• ৬ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Malda

রাজ্য

মালদায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে বৈঠক অভিষেকের, বিশেষ নির্দেশ নেতা-কর্মীদের

গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদা ও মুর্শিদাবাদের জনগণ দুহাত তুলে আশীর্বাদ করেছিলেন। স্বাভাবিক কারণেই খুব ভালো ফল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও আমরা আশাবাদী বিরোধীদের পরাস্ত করে মালদায় ভালো ফল করবে তৃণমূল। শুক্রবার বিকালে দলের ১২১ জন কর্মকর্তাদের নিয়ে গোপন বৈঠক করার পরে জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি বেসরকারি হোটেলে তৃণমূলের মালদা দুটি লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন কমিটির ৪২ জন সদস্য, দলীয় বিধায়ক, অঞ্চল কমিটির সভাপতি থেকে শুরু করে মোট ১২১ জন কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই গোপন বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এদিন দুপুর দুটো থেকে প্রায় বিকেল চারটা পর্যন্ত দুঘণ্টা ধরে রুদ্রদ্বার এই বৈঠক চলে। এই বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনের রণকৌশল ঠিক করা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা মালদার দুই বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন ও তাজমুল হোসেন, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী, দলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক সমর মুখার্জী , মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ দাস।এদিন দলীয় বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদায় খুব ভালো ফল হয়েছে। মালদার দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে দুটি বিধানসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের মধ্যে পড়ে। সেটি হলো সামশেরগঞ্জ এবং ফারাক্কা। সেখানেও গত বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফল হয়েছিল তৃণমূলের। এদিনের এই পর্যালোচনা বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের নানান কথা শোনা হয়েছে। আগামীতে নির্বাচনী রণকৌশল তৈরি করতে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, সেনিয়ে এদিন এই বৈঠকের মাধ্যমে মতামত বিনিময় করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে মালদা এবং মুর্শিদাবাদে আমরা ভালো ফল করেছিলাম। জনগণ দুইহাত তুলে আশীর্বাদ করেছিল। এবারও আমরা আশাবাদী মালদা এবং মুর্শিদাবাদে ভালো ফল করবে তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে মালদার দুটি কেন্দ্রের মধ্যে উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছিল এবং দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। কিন্তু এবার সর্বত্র মুখ্যমন্ত্রী উন্নয়নের জোয়ার বইছে গোটা রাজ্য জুড়ে। ফলে এবারে আর বিরোধীদের কোন জায়গা থাকবে না।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনী রণকৌশল ঠিক করতে এদিন পর্যালোচনার মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দলের বুথ স্তরের কর্মীরা প্রচার চালাবেন। যারা গত লোকসভা নির্বাচনে বিমুখ হয়েছিল, তাদের কাছে বুথ স্তরের কর্মীরা যাবেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্পের উন্নয়নের প্রচার তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি কেন গত লোকসভা নির্বাচনে এই ধরনের ফলাফল হয়েছিল? সেটিও প্রান্তিক স্তরে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে হবে।

এপ্রিল ০৫, ২০২৪
রাজনীতি

অধীর চৌধুরীকে বিজেপির দালাল বলে মারাত্মক অভিযোগ মমতার মন্ত্রীর

কংগ্রেসের গড়ে গিয়ে রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে বিজেপির দালাল বলে তোপ দাগলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের কথা বললেও এরাজ্যে বিজেপিকে কংগ্রেস সাহায্য করছে বলে দাবি করলেন কলকাতার মেয়র। রবিবার মালদায় জেলার দুই তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে দলীয় কর্মীসভায় হাজির ছিলেন ফিরহাদ হাকিম (ববি)। তিনি বলেন, বরকতদার কংগ্রেস এখন আর নেই । উনি বলেছিলেন সিপিএমকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। সেই কাজ তৃণমূল করেছে। বরঞ্চ এখনকার কংগ্রেসের যিনি বাংলার হর্তাকর্তা সেই অধীর রঞ্জন চৌধুরী বিজেপির হয়ে সত্যিকারের দালালি করছেন। রবিবার দুপুরে মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, তাজমুল হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী, দলের সহ-সভাপতি বাবলা সরকার।এদিন নির্বাচনী কর্মী সভায় মালদার প্রতিটি ব্লকের বুথ স্তরীয় নেতাদের উপস্থিতিতে লোকসভার তৃণমূলের দুই প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আবেদন জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি নির্বাচনের কৌশল নিয়েও দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গেও মতামত বিনিময় করেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর সঙ্গে এদিন দক্ষিণ মালদার তৃণমূল প্রার্থী শাহনাওয়াজ আলি রায়হান এবং উত্তর মালদার লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন ব্যানার্জি উপস্থিত হয়েছিলেন। এদিন নির্বাচনী কর্মী সভা শেষ করার পর সাংবাদিক বৈঠক করে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, এখন বরকতদার কংগ্রেস আর কোথায়? ওরা সিপিএমের হাত ধরেছে । বরকতদা যে কথা বলে গিয়েছিলেন, সেই সিপিএমকে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলেছে তৃণমূল। বরঞ্চ বিজেপির নেতারা যে প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলছে, তাঁকে সমর্থন জানাচ্ছে সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। আসলে উনি বিজেপির সত্যি কারের দালালি করছেন।রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, বিগত দিনে মালদার লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচনের অংকটা ছিল অন্যরকম। কিন্তু এবারে যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে মালদার দুটি লোকসভা কেন্দ্রে দুই প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রক্রিয়ার জন্য মালদার দুই আসনে জয় দেখছেন ববি হাকিম। পাশাপাশি মানুষ বিরোধী দলগুলির কার্যকলাপ সহ্য করতে পারছে না।

মার্চ ১৭, ২০২৪
রাজ্য

মালদার বামনগোলায় খাটিয়ায় বয়ে নিয়ে যাওয়া বধূ মৃত্যুর অভিযোগে দিনভর শোরগোল

মালদার বামগোলায় তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দার ঝড়। খাটিয়ায় রোগী নিয়ে যাওয়ার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে দিনভর তোলপাড় হল বাংলা। চলেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এসবের মধ্যেই ওই তরণীর মর্মান্তির পরিণতি নিয়ে বড় দাবি করে বসলেন রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর মতে, হতশ্রী রাস্তার জন্য নয়, ভাগ্যের কারণেই মালডাঙা গ্রামের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে!খাটে শুয়ে অসুস্থ গৃহবধূ। আর সেই খাট বাঁশ আর দড়ি দিয়ে পালকির মতো বেঁধে বেহাল রাস্তা দিয়ে হেঁটে নিয়ে যাচ্ছেন অসুস্থ গৃহবধুর পরিবারের লোকেরা। যদিও ওইভাবে হাসপাতালে যাওয়ার সময়ই মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন ভাইরাল ভিডিও মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তেই তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনাটি মালদার আদিবাসী অধ্যুষিত বামনগোলার গোবিন্দপুর মহেশপুর পঞ্চায়েতের মালডাঙা গ্রামের। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গ্রামের এই কাঁচামাটির রাস্তায় কোনও গাড়ি ঢুকতে চায় না। তাই ওই গৃহবধুর পরিবারের লোকেরা মাচা তৈরি করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূকে। কিন্তু শেষমেশ আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি।মালদার বামগোলায় তরুণী মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দার ঝড়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এসবের মধ্যেই ওই তরণীর মর্মান্তির পরিণতি নিয়ে বড় দাবি করলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রীর মতে, হতশ্রী রাস্তার জন্য নয়, ভাগ্যের কারণেই মালডাঙা গ্রামের তরুণীর মৃত্যু হয়েছে।মৃতের নাম মামনি রায় (২০)। দুই বছর আগে এলাকার বাসিন্দা কার্তিক রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মামনির। সম্প্রতি তিনি জ্বরে ভুগছিলেন বলে খবর। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করেন। বাড়িতে তাঁর ২ বছরের এক সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, বেহাল রাস্তার বলি হলেন বছর কুড়ির গৃহবধূ।দীর্ঘ দিন ধরেই বেহাল ওই রাস্তা। প্রশানের কাছে জানিয়েও কাজের কাজ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গা শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন বলেই দাবি জেলা তৃণমূল নেতাদের।কিন্তু, বামগোলার ঘটনা নিয়ে শোরগোল ফেলা মন্তব্য করে বিতর্ক বাড়িয়েছেন মমতা মন্ত্রিসভার সদস্য সিদ্দকুল্লা চৌধুরী। শনিবার বর্ধমান শহরে জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের যুদ্ধ বিরতি মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রাস্তার কারণে নয়, ভাগ্যে ছিল তাই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের অবস্থার ভিত্তিতে বাকি ৯৯ জনকে খারাপ বলব কি করে। হাতে কষ্ট হলে কি বলব মাথা খারাপ হয়েছে? আমাদের বললেই সারিয়ে দিতাম।বামনগোলা নিয়ে সিদ্দিকুল্লার বক্তব্য প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে। এ ধরণের অসংবেদনশীল মানুষই রাজ্যের মন্ত্রী। এবার এসএসকেএম সহ রাজ্যের সব হাসপাতালে তান্ত্রিক, ওঝা বসবে। আসলে বিরোধী জনপ্রতিনিধি হলেই সেই পঞ্চায়েত, পুরসভার ওয়ার্ড বা বিধানসভায় কাজ করার সুযোগ নেই। টাকা অনুমোদনই হয় না। ফলে রাস্তার ওই বেহাল অবস্থা।সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ওনার কথা মুখ্যমন্ত্রী লুফে নেবেন। যাঁরা চাকরির দাবিতে রাস্তায় বসে রয়েছেন মন্ত্রী তাঁদের কাছে গিয়ে বলুন যে ভাগ্যের জন্যই তারা ন্যায্য চাকরি থেকে বঞ্চিত, দুর্নীতির দায়ে জেলবন্দি পার্থ, বালুদের বলুন ভাগ্যের কারণেই তাঁদের এই পরিণতি। উনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলুন ভাগ্য ভাল তাই মমতা এখনও টিঁকে গেছেন। এরা মন্ত্রী বলতে লজ্জা করে।

নভেম্বর ১৮, ২০২৩
রাজ্য

বিএমওএইচকে সরাতে পথ অবরোধ, কেন এই দাবি?

মালদার বামনগেলা ব্লকের বিএমওএইচকে বদলির দাবিতে মালদা-নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। গত মঙ্গলবার বামনগোলা ব্লকের মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে এক রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। আর সেই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়াতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেই অসন্তোষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এদিন মুদিপুকুর হাসপাতালের সামনে মালদা - নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শতাধিক গ্রামবাসীরা। এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বামনগোলা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। এরপর বিওএমএইচের বদলিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্লকের ডেপুটেশন দেয় বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীরা।গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মুদিপুকুর গ্রামীন হাসপাতালটি এলাকার একমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা কেন্দ্র। বামনগোলা থেকে মালদা মেডিকেল কলেজের দুরুত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ফলে রাত-বেড়াতে অতি সহজেই রোগীদের মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম সমস্যায় পড়তে হয়। এর জন্য অসংখ্য গ্রামবাসীদের কাছে মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভরসা। কিন্তু এই হাসপাতালের ঠিকমতো চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে না। যার জন্যই এদিন বিএমওএইচ সুদীপ কুন্ডুর বদলি দাবি নিয়ে গ্রামবাসীরা সোচ্চার হন।পুলিশো স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মুদিপুকুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন এক রোগীর মৃত্যু হয় । মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতির জেরে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর তারপর থেকেই বিএমওএইচ-এর ওপর ক্ষোভ বাড়তে থাকে।যদিও এপ্রসঙ্গে বামনগোলা ব্লকের বিএমওএইচ ডা: সুদীপ কুণ্ডু কোনও মন্তব্য করেননি। পুলিশ জানিয়েছে কিছু মানুষ এলাকায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলার পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩
রাজ্য

মৃত্যুর চার মাস জানা গেল পরিচয়, খুনের অভিযোগে গ্রেফতার পরিবারের চার সদস্য

বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল চার মাস আগে। এখন সেই মৃতদেহ শনাক্ত করল পরিবারের লোকেরা। ওই বৃদ্ধকে খুনের অভিযোগ উঠলো পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে পুরাতন মালদা থানায় পুলিশ মৃতের স্ত্রী, এক পুত্রবধূ, ছোট ছেলে সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতেরা পুলিশি জেরায় ওই বৃদ্ধকে খুনের কথা স্বীকার করেছে, জানিয়েছে তদন্তকারীরা। বুধবার সকালে পুরাতন মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সিন্ধিয়া এলাকা থেকে মৃতের ছোট ছেলে, এক পুত্রবধূ, স্ত্রী সহ চারজনকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত বৃদ্ধের নাম আজাহার শেখ (৫০)। চলতি বছর ২২ এপ্রিল মুচিয়ার সিন্ধিয়া এলাকার একটি কালভার্টের নীচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের নাম ও পরিচয় জানতে পারছিল না পুলিশকর্তারা। মৃতদেহটি মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে রেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।এদিকে বুধবার সকালে মৃত বৃদ্ধের এক ছেলে অহিদুল শেখ লোক মারফত মোবাইলে তার বাবার মৃত্যু সংবাদটি জানতে পারে। এরপরই তিনি থানায় ছুটে যান। সেখানেই পুলিশকে গিয়ে তার বাবাকে খুন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ করেন । আর এই খুনের ঘটনায় মৃতের দুই ছেলে, পুত্রবধূ এবং স্ত্রী যুক্ত রয়েছে বলেও বড় ছেলে অহিদুল শেখের অভিযোগ।পুলিশকে অভিযোগে মৃতের বড় ছেলে ওহিদুল শেখ জানিয়েছেন, তিনি ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তার ভাই এবং অন্যান্যরা তার বাবার ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল। সম্পত্তির বিবাদের জেরে এই খুন বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। তবে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ওই বৃদ্ধের পরিবারের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৩
রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে মালদায় বাংলা পক্ষর সাংগঠনিক সভা

মালদার বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে মালদা শহরে জেলার সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হল। মালদার মূল সমস্যা পরিযায়ী শ্রমিক। নানা রাজ্যে গিয়ে সমস্যায় পড়ে মালদা সহ নানা জেলার বাঙালিরা৷ কিন্তু অন্য রাজ্যে কাজে কেন যেত হবে? বাংলায় কি কাজ নেই? বাংলা পক্ষ ৫ বছরের লড়াইয়ে বুঝেছে, বাংলায় কাজ আছে, বাঙালির কাজ নেই। এমনকি মালদায় কাজ না থাকলে বিহার-ইউপির লোকজন এত বাড়ছে কেন? মালদা-মুর্শিদাবাদে বিভিন্ন যে শিল্প তালুক তৈরি হচ্ছে সেখানে অধিকাংশই চাকরি ও কাজ করছে বিহার-ইউপির লোকজন। অথচ বাঙালি অন্য রাজ্যে কাজে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। নানা রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলাদেশী সন্দেহে আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু বাংলার শহর ও শিল্পাঞ্চল গুলোয় চাকরি-কাজ- ব্যবসা বহিরাগতদের হাতে। আমরা তাই সমস্ত বেসরকারি চাকরি-কাজে ও টেন্ডারে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই।বাংলা পক্ষের দাবি, এছাড়া মালদায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে, মূলত আম নির্ভর শিল্পে আরও জোর দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এবং তা জেলার ছেলেমেয়েদের দিতে হবে। মালদার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। লোকাল ট্রেন নেই। মালদা থেকে শিলিগুড়ি দুই দিনাজপুর হয়ে (বিহার নয়) লোকাল ট্রেন চালাতে হবে। ফারাক্কার টোল ট্যাক্স তুলে দিতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ফারাক্কা। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে দিল্লিকে টাকা ট্যাক্স হিসাবে দিতে হবে কেন? রেলের ডিভিশন অফিস মালদা থেকে সরিয়ে ভাগলপুরে নিয়ে যাওয়া যাবে না।আজকের সাংগঠনিক মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, মালদার নেতৃত্ব রফিক আহমেদ, শুভ্রজ্যোতি দত্ত, মালদার ভূমিপুত্র তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য ডঃ আব্দুল লতিফ প্রমুখ।আগামীতে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধান ও ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চালুর দাবিতে জেলা জুড়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে বাংলা পক্ষ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

কুমিরের পর এবার গঙ্গায় ধরা পড়ল ঘড়িয়াল, মালদার গ্রামে হইচই

এর আগে গঙ্গায় কুমির দেখা গিয়েছিল। কুমির ধরাও পড়েছিল। এবার এল ঘড়িয়াল। বুধবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে মাঝিদের জালে ধরা পড়লো একটি ঘড়িয়ালের বাচ্চা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উৎসবটোলা এলাকায়। এরপর মাঝিরা ওই ঘড়িয়ালের বাচ্চাকে গঙ্গা নদী থেকে নিজেদের উৎসবটোলা গ্রামে নিয়ে আসে। ঘড়িয়াল দেখতে ভীড় করে স্থানীয় মানুষজন। তারপর খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। পরে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।উৎসবটোলা এলাকার মাঝি তুফান চৌধুরী জানান, এদিন ভোরে তিনি মথুরাপুরের গঙ্গা নদীতে নৌকায় করে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। সেই সময় তার জালেই একটি বাচ্চা ঘড়িয়াল আটকে পড়ে। তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। কোনওরকমে জালে পেঁচানো ওই ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় গ্রামে।বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের ঘড়িয়াল বর্ষার মরশুমে মাঝেমধ্যেই মালদার ফুলাহার এবং গঙ্গা নদীতে দেখা যায়। মূলত ঘড়িয়ালরা প্রজনন ঘটাতে এবং খাবারের খোঁজে এইসময় নদীতে চলে আসে। ফোর ঘড়িয়ালটিকে নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বন দফতর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
রাজ্য

দুই ভাইকে গাছে বেঁধে ছোট ভাইকে গুলিতে ঝাঁঝরা, চাঁচলের ঘটনায় উত্তাল

দুই ভাইকে পোলের সঙ্গে বেঁধে রেখে, আরেক ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠলো জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ পৌঁছলে তাঁদের ঘিরে চরম বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। মৃতদেহ গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখেই পুলিশের সামনে চলে তুমুল বিক্ষোভ। মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ এই শুট আউটের ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল থানার জালালপুর গ্রামে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির ছোট ছেলেকে মাথায় গুলি করার পর দেহের বিভিন্ন অংশেও গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হন। মৃত ওই যুবকের পরিবার হামলাকারী গফুর আলী, আহাদ শেখ, খাইরুল শেখ, শাহজাহান আলী সহ তার দলবলের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সহিদুল আলী (৩০)। তিনি পেশায় মুয়াজ্জেম ছিলেন। সহিদুলরা ছিল ছয় ভাই। সে বাড়ির ছোট। পরিবারে তাঁর স্ত্রী এবং এক নাবালক সন্তান রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জমির দখলদারিকে ঘিরে গোলমালের জেরেই এই শুট আউটের ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর দুষ্কৃতীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। মৃতের এক দাদা সামিউল শেখ জানিয়েছেন, তাদের একটি চার বিঘার জমি দখলদারিকে ঘিরেই গফুর আলি ও তার দলবলের সঙ্গেই গোলমাল চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এই নিয়ে আদালতে মামলাও পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু এদিন অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁদের জমি দখল করতে আসে। সেই সময় তাঁরা বাধা দিলে তাঁদের দুই ভাইকে জমির সামনে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। তারপরেই ছোট ভাই সাইদুল আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সময় কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা একবারের জন্য বাধা দিতে আসেননি। চোখের সামনে ভাইকে গুলি করে দেওয়ার পর দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আর তারপরে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।স্থানীয় গ্রামবাসীদের বক্তব্য , সহিদুল আলী অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। ওই পরিবারটি কারও সঙ্গে কোন রকম ঝামেলার মধ্যে ছিল না। ওদের একটি জমির দখলদারি নিয়েই মামলা চলছিল। এরপরই এদিন দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যেই ওই পরিবারটির কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে এবং সাইদুলকে গুলি করে খুন করেছে। এই ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় এলে তাদেরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। চাচল থানার পুলিশ জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত ঘটনাকে ঘিরেই গোলমালে সূত্রপাত। তারপরই এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে গোটা এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।

আগস্ট ৩০, ২০২৩
দেশ

মিজোরামে মৃত শ্রমিকদের পরিবার পিছু একজনের চাকরি ও ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি অধীরের

মিজোরামের দুর্ঘটনায় মালদার শ্রমিকদের পরিবার পিছু একজনকে চাকরি। একইসঙ্গে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে ফোনে পাননি, কিন্তু রেলবোর্ডের চেয়ারম্যানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন লোকসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী। পাশাপাশি মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। অসহায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে যে করেই হোক সবাইকে একসঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে, বলেন বহরমপুরের সাংসদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদায় মৃত শ্রমিক পরিবারদের সঙ্গে দেখা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এদিন চাঁচল মহকুমার পুখুরিয়া থানার কোকলামারী চৌদুয়ারি গ্রামে যান সাংসদ অধীর চৌধুরী। এই গ্রাম থেকেই ১৬ জন শ্রমিক মিজোরামের কাজ করতে গিয়ে নির্মীয়মান রেল ব্রিজ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। মিজোরামের রেল ব্রিজ দুর্ঘটনায় মালদার মোট ২৩ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই রয়েছে চৌদুয়ারি গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়াও ইংরেজবাজার ব্লকের সাটটারি এবং নরহাট্টা গ্রামেরও শ্রমিকরাও রয়েছেন।এদিন চৌদুয়ারি গ্রামের মৃত শ্রমিক পরিবারদের সঙ্গে দেখা করার পর কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, মিজোরাম সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২ লক্ষ টাকা করে মোট চার লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু এই সামান্য টাকায় ওইসব মৃত শ্রমিকদের পরিবারের ভবিষ্যৎ তৈরি হবে না। আমি ওইসব পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দেখলাম, ওরা খুব অসহায়। ওদের পাশে কেউ নেই। রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁকে পাইনি। রেল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলেছি মৃত শ্রমিকদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে। কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। আশা করি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারের বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা করবেন।

আগস্ট ২৪, ২০২৩
রাজ্য

ফারাক্কা সেতুতে মালগাড়ি-ট্রাকের সংঘর্ষ, বড় বিপদ থেকে রক্ষা

মালদার ফারাক্কা সেতুতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা মারল পণ্য বোঝাই ট্রাক। সেই সময় ডাউন লাইন দিয়ে যাচ্ছিল একটি মালগাড়ি। সেই লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে মালগাড়ির। মুহূর্তের মধ্যে এই দুর্ঘটনায় ফারাক্কা ব্যারেজে রেলপথ এবং সড়কপথে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরে এই ব্যারেজে কর্মরত কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জাওয়ানেরাও তড়িঘড়ি সেখানে ছুটে আসে। এরপর ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।জানা গিয়েছে, মালদার দিক থেকে মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাচ্ছিল একটি পন্য বোঝাযই ট্রাক। চালকের ভুলেই সেই লরিটি আচমকায় ফারাক্কা ব্যারেজের রেললাইন এবং রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। লরির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। জখম হয় ওই লরির চালক। সেই মুহূর্তেই ডাউন লাইন দিয়ে একটি মালগাড়ি যাচ্ছিল। সেই মালগাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনাগ্রস্ত পণ্য বোঝায় লরির হালকা সংঘর্ষ বাঁধে । যদিও তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যদি ওই মাল গাড়ির বদলে যাত্রীবাহী কোন এক্সপ্রেস ট্রেন থাকতো, তাহলে ভয়ানক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই ঘটনায় ফারাক্কা ব্রিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এদিকে মঙ্গলবার এই ঘটনার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি রিপোর্ট রাজ্য প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, সম্ভবত ওই লরির চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়েছিল। যার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।তদন্তের পর দুই জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা জানতে পেরেছে, এতটাই গতি ছিল যে রেলিং ভেঙে মালগাড়িতে ধাক্কা মারে ট্রাকটি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ট্রাক্টারকে ধাক্কা মারে ওই লরিটি। পরে ফারাক্কা ব্যারেজের রেলিং ভেঙে ডাউন মালগাড়িতে ধাক্কা মারে। এমার্জেন্সি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ে মালগাড়িটি। মালগাড়ি চালকের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর আতঙ্কে পড়ে যান অন্যান্য গাড়ির চালকেরাও। এর দরুন দীর্ঘক্ষণ ফারাক্কা ব্যারেজের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আগস্ট ২২, ২০২৩
রাজ্য

১৮ অগাষ্ট বাংলার এই জেলায় পালিত হল স্বাধীনতা দিবস, কেন ১৫ অগাস্ট নয়?

একই দেশ। কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের দিন ভিন্ন। গত মঙ্গলবার ১৫ অগাস্ট দেশ জুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছে। কিন্তু মালদায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় ১৫ নয়, ১৮ অগাস্ট। এই দিনে স্বাধীনতা পেয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে সামনে রেখেই শুক্রবার মালদায় পালিত হলো স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়েছিল। ইংরেজরা দেশ ছেড়েছিল। ঠিক সেই সময় মালদা জেলা পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমানে বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন সর্বত্র ছিল আলোর রোশনাই তখন মালদা ডুবেছিল গাঢ় অন্ধকারে। সেই সময়কার স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই তিনদিন পর স্বাধীনতা পায় আমের জন্য খ্যাত মালদা জেলা। মালদার কালেক্টরের ভবনে পূর্ব পাকিস্তানের ঝান্ডা নামিয়ে উড়ানো হয় ভারতীয় তিরঙ্গা। আর সেই পুরনো স্মৃতিকে বজায় রেখেই আজও মালদায় ১৮ আগস্টে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে স্বাধীনতা দিবস।শুক্রবার মালদা শহরের গ্রন্থাগারের বই বাগানে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাসের উদ্যোগে এবং মালদার বিশিষ্ট শিল্পীরা হাজির ছিলেন এই অনুষ্ঠানে। অন্যদিকে ইংরেজবাজার পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুপাড়া এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে ১৮ আগস্ট উপলক্ষে মালদার স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রবীণ মানুষদের উপস্থিতিতে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সদস্য প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যখন ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। তখন গোটা দেশ এই স্বাধীনতার উৎসবে মেতে উঠেছিল। সেই সময় মালদা ছিল পরাধীন। পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) অধীনে চলে গিয়েছিল মালদা জেলার দশটি থানা। এই নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। মালদার কালেক্টারে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উড়েছিল। কিন্তু সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্যারিস্টারদের হস্তক্ষেপেই শুরু হয় সীমানা নির্ধারণের লড়াই। এরপর ১৮ আগস্ট মালদা জেলা ভারতের অংশ বলেই ঘোষণা করা হয়। আর সেই ১৮ আগস্ট থেকেই শুরু হয় মালদার স্বাধীনতা দিবস। পূর্ব স্মৃতি ও অতীত বিজড়িত অনেক কাহিনী মালদার এই স্বাধীনতাকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে। দুটি জায়গাতেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। কচিকাঁচা থেকে বড়রা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।

আগস্ট ১৮, ২০২৩
রাজ্য

আপাতত মুক্তি মিলল মালদার দুই নির্যাতিতার, সংবর্ধনা সমাজসেবী সংস্থার

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর মালদার দুই নির্যাতিতা মহিলাকে সংবর্ধনা জানানো হল। মঙ্গলবার মালদা শহরের রথবাড়ি এলাকায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁদের সম্বর্ধনা জানানো হয়। নতুন শাড়ি, ফুলের মালা এবং কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে মালদার দুই নির্যাতিতা মহিলাকে সংবর্ধনা জানানো হয় এদিন। উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী মধুময় সরকার। উল্লেখ্য, মালদার পাকুয়াহাট এলাকায় চোর সন্দেহে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করার ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। এই ঘটনার পর পাল্টা দোষীদের গ্রেপ্তার না করে ওই দুই নির্যাতিতা মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশ দুই মহিলাকে মারধরের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পরে। এদিকে পাকুয়া পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ দিয়ে জেলে পাঠানো হয় দুই মহিলাকে বলে জানা যায়। ঘটনার প্রতিবাদে ঝড় উঠে গোটা জেলা জুড়ে। অবশেষে সোমবার মালদা জেলা আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করে। মঙ্গলবার মালদা জেলা সংশোধনাগার থেকে ছাড়া পান তাঁরা। জানা গিয়েছে, এরপর মালদা শহরের রথবাড়ি এলাকায় নির্যাতিতা এই দুই মহিলাকে সংবর্ধনা জানানো হয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে।

জুলাই ২৫, ২০২৩
রাজ্য

নির্যাতিতা দুই মহিলার জামিন মঞ্জুর, অভিযোগ মানবাধিকার কমিশনেও

মালদার নারী নির্যাতনের ঘটনায় তোলপাড়। শেষমেশ নির্যাতিতা দুই মহিলার জামিন মঞ্জুর করলো মালদা আদালত। সোমবার মালদা আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন নির্যাতিতা দুই মহিলার পক্ষের আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র। তিনি বলেন, যে দুই মহিলাকে চুরির অভিযোগে বিবস্ত্র করে মারধোর করা হয়েছিল, সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। কিন্তু পুলিশ এই দুই নির্যাতিতার মহিলাকেই চুরির অভিযোগে এনে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যাদেরকে মারধর করা হলো তাঁরা কোনভাবেই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তা প্রমাণ হয়নি। এমনকি অভিযোগপত্রে পুলিশের খাতায় ওই দুই মহিলার নাম ছিল না। অথচ তাদেরকে অন্যায় ভাবে জেল খাটতে হলো। এর খেসারত কে দিবে? এমন প্রশ্ন তুলেও বিচারকের সামনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সোচ্চার হন আইনজীবী অমিতাভ মৈত্র।সোমবার অমিতাভ মৈত্র বলেন, ওই দুই মহিলা যাদেরকে মারধর করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে চুরিসহ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার কোনো প্রমাণই দিতে পারেনি পুলিশ। ফলে মহামান্য আদালত বিষয়টি এর বিচারক বিবেচনা করেই ওই দুই মহিলার জামিন মঞ্জুর করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্তার বিরুদ্ধে মালদা আদালতে মামলা রুজু পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মঙ্গলবার টাকা চুরির সন্দেহ করে দুই মহিলাকে বিবস্ত্র অবস্থায় মারধর করা হয়। এরপর গত শুক্রবার বিজেপির পক্ষ থেকে ওই দুই মহিলার প্রতি নির্যাতনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হয়।। আর তারপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায় প্রাথমিক ভাবে তদন্ত শুরু করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ তিন মহিলা সহ দুইজনকে গ্রেফতার করে। এবং এখনো পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

জুলাই ২৪, ২০২৩
রাজ্য

দুই আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন! বর্ণনা শোনালেন নির্যাতিতার মেয়ে

শনিবার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড় বাংলা। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মালদায় দুই আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করা হচ্ছে। ঘটনায় সরব হয়েছে বিজেপি। তুলনা টানছেন মনিপুরের ঘটনার সঙ্গে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মনিপুরের ঘটনা আড়াল করতে চাইছে বিজেপি।মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল বাংলা। জানা গিয়েছে, উল্টে বর্তমানে দুই নির্যাতিতাই গারদে! পুলিশ তাঁদেরই গ্রেফতার করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় এই ধরণের নক্কারজনক ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বার করতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল বিজেপি। কেন দুই আদাবিসী মহিলাকে মারধর করা হল? কারা করলেন? শিউরে ওঠা ঘটনার বর্ণনা করেছেন নির্যাতিতা এক আদিবাসী মহিলার মেয়ে।ঘটনা গত মঙ্গলবারের। নির্যাতিতার মেয়ের কথায়, লেবু বিক্রি করতে গত মঙ্গলবার হাটে গিয়েছিলেন আমার মা ও এক কাকিমা। সেখানেই এক মিষ্টি বিক্রেতা তাদের চোর বলে সন্দেহ করে। সঙ্গে সঙ্গে চোর সন্দেহে মা ও কাকিমাকে মারধর করে হাটের লোকজন। কাপড় খুলে মেরেছে। মা ও কাকিমা বিভিন্ন হাটে লেবু বিক্রি করতে যায়।শুধু সন্দেহের কারণেই মারধর? নির্যাতিতার মেয়ে বলেন, কেবল সন্দেহ করেই ওরা মারধর করল। অন্যায় থাকলে মারত তাহলেও ঠিক ছিল, কিন্তু ওদের অন্যায়ভাবে মেরেছে। জুতো পেটা করেছে। দুই নির্যাতিতাই এখন জেলে রয়েছে বলে দাবি নির্যাতিতার মেয়ের।কীভাবে জানলেন হাটে এই অকথ্য অত্যাচার চলেছে? মেয়ে বলেন, থানা থেকে এক সিভিক পুলিশ এসে আমাদের মা, কাকিমার ছবি দেখাল। বলল ঘটনা। তারপর থানায় যেতে ওখানে সব বললো। ওরা জেলে রয়েছে। পুলিশ বললো পরের সোমবার ছাড়া হবে।মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বলেন, দোষ করলে শাস্তি হবে, যে করেছে তাদেরই শাস্তি দিক পুলিশ। নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। আশা করছি দোষীদের শাস্তি হবে দ্রত।মণিপুরের ঘটনা নিয়ে সরব তৃণমূল। পাল্টা মালদায় দুই আধিবাসী মহিলার উপর অত্যাচারের ঘটনায় সোচ্চার বিজেপি। এই ঘটনায় কেন নীরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ইন্ডিয়া জোটের কোনও শরিক কেন কিছু বলছে না তাও জানতে চেয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ।

জুলাই ২২, ২০২৩
রাজ্য

পঞ্চায়েত নির্বাচনের ১০ দিনের মাথায় গণনা কেন্দ্রে মিলল ব্যালট বাক্স, গাজোলে বিক্ষোভ বিজেপির

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের পুরো ১০ দিনের মাথায়ও ব্যালট বাক্সের গ্যাঁড়াকল কাটছে না। মঙ্গলবার মালদার গাজোলের একটি স্কুল তালাবন্দি শ্রেণিকক্ষে উদ্ধার হল তিনটি প্রশাসনের শীল করা ব্যালট বাক্স। এদিন সকালে এই ঘটনা জানাজানি হতেই তুমুল রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গাজোল ব্লক এলাকায়। বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশ ও প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে। এরপরই এদিন সকাল থেকেই গাজোলে উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ শুরু হয়। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে চলে বিজেপির কর্মসূচি। এই ঘটনায় সাংসদ খগেন মুর্মু গাজোল থানার আইসি এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।একইসঙ্গে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কারচুপি করে গাজোলের ওই ৮৩ নম্বর বুথে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের মালদা জেলা পরিষদের গাজোল এলাকার নির্বাচিত প্রার্থী দীনেশ টুডুর অভিযোগ, বিজেপি হতাশায় ভুগে উল্টোপাল্টা বকছে। বিজেপি ব্যালট বাক্স লুঠ করার পর ওই স্কুলের ক্লাসরুমে রেখে দিয়ে গেছে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে সরগরম গাজোল।জানা গিয়েছে, গাজোল ব্লকের হাজীনাকু মহম্মদিয়া হাইস্কুলে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের স্ট্রং রুম এবং গণনা কেন্দ্র করা হয়েছিল। এদিন ওই স্কুলের একটি ক্লাস রুম থেকেই শীল প্যাক ওই তিনটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার হয়েছে। যদিও ওই স্কুলের ৮৩ নম্বর বুথে ব্যালট বাক্স লুঠ হওয়ার অভিযোগে ৯ জুলাই পুনঃনির্বাচন হয়েছিল। আর এই ঘটনার পরের এদিন মঙ্গলবারে তিনটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গাজোল থানার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। গাজোল হাজিনাকু মহম্মদীয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ননীগোপাল বর্মন জানিয়েছেন, নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর ব্লক প্রশাসনের নির্বাচনী এজেন্সির লোকেরা গত কয়েকদিন ধরে স্কুলের তদারকি চালাচ্ছিল। তাদের কোনো খুঁটিনাটি জিনিস পড়ে আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। এরপরেই ব্লক প্রশাসনের অফিস থেকে আসা কর্মীরাই দেখতে পান একটি ক্লাস রুমের ঘরে তালা বন্দি রয়েছে। যদিও সেই ঘরের চাবি আমাদের কাছে ছিল না। সেই ব্লক প্রশাসনের কর্তারা ঘরের তালা ভাঙতেই এই তিনটি ব্যালাট বাক্স নজরে আসে। গাজোলের বিজেপি বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মন জানিয়েছেন, তৃণমূলীরা কিভাবে এবারের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে কারচুপি করেছে, সন্ত্রাস চালিয়েছে তা এদিনের ব্যালট বাক্স উদ্ধারের ঘটনায় প্রমাণ। এই ৮৩ নম্বর বুথে ভোটের দিন ব্যালট বাক্স পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে ৮ জুলাই পঞ্চায়েত নির্বাচন হওয়ার পরের দিন ৯ জুলাই আবার পুনর্নির্বাচন হয়। সেখানে বিজেপি পরাজিত হয়েছে। তৃণমূল এইভাবে কারচুপি করেই জয়ী হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনকে দায়ী করছি। গাজোল ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত ওই তিনটি ব্যালট বাক্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জুলাই ১৮, ২০২৩
রাজনীতি

ব্যালট বক্স বাইকে করে সোজা থানায় নিয়ে গেল তৃণমূল কর্মীরা

ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে মালদার চাঁচল মহকুমায় তৃণমূল এবং বিরোধীদল বিজেপি ও কংগ্রেস, সিপিএমের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বুথ থেকে নিরাপত্তার অভাব বোধ করে সরে গিয়েছেন অফিসার থেকে ভোট কর্মীরা। কিন্তু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের যে ব্যালট বাক্স তা লুঠ হতে দেননি চাঁচল থানার খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর ও দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও তৃণমূল কর্মীরা। শনিবার সংশ্লিষ্ট গ্রামের ১৯৬ বুথের ভোটদান পর্ব দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আর তারপরেই সেখানে শাসক-বিরোধী গোলমালের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ব্যালট বাক্স যাতে লুঠ না হয়, তারজন্য স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাই সেই ভোট সম্পন্ন হওয়া ব্যালট বাক্স বাইকে করে সটাং থানায় নিয়ে এনে জমা দিলেন কর্তব্যরত চাঁচল থানার পুলিশ অফিসারদের কাছে।স্থানীয় তৃণমূলের একাংশ কর্মীদের বক্তব্য, খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর দুর্গাপুর গ্রামের ১৯৬ নম্বর বুথের ভোটদান পর্ব দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তারপরে সেখানে গোলমাল শুরু করে কংগ্রেস, সিপিএমের জোট আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তাদের সঙ্গে এই গোলমালে সামিল হয় বিজেপির স্থানীয় কর্মীরা বলেও অভিযোগ। নিরাপত্তার অভাব বোধ করে ভোট কর্মীরা বুথ থেকে সরে পড়েন । সেই পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা গোলমাল থামানোর চেষ্টা করে। তখনই ফাঁকা হয়ে যায় ওই নির্বাচন কেন্দ্রটি। সেই সময় ব্যালট বাক্স লুঠের চেষ্টা চালিয়েছিল হামলাকারীরা। তখনই তিনটি ব্যালট বাক্স উদ্ধার করে চাঁচল থানায় নিয়ে এনে জমা দেওয়া হয়েছে।জেলা কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ইশাখান চৌধুরী। তিনি বলেন, এসব তৃণমূলের বানানো গল্প। ওরাই ওই বুথ থেকে ব্যালট লুঠ করে ছাপ্পা দেওয়ার পর পুলিশের কাছে জমা দিয়েছে।

জুলাই ০৮, ২০২৩
রাজ্য

গুনধর জামাইবাবাজির কান কাটল শাশুড়ি, থানায় অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য

সালটা ১৯৯৭,আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে লাস ভেগাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্সিং ম্যাচ চলাকালীন, বক্সিং রিংয়ের ত্রাস মাইক টাইসন তাঁর প্রবল প্রতিপক্ষ ইভান্ডার হলিফিল্ডের কান কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছিলেন। সেই আপরাধে টাইসনকে বাউটের অযোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং তাঁর বক্সিং লাইসেন্স কারে নেওয়া হয়। পরে অবস্য তিনি আবার রিংয়ে ফিরে আসেন।এবার টাইসন নন, স্বয়ং শাশুড়ি বাবাজীবন হলিফিল্ডের কান কামড়ে ছিঁড়ে নিলেন! মদ্যপান করে শ্বশুর বাড়িতে এসে চেঁচামেচি করাই কাল হল জামাই বাবাজির। অভিযোগ জামাইয়ের কান কেটে নিয়েছেন শাশুড়ি। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার ইংরেজবাজারের নিমাসরাইতে।শ্বশুরবাড়িতে জামাই এসেছেন মদ্যপান করে। সেখানে গিয়েই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়াও করতে শুরু করে জামাই। সেই পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে গুণধর জামাইকে বটি দিয়ে কান কাটার অভিযোগ ওঠে শাশুড়ির বিরুদ্ধে। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার থানার নিমাসরাই এলাকায়। আহতকে ভর্তি করানো হয় মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। আক্রান্ত জামাইয়ের বাম কানে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। জখম জামাইবাবাজি শাশুড়ি নিতলা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।পুলিশ জানা গিয়েছে, আক্রান্ত জামাইয়ের নাম সুনীল চৌধুরী (৩৬)। অভিযুক্ত শাশুড়ির নাম নিতলা চৌধুরী। আক্রান্ত জামাই সুনীল চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় নিতলা চৌধুরীর মেয়ে দুর্গা চৌধুরীর। দুর্গা চৌধুরী পরিবারের চার মেয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মদ্যপ অবস্থায় গুণধর জামাই তার স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করছিল বলে অভিযোগ। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পরিবারের মধ্যে গন্ডগোল বেঁধেই রয়েছে। এদিন সকালে সুনীল চৌধুরী মদ্যপ অবস্থায় এসে স্ত্রীকে গালিগালাজ করে। মেয়েকে গালিগালাজ করতে দেখেই জামাইয়ের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাশুড়ি। শুরু হয় লাঠি দিয়ে মারধোর। অভিযোগ এরপর বটি নিয়ে জামাইয়ের বাম কানে আঘাত করে শাশুড়ি। বাম কানের কিছুটা অংশ কেটে যায় জামাইয়ের। স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এবিষয়ে অভিযুক্ত শাশুড়ির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আহত জামাই। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মে ০৭, ২০২৩
রাজ্য

মালদায় গোষ্ঠীকলহ মেটাতে কড়া বার্তা অভিষেকের, বৈঠক জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে

দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে রীতিমতো ক্লাস নিয়ে কোন্দল মেটানোর পরামর্শ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে মালদা সফর শেষ করে মুর্শিদাবাদে যাওয়ার আগে ইংরেজবাজার ব্লকের সুস্থানি মোড় এলাকায় দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বেশ কয়েকজন নেতা মন্ত্রীকেও ধমক দিয়েছেন তিনি । দলে যাতে কোনোরকম গোষ্ঠী কোন্দল না থাকে এবং যারা সক্রিয় দলীয় নেতা, তারা যাতে হাত গুটিয়ে বসে না থাকে তাদেরকে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর ১২ টা থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকটি চলে প্রায় দুই ঘন্টা। বৈঠক শেষেই কনভয় নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে , এদিনের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের দুই রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও তাজমুল হোসেন। এছাড়াও ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসুম নূর, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী। ছিলেন অন্যান্য বিধায়ক চন্দনা সরকার, সাবিত্রী মিত্র, মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি রফিকুল হোসেন, ইংরেজবাজার এবং পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু, চৌধুরী কার্তিক ঘোষ সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক চলাকালীন এদিন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কে প্রার্থী হবে, সেটা ঠিক করবে রাজ্য নেতৃত্ব। আপনার কোনও অনুগামী যাকে, তাকে প্রার্থী করার কথা বলছে। এটা কিন্তু ঠিক নয়, বিষয়টা দেখুন। দলের জেলা সভাপতি রহিম বক্সীকে বলেন রতুয়া মালতিপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ফজলুল হকের মত বেশ কিছু নেতারা বসে রয়েছেন কেন। তাঁদেরকে দলে গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেন। তাঁদেরকে কাজে লাগান। বিষয়টি দেখুন। বিধায়ক নিহার ঘোষের উদ্দেশ্যে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চাচলে একটি ব্লকে দুইজন সভাপতি কেন। বিষয়টি বসে মিটিয়ে ফেলুন।এদিন মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সাংসদকে নাকি অভিযোগ করেছিলেন সুজাপুরের বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচক ১ ব্লক কমিটি ঠিকভাবে গঠন হয়নি। অনেক আজেবাজে মানুষকে নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দলীয় কমিটিতে কোনরকম দুর্নীতি পরায়ন লোককে রাখা যাবে না। জেলা সভাপতি ও মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনসহ অন্যান্য নেতৃত্বরা বসে এই সমস্যার সমাধান করবেন। হবিবপুরের ব্লক সভাপতি প্রদীপ বাস্কেকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, আপনাকে তো দেখা যায় না। কোথায় থাকেন আপনি। দলের জন্য ঠিকমতো কাজ করুন । মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ান। ইংরেজবাজার ব্লকের সভানেত্রী প্রতিভা সিংহকে সাংসদ অভিষেক বলেন, কৃষ্ণেন্দু সাথে আপনার এত বিবাদ কেন। পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতিভা সিংহ কৃষ্ণেন্দুকে এজন্য দায়ী করেছেন। এরকম ভাবেই যেদিন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা ও ব্লকের দায়িত্ব থাকা বেশ কিছু নেতা-নেত্রীদের কোন দল মেটানোর বিষয়ক রীতিমতো ধমক দিয়েছেন। সবমিলিয়ে দলের জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে এক প্রকার ক্লাস নিয়ে সমস্ত সমস্যা এবং কোন্দল মেটানোর পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে উপস্থিত মালদা জেলার সমস্ত নেতা-নেত্রীদের আগামী সাতদিনের মধ্যে যেসব এলাকায় বিক্ষোভ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে সেগুলি মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চাঁচোল, হরিশ্চন্দ্রপুর, ইংরেজবাজার সহ একাধিক ব্লকে দলীয় নেতৃত্বের কাজকর্ম নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বৈঠক শেষে এসব প্রসঙ্গ নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন , সকলকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন কোথাও কোনওরকম দলের সমস্যা থাকলে তার দ্রুত সমাধান করতে হবে। তবে গোষ্ঠী কোন্দল আমাদের নেই । কিছু বহিরাগত মানুষ লোকজনের সাথে মিশে নানান ধরনের ভুলভাল বার্তা দিয়েছে, সেটাও আমরা জানিয়েছি। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীশূন্য করাটাই আমাদের এখন লক্ষ্য । যা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলে গিয়েছেন । আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের তৃণমূলের ফল খুবই ভালো হবে সে ব্যাপারেও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে

মে ০৬, ২০২৩
রাজ্য

চোখের পলকেই বন্ধুকবাজ হাতের মুঠোয়, পুলিশকর্তাই নায়ক

কালিয়াগঞ্জে গতকাল, মঙ্গলবারই বিক্ষোভকারীদের কাছে প্রায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে বিক্ষোভকারীরা বেধরক মারধোর করছে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের। এর আগেও পুলিশকে ফাইলের তলায় লুকোতে দেখা গিয়েছে। এবার বঙ্গ পুলিশের মুখ উজ্জ্বল করলেন মালদার ডিএসপি (ডিএনটি) আজহারউদ্দিন খান। জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৭০ জন ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ রক্ষা করে এই পুলিশ আধিকারিকের নাম এখন মালদার ঘরে। কুর্নিশ জানাতে ভোলেনি সারা বাংলার সাধারণ মানুষও।পুরাতন মালদার মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাইস্কুলে এদিন মার্কিন কায়দায় এক বন্দুকবাজ হাজির হয়ে যান। তবে এটাই রক্ষে মুখে হুঙ্কার ছাড়লেও ট্রিগার টেপেননি ওই বন্দুকবাজ। ক্লাসে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ব্যক্তি এই খবর জানতে পেরেই প্রথম থেকেই ঘটনার তদারকি করতে থাকেন মালদার ডিএসপি (ডিএনটি) আজারুদ্দিন খান। তখন রীতিমতো পুলিশের অন্য কর্তাদের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। একেবারে সাধারণ আকাশি রং এর একটা গেঞ্জি আর জিন্সের প্যান্ট পড়েই এক লম্ফে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বন্দুকবাজের ওপর। বন্দুকবাজকে কোলপাঁজা করে ধরে ফেললেন পুলিশকর্ত। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের গণপিটুনির রোষ থেকেও ওই ব্যক্তিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন আজারুদ্দিন খান। ডিএসপির ভূমিকায় এখন গ্রামবাসীদের মুখে সাধু সাধু রব। আর এই পুলিশকর্তাই এখন মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের কাছে রীতিমতো নায়কের সম্মানে ভূষিত। বুধবার দুপুর পৌনে বারোটা নাগাদ পুরাতন মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রমোহন হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে বন্দুক বোমা নিয়ে ঢুকে পড়ে এক আততায়ী। তার দাবি পূরণ না হলে ওই ক্লাসে পাঠরত প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রী এবং ক্লাস টিচারকেও প্রাণে মারার হুমকি দেয়। নিজেকে মানব বোমা বলে হুঙ্কার দিতেও ছাড়েনি সে।স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ পেয়েই প্রথম থেকেই বন্দুকবাজকে ধরার জন্যই সদর্শক ভূমিকা গ্রহণ করে মালদা ডিএসপি (ডিএনটি) আজহারউদ্দিন খান। যদিও তার সঙ্গে অন্যান্য পুলিশ অফিসার কর্মীরাও ছিলেন। কিন্তু সাদা পোশাকে জেলার ওই পদস্থ পুলিশ কর্তাকে বহু গ্রামবাসীরা চিনতে পারেননি। অনেকে তো দূর দূর করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ওই পুলিশকর্তাকে। কিন্তু সত্যি যে তিনি হিরো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনি। প্রথম থেকেই বন্দুকবাজের ওপরেই ঈগলের মতো চোখ রেখে নজরদারি চালিয়েছিলেন ডিএসপি (ডিএনটি)। আর পলক ঝপটের মধ্যেই ক্লাসরুমের ভেতরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই বন্দুকবাজ আততায়ীকে কোলপাঁজা করে, হাত মুচরিয়ে ধরে ফেলেন পুলিশকর্তা।যদিও আজহারউদ্দিন খানের বক্তব্য, এটা আমার কর্তব্য। জীবনের পরোয়া না করে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বাঁচানোটাই বড় কাজ। প্রথম থেকেই ওই দুর্বৃত্তের ওপর নজর রেখেছিলাম। সুযোগ বুঝেই কোপ মারি। ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেছি। নিজের জীবন দিয়ে দিব, কিন্তু আমি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্ষতি হতে দেব না, সেটা প্রথম থেকেই ভেবে নিয়েছিলাম। এখন ওই বন্দুকবাজের এই তান্ডব চালানোর ঘটনার পিছনে কি রহস্য হয়েছে রয়েছে তা তদন্ত করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তবে আপাতত তাকে গ্রেফতার করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন আদালতে জানানো হবে। গ্রামবাসীরা আজহারউদ্দিন খানের ভূমিকায় আপ্লুত।

এপ্রিল ২৬, ২০২৩
রাজ্য

মার্কিন কায়দায় মালদার স্কুলে বন্দুকবাজ, কেন এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটালেন?

এবার মার্কিন মুলুকের ছায়া বাংলায়। মালদার স্কুলে দেখা গেল ভয়ঙ্কর দৃশ্য। স্কুলের পড়ুয়াদের সামনে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক ব্যক্তি। একহাতে পিস্তল, অপর হাতে পেট্রোল বোমা এবং গোটা গায়ে জড়ানো ইলেকট্রিক বোমা। পায়ের মোজায় লুকানো ভোজালি। এই অবস্থায় আচমকাই সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে ঢুকে পড়লো এক আততায়ী। বন্ধুক উচিয়ে এবং নিজেকে মানববোমা বলে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্লাসরুমের ছাত্র-ছাত্রীদের উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে ওই ব্যক্তি। বুধবার দুপুর ১২ টা নাগাদ এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্যে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরাতন মালদা থানার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্দ্রমোহন হাইস্কুলে। এমনকি ক্লাস রুমের কর্মরত এক শিক্ষিকার মাথায় বন্দুক ধরে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। ওই আততায়ীর ভয়ে ক্লাসরুমে থাকা প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষিকা ভয়ে যুবুথুবু। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্কুল চত্বরে শোরগোল পড়ে যায়।এদিকে স্কুল পড়ুয়াদের হাইজ্যাক করার ঘটনার খবর জানতে পেরে গায়ে বুলেট প্রুপ জ্যাকেট পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মালদার পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই আততায়ীর সঙ্গে বাইরে থেকেই কথাবার্তা চলতে থাকে। এরই মধ্যে গোটা এলাকায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতেই স্কুল চত্বরে কয়েক হাজার গ্রামবাসীর জনরোষ আছড়ে পরে। অবশেষে দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর পুলিশ দেব বল্লভ (৪৮) ওরফে রাজু নামে ওই আততায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা সহ ধরে ফেলে।বুধবারের এমন রোমহর্ষক ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়েছে মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই স্কুলে পাঠরত পরিবারের ছেলেমেয়েরা অক্ষত রয়েছে কিনা, তা জানতে ভিড় করেন অভিভাবকেরা। পুলিশের হাত থেকে ধৃতকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টাও করে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা।পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম দেব বল্লভ ওরফে রাজু। তার বাড়ি পুরাতন মালদার মুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের নিমুয়া এলাকায়। ধৃতের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, বেশ কয়েক রাউন্ড কার্তজ , চারটি পেট্রোল বোমা, একটি ভোজালি এবং ধৃতের শরীরে জড়ানো আরো বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক বোমা উদ্ধার হয়েছে।এমন ঘটনা কেন ঘটালো ওই আততায়ী? তদন্তকারী পুলিশকর্তারা জানিয়েছেন, দেব বল্লভ নামে ওই ব্যক্তি এদিন সপ্তম শ্রেণীর ক্লাসরুমে ঢুকে বন্ধুক হাতে নিয়েই তার ছেলে রুদ্র বল্লভ, দ্বাদশ শ্রেণীতে পাঠরত এবং স্ত্রী রিতা বল্লভকে ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ধৃত ওই ব্যক্তির স্ত্রী এবং ছেলে গত এক বছর ধরে তার সঙ্গে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। কিন্তু ধৃত ব্যক্তি ক্লাসরুমে ঢুকে হাতে বন্দুক নিয়ে চিৎকার করে বলতে থাকে দুষ্কৃতীরা নাকি তার স্ত্রী ও ছেলেকে এক বছর আগে তুলে নিয়ে গেছে। প্রশাসন নাকি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই তাঁকে বাধ্য হয়ে এদিন এরকম ঘটনা ঘটাতে হয়েছে।মুচিয়া চন্দ্রমোহন হাই স্কুলের এক শিক্ষক দেবাশীষ শীল জানিয়েছেন , আমরা ভাবতে পারছি না যে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। কেবলমাত্র প্রথম পিরিয়ডের ক্লাস শুরু হয়েছিল সেই সময় স্কুলের একটি ছোট্ট গেট খোলা ছিল। পিঠে ব্যাগ নিয়েই ওই ব্যক্তিকে ঢুকতে দেখি। এরপরই সে সপ্তম শ্রেণীর একটি ক্লাসে ঢুকে পড়ে। সেখানে তখন একজন শিক্ষিকা ক্লাস নিচ্ছিলেন। তারপরেই দেখি যে বন্দুক বার করে এবং হাতে বোমা নিয়েই তাণ্ডব শুরু করে দেয় ওই আততায়ী। তখনই আমরা পুলিশকে খবর দিই । অবশ্যই এমন ঘটনায় প্রত্যেকেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি।পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব জানিয়েছেন, একটা পারিবারিক সমস্যা রয়েছে ধৃত ওই ব্যক্তির। কিন্তু তা বলে স্কুলে ঢুকে এমন কাণ্ড ঘটাবে সেটা কেউ ভাবতেই পারেনি। ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র, রাসায়নিক বস্তু উদ্ধার হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার পরেই বিষয়টি সম্পর্কে বলা যাবে। তবে অভিযুক্ত দেব বল্লভকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কেও এখনই কিছু পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। সমস্ত বিষয়টাই তদন্ত সাপেক্ষ।

এপ্রিল ২৬, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal