• ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০৪ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

RIP

রাজ্য

ঘুম ভেঙে আতঙ্ক! অসম-ত্রিপুরায় পরপর ভূমিকম্পে আতঙ্কে দিশেহারা মানুষ

ভোররাতে আচমকা ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল অসম ও ত্রিপুরা। জোরালো কম্পনে আতঙ্ক ছড়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টা ১৭ মিনিট নাগাদ অসমে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.১। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল অসমের মোরিগাঁও জেলা এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে কম্পনের কেন্দ্র ছিল।মধ্য অসমে কম্পনের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘুম ভেঙে আচমকা প্রবল কাঁপুনি অনুভব করেন তাঁরা। আতঙ্কে অনেকেই ভোররাতে প্রবল ঠান্ডা উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, যে কোনও মুহূর্তে বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানি বা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।ভূমিকম্পের উৎসস্থল কোপিলি ফল্ট লাইনের কাছাকাছি বলে জানা গিয়েছে। এই ফল্ট লাইনে আগেও একাধিকবার ভূমিকম্প হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চল ভূমিকম্প প্রবণ হওয়ায় মাঝেমধ্যেই এই ধরনের কম্পন অনুভূত হয়।এর আগে একই রাতে ত্রিপুরাতেও ভূমিকম্প হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৩টা ৩৩ মিনিট নাগাদ ত্রিপুরার গোমতী জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৩.৯। এর কিছুক্ষণ পরই অসমে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অংশে অনুভূত হয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
রাজ্য

এবার পুজোয় বাসেই সিকিম, দার্জিলিং কিংবা ডুয়ার্স, তাকলাগানো প্যাকেজ NBSTC-র!

আসন্ন দুর্গাপুজোয় উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি) পর্যটকদের জন্য নিয়ে আসছে নতুন চমক। সবুজের পথে হাতছানি নামে একাধিক ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করতে চলেছে সংস্থা। ফলে সিকিম, দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা ডুয়ার্স ঘোরার সুযোগ মিলবে অনেক কম খরচে। খাওয়াদাওয়া মিলিয়ে ভ্রমণের ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ৭০০ টাকা থেকে সর্বাধিক ২৫০০ টাকার মধ্যে। বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়িতে এমনটাই ঘোষণা করেছেন নিগমের চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায়।তিনি জানান, এক দিনের ট্যুর থেকে শুরু করে দুদিন-এক রাত কিংবা তিন দিন-দু রাতের মতো নানা রকমের প্যাকেজ সাজানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতেই টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা রাখা হবে। পাশাপাশি পর্যটক আকর্ষণে রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে মাইকিং, লিফলেট বিলি এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার থেকে এই বিশেষ প্যাকেজ পরিষেবা চালানো হবে। প্রতিটি জায়গায় দুটি করে বাস থাকছে ১৬ সিট ও ২৬ সিটের। চাহিদা বাড়লে গাড়ির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।পর্যটন মানচিত্রে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক ছাড়াও থাকছে দার্জিলিং, কালিম্পং, লাভা, লোলেগাঁও, ঝালং, বিন্দু, লাটাগুড়ি, মূর্তি, গোরুমারা, জলদাপাড়া, রাজাভাতখাওয়া ও জয়ন্তী। নিগমের চেয়ারম্যানের বক্তব্য, আমাদের লক্ষ্য একটাই স্বল্প খরচে বেশি জায়গা ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া। পুজোর সময় উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলায় দুর্গাপুজো ঘোরার বিশেষ ব্যবস্থাও থাকবে।এই উদ্যোগে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। লাটাগুড়ি হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, খুবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। জলপাইগুড়ি বা লাটাগুড়ি থেকে সরাসরি দার্জিলিং বা গ্যাংটক গেলে বহু পর্যটক প্রথমে ডুয়ার্স ঘুরে পাহাড়ে যেতে চাইবেন। এতে খরচ কমবে এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও বাড়বে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিহার থেকে ডুয়ার্সের সরাসরি সরকারি বাস চালু হলে আরও পর্যটক টানতে সুবিধা হবে। নিগম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।এছাড়া মহালয়ার পরদিন থেকে চতুর্থী পর্যন্ত প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ পুজো পরিক্রমা চালানোর পরিকল্পনাও করছে এনবিএসটিসি। একইসঙ্গে পুজোর সময় কলকাতা-উত্তরবঙ্গ রুটে অতিরিক্ত বাস নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যে ১১টি বাস প্রতিদিন চলছে, তার সঙ্গে আরও দশটি যোগ করার চেষ্টা চলছে। দীঘা রুটেও সপ্তাহে দুদিনের বদলে চার দিন বাস চালানো হবে।সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, পুজোর মরসুমে উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে নতুন গতি দিতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এনবিএসটিসি।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ইচ্ছা থাকলে কোনও বাধা আটকাতে পারে না, বাঙালির এই কীর্তিতে আপনারও গর্ব হবে

ত্রিপুরার বাপি দেবনাথ দীর্ঘ দিন ধরে থাকেন কলকাতায়। সাধারণ সিঙ্গল গিয়ার সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন অভিষ্ঠ লক্ষ্যে। ২১ মে ২০২৪ কলকাতা থেকে যাত্রা শুরু করেন মাউন্ট এভারেস্টের উদ্দেশে। বাপি ওরফে নীলের যাত্রাপথ ছিল কলকাতা, বেনারস, অযোধ্যা, সানহলি বর্ডার, কাঠমান্ডু, গুরমি, সেলেরি, নামচিবাজার হয়ে এভারেস্টের বেস ক্যাম্প। ১৪ জুলাই ২০০৪, ১০টা ৫৫ মিনিট এভারেস্ট বেস্ট ক্যাম্পে পৌঁছান বাপি।বাপি দেবনাথ বলেন, প্রথম বাঙালি সাইক্লিস্ট হিসাবে আমি এই রেকর্ড করেছি। সাইকেল নিয় কলকাতা থেকে মাউন্ট এভারেস্ট পৌঁছানো। ভারতের তৃতীয় সাইক্লিস্ট, প্রথম বাঙালি। বিশ্বের অষ্টম সাইক্লিস্ট। আমি পুরো সাইকেল জার্নিটা আমার বাবাকে উৎসর্গ করেছিলাম। এখানকার অফিসিয়ালরা জানিয়েছে এটা একটা রেকর্ড। যে রেকর্ড করবো তা জানতাম না। ত্রিপুরা ও পশ্চিমবাংলার বাসিন্দাদের বাসীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন আগরতলার চন্দ্রপুরের এই বাসিন্দা। কাজ করেন সিনেমাটোগ্রাফি ও এডিটিংয়ের। নেশা সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে পৌঁছে গিয়েছেন এভারেস্টের বেস ক্যাম্পেই। বাপি বলেন, বাঙালি হিসাবে এটা আমার বড় প্রাপ্তি। আমাকে সাপোর্ট করার জন্য় প্রত্যেককে ধন্যবাদ। ভারতের জন্য়ও বড় প্রাপ্তি। এটাই বলব অসম্ভব বলে কিছু নেই। শুধু ইচ্ছাশক্তি থাকা চাই। অনেক দুর্গম রাস্তা দিয়ে আসতে হয়েছে। পথে মৃত্যু মুখে পড়তে হয়েছে। তবে আমার লক্ষ্য ছিল এই অভিযান আমাকে যে কোনও মূল্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। আগামী দিনে আরও লক্ষ্য রয়েছে। সেগুলি পূরণ করার চেষ্টা করব।

জুলাই ১৮, ২০২৪
নিবন্ধ

হুউউউস..

পুজো। দুগ্গাপুজো।পুজোয় চাই নতুন জুতো। খবরের কাগজে ইয়া বড় পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন।সদ্য হড়কা বান দেখলো শ্রীলেদার্সের নতুন আউটলেট।প্রয়োজন! নাকি সস্তা! তাহলে কি বিজ্ঞাপনের টোপ! হুজুগ! আবেগী বাঙালি!জানেনা হরিপদ।পুজোর পঞ্চাশ দিনও বাকি নেই।হরিপদ দিল্লীতে। শাস্ত্রী ভবনের কাছে এশিয়া খ্যাত মলে।নাইকির শো রুমে। স্নিকার টেন থাউজেন্ডস অনওয়ার্ডস। প্রয়োজনে নাম লিখে দেবে নাইকি। সিগনেচার প্রোডাক্ট।বিটেক করে সদ্য সামান্য মাইনের কাজ জুটিয়ে দিল্লীতে ভাইয়ের ছেলে। দাদা নেই। বৌদি বলেছে একবার দেখে এসোনা ঠাকুরপো। কেমন আছে কে জানে।আমরা বলি কাজ। চাকরি। ওরা বলে জব।তাই ভাইপোর কাছে দিল্লীতে হরিপদ। কিন্তু কি আর দেখবে সে !ভাবলে, একটা কিছু কিনে দিলে হয়। পুজোয় বাড়ী ফেরা হবে না ওর। ভাইপোই কাকুকে নিয়ে এসেছে মলে।তবে এও ঠিক ..একটা সময় হরিপদই দেখেছে।ভাইপোর জন্মের পর পরই দুর্ঘটনা। চলে গেলো দাদা। ছমাসের অন্নপ্রাশনের আয়োজন থেকে স্কুল কলেজ সবটাই।ভাইপোর প্রথম জন্মদিন।কাগজের বক্স।ওপরটা সেলোফেনজিরো সাইজ।সঙ্গে আবার ঝুমঝুমি।জনসনের পাউডার।বাক্স ভর্তি আনন্দ!আজও সেই নস্টালজিক গন্ধ টের পায় হরিপদ।তারপর ..সময় গড়ালো।শেষ বেলায় দোকানে গুঁতোগুঁতি। কোনরকমে দোকানদার কে বুঝিয়ে বলা..এই ধরুনবছর দেড়েক বয়স।ভীষণ ভিড় তো..ঠাকুমার কাছে রেখে এলাম।বড্ড কান্নাকাটি করে।এইটা দেখুন।মাথায় টুপি দেওয়া।পুজোয় বেশ ঠান্ডা পড়ে যাবে। মোজাও আছে।গলদঘর্ম দোকানি দেখাতে লাগলো।সে মোজা..কি জানি কোন মন্ডপে পড়ে রইল।কাঁধে মুখ রেখে ঘুমে কাদা।নাল ঝোল ঝরেনা কাঁধে আর।জীবনে স্কুল এলো।এলো, এক দুই তিন।পিঠে ফেলে মাপবো..ওমা.. দোকানময় ছুটছে।হরিপদর মেয়ে আর দাদার ছেলে পিঠোপিঠি। দিনে দশ বার জামাকাপড় দেখা। এটা সকালে এটা বিকেলে।ওটা অষ্টমীর.. বেশ জমকালো!না না। পিসির টা পরুক।ওটা বরং নবমীতে, ফাংশানে..তারপর অফিস ফেরতাপ্যাকেট টা ছিনিয়ে নিয়ে ছুটমা দেখো।বিছানায় প্যাকেট ফেলেএক ঝটকা নাচ!তারপর হঠাৎ কবে যেনরঙ এলো..খয়েরি ফুলপ্যান্ট টা ভালো না।আরে বাবা নীল টা তো ছোটো। ফেরত দিতে হবে।ডেনিম..ডাংরি নতুন নতুন শব্দ শিখছে হরিপদ তখন।ক্লান্ত হয়ে রেস্টুরেন্টেছোলা বাটোরাএক চামচ মুখে দেওয়াও চাই..আবারঝাল বলে চিত্কার ও।এই যা: সান গ্লাস কেনা হোলো না তো!!বাড়ী টায় মানুষ কমলো ধীরে..কার্নিসে বাড়ল বট।বিজয়ার দিন তুঁতের ওপর মা দূর্গার মুখ আঁকা গালিচা..হরেন কাকা ..বেতের ধামা..নাড়ু .. ঢিপ ঢিপ প্রণাম..ফটাস করে কালি ফটকা ..কুয়োয় বালতির ঝপাং শব্দ!আবার এসো মা।মা আসে। মা যায়।টিভির পরিক্রমা আসে। আসে ফ্রেন্ডশিপ ডে। ভ্যালেন্টাইনস ডে জায়গা করে নেয় টিচার্স ডের সঙ্গে।আর্চিসের কার্ড কখন যে এলো আবার হারিয়ে গেলো মনে করতে পারেনা হরিপদ।বাড়তে থাকে ওরা ভাই বোনে।এটা তো অফারে কেনাসেজো পিসি কক্ষনোব্র্যান্ডেড ছাড়া দেয় নাট্রায়াল রুমও প্রয়োজনহীন। সাইজ, কালার, ডিজাইন..সিভিভি নম্বর দাও। বাড়ীর দরজায় এসে দাঁড়াবে আলাদিন...ওটিপি টা বলুন।যা..ই বলেতরতরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায় ওরা।পর্দার পাশ থেকে উঁকি দিয়ে ভাইপোর ট্রিম করা .. মেয়ের সঙ্গে মায়ের মাসের কটা দিনের গোপন কথা।সবটাই দেখেছে হরিপদ।বলছিলাম না কাকু তোমায়..এইটা সেইটা..ইউনিক না!হুঁ হুঁ বাবা,তক্কে তক্কে থাকতে হয়কেবল একদিনের অফার ছিল!অ ..তাই বুঝি।হরিপদর অজ্ঞানতা শোনার সময় নেই সময়ের। দুদ্দাড় ছুটে চলে যায় নতুন প্রজন্ম। মেয়ের সঙ্গে প্যাক খুলতে বসে যায় ভাই বোনে।প্রজন্মগত তফাৎ বোঝে হরিপদ। যেটুকু বোঝে না ..আপত্তি করেনা।বেনিফিট অফ ডাউট আরকি!তাহলে কি করব.. কাকু!ও কাকু!!আনমনা হয়ে গেছিল হরিপদ। সম্বিৎ ফেরে ভাইপোর কথায়।স্নিকার টা বিল করতে বলবো !! দারুন ওটা। ওর থেকে কমে কিছু আর দেখছি না।হরিপদ কি করবে। দশ হাজারের জুতো!আশকারা.. প্রশ্রয়। বৌদির অসহায় বোধ। নির্ভরতা। মুহুর্মুহু অন্তর্লীন আক্রমনের মুখে হরিপদ।অনেক আবদার মিটিয়েছে হরিপদ। হেরে যাবে!তাহলে কি বেনিফিট অফ ডাউট দিয়ে ক্রিজে রেখে দেবে আম্পায়ার হরিপদ!!আউট দেবে না!!অস্থির দোটানায় হরিপদ।আবার মন বলছে.. কোথাও তো একটা সীমারেখার প্রয়োজন হরিপদ। দাঁড়ি টানতে হয়। অবুঝ কে বোঝাতে হয়!!কাকু..ও কাকু..!একটা তুবড়ি, হুউউউস করে শব্দ তুলে..অন্ধকার আকাশে অনেকটা উঠে,আলোর রোশনাই রেখে..নিভলো বোধহয়..!!

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
নিবন্ধ

মনে হচ্ছে উঠে যাচ্ছে

মনে হচ্ছে উঠে যাচ্ছেগিন্নির কথায় তাকালো হরিপদ.. কি চুল?ধুর বাবা..গিন্নির খেদ।সেই থেকে উদ্বেগের শেষ নেই হরিপদর।চার পাঁচ দিন কাটলো এইভাবে।পিরিয়ড আর হয়না।তাহলে কি..🤔ধুর!সে কি করে হবে।বাড়ছে ভয়.. উদ্বেগ..অস্বস্তি। কোনো টিউমার ফিউমার নয়তো!চলো ব্রিগেডে ..শুনে আসি কি লেখা আছে কপালে!চলো গাইনোর কাছে.. বুক ঢিপ ঢিপ..জন্মদিনের সকালে।এই বয়সে অস্বস্তির চূড়ান্ত। কচি কাঁচার আড্ডায় এক দুটি পক্ক কেশ.. টাক মাথার কেস।সবাইকেই মনে হচ্ছে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে।এসব নিয়ে লুকোচুরি কবেই উঠে গেছে। বুঝতে চায়না হরিপদ।স্রাব এখন প্রস্রাব।ডাস্টবিনে সুলভে।মেয়েদের জামায় ফ্রিল আর আছে! আঁচল সরে গেলে অস্বস্তি আর আছে !টপই টপ ফ্যাশন।অনাবৃত করো.. এক্সপোজ করো নিজেকে। হাফ প্যান্ট পরো। জাং দেখাও। জাঙ্ক ফুড খাও। বুক দেখাও। পিঠ দেখাও।ফেসবুক রিলে ধেই ধেই করে নাচো।এগোও এগোও হরিপদ।ফাইট কোনি ফাইট। মতি নন্দী নিয়ে পড়ে থেকো না।নারীশিক্ষা র আপডেট নাও হরিপদ।বুঝতে চায়..পারেনা হরিপদ!কত কি-ই তো উঠে গেছে !সময়ের সঙ্গে.. লজ্জা।অপরাধবোধ থেকেসঙ্গমের নির্দিষ্ট শয্যা।চটি জুতো লুকোনোর আত্মীয়তা থেকে..কানমলা দেওয়ামাস্টারের স্বাধীনতা।উঠব উঠব করছে ..রোদে বড়ি.. আচারের আম! প্রেম নিষ্কাম।ঢিপঢিপ বিজয়ার প্রনাম।টেলিভিশনের খবরশুনি কি আর..শুনি স্টোরি.. শুনি গল্পউঠোন উঠেছে কবে..বারান্দায় রোদও অল্প।হরিপদ হারে না তবুবসে থাকে জবুথবু।উঠেই যাচ্ছে। ডাক্তার বলেছে। গিন্নির হাতে প্রেসক্রিপশন।হাঁফ ছাড়ে হরিপদ।জন্মদিনের পায়েসকেক কাটার আয়েশ।পাঁচজনে বসে পাতপেড়েলম্বা টেবিল উঠিয়ে..দন্ডায়মান হাতে প্লেট ;কয়েদী হয়েছেপাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে।হুঁকো আছে শেষ পাতেটানছে মৌতাতে..এই তো হরিপদউঠেছো এবার জাতে!!

আগস্ট ২০, ২০২৩
নিবন্ধ

হরিপদর কলম : আসল.. নকল

হরিপদ গবেষণা করেনা। রিসার্চ পেপার পাবলিশ করিবার ওয়েবসাইট খোঁজে না।অথচ প্রতিনিয়ত ইহাদের গবেষণা চলিতেই থাকে।হরিপদ আদার ব্যাপারী। জাহাজ লইয়া তোমার কি দরকার বাপু!চন্দ্রযান অপেক্ষা নিজের জান লইয়াই ভাবিত হওয়ার কথা !বিশ্বে কেবল আমেরিকা রাশিয়া চীন ভারত। চাঁদে মাত্র চারজন।ভাবিবে না !লুনা পঁচিশ কে পিছনে ফেলিয়া চন্দ্রযান তিন কে আগে নামাইতে হইবে চাঁদে!গুলি মারো মূল্যবোধ!!বোধহীন সত্য। নাকি বোধাতীত সত্য।কাহাকে ফলো করিবে হরিপদ!কান বন্ধ করিয়া থাকিতে পারেনা।ফেসবুক সাজেশন চোখ বুজিয়া ইগনোর করিতে পারে কি !যার যেরকম সঙ্গ। তেমন ফিড। টানিয়া লইয়া যাইবে সেই দিকে।বউ এর আফসোস অমুকের আবার মিস ক্যারেজ হইয়াছে ! কত গাছে-গাছে ইঁট বাঁধিয়া ..ঘন্টা ঝুলাইয়া দশ বছর পর কনসিভ করিয়াছিল...আবার লড়াই।ঘন ঘন মেসেজ আসিতেছে ফোনে। তিনদিনের লাগাতার স্বাধীনতা দিবস।নাও উড়াও পতাকা।সম্পর্কের ন্যায় সবই প্রায়সিন্থেটিক।কেবল ফুটপাথে হকার তারস্বরে গলা ফাটাইতেছে তিনশ টাকায় জোড়া শার্ট।হান্ড্রেড পারসেন্ট কটন!!না। কটনের পতাকা মিলিল না বাজারে। ডিমান্ড নাই। অর্ডার দিলে ডেলিভারি করিবে। দাম পাঁচগুণ।সব দোকানেই সিন্থেটিক উড়িতেছে.. ঝুলিতেছে..পত পত করিয়া।সমুদ্রের ঢেউ। কত কি ভাসাইয়া লইয়া আসে। বীচে রাখিয়া ফিরিয়া যায়।আবার আসে। ফিরাইয়া লইয়া যায়। রাখিয়া যায় নতুন কিছু।ননস্টিক বাসনপত্র এখন ননএসেনশিয়াল। ননসেন্স কমোডিটি!লোহার কড়াই .. এনামেলের বাসন ফিরিতেছে।প্লাস্টিক হইতে কাগজ.. সুপারি গাছের ছাল হইতে আখের ছিবড়ে। মাটির পাত্রে ফিরিয়াছে বিজনেস ক্লাস ভোজবাড়ীর ভোজের টেবিল।কাঁসার বনেদিয়ানা পালিশ কমিতেছে আবার।ইকনমি ক্লাসের হিরোগিরি ঘোলাটে মেলামাইনের ওপর কলাপাতা.. কিন্তু কলাপাতা নহে..প্লাস্টিকের আস্তরণে কাগজ।প্রেমহীন লিভ ইন।ওদিকে সমুদ্র ..এদিকে বাজার।যাহা বলিবেন কত্তা। তাহাই মানিবে উল্লুর দল।শুধু কথা বলিবার জো নাই। কম্বো প্যাক কাকু! নেট ভরিতেই হইবে।অস্ফুট গালাগাল দিয়া রিচার্জ হরিপদর। বিপ্লবের সুযোগও দিবে যে ওই নেট ই।জিও যাঁতা কল! যুগ যুগ জিও!মায়েরও প্রথম পছন্দ উনি। কালীঘাটের মন্দির নবরূপে সাজাইবেন আম্বানি।সম্প্রতি ফুর্তি করিয়া আসিলেন কয়েক হাজার ওষুধ কোম্পানির লোকজন। ডাক্তার বাবু। পাটায়া..ব্যাংকক.. থাইল্যান্ড।হরিপদ হাই এম আর পি প্রিন্টের ওপর টোয়েন্টি পার্সেন্ট ছাড় লইয়া দোয়া করিলেন মাল্টি ন্যাশনাল দোকানীকে!সম্প্রতি কেরালায় সমাধির ওপর কিউ আর কোড !! কেনো।কিউ আর কোডের বোর্ড এখানে কেনো।হরিপদর মনে হইল..কি জানি..কোনো গরিব স্ত্রীর একমাত্র রোজগেরে স্বামীর সমাধি হইবে হয়তো! অর্থ সাহায্য চাহিতেছে।হরিপদ মোটামুটি লো রেঞ্জের দয়ালু। ছোটখাটো দান করিয়া থাকে।কিউ আর কোডের উপর মোবাইলের ক্যামেরা রাখিতেই ... খুলিয়া গেলো ওয়েবসাইট। হাসিমুখে ভাসিয়া উঠিল ছাব্বিশ বছরের একযুবক। ডিজিটাল দুনিয়ার আধুনিক প্রজন্ম। তাহার ছোট্ট অথচ মূল্যবান জীবনপঞ্জী।অকাল মৃত্যুতে বোনের শ্রদ্ধাঞ্জলি।বাঃ বেশ তো! চমৎকৃত হইল হরিপদ। ইহাই তো প্রগতি।আচ্ছা এমন যদি গান্ধীজী নেতাজীর হইত!সাভারকর কিংবা লেনিনের !হিটলার কিংবা আকবরের ! গডসে কিংবা গড জেশাসের!এক লহমায় মানুষ পরিচিত হইত।না।নানান মতের নানান কিউ আর কোডের ভীড়ে সমাধি ই ঢাকা পড়িয়া যাইত! হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিল গিন্নি।হরিপদ বিভ্রান্ত।হইতে পারে। হয়ও তো!পুরীতে কিংবা হরিদ্বারে। ব্যারাকপুরে কিংবা দুর্গাপুরে।দাদা বৌদির একাধিক দোকান.. আউটলেটে র মত।কে যে আসল কে যে নকল.. নাকি দুজনেই নকল কে জানে !!হরিপদর গুন গুন ...সমস্ত হরিপদর হৃদয়ে মুখরিত হোক....সেই পুলক ব্যানার্জী, নচিকেতা ঘোষ..হেমন্ত মুখার্জির কালজয়ীআফসোস..খিড়কি থেকে সিংহ দুয়ারএই তোমাদের পৃথিবী...তোমরা পায়রা ওড়াও..বাজী পোড়াও...তোমাদের কোনটা আসল কোনটা নকলকোনটা শুধুই জবরদখলতোমরা নিজেই জানো না!!

আগস্ট ১৩, ২০২৩
নিবন্ধ

হরিপদর কলম : মালের দায়িত্ব আরোহীর

হরিপদ গুগল করছে।বৃষ্টি। কাজেই নো মোমবাতি। ব্যানার। কালার কোড সাদা কালো। ছেলেটার নাম লিখবে লাল দিয়ে।মেসেজ চলে গেলো রাজ্য থেকে জেলা ব্লক নেতৃত্ব হয়ে প্রিন্টারের কাছে। নিভিয়ার অল ইন ওয়ান চারকোল ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুচ্ছে দলবদলু। টিভি শো আছে।মৃত্যুর ফেভারেবল লিঙ্ক খুঁজছে সাংবিধানিক ব্যক্তিত্ব.. দল। নতুন রেসিপি দিতে হবে মানুষের কাছে।কি বলবেন। কি বলবেন।ফুটেজ নিয়ে ঝোলা ভরছে চতুর্থ স্তম্ভ। মামা বাবার টা পেয়েছে। মায়ের কান্নার ফুটেজ নিতে বগুলা ছুটছে কেউ।কেউ এক্সক্লুসিভ লিখে চালিয়ে দিয়েছে। শালা এত কম্পিটিশন। গাড়ী ঘুরিয়ে শশ্মান। কেউ আগের মেট্রো ধরে বেরিয়েছে অফিস থেকে। চারটি মুড়ি আলুভাজা সাঁটিয়ে বসবে নিউজের ওয়েব সিরিজে।সে কি! সি সি টিভি কি বলছে। ছিলো না! কি বললেন?মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়?এখানে ক্যামেরা থাকতে নেই।আরে গর্ধব। জেলা সভাপতি হয়ে ছেলেটার নামটাও ভুল বললে। বাইট এডিট করতে বলো শিগগির।স্বপ্নদীপ কুন্ডু অসহায় প্রথম বৃত্ত আকস্মিকতায় স্তব্ধ। কাঁদছে দ্বিতীয় বৃত্ত। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে স্কুলের বন্ধু। বই। খাতা। স্বপ্ন !!তরঙ্গের মত পরের দূরদর্শী বৃত্তেরা ঘটনার ফায়দা নিতে তৎপর।যার গেলো তার গেলো।তবু বলতে নেই সে কথা।বলতে হয় পাশে আছি। সত্যি তো। যে পাশের বাড়ির মেয়েটা চা করে এনে দিলো। যে বন্ধুর বউ.. স্বজন..আপ্রাণ চেষ্টা করছে ওদের একটু কিছু খাইয়ে দেওয়ার ..তাৎক্ষণিক এই ফার্স্ট এড নিয়ে বাড়ির দরজায় গুচ্ছের চটি জুতোর সঙ্গে সামিল হওয়াই তো পাশে থাকা।ফোন।হরিদা মনে আছে তো। কাল বাদ পরশু। রবিবার সন্ধ্যে সাতটায় সৃজনী হলে।শোকসভা।হরিপদর হাতে রিমোট।চোখের সামনে সেই এআই .. চ্যাট জিপিটি লোকগুলো। মগে চা খাচ্ছে।ইতিহাস বলছে। কার আমলে কত মৃত্যু। কোট করছে Ragging is a social menace with roots in a society where inhuman feeling are widespread.ডেটা দিচ্ছে। মিউট করে অন্য ঘরে এলো হরিপদ। মেয়ে বই পত্তর ঘাঁটছে।নার্সিং পড়তে যাবে সেপ্টেম্বরে। ওসব হস্টেল পিজি তে কাজ নেই বাবা।বাড়ি থেকে কিছু করা যায় না!এক বুক আশঙ্কা নিয়ে বললে হরিপদর বউ।বড় করে শ্বাস নিলো হরিপদ। মা মেয়ের দিকে অপলক তাকালো।সেই চিরকালীন মধ্যবিত্ত অসহায়ত্বের মধ্যেই দৃঢ়তা খুঁজে ফেরা।এও লড়াইয়ের অঙ্গ। ভাবের ঘরে চুরি করে সন্ত্রস্ত হলে ক্ষমা করবে না জীবন।কমিশন বসবে। আলোচনা.. পর্যালোচনা চলবে।ক্রমে ফিকে হবে।অপ্রিয় সত্যিটা এটাই.. হেরে গেলো স্বপ্নদীপ ..ওর বাবা মা!লড়ে বাঁচতে হবে। হ্যাঁ একাই !!

আগস্ট ১২, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

ক্লিকের এনক্রিপটটেড নিয়ে উন্মাদনা

Klikk Originals এর আগামী ওয়েব সিরিজ এনক্রিপটটেড এরএর মিউজিক, টিজার ও পোস্টার মুক্তি পেল হাওড়ার অবনী মলে। ছবির পরিচালনা করেছেন সৌপ্তিক সি। সর্বপ্রথম বাংলা ওয়েব সিরিজের টাইটেল গান গেয়েছে এবং অভিনয় করেছে বাংলা রক ব্যান্ড ক্যাকটাস। এটি বাংলা ওটিটির ইতিহাসে সর্বপ্রথম সংযোজন। এর আগে নীল নির্জনে ছবিতেও ফিচার করা হয়েছিল ক্যাকটাস ব্যান্ডকে। উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার, ঐশ্বর্য সেন, রিচা শর্মা, রানা বসু ঠাকুর, অমিতাভ আচার্য, অর্পিতা দাস, রানা মুখার্জি, সূর্যেন্দ্র বাগচী, ইন্দ্রনীল দে, সানু সোমনাথ, সুলগ্না চক্রবর্তী ও সঙ্গীত পরিচালক অম্লান চক্রবর্তী সহ ক্যাকটাস ব্যান্ড। এদিন সদ্য প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী কেকে কে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাল ক্যাকটাস ব্যান্ড। ক্যাকটাসের লাইভ পারফরম্যান্স দেখতে মলে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল দেখার মতো। কলাকুশলীরা দর্শকদের নিজস্বীর আবদারও রাখেন। সবমিলিয়ে একটা জমজমাট সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল অবনী মল।

জুন ০৭, ২০২২
খেলার দুনিয়া

দুরন্ত ত্রিপাঠি, মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদের বড় রানের পেছনে রহস্য কী?‌

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাজে হারলেই আশা শেষ হয়ে যাবে। এইরকম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দারুণভাবেই জ্বলে উঠল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে তুলল ১৯৩। দুরন্ত ব্যাটিং করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বড় রানে পৌঁছে দিলেন রাহুল ত্রিপাঠি। ৪৪ বলে ৭৬ রান করেন তিনি। ব্যাটিং অর্ডারে বদল করেই এদিন সাফল্য পেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। একসময় প্লে অফের লড়াইয়ে দারুণভাবেই ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টানা ৫ ম্যাচ হেরে প্লে অফের লড়াই থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। প্লে অফের স্বপ্ন মরীচিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন উইলিয়ামসনদের সামনে। ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে এদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। বাকি দুটি ম্যাচে জিতলেই যে প্লে অফের টিকিট পাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। অন্য দলগুলির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। যদিও প্লে অফের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এইরকম ম্যাচে স্ট্র্যাটেজি বদলই সাফল্য এনে দিল। ব্যাটিং অর্ডারে এদিন দুই দলই দুটি করে পরিবর্তন করে মাঠে নামে। টস জিতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক রোহিত শর্মা ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় হায়দরাবাদ। ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মাকে (১০ বলে ৯) তুলে নেন ড্যানিয়েল স্যামস। শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামলে দেন প্রিয়ম গর্গ ও রাহুল ত্রিপাঠি। চলতি আইপিএলে এই প্রথম মাঠে নামার সুযোগ পেলেন প্রিয়ম। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন সরে গিয়ে প্রিয়মকে ওপেনিংয়ে জায়গা করে দেন। সুযোগ পেয়ে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরলেন প্রিয়ম। ২৬ বলে ৪২ রান করে দলের বড় রানের ভিত গড়ে দেন। আগের ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে ছন্দে ফেরেন রাহুল ত্রিপাঠিও। এই দুজনের জুটিতে ওঠে ৭৮।প্রিয়ম ফিরে যাওয়ার পরপর নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান রাহুল ত্রিপাঠি। এই জুটিতেও ওঠে ৭৮। সপ্তদশ ওভারে ২২ বলে ৩৮ রান করে রিলে মেরেডিথের বলে আউট হন পুরান। পরের ওভারেই আউট হন রাহুল ত্রিপাঠি। ৪৪ বলে তিনি করেন ৭৬। মার্করাম এদিন রান পাননি। ৪ বলে তিনি করেন ২। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০ রানে ৩ উইকেট নেন রমণদীপ সিং।

মে ১৭, ২০২২
দেশ

ত্রিপুরায় শপথ মানিকের, অনুষ্ঠানে গড়হাজির দলের বিক্ষুব্ধ মন্ত্রীরা

ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন ডা. মানিক সাহা। গতকাল, শনিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন বিপ্লব দেব। মুখ্যমন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হওয়ার দশ মাস আগেই সরতে হল বিপ্লব দেবকে। রবিবার দুপুরের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন না উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মন। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর রাজভবনে গিয়ে হাজির হন উপমুখ্যমন্ত্রী। এই গড়হাজিরা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শপথগ্রহণে অনুপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল। দলের বিক্ষুব্ধ অংশের লোকজন শপথগ্রহণে গড়হাজির ছিলেন। এই অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন বামফ্রন্টের বিধায়করা।Congratulations to Shri @DrManikSaha2 on taking oath as Tripuras CM. Best wishes to him for a fruitful tenure. I am confident he will add vigour to the development journey of Tripura which began in 2018. Narendra Modi (@narendramodi) May 15, 2022আগামী ২০২৩-এ ত্রিপুরায় বিধানসভার ভোট। তার আগে এভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে অন্য় একজনকে সেই পদে বসিয়ে দিল বিজেপি। এই নয়া ঘোষণা নিয়ে গতকালই বিজেপির দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় বৈঠকে ব্যাপক গন্ডগোল হয়। প্রকাশ্য বিদ্রোহ করেন রামপ্রসাদ। বচসা, হৈ-হট্টগোল, ধাক্কাধাক্কি সবই চলতে থাকে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিপ্লব দেব। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন বিপ্লব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তারপর ত্রিপুরায় ফিরে গিয়ে পদত্যাগ করেন বিপ্লব দেব। আগামি ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরা দখলে রাখা বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।Extremely grateful to Honble PM Sh. @narendramodi ji,Honble Home Minister Sh @AmitShah ji,Honble National President Sh @JPNadda ji Honble Ex CM Shri @BjpBiplab ji MLAs for nominating me to take the oath as the Chief Minister of Tripura. pic.twitter.com/G1aYGYf1HG Dr Manik Saha (@DrManikSaha2) May 15, 2022

মে ১৫, ২০২২
রাজ্য

নয়া কমিটি গঠনেও অস্বস্তি ত্রিপুরা তৃণমূলে, পৃথক বৈঠক কোর কমিটির সদস্যর

ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের নয়া রাজ্য কমিটি গঠন করার পরও দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটেনি। বরং কোর কমিটির অনেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। প্রথম রাজ্য কমিটির বৈঠকেও অনেকে গড়হাজির ছিলেন। সূত্রের খবর, কমিটি গঠনের পরের দিনই রবীন্দ্রপল্লীতে কোর কমিটির সদস্য আশিস দাসের বাড়িতে তৃণমূলের একাংশ বৈঠকে বসে। সেখানে হাজির ২৫ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন এক্সিকিউটিভ সদস্য ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস।আশিস দাসের বাড়ির বৈঠকে পায়ের দিকের তোলা ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। হঠাৎ পায়ের ছবি কেন? রাজনৈতিক মহলের মতে, তাহলে কী নতুন কোনও দলের যাত্রা শুরু হতে চলেছে ত্রিপুরায়। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ কর্তাকে নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার নিজের ক্ষোভ সোশাল মিডিয়ায় উগরে দিয়েছিলেন বিজেপির এই প্রাক্তন বিধায়ক। কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি ছেড়ে আসার পর টানা চার মাস তিনি প্রায় বসেছিলেন। দলও তাঁকে কোনও গুরুত্ব দেয়নি বলেই তাঁর দাবি। ওই নেতৃত্ব দ্বারা ত্রিপুরায় পরিবর্তন আসবে না বলেই আশিসবাবু ঘনিষ্ঠ মহলে মন্তব্য করেছেন। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে ওই নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বনিবনা হওয়া খুবই শক্ত। সেক্ষেত্রে দলের বাইরে পৃথক ভাবে নিজের বাসভবনে বৈঠক করা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে একাংশের বক্তব্য, এই বৈঠক করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন আশিস দাস।নব গঠিত রাজ্য কমিটির প্রথম বৈঠকএদিকে আরেক কোর কমিটির সদস্য তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি আশিসলাল সিংকেও ত্রিপুরা তৃণমূলের কোনও বৈঠকে দেখা যাচ্ছে না। শারীরিক ভাবে অসুস্থতার কারণেই তিনি আসতে পারছেন না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন। তবে তিপ্রা মথার নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর যথেষ্ট সদ্ভাব রয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, এমনকী ওই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আশিসলাল সিংয়ের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এদিকে তৃণমূলের নয়া রাজ্য সভাপতি সুবল ভৌমিক সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন এমন খবর তিনি জানেন না। প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে নেবেন তিনি।তৃতীয়বার বঙ্গ বিজয়ের পর ত্রিপুরায় হানা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের গোষ্ঠীকলহ নিয়ন্ত্রণে না আনতে আদপে ফায়দা হবে বিজেপির। যে ভাবে দলকে না জানিয়ে পৃথক বৈঠক করছেন কোর কমিটির সদস্য, আরেক কোর কমিটির সদস্য অন্য দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন। সেক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব হস্তক্ষেপ না করলে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে সেই গোয়ার ফলফালের রিপিট যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মে ০৪, ২০২২
দেশ

প্রদ্যুত কিশোর ও আশিসলাল এক মঞ্চে থাকলে রাতের ঘুম উড়বে অন্যদের

ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন রাজ্য কমিটি ঘোষণায় তোলপাড়। নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন সুবল ভৌমিক। তাছাড়া ৬ জনের কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোর কমিটিতেও আছেন সুবল ভৌমিক। তাছাড়া বাকি পাঁচজন হলেন সুস্মিতা দেব, আশিসলাল সিং, আশিস দাস, ভৃগুরাম রিয়াং ও মামন খান। আরও একাধিক পদ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দলের নয়া কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ত্রিপুরা তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছে। এঁদের পাশাপাশি ত্রিপুরা তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে।ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি আশিসলাল সিং কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জনতার কথা-কে। আশিসবাবু বলেন, আমি দলের সৈনিক। দুঃসময়ে দলে ছিলাম। তবে দলের বোঝা হয়ে লাভ নেই। দলকে যদি জেতাতে না পারি তাহলে পদে থেকে কী হবে? আশিসলাল সিংয়ের মতোই আশিস দাসও নতুন কমিটি নিয়ে নিরাশ। এর আগে সোশাল মিডিয়ায় দলের নেতৃত্বের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ক্ষমতাসীন দলের বিধায়ক পদ ছেড়ে ন্যাড়া হয়ে প্রায়শ্চিত্ত করে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন আশিস দাস। সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন বাংলা ও ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে ততই তিনি ঘরে বসে গিয়েছেন। দূরে থেকেছেন রাজনীতি থেকে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখাই যায়নি বললেই চলে।এদিন আশিস দাস জনতার কথা-কে বলেন, ত্রিপুরার মানুষ খুব সেন্টিমেন্টাল। ত্রিপুরার মানুষের পালস নিয়ে যেভাবে খেলা হচ্ছে রাজ্যের মানুষ কিন্তু ক্ষমা করবে না। অতিদর্পে হত লঙ্কা। ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের ফলকে ভিত্তি করে পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এ কিছু একটা হবে। এক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ নেগেটিভ দিকের কথা বলেন তিনি। তাঁর ব্যাঙ্গ, পরকীয়া করতে অনেকে আনন্দ পায়। ধরা পড়লে পরকীয়ার স্বাদ কি তখন বুঝবে। ত্রিপুরায় পরকীয়া চলছে। এটা ধরা পড়বে। রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আশিস দাস বলেন, আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সময়ই বলবে। তবে বলতে পারি একটা সম্ভাবনাটা নষ্ট হয় গেল।তৃণমূলের নয়া কমিটি গঠন নিয়ে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ। রতন সরকার, বেচারাম দাস, অসিত ঘোষ, দুর্যোধন দাসদের মতো একনিষ্ঠরা দলে জায়গা পায়নি। ত্রিপুরা তৃণমূলের একটা বড় অংশ যোগাযোগ রাখছে তিপ্রা মথার নেতৃত্বের সঙ্গে। একথা স্বীকারও করেছে তিপ্রা মথা। রাজনৈতিক মহলের মতে, মহারাজ বীর বিক্রম মানিক্য বাহাদুর ও টানা ২৪ বছরের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংয়ের সময় ত্রিপুরায় উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ হয়েছিল। এই দুই পরিবারের কেউ ত্রিপুরাকে ঠকায়নি। সর্বদা ত্রিপুরার মানুষের পাশে ছিল। এখন তিপ্রা মথার চেয়ারম্যান মহারাজ বীর বিক্রমের নাতি প্রদ্যুত কিশোর মানিক্য দেববর্মন। শচীন্দ্রলালের পুত্র আশিসলাল সিং ত্রিপুরা তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা। অভিজ্ঞ মহলের মতে, প্রদ্যুত কিশোর ও আশিসলাল এক হয়ে লড়াই করলে বাকিরা বেসামাল হয়ে যাবে। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই হবে বিজেপি ও তিপ্রা মথার মধ্যে। তারপর সিপিএম, কংগ্রেস থাকবে। লড়াইয়ে থাকতে পারে আম আদমি পার্টিও। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস কোন স্থানে থাকবে তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছে দলেরই একাংশ।আশিস দাসেরবিজেপি ত্যাগ করে মস্তক মুন্ডনআশিসলালের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল তাদের দুই প্রার্থীকে লড়াইয়ের জন্য আর্থিক সাহায্য দিয়েছিল। তা সত্বেও আগরতলা পূর্ব আসনের প্রার্থীকে দলীয় প্রচারের জন্য কয়েকলক্ষ টাকা নির্বাচনী প্রচারকার্যের জন্য দিয়েছিলেন আশিসলাল সিং। ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকে কোনও ফান্ড দেয়নি দল। প্রার্থীদের মাত্র ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। তখনও ত্রিপুরায় যাতায়াত করা নেতাদের হোটেল বিল, গাড়ির ভাড়া দিয়েছিলেন আশিসলাল সিং। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে একটা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় প্রার্থী মামন খানকে প্রচারের জন্য একটা টাকাও দেয়নি দলীয় নেতৃত্ব। ১৭ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন আশিসলাল সিং। দলের ওই অংশের দাবি, শুধু দলীয় কর্মীদের পাশে নয়, আর্থিক ভাবেও দলের পাশে বারংবার দাঁড়িয়েছেন শচীন্দ্রলাল পুত্র। মান রেখেছেন পিতার।তৃণমূল সূত্রে খবর, গত ২১ জুলাই দলবদলুরা দলে আসেনি। ৮২ জন নেতা-কর্মীসহ কৈলাশহরে গ্রেফতার হয়েছিলেন আশিসলাল। সারা ত্রিপুরায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ভার্চুয়াল ভাষণ চলেছে। প্রতিদিন কয়েকশো লোক যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। পোলো টাওয়ারে রাতের অন্ধকারে দলবদলুরা যোগ দিতেই দলে যোগদান পর্ব কমতে শুরু করল। মে থেকে জুলাই প্রায় ৫২ হাজার নেতা-কর্মী যোগ দিয়েছিল তৃণমূলে।ত্রিপুরা তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, যুব, মহিলা, এসটি মোর্চায় শিক্ষিত কাজের লোক থাকা সত্বেও তাঁদের দল দায়িত্ব দেয়নি। সভাপতি করা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণি, অষ্টমশ্রেণি পাস লোকজনদের। কেউ আবার জেল খেটে জামিনে রয়েছেন। ওই মামলা কিন্তু রাজনৈতিক নয়। মোদ্দা কথা, ত্রিপুরায় সম্ভাবনা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেল বলে আশিস দাসের মতোই দলের নেতা-কর্মীদের অনেকে মনে করছেন।

মে ০১, ২০২২
দেশ

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের আঁতুরঘর ছিল শচীন্দ্রলালের বাড়ি, সেখানেই থাকতেন বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধের আঁতুরঘর ছিল ত্রিপুরা কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা শচীন্দ্রলাল সিংয়ের বাড়ি, অরুন্ধতি নগরের বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমান এবং রাতে শচীনবাবুর সরকারি বাসভবনে থাকতেন। মুজিব ও তাঁর সহকারীদের রান্না করে খাওয়াতেন শচীন্দ্রলালে-র ভগিনী হেমাঙ্গিনী সিং। শচীন্দ্রলাল এখনও ত্রিপুরার মানুষের মনে গেঁথে রয়েছেন। উন্নয়নের কান্ডারী টানা ২৪ বছরের মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিং জন্মসুত্রে ভিন রাজ্যের হলেও, কার্যত তিনি ত্রিপুরার ভূমিপুত্রই। ত্রিপুরার রূপকার বললে অত্য়ুক্তি হবে না।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক মুজিবর রহমান। যিনি বঙ্গবন্ধু নামে অধীক পরিচিত। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকাও দেশবাসী অবগত রয়েছেন। পাকিস্তান ভেঙে নতুন দেশ গঠন না হলে এখন হয়তো অন্য ইতিহাস লেখা হত। কিন্তু একজনের কথা দেশবাসীকে স্মরণ করতেই হবে, তিনি হলেন ত্রিপুরার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী তথা টানা ২৪ বছর প্রশাসনিক প্রধান শচীন্দ্রলাল সিং। স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় মুজিবর রহমানের এদেশের ঘর ছিল শচীন্দ্রলালবাবুর বাড়ি। সেখানে থেকে যাবতীয় পরকল্পনা রচিত হত। তাছাড়া ত্রিপুরার উন্নয়নের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত শচীন্দ্রলাল সিং।স্বাধীনতা সংগ্রামী হওয়ার কারণে শচীন্দ্রলাল সিং ১৭ বছর ব্রিটিশ জেলে কাটিয়েছেন। ভারত সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ ভুমিকার জন্য ৯৭ জন স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম ঘোষণা করেছে। সেই তালিকায় ই এম এস নাম্বুদিরিপাদ, অতুল্য ঘোষ, গোপিনাথ বড়দলুই, হরেকৃষ্ণ মহাতাব, প্রফুল্ল্য সেনেদের সাথে শচীন্দ্রলাল সিংও ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী পেনসান কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।শচীন্দ্রলাল সিং যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন ত্রিগুনা সেনকে রাজ্যসভার সাংসদ করেছিলেন ত্রিপুরা থেকে। ওনার সঙ্গে ত্রিগুনা সেনের কথা ছিল কেন্দ্রে মন্ত্রী হলে ওএনজিসি দেবেন। ত্রিগুনা সেনের ঠিকানা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। ওই ডিমান্ড ফুলফিল করেছিলেন ত্রিগুনা সেন। শচীন্দ্রলাল সিংয়ের আমলেই রাজ্যে গোবিন্দ বল্লভ হাসপাতাল হয়েছিল। তারপর ত্রিপুরায় বড় কোনও হাসপাতাল হয়নি। পাওয়ার প্রোজেক্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কী হয়নি তখন পরশি রাজ্যে।বাংলাদেশ যুদ্ধের সময় সব থেকে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল সিং। বাংলাদেশ স্বাধীন হয় তখন জেল থেকে বেরিয়ে শচীন্দ্রলাল সিংকে বাংলাদেশের ঢাকায় নিয়ে যান মুজিবর রহমান। সেখানে রেড কার্পেটে তাঁকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। মুজিবর রহমান শচীনবাবুর জন্য চেয়ার ছেড়ে দেন। তখন শচীনবাবু বলেছিলেন, এটা হয় না, আপনি বসুন। শচীন্দ্রলাল বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্য়তম হোতা। মুজিবর রহমানের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন। শচীন্দ্রলালবাবুর ছোট ছেলে ঢাকায় গিয়েছিলেন। বাবার সৌজন্যে তাঁকে সোনার নৌকা দিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। একসময় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল ত্রিপুরা, রাজ্য গঠন করার ক্ষেত্রেও অগ্রনী ভূমিকা ছিল শচীন্দ্রলাল সিংয়ের। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দাবি করেছিলেন রেললাইন চাই, ধর্মনগর অবধি সেই রেললাইন স্থাপিত হয়। ১৯৭৭ এ যখন তিনি সাংসদ হন সে সময় তৎকালীন রেলমন্ত্রী মধু দণ্ডবতকে অনশন করার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন ধর্মনগর থেকে আগরতলা রেললাইন করতে হবে। যেদিন সংসদ ভবনের সামনে অনশনে বসার কথা, সেদিন সকালে মধু দন্ডবতে তাঁর দিল্লী বাসভবনে এসে সরকারের অর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন আপাতত কুমারঘাট অবধি রেললাইন দেওয়া হচ্ছে, পড়ে ওটা বর্ধিত করা হবে।শচীন্দ্রলাল সিং খেলার প্রসারের জন্য স্টেডিয়াম করেছিলেন। উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র। মহারাণী কাঞ্চনপ্রভাদেবী বনমালীপুরে একটি বাড়ি দিয়েছিলেন ত্রিপুরার জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শচীনবাবুকে বসবাস করার জন্য। ত্রিপুরার রূপকার শচীন্দ্রলাল খোঁজ নিয়ে জানলেন ত্রিপুরাতে কোনও মহিলা কলেজ নেই। তিনি মহিলাদের শিক্ষাপ্রসারের জন্য সেই বাড়ি দান করে দেন কলেজ করার জন্য। এখন সেখানে স্থাপিত হয়েছে আগরতলা উইমেন্স কলেজ। শচীনবাবুর প্রধান সহযোগীদের মধ্যে উল্লেখ্যগয় হলেন তসলাম ফা, ওয়াজেদ আলি, মনসুর আলি, চক্র ফা, বুলু কুকি, কৃষ্ণদাস ভট্টাচার্য। এই কৃষ্ণদাস তাঁর মন্ত্রী সভায় অর্থ মন্ত্রী ছিলেন।২০১২-এর ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু অন্তর্জাতিক সন্মেলন কেন্দ্র, ঢাকাতে তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অনন্যসাধারণ অবদানের জন্য বাঙালি জাতির শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ মরণোত্তর মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সন্মাননা তাঁকে প্রদান করেন।মুজিবর রহমান মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই থাকতেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী, জহরলাল নেহরুর সময় থেকেই। ১৯৭১ ১লা নভেম্বর সারাদিন বিভিন্ন রিফিউজি ক্যাম্প ঘুরে দেখেন সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় ও শচীন্দ্রলাল সিংকে নিয়ে। ফিরে এসে আগরতলা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে কথাবার্তা চলাকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, আপনি সীমান্ত খুলে দিয়েছেন, অস্ত্র ও অর্থ সাহায্য করছেন, আপনি তো দেশকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। ইন্দিরাকে ত্রিপুরার রূপকার শচীন্দ্রলাল জবাব দেন, আমি যা করছি তা দেশের মঙ্গলের জন্যই করেছি এবং আপনার জন্যই করছি। আমি একটা ছোট্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সমগ্র বিশ্ব আপনার নামই করবে, আমার নই। ইতিহাস আপনাকেই স্মরণ করবে। আরও বলেন, আমি আপনার বাবার সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আপনি আমাকে রাজনীতি শেখাবেন না। একটা ছোট্ট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কথা হজম না করতে পেরে দিল্লী ফিরেই ১লা নভেম্বর ১৯৭১ রাতে ত্রিপুরাতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করলেন ইন্দিরা। ভেঙে দিলেন কংগ্রেসের-ই সংখ্যাগড়িষ্ট সরকার। তবুও দমলেন না দেশ তথা ত্রিপুরার প্রতি দায়বদ্ধ শচীন্দ্রলাল সিং, তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে ফোন করে বলেন Imposition is a great sin। সেই রাতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী বাসভবন ত্যাগ করে পৈতৃক ভিটে জয়নগরের বাসভবনে ফিরে যান। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন দাপুটে ইন্দিরা গান্ধীকে। তখনও তাঁর পাশে ছিলেন ত্রিপুরার আপামর সাধারণ মানুষ। অনবরত সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছেন শচীনবাবুকে। নির্দল প্রার্থী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল।জাতপাতের উর্দ্ধে রাজনীতি করতেন শচীন্দ্রলাল সিং। মানুষকে মানুষ ভাবতেন। সাধারণের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন অনায়াসে। এই দেশে এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এখন অমিল। ত্রিপুরার আদিবাসীরা মনে করতে শচীন্দ্রনাথবাবু তাঁদের ঘরের লোক। আদিবাসী সমাজে তাঁর নাম ফাটা ছিলুম তার মানে ছেঁড়া কাপড়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে এতটাই আপন ছিলেন তিনি। কাছে টেনে নিয়েছিলেন মনিপুরি, সংখ্যালঘুসহ সকলকেই। কোনও ভেদাভেদ তাঁকে কখনও স্পর্শ করতে পারেননি। ২০০০ সালে ইহলোক ত্যাগ করলেও ত্রিপুরার মানুষ ভোলেনি শচীন্দ্রলাল সিংকে। এখনও তাঁর জন্মদিনের উৎসবে হাজির হন অগনিত মানুষ।শচীন্দ্রলালবাবুর বড় ছেলে আশিসলাল সিং ত্রিপুরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। এখন দলের কোর কমিটির সদস্য। তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কাছেও আশিসবাবু কাছের মানুষ, মাটির মানুষ। পাহাড় থেকে সমতল হোক রাত-বিরেতে কেউ বিপদে পড়লেই পাশে থাকেন শচীন্দ্রপুত্র আশিসলাল। তিনিও মহান পিতার মতোই কোনও জাতিগত ভেদাভেদে বিশ্বাস করেন না। তাঁর ভাবনাতেও রয়েছে বাবার মতোই ত্রিপুরার উন্নয়ন।

এপ্রিল ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

এক প্রাক্তনীর ব্যাটের ঝড়েই উড়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স

বড় রান তুলেও শেষরক্ষা হল না। আবার হার কলকাতা নাইট রাইডার্সের। এবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের কাছে হারতে হল ৭ উইকেটে। ১৩ বল বাকি থাকতেই টানা ২ ম্যাচে জয় তুলে নিল কেন উইলিয়ামসনের দল। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে হারাতে মুখ্য ভুমিকা নিলেন নাইটদেরই প্রাক্তনী রাহুল ত্রিপাঠী। এদিন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচ ছিল শীর্ষে ওঠার লড়াই। প্রথম একাদশে তিনটি পরিবর্তন করে মাঠে নামে নাইটরা। অজিঙ্কা রাহানের জায়গায় শেলডন জ্যাকসন, স্যাম বিলিংসের জায়গায় অ্যারন ফিঞ্চ আর রাসিক সালাম দারের জায়গায় আমন হাকিম খান। অন্যদিকে প্রথম একাদশে একটি পরিবর্তন করে মাঠে নামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চোট পাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরের জায়গায় জগদীশ সুচিথ। ডিউ ফ্যাক্টরের কথা মাথায় রেখে এদিন টস জিতে নাইট রাইডার্সকে ব্যাট করতে পাঠান সানরাইজার্স অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। টানা ৪ ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ায় রাহানের পরিবর্তে নাইটদের হয়ে ওপেন করতে নামেন অ্যারন ফিঞ্চ। নাইট জার্সিতে অভিষেক ম্যাচে ব্যর্থ এই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ৫ বলে মাত্র ৭ রান করে মার্কো জানসেনের বলে নিকোলাস পুরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। পঞ্চম ওভারে আবার ধাক্কা নাইট শিবিরে। প্রথম বলেই ভেঙ্কটেশকে (৬) তুলে নেন নটরাজন। ২ বলের ব্যবধানে ফেরান সুনীল নারাইনকে (৬)। ৫ ওভারের মধ্যে ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নাইট রাইডার্স। নীতিশ রানার সঙ্গে জুটি বেঁধে অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শ্রেয়সকে (২৫ বলে ২৮) তুলে নিয়ে উমরান মালিক আবার ধাক্কা দেন নাইট শিবিরকে। শেলডন জ্যাকসনও (৭) সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ব্যর্থতা কাটিয়ে দিন রানে ফিরলেন নীতিশ রানা। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৫৪ রান করে তিনি নটরাজনের বলে পুরানের হাতে ক্যাচ দেন। প্যাট কামিন্স (৩), আমন হাকিম খানরা (৫) রান না পেলেও শেষ দিকে ঝন তোলেন আন্দ্রে রাসেল। তাঁর দাপটেই ২০ ওভারে ১৭৫/৮ রানে পৌঁছয় নাইট রাইডার্স। ৪টি করে চার ও ছয়ের সাহায্যে ২৫ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন রাসেল। টি নটরাজন ৩৭ রানে ৩টি ও উমরান মালিক ২৭ রানে ২ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৭৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের শুরুটাও ভাল হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায়। প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হন ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মা। ১০ বলে মাত্র ৩ রান করেন তিনি। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও এদিন রান পাননি। ১৬ বলে ১৭ রান করে তিনি আন্দ্রে রাসেলের বলে বোল্ড হন। ৩৯ রানে ২ উইকেট হারায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এরপরই পুরনো দলের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠেন রাহুল ত্রিপাঠী। বাইশ গজে নেমে তিনি ঝড় তোলেন। অন্যপ্রান্তে এইডেন মার্করাম ছিলেন অনেকটাই সংযত। ত্রিপাঠীমার্করাম জুটিই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। জুটিতে ওঠে ৯৩। ৩৭ বলে ৭১ রান করে আন্দ্রে রাসেলের বলে ভেঙ্কটেশ আয়ারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ত্রিপাঠী। ত্রিপাঠী আউট হলেও জয়ের জন্য সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে জয়ের জন্য সমস্যায় পড়তে হয়নি। দলকে টেনে নিয়ে যান এইডেন মার্করাম। ১৮ তম ওভারে কামিন্সের বলে পরপর চার ও দুটি ছয় মেরে ১৩ বল বাকি থাকতে সানরাইজার্সকে (১৭৬/৩) জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। নাইট রাইডাসের হয়ে ২০ রানে ২ উইকেট নেন আন্দ্রে রাসেল।

এপ্রিল ১৫, ২০২২
দেশ

থমকে ত্রিপুরা তৃণমূলের গতি, বিধানসভা ভোটের আগে অন্য দলে ঝুঁকছে দলের বড় অংশ

বালিগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে রোড শো করার পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের ত্রিপুরা, মেঘালয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের কথা বলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে ২৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। যদিও কোনও আসনেই জয় পায়নি ঘাসফুল শিবির। এবার লক্ষ্য উত্তর পূর্ব ভারত। কিন্তু ত্রিপুরার সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আশাহত সেখানকার তৃণমূলের বড় অংশ।তিন দিন আগে ত্রিপুরায় তৃণমূলের মহামিছিলে তেমন জনসমাগম হয়নি বলেই ওই অংশ দাবি করেছে। ওই মিছিলে অংশ নেননি ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা কোর কমিটির সদস্য আশিসলাল সিং, প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস, দলের সংখ্যালঘু নেতা জহিরুদ্দিন শেখসহ নেতৃত্বের বড় অংশ। কয়েকদিন আগেই ত্রিপুরায় তৃণমূলের একমাত্র কাউন্সিলর যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামি ২০২৩-এ বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে সংগঠনের এমন দশা হলে লড়াই তো দূরের কথা তৃণমূল হালে পানি পাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু বাংলায় বিপুল জয়ের পর ত্রিপুরা অভিযানে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বহু মানুষ তৃণমূলে যোগও দিয়েছিল। কিন্তু কী এমন হল যে দলের বিস্তার না হয়ে, ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে কার্যকলাপ? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে।ত্রিপুরা তৃণমূলের একাংশের দাবি, সম্মান না পেয়ে দল ছেড়েছেন একমাত্র কাউন্সিলর সুমন পাল। এমনকী দলের সংগঠন বৃদ্ধি করতে গিয়ে বিজেপির হাতে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের পাশেও সেভাবে নেতৃত্ব দাঁড়ায়নি বলেই তাঁদের অভিযোগ। ত্রিপুরার ৮ জেলার মধ্যে ৪ জেলায় দল আশিসলাল সিংকে দায়িত্ব দিয়েছিল। অথচ মারধর খেয়ে দিল্লিতে চিকিৎসা করতে চলে যান তিনি। তাঁকেও সামান্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলে দলের একাংশে অভিযোগ।জানা গিয়েছে, ২১ দিনের নোটিশে ২০১৪-এ ত্রিপুরার দুটি লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেদিন দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আশিসলাল সিং। ত্রিপুরা পশ্চিম কেন্দ্রে ১ লক্ষ ১৭ হাজারের বেশি ভোট পায় তৃণমূল প্রার্থী রতন চক্রবর্তী। ত্রিপুরা পূর্বে ভৃগুরাম রিয়াং ৭৭ হাজারের বেশি ভোট পায়। দুটি আসনেই তৃণমূল ছিল তৃতীয়, তারপরে চতুর্থ স্থানে ছিল বিজেপি প্রার্থী। ২০১৭-এ ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি করা হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিং-পুত্র আশিসলালকে। ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে জোট গড়ে ত্রিপুরায় প্রার্থী দেয় তৃণমূল। সব আসনেই হেরে যায় তৃণমূল।দলের বিক্ষুব্ধ অংশের বক্তব্য, দলবদলুরা ত্রিপুরায় তৃণমূলের দায়িত্ব নেওয়ায় সংগঠন তলানিতে পৌঁছেছে। দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিজেপি থেকে আসা প্রাক্তন বিধায়ক আশিস দাস সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, দল তাঁকে ত্রিপুরায় দায়িত্ব দিলে বিজেপি-সিপিএমকে টেক্কা দেবে তৃণমূল। পাঁচ-পাঁচবার বিজেপি আশিসলাল সিংয়ের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। আশিসবাবুর দাবি, কোনও উপজাতিকে ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রী করতে হবে। তাহলেই বাজিমাত করতে পারবে দল। তিনি চান ত্রিপুরা তৃণমূলের হাল ধরুক আশিস দাস। রেললাইনের পথ ঘুরিয়ে জনজাতিদের উচ্ছেদ রুখে ছিলেন আশিসলাল। সিপিএম সরকার রেললাইনের ম্যাপিং করেছিল। কিন্তু তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ১০ হাজার জনজাতিকে উচ্ছেদ হতে হয়নি। সেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন শচীন্দ্রলাল-পুত্র। মাছমারায় বাঁশের সেতু লোহার সেতু হয়েছে, তাঁরই উদ্যোগে হাসপাতাল হয়েছে।এই মুহূর্তে ত্রিপুরার পাহাড়ী এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে ত্রিপ্রা মথা। তবে সমতলেও প্রভাব বাড়ছে দুবছর আগে তৈরি হওয়া এই দলের। সূত্রের খবর, শচীন্দ্রলাল-কন্যা নন্দিতা সিং, শ্যামাচরণ ত্রিপুরার মেয়ে অদিতি ত্রিপুরা, শচীন্দ্রলাল সিংয়ের মন্ত্রীসভার প্রাক্তন জনপ্রিয় মন্ত্রী তসলমফা ওরফে রাজপ্রসাদ চৌধুরী-র পুত্র ভৃগুরাম রিয়াং ত্রিপ্রা মাথায় যোগ দিতে পারেন। সূত্রের খবর, তৃণমূলে বসে যাওয়া নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ত্রিপ্রা মথার সঙ্গে। বছর গড়ালেই বিধানসভা ভোট। তাই অনেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, আশিসলাল ব্যক্তিগত ভাবে দল ছাড়তে চাইছেন না। কিন্তু কর্মীরা ক্ষিপ্ত। সংখ্যালঘু ও পাহাড়ের তৃণমূলীরা কি সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় আছে। তাঁরা মনে করছে, এমন চলতে থাকলে আশিসবাবুও তাঁদের পথ ধরতে পারেন।ত্রিপুরার পাহাড়ের কোনায় কোনায় ঘাসফুলের পতাকা উড়েছে। এবার তা বন্ধ হতে বসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল কর্মী মুজিবর মারা গিয়েছেন। তাঁকে জখম অবস্থায় নেতৃত্ব ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। মুজিব ও তাঁর স্ত্রী সেদিন টোটো করে বাড়ি যায়। জানা গিয়েছে, মামন খানকে বেধরক মারধর করা হয়েছিল। এসএসকেএম থেকে ফিরে আসছে তাঁরও খোঁজ নেয় না দল। ত্রিপুরার নন্দীগ্রামে দলের পতাকা উচিঁয়ে রেখেছে বেচারাম দাস। তাঁকে ১৫ অগাস্ট বেধরক মারধর হয়। তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়, অথচ দল খবরই নেয়নি বলে অভিযোগ। আশিসলাল সিং বিজেপির কাছে মার খেল, ত্রিপুরা তৃণমূল নাকি তখনও চুপ ছিল। তৃণমূলের মহিলা নেতৃত্বও নিগৃহীত হয়েছেন। অমরপুর পাহাড়ের জঙ্গলে বাচ্চা কোলে অবস্থায় এক মহিলাকে গুলি মারা হয়েছিল। সেখানে কর্মীদের নিয়ে রাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন আশিসলাল। তাছাড়া খুমলুঙে মদ্য়পরা ছাত্রদের ব্যাপক মারধর করেছিল। খুমলুঙ জ্বলছিল। অশান্ত খুমলুঙে গিয়েছিলেন আশিসবাবু। যে পার্কে সেদিন ঘটনা ঘটেছিল তা দাবি জানিয়ে বন্ধ করিয়েছিলেন তিনি। সেদিনও আগরতলা শহর থেকে কেউ যায়নি।কার্যত ত্রিপুরার দলের কর্মীরা নেতৃত্বের ওপর ভরসা হারাচ্ছে বলেই খবর। দলের ওই অংশের বক্তব্য, পার্টি অফিস হয়নি বরং বাড়িতে বাড়িতে দলের অফিস গড়ে উঠছে। সেসব জায়গায় অনেকে যেতেও পারছেন না। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এমন দশা থাকলে ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় কোনও আশা না করাই ভাল। অল্প সংখ্যক ভোট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ঘাসফুল শিবিরকে।

এপ্রিল ০৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মুক্তি পেল ত্রিপুরার শিল্পীদের মিউজিক ভিডিও 'হৃদি'

জি মিউজিক বাংলা থেকে মুক্তি পেল মিউজিক ভিডিও হৃদি। এই মিউজিক ভিডিওর সঙ্গে ত্রিপুরার সব শিল্পীরা যুক্ত রয়েছেন। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন অনুপম গোস্বামী। সুরকার সুরজিৎ পটারী, গানের কথা লিখেছেন সৈকত সরকার, সঙ্গীত ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন তাপস ধর, গান গেয়েছেন অর্পিতা সরকার ও কিষাণ দাস এবং অভিনয় করেছেন পূজা দেবনাথ ও কর্ণজিৎ ভট্টাচার্য। মিউজিক ভিডিও নিয়ে অর্পিতা জনতার কথা কে জানালেন, হৃদির সঙ্গে ত্রিপুরার কিছু শিল্পী জড়িত রয়েছে। প্রত্যেকের প্রচেষ্টায়, প্রত্যেকের ডেডিকেশনে কাজটি মুক্তি পেল। গানের ব্যাপারে আপনাদের বলতে পারি গানটি তিন-সাড়ে তিন বছর আগে আমাকে পাঠানো হয়েছিল। এটা একটা ভালোবাসার গান যেখানে ছেলেটি তার প্রেমিকার প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করছে। অর্পিতা আরও জানান,মিউজিক ভিডিওর গল্পটা খুব সহজ। আর সহজ জিনিসের সঙ্গেই অডিয়েন্সরা বেশি কানেক্ট করতে পারে। গানটি অনেক মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং তারা যতটা যেভাবে পারছে আরও আরও ভালোবাসা দিয়ে যাচ্ছে।

এপ্রিল ০৬, ২০২২
রাজ্য

সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সরকারকে তুলোধনা করে বিতর্কে রাজ্যের মন্ত্রী

সোমবার বর্ধমান শহরের লোক সংস্কৃতি মঞ্চে এক সভায় পুর্ব বর্ধমান জেলার ছয় (৬) পুরসভার এম সি আই সি (MCIC) ঘোষণা করেন মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস। সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাপতি সম্পা কুণ্ডু, বর্ধমান ডেভলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান কাকলি তা গুপ্তা, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি,প্রানি সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি দেবু টুডু বর্ধমান দক্ষিণ ও উত্তরের বিধায়ক খোকন দাস ও নিশিথ মালিক এবং ছটি পুরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান।বক্তব্য রাখে গিয়ে মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস বলেন, একটা মানুষ তিল তিল করে বাংলাকে গড়ে চলেছেন। সৃষ্টিকারী যদি কেউ হোন,তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সৃষ্টি করছেন। আর কেউ যদি ধ্বংসকারী হয়ে থাকে তাহলো বিজেপি সরকার,নরেন্দ্র মোদীর সরকার। আজ ভারতবর্ষ বলুন, ভারতবর্ষের সমাজ ব্যবস্থা বলুন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলুন সব ধ্বংস করে দিচ্ছে বিজেপি সরকার। সরকারি মঞ্চে বক্তব্য রখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে একহাত নেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি আরো বলেন আগে একটা সার্টিফিকেট পেতে গেলে জুতোর শুকতলা ক্ষয়ে যেত। তবুও তা পাওয়া যেত না। আর এখন মুখমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। একেই বলে পাড়ায় সমাধান।সোমবার বর্ধমানের লোক সংস্কৃতি মঞ্চে জেলার উপভোক্তাদের হাতে বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা প্রদান করেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সরকারি মঞ্চে এভাবে বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করায় ক্ষোভ উগড়ে দেন জেলা বিজেপি সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তিনি বলেন সরকারি মঞ্চে যেভাবে মন্ত্রী বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। তা খুবই দুঃখজনক।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
দেশ

ত্রিপুরা তৃণমূলে অশনি সংকেত, বিক্ষুব্ধরা কি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন?

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন ভিন রাজ্যে তাঁরা শুধু লড়াই করতে যাবেন না, ক্ষমতা দখল করাই তাঁদের লক্ষ্য। ইতিমধ্যে গোয়া বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছে। মহুয়া মৈত্রের মতো লোকসভায় ভাষন দিয়ে তোলপাড় করা নেত্রীসহ অনেকের উপরই গুরুদায়িত্ব ছিল গোয়াতে। প্রার্থীও দিয়েছিল তৃণমূল। একটিও আসন জোটেনি ঘাসফুল শিবিরের। সূত্রের খবর, এবার পরশি রাজ্য ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিস্তারে বড়সড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। ৬ এপ্রিল ত্রিপুরায় দলের মহামিছিলে কারা পা মেলাবেন তাতেও সংশয় রয়েছে।বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরাতে তৃণমূল অনেক বছর আগেই অভিযান শুরু করেছিল। তবে ২০২১-এ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্যের পর ফের ত্রিপুরা অভিযান শুরু করে ঘাসফুল শিবির। এরাজ্য থেকে দলে দলে নেতৃত্বস্থানীয়রা ত্রিপুরায় যাতায়াত শুরু করে। পুরসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ফসল একজন মাত্র কাউন্সিলরের জয়। সেই জয়ী সুমন পালও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ত্রিপুরা তৃণমূলের বড় অংশই এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। ত্রিপুরা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি আশিসলাল সিং দীর্ঘ কয়েক মাস দলীয় সংগঠনের সংস্পর্শেই ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগও করতে পারেননি। বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস মাথা ন্যাড়া করে তৃণমূলে যোগ দেন। হইচই পড়ে যায় ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে। সেই আশিস দাসও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাজকর্মে চরম ক্ষুব্ধ। তাঁর ক্ষোভের প্রকাশ তিনি ফেসবুকেও স্পষ্ট লিখেছেন। এবার প্রশ্ন হল তৃণমূলের ওই অংশ কী তাহলে দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করতে চলেছেন? সারা ত্রিপুরায় এমন জল্পনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।দীর্ঘ দিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন আশিসলাল সিং। পুরভোটের সময় বিজেপি তাঁর ওপর হামলা করে বলে অভিযোগ। তারপর তিনি দিল্লির দুটি নার্সিংহোমে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিছু দিন ছিলেন বিদেশেও। তিনি অন্তরালে চলে যান। দলের সঙ্গে কেন তিনি দীর্ঘ সময় যোগাযোগ রাখেননি? তাহলে তিনিও কী দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যকলাপ মেনে নিতে পারছেন না? সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে ত্রিপুরা তৃণমূলের অন্দরমহলে। ত্রিপুরা তৃণমূলে কান পাতলেই শোনা যাবে দলের বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। সব থেকে বড় প্রশ্ন, এভাবেই যদি পরশি রাজ্যে সংগঠন চলতে থাকে তাহলে দলের বিক্ষুব্ধ অংশ কী নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে?রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৩-এ ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না দলের বড় অংশ। সেক্ষেত্রে বড়সড় দলবদলের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে। তবে তাঁরা কোন দলে যাবেন তা-ও চর্চার বিষয়। বিজেপিতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণই। সিপিএম-কংগ্রেসে যোগ দেওয়াতেও সমস্যা রয়েছে। যদিও রাজনীতিতে কিছুই অসম্ভব নয়। তবে তিপ্রা মথা এই মুহূর্তে সেখানে উদীয়মান শক্তি। তাহলে কী ওই সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূলের একাংশ? তা নিয়েও জোরদার জল্পনা চলছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে।

এপ্রিল ০৪, ২০২২
বিনোদুনিয়া

"লতানো গাছ হয়ে বড় হলে হবে না মা", বলেছিলেন জ্যেঠু

আসতে আসতে বাংলা তথা ভারতবর্ষের আকাশটা ক্রমশ তারা শূন্য হয়ে যাচ্ছে। চলে গেলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বংলা গানের সুরলোকে আবার আঘাত। ছয়ের দশক থেকে শুরু করে সাত ও আটের দশকের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকারেরা একে এক করে বিদায় নিচ্ছেন। চলে গেলেন প্রবাদ প্রতিম সুরকার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা, জ্যেঠু-র সুরারোপিত আশা ভোঁসলের গাওয়া ও পাখি উড়ে আয়, যদি কানে কানে কিছু বলে বধুয়া, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া এমন একটা ঝড় উঠুক সহ অজস্র গান আজ কানের কাছে ভেসে বেড়াচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরেই জেঠু বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শুনেছি মাঝে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল। দিন কয়েক আগে ছাড়া পেয়ে বাড়িতে ফেরেন সুরকার। তারপর......ইদানিং যে খুব যোগাযোগ ছিল তা নয়। তবে আমার ছেলেবেলা থেকে শুরু হওয়া সঙ্গীত জীবনে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভের সুযোগ ঘটে ছিল বেশ কয়েকবার। অভিজিৎ জেঠু বাবার পূর্বপরিচিত হলেও আমার সাথে পরিচয় এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায়। তিনি বিচারক। তারপর অনেক বার দেখা হয়েছে। তখন আমার বয়স ১০বছর হারমোনিয়াম বাজাতে জানলেও অদ্ভুত আব্দার ছিল বাবা বাজিয়ে দেবে। ছেলেমানুষ সুলভ অদ্ভুত বেয়ারা জেদ ও ছিল, বাবাকে বাজাতে না দিলে, বলতাম তানপুরায় গাইব। নেহাত বাচ্চা বলে কতৃপক্ষ তাড়িয়ে দেয়নি।এই রকমই এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতাই জেঠু বলে ছিলেন,বেশ বেশ গাক না সুরের উপর ওর দখলটা দেখি। সেই থেকেই শুরু পরিচয়। হ্যাঁ.... আমি ভুল লিরিক্স, খারাপ কন্ডাক্ট এর পর ও তৃতীয় স্থান পাই। বছর খানেক পর আবার দেখা একটি প্রতিযোগিতায়। তখন ও বাবার সাথে দেখে জেঠু বলেছিলেন বাবার একমাত্র কন্যা একটু আদুরে হয়, তবে লতানো গাছ হয়ে বড় হলে হবে না মা। কথাটা যে কত দামী আজ বুঝি। কত বার কথা হয়েছে ফোনে। ভালো থেকো জেঠু গানে থেকো। পুরোনো ছবি এই দিল্লি-মুম্বাই-পুনা টু কলকাতা ইঁদুর দৌড়ে কে জানে কোথায়। কিছু মানুষের ছবি মনে উজ্জ্বল হয়ে থেকে যায়।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

কিংবদন্তি শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন নিষ্পাপ শিশুর মত

চব্বিশ ঘণ্টা পেরোয়নি নাটকের জগতের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব শম্ভু-তৃপ্তি মিত্র কন্যা শাঁওলি মিত্রকে হারিয়েছি। তার মধ্যেই আবার এক ইন্দ্রপতন! প্রয়াত সেতার শিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্করের লয়ের পুতুল পণ্ডিত বিরজু মহারাজ-র মৃত্যু আমাদের নাড়িয়ে দিল। রবিবার রাতে নিজের বাসভবনে দৌহিত্রের সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে হৃদ্ররোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। একাধারে নৃত্য, তবলা এবং কণ্ঠসঙ্গীতে সমান পারদর্শী ছিলেন বিরজু। শোনা যায় তিনি খুব ভালো ছবিও আঁকতেন।দেশে ও বিদেশে বিরজু মহারাজের অনেক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন বলিউড তারকা মাধুরী দীক্ষিত। বিরজু মহারাজের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কিভাবে নাচে দক্ষ হন সেটাও জানিয়েছিলেন মাধুরী। অভিনেত্রী ও নৃত্য শিল্পী মাধুরী দীক্ষিত সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, কিংবদন্তি শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন নিষ্পাপ শিশুর মত। তিনি আমার গুরু হলেও আমার পরম বন্ধুও ছিলেন। তিনি হাসতে হাসতে মজার-ছলে আমায় নাচ এবং অভিনয়ের অনেক জটিল বিষয় শিখিয়েছিলেন। তিনি তাঁর অসংখ্য ভক্তকুল এবং শিষ্যদের রেখে গেছেন, তাঁর শিক্ষা আমরা বহন করে সবাই মিলে এগিয়ে নিয়ে যাব। নাচের সাথে সাথে আপনি নমনীয়তা, কমনীয়তা এবং করুণা সহ জীবনে চলার পাথে অনেক কিছু শিখিয়েছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মহারাজজি।তাঁর মৃত্যুর পর জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক বিবেক রঞ্জন অগ্নিহোত্রী টুইট করে লিখেছেন, আমার মনে হয় ঘুংরুর আওয়াজ আর আগের মতো হবে না। ওম শান্তি বিরজু মহারাজ জি। শিল্পীর মৃত্যু হয় না। অভিনেতা রণদীপ হুডা টুইটারে দ্য আর্টিস্ট লিখে হ্যাশট্যাগে বিরজু মহারাজের নাম লিখে প্রণাম জানিয়েছেন। বলিউড অভিনেত্রী কাজল লিখেছেন,পন্ডিত বিরজু মহারাজ একজন লেজেন্ড ছিলেন এবং তাঁকে দেখে আশ্চর্য হয়ে যেতে হয়। পৃথিবী আজ তার অমূল্য কিছু হারালো। শান্তিতে ঘুমান। তাঁর পরিবারের কাছে গভীর সমবেদনা রইল।

জানুয়ারি ১৭, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

চেয়ার নিয়ে বিধানসভায় নাটক! মমতার আসনে বসতে রাজি নন ঋতব্রত, কেন?

বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে বুধবার বিরোধী দলনেতার ঘর ঘিরে তৈরি হল এক অন্যরকম পরিস্থিতি। বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সচিবালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর তাঁকে ঘরের দায়িত্বও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঘরে ঢোকার পর একটি ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।ঘরে থাকা একটি চেয়ারে বসতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, সেটি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত চেয়ার। সেই কথা শুনেই ওই আসনে বসতে অস্বীকার করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিতদের কাছে তিনি অন্য একটি চেয়ার আনার অনুরোধ জানান। পরে তাঁর জন্য বিকল্প আসনের ব্যবস্থা করা হয়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কারণেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাবুধবারের সাংবাদিক বৈঠকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন ঋতব্রত। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বর্তমান পরিষদীয় লড়াইয়ের লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা নয়। বরং দলের ভবিষ্যৎ পথচলায় তিনি চাইলে পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিধানসভায় যে নতুন পরিষদীয় গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে কিছু নেতার মতপার্থক্য থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের সম্মান অটুট রয়েছে। তিনি আরও জানান, দলের ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে মমতার সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছাও রয়েছে তাঁদের।উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়। একাধিক বিধায়কের অবস্থান বদল এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই আবহেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।আরও পড়ুনঃ সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাবুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁদের রাজনৈতিক যাত্রা এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে তৃণমূলের মূল শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, দল এবং দলের নেতৃত্বের পাশে এখনও বিপুল সংখ্যক সমর্থক রয়েছেন।সব মিলিয়ে বিরোধী দলনেতার ঘরে একটি চেয়ারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঘটনাই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

সই জাল বিতর্কে চাপ বাড়ছে অভিষেকের! গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাইকোর্টে ছুটলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিধানসভার তথাকথিত সই জাল কাণ্ড। এই ঘটনায় এবার সরাসরি আইনি চাপে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তের মুখে পড়ে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং একই সঙ্গে সিআইডি-র তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি শুনানির অনুমতি দিয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবার এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে পারে।সমস্ত বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেপুটি লিডার এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চিঠিটি বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পর তা যাচাই করতে গিয়ে একাধিক অসঙ্গতি সামনে আসে।তদন্তে উঠে আসে, তালিকাভুক্ত ৭০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৪ জনের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের জায়গায় শুধুমাত্র বড় হাতের অক্ষরে নাম লেখা রয়েছে। আরও কয়েকজন বিধায়কের সই নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, তাঁদের অনুমতি বা উপস্থিতি ছাড়াই স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।আরও পড়ুনঃ মূল উপড়ে তৃণ ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রতঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর গত শনিবার সিআইডি-র একটি বিশেষ দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট দিনে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দিয়ে অভিষেক তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চান। এরপরই তিনি আইনি পথে এগিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন।এই মামলার রাজনৈতিক দিকটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাই প্রথম এই জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ তুলে বিধানসভার স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে ওই দুই বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকারাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক বিতর্ক নয়; বরং এটি রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে এনে দিয়েছে। একদিকে তদন্তের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে, অন্যদিকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত আইনি লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন।এখন সকলের নজর আগামী শুক্রবারের হাইকোর্ট শুনানির দিকে। আদালত সিআইডি-র তদন্তে হস্তক্ষেপ করে কি না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পান কি না, এবং এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায়তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

'হেভিওয়েট'-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের 'কাকা'

বর্ধমানের রাজনীতিতে একসময় যাঁর নাম উচ্চারণ করতেই বিরোধী শিবিরে চাপা উত্তেজনা তৈরি হতো, সেই খোকন দাসের বর্তমান পরিস্থিতি যেন একেবারেই ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তোলাবাজি, হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে তাঁকে এমন এক অবস্থায় দেখা গেল, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে, পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আদালতে হাজির হতে হল বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে।একসময় বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় খোকন দাসের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাঁকে তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী মুখ হিসেবে ধরা হতো। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে।গত ২৯ মে বর্ধমান থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানো, মোটা অঙ্কের টাকা তোলা দাবি করা, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর ঘটনাতেও খোকন দাসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপন করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।তদন্তে নেমে বর্ধমান থানার পুলিশ উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে তাঁর অবস্থানের খোঁজ পায়। এরপর গত ৩১ মে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার রাতে তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়, যাতে অভিযোগগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা যায়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগটি ২০২৫ সালের ৮ জুনের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বর্ধমানের কাঞ্চননগর এলাকায় একটি বাড়িতে বিজেপি কর্মীরা বৈঠক করছিলেন। সেই সময় খোকন দাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে হামলা চালায় এবং কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে পরবর্তী ঘটনাকে ঘিরে। আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা চিকিৎসার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাঁদের উপর পুনরায় হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু মারধরই নয়, ১০ লক্ষ টাকা তোলা দাবি এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভয় দেখাতে আগ্নেয়াস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়েছিল।এই সমস্ত অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিচার করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, খোকন দাসের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে আদালতে এখনও চূড়ান্ত রায় হয়নি এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।মঙ্গলবার আদালতে তাঁকে পেশ করা ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আদালত চত্বর ও বর্ধমান থানা এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। আদালত চত্বরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।সব মিলিয়ে, যে নেতা একসময় এলাকায় নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন, আজ তাঁকেই জনরোষের আশঙ্কায় মাথায় হেলমেট পরে আদালতে যেতে হওয়ায় বর্ধমানের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর সকলের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভা, সিআইডির পর এবার অভিষেকের বাড়িতে ইডি! নতুন করে চাঞ্চল্য রাজ্য রাজনীতিতে

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বাড়ির নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন তদন্তসব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এর মধ্যেই বুধবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।সূত্রের খবর, বিকেল নাগাদ দুই ইডি আধিকারিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। তাঁদের হাতে একটি সমন সংক্রান্ত নথি ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবেই এই নোটিস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।প্রথমে তদন্তকারী আধিকারিকরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্য একটি ঠিকানায় যান। পরে জানতে পারেন তিনি সেখানে থাকেন না। এরপর তাঁরা কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেন বলে সূত্রের দাবি।তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন তদন্তের প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অতীতে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে তাঁদের নাম উঠে এসেছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেও অতীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়।অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা আইন মেনেই সমস্ত তদন্তে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং সমনের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজনীতি

'মূল' উপড়ে 'তৃণ' ভূপতিত! পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ বিদ্রোহীদের হাতে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বুধবারের দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠল। দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং বিধানসভার সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী শিবিরের হাতে চলে গেল। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তাঁর জন্য নির্ধারিত কক্ষও খুলে দেওয়া হয়। স্পিকার রথীন্দ্র বসু আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘরের চাবি তুলে দেন ঋতব্রতের হাতে।বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ৬০ জন তাঁর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থন তাঁদের হাতে রয়েছে বলেও তিনি জানান। আরও দুই বিধায়ক রাজ্যের বাইরে থাকলেও তাঁদের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই হিসেবে তৃণমূল পরিষদীয় দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই এখন বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে তাঁর বক্তব্য।নতুন বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন যে, বিধানসভায় মুখ্যসচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও সমর্থনের চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।তবে রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও ঋতব্রত এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে। সেই কারণেই তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হওয়ার আহ্বান জানাবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দূরত্ব এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।ঋতব্রতের বক্তব্যে উঠে আসে বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখাও। তিনি বলেন, সরকারের ভুলের সমালোচনা যেমন করা হবে, তেমনই জনস্বার্থে গৃহীত ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করা হবে। তাঁর কথায়, মানুষ আমাদের বিরোধী আসনে বসিয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন করাই আমাদের কাজ। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করব।এই নাটকীয় পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় কারণ, এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে নতুন করে আবেদন জানিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রত শিবিরের দাবি মেনে নেওয়ায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।অন্যদিকে, যখন বিধানসভায় ঋতব্রত নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা করছেন, ঠিক সেই সময় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পরিষদীয় দলের নেতৃত্ব হারানো শুধু সাংগঠনিক ধাক্কাই নয়, বরং তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল। এখন নজর থাকবে কালীঘাট শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিদ্রোহী শিবিরের শক্তি কতটা স্থায়ীভাবে ধরে রাখা যায়, তার উপর।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের বাড়ি নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের! সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে সব তথ্য

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি নিয়ে চলা বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সম্পত্তির কোন কোন অংশ নিয়ে আপত্তি রয়েছে এবং কোথায় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুরনিগমকে।বুধবার বিচারপতি স্মিতা দাস দে নির্দেশ দেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে পুরনিগমকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আদালতে জানাতে হবে। সম্পত্তির কোন অংশে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, কতটা এলাকা সেই অভিযোগের আওতায় পড়ছে এবং কী ধরনের আপত্তি রয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ জমা দিতে হবে।আদালত আরও জানিয়েছে, পুরনিগমের রিপোর্ট জমা পড়ার পর সম্পত্তির মালিকপক্ষকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। এরপর চার সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।জানা গিয়েছে, এই মামলায় শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন নয়, তাঁর মায়ের নামে থাকা কালীঘাটের একটি সম্পত্তিও আলোচনায় এসেছে। পুরনিগমের দাবি, ওই সম্পত্তির কিছু অংশে নির্মাণ সংক্রান্ত অনিয়ম থাকতে পারে। সেই কারণেই নোটিস পাঠানো হয়েছিল।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে নির্মিত। তাঁদের বক্তব্য, কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়নি। তা সত্ত্বেও পুরনিগম নোটিস পাঠিয়েছে। সেই কারণেই নোটিস বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে।আদালত স্পষ্ট করেছে, মামলার শুনানি চলাকালীন বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে পুরনিগম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখা হবে।এই নির্দেশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংক্রান্ত মামলাটি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পুরনিগমের রিপোর্টে কী তথ্য সামনে আসে এবং আদালত পরবর্তী শুনানিতে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কালীঘাটে কী হল ভিতরে ভিতরে?

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়।দিনভর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই কারণেই তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একসঙ্গেই নেন। এরপর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।বুধবার শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান তিনি। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাতৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কাজ করতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণেই তিনি সম্মানের সঙ্গে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বও তাঁর সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনারের হাতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

‘মমতা আমাদের পরামর্শদাতা হোন’! বিধানসভা কাঁপানো মন্তব্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

দাবি করা একদল বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় উপস্থিত হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। তাঁর কথায়, মমতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি জানান, গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পরামর্শ প্রয়োজন এবং সেই জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমান বিধানসভার কার্যক্রমের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই বলে তাঁদের মত। ঋতব্রতের দাবি, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত বহু বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে এবং সেই কারণেই তাঁরা নিজেদের প্রকৃত পরিষদীয় প্রতিনিধিত্বকারী গোষ্ঠী বলে মনে করছেন।সাংবাদিক বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কথা বলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁরা বিধানসভার ভিতরে গঠনমূলক বিরোধিতার পথেই হাঁটবেন। কোনও বিল বা প্রস্তাবের সঙ্গে মতভেদ থাকলে তাঁরা তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তবে শুধুমাত্র প্রতিবাদের জন্য সভা ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথে হাঁটবেন না।ঋতব্রতের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করতে চান তাঁরা। মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সরকারের সমালোচনা যেমন করবেন, তেমনই ভালো উদ্যোগকে সমর্থনও জানাবেন।এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে চাওয়ার বার্তা এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন রূপরেখা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

জুন ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal