ।অনেক আবদার মিটিয়েছে হরিপদ। হেরে যাবে!তাহলে কি বেনিফিট অফ ডাউট দিয়ে ক্রিজে রেখে দেবে আম্পায়ার হরিপদ!!আউট দেবে না!!অস্থির দোটানায় হরিপদ।আবার মন বলছে.. কোথাও তো একটা সীমারেখার প্রয়োজন হরিপদ। দাঁড়ি টানতে হয়। অবুঝ কে বোঝাতে হয়!!কাকু..ও কাকু..!একটা তুবড়ি, হুউউউস করে শব্দ তুলে..অন্ধকার আকাশে অনেকটা উঠে,আলোর রোশনাই রেখে..নিভলো বোধহয়..!!

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
শিক্ষা

প্রতিটা দিনই 'শিক্ষক দিবস'; শিক্ষক দিবসে এই বার্তা-ই দিল বর্ধমানের ইংরাজি মাধ্যম স্কুল

১৫ থেকে ৫ই অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয়। কিন্তু ভারতে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয় ৫ সেপ্টেম্বর। সাধরণ রেওয়াজ অনুযায়ী সমগ্র দেশে এই বিশেষ দিনে ছাত্র ছাত্রীরা তাঁদের শিক্ষক শিক্ষিকা দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে নানাবিধ অনুষ্ঠান অয়োজন করে। সরস্বতী পুজার মত এই দিনের অনুষ্ঠানের সকল দায়িত্ব ছাত্ররাই বহন করে। নাচ গান আবৃত্তির মাধ্যমে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানাবিধ অনুষ্ঠান হয়। আন্তর্যাতিক সংস্থা ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক শিক্ষকদের সন্মাননা জানানোর জন্য তাঁদের স্মরণে ৫ অক্টোবর দিনটিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেক্ষেত্রে ভারতে কেন শিক্ষক দিবস এক্মাস আগে পালন হয়? এই প্রশ্নই অনেকের মনে।স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে ভারতের শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। একাধারে দার্শনিক, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ভারতরত্ন প্রাপক ডঃ রাধাকৃষ্ণান ১৮৮৮ র ৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন তৎকালীন মদ্রাজ আধুনা চেন্নাইয়ের প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বেশ কয়েকটি মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নমানের সহিত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫২ তে স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর ঠিক ১০ বছর অতিক্রান্ত করে ১৯৬২ তে ভারতের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিযুক্ত হন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনে।১৯৬২ তে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ছাত্র ছাত্রীরা তাঁর জন্মদিনটি পালনের জন্য অনুরোধ রাখেন ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের কাছে। তার প্রত্যুত্তরে তিনি জানান, তাঁর জন্মদিনকে আলাদাভাবে পালন করার চেয়ে, যদি ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করা হয় তবে তাতে আমি অধিকতর খুশি হব। সে থেকেই, সারা বিশ্বে শিক্ষক দিবস ৫ অক্টোবর পালিত হলেও, ভারতে ১৯৬২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়।সারা দেশ সহ পশ্চিমবঙ্গের ও বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ সহ শিক্ষা সাথে জুড়ে থাকা নানান প্রতিষ্ঠানে এই দিনটি পালিত হল মহা সমারোহে। বর্ধমানের বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলেও এই দিনটি খুব জাঁকজমক পূর্ণ ভাবে পালিত হয়। সকাল থেকেই রঙ্গিন পোষাকে চকলেট, গোলাপ, হাতে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড নিয়ে উপস্থিত কচিকাঁচারা। তাঁদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। ওরিয়েন্টাল এসোশিয়েশান ফর এডুকেশন এন্ড রিসার্চ সংস্থার অধিনস্ত এই স্কুলে বরাবরই পড়াশোনার সাথে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের এক সুন্দর মেলবন্ধন আছে। সেই রেশ রেখেই ছাত্র ছাত্রীরা নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটকের মাধ্যমের তাঁদের শিক্ষকদের শ্রদ্ধা জ্ঞ্যাপন করেন। সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের প্রতিকৃতিতে মাল্যদাল ও পুষ্পার্ঘ প্রদান করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সংস্থার সেক্রেটারি ও বিদ্যালের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল।অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক দিবস কোনও একটা বিশেষ দিন নয়, সারা বছরের প্রতিটা দিনই শিক্ষক দিবস। শিক্ষক কথাটার অর্থ ব্যপক...। শুধুমাত্র তোমাদের ক্লাসের মধ্যে যিনি ক্লাস নিচ্ছেন তিনিই একমাত্র শিক্ষক নন। পিতা, মাতা, গুরুজন, প্রতিবেশী, ক্রীড়াবিদ এরা সকলেই তোমাদের শিক্ষক। এমনকি আমরা অনেক ছোট ছোট জিনিস শিক্ষা লাভকরি এমন কিছু মানুষের থেকে যাঁদের শিক্ষক ভাবতে আমরা লজ্জা পাই তারাও এক অর্থে আমাদের শিক্ষক। তাই শিক্ষক কে অনুসরণ করে যদি চলা যায় তাঁকে যদি সারা জীবন তোমরা শ্রদ্ধা করতে পারো কোনোদিনই তোমরা তোমাদের জীবনের চলার পথে হোঁচট খাবে না।তিনি আরও বলেন, যে মানুষটি তাঁর নিজের জন্মদিনটি পালন না করে, সকল শিক্ষকদের স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞ্যাপন করার কথা বলেন, তাঁর অর্থ এটাই দাঁড়ায় যেকোনো সফল মানুষের পিছনে একগুচ্ছ সফল শিক্ষক। তোমাদের সফল দেখাটাই শিক্ষদের সফলতা, তাই তাঁদের কথা আদেশ ভেবে মেনে চললেই জীবনে সফল হওয়ার চাবিকাঠির সন্ধান পেয়ে যাবে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
নিবন্ধ

হৃদয়ছোঁয়া প্রীতি বার্তার সুগন্ধী বাতাস

অনেক শহর গ্রাম ছাড়িয়ে অনেক দূর সে গ্রাম, কেউ জানো কি তার নাম? সে গ্রামের আজব খবর কানে আসে;সেখানে মানুষ নাকি মানুষ পেলেই ভালোবাসে এমন আজব এক গ্রামেই ঢুকে পড়েছিলাম বছর দশেক আগে; রবাহুত অনভ্যস্ত পায়ে থমকে, থেমে দ্বিধান্বিত চোখে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে। সে এক ভুবনভরা গ্রাম বিশ্বজোড়া ফাঁদ পাতা তার কেমনে দিই ফাঁকি!সেই ফেসবুক-গ্রামে এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে খুঁজে পেলাম কত গ্রামছাড়া রাঙামাটির পথ পায়ে পায়ে সন্ধ্যার ক্লান্তি নিয়ে ঘরে ফিরে আসার কত শহুরে সড়ক কত স্থিতপ্রজ্ঞ জীবন রসিকের সুললিত কলম কত বরাননা-র মায়াবী মন-উদ্ভাস এত আলো এত আকাশ যা আগে বোধ হয় কখনও দেখি নি, চোখেও পড়ে নি! আমার ফেসবুকীয় বান্ধবসমাজ কখনো ট্রোলিং শব্দটি জানতে দেন নি আমায়, বরং ভালোবাসা-সমাদর-প্রেরণার জোয়ারে ভাসিয়ে দিয়েছেন বরাবর!সেই প্রীতি ও শুভেচ্ছার বাঁধভাঙা ঢেউ প্রতি বছর সুনামি হয়ে আছড়ে পড়ে আজ, এই আঠাশে আগস্টের ভাদ্রবাসরে। এডিলেড থেকে এডিনবরা, আটলান্টা থেকে আগরতলা ছুঁয়ে অনুরণিত হয় মনহারানো খুশির গুঞ্জন ভালো আছি , ভালো থেকো / আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো!প্রতিবার ভাবি, ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাবো এই আশীর্বাদ-শুভকামনার প্রাপ্তি স্বীকার করে। শুরুও করে দিই সকাল থেকেই; কিন্তু ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জার মিলে হাজারখানেক বার্তার অমিত প্রাচুর্য রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য করে অচিরেই। বুক ভরে নিই হৃদয়ছোঁয়া প্রীতি বার্তার সুগন্ধী বাতাস; মনে ভাবি এই সর্বপ্লাবী ভালবাসাই আগলে রাখবে চিরকাল, সব দুর্দৈব-দুঃখ-দীনতা থেকে।জানি, এ ভুল! ফাগুনের ফুল ঝরে যাবে; একদিন পথের মতো হারিয়ে যাব আমিও, নদীর মতো আর আসবো না ফিরে। এ পায়ের চিহ্ন আর পড়বে না পৃথিবীর পথে। সেদিনও ফুল্লকুসুমিত হবে তরুশাখা দুঃসাহসের ডানা মেলে দূরে দূরে উড়ে যাবে চঞ্চল পাখিরা ভাদ্রের নীলাকাশে ভাসবে সাদা মেঘের ভেলা ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলবে অনাগত দিনসেই আগামীর স্বপ্ন বুকে নিয়ে পেরিয়ে যাই আরো এক আঠাশে আগস্ট বন্ধুদের শুভেচ্ছা-ভালোবাসা শারদ শিশিরের মতো মৃদু মোলায়েম মায়ায় অভিসিঞ্চিত করে রাখে সেই উজ্জ্বল দিন!ভালো থেকো বন্ধুরা কাছে.. দূরে.. যে যেখানে আছো। আমার মনোজগৎ প্রসারিত করো আরো, তোমাদের স্মৃতি-সত্ত্বা-ভবিষ্যতের মায়াজাল বুনে। প্রৌঢ়ত্ব পীড়াদায়ক না হয় যেন, ক্ষুদ্রতা যেন স্পর্শ না করে হৃদয়-চেতন-মননকে!কাছে থাকো। ভয় করছে। মনে হচ্ছেএ মুহূর্ত বুঝি সত্য নয়। ছুঁয়ে থাকো।শ্মশানে যেমন থাকেন দেহ ছুঁয়ে একান্তস্বজন। এই হাত, এই নাও হাত।এই হাত ছুঁয়ে থাকো, যতক্ষণকাছাকাছি আছো, অস্পৃষ্ট রেখো না।ভয় করে, মনে হয়, এ মূহূর্ত বুঝি সত্য নয়।যেমন অসত্য ছিল দীর্ঘ গতকাল।যেমন অসত্য হবে অনন্ত আগামী।পাণিগ্রহণ (নবনীতা দেবসেন )।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি কথা হল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের? বৈশাখী তখন কি করছিলেন?

একদা একসঙ্গেই দল করতেন।একজনের ইডির তালিকায় নামও ছিল। গ্রেফতারও হয়েছিলেন। আরেকজন শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি। এবার তাঁদের দেখা হল আলিপুর কোর্ট লকআপে। দুজনই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের।শনিবার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলিপুর আদালতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেখানে জানতে পারেন ওই কোর্ট লকআপেই রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গাড়িতে উঠেছিলেন কিন্তু ফের তিনি নেমে পড়েন। একসময়ের সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে কোর্ট লকআপে যান শোভন। দূর থেকে তাঁদের মধ্যে কথাও হয়।দুজনে কী কথা বললেন?শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, দূর থেকে দেখলাম। দেখা করার সেই পরিবেশ, পরিস্থিতি নেই।পার্থ চট্টোপাধ্যায় কী পরিস্থিতির শিকার? শোভন বলেন, পার্থদা পরিস্থিতির শিকার তো বটেই! আমাকেও তো গ্রেফতার করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তো আর প্রশাসন থেকে আলাদা কিছু নয়! এত দিন এক সঙ্গে ছিলাম। না দেখা করে চলে গেলে মনে হত, এখান থেকে চলে গেলাম! দূর থেকে দেখা হয়েছে। স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। শোভন যখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান তখন বৈশাখী গাড়িতেই বসেছিলেন। এই প্রসঙ্গে বৈশাখী বলেছেন, দীর্ঘ দিনের সঙ্গী তো।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৩
রাজ্য

এসএসিটি প্রতিনিধি দলের সাথে শিক্ষা মন্ত্রীর বৈঠকে আশার আলো দেখছেন শিক্ষকরা

রাজ্যের প্রায় ১৪৫০০ এসএসিটি-র পক্ষ থেকে নয় দফা দাবি সম্বলিত এক স্মারকলিপি নিয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠক করলেন স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েসন এক প্রতিনিধি দল। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে তৃণমূল ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এই প্রতিনিধি দল।বেতন বৃদ্ধি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাইন্ড কেয়ার লিভ, কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে সহ আরও নয় দফা দাবি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়। গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, দাবিগুলি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের আস্বস্ত করেছেন। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ আরও বলেন, এই প্রথম রাজ্যের কোনও শিক্ষক সংগঠন শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ব্রাত্য বসুর সাথে তাঁদের দাবী দাওয়া নিয়ে বৈঠক করলো। যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে এই আলোচনা। মন্ত্রী মশায় দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ সহকারে আমাদের দাবীগুলি শুনেছেন। আমাদের দাবীর মধ্যে অনেকগুলো দাবি প্রাসঙ্গিক বলে তিনি নিজেই সহমত হয়েছেন এবং এবিষয়ে নির্দিষ্ট এক আধিকারিককে দায়িত্বও দিয়েছেন যাতে অতি সত্তর এর সমাধান বার করা যায়। গোপাল ঘোষ জানান, তাঁরা আশাবাদী, এবং আগামীদিনে আরো অনেক সমস্যা নিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা আবার আলোচনায় বসবেন মন্ত্রীর সঙ্গে।প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য এসএসিটি অধ্যাপক ও স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েসন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রেসিডেন্ট তারকনাথ মুখোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা তাঁদের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে সাত জনের এক প্রতিনিধি দল শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাথে সাক্ষাৎ করে নয় দফা দাবী সম্বলিত এক স্মারকলিপি পেশ করেন।তিনি আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য ব্রাত্য বসু এই প্রথমবার কোনও শিক্ষক সংগঠনের সাথে সাক্ষাত করেন। তারকনাথ আরও জানান, তাঁদের দীর্ঘদিনের যে সমস্যা, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ সময় দিয়ে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনেছেন, এবং এ ব্যাপারে যথাযত ব্যবস্তা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারকনাথ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রী তাঁদের প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন সব সমস্যার সমাধান এক্ষনি করা সম্ভব না হলেও, প্রাইরিটি দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এক এক করে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন বলে কথা দিয়েছেন।স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েসন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রেসিডেন্ট তারকনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁদের সামনেই তাঁর দপ্তরের এক আধিকারিককে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রতিনিধি দল ও শিক্ষা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্য। প্রতিনিধি দলের তরফে সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত খুশি এই বৈঠকে, বৈঠক যথেষ্ট ফলপ্রসু হয়েছে এবং আমরা আশাবাদী আমাদের দাবিদাওয়া সবিচার পাওয়ার ব্যাপারে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৩
প্রযুক্তি

আদিত্য এল-১ অভিযানের মূল কারিগরকে জানুন, আজ সুর্যাভিযানে যাবে 'আদিত্য'

রবির কিরণে হাসি ছড়াইয়া দিব রে পরান ঢালিশিখর হইতে শিখরে ছুটিব,ভূধর হইতে ভূধরে লুটিব।শনিতে রবির অভিযান। মহাকাশ গবেষণায় চন্দ্রযান-৩ এর মহা সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার ইসরোর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আর এক যানআদিত্য ছুটবে সৌর্য পর্যবেক্ষণে। আদিত্য এল ১ আজ ২রা সেপ্টেম্বর সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ হবে। এই অভিযান স্বমন্ধে জানাতে গিয়ে ইসরো জানিয়েছে, এটির মূল লক্ষ্য হল মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তির উৎস সম্পর্কে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যাতে সূর্যের জটিল প্রক্রিয়াগুলির উপর খুব ঘনিষ্ঠ অধ্যয়নের মাধ্যমে আলোকপাত করা যায়।এই অভিযান কে আদিত্য এল ১ বলা হচ্ছে কেন? এর মানে কী?আদিত্য নামটি এক অর্থে সূর্যকে বোঝানো হয়। আদিত্য বা আদিতেয় বলতে অদিতির সন্তানকে বোঝায়। সাধারণত, আদিত্যগণ সংখ্যায় বারো। এদের একত্রে দ্বাদশ আদিত্য বলা হয়। এরা হলেন অর্যমা, পূষা, ত্বষ্টা, সবিত্র, ভগ, ধাত্রী, মিত্র, বিষ্ণু, বরুণ, মিত্র, অংশ, বিবস্বান বা সূর্য। অনেক পণ্ডিতের মতে, দ্বাদশ আদিত্য বলতে বারোটি মাসকে বুঝানো হয়। ঋকবেদে এর উল্লেখ আছে। আদিত্য নামকরণ করা হয়েছে হিন্দু দেবতানুসারে এবং L1 মানে সূর্য-পৃথিবী সিস্টেমের Lagrange পয়েন্ট ১।আদিত্য L1 এর উদ্দেশ্য কি?মিশনের মূল লক্ষ্য হল সূর্য, সুর্যের করোনা ও এর বাইরের স্তর এবং এর চারপাশের ঘটনা নিয়ে গবেষণা করা। প্রকল্পটি হিন্দু সূর্য দেবতা আদিত্য র নামে নামকরণ করা হয়েছে। সূর্যের কার্যকলাপ এবং মহাকাশ আবহাওয়া এবং পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে গঠনমূলক বৈজ্ঞানিক তথ্য এবং অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ করতে এই অভযান।আদিত্য এল ১-এর যন্ত্রের বিন্যাস গবেষকদের সূর্যের পৃষ্ঠ এবং করোনাকে অভূতপূর্ব গভীরতায় বিভিন্ন আলোক তরঙ্গদৈর্ঘ্যে সূর্যকে দেখে পরীক্ষা করতে সক্ষম হবে। মিশনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল চৌম্বক ক্ষেত্রের গতিশীলতা, সৌর শিখা এবং পৃথিবীর জলবায়ু এবং মহাকাশের আবহাওয়াকে প্রভাবিত করে এমন অন্যান্য সৌর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানা।PSLV-C57/Aditya-L1 Mission:The 23-hour 40-minute countdown leading to the launch at 11:50 Hrs. IST on September 2, 2023, has commended today at 12:10 Hrs.The launch can be watched LIVEon ISRO Website https://t.co/osrHMk7MZLFacebook https://t.co/zugXQAYy1yYouTube ISRO (@isro) September 1, 2023আদিত্য এল ১ মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী কে?আদিত্য এল ১ মিশনের প্রধান বিজ্ঞানী হিসাবে ইউ আর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউআরএসসি) বিশিষ্ট সৌর বিজ্ঞানী ডাঃ শঙ্কর সুব্রমণিয়ান কে. দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণার মূল দিকগুলি হল, ইন্সট্রুমেন্টেশন, অপটিক্স এবং সৌর চৌম্বক ক্ষেত্র। ইসরোর অ্যাস্ট্রোসাট, চন্দ্রযান-১ ও চন্দ্রযান-২ এ ও তাঁর যথেষ্ট অবদান ছিলো।বর্তমানে তিনি ইউআরএসসির স্পেস অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপের (এসএজি) দায়িত্বে রয়েছেন। চন্দ্রযান-৩ প্রোপালশন মডিউলের উপরে আদিত্য-এল 1, এক্সপোস্যাট এবং বিজ্ঞানের পেলোডের আসন্ন মিশনের জন্য, SAG বৈজ্ঞানিক পেলোড তৈরি করার কাজ করছে। উপরন্তু, তিনি আদিত্য-এল ১ এর এক্স-রে পেলোডগুলির মধ্যে জন্য প্রধান গবেষক হিসাবে কাজ করছেন। আদিত্য-এল ১ সায়েন্স ওয়ার্কিং গ্রুপ, যার মধ্যে অনেক ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা রয়েছে, এর নেতৃত্বে রয়েছেন ড. শঙ্করসুব্রামনিয়ান কে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • 29
  • 30
  • ...
  • 82
  • 83
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ, আটক নেতাদের মুক্তির আবেদনও! রবিবার কী শুনবে সুপ্রিম কোর্ট?

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনার আবহে রবিবার বিশেষ শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে। শনিবারের আন্দোলন এবং তার আগে ও পরে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে শীর্ষ আদালতে দুটি মামলা হয়েছে। আদালত বন্ধ থাকার দিনেও এই মামলাগুলির শুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি মামলা আদালত অবমাননার অভিযোগে, অন্যটি বিক্ষোভকারীদের আটক করার বিরুদ্ধে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। তাঁর অভিযোগ, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বিক্ষোভের কারণে দিল্লিতে গণপরিবহণ পুরোপুরি বন্ধ রাখা যাবে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু একেবারে বন্ধ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও শনিবার একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি ট্রেনের পরিষেবা নিয়েও বিধিনিষেধ জারি হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাতেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি থারাকে পক্ষ করা হয়েছে। শৈলেন্দ্রের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করেনি। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে বিচারাধীন। রবিবারের শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে কী পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত, সেদিকেই নজর রয়েছে।অন্য মামলাটি করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। শনিবারের বিক্ষোভের সময় একাধিক বিরোধী নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হেবিয়াস কর্পাসের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য এ ভাবে আগাম আটক করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাঁদের আটক করার আইনি ভিত্তি কী, সেই বিষয়গুলিও মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুটি মামলারই শুনানি রবিবার বিশেষ বেঞ্চে হওয়ার কথা। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাগুলি ওঠার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন। সিজেপির বিক্ষোভ, পুলিশের আটক করার পদক্ষেপ এবং মেট্রো পরিষেবা বন্ধ রাখার অভিযোগসব মিলিয়ে রবিবারের শুনানি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে আদালত এখনও এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেনি।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, মুম্বইয়ে আটক ৪০০-র বেশি! তালিকায় অভিনেতা ইমরান খান

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বইয়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হলেন চারশোর বেশি মানুষ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বলিউডের অভিনেতা ইমরান খানও। শনিবার শহরের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভের চেষ্টা হলে অনুমতি ছাড়া জমায়েত করার অভিযোগে পদক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, সকালে দক্ষিণ মুম্বইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সমাজকর্মী তুষার গান্ধীর সংগঠন হাম ভারত কে লগ-এর সদস্য এবং সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা। দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতেই তাঁরা জমায়েত হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে শহরের অন্য এলাকাতেও ধরপাকড় চলে। সব মিলিয়ে আটক ব্যক্তির সংখ্যা চারশো ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় অভিনেতা ইমরান খানের নাম থাকায় ঘটনাটি ঘিরে বাড়তি চর্চা শুরু হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দিতে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে পৌঁছেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ। একই কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা আরও বহু মানুষকেও পুলিশ আটক করে গাড়িতে তোলে। মুম্বই পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া জমায়েত করার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আগস্ট ক্রান্তি ময়দান ঘিরে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং ওই এলাকায় জমায়েত আটকাতে কড়া নজরদারি চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। অন্য দিকে, দক্ষিণ মুম্বইয়ে প্রকাশ আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন বঞ্চিত বহুজন আঘাড়ির কর্মী-সমর্থকেরাও বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যেও কয়েক জনকে আটক করা হয়েছে। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ার আবহে মুম্বইয়ের এই ধরপাকড় নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু করেছে।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
কলকাতা

মহালয়ার অনুষ্ঠানে ইডেনে তারকাদের ঢল! লাল শাড়িতে ইমন, মঞ্চে তসলিমা—আর কী ছিল বিশেষ?

মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করল রাজ্য সরকার। চোখধাঁধানো আলোর খেলা, গান, নাচ এবং ড্রোনের প্রদর্শনীতে জমে উঠল দুর্গার আগমনী। আকাশে ড্রোনের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হল দুর্গার মূর্তি, দেখা গেল পদ্মের ছবিও। একের পর এক শিল্পীর পরিবেশনায় উৎসবের মেজাজে মাতল কলকাতা। অনুষ্ঠানে গান গাইলেন শান, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী এবং অন্তরা মিত্র। সুরের দায়িত্বে ছিলেন শান্তনু মৈত্র ও তাঁর দল। যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্য শিল্পীরা। ঢাকের বোল, আদিবাসী নাচ এবং বাংলার নানা প্রান্তের লোকসংস্কৃতির পরিবেশনায় শুরু থেকেই তৈরি হয় উৎসবের আবহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুন মালিয়া, স্বপন দাশগুপ্ত, সুখেন্দুশেখর রায়-সহ বহু পরিচিত মুখ। লাল শাড়িতে দেখা যায় শিল্পী ইমন চক্রবর্তীকে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তসলিমা নাসরিনও।রেড রোড থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে ইডেন গার্ডেন্সে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ আরও অনেকে। শোভাযাত্রায় বাংলার বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতিও তুলে ধরা হয়। এরপর ইডেনে আলো ও শব্দের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহালয়া থেকে শুরু করে দশমীর সিঁদুরখেলা পর্যন্ত দুর্গোৎসবের নানা মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। সবশেষে ড্রোনের প্রদর্শনীতে আকাশে ফুটে ওঠে দুর্গার অবয়ব ও পদ্মের ছবি। এ বারের দুর্গাপুজোর আগে মহালয়াকে ঘিরে রাজ্য সরকারের এই বিশেষ আয়োজন ঘিরে আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। অনুষ্ঠানে গান, নাচ, আলোর খেলা এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধন ছিল মূল আকর্ষণ। তবে ইডেনের এই বড় আয়োজনের জেরে শহরের যান চলাচলেও জারি করা হয়েছিল বিশেষ বিধিনিষেধ।কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত স্ট্র্যান্ড রোড এবং সেন্ট জর্জেস গেট রোডের নির্দিষ্ট অংশে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী অংশেও জারি ছিল নিষেধাজ্ঞা। মহালয়ার অনুষ্ঠান ঘিরে শহরের একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আটক মমতা, এ বার কি সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীরা?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে আটক হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয় তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, দোলা সেন-সহ দলের আরও কয়েক জন নেতাকে। পুলিশের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে থানায় বসে অবস্থান করেন মমতা। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় তাঁকে দোলা সেন-সহ অন্যদের সঙ্গে উই শ্যাল ওভারকাম গান গাইতেও শোনা যায়। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতেই কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মমতার। রাত নটার বিমানের টিকিট থাকলেও তিনি সেই বিমান বাতিল করেছেন বলে সূত্রের দাবি। দিল্লিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সোমবারের কর্মসূচি রয়েছে কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা। সোমবার বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের পরিকল্পনা এবং প্রধান বিচারপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও স্পষ্ট নয়। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ওই কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, পিনারাই বিজয়ন-সহ একাধিক নেতা। দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের আটক করে। পুলিশের দাবি, কর্মসূচির অনুমতি ও নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা ছিল। অন্য দিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যোগ দিতে গিয়েও তাঁদের আটক করা হয়েছে। মমতাকে আটকের ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন। সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় ঘুরিয়ে নেত্রীকে কেন নিয়ে যাওয়া হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিরোধী জোটের তরফে এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ বার সোমবারের কর্মসূচিতে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। মমতা দিল্লিতে থেকে গেলে এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে পরবর্তী কর্মসূচিতে যোগ দিলে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে আন্দোলন আরও কোন দিকে গড়ায়, তা স্পষ্ট হবে আগামী দিনে।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

রবিবারের মধ্যে আটক নেতাদের মুক্তি না দিলে অনশন! সিজেপির আন্দোলন ঘিরে ফের বার্তা সোনমের

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে একের পর এক নেতাকে আটক করার ঘটনায় এ বার সরব হলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। আটক ব্যক্তিদের রবিবারের মধ্যে মুক্তি না দিলে অনশন শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে পদযাত্রাও করবেন বলে জানিয়েছেন সোনম। তাঁর এই বার্তাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ একাধিক নেতা এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার খবর সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে বিরোধী দলের কয়েক জন শীর্ষ নেতাও ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেন সোনম। তিনি জানান, আন্দোলনের আগে শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু এত জন নেতা-নেত্রী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয়েছে জানতে পেরে তিনি উদ্বিগ্ন। সোনমের আশা, আটক ব্যক্তিদের দ্রুত মুক্তি দেওয়া হবে। তা না হলে রবিবারের মধ্যে অনশন শুরু করার কথা ভাববেন তিনি। প্রয়োজনে পদযাত্রার পথেও হাঁটতে পারেন বলে জানিয়েছেন সমাজকর্মী। সোনমের বক্তব্য, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে এ ভাবে পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষা করা প্রয়োজন বলেও তাঁর বার্তায় উঠে এসেছে। তবে এ দিনের বিক্ষোভে তিনি নিজে যোগ দেননি। লাদাখে হিমবাহ সংক্রান্ত কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তিনি কর্মসূচি থেকে দূরে ছিলেন, যদিও আটক আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের মুক্তির দাবি তুলেছেন। গত জুলাই মাসেও ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সেই সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলন হয়। দীর্ঘ বিক্ষোভের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ বার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঘিরে ফের উত্তপ্ত রাজধানী। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি না দিলে সোনমের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেদিকেই নজর।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

ভোটে হার, তার পরেই অরাজকতা? বিরোধীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং ককরোচ জনতা পার্টিকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, ভোটে হেরে বিরোধীরা দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। শুধু তা-ই নয়, বিরোধীদের আন্দোলনের পিছনে বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগের সমর্থনে প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ দেননি নিতিন। শনিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে নিতিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের উন্নতি বিরোধীরা মেনে নিতে পারছেন না। সেই কারণেই তাঁরা দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ বিজেপি সভাপতির। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের দুটি গোষ্ঠী রয়েছে। এক দিকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট, অন্য দিকে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত ককরোচ জনতা পার্টি। এই দুই গোষ্ঠীই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। নিতিনের অভিযোগ, বিরোধীদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছেকে বেশি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাঁর দাবি, ভোটে জনসমর্থন না পেয়ে বিরোধীরা মানুষের রায় মেনে নেওয়ার বদলে দেশে অশান্তি ছড়ানোর পথে হাঁটছেন। বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও কোন বিদেশি শক্তির কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বিরোধীদের সতর্ক করে নিতিন বলেন, এ ধরনের চেষ্টা সফল হবে না। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং দেশের মানুষ এই ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেবেন। দেশে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হলে সরকার কঠোর হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিজেপি কর্মীরাও মানুষের মধ্যে থেকে বিরোধীদের এই চেষ্টা ব্যর্থ করবেন বলে দাবি করেন নিতিন।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয় এবং বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। সেই পরিস্থিতিতেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিতিন নবীনের এই আক্রমণ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
দেশ

'ভোটচুরি’ বলে গণতন্ত্রকে প্রশ্নের মুখে ঠেলা হচ্ছে? বিরোধীদের নিশানা করে খোলা চিঠি ১২৪ প্রাক্তন আমলার

দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপি ও ভোটচুরির অভিযোগ তুলে সরব বিরোধী শিবির। এই পরিস্থিতিতে ১২৪ জন প্রাক্তন আমলা খোলা চিঠি লিখে অভিযোগের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আইএএস, আইএফএস এবং আইআরএস আধিকারিকেরা রয়েছেন। চিঠিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ভোটার তালিকা এবং বিহারের নির্বাচন নিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।প্রাক্তন আমলাদের বক্তব্য, বারবার ভোটচুরি বা কারচুপির নির্বাচন শব্দ ব্যবহার করে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অতীতে নির্বাচনে কারচুপির যে ছবি দেখা গিয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা প্রয়োজন।চিঠিতে তাঁরা অতীতের নির্বাচনে ব্যালট বাক্স লুট, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং বুথ দখলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এক সময় বুথ দখল এতটাই সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছিল যে তা বন্ধ করতে আইন করে এই কাজকে অপরাধ ঘোষণা করতে হয়েছিল।বিরোধীদের উদ্দেশে প্রাক্তন আমলাদের প্রশ্ন, ভোটার তালিকায় অস্বচ্ছতা থাকলে তার সুবিধা সাধারণ ভোটারের নয়, বরং অসাধু ব্যক্তিদের হয়। একই নির্বাচন ব্যবস্থায় জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠু, আর হারলে ভোটচুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।চিঠিতে প্রাক্তন আধিকারিকেরা লিখেছেন, বিরোধীদের নিজেদেরই ভেবে দেখা উচিত, তাঁদের আপত্তি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে, নাকি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের পক্ষেও সওয়াল করেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, বিহারে এ বার অত্যন্ত স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে।চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিদেশসচিব কানওয়াল সিব্বাল এবং প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক আর ডি কাপুর, সমীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, গোপালকৃষ্ণ, বিবেক ভরদ্বাজ ও নবনীত সেহগাল। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। চিঠিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই খোলা চিঠি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চিঠিতে প্রাক্তন আমলাদের বক্তব্য এবং বিরোধীদের অভিযোগদুইয়েরই মূল্যায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট দাবির পক্ষে থাকা প্রমাণ ও তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অক্টোবর ১০, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুজোয় চূড়ান্ত প্রস্তুত শিয়ালদহ ডিভিশন, বিশেষ পরিকল্পনা রেলের , বিস্তারিত জানুন

দুর্গাপুজো ২০২৬ উপলক্ষে যাত্রীদের বিপুল ভিড়ের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে শিয়ালদহ ডিভিশনের উদ্যোগে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ এবং গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (GRP)-এর পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবের দিনগুলিতে কার্যকরভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজীব সাক্সেনা, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM), শিয়ালদহ ডিভিশন। সম্ভাব্য অতিরিক্ত যাত্রীসমাগম সামাল দিতে এবং স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।যাত্রীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পরিকল্পনা, নির্দিষ্ট হোল্ডিং এরিয়া এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং যাত্রী চলাচল মসৃণ রাখতে প্ল্যাটফর্মগুলিতে যথাযথ পৃথকীকরণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে পর্যাপ্ত রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) কর্মী মোতায়েন নিয়েও আলোচনা হয়।অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজন মেটাতে ২৭০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীর পরিষেবা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, রেলওয়ে প্রোটেকশন স্পেশাল ফোর্স (RPSF)-এর অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হবে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের সম্ভাবনা রয়েছে এমন লেভেল ক্রসিং গেটগুলিতে পর্যাপ্ত RPF কর্মী মোতায়েন করা হবে। এই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাজ্য ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা হবে।গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ফুট ওভার ব্রিজগুলিতেও RPF কর্মীদের পাশাপাশি স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস, সিভিল ডিফেন্স এবং সেন্ট জন অ্যাম্বুল্যান্সের স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হবে। তাঁরা যাত্রীদের সহায়তা করবেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবেন। যেসব স্টেশনে যাত্রীসমাগম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে চিকিৎসা সহায়তা বুথ ও অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা রাখা হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পান।সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমগ্র ডিভিশনকে বিভিন্ন স্টেশনগুচ্ছের ভিত্তিতে ১১টি নোডাল পয়েন্টে ভাগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডিভিশনের সমস্ত স্টেশনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ওয়ার রুম চালু রাখা হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে বা তাৎক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজনে যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা শিয়ালদহ ডিভিশনের ওয়ার রুমের ৯১৪৭৯০৬৭৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে সমস্ত অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (ATVM) এবং মোবাইল UTS পরিষেবা সচল থাকে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত টিকিট বুকিং কাউন্টারও চালু করা হবে। উৎসবের সময় যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে সমস্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন (ST), TRD, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং TRS বিভাগের মোবাইল রক্ষণাবেক্ষণ দলগুলি ১৬:০০ থেকে ২৪:০০ ঘণ্টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে প্রস্তুত থাকবে। এর ফলে যন্ত্রপাতির ত্রুটি বা রেল চলাচল সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে এবং যাত্রীদের অসুবিধা কমবে।উৎসবের সময় সম্ভাব্য ভিড় ও যানজট এড়াতে ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা বন্ধ থাকবে। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের কাছে অনুরোধ, এই সময়ে গাড়ি শুধুমাত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর (ড্রপ-অফ ও পিক-আপ) কাজে ব্যবহার করুন এবং গাড়ি পার্ক করা থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে স্টেশনের আশপাশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হবে। এছাড়াও, ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শিয়ালদহ স্টেশনের ডিজিটাল লকার পরিষেবা বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের এই সময়ের কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছেরাজীব সাক্সেনা বলেন, দুর্গাপুজোর সময় প্রত্যেক যাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কার্যকর ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি। উৎসবের সময় যাত্রীরা যাতে নিরাপদ, মসৃণ ও নির্বিঘ্ন রেলযাত্রার অভিজ্ঞতা পান, তা নিশ্চিত করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আগেভাগেই সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।দুর্গাপুজো ২০২৬ উপলক্ষে সমন্বিত পরিকল্পনা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবার প্রস্তুতি এবং কার্যকর রেল পরিচালনার মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ ও যাত্রীবান্ধব রেল পরিষেবা নিশ্চিত করতে শিয়ালদহ ডিভিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অক্টোবর ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal