• ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার ০৪ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

রাজ্য

রাজ্য

পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থে মালদায় বাংলা পক্ষর সাংগঠনিক সভা

মালদার বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে মালদা শহরে জেলার সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হল। মালদার মূল সমস্যা পরিযায়ী শ্রমিক। নানা রাজ্যে গিয়ে সমস্যায় পড়ে মালদা সহ নানা জেলার বাঙালিরা৷ কিন্তু অন্য রাজ্যে কাজে কেন যেত হবে? বাংলায় কি কাজ নেই? বাংলা পক্ষ ৫ বছরের লড়াইয়ে বুঝেছে, বাংলায় কাজ আছে, বাঙালির কাজ নেই। এমনকি মালদায় কাজ না থাকলে বিহার-ইউপির লোকজন এত বাড়ছে কেন? মালদা-মুর্শিদাবাদে বিভিন্ন যে শিল্প তালুক তৈরি হচ্ছে সেখানে অধিকাংশই চাকরি ও কাজ করছে বিহার-ইউপির লোকজন। অথচ বাঙালি অন্য রাজ্যে কাজে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। নানা রাজ্যে কাজে গিয়ে বাংলাদেশী সন্দেহে আক্রমণের শিকার হয়। কিন্তু বাংলার শহর ও শিল্পাঞ্চল গুলোয় চাকরি-কাজ- ব্যবসা বহিরাগতদের হাতে। আমরা তাই সমস্ত বেসরকারি চাকরি-কাজে ও টেন্ডারে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চাই।বাংলা পক্ষের দাবি, এছাড়া মালদায় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে, মূলত আম নির্ভর শিল্পে আরও জোর দিতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে এবং তা জেলার ছেলেমেয়েদের দিতে হবে। মালদার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। লোকাল ট্রেন নেই। মালদা থেকে শিলিগুড়ি দুই দিনাজপুর হয়ে (বিহার নয়) লোকাল ট্রেন চালাতে হবে। ফারাক্কার টোল ট্যাক্স তুলে দিতে হবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ফারাক্কা। কিন্তু এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে দিল্লিকে টাকা ট্যাক্স হিসাবে দিতে হবে কেন? রেলের ডিভিশন অফিস মালদা থেকে সরিয়ে ভাগলপুরে নিয়ে যাওয়া যাবে না।আজকের সাংগঠনিক মিটিং এ উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক প্রবাল চক্রবর্তী, মালদার নেতৃত্ব রফিক আহমেদ, শুভ্রজ্যোতি দত্ত, মালদার ভূমিপুত্র তথা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটির সদস্য ডঃ আব্দুল লতিফ প্রমুখ।আগামীতে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যার সমাধান ও ভূমিপুত্র সংরক্ষণ চালুর দাবিতে জেলা জুড়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে বাংলা পক্ষ।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

কলকাতার কাছেই লক্ষ লক্ষ টাকার কোকেন সহ ভিন রাজ্যের ৩ সহ গ্রেফতার ৭

শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের একটি দল গোপনে ইকোস্পেস দ্বীপে আলিয়া ইউনিভার্সিটি বাস-স্ট্যান্ডের কাছে সার্ভিস রোডের কাছে অপেক্ষা করছিল। এলাকাটি বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের টেকনোসিটি থানার অধীনে। কিছুক্ষণ পরে ছয় যুবক ঘটনাস্থলে আসে, চার চাকার আলট্রোজ টাটা গাড়িতে চারজন এবং একটি বাজাজ পালসার মোটর সাইকেলে দুজন এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী নেওয়ার জন্য অন্য সপ্তম ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে।জানা গিয়েছে, এসটিএফ সাতজনকে আটক করা হয় এবং তল্লাশির পর মোট ১৬৫ গ্রাম কোকেন বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে দুজন উত্তর প্রদেশ ও একজন বিহারের বাসিন্দা। বাকিরা কলকাতা সংলগ্ন এলাকাতেই থাকে। আগ্রার রাহুল সিং ও অবিনাশ কুমার, বিহারের মধুবনীর অভিষেক ঠাকুর রয়েছে এই চক্রে। লেকটাউনের ঋষি সাগর ও সান্টি সিং, বাগুইআটির প্রফুল্ল কাননের রিকি দত্ত ও রাহুল দত্ত। ধৃতদের বয়স ১৯ থেকে ২৬ বছর। একমাত্র রাহুলের বয়স ৩৭.জানা গিয়েছে, সাতজনের মধ্যে অভিষেক ঠাকুর এবং রাহুল দত্ত একটি মোটর সাইকেলে ছিলেন যেখানে অন্য চারজন ঋষি সাগর, রাহুল সিং, রিকি দত্ত এবং সন্টি সিং একটি চার চাকার গাড়িতে আসছিলেন এবং চালানটি গ্রহণ করতে অবিনাশ কুমারের সাথে দেখা করেছিলেন। মোট ১৬৫ গ্রাম কোকেনসহ সাতজনকেই হাতেনাতে ধরা হয়। বাজেয়াপ্ত মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা। ধৃতদের হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়েছে। হাওড়ার এক এনডিপিএস মামলায় এই ধরপাকর বলে জানা গিয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
রাজ্য

বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের হেলিপ্যাড বেদখল, আবর্জনার স্তুপে দুর্গন্ধে এলাকায় টেকাই দায়

আবর্জনার স্তুপে মুখ ঢেকেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের হেলিপ্যাড। মুখ্যমন্ত্রী বোলপুর সফরে এলেই ওই হেলিপ্যাড ব্যবহার করেন। এখন সেই জায়গার উপর নজর পড়েছে ঠিকাদারদের। ফলে লোকচক্ষুর আড়ালে হেলিপ্যাডটিকে রীতিমতো ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। ফাঁকা অংশ ঠিকাদারদের ফেলে রাখা ইমারতি দ্রব্য দখল করে নিয়েছে। তবে বিষয়টি নাকি জানা নেই পুরসভার। শুক্রবার সেই হেলিপ্যাড পরিদর্শন করেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ, বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা।রাজ্যে পালা বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন তীর্থক্ষেত্র এবং পর্যটন কেন্দ্র থেকে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য হেলিকপ্টার চলাচলের সিদ্ধান্ত নেন। সেই তালিকায় বোলপুরের পাশাপাশি ছিল তারাপীঠ, দিঘা সহ বেশ কয়েকটি জায়গা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় হেলিপ্যাড। বোলপুরে গীতাঞ্জলী প্রেক্ষাগৃহ সংলগ্ন এলাকায় সেই হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বোলপুর সফরে এলে তাঁর হেলিকপ্টার সেখানেই অবতরণ করত। এখন সেই জায়গা কার্যত ঠিকাদারদের দখলে চলে গিয়েছে। হেলিপ্যাডের চারিদিক আগাছায় ঢেকেছে। পুরসভা শহরের আবর্জনা সেখানে ফেলে ভাগাড়ের রুপ দেওয়া হয়েছে। আর এক শ্রেণির ঠিকাদার বিল্ডিং নির্মাণ করার জন্য ইমারতি দ্রব্য মজুতের জায়গা করে নিয়েছে সেই হেলিপ্যাড। এনিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ। তবে বিষয়টি জানা নেই বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষের। তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে খোঁজ নেবেন।এদিকে খবর পেয়ে শুক্রবার সেই হেলিপ্যাড পরিদর্শনে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। তিনি বলেন, তৃণমূল এক বিচিত্র দল। বোলপুরে স্বয়ং দলনেত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জায়গাটার অর্ধেক দখল করে নিয়েছে দিদিমনির স্থানীয় কিছু প্রমোটার এবং তোলাবাজ ভাইয়েরা। এলাকায় গিয়ে দেখলাম কেষ্টবাবুর পাচার করতে না পারা দু-চারটে গরু ঘুরে বেড়াচ্ছে। আশপাশটা আবর্জনায় ভরে গিয়েছে। পুরসভার সহযোগিতায় দুর্গন্ধে পারিপার্শ্বিক এলাকা সুরভিত। যারা মুখ্যমন্ত্রীর হেলিপ্যাড দখল করতে পারে তারা সমস্ত জায়গা দখল করতে পারে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বোলপুরে এসে তাঁর হেলিপ্যাড একবার দেখে যান।

সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৩
রাজ্য

এক ধাক্কায় কত বেতন বাড়ল বাংলার মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন?

শহিদ মিনারের নীচে এখন অবস্থানে বসে আছে ডিএ আন্দোলনকারীরা। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এদিকে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণায় এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল বিধায়ক মন্ত্রীদের বেতন। বাংলা দিবস নিয়ে বিধানসভায় আলোচনার শেষে এই বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।রাজ্য সরকারী কর্মীদের ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলছে। টানা শহিদ মিনারে বসে রয়েছেন সরকারী কর্মীরা। নতুন নিয়োগ বা উন্নয়ন প্রকল্পও থমকাচ্ছে অর্থের অভাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমাদের রাজ্যের বিধায়কদের বেতন দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। চলাফেরা, দুটো খাওয়া, সবই ওই টাকায় করতে হয়। সেটা পর্যবেক্ষণ করেই আমাদের সরকার তাই বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কত বাড়ছে বেতন?মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মোতাবেক- বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন একধাক্কায় ৪০ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।এতদিন বিধায়কদের বেতন ছিল প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে। তা বেড়ে হল ৫০ হাজার টাকা।রাজ্যের প্রতিমন্ত্রীরা এত দিন মাসে ১০ হাজার ৯০০ টাকা করে বেতন পেতেন। এখন তা বেড়ে হল ৫০ হাজার ৯০০ টাকা।পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা। তাঁরা বেতন বাবদ এবার থেকে পাবেন ৫১ হাজার টাকা করে।বিভিন্ন ভাতা মিলিয়ে পূর্ণমন্ত্রীরা মন্ত্রীরা এখন থেকে প্রতি মাসে পাবেন দেড় লক্ষ টাকার বেশি। প্রতিমন্ত্রীরা পাবেন প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯০০ টাকা। বিধায়করা পেতে চলছেন মাসিক ১ লাখ ২১ হাজার টাকা বেতন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বেতন নেন না বলে জানিয়েছেন।মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাকে সমর্থন করছি না। আমরা চাই আশাকর্মী, ভিলেজ পুলিশ, সিভিক পুলিশ, চুক্তিভিত্তিক সব শিক্ষক, ভোকেশনাল টিচাররা সম কাজে সম বেতন পাক। আর আমরা যখন হাউজে ছিলাম না তখন উনি একতরফাভাবে মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন।সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, কর্মীরা ডিএ বাড়াতে বললেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন টাকা নেই। কর্মীও বহু জায়গায় নিয়োগ হচ্ছে না। অথচ মন্ত্রী, বিধায়কদের বেতন বাড়ালেন উনি। এটাকেই বলে তেলা মাথায় তেল দেওয়া। বাংলার মানুষকে পুরোটায় নজর রাখতে অনুরোধ করছি। আদালতেও এটা আমরা জানাবো। আমরা আন্দোলন আরও জোরদার করবো।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৩
রাজ্য

কুমিরের পর এবার গঙ্গায় ধরা পড়ল ঘড়িয়াল, মালদার গ্রামে হইচই

এর আগে গঙ্গায় কুমির দেখা গিয়েছিল। কুমির ধরাও পড়েছিল। এবার এল ঘড়িয়াল। বুধবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে মাঝিদের জালে ধরা পড়লো একটি ঘড়িয়ালের বাচ্চা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উৎসবটোলা এলাকায়। এরপর মাঝিরা ওই ঘড়িয়ালের বাচ্চাকে গঙ্গা নদী থেকে নিজেদের উৎসবটোলা গ্রামে নিয়ে আসে। ঘড়িয়াল দেখতে ভীড় করে স্থানীয় মানুষজন। তারপর খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। পরে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।উৎসবটোলা এলাকার মাঝি তুফান চৌধুরী জানান, এদিন ভোরে তিনি মথুরাপুরের গঙ্গা নদীতে নৌকায় করে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। সেই সময় তার জালেই একটি বাচ্চা ঘড়িয়াল আটকে পড়ে। তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। কোনওরকমে জালে পেঁচানো ওই ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় গ্রামে।বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের ঘড়িয়াল বর্ষার মরশুমে মাঝেমধ্যেই মালদার ফুলাহার এবং গঙ্গা নদীতে দেখা যায়। মূলত ঘড়িয়ালরা প্রজনন ঘটাতে এবং খাবারের খোঁজে এইসময় নদীতে চলে আসে। ফোর ঘড়িয়ালটিকে নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বন দফতর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
রাজ্য

শিক্ষক দিবসে মায়েদের সংবর্ধনা দিল জামালপুর এক গ্রাম পঞ্চায়েত

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আমাদের প্রথম শিক্ষক মা যার মাধ্যমে আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষালাভ শুরু হয়। আজকে সেই মায়েদের জামালপুর এক গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা জানানো হলো।মা-ই প্রথম পাঠশালা, প্রথম আদর্শ শিক্ষক। তাই সন্তান আদর্শ ও সৎ হওয়ার পিছনে মায়ের ভূমিকাই বেশি। একটি সন্তান পৃথিবীতে কত বড় হবে, কত ভালো হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে মায়ের উপর। তাই শিক্ষক দিবসে এবার জীবনের প্রথম শিক্ষক মায়েদের সংবর্ধনা দিলো জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত।উপপ্রধান শাহাবুদ্দিন মন্ডলের সার্বিক উদ্যোগে জামালপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরেই মায়েদের সম্মান জানালো হলো। উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক, প্রধান ডলি নন্দী সহ বিশিষ্টরা।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৩
রাজ্য

বাঁকুড়ায় গাড়ি তাড়া করে এলোপাথাড়ি গুলি, মারাত্মক জখম বর্ধমানের তৃণমূল শ্রমিক নেতা

পাশের জেলার তৃণমূল নেতাকে গুলি। মঙ্গলবার দুপুরবেলা বাঁকুড়ায় রাস্তায় চলে গুলি। জানা গিয়েছে, এদিন বেলা দেড়টা নাগাদ একটি চার চাকা গাড়িতে চড়ে চালক সহ পাঁচ যুবক বাঁকুড়া দুর্গাপুর রাজ্য সড়ক ধরে বাঁকুড়া থেকে দুর্গাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। এই পাঁচজনই বাঁকুড়া জেলা আদালতে আইনি কাজে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি ধাওয়া করতে থাকে একটি বাইক। ওই বাইকে দুজন সওয়ারী ছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। বাইক ধাওয়া করছে দেখা মাত্রই গতি বাড়ে চার চাকার। গাড়িটি বাঁকুড়া শহর লাগোয়া কেশিয়াকোল এলাকা ছেড়ে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছাকাছি আসতেই বাইকের পিছনে বসে থাকা যুবক দুহাতে দুটি বন্দুক নিয়ে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। গুলিতে গাড়িতেই জখম হন জিয়াবুল হক শেখ, নূর মহম্মদ শা ওরফে টগর এবং গোবিন্দ মণ্ডল নামে তিন যুবক। মাথায় গুলি লাগে নূরের। জখমদর ভর্তি করা হয় বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে ছিল গলসির গোহগ্রামের সেখ রবিউল। গুরুতর জখম হন বাগাই।এর মধ্যে জিয়াবুলের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের দয়ালপুর গ্রামে। নূরের বাড়ি গলসির তেঁতুলমুড়ি গ্রামে। নুর গলসি ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের আইএনটিটিইউসির নেতা। গোবিন্দর বাড়ি বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানার পাবড়াডিহি গ্রামে। এদিকে গুলির আওয়াজে স্থানীয়রা চলে আসে। তাঁদের দেখেই দুস্কৃতীরা যে পথে এসেছিল সেই পথেই ফিরে যায়। পুলিশ বাঁকুড়া থেকে বেরোনোর সব রাস্তা ঘিরে ফেলে। তল্লাশি শুরু হয় বাঁকুড়া থেকে বেরোতে থাকা প্রতিটি বাস ও ছোট গাড়িতে। কেন তৃণমূল নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চলল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৩
রাজ্য

শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন নওশাদের, নির্দেশ মতো থানায় হাজিরা

সহবাস ও ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলায় শর্তসাপেক্ষে আগাম জামিন মঞ্জুর হল ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির। সোমবার আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ।হাইকোর্টের নির্দেশ, তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে নওশাদকে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিকের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না নওশাদ। এছাড়াও, নওশাদ সিদ্দিকিকে সপ্তাহে দুদিন তাঁকে বউবাজার থানায় হাজিরা দিতে হবে।ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদের বিরুদ্ধে সহবাস, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেন মুর্শিদাবাদের ডোমকল শহর তৃণমূল কমিটির অন্যতম সাধারণ সম্পাদিকা। ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার বৌবাজার থানায় নওশাদ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। এফআইআরে অভিযোগকারিণীর দাবি, দেড় বছর আগে তাঁকে বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে নিজের অফিসে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছেন নওশাদ। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও বেশ কয়েক বার সহবাস করেছেন আইএসএফ বিধায়ক। অভিযোগ, এরপর অভিযোগকারিণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁকে এড়িয়ে যেতে থাকেন নওশাদ। বিধায়ক কখনও নিজে, কখনও সহকারীদের দিয়ে তরুণীকে হুমকি দিয়েছেনএরপর গত ৭ জুলাই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নওশাদ সিদ্দিকি। মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নওশাদকে এদিন আগাম জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৩
রাজ্য

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি কথা হল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের? বৈশাখী তখন কি করছিলেন?

একদা একসঙ্গেই দল করতেন।একজনের ইডির তালিকায় নামও ছিল। গ্রেফতারও হয়েছিলেন। আরেকজন শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলবন্দি। এবার তাঁদের দেখা হল আলিপুর কোর্ট লকআপে। দুজনই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হল কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের।শনিবার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলিপুর আদালতে গিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেখানে জানতে পারেন ওই কোর্ট লকআপেই রয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গাড়িতে উঠেছিলেন কিন্তু ফের তিনি নেমে পড়েন। একসময়ের সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে কোর্ট লকআপে যান শোভন। দূর থেকে তাঁদের মধ্যে কথাও হয়।দুজনে কী কথা বললেন?শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, দূর থেকে দেখলাম। দেখা করার সেই পরিবেশ, পরিস্থিতি নেই।পার্থ চট্টোপাধ্যায় কী পরিস্থিতির শিকার? শোভন বলেন, পার্থদা পরিস্থিতির শিকার তো বটেই! আমাকেও তো গ্রেফতার করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তো আর প্রশাসন থেকে আলাদা কিছু নয়! এত দিন এক সঙ্গে ছিলাম। না দেখা করে চলে গেলে মনে হত, এখান থেকে চলে গেলাম! দূর থেকে দেখা হয়েছে। স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। শোভন যখন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান তখন বৈশাখী গাড়িতেই বসেছিলেন। এই প্রসঙ্গে বৈশাখী বলেছেন, দীর্ঘ দিনের সঙ্গী তো।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৩
রাজ্য

এসএসিটি প্রতিনিধি দলের সাথে শিক্ষা মন্ত্রীর বৈঠকে আশার আলো দেখছেন শিক্ষকরা

রাজ্যের প্রায় ১৪৫০০ এসএসিটি-র পক্ষ থেকে নয় দফা দাবি সম্বলিত এক স্মারকলিপি নিয়ে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠক করলেন স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েসন এক প্রতিনিধি দল। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে তৃণমূল ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে এই প্রতিনিধি দল।বেতন বৃদ্ধি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাইন্ড কেয়ার লিভ, কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগে সহ আরও নয় দফা দাবি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়। গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, দাবিগুলি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের আস্বস্ত করেছেন। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ আরও বলেন, এই প্রথম রাজ্যের কোনও শিক্ষক সংগঠন শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ব্রাত্য বসুর সাথে তাঁদের দাবী দাওয়া নিয়ে বৈঠক করলো। যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে এই আলোচনা। মন্ত্রী মশায় দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ সহকারে আমাদের দাবীগুলি শুনেছেন। আমাদের দাবীর মধ্যে অনেকগুলো দাবি প্রাসঙ্গিক বলে তিনি নিজেই সহমত হয়েছেন এবং এবিষয়ে নির্দিষ্ট এক আধিকারিককে দায়িত্বও দিয়েছেন যাতে অতি সত্তর এর সমাধান বার করা যায়। গোপাল ঘোষ জানান, তাঁরা আশাবাদী, এবং আগামীদিনে আরো অনেক সমস্যা নিয়ে খুব শীঘ্রই তাঁরা আবার আলোচনায় বসবেন মন্ত্রীর সঙ্গে।প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য এসএসিটি অধ্যাপক ও স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েসন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রেসিডেন্ট তারকনাথ মুখোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা তাঁদের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে সাত জনের এক প্রতিনিধি দল শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাথে সাক্ষাৎ করে নয় দফা দাবী সম্বলিত এক স্মারকলিপি পেশ করেন।তিনি আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য ব্রাত্য বসু এই প্রথমবার কোনও শিক্ষক সংগঠনের সাথে সাক্ষাত করেন। তারকনাথ আরও জানান, তাঁদের দীর্ঘদিনের যে সমস্যা, মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী দীর্ঘক্ষণ সময় দিয়ে অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শুনেছেন, এবং এ ব্যাপারে যথাযত ব্যবস্তা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তারকনাথ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রী তাঁদের প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন সব সমস্যার সমাধান এক্ষনি করা সম্ভব না হলেও, প্রাইরিটি দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এক এক করে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন বলে কথা দিয়েছেন।স্টেট এডেড কলেজ টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েসন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রেসিডেন্ট তারকনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু তাঁদের সামনেই তাঁর দপ্তরের এক আধিকারিককে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রতিনিধি দল ও শিক্ষা দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করার জন্য। প্রতিনিধি দলের তরফে সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা অত্যন্ত খুশি এই বৈঠকে, বৈঠক যথেষ্ট ফলপ্রসু হয়েছে এবং আমরা আশাবাদী আমাদের দাবিদাওয়া সবিচার পাওয়ার ব্যাপারে।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৩
রাজ্য

কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যলয়ের কার্যকলাপ নিয়ে তোপ বিজেপি'র কেন্দ্রীয় সম্পাদকের, আশ্রমিকদের সাথে দেখা করে চাপে রাখলেন উপাচার্যকে

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে গত দুদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মধ্যেই আরও এক বিদ্যুৎ বিভ্রাট আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্টিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় গত দশ জুড়ে বারবারই আলোচনা কেন্দ্র বিন্দুতে, কখনো কেষ্ট মণ্ডলের (অনুব্রত মণ্ডল) দাপটে তো কখনো অমর্ত্য সেনের বাড়ি বিতর্ক তো আবার কখনো বর্তমান বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে একাধিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মাঝেমাঝেই বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর করা মন্তব্য উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে।এবার বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র, অধ্যাপক ও শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা তদুপরি বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ (তৃণমুল কংগ্রেস) ডঃ অনুপম হাজরা। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বরাবরই খুব অ্যাক্টিভ। সামাজিক মাধ্যমের তাঁর চাঁচাছোলা বক্তব্যের জন্য ভীষন জনপ্রিয় অনুপম। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার জন্যই বিশ্বভারতীর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীকে সমালোচিত হতে হয়। ইতিমধ্যে বিশ্বভারতীকে সার্চ কমিটি গঠন করার নির্দেশ এসেছে দিল্লী থেকে। বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীকে নতুন উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।এরই মধ্যে বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ বিশ্বভারতীর হৃত সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য মাঠে নেমে পরেছেন। তিনি প্রবীন আশ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশ্বভারতীর সমস্যা, কোন কোন যায়গায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন তা জানার চেষ্টা করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে অনুপম শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতীর প্রবীন আশ্রমিক তথা কবিগুরুর আত্মীয় সুপ্রিয় ঠাকুর ও তাঁর স্ত্রী শুভ্রা ঠাকুরের বাসভবনে যান বিশ্বভারতীর হালহকিকত সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হতে। একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা।বেশ কিছু দিন দলীয় দায়িত্ব নিয়ে দিল্লিতে বসবাস করতেন অনুপম। কিছুদিন আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ঘোষণার করার পর থেকেই অনুপমের বাংলা যাত্রা আধিক্য লক্ষণীয়। বৃহস্পতিবার কবিগুরুর আত্মীয় তথা আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুরের বাড়ি থেকে ফিরে সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। বিশষজ্ঞদের ধারণা পোস্টটি যথেষ্ট ইঙ্গিতপুর্ণ।পোস্টে তিনি লেখেনঃ এবার আজ সকাল বেলা সুপ্রিয় দা (শ্রী সুপ্রিয় ঠাকুর) এবং তাঁর স্ত্রী শুভ্রা দির (শ্রীমতি শুভ্রা ঠাকুর) সঙ্গে বিশ্বভারতী নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং আড্ডা...বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্ত যাঁর শরীরে বইছে, সেই শ্রদ্ধেয় সুপ্রিয় ঠাকুরের মতো আরো অনেক প্রবীণ আশ্রমিকদের ব্রাত্য করে রেখেছেন বিশ্বভারতীর বর্তমান উপাচার্য! সৌজন্যের খাতিরেও বিশ্বভারতী পরিচালনার কাজে কখনো তাঁদের মতো প্রবীণ আশ্রমিকদের কোন পরামর্শ নেন না। আর অন্যদিকে বিশ্বভারতীর পঠন-পাঠনএর গুণগত মান সর্বভারতীয় স্তরে দিন দিন তলানিতে ঠেকেছে । উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতার জন্য সমালোচিত হতে হচ্ছে বিশ্বভারতীর আচার্য তথা আমাদের দেশের সকলের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি Narendra Modi মহাশয়কেও, আর অন্য দিকে বিভিন্ন উপায়ে উপাচার্য নিজেকে অতি-বিজেপি প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। হয়তো কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে বা রয়েছে নিজের মেয়াদ কালকে বৃদ্ধি করার প্রবল তাগিদ; অথচ এই মহামানবেরই কার্যকালে বন্ধ হয়ে গেছে শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা থেকে শুরু করে বসন্ত উৎসব, যা ছিল শান্তিনিকেতনের প্রধান আকর্ষণ !!!বিশ্বভারতীর মতো ঐতিহ্যময় প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দরুন অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিকে আর বেশিদিন প্রশ্রয় দেওয়া সমীচীন হবে না !!!আমার অফিসে জমা পড়া বহু লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এটুকু বলতে অন্তত কোনো দ্বিধা নেই যে - বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র, প্রাক্তন অধ্যাপক, শান্তিনিকেতনের একজন বাসিন্দা এবং বোলপুরে প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে বিশ্বভারতী পরিচালনা করার বর্তমান আদব-কায়দা আমার আমার মতো বহু প্রাক্তনী, শান্তিনিকেতনের বহু আশ্রমিক তথা বোলপুর শান্তিনিকেতনের স্থানীয় মানুষদের আবেগে আঘাত করে !!!প্রবীণ আশ্রমিক ও ঠাকুর পরিবারের সদস্য সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন,বিশ্বভারতীর প্রাক্তন ছাত্র ও প্রাক্তন অধ্যাপক অনুপম হাজরা বিশ্বভারতী প্রসঙ্গে সদিচ্ছা দেখাচ্ছেন এটা দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে। ওনার বিশ্বভারতীর উন্নতির জন্য উৎসাহ দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছি। আশা করব, ভবিষ্যতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি জন্য আরও সদর্থক ভূমিকা পালন করবেন।।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৩
রাজ্য

ভ্যপসা গরমে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে দফায় দফায় লোডশেডিং-এ নাকাল সাধারণ মানুষ

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩৫ অচমকা আঁধার নেমে আসে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। টানা ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় নাকাল সাধারণ মানুষজন। বাড়ি বাড়ি হ্যারিকেন মোমবাতির খোঁজ শুরু হয়ে যায়। বর্ধমান, কালনা, কাটোয়া, আউশগ্রাম, কেতুগ্রাম, মেমারি, খন্ডঘোষ, আকুই, ইন্দাস সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক যায়গায় অন্ধকার হয়ে যায়।মোবাইলের জামানায় দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে শহরে। একসাথে এতগুলো যায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয় সাধারণ মানুষের মনে। অনেকেই ৩০ এবং ৩১ জুলাই ২০১২র বিপর্যয় নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। এ সময় ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। সমগ্র উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তির্ণ অঞ্চল আন্ধাকারে ডুবে গিয়েছিলো। রেল পর্যন্ত স্তব্দ হয়ে গিয়েছিলো। ৩০ জুলাই ২০১২ ব্ল্যাকআউটে কমপক্ষে ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করেছিল, এবং এককথায় এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যার ভিত্তিতে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বলে অবিহিত করা হয়। যা ২০০১-র জানুয়ারী মাসের ব্ল্যাকআউটকে পিছনে ফেলে দিয়েছিলো।বৃহস্পতিবারের রাত ৯ টা ৩০ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ আসে প্রায় রাত ১০টা ৩০ নাগাদ। এরপরেও সারা রাত একাধিক যায়গায় একধিক বার বন্ধ থাকে পরিসেবা। তীব্র ভ্যপসা গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত হতে থাকে শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলের। বেশীরভাগই একটু ঠান্ডা হাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সেই সময় তাঁরা বিদ্যুতবিভাগের টোল ফ্রী নম্বরে যোগাযোগ করতে চাইলেও বেশীর ভাগ মানুষ লাইন পাননি। যাঁরা পেয়েছেন তাঁদের শুধুমাত্র ডকেট (কমপ্লেন্ট নাম্বার) দিয়েই কাজ সেরেছেন তাঁরা। পরিশেষে ম্যাসেজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানিয়েছেন কেবল ফল্ট ছিলো। জনতার কথা প্রতিনিধী বিদ্যুৎ বিভাগে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও লাইন পাননি।ঝড় বৃষ্টি সহ কোনোরকম প্রাকৃতীক বিপর্যয় ছাড়া এই ধরণের দফায় দফায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায়, ভরা ভাদ্রের ভ্যপসা গরমে রীতিমতো নাজেহাল সাধারণ মানুষ। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী।সঠিক কারণ না জানতে পেরে জনতার কথার দপ্তরে ফোন আসতে থাকে, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেউ জানান ১০ থেকে বিদ্যুৎ নেই তো কী বলেন রাত ২টো থেকে কারেন্ট নেই, আজ শুক্রবারও বারে বারে বিদ্যুৎ পরিসেবা ব্যহত হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গরমে অতিষ্ট হইয়ে ওঠেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু, হঠাৎ করে কেন এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরি মধ্যে শুক্রবার ভ সন্ধ্যা বেলা বর্ধমান শহর ও সংলগ্ন এলাকা আবার অন্ধকারে ডুব দেই, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিদ্যুৎ চলে গিয়ে আবার আসে ৭টা নাগাদ। এইকারণে সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা, সপ্তাহান্তে শুক্রবার রাতও কি আবার বিনিদ্র কাটাতে হবে? সংস্লিষ্ট দপ্তরের কাছে কোনও সদুত্তর নেই। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৩
রাজ্য

স্ত্রীর হাতে 'অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের' ছবির রিল ভাইরাল, চর্চায় প্রাক্তন তৃণমূল নেতা

বিবাহবার্ষিকীতে স্ত্রীর হাতে অত্যাধুনিক মেশিনগান ধরিয়ে রিল তৈরি করে ফেসবুকে পোষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা। প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার নাম রিয়াজুল হক। তাঁর বাড়ি বীরভূমের রামপুরহাট থানার বগটুই গ্রামে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের রামপুরহাট এক নম্বর ব্লকের সভাপতি ছিলেন।মাস দুয়েক আগে তিনি পদ থেকে ইস্তফা দেন। আজ বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে রিল তৈরি করে পোষ্ট করেন। একদা বগটুই এলাকার দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার এই পোষ্টে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।এই আগ্নেয়াস্ত্র খেলনা কিনা তা অবশ্য বলা হয়নি। বিশেষ করে বগটুই গণহত্যা কাণ্ডের পর বগটুই গ্রামের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার এই পোষ্টে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কারণ, রাজ্যের ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাটের বিধায়ক আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রিয়াজুল হক। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজ্য ও জেলার বিভিন্ন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গেও তাকে দেখা যেত।

আগস্ট ৩০, ২০২৩
রাজ্য

দুই ভাইকে গাছে বেঁধে ছোট ভাইকে গুলিতে ঝাঁঝরা, চাঁচলের ঘটনায় উত্তাল

দুই ভাইকে পোলের সঙ্গে বেঁধে রেখে, আরেক ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠলো জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ পৌঁছলে তাঁদের ঘিরে চরম বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। মৃতদেহ গ্রামের রাস্তায় ফেলে রেখেই পুলিশের সামনে চলে তুমুল বিক্ষোভ। মঙ্গলবার সকাল দশটা নাগাদ এই শুট আউটের ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচল থানার জালালপুর গ্রামে। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির ছোট ছেলেকে মাথায় গুলি করার পর দেহের বিভিন্ন অংশেও গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে এলাকা থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হন। মৃত ওই যুবকের পরিবার হামলাকারী গফুর আলী, আহাদ শেখ, খাইরুল শেখ, শাহজাহান আলী সহ তার দলবলের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সহিদুল আলী (৩০)। তিনি পেশায় মুয়াজ্জেম ছিলেন। সহিদুলরা ছিল ছয় ভাই। সে বাড়ির ছোট। পরিবারে তাঁর স্ত্রী এবং এক নাবালক সন্তান রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জমির দখলদারিকে ঘিরে গোলমালের জেরেই এই শুট আউটের ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর দুষ্কৃতীদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে চাঁচল থানার পুলিশ। মৃতের এক দাদা সামিউল শেখ জানিয়েছেন, তাদের একটি চার বিঘার জমি দখলদারিকে ঘিরেই গফুর আলি ও তার দলবলের সঙ্গেই গোলমাল চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এই নিয়ে আদালতে মামলাও পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু এদিন অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাঁদের জমি দখল করতে আসে। সেই সময় তাঁরা বাধা দিলে তাঁদের দুই ভাইকে জমির সামনে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। তারপরেই ছোট ভাই সাইদুল আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এসে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার সময় কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা একবারের জন্য বাধা দিতে আসেননি। চোখের সামনে ভাইকে গুলি করে দেওয়ার পর দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। আর তারপরে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।স্থানীয় গ্রামবাসীদের বক্তব্য , সহিদুল আলী অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। ওই পরিবারটি কারও সঙ্গে কোন রকম ঝামেলার মধ্যে ছিল না। ওদের একটি জমির দখলদারি নিয়েই মামলা চলছিল। এরপরই এদিন দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যেই ওই পরিবারটির কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে এবং সাইদুলকে গুলি করে খুন করেছে। এই ঘটনার পর পুলিশ এলাকায় এলে তাদেরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। চাচল থানার পুলিশ জানিয়েছে, জমি সংক্রান্ত ঘটনাকে ঘিরেই গোলমালে সূত্রপাত। তারপরই এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। ইতিমধ্যে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছিল। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে গোটা এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে পুলিশ।

আগস্ট ৩০, ২০২৩
রাজ্য

দত্তপুকুরে বিস্ফোরণঃ সাসপেন্ড ফাঁড়ির ওসি, কিসের গবেষণা চলত ইঁটাভাটায়?

এগরার পর দত্তপুকুরের বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। সোমবার দত্তপুকুর থানার মৌজপুলে গিয়ে দেখা গেল ধ্বংসস্তুপের মতো পরে রয়েছে বাজি কারখানার বাড়িটি। দমকল বিভাগ এদিন চকোলেট বাজিতে জল দিয়ে ঠান্ডা রাখছিল। কড়া রোদে যদি ফের কোনও ঘটনা ঘটে! এদিকে এদিন বিস্ফোরণ স্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি পুকুর থেকে আরেকটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯। রাজ্য সরকারের সবুজ বাজি প্রকল্প নেওয়ার পর এই বিস্ফোরণে হতবাক রাজ্যের সাধারণ মানুষ। এদিনও বিস্ফোরণ স্থল দেখতে ভিড় জমায় মানুষজন। ঘটনার পর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য বারে বারে অভিযোগ জানানো সত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকী মাস-পিটিশন লেখাও হয়েছিল। গ্রামবাসীরা স্বাক্ষরও করেছিল। কিন্তু তা কোনও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনকে দেওয়া হয়নি। তার পরিনতি ঘটল সোমবার।সামনের বাড়িতে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ ও দেওয়াল ছিটকে পড়ছে। তাছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল। ঘরের বক্সখাটও ভেঙে গিয়েছে। ঘরে দেওয়ালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আলমারি থেকে ড্রেসিংটেবল ভেঙে খান খান। ঘরবাড়ি তছনছ অবস্থা। ঘটনার সময় ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে জানালা দিয়ে ঝাঁপ দেওয়ায় বেঁচে গিয়েছেন তাজমিরা বিবি. তখন বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না.এদিকে এদিন ইঁটভাটা থেকে টেষ্ট টিউব ছাড়াও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে কি ধরনের গবেষণা চলত তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে গ্রামবাসীদের। আদৌ বোমা না আরও ভয়ানক কোনও কান্ড সেখানে ঘটত তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। এনআইএয়ের দুই প্রতিনিধি এদিন বিস্ফোরণ এলাকা ঘুরে দেখেন৷ এনআইএ ঘটনার ভয়াবহতা দেখে নিজেরাই উদ্যেগ নিয়ে ছুটে গিয়েছেন। তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।এদিন সেখানে পৃথক পৃথক ভাবপ গিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা। এদিন দত্তপুকুর কাণ্ডের জেরে নীলগঞ্জ ফাঁড়ির ওসি হিমাদ্রি ডোগরাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সঞ্জয় বিশ্বাস।

আগস্ট ২৮, ২০২৩
রাজ্য

ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপলো দত্তপুকুর, এখনও অবধি ৭ জনের মৃত্যু, এনআইএ তদন্তের দাবী বিজেপির

এগরার পর এবার দত্তপুকুর! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কাঁপলো এলাকা। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বিস্ফোরণে এখনও অবধি সাত জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। আরও বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, আহতের সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে কয়েকটি শিশুও থাকার আশঙ্কা করছে তাঁরা। ভশ্মিভুত বাজি কারখানাটি অবৈধ ভাবে চলছিল বলে জানা যায়।পুলিস সুত্রে জানাযায়, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে বাজি কারখানাটিতে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল ভয়ঙ্কর, তার জেরে অকুস্থলের পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু বাড়ির টিনের চাল উড়ে গেছে, কারুর বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে পড়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাজি কারখানাটি চলছিল। স্থানীদের কাছ থেকে খবর বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিসে কাছে তাঁরা অভিযোগ জানায় সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বাজি কারখানাটি চলছিল। তাদের আরও অভিযোগ, বার বার তাঁরা প্রশাসনকে জানালেও কোনও রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিস্ফোরণ স্থলে পুলিশ আসতেই স্থানীয়রা তাঁদের কাছে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পুলিসকে ঘিরে ধরে চলতে থাকে নানাবিধ স্লোগান।মে মাসে এগরার কাছে খাদিকুলে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ৯ জনের মৃত্যু হয় ঐ ঘটনায়। এগ্রার ঘটনার অব্যবহিত পরেই বজব্জে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে। পরপর দুটি ঘটনায় টঙ্ক নড়ে পুলিস প্রশাসন মহলের। এগরা ও বজবজে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই বেআইনি বাজি উদ্ধারে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় চিড়ুনি তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সে তল্লাসি চলাকালীন দত্তপুকুরে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হয় প্রায় ২০০ কুইন্টাল বাজি।ঐ দুটি ঘটনার ১০০ দিন কাটতে না কাটতেই আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বাংলার মাটি। এ বারও অভিযোগের তীর সেই বেআইনি বাজি কারখানা দিকে। স্বানভিক ভাবেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে জনমানসে। স্থানীয় মানুষজনের ক্ষোভ, প্রশাসন যদি আরও সচেতন হত তাহলে এতগুলি প্রান হয়ত রক্ষা পেত। এই দুর্ঘটনাও হয়ত এড়ানো যেত। উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি সামসুলের বাড়ি লক্ষ করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে, পুলিস এসে পৌঁছালে তাঁরা রণে ভঙ্গ দেয়। তাঁকেই মূল অভিযুক্ত বলে দাবী করছে স্থানীয় মানুষজন। স্থানীয়দের অভিযোগ এখনও এলাকার একাধিক জায়গায় বিস্ফোরক মজুত রাখা আছে। ঠিকমত তল্লাসী করলে তা উদ্ধার সম্ভব।স্বাভাবিক ভাবেই এতবড় ঘটনাই রাজনিতীর রং লাগবেই, বিজেপি রাজ্য সম্পাদক বলেন, গোটা রাজ্যই বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ,এই অপদার্থ দল যত দিন ক্ষমতায় থাকবে। তত দিন রাজ্যের মানুষ মরতেই থাকবে। স্থানীয়দের থেকে খবরাখবর নিচ্ছি। তার ভিত্তিতে একটা রিপোর্ট তৈরি করে অমিত শাহকে পাঠাব। এনআইএ তদন্ত চাইব।

আগস্ট ২৭, ২০২৩
রাজ্য

বর্ধমানের বেসরকারি স্কুলের অনন্য নজির! ক্লাস রুমে উপস্থিত শ্রীহরিকোটার স্পেস সেন্টারের ডাইরেক্টর!

গৌরবময় চন্দ্রাযান ৩ এর সফল অবতরণের ঠিক পরের দিনই বর্ধমান জেলার এক বেসরকারি ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে ভারচুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত হলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তথা শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের ডাইরেক্টর শ্রী এ রাজারাজন।পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম কোন দেশ সফল ভাবে চন্দ্রযান চাঁদে অবতরণ করালো। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি চন্দ্রযান-৩ বুধবার সন্ধ্যা ৬ টা ৪ মিনিটে চাঁদের মাটিতে পা রাখে। চন্দ্রযান-৩ সফল অবত্রণের পর বিজ্ঞানী ডঃ এ রাজারাজন, চেয়ারম্যান, লঞ্চ অথরাইজেশন বোর্ড (LAB) ISRO এবং সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার SHAR (SDSC SHAR) শ্রীহরি কোটা-র ডাইরেক্টর, গত বৃহস্পতিবার ২৪.0৮.২০২৩ এ বর্ধ্মান জেলার এক বেসরকারি ইংরাজী মাধ্যম স্কুল মেমারি ক্রিস্টাল মডেল স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের দের সাথে এক ভারচুয়াল আলোচনায় অংশগ্রহণ করে ছিলেন। স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক দের জন্য এটি ছিল একটি অসাধারণ মুহূর্ত। কারণ তাঁর কয়েক ঘণ্টা আগেই ভারত মহাকাশে ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছে। তাঁরা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়ে চাঁদে প্রথম চন্দ্রযান অবতরণ করিয়েছে।এই ভারচুয়াল আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীরা অত্যুতসাহী হয়ে চন্দ্রযান-৩ সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করেন বিজ্ঞানীকে। চন্দ্রাযান-৩ অভিযানের এই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরে তাঁর মূলবান মতামত এবং মাহাকাশ গবেষণায় ছাত্রদের উতসাহিত করেন।ভারতের প্রথম কোন স্কুল চন্দ্রাযান-৩ অভিযানের এর ঠিক পরেই লঞ্চ অথরাইজেশন বোর্ড (LAB) চেয়ারম্যান তথা ভারতের সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার SHAR (SDSC SHAR) শ্রীহরি কোটা এর ডিরেক্টর এর উপস্থিতিতে স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে এই ধরনের ভার্চুয়াল সভা করতে সমর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য ইংরেজি মাধ্যম এই স্কুল সবসময় তাদের শিক্ষার্থীদের তাদের সৃজনশীলতার জন্য উত্সাহিত করেছেন।এর আগে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর মহাকাশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছিল মেমারি ক্রিস্টাল মডেল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র অনুরাগ মান্না। গত ১৪ মে ২০২৩ থেকে ২৭শে ২০২৩ মে অবধি শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

আগস্ট ২৬, ২০২৩
রাজ্য

কলরব হোক পরিবেশ নিয়ে, খোঁজা হোক অসুখের বীজ, মুক্ত চিন্তার আকাশ যাদবপুর ফিরে পাক হৃত গৌরব

সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমের পাতায়, টি ভি চ্যানেলে ও সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত ভেসে উঠছে যাদবপুরের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে র্যাগিংয়ে ছাত্র মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য। জনমানসেও ছড়িয়েছে গভীর উদ্বেগ। তুমুল নিন্দা আর সমালোচনার ঝড় বইছে। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়ে ওঠা এবং এগিয়ে চলার মধ্যে রয়েছে এক আকাশ সমান ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যের ধারক হল রবীন্দ্রনাথের মুক্ত চিন্তার আধারে শিক্ষা দানের পথ নির্দেশ। রয়েছে অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের পড়ুয়াদের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রথম বর্ষের ছাত্রের মৃত্যু এক অন্ধকার জগতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণত তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথম, অধ্যাপক -অধ্যাপিকারা, দ্বিতীয়, পড়ুয়ারা, তৃতীয়, প্রশাসন বিভাগ। এই তিন স্তম্ভের নির্মাণ ইতিহাসে উজ্জ্বল নাম যাদবপুরের প্রথম উপাচার্য ত্রিগুনা সেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ শুরু করার জন্য তিনি ডেকে এনেছিলেন পঁচিশ বছরের এক যুবককে। সেই যুবকের মস্তিষ্কে ছিল রবীন্দ্রনাথের মুক্ত চিন্তার আকাশ। সেই যুবক আজকে নবতিপর বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। দেড় দশক আগে পর্যন্ত এই ঐতিহ্যের পথে চলা অধ্যাপক অধ্যাপিকারা সংখ্যায় ভারী ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংখ্যাটি কমেছে। এখনও যে দু-এক জন রয়েছেন তাঁরা নিভৃতে কর্মজীবনের শেষ প্রহরের জন্য অপেক্ষা করেছেন।আরও পড়ুনঃ যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি সিপিএমের ছাত্র ইউনিয়নকে নিশানা মমতারপ্রশ্ন উঠেছে যে বিদ্যালয়ের ব্রত তমসো মা জ্যোতির্গময়... সেখানে আজ এই অন্ধকার কেন? অনেকে বলছেন এই অন্ধকারের শুরু নকশাল আন্দোলনের সময় থেকে। সেদিন পরীক্ষা পিছোনোর দাবি না মানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে খুন হয়েছিলেন উপাচার্য গোপালচন্দ্র সেন। কিন্তু সেদিন অন্ধকারের পাশে আলোও ছিল। সেই সময়ই তো কলকাতার রাজপথে যাদবপুরের এক নকশালপন্থি ছাত্রর গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষের কলম লিখেছিল, ময়দান ভারী হয়ে নামে কুয়াশায়, দিগন্তের দিকে মিলিয়ে যায় রুটমার্চ, তার মাঝখানে পথে পড়ে আছে ও কি কৃষ্ণচূড়া? নিচু হয়ে বসে হাতে তুলে নিই তোমার ছিন্ন শির, তিমির। সেই আলো অন্ধকারের দিনেও জাগ্ৰত ছিল বোধ, তাই বোধহীন রাজনীতির শিকার যখন পিতৃসম এক অধ্যাপক তখন আরেক পিতৃসম অধ্যাপক এক ছাত্রের ছিন্নশির কোলে তুলে নেন পরম মমতায়।কয়েক বছর আগে যাদবপুর থেকে পাশ করে বেরোনো বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে পড়ুয়া ও অধ্যাপকদের সম্পর্কের এই রসায়ন প্রায় শুন্যে এসে ঠেকেছে। আর এর মধ্যেই রয়েছে যাদবপুরের অসুখের বীজ। প্রাক্তনদের মতে এই অসুখ শুধু হোস্টেলের মধ্যেই ছড়িয়েছে তা নয়, গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ই তা ছড়িয়ে পড়েছে।পেশাগত কারণে তিন দশক ধরে রাজ্যের ছাত্র রাজনীতিকে খুব কাছ থেকে দেখছি। বাম আমলে যখন রাজ্যের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের ক্ষমতায়ন সম্পুর্ন তখনও যাদবপুরের ছবিটা ছিল ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগে এসএফআইয়ের দাপট থাকলেও বাকি বিভাগ গুলোতে তারা ছিল সংখ্যালঘু। যাদবপুরের সবচেয়ে বড় বিভাগ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ছাত্র সংসদ FETSU নির্বাচনে প্রায় পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে জিতে আসছে Democratic Student Federation। এই সংগঠন বামপন্থী হলেও কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের অনুগামী নয়। We the Independent বা WTI এই ছাত্র সংগঠন তিন দশক ধরে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সংসদ। SFSU য়ের নির্বাচনে জিতে আসছে। এরাও কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন নয়। কলা বিভাগের ছাত্র সংসদ AFSU তে নির্বাচনে এসএফআই অতীতে দীর্ঘকাল জিতেছে। মাঝে মাঝে ছাত্রর সংসদের নির্বাচনে জিতেছিল বামপন্থী সংগঠন AISA । তবে ২০০৫ সালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে তৈরি হয় Forum for Arts Students বা FAS, এই সংগঠনের মধ্যে রয়েছে Radical Left ছাড়াও বিভিন্ন মতাদর্শে বিশ্বাসী পড়ুয়া। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে কয়েকটি ছোট ছোট নকশাল পন্থি সংগঠন।আরও পড়ুনঃ র্যাগিং কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, মমতা বড় দায়িত্ব দিলেন টিএমসিপি নেত্রী রাজন্যাকেঅনেকেই বলছেন যাদবপুর মানেই রাজনীতির আখড়া। এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে উত্তাল বাংলায় এই প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। জাতীয়তাবাদী নেতা অরবিন্দ ঘোষ, সতীশ চন্দ্র মুখার্জি এবং রাজা সুবোধ চন্দ্র মল্লিক প্রতিষ্ঠা করেন কাউন্সিল অফ এডুকেশন। ভারতীয় পড়ুয়াদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উচ্চ মানের শিক্ষার সুযোগ করে দিতেই এই প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়। ১৯৫৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। তাই জন্মলগ্ন থেকেই যাদবপুরের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে ধারাবাহিকতা রয়েছে। ছয়ের দশকে বাংলায় উত্তাল ছাত্র আন্দোলন ও সত্তরের নকশালবাড়ি আন্দোলনে প্রথম সারিতে ছিল যাদবপুর সিঙ্গুর-নন্দীগ্ৰাম যাদবপুরের পড়ুয়ারা আন্দোলনে নেমেছিল। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হেনস্থার প্রতিবাদে হোক কলরব আন্দোলন দেখেছে যাদবপুর।বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে কোন একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠন জেতেনি। বিভিন্ন বিভাগে নির্বাচনে বিভিন্ন দল জেতায় হস্টেল থেকে শুরু করে বিভাগীয় অলিন্দে ক্ষমতাও ভাগাভাগি হয়েছে। ছাত্র রাজনীতি এই আবহের মধ্যে র্যাগিংয়ের মত কদর্য প্রথা যে অঞ্চলে যে ছাত্রর সংগঠনে ক্ষমতা রয়েছে সে সেখানে র্যাগিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা জাহির করেছে। তাই নানান বিষয়ে ভিন্ন মত থাকলেও র্যাগিং আটকাতে কতৃপক্ষ কড়া হলেই সব সংগঠনই বাধা দিয়ে এসেছে। বহু প্রাক্তনীর মতে গত দেড় দশকে শুধু হস্টেলে নয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও অনেকেই র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি Indian Express য়ে যাদবপুরের এমেরিটা অধ্যাপক সুপ্রিয়া চৌধুরী লিখেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ২০০৯ সালে নতুন পড়ুয়াদের জন্য আলাদা হস্টেলের ব্যাবস্থা করা হয়। সেই সময় এর বিরুদ্ধে সব ছাত্র সংগঠন ই প্রতিবাদে নামে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে Anti Ragging Committee মাঝরাতে হস্টেলে হস্টেলে নজরদারি চালায়। নজরদারি চালিয়ে ২০১৩ সালে দুই ছাত্রকে র্যাগিংয়ের অভিযোগে দুটি সেমেস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু, অভিযুক্তদের বাঁচাতে পড়ুয়ারা উপাচার্য সৌভিক ভট্টাচার্যকে ঘেরাও করেন। কোনো ছাত্র সংগঠনই এর প্রতিবাদ করেনি। এমনকি Dean ও শাস্তির সিদ্ধান্ত বিবেচনা করতে বলেন। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্য পদত্যাগ করেন।প্রাক্তন অধ্যাপিকার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যাদবপুরের র্যাগিংয়ের শিকড় অনেক গভীরে। আর এই অপরাধ চলার পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পক্ষই দায় এড়াতে পারে না। এই কলুষিত পরিবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্ত করতে হবে। তবে বিভিন্ন মহল থেকে যে ভাবে একপেশে সমালোচনা চলছে সেটাও বন্ধ হওয়া উচিৎ। শিক্ষাক্ষেত্রে যাদবপুর যে উৎকর্ষতা ছুঁয়েছে তাকেও স্বীকার করতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে। ২০২২ সালে National Institutional Ranking Framework (NIRF) য়ের সমীক্ষায় এই রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে প্রথম স্থানে ছিল যাদবপুর। গোটা দেশের মধ্যে ছিল চতুর্থ স্থানে। চলতি বছরেও NIRF য়ের তালিকায় দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থান পেয়েছে যাদবপুর। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও দেশের নটি আইআইটির পরে। সম্প্রতি ইসরোর চন্দ্রায়ন team য়েও যাদবপুরের একাধিক অধ্যাপক ও গবেষক বিজ্ঞানী রয়েছেন।আরও পড়ুনঃ যাদবপুর কাণ্ড: সমস্ত জায়গায় সিসি টিভির সিদ্ধান্ত ঝুলে, তবে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ ঘোষণাযে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই গবেষণার মান উচ্চ পর্যায়ের না হলে উৎকর্ষতা ছুঁতে পারে না। উচ্চমানের গবেষণার জন্য অর্থের প্রয়োজন। অথচ ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় অনুদান প্রায় বন্ধ রয়েছে। রাস্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ পায়নি এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির নীতি আয়োগ থেকে অর্থ আসার কথা Special Assistance Program খাতে যে কেন্দ্রীয় অর্থ আসার কথা তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গত ছবছর ধরে Major Research Project প্রকল্পে UGC অনুদান দেওয়া বন্ধ রেখেছে। ২০১৯ সালে UGC যাদবপুরকে দেশের Institutes of Eminence য়ের তালিকায় রাখে। এরফলে পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০০কোটি টাকা অনুদান পাওয়ার কথা ছিল। এই অনুদানের চল্লিশ শতাংশ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। কিন্তু রাজ্য সরকার তা না দেওয়ায় UGC যাদবপুরের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের শিক্ষা বাজেটেও যাদবপুরের জন্য বরাদ্দ প্রায় অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর জন্য বছরে ৫৫-৬০কোটি টাকা প্রয়োজন। তবে চলতি বছরে যাদবপুরের জন্য রাজ্যের বরাদ্দ ২৫ কোটি টাকা। যাদবপুরের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে আর্থিক ভাবে দুর্বল মেধাবী পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ও বিপন্ন হবে। যাদবপুরের কলা বিভাগের পড়ুয়াদের মাসিক বেতন ৭৫ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগে ১৫০ টাকা। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ২০০ টাকা। হস্টেলে থাকার মাসিক খরচ ২৫ টাকা। এই কারণে গ্ৰাম, মফস্বল ও শহরে আর্থিক ভাবে দুর্বল মেধাবী পড়ুয়ারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়ে দেশে বিদেশে নামি দামী প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। অনেকে দেশ বিদেশের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করছেন অথবা পড়াচ্ছেন। এই আকালের সময় এমন একটি শিক্ষা কেন্দ্রকে টিঁকিয়ে রাখাও সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। তাই কাঠ কাটতে গিয়ে গোটা গাছটা কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৩
রাজ্য

বাড়ল দুর্গা পুজোর আর্থিক সহযোগিতা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

১০ দিয়ে শুরু, ২৫, ৫০ থেকে ৬০ ছুঁয়ে এবছর ৭০ হাজার। ২০২২ এর দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান ছিল ৬০ হাজার টাকা। সেই পড়িমান বেড়ে ক্লাব পিছু ৭০ হাজার টাকা করল রাজ্য সরকার। আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দুর্গা পুজো নিয়ে একাধিক ছাড়ের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানান যে, সরকারি বিভিন্ন দফতরের বিজ্ঞাপনও পুজো কমিটিগুলিকে দেওয়া হবে। বিজ্ঞাপন বাবদও কিছু টাকা ক্লাবগুলি পাবে।২০২৩ র এই বছর দুর্গাপুজোর বিসর্জন করারও দিন ধার্য করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো কমিটিগুলিকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন শেষ করে ফেলতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী সেরা পুজোগুলিকে নিয়ে পূজা কার্নিভ্যাল রেড রোডে অনুষ্টিত হবে লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর।মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনার সাথে সাথেই যেনো পুজো কমিটিগুলিতে বেজে উঠলো বাজলো তোমার আলোর বেণু...। তিনি এই অনুদানের ঘোষনার সাথে সাথেই সকলকে অনুরোধ করেন, সকলেই যেন সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রেখে, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শারদীয় উৎসব পালন করেন।আজ মঙ্গলবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যের পুলিশ, প্রশাসন ও বাংলার পুজো কমিটিগুলো নিয়ে বৈঠকে বসেন। সারা রাজ্যের সমস্ত সরকারি অফিসে এই বৈঠক সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেখানেও স্থানীয় জেলাশাসক সহ এলাকার সাংসদ, মহকুমাশাসক, বিধায়ক সহ বিশিষ্ট সরকারি আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন দফতরকে সতর্কতামূলক বিষয়ে নানা পরামর্শ প্রদান করে বলেন, স্কুল ছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে যেন পুলিশের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক পূজা মণ্ডপের প্রবেশ ও বাহিরের পথ যেন আলাদা হয়। প্রাথমিক অগ্নি নির্বাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও মণ্ডপে রাখতে হবে। এছাড়াও প্রতিমা নিরঞ্জনের জায়গায় জলাশয়ের পাশে যেন আলো ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়। যে সমস্ত জায়গায় দর্শক সমাগম বেশি হয় সেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্স, অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকারি জরুরি বিভাগগুলির হেল্পলাইন নম্বরগুলো যেন পুজোর সময় কার্যকারি থাকে। পুজো কমিটিগুলিকে তাঁদের ভিড় নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রতিনিয়ত মাইকে ঘোষণা করতে হবে। সরকার প্রদত্ত জনকল্যাণমূলক হোর্ডিং সকলের দৃষ্টির সামনে লাগাতে হবে। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দফতর বিজ্ঞাপন হিসাবে যে হোর্ডিং দেবে সেগুলিও সঠিক জায়গায় লাগাতে হবে। বাংলার আড়ম্বরপুর্ণ দুর্গাপুজো যে বহু মানুষের এক বিরাট রোজগারের দিশা সেই কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই পুজোকে কেন্দ্র করে বঙ্গে ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজার তৈরি হয়। তিনি প্রত্যেক পুজো কমিটিগুলির উদ্দশ্যে বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন লোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের তাঁরা যেন তাঁদের পুজোয় জায়গা করে দেন। তাঁদেরও যাতে পুজোর সময় কিছু বাড়তি রোজগার হয় সেটাও আমাদের দেখতে হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০ হাজার বারোয়ারিতে দুর্গা পুজো হয়। শহর কলকাতার তিন হাজার বাদ দিলে বাকি ৩৭০০০ পূজা হয় জেলায়। তিনি বিভিন্ন আবাসনের পুজোরও ভুয়াসী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবহণ দপ্তর ও রাজ্য পুলিশকে পুজোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।২০১৮ তে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুজোয় সরকারের তরফ পুজো কমিটিগুলির পাশে দাড়ানোর জন্য ১০হাজার টাকা অনুদান দেন। বছর গড়াতে গড়াতে সেই অনুদান ৭০ হাজারে পৌঁছে গেল। উল্লেখ্য ২০২২ এ পুজো কমিটি পিছু ৬০ হাজার অনুদান ছিল। গতবছর ২০২২ এ সারা রাজ্যে মোট ৪২ হাজার ২৮টি পুজো কমিটিকে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছিল রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। এ ছাড়াও এবছরে বিদ্যুতের বিলে ছাড়ের পরিমানও বাড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গতবছর বিদ্যুতের বিলে ছাড় ছিল ২/৩ এবছরে তে বেড়ে হল ১/৪। তিনি এবিষয়ে সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদকে নির্দেশ দিয়ে দেন এই বৈঠকে।তিনি জানান, ২০২২ থেকেই অগ্নিনির্বাপক সংস্থার অনুমতি বাবদ কোনও টাকা দিতে হয় না। এবছরেও কোনও টাকা দিয়ে হবে না সেই সংক্রান্ত বিষয়ে। তাছাড়া তিনি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার মহিলা পরিচালিত পুজোগুলির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট দফতর গুলিকে।

আগস্ট ২২, ২০২৩
রাজ্য

ফারাক্কা সেতুতে মালগাড়ি-ট্রাকের সংঘর্ষ, বড় বিপদ থেকে রক্ষা

মালদার ফারাক্কা সেতুতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা মারল পণ্য বোঝাই ট্রাক। সেই সময় ডাউন লাইন দিয়ে যাচ্ছিল একটি মালগাড়ি। সেই লরির সঙ্গে ধাক্কা লাগে মালগাড়ির। মুহূর্তের মধ্যে এই দুর্ঘটনায় ফারাক্কা ব্যারেজে রেলপথ এবং সড়কপথে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এই দুর্ঘটনার খবর জানতে পেরে এই ব্যারেজে কর্মরত কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জাওয়ানেরাও তড়িঘড়ি সেখানে ছুটে আসে। এরপর ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।জানা গিয়েছে, মালদার দিক থেকে মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাচ্ছিল একটি পন্য বোঝাযই ট্রাক। চালকের ভুলেই সেই লরিটি আচমকায় ফারাক্কা ব্যারেজের রেললাইন এবং রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। লরির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। জখম হয় ওই লরির চালক। সেই মুহূর্তেই ডাউন লাইন দিয়ে একটি মালগাড়ি যাচ্ছিল। সেই মালগাড়ির সঙ্গে দুর্ঘটনাগ্রস্ত পণ্য বোঝায় লরির হালকা সংঘর্ষ বাঁধে । যদিও তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যদি ওই মাল গাড়ির বদলে যাত্রীবাহী কোন এক্সপ্রেস ট্রেন থাকতো, তাহলে ভয়ানক ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই ঘটনায় ফারাক্কা ব্রিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এদিকে মঙ্গলবার এই ঘটনার বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি রিপোর্ট রাজ্য প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে মালদা এবং মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন। পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, সম্ভবত ওই লরির চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়েছিল। যার কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।তদন্তের পর দুই জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা জানতে পেরেছে, এতটাই গতি ছিল যে রেলিং ভেঙে মালগাড়িতে ধাক্কা মারে ট্রাকটি। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ট্রাক্টারকে ধাক্কা মারে ওই লরিটি। পরে ফারাক্কা ব্যারেজের রেলিং ভেঙে ডাউন মালগাড়িতে ধাক্কা মারে। এমার্জেন্সি ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ে মালগাড়িটি। মালগাড়ি চালকের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর আতঙ্কে পড়ে যান অন্যান্য গাড়ির চালকেরাও। এর দরুন দীর্ঘক্ষণ ফারাক্কা ব্যারেজের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

আগস্ট ২২, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 69
  • ...
  • 193
  • 194
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টি! কোন জেলায় অতিভারী বর্ষণের সতর্কতা?

বর্ষার মরশুমে প্রথম বড় আবহাওয়াগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন একই এলাকায় অবস্থান করে আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। এর প্রভাবেই শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একাধিক জেলায় জারি হয়েছে হলুদ (Yellow Alert) এবং কমলা (Orange Alert) সতর্কতা।নিম্নচাপের জেরে বাড়বে বৃষ্টির দাপটআবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি বৃদ্ধি করবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।শুক্রবার কোন কোন জেলায় বৃষ্টি?শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।শনিবার দুই জেলায় কমলা সতর্কতাশনিবার পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা।অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিচু এলাকায় জল জমা, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।রবিবার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে এই জেলাগুলিতেরবিবার নিম্নচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে।অতিভারী বৃষ্টির (৭০২০০ মিমি) সম্ভাবনা রয়েছেপশ্চিম মেদিনীপুরঝাড়গ্রামবাঁকুড়াপুরুলিয়াএই চার জেলার জন্য জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা।এছাড়াও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।সোমবারও মিলবে না স্বস্তিসোমবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নলিখিত জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারেপূর্ব মেদিনীপুরপশ্চিম মেদিনীপুরদক্ষিণ ২৪ পরগনাপশ্চিম বর্ধমানবাঁকুড়াপুরুলিয়াবীরভূমকবে থেকে কমবে বৃষ্টি?আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তবে বুধবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ নিম্নচাপের প্রভাব পুরোপুরি কাটতে সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।মৎস্যজীবীদের জন্য জরুরি সতর্কতাবঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকার আশঙ্কায় সোমবার পর্যন্ত উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সমুদ্রে প্রবল বাতাস এবং উঁচু ঢেউয়ের কারণে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদ স্থানে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের পরামর্শপ্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে জলাবদ্ধ এলাকায় যাতায়াত না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেটের দিকে নজর রাখারও আবেদন করা হয়েছে।বর্ষার শুরুতেই তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপ দক্ষিণবঙ্গে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকে নজর রয়েছে আবহাওয়াবিদদের। আগামী চার দিন রাজ্যের আবহাওয়া যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন এবং যান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

জুলাই ০৩, ২০২৬
রাজ্য

এবার আর রক্ষা নেই! নিম্নচাপের দাপটে বাংলায় প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা, কোন কোন জেলা সবচেয়ে ঝুঁকিতে?

জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি থাকলেও জুলাইয়ের শুরুতেই বদলে গেল আবহাওয়ার ছবি। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় পঞ্চাশ থেকে ষাট কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুতেরও আশঙ্কা রয়েছে।শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে নিম্নচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও একদিনে প্রায় দুইশো মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবিবার কলকাতার জন্যও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।এই বৃষ্টি একদিকে কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে পারে। নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হতে পারে।নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণে শুক্রবার থেকে মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সুন্দরবন উপকূল এলাকায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মাইকিং করে সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছে। যাঁরা আগে থেকেই মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির জেরে নদীভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে। বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ডাঙ্গি এলাকার নদীতীরে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চলের একের পর এক গাছ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে বাড়িঘর, চাষের জমি এবং বনাঞ্চলের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে। তবে একই সময়ে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জুলাই ০৩, ২০২৬
বিদেশ

পাঁচ দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে! শেষমেশ যা করল ছোট্ট কুকুরটি, চোখে জল নেটদুনিয়ার

ভয়াবহ ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা। হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মাঝেই সামনে এল এক আশ্চর্য ঘটনা। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা প্রায় পাঁচ দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হল জিসেল নামে একটি পোষ্য কুকুর। সেই উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই আবেগে ভাসছে সমাজমাধ্যম।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবাল্লেদা এলাকা থেকে জিসেলকে উদ্ধার করেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। গত বুধবার অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই বিপর্যয়ে বহু বাড়ি ভেঙে পড়ে এবং প্রাণ হারান এক হাজার নয়শোরও বেশি মানুষ।উদ্ধারের পর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনতেই উদ্ধারকারী দলের এক সদস্যের মুখ চেটে দেয় জিসেল। আনন্দে লেজ নাড়াতে থাকে সে। এরপর তাকে জল খাওয়ানো হয় এবং তার শরীরে কোনও গুরুতর আঘাত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা।উদ্ধারের এই ভিডিও ভাগ করে নিয়ে একটি আবেগঘন বার্তা দেন এল সালভাদরের রাষ্ট্রপতি নায়িব বুকেলে। তিনি জানান, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর জিসেলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবেদন করেন, যদি কেউ কুকুরটির মালিক হন, তবে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখিয়ে উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে।ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। অসংখ্য মানুষ জিসেলের বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক বলে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, উদ্ধারকারীদের প্রতি ছোট্ট প্রাণীটির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।একজন লিখেছেন, একটি অবলা প্রাণীর ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার মতো নির্মল অনুভূতি খুব কমই দেখা যায়। আবার আরেকজনের মন্তব্য, মানুষের উচিত প্রাণীদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার শিক্ষা নেওয়া। আরও একজন লেখেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কত নিরীহ প্রাণী আটকে রয়েছে, সেই কথা ভাবলেই মন ভারী হয়ে যাচ্ছে। জিসেলের এই অলৌকিক প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি উদ্ধার নয়, ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যেও নতুন আশার আলো হয়ে উঠেছে।

জুলাই ০২, ২০২৬
রাজ্য

ভোর হতেই বড় অভিযান! শওকত মোল্লার ছেলের ক্যাফেতে বুলডোজার, মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল সব

মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনিভাবে ক্যাফে তৈরির অভিযোগে শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের ক্যাফে ভাঙার কাজ শুরু করল জেলা প্রশাসন। আগেই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রশাসন নিজেই বুলডোজার নামিয়ে অভিযান চালায়।ভোর থেকেই ক্যাফের সামনে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদেরও রাখা হয় ঘটনাস্থলে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শুরু হয় ভাঙার কাজ। প্রথমে বুলডোজার দিয়ে ক্যাফের প্রধান প্রবেশদ্বার ভেঙে ফেলা হয়। এরপর একে একে ভেঙে দেওয়া হয় ক্যাফের ভিতরের বিভিন্ন নির্মাণ এবং সাজানো বাগানের অংশ।এর কয়েক দিন আগেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্যাফে ভেঙে ফেলতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন নিজেই ব্যবস্থা নেবে। নোটিসের পর ক্যাফে থেকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণ ভাঙা হয়নি। এরপরই প্রশাসন আইন অনুযায়ী অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।এই ভাঙার কাজ ক্যানিং পূর্বের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমির উপর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুনানি করা হয়। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজ উদ্যোগে নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর সরকারি নিয়ম মেনেই ভাঙার কাজ শুরু করা হয়েছে।উল্লেখ্য, এই ক্যাফে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। মাতলা নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত ভাঙার নির্দেশ কার্যকর করা হল।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

মহুয়াকে ঘিরে হামলার অভিযোগ, এবার পাশে সিপিএমের বিকাশ! এক মন্তব্যেই শুরু নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

কালীগঞ্জে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে হেনস্থার অভিযোগের ঘটনায় এবার তাঁর পাশে দাঁড়ালেন সিপিএম নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা সত্ত্বেও একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে এমন আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।বুধবার কালীগঞ্জে একটি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। অভিযোগ, সেই সময় বৈঠক চলাকালীন বাইরে জড়ো হওয়া একদল বিক্ষোভকারী ঘরের জানালা লক্ষ্য করে ডিম, কাদা এবং গোবর ছুড়তে শুরু করেন। পাশাপাশি চোর বলে স্লোগানও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় মহুয়া সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, জানালা দিয়ে একের পর এক ডিম ছোড়া হচ্ছে এবং তা ঘরের ভিতরেও এসে পড়ছে। এই ঘটনার জন্য দলের একাংশের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য লেখেন, মহুয়া মৈত্র তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে পারেন, কিন্তু তিনি একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কোনও অভিযোগ তাঁর জানা নেই। তাই যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে, তা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সকল সচেতন মানুষের প্রতিবাদ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় নিজের অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর পক্ষে আদালতে সওয়াল করায় তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রয়োজনে আদালতে দাঁড়াতেও আপত্তি নেই বলে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল।এদিকে কালীগঞ্জের ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন। তবে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।ঘটনার প্রকৃত দায় কার, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত থাকলেও কালীগঞ্জের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

তিলোত্তমা মামলায় বিস্ফোরণ! ভিসেরা নমুনা নষ্টের অভিযোগে সামনে চাঞ্চল্যকর চিঠি, আদালতে বড় পদক্ষেপ পরিবারের

তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ফের সামনে এল নতুন বিতর্ক। এবার রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য রাখা নমুনা নষ্ট ও বদলে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তিলোত্তমার পরিবার। এই অভিযোগের ভিত্তি একটি চিঠি, যা সম্প্রতি তিলোত্তমার বাবার কাছে পাঠিয়েছেন এক প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিক।পরিবারের দাবি, ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক তিলোত্তমার ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছেন। আরও অভিযোগ, তিলোত্তমার লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা পরে বদলে ফেলা হয়। এই নমুনাগুলির মাধ্যমে তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছিলেন, তিলোত্তমার শরীরে কোনও বিষক্রিয়া হয়েছিল কি না বা তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল কি না। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই গুরুত্বপূর্ণ নমুনা আর আগের অবস্থায় ছিল না।চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগার থেকে কেন্দ্রীয় ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর সময়ও ভিসেরা নমুনা বদলে দেওয়া হয়। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজ হয়েছে বলেও ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।তিলোত্তমার পরিবারের সিদ্ধান্ত, এই চিঠি শিয়ালদহ আদালতে বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে, যাতে অভিযোগগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে খুন হওয়া বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও একই তিন আধিকারিক ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

জুলাই ০২, ২০২৬
দেশ

প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী, কেউই রেহাই পাবেন না! এক নতুন বিলে বদলে যেতে পারে দেশের রাজনীতি

দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী গুরুতর অপরাধের মামলায় টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে তাঁকে পদ ছাড়তে হতে পারে। এমনই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থাকা সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আবারও জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনেই এই বিল নিয়ে আলোচনা এবং পাসের উদ্যোগ নিতে পারে কেন্দ্র।জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ জুলাই যৌথ সংসদীয় কমিটি এই বিল নিয়ে তাদের রিপোর্ট জমা দিতে পারে। সেই রিপোর্টে বিতর্কিত ধারাটি বহাল থাকতে পারে বলেই খবর। প্রস্তাব অনুযায়ী, যে সব অপরাধে পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিধান রাখা হতে পারে।তবে আইন যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়েও কিছু সুরক্ষামূলক সুপারিশ রিপোর্টে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনেই বিলটি সংসদে তোলা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তামিলনাড়ুর তৎকালীন মন্ত্রী ভি সেন্থিল বালাজি গ্রেফতার হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই ঘটনার পরই গত বছর এই সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।বিরোধীদের প্রবল আপত্তির জেরে বিলটি সরাসরি পাস না করে যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর নেতৃত্বে একত্রিশ সদস্যের একটি কমিটি বিলটি খতিয়ে দেখছে। তবে তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং ডিএমকে এই কমিটিতে যোগ দেয়নি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বর্তমান সংসদীয় সমীকরণে সরকার এই বিল পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ সংবিধান সংশোধনের জন্য লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। তাই আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই বিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে।উল্লেখ্য, এই বিল এখনও আইন হয়ে যায়নি। সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই এটি কার্যকর হতে পারে।

জুলাই ০২, ২০২৬
কলকাতা

এক সপ্তাহও টিকল না রক্ষাকবচ! পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেফতার দেবরাজ, সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

রক্ষাকবচ খারিজ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার হলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বেঙ্গল বিশেষ অভিযান বাহিনী। তোলাবাজি ও হিংসার মামলায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।দেবরাজ চক্রবর্তী একসময় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার যুব নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। পাশাপাশি রাজারহাট, নিউটাউন ও বাগুইআটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ। বহুদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের একাংশও এই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি পূর্ণেন্দু বসুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে সুজিত বসুর সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে নিজের সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ান। পরবর্তী সময়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও রাজনৈতিক মহলে পরিচিতি পান।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এলাকার প্রোমোটারদের হুমকি দেওয়া, তোলাবাজি এবং অর্থ আদায়ের মতো একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে দেবরাজের বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় সরকারি কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে উঠেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।দেবরাজের স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির নামও এখন আলোচনায়। অভিযোগ, বিধায়ক থাকাকালীন এলাকায় সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণের বড় অংশই সামলাতেন দেবরাজ। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে অদিতি মুন্সির কোনও ভূমিকা বা তথ্য ছিল কি না। প্রয়োজনে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও তদন্তকারী সূত্রের দাবি।এদিকে রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং আগেই অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদতেই দেবরাজ উত্তর চব্বিশ পরগনায় দুর্নীতির বিস্তৃত জাল গড়ে তুলেছিলেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনও আদালত-স্বীকৃত প্রমাণ সামনে আসেনি।অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে মনোনয়নপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। দেবরাজের গ্রেফতারের পর এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দেবরাজের সম্পত্তির একটি অংশ অদিতি মুন্সির নামেও ছিল। পাশাপাশি তিনি আরও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখার দাবি জানান।উল্লেখ্য, আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সি। চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে সাময়িক রক্ষাকবচ দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। তার এক সপ্তাহের মধ্যেই গ্রেফতার করা হল তাঁকে। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

জুলাই ০২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal