• ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tmc

রাজ্য

তিন বছর পর বড় পদক্ষেপ! তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করল তদন্তকারী সংস্থা, চাঞ্চল্য রিষড়ায়

রামনবমীর সময় রিষড়ায় হওয়া অশান্তির মামলায় বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ তিন বছর পর মঙ্গলবার রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী।মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় তদন্তকারী সংস্থার একটি দল রিষড়ায় সাকির আলির বাড়িতে পৌঁছয়। বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। পরে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।সাকির আলি রিষড়া পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। দুই হাজার তেইশ সালে রামনবমীর সময় রিষড়ায় যে অশান্তি ও হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। অভিযোগ ছিল, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। সেই সময় এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক দিন কারফিউও জারি করা হয়েছিল।তদন্তের শুরু থেকেই এই মামলাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, সাকির আলি শুধু তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিই নন, তিনি প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামীও। যদিও পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে অপরূপা পোদ্দারকে আর প্রার্থী করা হয়নি, সাকির আলি কাউন্সিলর পদে বহাল ছিলেন।সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই গ্রেপ্তারি নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পুরনো মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।এই গ্রেপ্তারের পর রামনবমীর অশান্তি মামলার তদন্তে নতুন মোড় এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই মামলায় আরও কেউ তদন্তের আওতায় আসেন কি না, সেদিকেই এখন নজর।

জুন ৩০, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূলের কোটি কোটি টাকার তহবিল নিয়ে নতুন মোড়! হাই কোর্টে যা ঘটল, বাড়ল জল্পনা

তৃণমূলের তহবিল নিয়ে চলা আইনি লড়াইয়ে ফের বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। দলের তহবিল সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও মঙ্গলবার সেই আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে এই মামলার শুনানি এগিয়ে আনা সম্ভব নয়। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই মামলার শুনানি হবে।আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মামলায় সওয়াল করা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের কাছে আবেদন জানান, দ্রুত শুনানি সম্ভব না হলেও অন্তত বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির সুযোগ দেওয়া হোক।কালীঘাট শিবির থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন গোষ্ঠী গঠনের পর থেকেই তৃণমূলের প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সেই বিরোধের জেরে দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্কে আবেদন করেন, যাতে দলের কোনও পক্ষই তহবিল ব্যবহার করতে না পারে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট চারশো চল্লিশ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে।তহবিল নিয়ে বিরোধ আদালতে পৌঁছানোর পর মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। এদিকে ঋতব্রতপন্থী শিবির দলের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণ তথ্য জানতে বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনাও করেছে।সোমবার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলে বিচারপতি নির্দেশ দেন, মামলায় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং রাজ্য সরকারকে পক্ষ হিসেবে যুক্ত করতে হবে এবং তাঁদের কাছে নোটিস পাঠাতে হবে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর মঙ্গলবার ফের দ্রুত শুনানির আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি।বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে মামলার নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে না। তবে রাজ্য সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি নিয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ৩০, ২০২৬
কলকাতা

ওবিসি বিল ঘিরে তুমুল নাটক! দরজা খুলেও কেন বেরোলেন না কয়েকজন বিধায়ক?

ওবিসি সংক্রান্ত সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ার সময় তৈরি হল নাটকীয় পরিস্থিতি। ভোটাভুটির আগে বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ বিধায়ক ওয়াকআউট করলেও কয়েকজন বিধায়ক সভাকক্ষেই থেকে যান। সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা।সোমবার বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির সময় দেখা যায়, বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ সদস্য সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেই সময় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় বিধানসভার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কয়েকজন বিধায়ক বাইরে যেতে পারেননি বলে জানা যায়। পরে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খুলে দেওয়া হয়।তবে দরজা খুলে যাওয়ার পরেও কয়েকজন বিধায়ক সভাকক্ষেই থেকে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোসারফ হোসেন, বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস, পান্নালাল হালদার এবং মুরারইয়ের মোসারফ হোসেন। তাঁদের সভাকক্ষে থেকে যাওয়াকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত কুণাল ঘোষকে ওই বিধায়কদের উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। পরে বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ এবং বায়রন বিশ্বাসকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। অন্যদিকে দলের প্রবীণ নেতারাও সেই সময় বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দরজা বন্ধ থাকার কারণেই কি কয়েকজন বিধায়ক বাইরে যেতে পারেননি, নাকি দরজা খোলার পরেও সভাকক্ষে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁদের নিজস্ব? যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।শেষ পর্যন্ত ওবিসি সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট পড়ে একশো ছিয়াশি। বিপক্ষে ভোট দেন সতেরো জন সদস্য। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছয় জন বিধায়ক। বিলটি ধ্বনিভোট এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় পাশ হয়ে যায়।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

অনুমতি মেলেনি, তবু শুরু মাপজোক! একুশে জুলাই ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সংঘাত

একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সভার সরকারি অনুমতি এখনও মেলেনি। তার আগেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে পৌঁছে মাপজোক শুরু করলেন কুণাল ঘোষ এবং তাঁর অনুগামীরা। ছুটির সকালের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কুণাল ঘোষের সঙ্গে দলের আরও কয়েকজন নেতা এবং সাজসজ্জার কাজে যুক্ত কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ফিতে দিয়ে সভাস্থলের বিভিন্ন অংশ মাপতে শুরু করেন। সাধারণত প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়ার পরই এই ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এবার অনুমতির আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, একই জায়গায় একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি করার জন্য দলের অন্য শিবিরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারাও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে একই স্থানকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, একুশে জুলাই শহিদদের স্মরণে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচি হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তাঁরা নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন এবং অনুমতি পাবেন বলেই আশাবাদী।অন্যদিকে দলের অন্য নেতারাও জানিয়েছেন, অনুমতি যেখানে মিলবে, সেখানেই একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি পালন করা হবে। এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একই কর্মসূচি ঘিরে একাধিক দাবিদারের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কাকে অনুমতি দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

কল্যাণকে সরাসরি আক্রমণ রচনার! মহুয়াকেও ছাড়লেন না, বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড় রাজনীতি

দলবদলের পর থেকেই রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়েছেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি সরাসরি নিশানা করলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রকে। এক সাক্ষাৎকারে তাঁদের আচরণ এবং ভাষা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধির ভাষা এবং আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে উদাহরণ হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি মহুয়া মৈত্রকেও কটাক্ষ করেন এবং অতীতের কিছু বিতর্কের উল্লেখ করেন।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে রচনা বলেন, একজন প্রবীণ সাংসদের কাছ থেকে এমন ভাষা আশা করা যায় না। তাঁর দাবি, সংসদের ভিতরে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। সেই আচরণে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।রচনা আরও বলেন, একসময় যাঁরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তীব্র আক্রমণ করতেন, এখন তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, যারা অতীতে একে অপরের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ করেছিলেন, তাঁদের বর্তমান অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করছে।উল্লেখ্য, এক সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্রর মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং আইনি পদক্ষেপের ঘটনাও সামনে এসেছিল। বর্তমানে তাঁদের সম্পর্কের পরিবর্তিত সমীকরণ নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৬
রাজ্য

২০২১ ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেফতার আউশগ্রাম-২ তৃণমূল সভাপতি ও ছেলে, আদালতে মিলল শর্তসাপেক্ষ জামিন

পাঁচ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় নতুন মোড়। বিজেপি কর্মীর বাড়ি, দোকানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শেখ আব্দুল লালন এবং তাঁর পুত্র শেখ আফজল রহমান ওরফে সঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত তাঁদের শর্তসাপেক্ষ জামিন মঞ্জুর করায় আইনি মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর রাতে কলকাতার গড়ফা থানা এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করে আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা এলাকা ছেড়ে কলকাতায় আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁদের বাড়ি আউশগ্রাম থানার গেঁড়াই গ্রামে।এই মামলার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১৯ মে, যখন আউশগ্রাম থানার ভুঁয়েড়া গ্রামের এক বিজেপি কর্মী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের ৩ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ শেখ আব্দুল লালনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি লাঠি, রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়। পরিবারের মহিলারা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।শুধু বাড়িই নয়, অভিযোগকারীর বাড়ির পাশেই থাকা কাপড়ের দোকানেও হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় সাত লক্ষ টাকার মালপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর প্রাণভয়ে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে থাকতে বাধ্য হন অভিযোগকারী। তাঁর আরও দাবি, পরবর্তী সময়েও অভিযুক্তরা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ বজায় রেখেছিল এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই গত ২৫ মে একই মামলায় ভুঁয়েড়া গ্রামের বাসিন্দা গৌতম আঁকুড়ে নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শেখ আব্দুল লালনের বিরুদ্ধে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আউশগ্রাম থানায় মোট পাঁচটি পৃথক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর ছেলে পূর্ব বর্ধমান জেলা ও দায়রা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক অভিযোগের গুরুত্ব, ভোট-পরবর্তী হিংসা, বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুট এবং এলাকায় সন্ত্রাসের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে সেই আবেদন খারিজ করে দেন।শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমানের মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারকের (সিজেএম) আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। অন্যদিকে, ধৃতদের আইনজীবী দাবি করেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং পূর্বে কোনও নোটিসও দেওয়া হয়নি। সেই যুক্তিতে জামিনের আবেদন করা হয়।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পুলিশি হেফাজতের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে সপ্তাহে একদিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা এবং মামলার প্রমাণ নষ্ট না করার শর্তে শেখ আব্দুল লালন ও তাঁর পুত্রকে জামিন মঞ্জুর করা হয়।এদিকে, একই দিনে আউশগ্রামের আরও একটি মামলায় শেখ আব্দুল লালনকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন তদন্তকারী অফিসার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলার সম্পূর্ণ নথিপত্র আদালতে উপস্থিত না থাকায় ভারপ্রাপ্ত সিজেএম আবেদনটি গ্রহণ না করে নিয়মিত আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ফলে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো সম্ভব হয়নি এবং জামিনে মুক্তি পান তিনি।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে বহু ক্ষেত্রে সিজেএম আদালত পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। তাছাড়া জেলা আদালত ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশি হেফাজতের আবেদন নাকচ করে জামিন মঞ্জুর হওয়ায় বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।যদিও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং অভিযুক্তদের নির্ধারিত সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

‘৫ জন থাকলেও ধর্মতলায় যাব’! মমতার বার্তার পরই বড় পদক্ষেপ, পুলিশের কাছে পৌঁছল আবেদন

একুশে জুলাই শহিদ স্মরণ কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, পাঁচ জন মানুষ থাকলেও তিনি ধর্মতলায় যাবেন। সেই বার্তার পরই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই তৃণমূলের শহিদ স্মরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারও একই জায়গায় অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কালীঘাট তৃণমূল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সেই আবেদন মঞ্জুর করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরে বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দল এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি তৃণমূলের কাছে শুধু একটি রাজনৈতিক সভা নয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করারও বড় সুযোগ। সেই কারণেই এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সম্প্রতি কর্মীদের উদ্দেশে ফোনবার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতি বছর যেমন ধর্মতলায় শহিদ স্মরণ কর্মসূচি হয়েছে, এবারও পুলিশের অনুমতি মিললে সেখানেই অনুষ্ঠান হবে। তিনি আরও বলেন, পাঁচ জন কর্মী থাকলেও তিনি ওই সভায় উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি তিনি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে ফিরে আসার বার্তাও দেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের শুভবুদ্ধি আছে, তাঁরা যেন দলে ফিরে আসেন। অর্থ বা অন্য কোনও লোভে দলকে দুর্বল করা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মতলার সভার মাধ্যমে সংগঠনের কর্মীদের একজোট করার চেষ্টা করছে কালীঘাট তৃণমূল। একই সঙ্গে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের প্রতিও শেষবারের মতো বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন উদ্যমে একুশে জুলাই পালন করতে চলেছে প্রদেশ কংগ্রেসও। প্রায় আটাশ বছর পর তারা এই কর্মসূচির আয়োজন করছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি শুধু শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নয়, সংবিধান রক্ষা, ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনেরও প্রতীক হবে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীকে আনার চেষ্টাও চলছে। কংগ্রেসের দাবি, একুশে জুলাইয়ের মূল উদ্দেশ্য সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়েছে এবং সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে আনতেই তারা এবার এই কর্মসূচির আয়োজন করছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

যাঁর নামে কাঁপত বারাবনি, আজ কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাল পুলিশ! সামনে যা হল, তাতে চাঞ্চল্য

একসময় বারাবনির প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন অসিত সিং। সেই অসিত সিংকে শনিবার খালি পায়ে, হাফপ্যান্ট পরা এবং কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পুলিশের পাহারায় দেখে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গৌরান্ডি এলাকায়। ধৃত নেতাকে সামনে পেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় মানুষ। শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে কঠোর শাস্তির দাবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভায় হামলার মামলার তদন্তে ধৃত অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সময়ই বহু মানুষ সেখানে জড়ো হন। ধৃতদের দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেকে চোর চোর স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ, ধৃতদের লক্ষ্য করে চটি ছোড়া হয়। উত্তেজিত কয়েক জন পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ধৃতদের মারার চেষ্টাও করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই তদন্তের কাজ শেষ করে।এই মামলার সূত্রপাত দুই হাজার একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়। অভিযোগ, গৌরান্ডিতে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী সভা ভণ্ডুল করতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং মোটরবাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সেই মামলার তদন্তেই এদিন ধৃতদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে অসিত সিং এবং তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। এর আগে অসিত সিংয়ের আর এক ভাই পিন্টু সিংও গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে এই মামলায় অভিযুক্ত মূল চক্রের প্রায় সকলেই এখন পুলিশের হেফাজতে।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বারাবনি এলাকায় অসিত সিং এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দাদাগিরি, অত্যাচার ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। অতীতেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে এসেছে। এক সময় তাঁর প্রভাব এতটাই ছিল যে, বারাবনি থানার মধ্যেই জন্মদিন পালন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়।এবার একসময়ের সেই প্রভাবশালী নেতাকে পুলিশের হেফাজতে দেখে অনেকেই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

জুন ২৭, ২০২৬
রাজ্য

দীর্ঘদিন পলাতক, অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা! আদালতে নিয়ে যেতেই যা করল জনতা, তোলপাড় ক্যানিং

ভোটের পর থেকেই পলাতক ছিলেন ক্যানিংয়ের এক তৃণমূল নেতা। দীর্ঘদিন খোঁজ চালানোর পর অবশেষে তাঁকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় যে ঘটনা ঘটল, তা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ধৃত ইটখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ইন্দ্রজিৎ সর্দারকে থানার বাইরে আনা মাত্রই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছিল। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকটি ডিম তাঁর মাথাতেও লাগে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি, কাটমানি আদায় এবং মারধরের মতো নানা অভিযোগ ছিল ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগও ওঠে। এছাড়া একুশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়দের একাংশ।স্থানীয়দের দাবি, একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে বহু মানুষ জড়ো হন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও। ধৃতকে থানার বাইরে আনার সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস, অস্ত্র মামলার তদন্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জুন ২৬, ২০২৬
রাজ্য

সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার সোনা! নতুন বিতর্কে তৃণমূল

তোলাবাজি মামলার তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। পুলিশি তল্লাশিতে এক তৃণমূল নেত্রীর বাড়ি থেকে প্রায় তিন কেজি সোনা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য চার কোটির টাকারও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে নদিয়ার তেহট্ট এবং করিমপুরে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।পুলিশের দাবি, তৃণমূল নেত্রী টিনা সাহা ভৌমিকের বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গয়নাগুলির মধ্যে রয়েছে হার, চুড়ি, লকেট, চূড়, শাঁখা বাঁধানো অলঙ্কার এবং অন্যান্য মূল্যবান গয়না। পাশাপাশি বেশ কিছু জমির নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন কিছু তথ্য সামনে আসে, যার ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। এরপর তল্লাশিতে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সোনা। ইতিমধ্যেই টিনা সাহা ভৌমিককে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে।টিনা সাহা ভৌমিক নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদেও দায়িত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর সঙ্গে সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ছিল।তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিনা সাহা ভৌমিক। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া গয়নাগুলি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলেও দাবি করেছেন তিনি। আইনগত লড়াইয়ের পথেই এগোবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে সব্যসাচী দত্তের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার নথি উদ্ধার হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেন। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়। আর তারপরেই এই নতুন উদ্ধার ঘিরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

জুন ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ঋতব্রতদের আগেই বড় চাল মমতার! নির্বাচন কমিশনে চিঠি ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি

তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হল। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের দাবি করেছে, অন্যদিকে তার আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের কর্মসমিতির তালিকা পাঠিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সূত্রের খবর, ঋতব্রত শিবিরও নিজেদের নতুন কমিটির নথি কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই পদক্ষেপ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন শিবির। কমিশনের কাছে পাঠানো তালিকায় চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কারের ঘোষণা করেছিল। সেই আবহেই কমিশনে পাঠানো তালিকায় অভিষেকের নাম থাকা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, কমিশনে পাঠানো তালিকায় মোট চব্বিশ জন নেতার নাম রয়েছে। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন দোলা সেন এবং ডেরেক ওব্রায়েন। সহ সভাপতি পদে রাখা হয়েছে সুব্রত বক্সীকে। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। তালিকায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে। তাঁর পরিচয়ের পাশে বিধানসভার দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়াও দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম ওই তালিকায় রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের কাছে আগে নথি জমা দিয়ে সাংগঠনিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চেয়েছে মমতা শিবির।এদিকে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু আইনি লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের কর্মী, সমর্থক এবং ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায়, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্লেষকদের বক্তব্য, রাজনৈতিক দলের নাম বা প্রতীকের প্রশ্ন আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের আস্থা এবং সমর্থন কোন নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকবে, সেটি রাজনৈতিক বাস্তবতার উপর নির্ভর করবে।তাই আপাতত তৃণমূলের ভিতরে এই ক্ষমতার লড়াই আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন, আদালত এবং জনমতের লড়াই তিন দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।

জুন ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মমতার সবচেয়ে ভরসার নেতাই কি দিলেন বড় ধাক্কা? দলীয় তহবিল ঘিরে অরূপের চিঠিতে তোলপাড়

এক সময় তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেতাদের অন্যতম। কিন্তু এখন সেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাঙ্কের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তৃণমূলের অন্দরে নতুন জল্পনার জন্ম দিলেন তিনি।সূত্রের খবর, বারো জুন একটি চিঠি পাঠিয়ে অরূপ বিশ্বাস নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দলের সংসদীয় ও পরিষদীয় শিবিরে বিভাজন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে অ্যাকাউন্ট স্থগিত রাখার আবেদন জানান তিনি।তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন গ্রহণ করেনি বলেই জানা যাচ্ছে। কারণ তার আগেই দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব অরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে সরিয়ে শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ জুন সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ব্যাঙ্ককেও তা জানানো হয়েছিল।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই অরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে অস্বস্তি বাড়ছিল। কালীঘাটে একাধিক বৈঠকে তাঁর সঙ্গে মতবিরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে খবর। এমনকি তাঁকে ডাকা হলেও সব সময় তিনি উপস্থিত থাকতেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।এরই মধ্যে মেসি-কাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। আর্থিক লেনদেন সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নও ওঠে। দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সূত্রের দাবি।রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা ছড়িয়েছে। অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি অরূপ।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, যখন তাঁর কাছ থেকে কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তখন কেন বারো জুন তিনি ব্যাঙ্কে এই চিঠি পাঠালেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর পিছনে অন্য কোনও কৌশল থাকতে পারে। আবার অন্য অংশের দাবি, তিনি হয়তো দলীয় তহবিলের নিরাপত্তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।এদিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহাল রেখেছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই প্রেক্ষাপটে দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সন্দীপন সাহার বক্তব্য, অরূপ বিশ্বাস কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন মনে করেছিলেন যে অ্যাকাউন্টে কোনও অনিয়ম হতে পারে। সেই কারণেই তিনি ব্যাঙ্ককে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন।তবে এই ঘটনার পর তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের আস্থাভাজন নেতা অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ শুধুই প্রশাসনিক উদ্বেগ, নাকি এর পিছনে রয়েছে বড় রাজনৈতিক বার্তা সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

জুন ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মুকুন্দপুরে তল্লাশি ঘিরে শোরগোল, অফিস থেকে কী কী মিলল তা নিয়ে জোর জল্পনা

কলকাতা পৌরনিগমের একশো নয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুকুন্দপুরের অফিস ঘিরে সোমবার চাঞ্চল্য ছড়ায়। তল্লাশির সময় অফিস থেকে একাধিক ডায়েরি, নথি এবং বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অফিসে থাকা কয়েকটি ডায়েরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের পাশে টাকার অঙ্ক লেখা ছিল। তাঁদের দাবি, সেখানে কিছু প্রোমোটার, চাকরিপ্রার্থী এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের নামও উল্লেখ ছিল। তবে ওই নথির সত্যতা বা সেখানে থাকা তথ্যের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।তল্লাশির সময় উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প এবং চাকরির নামে অর্থ লেনদেনের হিসাব ওই ডায়েরিগুলিতে নথিভুক্ত ছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও যাচাই এখনও হয়নি।অফিসের উপরের তলা থেকেও বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের দাবি উঠেছে। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সেখানে প্রসাধনী সামগ্রী, পোশাক এবং আরও কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস পাওয়া গিয়েছে। এসব সামগ্রী কী কারণে সেখানে রাখা ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেন, এই ঘটনা দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করছে। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি সামনে আসা প্রয়োজন।অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি একটি সরকারি অফিস এবং সেখানে অফিস সংক্রান্ত নথি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীই রয়েছে। বর্ষাকালের ত্রাণসামগ্রী এবং উৎসব উপলক্ষে রাখা কিছু পোশাকও সেখানে থাকতে পারে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তল্লাশি চালানোর বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও সামগ্রীর প্রকৃত সত্যতা কী, তা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলেই।

জুন ১৫, ২০২৬
রাজ্য

যে দলে ভিড়ছেন ২০ সাংসদ, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতাই এক মাস আগে ছেড়েছেন দল! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নাম। তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ এই দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর ছড়াতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক জল্পনা (NCPI)। বিশেষ করে সদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায়ের মতো অভিজ্ঞ সাংসদদের নাম সামনে আসার পর কৌতূহল আরও বেড়েছে।তবে সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়। যে দলটিকে ঘিরে এত আলোচনা, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতাই নাকি এক মাস আগে দল ছেড়ে দিয়েছেন (NCPI)। জানা গিয়েছে, হাওড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় আইনজীবী শিউলি কুণ্ডু আরও দুজন সহযোগীকে নিয়ে ২০২২ সালে এই রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন (NCPI)। হাওড়ার সাঁকরাইলে দলের সূচনা হয়েছিল। পরের বছর ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেয় দলটি। একই বছরে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনেও অংশ নেয় তারা।দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভানেত্রী ছিলেন শিউলি কুণ্ডু। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সৈকত দাস। পরে দলের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। শিউলির স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুও দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।তবে শিউলি কুণ্ডুর ( (NCPI)) দাবি, প্রায় এক মাস আগে তিনি ব্যক্তিগত কারণে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি আইন পেশার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজে বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলাদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে কাজ করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।২০ জন সাংসদ এই দলে যোগ দিতে পারেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিউলি কুণ্ডু বলেন, দলটি বড় পরিসরে আলোচনায় আসছে শুনে তাঁর ভালো লাগছে। তবে কোনও সাংসদ এর আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।এদিকে সোমবার সকালে হাওড়ার সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ঘিরেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই কয়েক দফায় সেখানে বাহিনীর যাতায়াত দেখা যায়। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, কুণ্ডু দম্পতি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।২০ জন সাংসদের সম্ভাব্য যোগদান এবং দলটির প্রতিষ্ঠাতার পদত্যাগ এই দুই ঘটনাকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৫, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে বড় শক্তিপ্রদর্শন! ওম বিড়লার বাড়িতে ১৭ সাংসদ, তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে জল্পনা

দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি রবিবার আরও নাটকীয় হয়ে উঠল। বিকেলে তৃণমূলের দুই সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। পরে সামনে আসে একটি ছবি, যেখানে তৃণমূলের ১৭ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে একসঙ্গে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও।সূত্রের খবর, সোমবার লোকসভার স্পিকারের কাছে নতুন ব্লক গঠনের দাবি জানাতে পারেন বিক্ষুব্ধ সাংসদরা। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ তাঁদের পাশে রয়েছেন। সেই দাবিকে সামনে রেখেই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।রবিবার সকাল থেকেই একের পর এক সাংসদ দিল্লিতে পৌঁছতে শুরু করেন। তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চান। সেই কারণেই তিনি তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানান।অন্যদিকে, বিদ্রোহী শিবির স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছনোর আগেই সেখানে যান তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। যদিও স্পিকারের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। তাঁরা স্পিকারের দফতরে তৃণমূলের লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি জমা দেন। সেই চিঠিতে দাবি করা হয়, লোকসভায় একটি রাজনৈতিক দলের দুটি পৃথক ব্লক থাকতে পারে না।এর কিছুক্ষণ পরই বিক্ষুব্ধ সাংসদরা স্পিকারের বাসভবনে পৌঁছন। যে ছবি সামনে এসেছে, সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, মালা রায়, অরূপ চক্রবর্তী, দীপক অধিকারী, ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার এবং মিতালি বাগ-সহ মোট ১৭ জন সাংসদকে দেখা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এখন সকলের নজর সোমবারের দিকে। স্পিকারের কাছে বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কী দাবি জানান এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব কী হয়, তা নিয়েই তুঙ্গে আলোচনা।

জুন ১৪, ২০২৬
কলকাতা

রাতারাতি বড় রদবদল! সুদীপ সরতেই উত্তর কলকাতার দায়িত্বে কুণাল ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসে বড় সাংগঠনিক রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের তরফে প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুণাল ঘোষকে। এতদিন এই পদে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও সরানো হয়েছে সায়নী ঘোষকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়।দলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক আলোচনা এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখপাত্র এবং অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত কুণাল ঘোষ। সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে সরব ছিলেন।অন্যদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নানা রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক দায়িত্ব এখন কুণাল ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যুব সংগঠনের নেতৃত্বেও নতুন মুখ আনা হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনের লড়াইকে সামনে রেখে দল নতুন করে সংগঠন সাজানোর চেষ্টা করছে। সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই রদবদলের ফলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কী প্রভাব পড়ে এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কীভাবে কাজ করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

জুন ১৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলে কি আরও এক বড় ভাঙন? দিল্লিতে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠকে সুদীপ, তুঙ্গে জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও উসকে দিল দিল্লির একটি বৈঠক। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করায় নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। শনিবার দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যান বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়। দুজনকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্যতম অভিজ্ঞ সাংসদ হিসেবে পরিচিত। লোকসভায় বহু বছর তিনি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে সেই দায়িত্ব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও তখন প্রকাশ্যে কোনও অসন্তোষ দেখাননি সুদীপ।তবে বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ এবং সাংসদদের অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠককে ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি ভবিষ্যতে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হয়, তবে সেখানে সুদীপ গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠতে পারেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন সাংসদ নন, তিনি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন, তখন প্রথম সারির যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সুদীপ অন্যতম। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। একসময় তিনি দল ছেড়েও বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই ফিরে আসেন।সম্প্রতি তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সুদীপের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি। ফলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।তবে এই বৈঠক শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু দিল্লির এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে এবং রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা যে নতুন মাত্রা পেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতে কালীঘাটে ‘পুলিশি অভিযান’! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি, ছুটে গেলেন মমতা

কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোররাতের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী, সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সব মিলিয়ে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ৩টা নাগাদ একাধিক পুলিশ গাড়ি কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয়। শালবনি থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক এবং মহিলা পুলিশকর্মীরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হলেও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশ আধিকারিকেরা।এরপর শুরু হয় বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত তল্লাশি অভিযান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই তৎপরতা। বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পরিণত হয়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালে দ্রুত কালীঘাটে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং পুলিশি তল্লাশির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।সকাল ৮টার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। সমস্ত কিছু রেকর্ড করা রয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক তদন্তমূলক মামলায় অভিষেককে ঘিরে চাপ বাড়ছে। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ভবানী ভবনে টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তিনি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।এদিকে শুক্রবারও তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছেছিল সিআইডি। একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গোয়েন্দাদের। পরে অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি সই জাল-কাণ্ডে ১৪ জুন ফের সিআইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আবার ১৫ জুন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছে ইডি। ফলে একের পর এক তদন্তকারী সংস্থার নোটিস ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে শনিবার ভোরের এই পুলিশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।তদন্তের প্রকৃত কারণ ও অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও, কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

জুন ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পুলিশের ঘেরাটোপে হাফপ্যান্ট পরে ফলতার রাস্তায় জাহাঙ্গির, বাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ

ফলতার রাজনীতিতে একসময় যাঁর দাপট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সেই জাহাঙ্গির খান এখন পুলিশের কড়া নজরদারির মধ্যে। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে ফলতার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল পুলিশ। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে ফলতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও অতীতে অন্যান্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে যেমন কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছিল, এ ক্ষেত্রে সেই ছবি দেখা যায়নি। তবুও পুলিশের সদস্যরা তাঁকে হাত ধরে নিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে জনতার কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো।তদন্তকারীরা প্রথমে জাহাঙ্গিরকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নথি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাঁকে স্থানীয় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়েও নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার সূত্র খুঁজে বের করতেই এই পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তাঁর উপস্থিতিতে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারি নিজেই ছিল নাটকীয়। গত ৮ জুন নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর এসটিএফ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে এবং পরে কলকাতায় নিয়ে আসে।ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের সময় থেকেই জাহাঙ্গিরকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে তিনি হঠাৎ নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেছিলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ভোটের ব্যালট বা ইভিএমে তাঁর নাম ও দলীয় প্রতীক বহাল ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ৭,৭৮৩টি ভোটও পান।নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি অভিযান, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এবং ঝুকেগা নেহি মন্তব্যসব মিলিয়ে জাহাঙ্গিরকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বেড়েছিল। তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারের পর সেই বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।এদিকে অভিযুক্তদের এলাকায় ঘোরানো নিয়ে রাজ্য জুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবও এই ঘটনায় পড়েছে। এর আগে একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতারের পর কোমরে দড়ি বেঁধে জনসমক্ষে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইন অনুযায়ী পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর সামাজিক সম্মানহানি করার অধিকার তাদের নেই।সেই প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গির খানকে নিয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাপুনর্নির্মাণ নাকি জনসমক্ষে বার্তা দেওয়ার চেষ্টাতা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জুন ১১, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ির পাশের তৃণমূল কার্যালয়ে সিআইডি হানা, এবার সরাসরি হাই কোর্টে মামলা!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিআইডি তল্লাশি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। অভিযোগ, কোনও নিরপেক্ষ সাক্ষী ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং বেআইনিভাবে দলীয় নথি স্ক্যান করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে।অন্যদিকে সই জাল কাণ্ডে নিজের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের আশঙ্কায় ফের হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আবেদন নিয়ে আগামীকাল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে সই জাল কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। কার্যালয়টি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত। ঘটনাস্থলে একটি মহিলা দল-সহ সিআইডির আধিকারিকরা পৌঁছন। পাশাপাশি কালীঘাট ও ভবানীপুর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।সিআইডির দাবি, সই জাল কাণ্ডের তদন্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তারা ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়েছিল। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় তল্লাশি পরোয়ানাও ছিল বলে জানানো হয়।সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে ছিলেন। ফলে কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা দলের কোষাধ্যক্ষ এবং রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিষ চক্রবর্তীর সঙ্গেই সিআইডি আধিকারিকদের কথা হয়। তিনি প্রথমে তল্লাশির অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সময় বাগ্বিতণ্ডা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত সিআইডি আধিকারিকরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান।এই তল্লাশিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে তল্লাশি করা হয়নি। তাঁদের দাবি, কোনও সাক্ষীর উপস্থিতি ছিল না এবং সেই সুযোগে দলীয় নথি স্ক্যান করা হয়েছে। যদিও সিআইডির পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল যে তাদের কাছে বৈধ তল্লাশি পরোয়ানা ছিল।তল্লাশি শেষে সিআইডি আরও জানিয়েছিল, কার্যালয় থেকে কোনও নথি বা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তা সত্ত্বেও গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের দিকে। আদালত এই অভিযোগগুলিকে কীভাবে দেখছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানিতে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

জুন ১০, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 58
  • 59
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

বিলেতে ফের ‘দাদাগিরি’! ব্যাট হাতে মাঠে সৌরভ, সঙ্গী ব্রায়ান লারা—বাকিংহাম প্যালেসে বিশেষ চ্যারিটি ম্যাচ

কলকাতা: ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ফের ব্যাট হাতে ক্রিকেটের বাইশ গজে দেখা যেতে চলেছে মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। দীর্ঘদিন পর প্রতিযোগিতামূলক নয়, একটি বিশেষ চ্যারিটি ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিতে চলেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। আর সেই ম্যাচের মঞ্চও যে কোনও সাধারণ ক্রিকেট মাঠ নয়লন্ডনের ঐতিহাসিক বাকিংহাম প্যালেস।জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর আগেই ইংল্যান্ডের মাটিতে ফের ব্যাট হাতে দেখা যেতে পারে সৌরভকে। এই বিশেষ ম্যাচে তাঁর সঙ্গে মাঠে নামার কথা রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারারও। ফলে দুই ক্রিকেট কিংবদন্তিকে একই ম্যাচে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনায় ইতিমধ্যেই ক্রিকেটমহলে তৈরি হয়েছে যথেষ্ট আগ্রহ।প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিনের আমন্ত্রণেই এই বিশেষ চ্যারিটি ম্যাচে অংশ নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন সৌরভ। তাঁদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্রিকেটের মাধ্যমে একটি সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক বার্তা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।সূত্রের খবর, ম্যাচে খেলার জন্য সৌরভের সম্মতি পাওয়ার পরই প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলসের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি লি থম্পসন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সৌরভের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত মুখ এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানের গুরুত্বও আরও বেড়েছে।তবে ম্যাচটি ঠিক কবে অনুষ্ঠিত হবে, সৌরভ ও লারা ছাড়াও আর কোন কোন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারকে মাঠে দেখা যাবে, কিংবা ম্যাচের ফরম্যাটই বা কী হবেএই মুহূর্তে তার কোনওটাই চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি। আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে ইংল্যান্ডের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। ক্রিকেটজীবনে ইংল্যান্ডের মাটিতেই তাঁর একাধিক স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি হয়েছে। এবার সেই বিলেতেই ফের ব্যাট হাতে তাঁকে দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নস্টালজিয়ায় ভাসছেন তাঁর অনুরাগীরা।আর প্রতিপক্ষ বা সতীর্থদের তালিকায় যদি ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তির নাম থাকে, তাহলে সেই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যে আরও কয়েক গুণ বাড়বে, তা বলাই যায়। এখন শুধু অপেক্ষা আগামী সপ্তাহের ঘোষণারকবে, কীভাবে এবং কার কার সঙ্গে ফের ক্রিকেটের মঞ্চে দেখা যাবে দাদাকে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
বিদেশ

একদিকে বিদ্যুৎ সংকট, অন্যদিকে আকাশপথের জট! রূপপুরের ইউরেনিয়াম নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমান বাংলাদেশের পথে রওনা দিয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার পরে ফের শুরু হয়েছে এই জ্বালানি সরবরাহ। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবারই বিশেষ বিমানটি ঢাকায় পৌঁছনোর কথা। এরপর কড়া নিরাপত্তায় ইউরেনিয়াম পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হবে।এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসার কথা ছিল একটি বিশেষ কার্গো বিমানের। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় সেই যাত্রা পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশের এক মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়ে বিমানটি আসতে পারেনি। পরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিমান চলাচলের অনুমতি এবং রুট সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার সঙ্গে যুক্ত।জটিলতা কাটার পরে রাশিয়া বিকল্প পথ ব্যবহার করে জ্বালানি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। রুশ পরমাণু সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। একাধিক বিশেষ কার্গো বিমানে ধাপে ধাপে এই জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছবে।বাংলাদেশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট নয়টি চালানে রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছনোর কথা। এর মধ্যে সাতটি চালান দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য এবং দুটি চালান প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার হবে। রসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। দুই ইউনিট মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার চারশো মেগাওয়াট। রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরি এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ধাপে ধাপে পৌঁছনোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে বাংলাদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা উচিত। শেষ পর্যন্ত জট কাটিয়ে রাশিয়া থেকে রূপপুরের জন্য জ্বালানি পাঠানো শুরু হওয়ায় প্রকল্পের পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথও পরিষ্কার হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

গান্ধী জয়ন্তীতেই বিরাটিতে তাণ্ডব! বামেদের মঞ্চ ভাঙচুর, ইটবৃষ্টি, আক্রান্ত দীপ্সিতা—কাঠগড়ায় বিজেপি

গান্ধী জয়ন্তীর দিন বামেদের সভাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বণিক মোড়ে সিপিএমের সভা চলাকালীন মঞ্চ ও চেয়ার ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় ব্যানার ও ফ্লেক্স। এমনকি গান্ধীর ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েক জন বাম কর্মী আহত হন বলে জানা গিয়েছে। এক কর্মীর চোখেও গুরুতর আঘাত লাগে বলে অভিযোগ।সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে। তাঁদের দাবি, সভা চলাকালীন আচমকা কয়েক জন সেখানে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। মঞ্চ, চেয়ার ও অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীপ্সিতা ধরকে লক্ষ্য করে ইট ও চেয়ার ছোড়ার অভিযোগও তুলেছে সিপিএম।শুক্রবার বিরাটির বণিক মোড়ে গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বামেদের সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই অশান্তি শুরু হয়। সভাস্থলে ভাঙচুরের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।সিপিএমের আরও অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ভাঙচুর চললেও সময়মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে বাম কর্মীরা প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতিও তৈরি হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এই ঘটনার পর সরব হন সিপিএম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে সভায় গণ্ডগোল করা হয়েছে এবং বাম কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মহিলা কর্মীরাও আক্রান্ত হয়েছেন। এক কর্মীর চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দীপ্সিতা বলেন, মঞ্চ ভেঙে দিলেও ওই জায়গাতেই ফের সভা হবে।তবে সিপিএমের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত নন। তাঁর দাবি, সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। ফলে বিরাটির এই ঘটনায় হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।গান্ধী জয়ন্তীর দিনে বিরাটির বণিক মোড়ে বামেদের সভা ঘিরে এই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন তদন্তের দিকেই নজর। মঞ্চ ভাঙচুর, কর্মীদের আহত হওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশের ভূমিকাসব মিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

"২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভাঙেনি! রিপোর্ট রয়েছে!" নন্দীগ্রাম থেকে বিস্ফোরক দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় পায়ে চোট নিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল, ভাঙা পায়ে খেলা হবে স্লোগান। সেই ঘটনার প্রায় পাঁচ বছর পর নন্দীগ্রাম থেকেই মমতার সেই চোট নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালের ওই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি। তাঁর কথায়, সামান্য চোট লেগেছিল। পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে তিনি প্রচার করেছিলেন বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। শুধু তাই নয়, তাঁর কাছে এই দাবির সমর্থনে নথি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনে সেই নথি প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও দিয়েছেন তিনি।শুক্রবার নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। বিরুলিয়া বাজারের সভা থেকেই ২০২১ সালের সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, গাড়ির দরজা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে মমতার পায়ে লাগে। তাঁর মতে, সেখান থেকেই চোট পেয়েছিলেন মমতা। তবে পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছিল বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তা ঠিক নয় বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু।শুভেন্দু আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, হাসপাতালের নথিতে মমতার পায়ে ফ্র্যাকচার না থাকার কথা লেখা রয়েছে। সেই নথি তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। প্রয়োজন হলে চ্যালেঞ্জের মুখে সেই কাগজ দেখিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।তবে এই বিষয়টি নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্যকে তাঁর রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০২১ সালের ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোট নিয়ে সে সময় নানা দাবি ও পাল্টা দাবি সামনে এসেছিল। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়া রিপোর্টেও ওই ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ার কথা উঠে এসেছিল।এ দিনের সভায় নিজের বিধায়ক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন শুভেন্দু। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই আসনেই আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১,৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন।শুক্রবারের সভায় শুভেন্দু বলেন, ভবানীপুরের আসন তিনি ছাড়েননি, কারণ সেখানে মমতা ফের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেতেন বলে তাঁর দাবি। নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভবিষ্যতেও থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।এর পরেই দুর্নীতি প্রসঙ্গেও ফের আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন শুভেন্দু। সুমিত রায়-সহ কয়েক জনের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বড় চোরও জেলে যাবে। তবে এই মন্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম করেননি তিনি। ফলে বড় চোর বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের আগে একই সভা থেকে ২০২১ সালের পায়ের চোট এবং দুর্নীতিদুই পুরনো প্রসঙ্গ সামনে এনে শুভেন্দুর মন্তব্য ঘিরে তাই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
দেশ

দিল্লিতে আটক অতিশী-সৌরভরা, মুম্বইয়ে শাবানা আজমি! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কী হচ্ছে দেশজুড়ে?

দিল্লি ও মুম্বইদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহরে একই দিনে জোরালো বিক্ষোভ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি-সহ একাধিক সংগঠন। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে পাঁচশোর বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য দিকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা জেল ভরো আন্দোলনেও জড়ো হন বহু মানুষ।দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এই কর্মসূচিতে আম আদমি পার্টির নেত্রী অতিশী, সৌরভ ভরদ্বাজ এবং সঞ্জয় সিং-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা অংশ নেন। তাঁদেরও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।বিক্ষোভের আগে নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। অনুমতি ছাড়া জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ। যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।অন্য দিকে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে জেল ভরো আন্দোলন হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং তালিকায় পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।অভিজিৎ দীপকের দাবি, আন্দোলন থামবে না যতক্ষণ না তাঁদের দাবি মানা হচ্ছে। তিনি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীসকেও আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার করার চ্যালেঞ্জ জানান। পুলিশ অবশ্য শিবাজি পার্কে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে।এই আন্দোলনে যোগ দেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। পরে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং গায়ক বিশাল দাদলানিকেও মুম্বইয়ের কর্মসূচিতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের আন্দোলন আরও নজর কেড়েছে।দিল্লি ও মুম্বইয়ের এই দুই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক দিকে দিল্লিতে পুলিশের ধরপাকড়, অন্য দিকে মুম্বইয়ে জেল ভরো আন্দোলনএকই দিনে দুই শহরের এই ছবি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

নাম নিলেন না শুভেন্দু, তবু ‘বড় চোর’ নিয়ে কেন এত জল্পনা? নন্দীগ্রাম থেকে বড় বার্তা

বড় চোরও জেলে যাবে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচারসভা থেকে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। সুমিত রায়ের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ তোলার পরই বড় চোর নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।প্রচারসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুমিত রায়-সহ সব চোর জেলে গিয়েছে। এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বড় চোর কবে যাবে? তাঁর দাবি, বড় চোরও জেলে যাবে। তবে এই মন্তব্যের সময় তিনি কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম নেননি। ফলে কাকে ইঙ্গিত করে তিনি এই কথা বলেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।নন্দীগ্রামের এই প্রচারসভায় শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, দলটির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দুই কেন্দ্রেই জয় পাওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে ফের উপনির্বাচন হচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর ভোট এবং ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা হওয়ার কথা।শুভেন্দুর বড় চোর মন্তব্যের পর বিরোধী শিবির থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ধরনের মন্তব্যকে নির্বাচনী বক্তব্য বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেউ অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত।অন্য দিকে কুণাল ঘোষও শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মদন মিত্র আবার পাল্টা মন্তব্য করে বলেছেন, শুভেন্দু কাকে উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছেন, তা সামনে আসতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর নাম না করে করা মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ছে।তবে বড় চোর বলতে শুভেন্দু অধিকারী ঠিক কাকে বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনি প্রকাশ্যে জানাননি। ফলে নন্দীগ্রামের প্রচারসভা থেকে তাঁর এই মন্তব্য আপাতত জল্পনার বিষয় হয়েই থাকছে। উপনির্বাচনের আগে এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
রাজ্য

বক্সায় আজ বাঘিনির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! কখন ছাড়া হবে, সামনে এল পুরো আয়োজন

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শুক্রবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়া হবে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা তিন বছরের বাঘিনীকে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ তাকে বিশেষ এনক্লোজার থেকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।বাঘিনীকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বক্সায়। জঙ্গলের নির্দিষ্ট এলাকায় তাকে ছাড়ার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। বক্সায় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার শহরের প্যারেড গ্রাউন্ডেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। সেখানে জায়ান্ট পর্দায় বাঘিনীকে জঙ্গলে ছাড়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।তবে মুক্তির আগে বাঘিনীকে নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। রেডিয়ো কলার নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে ফের ঘুমপাড়ানি ওষুধ দিয়ে অচেতন করা হয়। এরপর রেডিয়ো কলার ঠিক করে দেওয়া হয়। বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বাঘিনী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে।বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও জানিয়েছেন, শুক্রবার বাঘিনীকে কোনও রকম চাপ দেওয়া হবে না। এনক্লোজারের দরজা খুলে রাখা হবে। নিজের ইচ্ছেমতো সে জঙ্গলে বেরিয়ে যাবে। এই পদ্ধতিতে নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে বাঘিনী।বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বাঘিনীটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় বক্সায় আনা হয়েছে। বাঘের সংখ্যা বাড়ানো এবং বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী আবাস গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাঘিনীটির গতিবিধি ও শারীরিক অবস্থার উপর রেডিয়ো কলারের মাধ্যমে নজর রাখা হবে।বৃহস্পতিবারই বক্সায় পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গে বন্যপ্রাণ পর্যটনেরও প্রসার ঘটতে পারে। সুন্দরবনের পাশাপাশি বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পেও বাঘকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।শুক্রবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও-সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে মন্ত্রী ও প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হবে বড় অনুষ্ঠান। সেখান থেকেই জায়ান্ট পর্দায় দেখা যাবে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনীকে মুক্ত করার মুহূর্ত।বহু বছর পর বক্সার জঙ্গলে বাঘ ফেরানোর এই উদ্যোগকে ঘিরে তাই উত্তরবঙ্গে উৎসাহ তুঙ্গে। বিহার থেকে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বক্সায় পৌঁছনোর পর আজ সেই বাঘিনী প্রথম বার নিজের নতুন জঙ্গলে পা রাখবে। এখন নজর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকেই।

অক্টোবর ০২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

পারভিনের চার বছরের অপেক্ষার অবসান! চিনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা

তিরন্দাজির পর বক্সিং রিংয়েও ভারতের জয়জয়কার। এশিয়ান গেমসে একের পর এক সোনা আসছে ভারতীয় বক্সারদের হাত ধরে। শুক্রবার সকালে লভলিনা বরগোহাঁই সোনা জেতার পর এ বার সেই তালিকায় যোগ হল পারভিন হুডার নাম। চিনা প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মহিলাদের ৬৫ কেজি বিভাগে সোনা জিতলেন তিনি।পারভিনের এই জয় আরও বিশেষ। একই এশিয়ান গেমসে প্রথম বার ভারতের দুই মহিলা বক্সার সোনা জিতলেন। লভলিনার পর পারভিনও সোনার পদক জেতায় ভারতীয় বক্সিংয়ে তৈরি হল নতুন নজির।তবে পারভিনের এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। কয়েক বছর আগে এশিয়ান গেমসেই পদক জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু ডোপ পরীক্ষার ফলের কারণে সেই পদক কেড়ে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর তাঁর কেরিয়ারে বড় ধাক্কা আসে। প্যারিস অলিম্পিকেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে তৈরি করেছেন পারভিন। প্রচারের আড়ালে থেকে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়েও সব কিছু তাঁর পক্ষে যায়নি। কমনওয়েলথ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে পদক থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল তাঁকে।তবে সেই সব হতাশা পিছনে ফেলে শুক্রবার বক্সিং রিংয়ে নামেন পারভিন। শুরু থেকেই চিনা প্রতিপক্ষ চেন নিয়েন চিনের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে জিতে সোনা নিশ্চিত করেন ভারতীয় বক্সার।পারভিনের এই সোনা তাই শুধু একটি পদক নয়, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কঠিন প্রত্যাবর্তনেরও ফল। যে প্রতিযোগিতায় এক সময় পদক জিতেও তা হারাতে হয়েছিল তাঁকে, সেই মঞ্চেই আবার সোনার পদক গলায় তুলে নিজের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখলেন পারভিন।এশিয়ান গেমসের ত্রয়োদশ দিনে ভারতীয় দলও একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে। লভলিনা এবং পারভিনের সোনার পর বক্সিংয়ে ভারতের দাপট আরও স্পষ্ট হল।

অক্টোবর ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal