যানা যায়, পানিহাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিভি গঙ্গার ঘাটে ৫ বন্ধু মিলে মদ্যপান করছিল, সেই সময় ভান্ডারী নামে এক বন্ধু বাকি চার বন্ধুর সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। বচসা চলাকালীন চার বন্ধু মিলে ভান্ডারী নামের যুবককে গলার নলি কেটে গঙ্গার মাটির চরে পুঁতে দেয় এমনটাই অভিযোগ। সকালে এসে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পায় গঙ্গায় মৃতদেহ, তারপর খড়দহ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।খুনের তদন্তে নেমে খরদা থানার পুলিশ ঘটনার সাথে যুক্ত চার অভিযুক্তকে মুস্তাক, সূর্য, লাল্লু ও নিবেদকে বেলঘড়িয়া কামারহাটি ও আগরপাড়া অঞ্চল থেকে খুনে ব্যবহৃত চপার সহ গ্রেপ্তার করে। আজ অভিযুক্তদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে। খুনের ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পাথর ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ উঠল। আসানসোল পলিটেকনিক কলেজের ছাত্রের গলাকাটা ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় বীরভূমের ইলামবাজারের জঙ্গলে। জানা গিয়েছে, ছাত্রের বাবার কাছে ৩০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবি করে ফোন এসেছিল। মৃতের ছাত্রের বন্ধু সালমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।বাগুইআটির দুই মাধ্যমিক ছাত্রকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় তোলপাড়। তারপর ইলামবাজারে ক্ষত-বিক্ষত ছাত্রের দেহ মিলল। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ হয় আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারংয়ের ছাত্র সৈয়দ সালাউদ্দিন। তারপর রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ মুক্তিপন চেয়ে ফোন আসে তার বাবার কাছে। পুলিশকে পুরো বিষয়টা জানায় সালাউদ্দিনের বাবা। অপহরণকারীরা পুলিশকে জানাতে নিষেধ করেছিল। অপহরণকারীরা জানিয়েছিল, তারা দুর্গাপুরে আছে। ইলামবাজারের দিকে যাচ্ছে। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রের মৃতদেহ মেলে। ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটির দূরে মোটর বাইক মিলেছে। পুলিশ মনে করছে, একেবারে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জেনে যাওয়ায় তড়িঘড়ি খুন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছে, অপহরণকারীরা ছাত্রের ঘনিষ্ঠ বা কাছের কেউ এই কাণ্ডে সহযোগিতা করেছে।
পরকীয়ার জেরেই খুন করেছে স্বীকার করলো অভিযুক্ত। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই রাগের বশে সাদেক শেখকে খুন করেছে পুলিশের কাছে একথা জানাল পূর্ববর্ধমানের আউশগ্রামের রেওড়া গ্রামে খুনের ঘটনায় ধৃত চন্দন মেটে। ধৃত শুক্রবার দাবি করে তার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল সাদেক শেখের। বারবার নিষেধ সত্বেও সাদেক শোনেনি। তাই রাগের বশেই তাকে কলের হ্যাণ্ডেল দিয়ে মেরেছিলাম। মরে যাবে বুঝতে পারিনি।যদিও নিহতের স্ত্রী গোলেনূর শেখ পুলিশের কাছে অভিযোগপত্রে জানান,পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে বচসার জেরেই চন্দন মেটে তার স্বামী সাদেক শেখকে পরিকল্পনা মাফিক খুন করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চন্দন মেটেকে আটক করার পর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে বর্ধমান আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ধৃতকে ৭ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা যায়।বৃহস্পতিবার বিকেলে আউশগ্রামের রেওড়া গ্রামের মেটেপাড়ার কাছে সাদেক শেখকে রক্তাক্তবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন। বীরভূমের সিয়ান হাসপাতালে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয়। পেশায় কৃষক সাদেক শেখ। স্ত্রী গোলেনূর শেখ পুলিশের কাছে অভিযোগে জানিয়েছেন তার স্বামী চন্দনকে ২০ হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। ওই টাকা বৃহস্পতিবার বিকেলে চাইতে গিয়েছিলেন তার স্বামী সাদেক শেখ। টাকা দিতে অস্বীকার করলে সাদেকের সঙ্গে চন্দনের বচসা হয়। চন্দন তখন হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। গোলেনূর শেখ জানান তারপর চন্দনের বাড়ি থেকে সাদেক বেড়িয়ে এসে যখন ভেদিয়া দীননাথপুর মালিয়াড়া রাস্তায় উঠছিলেন তখন চন্দন পিছন থেকে ভারী বস্তু দিয়ে সাদেকের মাথায় আঘাত করে।যদিও এদিন ধৃত চন্দন বলেন, আমার স্ত্রীর সঙ্গে সাদেক শেখের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। আমার স্ত্রীকে লজে নিয়ে যেত। আমি না থাকা অবস্থায় বাড়িতেও যেত। বৃহস্পতিবার বাড়ি ঢুকেই দেখি সাদেক আমার ঘর থেকে বেড়িয়ে আসছে। তখন রাগের মাথায় কলের হ্যাণ্ডেল দিয়ে পিঠে আঘাত করতে গিয়েছিলাম। মাথায় লেগে গিয়েছে।
বাগুআটির দুই কিশোর হত্যার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরীকে। দীর্ঘ টানাপড়েন, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, পুলিশ কর্তা সাসপেন্ডের পর বিধাননগর পুলিশের হাতে শুক্রবার সকালে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে গ্রেফতার বাগুইআটি খুনের মূল অভিযুক্ত৷ সূত্রের খবর, ফোনের টাওয়ার লোকেটেড করেই তার সন্ধান পায় পুলিশ৷ অভিযুক্ত বারবার লোকেশন বদবাচ্ছিল, হাওড়া থেকে ট্রেন ধরে ভিন রাজ্যে পালানোর পরিকল্পনা ছিল সত্যেন্দ্রর৷ আদতে সে বিহারের বাসিন্দা। শেষমেষ তার কিন্তু সেই ইচ্ছা আর সফল হল না৷ অভিযুক্তের ফাঁসি চাইছে, মৃত ছাত্রদের পরিবারের সদস্যরা৷অতনু দে ও অভিষেক নষ্করকে এই সত্যেন্দ্রই খুন করেছে বলে দুই পরিবারের তরফে অভিযোগ কা হয়েছে। অভিযোগ, এই সত্যেন্দ্রই ২২ আগস্ট দুই পড়ুয়াকে মোটর বাইক কেনার জন্য নিয়ে যায়। অতনু দে এবং অভিষেক নস্করকে শ্বাস রোধ করে খুন করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাট পর নহু দিন পলাতক ছিলেন সত্যেন্দ্র।
টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে পিটিয়ে এক ব্যক্তিকে খুন করার অভিযোগ উঠলো পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আউশগ্রামের রেওড়া গ্রামে খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের নাম সাদেক শেখ(৩৮)। ওই ঘটনায় এক মহিলা সহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে এলাকায় যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। যান পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন সহ পুলিশ আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে পুরানো রাগের জেরেই সাদেক শেখকে খুন করা হয়েছে।পেশায় কৃষক ছিলেন সাদেক শেখ। তিনি আমিনের (জমি পরিমাপ) কাজও করতেন। নিহতের ভাই সঞ্জয় শেখ জানান তার দাদা সাবমার্সিবল পাম্পের সেচখরচা বাবদ টাকা আদায় করতে গ্রামের কয়েকজনের কাছে গিয়েছিলেন। মেটেপাড়ায় চন্দন মেটের বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় সাদেককে আচমকা টিউবওয়েলের লোহার হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। লুটিয়ে পড়েন সাদেক। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে বীরভূমের সিয়ান হাসপাতালে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। সঞ্জয় শেখের অভিযোগ, পুরানো কোনও রাগের কারণেই তার দাদাকে চন্দন মেটে খুন করেছে। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ চন্দন, তার স্ত্রী ও ছেলেকে আটক করেছে।
গতকাল সন্ধায় বাগুইআটি জোড়া খুন কাণ্ডে ভাঙ্গড় থানার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেন CID তদন্তকারী অফিসারেরা। বাগুইয়াটি জোড়া কাণ্ডে বাসন্তী হাইওয়ের ঘটকপুকুর সহ ভাঙ্গড় থানা এলাকার একাধিক মোড়ের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে তিনজনার একটি CID টীম। তাঁরা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্তে আসতে চাইছেন সেদিন কোন জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে। এখনও অবধি মুল অভিযুক্ত অধরা।
এদিন আদালত থেকে মূল অভিযুক্ত বাপি পণ্ডিতের জামিনের খবর এলাকায় জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। তারা একজোট হয়ে রাত পৌনে দশটা নাগাদ আগরপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে বিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখতে থাকে। এদিকে জামিন পাওয়ার ঘটনার খবরে বিক্ষোভ চলাকালীনই অনুপম দত্তের স্ত্রী তথা ওই ওয়ার্ডের পৌরমাতা মীনাক্ষী দত্ত তার দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তার মায়ের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে কামারহাটি সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিক্ষোভকারী বলেন, যদি বাপিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন ।এখানে উল্লেখ্য, ১৩ মার্চ ২০২২ অনুপমের বাড়ি থেকে সামান্য দূরে, আগরপাড়া স্টেশন রোডে স্কুটারে ওঠার মুহুর্তে এক দুষ্কৃতী কয়েক হাত দূর থেকে অনুপমকে লক্ষ করে গুলি চালায়। তৎকালীন পানিহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুপমের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় । সেই রাতের মধ্যে গ্রেফতার হয় অমিত পণ্ডিত। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দাদের তদন্তে উঠে আসে, খুনের সুপারি দিয়েছিল বাপি। জানাযায় এর আগে অন্য এক দুষ্কৃতীকে অনুপমকে মারা জন্য সুপারি দেইয়েছিল বাপি, সে কাজটি না করায় পুর ভোটের ঠিক পরেই অমিতকে কাজে লাগায়। সেই ঘটনার পরেই অনুপম দত্তের স্ত্রী মীনাক্ষী ও আত্মীয় পরিজনেরা দোষীদের চরম শাস্তির দাবি করে আসছিলেন। এমতবস্থায় বাপি জামিন পেয়ে গেলে তাঁদের কোনও ক্ষতি হতে পারে সেই আশঙ্কায় মীনাক্ষী ও তাঁর পরিবার।
ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করলো পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার পুলিশ। গভীর রাতে বাড়িতে ডেকে প্রতিবেশী যুবককে খুন করার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় রায়না থানার বিদ্যানিধি গ্রামে। ১৭ই আগস্ট অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় সুরজ মল্লিককে। প্রথমে রায়না ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুরজের মৃত্যু হয়।রায়নার বিদ্যানিধি গ্রামের মৃত সুরজ মল্লিক(২০) শ্যামসুন্দর কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলো। সুরজের সঙ্গে প্রতিবেশী এক নাবালিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অভিযোগ মেয়ের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না মেয়ের বাবা মোস্তাক।অভিযোগ মঙ্গলবার রাতে সুরজকে ডেকে পাঠায় মোস্তাক। তারপর সকালে বাড়ির কাছে সুরজকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে রায়না ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও পরে বর্ধমান হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার দুপুরে সুরজ মারা যায়।অভিযোগ বাড়িতে ডাকার পর সুরজকে ব্যাপক মারধর করা হয়। মৃতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবী,প্রণয় ঘটিত কারণেই ওই যুবককে বাড়িতে ডেকে খুন করা হয়েছে।এরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবীতে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে প্রেমিকার বাবা মোস্তাক ও মা তুহিনাকে গ্রেপ্তার করেছে রায়না থানার পুলিশ। প্রণয় ঘটিত কারণ নাকি এর পিছনে আছে অন্য কারণ।ঠিক কি কারণে খুন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরিকল্পনা করে এক মেধাবী কলেজ পড়ুয়াকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠলো প্রতিবেশী এক পরিবারের বিরুদ্ধে। মৃত ছাত্রের নাম সুরজ মল্লিক (২০)। এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে রবিবার দুপুর থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার বোকড়ার বিদ্যানিধি গ্রামে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী গ্রামে পৌঁছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ছাত্রের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার মেনে নিতে না পেরে প্রতিবাদে স্বোচ্চার হয় গোটা গ্রামের মানুষজন। তাঁরা অভিযুক্ত পরিবারের সদস্য ও গ্রামের ভিলেজ পুলিশ তন্ময় সামন্তর শাস্তির দাবিতে সরব হন। বিক্ষুব্ধ গ্রাম বাসীরা রবিবার বিকালে শ্যামসুন্দর-জামালপুর সড়ক অবরোধ করেও বিক্ষোভ দেখায়। পরে অবরোধ তুলে নিলেও গ্রামবাসীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন এদিন রাতের মধ্যে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে সোমবার তাঁরা আরো বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। উত্তেজনা থাকায় গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মৃত ছাত্রের বাবা নজরুল মল্লিক জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে সুরজ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। সে রায়নার শ্যামসুন্দর কলেজে বিএ দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো। সুরজ উচ্চ শিক্ষিত হচ্ছিল বলে ঈর্ষান্বিত ছিল গ্রামের কিশোরী সোহানা মির্জা, তাঁর বাবা মোস্তাক মির্জা ও তাঁর স্ত্রী। তাই তারা সুরজকে প্রাণে মেরে দেওয়ার পরিকল্পনা করে বলে তাঁদের অভিযোগ। নজরুল মল্লিক বলেন, পরিকল্পনা মাফিক ইলেকট্রিক লাইন ঠিক করার অজুহাতে তারা গত ১৬ আগষ্ট রাতে ফোন করে সুরজকে তাদের বাড়িতে ডাকে। তার পর সুরজকে ঘরে আটকে রেখে হাত পা বেঁধে নির্মম ভাবে মারধর করে। জখম অবস্থায় সুরজ জল চাইলে অভিযুক্তরা সুরজের মুখে ফিনাইল (হারপিক) ঢেলে দেয়। সুরজ অচৈতন্য হয়ে পড়লো অভিযুক্তরা সুরজকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। মৃত ছাত্রের বোন সুমনা খাতুন ও তাঁদের প্রতিবেশী সেখ আব্বাস উদ্দিন বলেন, সুরজ কে এমন নির্মভাবে মারধর করে জখম করা কথা জানার পরেই তাঁরা স্থানীয় রায়না থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। থানার ডিউটিতে থাকা পুলিশ অফিসার ওইদিন উল্টে তাঁদের বলেন, সুরজকে কে মেরেছে তার কোনও প্রমাণ আছে? কোনও সাক্ষী আছে? কেউ দেখেছে কি? কোনও কেস না নিয়ে টেবিলে বসে থাকা পুলিশ অফিসার ওইদিন তাঁদের ফিরিয়ে দেন। অথচ সুরজ মারা গেছে জানতে পারার পরেই অভিযুক্ত মোস্তাক মির্জা তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়ে দেয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দুটি ট্রাক্টর, দুটি চারচাকা ও বেশকিছু মোটর সাইকেল নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের গলসির বন্দুটিয়া গ্রামের শখানেক মানুষ গলসি থানার উপস্থিত হন। উল্লেখ্য গত ২৬ জুন রবিবার গলসির ইরকোনাতে এক যুবকের ঝুলন্ত পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। গাম সুত্রে জানা যায় মৃত ওই যুবকের নাম সেখ মনিরুল(২৭)। তিনি গলসি থানার বন্দুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সেই ঘটনায় মৃতের পরিবার থানায় অভিযোগ জানায়। মৃতের বাবা ও ভাইয়ের অভিযোগ, খায়রুল সেখকে খুন করা হয়েছে। কিন্তু দোষীদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। ওই ঘটনায় তারা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। গত ২৩ জুন বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিল মনিরুল। পরিবারের লোকেরা বিভিন্ন আত্মীয় পরিজনদের কাছে খোঁজ খবর নেন। ওই বিষয়ে তারা গলসি থানায় একটি নিখোঁজ ডাইরিও করেন। এরপরই, পাশের গ্রাম ইরকোনার একটি গোয়াল ঘরের দোতালার পরিত্যক্ত ঘর থেকে মনিরুলের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযুক্তদের আটক করার দাবীতে আজ তাঁরা গলসি থানায় বিক্ষোভ জানাতে হাজির হয়।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো কারণ ছাড়াই গলায় কোপ মেরে এক যুবককে খুনের অভিযোগে আর এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ।এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বুধবার সাত সকালে ধীমান ঘোষ নামে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে বিশ্বজিত দাস নামে ওই যুবককে। গলায় কোপ লাগা অবস্থায় যুবকটি কিছু দূর যাওয়ার পরেই রাস্তায় লুটিয়ে পরে। বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পরে ঘটনাস্থলে আসে দেওয়ানদিঘী থানার পুলিশ। তাকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন । জানা যায়, মৃতের নাম বিশ্বজিৎ দাস, তাঁর বাড়ি বর্ধমান শহরের বিজয়রাম এলাকায়। বর্ধমান-১ ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস এবং দেওয়ানদিঘী থানার খুব কাছেই ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাস্থলে আসেন পুর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের ডিএসপি অতনু ঘোষাল। আসেন অন্যান্য আধিকারিকরা। কী ভাবে এবং কেন এই খুন তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। জানা যায়, অতর্কিতে আক্রমণ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। অভিযুক্ত বাড়িতে গেলে তাকে বাড়ির লোক তালাবন্ধ করে রাখে। পরিবার ও এলাকার লোক পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ধীমানকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে এর আগেও ধীমান এই ধরনের অপরাধ করেছে। তাঁরা জানান এর আগে ছেলেটিকে তার বাবাকেও গলায় কোপ মেরেছিল। ডিএসপি (হেড কোয়ার্টার) অতনু ঘোষাল জানান, এইভাবে আক্রমণ করার কারণ স্পষ্ট নয়। কী কারণে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তের পুরনো কোনো রেকর্ড আছে কী না তাও দেখা হচ্ছে।
হাওড়ার আমতার ছাত্রনেতা আনিস খানের রহস্য-মৃত্যুতে আদালতে চার্জশিট পেশ করল সিট। রাজ্য পুলিশের সিট চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, খুন হননি আনিস। আনিসের পরিবার ঘটনার পর থেকে দাবি করে আসছে তাঁকে খুন করা হয়েছে। সিটের জমা দেওয়া চার্জশিটে আমতার তৎকালীন ওসি, এক এএসআই, এক হোমগার্ড ও দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের নামের উল্লেখ রয়েছে।আমতার ছাত্রনেতা আনিসকে পুলিশই খুন করেছে। অভিযোগ তাঁর পরিবারের। আনিসের রহস্য-মৃত্যু ঘিরে একটা সময় টানা কয়েকদিন উত্তাল ছিল শহর কলকাতা। আনিস-মৃত্যুতে সিবিআই তদন্তের দাবি করে আসছে তাঁর বাবা সালিম খান। আনিসের মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলে সরব হয়েছিল বিরোধীরাও। আনিসের পরিবারের দাবি খারিজ করে দিয়েছে সিট। উপর থেকে পড়ে গিয়েই আনিসের মৃত্যু হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেছে সিট। একইসঙ্গে পুলিশের গাফিলতির বিষয়টিরও উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে।
নদিয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার ঘটনায় প্রতিবেশীকে গ্রেফতার করেছে পলাশিপাড়া থানার পুলিশ। সোমবার রাতে নদিয়ার পলাশিপাড়ার রানিনগরে একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা ঘটে। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, এক মাস আগে প্রতিবেশী কৃষ্ণ মন্ডলের বাড়ির সামনে পাথর রাখা নিয়ে গন্ডগোল হয়েছিল রাজোয়ার পরিবারের সঙ্গে। তখন থেকে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। সেই শত্রুতা থেকেই এমন অপরাধের ঘটনা ঘটিয়েছে কষ্ণ।সোমবার রাতে রানিনগরে রাজোয়ার পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়। সোমবার রাতে পুলিশ উদ্ধার করে গৃহকর্তা দমন রাজোয়ার, তাঁর স্ত্রী সুমিত্রা ও মেয়ে মালার মৃতদেহ। তিনজনেরই শরীর ছিল একেবারে ক্ষতবিক্ষত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে তাঁদের। তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে জখম তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কী কারণে একই পরিবারের তিনজনকে খুন করা হল, তা নিয়ে ধন্দে পড়ে যায় পুলিশ।প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছিল, সম্পত্তি বা প্রণয়ঘটিতে কারণে খুন হতে পারে। পুলিশি তদন্ত এগোতেই বেরিয়ে আসে পাথর রাখার বিষয়টি। বাড়ির সামনে পাথর, তা নিয়ে বিবাদ ও সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মাস তিন-তিনটে খুন! একথা ভাবতেই পারছে না রানিনগর এলাকার বাসিন্দারা। তদন্তকারীরাও অবাক হয়েছেন এই ঘটনায়।
রাজনীতি ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এখন সমার্থক শব্দ। বাংলায় ঘটনা ঘটলে বিজেপি কেন্দ্রীয় ভাবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পাঠাচ্ছে। বিজেপি শাসিত রাজ্য বা কেন্দ্রীয় পুলিশের তত্বাবধানে কোনও ঘটনা ঘটলে সেখানে এই কমিটি গঠন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। নাম একই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। এবার বহরমপুরের ছাত্রী খুনের ঘটনায় ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পাঠানো নিয়ে কটাক্ষ করলেন বিরোধী দলনেতা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।শুভেন্দু সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, জানতে চাই মাননীয়া কখন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠাচ্ছেন বহরমপুরে? @MamataOfficial আপনার শাসনকালে অপরাধীদের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনি আইন শৃঙ্খলার অবনতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন এবং যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দিন।জানতে চাই মাননীয়া কখন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম পাঠাচ্ছেন বহরমপুরে?@MamataOfficial আপনার শাসনকালে অপরাধীদের মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে। আপনি আইন শৃঙ্খলার অবনতির দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন এবং যোগ্য কাউকে দায়িত্ব দিন। Suvendu Adhikari শুভেন্দু অধিকারী (@SuvenduWB) May 3, 2022রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে তৃণমূলের পঞ্চায়েত উপপ্রধান খুন হওয়ার পর গণহত্যায় ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে আরও ২জন অগ্নিদগ্ধের মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। এই ঘটনার বিস্তারিত জানতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিলেন। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নাড্ডাকে রিপোর্ট দিয়েছিল। পরে হাঁসখালিতে গণধর্ষণের ঘটনাতেও দলের মহিলা সদস্যের নিয়ে ফ্য়াক্ট ফাইন্ডিং কমিটি ঘটনা স্থলে গিয়ে মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে।এরইমধ্যে উত্তরপ্রদেশে একই পরিবারের ৫ সদস্যকে গলার নালি কেটে কেটে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়। সেখানে পৌঁছায় তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। তারপর দিল্লির ঘটনায় ফের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পাঠায় তৃণমূল। উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে যোগীর সরকার। আর দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির পাল্টা তৃণমূলও গঠন করে।গতকাল সোমবার সন্ধ্য়ায় বহরমপুরে চাকু দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে অনেকের সামনে এক কলেজছাত্রীকে খুন করে যুবক। অভিযুক্ত সুশান্ত চৌধুরীকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু।
বহরমপুর ভরসন্ধ্য়ায় কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে খুনের রেশ মিলতে মিলতেই নদিয়ায় একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার পলাশিপাড়ার রানিনগরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বহরমপুরের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, নদিয়ার ঘটনাতেও প্রণয়ঘটিত কারণ থাকতে পারে।পুলিশ সূত্রে খবর, নদিয়ার পলাশিপাড়ার রানিনগরে একই বাড়ি থেকে গতকাল, সোমবার রাতে উদ্ধার করা হয়েছে গৃহকর্তা দমন রাজোয়ার, তাঁর স্ত্রী সুমিত্রা ও মেয়ে মালার মৃতদেহ। তিনজনেরই শরীর ছিল একেবারে ক্ষতবিক্ষত। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপান হয়েছে। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নিয়ে যাওয়া হয় তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে। সেখানেই তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।কী কারণে খুন সেই নিয়ে ধন্দে পড়েছে পলাশিপাড়ার পুলিশ। সম্পত্তি না পারিবারিক গন্ডগোলের জন্য খুন, নাকি প্রণয়ঘটিত কারণে খুন। পুরো বিষয়টা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে বহরমপুরে তৃতীয় বর্ষের কলেজছাত্রী সুতপা চৌধুরীর খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক সুশান্ত চৌধুরীকে সামশেরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তোলপাড় সারা দেশ। এই ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে বিজেপি বিরোধী দলগুলি যোগী সরকারের তুলোধোনা করছে। উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁরা। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রবিবার প্রয়াগরাজের ঘটনাস্থলে যায় পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে ওই প্রতিনিধি দল।এরাজ্যের বীরভূমের বগটুই গ্রামের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সারা দেশকে। এবার উত্তরপ্রদেশের ঘচনায় ছিছি করছে সারা দেশ। প্রয়াগরাজের থরভই থানার খেবরাজপুর গ্রামে ২ বছরের শিশু-সহ একই পরিবারের ৫ জনকে গলার নলি কেটে হত্যা করা হয়েছে। তারপর বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার হয়েছে বিবস্ত্র অবস্থায় বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে ও পুত্রবধূর মৃতদেহ।এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রনিতিধি দলে ছিলেন দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, বনগাঁর প্রাক্তন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, তৃণমূল নেতা সাকেত গোখলে, রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি ও উত্তরপ্রদেশের তৃণমূল নেতা ললিতেশ ত্রিপাঠী। বিজেপি এরাজ্যে বগটুই গণহত্যা ও হাঁসখালি গণধর্ষণকান্ডে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পাঠিয়েছিল। তৃণমূল দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীর ঘটনাতেও সাংসদদের নিয়ে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি পাঠায়। সেখানে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ, অভিযোগ করে তৃণমূল। এদিন তৃণমূল প্রতিনিধিদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের আত্মীয়রা। তাঁদের পাশে থাকার ব্যাপারে আশ্বাস দেন এই প্রতিনিধদলের সদস্যরা। উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলার তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা।
প্রয়াগরাজে একই পরিবারের পাঁচ জনকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা নিয়ে যোগী সরকারের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকার ডাবল অত্যাচার করছে। যে ভূমিকে প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ভূমি বলে আখ্যা দিয়েছেন সেই প্রয়াগরাজের খেবরাজপুর গ্রামে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তাতে আমরা বেদনাহত। গতকাল রাতে বাড়ির ছেলে না থাকার সময় পাঁচজনকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। তাতে একটি শিশুও আছে। খুন করেই ক্ষান্ত থাকেনি একটি মেয়েকে বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনার পর বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। চন্দ্রিমা বলেন, আমাদের প্রশ্ন ভারতে অনেকে যোগীরাজের কথা বলেন। ফলাও করে প্রচার করেন। এটা কি যোগীরাজ না গুন্ডারাজ? এক সপ্তাহের মধ্যে আরও একটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। এখানে যাঁরা অবান্তর ভাবে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলেন আজ তাঁরা মূক ও বধির হয়েছে। আজ তাঁরা সাইলেন্ট মোডে চলে গিয়েছে। তাঁরা কী এখন সেখানে ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা জারি করার কথা বলবেন। আজ তাঁদের আওয়াজ নেই কেন। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এখন হবে না। সম্প্রতি আনিস খুন থেকে রামপুরহাটের বগটুই, হাঁসখালি গণধর্ষণসহ নানা ঘটনা নিয়ে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বিজেপির দুটো ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি ঘুরে গিয়েছে এরাজ্য থেকে। ওই কমিটি দলের সভাপতির কাছে বাংলায় ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারার উপযোগী বলে সুপারিশ করেছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে খুন প্রকাশ হতেই উত্তরপ্রদেশের মুখ যোগী মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে প্রয়াগরাজের ঘটনা নিয়ে আক্রমণ শানাল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন একযোগে তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীরা টুইট করেছেন।
নিরঞ্জন বৈষ্ণব খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপম কান্দু খুনের ঘরনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। নিরঞ্জন ছিল তপন কান্দু খুনের প্রত্যক্ষদর্শী। ঘটনার দিন তপনের সঙ্গে হাটতে বেরিছিলেন নিরঞ্জন। তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা সিবিআই তদন্তের ওপর আস্থা রেখেছেন। নিরঞ্জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য দেখছেন পূর্নিমা।নিরঞ্জনের পরিবারের সদস্যরাও সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিল। এর আগে রামপুরহাটের বগটুই গণহত্যায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে আবার ভাদু খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। কারণ আদালত মনে করে দুটি ঘটনাই সম্পর্কযুক্ত। ঝালদার তপন কান্দু খুনের ঘটনার সাক্ষী ছিলেন নিরঞ্জন।
খুনের বাদলা নিতে বগটুইয়ের কায়দায় খুনি ও তাঁর পরিজনদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা। সোমবার বিকালে পূর্ব বর্ধমানের গলসির সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ এমন ঘটনা ঘটানোর পরেই পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় অভিযানে নামে। পুলিশ ৩৯ জনকে গ্রেফতারের পর থেকে এখন কার্যত পুরুষ শূণ্য রামগোপালপুর পঞ্চায়েতের সন্তোষপুর গ্রাম। আর তাতেই বিপাকে পড়ে গিয়েছেন উৎপল ঘোষ (৩৩) এর স্ত্রী সাধনা ঘোষ ও তাঁর পরিবার। কারণ গ্রামে এখন নাপিত, ব্রাহ্মণ কেউ নেই।স্বামীর পারলৌকিক কাজ সম্পাদনের জন্য ক্ষৌরকর্ম পর্যন্ত তাঁরা করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য বুধবার পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষেভ উগরে দিয়েছেন সাধনাদেবী। পাশাপাশি তিনি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর ঘটনার সিবিআই তদন্তও দাবি করেছেন।ছেলের সাথে অসহায় উৎপল ঘোষ-র স্ত্রী সাধনা ঘোষকৃষি প্রধান গলসির সন্তোষপুর গ্রাম হঠাৎ করে এই ভাবে খবরের শিরণামে জায়গা করে নেওয়ার নেপথ্য কারণটাও যথেষ্ট শিহরণ জাগানো। স্ত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেছিলেন এই গ্রামেরই বাসিন্দা উৎপল ঘোষ (৩৩)। শুধু প্রতিবাদ করাই নয়, স্ত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনায় জড়িত প্রতিবেশী মনোজ ঘোষের বিরুদ্ধে তিনি গলসি থানায় অভিযোগও জানিয়ে ছিলেন। তারই বদলা নিতে রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুড়ুর দিয়ে কুপিয়ে উৎপল ঘোষকে নৃশংস ভাবে খুন করে মনোজ ঘোষ। রাতে মাথায় কুড়ুল গেঁথে থাকা অবস্থায় এলাকার একটি পুকুর পাড় থেকে উদ্ধার হয় উৎপলের মৃতদেহ। মৃতর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ঘটনার তদন্তে নেমে গলসি থানার পুলিশ ওই রাতেই মনোজ কে আটোক করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। উৎপলকে নৃশংস ভাবে খুন করার কথা জেরায় মনোজ পুলিশের কাছে স্বীকারও করে নেয়। পুলিশ মনোজ ঘোষকে গ্রেফতারের পর সেমবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে তদন্তের প্রয়োজনে ৪ দিন পুলিশি হেপাজতে নিয়েছে।ভষ্মীভুত গাড়িএই পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক থাকলেও মনোজের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ে ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকালে উৎপলের মৃতদেহ বাড়িতে ফেরার পর। তা আঁচ করে গ্রামে পুলিশও চলে যায়। তারই মধ্যে গ্রামের উত্তেজিত মানুষজন মনোজ ও তাঁর জ্যাঠা এবং কাকার বাড়িতে চড়াও হয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে পোড়ে মনোজ ও তাঁর জ্যাঠা, কাকার বাড়িতে থাকা একাধিক গাড়ি ও খড়ের পালুই। আগুন নেভানোর জন্য খবর দেওয়া হয় দমকলে। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌছে বেশ কিছু সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও খুনের ঘটনার বদলা নিতে বাগটুইয়ের কায়দায় খুনি ও তার পরিজনদের বাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রামের ৩৯ জনকে গ্রেফতার করে।ভষ্মীভুত ট্রাকটারপুলিশের এই গ্রেপ্তারি নিয়ে এদিন প্রশ্ন তুলেছে নিহত উৎপল ঘোষের স্ত্রী সাধনাদেবী। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ নিরপরাধ গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছে। অথচ অপরাধীরা এখনও দিব্যি গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খুনি মনোজ ঘোষকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও তার বাবা কার্তিক ঘোষ ও কাকা হারাধন ঘোষকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। এখনও গ্রেফতারির ভয়ে গোটা গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে রয়েছে।গ্রামে ব্রাহ্মণ নেই, নাপিত নেই। স্বামীর মৃত্যুর তিন দিন পরও পারলৌকিক কাজ সম্পাদনে জন্য ক্ষৌরকর্ম করার রীতি থাকলেও তা করতে পারা গেল না। এইসবের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ সাধনাদেবী এদিন বলেন, আমি চাই সিবিআই আমার স্বামীকে খুনের ঘটনার তদন্তু করুক। নিহত উৎপল ঘোষের কাকা ভরত ঘোষও বলেন, পুলিশ ঠিক মত কাজ করছে না। যার বাড়ি থেকে অস্ত্র গেল উৎপলকে খুন করার জন্য তাকে পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনিও সিবিআই তদন্ত চাইছেন। যদিও জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন বলেন, পুলিশ খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সব দিক বিবেচনা করেই পুলিশ তদন্ত করছে।
কংগ্রেস নেতা তপন কান্দু খুন, সিবিআই তদন্ত শুরু, কংগ্রেসের বিক্ষোভে উত্তাল ঝালদা। এরইমধ্যে মঙ্গলবার এক নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থনে ঝালদা পুরসভায় বোর্ড গঠন করল তৃণমূল কংগ্রেস। ঝালদার পুরপ্রধান হলেন সুরেশ আগরওয়াল ও উপপুরপ্রধান পদে এলেন সুদীপ কর্মকার। এদিকে এদিন কংগ্রেসের চার কাউন্সিলরও শপথ নেন। পুলিশি হেনস্থার প্রতিবাদে বুধবার ১২ ঘন্টার ঝালদা বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস।এদিন ঝালদা শহরে মিছিল করে কংগ্রেস। কংগ্রেসের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ধস্তাধস্তি চলে কংগ্রেস কর্মী ও পুলিশের মধ্যে। ঝালদা পুরসভার বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কংগ্রেস। পুরসভার ভিতরেও তান্ডব চলতে থাকে। তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দুর ওপর পুলিশি হেনস্তার প্রতিবাদে বুধবার ১২ ঘণ্টার ঝালদা বনধের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। এদিকে কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। নিহতের স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দু সিবিআই তদন্ত শুরু করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। খুনের ঘটনার মূল চক্রান্তকারী রূপে অভিযোগ উঠেছে ঝালদা থানার আইসি সঞ্জীব ঘোষের বিরুদ্ধে। যদিও জেলা পুলিশ সুপার আইসিকে ক্লিন চিট দিয়েছেন। তবে পূর্ণিমা নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর অভিযোগ, তপন কান্দু খুনের ঘটনায় ওই আইসি যুক্ত রয়েছেন।