• ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতি ০২ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Durga Puja

কলকাতা

পুজোর অনুদান নিয়ে বড় ঘোষণা! কারা পাবেন টাকা, কারা পাবেন না জানালেন শুভেন্দু

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে এবার অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রতি বছর পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হত। গত বছর সেই অনুদানের পরিমাণ ছিল এক লক্ষ দশ হাজার টাকা। সরকার পরিবর্তনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নতুন সরকারের আমলেও কি সেই অনুদান চালু থাকবে?এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শীঘ্রই তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই অনুদান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, যেসব ক্লাব আর্থিক সমস্যার কারণে পুজো আয়োজন করতে অসুবিধায় পড়ে, মূলত তাদেরই সাহায্য করা উচিত। যেসব বড় ক্লাবের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নাও হতে পারে।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, যাঁদের সত্যিই অর্থের প্রয়োজন, তাঁরাই অনুদান পাবেন। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ার প্রয়োজনও নেই। ফলে এবার অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে নতুন নীতি নেওয়া হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এ বছর রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যায় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁর আশা। সেই কারণেই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় নিয়ে সরকার গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করবে।উল্লেখ্য, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রথমবার দুর্গাপুজোর অনুদান চালু হয়েছিল দুই হাজার আঠারো সালে। তখন প্রতিটি ক্লাবকে দশ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর সেই অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত গত বছর তা বেড়ে এক লক্ষ দশ হাজার টাকায় পৌঁছায়। পুজোর আগে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ক্লাব প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে অনুদানের ঘোষণা করা হত। নতুন সরকারের আমলে সেই প্রথা বজায় থাকবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটির।

জুন ১২, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপূজার অনুদানে আমূল বদল! ‘সবার জন্য নয়’, নতুন নীতির ইঙ্গিত শুভেন্দুর

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান নিয়ে জোর জল্পনা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল নতুন বিজেপি সরকারের নেতৃত্ব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, দুর্গাপূজার সরকারি অনুদান পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে না, তবে আগের মতো সমস্ত পুজো কমিটিকে এক ছাঁচে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার নীতি থেকে সরে আসতে চলেছে সরকার।শুক্রবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নতুন সরকার আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ করতে চায়। সেই কারণেই দুর্গাপূজার অনুদান ব্যবস্থার উপর শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।প্রসঙ্গত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্গাপূজার অনুদান প্রতি বছরই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০২৫ সালে রাজ্যের প্রতিটি নিবন্ধিত দুর্গাপূজা কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তার আগের বছর এই অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, ফায়ার লাইসেন্সের ফি মকুব এবং একাধিক প্রশাসনিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছিল পুজো কমিটিগুলিকে।তবে নতুন সরকার সেই মডেলকে পুনর্বিবেচনা করতে চাইছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর এবং বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে রাখা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব পুজো কমিটি কর্পোরেট স্পনসরশিপ, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উৎস থেকে পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম, তাদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পুজো কমিটি নিজেদের সামর্থ্যে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারে, তাদের সরকারি অর্থ দেওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে কি না, তা সরকার বিবেচনা করবে। কিন্তু যেসব কমিটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে, যাদের এই সহায়তা ছাড়া পুজো আয়োজন কঠিন হয়ে পড়বে, তাদের পাশে সরকার অবশ্যই থাকবে।সরকারি সূত্রে খবর, সম্ভাব্য নতুন নীতিতে পুজো কমিটির আর্থিক অবস্থা, বাজেট, স্পনসরশিপের পরিমাণ এবং স্থানীয় সামাজিক ভূমিকার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে অনুদান পেতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হতে পারে পুজো কমিটিগুলিকে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন সরকার একদিকে যেমন সরকারি ব্যয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে চাইছে, অন্যদিকে সরকারি সাহায্য প্রকৃত প্রয়োজনমাফিক বণ্টনের বার্তাও দিতে চাইছে। বিরোধীদের মতে, এটি জনপ্রিয় একটি প্রকল্পের পরিধি সংকুচিত করার পদক্ষেপ হতে পারে, যদিও সরকারের দাবিএটি সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থ ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন।এখন নজর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আসন্ন বৈঠকের দিকে। সেখান থেকেই স্পষ্ট হবে, ২০২৬ সালের দুর্গাপূজায় কোন ধরনের কমিটিগুলি সরকারি অনুদানের আওতায় থাকবে এবং নতুন নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক কী হতে চলেছে।কর্পোরেট স্পনসর পাওয়া বড় পুজোগুলির জন্য অনুদান অনিশ্চিত, আর্থিকভাবে দুর্বল কমিটিগুলির পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের।

জুন ১২, ২০২৬
উৎসব

চোটখন্ড উন্নয়নী সংঘ দুর্গোৎসব ঘিরে চার দিনের আয়োজনে আনন্দমুখর পরিবেশ

চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের আয়োজিত দুর্গোৎসব এ বছরও যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো। টানা চারদিন ধরে শিষ্টাচার মেনে পূজা-পার্বণ, বিবিধ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাতৃ আরাধনায় সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রথামত ষষ্টী-তে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পুজারম্ভ হয়। সপ্তমী তিথিতে নবপত্রিকার স্নান, অষ্টমী তিথিতে সন্ধিপূজা ও বলিদান, ও নবমী তিথিতে হোম যজ্ঞ-র আয়োজন কর হয়। দশমী তিথিতে দেবী অপরাজিতার পুজার মাধ্যমে সাঙ্গ হয় এবছরের আরাধনা, অপেক্ষা আরেকটি বছরের।দশমী তিথিতে দেবী দুর্গার পূজা-পর্ব শেষে আয়োজিত হয় সান্ধ্যকালীন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এলাকার কচিকাঁচা থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ কৃতী শিল্পীরাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। এর পাশাপাশি চারদিন ধরে চলতে থাকা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় স্মারক পুরস্কার।একাদশীর দিনে প্রথা অনুযায়ী দিনের বেলা ঢাক-ঢোল বাদ্যি সহযোগে এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা দেবী প্রতিমা নিরঞ্জনে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যার পর চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০০ জন ভক্তের মাঝে চোটখন্ড বারোয়ারী তলায় খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করা হয়। ভোগ প্রাপ্তির আনন্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের সম্পাদক সান্তনু চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সকলে মিলেমিশে দুর্গোৎসব পালন করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয় মানুষজনের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে ওঠে। ক্লাবের অপর এক সদস্য চঞ্চল মোহন্ত জনতার কথাকে জানান, সারাবছরই আমরা প্রত্যেকেই নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকি। এই চারটে দিন পজোর ব্যস্ততায় বারোয়ারী তলায় কি ভাবে কেটে যায় বুঝতেই পারিনা। পাড়ার মা, বোন ও ছোটছোট ছেলেমেয়েরা প্রচুর আনন্দ করে/করেন। তিনি জানান, আবার আরেকটি বছরের অপেক্ষা, তিনি আরও বলেন তাঁরা সামনের বছর আরও ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করবেন। সকলে মিলে বসেই সেই পরিকল্পনা করবেন বলে জানান।

অক্টোবর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

কালনায় আস্ত নন্দন! মহানায়ক উত্তমকুমারকে ঘিরে দুর্গাপুজোয় অভিনব উদ্যোগ

জন্মশতবর্ষের সূচনায় মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা মহকুমার পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাবের অভিনব থিম বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার পীঠস্থান এক সিনেমা হলের আবহে মণ্ডপ, বাজবে মহানায়ক উত্তম কুমারের জনপ্রিয় গানের সুর।পূর্ব বর্ধমানের কালনা এবার দুর্গাপুজোয় দেখবে অন্য রকম চমক। আস্ত নন্দন-এর আবহ টেনে আনা হচ্ছে প্যান্ডেলে, আর সেই আবহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক উত্তমকুমার। জন্মশতবর্ষের সূচনায় মহানায়ককে ঘিরে বছরভর নানা আয়োজন চলছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে, আর সেই আবহকেই এ বার থিমে প্রতিষ্ঠা করেছে পূর্ব সাতগেছিয়া সংহতি ক্লাব।মণ্ডপজুড়ে থাকবে উত্তমকুমারের সিনেমার অমর মুহূর্ত, পর্দায় চলবে তাঁর অভিনীত ছবির ক্লিপিংস, আর চারপাশে বাজবে কালজয়ী গান। এক কথায়, তৈরি হচ্ছে সিনেমা হলের মতো পরিবেশ। প্রতিমা আসছে কোলড়ার শিল্পী অভিজিৎ রায়ের হাত ধরে। স্থানীয় শিল্পীরা তৈরি করছেন সাজসজ্জা ও আলোকব্যবস্থা।ক্লাব সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক সুরজিৎ বক্সী বলেন, নন্দনের আদলে মণ্ডপ তৈরি হচ্ছে। মাল্টিপ্লেক্সের দাপটে সিঙ্গল স্ক্রিন হারিয়ে গেলেও নন্দন এখনও গর্বের জায়গা। সেই নন্দনের আবহেই মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে চাই।থিমের রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন এলাকার বিশু সাহা। যদিও মাঠ ছোট, ফলে নন্দনের হুবহু অনুকরণ সম্ভব নয়, তবে পরিবেশ তৈরির দিকেই জোর দিচ্ছেন তিনি। ক্লাবের সচিব সুকল্যাণ কুণ্ডুর কথায়, বর্তমান প্রজন্মের কাছেও মহানায়কের কীর্তি পৌঁছে দিতে চাই, যাতে তারাও বুঝতে পারে, মহানায়ক কাকে বলে।ক্লাবের এক সদস্য জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও সংহতি ক্লাব দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত করবে সামাজিক উদ্যোগ। দুই শতাধিক মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।সব মিলিয়ে, কালনার এই অভিনব থিম শুধু পুজোর আনন্দই বাড়াবে না, বরং মহানায়ক উত্তমকুমারের প্রতি বাঙালির চিরন্তন শ্রদ্ধাকেই আরও গভীর করবে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

কলকাতায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ২০২৬-এ সোনার বাংলা গড়ার ডাক অমিত শাহর, গেলেন মমতার পাড়ায়

ফের সোনার বাংলা গড়ার ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন কলকাতায় দুর্গাপুজো উদ্বোধনের পাশাপাশি, কালীঘাটে পুজো দেন অমিত শাহ। অমিত শাহ বলেন, আমাদের এই নবরাত্রিতে পূজা মহোৎসব শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতেই নয় সমগ্র বিশ্বে প্রসিদ্ধ। বাংলার এই মহান পরম্পরাকে সমগ্র বিশ্ব স্বীকারও করেছে দেখেওছে।বক্তব্য রাখতে গুয়ে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, আমি এই প্যান্ডেল এ কিছুক্ষণ আগেই মায়ের পুজো করে এসেছি। আমি মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি, নির্বাচনের পর এই বাংলায় এমন একটি সরকার আসুক যেটি সোনার বাংলার নির্মাণ করতে পারে। আমাদের বাংলা পুনরায় সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, শান্ত, সুজলা, সুফলা হোক। এখানে কবিগুরুর কল্পনার বাংলার নির্মাণ যাতে আমরা করতে পারি। আজ মহান শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জয়ন্তী। তিনি কেবলমাত্র বাংলা নয় বরং সারা দেশ যখন পরাধীন ছিল তখন শিক্ষার জন্য যা করেছিলেন তা কেউ ভুলতে পারবেন না। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, ব্যাকরণ তথা মহিলাদের শিক্ষার জন্য তিনি নিজের সমগ্র জীবন সমর্পিত করেছেন। আমি হৃদয়পূর্বক নিজের তরফ থেকে তথা ভারতীয় জনতা পার্টি এর তরফ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর চরণে প্রণাম জানাই।এদিন অমিত শাহর ভাষনে ভারী বর্ষার কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, দুর্গাপুজোর আগে এখানে ভারী বর্ষণ হয়েছে। তার জেরে ১০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গিয়েছে। আমি তাঁদের সকলের পরিবারকে সমবেদনা জানাই। আমি তাঁদেরও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে চাই। এই পুজো আমাদের শুভের দিকে নিয়ে যাক, বাংলার বিকাশের মাধ্যমে বিকশিত ভারতের স্বপ্ন যা দেখেছেন আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদী তা সিদ্ধ যেন করতে পারি। বাংলার মানুষকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানাই।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজনীতি

অভিষেক কিসের জবাব চাইলেন অমিত শাহর কাছে? বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গেও কটাক্ষ বিজেপিকে

কলকাতায় দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, বিদ্যাসাগরের জন্মদিন। এদিন বিদ্যাসাগর কলেজে মনীষীর মূর্তিতে মাল্যদানের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এক হাত নেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বলোন, আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছে, কারণ কেউ (অমিত শাহ) যিনি মাত্র ১০ মিনিট দূরে একটি পুজো প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, এতটুকু বিবেকবোধ নেই যে, আজ বিদ্যাসাগরের ২০৫তম জন্মজয়ন্তী। তাঁর মনেও হয়নি বিদ্যাসাগরের বাড়ি বা বিদ্যাসাগর কলেজে এসে শ্রদ্ধা জানানোর। একারণেই আমরা বলি ওরা বাংলা-বিরোধী। মানুষ আগেও দেখেছে, আগামীতে আবারও দেখবে।নানা ভাবে বাংলার মনীষীদের অপমান করা হয়েছে বলে তোপ দেগেছেন অভিষেক। তিনি বলোন, আমাদের রাজনৈতিক লড়াই চলতে থাকবে, কিন্তু বাংলার মনীষীদের যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, তা ভোলা যাবে না। ওরা জানে না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় জন্মেছিলেন। ওরা পঞ্চানন বর্মার নামও ভুল উচ্চারণ করে। ওরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় বা ক্ষুদিরাম বসুর অবদান সম্পর্কেও অজ্ঞ। আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে ওদের থেকে শেখার দরকার নেই।দুর্গাপুজো নিয়েও বিজেপি দ্বিচারিতা করছে বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, আজ যিনি দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল উদ্বোধন করছেন, তিনিই পাঁচ বছর আগে বলেছিলেন বাংলায় কোনও দুর্গাপুজো হয় না। আজ সেই দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যের উৎসব বা উদযাপন এধরনের স্বীকৃতি পায়নি। আমাদের কন্যাশ্রীও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ওদের আমাদের বাংলার থেকে শেখা উচিত।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মন্তব্যের জবাবে অভিষেকের বক্তব্য, ওদের আগে প্রশ্ন করুন: বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা কবে ছাড়বে? কেন এই টাকা আটকে রাখা হয়েছে? যদি বলে আমরা মিথ্যা বলছি, তবে তারা চ্যানেল ও সময় বেছে নিক। আমি নথি-প্রমাণ নিয়ে হাজির হব, এমনকি তাদের নিজেদের চ্যানেল হলেও। বাংলার টাকা আটকে রাখা হয়েছে কোন অধিকারে?অভিষেক বলেন, আমার প্রশ্ন, কেন উনি সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে এখানে আসলেন না? গাড়িতে ১০ মিনিটের রাস্তা। কারণ, উনি বাংলা-বিরোধী। বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে অস্বীকার করে। বাংলার বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের হারিয়েছিল, বিজেপি কোন ছাড়? বাংলার মানুষের দৃঢ়তার সামনে ওরা কিছুই নয়।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৫
নিবন্ধ

মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া

ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে বিশাল অশ্বত্থগাছের পাতায় পাতায় শিরশিরানি জাগিয়ে। শতাব্দী প্রাচীন গাছটার আনাচকানাচ থেকে উপচে পড়ছে কত না পাখির কলকাকলি পায়রাদের বকবকম.. ঘুঘুদের কুড়কুড়.. টিয়ার ঝাঁকের তীক্ষ্ণস্বন.. কাক-এর কর্কশ আওয়াজ .. চড়ুই-শালিকদের সমবেত কিচিরমিচির .. টুনটুনি-বুলবুলিদের সুরেলা শিস .. .. নারায়ণপুরের আকাশে ভোর জাগছে মৃদু মোলায়েম আমেজ নিয়ে।মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় দেবীআরাধনার সূত্রপাত। পূজামণ্ডপ ধুয়ে, বেদীতে আল্পনা দিয়ে, ফুল-বেলপাতা গুছিয়ে, প্রসাদের থালা সাজিয়ে, আয়োজন চলছে তারই। আশ্বিনের এই শারদপ্রভাতে পুজোআর্চা সেরে, সন্ধ্যায় দেবীর বোধন দিয়ে শুরু হয়ে যাবে জগজ্জননীর আরাধনা।কাল সন্ধ্যায় এসেছি গ্রামের বাড়িতে। যাবতীয় পেশাগত দায়দায়িত্ব সেরে, বাড়িঘরের দেখাশোনার ভার উপযুক্ত হাতে ন্যস্ত করে, শেষ মুহূর্তের হাজারো ব্যস্ততা সরিয়ে, পিতৃপুরুষের ভিটেয় এসে পৌঁছতে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। বর্ধমান থেকে পঁচিশ কি.মি. উজিয়ে এসে, বাসরাস্তা ছেড়ে বটগাছের ঝুরি-দোলানো গ্রামের পথে গাড়ি ঢুকে পড়েছে হেলেদুলে। ভরাশরতের টইটম্বুর পুকুরের পাশ কাটিয়ে, জোনাক-জ্বলা বাঁশঝাড়ের অন্ধকার আর্চ ফুঁড়ে, এঁকেবেঁকে আধ কি.মি. পেরিয়ে, এসে গেছি নারায়ণপুর এই সাতান্ন বছরের জীবনে পুজোর কদিন যা আমার একমাত্র ঠিকানা।এই পুজোবাড়ি, লোকমুখে যার চলতি নাম চাতোর (চত্বর-এর অপভ্রংশ ), আমাদের ছোটবেলায় ছিল এক লম্বা মাটির চারচালা। সামনে ত্রিপল-এ ছাওয়া লম্বা বাঁশের কাঠামো পুজোর কদিন ধারণ করতো উৎসাহী মানুষজনকে টলমলে কুচোকাঁচা থেকে শুরু করে ন্যুব্জ বৃদ্ধবৃদ্ধারা সকালসন্ধ্যা ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টার ঐকতান .. ধূপধুনোগুগগুল-এর ধূম্রজাল .. মন্ত্রমুখর পূজার্চনার শরিক হতেন এখানেই সমবেত হয়ে। সেই মাটির গাঁথনির জায়গা নিয়েছে শানবাঁধানো পাকা মণ্ডপ, শক্তপোক্ত টিনের ছাউনি, আর মর্মরমণ্ডিত পুজাবেদী সেও হয়ে গেল বেশ কয়েক দশক।ছোটোবেলায় পঞ্চমী-ষষ্ঠীর দিন যখন এসে পড়তাম, বাড়ির কর্মসহায়করা ব্যস্ত থাকতো খড় পেঁচিয়ে দীর্ঘ রজ্জু-রচনায়, যার ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেওয়া হতো ছোটো ছোটো আমশাখা, প্রতিটি শাখায় চারপাঁচটি করে পাতা সেই মালায় সেজে উঠতো মন্ডপের চারপাশ আর প্রতিটি বাড়ির প্রবেশদ্বার। আজ সেই মঙ্গলমালিকারও রূপবদল হয়েছে ছোটো ছোটো আমশাখার জায়গা নিয়েছে একটি একটি করে আমের পাতা। তাতে আর কিছু না হোক, অপচয় কমেছে সবুজপত্রের।আমাদের শৈশবে এই মণ্ডপে ঠাকুর গড়তে আসতেন বটুদা। পরে তাঁর স্থান নেন জয়দেবদা। ওঁর সৃষ্টিতে মায়ের মুখ হতো অপেক্ষাকৃত কোমল, কিছুটা প্রাচীনপন্থী। সেই মুখশ্রীই রয়ে গেছে আজও, এই থীমময় পৃথিবীতে দুর্গাপ্রতিমার ছিরিছাঁদ আর মূর্তিশৈলী নিয়ে যতই পরীক্ষানিরীক্ষা-পরিবর্তনের ঢেউ উঠুক না কেন !জয়দেবদা আজ বৃদ্ধ, চোখে কম দেখেন ; চলনবলনে গ্রাস করেছে স্থবিরত্ব। তবু আজও রথযাত্রা থেকে শুরু করে তিনদফায় এসে, কদিন থেকে, তিনি গড়ে দিয়ে যান আমাদের মা হরগৌরীর মৃৎপ্রতিমা থেমে থেমে .. ঘোলাটে চোখে .. কতক আন্দাজে .. কতক কম্পিত আঙুলের অভ্যস্ততায় ড. সুজন সরকার : বর্ধমান।

অক্টোবর ০৯, ২০২৪
রাজ্য

দুর্গা পুজোর অনুদান প্রত্যাখ্যানের ঢেউ আছড়ে পড়ল পূর্ব বর্ধমানে, এবার কালনার সংহতি ক্লাবের!

দুর্গা পুজোর সরকারি অনুদান ফেরানোর তালিকা বেড়ে হলো ৮ । তালিকায় যুক্ত হল পূর্ব-বর্ধমান জেলার নাম। রাজ্য সরকারের দেওয়া দুর্গা পুজোর অনুদান নিতে অস্বীকার করল পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা সংলগ্ন পূর্ব সাতগেছিয়ার সংহতি ক্লাব। যদিও সংগঠকদের তরফে দুর্গা পুজোর সরকারি অনুদান নিতে অস্বীকার করার কোনও যথাযথ কারণ ক্লাবের তরফে জানানো হয়নি। স্থানীয় থানাকে দেওয়া চিঠিতে উল্লিখিত আছে, অনিবার্য কারণের জন্য চলতি বছরে অনুদান তারা নেবে না।ইতিমধ্যে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ৭টি দুর্গা পুজো কমিটি সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় সরকারি দপ্তরে জানিয়ে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই ক্লাবগুলি ঘোষণা করে দিয়েছিলো যে তাঁরা আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েই তার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল পূর্ব সাতগেছিয়ার সংহতি ক্লাব।সংহতি ক্লাবের লেটারহেডে কালনা থানার আই সি-কে চিঠি পাঠিয়ে ক্লাবের সম্পাদক সঞ্জীব গুপ্ত তাঁদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। সেই চিঠিতে সঞ্জীব গুপ্ত লিখেছেন, অনিবার্য কারণ বশত এইবছর সংহতি ক্লাব সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারবে না। তাঁরা প্রস্তাব দিয়েছে যে, তাঁদের জন্য ধার্য করা অনুদানের টাকা গরিব কল্যাণ উন্নয়নমূলক কাজে ব্যায় করলে তাঁরা কৃতজ্ঞ থাকবেন।পূর্ব সাতগেছিয়ার সংহতি ক্লাব-এর পক্ষ থেকে প্রশাসন কে জানানো হয়েছে যে, দূর্গা পুজোয় পুলিশের যাবতীয় বিধি, নিয়ম এবং নির্দেশিকা মেনেই তাঁরা পুজো আয়োজন করবে। এবং সরকারের যাবতীয় অনুমতি নিয়েই আগের বছরগুলির ন্যায় তাঁরা পুজো আয়োজন করবে।এর আগে হুগলির চারটি ক্লাব উত্তরপাড়ার বৌঠান সঙ্ঘ, উত্তরপাড়া শক্তি সঙ্ঘ, আপনাদের দুর্গাপুজো এবং কোন্নগরের মাস্টারপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি সরকারি অনুদান গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই আরজি কর-এ কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একই সুরে পুজোর অনুদান বয়কট করেছে জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ৭ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড, মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর সন্ন্যাসীতলা মহিলা দুর্গোৎসব কমিটি এবং কলকাতার মুদিয়ালি আমরা কজন ক্লাব। প্রত্যাখ্যানের তালিকা বেড়ে আট হলেও পূর্ব সাতগেছিয়ার সংহতি ক্লাব তাঁদের দুর্গা পুজোর অনুদান ফেরানোর কারণ তাঁরা ব্যক্ত করেননি।পুজোর অনুদান প্রত্যাখ্যানকারী ক্লাব গুলির মূল বক্তব্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার বিচার চায় তারা। তাঁরা জানান ইতিমধ্যে এই মর্মে ক্লাবের তরফে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, পুজোয় রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার খরচাও মকুব করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আগেরবছর ৬৬ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এই বছর থেকে ছাড়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৪
ভ্রমণ

দুর্গাপুজোয় দার্জিলিং বেড়াতে যেতে চাইছেন? স্পেশাল ট্রেন পূর্বরেলের

আগামী ৯ অক্টোবর (বুধবার) দুর্গা ষষ্ঠী আর বেশিরভাগ বাঙালি ঠিক ষষ্ঠীর দিনটাই বেছে নেন বেড়াতে যাওয়ার জন্য। কেউ যাবেন পুরী , কেউ কাশ্মীর, কেউবা যাবেন দার্জিলিং। কিন্তু সময় মত টিকিট কাটা হয়নি, বেশিরভাগ ট্রেনেই ওয়েটিং লিস্টের লাইন লম্বা। এদিকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছেও আপনার আছে। চিন্তা কিসের? মুশকিল আসান পূর্ব রেল তো আছে, আপনাদের সঙ্গে। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখ , ১৬ তারিখ, ৩০ তারিখ (অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন) এবং নভেম্বর মাসের ৬ তারিখ (অর্থাৎ ছট পুজোর আগের দিন) দার্জিলিং যাওয়ার জন্য আপনাদের জন্য হাওড়া থেকে ছাড়বে স্পেশাল ট্রেন (০৩০২৭ আপ)। ট্রেনটি হাওড়া থেকে রাত ১১ঃ৫৫ মিনিটে ছেড়ে ব্যান্ডেল জংশন, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, জঙ্গিপুর রোড, মালদা টাউন, বারসোই, কিষাণগঞ্জ ও আলুয়াবাড়ি রোড হয়ে পরের দিন সকাল ১০ঃ৪৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছাবে। যারা ইতিমধ্যেই ওই সময়ে দার্জিলিঙে যাওয়ার টিকিট পেয়েছেন কিন্তু আসার টিকিট কেটে উঠতে পারেননি তাদের জন্য আগামী অক্টোবর মাসের ১০, ১৭, ৩১ এবং নভেম্বর মাসের ৭ তারিখ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে হাওড়া আসার জন্য একটি স্পেশাল ট্রেন চলবে (০৩০২৮ ডাউন)। ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দুপুর ১২ঃ৪৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে আলুয়াবাড়ি রোড, কিষাণগঞ্জ, বারসোই, মালদা টাউন, জঙ্গিপুর রোড, আজিমগঞ্জ, কাটোয়া, নবদ্বীপধাম, ব্যান্ডেল হয়ে রাত ১২:১০ মিনিটে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছাবে। ট্রেনটিতে একটি এসি ফার্স্ট এবং এসি 2 টায়ার কম্বাইন্ড কোচ, একটি এসি 2 টায়ার, পাঁচটি AC 3 টায়ার, একটি এসি ৩ ইকোনমি, আটটি স্লিপার কোচ এবং ৩টি জেনারেল সেকেন্ড ক্লাস কোচ থাকবে।

আগস্ট ২৯, ২০২৪
রাজ্য

ফের বাড়ল রাজ্যের ক্লাবগুলির দুর্গাপুজোর অনুদান, "আগামী বছর ১ লক্ষ টাকা"- মমতা

ফের বাড়ল দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান। এবার দুর্গাপুজোয় পুজো কমিটি গুলিকে ৮৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেবে রাজ্য সরকার। রাজ্যের ৪৩টি ক্লাব এই অনুদান পাবে। পুজো কমিটিগুলির ফায়ার লাইসেন্স সহ সমস্ত ধরনের করও মকুব করার কথা ঘোষণা্ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যুতেও থাকছে বিশেষ ছাড়।২০২৩ সালে ৭০ হাজার টাকা করে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দিয়েছিল রাজ্য সরকার। এবার সেই অনুদান বেড়ে হল ৮৫ হাজার টাকা। শুধু তাই নয়, সামনের বছর থেকে পুজো কমিটিগুলোকে অনুদান হিসেবে ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।গতবার দুর্গাপুজোয় বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল ৬৬ শতাংশ। এবার আরও বেড়েছে সেই ছাড়ের অঙ্ক। এবার ছাড় দেওয়া হচ্ছে ৭৫ শতাংশ। গত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই রাজ্যে। এবার আগামী ১৫ অক্টোবর দুর্গাপুজোর কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক এবং ফোরাম ফর দুর্গোৎসব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এই অনুষ্ঠানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, যে এ বছর ৪৩ হাজার ক্লাবকে দুর্গাপুজোর অনুদান বাবদ ৮৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ২০২৫ সাল থেকে এই অনুদানের পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে হবে ১ লক্ষ টাকা। এবছর দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে বিদ্যুতের মাশুলে ৭৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বছর বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড় ছিল ৬৬ শতাংশ। এবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুর্গাপুজো।

জুলাই ২৩, ২০২৪
বিনোদুনিয়া

কোদালিয়া নেতাজি সংঘের দুর্গাপুজোয় সুকুমার রায়ের ছোঁয়া

৩৫ তম বর্ষে পদার্পণ করল কোদালিয়া নেতাজি সংঘের দুর্গাপুজো। ৩৫ তম বর্ষে তাদের ভাবনা সুকুমার রায়ের স্মরণে অসম্ভবের ছন্দেতে। রথযাত্রার বিশেষ দিনে খুঁটিপুজো-র মাধ্যমে তাদের পুজোর শুভ সূচনা হল। গত বছর ভারতীয় ফুটবলকে তাদের দুর্গাপুজোর ভাবনায় তুলে ধরা হয়েছিল। এবার ভাবনাতে আমাদের সকলের প্রিয় সুকুমার রায়।এই ভাবনা প্রসঙ্গে ক্লাবের পক্ষ কার্যকরী সভাপতি অর্কদেব চ্যাটার্জি জনতার কথাকে জানিয়েছেন, সুকুমার রায়ের যে সৃষ্টি তার বেশ কিছু অংশকে আমরা তুলে ধরেছি। ছোট থেকে বড় অর্থাৎ নয় থেকে নব্বই সব ধরনের মানুষের কাছেই যাতে এই কাজটা পৌঁছে দেওয়া যায় সেটারই চেষ্টা করছি। আমাদের এই বছরের শিল্পী সঞ্চিত বণিক, আলোতে রয়েছেন শুভদীপ সর্দার। অর্কদেব আরো জানিয়েছেন আবোল তাবোল, হযবরল এই বিষয়কে মাথায় রেখেই আমরা প্রতিমাকেও সাজিয়ে তুলছি। প্রতিমা করছেন সন্দীপ বোস। আগস্টে আমাদের থিম সং এর ও উদ্বোধন করা হবে।ক্লাবের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়েছে তাদের এই পুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন সত্যজিৎ রায়ের ছেলে পরিচালক সন্দীপ রায়, বিশিষ্ট অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, শিল্পী সনাতন দিন্দা থেকে শুরু করে আরো অনেকে।

জুলাই ১৭, ২০২৪
রাজ্য

পুজোর পর ঈদেও বাংলায় বোনাস বৈষম্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের, অভিযোগে সরব শুভেন্দু

বিজেপির বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগে বরাবরই সরব থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ উঠল মমতা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঈদের দিনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বোনাস বৈষম্যের অভিযোগে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্গা পুজো ও ঈদের সময় সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাসের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা প্রাপ্তির ছবিও তুলে ধরেছেন তিনি।বিরোধী দলনেতা এক্স হ্যান্ডেলের শুরুতেই, এক কাজ এক বোনাস-এর দাবি জানিয়েছেন। তারপর সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাসের অঙ্ক তুলে ধরেছেন।নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শুভেন্দু অধিকারী সরকারি বিজ্ঞপ্তি তুলে ধরে লিখেছেন, দুর্গাপুজো সময় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ারদের ৫,৩০০ টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ারদের ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুটি অ্যাকাউন্টে ওই বোনাস প্রাপ্তির ছবিও দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। ঈদে কিছু জেলা পুলিশ ৫,৩০০ টাকা বোনাস দিয়েছে, কয়েকটি জেলা ৬,০০০টাকা বোনাস দিয়েছে।I demand ONE JOB ONE BONUS.Bonus Amount for Civic Volunteers:During Durga Puja:-@KolkataPolice - Rs. 5,300/-@WBPolice - Rs. 2,000/-During Eid-ul-Fitr:-Some Police Districts - Rs. 5,300/-Other Police Districts - Rs. 6,000/-Why this disparity? All the Civic Volunteers https://t.co/WtzG2OhanT pic.twitter.com/0A2hP3oitv Suvendu Adhikari (Modi Ka Parivar) (@SuvenduWB) April 11, 2024এরপরই বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, কেন এই বৈষম্য? সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজের বিবরণ এবং দায়িত্ব একই, তাহলে তাদের দেওয়া বোনাসের পরিমাণ এক নয় কেন?এই বৈষম্যের বিষয়টির অবসানে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন শুভেন্দু। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে অনুরোধ করছি এই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে এবং সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করা আমাদের সকল বোন ও ভাইদের উৎসবের সময় সমানভাবে অর্থ প্রদান করতে।

এপ্রিল ১১, ২০২৪
নিবন্ধ

মানুষ নেই! হু হু করে জনবিরল হয়ে পড়ছে গ্রাম...

ঢাকের আওয়াজে কান পাতা দায়; সঙ্গে দুটি কাঁসর ও পেটানো ঘণ্টার সোচ্চার সঙ্গত। ঠাকুরঘরের বারান্দায় কজন মেয়ে-বৌয়ের জটলা, তাদের ফাঁক দিয়ে মাঝে মাঝে উঁকি মারছে মা দুর্গার চকচকে মুখখানা আর শিবঠাকুরের ঢুলুঢুলু শ্রীনয়ন। ধুনুচির ধোঁয়া ঘণ্টার অবিরাম টুংটুং নীচে একপাল কুচোকাঁচার হাঁ করে কুশলী ঢাকীদের দিকে তাকিয়ে থাকাসন্ধ্যারতি করছে সামান্য দুলে দুলে আমাদের পুরোহিত বুড়োদা, মানে ব্রজদুলাল মুখোপাধ্যায়। অহেতুক দেখনদারি নেই; নেই প্রয়োজনাতিরিক্ত অঙ্গসঞ্চালন। প্রায় তিন দশক বুড়োদা এমনি করেই পুজোর চারদিন সকাল-সন্ধ্যা নিষ্ঠাভরে মায়ের আরতি করে আসছে। বুড়োদার বাবা, স্বর্গত ব্রজরাখাল মুখোপাধ্যায় (যাঁকে আমরা দাদামশাই বলতাম) পূজারী ছিলেন এর আগে। কৃশ দীর্ঘকায় বৃদ্ধ মানুষটির ঈষৎ ঝুঁকে পড়ে দেবার্চনার স্মৃতি মনে গাঁথা হয়ে আছে আমার! সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে আজও, কোথাও তার ব্যতিক্রম হয় নি গত পঞ্চাশ বছরে রীতি-ভক্তি-আচার-অর্চনায়!ভুল বললাম! মস্ত তফাৎ হয়ে গেছে পুজোতলার ভীড়ে। যে মণ্ডপে আরতির সময় দাঁড়ানোর ঠাঁই মেলা দুষ্কর হতো একদিন, আজ তা বেশীর ভাগ সময় শুনশান। প্রসাদ বিতরণের সময় নরক গুলজার হতো এখানে, ইদানীং ডেকে ডেকে প্রসাদ বিলিয়েও শেষ হতে চায় না ফলপ্রসাদের বিশাল পিতলের রেকাব।মানুষ নেই। হু হু করে জনবিরল হয়ে পড়ছে গ্রাম। নাগরিক জীবনের দুর্নিবার আকর্ষণে গাঁ-গঞ্জ থেকে একমুখী জনস্রোত ধেয়ে চলেছে শহরপানে। আগে পুজোর সময় শহরবাসী মানুষ মাটির টানে ফিরে আসতেন দেশ-গাঁয়ে এই কয়টা দিন ; ইদানীং সেই প্রবণতাও নিভু নিভু । রাঢ়বঙ্গের গ্রামে গ্রামে আজ শুধু কিছু বয়স্ক মানুষ বাপপিতেমো-র ভিটে আগলে বসে আছেন ; পরের প্রজন্মে বোধ হয় একেবারেই তালা ঝুলে যাবে এই সব শূণ্য জনপদে !কৈশোর-তারুণ্যের দিনগুলিতে দূরের বাসা থেকে শত অসুবিধা-যোগাযোগের অপ্রতুলতা তুচ্ছ করে যখন গ্রামে ফিরতাম পুজোর সময়, প্রতিবার দেখতাম গাঁয়ের বন্ধুরা বড় হয়ে গেছে আরেকটু ঘোমটা টেনে ঘুরছে ফিরছে কিছু নতুন বউ ঝুমঝুমিয়ে খেলে বেড়াচ্ছে কটা ব্র্যান্ড নিউ গুড়গুড়ে (এরা কে যে কার বাচ্চা, সেটা সমঝে নিতেই সময় লেগে যেত অনেকটা) বিয়ে হয়ে গেছে দুচারটি মেয়ের (আর কোনো দিন দেখা হতো না তাদের সঙ্গে)... সকালবেলা দুয়ারের সামনে জলের ঘটি পাশে নিয়ে মাদুর-এ পা ছড়িয়ে রোদ পোয়াতে থাকা দুয়েকজন দাদু পরের বছর অদৃশ্য হতেন...দিন গেল... বছর গড়ালো আমাদের পুজোতলা চাতোর (চত্বর -এর অপভ্রংশ) -এর কাছের বাঁশবনে সাঁঝবেলায় ভয়ের হাতছানি কমতে লাগলো ধীরে ধীরে পাশের পুকুরপাড়ে তেঁতুলগাছগুলোর মগডালের দিকে রাতে ভয়ে তাকাতে না পারা কমে গেল বিদ্যুতের আলো-বোকাবাক্স-কেবললাইন - দুর্বল ওয়াইফাই-সবল মোটরসাইকেলের ঝাঁক গ্রাম-শহরের ফারাক কমিয়ে দিল দিনে দিনে। তবু খামারবাড়ির ছয়ফুটিয়া দাঁড়াশসাপ... কার্নিশে ঝুলন্ত মাটির হাঁড়ির বাসিন্দা কবুতরের দল... প্রাচীন অশ্বত্থগাছে দিনশেষে ঘরে ফেরা টিয়াপাখিরা সবাই দেখতে পেল, পাড়া নীরব হচ্ছে। মাটির বাড়িগুলি যত বদলে যেতে লাগলো রঙিন পাকাবাড়িতে, তত শূণ্য হয়ে গেল সেসব বাড়ির তকতকে আঙিনা। বহু ভিটেতে তুলসীতলায় সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বলে না আর; সদর দরজার মরচেধরা তালায় কুমড়েপোকার মাটি জমানো বসত!অষ্টমীর সকালে রূপা এসে গেল মেয়েকে নিয়ে। সঙ্গে এসেছে তিস্তা-র সহপাঠী অরুণিমা। আজন্ম সল্টলেকবাসী বন্ধুটির জীবনে এই প্রথম একটা গোটা পুজো কলকাতার বাইরে গাঁয়ে কাটানো!অষ্টমী-নবমী দুদিন ধরে চাতোর-এর মর্মরবেদীতে বসে রইলাম পুজোর সময়। কিছু কথাবার্তা পাড়াতুতো দাদাদের সাথে মেয়েকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে আরতি দেখা ফুলের মালা-দীপের আলো-ধূপের ধোঁয়ার পিছন থেকে খুঁজে নেওয়া শরণাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণা জগজ্জননীকে স্তবের বাণীর আড়াল থেকে নীরবে ডেকে যাওয়া সর্বস্যার্তিহরা নারায়ণী মা-টিকে!নবমীর দুপুরে ওপাড়ার বারোয়ারিপুজোয় পশুবলির আয়োজন। আশৈশব কখনোই সেই সহিংস আচারে সামিল হতে পারি নি। বলির পর ওপাড়া থেকে উৎসাহীরা দলে দলে এসে সমবেত হয় হরগৌরীতলায়। দুই পুজোর দুই দুই চার ঢাকির উচ্চ-ডেসিবেল বৃন্দবাদন যার যার নিজের সেরা পুজোর পোশাকটির সগর্ব উপস্থাপনা ভীড়ে ভীড়াক্কার চাতোর-এ গরমে হাঁসফাঁস বিনবিনে ঘাম আনকোরা শাড়ির খসখস... বছরপরে দেখা হওয়া সখীদের উচ্ছ্বাস তরুণদলের সতৃষ্ণ দৃষ্টিপাত মহানবমীর মধ্যাহ্নই এ গ্রামে পুজোর শীর্ষবিন্দু!সেদিন আর নেই! ফাঁকায় ফাঁকায়, অনুচ্চকিত ছন্দে এবার যাপিত হলো মহানবমীর দুপুরের আরতি... যজ্ঞ... হোমের ফোঁটা... শান্তিজলসিঞ্চন তুমি নির্মল করো মঙ্গলকরে মলিন মর্ম মুছায়ে বেলা তিনটের মধ্যে পুজো শেষ । রূপা-তিস্তা-অরুণিমা-জ্যাঠতুতো দাদা ও দুই বৌদি মিলে দুখানা টোটো বোঝাই হয়ে বেরোনো হলো সাড়ে তিনটে নাগাদ বাসুদা গ্রামের উদ্দেশ্যে । পড়ন্ত বেলা ফলন্ত ধানক্ষেতের উপচে পড়া সবুজ পথের দুধারে হলুদ ফুলে ঝিকমিক লম্বা সোনাঝুরি গাছের গ্রীন টানেল ঘরমুখো পাখিদের কলতান চার কিমি দূরে বনপাশ-কামারপাড়া থেকে গাড়ি বাঁদিকে ঢুকে পড়লো খুরুল গ্রামের রাস্তায়। শুনশান পথ খানিক খোবলানো রাস্তা মাথার ওপর অসহ্য নীল আকাশ, সেথায় গাভীর মতো চড়ছে সাদা মেঘের পাল হরিয়ালা বন্যায় ভেসে যাচ্ছে চরাচর! এ পথে আসি নি আগে কখনো। হে ধরিত্রীমাতা, কী বিচিত্র শোভা তব, কী বিচিত্র সাজ!মহিমা তব উদ্ভাসিত মহাগগনমাঝে,বিশ্বজগৎ মণিভূষণবেষ্টিত চরণে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজিত সেই সত্যসুন্দরের অপরূপ রূপ দেখতে দেখতেই খুরুল পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম বাসুদা। গ্রামের শুরুতে শ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমের সামনে যাত্রাবিরতি। খোলামেলায় অবস্থিত আশ্রমে ঢুকেই রামকৃষ্ণদেব-মা সারদা-স্বামীজীর স্মৃতিমন্দির; পাশেই অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন। পুকুর-বাগান-বিদ্যাপীঠ-ভক্তকর্মীআবাস ছড়ানো আশ্রমটি ভালোই পুরোনো; এ অঞ্চলে সমাজসেবা ও শিক্ষাবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আসছে বিগত বেশ কয়েক দশক ধরে।থাকার ইচ্ছে ছিল বেশ কিছুক্ষণ, কিন্তু সহসাই পুব আকাশে নিবিড়কৃষ্ণমেঘসঞ্চার ভড়কে দিল আমাদের। এই মাঠঘাটের রাস্তায় ঝেঁপে ঝড়বৃষ্টি এলে হাঁড়ির হাল হবে সবার। অগত্যা মহারাজের সঙ্গে দেখা না করেই দুড়দাড় করে টোটো-সমাসীন হলাম আবার।সময় সংক্ষেপ করতে অন্য পথ ধরা হলো এবার। বিকেল গড়িয়ে আসছে । পুব আকাশ কালো হচ্ছে বাতাসে ভিজে গন্ধ পাখপাখালী ঘরে ফিরছে দ্রুত ডানায়। এ পথের অনেকটা জঙ্গুলে; গ্রামের মধ্যে দিয়ে শর্টকাট করতে গিয়ে পেরোতে হলো প্রায় এক কিমি উঁচুনীচু মাটির রাস্তা, প্রতি মুহূর্তে টোটো উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে। কিমিদশেক পথ সবুজে ভেসে, মেঠো নালা-বুনোফুলে বানভাসি বনবিতান-নিবিড় বাঁশবন-শস্যময়ী প্রান্তর পেরিয়ে ঘরে ফিরে এলাম সাঁঝের মুখে।সন্ধ্যা ঘনালো। আরতির পর পুজোতলার আলোছায়ায় মা-বোনদের সিঁদুরখেলা। কয়েক বছর পর পরই এয়োস্ত্রীদের এই নবমীসন্ধ্যার শুভলোকাচার থেকে নীরবে সরে যান কেউ কেউ। শূণ্যসিঁথি.. কৃচ্ছ্রসাধন... মঙ্গলানুষ্ঠান থেকে নির্বাসন তাঁদের গোপন দীর্ঘশ্বাস বুঝি ভেসে বেড়ায় পুজোর পূণ্যময় পরিসরে!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।।

অক্টোবর ২৮, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

প্রতারিত হয়েও, আগমনী গানের সুরের মুর্ছনায় ভেসে 'উমা আইলো' মধুরার-ই ঘরে

বছরভর অপেক্ষা সেই চারটে দিনের। যে যার সাধ্যমত আয়োজন করে দেবী দুর্গা-র আরাধনায় ব্রতী হয়। দেবীর মর্ত্যে আগমনের আশায় যে গান বাঁধা হয় তারই নাম আগমনী গান। আগমনী গানের প্রেক্ষাপট আমাদের বঙ্গজীবনের সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে মিলেমিশে এককার হয়ে গেছে।পুরাণে শিব-দুর্গা বা হর-পার্বতী সম্বন্ধে যাই লিপিবদ্ধ থাকনা কেন আমাদের বঙ্গের লৌকিক দেবদেবীদের নিয়ে বেশ কিছু উপাখ্যান আছে। সেগুলির মধ্যে শিব-দুর্গার এই উপাখ্যান অন্যতম। শিব-দুর্গার এই উপাখ্যানকে সামনে রেখেই বাংলায় রচিত হল আগমনী গান। লোকমুখে প্রচলিত কাহিনীর দিকে যদি নজর দেওয়া যায়, তাহলে জানা যাবে, বিত্তশালী বাবা দক্ষ গিরিরাজের মেয়ে উমার (দূর্গা/পার্বতী) শ্মশান বাসি শিবের সাথে বিবাহ হয়েছে। বিয়ের পরে সাংসারিক রীতি অনুযায়ী দ্বিরাগমনে উমা শশুর বাড়ি চলে গেলে মেয়ের কথা ভেবে ভেবে মা মেনকার মন আকুল হয়ে ওঠে।এই শরৎ কালের কোনও এক রাতে মেয়ে উমাকে স্বপনে দেখে মা মেনকা কাতর অনুরোধ করে গিরিরাজকে বলেন উমাকে কয়েকদিনের জন্য বাপের বাড়ি নিয়ে আসতে। অবশেষে মা মেনকা ও বাবা দক্ষরাজের অনুরোধে উমা তাঁর শ্মশান বাসী ভোলানাথকে অনেক বুঝিয়ে কয়েকদিনের দিনের জন্য বাপের বাড়ি আসতে সম্মত হয়। উমার বাপের বাড়ি আগমনকে কেন্দ্র করেই যে গান রচিত হয় তাঁকেই আগমনী গান বলে অবিহিত করা হয়।সারা বছর নানা মাধ্যমে এত গান রিলিজ হয় পুজোর গান-র সেই অর্থে কৌলীন্য হয়ত অনেকটাই হারিয়েছে। কিন্তু তাঁর মধ্যেও পুজো উপলক্ষ্যে বেশ কিছু কাজ হচ্ছে। সেরকমই একটি গান আইলো উমা। বিশিষ্ট কণ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী মধুরা ভট্টাচার্যের ইউটিউব চ্যনেলে প্রকাশিত হলো দুর্গা পুজো উপলক্ষে পুজোর আগমনী গান আইলো উমা। গানটির সুরকার প্রদ্যুত দে সরকার, মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছেন সৌরভ বাবাই চক্রবর্তী, কথাঃ প্রিয় চট্টোপাধ্যায়, গানটিতে তবলা সঙ্গত করেছেন সুভাষ, পল, সুভাষ (সেতার) বুবাই (বাঁশি), অ্যালবামটির ভিডিওগ্রাফি করেন অভিষেক আগরওয়াল। এছাড়া কস্টিউম ডিজাইন করেন সুমিত্রা মুখার্জি, যিনি সম্পর্কে মধুরার দিদি হন। মেকাপ অরিজিত মাইতি, গানটির মিক্সিং মাস্টারিং করেছেন সঞ্জয় ঘোষ।আইলো উমা ভিডিও অ্যালবামটি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট সারা ফেলে দিয়েছে। রিলিজ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ ইতিমধ্যে গানটি শুনে ফেলেছেন। গানটির সুর থেকে কথা সর্বপরি মধুরার সুমধুর কণ্ঠ দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। সঙ্গীতপ্রিয় মানুষজনের মতে এই গানটির আবেদন অত্যন্ত কোমল। গানটি শুনতে শুনতে কেমন যেন হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। কারুর কারুর মতে গানটি শুনে বাংলা স্বর্নযুগের গানের কথা মনে পরে নাস্টালজিক হয়ে পড়ছেন।গানটি শুনতে যতই মধুর হোক, প্রকাশিত হওয়া অবধি রাস্তা কিন্তু অতটা মসৃন ছিল না। শিল্পী জানান, গানটি মধুরার নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করার কোনও পূর্ব পরিকল্পনা প্রাথমিক ভাবে ছিল না। মধুরা আক্ষেপের সাথে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে জানান, তাঁর পূর্ব পরিচিত কোনও এক ব্যক্তির মাধ্যমে একটি নামী মিউজিক কোম্পানি থেকে অফার আসে তাঁর কাছে একটি আগমনী গানের মিউজিক ভিডিও বানানোর জন্য। তিনি আরও জানান এর আগে ঐ কোম্পানির জন্য তিনি একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত রেকর্ড করেছেন। তাই কোম্পানির ব্র্যান্ড স্বমন্ধে অবিহিত থাকায় রাজি হয়ে যান।মধুরা লাইভ অনুষ্ঠানে সেই মধ্যস্ততাকারী ব্যক্তির নাম জানান। তিনি বলেন সমরেন্দ্র দত্ত নামে এক ব্যক্তি তাঁকে অনুরোধ করেন, মধুরার পছন্দের সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার ও মিউজিসিয়ান বেছে নিয়ে একটি পুজোর গান তৈরি করে সেই নামী মিউজিক কোম্পানিকে দিতে। মধুরা জানান তাঁকে কোম্পানীর তরফে সেপ্টেম্বরের ২০-র মধ্যে গানটি শেষ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। সময় খুব কম থাকা স্বত্তেও মধুরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গানটি রেডি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছিলেন।মধুরা আরও জানান তিনি নিজের খরচায় প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করার পর ঐ কোম্পানির সাথে মধ্যস্ততাকারি সমরেন্দ্র দত্ত কাছে অগ্রীম চান, বাধ সাধে সেখানেই। তিনি নানা আছিলায় তাঁর ফোন এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। শেষমেশ সমরেন্দ্র দত্ত মধুরাকে জানান এই গানটি এখন হচ্ছে না। মধুরা লাইভ অনুষ্ঠানে তাঁর সকল শুভানুধ্যায়ী ও মিউজিক জগতের মানুষদের কে অনুরোধ করেন সকলেই যেন ঐ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব রেখে চলে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক আদানপ্রদান থেকে যেন অবশ্যই বিরত থাকে।মধুরা জানান, ইতিমধ্যে অনেক টাকাই ইনভেস্ট হয়ে গিয়েছিলো, এবং তাঁর সহযোগী, শুভাকাঙ্খী ও পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে ভিডিওটি সম্পূর্ণ করেন। মধুরা আরও জানান, উমা মা যেন চাইছিলেন যাতে এই ভিডিওটি মধুরার নিজের চ্যনেল থেকেই প্রকাশ পায়। গানটি শেষমেশ মধুরার নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করে শিল্প স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন।৭০ থেকে ৯০ এর দশক সারা বিশ্বের বাঙ্গালী পুজোর দুমাস আগে থেকে দুটি জিনিসের জন্য গভীর আগ্রহে বসে থাকতো, একটি পুজা বার্ষিকী পত্রিকা অপরটি পুজোর গান। সে লতা মঙ্গেসকর থেকে আশা ভোঁসলে, হেমন্ত, সন্ধ্যা, মহঃ রফি, সতিনাথ মুখোপাধ্যায়, আরতি কে নেই সেই দৌড়ে? পুজোর গান হল শারদোৎসবে বাঙালির মন রঙিন-করা, স্মৃতি উদ্বেল-করা রেকর্ড সঙ্গীত। সেসময় রেকর্ড কোম্পানিগুলিতে পুজোর গানের প্রস্তুতি চলত প্রায় সারা বছর ধরে।এই পূজোর গানের দৌড়ে সঙ্গীতের রথী মহারথীদেরও দেখা মিলত, কখনো পণ্ডিত রবিশঙ্কর তো কখনো পুজোর গানে সুর দিচ্ছেন উস্তাদ আলি আকবর খান মত তাবড় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী। সুরকার পণ্ডিত রবিশঙ্কর গান বাঁধলেন হৈমন্তী শুক্লার জন্য। সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের পূজোর গানে সুর দিচ্ছেন স্বয়ং কিশোরকুমার! আবার উল্টোটাও! কিশোরের গানের সুর দিচ্ছেন লতা। বঙ্গ-জীবনের অঙ্গ পুজোর-গানের কথা বলতে গিয়ে সেতার সম্রাট পন্ডিত রবিশঙ্কর একবার বলেছিলেন গানও পুজোই। আমার জীবনের সংস্কারেও পুজো মিশে আছে। সংস্কার বঙ্গ জীবনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে মজ্যাগত। চৈতন্যভাগবত-এ বলা আছে, মৃদঙ্গ মন্দিরা শঙ্খ আছে সব ঘরে। দুর্গোৎসব কালে বাদ্য বাজাবার তরে। কালের চাকায় গানও ঘোরে! প্রথমে রেকর্ড (এল পি), তারপর এলো ক্যাসেট, সিডি হয়ে এখন পুজোর গান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এখন মানুষ গান শুধু শোনেই না নয়ন ভরে দেখে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৩
নিবন্ধ

'রূপং দেহি জয়ং দেহি..' এই মহালয়ার ভোরে আজও যেন আমাদের কী হয়ে যায়!

নীলঅঞ্জনঘনপুঞ্জছায়ায় সম্বৃত অম্বর আর নেহাতই বদখত আমার খাঁদা নাক-এর নিরন্তর জলপ্রপাত স্তিমিত হয়েছে দিন কয় হলো। আশ্বিন যাই যাই করছে; সাদা মেঘের অগুন্তি ভেলা ভাসানো সুনীল আকাশেও যেন হেমন্তের মনকেমনিয়া মেজাজ আজ! পথে বেরিয়ে ঘাড়ে-মাথায়-কাঁধে লেপটে থাকা দুপুরের রোদ ততটা নিষ্করুণ লাগছে না আর, একটু বেলাশেষের আমেজ আছে তাতে!পুজোর বাজার তেতে উঠেছে অবশ্য! পুরো স্লগ ওভার-এর ব্যাটিং করে নিচ্ছে পিতৃপক্ষের অন্তিম লগ্নে ফানটুস ছোকরা-ফিসফিসে কিশোরী-টগবগে তরুণ-তরতরে তরুণী-গুছোনো গিন্নী-গেরেম্ভারী গেরস্ত সব্বাই! বেশ একটা হৈহৈ রইরই ব্যাপার!!শালবল্লা-বাঁশ-প্লাইউডের কাঠামো-রা তো এখানে সেখানে মাথা তুলছে বেশ কসপ্তাহ হয়ে গেল। ধুলিধূসর ইঁট-কাঠ-পাথরের জঙ্গলে হঠাৎ হঠাৎই জেগে উঠছে থাই প্যাগোডা-ভুটিয়া গোমফা-রাজস্থানী ঝরোখা-ফরাসী অপেরা! ভাঙা রাস্তায় শেষ মুহূর্তে বিটুমেন-এর পুল্টিশ দুপাশারি আটপৌরে বাড়িঘরের মুখ ঢাকছে কাতারে কাতারে কাপড়ের হোর্ডিং দীপিকা-আলিয়া-কিয়ারা-সন্দীপ্তা-মৌনীরা রহস্যময়ী হাসির ঝিলিক দিচ্ছে বস্ত্রাবরণ - স্বর্ণাভরণ - প্রসাধন - প্রলোভনসম্ভার নিয়ে.আজ রাত পেরোলেই দেবীপক্ষ শুরু। অখিল বিমানে বেজে উঠবে তাঁর জয়গান আলোর বেণু মাতিয়ে তুলবে ভুবন অন্তরে যে আবেশ লুকিয়ে লুকিয়ে ছেয়ে গেছে এ কয়দিন মুখরিত বর্ষণগীতের মেঘমন্দ্রিত ছন্দ বিদায় নেওয়ার পর অরুণবীনায় যে সুর বেজে উঠেছে অমোঘ উচ্চারণে সেই আনন্দযজ্ঞে মধুর আমন্ত্রণ কাল ভোরে মায়ের সকল সন্তানের: যে যেথায় আছো সিলেট থেকে সিয়াটল কাঠমান্ডু থেকে কেপটাউন!এই কেজো প্রাত্যহিকতার একঘেয়েমি, স্বার্থক্লিন্ন দরকষাকষির কুশ্রীতা, বড় বেরঙীন পেশাগত যাপনের মধ্যেও প্রতিবারের মতোই আগমনী আলো এসে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিয়েছে মনের গোপন ঘরে। শহরের উপকণ্ঠে-সড়কপ্রান্তে-শস্যময়ী শ্যামল প্রান্তরের আনাচে কানাচে উপচে পড়া দুধসাদা কাশবন লহমায় মনকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে টাইমমেশিনে চড়িয়ে, চার দশকের ওপারে..এমনই সর্বব্যাপী শুভ্র কাশের সমুদ্র ছেয়ে থাকতো তিস্তার চরে, সেই সব মহালয়ার ভোরে আকাশবানী-র মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার শেষ হওয়ার পরই যখন গোটা জলপাইগুড়ি শহরের মানুষজন পায়ে পায়ে চলে আসতেন করলা নদীর বাঁধ বেয়ে জুবিলীপার্ক-এর দিকে, নেমে আসতেন আদিগন্ত কাশসঙ্কুল সেই বালিভূমিতে। সুনীল আকাশ.. ভোরের মায়াময় আলো.. কুলুকুলু করলা বাজির আওয়াজ যৌবনের হিল্লোলমনে পড়ে যায় শ্লথপদ সেই নেপালী বৃদ্ধের কথা উষষী ঊষার আবছায়া পথে যেতে যেতে যিনি থেমে গিয়েছিলেন আমার বন্ধুর বাড়ির পাশে; নীরবে দাঁড়িয়েছিলেন কিছুক্ষণ আধখোলা জানালার ঠিক সামনেই। বন্ধুদের শোয়ার ঘরের রেডিও-তে তখন রূপং দেহি জয়ং দেহি..-র অন্তহীন সুরসঞ্চার। খানিক দূরে দাঁড়িয়ে দেখেছিলাম লোলচর্ম মানুষটিকে জানালার কপাটে ভক্তিভরে মাথা ঠেকিয়ে প্রণতি জানাতে!এত বছরের গার্হস্থ্য মালিন্য - দুনিয়াদারির চাপ - জীবনযাত্রার পৌনঃপুনিকতাও পারে নি মহালয়ার ভোরে নিহিত রোমাঞ্চ এ মন থেকে মুছে ফেলতে। সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা সেই দনুজদলনী, গুণাশ্রয়ে গুণময়ী নারায়ণী মা-টি হয়ে বছরভর যিনি আগলে রাখেন আমাদের, সহসাই যেন তিনি বড় কাছে এসে যান এই শরতের ঝঞ্ঝাবাতের নিশার শেষে রোদেলা সকালে ক্ষান্তবর্ষণ শরতের আকাশবীনা গানের মালা বিলায় চরাচর জুড়ে ভোরের পাখি মায়াবী আলোছায়ায় গেয়ে ওঠে তাঁর জয়গানসত্যি, এই মহালয়ার ভোরে আজও যেন আমাদের কী হয়ে যায়!!ড. সুজন সরকার, বর্ধমান।

অক্টোবর ১৪, ২০২৩
রাজ্য

বাড়ল দুর্গা পুজোর আর্থিক সহযোগিতা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

১০ দিয়ে শুরু, ২৫, ৫০ থেকে ৬০ ছুঁয়ে এবছর ৭০ হাজার। ২০২২ এর দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান ছিল ৬০ হাজার টাকা। সেই পড়িমান বেড়ে ক্লাব পিছু ৭০ হাজার টাকা করল রাজ্য সরকার। আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দুর্গা পুজো নিয়ে একাধিক ছাড়ের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানান যে, সরকারি বিভিন্ন দফতরের বিজ্ঞাপনও পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া হবে। বিজ্ঞাপন বাবদও কিছু টাকা ক্লাবগুলি পাবে।২০২৩ র এই বছর দুর্গাপুজোর বিসর্জন করারও দিন ধার্য করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো কমিটিগুলিকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ করে ফেলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী সেরা পুজোগুলিকে নিয়ে পূজা কার্নিভ্যাল রেড রোডে অনুষ্টিত হবে লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর।মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনার সাথে সাথেই যেনো পুজো কমিটিগুলিতে বেজে উঠলো বাজলো তোমার আলোর বেণু...। তিনি এই অনুদানের ঘোষনার সাথে সাথেই সকলকে অনুরোধ করেন, সকলেই যেন সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শারদীয় উৎসব পালন করেন।আজ মঙ্গলবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের পুলিশ, প্রশাসন ও বাংলার পুজো কমিটিগুলো নিয়ে বৈঠকে বসেন। সারা রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে এই বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানেও স্থানীয় জেলাশাসক সহ এলাকার সাংসদ, মহকুমাশাসক, বিধায়ক সহ বিশিষ্ট সরকারি আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দফতরকে সতর্কতামূলক বিষয়ে নানা পরামর্শ প্রদান করে বলেন, স্কুল ছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যেন পুলিশের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক পূজা মণ্ডপের প্রবেশ ও বাহিরের পথ যেন আলাদা হয়। প্রাথমিক অগ্নি নির্বাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও মণ্ডপে রাখতে হবে। এছাড়াও প্রতিমা নিরঞ্জনের জায়গায় জলাশয়ের পাশে যেন আলো ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়। যে সমস্ত জায়গায় দর্শক সমাগম বেশি হয় সেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকারি জরুরি বিভাগগুলির হেল্পলাইন নম্বরগুলো যেন পুজোর সময় কার্যকারি থাকে। পুজো কমিটিগুলিকে তাঁদের ভিড় নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রতিনিয়ত মাইকে ঘোষণা করতে হবে। সরকার প্রদত্ত জনকল্যাণমূলক হোর্ডিং সকলের দৃষ্টির সামনে লাগাতে হবে। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দফতর বিজ্ঞাপন হিসাবে যে হোর্ডিং দেবে সেগুলিও সঠিক জায়গায় লাগাতে হবে। বাংলার আড়ম্বরপুর্ণ দুর্গাপুজো যে বহু মানুষের এক বিরাট রোজগারের দিশা সেই কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই পুজোকে কেন্দ্র করে বঙ্গে ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়। তিনি প্রত্যেক পুজো কমিটিগুলির উদ্দশ্যে বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন লোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের তাঁরা যেন তাঁদের পুজোয় জায়গা করে দেন। তাঁদেরও যাতে পুজোর সময় কিছু বাড়তি রোজগার হয় সেটাও আমাদের দেখতে হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার বারোয়ারিতে দুর্গা পুজো হয়। শহর কলকাতার তিন হাজার বাদ দিলে বাকি ৩৭০০০ পূজা হয় জেলায়। তিনি বিভিন্ন আবাসনের পুজোরও ভুয়াসী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবহণ দপ্তর ও রাজ্য পুলিশকে পুজোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।২০১৮ তে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুজোয় সরকারের তরফ পুজো কমিটিগুলির পাশে দাড়ানোর জন্য ১০হাজার টাকা অনুদান দেন। বছর গড়াতে গড়াতে সেই অনুদান ৭০ হাজারে পৌঁছে গেল। উল্লেখ্য ২০২২ এ পুজো কমিটি পিছু ৬০ হাজার অনুদান ছিল। গতবছর ২০২২ এ সারা রাজ্যে মোট ৪২ হাজার ২৮টি পুজো কমিটিকে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এ ছাড়াও এবছরে বিদ্যুতের বিলে ছাড়ের পরিমানও বাড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গতবছর বিদ্যুতের বিলে ছাড় ছিল ২/৩ এবছরে তে বেড়ে হল ১/৪। তিনি এবিষয়ে সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদকে নির্দেশ দিয়ে দেন এই বৈঠকে।তিনি জানান, ২০২২ থেকেই অগ্নিনির্বাপক সংস্থার অনুমতি বাবদ কোনও টাকা দিতে হয় না। এবছরেও কোনও টাকা দিয়ে হবে না সেই সংক্রান্ত বিষয়ে। তাছাড়া তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার মহিলা পরিচালিত পুজোগুলির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট দফতর গুলিকে।

আগস্ট ২২, ২০২৩
কলকাতা

দুর্গা কার্নিভালে মাতোয়ারা রঙিন রেড রোড, খোঁচা শুভেন্দুর

এখন যেন দুর্গাপুজো শেষ হয়েও হয় না। পুজো না দেখলে একজায়গায় একাধিক প্রতিমা দেখার সুবর্ণ সুযোগ। এবার তো মহালয়ার আগে শ্রীভূমির দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। রেড রোডে চলছে দুর্গাপুজোর কার্নিভালের জাঁকজমকপূর্ণ আসর। এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করেছে ৯৫টি পুজো কমিটি। করোনা আবহের দুবছর পর ফের রঙিন সাজে সেজেছে রেড রোড।একবছর আগেই বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। তারপর এই প্রথম দুর্গাপুজোর জমজমাট কার্নিভাল কলকাতায়। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য কলকাতার রাস্তায় রঙিন শোভাযাত্রা হয়েছে। এবার জেলায় জেলায় দুর্গা কার্নিভাল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রেড রোডে হাজির থেকে সমস্ত বিষয়টা নজরদারি করছেন।এবার প্রতিটি দুর্গাপুজো কমিটি নিজেদের অনুষ্ঠান দেখানোর জন্য সময় পাচ্ছে সর্বাধিক তিন মিনিট। একএকটি কমিটি সর্বাধিক ৫০ জন করে সদস্য নিয়ে আসতে পারছেন রেড রোডের কার্নিভালে। ট্যাবলো সঙ্গে রাখতে পারছে সর্বাধিক তিনটি। বিদেশি অতিথিরাও এই কার্নিভালে আমন্ত্রিত। হাজিরও হয়েছেন তাঁরা। মঞ্চে রয়েছেন রয়েছেন টলিউডের একঝাঁক তারকা শিল্পী।এরইমধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কার্নিভাল নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জলপাইগুড়ির মালবাজারের ঘটনার পরেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য কায়দায় কার্নিভাল কেন বাতিল করা হল না? উত্তরবঙ্গে ঘটনা ঘটেছে বলে কলকাতায় কার্নিভাল হল? তাঁর দাবি, এই অবহেলার জন্যই আলাদা রাজ্যের দাবি ওঠে উত্তরবঙ্গ থেকে। সরকারি টাকায় মোচ্ছব হচ্ছে বলেও শুভেন্দু তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্য সরকারকে।

অক্টোবর ০৮, ২০২২
রাজ্য

সুর কাটলো কার্নিভালের, ক্ষোভ উগরে দিয়ে মঞ্চ ত্যাগ পুরসভার চেয়ারম্যানের, জেলাশাসকের প্রশংসা

কার্নিভালের মঞ্চ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে নেমে গেলেন বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার। তিনি বলেন, কার্নিভাল খুব ভাল হচ্ছে আমার কারো বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা রাগ নেই। আমার একটাই দুঃখ৷ দুমাস ধরে পৌরকর্মীরা কার্নিভালের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এদিন কার্নিভালের মঞ্চ থেকে একবারের জন্যও পৌরকর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হলো না। তিনি বলেন, রাস্তা পরিস্কার করা থেকে দুর্গাপুজো ও কার্নিভালের জন্য সবকিছু প্রস্তুত করেছে দু-আড়াই হাজার পৌরকর্মী। পৌরকর্মী ও আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানানো হল না এটাই আমার দুঃখ। আমি একজন সামান্য শিক্ষক, আমার বয়স হয়েছে তাই আমি কারো অন্যায়টা গিলতে পারিনা। এরপর তিনি আর মঞ্চে ওঠেননি।এখানে উল্লেখ্য রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বর্ধমান শহরেও কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন করেন মুম্বাইয়ের চলচিত্র অভিনেতা চাঙ্কি পাণ্ডে।এবিষয়ে জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা জানান, তারা পৌরসভার কাছে কৃতজ্ঞ। কার্নিভাল খুব ভাল ও সাক্সেস হয়েছে। জেলাশাসক জানান, আজকের কার্নিভালে ৩০টি পূজা কমিটি অংশগ্রহণ করেছে। মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখে তিনি এ খুশি সে কথাও তিনি জানান। পরবর্তি সময়ে আরও বড়ো ভাবে কার্নিভাল করার কথাও তিনি ঘোষণা করেন। তিনি আরও জানান, পরের বছর জেলার অন্যান্য সাব-ডিভিশন থেকেও দুর্জাপূজা কমিটি গুলিকে আহ্বান করবেন এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করার জন্য। জেলাশাসক জানান এই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। সেদিন ইউনেস্কোর আমাদের বাংলার দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ ঘোষণা করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন র্যালি করা হয়েছিলো বর্ধমান শহরে। শুক্রবারের অনুষ্ঠানটিকে সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অক্টোবর ০৭, ২০২২
রাজ্য

দুর্গাপুজো কার্নিভাল-২০২২ বর্ধমানে উদ্বোধনে বলিউডি অভিনেতা চাঙ্কি পাণ্ডে, উপচে পড়া ভিড়

মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দুর্গাপুজোর শেষে বিসর্জনের কার্নিভাল শুরু জেলায় জেলায়। চারদিনের জমজমাট পুজোর শেষে রাজ্য জুড়ে আবার উৎসবে মেতেছে আবাল-বৃদ্ধা-বনিতা। পুর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরেও চলছে কার্নিভাল। এই কার্নিভালের উদ্ধোধন করেন বলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা চাঙ্কি পাণ্ডে। ফিতে কেটে তিনি কার্নিভালের শোভাযাত্রার সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভারাপ্রাপ্ত মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, প্রধান উদ্যোক্তা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা, পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন, জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি দেবু টুডু, অতিরিক্ত জেলাশাসক সুপ্রিয় অধিকারী, বর্ধমান পৌরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার এছাড়াও জেলার অন্য বিধায়করা, প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক, জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষরাও ছিলেন। কার্নিভালে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

অক্টোবর ০৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের পূজা কার্নিভালের মঞ্চে বসতে চলেছে বলিউডি তাড়কাদের চাঁদের হাট

শুক্রবার বর্ধমান শহরে হতে চলে দুর্গাপূজা কার্নিভালের জন্য যানচলাচলে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নির্দেশিকা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারী করল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। পূর্ব বর্ধমান জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রামশংকর মন্ডল জানিয়েছেন, কার্নিভাল শুরু হবে বিকাল ৫ টে নাগাদ নীলপুর মোড় সংলগ্ন সৎসঙ্গ ভবন এলাকা থেকে। এই র্যালী শেষ হবে লক্ষ্মীপুর মাঠের পাঞ্জাবী পাড়া মোড়ে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্জন গেটের সামনে করা হয়েছে তিনটি ভাগে প্রায় বিশাল মঞ্চ বাঁধা হয়েছে যা প্রায় ২০০ ফুট লম্বা । যেখানে উপস্থিত থাকবেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্ত্রীরা-সহ বিধায়ক অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা। গড়ে তোলা হয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়কের ব্যবস্থাপনায় বর্ধমান শহরের ৩১ টি পুজো কমিটিকে নিয়ে হচ্ছে দুর্গাপূজা এবারের কার্নিভাল।আরও জানা গেছে, জি টি রোড ধরে চলবে এই কার্নিভালের র্যালী। সুত্র মারফত জানা গেছে কার্নিভ্যালে হাজির থাকবেন মুম্বাইয়ের বিশিষ্ট অভিনেতা চাংকি পান্ডে-সহ আরও অনেক সেলিব্রেটিরাই। কার্জনগেট চত্বরে প্রত্যেকটি পুজো কমিটিকে ৩-৪ মিনিট করে নিজেদের পারফরম্যান্স তুলে ধরার জন্য সময় দেওয়া হবে। সামগ্রিক বিচারের নিরিখে তাদের মধ্য থেকে পুরস্কৃতও করা হবে। প্রসঙ্গত, দুর্গাপূজাকে ইউনেস্কো হেরিটেজ ঘোষণা করাতে, মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যে সমস্ত জেলাতেই কালকে এই কার্নিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে।জি টি রোড ধরে হতে চলা এই কার্নিভালের জন্য বর্ধমান শহরে যানচলাচলে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারী করল পূর্ব-বর্ধমান জেলা পুলিশ। শুক্রবার আলিশা বাস স্ট্যান্ড থেকে কার্জনগেট এলাকা ও রেলওয়ে ওভারব্রিজ হয়ে গোলাপবাস মোড় পর্যন্ত জি টি রোড বরাবর এই নির্দিশিকা কার্যকরী থাকবে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সকাল ৮ টা থেকেই পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলা নিষেধাজ্ঞা থাকছে (যতক্ষন কার্নিভাল চলবে)। বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকছে দুপুর ১২ টা থেকে। ইকো-রিক্সায় (টোটো) নিষেধাজ্ঞা থাকছে দুপুর ২ টো থেকে। চারচাকা গাড়ীতে নিষেধাজ্ঞা থাকছে বিকেল চারটে থেকে এবং দু-চাকা যানে নিষেধাজ্ঞা থাকছে বিকেল সাড়ে চারটে থেকে।

অক্টোবর ০৬, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

এনআইএ আদালতে বিস্ফোরক দাবি! শাকির আলির বাড়ি থেকে উদ্ধার গুলি, জামিন চাইলেন প্রাক্তন সাংসদের স্বামী

রামনবমী সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী শাকির আলিকে বুধবার আদালতে তোলা হয়। শুনানির সময় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে, এই ঘটনায় শাকির আলি অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী। যদিও আদালতে দাঁড়িয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি এবং যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন জানান।আদালতে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, রামনবমীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের উপর হামলা চালানো হয় এবং তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনায় শাকির আলি উস্কানির ভূমিকা পালন করেছিলেন। তদন্তকারীদের আরও দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে ছত্রিশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।তবে শুনানির সময় বিচারক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, দুই হাজার তেইশ সালে শুরু হওয়া মামলায় এতদিন পর কেন গ্রেপ্তার করা হল শাকির আলিকে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ওঠে, এতদিন পরে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কী।এর জবাবে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, আগে এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, তদন্তে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় পদক্ষেপ করা যায়নি। বর্তমানে তদন্তের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।তদন্তকারী আধিকারিক আদালতে আরও জানান, বিভিন্ন রাস্তা এবং বাড়ির নজরদারি চিত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। অভিযোগ, শাকির আলি যে গাড়ি ব্যবহার করতেন, সেই গাড়ির কোনও ক্ষতি হয়নি, অথচ আশপাশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর সেই গাড়িতেই তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে তদন্তকারীদের দাবি। আরও অভিযোগ, পরে ওই গাড়ি বিক্রিও করে দেওয়া হয়।অন্যদিকে শাকির আলির আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল এই মামলায় এর আগেও দুবার তদন্তে হাজিরা দিয়েছেন। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়। শাকির আলিও আদালতে বলেন, যাঁরা শোভাযাত্রা করেছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ যাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েছিলেন, তাঁদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার অন্য অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত।শাকির আলি আদালতে জানান, তাঁর নামে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। পরে সেই অস্ত্র বিক্রি করে দিলেও গুলি বিক্রি করা যায় না। পাশাপাশি তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও আদালতের নজরে আনেন। তাঁর দাবি, তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং ক্যানসারের আশঙ্কায় চিকিৎসাধীন। সেই কারণেই যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান।এই মামলায় শাকির আলিকে দুই দিনের জন্য তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলেও জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

জুলাই ০১, ২০২৬
দেশ

চিকেনস নেকে বড়সড় নিরাপত্তা আতঙ্ক! পানের দোকানের আড়ালে কী চলছিল? গ্রেপ্তার যুবক

পূর্ব ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি সিকিমে বড়সড় অভিযানে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে ধৃত ওই যুবকের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপ, উগ্রপন্থী প্রচার এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গ্যাংটকের নাং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া উনিশ বছরের মহম্মদ আরজু একটি পানের দোকানের আড়াল থেকে এই কার্যকলাপ চালাতেন বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মহম্মদ আরজু তাঁর বাবার সঙ্গে গ্যাংটকের লোয়ার এমজি মার্গ এলাকায় একটি পানের দোকান পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেই ব্যবসার আড়ালেই তিনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে উগ্রবাদী প্রচার চালাতেন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করতেন। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তারা একটি সামাজিক মাধ্যমের গোষ্ঠীর সন্ধান পেয়েছে, যার মাধ্যমে দেশবিরোধী প্রচার এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই মহম্মদ আরজুর নাম সামনে আসে। এরপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত যুবকের আচরণে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেই পরীক্ষায় বিভিন্ন কথোপকথন, সন্দেহজনক তথ্য আদান-প্রদান এবং ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থানকারী কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কোনও বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে এর যোগসূত্র আছে কি না।সিকিম পুলিশের অপরাধ দমন শাখা এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, অনলাইনের মাধ্যমে উগ্রবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সিকিমের বিধায়ক কলা রাই। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই ভবিষ্যতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর কড়া নজরদারি চালানো প্রয়োজন।

জুলাই ০১, ২০২৬
রাজ্য

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! আগাম জামিন খারিজের পর গ্রেপ্তার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী

রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড় চাঞ্চল্য। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী। পুরুলিয়ার সদর থানা এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এর আগে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন দেবরাজ। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই তদন্তকারীরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।দেবরাজ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর চব্বিশ পরগনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। যুব তৃণমূলের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু হলেও পরে দলীয় টিকিট না পেয়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। বিধাননগর পুরনিগমের সাত নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে জয়ও পান। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সিও পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হন।বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের আগে বিপুল মূল্যের সম্পত্তি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও তোলাবাজি, সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং জমি দখল সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও তদন্ত শুরু হয়।গ্রেপ্তার এড়াতে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালত চার মাসের শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও তাঁর বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পাশাপাশি পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং বাগুইআটি থানা এলাকায় প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।অন্যদিকে দেবরাজ চক্রবর্তীর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশও দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের পরই রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী অভিযান চালিয়ে পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মামলার তদন্তে এই গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দেবে।

জুলাই ০১, ২০২৬
রাজ্য

বড় ধাক্কা অনুব্রত মণ্ডলকে! আগাম জামিন খারিজ, এবার কি গ্রেপ্তার?

অনুব্রত মণ্ডলের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা। ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল সিউড়ির জেলা আদালত। মঙ্গলবার মামলার শুনানির পর বিচারক আবেদন নাকচ করে দেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।আইনজীবীদের একাংশের মতে, আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় এই মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সামনে আপাতত আর কোনও আইনি বাধা নেই। ফলে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনের।তবে এখানেই আইনি লড়াই শেষ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। তার আগেই পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।এই মামলার সূত্রপাত দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর। অভিযোগ, বোলপুরের কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের পাথরঘাটা গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার ইট লুঠ করা হয়। অভিযোগ, একশোটি ট্রাক্টরে করে সেই ইট নিয়ে যাওয়া হয়।ইটভাটার মালিক শুভেন্দু বিকাশ মণ্ডল অভিযোগ করেন, কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান মামন শেখ ও তাঁর অনুগামীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তদন্তে অনুব্রত মণ্ডলের নামও উঠে আসে। অভিযোগে তাঁকে এই ঘটনার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও সেই সময় পুলিশের তরফে কোনও বড় পদক্ষেপ করা হয়নি।রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর পুরনো একাধিক মামলার তদন্তে গতি এসেছে। সেই আবহেই অনুব্রত মণ্ডলের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় মামলাটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এখন সকলের নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং উচ্চ আদালতে অনুব্রত মণ্ডলের আইনি লড়াইয়ের দিকে।

জুলাই ০১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সিএবি-তে বড় বিতর্ক! প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, পাল্টা ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব পঙ্কজ-পুত্রের

ভুয়ো ক্লাবের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে অ্যাপেক্স কাউন্সিলে আবেদন; সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি প্রাক্তন ক্রিকেটারের।বাংলা ক্রিকেটে ফের নতুন বিতর্ক। এবার অভিযোগের কেন্দ্রে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কিংবদন্তি পঙ্কজ রায়ের পুত্র প্রণব রায়। তাঁর বিরুদ্ধে ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)-এর অ্যাপেক্স কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন শ্যামল দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, একটি অস্তিত্বহীন বা ভুয়ো ক্লাবের নামে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আর্থিক অনিয়ম হয়েছে, যার অন্যতম সহায়ক ছিলেন প্রণব রায়।তবে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রণব রায়। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর কথায়, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।কী অভিযোগ উঠেছে?সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ পাতার অভিযোগপত্রে গত বছরের সিএবি ওম্বুডসম্যানের একটি নির্দেশিকার উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মোহনলাল ক্লাব-র একটি কলকাতার বাগবাজারের ঠিকানার পাশাপাশি গৌরীবাড়ি এলাকার একই নামে একটি অস্তিত্বহীন সংস্থার কথাও উল্লেখ রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওই ক্লাবের নামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ওই আর্থিক লেনদেনের একাধিক চেকে প্রণব রায়ের স্বাক্ষর রয়েছে এবং অভিযোগপত্রে সেই চেক নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীর দাবিপ্রণব রায়কে অবিলম্বে সিএবি-র সমস্ত কমিটি থেকে অপসারণ করতে হবে।তাঁর বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক অডিটের নির্দেশ দিতে হবে।আত্মসাৎ হওয়া ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে হবে।গোটা ঘটনায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হোক।অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন প্রণব রায়অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা বিবৃতি দিয়েছেন প্রণব রায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন,আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। আমার ব্যক্তিগত সম্মান ও পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।তিনি আরও দাবি করেন, তিনি মোহনলাল ক্লাবের কেবলমাত্র একজন সাধারণ সদস্য ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সময়কালে ক্লাবের কোনও প্রশাসনিক পদে তিনি ছিলেন না। ফলে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।প্রণব রায়ের বক্তব্য, অভিযোগের বেশ কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই আদালতে বিচারাধীন। সেই কারণে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। তবে যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তিনি সংরক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানাবেন।নজরে সিএবিক্রীড়া মহলের ধারণা, নতুন এই অভিযোগ সামনে আসার পর ফের চাপে পড়তে পারে সিএবি প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে অ্যাপেক্স কাউন্সিল কী পদক্ষেপ করে, আদৌ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় কি না, কিংবা অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী অডিট বা এফআইআর-এর পথে হাঁটে কি না এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেট মহলের।অন্যদিকে, প্রণব রায়ের স্পষ্ট দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও জটিল মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল।

জুলাই ০১, ২০২৬
দেশ

মোদির সঙ্গে দিলীপ ঘোষের ‘বিশেষ বৈঠক’! আম-সন্দেশ উপহার, ১১ হাজার শূন্যপদ থেকে পঞ্চায়েত উন্নয়ন—কী কী আলোচনা হল?

নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। সৌজন্যের নিদর্শন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলার আম ও সন্দেশ। তবে এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্য বিনিময়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং শূন্যপদ পূরণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে বৈঠকে।সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের কাজকে আরও গতিশীল করতে দিলীপ ঘোষকে একাধিক দিকনির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দিলীপ জানান, বর্তমানে তাঁর দপ্তরে প্রায় ১১ হাজার পদ শূন্য। এই বিপুল শূন্যপদের কারণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় নিয়েও দুজনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের গুজরাটে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দিলীপ ঘোষকে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠনের পরামর্শ দেন। দেশের যেসব রাজ্যে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সফলভাবে কাজ করছে, সেই রাজ্যগুলিতে গিয়ে কাজ পর্যবেক্ষণ, আধুনিক প্রশাসনিক পদ্ধতি শেখা এবং প্রশিক্ষণ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। শুধু তাই নয়, দিলীপ ঘোষকেও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তব চিত্র দেখে আসার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত প্রশাসনে নতুন কর্মপদ্ধতি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সংযোজন ঘটতে পারে।নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক, ৫১ হাজার কোটি টাকার প্রসঙ্গদিল্লি সফরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়। অর্থমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই এই খাতে পশ্চিমবঙ্গকে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে উত্তরপ্রদেশের পরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দেন, উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে অর্থের অভাব যাতে কোনও বাধা না হয়, সেদিকে কেন্দ্র নজর রাখবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।রেলমন্ত্রীর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎদিল্লি সফরের শেষপর্বে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দিলীপ ঘোষ। যদিও ওই বৈঠকের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবুও রাজ্যের পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত।রাজনৈতিক মহলে জল্পনাএকদিনেই প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন খাতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকগুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই দিল্লি সফর আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকৌশল ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

জুলাই ০১, ২০২৬
কলকাতা

মমতার জন্য নতুন ধাক্কা? দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ডাকে ঋতব্রত, জোর জল্পনা রাজনীতিতে

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের বড় মোড়। তৃণমূলের ভাঙনের আবহে এবার দিল্লি থেকে তলব করা হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক আলাদা ব্লক গঠন করেন। সেই ব্লকের নেতৃত্বে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। নতুন ব্লকের দাবি, তারাই প্রকৃত তৃণমূল এবং দলীয় প্রতীকের অধিকারও তাদের প্রাপ্য।এই দাবিকে সামনে রেখেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে নতুন ব্লক। প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন।এরপর নতুন ব্লকের কর্মসমিতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সন্দীপন সাহা এবং জাভেদ খানের মতো নেতাদেরও রাখা হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছেও পাঠানো হয়।এরপরই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটায় কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ঋতব্রত জানিয়েছেন, তিনি আরও নয়জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে উপস্থিত হবেন। এই বৈঠকের পর প্রতীক এবং দলীয় স্বীকৃতি সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।

জুলাই ০১, ২০২৬
রাজ্য

সেবাশ্রয় নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ! অভিষেকের বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতির দাবি, চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবার উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়েছিল সেবাশ্রয়। কিন্তু এবার সেই কর্মসূচি ঘিরেই উঠল গুরুতর অভিযোগ। কালীঘাট তৃণমূলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে সেবাশ্রয় শিবিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। পাশাপাশি, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসকও সংবাদমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ করেছেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে প্রথম ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় পঁচাত্তর দিনের সেবাশ্রয় কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের আরও বিভিন্ন এলাকায় এই স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।তবে কিছুদিন আগেই ডায়মন্ড হারবার মহকুমার সরিষা এলাকার হিঞ্চাবেড়িয়ায় মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়। ওই ওষুধের গায়ে সেবাশ্রয়ের চিহ্ন ছিল বলে দাবি করা হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছিল ওষুধ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে। এবার সেই বিতর্কের মধ্যেই সামনে এল আরও নতুন অভিযোগ।ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে আধুনিক চিকিৎসার ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন এমন চিকিৎসকেরা, যাঁদের মধ্যে জুনিয়র ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং আয়ুষ চিকিৎসকরাও ছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, মাটির নিচে উদ্ধার হওয়া ওষুধের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যদি ওষুধের মান ঠিক থাকত, তাহলে সেগুলি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হত না।অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, শিবিরে চিকিৎসা বিনামূল্যে হলেও পরে কিছু রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হত। তাঁর অভিযোগ, সেই পরীক্ষার সূত্র ধরে কিছু রোগীকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হত এবং পরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসার খরচ দেখানো হতো। এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং বিষয়টি নিয়ে কোনও তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত রিপোর্টও প্রকাশ্যে আসেনি।এই অভিযোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় কি না এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ৩০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal