স্বাধীনতার ৭৯ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। চাঁদে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। দেশ জুড়ে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব। অথচ পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামে এত দিন ছিল না বিদ্যুতের সংযোগ। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ডুবে যেত গোটা গ্রাম। কেরোসিনের লণ্ঠন কিংবা অন্য আলো জ্বালিয়েই রাত কাটাতে হত বাসিন্দাদের। অন্ধকারেই পড়াশোনা করতে হত শিশুদের। গরমের সময় দুর্ভোগ আরও বাড়ত। অবশেষে দীপাবলির আগে সেই ছবিটা বদলাল। তারকেশ্বরের চাকদহ গ্রামে পৌঁছল বিদ্যুৎ। নতুন আলোয় খুশি প্রায় ৪০০ আদিবাসী পরিবার।হুগলির তারকেশ্বরের অষ্টরদত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত চাকদহ গ্রাম। সেখানে প্রায় ৪০০ আদিবাসী পরিবারের বাস। দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামে বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। ফলে সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে ডুবে যেত গোটা এলাকা। পড়াশোনা থেকে শুরু করে রান্নাবান্না, সংসারের নানা কাজ করতে সমস্যায় পড়তেন বাসিন্দারা।জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে এই সমস্যার কথা জানতে পারেন এলাকার বর্তমান বিধায়ক সন্তু পান। সেই সময় তিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধানের পথ বের হয়।অবশেষে দীপাবলির আগে চাকদহ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি বাড়িতে নতুন মিটার বক্স বসানো হয়েছে। আরও শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক সন্তু পান।স্থানীয় সূত্রে খবর, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে হাসির আলো প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামে পানীয় জলের ব্যবস্থার বিষয়টিও ভাবনাচিন্তার মধ্যে রয়েছে।গ্রামবাসীদের কথায়, কয়েক বছর আগেই এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছয়নি। ফলে এত দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। কেন এতদিন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও এখন সে সব নিয়ে ভাবতে চাইছেন না বাসিন্দারা।দীপাবলির আগে ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছনোয় স্বাভাবিক ভাবেই খুশি গ্রামের মানুষ। এত দিন যে অন্ধকার ছিল তাঁদের নিত্যসঙ্গী, সেই অন্ধকার কাটিয়ে এ বার নতুন আশায় বুক বাঁধছেন চাকদহের বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, বিদ্যুতের পাশাপাশি পানীয় জলের সমস্যারও দ্রুত সমাধান হবে।