• ১২ ভাদ্র ১৪৩৩, রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

খেলার দুনিয়া

খেলার দুনিয়া

এবার দুটি স্টেন্ট বসল সৌরভের, হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী

বুকে ব্যথা নিয়ে গতকাল অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ব্লকেজের জন্য তাঁর দুটি স্টেন্ট বসানো হয়েছে। সৌরভ সুস্থ আছেন। স্টেন্ট বসান ডা. আফতাব খান। তত্বাবধানে ছিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেবী শেঠি ও অশ্বিন মেহতা। তাছাড়া চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।এদিন বিকেলে সৌরভকে দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌরভকে দেখে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সৌরভের দুটি স্টেন্ট বসেছে। সৌরভ ভাল আছেন। সকালে তাঁকে দেখতে এসেছিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। গত ২ জানুয়ারি বুকে ব্যথা হওয়ায় ক্রিকেটের মহারাজকে উডল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন একটি স্টেন্ট বসাতে হয়েছিল। ৭ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। তারপর বাড়িতেই বিশ্রামে ছিলেন। ফের বুকে ব্যথা হওয়ায় বুধবার প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ককে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানুয়ারি ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

রাহানেদের দেওয়া শততম টেস্টের উপহারে আপ্লুত নাথান লায়ন

৯ দিন পেরিয়ে গেছে ব্রিসবেন-এর সেই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যচ। কিন্তু নাথান লায়ন-এর মনে জ্বলজ্বল করছে তাঁকে দেওয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের শততম টেস্টের উপহার। বর্ডার-গাভাসকার সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচটি ছিল নাথান লায়নের শততম টেস্ট। লায়নের আগে ১২ জন অস্ট্রেলিয় ক্রিকেটার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটাররা নাথান-এর শততম টেস্টের মুহুর্তটিকে স্মরনীয় করে রাখতে তাঁদের স্বাক্ষর করা জার্সি উপহার দেয়। নাথান তার অফিসিয়াল ইন্সটাগ্রাম থেকে পোস্ট করে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ধন্যবাদ জানান।View this post on InstagramA post shared by Nathan Lyon (@nath.lyon421)লায়নের শততম টেস্ট জয়লাভ করে ভারতীয় দল। যদিও লায়ন সেই সব নিয়ে কিছু মন্তব্য করেননি। পোষ্ট করে তিনি লেখেন, এক সপ্তাহ হল বাড়ি ফিরেছি। এই গ্রীষ্মে নিজেকে আনেকটাই মেলে ধরতে পেরেছি। আমার সব সময়ই স্বপ্ন ছিল টিম অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ব্যাগি গ্রিন টুপি পরা। একটা টেস্ট খেলতে পারলেই আমার স্বপ্ন হয়ত পূরণ হতো, সেখানে আরও ৯৯টা টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছি। খেলার সুযোগ পাওয়ায় এমন কিছু বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে যা সারা জীবনের সঙ্গী হয়ে থাকবে। ব্রিসবেনে শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে পেরে আমি ভীষনভাবে গর্বিত। জিততে পারিনি ঠিকই, কিন্তু অনেক কিছু শিক্ষালাভ করতে পেরেছি।লায়ন অস্ট্রেলিয়াকে জেতাতে না পারলেও ভারতকে অভিনন্দন জানাতে কার্পন্য করেননি। তিনি ভারতীয়দের উদ্দেশ্য করে লেখেন, রাহানে, তোমাদের বিশেষ অভিনন্দন। তোমাদের খেলোয়াড়ি মনোভাব এবং উপহারে আমি আপ্লূত। আমার সংগ্রহের তালিকায় এই সই করা জার্সিটি এক বিশেষ স্থান পাবে।A wonderful memento from a classic Test series.Next on the agenda 400 Test Wickets @NathLyon421 #AUSVIND pic.twitter.com/JEVt7kDFZl ICC (@ICC) January 27, 2021জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জানুয়ারি ২৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ফের বুকে ব্যথা, হাসপাতালে ভর্তি সৌরভ

বুকে ব্যথা অনুভব করায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকরা। বুধবার তাঁকে ভর্তি করা হয় বাইপাসের ধারে এ্যাপেলো হাসপাতালে। গ্রিন করিডোর করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর বিভিন্ন শারীরিক টেস্ট করেছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। ডা. সরোজ মন্ডল, ডা. আফতাব খান সহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার বাইরের বিশিষ্ট চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২ জানুয়ারি শারীরিক অসুস্থতা বোধ করায় ভর্তি করা হয়েছিল উডল্যান্ড হাসপাতালে। হার্টে ব্লকেজ ধরা পরায় তখন একটি স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ৭ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতেই বিশ্রামে ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে বিসিসিআই সভাপতির শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয়। তারপর আজ, বুধবার দুপুরে বুকে ব্যথা অনুভব করেন সৌরভ। তখন চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। তাই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। যদিও এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানানো হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই হাসপাতালে ঢুকেছেন সৌরভ। হাসপাতালে এসেছেন সৌরভের স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সৌরভের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।

জানুয়ারি ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

দেশে ফিরলেন বীর ভারতীয় ক্রিকেটাররা

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বর্ডার-গাওস্কর ট্রফি নিজেদের দখলে রেখে দেশে ফিরল টিম ইন্ডিয়া। ঐতিহাসিক জয়ের নায়করা বৃহস্পতিবার দেশে ফিরলেন। চোট আঘাতে জর্জরীত প্রথম একাদশের একাধিক গুরুত্ত্বপূর্ণ খেলোয়াড় না থাকলেও দুর্দান্ত এই জয়ে উচ্ছসিত ভারতের আপমোর ক্রীড়াপ্রেমী। তৃপ্তি দিয়েছে আট থেকে আশি সকলকেই। Indian cricketers who have returned from Australia today allowed to leave for their homes, they were not quarantined, says Brihanmumbai Municipal Corporation (BMC) https://t.co/n8hHbusJcb ANI (@ANI) January 21, 2021করোনা অতিমারির নির্দেশিকা না থাকলে হয়তো ক্রিকেটপ্রেমীদের ভিড়ে বিমানবন্দর উপচে পড়তো। দিল্লি বিমানবন্দরে নেমে এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাব্বার নায়ক ঋষভ পন্থ বলেন, ট্রফি আমাদের দখলে রাখতে পেরে আমরা দারুণ খুশি । যে ভাবে সিরিজটা আমরা খেলেছি তাতে পুরো দল খুশি। মুম্বই বিমানবন্দরে অবতরন করেন অজিঙ্ক রাহানে সহ রোহিত শর্মা, পৃথ্বী শ এবং টিম ম্যানেজার রবি শাস্ত্রী।Delhi | I am so happy that we retained the trophy. The whole team is very happy with the way we played the series: Indian cricketer Rishabh Pant on his return to India after winning the BorderGavaskar Trophy in Australia pic.twitter.com/V87RiDt9oE ANI (@ANI) January 21, 2021দুবাই-এ আইপিএল। তার পর এই সূদীর্ঘ অস্ট্রেলিয়া সফর। ক্রিকেটাররা বেশ কয়েক মাস পর দেশে ফিরলেন। জানুয়ারি মাসের শেষেই জৈব সুরক্ষা বলয়ে আবার ঢুকে পড়তে হবে ক্রিকেটারদের, আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের মাটিতে শুরু হবে ইংল্যান্ড সিরিজ। তার আগে কিছু দিনের জন্য স্বস্তি ক্রিকেটারদের। সুদীর্ঘ কঠিন সফরের শেষে কিছু দিনের জন্য তারা নিজের নিজের বড়িতে প্রিয় মানুষদের সাথে সময় কাটিয়ে আবার লড়াই-এর রসদ নিয়ে মাঠে ফিরবেন। ভারতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার মটিতে এক দিনের ২-১ সিরিজে হেরে গেলেও, টি-২০ ও টেস্ট সিরিজ ২-১ ছিনিয়ে নেয় ভারত। শুধুমাত্র একটা সিরিজ জয়লাভ নয়, এই সিরিজ থেকে একাধিক নতুন আন্তর্জাতীক মানের ক্রিকেটার পেয়ে গিয়েছে ভারত। ক্রিকেট বিশারদ-দের মতে, একটা দল ততটাই ভাল যার রিজার্ভ বেঞ্চ যতটা শক্তিশালী। ভারত, শুভমন গিল-র মত ঠাণ্ডা মাথার ওপেনার, টি নটরাজন, মহম্মদ সিরাজ, নবদীপ সাইনি, শার্দূল ঠাকুরদের মত নিখাদ পেস বোলার যারা চোখে চোখ রেখে বোলিং-এ আগুন ঝরাতে পারেন, ওয়াশিংটন সুন্দর-এর মতো অলরাউন্ডার যেমন পেয়েছে, তেমনই ঋষভ পন্থ-ও আবার নতুন করে নিজেকে প্রমানিত করলেন এই সিরিজে।আইসিসি টুইটার থেকে জানা যায়ঃ ঋষভ পন্থকে একটি গান উৎসর্গ করল আইসিসি। আইসিসি-র টুইটারে বুধবার স্পাইডারম্যানের একটা ছবিতে পন্থের মুখ বসিয়ে একটি পোস্ট করেন তারা। গানটিও উল্লেখ রয়েছে সেখানেই। 🎶Spider-Pant, Spider-PantDoes whatever a spider canHits a six, takes a catchGuiding India to the matchLook out!Here comes the Spider-Pant🎶@RishabhPant17 🕷️ | #AUSvIND pic.twitter.com/3MbmEozLQ2 ICC (@ICC) January 20, 2021ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের চতুর্থ তথা শেষ টেস্ট ম্যাচে ব্রিসবেনে চতুর্থ দিনে পন্থকে স্পাইডারম্যান, স্পাইডারম্যান গান করতে শোনা যায়। সেই সুত্রেই তাঁকে এই গান উৎসর্গ করেছে আইসিসি। তারা টুইটে স্পাইডারম্যানকে স্পাইডার-প্যান্ট বলে লেখে। গাব্বায় শেষ দিনে পন্থের ম্যাচ জেতানো ৮৯ রানে অপরাজিত থেকে পন্থ ইনিংসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। আইসিসি-র তরফে এমন অভিনব উপহার পন্থকে আরও উৎসাহিত করবে, তা বলাবাহুল্য।জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জানুয়ারি ২১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

নেট-বোলার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বধ, গাব্বায় ইতিহাস

গাব্বার মাঠে মঙ্গলবার ইতিহাস তৈরি করলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। চিন-মিউজিক শোনানো মাঠে এই প্রথমবার জয়লাভ করল ভারতীয় দল। ৩ উইকেটে হাতে নিয়ে ৩২৮ রানের লক্ষ্য পার করে জয়লাভ করায় বর্ডার-গাওস্কর ট্রফি রইল ভারতের দখলেই। গতবার বিরাট কোহালির নেতৃত্বে সিরিজ জেতা যদি ইতিহাস হয়ে থাকে, তাহলে নেট-বোলার নিয়ে রাহানেদের এই জয় ক্রিকেটের ইতিহাসে লোকগাথা হয়ে থাকবে।চোট আঘাতে জর্জরিত ভারতীয় দল প্রথম একাদশ নামাতেই হিমশিম অবস্থা। জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকার জন্য নতুন কোন ক্রিকেটারকেও দেশ থেকে আনা যাচ্ছিল না। বেগতিক অবস্থায় নেট বোলার হিসাবে নিয়ে যাওয়া নটরাজনকে প্রথম একাদশে রাখতে হয়েছিল। ম্যাচ-এর শেষ দিনে ৩২৮ রান তাড়া করে জয় স্বপ্নেও কল্পনা করা কঠিন। সেই স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছিল চতুর্থ টেস্ট-এর পঞ্চম দিন, চোট পেয়েও ব্যাট করতে নেমে হনুমা বিহারি ও রবীচন্দ্রন আশ্বিন উইকেট কামড়ে সেই অনবদ্য লড়াইয়ের যুগলবন্দী যা এক হারা ম্যাচকে অমীমাংসিত করতে বাধ্য করেছিল অস্ট্রেলিয়াকে। সেই স্বপ্নকে লোকগাথায় পরিণত করেন তরুণ ওপেনার শুভমন গিল। চেতেশ্বর পূজারা যখন চীনের প্রাচীরের মত একদিক আটকে অর্ধ-শতরান করছেন, শুভমন গিল তখন বুক চিতিয়ে উইকেট-এর অপরদিক থেকে পাল্টা মার দিয়ে স্কোরবোর্ড চালু রেখে চলেছেন। গিল টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম সেঞ্চুরির সামান্য আগে আউট হয়ে ফিরলেন। সেঞ্চুরি না এলেও জয়ের গন্ধ টিম-ইন্ডিয়া সাজঘর অবধি পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। অধিনায়ক রাহানের ছোট্ট ইঙ্গিত পুর্ণ ইনিংস যেন বুঝিয়ে দিল অমীমাংসিত সিরিজ নয় জিতেই ফিরতে চায় টিম-ইন্ডিয়া।পূজারার অনবদ্য ইনিংস, রাহানের ইঙ্গিতপুর্ণ ব্যাটিং ভারতকে জয়ের রাস্তা দেখাতে শুরু করলেও, তাঁরা কাজ শেষ করে আসতে পারেননি। রাহানের হাত থেকে রিলে রেসের ব্যাটন কেড়ে নিয়ে স্বপ্নের ইনিংস খেলে ৮৯ রানের অপরাজিত থেকে সেই লোকগাথা লিখলেন ঋষভ পন্থ। তিনি শুধু ভারতকে একটি টেস্ট বা সিরিজ জেতালেন না, প্রথম একাদশে নিশ্চিত ভাবা আনেক খেলোয়াড়কেই একটা বার্তা দিয়ে গেলেন, কেউই অপরিহার্য নয় দলে। পারফরমেন্স-ই শেষ কথা, ভারি ভারি নাম নয়। বিশেষঞ্জদের মতে, পন্থ-এর এই সিরিজের পারফরমেন্স বাংলার ঋদ্ধিমান সাহার দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে উঠল। তাঁদের মতে, এই জয়ের পর ভারতের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে পন্থকে হয়ত আর ভাবতে নাও হতে পারে। ব্রিসবেন-এর মাঠে এক নতুন টিম ইন্ডিয়ার জন্ম হল। যে দল বিপক্ষের টিম-লিস্ট দেখে না ঘাবড়ে, চোখে চোখ রেখে শেষ বল অবধি লড়তে জানে।Just a remarkable win...To go to Australia and win a test series in this way ..will be remembered in the history of indian cricket forever ..Bcci announces a 5 cr bonus for the team ..The value of this win is beyond any number ..well done to every member of the touring party.. Sourav Ganguly (@SGanguly99) January 19, 2021অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের টেস্ট সিরিজ জয়ের পর বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ টুইট করে রাহানেদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সৌরভ লিখেছেন, অনবদ্য জয়। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এইভাবে সিরিজ জয় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দলের প্রত্যেকে খুব ভাল করেছে। বোর্ডে সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি টুইট করে টীম ইন্ডিয়ার জন্য ৫ কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করেন। টুইটে সৌরভ লেখেন, টিম ইন্ডিয়ার জন্য বিসিসিআই ৫ কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা করছে। কোনও ভাবেই মুল্য দিয়ে এই জয়ের তাৎপর্য বোঝানো যাবে না।ম্যাচ রিপোর্টঃ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জানুয়ারি ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

বিরাটের লক্ষ্মীলাভ

বিরাটের লক্ষ্মীলাভ। সোমবার দুপুরে কন্যা সন্তান-এর জন্ম দেন আনুস্কা শর্মা। খবরটি জানিয়ে টুইট করেছেন বিরাট কোহালি নিজেই। তিনি লিখেছেন, খুব আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি যে, আমাদের কন্যাসন্তান হয়েছে। আপনাদের ভালবাসা ও মঙ্গলকামনার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদের কন্যা ভাল আছে। আমরা দুজনেই খুব সৌভাগ্যবান যে জীবনের এই অধ্যায় আমাদের দেখার সুযোগ হল। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝবেন, এই সময় আমাদের কিছুটা ব্যক্তিগত পরিসর জরুরি। তাই সকলের কাছে এ ব্যাপারে সহযোগিতা চাইছি।প্রসঙ্গত অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঝ পথেই প্রথম টেস্ট খেলে ভারতে চলে এসেছিলেন বিরাট। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতেই তিনি ফিরে এসেছিলেন। আজ সোমবার তৃতীয় টেষ্টের পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ষষ্ঠ জুটিতে হনুমা বিহারি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ২২ গজের বিনা যুদ্ধে না দিব সুচাগ্র মেদিনী মনোভাব যেন অধিনায়কের পাশে থাকার বার্তা। Virat Kohli and Anushka Sharma blessed with a baby girl, the Indian cricket skipper announces on Twitter. pic.twitter.com/LtsgI3o1IJ ANI (@ANI) January 11, 2021বিরাটের টুইটের সাথে সাথেই লাইক-এর সুনামী ষুরু হয়ে যায়। বার্তাটি শেয়ারও হতে থাকে বারবার।বিরট অনুরাগী ছাড়াও বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন বিরাট অনুষ্কাকে।

জানুয়ারি ১১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

অষ্ট্রেলিয়ায় জোর ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে

বর্ডার গাভাসকার টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন লোকেশ রাহুল। আবার চোটের কবলে ভারতীয় দল। মেলবোর্নে নেটে ব্যাট করার সময় বাঁ হাতের কব্জিতে চোট পান কে এল রাহুল। টেস্ট সিরিজের শেষ ২টি টেস্ট ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন ভারতীয় দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটসমান। বিসিসিআই সূত্রে জানা যাই চোটের কারণেই তাঁকে এই সিরিজে আর পাওয়া যাবে না।বিসিসিআই-এর আফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডল ও ওয়েবসাইট-এ মঙ্গলবার জানানো হয়, ২রা জানুয়ারি শনিবার মেলবোর্নে অনুশীলনের সময় বাঁ হাতের কব্জিতে চোট পান রাহুল। চেই চোট পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে নুন্যতম ৩ সপ্তাহ লাগবে তাঁর পুরোপুরি সুস্থ হতে। সে কারনে বর্ডার-গাওস্কর ট্রফির শেষ ২ টেস্ট ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না। কে এল রাহুল কে ভারতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, জানান বিসিসিআই সচিব জয় শাহ। তিনি জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে এসে চোটের চিকিৎসা করাবেন।ভারতীয় দলের ওপেনার রোহিত শর্মা তৃতীয় টেস্ট থেকে দলে ফিরছেন। ভারতীয় দলের পরিকল্পনায় ছিল রোহিত-এর সঙ্গে রাহুলকেও প্রথম একাদশে রেখে শক্তিশালী করা হতে পারে মিডল অর্ডারকে। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হল না। এতিমধ্যেই চোটের জন্য দুই নির্ভরযোগ্য দ্রুতগতির বোলার মহম্মদ শামি এবং উমেশ যাদবকে সিরিজের মাঝে হারিয়েছে ভারত।UPDATE: KL Rahul ruled out of Border-Gavaskar Trophy.More details 👉 https://t.co/G5KLPDLnrv pic.twitter.com/S5z5G3QC2L BCCI (@BCCI) January 5, 2021

জানুয়ারি ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

কাল হাসপাতাল থেকে ছুটি পাচ্ছেন সৌরভ

প্রত্যাশামতোই হাসপাতাল থেকে কাল ছাড়া পেতে চলেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আজ সকালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেট্টি কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে সৌরভকে দেখে জানান, সঠিক সময়ে হাসপাতালে আসার পর প্রথম বিশ্বের মতো চিকিৎসা হয়েছে। হার্টের কোনও ক্ষতি হয়নি। যে ব্লক আছে তা সকলের হতে পারে। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হবে কিনা তা ধীরেসুস্থে দু সপ্তাহের মধ্যে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সৌরভের বুকে ব্যথা নেই। দেখে মনে হচ্ছে কুড়ি বছর আগের সৌরভ। তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। ম্যারাথনে দৌড়াতে পারেন। এমনকী বাইপাস হলেও বিমান চালাতে অসুবিধা হয় না। ফলে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন সৌরভ। উডল্যান্ডসের এমডি ও সিইও ডা. রূপালি বসু জানান, দেশ-বিদেশের ১৫ জন চিকিৎসক নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সহমত হয়ে সৌরভের চিকিৎসা-পদ্ধতি চূড়ান্ত করেছেন।

জানুয়ারি ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

সৌরভ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, খোঁজ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী

মৃদু হৃদরোগে আক্রান্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার বাড়িতে জিম করার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান সৌরভ। তড়িঘড়ি তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত সৌরভের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।সৌরভের আরোগ্য কামনায় টুইট করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌরভের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জানা গেছে সৌরভের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় প্রমুখ। প্রয়োজনে সৌরভকে দিল্লির এইমসে নিয়ে চিকিৎসা করা হলে সবরকম সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এদিকে সৌরভের এই অসুস্থতার খবরে বাংলার ক্রীড়াজগতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা।সৌরভকে জরুরি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে হাসপাতালে। ইতিমধ্যে একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আ্যাঞ্জিওগ্রাফি করার জন্য মহারাজকে ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর ইসিজি করা হয়েছে। সেখানেই বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। এছাড়া, ইকো কার্ডিওগ্রাম করা হয়েছে। রাজ্য সরকার তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে সবরকম সহযোগিতা করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

জানুয়ারি ০২, ২০২১
খেলার দুনিয়া

সৌরভকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ অশোকের

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিলেন শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে বিষয়টি পোস্ট করেন শিলিগুড়ির পুরপ্রশাসক। তাঁকে ক্রিকেটার হিসাবেই দেখতে চান তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে বেহালার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। সেখানে রাজনীতি ও ক্রিকেট নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় সৌরভ ও ডোনার সঙ্গে। নিজের ফেসবুক পেজে এদিন অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন, তিনি ভারতের ক্রিকেট আইকন সৌরভ গাঙ্গুলীকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সৌরভকে বলেছেন, ক্রিকেট তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। দেশের মানুষ চায় তা সৌরভের জনপ্রিয়তা যেন অক্ষুন্ন থাকে। সেই সঙ্গে শিলিগুড়ির ক্রিকেট নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিলিগুড়ির ক্রিকেটের উন্নয়নে সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস মহারাজের কাছ থেকে পেয়েছেন বলেও দাবী করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। সময় পেলে সৌরভ শিলিগুড়িতে আসবেন, তাঁর বাসভবনে আসবেন বলেও তাঁকে কথা দিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলী। ক্রিকেটের পাশাপাশি অশোক ভট্টাচার্যের সাথে রাজনীতি নিয়েও কথা হয়েছে সৌরভ জায়া ডোনার। ডোনা জানতে চেয়েছেন আসন্ন বিধানসভায় তিনি লড়ছেন কিনা। তারজন্য ডোনা আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। সৌরভের বিজেপি যোগ নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক। তারপর এক মঞ্চে দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা গিয়েছে সৌরভকে। সেই জল্পনার মাঝেই সৌরভের বাড়িতে অশোক ভট্টাচার্যের মধ্যাহ্নভোজন, আলোচনা। পরে সিপিএম নেতার ফেসবুকে পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। ফেসবুকে অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন: আজ সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে বসে সৌরভ আর ডোনার সাথে অনেক গল্প হলো। শিলিগুড়ির খবর, ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হলো। আমি ইলেকশনে লড়ছি কিনা তাও জানতে চাইলো! তার জন্যে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়ে রাখলো। রাজনীতির কথা প্রসঙ্গে আমার মত,ওর রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়া, তাও বলেছি। কথা প্রসঙ্গে বলেছি ক্রিকেট ওকে জন প্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে। দেশের মানুষ চায় তা যেন অব্যাহত থাকে। ওর সাথে শিলিগুড়ির ক্রিকেট নিয়েও কথা হয়। ও সব রকম সহযোগিতা করবে। একবার এসব নিয়ে কথা বলতে শিলিগুড়িতে আসবে। তখন আমাদের বাড়িতে গিয়ে ওর কাকিমার সাথে দেখা করে আসবে বললো। ছবিটা তুলেছে ডোনা।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২০
খেলার দুনিয়া

মহেশতলায় মারাদোনা: আজও শিহরিত হই, আছে আক্ষেপও

মানস ভট্টাচার্য ২০০৮-এর ডিসেম্বর। প্রথম কলকাতা সফরে মহেশতলায় মারাদোনা! কোচিংয়ে সফল না হলেও যাঁর ক্রীড়াশৈলীতে মুগ্ধ হয়ে আমিও তাঁকেই ফুটবলের ঈশ্বর মানি। মঞ্চে তাঁর দু-পাশে ছিলাম আমি আর কৃষ্ণেন্দু রায়। মারাদোনার প্রয়াণের খবর পেয়ে প্রতি মুহূর্তে সেই দিনের কথাগুলো মনে পড়ছি। শিহরণ জাগে। আছে আক্ষেপ। কেন? তখন যাঁরা মারাদোনাকে এনে তাঁর পায়ের ছাপ নিয়ে শিলান্যাসের মাধ্যমে স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা করেছিলেন, জমি দেখিয়ে টেন্ডার হয়েছিল, তারপরও সেখানে ফুটবল প্রতিভার বিকাশে স্টেডিয়ামটি কেন হলো না, তা নিয়ে মহেশতলা, বাটানগরের মানুষের মতো আমারও ধোঁয়াশা আছে। মারাদোনাকে ঘিরে আবেগ কাজে লাগিয়েও কি তখন তাঁকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়েছিল? এমনকী সেই মারাদোনার পায়ের ছাপ, যা আজ দুর্লভ সংগ্রহ, সেটারও হদিশ নেই। নিশ্চয় সেটা কেউ ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখেছেন। আবেদন, আজ সেটিকে সামনে এনে অন্তত মারাদোনাকে মর্যাদা দিন। আরও পড়ুন ঃ প্রয়াত দিয়েগো মারাদোনা, শোকার্ত ফুটবল বিশ্ব মারাদোনা মঞ্চে বসে। তাঁকে নিয়ে গান বাজছিল। দোভাষীর মাধ্যমে গানের অর্থ বুঝে তিনি আপ্লুত হয়েছিলেন। অবাকও হয়েছিলেন। যে দেশে তিনি প্রথম এলেন সেখানেও তাঁকে ঘিরে এত উন্মাদনা! হবে না-ই বা কেন? বিরাশি থেকে চারটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। কার্যত একার কাঁধে জিতিয়েছেন ছিয়াশির বিশ্বকাপ। নব্বইয়েও দলকে ফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন, রেফারির বিতর্কিত পেনাল্টি আর্জেন্টিনার তথা মারাদোনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ফুটবল ইতিহাস অন্য খাতে বইত। চুরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে আগাগোড়া তাঁকে চক্রান্ত করে হেনস্থা করা হয়। অনেকে পেলের সঙ্গে মারাদোনার তুলনা করেন। এটা ঠিক, পেলে তিনবার বিশ্বকাপ জিতেছেন, মারাদোনা একবার। কিন্তু পেলের পাশে যেসব প্লেয়াররা ছিলেন তাতে বিশ্বকাপ না জেতাটাই ছিল আশ্চর্যের। মারাদোনার পাশে সে তুলনায় কেউ ছিলেন না? একার কাঁধে দেশকে বিশ্ব ফুটবলে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। এটাও ঠিক, বিরাশির ওই সময় অবধি ফুটবল মহলে জনপ্রিয়তায় পেলের ধারেকাছে কেউ ছিলেন না। আমি নিজেও পেলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছি কলকাতায়। কিন্তু অস্বীকারের উপায় নেই, সেই জনপ্রিয়তায় ভাগ বসিয়ে বিপুল সংখ্যক ফ্যান বেস তৈরি করে ফেলেন মারাদোনা, তাঁর জন্যই আজও বহু ফুটবল ভক্ত আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। ইতালির লিগ এমনিতেই কঠিন। সেখানে নাপোলিকে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়াও কম বড় ব্যাপার নয়। একার ক্যারিশমা, দক্ষতায় দেশ বা ক্লাবকে যেভাবে একা তিনি টেনে নিয়ে গিয়েছেন তার তুলনা হয় না। মারাদোনাকে চিরকাল খাটো করে দেখিয়েছে আমেরিকা, ব্রিটিশরা। মারাদোনার আর্জেন্টিনার সঙ্গে ইংল্যান্ডের ফুটবল মাঠের যুদ্ধেও তো বারবার জড়িয়ে দেওয়া হয় ১৯৮২-র ফকল্যান্ড যুদ্ধের কথা। ফকল্যান্ড যুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে আর্জেন্টিনার হারের মধুর প্রতিশোধ হিসেবে দেখানো হয় ছিয়াশির বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয়কে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে মারাদোনার মৃত্যুর পরও বারবার দেখানো হয়েছে ছিয়াশির বিশ্বকাপের সেই হ্যান্ড অব গড। কেন তারপরেই পাঁচ ফুটবলারকে কাটিয়ে ওই ম্যাচে মারাদোনার দ্বিতীয় গোলটি, যা ফিফার বিচারে শতাব্দীর সেরা গোল সেটা দেখানো হবে না? কিংবা সেমিফাইনালে বেলজিয়াম ম্যাচের সেই চোখধাঁধানো জোড়া গোলের ফুটেজ দেখাচ্ছ না? আসলে চে গুয়েভারার ভক্ত, ফিদেল কাস্ত্রোর অভিন্নহৃদয় বন্ধু বলেই মারাদোনাকে খাটো করে দেখানোর প্রয়াস। মনে রাখতে হবে, কাউকে খাটো দেখিয়ে নিজে বড় হওয়া যায় না। প্রতিভাকে ছাইচাপা দিয়ে রাখা যায় না বলেই তো তৃতীয় বিশ্বে মারাদোনার অগণিত ভক্ত। নিজের উপার্জন থেকে অর্থসাহায্য করে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মারাদোনা সত্যিই অতুলনীয় হয়ে থাকবেন আমাদের কাছে। ২৫ নভেম্বর ২০১৬ কাস্ত্রোর মৃত্যুদিন। এবার সেদিনই চলে গেলেন ফুটবল ঈশ্বরও।

নভেম্বর ২৬, ২০২০
খেলার দুনিয়া

প্রয়াত দিয়েগো মারাদোনা, শোকার্ত ফুটবল বিশ্ব

প্রয়াত ফুটবলের রাজপুত্র দিয়েগো মারাদোনা। জানা যায়, বুধবার নিজের বাড়িতে থাকাকালীনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০। অজস্র ম্যাচে তাঁর অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স সকলে মনে রাখবে। প্রথমেই যে ম্যাচের কথা না বললেই নয়, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেখানে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। আর্জেন্টিনা সেই ম্যাচে ৩-২ গোলে জয়লাভ করে। সেই ম্যাচে মারাদোনার অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স সকলেই মনে রাখবে। আরও পড়ুন ঃ ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে পথচলা শুরু বাইচুংয়ের ছেলে ইউজেনের এছাড়াও ১৯৮৭ সালে নাপোলি স্কুপ সিরিজ এ কোপা ইটালিয়া ডবলসের ফাইনালে তার অনবদ্য পারফরম্যান্স সকলের মন জয় করে নিয়েছে। এছাড়াও ১৯৮৮-৮৯ ইউয়েফা কাপ কোয়ার্টার ফাইনালে নাপোলি ৩-০ গোলে জুভেন্টাসকে পরাজিত করে। সেই ম্যাচেও মারাদোনার পারফরম্যান্স মনে রাখার মতো। ১৯৮৮-৮৯ এ ইউয়েফা কাপ সেমিফাইনালে তাঁর পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবি রাখে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে অসাধারণ খেলেছিলেন মারাদোনা। এছাড়াও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ৪-০ গোলে গ্রিসকে পরাজিত করে। সেই ম্যাচেও মারাদোনার পারফরম্যান্স অনবদ্য। প্রয়াত হলেও মারাদোনার এই পারফরম্যান্স সকলে মনে রাখবে।

নভেম্বর ২৬, ২০২০
খেলার দুনিয়া

ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে পথচলা শুরু বাইচুংয়ের ছেলে ইউজেনের

বাবা একসময় ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় ফুটবলার। দেশের হয়ে দীর্ঘদিন চুটিয়ে খেলেছেন। দেশকে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বেও দিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, জেসিটির হয়ে চুটিয়ে খেলছেন। বারি এফসি, পেরাক এফএর মতো বিদেশের ক্লাবেও খেলেছেন। বাবা বাইচুং ভুটিয়ার মতো ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে পথ চলা শুরু করলেন ইউজেন ভুটিয়া। গুরগাঁওতে আবাসিক ফুটবল অ্যাকাডেমি তৈরি করেছেন বাইচুং ভুটিয়া। নাম বাইচুং ভুটিয়া ফুটবল অ্যাকাডেমি। এই অ্যাকাডেমিতেই রবিবার থেকে প্রথাগত ফুটবল পাঠ নিতে শুরু করল ইউজেন। হরিয়ানার গুরগাঁও ও কেরালার নীলাম্বুরে দুটি আবাসিক অ্যাকাডেমি তৈরি করেছেন বাইচুং। গুরগাঁওতেই ইউজেনকে ভর্তি করেছেন বাইচুং। ছেলেকে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করার কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। টুইট করেছেন, ইউজেন ফুটবল দুনিয়ায় নতুন যাত্রা শুরু করল।

নভেম্বর ০৮, ২০২০
খেলার দুনিয়া

‌রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে প্লে অফ ম্যাচে কেন খেললেন না ঋদ্ধিমান?‌ 

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বহুবার চোট পেয়ে দলের বাইরে ছিটকে গেছেন। আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের জন্য আইপিএলে প্লে অফে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য বাড়তি ঝুঁকি নিলেন না বাংলার এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ব্যাট করার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লেগেছিল ঋদ্ধিমানের। ব্যাট হাতে ৮৭ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছিলেন। পরে অবশ্য গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাঁড়াননি। তাঁর পরিবর্তে কিপিং করেছিলেন শ্রীবৎস গোস্বামী। দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচের পর আরও দুটি ম্যাচ খেলেন ঋদ্ধি। চোট কিছুটা বেড়েছে। তাই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর ম্যাচে ঝুঁকি নিলেন না। টিম ম্যানেজমেন্টও চায়নি ঋদ্ধিকে খেলাতে। যদি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ফাইনালে ওঠে আর ঋদ্ধির চোটের যদি উন্নতি হয় তাহলে তিনি ফাইনালে খেলবেন।

নভেম্বর ০৬, ২০২০
খেলার দুনিয়া

কোহলিকে স্লেজিং করা নিয়ে দেশের ক্রিকেটারদের সতর্ক করে দিলেন স্টিভ ওয়া

ভারতঅস্ট্রেলিয়া ম্যাচে স্লেজিং হবে না, এটা হতে পারে? ডেনিস লিলি, অ্যালান বর্ডার, ডেভিড বুন, স্টিভ ওয়াদের সময়ের ধারা আজও অব্যাহত। ভারতীয় ক্রিকেটারদের কথার আক্রমণে নাজেহাল করে দিয়েছে অসিরা। বেছে নিত তারকা ক্রিকেটারদের। তবে আসন্ন সিরিজে বিরাট কোহলিকে স্লেজিং করে যে খুব একটা লাভ হবে না, নিজের দেশের ক্রিকেটারদের সতর্ক করে দিয়েছেন স্টিভ ওয়া। এক ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাক্তন অধিনায়ক বলেছেন, স্লেজিং করে কোহলিকে সমস্যায় ফেলা যাবে না। বড় বড় ক্রিকেটারদের স্লেজিং করে লাভ নেই। বরং আরও উজ্জীবিত হয়ে ভাল খেলতে পারে। সেটা অস্ট্রেলিয়ার কাছে খারাপ হতে পারে। তাই স্লেজিং না করাই ভাল। আসন্ন সিরিজে জোরদার লড়াই হবে বলে মনে করেন স্টিভ ওয়া। আর তাঁর মতে লড়াইটা মূলত দাঁড়াবে বিরাট কোহলি ও স্টিভ স্মিথের মধ্যে। স্টিভ ওয়া বলেন, কোহলি বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার। নিজের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে চাইবে। তাছাড়া দলের দায়িত্বও ওর কাঁধে। নিজের সেরাটা দিয়ে সিরিজ জেতার চেষ্টা করবে। সেরা ব্যাটসম্যান হতে চাইবে। শেষ ভারত সিরিজে স্মিথ ৩টে সেঞ্চুরি করেছিল। কোহলি টেক্কা দিতে পারেনি। এবার নিশ্চয় টপকে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

নভেম্বর ০৬, ২০২০
খেলার দুনিয়া

এটিকে মোহনবাগানের প্রধান স্পনসর হল কারা?‌

এটিকে মোহনবাগানের প্রধান স্পনসর হল কারা? আইএসএল শুরুর ২ সপ্তাহ আগে নতুন স্পনসর পেল এটিকে মোহনবাগান। ক্লাবের জার্সিতে দেখা যাবে এসবিওটিওপি.নেটএর লোগো। এই বহুজাতিক সংস্থাটি শুক্রবারই এটিকে মোহনবাগানেরর সঙ্গে প্রধান স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়েছে। খেলা সংক্রান্ত খবরাখরব সরবরাহ করে সংস্থাটি। এসবিওটিওপি.নেটএর মত বড় সংস্থাকে প্রধান স্পনসর হিসেবে পেয়ে খুশি এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। ক্লাবেন সিইও রঘু আয়ার বলেন, এইরকম একটা বড় সংস্থাকে প্রধান স্পনসর হিসেবে পেয়ে আমরা খুশি। ক্লাবকে স্পনসর করার ধন্যবাদ। সংস্থার বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রধান স্কাই ট্যানার বলেন, এটিকে মোহনবাগানের মতো দলের প্রধান স্পনসর হতে পেরে আমরা খুশি। ক্লাবকে সাফল্য এনে দিতে সবরকম সাহায্য করব। এটিকে মোহনবাগানের ম্যাচ ও প্র্যাকটিসের জার্সিতে সংস্থাটির লোগো থাকবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের প্রধান স্পনসর হিসেবে রয়েছে এসবিওটিওপি.নেট। উদ্বোধনী ম্যাচ থেকেই নতুন সংস্থার লোগো দেওয়া জার্সি পরে নামবেন এটিকে মোহনবাগান ফুটবলাররা।

নভেম্বর ০৬, ২০২০
খেলার দুনিয়া

কোন ব্যাটে খেলে সাফল্য পেলেন ঋদ্ধি?‌ 

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের ওপর নির্ভর করছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্লে অফের ভাগ্য। এক বাঙালী ক্রিকেটারের হাতেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিদায় ঘন্টা বেজেছে। বিষয়টা এইভাবে দেখছেন না ঋদ্ধিমান সাহা। নাইট রাইডার্সের বিদায়ের প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, কলকাতা একসময় আমার হোম টিম ছিল। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সময় কলকাতা আবেগ আমার মনে কাজ করেনি। এখন আমি হায়দরাবাদের ক্রিকেটার। দলকে প্লেঅফে তুলতে পেরে তৃপ্ত। একটা ম্যাচে মিডল অর্ডারে মন্থর ব্যাটিং করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বেশ কয়েকটা ম্যাচ বসে থাকার পর ওপেনিংয়ে সুযোগ। ওপেন করতে যাওয়ার আগে টিম ম্যানেজমেন্টের আলাদা কোনও নির্দেশ ছিল না বলে জানান ঋদ্ধি। তাঁকে নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে বলা হয়েছিল। ব্যাট করতে নামার আগে সূর্যকুমার যাদবকে স্ট্যাম্পড করেছিলেন। ক্রুনাল পান্ডিয়ার ক্যাচ ধরেছিলেন। এই দুটি শিকারের মধ্যে সূর্যকে স্টাম্পড করাটাকেই এগিয়ে রাখছেন ঋদ্ধি। রনজি ফাইনালের ব্যাটেই মঙ্গলবার খেলেছেন। আবার সাফল্য। প্রথম একাদশ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ফিরে এসে তিন ম্যাচে রান করেছেন ৮৭, ৩৯ ও অপরাজিত ৫৮। এই তিনটি ইনিংসের মধ্যে প্রথমটাকেই এগিয়ে রেখেছেন ঋদ্ধি। তাঁর কথায়, দল থেকে বাদ পড়ে ফিরে এসে সুযোগ কাজে লাগিয়েছিলাম। ওই ইনিংসটাই সবথেকে বেশি তৃপ্তি দিয়েছে।

নভেম্বর ০৪, ২০২০
খেলার দুনিয়া

রোহিতকে নিয়ে শাস্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কী বললেন শেহবাগ?‌ 

কদিন আগেই রোহিতের বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে রবি শাস্ত্রী বলেছিলেন, তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ নন। রোহিতের বাদ যাওয়ার বিষয়টাও তাঁর সিদ্ধান্ত নয়। শাস্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ভারতীয় দলের প্রাক্তন তারকা বীরেন্দ্র শেহবাগ। শেহবাগ বলেন, আমি মনে করি না যে রোহিতের বিষয়টা রবি শাস্ত্রী জানত না। দল নির্বাচনের আগে নির্বাচকরা নিশ্চয় ওর সঙ্গে কথা বলেছিল। শাস্ত্রী নির্বাচক কমিটির অংশ নয়, এই বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত নই। কোন কোন ক্রিকেটারকে নেওয়া উচিত, এই ব্যাপারে দল নির্বাচনের আগে নির্বাচকরা কোচ ও ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথা বলে। অস্ট্রেলিয়া সফরের দল নির্বাচনের আগে নির্বাচকরা নিশ্চয় শাস্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিল। চোটের জন্য জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও মঙ্গলবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন রোহিত। এই প্রসঙ্গে শেহবাগ বলেন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রোহিত মাঠে নেমেছিল। প্লে অফেও খেলবে। আর রোহিত নিজে বলেছে ও পুরো ফিট। তাহলে কেন ওকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হল? রোহিতকে নিয়ে বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় হতাশ শেহবাগ। তাঁর কথায়, কোটি কোটি সমর্থক ভাবছে কেন রোহিতকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ওর চোট কি খুবই গুরুতর? ২৩ মাস খেলতে পারবে না? বোর্ড ও নির্বাচকদের ওপর আমি হতাশ। রোহিতকে দলে রাখা উচিত ছিল।

নভেম্বর ০৪, ২০২০
খেলার দুনিয়া

দিল্লি–বেঙ্গালুরু প্লে অফে, ঝুলে রইল কলকাতার ভাগ্য

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর ১৫২/৭ (২০ ওভার) দিল্লি ক্যাপিটালস ১৫৪/৪ (১৯ ওভার) দিল্লি ক্যাপিটালস ৬ উইকেটে জয়ী ধারাবাহিকতা দেখিয়েও নিজেদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত ঝুলে ছিল দিল্লি ক্যাপিটালসের প্লে অফের ভাগ্য। সোমবার মাটে নামার আগে প্লে অফের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল না। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোরকে ৬ উইকেটে হারিয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করল দিল্লি। হেরেও প্লে অফে চলে গেল বেঙ্গালুরু। অন্যদিকে নাইট রাইডার্সের প্লে অফের ভাগ্য ঝুলে রইল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের ওপর। এদিন টসে জিতে বেঙ্গালুরুকে ব্যাট করতে পাঠান শ্রেয়াস আয়ার। পঞ্চম ওভারেই ধাক্কা খায় বেঙ্গালুরু। ফিলিপেকে (১২) ফেরান রাবাডা। দেবদত্ত পাড়িক্কল ও বিরাট কোহলি দলকে টেনে নিয়ে যান। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ফেরান কোহলিকে (২৯)। অর্ধশতরান করার পর নর্টিয়ের বলে বোল্ড হন দেবদত্ত পাড়িক্কল (৫০) ও মরিসকে (০)। রাবাডা ফেরান শিবম দুবেকে (১১ বলে ১৭)। বেঙ্গালুরুর বড় ভরসা ডিভিলিয়ার্স (৩৫)। আউট হতেই বড় রানের স্বপ্ন শেষ বেঙ্গালুরুর (১৫২/৭)। ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে পৃথ্বী শর (৬ বলে ৯) উইকেট হারায় দিল্লি। তবে দলকে চাপে পড়তে দেননি শিখর ধাওয়ান ও অজিঙ্ক রাহানে। তাঁদের ৮৮ রানের পার্টনারশিপ দিল্লির জয়ের প্ল্যাটফর্ম গড়ে দেয়। শিখর ধাওয়ানকে (৫৪) তুলে নেন শাহবাজ আমেদ। শ্রেয়াস আয়ারকেও (৭) তিনি ফেরান। রাহানেকে (৪৬ বলে ৬০) ফেরান ওয়াশিংটন। দিল্লি তখন প্রায় জয়ের দোরগোড়ায়। ১৯ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় দিল্লি (১৫৪/৪)।

নভেম্বর ০২, ২০২০
খেলার দুনিয়া

‌বিরাট কোহলিদের নতুন কিট স্পনসর কারা?‌

বিরাট কোহলিদের নতুন কিট স্পনসর কারা? বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের জার্সিতে এবার থেকে দেখা যাবে এমপিএল স্পোর্টস অ্যাপারেল অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজের লোগো। এই সংস্থাটি ভারতীয় দলের নতুন কিট স্পনসর হয়েছে। বোর্ডের সঙ্গে সংস্থার আপাতত তিন বছরের জন্য চুক্তি হয়েছে। কিট স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাপেক্স কাউন্সিল অনুমোদন করেছে। এর আগে নাইকি ছিল ভারতীয় দলের কিট স্পনসর। তাদের জায়গায় আসছে এমপিএল। এমপিএলের সঙ্গে লড়াইয়ে ছিল অ্যাডিডাস, পুমার মতো সংস্থাগুলি। তাদের পেছনে ফেলে দিয়েছে এমপিএল। শুধু বিরাট কোহলিদেরই নয়, ভারতীয় এ, অনূর্ধ্ব ১৯, মহিলা ক্রিকেট দলকেও স্পনসর করবে এমপিএল। ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চুক্তি। প্রতি ম্যাচে নাইকি ৮৮ লক্ষ টাকা এবং রয়্যালটি বাবদ ৩০ কোটি টাকা দিত। এখন কোনও সংস্থাই এতবেশি টাকা দিতে রাজি নয়। এমপিএল ম্যাচ প্রতি ৬৫ লক্ষ টাকা এছানা ১০ শতাংশ রয়্যালটি দেবে।

নভেম্বর ০২, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 70
  • 71
  • 72
  • 73
  • ›

ট্রেন্ডিং

সম্পাদকীয়

বিদ্রোহের আগুন থেকে সাম্যের গান—নজরুলের যে জীবন আজও আমাদের বিস্মিত করে

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা চিনি বিদ্রোহী কবি হিসেবে। চিনি সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, মানবতার কবি হিসেবে। তাঁর কবিতা আবৃত্তি হয়েছে মঞ্চে, তাঁর গান বেজেছে ঘরে ঘরে, তাঁর বিদ্রোহের বার্তা উচ্চারিত হয়েছে দশকের পর দশক। কিন্তু নজরুলকে যতটা আমরা জানি, তার চেয়ে অনেক বেশি অজানা রয়ে গিয়েছে তাঁর বিস্ময়কর জীবনের নানা অধ্যায়।নজরুলের জীবন যেন এক চলমান উপন্যাসযেখানে একদিকে দারিদ্র্য, অন্যদিকে বিদ্রোহ; একদিকে সৈনিকের পোশাক, অন্যদিকে কবির কলম; একদিকে ইসলামী সংগীত ও গজল, অন্যদিকে শ্যামা সংগীত ও ভজন; একদিকে রাজনৈতিক সংগ্রাম, অন্যদিকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা। তিনি কোনও একটি পরিচয়ের মধ্যে নিজেকে বন্দি রাখেননি। বরং তাঁর জীবনই হয়ে উঠেছিল বহুত্বের এক অসাধারণ উদাহরণ।লেটো দলের মঞ্চ থেকেই শুরুকৈশোরেই দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন নজরুল। সংসারের অভাব তাঁকে স্কুলের গণ্ডি থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। তিনি যুক্ত হন বাংলার লোকনাট্যের জনপ্রিয় ধারা লেটো দলে। সেখানে শুধু অভিনয়ই করেননিগান লিখেছেন, কবিতা লিখেছেন, নাটকের সংলাপ ও পালা রচনা করেছেন, সুর দিয়েছেন, সেই গান গেয়েছেন।এই লেটো-পর্বকে নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণক্ষেত্র বলা যায়। লোকভাষা, ছন্দ, সুর, নাটকীয়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাসবকিছুর সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে এই সময়েই। পরবর্তী নজরুল-কাব্যে যে সহজ অথচ তীব্র ভাষা, তার শিকড় অনেকটাই এই লোকজ অভিজ্ঞতায়।সৈনিক নজরুল: যুদ্ধের ময়দান থেকে কবিতার পৃথিবী১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪৯তম বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন নজরুল। করাচিতে তাঁর দীর্ঘ সেনাজীবন কাটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্বের এই অভিজ্ঞতা তাঁর মানসজগতে গভীর ছাপ ফেলে।সেনাবাহিনীতে থাকাকালীনই তিনি নিয়মিত সাহিত্যচর্চা করেন। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে বসে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, গল্প-কবিতা লেখাসবই চলত। যুদ্ধ তাঁকে শুধু অস্ত্রের সঙ্গে পরিচয় করায়নি; মানুষের জীবন, মৃত্যু, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বাস্তবতাকেও নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিল।পরবর্তীকালে তাঁর লেখায় যে যুদ্ধবিরোধী মানবিকতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, তার পেছনে এই অভিজ্ঞতার ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।বিদ্রোহীএক কবিতার বিস্ফোরণ১৯২১ সালের শেষদিকে রচিত বিদ্রোহী কবিতা প্রকাশের পর বাংলা সাহিত্যে যেন এক ভূমিকম্প ঘটে। এতদিনের কাব্যভাষার বাইরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ কবি ঘোষণা করলেন নিজের অদম্য আত্মপরিচয়।কিন্তু বিদ্রোহী কেবল রাজনৈতিক বিদ্রোহের কবিতা নয়। এখানে আছে পুরাণ, ইসলামি ঐতিহ্য, হিন্দু দেবদেবী, প্রকৃতি, প্রেম, ধ্বংস ও সৃষ্টির এক বিস্ময়কর মিশ্রণ। নজরুল যেন বলতে চেয়েছিলেনমানুষকে কোনও একটি ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের খাঁচায় আটকে রাখা যায় না।ধূমকেতু: কলম যখন অস্ত্রনজরুলের সাংবাদিক সত্তাটিও কম বিস্ময়কর নয়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু। পত্রিকাটির নামের মধ্যেই যেন ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত।ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখাগুলি দ্রুতই প্রশাসনের নজরে আসে। আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাঁকে কারাবন্দি করা হয়।কারাগারেও তিনি নীরব থাকেননি। বন্দিদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক নিপীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনশন করেন। দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন।এই ঘটনা প্রমাণ করে, নজরুলের কাছে স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক স্লোগান ছিল নাএটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস।খিলাফত প্রশ্নে নজরুলের অবস্থাননজরুলের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে তাঁর খিলাফত আন্দোলন সম্পর্কে অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে সাম্প্রদায়িক বিভাজন আরও গভীর হতে পারেএই আশঙ্কা তাঁর চিন্তায় প্রতিফলিত হয়েছিল।নজরুলের মূল অবস্থান ছিল মানুষের মুক্তি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজনের বদলে তিনি চেয়েছিলেন শ্রমজীবী, কৃষক, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ঐক্য।তাই তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার কেন্দ্রে বারবার ফিরে এসেছে মানুষহিন্দু বা মুসলমান নয়, প্রথমত মানুষ।লেবার স্বরাজ পার্টি: কবির রাজনৈতিক সংগঠন১৯২৫ সালে নজরুল শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের প্রশ্নে সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা নেন। হেমন্তকুমার সরকার ও অন্যান্য বামপন্থী নেতাদের সঙ্গে তিনি লেবার স্বরাজ পার্টি অব দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠনের সঙ্গে যুক্ত হন।এই সংগঠনের ভাবনায় ছিল শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন।নজরুলের রাজনৈতিক লেখায় যে শ্রেণি সচেতনতা দেখা যায়, তার সঙ্গে এই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের গভীর সম্পর্ক ছিল।নির্বাচনের ময়দানেও নজরুলশুধু কবিতা বা বক্তৃতার মধ্যেই তাঁর রাজনীতি সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯২৬ সালে তিনি আইনসভার নির্বাচনে প্রার্থীও হন। অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির দিক থেকে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। ফলে নির্বাচনী রাজনীতিতে সফলতা আসেনি।কিন্তু এই পর্বটি গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, নজরুল নিজেকে কেবল সাহিত্যিক হিসেবে দেখেননি। সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতেও তিনি অংশ নিতে চেয়েছিলেন।হিন্দু-মুসলমানের মিলনের এক বিরল শিল্পীনজরুলের সৃষ্টির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিকগুলির একটি তাঁর ধর্মীয় বহুত্ববাদ।তিনি লিখেছেন ইসলামী গান, হামদ, নাত, গজল। আবার লিখেছেন শ্যামাসংগীত, ভজন, কীর্তন ও হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে অসংখ্য গান।মা, শ্যামা, কালী, কৃষ্ণ যেমন তাঁর গানে এসেছে, তেমনই এসেছে আল্লাহ, নবী, রমজান, ঈদ ও ইসলামী আধ্যাত্মিকতার নানা অনুষঙ্গ।এখানে কোনও কৃত্রিম সমন্বয় ছিল না। নজরুলের কাছে ধর্ম ছিল মানুষের আত্মিক অনুভূতির ভাষা; বিভেদের অস্ত্র নয়।তাঁর এই অবস্থান আজকের সময়েও অসাধারণ প্রাসঙ্গিক।চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় আর এক নজরুলনজরুলকে আমরা কবি ও গীতিকার হিসেবে যতটা মনে রাখি, চলচ্চিত্রের মানুষ নজরুলকে ততটা মনে রাখি না।কলকাতার চলচ্চিত্রজগতের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন, সুর দিয়েছেন এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন। নির্বাক যুগ থেকে সবাক চলচ্চিত্রের উত্তরণের সময় বাংলা সিনেমার সংগীতে নতুন মাত্রা আনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।১৯৩৪ সালের ধ্রুব চলচ্চিত্রে তিনি দেবর্ষি নারদের ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই সঙ্গে ছবিটির সংগীত পরিচালনা ও গীতরচনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। হাতে একতারা, পায়ে খড়ম, মুখে নারদের সাজরুপালি পর্দায় নজরুলের এই উপস্থিতি আজ বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের এক মূল্যবান অধ্যায়। এটি ছিল তাঁর অভিনয়জীবনের একমাত্র চলচ্চিত্র অভিনয়।রবীন্দ্রনাথের কবিতায় নজরুলের সুররবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সম্পর্ক বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম সুন্দর অধ্যায়।বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অনেক বড়। সাহিত্যিক পথও ছিল আলাদা। তবু দুজনের মধ্যে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও স্নেহ।চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথের রচনায় নজরুলের সুরারোপের ঘটনাটি এই সম্পর্কের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত। রবীন্দ্রনাথের রচনায় প্রচলিত সুরের বাইরে গিয়ে নজরুল নতুন সুর নির্মাণ করেছিলেন। সেই সুর কবিগুরুকে শুনিয়ে তাঁর অনুমোদন পাওয়ার ঘটনাটি শুধু দুজন শিল্পীর পারস্পরিক শ্রদ্ধার নয়, সৃষ্টিশীল স্বাধীনতারও একটি সুন্দর উদাহরণ।নারীদের কণ্ঠে নতুন যুগবাংলা গান ও চলচ্চিত্রে নারী কণ্ঠশিল্পীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরুলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আঙ্গুরবালা দেবী, ইন্দুবালা দেবী, কানন দেবীসহ তৎকালীন বহু শিল্পীর সঙ্গে তাঁর পেশাগত ও সৃষ্টিশীল সম্পর্ক ছিল।বিশেষ করে নারীদের সামাজিক অবস্থান যখন নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ, তখন তাঁদের কণ্ঠকে বৃহত্তর শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরুলের গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।তাঁর সৃষ্ট নারীচরিত্রও ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরেস্বাধীন, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রতিবাদী।হাফিজ ও ওমর খৈয়াম থেকে নজরুলের বাংলানজরুলের সাহিত্যিক পরিসর বাংলা ভাষার গণ্ডিতে আটকে ছিল না। ফারসি সাহিত্য, আরবি সংস্কৃতি এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর গভীর পরিচয় ছিল।হাফিজ ও ওমর খৈয়ামের রচনার অনুবাদে তিনি বাংলা ভাষায় নিয়ে এসেছিলেন এক অন্যরকম সুর, ভাব ও রোমান্টিকতা। তাঁর অনুবাদে কেবল ভাষান্তর নয়, অনেক সময় দেখা যায় সৃষ্টিশীল পুনর্নির্মাণের প্রবণতা।এই কাজগুলির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য আরও সমৃদ্ধ হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্যের সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে।হাজার গানের স্রষ্টা, অথচ কত গান হারিয়ে গেল!নজরুলের গান নিয়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ পর্ব। নজরুলের অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে তাঁর বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে তাঁর অসংখ্য গানের সঠিক সুর, স্বরলিপি ও পরিবেশনরীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি।আজ আমরা নজরুলগীতির বিপুল ভাণ্ডারের কথা বলি। কিন্তু সেই ভাণ্ডারের কত অংশ হারিয়ে গেছে, কত গান ভুল সুরে বা অসম্পূর্ণভাবে আমাদের কাছে পৌঁছেছেতার সম্পূর্ণ হিসাব করা কঠিন।এই জায়গাতেই নজরুল গবেষণার সামনে এখনও বিশাল কাজ পড়ে রয়েছে।শুধু বিদ্রোহী নন, তিনি ছিলেন সৃষ্টির কবিওনজরুলকে শুধু বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি প্রেমের কবি। তিনি প্রকৃতির কবি। তিনি আধ্যাত্মিকতার কবি। তিনি হাস্যরসের কবি। তিনি শিশুদের কবি। তিনি শ্রমিকের কবি, কৃষকের কবি, নারীর কবি, নিপীড়িত মানুষের কবি।তাঁর সাম্যবাদী উচ্চারণ যেমন রাজনৈতিক, তেমনই গভীর মানবিক। তাঁর নারী কবিতা যেমন নারীমুক্তির কথা বলে, তেমনই তাঁর প্রেমের গান ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের গোপন দরজাও খুলে দেয়।নজরুলের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষানজরুলের জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠেতিনি কখনও নিজের পরিচয়কে সংকীর্ণ হতে দেননি।দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি। সেনাজীবন তাঁকে কবিতা থেকে দূরে সরাতে পারেনি। কারাগার তাঁর কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেনি। রাজনৈতিক ব্যর্থতা তাঁকে ভেঙে দেয়নি। ধর্মীয় বিভাজন তাঁকে কোনও একপক্ষের কবি বানাতে পারেনি।তিনি একই সঙ্গে মসজিদের আজান শুনেছেন, মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুনেছেন; ইসলামী গজল লিখেছেন, আবার শ্যামাসংগীতে মাতৃসাধনার ভাষা সৃষ্টি করেছেন।এই কারণেই নজরুল কেবল একটি জাতির, একটি ধর্মের বা একটি সময়ের কবি নন। তিনি বাংলা ভাষার এক অনন্ত মানবিক কণ্ঠ।আজ তাঁর প্রয়াণের এত বছর পরেও যখন সমাজে বিভাজন বাড়ে, যখন মানুষের পরিচয় ধর্ম ও সম্প্রদায়ের খোপে আটকে যেতে চায়, যখন অন্যায়ের সামনে নীরব থাকার প্রবণতা তৈরি হয়তখন নজরুলের কণ্ঠ আবার ফিরে আসে।সে কণ্ঠ বলেমানুষের চেয়ে বড় কোনও পরিচয় নেই।বিদ্রোহ মানে শুধু অস্ত্র তুলে নেওয়া নয়; অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করাও বিদ্রোহ।আর সাম্য মানে শুধু রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়; অন্যের ধর্ম, ভাষা, পরিচয় ও মর্যাদাকে নিজের মতোই সম্মান করাও সাম্য।তাই নজরুলকে স্মরণ করার সবচেয়ে বড় উপায় শুধু তাঁর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান নয়। তাঁর গান গাওয়া, কবিতা আবৃত্তি করা কিংবা সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি আবেগঘন বাক্য লেখা নয়।নজরুলকে সত্যিকার অর্থে স্মরণ করতে হলে তাঁর প্রশ্নগুলিকে নিজেদের জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে।মানুষ কি সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে?অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা কি এখনও কথা বলি?ধর্মের নামে বিভেদের বদলে ভালোবাসার সেতু গড়তে পারি কি?এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গেলেই বোঝা যায়নজরুল আজও অমর।তিনি আছেন আমাদের প্রতিবাদে, আমাদের প্রেমে, আমাদের গানে, আমাদের সাম্যের স্বপ্নে।আর যতদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠ উচ্চারিত হবে, ততদিন সেই কণ্ঠের ভিতরে কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

অভিষেকের বাড়িতে কালীঘাট থানার পুলিশ, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় হাজিরার নোটিশ সাংসদকে

ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ৯ টার পর কালীঘাট থানার পুলিশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যায়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ১ সেপ্টেম্বর সেকশপিয়ার থানায় তাঁকে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে গেলে জোর করে কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন তৃণমূল কংগ্রেস লেখা বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে। সেদিনই পুলিশ এফআইআর করে। ওই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোট তিনটে কেস করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু কাজে বাধা নয় শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এদিকে ওই বাড়ির দুটি ঘর জোড় করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা দখল করে নিয়েছে বলে মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

শিয়ালদহে রাতভর ৭ ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক! একাধিক লোকাল বাতিল, বদল ট্রেন পরিষেবায়

শিয়ালদহ স্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক ও পরিকাঠামোগত কাজের জন্য টানা সাত ঘণ্টার ট্রাফিক ব্লক নিতে চলেছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পয়েন্ট কনভার্সন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ ও নবীকরণ কাজের জন্য শনিবার, ২৯ আগস্ট এবং রবিবার, ৩০ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এই ব্লক নেওয়া হবে। এর জেরে ৩০ আগস্ট, রবিবার সকালে শিয়ালদহ শাখায় একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল এবং একটি ট্রেনকে নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই থামিয়ে দেওয়া হবে।রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ আগস্ট রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মোট ৪২০ মিনিটের ট্রাফিক ব্লক কার্যকর থাকবে। এই সময় শিয়ালদহ স্টেশনের DN/Main Line-এর KM 0/19 থেকে KM 0/20 অংশে Point No. 208B/219A-এর সম্পূর্ণ কনভার্সন করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান 52 Kg DSS-কে 60 Kg DSS-এ রূপান্তর করা হবে। ট্র্যাকের ফিটিংস, ক্রসিং এবং গ্লুড জয়েন্টও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা হবে।শুধু ট্র্যাক পরিবর্তন নয়, এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত কাজের অংশ হিসেবে গ্রাউন্ড ফিটিংস, জাম্পার এবং বন্ডিংয়ের প্রয়োজনীয় ডিসকানেকশন ও রিকানেকশনও করা হবে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিয়ালদহ স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লাইনে ট্রেন চলাচল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রেলের তরফে জানানো হয়েছে, Track Circuit পরিবর্তনের কাজও ব্লকের সময় করা হবে। একই সঙ্গে Line No. 6 এবং Line No. 11-এর মধ্যে উভয়মুখী সিগন্যালিং মুভমেন্ট এই সময় প্রভাবিত থাকবে। এত বড় মাপের কাজ যাতে যাত্রী পরিষেবায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে, সে কারণেই সপ্তাহান্তের গভীর রাত থেকে ভোরের সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।বাতিল একাধিক লোকালএই পরিকাঠামোগত কাজের কারণে রবিবার, ৩০ আগস্ট বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন বাতিল থাকবে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ীশিয়ালদহহাবড়া: 33651 UP / 33652 DNশিয়ালদহকল্যাণী সীমান্ত: 31313 UP / 31316 DNশিয়ালদহডানকুনি: 32217 UP / 32218 DNশিয়ালদহরানাঘাট: 31615 UP / 31620 DNশিয়ালদহহাবড়া: 33653 UP / 33654 DNএছাড়াও Train No. 53172 DN (লালগোলাশিয়ালদহ)-কে ৩০ আগস্ট দমদম জংশনে (DDJ) শর্ট-টার্মিনেট করা হবে। অর্থাৎ ওই দিন ট্রেনটি শিয়ালদহ পর্যন্ত না গিয়ে দমদম জংশনেই যাত্রা শেষ করবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনটির খালি রেক শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়ে আসা হবে।যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্তারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের দুর্ভোগ যতটা সম্ভব কমানোর লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে গভীর রাতে এই কাজ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কর্মীদের সাইটে মোতায়েন রাখা হবে।শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, কাজটি নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অপারেটিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যালিং এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সাময়িক পরিবর্তন সম্পর্কে জানাতে শিয়ালদহ স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা এবং তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রেলের দাবি, এই পয়েন্ট কনভার্সন ও ট্র্যাক নবীকরণের ফলে শিয়ালদহ স্টেশনের ট্র্যাক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দক্ষতা আরও বাড়বে। যদিও কাজের সময়সূচির কারণে রবিবার কিছু ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করতেই এই ধরনের পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্লক জরুরি বলে জানিয়েছে রেল।তাই ৩০ আগস্ট যাঁদের শিয়ালদহমুখী বা শিয়ালদহ থেকে বিভিন্ন শাখায় যাত্রা করার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের যাত্রার আগে ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন। সাময়িক এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের সহযোগিতার আবেদনও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখী উৎসব, আনন্দমুখর বিজয় তোরণ চত্বর

ভাই-বোনের ভালোবাসা, পারস্পরিক আস্থা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বর্ধমানে আয়োজিত হল রাখী উৎসব। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাখীর বন্ধনে আবদ্ধ হলেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ। উৎসবকে ঘিরে বিজয় তোরণ (কার্জনগেট) চত্বরে এদিন পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দমুখর। রাখী পরিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়।রাখী বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের উৎসব নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও এই উৎসবের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। পথচলতি মানুষের হাতে রাখী পরিয়ে দেন ক্লাবের সদস্যরা। একে অপরের মঙ্গল ও সুস্থ কামনায় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সময়ে বিভাজনের নানা প্রবণতার মধ্যে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করা প্রয়োজন। রাখী সেই বন্ধনেরই প্রতীক। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসূত্রে বাঁধার বার্তা দিতে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ ধরনের অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।রাখী পরানোর পাশাপাশি এদিন শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন উপস্থিত সকলে। ছোট-বড় সকলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি কার্যত মিলন উৎসবে পরিণত হয়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগে উঠে আসে একটাই বার্তা, সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমুক এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক সমাজের সর্বস্তরে। বেঙ্গল প্রেস ক্লাব বছরে নানা ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান করে।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
নিবন্ধ

রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল - 'বীণার মুর্ছনায় বিদ্রোহের মশাল'

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক সময়ের সীমা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক তেমনই এক অনন্য অধ্যায়যেখানে প্রজন্মের ব্যবধানকে ছাপিয়ে জায়গা করে নিয়েছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা এবং এক গভীর মানবিক বন্ধন। যেমন একসময় বাংলা ছায়াছবির জগতে উত্তম না সৌমিত্রকে বড় এই বিতর্ক ছিল বাঙালির চিরন্তন আড্ডার বিষয়, তেমনই বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় রবি না কাজী নিয়েও চলেছে নিরন্তর তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সাহিত্য-সমালোচকদের সেই তুলনা বা পাঠকের আবেগের লড়াইয়ের বাইরে, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের নিজেদের সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকমসেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনও স্থান ছিল না।আজকের দিনে ৭৭ বছর বয়সে, ১৯৭৬ -র ২৯ আগস্ট, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনাবসান ঘটে। তাঁর প্রয়াণদিবসে তাই ফিরে দেখা যাক বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহের সেই অসম্ভব সুন্দর সম্পর্ককেযে সম্পর্কে ছিল স্নেহের আশ্রয়, শ্রদ্ধার স্বীকৃতি, সৃষ্টিশীলতার অনুপ্রেরণা এবং এক কবির প্রতি অন্য কবির অকৃত্রিম ভালোবাসা। সময়ের স্রোত পেরিয়েও তাঁদের সেই সম্পর্ক আজও বাঙালির সাহিত্য-স্মৃতিতে এক উজ্জ্বল মানবিক অধ্যায় হয়ে আছে।বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলির ব্যাখ্যা কেবল শব্দ দিয়ে করা যায় না, অনুভব করতে হয়। যেমন অনুভব করতে হয় শরতের আকাশে হঠাৎ ভেসে ওঠা মেঘ, বর্ষার প্রথম গন্ধ, কিংবা বহুদিন পর শোনা কোনো পরিচিত কণ্ঠস্বর।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্কও তেমনই এক অনুভবের বিষয়।একজন তখন বাংলা সাহিত্যের আকাশে প্রায় সূর্যের মতো দীপ্তিমান। তাঁর নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে বিশ্বকবির অভিধা। অন্যজন তখনও তরুণঅস্থির, দুরন্ত, দুঃসাহসী, দুর্বার। তাঁর হাতে কলম, অথচ সেই কলমে যেন তরবারির ঝলকানি। একজনের কবিতায় শান্তির নদী, অন্যজনের কবিতায় ঝড়ের গর্জন। একজন যখন বীণার তারে আঙুল রাখেন, অন্যজন যেন বজ্রের বুক চিরে শব্দ তুলে আনেন।তবু আশ্চর্যএই দুই ভিন্ন স্রোত এসে কোনও এক মোহনায় যেন মিলেছিল!সেই মিলনের নামশ্রদ্ধা, স্নেহ ও ভালোবাসা।রবীন্দ্রনাথ নজরুলের মধ্যে কেবল একজন তরুণ কবিকে দেখেননি; তিনি দেখেছিলেন আসন্ন সময়ের স্পন্দন। আর নজরুল রবীন্দ্রনাথের মধ্যে শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত মহাকবিকে দেখেননি; দেখেছিলেন এমন এক আপনজনকে, যার সামনে মাথা নত করা যায়, অথচ নিজের কণ্ঠস্বরটিও অক্ষুণ্ণ রাখা যায়।এই জায়গাটিই তাঁদের সম্পর্ককে এত অনন্য করে তোলে। যে তরুণ কবির মধ্যে রবীন্দ্রনাথ চিনেছিলেন ভবিষ্যৎ। নজরুলের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যে যেন হঠাৎ আসা এক কালবৈশাখী। তাঁর শব্দে ছিল আগুন, তাঁর ছন্দে ছিল মার্চ করার শব্দ, তাঁর কবিতায় ছিল শিকল ভাঙার আকাঙ্ক্ষা।বিদ্রোহী প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্য যেন এক মুহূর্তে নিজের পরিচিত আয়না থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য এক মুখ দেখতে পেল।বল বীরবল উন্নত মম শির!এই উচ্চারণ শুধু একটি কবিতার পঙ্ক্তি ছিল না। ছিল এক যুগের অবদমিত আত্মার বিস্ফোরণ।রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন সেই বিস্ফোরণের ভাষা। তিনি বুঝেছিলেন, তরুণ নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের মতো করে লিখতে হবে না। বরং বাংলা সাহিত্যের প্রয়োজন ছিল এমন একজনের, যিনি রবীন্দ্র-প্রতিষ্ঠার বিশাল ছায়ার মধ্যেও নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র আকাশ তৈরি করবেন। তাঁদের যুগলবন্দী শুধুমাত্র দু-এক কথায় বর্ণনা করা মুর্খামী। রবি যদি বীনার আলাপ হন নজরুল ছিলেন ঝালা। দুইয়ে মিলেই একটি রাগের পূর্ণতা পায়।এই কারণেই নজরুলের প্রতি রবীন্দ্রনাথের স্নেহে ছিল না কোনো অহংকার।ছিল এক প্রবীণ স্রষ্টার আনন্দযখন তিনি দেখেন তাঁর পরের প্রজন্ম তাঁর চেনা পথ ছেড়ে আরও দূরে, আরও অজানার দিকে হাঁটতে শুরু করেছে।বসন্ত: একজন কবির হাতে আরেক কবির আশীর্বাদ, নজরুল যখন কারাগারে, তখন তাঁর শরীর বন্দি হয়েছিল, কিন্তু তাঁর কবিসত্তা নয়। রাজবন্দি তরুণ কবি অনশনে। শরীর ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এই সংবাদে উদ্বিগ্ন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ও অস্থির হয়ে উঠেছিল।তিনি জানতেন, নজরুলের মধ্যে যে আগুন জ্বলছে, তা সহজে নেভার নয়। তবু একজন স্নেহশীল প্রবীণের মতো তাঁর মন চাইছিলএই তরুণ কবি বেঁচে থাকুন। তাঁর কণ্ঠ যেন থেমে না যায়।এই সময়েই বসন্ত গীতিনাট্য নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এ যেন কেবল একটি বই উৎসর্গ করা নয়। এ একজন প্রবীণ কবির তরুণ কবির হাতে নিজের আশীর্বাদের একটি প্রদীপ তুলে দেওয়া।কারাগারের অন্ধকারে বসে নজরুল যখন সেই উৎসর্গের কথা জানলেন, তখন তাঁর কাছে সেটি ছিল এক অপার স্বীকৃতি। যে সময়ে রাষ্ট্র তাঁকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করছে, সেই সময় বাংলা তথা বিশ্ব সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে থাকা একজন মানুষ তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করছেন। এই স্বীকৃতির মূল্য কোনো পুরস্কারের চেয়ে কম ছিল না।শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু ভয় ছিল নানজরুলের সৌন্দর্য এখানেইতিনি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু তাঁর সামনে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেননি। এবং রবীন্দ্রনাথও সেটিই চেয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের কাছে নজরুলের বিদ্রোহ কোনো অপরাধ ছিল না। বরং তিনি বুঝেছিলেন, যুগ বদলালে কবিতার ভাষাও বদলায়।একটি প্রজন্ম যে প্রশ্ন করতে চায়, আগের প্রজন্ম যদি সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারে, তবে নতুন কবির জন্ম হয়।নজরুল সেই নতুন কবিতিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করার জন্য লেখেননি; তিনি নিজের সময়কে প্রকাশ করার জন্য লিখেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথ সেই স্বাধীনতাটুকু তাঁকে দিয়েছিলেন। এই উদারতাই রবীন্দ্রনাথকে শুধু বড় কবি নয়, বড় মানুষও করে তুলেছিল।এক ফ্রেমে ধরা পড়েনি দুই মহীরুহআজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে বিস্ময় জাগেদুই কবি দেখা করেছেন, কথা বলেছেন, পরস্পরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন; অথচ তাঁদের একসঙ্গে থাকা কোনো সুপরিচিত আলোকচিত্র আমাদের হাতে নেই।ইতিহাসের কাছে এ এক অদ্ভুত আফসোসএক ফ্রেমে যদি ধরা থাকত সেই দৃশ্য! এক পাশে শান্ত, শুভ্র, দীর্ঘকায় রবীন্দ্রনাথ। অন্য পাশে তারুণ্যের দীপ্তিতে উজ্জ্বল নজরুল। একজনের মুখে প্রশান্তি, অন্যজনের চোখে আগুন। ক্যামেরার একটি ক্লিক হয়তো ধরে রাখতে পারত বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সুন্দর এক সম্পর্কের দৃশ্যমান স্মৃতি। কিন্তু হয়তো নিয়তি চেয়েছিল, তাঁদের সম্পর্ক ছবি হয়ে না থেকে স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকুক।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএক রসিকতার আড়ালে গভীর সত্যনজরুলের বিদ্রোহী শুধু পাঠ করা যায় না, অনুভব করতে হয়। তরুণ কবির কণ্ঠে যখন সেই কবিতা উচ্চারিত হয়েছিল, তখন তা নিছক শব্দ ছিল নাছিল এক বিস্ফোরিত আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে নজরুল তাঁর কবিতা পাঠ করছেনভাবলেই দৃশ্যটি যেন চোখের সামনে ভেসে ওঠে।কবিতা শেষ।এক মুহূর্তের নীরবতা।তারপর প্রবীণ কবির হাসি, মুগ্ধতা, ভালোবাসা।তুমি আমায় মেরে ফেলেছএই রসিকতার মধ্যে যেন লুকিয়ে আছে এক বিরাট সত্য। নজরুল রবীন্দ্রনাথকে হত্যা করেননি। তিনি হত্যা করেছিলেন সেই ধারণাকেবাংলা কবিতার একমাত্র ভাষা একটিই। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, রবীন্দ্রনাথের পাশে দাঁড়িয়েও অন্য এক কণ্ঠস্বর পৃথিবী কাঁপাতে পারে। আর রবীন্দ্রনাথ সেই নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমন উদারতা বিরল। অভিমানও ছিল, দূরত্বও ছিল।যে সম্পর্ক সত্যিকারের, সেখানে অভিমান থাকে।নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কেও হয়তো সেই মানবিক টানাপোড়েন ছিল। রাজনৈতিক উত্তেজনা, সময়ের অস্থিরতা, সাহিত্যিক মতপার্থক্যসবকিছু মিলিয়ে কখনও কখনও তাঁদের মধ্যে ভাবনার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।কিন্তু সেই দূরত্ব কখনও হৃদয়ের দূরত্ব হয়ে ওঠেনি। কারণ রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বিদ্রোহের মধ্যে নিজের প্রতি অসম্মান দেখেননি। আর নজরুলও রবীন্দ্রনাথের উপদেশকে শেষ পর্যন্ত একজন স্নেহশীল প্রবীণের উদ্বেগ হিসেবেই অনুভব করেছিলেন। এই জায়গাতেই তাঁদের সম্পর্কের মানবিক সৌন্দর্য। তাঁরা একমত ছিলেন না সব বিষয়ে। কিন্তু একে অপরকে ভালোবাসতে তাঁদের একমত হওয়ার প্রয়োজন হয়নি।সঞ্চিতা: শিষ্যের অর্ঘ্য১৯২৮ সালে নজরুল তাঁর সঞ্চিতা রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেছিলেন। নামটির মধ্যেও যেন শ্রদ্ধার এক নীরব সেতু ছিল। রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতাআর নজরুলের সঞ্চিতা। কিন্তু বইয়ের নামের এই সাদৃশ্যের চেয়েও বড় ছিল উৎসর্গের অনুভূতি। যে তরুণ কবি একদিন বিদ্রোহের ভাষায় নিজের পরিচয় ঘোষণা করেছিলেন, সেই তিনিই আবার নিজের সৃষ্টির অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রবীণ কবির দরজায়। এখানে কোনো আত্মসমর্পণ ছিল না। ছিল ভালোবাসা।ছিল বলাআপনাকে অস্বীকার না করেও আমি আমার নিজের পথের কবি।রবির বিদায়: যে শোক ভাষাকে স্তব্ধ করে দেয়১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট। বাংলা আকাশ থেকে যেন একটি বিশাল আলো সরে গেল। রবীন্দ্রনাথ চলে গেলেন। এই মৃত্যু ছিল শুধু একজন কবির মৃত্যু নয়। একটি যুগের অবসান। আর সেই সংবাদ যখন নজরুলের কাছে পৌঁছেছিল, তখন তাঁর হৃদয়ের ভিতরে কী ঝড় উঠেছিল, তা কল্পনা করাও কঠিন। যে মানুষটি তাঁর প্রতিভাকে চিনেছিলেন, তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তাঁকে নিজের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেনসেই মানুষটি আর নেই। নজরুলের শোক তাই ছিল আপনজন হারানোর শোক।তিনি লিখলেন, গাইলেন, কাঁদলেন।ঘুমাতে দাও শ্রান্ত রবিরেকী আশ্চর্য নিয়তি!যে তরুণ কবির কণ্ঠ একদিন রবীন্দ্রনাথের বিদায়ে বজ্রের মতো গর্জে উঠেছিল, সেই কণ্ঠই বছর ঘুরতেই অসুস্থতার অন্ধকারে স্তব্ধ হয়ে গেল।কণ্ঠ থেমে গেল।স্মৃতি মুছে যেতে লাগল।শব্দ, যে শব্দ দিয়ে তিনি সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়েছিলেন, সেই শব্দই তাঁর নিজের জীবনে একদিন নিঃশব্দ হয়ে গেল।এ যেন ইতিহাসের নির্মমতম কবিতা।দুই কবি, এক মানবতার গানরবীন্দ্রনাথ ও নজরুলকে পাশাপাশি রাখলে প্রথমে চোখে পড়ে তাঁদের পার্থক্য। রবীন্দ্রনাথশান্তি, সৌন্দর্য, প্রেম, প্রকৃতি, আত্মদর্শন। নজরুলবিদ্রোহ, সাম্য, সংগ্রাম, প্রেম, মুক্তি। কিন্তু একটু গভীরে তাকালেই দেখা যায়, তাঁদের গন্তব্য একই। দুজনেই মানুষকে ভালোবেসেছেন। দুজনেই মানুষের মুক্তি চেয়েছেন। দুজনেই ধর্ম, জাতি, সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখতে চেয়েছেন। তাই তাঁদের পথ আলাদা হলেও আকাশ ছিল এক।রবীন্দ্রনাথ হয়তো বলেছিলেনমানুষের হৃদয়কে সুন্দর করো।নজরুল যেন উত্তর দিয়েছিলেনমানুষের শিকলও ভেঙে দাও।একজন হৃদয়ের দরজা খুলেছেন, অন্যজন কারাগারের দরজা ভেঙেছেন। আর বাংলা সাহিত্য তাঁদের দুজনকেই গ্রহণ করেছে।দুই নক্ষত্রের দিকে তাকিয়েআজ এত বছর পরে যখন আমরা তাঁদের দিকে ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল যেন একই আকাশের দুটি নক্ষত্র।তাঁদের আলো এক নয়।তাঁদের পথ এক নয়।তাঁদের ভাষাও এক নয়।কিন্তু অন্ধকারের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রত্যয়ের জায়গাটি একই।একজনের হাতে ছিল বীণা, অন্যজনের হাতে বিদ্রোহের মশাল।একজন বলেছিলেন ভালোবাসতে।অন্যজন বলেছিলেন ভয় না পেতে।একজন মানুষের অন্তরকে মুক্ত করেছেন, অন্যজন মানুষের মেরুদণ্ডকে সোজা করেছেন।আর তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আমাদের শিখিয়েছেশ্রদ্ধা মানে নিজের কণ্ঠ হারিয়ে ফেলা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরকে নিজের মতো করে বানিয়ে নেওয়া নয়। সত্যিকারের শ্রদ্ধা হল অন্যের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকার করে নেওয়া। সত্যিকারের ভালোবাসা হল অন্যের আলোকে ভয় না পাওয়া। রবীন্দ্রনাথ নজরুলের আলোকে ভয় পাননি। নজরুলও রবীন্দ্রনাথের মহিমার সামনে নিজের আলো নিভিয়ে দেননি।এই কারণেই তাঁদের সম্পর্ক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শুধু একটি অধ্যায় নয়এ এক অনন্ত মানবিক উপাখ্যান। যেখানে একজন প্রবীণ কবি তরুণ প্রতিভার মাথায় হাত রেখেছেন, আর এক তরুণ বিদ্রোহী কবি শ্রদ্ধায় সেই হাতের উষ্ণতা অনুভব করেছেন। সময় তাঁদের আলাদা করেছে।মৃত্যু তাঁদের দুজনকেই নীরব করেছে।কিন্তু তাঁদের কথারা আজও বেঁচে আছে।রবীন্দ্রনাথের গানে যখন সন্ধ্যা নামে, নজরুলের কবিতায় তখন ভোরের মিছিল শুরু হয়।একজনের সুরে মন শান্ত হয়।অন্যজনের শব্দে রক্ত গরম হয়ে ওঠে।আর আমরা বুঝতে পারিবাংলা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ করতে দুজনেরই প্রয়োজন ছিল। একজন না থাকলে অন্যজনের মহিমা হয়তো এত স্পষ্ট হয়ে উঠত না। তাই আজও মনে হয়, দূর কোনো নক্ষত্রলোকের নীরব বারান্দায় হয়তো রবীন্দ্রনাথ বসে আছেন, হাতে তাঁর চিরপরিচিত বীণা। আর পাশে দাঁড়িয়ে নজরুলচোখে সেই দুরন্ত আগুন, হাতে তাঁর অমর মশাল। দুজনেই হয়তো একে অপরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন।কোনো অভিমান নেই।কোনো প্রতিযোগিতা নেই।শুধু গভীর এক স্বীকৃতিতুমি তোমার মতো করেই এসেছিলে।তাই বাংলা ভাষা আজ এত সমৃদ্ধ।আর সেই কারণেই, তাঁদের ভালোবাসার গল্প শেষ হয় না।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা সেই গল্প শুনিএকজন কবির স্নেহের গল্প, একজন বিদ্রোহীর শ্রদ্ধার গল্প, আর দুই মহীরুহের মধ্যে জন্ম নেওয়া এমন এক আত্মিক বন্ধনের গল্প,যেখানে বীণার সুর আর বিদ্রোহের মশালদুটিই শেষ পর্যন্ত মানুষেরই জয়গান গায়।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal