• ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩, বৃহস্পতি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mystery

রাজ্য

ফের পুলিশ হেফাজতে বন্দির রহস্যমৃত্যুর অভিযোগ, চূড়ান্ত চাঞ্চল্যে হুলস্থূল কান্ড

ফের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরে। চন্দ্রকোনা থানায় চুরির মামলায় গ্রেফতার হওয়া ২০ বছরের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, থানার শৌচাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই যুবক। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। যদিও মৃতের পরিবারের অভিযোগ, থানার ভিতরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।মৃত যুবকের নাম রাহুল রুইদাস। তিনি চন্দ্রকোনা থানার অন্তর্গত বগেশ্বরপুরের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চার দিন আগে চুরির অভিযোগে রাহুলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘাটাল মহকুমা আদালত তাঁকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।পুলিশের দাবি, রবিবার থানার শৌচাগার থেকে কিছু শব্দ শুনতে পান কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। সেখানে গিয়ে রাহুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরাও তাঁর মাদকাসক্তির কথা স্বীকার করেছেন। তবে একইসঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, থানার ভিতরেই রাহুলকে খুন করা হয়েছে। যদিও পরিবারের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।এক মাসের ব্যবধানে ফের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগচন্দ্রকোনার এই ঘটনার আগে গত মাসে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর থানাতেও পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মৃত ব্যক্তি ছিলেন কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওট।তোলাবাজি-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিরজুকে গ্রেফতার করেছিল হালিশহর থানার পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মার অভিযোগ ছিল, তিনি থানার বাইরে চলে যাওয়ার পর লকআপের ভিতরে তাঁর স্বামীকে পুলিশকর্মীরা বেধড়ক মারধর করেন।যদিও পুলিশের দাবি, লকআপের ভিতরে বিরজুকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে কল্যাণীর একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এই ঘটনার পর পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। ১০ আগস্ট মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও জানান।এর এক দিন আগে, ৯ আগস্ট, মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কাঁচরাপাড়ায় গিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও দোলা সেন। অভিযোগ, বিজপুর রোডের কাছে মমতার কনভয়কে লক্ষ্য করে স্থানীয়দের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। তাঁর গাড়িতে কাদা ও চটি ছোড়ার পাশাপাশি চোর, চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়।চন্দ্রকোনার সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে ফের পুলিশ হেফাজতে নিরাপত্তা, বন্দিদের সুরক্ষা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
বিদেশ

ভোটের আগে বড় বিপদ? তারেক রহমানের গাড়িতে রহস্যময় কাগজ, আতঙ্ক ঢাকায়

মাস পেরোলেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ঢাকায়। গুলশানে তাঁর গাড়িতে সাঁটানো এক রহস্যজনক কাগজকে কেন্দ্র করে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজনৈতিক মহলে। ভোটের মুখে তারেক রহমানকে ঘিরে কি কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্রের ছক কষা হচ্ছে?বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, গত বুধবার রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ ঢাকার গুলশান এলাকার ৬৫ নম্বর সড়কে ঘটে এই ঘটনা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন তাঁর কনভয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি সাদা রঙের হিরো হাঙ্ক বাইকে আসা এক ব্যক্তি হঠাৎ করেই কনভয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সে তারেক রহমানের গাড়ির গায়ে একটি কাগজ সেঁটে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।সবচেয়ে রহস্যের বিষয়, কাগজটিতে কোনও লেখা ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই কাগজ কি শুধুই কাগজ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনও বার্তা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা? নাকি ভবিষ্যতের কোনও হামলার আগে তারেক রহমানের গাড়ি চিহ্নিত করার পরিকল্পনা ছিল?গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ঘটনার সময় কনভয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের নিজস্ব নিরাপত্তা দল সিএসএফ উপস্থিত ছিল। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ না জানানো হলেও, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট না হওয়ায় এখনও পর্যন্ত বাইক আরোহীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তারেক রহমানের উপর কোনও প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর ইংল্যান্ডে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হন বিএনপি নেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন পুরোপুরি তারেক রহমানের হাতেই। ঠিক এমন সময় তাঁর গাড়িকে ঘিরে এই রহস্যজনক ঘটনা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
কলকাতা

লেকটাউনে পরিতক্ত বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার ঘিরে রহস্য।

সোমবার সকালে লেকটাউন যশোর রোডের ধারে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার ঘিরে রহস্য। লেকটাউন ব্লক এ ৮৪৮ বি/১ একটি বাড়ি থেকে এক ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার হয়। এদিন রাস্তায় প্যান্ডেল করার সময় এক কর্মী কঙ্কাল দেখতে পায়। এরপরে লেকটাউন থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। স্থানীয় সূত্রে ওই ব্যক্তির নাম রাজীব বড়াল। এদিন পুলিশ সাংবাদিকদের ছবি তুলতে বাঁধা দেয়।

এপ্রিল ১৫, ২০২৪
নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)-অন্তিম পর্ব

গল্পের মাঝে এসে হাজির চা আর পকোড়া। কারোর সেদিকে ভ্রূক্ষেপ নেই,সবাই বিভোর হয়ে রয়েছে গল্পে।মামা থেমে বললেন নে সবাই চা টা খেয়ে নে তারপর আবার শুনবি।সবাই একসাথে বলে উঠলো চা খেতে খেতেই শুনি।তুমিও চা খেতে খেতে বলে যাও।বেশ বাবা বেশ তাই হবে, বলে মামা হাসলেন।আবার শুরু করলেন---এরপর কেটে গেছে অনেক গুলো বছর, হয়েছে অনেক পরিবর্তন।জমিদার বাবু নেই,বড়ো ছেলেও নেই সব কিছু তখন আমার দাদুর ঘাড়ে। আর শক্ত হাতে হাল ধরে রয়েছেন গিন্নি মা।একদিন হটাত ধূমকেতুর মতো একমুখ দাড়ি গোঁফ নিয়ে হাজির ছোট চন্দ্র আর ঘটনা চক্রে সেদিন গ্রামের প্রায় শেষ সীমানায় একটা মরা পুকুর থেকে পাওয়া যায় একটা কঙ্কাল। পুকুরটা এখন মজে গেছে ঠিকই কিন্তু একসময় এর গভীরতা ছিলো অনেক। গ্রামের যারা এখন মধ্যবয়স্ক তারা চাপা গুঞ্জন তুলল যে ওটা সেই ভবানী ঠাকুরের মেয়ের, যে হটাত করেই হারিয়ে গেছিল।এ খবর জমিদার বাড়িতেও পৌঁছালো, কিন্তু সেখানে তখন ছোটোবাবুর আসার আনন্দ।তবু গিন্নিমা বলে উঠলেন মহাদেবের মনে কি আছে তিনিই জানেন আজই আমার চন্দ্রও ফিরে এলো।চন্দ্র এসে কিন্তু চুপচাপই রয়েছে।মায়ের সঙ্গে টুকটাক কথা বলছে। এর মাঝে যখন গ্রামের পুকুরের খবরটা এলো সে হটাত অস্থির হয়ে উঠলেন। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে সেই যে দরজা দিলেন আর খুললেন না।হরিয়া তো ছোটো বাবু কে দেখে খুব খুশী হয়ে তাকে বললো দেখো ছোটবাবু হামি সব ঠিক রেখেছি।তুমার উয়ো ছবি সব একদম ঠিক আছে।হরিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে ঘরে ঢুকে গেছিলেন তিনি।রাতে কিছু খায়নি সে।দরজাও খোলেনি।সকালবেলা অনেকবেলা পর্যন্ত দরজা না খোলায় আর ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ না পেয়ে দরজা ভেঙে ঢুকে দেখা গেলো শ্যামার ছবি বুকে নিয়ে চন্দ্রশেখরের নিথর দেহ শুয়ে আছে।গিন্নিমা শুধু বললেন ও শান্তি পেল, ভবানী ঠাকুরের অভিশাপ ফলতে লেগেছে।এরপর সত্যি কোনো ছেলে তিরিশ পেরোয়নি।শুধু আমি টিকে আছি। যখন আমার চাঁদ এলো তখন আমি বুঝলাম এবার হয়তো আমাদের অপেক্ষার অবসান হবে।কিন্তু সেটা যে উজানের বন্ধু হয়ে আমার বাড়িতে আসবে ভাবিনি।ভাবনা একটা হতো যে কিভাবে সে আসবে।চাঁদ ও ছোটো থেকে মানে তরুন বয়স থেকে স্বপ্নে ওর মুখ আবছা দেখতে থাকে।এবার মা রাশি আমাকে বলতো তোর এখানে এসে কি মনে হয়েছে?রায়া বলে ওঠে ও তো এসে থেকেই বলে যাচ্ছে আমি আগে এসেছি, এখানে এটা আছে, ওখানে ওটা ছিলো।মামা বললেন যেমনবাগানে ঘুরতে ঘুরতে পিছন দিকে এক জায়গায় বলল এখানে একটা আম গাছ ছিলো ।তারপর ছাদের ঘরে যাওয়া তো আমরা সবাই দেখলাম ।এরপর আর কোনো সন্দেহ থাকার জায়গাই নেই যে ও শ্যামা।রাশি আর চাঁদ এবার দুজনেই একে একে বলল যে আমরা তো দুজনে দুজনকে দেখেই চিনেছি এ স্বপ্ন তে দেখা সেই মুখ যা আমাদের জীবনকে রহস্যে মুড়ে রেখেছিল।এবার মামা বললেন একবার রাশির মা বাবার সঙে কথা বলতে হবে, আমাকে ওনাদের ফোন নম্বর টা দে।আচ্ছা রাশি তোকে ছাদে কে নিয়ে গেছিল?একজন বয়স্ক লোক ।হ্যাঁ মনে পড়ছে না ঠিক----- হ্যাঁ হ্যাঁ হরিয়া।হ্যাঁ হরিয়া ছাড়া আর কে হবে? ওই নাকি দীর্ঘদিন ঐ ঘর দেখে শুনে রাখত আর ঐ ঘরের সামনেই নাকি মরে পড়েছিল ।যাক মহাদেবের অসীম কৃপায় আজ আবার যে দুজন কে পেয়েছি, এবার আর কোনো ভুল করতে চাই না। আমি আজই রাশির বাবা মা কে ফোন করবো। সেরকম হলে ওনাদের এখানে আসতে বলবো।সবাই কিন্তু চুপচাপ হয়ে গেছে সেই সময়ের এই বেদনা বিধুর প্রেমের কাহিনী শুনে।রাশির চোখে জল, চাঁদ কখন যেন রাশির পাশে এসে বসেছে।যেন দুজনে ফিরে যেতে চাইছে সেই সুদূরে যেখানে ওদের প্রেম প্রকাশ পাওয়ার আগেই মুছে গেছিল।সমাপ্তলেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ১০, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace : রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- চতুর্থ পর্ব

মামা গল্প বলতে বলতে থেমে গিয়ে বললেন এই দাঁড়া দাঁড়া আমার তো ভুল হযে যাচ্ছে। ঘটনাটা আমরা দাদুর দাদুর আমলের।আমার দাদুর বাবারা ছিলেন তিন ভাই।বয়স হচ্ছে রে, তাই সব গুলিয়ে ফেলছি।সে যার আমলেই হোক তোমার দাদুর বাবার বা দাদুর দাদুর তুমি বলে যাও।মামা আবার শুরু করলেন....বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো । এর মধ্যে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে; বড়ো ছেলের ছেলে মানে আমার দাদুর বাবার আগমন ঘটেছে, মেজো ছেলে বাঙলা দেশের তালুকের দায়িত্ব নিয়ে সেখানে বৌ নিয়ে আছে। আর ছোটো পড়াশুনার পাট চুকিয়ে গ্রামে ফিরে মন দিয়েছে আঁকায়। কলকাতায় সে আঁকার ট্রেনিং নিয়ে এসেছে যে ।আর এখানকার জমিদারির দায়িত্ব দেখাশোনা করতে লেগেছে বড় ছেলে।এমন সময় গিন্নিমার কানে গেলো একটা কথা। আসলে ঠিক কানে গেল বল চলে না। ওনাদের ভবানী ঠাকুর নিজে কদিন পুজো করতে না এসে অন্য একজনকে পাঠিয়ে ছিলেন।তাই তার খবর নিতে পাঠান গিন্নিমা । যদিও তার কানে একটা কথা এসেছে। তাই আরো উতলা হয়ে তিনি তার বিশেষ কাজের লোক শঙ্করী কে পাঠান খবর নিতে।সে এসে বলে যা শুনেছেন সব সত্যি। শ্যামা ফিরে এসেছে বাপের বাড়ি। তার ঠাঁই হয়নি সেখানে, তার স্বামী মারা গেছে আর সন্তান ও নেই।তাই তাকে আর কেউ রাখতে চায়নি শ্বশুর বাড়িতে।একথা শুনে গিন্নিমার মনটা খুব খারাপ হলো। তিনি বললেন ভবানী ঠাকুরকে খবর দাও।ভবানী ঠাকুর গিন্নিমার ডাকে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। খুব কান্নাকাটি করতে লাগলেন।একে তো মা-মরা মেয়ে তায় আবার এই অবস্থা,কি যে করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না।গিন্নিমা বললেন -- কোনো চিন্তা করবেন না আমি তো আছি। আপনি শ্যামা মা কে আমার কাছে নিয়ে আসুন।গিন্নিমার এইকথা শুনে ভবানী ঠাকুর অনেকটা যেন হাল্কা হলেন।তিনি বললেন তাই হবে গিন্নিমা । আমি কালই ওকে আপনার কাছে নিয়ে আসবো। আপনি ওকে একটু আপনার পায়ে ঠাঁই দিলে আমি বেঁচে যাই গিন্নিমা।এই বলে ভবানী ঠাকুর চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলেন।পরদিন মেয়েকে সঙ্গে করে এলেন জমিদার বাড়ি। গিন্নিমা শ্যামাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।বড়মার কথা তোর মনে পড়েনি? আমি কি তোর মা নই? এরকম অনেক মান অভিমানের কথা চলল।এর মধ্যে বড়ো বৌ ও এসে দাঁড়িয়েছে ঘরে, সেও শ্যামাকে খুব ভালোবাসত।তার ছেলেকে কোলে তুলে নিল শ্যামা । গিন্নিমা বললেন আজ থেকে ওর সব দেখাশোনার দায়িত্ব তোর । তুই তো ওর পিসিমা। এই বলে শ্যামার হাতে নিজের নাতি মানে আমার দাদুর দায়িত্ব তুলে দিলেন।আর অন্যদিকে ছোটো চন্দ্র বিয়ে থা না করে সারাদিন কলকাতা থেকে নিয়ে আসা এক বিহারি চাকর কে সঙ্গে নিয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আঁকার সরঞ্জাম নিয়ে।তার কানেও শ্যামার কথাটা গেছে, কিন্তু সে কিছু বলেনি।এইভাবেই দিন যেতে থাকে.....বড়ো বৌদির ছেলেকে নিয়ে বেশ কাটে শ্যামার সারাদিন ।তর মাঝে বড়মাকেও সাহায্য করে।বড়ো বৌদির সঙ্গে টুকটাক গল্প করে দিন কেটে যায় । শ্যমাকে বাড়ির কাজের লোকেরাও ওর মিষ্টি স্বভাবের জন্য খুব ভালোবাসে।এর মধ্যে চন্দ্র এর সঙ্গে দেখা হয়েছে। কেমন আছো ছোটদা? জিজ্ঞাসা করে শ্যামা ।ভালই আছি রে। তোর কি চেহারা হয়েছে রে শ্যামা?আমার আবার চেহারা; তুমি এবার একটা বিয়ে থা করো ।তুইও এসেই শুরু করে দিলি? মা বলেছে নিশ্চয়?শ্যামা চুপ করে রইল।এভাবে টুকটাক কথা হয় শ্যামা আর চন্দ্রের মধ্যে। আগের থেকে শ্যামা অনেক চুপচাপ হয়ে গেছে।একদিন চন্দ্রের বিহারী কাজের লোক হরিয়ার খুব জ্বর হয় সেদিন বড়মা শ্যামার উপর দায়িত্ব দেন ছোটদার ঘর পরিষ্কার করে দেওয়ার এবং খাওয়ার নিয়ে দিয়ে আসার। সেদিন শ্যামাকে একটা ছবি দেখায় চন্দ্র, সেটা শ্যামার বিয়ের পর এঁকেছিল সে।তোর বিয়ের পর তো আমার সঙ্গে আর তোর দেখা হয়নি তাই তোকে দেখাতেও পারিনি।খুব সুন্দর হয়েছে গো ছোটদা । তবে এখন তুমি আরো অনেক ভালো আঁকো ।চন্দ্রের ঘরে কেউ ঢোকে ও পছন্দ করতো না। কিন্তু শ্যামাকে কিছু বলেনি।শ্যামা দেখে শোওয়ার ঘরের পাশে একটা বড়ো ঘরে ছবি আঁকত চন্দ্র।শ্যামা দেখেছে যে সেখানে কিছু ছবি ঢাকা দেওয়া আছে।কৌতূহলী হয়েছে ঠিক কিন্তু কোনোদিন হাত দেয়নি। আর চন্দ্র এখন খুব চুপচাপ নিজের মনে থাকে ওকেও জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি।যে ছবি গুলো দেওয়ালে টাঙানো আছে সেগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখে যখন ঐ ঘরে যায়। যদিও খুব একটা যায়না বড়মা না পাঠালে।এদিকে হরিয়ার মাঝে মাঝেই শরীর ভালো যাচ্ছে না তাই শ্যামার উপর সেইদিন গুলোতে দায়িত্ব পরে শ্যামার উপর।এরকমই একদিন সন্ধ্যাবেলায় ছোটদার ঘরে আলো দিয়ে আসার সময় চন্দ্র বলে একটু কিছু খাবার নিয়ে আয় তো রে ক্ষিদে পেয়েছে।এটা আবার ওর স্বভাব মাঝেমাঝেই ক্ষিদে পায়।বেশ এনে দিচ্ছি বলে চলে যায় শ্যামা।একটু পরে বাটি করে নারকেল আর মুড়ি নিয়ে এসে দেখে ঘরে কেউ নেই।ছোটদা বলে ডাকতেই আঁকার ঘর থেকে আওয়াজ আসে এঘরে দিয়ে যা ।ওঘরে যেতেই দমকা হাওয়ার জোরে ঢাকা দেওয়া ছবি গুলো থেকে ঢাকা সরে যায় আর শ্যামা চমকে যায় এ যে তার ছবি।চন্দ্রও অপ্রস্তুত হয়ে যায়, আবার নিজেকে সামলে নিয়ে তাড়াতাড়ি ঢাকা দিতে যায় ।কি করেছো এগুলো? কেনো করেছো? কেউ এগুলো দেখলে কি ভাববে জানো?চন্দ্র চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ তারপর বলে কেনো তুই কি কিছুই বুঝিসনা?আমার বোঝার দরকার নেই। লোকে তোমাকে কিছুই বলবে না, যতো দোষ হবে আমার।তোকে এভাবে দেখ্তে আমার একদম ভালো লাগেনা যে, তাই তো আমার স্বপ্ন দিয়ে তোকে এঁকেছি।শ্যামা কাঁদতে থাকে, কেনো কেনো করলে এমন?শ্যামাকে কাঁদতে দেখে চন্দ্র আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না শ্যামাকে জড়িয়ে ধরে, আর ঠিক সেইসময় একজন কাজের মেয়ে শ্যামা কে ডাকতে আসে আর ওদের দেখে ছুটে নেমে যায় ।এইপর্যন্ত বলে মামা একটু থামলেন।বলো বলো তাড়াতাড়ি বলো, চাঁদ বলেতারপরের ঘটনা খুব ছোটো করে বলি, একথা শেষে ওঠে গিন্নিমার কানে,গিন্নিমা বিশ্বাস করেন না। কিন্তু জমিদার মশায়ের কানেও উঠে যায় ।ব্যাস আর যায় কোথায় ।শুরু হয়ে যায় জমিদারি খেলা। ভবানী ঠাকুরকে পাঠানো হলো শহরে কিছু একটা কাজে। তারপর দিন ভবানী ঠাকুর এসে শ্যামার খোঁজ করাতে অবাক হয়ে যান গিন্নিমা ।কি শ্যামা বাড়ি ফেরেনি কাল?না, আমি ভাবলাম আমার আসতে দেরি হবে ভেবে আপনি তাকে রেখে দিয়েছেন আপনার কাছে।গিন্নিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন। চারদিকে খুঁজতে বলেন, কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় না।তখন কিছু লোক হাহুতাশ করে আর কিছু লোক বাজে কথা বলে, যেমন সবসময় হয়।কাঁদতে কাঁদতে চলে যান ভবানী ঠাকুর। আর পুজো করতে আসেন না।সেদিন রাতে জমিদার গিন্নি ধরেন শশীশেখর বাবুকে কি করলে মেয়েটাকে? জমিদার বাবু মেজাজে বলেন আমি কি করে জানব?তুমি কিছু না জেনে কেনো এমন করলে? একথা চন্দ্র জানলে তাকে তুমি বেঁধে রাখতে পারবে তো?এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় টোকা পরে। দরজা খুলে তো চমকে যান গিন্নিমা।চন্দ্র তুই! কিছু বলবি বাবা?মায়ের কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল কিছু না বুঝেই এতোবড়ো একটা কাজ করে ফেললেন? আমাকে একবার জিজ্ঞাস করলেন না?চুপ করে রইলেন শশীশেখর বাবু।চলে গেলো চন্দ্র ঘর থেকে।একদিন চন্দ্র আবার কোথাও উধাও হয়ে গেলো,কাউকে কিছু না বলে।হরিয়া কিন্তু রয়ে গেলো ছোটো বাবুর ঘরটা আগলে।গ্রামেও এর মধ্যে প্রচার হয়ে গেলো যে জমিদারবাবুই শ্যামাকে গুম করে দিয়েছেন।একদিন ভবানী ঠাকুর পাগলের মতো এসে কাছরিতে ঢুকে পড়লেন,সেখানে তখন জমিদারবাবু নিজে উপস্থিত।ভবানী ঠাকুর বললেন আমার মেয়েটা কি ক্ষতি করেছিল যে তাকে মেরে দিলেন? আমি অভিশাপ দিচ্ছি তোমাদের বংশে ছেলেরা বেশিদিন বাঁচবে না,যতদিন না আমার মেয়ে ফিরে আসছে। আর এও বলে রাখলাম যদি সত্যি চন্দ্র তাকে ভালোবেসে থাকে সেও ফিরবে।এরপর কেউ আর ঐ গ্রামে ভবানী ঠাকুরকে দেখেনি।তারপর সত্যি এই বংশের ছেলেরা বেশিদিন বাঁচে না। আমিই রয়েছি শুধু ওদের মিলিয়ে দেবার জন্য বোধহয়। কারণ আমার দাদুর মাও যে শ্যামা কে বড্ড ভালবাসতেন। উনি বলেছিলেন যেন আমার বংশেই আবার চন্দ্র ফিরে আসে।তিনি যতদিন জীবিত থেকেছেন ছোটো দেওরের খোঁজ করে গেছেন। কিন্তু যে নিজে হারিয়ে যায় তাকে কি আর খূঁজে পাওয়া যায়?ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

অক্টোবর ০৩, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- তৃতীয় পর্ব

অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদ অর্থাত চন্দ্রশেখর রায়চৌধুরী উজানের মামাতো দাদা বাড়ি এলো দুপুর তখন প্রায় একটা। কিন্তু তখন আর কে গল্প শুনবে আর কেই বা শোনাবে?সুতরাং দুপুরের খাবার পর সবাই কে বিশ্রাম করে বিকেলে ঠিক পাঁচটার সময় চায়ের টেবিলে হাজির হতে বললেন মামা।সবাই ঘরে গেল ঠিকই কিন্তু কেউ ঘুমোতে পারলো না। রাশি কে দেখে তো মনে হচ্ছে কি যেন খূঁজে বেড়াচ্ছে মনে মনে।পাঁচটা বাজতেই সবাই হাজির চায়ের টেবিলে। চাঁদ বলল কি ব্যাপার বলতো হটাত ডেকে পাঠালে , আবার এইভাবে বিকেলে হাজির হতে বললে? কিছুই তো বুঝতে পারছিনা। মামা বললেন চা খেয়ে নাও তারপর একটা জিনিস দেখাব। যদিও চাঁদ চট বেলায় একবার দেখেছিল।চা খাওয়া হয়ে গেলে মামা ওদের একটা ঘরের সামনে নিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। চাঁদ বলল এই ঘরে আবার কি দেখাবে? কোনো দিন তো খোলাই হয়না। দরজা খুলে চাঁদের বাবা মানে মামা বাবু ঘরে ঢুকে আলো জ্বেলে সবাই কে ভিতরে ডাকলেন। ঘরটায় পরপর সব পুরুষের এবং মহিলাদের ছবি আছে এই বংশের । সব একে একে মামা দেখাচ্ছেন এবং পরিচয় দিচ্ছেন; আর রাশি পায়ে পায়ে একটা ছবির সামনে এসে দাঁড়িয়ে কি যেন বিড় বিড় করছে সেটা খেয়াল করে চাঁদ । ও অবাক হয়ে সেদিকে যায়, গিয়ে তো আরো অবাক । জোরে বলে ওঠে-- বাবা আমার এই বেশে ছবি এখানে কিভাবে এলো? আমি তো কখন তুলিনি।সবাই সেই দিকে ছুটে গেলো । দেখে তো সবাই অবাক। উপরের ঘরে রাশির মতো দেখতে একটি মেয়ের ছবি, আবার নিচে চাঁদের মতো এ কার ছবি? উজান বলল মামা কি ব্যাপার গো কিছুই তো মাথায় ঢুকছে না। কোনোদিন কোনো গল্পও শুনিনি মায়ের কাছে। কি গল্প আছে আমাদের বলো ।মামা বললেন বেশ বেশ চল এঘর থেকে , বাইরে গিয়ে বসি তারপর সব বলছি। বলতে তো আমাকে হবেই।এই বলে সবাই কে বের করে নিয়ে ঘরে চাবি লাগিয়ে সবাই গিয়ে বৈঠকখানা ঘরে গিয়ে বসল।মামীমাও এসে বসলেন।এরপর মামা শুরু করলেন গল্প......মামা গল্প শুরু করলেন-- কাহিনী তখনকার যখন জমিদার ছিলেন আমার দাদুর বাবা শশীশেখর রায়চৌধুরী ।তার তিন ছেলে বড় ইন্দুশেখর, মেজো বিধুশেখর, আর ছোট চন্দ্রশেখর।এদের মধ্যে বড় আমার দাদু আর মেজো দাদু তখন কলকাতায় পড়াশুনা করছেন । আর বাড়িতে আমার ঠাকুমা আছেনআর ছোটো দাদু। সে দাদাদের থেকে বেশ ছোট ; তখন সে গ্রামের স্কুলেই পড়ছে। এমন সময় আমাদের কুলদেবতা মহাদেবের পুজোয় নিযুক্ত হন আমাদের কুল পুরোহিত বামাচরণ ভট্টাচার্য মশায়ের ছেলে ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচর্য মানে আমাদের ভবানী দাদু।ওনার মেয়ে শ্যামা সুন্দরী ছিলেন প্রায় আমাদের ছোট দাদুর বয়সী,বছর পাঁচের ছোট ।বাবার সঙ্গে মাঝে মাঝে ফুল নিয়ে আসত আমাদের বাড়িতে। মা মরা মেয়ে,আমাদের বড়মা খুব স্নেহ করতেন শ্যমাকে । একে নিজের কোনো মেয়ে নেই তায় আবার শ্যামার মা ছিলো না।সবাই বড়মা কে গিন্নীমা ডাকত। শ্যামাও তাই ডাকত।কিন্তু বড়মা তাকে বলে তুই আমাকে গিন্নিমা বলবি না,বড়মা বলবি,তারপর থেকে শ্যামা বড়মা ডাকতে থাকে। তখনো গ্রামের দিকে মেয়েদের পড়ার সেরকম চল ছিল না। কিন্তু শ্যামা পাঠশালায় যেত।মাঝে মধ্যে আসত জমিদার বাড়িতে।ছোট চাঁদের সঙ্গে তার বেশ বন্ধুত্ব হয়েছে,প্রায় সমবয়সী দুজন।ওদের খেলতে দেখে বড়মা খুব আনন্দ পেতেন।ছোট দাদু খুব আঁকতে ভালোবাসতেন, তাই দাদারাও শহর থেকে আদরের ভাইকে নানান সরঞ্জাম এনে দিত। ছোটদাদার অত জিনিস শ্যামা অবাক চোখে দেখত। এইভাবে দুজনে বেশ থাকতো,কখন ঝগড়া করে বড়মাকে নালিশ জানাতো আবার কখন কচড়ে কাঁচা আম, তেঁতুল,বা বাড়ির তৈরী আচার এনে ছোট দাদাকে খাওয়াতো।দেখ্তে দেখ্তে শ্যামা বারো বছরের হলো যখন আর ঘরে রাখা যাবে না। এবার ওর বিয়ে দিতে হবে। এর মধ্যে আমার বাবার আগমন হয়ে গেছে। বড়ো বৌদিও শ্যামাকে বেশ ভালবাসে কারণ শ্যামা ছাড়া কথা বলার মতো কেই বা আছে ছোট দেওরটি ছাড়া।শ্যামার বিয়ে হয়ে গেলো ।শ্যামার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে সব চেয়ে বেশি একা হয়ে গেল চন্দ্র; কারণ সবসময় হুকুম তো শ্যামাই শুনত।অবশ্য বেশিদিন তাকেও একা থাকতে হয়নি,কলকাতায় পড়তে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। ওখানে সে পড়ার সঙ্গে আঁকার চর্চায় মনোনিবেশ করলো। এদিকে কিছুদিনের মধ্যে মেজদাদুরও বিয়ে হয়ে গেলো ।আমার দাদুএখানকার জমিদারি দেখাশোনায় দাদুর সঙে লেগে পড়ল ।আর মেজদাদু তখনো পড়া শেষ হয়নি বলে কলকাতায় থাকতে লাগল ছোট ভাই কে নিয়ে।এইভাবে বেশ কয়েক বছর কেটে গেলো ।শ্যামার কথা প্রায় সবাই ভুলতে বসেছে এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা...ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- দ্বিতীয় পর্ব

রায়া আর তিয়া দুজনেই রাশি কে দেখে একটু যেন অবাক হলো; ওদের মনে হলো ও যেন এ জগতে নেই।ওকে যেন একটু অন্যরকম লাগল।ওরা ডাকল রাশি এই রাশি কি বলছিস?না ও যেন ওদের ডাক শুনতেই পেল না । তখন রায়া ওকে ধাক্কা দিয়ে ডাকল এই রাশি কি বিড়বিড় করছিস?রায়ার ধাক্কাতে যেন রাশির সম্বিত ফিরল। ও বলল কি হয়েছে? এতক্ষণ যেন কিছুই হয়নি এমন করে কথা বলল রাশি।রায়া,তিয়া অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আর বলল কি হয়েছে মানে! তুই তো বলবি কি হয়েছে? কি বলছিলি তুই এতোক্ষণ?রাশি যেন কিছুই জানে না সেরকম করেই বলল আমি কি বলছিলাম? কই কিছু বলিনি তো।ওর এই ব্যবহারে তো ওরা রীতিমত বিস্মিত।কিন্তু ওরা আর কথা না বাড়িয়ে বলল -- যা তুই এবার চেঞ্জ করে খেতে চল।ওরা তিন জন আর পাশের ঘর থেকে উজান আর অত্রি কে দিশা এসে ডেকে নিয়ে গেলো ।ওরা সবাই মিলে খেয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পরলো। মামা মামী ও বললেন ওদের শুয়ে পড়তে।ওরা যে যার মতো করে নিজেদের ঘরে চলে গেল।উজান বোন দিশার সঙ্গে একটু কথা বলবে বলে বসে রইল নিচে।বিশাল বাড়ি মামাদের। উজান অনেকদিন পর এলো তাই একটু বোনের কাছে জেনে নিচ্ছে কঁ দিকে কি আছে।ঘন্টা খানেক পর উজানও শুতে চলে গেলো। ঘরে গিয়ে ওরা একটু পরের দিন কি করবে সেটা আলোচনা করে যে জার মতো শুয়ে পড়ল।বেশ অনেকটা রাতে তিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো বাইরে যাবে বলে। ও ওয়াশ রুম থেকে ফিরে এসে দেখে রাশি বিছানায় নেই, ঘরেই নেই। ও তখন রায়াকে ডাকল। রায়া একটু বিরক্ত হয়ে উঠলো। রাশি ঘরে নেই শুনে তো ঘুম উড়ে গেলো ওরও।ওরা বেরিয়ে উজানদের ডাকল। উজান, অত্রিও ভয় পেয়ে গেলো এতো রাতে ওদের ডাক শুনে।ওরা বেরিয়ে এসে যখন শুনল রাশি ঘরে নেই তখন তো রীতিমত ভয় পেল ওরাও।কি করবে ঠিক করতে পারলো না। এতো বড়ো বাড়ির কোথায় গেলো ওরা তো কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। রায়া তখন উজান কে বলল রাশি কি বিড়বিড় করে বলছিল সেই কথা গুলো।উজান কিছু ভেবে না পেয়ে মামা কে ডাকল।মামা মামী বেরিয়ে এলো কৌতূহলী হয়ে। যখন শুনল রাশি কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তখন মামী বলে উঠলো-- আমি বললাম না এ সেই, দেখো ঠিক তার জায়গায় তাকে পাওয়া যাবেমামা একটু বিচলিত হয়ে বলল তুমি চুপ করো তো।মামা মামীর কথা ওদের কেউ বুঝতে পারলো না। রায়া তখন বলল রাশির বলা কথাগুলো।রাযার কথা শুনে মামা মামী বললো চলো তো দেখি গিয়ে।মামা আর মামী ছাদের দিকে চললো ওনাদের পিছনে ওরা চার জনও চলল ।মনে ওদের অনেক প্রশ্ন জাগছে। মামা মামীর কথায় কি যেন একটা আছে সেটা বুঝতে পারছে না ওরা।ওরা ছাদে গেলো, এদিক ওদিক খুঁজল বিশাল ছাদের কিন্তু কোথাও রাশি নেই।ওদের খুব ভয় করতে লাগল। তখন মামা বলল ঐ দেখো ঐ ঘরে আলো জ্বলছে, কে জ্বালালো আলো? অবাক এবার মামা মামী। ঘরটাই বা খুলল কে? এই সব প্রশ্ন করতে করতে ঘরে গিয়ে দেখল রাশি ওখানে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। আরো যা দেখল তা হলো কিছু ছবি।রাশিকে ঐভাবে উপরের ঘরে অজ্ঞান অবস্থায় পরে থাকতে দেখে ওরা সবাই যেমন অবাক হলো, আরো অবাক হলো ঐ ঘরে থাকা কিছু ছবি দেখে। যেগুলো দেখে তো খুবই পুরনো মনে হচ্ছে কিন্তু ছবির মেয়েটির সঙ্গে রাশির হুবহু মিল আছে।সবাই কৌতূহলী হয়ে মামা মামীমার দিকে তাকাল, কিন্তু তখন আগে রাশিকে ঠিক করা দরকার ছিলো তাই আর কথা না বাড়িয়ে অত্রি আর উজান দুজনে ধরে নামিয়ে নিয়ে এলো রাশিকে; তারপর ওদের ঘরে শুইয়ে দিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে ওর জ্ঞান ফেরাবার চেষ্টা করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে ও সবাই কে একসাথে দেখে প্রথমে একটু অবাক হলো। তারপর আবার চোখ বুজে ফেলল। মামা বললেন --আজ রাতটা ও বিশ্রাম নিক, ওকে তোরা এখন কোনো প্রশ্ন করিসনা। সকালে জা শোনার শুনিস।আর তোদের বলতে ভুলে গেছি কাল সকলে চাঁদ আসছে।এই বলে ওনারা বেরিয়ে গেলেন। ওর কিছুক্ষণ বসে থেকে তারপর যে যার মতো শুয়ে পড়ল ।পরদিন সবার ঘুম ভাঙতে একটু দেরি হলো। রাশি কিন্তু শুয়ে রইল। রায়া তিয়া ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গেলো ।ও চুপ করে আছে দেখে মামী জিজ্ঞাসা করলেন --রাশি কাল রাতে তুই ছাদে কি করতে গিয়েছিলি? তুই চিনে গেলি কি করে ছাদে? ঐ ঘরের চাবি কোথায় পেলি?এই প্রশ্ন গুলো শুনে রাশি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল, তারপর বললো কাল শোওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। হটাত বেশ খানিকটা রাতে দরজায় আওয়াজ শুনে আমার ঘুম ভেঙে গেলো । আমি ভাবলাম অত্রি বা উজান হবে তাই উঠে দরজা খুলতে গেলাম।খুলে দেখি একজন মহিলা ঘোমটা দেওয়া।আমাকে বলল আমার সঙ্গে এসো।আমি সম্মহিতের মতো ওঁর পিছনে চললাম।ঐ আমাকে ঐ ঘরে নিয়ে গেলো। তারপর আমার কিছু মনে নেই।কিন্তু একটা ব্যাপার কি জানো আমি তোমাদের বাড়িটা যেন চিনি, এখানে যেন কতো এসেছি।আর একটা জিনিস আমি সেই ছোটো থেকে কিছু স্বপ্ন দেখি আবছা আবছা এখানে এসে তোমাদের বাড়ি দেখে এটা বুঝতে পারি আমার সেই স্বপ্ন এখানকার সঙ্গে যুক্ত।পুরোটা ঠিক বুঝতে পারছিনা।তোমরা নিশ্চয় জানো,আমাকে বলবে ।ওর কথা শুনে এবার মামা বললেন তোকে দেখেই আমরা বুঝেছি সব। বলবো আর একটু অপেক্ষা কর , চাঁদ আসুক।ওরও যে জানা দরকার। শুধু তুই নয় রাশি ও যে এর সঙ্গে যুক্ত।এরপর ওরা চা জলখাবার খেয়ে রাজবাড়ির চারদিকটা দেখ্তে বেরোল সবাই মিলে।রাশি যেতে চাইছিল না, কিন্তু ওরা ওকে আর একা রেখে যেতে রাজী হলো না।তাই ও সঙ্গেই গেলো ।রাজবাড়ির বাগানে ঘুরতে ঘুরতে ও হটাত একজায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ল, সবাই ডাকলো কিন্তু মনে হলো ও যেন ওর মধ্যে নেই।ও তখন বলল এখানে তো একটা বড়ো আমগাছ ছিলো ।গাছটা কি হলো? বলেই ও ওখানেই বসে পড়তে যাচ্ছিল রায়া ওর পাশে থাকায় ধরে ফেলল।রাশি যেন আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো । ওরা কিছুতেই বুঝতে পারছে না কি ঘটছে রাশির সঙ্গে। কেনই বা রাশি এরকম ব্যবহার করছে!?মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরছে সবার, কিন্তু মামা বলেছেন সব বলবেন চাঁদ মানে ওনাদের ছেলে আসলে।উজানের দাদাভাই দিল্লিতে ডাক্তারি পড়ছে।ওর এখানে পৌঁছাতে দুপুর হবে।সুতরাং এখন অপেক্ষা ছাড়া গতি নেই---ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্বরাখি রায়-র কলমেআরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
রাজ্য

বন্ধুদের সঙ্গে ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমে ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে তৈরি হল রহস্য

বন্ধুদের সঙ্গে ভাগীরথী নদীতে স্মান করতে নেমে এক ছাত্রের মারা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে তৈরি হল রহস্য । মৃত ওই ছাত্রের নাম রিক রায়(১৬)।তাঁর বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কালনার সুবর্ণনগর কলোনীতে।সে স্থানীয় বিদ্যালয়ে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল ।ভাগীরথীতে স্নান করতে নেমে রিক তলিয়ে যায় বলে তাঁর বন্ধুরা দাবি করলেও ছাত্রের পরিবার তা মানতে চায়নি। আর তার কারণেই ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য । ময়নাতদন্তের জন্য ছাত্রের মৃতদেহ শনিবার পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। পুলিশের দাবি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই ছাত্রের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে । তার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে পরবর্তী পদক্ষেপ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দুপুরে ছাত্র রিক তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যায়।পরে সে বাড়ির ওই বন্ধুদের সঙ্গেই আবার কালনার ভাগীরথী নদীতে স্নানও করতে যায়।বন্ধুদের দাবি স্নান চলাকালীন অবস্থায় রিক নদীর জলে তলিয়ে যায় ।যদিও ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ রিকের বন্ধুরা এই ঘটনার কিছুই তাঁদের বাড়িতে জানায় নি । সব চেপে যায় । অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা নদীতে গিয়ে রিকের খোঁজ চালান। পাশাপাশি বিপর্যয় ব্যবস্থাপন দপ্তরের টিমও ভাগীরথীতে রিকের খোঁজ চালায়।কিন্তু ওই দিন রিকের কোন হদিশ মেলে নি । শনিবার সকালে ফের ভাগীরথীতে রিকের খোঁজ চালানো শুরু হয় । বেলা ১০ টা নাগাদ উদ্ধার হয় ছাত্র রিকের মৃতদেহ।মৃত ছাত্রের বাবা গোপাল রায় এদিন বলেন,বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি বলে রিক বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিল ।বন্ধুরা পরে যে যার বাড়ি ফিরে গেলেও রিকের ব্যাপারে তাঁরা কোন খবর তাঁদের জানায়নি। পরে একজন বয়স্ক লোকের কাছ থেকে তাঁরা রিকের ব্যাপারে খবর পান ।গোপালবাবু বলেন , বন্ধুরা কেন সব ঘটনা চেপে গেল সেটাই তাঁদের কাছে রহস্য জনক লাগছে । তাই ঘটনার বিষয়ে তিনি পুলিশের কাছে আভিযোগ জানানোর দিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১
নিবন্ধ

Mysterious Palace :রাজবাড়ির রহস্য (ধারাবাহিক গল্প)- প্রথম পর্ব

বীরভূমের এক প্রত্যন্ত গ্রামে উজানের মামার বাড়ি। ওনারা ওখানকার জমিদার ছিলেন। আজও তার প্রতীক হিসাবে বিশাল রাজবাড়ি দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহ্য বহণ করে। যদিও উজানের বড়ো মামা-মামি ছাড়া কেউই আজ ওখানে থাকেনা। অন্যান্য তিন মামা বিদেশে থাকেন। যদিও পারিবারিক দুর্গা পুজোয় বছরে একবার আসেন। উজানের মা ঐ বাড়ির একমাত্র মেয়ে। তাই উজানের আদরও খুব মামার বাড়িতে।এবার তাই ১২ ক্লাস বোর্ড এক্সামএর পরে উজানের বন্ধুরা যখন বলে সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যাবে আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে, তখন উজান ওর মামার বাড়ি যাবার প্রস্তাব দেয়। ওর এই বন্ধুরা অনেকদিন ধরেই ওর মামার বাড়ি দেখ্তে চেয়েছিল।রাশি, হিয়া, দিয়া, অত্রি আর উজান সেই নার্সারি থেকে আজ পর্যন্ত একসঙ্গে পড়ছে। এবার যে যার মতো আলাদা হয়ে যাবে। তাই তার আগে ওরা শুধু নিজেরা কোথাও যেতে চায়। উজানের মামার বাড়ি যাবার কথায় কারো বাড়ি থেকেই কোনো আপত্তি হয়নি।ওরাও খুব excited এই প্রথম শুধুমাত্র বন্ধুরা মিলে কোথাও বেড়াতে যাবে। ওদের মধ্যে হিয়া দিয়া যমজ বোন, হিয়াটা খুব চঞ্চল দিয়া একটু শান্ত; আর রাশি মেয়েটা একটু যেন বেশিই চুপচাপ। যদিও তাতে ওদের বন্ধুত্বের কোনো অসুবিধা নেই। রাশির একটা ব্যাপার ওরা ছোট থেকেই দেখে আসছে যে ও মাঝে মাঝেই কেমন উদাস হয়ে যায়। ছোটোবেলায় তার কারণ অবশ্য একটা বলতো,এখন বড়ো হয়ে গেছে এখন আর কিছু বলেনা কিন্তু সেই উদাস হয়ে যাওয়া আজও আছে। ওরা সবাই সবাইকে খুব ভালো করে জানে। তাই রাশিকে কোনো রকম বিরক্ত করেনা। যাইহোক সবাই খুব খুশি বেড়াতে যাওয়া নিয়ে। সারা দিন ফোনে শুধু প্ল্যান হয়ে যাচ্ছে কি করবে না করবে, কে কি পোশাক নেবে, কতো দিন থাকবে, আশেপাশে কোথায় কি আছে দেখবে এইসব করে যাচ্ছে সারাদিন।এইসব করতে করতে যাবার দিন চলে এলো। সবাই মিলে বিশ্বভারতী এক্সপ্রেস ট্রেনের কামরায় উঠে বসল। সবাই খুব হৈচৈ করে আনন্দ করতে লাগল যেন মুক্ত বিহঙ্গ। ট্রেন ছেড়ে দিলে ওদের আনন্দ যেন আর ধরে না। সে কি উত্তেজনা সবার কিন্তু রাশি যেন একটু বেশি চুপচাপ। কি হয়েছে জানতে চাইলে বলবে না ওরা জানে তাই ওকে বিরক্ত করে না। রাশি জানালা দিয়ে দেখ্তে দেখ্তে চলে। আর ওরা চড়ুই পাখির মত কিচির মিচির করতে থাকে। কু ঝিকঝিক ট্রেন চলতে থাকে।ট্রেন অবশেষে যখন পৌঁছল তখন বেশ খানিকটা রাত হয়েছে। স্টেশনের বাইরে ওদের জন্য গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ওরা মামার বাড়ির গাড়িতে মালপত্র উঠিয়ে বসল। রাত হয়ে যাওয়ার কারণে কিছুই বুঝতে পারলো না ওরা পথের সম্বন্ধে। মামার বাড়ি যেহেতু গ্রামে তাই খুব তাড়াতাড়ি চুপচাপ হয়ে যায়।তবুও শুক্লপক্ষের রাত বলে চারিদিকে রূপোলি জ্যোত্স্নায় ভেসে যাচ্ছে। ওদের খুব ভালো লাগছে, কারণ কলকাতায় এই ব্যাপারটা ওরা অনুভব করতেই পারে না। রাশির মন যেন উচাটন হয়ে যায়; ও বলে কি সুন্দর লাগছে দেখেছিস চল আমরা কিছুটা হেঁটে যাই ,কি উজান চিনতে পারবি না পথ।ওদের সবাই হৈ হৈ করে বলে উঠলো চল চল চল সবাই মিলে হেঁটেই যাবো। অগত্যা উজান রাজী হয়। সবাই গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে থাকে; যদিও রাস্তা অল্পই বাকি ছিল। তবুও ওরা বেশ উপভোগ করতে লাগল। সব থেকে বেশি যেন রাশি আনন্দিত হলো। সবাই রাশির এই স্বভাবের সঙ্গে পরিচিত তাই ওরা অবাক হলো না।মামার বাড়ির সামনে এসে যেন রা। ওদের পৌঁছোনোর আওয়াজ পেয়ে মামা-মামি আর বোন দিশা বেরিয়ে এলো। দিশা তো হৈ হৈ করে উঠলো। কিন্তু মামা-মামি যেন রাশিকে দেখে একটু চমকে গেলো সেটা উজানের চোখে পড়ল। কিন্তু ও কাউকে কিছু বললো না। ওদের ভিতরে নিয়ে গেলো, তারপর পরিচয় পর্ব সারার পর মামি বললো ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে চলে আয় খেয়ে নিবি।সবাই মামির কথামতো ঘরে গিয়ে ফ্রেশ হতে লাগল একে একে। রাশি, তিয়া আর রায়া একটা ঘরে আর উজান আর অত্রি একটা ঘরে থাকবে এরকম ব্যবস্থা হলো। রায়া তো খুব এক্সাইটেড; তিয়াও তাই। শুধু রাশি যেন একটু বেশিই চুপচাপ হয়ে গেছে বাড়িতে ঢোকার পর। সবাই সেটা বুঝেছে কিন্তু কেউ কিছু বলেনি। আসলে রাশি তো ঐরকম তাই। তিয়া আর রায়া দুজনে যখন এতো বড়ো রাজবাড়ির অতিথি হয়ে থাকার কথা নিয়ে আলোচনা করছে তখন হটাত রাশি বলে উঠলো আপন মনে আমি সব চিনি, আমার মনে হচ্ছে এসেছি এখানে, কিন্তু কবে? তিয়া আর রায়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে।ক্রমশ....লেখিকাঃ রাখি রায়আরও পড়ুনঃ বিষাক্ত গোলাপ - (ছোট গল্প)আরও পড়ুনঃ রক্তের টান - প্রথম পর্বআরও পড়ুনঃ রূপু আমাকে ক্ষমা করিসআরও পড়ুনঃ নতুন প্রভাত

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১
রাজ্য

Mystery Death: দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর বাড়িতে রহস্য মৃত্যু বধূর

দ্বিতীয় পক্ষের স্বামীর বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হল এক বধূর। মৃতার নাম লীলা আগরওয়াল(৪৪)।ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার মাহাতা গ্রামে। ভাতারের মাহাতা গ্রামে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন লীলা আগরওয়াল ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় । বুধবার সকালে সেই ভাড়া বাড়ি থেকেই গৃহবধূ লীলার মৃতদেহ উদ্ধার করে ভাতার থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই বধূর মৃতদেহ পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ মর্গে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ বধূ মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।আরও পড়ুনঃ এএফসি কাপে প্রথম পর্বের বাধা টপকাতে পারবেন? কী বলছেন হাবাসপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, লীলা আগরওয়ালের প্রথম পক্ষের স্বামীর বাড়ি বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের মিশন কম্পাউণ্ড এলাকায়। তাঁর প্রথম পক্ষের স্বামী রাজু আগরওয়ালের সেখানে একটি সাইকেল মেরামতির দোকান রয়েছে। লীলার এক ছেলে ও এক মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক। ছেলে আকাশ বোলপুর পুরসভার অস্থায়ী কর্মী। মেয়ে প্রীতি আগরওয়াল বিবাহিতা। প্রীতি জানিয়েছেন, তাঁর মা বর্ধমান শহরে সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। বিবাহিত সুদীপ্তবাবু ওষুধ সাপ্লাইয়ের ব্যবসা করেন। ওই সময়েই তাঁর মা লীলাদেবীর সঙ্গে সুদীপ্ত বাবুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারপর দেড় বছর হল লীলাদেবী পাকাপাকিভাবে সুদীপ্তবাবুর কাছেই রয়ে যান। সুদীপ্তবাবুর এই কীর্তিকলাপ মেনে নিতে না পেরে তাঁর স্ত্রী সুদীপ্তবাবুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এরপর থেকে সুদীপ্তবাবু ভাতারের মাহাতা গ্রামে বাড়ি ভাড়া করে সেখানে লীলাদেবীকে নিয়ে থাকতেন । প্রীতি আগরওয়াল বলেন, এদিন সকালে ওই ভাড়া বাড়ি থেকেই পুলিশ তাঁর মা লীলাদেবীর মৃতদেহ উদ্ধার করে।আরও পড়ুনঃ অশান্ত আফগানিস্তানের জন্য শান্তির আবেদন ক্রিকেটার রশিদ খানেরমৃতার ছেলে আকাশ আগরওয়াল দাবি করেন, আমার মায়ের গলায় দাগ রয়েছে। তা দেখে আমার মনে হচ্ছে শ্বাসরোধ করেই মাকে মারা হয়েছে। তাই মৃত্যুর তদন্ত দাবি করেছে। যদিও সুদীপ্তবাবু এদিন দাবি করেন, আমি ব্যবসার কাজে মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে লীলাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। ভাতার থানার পুলিশ অবশ্য সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায়কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে , ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলেই মহিলার মৃত্যুর কারণ জানা যাবে । তার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আগস্ট ১১, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

অন্নপূর্ণা যোজনায় বড় আপডেট, ১৭ সেপ্টেম্বর কাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩,০০০ টাকা? অতিরিক্ত ১০ লক্ষ মহিলা পাবেন সুবিধা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের জন্য বড় আপডেট। সেপ্টেম্বর মাসের ৩,০০০ টাকার কিস্তি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা জমা পড়বে। ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবেও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার খবর অনুযায়ী, অগস্টে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছিলেন। সেপ্টেম্বরের কিস্তিতে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে আরও প্রায় ১০ লক্ষ মহিলা এই কিস্তির আওতায় আসবেন।মাসে কত টাকা মিলবে?২০২৬ সালের জুন মাসে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি DBT-এর মাধ্যমে উপভোক্তার আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি পশ্চিমবঙ্গের মহিলা বাসিন্দারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। স্থায়ী সরকারি চাকরিতে থাকা এবং কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নিয়মিত বেতন বা পেনশন পাওয়া মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরাও বাদ পড়বেন। পাশাপাশি আয়করদাতারাও এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য নন।১৭ সেপ্টেম্বর কারা টাকা পাবেন?সেপ্টেম্বরের কিস্তির জন্য উপভোক্তার নাম যোগ্য তালিকায় থাকা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই সম্পূর্ণ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্যের মধ্যে গরমিল, DBT সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনও তথ্যগত ত্রুটি থাকলে টাকা জমা পড়তে দেরি হতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তথ্যের ভুলের কারণে কিছু উপভোক্তার টাকা আটকে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।তাই যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং আধারের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ সঠিক রয়েছে কি না, তা আগে থেকেই যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের ৩,০০০ টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আবেদন ও স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্যও নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জানা যায়।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

১০০ কেজি সোনার দুর্গা! বাংলার বুকে এবার পুজোর সেরা আয়োজন, সোনার দুর্গাকে ঘিরে তুমুল আগ্রহ

দুর্গাপুজোয় এবার নজরকাড়া আয়োজন শিলিগুড়িতে। নিউ জলপাইগুড়ির সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো কমিটির দাবি, এ বছর তাদের প্রতিমা এবং দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে সাজানো হবে ১০০ কেজি সোনার গয়নায়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই গয়নার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় কোনও পুজো কমিটির পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ এই প্রথম বলে দাবি তাঁদের।এবার সেন্ট্রাল কলোনি দুর্গাপুজো পা দিতে চলেছে তাদের ৬৪তম বর্ষ। প্রতি বছরই নতুন আকর্ষণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে এই পুজো। মঙ্গলবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানান, এ বছর দুর্গা প্রতিমা এবং পরিবারের অন্যান্য প্রতিমাকে ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় এর আগে কোনও পুজোয় এত বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।বছরের পর বছর নিউ জলপাইগুড়ির গেট বাজার এলাকার কাছে রেলওয়ে ইনস্টিটিউট গ্রাউন্ডে এই পুজোর আয়োজন হয়ে আসছিল। তবে বর্তমানে রেল কর্তৃপক্ষ ওই মাঠকে ক্রিকেট মাঠ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। সেই কারণে এ বছর পাশের একটি জমিতে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। জমিটি নিউ জলপাইগুড়িতে অতিরিক্ত ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতরের কাছেই অবস্থিত।পুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি নামী গয়না প্রস্তুতকারী ও বিক্রেতা সংস্থা প্রতিমার জন্য প্রয়োজনীয় সোনার গয়না সরবরাহ করবে। এত বিপুল পরিমাণ সোনা থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুজো প্রাঙ্গণের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি প্যান্ডেলে মোতায়েন থাকবে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।দর্শনার্থীদেরও প্রতিমার খুব কাছে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমার প্রায় আট ফুট আগে ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সশস্ত্র রক্ষীদেরও মোতায়েন করা হবে।পুজো কমিটির সভাপতি কাঞ্চন রায় জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। সোনার গয়না সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুজোর দিনগুলিতে গোটা এলাকা সিসিটিভির নজরদারিতে রাখা হবে। ১০০ কেজি সোনার গয়নায় সজ্জিত দুর্গা প্রতিমা ও দুর্গা পরিবারের অন্যান্য দেবদেবীকে দেখতে এবার শিলিগুড়ির এই পুজোয় বিপুল দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

ফের কমল সোনার দাম, কলকাতায় ২৪ ক্যারেটের দর জানলে চমকে উঠবেন

Gold Price Today: সোনার দামে ফের পতন। একদিন স্থিতিশীল থাকার পর টানা তৃতীয় দিনের মতো কমল হলুদ ধাতুর দাম। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দরে চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধিও বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে মার্কিন ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে, এমন আশঙ্কায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং ১৬ সেপ্টেম্বর সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশের কথা। ফলে ওই সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের।গত তিন দিনে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম মোট ১,৪২০ টাকা কমেছে। একই সময়ে ২২ ক্যারেট সোনার দর কমেছে ১,৩১০ টাকা। বুধবারও ২৪ ও ২২ ক্যারেটদুই ধরনের সোনার দাম ১০ টাকা করে কমেছে।কলকাতায় আজকের সোনার দামকলকাতায় ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৫৩,১৬০ টাকা। ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১,৪০,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ১,১৪,৮৭০ টাকা। অর্থাৎ ১৮ ক্যারেট সোনার ১০ গ্রামের দর ১.১৫ লক্ষ টাকার সামান্য নিচে।দেশের অন্যান্য বড় শহরেও সোনার দরে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। দিল্লিতে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৩,৩১০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪০,৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১৫,০২০ টাকা। মুম্বইয়ে ২৪ ক্যারেটের দাম ১,৫৩,১৬০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪০,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১৪,৮৭০ টাকা।পাটনা ও আহমেদাবাদে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৩,২১০ টাকা। সেখানে ২২ ক্যারেটের দর ১,৪০,৪৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১,১৪,৯২০ টাকা। জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৩,৩১০ টাকা, ২২ ক্যারেট ১,৪০,৫৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ১,১৫,০২০ টাকা।তবে চেন্নাইয়ের ক্ষেত্রে ২৪ ক্যারেট সোনার দরে দেওয়া তথ্যে সংখ্যাগত অসঙ্গতি রয়েছে। সেখানে ২২ ক্যারেটের দাম ১,৪০,৩৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ১,১৮,০৯০ টাকা। তবে কেনার আগে স্থানীয় বাজার বা বিক্রেতার কাছ থেকে ২৪ ক্যারেটের বর্তমান দর যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।চার দিন পর কমল রুপোর দামসোনার পাশাপাশি রুপোর দামেও বুধবার কিছুটা পতন দেখা গিয়েছে। টানা চার দিন স্থিতিশীল থাকার পর এক কেজি রুপোর দাম ১০০ টাকা কমেছে।দিল্লিতে এক কেজি রুপোর দাম এখন ২,৪৪,৯০০ টাকা। কলকাতা ও মুম্বইয়েও একই দরে রুপো বিক্রি হচ্ছে বলে দেওয়া হয়েছে। তবে চেন্নাইয়ে রুপোর দাম তুলনামূলক বেশিএক কেজি ২,৪৯,৯০০ টাকা। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর এক কেজি রুপোর দাম ৫,০০০ টাকা বেড়েছিল। পরের দিন, অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, ফের এক কেজিতে ১০,০০০ টাকা কমেছিল। বুধবারের পতনের ফলে রুপোর বাজারেও ফের কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেল।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

৪০ বছরের পুরনো গৌরব ফেরানোর উদ্যোগ! বক্সার জঙ্গলে রাজ করতে আনা হচ্ছে বাঘিনী

বাঘশূন্য বক্সার জঙ্গলে ফের বাঘের সংসার গড়ার প্রস্তুতি শুরু। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে একটি বাঘিনীকে বক্সা টাইগার রিজার্ভে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বন দপ্তর। সেই কাজের জন্য ইতিমধ্যেই ১৫ জনের একটি বিশেষ দল বিহারে পৌঁছেছে। বাঘিনীকে নিরাপদে নিয়ে আসার জন্য বিশেষ আম্বুল্যান্স এবং খাঁচাও সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়া হবে। তার আগে বাঘিনীকে বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে নিরাপদে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বন দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঘুমপাড়ানি গুলি প্রয়োগ করে বাঘিনীকে কাবু করা হবে। এরপর বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে তাকে বক্সার দিকে নিয়ে আসা হবে।বাঘিনীকে নিয়ে আসার সময় তৈরি করা হবে সবুজ করিডর। অর্থাৎ যাতায়াতের পথে যাতে কোনও ধরনের বাধা বা বিলম্ব না হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বক্সা টাইগার রিজার্ভে পৌঁছনোর পর সরাসরি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে না তাকে। প্রথমে বিশেষ ভাবে তৈরি এনক্লোজারে রাখা হবে। সেখানে কয়েক দিন তার গতিবিধি, শারীরিক অবস্থা এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নজরে রাখা হবে।এরপর সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ২ অক্টোবর বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাঘিনীকে জঙ্গলে ছাড়ার এই বিশেষ অনুষ্ঠান হবে আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে সাধারণ মানুষের জন্যও অনুষ্ঠান দেখার ব্যবস্থা থাকবে। জঙ্গলের ভিতরে বাঘিনীকে ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে প্যারেড গ্রাউন্ডে দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ।বনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের বাঘিনীকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে। জঙ্গলে বাঘিনী ছাড়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দেখতে পারবেন।বক্সা টাইগার রিজার্ভের সঙ্গে বাঘের ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরনো। ১৯৮২ সালে আলিপুরদুয়ারের এই বনাঞ্চল দেশের ১৫তম বাঘ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। সেই সময় বক্সার জঙ্গলে ২০টিরও বেশি বাঘ থাকার রেকর্ড ছিল। পাহাড় এবং সমতল মিলিয়ে প্রায় ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল বনাঞ্চল।কিন্তু সময়ের সঙ্গে বক্সার জঙ্গলে বাঘের সংখ্যা কমতে কমতে একসময় শূন্যে পৌঁছয়। বর্তমানে বক্সা টাইগার রিজার্ভে স্থায়ী ভাবে বসবাসকারী কোনও বাঘ নেই। যদিও গত কয়েক বছরে ভুটানের দিক থেকে বক্সার জঙ্গলে বাঘের যাতায়াতের ছবি ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফলে বাঘের জন্য বক্সার জঙ্গল এখনও উপযুক্ত আবাসস্থল কি না, তা নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন বনকর্তারা।এই পরিস্থিতিতে বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফের বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে বাঘ এনে তাদের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বন দপ্তরের। সেই পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বাঘিনী আনা হচ্ছে।এখন নজর ২ অক্টোবরের দিকে। বিশেষ দল, খাঁচা, আম্বুল্যান্স এবং নিরাপত্তার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। বাঘিনী বক্সার পরিবেশে কী ভাবে মানিয়ে নেয় এবং ভবিষ্যতে সেখানে বাঘের স্থায়ী প্রজনন সম্ভব হয় কি না, তার উপরই এই উদ্যোগের পরবর্তী সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
বিদেশ

মক্কা কি সত্যিই নিশানায়? ড্রোন হামলার দাবি নিয়ে মুখোমুখি সৌদি ও হাউথি

ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথি এবং সৌদি আরবের সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদির দাবি, মঙ্গলবার পবিত্র শহর মক্কার কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মক্কার আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কড়া উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত।সৌদির দাবি অনুযায়ী, হাউথিরাই ওই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। গত প্রায় এক দশকের মধ্যে মক্কার পবিত্র তীর্থক্ষেত্রকে ঘিরে এমন হামলার অভিযোগ এই প্রথম বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ড্রোনটি মক্কার ঠিক কতটা কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে সৌদির তরফে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানানো হয়নি।সৌদির এই দাবি অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছে হাউথিরা। বুধবার গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল সৌদির তেলের ভাণ্ডার এবং সামরিক ঘাঁটি। তাঁর বক্তব্য, সেই লক্ষ্যগুলি মক্কা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। মক্কাকে নিশানা করে হামলার যে দাবি সৌদি করেছে, তা মিথ্যা বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।এর ফলে মক্কার কাছে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সৌদি বলছে, হাউথির ড্রোন মক্কার দিকে এগিয়েছিল এবং আকাশেই সেটিকে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্য দিকে হাউথির দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল মক্কা থেকে দূরে সৌদির তেল ও সামরিক পরিকাঠামো।এই ঘটনার পর মক্কার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে মক্কার ধর্মীয় গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে পবিত্র শহরের কাছাকাছি কোনও সামরিক হামলার অভিযোগ স্বাভাবিক ভাবেই আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।মক্কার কাছে ড্রোন হামলার অভিযোগের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বুধবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, মক্কার কাছে ড্রোন হামলার ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক পরিকাঠামোকে বিপদের মধ্যে ফেলার যে কোনও প্রচেষ্টার কড়া নিন্দা করেছে ভারত।রণধীর আরও বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মক্কার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণে মক্কার কাছাকাছি হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ওই অঞ্চলে দ্রুত শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরে আসার আশাও প্রকাশ করেছে ভারত।অন্য দিকে, হাউথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের মাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে। সৌদির পশ্চিম উপকূল লক্ষ্য করে হাউথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যেই মক্কার কাছে ড্রোন হামলার দাবি নতুন করে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।তবে মক্কার কাছে ড্রোনটি ঠিক কোথা থেকে এসেছিল, তার লক্ষ্য কী ছিল এবং সৌদির দাবি অনুযায়ী সেটি কতটা কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। ফলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে সৌদি আরব ও হাউথিদের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেই নজর রয়েছে পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

প্রতীক না মিললে প্রচারেই যাবেন না মমতা? নন্দীগ্রাম-রেজিনগর ভোটের আগে বড় বার্তা

পুজোর আগেই রাজ্যে ফের ভোটের দামামা। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের প্রতীক-জট নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রচারে যাবেন না। যদিও এটি এখনও তাঁর প্রকাশ্য ঘোষণা নয়। ফলে উপনির্বাচনের প্রচারে মমতার ভূমিকা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই শিবির আলাদা ভাবে প্রার্থী দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে একই দলের দুই শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।প্রতীক নিয়ে এই টানাপড়েনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই পক্ষের একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। কমিশনের কাছে দুই শিবিরই নিজেদের দাবি ও নথি জমা দিয়েছে। কিন্তু জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে মনোনয়ন পর্বের পাশাপাশি প্রতীক নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন, প্রতীক নিয়ে জট না কাটলে মমতা প্রচারে আসবেন না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। এই বক্তব্যের পরই মমতার প্রচার নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘিরে একাধিক পরিচিত নেতাকে দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রামে ওই শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এতেসামূল হকের মনোনয়ন কর্মসূচিতেও দলীয় নেতাদের উপস্থিতি ছিল। ফলে দুই শিবিরের সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।কালীঘাট শিবিরের নন্দীগ্রাম প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র মনোনয়ন ঘিরে জেলার নেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক ভাবে কম ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তবে এই উপস্থিতির ভিত্তিতে দলের চূড়ান্ত প্রচার কৌশল সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে বিজেপিও প্রচার শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থীর হয়ে মনোনয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তিনি উপনির্বাচনে তৃণমূলের ফল নিয়ে নিজের দাবি জানিয়েছেন। তবে সেটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।নন্দীগ্রাম আসনটি বরাবরই রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর হাইভোল্টেজ লড়াই হয়েছিল। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়ে পরে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রেজিনগরেও একই ভাবে বিধায়ক পদ খালি হওয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে।এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। জোড়াফুল প্রতীক কোন শিবির পাবে, দুই পক্ষকে একই প্রতীক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, নাকি অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবেতা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের লড়াইয়ের সমীকরণও বদলাতে পারে।সব মিলিয়ে ৬ অক্টোবরের ভোটের আগে তৃণমূলের প্রতীক-জট এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নামা না-নামা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং দুই শিবিরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
রাজ্য

‘রাক্ষুসে’ গঙ্গার গ্রাসে ভূতনি! ত্রাণের আশায় টিনের ডোঙা নিয়ে ছুটছেন বানভাসিরা

রাক্ষুসে গঙ্গার জলে কার্যত জলবন্দি মালদহের ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা। যেদিকে তাকানো যাচ্ছে, শুধু জল আর জল। কোথাও ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছে, কোথাও আবার বাড়ির একতলা পর্যন্ত জলমগ্ন। বহু পরিবার উঁচু রাস্তার ধারে কিংবা বাড়ির ছাদে ত্রিপল টাঙিয়ে দিন কাটাচ্ছে। খাবার বলতে ভরসা ত্রাণের সামগ্রী। আর সেই ত্রাণ আসার খবর পেলেই টিনের তৈরি ডোঙা নিয়ে ছুটে আসছেন বানভাসি মানুষজন।বুধবার ভূতনি সেতুর কাছে ত্রাণ পৌঁছনোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দূরদূরান্তের জলবন্দি এলাকা থেকে ডোঙা নিয়ে ছুটে আসেন বহু মানুষ। মহিলা এবং শিশুরাও সেই ভিড়ে ছিলেন। চিঁড়ে, গুড়ের মতো শুকনো খাবার সংগ্রহের জন্য জল পেরিয়ে ভূতনি সেতুর কাছে পৌঁছন তাঁরা। ত্রাণ নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছতেই জলবন্দি এলাকার মানুষ ডোঙা নিয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসেন।মালদহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের মতো ত্রাণ নিয়ে বড় ধরনের কাড়াকাড়ির পরিস্থিতি কোথাও তৈরি হয়নি। তবে প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে নৌকার সাহায্যেই দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে হচ্ছে প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে।জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বানভাসি এলাকায় ১১টি ত্রাণশিবির এবং ১৫টি লঙ্গরখানা চালু করা হয়েছে। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে একশোর বেশি নৌকা কাজে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও উদ্ধার ও ত্রাণকাজে মোতায়েন করা হয়েছে।মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, ত্রাণ এবং পানীয় জলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন, রেডক্রস এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দূরবর্তী গ্রামগুলিতে ত্রাণ পৌঁছনোর কাজ আরও দ্রুত করতে উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বিশেষ ত্রাণ দফতর চালু করেছে জেলা প্রশাসন।তবে দুর্গতদের একাংশের অভিযোগ, প্রত্যন্ত এলাকার সব জায়গায় এখনও নিয়মিত ত্রাণ পৌঁছচ্ছে না। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বিধায়ক, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে জলবন্দি মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। শুকনো খাবার এবং ওষুধও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।মালদহের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিও ত্রাণকাজে এগিয়ে এসেছে। জেলা প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চাল, ডাল, চিঁড়ে, মুড়ি, পানীয় জল এবং মশারি-সহ বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তিনটি বড় ট্রাক মানিকচকে পাঠানো হয়েছে।বন্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের উদ্ধারে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলবন্দি এলাকা থেকে ১৮০ জনেরও বেশি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ভূতনি থানার তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। এখনও প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ বন্যার জলে আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বহু গ্রাম জলবন্দি। কোথাও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। আবার কোথাও বাড়ির একতলা পর্যন্ত জলে ডুবে গিয়েছে।উঁচু জায়গা এবং বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। দুর্গত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে নিয়মিত এলাকায় ঘুরছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল। সিভিল ডিফেন্সের দুই আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ত্রাণ ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে কি না, তা খোঁজ নেন। কয়েকটি এলাকায় বানভাসিরা ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগও জানিয়েছেন। দ্রুত তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিধায়ক।সব মিলিয়ে ভূতনির বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও জলযন্ত্রণা এখনও কাটেনি। ঘরবাড়ি হারিয়ে উঁচু রাস্তা ও ছাদে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় ভরসা ত্রাণ। আর সেই ত্রাণের আশাতেই জল পেরিয়ে ডোঙা নিয়ে ছুটছেন ভূতনির বানভাসিরা।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সেই মন্তব্য নিয়ে হাই কোর্টে মামলা, বুধবার এল বড় রায়! কী বলল আদালত?

গত ২ জুন ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের একটি ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বুধবার সেই মামলাই খারিজ করে দিল হাই কোর্ট।মামলাটি শুনেছিল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানিতে মমতার মন্তব্য নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল আদালত। বুধবার সেই রিপোর্ট আদালতে জমা দেয় রাজ্য। রাজ্যের রিপোর্টে জানানো হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্যে কোনও আদালতগ্রাহ্য অপরাধ সংঘটিত হয়নি। এরপরই মামলাটি খারিজ করে দেয় আদালত।গত ২ জুন ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের একটি ঘটনা প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছিলেন মমতা। তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি। তবে তাঁর মন্তব্য বাংলাদেশের একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করেছিল বলে অনেকে মনে করেছিলেন। সেই মন্তব্য নিয়েই কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন অভ্রতনু সরকার।মামলাটি আদালতে ওঠার পর শুরু থেকেই এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। আগের শুনানিতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছিল, কোনও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য নিয়ে এই ধরনের মামলা কী ভাবে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা যায়। আদালত জনস্বার্থ মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।এর পরেই মমতার মন্তব্য নিয়ে রাজ্যের রিপোর্ট চায় হাই কোর্ট। বুধবার সেই রিপোর্ট জমা পড়ে। রাজ্যের বক্তব্য ছিল, ওই মন্তব্যের মধ্যে এমন কোনও বিষয় পাওয়া যায়নি, যা আদালতগ্রাহ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। রাজ্যের এই রিপোর্টের পরই প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়।মামলাটি খারিজ হওয়ার ফলে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে করা মন্তব্যকে ঘিরে দায়ের হওয়া এই জনস্বার্থ মামলার আইনি পর্ব আপাতত শেষ হল। তবে ওই মন্তব্য ঘিরে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে সেই সময় থেকেই আলোচনা চলছিল।

সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal