• ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

MI

রাজ্য

বেলডাঙা উত্তাল! রেল অবরোধ, ট্রেন আটক, ভাঙচুর ও সাংবাদিকের ওপর হামলা

ভীন রাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। শুক্রবারের পর শনিবারও রাস্তায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে নেমে আসে। গতকাল সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হয়েছে। ট্রেন ও সড়ক অবরোধের ঘটনা লাগাতার চলেছে। শনিবার ফের জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় জনতা। সড়কে চলমান সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেল গেট ভাঙচুর করা হয়েছে, ফলে লালগোলাকৃষ্ণনগর রুটের ট্রেন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন উঠেছে, এভাবেই কি প্রতিবাদ করা উচিত?শুধু শুক্রবার নয়, শনিবারও সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে ক্ষিপ্ত জনতা রাস্তায় নেমে বাঁশ হাতে হুড়োহুড়ি করছেন। রাস্তার ধারে থাকা ফ্লেক্স ও ব্যানার উপরে ফেলে লাথি মারা হচ্ছে। এলাকায় কোনও পুলিশকর্মীও দেখা যায়নি। কোথায় গেল পুলিশ, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।গতকাল পরিস্থিতি যখন তপ্ত হয়েছিল, প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিছু আবেদন মেনে নেওয়া হয় এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। তবে তাতে কার্যত পরিস্থিতির কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। শনিবার সকাল থেকেই বেলডাঙায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, রাজ্যে প্রশাসন নেই, তাই এমন হচ্ছে। তার মধ্যে আজ আবার অভিষেক আসছেন। তাই বহরমপুর বাসস্ট্যান্ড বেলা ১১টা থেকে ৪টা অবধি বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য সব বন্ধ। নেতারাই তো সমাজ-বিরোধী কাজ করছেন। তাহলে বাংলায় আর কী হবে? কোথাও রোড শো, কোথাও ভাঙচুরএর জন্য যাতায়াত বন্ধ। জনপ্রতিনিধি ভাষণ দেবেন বলে সব বন্ধ।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
দেশ

নাগরিকত্বে সামান্য সন্দেহ হলেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ! সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি নির্বাচন কমিশনের

এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠল সুপ্রিম কোর্টে। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নির্ধারণ না করা পর্যন্ত সেই ব্যক্তির ভোটাধিকার কি থাকবে না।এর জবাবে কমিশনের আইনজীবী জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল যাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন, তাঁদের নাম যেন ভোটার তালিকায় না থাকে, তা নিশ্চিত করা। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া বা তাঁকে দেশছাড়া করার কোনও অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। নাগরিকত্ব নির্ধারণের চূড়ান্ত দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।শুনানিতে কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়, নাগরিকত্ব নিয়ে ন্যূনতম সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট ইআরও কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় না রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে তার মানে এই নয় যে ওই ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক নন, এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে হয়ে যাচ্ছে।এই মামলার শুনানি আগামী ১৫ জানুয়ারি ফের শুরু হবে প্রধান বিচারপতির এজলাসে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দুই সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন ও দোলা সেন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি আদালতে অভিযোগ করেন, এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশ সমাজমাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বুথ লেভেল অফিসারদের কাজের নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে।এছাড়াও তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, এসআইআর শুনানিতে ভোটাররা নথি জমা দিলেও কোনও রসিদ বা লিখিত প্রমাণ তাঁদের দেওয়া হচ্ছে না। কমিশনের তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। এই বিষয়গুলি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি একই অভিযোগ তুলেছিলেন।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
রাজ্য

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মজয়ন্তী পালনে ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ, সংবর্ধনা শিক্ষক সমাজকে

স্বামী বিবেকানন্দর জন্মবার্ষিকী ধুমধাম করে পালন করল ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘ। এদিন সকালে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় কয়েক শো মানুষ। বিশেষ সজ্জিত ট্যাবলো প্রভাতফেরিকে আকর্ষণীয় করে তোলে। স্বামীজির গলায় মাল্যদান করেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনের সভাপতি অরুন নন্দী।এদিন বিকেলে ক্লাব প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পাশাপাশি এলাকার ১২জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী ও ৯ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ক্লাব প্রাঙ্গনে আবৃত্তি, সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজক ক্লাবের পক্ষে কোষাধ্যক্ষ সুখরঞ্জন সাহা, সহ সম্পাদক আশুতোষ দে বলন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা স্বামী বিবেকানন্দকে স্মরণ করেছি নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।এছাড়া সারাবছর নানা সমাজসেবা মূলক কাজ করে আমাদের ক্লাব। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্য শিবির, চক্ষু পরীক্ষা শিবির নিয়মিত ভাবে আয়োজন করে ক্লাব। স্বামীজি সংঘের কার্যকর্তা অনুপম গাইন, সঞ্জু সাহা, খোকন সরকার, কালাচাঁদ দে সহ অন্যদের সক্রিয় ভূমিকায় দিনভর অনুষ্ঠান সার্বিক সফলতা পেয়েছে।

জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
দেশ

১৯৭১-এর যুদ্ধনায়ককে কেন ডাকা হল এসআইআর শুনানিতে? মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বুকে কাঁপন ধরানো প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর শুনানিতে তলব করা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধানকে কেন পরিচয় প্রমাণের জন্য নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সোমবার মুখ খুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডমিরাল প্রকাশ। তাঁর পোস্ট সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাডমিরাল প্রকাশের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে পূর্ববর্তী এসআইআর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।এলাকার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার মেডোরা এরমোমিল্লা ডিকোস্টা জানান, এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, অংশ নম্বর এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ফর্মের সঙ্গে পুরনো ভোটার তালিকার স্বয়ংক্রিয় মিল করা সম্ভব হয়নি। শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলেই এই ধরনের ক্ষেত্রে শুনানির জন্য ডাকা হয় বলে জানান তিনি।১৯৭১ সালের যুদ্ধে বায়ুসেনার পাঞ্জাব স্কোয়াড্রনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান চালিয়েছিলেন অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীর চক্র পান। প্রায় ৪০ বছর নৌসেনায় কাজ করেছেন তিনি। ফাইটার স্কোয়াড্রন, এয়ার স্টেশন, আইএনএস বিরাট-সহ মোট চারটি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করেছেন। নৌসেনাপ্রধান থাকাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও করেছিলেন তিনি।নোটিস পাওয়ার পর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডমিরাল প্রকাশ লেখেন, এসআইআর ফর্মে যদি প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফর্ম সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএলও তিনবার তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখনই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া যেত। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী যথাক্রমে ৮২ ও ৭৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, অথচ তাঁদের বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাও আবার আলাদা আলাদা দিনে।এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক তীব্র হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য না থাকলে বিএলও অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাপিং করতে পারে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ? এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় শীর্ষ আদালত

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের করা মামলার ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।এদিন এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যে চলা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে মামলা করেছিলেন দুই তৃণমূল সাংসদ। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।শুনানিতে কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন বহু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, বাংলার বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কমিশনের তরফে যে সব অমিল বা লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সির কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে কমিশনের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জবাব দিতে তাদের দুসপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা জমা দিতে হবে।আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

WBFJA-র মঞ্চে সেরার শিরোপা ‘মায়ানগর’-এর, শ্রীলেখা'র শক্তিশালী অভিনয়ে উজ্জ্বল সমকালীন বাংলা ছবি

সমকালীন বাংলা সিনেমার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (WBFJA)-র ২০২৫ সালের পুরস্কার মঞ্চে সেরা চলচ্চিত্রের সম্মান জিতে নিল মায়ানগর (Once Upon a Time in Calcutta)। ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ছবিটি বর্ষসেরা ছবি, সেরা পরিচালক ও শ্রেষ্ট স্ক্রিনপ্লে সহ একাধিক বিভাগে সাফল্য অর্জন করে কার্যত নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।২০২১ সালে নির্মিত আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত পরিচালিত এই বাংলা ভাষার ভারতীয়-ফরাসি-নরওয়েজিয়ান চলচ্চিত্রটি উইশবেরি ফিল্মস প্রযোজিত, ফর ফিল্মস, ক্যাথেরিন ডুসার্ট প্রোডাকশনস ও ডিইউওফিল্ম এএস-এর সহযোগিতায় তৈরি। এটি সেনগুপ্তের তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র, যা প্রথমেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজর কাড়ে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ৭৮তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়, যা বাংলা ছবির ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।মায়ানগর আসলে শুধুই একটি গল্প নয়এটি কলকাতার পরিবর্তনশীল শহুরে বাস্তবতার এক গভীর, সংবেদনশীল দলিল। ২০১৫ সাল থেকে নির্মাণাধীন এই ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবের লআতেলিয়ে সিনেফন্ডেশন, সিএনসি, সরফন্ড এবং এনএফডিসি ফিল্ম বাজারের সমর্থন পেয়েছিল। পরিচালক আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্তের মতে, কলকাতার সায়েন্স সিটির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাইনোসরের মূর্তি ও পাশেই দ্রুতগতিতে তৈরি হতে থাকা ফ্লাইওভারের দৃশ্য থেকেই ছবিটির ভাবনার জন্ম। অতীতের নিদর্শন ও বর্তমানের উন্নয়নের মধ্যকার এই বৈসাদৃশ্যই মায়ানগর-এর আত্মা।এই ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর অভিনীত প্রধান চরিত্রটি মায়ানগর-কে শুধু গল্পের স্তরে নয়, আবেগের স্তরেও এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। জীবনের চাপে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর লড়াই, আত্মসম্মান রক্ষা ও টিকে থাকার সংগ্রামসবকিছু শ্রীলেখা মিত্র তুলে ধরেছেন অসামান্য সংযম ও গভীরতায়। তাঁর অভিনয়ে নেই অতিনাটকীয়তা; বরং নীরবতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও শরীরী ভাষাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় শক্তি।ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ক্যালকাটা নিউইয়র্ক-এ ভারতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, আলিয়া ভাটদের সাথে নমিনেট হয়ে তিনিই একমাত্র বাঙালি অভিনেত্রী হিসেবে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার পেয়েছেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে দর্শককে মুগ্ধ করা শ্রীলেখা মিত্রের কেরিয়ারে মায়ানগর নিঃসন্দেহে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন বলে মনে করছেন সমালোচকরা।ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন অরিন্দম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, সত্রাজিৎ সরকার, অনির্বাণ চক্রবর্তী, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও নবাগত শায়ক রায়। ব্রাত্য বসু তাঁর অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা (পুরুষ) বিভাগে পুরস্কৃত হন। পাশাপাশি ছবিটি সেরা চিত্রনাট্য ও সেরা সম্পাদনা বিভাগেও পুরস্কার জেতে এবং আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত সেরা পরিচালকের জন্য মনোনীত হন।সব মিলিয়ে, WBFJA-র সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে মায়ানগর প্রমাণ করলআন্তর্জাতিক ভাষায় কথা বলা সংবেদনশীল গল্প ও শক্তিশালী অভিনয় আজও বাংলা সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি। আর সেই শক্তির অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন শ্রীলেখা মিত্র, যাঁর অভিনয় মায়ানগর-কে সময়ের ঊর্ধ্বে এক শিল্পমূল্য দিয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

বাংলা ছবির প্রাইম টাইম রক্ষায় গড়া কমিটি কি অস্তিত্ব সঙ্কটে? টলিউডে বাড়ছে ফাটল, প্রশ্নের মুখে ‘স্ক্রিনিং কমিটি’

২০২৫ সালের ১৫ অগস্টস্বাধীনতা দিবসে বড়পর্দার দখল নিতে মুখোমুখি হয়েছিল একাধিক মেগা বাজেটের হিন্দি ছবি। সেই তালিকায় ছিল দিল্লি ফাইলস, ওয়ার ২, কুলির মতো বহুল প্রতীক্ষিত প্রজেক্ট। ঠিক সেই সময়েই মুক্তির অপেক্ষায় ছিল বাংলা ছবি ধূমকেতুযে ছবি ঘিরে বাঙালির প্রতীক্ষা প্রায় এক দশকের।এই পরিস্থিতিতে বাংলা ছবিকে প্রাইম টাইম ও প্রাইম ডেটে জায়গা করে দিতে একজোট হয়েছিল টলিউড। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের পরিচালনায় দেব-শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তনের ছবি যাতে হিন্দি ছবির দাপটে কোণঠাসা না হয়ে পড়ে, সে জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন অভিনেতা-সাংসদ দেব। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিংহ রানে, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বরূপ বিশ্বাস-সহ টলিউডের প্রথম সারির প্রযোজক, পরিবেশক ও হলমালিকেরা।তখনই উঠে এসেছিল দীর্ঘদিনের অভিযোগবড় বাজেটের হিন্দি ছবি মানেই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে প্রাইম টাইম দখল, আর বাংলা ছবি নিজের রাজ্যেই হয়ে উঠছে নিজভূমে পরবাসী।এই আবহে টলিউডের তরফে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্বাক্ষর-সংবলিত চিঠি পৌঁছয়। তারই ভিত্তিতে গঠিত হয় একটি স্ক্রিনিং কমিটি। মন্ত্রী স্বরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে তৈরি এই কমিটির সভাপতি করা হয় পিয়া সেনগুপ্তকে। উদ্দেশ্য ছিলবাংলা ছবিকে প্রাইম টাইমে প্রাধান্য দেওয়া, উৎসবের দিনে বাংলা ছবির মুক্তির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা।কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই সেই কমিটির ভবিষ্যৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।টলিউডের অন্দরে গুঞ্জন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গড়া ওই স্ক্রিনিং কমিটি নিয়েই তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। এমনকি কমিটি বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধও নাকি পৌঁছেছে নবান্নে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী সেই অনুরোধে সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দেবের অবস্থান। বছরের শেষে কমিটির আস্থা ভোটে তিনি নিরপেক্ষ ছিলেনএ কথা নিজেই জানিয়েছেন। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেব বলেন, আমি নোটায় ভোট দিয়েছি। কিছু বিষয়ে সহমত, কিছু বিষয়ে নয়। কমিটি হওয়ার পর থেকে দেখছি ঝগড়াই বেশি হচ্ছে। আগে এতটা হত না।দেবের বক্তব্যে স্পষ্ট হতাশা। তাঁর কথায়, কমিটি তৈরির আগে সমস্যা ছিল, কিন্তু তা মিটেও যেত। এখন সেটা হচ্ছে না। কোথাও একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ লাগছে, কেউ সরাসরি কথা বলছে না, অথচ কথা ছড়াচ্ছে।তবে একই সঙ্গে আশ্বাসও দিয়েছেন তিনিনতুন কমিটি মানেই মানিয়ে নিতে সময় লাগে, এই অস্থিরতা কেটে যাবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।কিন্তু টলিউডের অন্দরমহলের খবর বলছে, সমস্যার গভীরতা আরও বেশি। স্ক্রিনিং কমিটির কাছে শুধু প্রাইম টাইম বা মুক্তির সংখ্যা নিয়েই নয়, আরও গুরুতর অভিযোগ পৌঁছেছে। বাংলা ছবির ভুয়ো বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসিত আক্রমণ, প্রযুক্তির সাহায্যে অন্য ছবির রেটিং কমিয়ে নিজের ছবির রেটিং বাড়ানোর মতো অভিযোগও উঠেছে।খবর, বছরের শুরুতেই এই সমস্ত অভিযোগ লিখিত আকারে লালবাজারে জমা দিয়েছেন টলিউডের একাধিক খ্যাতনামী ব্যক্তি। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপও চাওয়া হয়েছে। অভিযোগের তির যদিও নাম না করে, তবে এক প্রভাবশালী তারকা অভিনেতা-প্রযোজকের দিকেই বলে গুঞ্জন।এই সব মিলিয়েই প্রশ্ন উঠছেবাংলা ছবির স্বার্থরক্ষার জন্য যে স্ক্রিনিং কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেই কমিটিই কি এখন টলিউডের বিভাজনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে? আর সেই কারণেই কি একদা ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা এই কমিটির ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নচিহ্নের মুখে?উত্তর এখনও অজানা। তবে স্পষ্টবাংলা ছবির লড়াই এখন শুধু বাইরের দাপটের বিরুদ্ধে নয়, ভিতরের সমন্বয়ের পরীক্ষাতেও।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
নিবন্ধ

গুরু–শিষ্যের মধুর বন্ধন ও যুবশক্তির আহ্বান, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবসের প্রাসঙ্গিকতা

ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও মননচর্চার ইতিহাসে যে কয়েকটি সম্পর্ক যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতাকে পথ দেখিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের (তৎকালীন নরেন্দ্রনাথ দত্ত) মধুর গুরুশিষ্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা মানবকল্যাণ, যুবসমাজের জাগরণ ও জাতিগঠনের এক শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।সংশয়ী নরেন্দ্র থেকে অগ্নিপুরুষ বিবেকানন্দউনিশ শতকের কলকাতায় পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, যুক্তিবাদী ও সংশয়ী যুবক নরেন্দ্রনাথ দত্ত ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরে তাঁর আগমন এবং সেখানেই সাক্ষাৎ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে। নরেন্দ্রনাথের সরাসরি প্রশ্ন আপনি কি ঈশ্বরকে দেখেছেন?এর উত্তরে রামকৃষ্ণদেবের সহজ অথচ দৃঢ় ঘোষণা হ্যাঁ, যেমন তোকে দেখছি, তার থেকেও স্পষ্টভাবেএই একটি কথাই নরেন্দ্রনাথের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।ভালোবাসা, শাসন ও বিশ্বাসের অনন্য মেলবন্ধনরামকৃষ্ণদেব নরেন্দ্রনাথের মধ্যে ভবিষ্যতের এক মহান নেতার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। কখনও স্নেহে, কখনও কঠোর শাসনে, আবার কখনও নিঃশর্ত বিশ্বাসে তিনি নরেন্দ্রনাথকে গড়ে তুলেছিলেন। নরেন্দ্রনাথও ধীরে ধীরে তাঁর সমস্ত অহং, সংশয় ও ব্যক্তিগত বেদনা গুরুদেবের চরণে সমর্পণ করেন। এই সম্পর্ক ছিল গভীর মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণযেখানে গুরু শিষ্যকে ঈশ্বরচিন্তায় উদ্বুদ্ধ করেছেন, আবার শিষ্য গুরুর আদর্শকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।রামকৃষ্ণের আদর্শ, বিবেকানন্দের বিশ্বজয়১৮৮৬ সালে রামকৃষ্ণদেবের মহাপ্রয়াণের পর সন্ন্যাস গ্রহণ করে নরেন্দ্রনাথ হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। গুরুর বাণীকে পাথেয় করে তিনি ভারতবর্ষের পথে পথে ঘুরে দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষের দুঃখ দেখেন এবং উপলব্ধি করেন জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। এই ভাবনাই তাঁকে শিকাগো ধর্মসভায় ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মুখপাত্র করে তোলে এবং বিশ্বকে নতুন করে ভারতের পরিচয় দেয়।যুবদিবস ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতাস্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, ১২ জানুয়ারি, আজ পালিত হয় জাতীয় যুবদিবস হিসেবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর অদম্য বিশ্বাস আমাকে একশো উদ্যমী যুবক দাও, আমি ভারত গড়ে দেব। যুবসমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। চরিত্রগঠন, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তাএই গুণগুলির মধ্য দিয়েই তিনি যুবকদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।বর্তমান সময়ে যখন হতাশা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও দিশাহীনতা যুবসমাজের একাংশকে গ্রাস করছে, তখন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ নতুন করে পথ দেখায়। তাঁর শিক্ষা বলেনিজেকে বিশ্বাস করো, দেশের জন্য ভাবো, মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করো।রামকৃষ্ণদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্ক কেবল একটি গুরুশিষ্যের কাহিনি নয়; এটি এক আদর্শ উত্তরাধিকারের গল্প, যেখানে আধ্যাত্মিক সাধনা সমাজসংস্কারের রূপ নিয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবস পালন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়যুবশক্তিই জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই শক্তিকে সঠিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী, মানবিক ও আত্মনির্ভর ভারত।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

সরকারি বোর্ড লাগানো আইপ্যাকের গাড়ি! চালক নাবালক? জি টি রোডে তীব্র চাঞ্চল্য

শনিবার রাতে পুরনো জি টি রোডে একটি সাদা রঙের গাড়ি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগ, ওই গাড়িটি চালাচ্ছিল এক তরুণ, যার বয়স সম্ভবত আঠারোও হয়নি। অথচ সেই গাড়িতেই ছিল অন ডিউটি লেখা সরকারি বোর্ড এবং তাতে লেখা ছিল গভর্নমেন্ট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল। এই ঘটনা ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস।কংগ্রেসের অভিযোগ, ওই গাড়িটি জেলা কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দারের বাইকে ধাক্কা মারতে উদ্যত হয়। গৌরব সমাদ্দার রাজ্য কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং জেলার আইএনটিইউসি-র সভাপতি। শনিবার রাত সাড়ে সাতটার পর বড়নীলপুর মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।অভিযোগ অনুযায়ী, সাদা রঙের গাড়িটি গৌরবের বাইকের খুব কাছ দিয়ে চলে আসে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সেটির পথ আটকান। তখনই মোবাইলে লাইভ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে এলাকায় লোক জড়ো হতে শুরু করে। গৌরব পুলিশে ফোন করে পুরো ঘটনার কথা জানান।গৌরবের দাবি, গাড়িটি চালাচ্ছিল একেবারে কম বয়সি এক তরুণ। গাড়ির আরোহীরা নিজেদের আইপ্যাকের লোক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু প্রশ্ন করা হলে, আইপ্যাকের গাড়িতে কেন সরকারি বোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর তাঁরা দেননি।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ছবি তোলে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়। গৌরব সমাদ্দারের অভিযোগ পুলিশ গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, পুলিশে অভিযোগ হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করবে। বিষয়টি দেখা হবে।অন্যদিকে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আইপ্যাকের কর্মীরা নিজেদের সরকারি সম্পত্তির মালিক মনে করছে। আইপ্যাকের গাড়িতে কীভাবে সরকারের বোর্ড থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা? রিপোর্ট চাইল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলার অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যে। ঘটনার রেশ পৌঁছে গেল দিল্লিতেও। শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা-র অভিযোগের প্রেক্ষিতে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, অমিত শাহের মন্ত্রকের তরফে বিরোধী দলনেতার অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট ও ভিডিয়ো ফুটেজ চাওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর অফিসের পক্ষ থেকে সেই সব ফুটেজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হচ্ছে।শনিবার পুরুলিয়ায় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। শুভেন্দুর গাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তার এক পাশে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। রাস্তার উল্টো দিকে তৃণমূলের পতাকা হাতে কয়েক জন দাঁড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ। শুভেন্দুর দাবি, তাঁর গাড়ি আসতেই আচমকা হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, ১২ থেকে ১৫ জন মিলে তাঁর গাড়িতে হামলা করেছে। পুলিশের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর আরও দাবি, হামলাকারীদের হাতে পেট্রল ও ডিজেল ছিল।ঘটনার পরই শুভেন্দু অধিকারী চন্দ্রকোনা পুলিশের বিট হাউসে পৌঁছে যান। সেখানে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তিনি। আইসির ঘরে মেঝেতে বসে পড়ে তিনি জানান, দোষীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর থেকেই বারবার শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা হচ্ছে। পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, শুভেন্দুর গাড়িতে কোনও হামলা হয়নি। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল, সেটাই তিনি সামলাতে পারেননি। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করে লেখেন, চন্দ্রকোনায় ভুল করে বিজেপি কর্মীদেরই পেটানো হয়েছে কেন, তার জবাব কেন্দ্রীয় বাহিনী দিক।এদিকে, শুভেন্দুর গাড়িতে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে রাজ্যের একাধিক জেলায় বিক্ষোভে নামেন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা। বাঁকুড়ার লালবাজারে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিলাদ্রি শেখর দানার নেতৃত্বে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন কর্মীরা। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থানার সামনেও বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা।এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শুভেন্দু অধিকারীর অফিসের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। পাঠানো ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যে ঝাঁপে শেষ হতে পারত জীবন, সেই জেমাইমাই আজ বিশ্বজয়ের স্তম্ভ

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৩৪ বলে অপরাজিত ১২৭ রানের অনবদ্য ইনিংস ক্রিকেট ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই ইনিংসের জোরেই কার্যত একার হাতে সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে হারিয়েছিল ভারত। বিশ্বকাপ জয়ের সেই নায়ক জেমাইমা রডরিগেজ এবার শোনালেন জীবনের এক ভয়ংকর অজানা কাহিনি। জানালেন, ছোটবেলায় ক্যাচ ধরতে গিয়েই প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।সম্প্রতি ইউটিউবের এক অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলেন জেমাইমা। তিনি জানান, তখন তাঁর বয়স মাত্র আট বছর। গির্জার একটি অনুষ্ঠানে পরিবারের সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখানে বাইরে খেলতে খেলতে বাচ্চারা একে অপরের দিকে চপ্পল ছুড়ে দিচ্ছিল। সেই সময় তাঁর এক মামাতো বোন তাঁর দিকে একটি জুতো ছুড়ে মারেন। সেটি ধরতেই ঝাঁপ দেন জেমাইমা।কিন্তু সেই ঝাঁপই প্রায় প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল। ক্যাচ ধরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দোতলা থেকে নিচে পড়ে যান তিনি। সৌভাগ্যবশত নিচে একজন বসে ছিলেন। তাঁর মাথার উপর গিয়ে পড়ায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান জেমাইমা। তবে মুহূর্তের জন্য তাঁর ভাইবোনদের মনে হয়েছিল, তিনি আর বেঁচে নেই।ভাগ্যের জোরে সেদিন কোনও গুরুতর আঘাত পাননি জেমাইমা। আজ সেই শিশুই বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ভারতের হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নকআউট ম্যাচে ১৭১ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেছিলেন হরমনপ্রীত কৌর। এবার সেই তালিকায় নিজের নাম তুলে ধরলেন জেমাইমা রডরিগেজ। বিশ্বজয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসার গল্প শুনিয়ে আবেগপ্রবণ করলেন ক্রিকেটপ্রেমীদের।

জানুয়ারি ০৯, ২০২৬
রাজ্য

বেঙ্গল টাইগার কামব্যাক! মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন দিলীপ ঘোষ

রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় মঙ্গলবার একই মঞ্চে দেখা গেল রাজ্য বিজেপির বর্তমান সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। পাশাপাশি বসে সভা করেন দুজনেই। শমীকের আগে বক্তব্য রাখতে উঠে দিলীপ ঘোষ জানান, তাঁরা পরিবর্তন চান। তাঁর কথায়, গত নির্বাচনে এই জায়গায় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, কিন্তু তা অর্ধেকেই থেমে গিয়েছিল। এবার সেই পরিবর্তন সম্পূর্ণ করতে হবে।বক্তব্যের মাঝেই দিলীপ ঘোষ বলেন, পরিবর্তন এমনিতেই হবে, কারণ পরিবর্তন যুগের নিয়ম। তবে তাঁরা একটু তাড়াতাড়ি সেই পরিবর্তন চান। এরপরই তিনি বলেন, অনেকেই বলতে পারেন তিনি বাইরে থাকতে আর ভালো লাগছে না বলেই মন্ত্রী হতে চাইছেন। দিলীপ ঘোষ নিজেই বলেন, তিনি নিশ্চয় মন্ত্রী হবেন। কারণ মন্ত্রী না হলে সাধারণ মানুষের কীভাবে উপকার করা যাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।দিলীপের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গরিবদের জন্য করা প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষ কীভাবে পাবেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে গরিবদের জন্য দেওয়া সব সুযোগ-সুবিধাই লুট হয়ে যাচ্ছে। তাই মন্ত্রী হয়ে সেই পরিস্থিতি বদলাতে চান বলেও জানান তিনি।দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তাঁর বক্তব্যের কটাক্ষ করেন। কুণাল বলেন, সব পেশাতেই উন্নতির লক্ষ্য থাকে। দিলীপ ঘোষ আরএসএসের পুরনো মানুষ এবং তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের মতাদর্শগত লড়াই রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে এই হতে চাই, ওই হতে চাইএই ধরনের মন্তব্য তাঁর মুখে মানায় না বলেই কটাক্ষ করেন কুণাল।কুণাল ঘোষ আরও বলেন, তপন শিকদারের পর দিলীপ ঘোষই রাজ্য বিজেপির সবচেয়ে সফল সভাপতি ছিলেন। কিন্তু এখনই মন্ত্রী হতে চাই বলে বিজেপির গোটা দল যেভাবে তাড়াহুড়ো করছে, দিলীপ ঘোষও হয়তো সেই স্রোতেই ভেসে যাচ্ছেন।বেঙ্গল টাইগার ইজ ব্যাক লেখা পোস্টার ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। আর রাজনীতির ময়দানে নতুন করে সক্রিয় হয়ে এবার প্রকাশ্যেই মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা জানালেন দিলীপ ঘোষ। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
রাজ্য

নোবেলজয়ীকেও কাগজ দেখাতে হবে! এসআইআর নোটিসে বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া অভিষেকের

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকেও এসআইআর বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার এক কাউন্সিলর দাবি করেছিলেন, অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব, অভিনেত্রী লাবণী সরকার-সহ একাধিক তারকাকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এমনকী ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ শামিকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও খবর ছড়ায়। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অমর্ত্য সেনকেও প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে বলা হয়েছে।এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পথে আসতে আসতেই তিনি শুনেছেন যে অমর্ত্য সেনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যিনি ভারতের হয়ে নোবেল পুরস্কার এনে দিয়েছেন, যাঁর জন্য বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল হয়েছে, সেই মানুষকেই শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে।এদিন ফের একবার এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করে শুনানির নামে ডাকা হচ্ছে। বীরভূমের মানুষ এই ঘটনার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে বীরভূম থেকে তৃণমূলকে জেতানোর আবেদনও জানান সাংসদ।অভিষেক দেব ও মহম্মদ শামিকে নোটিস পাঠানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা দেব এবং দেশের হয়ে খেলা ক্রিকেটার শামিকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক মানুষকে আনম্যাপ করার চেষ্টা চলছে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী দিনে বিজেপিকেই আনম্যাপ করে দিতে হবে। যদিও দেব এই প্রসঙ্গে টিভি৯ বাংলাকে জানিয়েছেন, তিনি এই ধরনের কোনও নোটিসের কথা জানেন না।অন্যদিকে, অমর্ত্য সেনকে এসআইআর নোটিস পাঠানো নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বানানে ভুল থাকতে পারে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তাঁর দাবি, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতেও আগে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা গিয়েছিলেন এবং শুনানি হয়েছে। একইভাবে প্রয়োজন হলে অমর্ত্য সেনের বাড়িতেও বিএলও যেতে পারেন।

জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকার শুনানিতে শামি! এসআইআরে ডাক পেলেন ভারতীয় দলের তারকা

এসআইআর শুনানিতে এবার ডাক পেলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি। কলকাতার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমী দাস জানিয়েছেন, শামি ইতিমধ্যেই শুনানির নোটিস পেয়েছেন। উত্তর প্রদেশে জন্ম হলেও দীর্ঘদিন ধরে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছেন তিনি।সূত্রের খবর, শামির এনুমারেশন ফর্ম সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের অংশ হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে এসআইআর-এর শুনানি। যেসব ক্ষেত্রে ফর্মে তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে, ঠিকভাবে ম্যাপিং হয়নি বা প্রয়োজনীয় নথিতে সমস্যা আছে, মূলত সেই সব ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।এই শুনানির আওতায় ইতিমধ্যেই একাধিক পরিচিত নাম সামনে এসেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সদস্যদেরও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সোমবার কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে শুনানিতে হাজির হন অভিনেতা কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী লাবনী সরকার।এরপরই কাউন্সিলর মৌসুমী দাস জানান, শুধু মহম্মদ শামি নন, সাংসদ দেবও এসআইআর শুনানির নোটিস পেয়েছেন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

আতঙ্কিত মমতা? নির্বাচন কমিশনের সামনে বিস্ফোরক দাবি বিরোধী দলনেতার

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত আরও তীব্র হল। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকে অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছিলেন। রাজ্যের দাবি না মানা হলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবিও জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই চিঠির পাল্টা এবার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন। তাঁর দাবি, ভোটের স্বার্থে ভুয়ো ভোটারদের রক্ষা করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দুর মতে, মুখ্যমন্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলেই এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়ে কমিশনকে চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিতেই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে রয়েছেন। সোমবার দুপুর বারোটায় কমিশনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। ভোটের মুখে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছনো দুই চিঠিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের তরফে জমা দেওয়া নথি গ্রহণ করা হচ্ছে না। ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিলেও তা এসআইআর শুনানিতে মানা হচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একেক রাজ্যের ক্ষেত্রে একেক রকম নিয়ম চালু করছে নির্বাচন কমিশন।অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভুয়ো ভোটারদের তালিকায় ঢোকানোর উদ্দেশ্যেই এই সব নথি ও প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে রাজ্য সরকার। এই অভিযোগ কোনওভাবেই মানা উচিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কোন বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, বাংলার ক্ষেত্রেই কেন আলাদা নিয়ম করা হচ্ছে, তার উত্তর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দিতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম বদলানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় মৃত্যু মিছিলের প্রসঙ্গ তুলে তার দায় কার, সেই প্রশ্নও তোলেন জয়প্রকাশ।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৬
কলকাতা

ডোমিসাইল বাতিলের অভিযোগ! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় সংঘাত রাজ্য-কমিশনের

ডোমিসাইল বা স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বাতিল করা হচ্ছে এই অভিযোগে চরম হয়রানির মুখে পড়ছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। রাজ্য সরকারের দাবি, অনানুষ্ঠানিক ভাবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আর ভোটার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত নির্দেশ বা আইনি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ ভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। রাজ্যের আপত্তি না মানা হলে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।এর আগেও গত নভেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। সেই চিঠিতে এসআইআর-এর প্রথম ধাপে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং বাংলা সহায়ক কেন্দ্রের কর্মীদের ব্যবহার না করার কমিশনের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।রাজ্যের অভিযোগ, কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদেরও শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তাঁরা ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক চরম অসুবিধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়ায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় কলকাতা পুরসভায় এই শংসাপত্রের জন্য আবেদন হঠাৎ বেড়ে যায়। পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিসে প্রতিদিনই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৮০টি করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের আবেদন জমা পড়ছে। সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দফতর থেকে কলকাতার সমস্ত কাউন্সিলরের কাছে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকাও পাঠানো হয়।এই প্রক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন জেলায় ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অভিযোগ ওঠে, পৌরসভার একটি ওয়ার্ডের ৩২ জন ভোটারকে শুনানির জন্য ডাকা হলেও তাঁদের কাছে থাকা পুরনো বাড়ির দলিল মানা হয়নি। নতুন করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। অথচ সেই শংসাপত্রই এখন বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, শুনানির কারণ না জানিয়েই ভোটারদের ডাকা হচ্ছে। প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিক ভাবে অক্ষম মানুষকেও ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকী ভিন রাজ্যে কর্মরত বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদেরও ব্যক্তিগত ভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বানান বা বয়স সংক্রান্ত সামান্য ভুলের জন্যও নতুন করে নথি যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা কার্যত অসম্ভব। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত তালিকা উপেক্ষা করে অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ। এই ত্রুটিগুলি অবিলম্বে সংশোধন না হলে সম্পূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

জানুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকায় বড় ছাড়! নথি না থাকলেও মিলবে ভোটাধিকার, কারা পেলেন সুবিধা?

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনে বড় ছাড় দিল নির্বাচন কমিশন। এবার নথি দেখালেও চলবে, না দেখালেও কোনও সমস্যা নেই। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জনজাতি, যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।কমিশনের মতে, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে নথি জোগাড় করা অনেক সময় অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকেই গ্রামাঞ্চল বা ভিনরাজ্য থেকে শহরে আসেন এবং সামাজিক নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে না। ফলে জন্ম শংসাপত্র বা ঠিকানার প্রমাণ সংগ্রহ করা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আবার অনেকে পারিবারিক বা সামাজিক চাপে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সেই সময় প্রয়োজনীয় নথি সঙ্গে আনা সম্ভব হয় না। অনেকেই নিজের পেশা গোপন রাখেন বলেও নথি জমা দিতে ভয় পান।একই ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরে আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন রূপান্তরকামীরাও। তাঁরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। রূপান্তরকামী সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। কারও নাম পুরনো ভোটার তালিকায় থাকলেও অনেকের নাম নেই। তাঁদের ক্ষেত্রে গুরু মা-র নাম ব্যবহার করার অনুমতির দাবি জানানো হয়েছিল।ইতিমধ্যেই রাজ্যে ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশিত হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় শুনানি চলছে। এই পরিস্থিতিতে যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের দাবিতে সিলমোহর দিল নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে নথি দেখানো বাধ্যতামূলক নয়। রূপান্তরকামীদের ক্ষেত্রে গুরু মা-দের পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদেরও নথি ছাড়াই শুনানিতে হাজির হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য স্থানীয় স্তরে ইআরও-দের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নথি না থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকেও গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্য করার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে।ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে মানবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআর শুনানিতে কেবল ২০১০-এর আগের ওবিসি শংসাপত্রই বৈধ, স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার জনশুনানিতে কোন কোন ওবিসি শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, ২০১০ সালের আগে ইস্যু হওয়া ওবিসি শংসাপত্রই কেবল এসআইআর শুনানিতে গ্রাহ্য হবে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে যেসব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়েছে, সেগুলি কোনওভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেটগুলি যেন এসআইআরের কাজে গ্রহণ না করা হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসনগুলিকে।প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ মে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত ইস্যু হওয়া সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল ঘোষণা করে। আদালতের মতে, ওই সময়কালে ওবিসি তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ সামাজিক, আর্থিক ও পেশাগত সমীক্ষা করা হয়নি।হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী, ২০১০ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। পরে বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০১০ সালে ৪২টি এবং তৃণমূল সরকারের সময় ২০১২ সালে আরও ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আদালত সেই পরবর্তী সংযোজনগুলিকেই অবৈধ ঘোষণা করে।রায়ে আরও বলা হয়, নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ওবিসি তালিকা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত চাকরি বা শিক্ষা ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ২০১০ সালের আগের ওবিসি শংসাপত্রই বৈধ বলে গণ্য হবে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়ায় একই নীতি অনুসরণ করছে বলে সূত্রের খবর।উল্লেখ্য, জনশুনানি পর্ব শুরুর আগে নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে তফসিলি জাতি (এসসি), তফসিলি জনজাতি (এসটি), অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং জন্ম শংসাপত্র সংশ্লিষ্ট নথি জেলা প্রশাসনগুলির কাছে চেয়ে পাঠিয়েছিল। চলতি বছরের ১২ জুন রাজ্য সরকার যে সংশোধিত ওবিসি তালিকা প্রকাশ করেছে, সেটিও কমিশন বিবেচনায় নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জানুয়ারি ০১, ২০২৬
কলকাতা

রোহিঙ্গা তালিকা কোথায়? এসআইআর নিয়ে কমিশনকে একের পর এক প্রশ্ন অভিষেকের

বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ১০ জন সাংসদ এবং রাজ্য সরকারের একাধিক সিনিয়র ক্যাবিনেট মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই বৈঠক মোটেও ফলপ্রসূ হয়নি।অভিষেক বলেন, আগেও ২৮ নভেম্বর তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশন সঠিক কোনও উত্তর দেয়নি। এবারও তাঁরা ১০ থেকে ১১টি প্রশ্ন নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। কিন্তু দু-তিনটি প্রশ্ন ছাড়া বাকি কোনও বিষয়েই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করতেই কমিশন নাগরিকত্বের প্রসঙ্গ টেনে কথা ঘুরিয়ে দেয়।অভিষেক জানান, মোট ১ কোটি ৩৬ লক্ষ কেস রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ-ছটি আলাদা ক্যাটাগরি আছে। কোথাও বাবা ও ছেলের বয়সের ফারাক ১৫ বছর, কোথাও নাম, পদবি বা ঠিকানায় ভুল। কিন্তু সেই সম্পূর্ণ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। কিছু কেস AERO-দের লগিংয়ে আপলোড করা হয়েছে। যে অ্যাপ দিয়ে এই তথ্য আপলোড করা হচ্ছে, সেটিতেও একাধিক সমস্যা রয়েছে বলে কমিশনকে জানানো হয়েছে।তাঁর অভিযোগ, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি ক্যাটাগরিতে গেলেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে শুনানির নোটিস চলে যাচ্ছে। সব তথ্য ঠিক থাকলেও মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। এর ফলে বহু বয়স্ক মানুষ, যাঁদের সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হয়, তাঁদেরও আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তৃণমূলের প্রশ্ন, যখন বয়স্কদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তখন শুনানির ক্ষেত্রেও কেন বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে না।অভিষেক জানান, কমিশন জানিয়েছে ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের শুনানিতে ডাকা হবে না। তৃণমূলের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক, শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের যেন অযথা শুনানিতে ডেকে হেনস্থা না করা হয়। কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি তারা আলোচনা করবে।রোহিঙ্গা ইস্যুতেও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি বাংলাকে টার্গেট করে বদনাম করছে এবং বলছে রাজ্যে নাকি ১ কোটি রোহিঙ্গা রয়েছে। তিনি কমিশনের কাছে জানতে চান, খসড়া তালিকায় যাঁদের নাম নেই সেই ৫৮ লক্ষ মানুষের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা, তার তালিকা প্রকাশ করা হোক। এই প্রশ্নেরও কোনও উত্তর কমিশন দিতে পারেনি বলে দাবি তাঁর।অভিষেক আরও বলেন, দেশের একাধিক রাজ্যে এসআইআর চলছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি রিভিশনের শতাংশ এসেছে বাংলায়, তা ৫.৭৯ শতাংশ। অথচ এখানেই সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে। তা সত্ত্বেও শুধু বাংলায় কেন বেছে বেছে মাইক্রো অবজারভার এবং জেলা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত অফিসার নেই। তৃণমূল পাল্টা জানায়, অনেক AERO বসে রয়েছেন, তাঁদের কাজে লাগানো হচ্ছে না।এছাড়াও ERO-দের না জানিয়ে কীভাবে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, কোনও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ফর্ম ৭ ছাড়াই কীভাবে ব্যাকএন্ড থেকে ভোটার তালিকা বদলানো হচ্ছে, তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। তবে এই বিষয়েও কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি বলে অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
কলকাতা

লক্ষীর ভাণ্ডার বন্ধের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল? সরাসরি জবাব অমিত শাহের, তীব্র রাজনৈতিক তরজা

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে চলমান কোনও সরকারি প্রকল্প বন্ধ হবে না। স্পষ্ট ভাষায় এই আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বর্তমানে রাজ্য সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প চলছে, বিজেপি সরকার গঠন করলেও তার একটিও বন্ধ করা হবে না। বরং তার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রকল্পও চালু করা হবে বলে দাবি করেন তিনি।অমিত শাহ বলেন, প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বলে তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ছড়াচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির ট্র্যাক রেকর্ড গোটা দেশই জানে। যেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে আগের সরকারের চালু করা প্রকল্প বন্ধ করা হয়নি। পাশাপাশি বিজেপির ইস্তাহারে যে সব প্রকল্পের কথা বলা হয়, সেগুলিও বাস্তবায়িত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির বক্তব্যের পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, কেন্দ্র কেন বাংলার জন্য বরাদ্দ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে, তার জবাব বিজেপিকে দিতে হবে। তাঁর দাবি, এই টাকা বিজেপির নয়, সাধারণ মানুষের করের টাকা। জিএসটি থেকে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ নেওয়া হলেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা অন্যায়ভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।জয়প্রকাশ মজুমদার আরও বলেন, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও বিজেপি তা মানতে চায় না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি সংবিধানকে সম্মান করে না এবং নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বিজেপি আবার হারবে বলেও দাবি করেন তিনি।অমিত শাহের আশ্বাস এবং তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • ...
  • 122
  • 123
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

রেজিনগরে হার হুমায়ুন-পুত্রের, কলকাতার বিজয় মিছিল থেকে ভাগীরথী নিয়ে তীব্র কটাক্ষ শুভেন্দুর!

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের পর কলকাতায় বিজয় মিছিল করল বিজেপি। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মিছিলের পরে আয়োজিত সভা থেকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। হুমায়ুনের ভাগীরথী মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৩০ ভাগকে ভাগীরথীর জলে ভাসাবে বলেছিল। এখন নিজেই নাকের জলে চোখের জলে ভাসছে। একই সঙ্গে রেজিনগরের ফলকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে বিজেপির অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। নিয়ম অনুযায়ী, পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। সেই কেন্দ্রে উপনির্বাচনে নিজের দলের প্রার্থী করেন ছেলেকে। ভোটের প্রচারে রেজিনগর থেকেই হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে ভাসিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন হুমায়ুন। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।কিন্তু রেজিনগরের উপনির্বাচনে জয় পায় বিজেপি। প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার থাকা এই কেন্দ্রে হুমায়ুনের ছেলে পরাজিত হন। ফলাফলে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন বলে দাবি করা হয়েছে। হারের আশঙ্কায় ফল প্রকাশের আগেই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন হুমায়ুন। পরে তাঁকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়। সেই প্রসঙ্গ টেনেই কলকাতার সভা থেকে তাঁকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু।রেজিনগরের ফলকে বিজেপির রাজনৈতিক সাফল্য হিসাবেই তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি সংখ্যালঘুদের ভোট পায় নাএই ধারণা ভেঙে দিয়েছে রেজিনগরের মানুষ। শুভেন্দুর দাবি, সংখ্যালঘু ভোটারদের একাংশও এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। তাঁর কথায়, সংখ্যালঘুরা দেখেছেন, তাঁদের ভোট ছাড়াও মোদির জয়রথ চলছে। তাই মূলস্রোতে থাকতে তাঁরাও বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন।এ দিনের সভা থেকে হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচন নিয়েও দলের পক্ষে প্রচার করেন শুভেন্দু। আগামী দিনে এই দুই পুরসভায় বিজেপিকে জেতানোর জন্য মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ডবল ইঞ্জিন সরকারের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, এ বার ট্রিপল ইঞ্জিন সরকার গড়ার লক্ষ্য নিতে হবে। হাওড়া ও কলকাতার মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুহাত পেতে ভোট চাওয়ার কথা বলে আগামী নির্বাচনের জন্য জনসমর্থন চান শুভেন্দু।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
দেশ

সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে রাহুল-মমতা, পাল্টা বিজেপির তোপ, দিল্লিতে মোতায়েন ২০ হাজার আধাসেনা!

ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধী জোট। সোমবার রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই অভিযানে যোগ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা, বাম নেতারা এবং সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা। অন্য দিকে, একই সময়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, বিরোধীরা বিদেশি শক্তির হাতের পুতুল হয়ে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে ২০ হাজার আধাসেনা মোতায়েন রয়েছেন। আরও এক মাস তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে।রবিবারই সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিল বিরোধী জোট। পরিকল্পনা ছিল, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেবেন। কিন্তু রবিবার রাতেই প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সময় দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীরা যে বিষয়গুলি তুলতে চাইছেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন। সেগুলি নিয়ে শুনানিও চলছে। আদালতকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না বলেও বার্তা দেন তিনি।তবে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ না মেলায় অভিযান বাতিল করেনি বিরোধী জোট। সোমবার রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে রওনা হন। প্রথমে বাসে যাত্রা শুরু হলেও পরে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পায়ে হেঁটে এগোতে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাম যুবনেত্রী নেহা বোরাকও।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাঁরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্যই তাঁরা বিচার চাইছেন। জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা না হলেও সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের। সিপিআই নেতা ডি রাজার বক্তব্য, বিরোধী নেতারা আদালত চত্বর পর্যন্ত যাবেন। পরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ১০ জনের একটি প্রতিনিধি দল পিটিশন জমা দেবে।অন্য দিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচির পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি। দলের নেতা শিবরাজ সিং চৌহান অভিযোগ করেন, বিরোধীরা দেশের সংবিধানকে অসম্মান করছেন। তাঁর দাবি, ইন্ডিয়া জোট বিদেশি শক্তির হাতের পুতুল হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধী অতীতে বিজেপির পাশাপাশি রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধেও লড়াইয়ের কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করে শিবরাজের কটাক্ষ, এই ধরনের কাজের জন্যই এক দিন কংগ্রেস মুছে যাবে।এ দিকে, সমাজমাধ্যমে রাহুল গান্ধীও পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, শিবের তাণ্ডব শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই মিছিল শিবের মিছিল, এখানে যে কেউ যোগ দিতে পারেন। কাউকে আটকানো হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে ঘিরে ভোট চুরির অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং বিরোধীদের সুপ্রিম কোর্ট অভিযানসব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে দিল্লিতে। এক দিকে আদালতে পিটিশন জমার প্রস্তুতি, অন্য দিকে বিজেপির পাল্টা আক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি আরও এক মাস বজায় রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরেও নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
কলকাতা

দিল্লির পর কলকাতাতেও ‘জ্ঞানেশ কুমার হটাও’ মিছিল! হাঁটতে পারেন মমতা, নজর পুলিশের অনুমতিতে

দিল্লির রাজনৈতিক আন্দোলনের আঁচ এ বার কলকাতাতেও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার মিছিলের ডাক দিল কালীঘাট তৃণমূল। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এই মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা। এই কর্মসূচি নিয়ে একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে শেষ পর্যন্ত মিছিল হবে কি না, তা নির্ভর করছে পুলিশের অনুমতির উপর।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।প্রকাশিত প্রচারপত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা এবং তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে সেখানে। এই সব ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আয়োজকেরা। জেলায় জেলায়ও কর্মসূচির বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে খবর।মিছিলের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি। তিনি আদৌ এই কর্মসূচিতে হাঁটবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আয়োজকদের তরফে প্রকাশিত প্রচারপত্রে মিছিলের কথা জানানো হলেও, পুলিশের অনুমতি না মেলা পর্যন্ত কর্মসূচির চূড়ান্ত ছবি স্পষ্ট হচ্ছে না।এ দিকে, পুজোর মরসুম শুরু হয়ে গিয়েছে। কলকাতার একাধিক বড় পুজোমণ্ডপ ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মিছিল হলে ওই এলাকায় যান চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। অনুমতি না মিললে কালীঘাট তৃণমূল কী পদক্ষেপ করবে, তা এখনও জানা যায়নি।উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের মাধ্যমে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিরোধী জোট। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সেই কর্মসূচিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, একাধিক বাম নেতা এবং সমাজবাদী পার্টির নেতাকর্মীরাও যোগ দেন।দিল্লির পর এ বার কলকাতায় এই ইস্যুতে তৃণমূলের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার মিছিলের অনুমতি মেলে কি না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে যোগ দেন কি না, এখন সে দিকেই নজর।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
দেশ

‘যন্তর-মন্তরই প্রতিবাদের পীঠস্থান’, আন্দোলনের দিন ঠিক করতে পুলিশকে চরম বার্তা সিজেপির

যন্তর-মন্তরেই আন্দোলন করতে চায় ককরোচ জনতা পার্টি। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে এ বার দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল সিজেপি। সোমবার পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যায়। থানায় ঢোকার আগে সিজেপি নেতারা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যন্তর-মন্তর ছেড়ে অন্য কোথাও আন্দোলন করতে তাঁরা রাজি নন। তাঁদের দাবি, যন্তর-মন্তরই প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান জায়গা। সেখানে বিক্ষোভের দিন ও সময় পুলিশকেই ঠিক করে দিতে হবে।সিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, আন্দোলনের দিনক্ষণ ঠিক করার দায়িত্ব দিল্লি পুলিশের হাতেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সিদ্ধান্ত জানাতে বেশি সময় নেওয়া যাবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশকে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আন্দোলনের তারিখ জানতে তাঁরা দিল্লি পুলিশের কাছে যাচ্ছেন। পুলিশই তাঁদের বিক্ষোভের দিন জানাবে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না জানালে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।সৌরভ দাসের বক্তব্য, তাঁরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চান। শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সকলের রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, আগে পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি চাইতে গেলে অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করার কথা বলত। এ বার তাঁরা পুলিশের কাছেই আন্দোলনের দিন ও সময় জানতে চাইছেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে রাজি নন তাঁরা।উল্লেখ্য, শনিবার সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিতে মুম্বই থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন দলের তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের অভিযোগ, দিল্লিতে পৌঁছনোর আগেই বিমানের ভিতর থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে রবিবার ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।মুক্তি পাওয়ার পরেও আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেননি সিজেপি নেতারা। বরং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই মতো সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল।যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার পরেই এই টানাপড়েন আরও বেড়েছে। সিজেপির দাবি, যন্তর-মন্তরেই তাঁদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সুযোগ দিতে হবে। অন্য দিকে, পুলিশ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে কোনও ঘোষণা হয় কি না, এখন সে দিকেই নজর।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
বিদেশ

জ্বালানি সঙ্কট থেকে বাজারের ওঠানামা, অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের গবেষণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদএমনই দাবি করা হয়েছে প্রকাশের জন্য দেওয়া খবরে। সেখানে বলা হয়েছে, সোমবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস চলতি বছরের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন রবার্ট ই হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে ব্যষ্টিক অর্থনীতির তাত্ত্বিক ভিত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁদের এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে খবরটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।রবার্ট ই হল আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্য দিকে, মাইকেল উডফোর্ড নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণার মূল বিষয় হল, কী ভাবে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা যায়। ব্যক্তি, পরিবার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কী ভাবে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়, তা ব্যষ্টিক অর্থনীতির আলোচ্য বিষয়। এই সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে সামগ্রিক অর্থনীতির ওঠানামার সম্পর্ক বুঝতে তাঁদের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং সরকার অর্থনীতি পরিচালনার জন্য নানা ধরনের মডেল ব্যবহার করে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মডেলগুলির তাত্ত্বিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে দুই অর্থনীতিবিদের গবেষণা সাহায্য করেছে। বাজারের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক ওঠানামা এবং আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলায় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের কাজের গুরুত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গবেষণার ফলে জ্বালানি সঙ্কট কিংবা সাধারণ মানুষের খরচের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তনের মতো অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি আরও ভাল ভাবে নেওয়া সম্ভব। অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কী ভাবে পরিবর্তন ঘটে, তা বুঝতে পারলে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির পক্ষে উপযুক্ত নীতি তৈরি করা সহজ হতে পারে।গত বছর ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার জন্য তিন জন গবেষক অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছিলেন। নতুন পণ্য ও উদ্ভাবন কী ভাবে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করে, তা ব্যাখ্যা করেছিলেন তাঁরা।এর আগে গত সপ্তাহে চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য এবং শান্তিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল বলে দেওয়া খবরে উল্লেখ রয়েছে। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নোবেল ঘোষণা পর্ব শেষ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম এবং পুরস্কারের কারণ সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
রাজ্য

আন্দোলনে যোগ দিলেই দৈনিক সাড়ে ৯ হাজার টাকা! আরামবাগের পড়ুয়াদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি বিজেপি বিধায়কের

ককরোচদের আন্দোলনে যোগ দিলেই মিলবে টাকা! দৈনিক ১০০ ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তাঁর আরও অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে অংশ নিলে মাসে ৯৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে। আরামবাগের প্রান্তিক এলাকার কলেজ পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। এই অভিযোগের সমর্থনে কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার স্ক্রিনশটও দেখিয়েছেন বিধায়ক। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।বিমান ঘোষের দাবি, রবিবার পরশুড়া বিধানসভা এলাকার এক কলেজ পড়ুয়া তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ওই পড়ুয়া তাঁকে কিছু তথ্য ও হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা দেখান। সেই সূত্রেই বিষয়টি তাঁর নজরে আসে বলে জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ওই পড়ুয়ার নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি। পাশাপাশি, সম্পূর্ণ কথোপকথনও প্রকাশ্যে আনেননি।বিমান ঘোষের অভিযোগ, ককরোচদের আন্দোলনের নামে পড়ুয়াদের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই সংগঠনের মাধ্যমে দেশের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি এবং ভারতবিরোধী কাজকর্ম চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আন্দোলনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস এবং সিপিএমের একাংশের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। যদিও এই অভিযোগগুলির পক্ষে এখনও কোনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ সামনে আসেনি।বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাঁর কাছে আসা তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ে জানানোর প্রস্তুতি চলছে। খুব শীঘ্রই সমস্ত নথি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ককরোচদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। কখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি, আবার কখনও ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। এই আন্দোলনের পিছনে বিদেশি অর্থের জোগান রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেই অভিযোগের সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা যায়নি। ফলে বিমান ঘোষের দাবি এবং দেখানো হোয়াটসঅ্যাপের বার্তাগুলি ঘিরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত বা সরকারি তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না, এখন সে দিকেই নজর।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
দেশ

‘সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা’, তা হলে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করলেন না কেন? জানালেন প্রধান বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা। সোমবার এই মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কিন্তু তা হলে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হলেন না কেন? এই প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি জানালেন, কেন তিনি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না, তা চিঠিতেই জানিয়েছেন। তবে সেই চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আনতে চাননি তিনি।প্রধান বিচারপতি জানান, রাহুল গান্ধীর চিঠি তিনি আগের দিন পেয়েছিলেন। সে দিন রাতেই তার জবাবও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, চিঠিতে এমন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যার জন্য তিনি রাহুলের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।কী সেই কারণ? এই প্রশ্নের উত্তরে সূর্য কান্ত বলেন, চিঠিতে কী লেখা রয়েছে, তা রাহুল গান্ধীর কাছেই জানতে চাওয়া উচিত। তিনি চিঠির গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।তবে সাধারণ নাগরিক থেকে জনপ্রতিনিধিসকলেরই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, যে কোনও ভারতীয় নাগরিক আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারেন। তিনি সাধারণ নাগরিক হোন বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আইন মেনেই তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষা করা হবে।দিল্লির পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রধান বিচারপতি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত বলে জানান তিনি।উল্লেখ্য, ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সোমবার তাঁদের এই আবেদন ঘিরেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়।তবে আগের দিন রাতেই তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী নেতারা যে বিষয়গুলি তুলতে চাইছেন, সেগুলি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে। সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করার প্রশাসনিক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।ফলে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ না হলেও আদালতের দরজা সকলের জন্য খোলাএই বার্তাই দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তবে চিঠিতে সাক্ষাৎ না করার যে কারণগুলি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি আপাতত প্রকাশ্যে আসেনি।

অক্টোবর ১২, ২০২৬
দেশ

মোদি সরকারের অন্দরে ২০০ জন আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ! সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি রাহুলের

মোদি সরকারের অন্দরমহলের খবর কি পৌঁছে যাচ্ছে রাহুল গান্ধীর কাছে? সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত অন্তত ২০০ জন আধিকারিক নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। তাঁদের কাছ থেকেই সরকারের নানা খবর পান বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, পুলিশের একাংশও বিরোধীদের আন্দোলনকে সমর্থন করছে বলে দাবি রাহুলের। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা।সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ভোট চুরি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে সরব হন রাহুল। সেই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তত ২০০ জন আধিকারিকের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং বিদেশমন্ত্রক-সহ বিভিন্ন দফতর থেকে তিনি তথ্য পাচ্ছেন। তবে কোন আধিকারিকেরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কংগ্রেস নেতা।দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। তাঁর দাবি, পুলিশের প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী তাঁদের জানিয়েছেন যে বিরোধীরা যা করছেন, তা ঠিক এবং সেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। পুলিশ, আধাসেনা এবং দেশের সাধারণ মানুষ বিরোধীদের পাশে রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও তাঁর এই দাবির সমর্থনে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সাংবাদিক বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।শনিবারের বিক্ষোভে ধরপাকড়ের প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, ভোট চুরির প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলেও দিল্লিকে কার্যত জেলখানায় পরিণত করা হয়েছে। তাঁর মতে, আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে মোদি সরকার বড় ভুল করছে।ব্যঙ্গের সুরে রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে সরকার চাইলে ২০ থেকে ৩০ হাজার পুলিশকর্মীও মোতায়েন করতে পারে। তাঁর দাবি, গত ১২ বছর ধরে মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। সরকার যত বেশি বাধা দেবে, বিরোধীরা ততই তাদের লক্ষ্যের কাছে পৌঁছবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।রাহুলের বক্তব্য, শুধু রাজনৈতিক দল নয়, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন জমায়েত থেকেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন চলবে বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০০ জন আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুলিশের একাংশের সমর্থন নিয়ে রাহুলের দাবিগুলি তাঁর নিজের বক্তব্য হিসাবেই সামনে এসেছে। এই দাবিগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অক্টোবর ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal