• ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bangla

রাজ্য

ফিরহাদের "বাংলায় একদিন ৫০% মানুষ উর্দু বলবে" বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ বাংলা পক্ষর

সামাজিক মাধ্যমে সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ফিরহাদ হাকিমের উর্দু তত্ত্বের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলো বাংলা পক্ষ। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে কলকাতার মেয়র তথা মমতা ব্যানার্জী-র কেবিনেট মন্ত্রীকে বলতে দেখা যায় একদিন বাংলায় ৫০% মানুষ উর্দু বলবে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা অ বাঞালীড় সংগঠন বাংলা পক্ষ জানায় এই বক্তব্য তীব্র বাঙালি বিরোধী, এটা বাংলাকে উর্দুস্তান বানানোর চক্রান্ত, উর্দু মানেই মুসলমানের ভাষা নয়, প্রতিটা মুসলমানের ভাষা উর্দু নয়। বাংলার ৯৫% মুসলমান জাতিতে বাঙালি, বাংলা ভাষায় কথা বলে।ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ রানুছায়া মঞ্চে বিক্ষোভ সমাবেশ করল বাংলা পক্ষ। বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, অরিন্দম চ্যাটার্জী, সৌম্য কান্তি ঘোড়াই, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে দাবি ওঠে- ফিরহাদ হাকিমকে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে।এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীও বাংলার মাটিতে উর্দু ভাষায় রাজ্য সরকারি পরীক্ষা দেওয়ার অধিকারের পক্ষে দাবি তুলে WBCS-এ বাংলা বাধ্যতামূলক করার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। বাংলা পক্ষ তখনও পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিল।বাংলার মাটিতে বাংলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে সকল দলে থাকা এই ধরনের বাঙালি-বিরোধীদের বাঙালি জাতির সামনে মুখোশ উন্মোচন করে যাবে বাংলা পক্ষ।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৩
রাজ্য

পর্যটন সহ নানা কাজে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে ভুটান সীমান্তে বাংলা পক্ষর প্রতিবাদ সভা

শীতের প্রাক্কালে যখন ভুটান ও তার সীমান্ত এলাকার মানুষজন শীতবস্ত্রের পসরা নিয়ে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিকিকিনির আসর জমাতে শুরু করে, ঠিক সে সময় আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী জনপদ জয়গাঁতে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে বাংলা পক্ষ হাজির। জয়গাঁ বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলার অন্যান্য জায়গার মত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এখানেও বাড়ছে বহিরাগত দখলদারদের আগমন। জয়গাঁ সহ পুরো আলিপুরদুয়ার জেলায় বাঙালি, কোচ, মেচ, রাজবংশী, আদিবাসী, নেপালী সহ সমস্ত ভূমিপুত্রদের অধিকারের স্বার্থে গর্জে উঠল বাংলা পক্ষ। আলিপুরদুয়ারের ভূমিপুত্রদের কাজ দখল হচ্ছে। অটো, টোটো লাইন, হোটেল, পর্যটন সহ সকল কাজে বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকারের দাবিতে এদিন সভা করে বাংলা পক্ষ। সভায় উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য সম্রাট কর ও জেলা পর্যবেক্ষক রজত ভট্টাচার্য। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আয়োজক আলিপুরদুয়ার জেলার সম্পাদক উত্তম দাস। গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন জয়গাঁর সকল বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের ঐক্যবদ্ধ করবে বাংলা পক্ষ। এখানকার পর্যটন, হোটেল, পরিবহন এর মত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বাঙালির অধিকারে রাখতে হবে। সব ধরনের কাজ কাজে ভূমিপুত্রকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, কোন বহিরাগতর দাদাগিরি চলবে না।কৌশিক মাইতি তাঁর বক্তব্যে বিজেপির বাংলা ভাগ চক্রান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাঙালি সহ ভূমিপুত্রদের সচেতন করেন, বাংলা পক্ষ বাংলা ভাগ হতে দেবে না বলে তিনি জানান। সভা ঘিরে এই সীমান্ত শহরের বাঙালি তথা ভূমিপুত্রদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।

নভেম্বর ০৩, ২০২৩
রাজ্য

পুর-নিয়োগে পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ‍্যতামূলক করার দাবিতে কমিশনের দপ্তরে বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি জমা বাংলা পক্ষর

যখন রাজ্য জুড়ে ইডি-সিবিআই এর সাঁড়াশি আক্রমণে পুর-নিয়োগে বেনিয়ম নিয়ে তোলপাড় রাজ্য, ঠিক সেই সময়-ই মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে সাব-অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের যে প্রক্রিয়া এই মুহুর্তে চলছে তাতে ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের তালিকায় বহিরাগতদের সংখ্যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলা পক্ষ। বাংলা ও বাঙালির স্বার্থে এই সংগঠন যেখানেই বেনিয়মের কবলে বাঙ্গালি গর্জে উঠেছে। তাঁদের দাবী, বাঙালি আজ নিজ ভুমেই পরবাসী। বাঙালি নিজের মাটিতেই রাজ্য সরকারি চাকরিতে বঞ্চিত বলে দামি বাংলা পক্ষের।বাংলা পক্ষের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, বাংলায় মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে-র চাকরির পরীক্ষা শুধুমাত্র ইংরেজিতে হয়, বাংলায় হয় না। বাংলার মাটিতে রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা বাংলা ভাষায় হয় না। তাঁর আরও দাবী, বাংলায় ৮৬% মানুষ বাঙালি। বাংলা রাজ্য বাংলা ভাষার ভিত্তিতে তৈরি রাজ্য৷ কিন্তু বাংলায় সরকারি চাকরির পরীক্ষা বাংলায় দেওয়ার সুযোগ নেই। অথচ সব রাজ্যে রাজ্য সরকারি চাকরিতে সেই রাজ্যের মূল ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক থাকে। রাজ্যের মূল ভাষা বাধ্যতামূলক করার ফলে চাকরিতে ভূমিপুত্রদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত হয়।বাংলা পক্ষ সংগঠন মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে-র পরীক্ষায় বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করার দাবিতে ২০২২ এর ২৬ শে ডিসেম্বর কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে ডেপুটেশন দেয়। কিন্তু আজ অবধি এর কোন সদর্থক পদক্ষেপ না হওয়ায় সংগঠনের পক্ষ থেকে পুনরায় ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত হল আজ মৌলালিতে কমিশনের অফিসে। বাংলা পক্ষর সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় তথ্য সহ তুলে ধরেন, সাম্প্রতিক কলকাতা কর্পোরেশনের সাব-অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার-র পদের পরীক্ষায় অন্যরাজ্যের পরীক্ষার্থীদের সংখ্যাধিক্যের কথা। বাঙালি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন। গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন আমাদের কাছে খবর আছে বাংলা বাধ্যতামূলকের ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখেছেন পৌর দপ্তরের উর্দুভাষী সচিব খলিল আহমেদ। অবিলম্বে এই ফাইলের বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে বলে জানান তিনি। যাদব পদবীর কেউ বাংলায় এসটি কিভাবে হন সে প্রশ্ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, তাঁরা FIR করবেন। বাঙালি ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত এভাবে ধ্বংস কিছুতেই হতে দেবে না বাংলা পক্ষ।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে বলেন, দশ মাস পেরিয়ে গেছে প্রথম ডেপুটেশনের, বাঙালি চাকরিপ্রার্থীদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। পৌর পরিসেবা সরাসরি বাঙালি নাগরিকের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের ফলে যেমন চাকরির সুযোগ কমছে, তেমনি পরিষেবার ক্ষেত্রেও অসুবিধা হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। অবিলম্বে বাংলা ভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।এছাড়াও এদিনের বিক্ষোভ সভায় উপস্থিত ছিলেন, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চ্যাটার্জী, উত্তর ২৪ পরগণা (শহরাঞ্চল) এর সম্পাদক পিন্টু রায়। উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীন সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার ও।প্রতিবাদ সভার শেষে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান মাননীয় রজত কুমার বসুর সাথে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল কথা বলে। আলোচনা সদর্থক হয়েছে বলে জানানো হয়। WBCS এর মতো এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাতেও বাংলা বাধ্যতামূলক করাতে তারা সক্ষম হবেন বলে বাংলা পক্ষ নেতৃত্ব আশাবাদী।

অক্টোবর ১৩, ২০২৩
রাজ্য

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ‍্যাসাগরের জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন বাংলা পক্ষের

২৬ সেপ্টেম্বর বাঙালির গর্ব পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মদিবস। বাংলা পক্ষ বিগত ২০১৮ সাল থেকেই এই দিনটিকে বাঙালির জাতীয় শিক্ষক দিবস রূপে পালন করে আসছে। সংগঠনের মতে রাধাকৃষ্ণণের মত গবেষণা নকলের অভিযোগে অভিযুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তির জন্মদিনে নয়, শিক্ষক দিবস পালন হোক বাঙালি জাতির মহান শিক্ষক বিদ্যাসাগরের জন্মদিনেই। বাঙালি জাতিকে তিনি আক্ষরিক অর্থেই বর্ণ পরিচয়ের মাধ্যমে শিক্ষা দান করেছিলেন, আধুনিক শিক্ষাবিস্তারে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর জন্মদিনের মত উপযুক্ত দিন শিক্ষক দিবসের জন্য আর নেই। বাংলা পক্ষর এই দাবিকে অতীতে সমর্থন করেছেন সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, এই সমর্থন প্রতিদিনই বাড়ছে। বিশিষ্ট বাঙালিদের স্বাক্ষর সহ একটি চিঠি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পৌঁছে দিয়েছে বাংলা পক্ষ। চিঠিতে আবেদন করা হয়েছে যাতে এইদিনটিকে বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণা করা হয় ও সংসদে বাংলার প্রতিনিধিরা এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয় শিক্ষক দিবস করার দাবি উত্থাপন করেন। বিগত বছরগুলোর মত আজকের দিনে ২৪টি সাংগঠনিক জেলার একজন করে বিশিষ্ট শিক্ষককে বিদ্যাসাগর জাতীয় শিক্ষক সম্মান ১৪৩০ এ ভূষিত করা হয়। প্রাতিষ্ঠানিক, প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন এমন ব্যক্তিদেরই নির্বাচন করা হয়েছে। চাবাগানের হতদরিদ্র শ্রমিক পরিবার থেকে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষাবিস্তারে কাজ, দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় ব্যক্তিগত স্কলারশিপ, পুলিশ, সেনার চাকরির উপযুক্ত করে বাঙালি যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মত ব্যতিক্রমী কাজ করে যাওয়া শিক্ষকরা রয়েছেন এবারের তালিকায়। আছেন বাঙালির অপমানের প্রতিবাদ করে সাসপেণ্ড হওয়া বিশ্বভারতীর সোজা মেরুদণ্ডের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য। তালিকায় আছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া প্রশিক্ষক কুন্তল রায়, আছেন নাট্য অভিনেতা, প্রশিক্ষক পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথাগত শিক্ষার বাইরেও ক্রীড়া, সামাজিক, সাংস্কৃতিক শিক্ষার গুরুত্বের কথাও স্মরণ করিয়েছে এই তালিকার নির্বাচন। রাজ্য জুড়ে সারাদিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সম্মাননা অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। বীরসিংহে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের জন্মভিটায় বাংলা পক্ষ এদিন সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বীরসিংহের পুণ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে বাংলার সরকারের কাছে আরও একবার দাবি করছি আজকের দিনটিকে বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস ঘোষণা করা হোক। বাংলা ভাষার উন্নতিসাধন ও আধুনিক শিক্ষা বিস্তারে বিদ্যাসাগরের যা ভূমিকা, তারপরও অন্য কোন ব্যক্তির জন্মদিনে শিক্ষক দিবস বাঞ্ছনীয় নয়। বাংলার সকল সাংসদ, বিশেষত ঘাটালের সংসদের কাছে অনুরোধ বিদ্যাসাগরের জন্মদিনকে রাষ্ট্রীয় শিক্ষক দিবস করার দাবিতে সংসদে সোচ্চার হন। বাংলা পক্ষ বিগত ছবছর এই দাবিতে লড়ছে, আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি আগামিদিনে এই ২৬ শে সেপ্টেম্বরই হবে শিক্ষক দিবস।বিশ্ববভারতীর প্রতিবাদী অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকে সম্মানিত করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি সহ জেলার সহযোদ্ধারা। বিশ্বাভারতীতে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুদীপ্তবাবুর প্রতিবাদ বাঙালি জাতি শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করছে, বাঙালি তাঁর পাশে আছে বলে কৌশিকবাবু উল্লেখ করেন। এরপর পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে কৌশিক মাইতি বলেন - বিদ্যাসাগর বাঙালি জাতির শিক্ষক। তাঁর জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আজ বাংলা পক্ষর নেতৃত্বে বাঙালি বাংলা জুড়ে মহাসমারোহে শিক্ষক দিবস পালন করলো। অনেক স্কুলেও শিক্ষক দিবস পালিত হল আজ। আমরা আপ্লুত। আগামীতে প্রতিটা স্কুলে ২৬ শে সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস পালিত হবে।আজকের দিনের স্মরণে রক্তদান শিবির করে শিলিগুড়ি জেলা সংগঠন, সেখানে শতাধিক রক্তদাতা রক্তদান করেন। এছাড়াও মালদা, উত্তর ২৪ পরগণা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর সহ একাধিক জেলায় মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৩
কলকাতা

বাংলা সহ নানা অহিন্দি রাজ‍্যে 'হিন্দি দিবস' এর নামে হিন্দি চাপানোর বিরুদ্ধে রাজপথে মশাল মিছিল

১৪ ই সেপ্টেম্বর দিনটি হিন্দি দিবস হিসাব পালিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি ও বাংলা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন বাংলা পক্ষ আজকের দিনটিকে কালো দিন বলে আক্ষা দিচ্ছে৷ বাংলা পক্ষের মতে, বাংলা সহ সমস্ত অহিন্দি ভাষার দ্বিতীয় শ্রেণীর হওয়ার দিন ১৪ই সেপ্টেম্বর। বাংলা পক্ষের যুক্তিতে, ভারতীয় যুক্ত রাষ্ট্রের কেন্দ্র সরকার হিন্দি ভাষার ব্যবহার ও প্রসারকে উৎসাহিত করতে শুধু নয়, হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে আজকের দিনটিকে বেছে নিয়েছে। শুধু আজকের দিনটিই নয় এক পক্ষকাল ধরে সব কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে হিন্দি পক্ষ পালনের নামে প্রশাসনিক থেকে শিক্ষা, সবস্তরেই হিন্দি ব্যবহার করতে উৎসাহিত বা বাধ্য করা হয়।বাংলা পক্ষ মনে করে, ভারতের মতো একটি বহুভাষিক যুক্তরাষ্ট্রে শুধুমাত্র একটি ভাষার জন্য এই উদ্যোগ সম্পূর্ণভাবেই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বিরোধী ও অহিন্দি জাতিগুলির মৌলিক অধিকার হরণের হীন প্রচেষ্টা। ভারতের হিন্দিভাষী অঞ্চল থেকে যে কর আদায় হয়, তার পরিমাণ অহিন্দি জাতিগুলির এলাকা থেকে আদায় হওয়া করের থেকে অনেক কম। অথচ সেই অহিন্দি জাতির করের টাকাতেই রাষ্ট্র জুড়ে হিন্দি ভাষার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে উৎসব হচ্ছে। ভারতের সব অহিন্দি জাতির মতোই বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা পক্ষ এই বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদ করছে।বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা পক্ষের সেই প্রতিবাদের একটি রূপ আজ দেখা গেল কলকাতার রাজপথে মশাল মিছিলের মাধ্যমে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে মশাল মিছিলে বাঙালির গর্জন দেখলো কলকাতার রাজপথ। বাংলা পক্ষ আজ রবীন্দ্রসদন চত্বর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত এই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে দাবি ওঠে হিন্দি আগ্রাসন তথা হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস করার। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক তথা শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা শহরাঞ্চলের সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক মামুদ আলি মন্ডল, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী প্রমুখ। মিছিল শেষে হাজরা মোড়ের পথসভা থেকে গর্গ চট্টোপাধ্যায়, আজকের দিনটিকে সকল অহিন্দি জাতির জন্য কালো দিন আখ্যাদিয়ে বলেন আজ থেকে প্রতিটা বছর বাংলা জুড়ে ১৪ ই সেপ্টেম্বর দিনটিকে মশাল মিছিল করে কালো দিন হিসাবে পালন করবে। আমাদের টাকায় মানে অহিন্দি জাতির টাকায় অহিন্দি জাতির উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। বাংলা ভাষার সমানাধিকার চাই। আমরা হিন্দি বিরোধী না। আমরা হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। আমরা হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের নখ -দাঁত উপড়ে দেব। আমরা সকল অহিন্দি জাতি একসাথে লড়াই করছি, লড়াই আরও জোরদার হবে।কৌশিক মাইতি বলেন বাংলা পক্ষ হিন্দি ভাষার বিপক্ষে নয়, কিন্তু হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে। বিহার, উত্তর প্রদেশে হিন্দি দিবস সাড়ম্বরে পালিত হোক, কিন্তু বাংলা, তামিলনাড়ুর মতো অহিন্দি রাজ্যে হিন্দি দিবস পালন মানে আগ্রাসন।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৩
রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে মালদায় বাংলা পক্ষর সাংগঠনিক সভা

মালদার বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে মালদা শহরে জেলার সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হল। মালদার মূল সমস্যা পরিযায়ী শ্রমিক। নানা রাজ্যে গিয়ে সমস্যায় পড়ে মালদা সহ নানা জেলার বাঙালিরা৷ কিন্তু অন্য রাজ্যে কাজে কেন যেত হবে? বাংলায় কি কাজ নেই? বাংলা পক্ষ ৫ বছরের লড়াইয়ে বুঝেছে, বাংলায় কাজ আছে, বাঙালির কাজ নেই। এমনকি মালদায় কাজ না থাকলে বিহার-ইউপির লোকজন এত বাড়ছে কেন? মালদা-মুর্শিদাবাদে বিভিন্ন যে শিল্প তালুক তৈরি হচ্ছে সেখানে অধিকাংশই চাকরি ও কাজ করছে বিহার-ইউপির লোকজন। অথচ বাঙালি অন্য রাজ্যে কাজে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। নানা রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলাদেশী সন্দেহে আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু বাংলার শহর ও শিল্পাঞ্চল গুলোয় চাকরি-কাজ- ব্যবসা বহিরাগতদের হাতে। আমরা তাই সমস্ত বেসরকারি চাকরি-কাজে ও টেন্ডারে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই।বাংলা পক্ষের দাবি, এছাড়া মালদায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে, মূলত আম নির্ভর শিল্পে আরও জোর দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এবং তা জেলার ছেলেমেয়েদের দিতে হবে। মালদার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। লোকাল ট্রেন নেই। মালদা থেকে শিলিগুড়ি দুই দিনাজপুর হয়ে (বিহার নয়) লোকাল ট্রেন চালাতে হবে। ফারাক্কার টোল ট্যাক্স তুলে দিতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ফারাক্কা। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে দিল্লিকে টাকা ট্যাক্স হিসাবে দিতে হবে কেন? রেলের ডিভিশন অফিস মালদা থেকে সরিয়ে ভাগলপুরে নিয়ে যাওয়া যাবে না।আজকের সাংগঠনিক মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, মালদার নেতৃত্ব রফিক আহমেদ, শুভ্রজ্যোতি দত্ত, মালদার ভূমিপুত্র তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য ডঃ আব্দুল লতিফ প্রমুখ।আগামীতে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধান ও ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চালুর দাবিতে জেলা জুড়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে বাংলা পক্ষ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

বর্ধমানের বর ও বাংলাদেশের কনে, কাঁটাতার টপকে ঘর বেঁধেও হল না শেষরক্ষা

কথায় আছে বর্ধমানের বর আর বরিশালের কনে। এই জুটি ছিল নাকি সেরা জুটি। সোশাল মিডিয়ার বদান্যতায় জোরালো হয়েছে প্রেমের বাঁধন। দালাল চক্র ধরে কাঁটাতার পেরিয়ে বর্ধমানে এসে প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রেমিকা। কিন্তু দুজনেই এখন শ্রীঘরে। অভিযোগ, বেআইনি ভাবে এদেশে এসেছেন প্রেমিকা নূরতাজ আক্তার মিম।প্রেমিকের টানে কাঁটাতার টপকে অবৈধ ভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে বিয়েটাও সেরে ফেলেছিল পড়শি দেশের প্রেমিকা। কিন্তু সংসার আর জমে উঠল না। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে বর্ধমান থানার পুলিশ প্রেমিক ও প্রেমিকা দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত প্রেমিকা নূরতাজ আক্তার মিম। আর প্রেমিক বর্ধমান শহরের তেঁতুলতলা এলাকার যুবক শেখ সামিম।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ১৮-এর প্রেমিকা নূরতাজ আক্তার মিমের বাড়ি বাংলাদেশের নারায়নগঞ্জ জেলার এনায়েতনগরে। বর্ধমানের তেঁতুলতলার ২২ বছরের যুবক শেখ সামিমের সঙ্গে ফেসবুকের বন্ধুত্বের সম্পর্ক প্রেমের সম্পর্ক রূপ নেয়। তারপর থেকেই প্রেমিকের টানে ভারতে আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে নূরতাজ। মাস তিনেক আগে বাংলাদেশের এনায়েতনগর থেকে বনগাঁ বর্ডার পৌছে যায় অষ্টাদশি নূরতাজ। দালাল ধরে এর পর সে অবৈধ ভাবে বর্ডার পার হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। অভিযোগ, এই কাজেও নাকি তাঁকে সাহায্য করে প্রেমিক সামিম। বর্ডার টপকেই নূরতাজ তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে বর্ধমানের উদ্দশ্যে রওনা হয়। তেঁতুলতলায় প্রেমিকের বাড়িতেই সে ওঠে। সেখানে মুসলিম শরিয়ত অনুযায়ী তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু আইনের গেরোয় তাঁদের সংসারে আপাতত ছেদ পড়েছে।এদিন দুজনকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক দুজনের জামিন নামাঞ্জুর করে জেল হেপাজতে পাঠিয়ে দেয়। ১ জুলাই ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

জুন ২৬, ২০২৩
রাজ্য

বাংলায় আবাস যোজনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল

আবাস কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে আরও উত্তপ্ত হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে শাসকদলের পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের আবাস যোজনার তালিকায় নাম থাকা নিয়েই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত। যদিও অনেকে তাঁদের নাম কাটিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে এই কেলেঙ্কারি বিশদে খতিয়ে দেখতে আসছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। কেন্দ্রীয় দল মূলত দুটি ভাগে পূর্ব মেদিনীপুর ও মালদা জেলা পরিদর্শন করবেন। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের পক্ষে বুধবারই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিবকে পত্র মারফত বিষয়টি জানানো হয়েছে।বাংলার গ্রামে গ্রামে আবাস দুর্নীতি নিয়ে সরব শুভেন্দু অধিকারী, সকান্ত মজুমদাররা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নালিশও জানিয়েছেন। তাঁরা দেখা করেছিলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতমন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের সঙ্গেও। এদিকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তহবিলও আটকে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর মতো পদক্ষেপ আদতে মমতা সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি অনিলকুমার সিং-য়ের লেখা চিঠিতে রাজ্যকে জানিয়ে দিয়েছে, কেন্দ্রের দুটি দল আসবে বাংলায়। একটি দল পূর্ব মেদিনীপুর এবং অপরটি মালদহের আবাস যোজনার প্রাপক তালিকা খতিয়ে দেখবেন। দুটি দলেই তিনজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। পূর্ব মেদিনীপুরে যাবেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ডিরেক্টর শৈলেশ কুমার, আন্ডার সেক্রেটরি অনিল কুমার সিং এবং সিনিয়র স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসার সুভাষ দ্বিবেদী। মালদহে পর্যালোচনা করবেন, মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি শক্তিকান্ত সিং, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার চাহাত সিং এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার গৌরব আহুজা। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় দল আসবেন। আবাস যোজনার আপডেট করা নথি ও লজিস্টিক সাপোর্ট কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের জন্য রাজ্যের তরফে ওই দুই জেলায় আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। স্বভাবতই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

জানুয়ারি ০৫, ২০২৩
কলকাতা

ইউজিসি'র নতুন কমিটিতে বাংলা থেকে কোনও প্রতিনিধি না থাকার প্রতিবাদে গর্জে উঠলো বাংলা পক্ষ

ইউজিসির (UGC) নবগঠিত পূর্বাঞ্চলীয় কমিটিতে পশ্চিম বাংলার ৪০ টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনও প্রতিনিধি না থাকায় ইউজিসির (UGC) বাংলা ও বাঙালির প্রতি বিদ্বেষেরপ্রতিবাদে শুক্রবার বাংলা পক্ষ এক বিক্ষোভ কর্মসূচীর ডাক দেয়।বাংলা পক্ষের দাবী, বিজেপি শাসিত দিল্লির কেন্দ্র সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত UGC র কোনও আঞ্চলিক কমিটিতে বাংলা থেকে একজনকেও রাখেনি। তাঁরা জানায়, পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য এই পশ্চিম বঙ্গ। বাংলায় ৪০ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কিন্তু ইউজিসির পূর্বাঞ্চলের কমিটিতে বাংলার কোনও প্রতিনিধি জায়গা পায়নি। এতে ইউজিসির বাংলা ও বাঙালির প্রতি ঘৃণা স্পষ্ট। বিজেপির বাঙালির সাথে শত্রুতার আরও একটা জ্বলন্ত উদাহরণ বলে ব্যখ্যা করেন।তাঁরা আরও বলেন, দিল্লির দ্বারা বাংলা ও বাঙালিকে বঞ্চিত করার নজির নিত্য-ই দেখা গেছে। যেখানে যাদবপুর ও কলকাতার মত ভারতের দুটো সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় বাংলায়, সেখান থেকেও কাউকে রাখা হয়নি এই কমিটিতে। পূর্বাঞ্চলের সেরা ৫ টি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩ টিই বাংলার। এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চিংড়িঘাটার পাশে ইউজিসির আঞ্চলিক করণের বাংলা পক্ষ বিক্ষোভ কর্মসূচী করল এবং শেষে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, উত্তর চব্বিশ পরগনার শহরাঞ্চল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, সৌম্য বেরা, প্রীতি মিত্র, কৌশল দাস, সঞ্চয়িতা হালদার, সিদ্ধার্থ দাস, মামুদ প্রমুখ। তিনজনের প্রতিনিধি দল ইউজিসির (UGC) পুর্বাঞ্চলিক করণের ডেপুটি সেক্রেটারি ডঃ অমল এম আন্ধ্রে -র সাথে দেখা করেন এবং দাবি রাখেন যাতে এই বাঙালি বিদ্বেষী কমিটি অবিলম্বে বাতিল করা হয়। তাঁরা খুব পরিষ্কার ভাষায় বাংলা ও বাঙালির ক্ষোভের কথা তাঁকে বুঝিয়ে বলেন। বৈঠকের শেষে ডঃ অমল এম আন্ধ্রে জানান, তিনি বাংলা পক্ষর এই ক্ষোভের কথা, বাঙালির এই বঞ্চনার কথা দিল্লিতে ইউজিসির (UGC) কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তিনি আজকের প্রতিবাদ পত্র ইউজিসির (UGC) সেক্রেটারিকে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিনিধি দলকে। প্রসঙ্গত, ইউজিসির (UGC) এই আঞ্চলিক করণ দিল্লিতে স্থানান্তিত হচ্ছে, আজই কলকাতায় এই অফিসের শেষ দিন। এভাবে বাংলা থেকে একের পর এক কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসের স্থানান্তরে ক্ষুদ্ধ বাংলা পক্ষ।কৌশিক মাইতি বলেন, আমরা ইউজিসির (UGC) পূর্বাঞ্চলীয় কমিটি দেখে স্তম্ভিত। পূর্বাঞ্চলীয় কমিটিতে বাংলার কোনও প্রতিনিধি নেই! ভারতের শ্রেষ্ঠ দুটো রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। তারপরও বাংলার ৪০ টা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো প্রতিনিধি নেই! ধিক্কার জানানোর ভাষা নেই৷ বিজেপি মানেই বাংলা ও বাঙালির শত্রু। ইউজিসি (UGC) ও এতটা বাঙালি বিদ্বেষী? হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী কেন্দ্র আর কত রকম ভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করবে? বাংলা পক্ষ লড়ছে। এই লড়াই আমরা জিতবো। নাহলে লড়াই তীব্রতর হবে। বাঙালির এই বঞ্চনা, এই বাঙালি বিদ্বেষ আমরা মানবো না।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২২
রাজ্য

হুগলী শিল্পাঞ্চলের বেদখল জমি পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে শ্রীরামপুরে মিছিল বাংলা পক্ষর

বাংলা পক্ষ হুগলীর শ্রীরামপুরে এক ঐতিহাসিক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শ্রীরামপুরের বান্ধবসমিতির মোড় থেকে আরএমএস (RMS) ময়দান হয়ে বটতলা, জিটি রোড হয়ে মাহেশে এসে এই মিছিল শেষ হয়। হুগলী নদীর পাড়ের দখল হয়ে যাওয়া শিল্পাঞ্চলের প্রচুর সহযোদ্ধা এই মিছিলে যোগদান করে। স্থানীয় বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই মিছিলের সমর্থনে পা মেলায়।রবিবাসরীয় এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের সাধারন সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, অরিন্দম বিশ্বাস, মনন মণ্ডল, কালাচাঁদ চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এছাড়াও হুগলী জেলার সম্পাদক দর্পণ ঘোষ, কলকাতা জেলা সম্পাদক অরিন্দম চ্যাটার্জী, উত্তর ২৪ পরগণা (শিল্পাঞ্চল) এর সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ ও উত্তর ২৪ পরগণা (শহরাঞ্চল) এর সম্পাদক পিন্টু রায়।মিছিল শেষে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন দখল হয়ে যাওয়া হুগলী নদীর দুই পাড় পুনরুদ্ধার করতে হবে। ডানকুনির লজিস্টিক হাব সহ হুগলী শিল্পাঞ্চলে যে কাজের সুযোগ তৈরী হচ্ছে, সেখানে বাঙালির কাজ চাই। বাংলা পক্ষ আজ ঐতিহাসিক মিছিল করল। এই মিছিল দেখে হুগলীর বাঙালি তথা বাংলার বাঙালি বুকে বল পাবে। বাঙালির জনজোয়ার বুঝিয়ে দিচ্ছে গঙ্গার দুপারে বহিরাগতদের রাজত্ব শেষ হওয়া সময়ের অপেক্ষা।সংগঠনের শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন রিষড়া, ভদ্রেশ্বর, চাঁপদানী বিহার না বাংলা বোঝা যায় না, বেশীর ভাগ কাউন্সিলার বহিরাগত, চারদিকে সিং গজিয়ে উঠছে। যে সিং বাঙালিকে গোঁতাতে আসবে আমরা তা ভোঁতা করে দেব। বাংলার চাকরি, কাজ, বাজার, পুঁজি সবকিছুর দখল আমরা চাই।শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা হুগলী জেলার ভূমি সন্তান মনন মণ্ডল বলেন, ব্যান্ডেল থেকে উত্তরপাড়া হুগলীর দুপাড়ে বাঙালি কোনঠাসা হয়ে গেছিল। বাংলা পক্ষর নেতৃত্বে বাঙালি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে৷ ৩০ বছরের কম বয়সী ছেলেমেয়েরা মিছিলে হাঁটছে৷ এটা আগামীর স্বপ্ন দেখায়।হুগলী জেলা সংগঠনের সম্পাদক দর্পণ ঘোষ বলেন এই মিছিলে বাঙালির মনে যে আলোড়ন তৈরী হল, তা ঘরে ঘরে বাঙালিকে জাগিয়ে তুলবে। বাঙালি নিজের অধিকার বুঝে নেবে। কারখানায় কাজ থেকে অটো, টোটো লাইন থেকে ফুটপাথ- সর্বত্রই আমরা বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। যে স্বপ্ন আমরা ৫ বছর আগে দেখেছিলাম, জিটি রোডের উপর বাঙালির গর্জন বুঝিয়ে দিচ্ছে বাঙালি দ্রুত জাগছে।

ডিসেম্বর ১২, ২০২২
দেশ

মাছে ভাতে বাঙ্গালিকে হিন্দি ভাষী অভিনেতার অসন্মান করার তীব্র প্রতিবাদ জানালো 'বাংলা পক্ষ'

হিন্দি সিনেমা অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা পরেশ রাওয়াল বাঙালিকে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা বলেছে এবং বাঙালিদের নিয়ে গুজরাটিদের মধ্যে ব্যাপক বাঙালি বিদ্বেষ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ বাংলা পক্ষর। বাঙালির মাছ খাওয়া নিয়েও পরেশ রাওয়াল বাঙ্গালিদের অপমান করেছে বলে অভিযোগ । এর বিরুদ্ধেই আজ কলকাতার রানুছায়া মঞ্চে বিক্ষোভ কর্মসূচী করল ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ। সংগঠনের তরফে বাংলার মাটিতে অভিনেতা পরেশ রাওয়ালকে বয়কটের ঘোষণা করল বাংলা পক্ষ। বাংলা পক্ষের শীর্ষ পারিষদ কৌশিক মাইতি জনতার কথাকে জানান, বাংলা তথা ভারতে তীব্র বাঙালি-বিদ্বেষ ছড়ানোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নামছে তাঁরা। প্রতিবাদের অংশ হিসাবে মাছ খেয়ে বাংলায় সর্বত্র মাছ খাওয়া এবং মাছ খাওয়া বাঙালি জাতির অধিকার দ্বিগুণ ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার শপথ নেওয়া হয় এই সভায়। প্রতিকি প্রতিবাদ জানিয়ে মাছ খাইয়ে দেওয়া হয় পরেশ রাওয়ালের ছবিতেও।শুক্রবারের কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অমিত সেন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, উত্তর চব্বিশ পরগনা শিল্পাঞ্চলের জেলা সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলায় বাঙালি বিদ্বেষী পরেশ রাওয়ালের সিনেমা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিল বাংলা পক্ষ। আমরা বাংলার সব ডিস্ট্রিবিউটরকে বলতে চাই পরেশ রাওয়াল কে বয়কট করুন। বাংলা থেকে এক পয়সাও কামাতে না পারে পরেশ রাওয়াল। গত কয়েকবছর ধরে বিজেপির কারণে ভারতের নানা জায়গায় বাঙালিকে বাংলাদেশি দাগানো হচ্ছে। জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে৷ আমাদের রাজ্যে শিল্প, কাজ থাকলেও তা বিহার-ইউপি-ঝাড়খন্ডের লোকজন এসে দখল করছে। বাংলায় কাজ না পেয়ে বাঙালি বাইরে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশি বলে আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আমরা এর সমাধান চাই। বাংলার সব বেসরকারি চাকরি ও কাজে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই।কৌশিক মাইতি বলেন, পরেশ রাওয়াল বলেছেন মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব বড় সমস্যা না, বড় সমস্যা হল গুজরাটে বাঙালি বেড়ে যাওয়া৷ বাঙালি মানেই বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা। বাঙালি বাড়লে, চারপাশে মাছ রান্না করলে সেটা অনেক বড় সমস্যা। বাঙালি বোঝো। NRC র কারণে কতটা বাঙালি বিদ্বেষ তৈরি হয়েছে ভারতে। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি, মাছ খেলে বাংলাদেশি? আগে কৈলাশ বিজয়বর্গী বলেছিলন চিঁড়ে খেলেও বাংলাদেশি৷ বাঙালি বিদ্বেষ বাড়ছে, আক্রমণ বাড়ছে। কিন্তু বাঙালি আর আগের বাঙালি নেই। বাংলা পক্ষর নেতৃত্বে বাঙালি প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। আজ আমরা মাছ ভাজা খেয়ে প্রতিবাদ করলাম। আগামীতে বাংলার নানা জায়গায় ঘরের দুয়ারে মাছের কাঁটা ফেলা হবে৷ বাংলা পক্ষর তরফে জানা গেছে তাঁরা, পরেশ রাওয়ালের বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা খতিয়ে দেখছে।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২২
রাজ্য

বাংলার বিদ্যুৎ দপ্তরের এর চাকরিতে ডোমিসাইল চালু, বাংলা পক্ষর দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল

বিদ্যুৎ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সহ সমস্ত চাকরিতে ভিন রাজ্যের কর্মীতে ভরে যাচ্ছিল, বঞ্চিত হচ্ছিল বাঙালি ছেলেমেয়েরা। বাংলা পক্ষের দাবী, এমনও দেখা যাচ্ছিলো চাকরি পাওয়া ৪১ জন ইঞ্জিনিয়ারের ৩৪ জন ছিল বাইরের রাজ্যের। কিন্তু অন্য রাজ্যে বিদ্যুৎ দপ্তরে বাঙালি চাকরি পায় না, কারণ সেই রাজ্যের স্থানীয় ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক ও ডোমিসাইল আছে। ২০১৯ থেকে বাংলা পক্ষ লাগাতার আন্দোলন শুরু করে বিদ্যুৎ দপ্তরের হেডকোয়ার্টার বিদ্যুৎ ভবনে। বারবার ডেপুটেশন, বিক্ষোভ চলতে থাকে। তাঁরা বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সাথে বারংবার সাক্ষাৎ করে আসল চিত্রটা বোঝানোর চেষ্টা করেন৷ বাকি রাজ্য কি ভাবে নিয়োগ করে তাঁর বিস্তারিত নিয়ম ডকুমেন্ট আকারে জমা করা হয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছে। সেই আন্দোলনের ফলে এর আগেই বিদ্যুৎ বিভাগের চাকরিতে বাংলা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হয়েছিল। সেখানেই বাংলা পক্ষ থেমে থাকেনি। তাঁরা বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারদের কথা দিয়েছিল, এর থেকেও বড় সুখবর তাঁরা দেবে বলে। বৃহস্পতিবার এলো সেই সুখবর। বিদ্যুৎ দপ্তরের কোম্পানী WBSETCL এর চাকরিতে ডোমিসাইল চালু করার নোটিফিকেশন জারী করা হয়। বাঙালি ছেলেমেয়েদের চাকরি ও কাজের স্বার্থে বাংলা পক্ষ নিরলস পরিশ্রম করে চলেছে। বাংলার মাটিতে যাতে কোনো বাঙালি ছেলেমেয়ে বঞ্চিত না হয়, সেজন্যই এই সংগঠন তৈরি বলে তাঁরা মনে করেন। শুধু বাঙালি না, প্রতিটা ভূমিসন্তানের চাকরি ও কাজে অধিকারের জন্য তাঁরা লড়াই করছে বলে বাংলা পক্ষের দাবী।বাংলা পক্ষের শীর্ষ পারিষদ কৌশিক মাইতি জনতার কথা কে জানান, বাংলার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরা বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ধন্যবাদ জ্ঞপন করেন। তাঁরা ধন্যবাদ জানান বাংলার সরকারকে। আগামীতে বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা WBSEDCL এও চাকরিতে ডোমিসাইল চালু হবে, সেই দাবিতেই লড়াই করছে বাংলা পক্ষ। আশা করি আগামীতে WBSEDCL সহ সব রাজ্য সরকারি দপ্তরে চাকরির পরীক্ষা বাংলা ভাষার পেপার বাধ্যতামূলক হবে এবং ডোমিসাইল চালু হবে বল তাঁদের আশা।

নভেম্বর ০৩, ২০২২
দেশ

বাংলাদেশি অনুপ্রেবেশকারি সন্দেহে ব্যাঙ্গালোরে গ্রেপ্তার বর্ধমানের দম্পতি ও শিশুর মুক্তি দাবিতে ভাইফোঁটার দিন অভিনব কর্মসূচী বাংলাপক্ষর

পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের দম্পতি পলাশ অধিকারী, তার স্ত্রী শুক্লা অধিকারী ও তাদের দেড় বছরের পুত্র আদিকে গত ২৭ শে জুলাই, ২০২২ সালে বাংলাদেশী তকমা লাগিয়ে গ্রেপ্তার করেছে ব্যাঙ্গালোর পুলিস। FOREIGNERS ORDER ACT, 1948 (U/s-7(2)); FOREIGNERS ACT, 1946 (U/s-14 (B)) ধারায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সুত্রে জানা গেছে। পলাশ ও শুক্লা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভা অন্তর্গত জৌগ্রামের বাসিন্দা। বাংলা পক্ষের শীর্ষ পারিষদ কৌশিক মাইতি জানান, বিজেপি শাসনাধীন কর্ণাটক সরকার বাঙালির উপর আক্রমণ করেই চলেছে ক্রমাগত। এর আগে বাঙালির বস্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। নানা সময় নানা বাঙালিকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ পলাশ, শুক্লা অধিকারী ও তাঁদের শিশু পুত্রের মুক্তির দাবিতে ভাইফোঁটার দিন কলকাতার রানুছায়া মঞ্চে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচী করল। এইদিন তাঁরা প্রতীকি ভাইফোঁটার আয়োজন করে। ভাইফোঁটার বিশেষ আয়োজনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বসত এক প্লেট মিষ্টি। কিন্তু আজকের এই আয়োজনে প্লেটে কোনও মিষ্টি ছিলো না, কপালে ভাইফোঁটা ছিলো না, কারণ হিসেবে তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ধমানের বাঙালি বোন বাঙালি হওয়ার জন্য ব্যাঙ্গালোরের জেলে বন্দী, সেই বোন শুক্লা অধিকারী আজকের দিন জেলে থাকায় তাঁর ভাইয়েদের ফোঁটা দিতে পারেননি। এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা বাঙালি ভাইবোনদের ব্যাঙ্গালোরের জেল থেকে মুক্ত করে আনবোই। বাঙালি হওয়া কি অপরাধ? বাঙালিকে প্রতিনিয়ত আক্রমণ করা হচ্ছে নানা বিজেপি শাসিত রাজ্যে। আজকের এই পুণ্য ভাইফোঁটার দিনে আমাদের বোন শুক্লা ব্যাঙ্গালোরের জেলে বন্দি৷ আমরা ওদের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়বো। বাংলার সমস্ত চাকরি-কাজ- ব্যবসা দখল করছে বহিরাগতরা, বঞ্চিত হচ্ছে বাঙালিরা। বাধ্য হয়ে তারা অন্য রাজ্যে কাজে যাচ্ছে। তাই যাতে আর বাঙালিকে বাইরে কাজে যেতে না, বেসরকারি চাকরি- ঠিকা কাজ- টেন্ডারে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ সময়ের দাবি। আমরা সেই জন্যও লড়ছি।তিনি আরও জানান, বাংলা পক্ষ ঐ পরিবারের পাশে আছে, আমরা তাদের বাড়িও গেছিলাম, তাদের পরিবারের সাথে কথা বলেছি। স্থানীয় বিধায়ক অলোক মাঝি ও বাংলার প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছে বাংলা পক্ষ। বাংলা পক্ষ ব্যাঙ্গালোরের পুলিস কমিশনারকে ইমেল করেছে, তাদের যাতে জেল থেকে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়।গর্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, পরিবারের থেকে আমরা একটা ভয়ংকর কথা জানতে পারি, ওনাদের আইনজীবী আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড জমা দিলেও জমির দলিলের ইংরেজি ভার্সান জমা দিতে বলা হয়েছে। বাংলা পক্ষ এই তিন বাঙালির মুক্তির জন্য ব্যাঙ্গালোরে নানা বাঙালি সংগঠন ও আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে। বাংলার বাইরে মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোয় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাঙালিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তকমা লাগিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলা পক্ষ এই সভা থেকে দাবী তোলে, ভারতে বাঙালি হিসাবে জন্মানো কি অপরাধ? তিনি আরও জানান, এর একটা বড় সমাধান, বাংলায় সমস্ত বেসরকারি চাকরি, ঠিকা কাজে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই। তাহলে বাংলার বাঙালিকে কাজের জন্য আর বাইরে যেতে হবে না।

অক্টোবর ২৭, ২০২২
কলকাতা

হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষর মহামিছিল কলকাতায়, আত্মসমর্পণ নয়

হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী বিজেপির দ্বারা কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরির পরীক্ষা, শিক্ষাদান, তথ্য আদান-প্রদান ইত্যাদি সমস্ত ক্ষেত্রে ইংরেজি সরিয়ে হিন্দি বাধ্যতামূলক করা, হিন্দি না জানার কারণে ভারতীয় নাগরিককে শাস্তি দেওয়া, অহিন্দি জাতির অর্থ ও সম্পদ লুঠ করে সেই টাকায় ভারতে এবং ভারতের বাইরে রাষ্ট্রপুঞ্জে হিন্দি চাপানোর মাধ্যমে বাঙালী এবং সকল অহিন্দি জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে স্থায়ীভাবে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের দাস বানানোর চক্রান্তের বিরুদ্ধে ভারতের বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ ১২ই অক্টোবর, ২০২২ বুধবার এক বিশাল মিছিল ও পথসভা করে। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে শয়ে শয়ে বাঙালি এই মিছিলে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে গর্জন তোলে। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য মনন মন্ডল, ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস, মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, সোয়েব আমিন। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চ্যাটার্জী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, উত্তর চব্বিশ শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ, উত্তর চব্বিশ গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক পিন্টু রায় প্রমুখ।ভারতের প্রতিটি বাঙালির মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে বাংলা পক্ষ কলকাতায় এই মহামিছিল ও পথসভার আয়োজন করল। বাংলা পক্ষর সহযোদ্ধারা ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের হাজার হাজার বাঙালি রবীন্দ্র সদন থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত এই মিছিলে মিছিল যোগ দেয়। মিছিল শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন নেতৃত্ব। এই মিছিলে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদকে ধিক্কার জানানো প্ল্যাকার্ড যেমন ছিল, তেমনই ছিল বাঙালি জাতির অভিভাবক চিত্তরঞ্জন দাশ, বাংলার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অশোক মিত্র, তামিল সহ সকল অহিন্দি জাতির নায়ক তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই, মহান কন্নড় জাতীয়তাবাদী কবি কুভেম্পুর অমর উক্তি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডও। আগামী ১৬ই অক্টোবর বাংলা পক্ষ বাংলার প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করতে চলেছে।এই মিছিল থেকে বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন,দিল্লি যদি ভেবে থাকে যে বাঙালি হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে দেবে, আত্মসমর্পণ করবে তাহলে তারা ভুল ভাবছে। আমরা সমস্ত ভাষার সমান অধিকার চাই। বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদরা নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মকে হিন্দির দাস বানানোর জন্য ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ দেননি। বাংলার পবিত্র মাটি থেকে হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের সমস্ত চিহ্ন মুছে দেবে বাঙালি। সকল শিরদাঁড়া সোজা অহিন্দি মানুষ এই লড়াইয়ে বাংলা পক্ষর সাথে আছে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ ভারতের ঐক্য ধ্বংস করতে চায়। আমরা যে কোনও মূল্যে ভারতের ঐক্য রক্ষা করব। বিজেপি এবং দিল্লি যেন আগুন নিয়ে খেলা না করে। বাংলা পক্ষর সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, এই বৃষ্টির মধ্যে বাঙালির জনজোয়ার বুঝিয়ে দিল, বাঙালির মাটিতে হিন্দি চাপালে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে। বাঙালীর ওপর হিন্দি চাপানোর বিরুদ্ধে, বাঙালিকে নিজ অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিরুদ্ধে বাংলা পক্ষ শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে। সকল বাঙালীকে দল-মত ভুলে বাঙালি হিসেবে জোট বাঁধার আহ্বান জানাই। আমরা এ লড়াই জিতবো। বাঙালির রক্তে স্বাধীন ভারতে আমাদের অধিকার আমরা ছিনিয়ে নেবই।সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, কবি জয় গোস্বামী, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারের মত বাঙালি বিদ্বজ্জনেরা বাংলা পক্ষর এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। জয় গোস্বামী বলেন, আমি শারীরিক অসুস্থতার জন্য এই মিছিলে উপস্থিত থাকতে না পারলেও আমি এই প্রতিবাদকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি। পবিত্র সরকার জানান, এইভাবে হিন্দির একাধিপত্য কায়েমের চেষ্টা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরোধী।

অক্টোবর ১২, ২০২২
রাজ্য

বাংলা পক্ষের উদ্যোগে বাংলা জুড়ে পালিত হল বাঙালীর 'শিক্ষক দিবস'

আমাদের সকলেরই জানা ডঃ সর্বপল্লীরাধাকৃষ্ণনের জন্মদিন কেই সারা ভারতে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাংলা ও বাঙ্গালীর জাগরণের জন্য সদা লড়াই করে চলা বাংলা পক্ষ আজ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন কে শিক্ষক দিবস হিসাবে পালন করার ডাক দিয়েছিল। তাদের দাবী, বাঙালি জাতির শিক্ষক বিদ্যাসাগরের জন্মদিন ২৬ এ সেপ্টেম্বরই হল বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস। সেই কারনেই বাংলা পক্ষের উদ্যোগে আজ সারা বাংলা জুড়ে প্রত্যেক জেলায় বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস পালন করল বাংলা পক্ষ। এই উদ্যোগ তারা শুরু করে ৫ বছর আগে, ২০১৭ র ২৬ এ সেপ্টেম্বর প্রথমবার বাংলা পক্ষ শিক্ষক দিবস পালন শুরু করে। তাদের দাবী, আজ বাংলার অনেক স্কুলেই শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। তারা মনে করে, প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে বাংলা পক্ষর দাবি, আবেদনে সাড়া দিচ্ছে বাঙালি। আমরা গর্বিত জাতির মহাপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান জানাতে পেরে।আজকে শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়িতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে বাংলা পক্ষের সমর্থকেরা, নদীয়া বাংলা পক্ষের তরফে এক অঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়, কলকাতার যোধপুর পার্কে সূর্যসেন হলে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, দক্ষিণ দিনাজপুরে খাঁপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দুর্গাপুরে সুরেন্দ্রচন্দ্র মর্ডান স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কিশোর ভারতী বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হুগলীতে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান সহ বাংলার নানা প্রান্তে মহা সমারোহে বাঙালীর শিক্ষক দিবস পালিত হয়। উল্লেখযোগ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটা বীরসিংহে গিয়ে শিক্ষক দিবস পালন করে বাংলা পক্ষ। বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর বাস স্ট্যান্ডে শিক্ষক দিবসের মিছিল ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।বাংলা পক্ষের শীর্ষ পারিষদ কৌশিক মাইতি জনতার কথা কে জানান, আমরা ২৩ টি সাংগঠনিক জেলায় একজন করে মহান শিক্ষক কে (যিনি শিক্ষার প্রসারে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন) বিদ্যাসাগর জাতীয় শিক্ষক সম্মাননা য় ভূষিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।তিনি আরও বলেন, আমরা আশা রাখি আগামীতে বাংলার প্রতিটা স্কুলে, কলেজে ২৬ এ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস হিসাবে পালিত হবে। আমরা আশাবাদী, বাংলা সরকারও আমাদের আবেদন মেনে ২৬ এ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনকে বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেবেন। তাঁরা সমাজের বিভিন্ন অংশের যে সমস্ত বিশিষ্টর ব্যক্তি বাংলা পক্ষর এই দাবির সপক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সকলকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, আগামী বছর সরকারি ভাবে ২৬ এ সেপ্টেম্বর দিনটিকে বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস হয়ে উঠবে।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২
কলকাতা

কলকাতার হাসপাতালে 'নমস্তে', মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ বাংলা পক্ষের

আর এন ট্যাগর হাসপাতালে নমস্কারের বদলে নমস্তে বলার ফরমানের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানালো বাংলা পক্ষ। মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন এই প্রতিবাদে বাংলা পক্ষের সহযোদ্ধাদের হাতে ছিল নমস্তে নয় নমস্কার বলুন। হিন্দি ভারতের রাষ্ট্র ভাষা নয় লেখা ব্যানার ও পোষ্টার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাংলায় যেখানে ৮৬ শতাংশ নাগরিক বাঙালি এমন একটি রাজ্যের রাজধানীতে অবস্থিত হাসপাতালে আগত রোগী, রোগীর আত্মীয় সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গকে নমস্কারের বদলে নমস্তে বলা হচ্ছে।এমনকি বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে চাওয়া রোগীরা চিকিৎসকের সময় চাইলে তাদের হিন্দিতে তথ্য দিতে বলা হচ্ছে। এই কথায় সহজেই অনুমেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ভিন্ন এই কাজ অসম্ভব। বাংলা পক্ষের তরফে ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা পক্ষের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, উত্তর চব্বিশ পরগণা (গ্রামীণ)-এর জেলা সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার এবং কলকাতা জেলার সম্পাদক অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়।বাংলা পক্ষের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলার মাটিতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম সামনে রেখে চলা হাসপাতালে বাংলা ভাষায় নমস্কার না বলে নমস্তে বলা চলবে না। তিনি বলেন, এটি হিন্দি চাপানোর প্রাথমিক ধাপ, এর পরের ধাপেই বাঙালি কর্মী ছাঁটাই করে বহিরাগত কর্মীদের হাসপাতালে নিযুক্ত করা হবে। কাজ হারাবে বাঙালি কর্মচারীরা।বাংলা পক্ষের শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি বলেন, কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের আমিষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসেবে হাস্যকর যুক্তি দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মালিক আমিষ খায় না। তিনি বলেন, বাংলার সরকারের দেওয়া জায়গায় হাসপাতাল তৈরি করে, বাংলার প্রাতঃস্মরণীয় মনিষীর নাম ব্যবহার করে বাঙালির উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরপ বলেন, বহিরাগত এইচ আর কেন এগুলি করছেন তার উদ্দেশ্য বাংলা পক্ষ-র অজানা নয়। বাঙালি কর্মীদের সরিয়ে বহিরাগত কর্মীদের সেই জায়গায় কাজে নিয়োগ এই চক্রান্তের আসল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন হাসপাতাল একটি বিশেষ আপৎকালীন জায়গা। তাই কোনও প্রবেশ দ্বার না আটকে, মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার এই চক্রান্ত চালাতে থাকলে বাংলা পক্ষ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলা পক্ষ বাঙালির পাশে আছে। কোন ভাবেই বাংলা ভাষা তথা বাঙালির উপর এই হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না। কর্মসূচি চলাকালীন কলকাতা এবং বাইরের থেকে আশা বহু রোগীর আত্মীয়, পথ চলতি মানুষ বাংলা পক্ষ-র দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। চারজনের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। কর্তৃপক্ষের তরফে স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২
রাজনীতি

বামেদের 'আইন অমান্য' নিয়ে রণক্ষেত্র বর্ধমান, ভাঙল বিশ্ববাংলা লোগো, উত্তেজিত জনতা ছিঁড়ে ফেলল সরকারি প্রকল্পের তালিকা

সিপিআইএমের ডাকে আইন অমান্য কর্মসূচিতে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বর্ধমান শহর। পুলিস ও বাম সমর্থকদের উত্তেজনার টানাপোড়েনে মাঝে পড়ে কিংকর্তব্য-বিমূঢ় শহর বাসী ও শহরে কর্মসুত্রে আসা আসা জনসাধরণ। বিকাল ৩টার পর থেকেই ষ্টেশন থেকে বড় নীলপুর যেন রুপ নেয় রণক্ষেত্রের।এদিন দুটি বড় সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। বড়নীলপুর মোড় এবং বর্ধমান স্টেশনে দুটি সভায় দলের নেতারা অংশ নেন। বড়নীলপুরের সভায় বক্তব্য রাখেন দলের পলিটব্যুরো সদস্য ও রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। দুটি মিছিল শহরের দুই প্রান্ত থেকে কার্জনগেটে সমবেত হয়। সেই সভায় এদিন সেলিম বলেন, লুঠ হলে, ধর্ষণ হলে এ রাজ্যের পুলিশকে খুঁজে পাওয়া যায় না। ১৯৫৯ এ হাজার হাজার মানুষ খাদ্যের দাবিতে সমবেত হন। পুলিশ লাঠি পিটিয়ে ৮৪ জন মানুষকে খুন করে। প্রত্যেক বছর এই লড়াইয়ে শহিদদের স্মরণ করি আমরা। জীবন জীবিকার এই লড়াই। একসময় সব কিছু নিষিদ্ধ করে, গুন্ডা পুলিশ নামিয়েও আমাদের দমাতে পারেনি। শুভেন্দু অধিকারী কম দুর্নীতিগ্রস্ত নন। মুখ্যমন্ত্রী লিস্ট করে নাম বলে দিয়েছেন। লাল ঝান্ডা শেষ হয়েছে? এমন হিটলার ভেবেছিল। হিটলার মুসোলিনী মুছে গেছে।তিনি বলেন, হক কথা সোচ্চারে বলার দাবিতে, চোরদের ধরার দাবিতে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। সব জেলাতেই। যতই বিশ্ববাংলার ঢাক পেটান, ওই ঢাক ফেটে গেছে। কেন বেকাররা কাজ পাবেনা? কেন মজুরেরা সঠিক মজুরি পাবেন না? লাল হটেছে কিন্তু রাজ্য বাঁচেনি। আজ রাজ্যকে বাঁচাতে লাল ঝান্ডা আবার রাস্তায় নেমেছে।মহঃ সেলিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, চোর ধরো জেলে ভরো এটা কি ছাত্র যুবদের কাজ? এটা কি পুলিশের কাজ নয়? পুলিশ এখানে চোরেদের মাল পাহারা দেয়। এ লড়াই পুলিশকে জাগিয়ে তোলার। আনিস খুন হলেও আমরা বিচার চাই পুলিশ খুন হলেও বিচার চাই। বিজেপির চোর আলাদা কিছু নয়। দুই চোরের বিচার চাই। সেলিম এদিন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এরপর স্টেশন ও নীলপুর থেকে দুটি মিছিল শুরু হয়ে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে আসে। দুপুর থেকেই বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন ছিল গোটা এলাকায়।মিছিল পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে বাম সমর্থকেরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন, প্রথম গার্ড ওয়াল ভেঙ্গে কিছুটা এগোতেই জল কামান চালানো হয়, ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। তাঁরা আবার একজোট হয়ে আবার ফিরে আসতেই পুলিস কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়েন। এরপর উত্তেজিত জনতা ইট পাথর ছুড়তে থাকেন পুলিসকে লক্ষ করে। পুলিসও লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাস্তায় নামেন। শুরু হয়ে পুলিস-জনতা খন্ডযুদ্ধ।অবশেষে র্যাফ নেমে রুট মার্চ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় বিক্ষোভকারিদের। বেশ কিছু বাম সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। দুপক্ষের এই খণ্ডযুদ্ধে পুলিস ও বাম সমর্থকের অনেকেই আহত হয়েছে। কিছুদিন আগে কর্জনগেট এলাকা সৌন্দার্য্যায়নের জন্য একটি বিশ্ব বাংলার লোগো বসানো হয়। বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের তালিকা টাঙ্গানো হয় টেলিফোন অফিসের দেওয়ালের গায়ে। সেই সবই এখন ধংস্তুপে পরিণত। এমনকি কর্জনগেটের অনতিদুরে বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসের বিধায়ক পরিসেবা কেন্দ্রেও ভাংচুড় করার অভিযোগ করেন বিধায়ক ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ।

আগস্ট ৩১, ২০২২
রাজ্য

বাংলার পুলিসে এসআই (SI) নিয়োগের পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের বাধ্যতামূলক বাংলা পেপারের দাবিতে আরক্ষা ভবনে বাংলা পক্ষর ডেপুটেশন

বুধবার বাংলা পক্ষ সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিসে এসআই (SI) নিয়োগে ১০০ নম্বরের বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক করার দাবিতে ডেপুটেশন জমা দিল বাংলা পক্ষ। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, অমিত সেন এবং অন্যান্য সদস্যরা।পুলিস রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের অফিসাররা কথা বললেন বাংলা পক্ষর দুই প্রতিনিধি গর্গ চট্টোপাধ্যায় এবং কৌশিক মাইতির সাথে বাংলা পক্ষের শীর্ষ পারিষদ জানান, পুলিস রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে স্মারকলিপির রিসিভ কপি দেয়নি। বাংলার শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে বাঙালিকে দৈনন্দিন জীবনে নিশ্চয়তা ও আইনের শাসন পৌঁছে দিতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই পুলিশের চাকরিতে সাব ইন্সপেক্টর (S.I) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। বিভিন্ন থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে প্রথমেই এই SI পদমর্যাদার আধিকারিকদের সঙ্গেই কথা বলতে হয়।বাংলার জনসংখ্যার ৮৬% বাঙালি এবং তারমধ্যে ৮৩% শুধুই বাংলা ভাষায় কথা বলেন। সুতরাং ভাষা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অভিযোগকারী ও পুলিশ আধিকারিকের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে। বাংলায় বাংলাভাষী পুলিশ আধিকারিক হবেন এটাই আশা করা যায়। কৌশিক জানান, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের এই সাব ইন্সপেক্টর পদমর্যাদায় নিয়োগ পরীক্ষায় রাজ্যের মূল ভাষার একটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক ভাবেই রাখা হয়। যেমন- গুজরাতে ১০০ নম্বর গুজরাটি, তামিলনাড়ুতে ১০০ নম্বর তামিল, অন্ধ্র ও তেলেঙ্গানায় ১০০ তেলেগু, বিহারে ২০০, উত্তরপ্রদেশে ১০০ এবং রাজস্থানে ২০০ নম্বর হিন্দি, কর্ণাটকে ৫০ নম্বর কণ্ণড় বাধ্যতামূলক, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্রেও রাজ্যের মূলভাষার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।তিনি আরও জানান, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৮৬% বাঙালির রাজ্যে তিন নং পেপারে (Paper-III) ভাষার পরীক্ষায় বাংলা ও নেপালীর সঙ্গে হিন্দি এবং উর্দু রয়েছে। এরফলে বাংলা না জেনেই বাংলার পুলিশে S.I পদমর্যাদার অতি গুরুত্বপূর্ণ চাকরি পাওয়া যায়। এরফলে যেমন বাংলার চাকরি বাংলার বাইরে থেকে এসেও পাওয়া যায় তেমনি প্রশাসন ও সাধারণ বাঙালির মধ্যে ভাষাগত ব্যবধান থেকেই অবিশ্বাসের অবাঞ্চিত বাতাবরণ তৈরী হয়।কৌশিক মাইতি জানান, আমরা দেখেছি অতীতে কনস্টেবল নিয়োগের পরীক্ষায় আপনারা নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধন করে শুধুমাত্র বাংলা ও নেপালী ভাষা রেখেছিলেন, এরফলে যেমন চাকরিপ্রার্থী বাঙালি উপকৃত হয়েছে তেমনি সাধারণ বাঙালি জনসাধারণও উপকৃত। আমরা আশা রাখি S.I নিয়োগের পরীক্ষাতেও দ্রুত সংশোধনী এনে বাংলা (দার্জিলিঙে নেপালী) ভাষার ন্যূনতম ১০০ নম্বরের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করবেন।

আগস্ট ২৪, ২০২২
রাজ্য

নদীয়া'য় বাঙালির চাকরি ও কাজের দাবিতে রাস্তায় নামল বাংলা পক্ষ

হরিণঘাটার ফ্লিপকার্ট, কল্যানীর AIIMS, কল্যানী শিল্পাঞ্চল, কাঁচরাপাড়ার রেলের ফ্যাক্টরিতে বাঙালির চাকরি ও কাজের দাবিতে নদীয়ার কল্যানীতে মিছিল করল বাংলা পক্ষ। নিজের মাটিতে কেন বঞ্চিত হবে বাঙালি? বিহার-ইউপি-ঝাড়খন্ড থেকে এসে কেন বহিরাগতরা চাকরি, কাজ ও ব্যবসা সব দখল করবে? এর প্রতিবাদে বাংলা পক্ষর নদীয়া জেলা শাখার উদ্যোগে মিছিল হল। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি, ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাস, নদীয়া জেলার পর্যবেক্ষক রজত সেন, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, উত্তর চব্বিশ পরগনা শিল্পাঞ্চলের সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ, নদীয়ার সম্পাদক কৌশিক বর্মন, মধুসূদন ঘোষ, পিন্টু বণিক, প্রদীপ কর প্রমুখ। মিছিল শেষে গয়েশপুরে একটি পথসভাও হয়। পথসভায় বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাঙালির প্রহরী হিসাবে চিল ও বাজপাখির মতো উপর থেকে সব নজর রাখছে। বাংলা পক্ষ বাঙালির স্বার্থ রক্ষা করছে। বাঙালি বাঘের জাতি, তাই এই শিল্পাঞ্চলকে বিহার বানাতে দেবে না বাংলা পক্ষ। আমাদের ছেলেমেয়েরা মাথা উঁচু করে চাকরি, ব্যবসা ও কাজ করবে। ধানের গোলা থেকে রাইস মিল থেকে সমস্ত ফ্যাক্টরিতে বাঙালির কাজ চাই।বাংলা পক্ষের শীর্ষ পরিষদ সদস্য কৌশিক মাইতি বলেন, বাঙালি ছেলেমেয়েরা মূলত বাংলা মাধ্যমের ছেলেমেয়েরা যাতে নিজের মাতৃভাষার কেন্দ্র সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য বাংলা পক্ষ লড়াই করছে। বাংলার সমস্ত রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় লিখিত বাংলা পেপার বাধ্যতামূলক করবেই বাংলা পক্ষ। অনেক পরীক্ষায় ইতিমধ্যেই আমরা সাফল্য পেয়েছি। ফ্লিপকার্ট, এইএমস সহ সব জায়গায় ৮৬% বাঙালিকে কাজ না দিলে বাংলা পক্ষ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।

আগস্ট ২২, ২০২২
রাজ্য

'বাংলা' না 'পশ্চিমবঙ্গ', বল পৌছালো সংসদে, প্রস্তাবের প্রাপ্তি স্বীকার কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের

নামটা মানের উদ্দেশ্য নয় - লোকে বড় বড় চুল রাখে ঝুঁটি ধরে টানবার জন্য নয়। বিখ্যাত লেখকের এই বক্র উক্তি অনেক কিছুই ভাবার অবকাশ দেয়। সব নামের মানে থাকবে যেমন আশা করা অন্যায়, তেমনি মানে খুঁজে ব্যঙ্গক্তি করাও সমীচীন নয়। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন হতেই পারে, আতর আলি গায়ে আতরের গন্ধ খুঁজতে গিয়ে বিফল হওয়ার সমূহ সম্ভবনা থাকতে পারে। ঠিক তেমনই উত্তর পাড়া তে দক্ষিণ পাড়া খুঁজতে গিয়ে হয়রান হওয়ার সম্ভবনাও থাকে।ঠিক তেমনি এক নাম-র লড়াই বাংলায়। পশ্চিমবঙ্গের নাম বাংলাই পরিবর্তনের লড়াই অনেক পুড়ানো। রাজ্যের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা প্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ, রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) হওয়াতে ইংরাজি অক্ষর W শেষের দিকে বলে বাংলার প্রতিনিধিরা শেষের দিকে বলার সুযোগ পেতেন। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে বহুবার অভিযোগ জানিয়েছেন, সংসদে যখনই রাজ্যের প্রতিনিধিরা বা মমতা নিজেই কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যগুলির মধ্যে কোনও বৈঠকে বক্তব্য রাখার কথা থাকতো তখনই পশ্চিমবঙ্গের নাম সর্বদা তালিকার নীচে উপস্থিত হত। এখন রাজ্যের নাম পরিবর্তন হয়ে বাংলা হলে ইংরাজি B অনেক আগে হওয়াতে পশ্চিমবঙ্গ-র প্রতিনিধিরা অনেকটা সামনের দিকে বলার সুযোগ পাবেন।২০১৬-এর ২৯ আগস্ট রাজ্য বিধানসভা পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে ইংরেজিতে বেঙ্গল, বাংলায় বাংলা এবং হিন্দিতে বাঙ্গাল করার প্রস্তাব পাস করা হয়েছিল। তিনটি ভিন্ন ভাষায় তিনটি নাম রাখার প্রস্তাবটিকে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রত্যাখ্যান করে। ঠিক তার দুই বছর পর ২০১৮-র ২৬ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সেই প্রত্যাখ্যাত বিলটি পরিবর্তন করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তিনটি ভিন্ন ভাষায় রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে বাংলা করার বিল পাস করে।মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের নামকরণ বাংলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে, সেটির তারা প্রাপ্তি স্বীকার করেছে। কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই সংসদকে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে এই প্রস্তাব তাঁরা পেয়েছেন।নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে তিনটি ভাষায় অর্থাৎ বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দিতে রাজ্যের বাংলা নামকরণের জন্য একটি প্রস্তাব এসেছে। রাই লোকসভায় লিখিত উত্তরে বলেছেন যে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক সারা দেশে শহরগুলির নাম পরিবর্তনের জন্য গত পাঁচ বছরে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলিতে অনাপত্তি শংসাপত্র (NOC) দিয়েছে।সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সাংসদ সাইদা আহমেদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে জানতে চান, সারা দেশে বিভিন্ন শহরের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন পাওয়ার জন্য ঠিক কতগুলি প্রস্তাব এসেছে? তিনি আরও জানতে চান সরকার কি হেরিটেজ স্থানের নাম পরিবর্তন ক্ষেত্রে পুর্বতন নির্দেশিকাগুলি সংশোধন করেছে কিনা।নিত্যানন্দ রাই সেই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন যে, হেরিটেজ জায়গাগুলির নাম পরিবর্তনের জন্য মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের সেরকম কোনও নির্দেশিকা নেই। তিনি আরও জানান, ২০১৭-তে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজমুন্দ্রির নাম পরিবর্তন করে রাজামহেন্দ্রভারম করা হয়। ২০১৮ তে, ঝাড়খণ্ডের নগর উন্টারির নাম পরিবর্তন করে শ্রী বংশীধর নগর করা হয়।ওই একই বছরে, মধ্যপ্রদেশ নগর পঞ্চায়েত শহর বীরশিংপুর পালি পরিবর্তন করে মা বিরাসিনী ধামএ পরিণত হয়। ২০১৮ তেই, এক উল্লখযোগ্য নাম পরিবর্তন হল, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভ শহর এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় প্রয়াগরাজ।মন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০২১-এ মধ্যপ্রদেশের হোশাঙ্গাবাদ নগরর নাম পরিবর্তন করে নর্মদাপুরম এবং বাবাই শহরের নাম পরিবর্তন করে মাখন নগর করা হয়। ২০২২ এ, পাঞ্জাবের শহর শ্রী হরগোবিন্দপুরের নাম পরিবর্তন করে শ্রী হরগোবিন্দপুর সাহেব রাখা হয়। রাই আরও জানান যে নসরুল্লাগঞ্জ নগরের নাম পরিবর্তন করে ভৈরুন্ডা করার একটি প্রস্তাব ২৫ এপ্রিল, ২০২২-এ মধ্যপ্রদেশ সরকারের কাছ থেকে মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক পেয়েছে।

জুলাই ১৯, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপ চলাকালীনই ছাঁটাই কোচ! ফুটবল ইতিহাসে নজির গড়ে লজ্জার রেকর্ড

বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন ঘটনা আগে দেখা যায়নি। প্রতিযোগিতা চলাকালীনই কোচকে সরিয়ে দিয়ে নতুন নজির গড়ল তিউনিশিয়া। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর কোচ সাব্রি লামৌচিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রতিযোগিতা চলাকালীন চাকরি হারানো প্রথম কোচ হিসেবে নাম লিখিয়ে ফেললেন তিনি।সাব্রি লামৌচি চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিউনিশিয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অধীনে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছিল দলকে। সেই ব্যর্থতার রেশ কাটার আগেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে একের বিরুদ্ধে পাঁচ গোলে পরাজিত হয় তিউনিশিয়া।এই ফলাফলের পরই কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। নতুন কোচ কে হবেন, সেই বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।এর আগে তিউনিশিয়ার ফুটবল মহলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও নানা আলোচনা চলছিল। কয়েকজন ক্রীড়া সাংবাদিক দাবি করেছিলেন, দলের উপর কোচের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছিলেন সাব্রি। তবে শেষ পর্যন্ত দলের খারাপ ফলাফল তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল করে দেয়।এদিকে ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে সুইডেন। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন ইয়াসিন আয়ারি। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তাঁর পরিবারের শিকড় তিউনিশিয়ায়। সেই কারণেই গোল করার পর তাঁকে খুব বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।সুইডেনের জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর গিয়োকেরেসও। দুজনেই একটি করে গোল করেন এবং আক্রমণভাগে দাপট দেখান। দলের অন্য গোলটি করেন ম্যাথিয়াস ভ্যানবার্গ। তিউনিশিয়ার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ওমর রেরিক।প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারের ফলে তিউনিশিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান কঠিন হয়ে উঠেছে। তার মধ্যেই কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দলকে কতটা সাহায্য করবে, এখন সেটাই দেখার।

জুন ১৫, ২০২৬
দেশ

মঞ্চে উঠতেই চড়ের পর চড়! জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, আটক দুই

জয়পুরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পুলিশ দুই জনকে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে।সোমবার নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং বেকারত্বের মতো বিভিন্ন ইস্যুতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। শহিদ স্মারকে সমর্থকেরা জড়ো হওয়ার পর সেখানে পৌঁছন অভিজিৎ। অভিযোগ, সেই সময়ই কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমর্থকেরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই জনকে আটক করে।এদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংক্রান্ত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বেকারত্বের মতো বিষয় তুলে ধরে স্লোগানও দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়েই আচমকা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।গত কয়েক সপ্তাহে ককরোচ জনতা পার্টি নামটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় উঠে এসেছে। যদিও এটি কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়, তবু বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের অবস্থান নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে।এদিকে, দলটির সামাজিক মাধ্যমের একটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে পদক্ষেপের কথা বলা হলেও, অভিজিতের দাবি ছিল তাঁদের তরফে কোনও উসকানিমূলক বা বেআইনি বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েই তাঁরা মতামত তুলে ধরছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।জয়পুরের এই ঘটনার পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টি এবং তার প্রতিষ্ঠাতা। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও পুলিশের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর রয়েছে।

জুন ১৫, ২০২৬
কলকাতা

মুকুন্দপুরে তল্লাশি ঘিরে শোরগোল, অফিস থেকে কী কী মিলল তা নিয়ে জোর জল্পনা

কলকাতা পৌরনিগমের একশো নয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুন্দপুরের অফিস ঘিরে সোমবার চাঞ্চল্য ছড়ায়। তল্লাশির সময় অফিস থেকে একাধিক ডায়েরি, নথি এবং বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অফিসে থাকা কয়েকটি ডায়েরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে টাকার অঙ্ক লেখা ছিল। তাঁদের দাবি, সেখানে কিছু প্রোমোটার, চাকরিপ্রার্থী এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের নামও উল্লেখ ছিল। তবে ওই নথির সত্যতা বা সেখানে থাকা তথ্যের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।তল্লাশির সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প এবং চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের হিসাব ওই ডায়েরিগুলিতে নথিভুক্ত ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই এখনও হয়নি।অফিসের উপরের তলা থেকেও বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি উঠেছে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সেখানে প্রসাধনী সামগ্রী, পোশাক এবং আরও কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস পাওয়া গিয়েছে। এসব সামগ্রী কী কারণে সেখানে রাখা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেন, এই ঘটনা দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করছে। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সামনে আসা প্রয়োজন।অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি একটি সরকারি অফিস এবং সেখানে অফিস সংক্রান্ত নথি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীই রয়েছে। বর্ষাকালের ত্রাণসামগ্রী এবং উৎসব উপলক্ষে রাখা কিছু পোশাকও সেখানে থাকতে পারে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তল্লাশি চালানোর বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও সামগ্রীর প্রকৃত সত্যতা কী, তা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।

জুন ১৫, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির সামনেই কুণালকে লক্ষ্য করে ডিম! মুহূর্তে উত্তপ্ত কালীঘাট, সামনে এল বিস্ফোরক দাবি

কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেই ডিম হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সোমবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আচমকাই এক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে দেন। নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কুণালের মাথায় গিয়ে লাগে সেই ডিম। ঘটনাকে ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম চন্দন। ঘটনার পর তিনি দাবি করেন, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ রয়েছে। তাঁর কথায়, অনেক অন্যায় হয়েছে। এটা ওনার প্রাপ্য ছিল। এরপর আর কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়েই সেখান থেকে চলে যান তিনি।ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় দুজন যুবক তাঁর খুব কাছেই ছিল। আচমকা একজন ডিম ছুড়ে পালিয়ে যায়। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ প্রতিবাদ করেননি বা অভিযুক্তকে আটকানোর চেষ্টা করেননি।অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কুণাল বলেন, কে অত্যাচার করেছে? আমি করেছি, না মমতাদি করেছেন? যদি কোনও পদক্ষেপ হয়ে থাকে, তা প্রশাসন বা পুলিশের মাধ্যমে হয়েছে। তার দায় আমার হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্ত যুবকের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, তাঁর চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা কোথা থেকে এসেছে, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।এই ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতার বাড়ির একেবারে কাছাকাছি এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ডিম হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার কালীঘাটে কুণাল ঘোষকে ঘিরে একই ধরনের ঘটনার পর নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা।ঘটনার শেষে কুণাল ঘোষ বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

জুন ১৫, ২০২৬
রাজ্য

যে দলে ভিড়ছেন ২০ সাংসদ, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতাই এক মাস আগে ছেড়েছেন দল! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নাম। তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর ছড়াতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক জল্পনা (NCPI)। বিশেষ করে সদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়ের মতো অভিজ্ঞ সাংসদদের নাম সামনে আসার পর কৌতূহল আরও বেড়েছে।তবে সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়। যে দলটিকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতাই নাকি এক মাস আগে দল ছেড়ে দিয়েছেন (NCPI)। জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু আরও দুজন সহযোগীকে নিয়ে ২০২২ সালে এই রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন (NCPI)। হাওড়ার সাঁকরাইলে দলের সূচনা হয়েছিল। পরের বছর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেয় দলটি। একই বছরে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও অংশ নেয় তারা।দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভানেত্রী ছিলেন শিউলি কুণ্ডু। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সৈকত দাস। পরে দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। শিউলির স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।তবে শিউলি কুণ্ডুর ( (NCPI)) দাবি, প্রায় এক মাস আগে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইন পেশার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলাদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।২০ জন সাংসদ এই দলে যোগ দিতে পারেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিউলি কুণ্ডু বলেন, দলটি বড় পরিসরে আলোচনায় আসছে শুনে তাঁর ভালো লাগছে। তবে কোনও সাংসদ এর আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।এদিকে সোমবার সকালে হাওড়ার সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই কয়েক দফায় সেখানে বাহিনীর যাতায়াত দেখা যায়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, কুণ্ডু দম্পতি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।২০ জন সাংসদের সম্ভাব্য যোগদান এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতার পদত্যাগ এই দুই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৫, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহকারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা! তল্লাশির পর বাড়ল চাপ

প্রতারণা এবং জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে পুলিশ। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েও তাঁর খোঁজ না মেলায় তদন্তকারীরা এই পদক্ষেপ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং জমি প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে।উল্লেখ্য, এর আগেও সুমিত রায়ের নাম উঠে এসেছিল বহুচর্চিত কয়লা পাচার মামলায়। সেই মামলায় তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। একাধিকবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল বলেও জানা যায়।সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুমিত রায় দীর্ঘদিনের পরিচিত। স্কুলজীবনে তাঁরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে দুজনের পেশাগত পথ আলাদা হলেও অভিষেকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতেন সুমিত। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি অভিষেকের অন্যতম বিশ্বস্ত সহকারী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।গত শনিবার সুমিতের খোঁজে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী দল। তদন্ত সূত্রে দাবি, তাঁর মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কালীঘাটের একটি এলাকায় ধরা পড়েছিল। সেই সূত্র ধরেই গভীর রাতে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হলেও সুমিত রায়ের কোনও হদিস মেলেনি।এদিকে, এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। বিভিন্ন মামলায় তাঁর কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য, দ্রুত তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

জুন ১৫, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপের মাঝেই নতুন আতঙ্ক! কঙ্গোয় বাড়ছে ইবোলা, চিন্তায় ফুটবল বিশ্ব

কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার খবর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্বেও শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, চলতি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে কঙ্গো। বুধবার তাদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পর্তুগালের মুখোমুখি হওয়ার কথা।সংক্রমণের পরিস্থিতির কারণে কঙ্গো দলের প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন শিবির করার পরিকল্পনা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। পাশাপাশি একটি প্রস্তুতি ম্যাচও বাতিল করতে হয়েছে বলে খবর।পরবর্তীতে দলকে নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখার পরই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বেলজিয়ামে কিছুদিন কাটানোর পর কঙ্গো দল সম্প্রতি প্রতিযোগিতার জন্য পৌঁছেছে।তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সমর্থকদের যাতায়াত নিয়ে। কঙ্গো থেকে আসা দর্শকদের প্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে কড়া স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কঠোর নজরদারির কথাই জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইবোলা ভাইরাস সহজে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। সেই কারণে বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ব্যাপক সংক্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। তবুও কোনও রকম ঝুঁকি এড়াতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।গত মে মাসে প্রথম কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের খবর সামনে আসে। তারপর থেকে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি নজরদারি বাড়িয়েছে।বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে আয়োজক দেশ এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন নজর থাকবে স্বাস্থ্য নিরাপত্তার দিকেও।

জুন ১৫, ২০২৬
রাজ্য

দিঘা ভ্রমণে বড় স্বস্তি! তুলে নেওয়া হল পর্যটক চাঁদা, উপকূল উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

দিঘায় বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে পর্যটকদের জন্য এলো বড় সুখবর। আগামী ১ জুলাই থেকে দিঘায় আর কোনও পর্যটককে অতিরিক্ত ১০ টাকা চাঁদা দিতে হবে না। রবিবার দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে উপকূলীয় পর্যটন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ শিল্পোন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এতদিন হোটেলের বিলের সঙ্গে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা করে নেওয়া হত, যা নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। তাঁর বক্তব্য, এই অর্থ আদায়ের পদ্ধতি স্বচ্ছ ছিল না এবং এতে পর্যটকদের অযথা আর্থিক বোঝা বাড়ছিল। তিনি বলেন, যাঁরা নিয়ম মেনে আয়কর ও জিএসটি দিচ্ছেন, তাঁদের উপর আবার অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেই কারণেই এই চাঁদা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।বৈঠকে দিঘা-শংকরপুরসহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকার পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত কয়েক বছরে দিঘার প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। রাজ্যের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও রাস্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পর্যটক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একাধিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে যে ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা থাকা প্রয়োজন, তা বর্তমানে পর্যাপ্ত নয়। হাসপাতালের জন্য আইসিইউ বেড, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুল্যান্স চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঁথির শৌলা থেকে পেটুয়াঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, শুধুমাত্র সাধারণ সমুদ্রসৈকত নয়, ভবিষ্যতে দিঘাকে চেন্নাই বা মুম্বইয়ের আদলে আধুনিক মেরিন ড্রাইভ কেন্দ্রিক পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোতে চায়।অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সামনে এসেছে বড় পরিকল্পনা। তাজপুরের কাছে দাদনপাত্রবাড় এলাকায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ১৭০০ একর জমি ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে রয়েছে এবং ওই অঞ্চলে সমুদ্রের গভীরতাও বন্দর নির্মাণের জন্য উপযুক্ত। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, গোটা রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে বলে মত প্রশাসনের।এছাড়াও বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও উপকূলীয় পরিবেশ উন্নয়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কার্যকর হয়নি। তবে অতীতের সমালোচনায় না গিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।সামনেই রথযাত্রা। দিঘায় লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার জন্য মুখ্যসচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।সব মিলিয়ে, পর্যটক চাঁদা প্রত্যাহার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পর্যটন ও শিল্পোন্নয়নের একাধিক ঘোষণা দিঘাকে নতুন রূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর পর্যটন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

জুন ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal