• ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

MI

রাজ্য

বিজয়া সন্মিলনী ঘিরে গোষ্ঠি দ্বন্দ্ব চরমে বর্ধমানের মেমারীতে

শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজয়া সম্মেলনে গড় হাজির পূর্ব বর্ধমানের মেমারী শহরের একাধিক নেতৃত্ব। শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতির ইঙ্গিত পূর্ণ তির্যক মন্তব্যে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী কোন্দল।মেমারী শহর তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠান হলেও মেমারি পৌরসভার একাধিক নেতৃত্বর অনুপস্থিতি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। এমন কি অনুপস্থিত ছিলেন মেমারী পৌরসভার পৌর প্রধান স্বপন বিষয়ী ও উপ পৌরপ্রাধান সুপ্রীয় সামন্ত।এ বিষয়ে মেমারি শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি স্বপন ঘোষালের অভিযোগ, ২০২১ সালে যারা বিজেপি জিতবে বলে উল্লাস করেছিল, তারা আজকে অনুপস্থিত আছে। ২১ সালে যারা সিপিএম এবং বিজেপির সাথে টক্কর লাগিয়ে লড়াই করেছিল তারা সবাই আছে।কার্ডে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান এর নাম নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এটা সাংগঠনিক ব্যাপার, এখানে চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান নাম থাকার কোনো ব্যাপার নেই। পুরসভার কোন অনুষ্ঠান হলে অবশ্যই চেয়ারম্যান-ভাইস-চেয়ারম্যানের নাম থাকত। তিনি আরো বলেন, তৃণমূলের এই সম্মেলনকে আটকাবার জন্য আজকে যারা আসেনি তারা রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড করেছে। সিপিএমের আমলে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস কে ভোট দিতে যেমন বাধা দেওয়া হতো, আটকে দেওয়া হতো, ঠিক তেমনি ভাবে একটি সম্মেলনে না আসার জন্য আমাদের কর্মীদেরকে ভয় দেখানো হয়েছে। যারা অনুপস্থিত তারাই ভয় দেখিয়েছে। তবে যারা আটকাচ্ছে তারা তৃণমূল কিনা জানি না। যারা বিজেপির সাথে আঁতাত করে ২১ সালে বিধায়ককে হারানোর চেষ্টা করেছিলেন তারাই আজকে ব্যারিকেড করেছে।যদিও এই বিষয়ে মেমরি পৌরসভার পৌর প্রধান ও উপ-পৌরপ্রধান কোন কোন প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। তবে জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি একটু দেরিতে পৌঁছেছি এখানে, অনুপস্থিতির বিষয়টি দেখতে পাচ্ছি তবে কারণ কি এখনও জানি না, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।গোটা বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস তোলাবাজদের দল। কোন নেতার সাথে থাকলে বেশি ভাগবাটোয়ারা পাওয়া যাবে সেই নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে কোন্দল আছে। সেকারণে সব নেতারা একসাথে থাকতে পারে না।শহর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মেমারীর কৃষ্টি প্রেক্ষা গৃহে মঙ্গলবার বিকেলে বিজয়া সম্মেলন ও দলীয় প্রবীণ নেতৃত্বদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা তথা বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী, মেমারীর বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। তবে মেমারী পৌরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২জন কাউন্সিলর থাকলে ও গড়হাজির ছিলেন বাকি ১৪ জন কাউন্সিলর।

অক্টোবর ১৮, ২০২২
রাজ্য

কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি তালিকাভুক্ত করা হলে রাজ্যে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি

কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি করার চেষ্টার প্রতিবাদর জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান শহরের কার্জনগেট চত্ত্বরে বিক্ষোভ দেখাল আদিবাসী কল্যাণ সমিতি । সমিতির অভিযোগ, এসটি হওয়ার নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে, অনৈতিকভাবে কুড়মী সম্প্রদায়কে এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধেই এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ। কুড়মি সম্প্রদায়কে এসটি করা হলে রাজ্যে আগুন জ্বলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। প্রয়োজনে রেল রোখা থেকে শুরু করে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে জানালেন তারা, এবং আগামী লোকসভা ভোটে ভোটবাক্সের মধ্যে দিয়েও এর প্রতিবাদ হবে বলে জানান তারা। এদিন বিক্ষোভ শেষে জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দেয় আন্দোলনকারীরা।

অক্টোবর ১৮, ২০২২
রাজনীতি

বিস্ফোরক বিজেপি নেতা! কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত থেকে গা ঢাকা দিতে আমেরিকা গেছেন বলে অভিযোগ

ইডি, সিবিআইয়ের তদন্ত থেকে বাঁচতে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ইউএসএ পালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।রবিবার দুপুরে বাঁকুড়া থেকে কলকাতা যাবার পথে ক্ষনিকের জন্য বর্ধমান সদর বিজেপি কার্যালয়ে আসেন সৌমিত্র খাঁ। এখানে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি এক চোখের ছবি ঘুরে বেরাচ্ছে। উনি যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, সেই হাসপাতালে আমার এক বন্ধুকে দিয়ে খোঁজ নিয়েছি। তিনি শুধুমাত্র চোখ দেখিয়েছেন বলে জানতে পারছি। তিনি বলেন, ইডি,সিবিআই এর ইনট্রোগেশন থেকে বাঁচতে তিনি ইউএসএ পালিয়ে গেছেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত অভিষেক বাইরেই থাকবেন বলে মন্তব্য করেন সৌমিত্র খাঁ। অভিষেকের স্ত্রী ও শালিকার ডাক পরেছে, এর পর অভিষেকের ডাক হতো। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মানিক ভট্টাচার্যের যে চাকরি প্রার্থীদের লিস্ট পাওয়া যাচ্ছে তাতে বেশিরভাগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশেই কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।শিবপুরে টাকা উদ্ধার প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা ও বালি পাচার নগদ লেনদেনের মাধ্যমে হয়। তাই এখানে টাকা উদ্ধার হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। মেট্রো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো শহরে এই ধরনের প্রজেক্ট করতে গেলে কিছু ক্ষতি হয়। তবে মেট্রোর নকশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এর আগেও বড় বাজারে ওভারব্রিজ ভেঙে কত মানুষের প্রান গেছে। একশো দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা আটকে যাওয়া প্রসঙ্গে সৌমিত্র খাঁ জানান, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন একশো দিন ও আবাস যোজনার টাকা আমাদের দরকার নেই। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিজয় সম্মিলনী অনুষ্ঠানে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি বিজেপি নেতাদের গাছে বেঁধে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে সৌমিত্র বলেন, আমরা এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাল ফল করবো। জেলা পরিষদে দেবু টুডু যে দূর্নীতি করেছেন তার তদন্ত হবে।

অক্টোবর ১৬, ২০২২
রাজ্য

ভাইরাল পোড়া পাহাড়ের 'গুহা', আদিম নাকি খনিজ সম্পদের জন্য খোঁড়া , জানুন বিস্তারিত

প্রসঙ্গ দক্ষিণ বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের গোড়াবাড়ি পঞ্চায়েতের অধীন ভাইরাল হওয়া আমডিহা ও দামোদরপুর মৌজায় অবস্থিত পোড়া পাহাড়ের গুহা। কেউ বলেন কড়া পাহাড়। তবে কেউ বা কড়ো পাহাড়। তবে পোড়া পাহাড়া এই নামটা বেশি শোনা যায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে। নাম করণের ইতিহাস অবশ্য জানা নেই কারও কাছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশের অভিমত, বর্ষা বা নিম্নচাপের সময় পাহাড়ের চূড়ার দিকে তাকালে কিছু পুড়লে যেমন ধোঁয়া হয় সেই রূপ ধোঁয়া দেখা যায় পাহাড়ের চূড়ায় । এই কারণে হয়তো পাহাড়ের নাম হয়েছে পোড়া পাহাড়। আমার বাড়ি থেকে পাহাড়ের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়াশোনা করার সময় গ্রামের এই পাহাড়ের নাম ভূগোল এ যেদিন প্রথমবার পড়লাম সেদিন যে কি আনন্দ হয়েছিল তা বলে বোঝানো যাবেনা। এই পাহাড় কোন আদি অনন্তকালে গড়ে উঠেছে তার সঠিক তথ্য পরিসংখ্যান কেউই দিতে পারবেনা। তবে আমার গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ের উত্তর দিকে যে গুহা রয়েছে সেটি তৈরির সঠিক গল্প এলাকার অনেকেই আপনাকে বলে দেবে। গুহা নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য পরিবেশন করা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই ঝড় আছড়ে পড়েছে জেলা ছাড়িয়ে সারা রাজ্য জুড়ে । কেউ আবার ১৯৬২ সালের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য তুল ধরে আদিম যুগের সত্যতা প্রমাণ করতে চাইছেন। কোনও অধ্যাপক গবেষক বলছেন গুহাটি বহু প্রাচীন। কেউ আবার আর্কিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য উল্লেখ করে বলেছেন এলাকায় আদিম মানুষের বসবাস ছিল। তাঁরা গুহাটি তৈরি করে ছিলেন বসবাসের জন্য। কেউ বলছেন এখানে নাকি বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু আসতেন। ওই গুহায় বসে বোমা বাঁধতেন। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী কংসাবতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় আদিম যুগের কোনও নিদর্শন থাকলেও পোড়া পাহাড়ের গুহার সঙ্গে আদিম যুগের কোনও যোগ নেই। কারণ, গুহাটি যাঁরা নিজের হাতে ড্রিল করে পাথর কেটে তৈরি করেছেন তাঁরা সবাই এখনও মরে যায়নি। আর যাঁরা সেখানে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন তাঁদের অনেকে এখনো জীবিত সুস্থ সবল আছেন। গুহায় কাজ করা সেইসব শ্রমিকদের অভিজ্ঞতার বিবরণ তুলে ধরছি আপনাদের কাছে ।ছোট বেলায় বাবার (ঁশঙ্কর চন্দ্র মাহালী) কাছে শুনেছিলাম পাহাড়ে পাথর কেটে গুহা তৈরি হয়েছে। আমার বৃদ্ধা মা বিশাখা মাহালীর (৭৭) কাছে পাহাড়ে গুহা তৈরির বিষয়ে একদিন জানতে চেয়ে ছিলাম। মা বলেছিলেন বিয়ের বেশ কিছুদিন পর পাহাড়ে কোনও ধাতু উত্তোলনের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময়ই গুহাটি তৈরি হয়। আগে কোনও গুহা ছিলোনা বলে শুনেছি। আমার গ্রাম কুঁড়েবাকড়া (আমডিহা) ও পাশাপাশি গ্রামে খোঁজখবর নিতে শুরু করলে অনেকেই জানিয়েছেন এই তো সেদিন গুহাটি তৈরি হয়েছে।কুঁড়েবাকড়া গ্রামের বাসিন্দা আসরফ আলি (৬৫), বড়মেট্যালা গ্রামের আলোক কুমার মাহাতো (৬২), বিশ্বনাথ রজক, মাইলিহীড় গ্রামের কৃষ্ণপদ বাস্কে সহ অনেকেই জানালেন পোড়া পাহাড়ে কোনও গুহা ছিলোনা। এই তো সেদিন গুহাটি তৈরি হল। কিশোর বয়েসে নিজেরা গুহা তৈরির কাজ দেখেছি । ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে যে গুহার বয়স এখন পঞ্চাশ -পঞ্চান্ন বছরের বেশি কিছুতেই নয়। আমরা দাঁড়িয়ে থেকে গুহা তৈরির কাজ দেখলাম। আর কোথা থেকে কে একদিন বেড়াতে এস দাবি করছেন তিনিই নাকি গুহার আবিষ্কারক। তাঁরা জানান জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এই পাহাড় থেকে উলফার্ম নামে এক প্রকার ধাতু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল । সেই সময় স্থানীয় বেশকিছু যুবককে এই কাজে ঠিকা শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করেছিল । যাঁরা প্রথম দিন থেকে কাজ করেছেন এবং এখনো সুস্থ স্বাভাবিক জীবিত আছেন তাঁরা হলেন খাতড়া ব্লকের খাতড়া ২ পঞ্চায়েতের বড়মেট্যালা গ্রামের বাসিন্দা দশরথ মাহাতো (৭০)। মাইলিহীড় গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া (৭০)। বড়মেট্যালা গ্রামের অনিল মাহাতো, তিলাবনী গ্রামের কৃষ্ট মাঝি, দাঁড়শোল গ্রামের শিবু মাহাতো, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মাহাতো।পাহাড়ে গুহা খননের দিন থেকে কাজ করে পরে ভারত সরকারের জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এর মাইনিং বিভাগে যিনি চাকরি করেছেন তিনি দাঁড়শোল গ্রামের বাসিন্দা নিমাই বাউরি। তিনি জানান, ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাসে জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এর মাইনিং ডিভিশন গুহা খননের কাজ শুরু করেছিল। প্রায় দুই তিন বছর কাজ হয়েছে। খননের আগে পাহাড়ে কোনও গুহা ছিলোনা। জি গোরাচারি নামে একজন মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারের আন্ডারে কাজ হয়। আমি টেকনিক্যাল লাইনে কাজ করতাম। দু বছর কাজ হওয়ার পরও বাণিজ্যিকভাবে কোনও সফলতা না পাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখান থেকে যন্ত্রপাতি নিয়ে তারা চলে যায় রাখামাইনসে। গত প্রায় ১০ - ১২ বছর আগে নিমাইবাবু অবসর গ্রহণ করে এখন বাড়িতে আছেন।এঁদের মধ্য থেকে উলফার্ম উত্তোমনের কাজে ড্রিল হেল্পার হিসাবে যিনি কাজ করেছেন সেই দশরথ মাহাতো জানিয়েছেন। তাঁর বয়স যখন ১৬ - ১৭ বছর সেই সময় জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কর্মীরা তাঁদের বাড়ি থেকে প্রায় হাফ (আধ) কিলোমিটার দূর দাঁড়শোল গ্রাম সংলগ্ন তিলাবনী মৌজায় ক্যাম্প করে থাকতেন। যে দিন তাঁরা প্রথম সেখানে এলেন সেই দিন গ্রামের অনেকের সাথে কৌতুহল নিয়ে হাজির হয়ে ছিলাম। বিকাল নাগাদ তাঁরা যখন সেখানে তাঁবু খাটানোর কাজ করছিলেন সেই সময় ধরাধরি করে দিতে বলেছিলেন কোনও একজন অফিসার। আমরা কয়েকজন তাঁবু খাটানোর কাজে সাহায্য করে ছিলাম তাঁদের। তাঁবু খাটানোর কাজ শেষে পরের দিনও যেতে বলে ছিলেন। ক্যাম্পে ২২ টি তাঁবু খাটানো হয়েছিল। সেখান থেকেই পাহাড়ে কাজ করার জন্য যেতে বলে ছিলেন তাঁরা। এলাকার ৩০ জন যুবককে পাহাড়ে কাজ করার জন্য নেওয়া হয়েছিল । ক্যাম্প থেকে প্রায় দুই কিলোমটার পোড়া পাহাড়ে গাড়িতে চাপিয়ে নিয়ে যেত। পাশাপাশি গ্রামের যাঁরা ছিলেন হেঁটে যেত। ওই ক্যাম্পে সরকারি কর্মচারী ছিলেন ২২ জন।আলোককুমার মাহাতো নামে এক ব্যক্তি জানান, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে যখন ক্যাম্প হয়েছিল সেই সময় আমরা সেখানে যেতাম। ওই সময় ১০-১১ বছর বয়স ছিল। ক্যাম্পে সিংবাবু নামে এক ড্রাইভার ছিলেন। গাড়িতে করে তিনি কংসাবতী নদীর কেচন্দা ঘাট থেকে ক্যাম্প ও পাহাড়ে ব্যবহারের জন্য জল আনতেন। কারণ, ক্যাম্পে কোনও জলের ব্যবস্থা ছিলোনা। নদীতে জল আনতে যাবার সময় গাড়িতে চাপতে চাইলে নিয়ে যেতেন। আবার পাহাড়ে কাজের জায়গায় যেতে চাইলে সেখানেও নিয়ে যেতেন। তাই শুরু থেকেই গুহা খননের কাজ দেখেছি।দশরথ মাহাতো জানান, মাইনিং ইঞ্জিনিয়ার দাসগুপ্তবাবুর অধীনে ড্রিল হেল্পার হিসাবে কাজ করতাম। মাসে ৩০০ টাকা মজুরি ছিল। তিনি জানান পাহাড়ের উত্তর পশ্চিম কোনায় পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা কালো রং এর একটি বড় প্রাচীরপাথর আছে। ওই পাথরের উত্তর দিক থেকে ড্রিল করে প্রথম উলফার্ম সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরু করার সময় প্রত্যেককে মাথায় টুপি (হেলমেট), পায়ে ফুল সু (জুতো) পরে নিতে হতো। পাথরে এক সঙ্গে ১৮ টি ড্রিল করে তাতে ডিনামাইট দিয়ে পাথর বার্স্ট করা হতো। এই কাজ করতেন অফিসারদের মধ্যে শিবশঙ্কর দাস নামে এক ব্যক্তি। কালো প্রাচীরপাথরের স্তরটি যে দিকে গিয়েছে সেই দিকেই পাথরটি ড্রিল করে ডিনামাইট দিয়ে বার্স্ট করে একটু একটু করে কেটে গুহাটি ভিতরের দিকে ঢুকেছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ছয় ফুট উচ্চতা এবং সাড়ে পাঁচ ছয় ফুট চওড়া গুহার ভিতরে কাজ করতে হতো। ভিতরে সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে কাজ করা যেত না কিছুটা ঝুঁকে কাজ করতে হতো। পাথরের আয়তন অনুযায়ী সব জায়গায় সমান ভাবে পাথর কাটা যায়নি। কোথাও বেশি আছে তো কোথাও একটু কম আছে। গুহার ভিতর অন্ধকার থাকায় কার্বাইট ল্যাম্প দেওয়া হতো। সেই আলোতে কাজ করতে হতো। উলফার্ম টুকরো (কালো পাথর) সংগ্রহ করে কাপড়ে মুড়ে সেগুলিকে তাঁরা বাইরে পাঠাতেন। কেটে কেটে ভিতরে ঢোকার সময় কালো পাথর ছাড়া ভিতরে যে মাটি ও পাথর বালি জমা হতো ট্রলিতে করে সেগুলিকে ভিতর থেকে বের করে ফেলা হতো। মূল গুহা ছাড়াও প্রাচীরপাথর যে দিকে যতটুকু গিয়েছে সেই দিকে ততটুকু পাথর কেটে শাখা গুহা তৈরি হয়েছে। ভিতের এই রকম আট-দশটি শাখা গুহা আছে। প্রাচীরপাথরটি প্রায় আড়াই থেকে তিন চেন অর্থাৎ আড়াই থেকে তিনশো ফুট গুহাটি কাটা হয়েছে। ড্রিল করে পাথর কাটার আগে ড্রিল মেশিন দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠানো হতো। সেখান থেকে নির্দেশ এলে তবেই পাথর কাটা হতো। প্রায় দুই-তিন বছর কাজ করার পর দেখা গেল যে পরিমাণ খরচ হচ্ছিল সেই খরচটুকুও সেখান থেকে উঠছিলো না। ফলে পোড়া পাহাড় থেকে উলফর্ম সংগ্রহের কাজ বন্ধ করে তাঁরা অন্য জায়গা চলে যায়।খাতড়া ২ পঞ্চায়েতের মাইলিহীড় গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্রনাথ ভুঁইয়া (৭০) জানান ২০-২২ বছর বয়সে কাজে যোগ দিয়ে ছিলেন তিনি। ভিতরে ডিনামাইট বার্স্ট করার পর ভিতরে ঢুকে পাথর মাটি ট্রলিতে করে বাইরে আনা হতো। ট্রলি যাতায়াতের জন্য ট্রেন লাইনের মতো লাইন ছিল। লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ট্রলি ছিল রিভলভিং। যে দিকে ইচ্ছা ঘোরানো যেত। পাহাড়ে যেখানে উলফার্ম তোলার কাজ চলছিল সেখানে জলের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পাহাড়ের ঢালে সিমেন্টের বাঁধ দিয়ে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কংসাবতী নদী থেকে গাড়িতে (ট্যাঙ্ক) জল এনে সেখানে চৌবাচ্চায় ঢেলে রাখা হত। সেই জল দিনভর বিভিন্ন কাজে এবং পাথরে ড্রিল করার কাজে ব্যবহার হতো। পাহাড়ে গুহার অদূরে জল ধরে রাখার জায়গাটি আজও সম্পূর্ন অক্ষত আছে।দশরথবাবু জানান, এই পোড়া পাহাড়ে যাঁরা কাজ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে আমডিহা গ্রামের ঁবলাই মাহাতো, চিত্তরঞ্জন মাহাতো, কুঁড়েবাকড়া গ্রামের প্রয়াত হাবু শেখ, বড়মেট্যালা গ্রামের দশরথ মাহাতো, রবি রজক, গৌর সর্দার, জগত সর্দার, গৌর সর্দার (দ্বিতীয়), গতি মাহাতো, ছোটমেট্যালা গ্রামের ঁরতন মাহাতো, অনিল মাহাতো, দাঁড়শোল গ্রামের গুহিরাম মাহাতো, রঞ্জিত মল্লিক (কাঁদরু), ঁননিগোপাল সর্দার, নিমাই বাউরি, গাঁঠিরাম মাহাতো , শিবু মাহাতো, জ্ঞানেন্দ্রনাথ মাহাতো, রানিবাঁধ থানার ধাদকিডিহি গ্রামের সুধীর মাহাতো, ভেলাইগোড়া গ্রামের ঁধরম মান্ডি, মাইলিহীড়, নগেন ভুইয়া, ঁপবিত্র ভুঁইয়া, তিলাবনী গ্রামের, ঁলস্কর বাস্কে, কৃষ্ণ মাঝি সহ ৩০ জন যুবক কাজ করতেন। কাজ বন্ধ করে সরকারি কর্মীর এখান থেকে চলে যাবার সময় তাঁদের নিয়ে যেতে চেয়ে ছিলেন। কিন্তু এখান থেকে কেউ যেতে রাজি হয়নি। দাঁড়শোল গ্রাম থেকে নিমাই বাউরি ও ননিগোপাল সর্দার নামে দুজন ব্যক্তি গিয়েছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে তাঁদের স্থায়ী চাকরি হয়ে যায়। এদের মধ্যে কয়েক বছর আগে ননিগোপাল সর্দার মারা যান। নিমাই বাউরি এখনো সুস্থ স্বাভাবিক আছেন।পরিশেষে বলি গুহা নিয়ে মানুষের কাছে মিথ্যা ভূল তথ্য পরিবেশন না করে আসুন সঠিক তথ্য তুলেধরে বাঁকুড়ার পর্যটন মানচিত্রে আরও একটি নতুন পালকের সংযোজন করতে উদ্যোগী হই আমরা সকলে। মুকুটমণিপুর পর্যটন কেন্দ্র থেকে মাত্র চার সাড়ে চার কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে পোড়া পাহাড়। অপরদিকে পাহাড় সংলগ্ন কুরকুটিয়া ডুংরি (টিলা)। তার মধ্যখানে সুন্দর ঝিল, অদূরেই পাহাড় সংলগ্ন কৃপাসিন্ধু আশ্রম এবং মন্দির। এখানকার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের যে মনকাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মুকুটমণিপুরে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সেখানে ঢোকার আগে বা পরে পাহাড়, গুহা, ঝিল, মন্দির দর্শন করে যেতে পারেন । ইচ্ছা করলে ঝিল সংলগ্ন প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে পিকনিক করতে পারবেন অনায়াসে। তাহলে আর দেরি কেন, এই মরসুমে যাঁরা মুকুটণিপুরে বেড়াতে আসার মনস্থির করছেন তাঁরা পোড়া পাহাড়ের গুহা দেখে যাবার কথা অবশ্যই ভেবে রাখুন।(সুশীল মাহালীর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া)

অক্টোবর ১৫, ২০২২
রাজনীতি

দ্বিতীয় বার জেলা সভাপতি হয়ে কেষ্ট গড়ে বিজয়া সম্মিলনীতে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

জেলা সভাপতি হওয়ার পর এই প্রথম পূর্ব বর্ধমানের কোন দলীয় সভায় হাজির হলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অনুব্রত মণ্ডল জেলে যাওয়ার পর আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের দলীয় সংগঠন সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। আর দায়িত্ব পাওয়ার পর শুক্রবার প্রথম আউশগ্রামে দলীয় কোনও কর্মসূচিতে অংশ নিলেন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। এবং তাৎপর্যপূর্ন ভাবে সেই যাত্রা শুরু অনুব্রত গড় বলে ক্ষ্যাত আউশগ্রাম।শুক্রবার আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনী ছিল গেরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বুথস্তরের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় রেখে চলার বার্তা দিলেন। পাশাপাশি আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের জন্য প্রস্তুতির পাশাপাশি গুরুদায়িত্ব হিসাবে আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকা প্রশাসনিকভাবে পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে পড়লেও বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত আউশগ্রাম। এই বিধানসভা এলাকায় দলীয় সংগঠন এতদিন ধরে সামলাছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু তিনি গরুপাচার মামলায় জেলে যাওয়ার পর পূর্ব বর্ধমান জেলা নেতৃত্বকে আউশগ্রাম এলাকায় সংগঠন দেখার দায়িত্ব দিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে ছিলেন বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অসিত মাল, জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্যনেত্রী জয়া দত্ত, আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থান্দার, বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ কুমার মালিক ও যুব নেতা তথা জেলা-যুব সম্পাদক বর্ধমানের রাসবিহারী হালদার।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
রাজ্য

উধাও খোদ মহাদেব! বর্ধমানে চুরি গেলো শিবলিঙ্গ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

শিবলিঙ্গ চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে। শুক্রবার সকালে মাধবডিহির নরত্তমবাটি গ্রামের বাসিন্দারা দেখেন শিবলিঙ্গ নেই। কিভাবে শিবলিঙ্গটি উধাও হল তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না গ্রামের বাসিন্দারা। ধর্মীয় স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একটি শিব ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কথিত আছে এখানকার দেবাদিদেব মহাদেব নাকি কোন মন্দিরে নয় বরং খোলা জায়গাতেই থাকতে পছন্দ করেন। রাতের অন্ধকারে কোন ভাবে সেই শিবলিঙ্গের অর্ধেক অংশ উধাও হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। কিভাবে সেই শিবলিঙ্গটি উধাও হয়ে গেল সেই নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছেন তারা। এই ঘটনায় গ্রামের মানুষরা খুবই দুঃখিত। যেহেতু এই শিব ঠাকুরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কাল্প কাহিনী রয়েছে তাই এই ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তারা। শিবলিঙ্গটিকে খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে মাধবডিহি থানার পুলিশ।সেবাইত শান্তিনাথ ব্যানার্জী বলেন, উপরের অংশ নিয়ে গেছে দুস্কৃতিরা।কিন্তু বাবাকে অর্থাৎ শান্তিনাথকে নিয়ে যেতে পারে নি।কারণ বাবা মহাদেব এখানে স্বপ্নাদেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সুতরাং বানার আসল রূপ এখানে আছে।গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষ বলেন, শিবলিঙ্গটি কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে।স্থানীয় বাসিন্দা জয়রাম চক্রবর্তী বলেন, এটি কষ্টিক পাথরের শিবলিঙ্গ। হাজার বছরের পুরনো, বহু মূল্য। তার ধারণা কোন তান্ত্রিকের কাজ হতে পারে।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
কলকাতা

'দুর্গাপুজোয় গান্ধিজিকে অসুর, জনগণ জবাব দেবে,' বললেন মমতা

এবার রাজ্যে দুর্গাপুজোয় ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছে। পুজোয় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় সব থেকে বেশি। বৃহস্পতিবার উত্তীর্ণ সভাঘরে দলের বিজয়া সম্মেলনীতে একথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মায়ের আরাধনা শেষ করে লড়াই শুরু করছি। চারটে ডান্ডা নিয়ে গেলেন মনে করলেন তৃণমূল উঠে গিয়েছে, এত সোজা নয়। উতৎসব মরসুমে এসব করি না।কলকাতায় অসুরকে গান্ধির রূপ দিয়েছিল একটি পুজো কমিটি। তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল। থানায় অভিযোগও হয়েছিল। শেষমেশ সেই রূপের পরিবর্তন করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, কথায় কথায় বলেন বাংলায় দুর্গাপুজো হয়না, সরস্বতী পুজো হয় না। এদিকে গান্ধিজিকে অসুর বানিয়ে দিলেন। এটা লজ্জার বিষয়। আমরা জানতে পারিনি। গোপনে করে দিয়েছে। মা দুর্গা গান্ধিজিকে মারছে। পরে তা সরানো হয়েছে। পুজোর সময় আমি কাউকে কিছু বলিনি। শুনলে সবার দুঃখ হবে। প্রতিবাদ করতে শুরু করবে। জনগণই এর জবাব দেব।এদিন ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইডি, সিবিআইযের হাতে নানা সময়ে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও জেলবন্দি হয়ে আছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আজ ক্ষমতায় আছ। এজেন্সি দেখাচ্ছ। কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না তখন এজেন্সি তোমার ঘরে ঢুকে দুকান মূলে দেবে।

অক্টোবর ১৩, ২০২২
কলকাতা

বিজয়া সম্মিলনীতে ডাক না পাওয়ায় তৃণমূল বিধায়কের গোসাঁ, চরম কটাক্ষ বিরোধীদের

তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া তাপসের জোড়া মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দুই তাপসই উত্তর ২৪পরগনার বিধায়ক। একজন আদি কংগ্রেসের অন্যজন সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়ের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বোমা ফাটালেন নিউটাউন-রাজারহাটের তৃণমূল বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। বুধবার নিউটাউনে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় নিজেকে অপমানিত বোধ করছেন স্থানীয় এই বিধায়ক। তিনি মর্মাহত। তাপসের কটাক্ষ, দলে দুটি শ্রেণি, বাবু ও চাকর। চাকরেরা ডাক পান না। আমি বোধ হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতেই পড়ি। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়ায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করে আগুনে ঘি ঢেলেছেন নিউটাউন-রাজারহাটের বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। এর আগে উত্তর কলকাতার তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়। বুধবার সন্ধেয় ইকো পার্কে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিজয়া সম্মিলনীতে একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক সেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত থাকলেও ব্রাত্য ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়। তাঁরই বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন হলেও তাঁকেই সেখানে ডাকেননি উদ্যোক্তারা। তাতেই গোসাঁ হয়েছেন তাপস চট্টোপাধ্যায়।স্বভাবতই এই ঘটনায় হতাশ তৃণমূল বিধায়ক। দলের প্রতি একরাশ অভিমান পড়েছে তাঁর গলায়। তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন,দলে দুটি শ্রেণি, বাবু ও চাকর। চাকরেরা ডাক পান না। আমি বোধ হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতেই পড়ি। আমার বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় এই অনুষ্ঠান হয়েছে। তবে আমি এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে কিছু জানি না। আগেও ডাক পাইনি। সেবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েও সদুত্তর পাইনি। ওখানে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন আমি কি তাঁদের মধ্যেও পড়ি না? দলে বাবু ও চাকরদের শ্রেণির মধ্যে আমি বোধ হয় দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত। তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্যে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।এই বিজয়া সম্মিলনীতে ডাক না পাওয়ায় তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তাপস চট্টোপাধ্যায়। সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর বক্তব্যে। সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের সম্পর্ক বরাবরই অম্লমধুর। একাধিকবার পরষ্পরকে পরষ্পরের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেও দেখা গিয়েছে। যদিও দলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে বিতর্ক বাড়েনি। তাঁকে বারবার বিজয়া সম্মিলনীতে ব্রাত্য রাখায় পরোক্ষে সব্যসাচীরই হাত দেখছেন তাপস, অন্তত তাঁর কথাবার্তায় সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট হয়েছে।তাপসের মন্তব্য, যাঁরা বলেছিলেন আর কটা দিন, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেগম বলেছিলেন তাঁরা ডাক পান। আমি ডাক পাই না। দিনরাত পরিশ্রম করা অপরাধ কিনা জানি না। বিষয়টা খুব অপমানের। স্থানীয় বিধায়ককে বাদ দেওয়া হল। আমি সিপিএম থেকে এসেছি বলে হয়তো এখনও আমার বিশ্বাসযোগত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তড়িঘড়ি বিষয়টি নিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে।এদিকে তাপসের ওই অনুষ্ঠানে ডাক না পাওয়াকে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, বিধায়ক মদন মিত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ। এমন ঘটনা ঘটতেই পারে বলে প্রবীণ দুই নেতা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তবে, মদন মিত্র বলেন, তবে নিজেকে গালমন্দ করেছে তাপস, তবে আমি বলবো যেন আত্মহত্যা না করে। খেলা অনেক বাকি। বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ওই দলে তো সবাই কর্মচারী। সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, বেশি তেলা আদায় করতে পারছে না বলে রেগে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও আশীর্বাদ চাইছে।

অক্টোবর ১৩, ২০২২
কলকাতা

মোমিনপুরের হিংসার ঘটনার তদন্তে সিট গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

মোমিনপুরের অশান্তির ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট(SIT) গঠনের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালব্য ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের নেতৃত্বে সিটের সদস্যরা কাজ করবে। তদন্তের গতি নিয়ে দু সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গত শনিবার মোমিনপুরের ময়ুরভঞ্জ রোডে ব্যাপক গোষ্ঠা সংঘর্ষ ঘটে। রবিবারও হিংসা অব্যাহত ছিল। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ জখম হয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে আহত কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিককেও। ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিল তাঁরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দেয় তাঁরা। এই হিংসার ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়েরও করে বিজেপি। তারই শুনানি ছিল এদিন।আদালত জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলকে অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ ও তাদের উদ্দেশ্য অনুসন্ধান করতে হবে। একইসঙ্গে হিংসার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করে বহাল রাখার ব্যাপারেও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। আদালত বলেছে, স্থানীয়রা কোনওভাবেই যেন আতঙ্কের মধ্যে না থাকে। পুলিশ পিকেটিংও চলবে। আদালতের নির্দেশ, ওই দিনের অশান্তির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।আদালতের নির্দেশের পর এদিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার নগরপাল বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, এলাকা এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনও নাগরিক ভয় পেলে বা আতঙ্কগ্রস্ত থাকলে অবশ্য পুলিশকে জানান, পদক্ষেপ করা হবে।

অক্টোবর ১২, ২০২২
রাজ্য

বিসর্জনের মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষে জখম হয় দু'পক্ষের ৫ জন

লক্ষ্মী প্রতিমা বিসর্জনের সময় মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের শিবদা গ্রামে। সংঘর্ষের ঘটনায় জখম হয় দুপক্ষের ৫ জন। পুলিশ আটক করে দুপক্ষের বেশ কয়েকজনকে। জখমদের চিকিৎসার জন্য গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তেজনা থামাতে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারস্বরে মাইক বাজিয়ে শিবদা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ঠাকুর নিয়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রা ঠাকুর গয়লাগড়ে বাগদিপাড়ার পুজো মণ্ডপের সামনে আসতেই দুপক্ষই প্রতিযোগিতা করে উচ্চস্বরে মাইক বাজাতে থাকে। যাকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয়। বচসা ক্রমে রূপান্তরিত হয় সংঘর্ষে।আউসগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালেও ফের দুপক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিএসপি ডিএনটি বীরেন্দ্র পাঠকের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।তাদের উদ্ধার করে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে আউসগ্রাম থানার পুলিশ।

অক্টোবর ১২, ২০২২
রাজ্য

২০ বছর ধরে বাংলার এই জেলায় ১৮ হাত বিশিষ্ট লক্ষ্মী পুজিত হয়ে আসছে

সবে দশভুজার পুজো শেষ হল। এবার লক্ষ্মী পুজো। মালদার বামনগোলায় কুড়ি বছর ধরে অষ্টভুজা লক্ষ্মীর পুজো নিয়ে উৎসাহের অন্ত নেই। কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে ১৮ হাত বিশিষ্ট দেবী লক্ষ্মী পূজিত হন। বামনগোলা ব্লকের গাঙ্গুরিয়া সারদা তীর্থ আশ্রমে এই পুজোকে কেন্দ্র করেই ভিড় জমান ভক্তরা। সকালে মহালক্ষ্মী রূপে এবং রাতে কোজাগরী লক্ষ্মী রূপে পূজিত হবেন দেবী।স্বামী গ্রীয়াকানন্দজি মহারাজ জানিয়েছেন, ১৯৯৮ সালে এই আশ্রমের প্রতিষ্ঠা হয়। ২০০০ সাল থেকে তিনি ১৮ হাত বিশিষ্ট মহালক্ষ্মী পুজোর সূচনা করেন। তবে এখানে দেবী সকালে এক রূপে ও রাতে আরেকরূপে পুজিত হয়ে আসছেন। পুজো দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা আশ্রমে আসেন।আশ্রম কর্তাদের মতে, দেবী এখানে লক্ষ্মী, মা দুর্গা, চণ্ডীসহ নানা রূপে পূজিত হয়ে থাকেন। সেই কাল্পনিক চিন্তাধারায় দেবীকে এখানে ১৮ হাত বিশিষ্ট হিসাবে পুজো করার প্রচলন হয়েছে।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

দুর্গাপুরের যৌনপল্লীর স্যাঁত স্যাঁতে গলির ঘরে ঘরে চলছে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ

দুর্গাপুজো শেষ হলেও পুজোর রেশ চলতেই থাকে। পরিবার নিয়ে শ্বশুর বাড়ি ফিরে গেলেও প্রথম পুজো হয় মা লক্ষ্মীর। এই সময় কোজাগরী লক্ষ্মীর পুজো হয় বাংলায়।সাধারণ ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন চলছে। রবিবার এই পুজোর আয়োজন করেছিল দুর্গাপুরের কাদারোডের পতিতালয়ের যৌনকর্মীরাও। পরিবারের শান্তি কামনায় দুর্গাপুরের এই যৌনপল্লীতেও পূজিত হচ্ছেন মহালক্ষ্মী। ফল কাটা থেকে আলপনা সবই করেন যৌনকর্মীরা নিজেরাই। এতদিন যাদের অচ্ছুত বলে সামাজিক উৎসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল, এবারে সেই যৌনপল্লীর মেয়েরা নিজেরাই পুজোয় ফল কাটেন৷ নিজেরাই ভোগ রান্না করেন, নিজেদের ইচ্ছামত পুজো করেন আবার পুষ্পাঞ্জলি দেন।স্বভাবতই নিষিদ্ধ পল্লী এলাকায় দুর্গাপুজোর পর আবারও ধুমধাম করে ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে লক্ষ্মীপুজো। আলোকবিহীন স্যাঁত স্যাঁত গলির আনাচে কানাচে তাই এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লক্ষ্মীর পাঁচালী পাঠ। আলোর ঝলকানি। তাঁরা জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়লে মনে শান্তি পান। তাঁদের পাঁচালী পড়তে ভালো লাগে।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে দেরিয়াপুরে 'মণ্ডল পরিবারের' লক্ষ্মী পুজো এবছরে শতবর্ষে পদার্পন করলো

আজ রবিবার ৯ অক্টোবর ২০২২ কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। দেবী লক্ষ্মী হলেন শান্তি, শ্রী ও সম্পদের প্রতীক। বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন করা হয়। আমবাঙালীর মনে করে যে বাড়িতে মা লক্ষ্মীর বাস, সেখানে কখনও কোনোদিন অভাব আসবে না। সাধারনভাবে বৃহস্পতীবার কে লক্ষ্মীবার বলে মানা হয়। ওইদিন বাংলার ঘরে ঘরে নিরামিষ খাওয়ার চল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ধারণা ভক্তি ভরে রীতিনীতি মেনে লক্ষ্মীদেবীর পুজার্চনা করা হলে, দেবীর কৃপায় সংসার সর্বদা ধন-সম্পদের অভাব থাকবেনা।লক্ষ্মী মণ্ডপ ও প্রতিষ্ঠাতা কেদারনাথ মণ্ডলদক্ষিণবঙ্গে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর চল সবথেকে বেশী দক্ষিণ দামোদর এলাকায়। সেখানকার রায়না, আনগুনো, শ্যামসুন্দর, মেরাল, বোখরা, দেরিয়াপুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি লক্ষ্মী পুজোর ধুমধাম লক্ষ্য করা যায়। এবছর পূর্ব বর্ধমানের দেরিয়াপুরে মণ্ডল বাড়ির লক্ষ্মী পুজো ১০০ বছরে পদার্পণ করলো। ১৯২৩ এ মণ্ডল বংশের কেদারনাথ মণ্ডল এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পর এই পুজো দ্বায়িত্ব সামলেছেন গীতাপদ মন্ডল, শান্তিময় মন্ডল ও হরিনারায়ণ মন্ডলেরা। কালের নিয়মে একান্নবর্তী পরিবার ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ছোট হয়ে এলেও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা ধূমধামের সাথে দেরিয়াপুরের মণ্ডল পরিবার এখনও একসাথেই করে আসছেন।বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সুজিত মণ্ডলপরিবারের সদস্য সুমিত মণ্ডল জানান, বর্তমানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০ জন, তাঁদের অধিকাংশই কর্মসুত্রে গ্রামে না থাকলেও পুজো উপলক্ষে সকলে এই দুদিন একত্রিত হন দেরিয়াপুরে। পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয় কুটুম্ব সকলে মিলে প্রত্যেক বছর প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন মানুষ পুজোর পরের দিন দেবীর ভোগ গ্রহণ করেন। সুমিত জানান এই পুজোর নানা দ্বায়িত্ব বাড়ির বড়দের সাথে তিনি ছাড়াও পরিবারের সদস্য সন্দীপন, স্বস্তিক, অনিরুদ্ধরাও ভাগ করে নেন। তাঁরা জানান, এবছরে ১০০ বছর উদযাপনের জন্য আত্মীয়সজন, বন্ধুবান্ধব মিলে প্রায় ৮০০ জনের বেশী মানুষ এই পুজোতে আমন্ত্রিত। তিনি আরও জানান শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে পরিবারের তরফ থেকে ১৫০ জন মানুষকে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

অক্টোবর ০৯, ২০২২
রাজ্য

রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো, আকাশছোঁয়া দর ফল-সবজির

রাত পোহালেই লক্ষ্মীপুজো। এটা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। পূর্ব বাংলা থেকে আসা মানুষের মধ্যে আগে বেশি প্রচলন থাকলেও এখন এ পুজো বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে। এদিন সকাল থেকেই তাই বর্ধমানের কার্জনগেট, বি সি রোড, নীলপুর, বাজেপ্রতাপপুর বা কালনাগেট, রথতলা বাজারে মানুষের ভিড়। গতকাল কার্ণিভালের জন্য শহর ছিল অবরুদ্ধ। আজ তাই বাজারে অনেক বেশি মানুষ। নিয়ম মেনে ফল আর ঠাকুর কিনছেন তাঁরা। এছাড়াও যাদের বাড়ি খিচুড়ি হবে তারা কিনছেন চাল, ডাল, সবজি।এবারে ফলের বাজার বেশ কিছুটা চড়া। ক্রেতারা বলছেন, প্রতিটা ফলের দাম আকাশছোঁয়া। আপেল, লেবু, পানিফল, নাসপাতি থেকে আখ সবের দাম বেশি। শাক আলু বা আনারসের দাম সবচেয়ে বেশি। তাদের কথায়, বচ্ছরকার দিনে ঠাকুরকে দিতে হয়। নিজেদেরও খেতে ইচ্ছে হয়। সেই সাধ আর সাধ্যের ফারাক বেড়েই চলেছে। তাই বাধ্য হয়ে কম পরিমাণেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।অন্যদিকে ফল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দাম বেশি থাকায় তাদেরও বিক্রি তুলনায় কম। কয়েকটি ফলের দাম তেমন বাড়েনি। যেমন, আপেল, মুসাম্বি লেবু। ঠাকুর বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রঙ কিংবা মুকুটের দাম বেড়েছে। তাই তাঁরা বাধ্য হয়েছেন দাম বাড়াতে।

অক্টোবর ০৮, ২০২২
রাজ্য

বিসর্জনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা-জলপাইগুড়ির মাল নদীতে হরপা বানে মৃত ৮, উদ্বেগ প্রধানমন্ত্রীর

বিজয়াতে ঘোর বিষাদের মেঘ জলপাইগুড়িতে। প্রতিমা বিসর্জনে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা জলপাইগুড়ির মাল নদীতে। হঠাৎ হরপা বানে ভেসে গিয়েছে বহু মানুষ। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ইতিমধ্যে হরপা বানের তোড়ে ভেসে গিয়ে ৪ মহিসাসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে মোট কত জন ভেসে গিয়েছে তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না। রাতে দুর্ঘটনা ঘটনায় উদ্ধারকার্যে সমস্যা হয়। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির মাল নদীতে। গতকাল, দশমীর বিসর্জন পর্ব চলছিল। নদী ও আশেপাশে বহু মানুষ জড় হয়েছিল। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আচমকা হরপা বান চলে আসে। কিছু বোঝার আগেই জলের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বহু মানুষকে। চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন উপস্থিত সকলে। স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। নদীতে আটকে পড়া ৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ মন্ত্রী বুলু চিক বারাইক আশঙ্কা করছেন, মাল নদীতে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার জেরে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রবল জলের স্রোতে বেশ কিছু মানুষ ভেসে গিয়েছেন। জলপাইগুড়ির মাল নদীতে ভয়ঙ্কর এই দুর্ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। মৃত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

অক্টোবর ০৬, ২০২২
নিবন্ধ

দুর্ঘটনায় স্বামীর অকালমৃত্যুর পর হারিয়ে গেল নবমীসন্ধ্যার এই আনন্দবাসর ছেড়

ওং নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু/নমো, অপবিত্র পবিত্রবা/ সর্বাবস্থা গতহপিবা/ যৎস্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং সবাহ্যাঃ অভ্যন্তরশুচি/ ওং নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু।হাতের তালুতে গঙ্গাজল নিয়ে মুখে ছিটিয়ে রোজকার মতো অঞ্জলি শুরু হলো আজও। দেহমন শুচি করে নিয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে আত্মনিবেদন... তাঁর করুণা-আনুকূল্য প্রার্থনা... সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলির আনুষ্ঠানিকতা--- সব নিয়েই সমাধা হলো মহানবমীর সকালের পুষ্পাঞ্জলি। হালকা রোদ... ফুরফুরে হাওয়া... নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় শরৎ আজ মনহারানো খুশী নিয়ে এসে হাজির। আজ মূল পুজো দুপুরে। আমাদের গ্রামের অপেক্ষাকৃত বড় (আকারে ও জনসংখ্যায়) বর্ণহিন্দুপাড়াটি গ্রামের পশ্চিমাংশে। আমরা তাকে ওপাড়া বলে থাকি। সেখানে একটি বারোয়ারীপুজো হয়, গ্রামের অধিষ্ঠাত্রীদেবী মা তারা-র মন্দিরের কাছেই। মহানবমীর দুপুরে ছাগবলী হয় সেখানে। এপাড়া ওপাড়ার পুজোর চার ঢাকী একযোগে দ্রিমিদ্রিমি বোল তোলে সেখানে, সঙ্গে জুটে যায় পুজোর সেরা নতুন পোশাকটি চাপিয়ে গাঁয়ের ছেলে-মেয়ে-বৌ-ঝি-তরুণ-যুবকের দল। মহাপূজার সবচেয়ে জমজমাটি সময় এই গ্রামে নবমীর দুপুরটিই--- অনেক দুমফটাস -ফিসফিস-খিলখিল-রহস্যময়ীহাসির ঝিলিক এর ভাঁজে ভাঁজে!বলি শেষ হতেই বাজনা বাজাতে বাজাতে সবাই হৈ হৈ করে চলে আসে এপাড়ায়। চাতোর-এ ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে আরতি। ভিড়ে ভিড়াক্কার পুজোতলা.. ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টায় কান ঝালাপালা... অনেকক্ষণ ধরে আরতি। চলে যায় ওপাড়ার মানুষরা... শুরু হয় হোম... সুকৌশলে ছোট ছোট কাঠের টুকরো পাঁজা করে সাজিয়ে অগ্নিসংযোগ... একটানা সুরেলা মন্ত্রোচ্চারণসহ ফুল-বেলপাতা-ঘৃতাহুতি... হোম-এর ফোঁটা... শান্তিজল...সকালে অঞ্জলির পর গুছিয়ে নাস্তা হোলো মুড়ি-ঘুগনি-বোঁদে-চা দিয়ে। ঢালা বিছানায় একটু গড়াগড়ি। বর্ধমান থেকে গাড়ি হাঁকিয়ে এসে গেল অনীক-চিত্রা-সুকন্যা-বাদশাদা। খানিক গল্পগুজব করে ঠাকুর প্রণাম সেরে সবাই মিলে রওনা দিলাম পাশের গ্রাম রতনপুর-এর উদ্দেশে।নারায়ণপুর থেকে মাত্র দুকি.মি. দূরে রতনপুর। বেশ বর্ধিষ্ণু এই গ্রামে আছে এক সাধুবাবার আশ্রম। এঅঞ্চলে প্রখ্যাত এই সাধুবাবার উল্লেখ আছে ভারতের সাধক-এও । বছরে ছমাস তিনি থাকতেন রতনপুরে , বাকি ছমাস বোলপুরের শ্রীনিকেতনে ওনার আরেক আশ্রমে। লোকে বলতো দুশো-র বেশী বয়স ওনার। খুব ছোটবেলায় একবার এসেছিলাম এখানে । বিশাল বটগাছের ছায়ায় এক খুব বুড়োমানুষের মুখ মনে পড়ে আবছা ।মূল সড়ক থেকে গাঁয়ের পথে কি.মি.খানেক ঢুকে নিরালা এক প্রাচীরঘেরা আশ্রম। সুবিশাল এক বটবৃক্ষ পিতামহ ভীষ্মের মতো তার অসংখ্য ডাল ও ঝুরি মেলে ছায়ায় ঢেকে রেখেছে সম্পূর্ণ এলাকা। বটমূলে বাঁধানো বেদী, পাশেই ছোট্ট দোচালা ঘরে সাধুবাবার প্রতিকৃতি সাজানো; একমনে পুজো করছেন এক শ্বেতবস্ত্রধারী ভক্ত। গুটিকয় বাচ্চা সঙ্গ দিল আমাদের... ঘুরে ঘুরে ছবি তুললাম সেই মহাবটচ্ছায়ে... দাঁড়ালাম গিয়ে পিছনের নিরালা পুকুরের বাঁধানো ঘাটে... দেখে এলাম আরো পিছনে বাঁধানো চত্বরের প্রান্তে সাধুবাবার সুন্দর মূর্তি... কথা বললাম আশ্রমের দায়িত্বে থাকা সত্তরোর্ধ্ব মানুষটির সঙ্গে।আষাঢ়-এর গুরুপূর্ণিমায় অনুষ্ঠান হয় আশ্রমে, আর চৈত্রমাসে তিনদিনের হরিসংকীর্তনে পাত পড়ে হাজার হাজার মানুষের। কোনো ভক্ত বা স্থায়ী আশ্রমিকের বাস নেই এখানে; সাধুবাবাও দেহ রেখেছেন সেই ৮৫ সালে, তবু সেই হাস্যমুখ যোগীপুরুষের অদৃশ্য উপস্থিতি আজও যেন রয়ে গেছে এই ছায়াসুনিবিড়শান্তিরনীড়-এর প্রতিটি ডালে ডালে পাতায় পাতায়!ফিরে এলাম নারায়ণপুর। ওরা বিদায় নিল মধ্যাহ্নভোজ-এর সনির্বন্ধ অনুরোধে কান না দিয়ে। ততক্ষণে জ্যেঠতুতো দাদা-র সম্বন্ধী জয় এসে গেছে বর্ধমান থেকে দুই বন্ধু বন্ধন আর অভিজিতকে নিয়ে। সবাই একসঙ্গে বসে গল্পগুজব-গানবাজনা করতে করতেই ওপাড়া থেকে জগঝম্প সহযোগে পুজোর ভিড় এসে হাজির। হৈ হৈ করে শুরু হয়ে গেল আরতি, আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ ভেঙে নামলো বৃষ্টি।সেই বৃষ্টিতে ঠাকুরঘর-মণ্ডপের ছাউনি-ছাতার তলায় ঠাসাঠাসি করে আমরা সবাই--- পাকাচুল প্রৌঢ়.. নুয়ে পড়া বৃদ্ধা.. টেরিবাগানো নবযুবক.. সালঙ্কারা নবোঢ়া তরুণী.. ফিটফাট গাঁয়ের জামাই.. সিকনি-গড়ানো বাচ্চা। একসময় বাদলধারা হলো সারা; হোম-শান্তিজল-ফোঁটা শেষ করে ফিরে এসে বিছানায় বডি ফেললাম তিনটে নাগাদ।আমাদের ছোটবেলায় নবমীর বিকেলে পাড়ায় নারকেল-কাড়াকাড়ি খেলা হতো। অনেকটা রাগবী খেলার স্টাইলে, একটা ঝুনো নারকেল নিয়ে পনেরো-বিশজন যুবকের টানাটানি, কে সেটা কুক্ষিগত করতে পারে। ঢাকঢোলকাঁসরের আবহসঙ্গীতে দারুন জমতো সেই নির্দোষ বলপ্রয়োগের খেলা। বহুদিন হলো উঠে গেছে সেই রীতি।তবে এখনও আছে নবমীর সন্ধ্যায় আরতি-র পর চাতোর-এ সিঁদুরখেলা। শুরু হয় সামাজিক প্রথা অনুযায়ী সধবাদের একে অন্যকে সিঁদুর পরানো দিয়ে, আর শেষ হয় হোলি-র মতো মুখে-গালে জবরদস্তি সিঁদুর মাখিয়ে দেওয়ার দুষ্টুমি দিয়ে। বেশ মজা লাগে দেখে; কিন্তু বছরকয়েক আগে এখানকার সিঁদুরখেলায় সবচেয়ে প্রাণোচ্ছল এক বৌদি, দুর্ঘটনায় স্বামীর অকালমৃত্যুর পর হারিয়ে গেল নবমীসন্ধ্যার এই আনন্দবাসর ছেড় --- তারপর থেকেই সিঁদুরখেলার আনন্দ-উচ্ছ্বাস-উচ্ছলতার আড়ালে বেশ কিছু দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাই যেন!ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ০৫, ২০২২
রাজ্য

২৬৩ বছরের পুরানো কালনার ভবানন্দপুরে বিচারক হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায়'র "মুখার্জী বাড়ি"র পুজো

কালনা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম ভবনন্দাপুর। সেই সময়ে শহর থেকে দূরে এই প্রত্যন্ত গ্রামে দুর্গা পুজো করা দূর অস্ত, ভাবনাটাই ছিলো কঠিন। বর্তমানে মুখোপাধ্যায় পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায় জানালেন, সতেরশো খীষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কালনা মহুকুমার অন্তর্গত ভবানন্দপুর গ্রামে জমিদারী লাভ করেন। এই অঞ্চলে দুর্গা পুজোর অধিক্য সেভাবে না থাকায় তিনি দুর্গা পুজোর উদ্যোগ নেন। বহুকাল অবধি এই মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজো-ই গ্রামের একমাত্র পুজো ছিলো। গ্রামবাসীরা চারদিন ধরে এই মন্ডপেই আনন্দ করতেন।শারদ সন্মান নিয়ে ক্ষুদে সদস্যদের উল্লাসভবানন্দপুরে গ্রামে এই দুর্গা পুজোর প্রবর্তক ছিলেন হরিনারায়ন মুখোপাধ্যায়। তারই উদ্যোগে এই পুজোর সূত্রপাত। পরিবারের সুত্রে জানা যায়, হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ১৭৫৯ এ (ইংরাজী) এই পুজো শুরু করেন। সাবেকি ঘরানার প্রতিমা, প্রথা মেনে মহালয়ার ভোরে দেবীর চক্ষূদান করা হয়। দেবীর গায়ে মাটি দেওয়া হয় জন্মাষ্টমীর পরেরদিন। মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, অতীতে এই পুজোতে ছাগল বলিদান দেওয়া হত। উত্তরসুরীদের কাছে শোনা কথা, কোনও এক সাধক একবার এই পুজোতে আসেন, তাঁর আদেশেই ছাগল বলি দেওয়া বন্ধ হয়। বর্তমানে এই পুজোতে ছাঁচি কুমড়ো, কলা ও আখ বলি দেওয়া হয়। নবমীর দিন কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়।মুখার্জী বাড়ির কুমারী পুজোঅশোক মুখোপাধ্যায় আরও জানান, গ্রামের সকলে এসে মায়ের ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন। আনুমানিক ১৫০০ থেকে ১৬০০ মানুষ মায়ের ভোগ প্রসাদ এখানে বসে খেয়ে যান। গ্রামের মানুষজনই সোৎসাহে এই ভোগ প্রসাদ বিতরণ করেন। জনতার কথার প্রতিনিধীর, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধিতে পুজোর আচার বা মানুষজন কে নিমন্ত্রনে কোনও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে অশোক মুখোপাধ্যায় জানান, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেভাবে আমারা কোনও কিছু ত্রুটি রাখিনি, কিভাবে মায়ের পুজোর যোগার হয়ে যাচ্ছে সেটা আমরাও বুঝতে পারিনা, পরিবারের প্রত্যকেই তাঁর অর্থনৈতিক ক্ষমতা মত এগিয়ে আসেন তাই এই পুজো করতে আমাদের সেভাবে এখনও কোনও অসুবিধার মধ্যে প্ররতে হয়নি।পরিবারের আরও এক সদস্য তাপস মুখোপাধ্যায় জানান ১৭৭৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে চালু হয়। হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায় সেই সময়ে সেই কোর্টে কলকাতায় বিচারক ছিলেন তাঁরই উদ্যোগে এই পুজোর শুরু। তাঁর কথায় এই পুজোর খরচ মায়-ই যোগার করে নেন। তিনি আরও বলেন পরিবারের সকলে এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে এই পাঁচদিন আমরা মাতোয়ারা থাকি। তাঁর বিশ্বাস খুবই জাগ্রত এই পুজো।পরিবারের কনিষ্ট সদস্য কুনাল মুখোপাধ্যায় জানান, বংশ পরম্পরায় একটা লিগাসি আমরা ক্যারী করে চলেছি খুব আনন্দ সহকারে, আমরা কোনও সময়েই মনে করিনা আমরা খাওয়াচ্ছি। এই যে গ্রামবাসীদের ভোগ বিতরণ, এটা মা দুর্গা নিজেই করিয়ে নেন, এতে আমাদের কোনও ভুমিকা নেই। তিনি ও পরিবারের বাকি সদস্যরা প্যানোরামা ও জনতার কথার শারদ সন্মান সেরা বনেদী বাড়ির পুজো পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত বলে জানান। পুরস্কার পাওয়ার মোমেন্টো নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঢাক বাজিয়ে নৃত্য করতেও দেখা যায়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের তালিতে ভট্টাচার্য্য পরিবারের ৩৫০ বছরের দুর্গা পুজো মহাসমারোহে পালিত

পূর্ব বর্ধমান জেলার তালিত গ্রামের ভট্টাচার্য্যদের জমিদার বাড়ির দুর্গা এর পুজো পালিত হচ্ছে ধুমধাম সহকারে। প্রত্যেক বছরের মত এবছরও এই পুজো ঘিরে পরিবারের সদস্যদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মত। পরিবার সুত্রে জানা যায় প্রতিমার কাঠামো প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো। পরিবারের সদস্যদের কথায়, রথযাত্রার দিন গঙ্গা মাটি দিয়ে এক চালার প্রতিমা গড়া শুরু হয়। তাঁরা আরও জানান তালিতের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো দেখতে এসেছিলেন সাধক কমলাকান্ত এবং মা সারদা দেবী। মন্দিরের পুরোহিত জানান এ বাড়ির রীতি, পুরোহিত পুজো করতে বসলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসন থেকে আর উঠতে পারবেন না। দেবীর উদ্দেশে বলিদান দেওয়া হয় ছাঁচিকুমড়ো ও আখ। অতীতে পুজোর বিভিন্ন রীতি পালনে বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগা অনুসরনে করা হত। ১৯৯৫ সালের মহস্টমীর দিন মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগা বন্ধ হয়ে যায়।তালিতের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় এখনো এতটুও ভাটা পড়েনি। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য সৌরভ ভট্টাচার্য্য জনতার কথা কে জানান, সারা বছর দেশে বিদেশে পরিবারের সদস্যরা থাকলেও এই চারটে দিন তাঁরা একত্রিত হয়ে মহানন্দে কাটিয়ে দেন। গত দুবছর করোনার কারণে পুজোয় জমায়েত একটু কম হলেও জৌলুস কমেনি এতটুকু। বছরের পর বছর পুরোনো রীতি মেনেই পালিত হয়ে আসছে আমাদের তালিতের জমিদার বাড়ির (ভট্টাচার্য পরিবারের) দুর্গাপুজো। ২০২২এর প্যানোরামা শারদ সন্মান সেরা বনেদী বাড়ির পুজো তে তাঁদের সন্মানিত করা হয়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
নিবন্ধ

সেই ঘচাংফু দেখতে আগে কচিকাঁচাদের ভিড়ে জুটে যেতাম আমিও

ঘুম ভেঙেছে অনেকক্ষণ, তাও এপাশ ওপাশ করতে করতে শেষতক যখন বিছানা ছাড়লাম, ঘড়ির কাঁটা সাতটা ছাড়িয়েছে। আদা-চা খেয়ে সংক্ষিপ্ত স্নান... নতুন পাঞ্জাবী... মেয়েকে টেনে তুলে স্নান করানো... তারপর সোজা মণ্ডপে।বুড়োদা-নুপুরদার যুগলবন্দীতে মহাষ্টমীর সকালের পুজো তখন মাঝপথে। বুড়োদা-র বাবা স্বর্গত ব্রজরাখাল মুখোপাধ্যায় আমাদের কুলপুরোহিত ছিলেন। দীর্ঘকায় কৃশ মানুষটিকে দাদামশাই বলতাম আমরা। পরিণত বয়সেও ঈষৎ ঝুঁকে দাঁড়িয়ে একহাতে ঘণ্টা নেড়ে তাঁর আরতি করা মনে পরে আজও।বাবার পর পুজোর দায়িত্ব নিল বুড়োদা, বংশীধর মুখোপাধ্যায়-- সেও হয়ে গেল তিন দশকের ওপর। স্বল্পভাষী প্রচারবিমুখ নির্লোভ মানুষটিকে বড় ভাল লাগে আমার; কী নিষ্ঠাভরে একমনে কোনো হাঁকডাক ছাড়াই পুজো করে যান, এই মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে-মার্কা আধুনিক দুনিয়ার সামনে তা একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে!তন্ত্রীধারক পুরোহিত, অর্থাৎ যিনি পুঁথি দেখে মন্ত্রপাঠ করেন--- সেই ভূমিকায় দূরশৈশবে দেখতাম স্বর্গত প্রভাকর ভট্টাচার্য ওরফে হদেভটচাজ -কে। আবছা আবছা মনে পড়া সেই বৃদ্ধ মানুষটি আত্মহত্যা করার পর বহুবছর দায়িত্বে ছিলেন স্বঃ অজিত ভট্টাচার্য। তাঁর অবর্তমানে নুপুরদা, সে হবে বছরকুড়ি।চাতোর-এ বসে মন্ত্রোচ্চারণ শুনছি --অং মম হৃদয়ে, তং মম বাহুমূলে, নং মম জিহবায়, সং মম নাসিকায়...ইত্যাদি। মাথার ওপর অশ্বত্থগাছের পাতায় হাওয়া বইছে ঝিরঝিরিয়ে... পুবের আকাশে ঘনাচ্ছে ধূসর-কালো মেঘ... রোদ ওঠেনি এখনো... একসার প্যাঁকপেঁকে হাঁস পচাকাকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেলেদুলে চলে গেল পাশের পুকুরের দিকে...কাছে বসা বিনুদা-র সাথে টুকটাক গল্প জুড়ে দিলাম। বিনুদা প্রতিবেশী, বছর আষ্টেক বড় আমার চেয়ে। সেলস-এর কাজে ছিল বর্ধমান-এর এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। সুদীর্ঘ কর্মজীবন ছেড়ে ইদানীং বসে গেছে গাঁয়ে। ছেলে সম্প্রতি দুর্গাপুরে কাজ পেয়ে চলে গেছে... মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে সে-ও বছরসাতেক হোলো... গ্রামে সময় কাটে না... লোকজন নেই... কথা বলার তেমন কেউ নেই...ঘরে বসেই টুকটাক কাজ করো না কেন বিনুদা?দূর দূর! ধারবাকিতেই খেয়ে নেবে সব।ঢাক বেজে উঠলো ঝমঝমিয়ে, সঙ্গে কাঁসরঘন্টা। সকালের আরতি শুরু। আশপাশের মেয়ে-বৌরা জুটতে লাগলো পুজোতলায় । বাটি হাতে রঙিন পুঁচকে... সদ্যতরুণী মায়ের কোলে ছটফটে বাচ্চা... স্খলিত পায়ে আমার বাবা-মায়ের মতো জনাকয় বয়স্ক মানুষ...উঠে দাঁড়ালাম গিয়ে ঢাকীর ঠিক পিছনে, এখান থেকে প্রদীপের আলোয় চকচকে মায়ের মুখ ভালো দেখা যায়।আরতি শেষ হতেই সকালের পুষ্পাঞ্জলি। পুজোর ঘরে ঢুকে পড়ে রূপা-তিস্তা-আমি বসে পড়লাম দেওয়াল ঘেঁষে। ঠাসাঠাসি ভীড়। হাতে হাতে গঙ্গাজল.. ফুল.. বেলপাতা। মন্ত্র বেশীরভাগই মুখস্থ হয়ে গেছে এত বছরে, বাকিটা কান খাড়া করে শুনে যা মনে আসে বলে দিলাম। মা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন!এক ব্যাচে সব কুলোলো না, আরেক ব্যাচ ঢুকলো ঘরে। পুরোহিত ঠাকুরকে প্রণাম করে বেরিয়ে এসে সিদ্ধান্ত হোলো: রূপা ডায়াবেটিক, তাই উপবাস আর দীর্ঘায়িত করবে না; মহাভক্ত তিস্তা আর আমি মহাষ্টমীর উপবাস টেনে দেব বিকেলে সন্ধিপুজা অবধি। আর সদা-উপবাসী আমার মা তো আছেই !সন্ধিক্ষণ আজ বিকেল সাড়ে তিনটেয়। আমাদের পুজো বৈষ্ণবমতে, তাই বলি নেই। তবে পাড়ার একপ্রান্তে সিংহবাড়ির পুজোয় (ওঁরা প্রতিমা ছাড়াই, শুধু মণ্ডপে মঙ্গলঘট স্থাপন করে পুজো করেন) চালকুমড়ো বলি হয়। সেই ঘচাংফু দেখতে আগে কচিকাঁচাদের ভিড়ে জুটে যেতাম আমিও।যুগ যুগ ধরে বর্ধমান শহরের প্রসিদ্ধ সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের সামনের চক-এ রাখা কামান দাগা হোতো সন্ধিক্ষণে। সেই কামান-নির্ঘোষ শুনে আশপাশের সমস্ত গ্রামগঞ্জে সন্ধিপুজোর সূচনা হোতো। গত শতাব্দীর শেষের দিকে একবার কামান দাগার সময় দুর্ঘটনা ঘটে-- কামানটি ফেটে গিয়ে দুজন প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ধর্মীয় কারণে কামান দাগার রেওয়াজ--- বর্ধমানে তো বটেই, পরবর্তীকালে বাংলার অন্যত্রও। এখন ঘড়ির কাঁটাই নির্দেশ দেয় -- কোন মুহূর্তে কোথাও সন্ধিপুজোর আরতিতে ঢাকে কাঠি পড়বে, বা ঝলসে উঠবে বলির খড়গ অন্য কোথাও!দুপুরবেলা পুণ্যকামী চিত্তে উপোসী পাকস্থলী থেকে মনকে সরানোর প্রয়াস পাচ্ছি, এমন সময় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো। সেই শুরু; অঝোরধারায় বর্ষণ চললো দুপুর গড়িয়ে বিকেল। আকাশের মুখ ঢাকা, ধোঁয়ামাখা চারিধার...দুলছে বাঁশবন, কলার ঝাড়...পাশের বাড়ির টিনের চালে অবিরাম ঝমাঝম... উঠোন জুড়ে জলের ধারা... ছাদ থেকে দৃশ্যমান দূরে হারানো সবুজ খেতের সর্বাঙ্গে বৃষ্টির ধূসর চাদর ...ডানপিটে বৃষ্টির মধ্যে শেষ পর্যন্ত ছাতা নিয়েই ঠাকুরতলায়। পুজোপাঠের পর শুরু হলো আরতি। এই দুর্যোগেও এসেছেন অনেকেই --- ঠাকুরঘরের বারান্দায়-ছাউনিতে-ছাতামাথায় গাছতলাতেও! জোড়া ঢাক- জোড়া কাঁসর -পেটাই ঘণ্টার সমবেত গুরুনাদে চাপা পড়ে গেছে বর্ষণগীত। ধুপধুনোর মৃদু ধূম্রজালের মধ্যে দিয়ে প্রদীপের আলো ঝিকমিক করছে মায়ের মুকুটে.. কানপাশায়.. ডাকের সাজে।বহুক্ষণ চললো আরতি। বৃষ্টি ধরে এলো ক্রমে; কমে আসছে দিনের আলোও। ততক্ষণে চোখ বুজে জোড়হাতে চেয়ে ফেলেছি সবার জন্য অনেক কিছু। রুপোর চামর দুলিয়ে আরতি শেষ করলো বুড়োদা। আমরাও জলকাদা-মাখা পা চাতোর-এর টিউবওয়েলে ধুয়ে এসে বসে পড়লাম পুষ্পাঞ্জলি দিতে। অঞ্জলির শেষে নতুন করে চাওয়ার মতো কিছু আর মনে এলো না। শুধু মনে মনে বললাম বারবার-- মা, আমাদের সবাইকে দেখো, ভালো রেখো , রক্ষা কোরো।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
রাজ্য

রাঢ়ভূমি নারায়ণপুরের সরকার বাড়ির দু'শো বছরের পুরনো পুজো, দ্বিভুজা মা দুর্গার কার্তিক গণেশহীন মর্ত্যে আগমন

পুজো শুরু কাল। নারায়ণপুরে দেশের বাড়িতে দুশো বছরের বেশী পুরোনো পুজো আমাদের। এই পঞ্চান্ন বছরের জীবনে একবার ছাড়া কখনও গ্রামের বাইরে পুজো কাটাই নি। এটা আনন্দের চেয়েও বেশী একটা অভ্যাস... পরম্পরা... ঐতিহ্যরক্ষার দায়িত্ববোধ ।পেশাগত সব দায়িত্ব তাই গুটিয়ে ফেলেছি শুক্রবার রাতের মধ্যেই। আজ সকাল থেকেই বেরোনোর তোড়জোড়। মেয়ে কলকাতার বাসা থেকে বর্ধমান এসে পড়লো দুপুরেই। রূপা ওকে নিয়ে গাড়িতে লটবহর তুলে গ্রামের বাড়ি যাবে কাল সকালে। আমার যাওয়া আজই।সবদিক সামলে সুমলে স্কুটারের সামনে সুটকেস ঠেসে নিয়ে রওনা দিলাম, ঘড়িতে তখন বিকেল তিনটে পঁচিশ। বাড়ি থেকে আধ কি.মি. দূরেই জাতীয় সড়ক; আজ বিকেলে কেন কে জানে গাড়ির চাপ একটু কম। তবু গাঁক গাঁক করে ছুটে আসা ট্রাক-ডাম্পার-দূরপাল্লার বাস-পেরাইভেটদের থেকে সদাসন্ত্রস্ত আমি এগোলাম কোনোমতে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে; যেখানে সেখানে রাস্তার ধারে একমানুষ সমান খোঁড়াখুঁড়ি... কংক্রিটের বাফার... ক্রেন... পে লোডার। কোনোমতে গুড়গুড় করে বিশ মিনিটে সাড়ে সাত কি.মি. পাড়ি দিয়ে নবাবহাট মোড়--- দু নং জাতীয় সড়ক ছেড়ে উত্তরমুখী সিউড়ি রোডে ঢুকে পড়া গেল; যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!মসৃণ পীচঢালা রাস্তা... গাড়ি কম... দুপাশ শ্যামলে শ্যামল, আকাশ নীলিমায় নীল। একশো আট শিবমন্দির-এ ভ্রমণার্থীদের ভিড়। তালিত রেলগেট হাট করে খোলা, অন্তহীন অপেক্ষা থেকে রেহাই পেলাম তাই। বাড়ি থেকে উনিশ কি.মি. আসার পর হলদী-র কাছে খড়ি নদীর সেতু পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম ডানদিকে।বিস্ময়ের ওপর বিস্ময়! এই সদা-আহত রুগ্ন গ্রামীণ পথও এখন বেশ ঝাঁ চকচকে। পুরুষ্টু ধানের শীষে দোল খেয়ে যাচ্ছে বাতাস... তারে দোল খাচ্ছে ফিঙে- বাঁশপাতি-মাছরাঙা... মাঝেমাঝেই ঘুঘুদম্পতিদের উড়ে যাওয়া পথের এপাশ থেকে ওপাশে। এদিকের গ্রামগুলি বেশ সাফসুতরো; কিছু বাড়িতে রঙের পোঁচ পরেছে নতুন, কিছু বাড়ি মলিন ও পারিপাট্যহীণ... সম্ভবত বাসিন্দারা ভাগ্যান্বেষণে চলে গেছেন অন্যত্র। থৈ থৈ করছে পুকুরগুলি... ধারে বকবাবাজীদের একঠেঙে প্রার্থনা... কোথাও খোঁটায় বসে ডানা শুকাচ্ছে পানকৌড়ি...প্রকৃতিতে বেশ একটা শান্ত তৃপ্ত ভাব যেন আজ! শষ্যক্ষেত্রের সোনার গানে সমান তানে যেন যোগ দিয়েছে সবাই, সুর ভাসিয়ে দিয়েছে ভরন্ত পুকুরের অমল জলরাশিতে, প্রকৃতি যেন নিমগ্ন আজ মহাষষ্ঠীর পরম প্রেয় লগ্নের প্রত্যাশায়।মাহিনগর-মোহনপুর-হরিবাটি-কামারপাড়া-ধান্দলসা-বিঘড়ে পেরিয়ে এসে গেল নারায়ণপুর --- বাড়ি থেকে উনত্রিশ কি.মি. পথ পেরিয়ে, ঠিক সত্তর মিনিটের মাথায়। স্কুলমোড় দিয়ে ঢুকে গাঁয়ের মধ্যে কংক্রিট-বাঁধানো এক কি.মি. আঁকাবাঁকা পথ ধরে অবশেষে পৌঁছে গেলাম আমাদের সাবেক ভদ্রাসনে।জ্যেঠতুতো দাদারা ও ছোটকাকা এসে পড়েছে ইতিমধ্যেই। বাবা-মাকে তো পাঠিয়ে দিয়েছিলাম চতুর্থী-র দিনই। সবার সাথে দেখাশোনা কুশলবিনিময় হতে হতেই দিনের আলো নিভে এলো , বেজে উঠলো ঢাকের বাদ্যি।সকাল-সন্ধ্যায় ঠাকুরতলায় ঢাক-ঢোল-কাঁসি-র এই একপ্রস্থ বৃন্দবাদনকে এখানে বলা হয় ধেমুল। কোন শব্দের অপভ্রংশ এটা জানিনা, তবে শুনেছি ভোরবেলা এই বাজনা দিয়ে ঠাকুরের ঘুম ভাঙানো হয়, আর সাঁঝের ঝোঁকে এর উদ্দেশ্য দেবতার বন্দনা। ছোটোবেলায় এই ধেমুল-এর সাথে সন্ধ্যের মুখে প্রবল নাচানাচি করতাম একপাল সমবয়সী ছেলেপিলে মিলে; আর আজ বাজনদারেরা ঢাকের বোল তুললো প্রায় ফাঁকা মণ্ডপে।গ্রাম এখন বলতে গেলে শুনশান, বিশেষত আমাদের পাড়ায় স্থায়ী বাসিন্দা এখন বিরল। প্রায় পঁচিশটি পরিবারের মধ্যে অর্ধেক বাড়িতে কেউই থাকেন না, শহরবাসী হয়েছেন সবাই। বাকি বাড়িগুলিতে প্রৌঢ় দম্পতি বাপ-পিতেমো-র ভিটে আগলাচ্ছেন কোনোমতে, ছেলেমেয়েরা কর্মসূত্রে পাকাপাকিভাবে বাইরে। রাঢ়ভূমির গ্রামের পর গ্রামে এটাই এখন সাধারণ চিত্র। ভাবতে ভয় হয়, এই প্রজন্মের পর বাংলার গ্রামগুলি কি একেবারেই উজাড় হয়ে যাবে--- ছিয়াত্তরের মণ্বন্তর, বর্গীর আক্রমণ, বা ম্যালেরিয়া-ওলাউঠোয় ছাড়খার হয়ে যাওয়া বাংলার মতো?আমাদের এই পুজো ব্যতিক্রমী , কারণ মা এখানে পূজিতা হন মহিষাসুরমর্দিনী নয়, হরগৌরী-রূপে। মায়ের দুইটি হাত, বসে আছেন মহেশ্বরের পাশে, দুপাশে সরস্বতী ও লক্ষ্মীকে নিয়ে। সিংহ-অসুর-কার্তিক-গনেশ কেউ নেই, আছেন বরং নন্দী ও ভৃঙ্গী। নিপাট ঘরোয়া রূপে এই মাতৃপূজা চলছে কত কাল, সঠিক জানা নেই কারো। তবে লিখিত নথি আছে অন্ততঃ দুশো বছর আগে পর্যন্ত।ঠাকুরতলায় ছায়া দিচ্ছে যে বিশাল অশ্বত্থগাছটি, আমার সাতাশি বছর বয়সী বাবাও আজন্ম তাকে দেখে আসছেন ঠিক এমনটিই! একসময় বিকেলে তার ডালে ডালে অগুনতি টিয়াপাখির কলরবে মানুষের কথা শোনা যেত না, আজ সেখানে সম্পূর্ণ নীরবতা। সব টিয়া নাকি ধরে নিয়ে গেছে পাখিচোরেরা; আবার কারো কারো বক্তব্য গাছের কোটরে সাপ থাকে, তারাই নাকি পাখির ডিম খেয়ে খেয়ে বংশলোপ করে দিয়েছে!সন্ধ্যায় দেবীর বোধন। কুলপুরোহিত বুড়োদা ও নুপুরদা স্বল্পালোকিত মন্ডপে বসে নিষ্ঠাভরে ক্রিয়াকর্ম সারলেন। শুরু হয়ে গেল মাতৃবন্দনা। কাল সকাল সাতটায় নবপত্রিকা স্নান করাতে যাওয়া হবে পালকি চড়িয়ে।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

অক্টোবর ০২, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 35
  • 36
  • 37
  • 38
  • 39
  • 40
  • 41
  • ...
  • 118
  • 119
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

দু’মাস কোথায় ছিলেন? ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত, জানালেন সব

দুমাস ধরে পুলিশের খোঁজের বাইরে ছিলেন তিনি। তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পরপর দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তদন্তকারীদের দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জমি প্রতারণার মামলায় শনিবার সুমিতকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। রবিবারও তাঁকে ফের ডাকা হয়। এদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুমিত। তবে মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে বেশির ভাগ বিষয়েই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।গত দুমাস কোথায় ছিলেন, সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন করলে প্রথমে সুমিত বলেন, আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। পরে একই প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, এদিকে, আশপাশেই ছিলাম। তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি কলকাতাতেই ছিলেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।এত দিন আত্মগোপনে থাকার কারণ জানতে চাওয়া হলে সুমিত বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই তো মেনে চলছি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলতে চাননি তিনি। সেবাশ্রয়-সহ একাধিক বিষয়ে তাঁর নাম জড়ানোর প্রসঙ্গ উঠলে বলেন, মন্তব্য করতে পারব না।তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সুমিত বলেন, হতে পারে। তবে কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ যখনই ডাকবে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সুমিত বলেন, বাজে কথা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে দেখা যায়। তৃণমূলের গাড়িতে করে সেখানে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবে সুমিত বলেন, যে অফিসে কাজ করি, সেই অফিস থেকে গাড়িটা দিয়েছে।এদিকে সুমিত নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে আগামী দিনেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত ডেবরার মামলায় তাঁকে ফের ডাকা হয়েছে। তাঁর কথায়, কাল ১১টার সময় ডেকেছে। তবে এদিন কোনও নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।শালবনীর জমি প্রতারণা মামলা-সহ সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিসও জারি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তদন্তে সহযোগিতা করতে শুরু করেন তিনি। পরপর দুদিন ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের দুমাস কোথায় ছিলেনএই প্রশ্নের উত্তর ঘিরেই এখন নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘লম্বা লড়াই, তবে তিলোত্তমাই জিতবে’, পানিহাটিতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক ঘোষণা, ফের তদন্তের নির্দেশ

অভিশপ্ত ৯ অগাস্টের দুবছর পূর্ণ হল। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু-রহস্য আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় শুভেন্দু বলেন, লম্বা দুবছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিত ভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জায়গা থাকবে না। ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সূত্রে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তৎকালীন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের তদন্ত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের ঘোষণাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তিলোত্তমার পরিবার। তাঁদের আশা, এত দিন যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি, নতুন তদন্তে তার কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে।তিলোত্তমার মৃত্যুর দুবছরের স্মরণসভায় নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করে বলেন, রাখিপূর্ণিমার দিন অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় তিলোত্তমার মায়ের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর কথায়, আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামী দিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে। ফলে তিলোত্তমাকাণ্ডে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং পুরনো কোনও প্রশ্নের নতুন উত্তর মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা? ‘টার্গেট ছিল মমতাকে শেষ করা’, বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।মমতার সঙ্গে এদিন ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, হালিশহরে যাওয়ার সময় মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগানও। পরিস্থিতির জেরে কিছু সময় গাড়ি আটকে থাকে বলে তৃণমূলের দাবি।হালিশহর থেকে ফিরে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং গাড়ির সামনে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে জমায়েত করা হয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়।কল্যাণের আরও দাবি, মমতার গাড়িতে যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তাঁর দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।মমতার বক্তব্য, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের কাছে যাবেন এবং কোনও বাধাতেই পিছিয়ে আসবেন না।হালিশহর থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তিকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন মমতা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফর ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গাড়ি লক্ষ্য করে সত্যিই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
বিদেশ

হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সুমিত সোজা অভিষেকের বাড়িতে, ভবানী ভবনে কী জানলেন গোয়েন্দারা?

ভবানী ভবনে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি দফতর থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছেছিলেন তিনি। দীর্ঘ জেরার পর সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে জেরায় সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণার মামলায় শুক্রবার রাতে সুমিতকে নোটিস পাঠায় সিআইডি। সেই নোটিসে সাড়া দিয়েই শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী আগে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির জেরায় হাজির হন সুমিত।জমি প্রতারণার মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির টাকা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগের কথা সামনে আসেনি। তবে সুমিত দীর্ঘ জেরার পর অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।অভিযোগের তদন্তে সুমিতের খোঁজে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল বলে জানা গিয়েছে।পরে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। সেই আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরিয়ে তাঁর গন্তব্য হয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। এখন সিআইডির জেরায় কী তথ্য উঠে এল এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ফের খুলছে আর জি করের ‘ফাইল’! অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক তদন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়েছে আর জি কর-কাণ্ডের তদন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যেই পৃথক ভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ধর্ষণ ও খুনের আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষে যে তথ্য উঠে আসবে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা আগে থেকে দূর করা যায়নি, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগে থেমে থাকা তদন্তের বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আর জি কর-কাণ্ডে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি এবং অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ওই তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নতুন তদন্তে হাসপাতালের ত্রুটি বা অনিয়ম আড়াল করার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।এদিকে রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে অভয়া দিবস। দুই বছর আগে ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার স্মরণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।সকাল ১১টায় অভয়ার স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।অভয়ার মা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের।সিবিআইয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পৃথক তদন্তে নতুন করে কোন তথ্য সামনে আসে, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal