• ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

উৎসব

উৎসব

বিদ্যা ও সুন্দরের এক অমর প্রেম কাহিনী এই মন্দিরে কান পাতলেই শোনা যায়

বর্ধমানের বিদ্যাসুন্দর কালীপুজোর পেছনে জড়িয়ে রয়েছে এক প্রেমের গল্প ৷ তেজচাঁদ রাজার কন্যা বিদ্যা ও মন্দিরের পুজারি সুন্দরের ভালবাসার জোরে বন্ধ হয়েছিল মন্দিরের নরবলি প্রথা ৷ বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদের আমল। বর্ধমানের বেশিরভাগ এলাকা ছিল ঘন জঙ্গলে ভর্তি। বিশেষ করে দামোদর তীরবর্তী তেজগঞ্জ এলাকায় ছিল আরও গভীর জঙ্গল। সেখানেই কালী মন্দিরে পুজো করতেন রাজা। ওই কালী মন্দিরে কেউ সচরাচর যেতেন না।কথিত আছে, যারা অন্যায় অত্যাচার করত, তাদের এই মন্দিরে দেবীর সামনে হাঁড়িকাঠে নরবলি দেওয়া হত। তাই সেই সময় এই কালী দক্ষিণ মশান কালী নামে পরিচিত ছিল। ফলে দিনের বেলাতেও ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করার কেউ খুব একটা সাহস করত না।রাজার এক কন্যা ছিল, নাম বিদ্যা৷ আর রাজবাড়ির পুজারি ছিলেন সুন্দর নামে এক যুবক। সুন্দরের আর্থিক অবস্থা মোটেই ভাল ছিল না। রাজবাড়িতে ফুল দিতে আসত মালিনী মাসি। সে প্রতি ঠাকুর বাড়িতে ফুলের মালা দিত। যথারীতি একদিন মালিনী মাসি মন্দিরে ফুলের মালা নিয়ে এসেছেন। সেই মালা দেখে পুজারি সুন্দর খুব আকৃষ্ট হন। তিনি মালিনী মাসিকে জিজ্ঞাসা করেন, এত সুন্দর ফুলের মালা কে গেঁথেছে? যে মালা গেঁথেছে তাকে দেখার জন্য ছটফট করতে থাকে সুন্দর। মালিনী মাসি তাকে বলে, রাজকুমারী বিদ্যা মালা গেঁথেছে। কিন্তু তাকে দেখা সম্ভব নয়।পরবর্তীকালে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকী তারা নাকি মন্দিরের পাশ থেকে রাজবাড়ি পর্যন্ত একটা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ফেলে। সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে বিদ্যা ও সুন্দর একে-অপরের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে যেতেন । একদিন চরের মাধ্যমে তেজচাঁদ বিদ্যা ও সুন্দরের প্রণয়ের ব্যাপারে জেনে ফেলেন। খবরটা কানে যেতেই রাজা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বিদ্যা এবং সুন্দরকে কালীর সামনে বলি দেওয়ার আদেশ দেন ৷ রাজার হুকুম মতো তাদেরকে বলি দিতে নিয়ে যাওয়া হয় কালী মন্দিরে। হাঁড়িকাঠে বিদ্যা ও সুন্দর দুজন ঢোকানোর পর খাঁড়া হাতে বলি দেওয়ার সময় কাপালিক জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বিদ্যা আর সুন্দর প্রেমিক প্রেমিকা মন্দির থেকে উধাও হয়ে যায়। রাজ্যপাট না থাকলেও এখনো প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই কালী মন্দিরে পুজো হয় বলে জানান সেবাইত আভা বটব্যাল। তবে জাঁকজমক এখন আর আগের মত নেই। মা এখানে পাষাণ মূর্তি। নিত্যদিন পুজো হয়।

অক্টোবর ২৪, ২০২২
উৎসব

বর্ধমানের মা কঙ্কালেশ্বরী কালী চামুণ্ডা মতে পূজিত হন

বাংলার ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে দামোদরের বন্যার সময় বর্ধমান পশ্চিম নদীগর্ভ থেকে এই কালী মূর্তি পাওয়া যায়। মূর্তির বয়স আজ পর্যন্ত নির্ণয করা সম্ভব হয়নি। মূর্তিটি কষ্টি পাথরে খোদিত এবং মানব কঙ্কালের মতো দেখতে। বিগ্রহটি অষ্টভূজা। গলায় নরমুণ্ডমালা,পাদতলে শিব স্থায়িত এবং শিবের নাভিকুণ্ড থেকে পদ্ম উঠেছে তার মধ্যে অষ্টভূজা কালী দাঁড়িয়ে। আর শিবের ছুইপাশে আছে দুই শখী।আটটি হাতে রয়েছে নরমৃণ্ড, শঙ্খ, চক্র, ধনুক, খড়গ,পাশি ইত্যাদি। কঙ্কালেশ্বরী কালীর দেহের শিরা উপশিরা গুলির নিখুঁত ভাস্কার্য আজও বর্তমান।এই মূর্তিটি বর্ধমানের কাঞ্চননগরে বিষ্তু মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন সাধক কমলাকান্ত। প্রথমে দিকে কক্কালেশ্বরী কালীর মূর্তিটি দামোদর নদে উল্টে পরেছিল।তার উপর ধোপারা জামা-কাপর কাঁচাকাচি করতো। একদিন মা কঙ্কালেশ্বরী কালী সাধক কমলাকান্তকে স্বপ্নাদেশ দেন যে দামোদর নদ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করার। সাধক কমলাকান্ত স্বপ্নাদেশের কথা বর্ধমানের মহারাজা কে জানান। তখন মহারাজ সাধক কমলাকান্ত কে সঙ্গে নিয়ে দামোদর নদ থকে মা কক্কালেশ্বরী কালী কে তুলে নিয়ে এসে বর্ধমানের কাঞ্চননগরে রাজার তৈরি বিষ্কু মন্দিরে প্রতিষ্টা করেন।মা কঙ্কালেশ্বরী কালী এখানে চামুণ্ডা মতে পূজিত হয়। প্রতিদিন এখানে সন্ধ্যা আরুতি ও নিত্যসেবা হয়। কালী পুজোর দিন সকলা থেকে পুজো শুরু হয়। সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত বহু ভক্তের সমাগম হয় কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দিরে। প্রায় ৬০ হাজার ভক্তের পাত পরে কালী পুজোর দিনে ।পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণও করা হয়।এখানে চামুণ্ডা মতে পুজো হওয়ার জন্য বলি হয় না৷ বাংলার ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে দামোদরের বন্যার সময় বর্ধমান পশ্চিম নদীগর্ভ থেকে এই কালী মূর্তি পাওয়া যায়। মূর্তির বয়স আজ পর্যন্ত নি র্ণয় করা সম্ভব হয়নি। মূর্তিটি কষ্টি পাথরে খোদিত এবং মানব কঙ্কালের মতো দেখতে। বিগ্রহটি অষ্টভূজা।গলায় নরমুণ্ডমালা,পাদতলে শিব স্থায়িত এবং শিবের নাভিকুণ্ড থেকে পদ্ম উঠেছে তার মধ্যে অষ্টভূজা কালী দাঁড়িয়ে। আর শিবের ছুইপাশে আছে দুই শখী। আটটি হাতে রয়েছে নরমৃণ্ড,শঙ্খ,চক্র,ধনুক,খড়গ,পাশি ইত্যাদি। কঙ্কালেশ্বরী কালীর দেহের শিরা উপশিরা গুলির নিখুঁত ভাস্কার্য আজও বর্তমান।এই মূর্তিটি বর্ধমানের কাঞ্চননগরে বিষ্তু মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন সাধক কমলাকান্ত। প্রথমে দিকে কক্কালেশ্বরী কালীর মূর্তিটি দামোদর নদে উল্টে পরেছিল।তার উপর ধোপারা জামা-কাপর কাঁচাকাচি করতো। একদিন মা কঙ্কালেশ্বরী কালী সাধক কমলাকান্তকে স্বপ্নাদেশ দেন যে দামোদর নদ থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করার। সাধক কমলাকান্ত বপ্নাদেশের কথা বর্ধমানের মহারাজা কে জানান। তখন মহারাজ সাধক কমলাকান্ত কে সঙ্গে নিয়ে দামোদর নদ থকে মা কক্কালেশ্বরী কালী কে তুলে নিয়ে এসে বর্ধমানের কাঞ্চননগরে রাজার তৈরি বিষ্কু মন্দিরে প্রতিষ্টা করেন।মা কঙ্কালেশ্বরী কালী এখানে চামুণ্ডা মতে পূজিত হয়। প্রতিদিন এখানে সন্ধ্যা আরুতি ও নিত্যসেবা হয়। কালী পুজোর দিন সকলা থেকে পুজো শুরু হয়। সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত বহু ভক্তের সমাগম হয় কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দিরে। প্রায় ৬০ হাজার ভক্তের পাত পরে কালী পুজোর দিনে ।পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণও করা হয়।এখানে চামুণ্ডা মতে পুজো হওয়ার জন্য বলি হয় না৷

অক্টোবর ২৪, ২০২২
উৎসব

টুইন টাওয়ার ছেড়ে মানুষ ভিড় জমিয়েছে হরিনারায়নপুরের রুদ্রানীর 'পোড়ো বাড়িতে'

রাজ্যের শস্যভান্ডার বর্ধমানের প্রধান পুজো দুর্গাপুজো হলেও, দুর্গাপুজোর রেশকে অনেকটাই জিইয়ে রেখে শহর বর্ধমান মেতেছে কালীপুজোয়। দুর্গাপুজোর মতই কালীপুজোতেও শহরে আনাচে কানাচে থিমের রমরমা। এবারে কালী পুজোর বিশেষ আকর্ষণ সাম্প্রতিক সময়ে বহু চর্চিত টুইন টাওয়ার বর্ধমান শহরের পাড়াপুকুরের রাসবিহারি এ্যথলেটিক ইউনাইটেড ক্লাব। কালীপুজোতে বেশ কয়েক বছর ধরে নিত্যনতুন থিমের চমক দিচ্ছে তারা।গত বছর বুর্জ খালিফা করে শহরের নজর টেনেছিল এই ক্লাব। এবারে তাদের মণ্ডপের থিম- টুইন টাওয়ার। ৯/১১/২০০১ র যে টুইন টাওয়ার ভাঙা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় হয়। সেটাই এবার কালীপুজোর থিম ভাবনায় উঠে এসেছে। টিন,ফোম,দড়ি, থার্মোকল,বাঁশ দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। লাইট এণ্ড সাউণ্ডের মাধ্যমে আলোর খেলা দেখানো হবে মণ্ডপ জুড়ে। স্লট করে আলোকসজ্জা প্রদর্শন করা হবে। সঙ্গে ডাকের সাজের চিরায়ত প্রতিমা,কাঁচের চুমকির কাজে সজ্জিত মূর্তি।বনানী রায় ও ডঃ শিবকালী গুপ্তআলোর রোশনাই ছেড়ে এবারে দর্শকের মন কেড়েছে হটুদেওয়ান এলাকার বাহির সর্ব্বমঙ্গলা দুর্গামাতা সংঘের কালি পুজো। এবছর তাদের ১৪ তম বর্ষ। বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁরা কালি পুজোতে নানা থিমের উদ্যোগ নিয়েছেন। এবছর তাঁদের কালি পুজোর ভাবনা রূদ্রানীর আদিবাস। রুদ্র মুর্তীর অধিষ্টাত্রী দেবী শ্যমা মায়ের পুজোয় ব্রতী হয়েছেন তাঁরা। প্রাচীন কালের ভগ্নপ্রায় মায়ের বাসস্থানকে থিম হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।উদ্যোক্তা বাহির সর্ব্বমঙ্গলা দুর্গামাতা সংঘের সদস্য সৌম্য দাস জনতার কথা জানালেন, দুর্গা-প্রতিমা বিসর্জনের পরের দিন থেকেই তাঁরা এই পুজো আয়োজনে নেমে পড়েছেন। গতবছর তাঁরা ২৭ ফুটের সুউচ্চ প্যন্ডেল করেছিলেন। ভারতের সাধকেদের তাঁদের থিমের মধ্য দিয়ে সন্মান জ্ঞ্যাপন করেছেন। তিনি আরও জানান, এই এলাকায় সেই ভাবে কালী পুজো হতো না। আমদের পুজো উত্তরোত্তর জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় অনেক দূরদুরান্ত থেকে আমাদের পুজো দেখতে আসেন। সেই কারণে আমাদেরও দ্বায়িত্ব বেড়ে যাচ্ছে সেই ধারাকে বজায় রাখার। তিনি জানান এবারে তাঁরা ঠাকুর এনেছেন সুদুর হুগলী জেলার গুপ্তিপাড়া থেকে, থিমের কারিগর এসেছেন গলসী থেকে। বাইরের কারিগরের সাথে তারাও সমান তালে হাত লাগিয়েছেন বলেই এত কম সময়ে এই পুজো আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।ক্লাবের আরও এক সদস্য শৈলেন বিশ্বাস জানান, তাঁরা এই থিম বানাতে যে সমস্ত দ্রব্য ব্যবহার করেছেন তার শতকরা নব্বই ভাগই পরিবেশ বান্ধব। পরিবেশ সচেতনাতার বার্তা দেওয়ার জন্য তাঁরা প্লাস্টিকের ব্যবহার সেই ভাবে করেননি। তাঁদের এই থিমের মধ্যে দিয়ে এই বার্তা দিতে চাইছেন,যে ভাবে প্রাচীন বাড়িগুলি ভেঙে আবাসন গড়ে উঠছে শহর জুড়ে তাতে আর কিছুদিনের মধ্যেই আমরা প্রাচীন ইতিহ্য বলে যে একটা শব্দ আছে সেটাও ভুলতে বসবো।আমি সেই মেয়ে-তুনা রুদ্রপুজোর উদ্বোধন করেন বর্ধমান জেলা মহিলা থানার আই সি বনানী রায় ও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যলয়ের অধীনস্ত ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি অধ্যাপক ডঃ শিবকালী গুপ্ত। বানানি রায় বলেন, দীপাবলি আলোর উৎসব, এই উৎসবে আমরা যেমন আমরা বাইরের জগৎটাকে আলো দিয়ে সাজায়, মা কালি যেন ঠিক সেই আলো দিয়েই মনের সব অন্ধকার কে দূর করে দেন। অপর অথিতি ডঃ শিবকালী গুপ্ত জানান, এই দীপাবলি যেন আমাদের মনের সব অন্ধকার দূর করে দেয়। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সমবেত চেষ্টায় করোনার মত অতিমারী কে দূর করতে পারছি, আমাদের সার্বিক চেষ্টায় সকল অন্ধকারও দূর হবে এই আশায় তিনি করেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে সাংস্কৃতীক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেন তাঁরা। কচি কাঁচাদের নাচে গানে ভরে ওঠে পূজা প্রাঙ্গণ। বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্রর নৃত্য পরিবেসন করেন। তাঁর আমি সেই মেয়ে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। তাঁর এই অনুষ্ঠানে অভিনয়, অভিব্যক্তি দর্শকদের নির্বাক করে দেয়। অনুষ্ঠানে ক্ষুদে শিল্পী জয়মাল্য ও চঞ্চল চৌধুরির শিবের সাক্ষাতকার এক অন্য মাত্রা যোগ করে। এছাড়াও নাচে, গানে, কবিতায় অংশগ্রহণ করেন নৈরিক ভকত, সম্পূর্না চক্রবর্তী, দিয়া সামন্ত,নিধি মণ্ডল, সংকলন চৌধুরী সহ আরও অনেকে।বাহির সর্ব্বমঙ্গলা দুর্গামাতা সংঘের আরও এক সদস্য চঞ্চল চৌধুরী জনতার কথা কে জানান, আগামী কাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টাই পুজো শুরু, মঙ্গলবার রাতে মায়ের ভোগ বিতরণ, বুধবার সাংস্কৃতীক অনুষ্ঠানের শেষে মায়ের বিসর্জন। তিনি বর্ধমান বাসীকে জনতার কথার মাধ্যমে তাঁদের এই পুজোয় আমন্ত্রণ জানান।

অক্টোবর ২৪, ২০২২
উৎসব

সাধক কমলাকান্ত তেজচাঁদকে অমাবস্যার দিন যোগবলে পূর্ণচন্দ্র দেখিয়েছিলেন

১৮০৫ খীষ্টাব্দে বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ বাহাদুর কোটালহাটে কমলাকান্তের কালি সাধন ও ভজনের জন্য মন্দির টি তৈরি করে দেন।সাধক কমলাকান্ত ভষ্টাচার্য ১৭৭২শরষ্টাব্দে বর্ধমানের তাঁর মাতুলালয়ের চান্না গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।তাঁর পিতার নাম মহেশ্বর ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম মহামায়াদেবী। কিশোর বয়সে পিতার মৃত্যু হলে মা মহামায়াদেবী দুই শিশু পুত্র কমলাকান্ত ও শ্যামাকান্তকে নিয়ে পিত্রালয়ে চলে আসেন। মহামায়াদেবী কমলাকান্তকে পড়াশোনার জন্য টোলে ভর্তি করে দেন। টোলে পড়াশোনার পাশাপাশি কমলাকান্ত গোপনে সাধন ভজনের অনুশীলন শুরু করেন বর্ধমানের মহারাজা তেজচাঁদ বাহাদুরের গুরু এবং সভাকবি ছিলেন তিনি। তেজচাঁদের উচ্ছৃঙ্খল পুত্র প্রতাপচাঁদকে শিক্ষা দীক্ষায় উপযুক্ত করে তোলার জন্য কমলাকান্ত বর্ধমানে নিয়ে আসেন। এবং বর্ধমানের লাকুড্ডিতে কমলাকান্তকে থাকার জন্য ঘরও তৈরি করে দেন। প্রথমে লাকুড্ডিতে কমলাকান্ত মা কালীর সাধন ভজন শুরু করেন। কথিত আছে তিনি রাজা তেজচাঁদকে অমাবস্যার দিন যোগবলে পূর্ণচন্দ্র দেখিয়েছিলেন। কমলাকান্তের সাধনায় ও যোগবলে মুগ্ধ হয়ে রাজা তেজচাঁদ বাহাদুর ১৮০৫ খীষ্টাব্দে কোটালহাটে তাঁর সাধন ভজনের জন্য মন্দিরটি তৈরি করে দেন। এই মন্দিরেই কমলাকান্ত কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পঞ্চমুন্তীর আসনে বসে সাধনা করতেন।সাধনা করতে করতে এক দিন রাজা প্রতাপচাঁদকে মা কালীর পায়ে বেলকাঁটা ফুটিয়ে রক্ত বেড়করে দেখিয়ে ছিলেন মা জীবন্ত। শুধু তাই নয় কমলাকান্ত প্রায় শতাধিক ভক্তিগীতি রচনা করেছেন।১৮২০ শরীষ্টাব্দে সাধক কমলাকান্ত মা কালীর সামনেই মৃত্যুবরণ করেন মৃত্যুবরণের সময় বর্ধমানের মহারাজ তাঁকে গঙ্গায় নিয়ে যেতে গেলে তখন তিনি মাহারাজকে বলেন মাকে ছেড়ে তিনি যাবেনা।তখন মন্দিরের মাটি ফেটে গঙ্গার জল এসে সাধকের মুখে পড়ে। সাধক কমলাকান্তের দেহ সমাধিস্থ করা হয় মন্দিরের ভিতরে।তাঁর সমাধির উপরেই মা কালী প্রতিষ্ঠা করা আছে।কমলাকান্তের পুজোর আচার আচরন মেনেই এখনও পর্যন্ত কালীর পুজো হয়ে চলেছে এই মন্দিরে।প্রতি অমাবস্যায় মা কমলাকান্তকে মাগুর মাছ রান্না করে ভোগ দেওয়া হয়।এছারও প্রতিদিন দুবেলায় নিত্যসেবা ও সন্ধ্যা আরতি হয় এই কালি মন্দিরে।প্রথামেনে কালী পুজো দিন রাত্রি ১২ টা সময় ঘটে জল ভরে পুজো শুরু হয়।পুজোর সময় মন্দির প্রাঙ্গনে দূরদূরান্ত থেকে অসংখ ভক্তের সমাগম ঘটে।কালী পুজোর পরের দিন অন্নকুট মহোৎসব হয়।এবং ভাইফোঁটার দিন কালি মন্দিরে কমলাকান্ত দিবস পালন করা হয়।

অক্টোবর ২৩, ২০২২
উৎসব

বর্ধমানের দূর্ল্লভা কালী একই অঙ্গে কালী, দুর্গা, চণ্ডী ও বিপত্তারিণী রূপে পূজিত

কালী, দুর্গা, চণ্ডী অথবা বিপত্তারিণী। বছরভর বিভিন্ন মরসুমে সব দেবীরই পুজো হয় এক মূর্তিতে। এমন ভাবেই তিন শতকেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমান শহর লাগোয়া লাকুড্ডি এলাকায় দুর্লভা কালীর পুজো চলছে। মন্দিরে গিয়ে দেখা গেল, কালীপুজোর আগে এখন সেখানে সাজোসাজো রব।লোকশ্রুতি থেকে জানা যায়, বর্ধমানের মহারাজার আনুকুল্যেই দেবী মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়। একদা গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী নামে এক পরিব্রাজক সন্যাসী ঘুরতে ঘুরতে জঙ্গলে পরিপূর্ণ লাকুড্ডিতে হাজির হন। শুরু করেন দেবী আরাধনা। একদিন গোকুলানন্দ মন্দিরের পাশে পুকুরে স্নান করতে গিয়ে তার পায়ে একটি পাথর ঠেকে। তখন তিনি ওই পাথর টিকে তুলে নিয়ে আসেন। এর পর মা কালী সন্যাসী গোকুলানন্দকে স্বম্নাদেশ দেয় তাঁকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করতে তারপর সন্ন্যাসী গোকুলানন্দ বর্ধমানে লাকুড্ডিতে তাল পাতার ছাউনী দিয়ে মন্দির তৈরি করে পাথরটিকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন। জড়ো হন ভক্তেরাও। কথিত রয়েছে, গোকুলানন্দের সাধনা ও বিভিন্ন দৈব শক্তির খবর যায় বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চাঁদ মহতাবের দরবারেও। একদিন মহারাজ বিজয়চাঁদ ঘুরতে ঘুরতে সন্যাসী গোকুলানন্দ কাছে পৌছান। তখন সন্যাসী গোকুলানন্দ মহারাজ বিজয়চাঁদকে অমাবস্যার দিন যোগবলে পূর্ণচন্দ্র দেখিয়েছিলেন। এরপর বিজয়চাঁদ মুগ্ধ হয়ে প্রায় দশ বিঘে জায়গার উপর একটি দালান মন্দির তৈরি করে দেন। পাশেই তৈরি করা হয় বেশ কয়েকটি শিব মন্দিরও। এ ভাবেই ধীরে ধীরে দেবী দূর্লভার প্রসিদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন এলাকায়।তবে দেবীর নাম দুর্লভা হওয়া নিয়েও একটি গল্প প্রচলিত আছে।বর্তমানে মন্দিরের পুরহিত মঙ্গলা ভট্টাচার্য জানান,.গোকুলানন্দ স্বামী মারা যাওয়ার পরে দুর্লভ ভট্টাচার্য নামে একজনকে পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ করেন রাজা বিজয়চাঁদ। রাজ অনুগ্রহে মন্দির ও সম্পত্তিরও অধিকারী হন তিনি। এই দুর্লভ ভট্টাচার্যের নামেই দেবী এখানে ছুর্লভা নামে পরিচিত।ভষ্টাচার্য পরিবারের সূত্রে জানা গেল, দেবী এখানে শ্বেত পাথরের মুর্তিতে পুজীতা হন। তবে দেবীর মূর্তিটি প্রথমে মাটির ছিল। পরে তা অষ্টধাতুতে তৈরি করা হয়। তবে সেই মুর্তি চুরি যায়। তারপর মহারাজা বিজয়চাঁদের নির্দেশে দেবী বেলকাঠের মূর্তিতে পুজিতা হতেন। কিন্তু সময়ের ফেরে ওই বেলকাঠেও ঘুন ধরে। তারপর খানেকের মধ্যে তাতেও ফাটল ধরে। ছুবছর আগে রাজস্থান থেকে সাড়ে চার ফুট উচ্চতার শ্বেত পাথরের মূর্তিটি আনা হয় বলে জানান মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত মঙ্গল ভ্টাচার্য। দুর্গাপুজোর সময় এখানে চারদিন ধরে পুজো হয়। তবে কালীপুজোর সময়মতো রাতভর পুজো হয়। প্রতিদিন নিত্যপুজোর সময় অন্নভোগ দেওয়া হয় এবং ওই দিন মন্দিরের ভিতরে ভক্তদের বসিয়ে খিঁচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হয়। একসময় দেবী দুর্লভা কালী ডাকাত কালী নামেও পরিচিতি ছিল।

অক্টোবর ২১, ২০২২
উৎসব

৪৮২ বছর ধরে পুজীত দেবী সিদ্ধেশ্বরী, আর কোনও কালী মুর্তীর পুজো হয় না এই গ্রামে!

সময়টা ছিল ১৫৪০ খৃষ্টাব্দ। ভূ-কৈলাসের রাজবংশের বংশধর দিগম্বর ঘোষাল মহাশয় গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড এবং রাজস্ব সংক্রান্ত ব্যাপারে শেরশাহের নির্দেশ মত কাজকর্ম দেখাশোনার জন্য কংসানদী পথে প্রায়ই আসতেন। তিনি এক দিন কংসানদীর তীরে কোলসড়া গ্রামে রাত্রি নিবাস করেন। এবং এক রাতে মা সিদ্ধেশ্বরী তাঁকে পুজো করার জন্য স্বপ্নাদেশ দেন ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে বলেন। তখন দিগম্বর ঘোষাল শেরশাহকে তাঁর স্বপ্নাদেশের কথা জানান। যানা যায় শেরশাহ ইসলাম সম্প্রদায় ভূক্ত হয়েও দিগম্বর বাবুর ইচ্ছা পুরন করার জন্য মা সিদ্ধেশ্বরী নামে একটি তাম্র ফলকের ওপর পাঁচশত বিঘা জমি একটি দলিল করে দান করেছিলেন।১৫৪০ থেকে আজ পর্যন্ত মা সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো হয়ে আসছে জামালপুরের কোলসড়া গ্রামে। সিদ্ধেশ্বরী মায়ের মন্দিরটি নির্মান হয়েছে শ্মশানের ধারে।পঞ্চমুণ্ডের আসনের উপর দেবীর মূর্তি স্থাপন করা আছে এবং দেবীর মূর্তিটি একটি ত্রিশুলকে বেষ্টন করে তৈরী হয়েছে, তাই এই মূর্তিটি ঘরে ও বাইরে অক্ষত অবস্থায় বের করা যায় না। যখন সিদ্ধেশ্বরী কালীর অঙ্গহানী হয় তখন পাঁচজন পুরোহিত মূর্তিটি কে খণ্ডখণ্ড করে কেটে ঝুঁড়িতে ভরে পুকুরে নিরঞ্জন দেয়।ঘোষাল পরিবারের বর্তমান বংশধর সমীর ঘোষাল জানান ১৮২৯ পর্যন্ত সিদ্ধেশ্বরী কালী মায়ের পুজো ঘোষাল বাড়ির পুজো হিসাবেই গণ্য হত। তবে ১৮৩০ থেকে এই পুজো কোলসড়া গ্রামের সর্বজনীন পুজো হিসাবেই বিবেচিত হয়েছে। এই গ্রামে সিদ্বেশ্বরী কালীর একা পুজো হয়। এছাড়া দ্বিতীয় আর কোন কালীর মূর্তী পুজো হয় না। এখানে বলি দান প্রথা আছে। প্রতিবছর চৈত্রমাসের শুক্ল পক্ষে এবং কার্ত্তিক মাসে কালী পুজোর সময় মহা ধুমধাম সহকারে সিদ্ধেশ্বরী কালীর পুজো হয় কোলসড়া গ্রামে।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
উৎসব

এবার দেবাদিদেব মহাদেব ও জায়গা করে নিলেন থিম ভাবনার পুজোয়

বিশ্ব জুড়ে সমাদর পেয়েছে পশ্চিম বঙ্গের থিম ভাবনার দেবী দুর্গার পুজো আরাধনা। থিমের পুজো আয়োজনে জায়গা করে নেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকননি দেবী কালী মাতাও। তিনিও অনেকদিন আগেই বাঙালির থিম ভাবনার পুজো আরাধনায় জায়গা করেনে নেন। কিন্তু দেবাদিদেব হয়েও বাবা মহাদেব অর্থাৎ শিব এই ক্ষেত্রে যেন ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছিলেন। তাই মঙ্গলবার শিবরাত্রির দিনে হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেবকে থিম ভাবনার পুজোয় স্থান করেদিলেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের একদল শিব ভক্ত। তাঁরাই এক তরুণ মৃৎশিল্পীর থিম ভাবনা অনুযায়ী তৈরি করিয়েছেন বিশালাকার ও সুন্দর একটি শিব মূর্তি। সেই মূর্তির সঙ্গে মানানসই করেই তৈরি হয়েছে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা। থিম ভাবনায় দেবাদিবের পুজো আরাধনা সন্ধ্যায় চাক্ষুষ করে দর্শনার্থীরাও অভিভূত হন। জামালপুর থানার সন্নিকটে রাধাবল্লববাটি এলাকার রয়েছে গোলাবাড়ি নামে পরিচিত একটি পাড়া। সেখানকার একদল যুবক প্রতিবছর কার্তিক মাসে কালী পুজোর আয়োজন করে থাকে। তাঁরাই এইবছর শিবরাত্রির দিন থিম ভাবনায় প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরি করে দেবাদিদেবের পুজো আয়োজনের ব্যাপারে মনস্থির করে। সেই ভাবনা অনুযায়ী মাস দুই আগে থেকে দেবাদিদেব মহাদেবের থিমের মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করে দেন এলাকার তরুণ মৃৎশিল্পী প্রসেনজিৎ দাস ওরফে অভি। সোমবার তিনি প্রতিমার তৈরির কাজ শেষ করেন। তারই মধ্যে ডেকরেটার শিল্পীরা প্রতিমার সঙ্গে মানানসই করে মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজও শেষ করে ফেলেন। এদিন মহা ধূমধাম করে হয় সেই দেবাদিদেবের মূর্তিরই পুজার্চনা।প্রতিমা শিল্পী প্রসেনজিৎ দাস জানান, তিনি তাঁর দুই গুর পিরু দে ও আশিস পালের কাছে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখেন। তার পর গুরুদের হাত ধরেই থিমের আদলে দুর্গা, কালী, সরস্বতী ও লক্ষ্মী মাতার প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। কিন্তু থিম ভাবনার অঙ্গিকে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রতিমা তৈরির কাজ করেন নি। তা নিয়ে একটা আক্ষেপ রয়েই গিয়েছিল। তাই গোলাবাড়ি এলাকার শিব ভক্ত যুবকরা এবছর তাঁকে থিম ভাবনার আঙ্গিকে শিবের প্রতিমা তৈরি করে দেবার প্রস্তাব দিতেই তিনি তা লুফে নেন। প্রসেনজিৎ বলেন, তিনি নিজের হাতে থিম ভাবনার আদলে যে শিব প্রতিমা তৈরি করেছেন তা দেখতে এদিন বহু দর্শনাথী মণ্ডপে ভিড় করেন। দেবাদিদেবকেও থিমের পুজোর স্থান করে দিতে পেরে গর্বিত বোধ করছেন বলে প্রসেনজিৎ দাস এদিন মন্তব্য করেন। পুজো আয়োজকদের পক্ষে পিন্টু রাউত ও দেবাশিষ ভট্টাচর্য্য বলেন, থিম ভাবনায় হওয়া বাংলায় দুর্গা পুজো বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি পেয়েছে। দেবী কালী মাতার পুজোতেও বহু দিন আগেই থিমের ছোঁয়া লেগে গিয়েছে। কিন্তু দেবাদিদেব মহাদেবের পুজো থিম ভাবনায় সাজিয়ে করার ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছিলেন না। তাই থিম ভাবনার পুজো আয়োজনে দেবাদিদেবকে স্থান করেদিতে পেরে তাঁরা সবাই গর্বিত বোধ করছেন। দর্শনার্থী রাখি হাজরা বলেন, থিমের পুজো আয়োজনে এবার দেবাদিদেব মহাদেবও জায়গা করে নিলেন। তাই গোলাবাড়ি পাড়ার শিব পুজো সবার নজর কেড়েছে।

মার্চ ০১, ২০২২
উৎসব

যন্ত্রের যুগেও গ্রাম বাংলায় পৌষ পার্বণের পিঠে-পুলি তৈরিতে আজও অনবদ্য ঢেঁকি

কথায় আছে ঢেঁকি স্বর্গে গিয়েও ধান ভাঙে। সেই সব এখন গল্পকথা, ইতিহাস। যন্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে চলায় ঢেঁকির কদর ইদানিং কালে কমে গিয়েছে। তবুও এই রাজ্যের গ্রাম বাংলার কিছু মানুষ এখনও আগলে রেখেছেন সাবেকি ঢেঁকিকে। পৌষমাস শুরু হলে পিঠে-পুলির চাল কোটার জন্য তাই রাজ্যের গ্রাম বাংলায় বাড়ে ঢেঁকির কদর। যেমনটা এখন দেখা যাচ্ছে রাজ্যের শস্যগোলা পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম শিয়ালী ও কোড়ায়। সামনেই পৌষ সংক্রান্তি। তাই পৌষ পার্বণের দোরগোড়ায় এইসব গ্রামের মহিলারা এখন সদাব্যস্ত ঢেঁকিতে চাল কোটার কাজে। সেই কারণে গ্রামের বাড়ি বাড়ি কান পাতলেই শুধু ভেসে আসছে ঢেঁকিতে চাল কোটার শব্দ।এক সময় পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে গ্রাম বাংলার মহিলারা ঘরে ঘরে ঢেঁকিতে চাল কোটা শুরু করে দিতেন। ঢেঁকিতে ভাঙা চাল গুঁড়িয়ে তা দিয়েই তাঁরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পিঠে-পুলি। কিন্তু যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির ধাক্কায় ঢেঁকি এখন যেন মিউজিয়ামে জায়গা করেনিতে বসেছে। ঢেঁকি ছেড়ে গ্রাম বাংলার অনেক মানুষ এখন চাল গুঁড়ানোড় মিলে পৌছে যাচ্ছেন। তবে তারই মধ্যে কিছু কিছু গ্রামের মানুষ এখন ট্র্যাডিশন বজায় রেখে বাড়ির সাবেকি ঢেঁকিকে আগলে রেখেছেন। যেমনটা আগলে রেখেছেন শিয়ালী ও কোড়া গ্রামের মানুষজন। তাঁরা চান না গম ভাঙানোর যন্ত্রে পিঠে-পুলির চালের গুঁড়ো তৈরি করতে। শিয়ালী ও কোড়া গ্রামের মহিলারা প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও তাই ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ো দিয়ে পৌষ পার্বণে পিঠে-পুলি তৈরি করে পরিবারের সকলকে তৃপ্ত করতে চান।গ্রামের বধূ কাকলী কোলে বলেন, ঢেঁকিতে ছাঁটা চালের গুঁড়ি দিয়ে বানানো পিঠে- পুলির স্বাদটাই আলাদা। আর ঢেঁকিতে ছাঁটা চাল অনেকদিন ধরে রেখেও দেওয়া যায়। অপর বধূ কল্পনা কোলে বলেন, আমাদের শিয়ালী গ্রামে এখন একটি মাত্রই ঢেঁকি রয়েছে। পৌষ পার্বণের আগে সেই ঢেঁকিতে চাল ভাঙাতে আসেন গ্রামের অনেক মহিলা। পৌষে ঢেঁকিতে চাল ভাঙানোর কাজে পুরুষরাও মহিলাদের সঙ্গে হাত লাগান। খেজুর গুড়ের সঙ্গে ঢেঁকিতে গুঁড়ো করা চাল দিয়ে তৈরি পিঠে-পুলি আগামী কটা দিন বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে এক ভিন্ন মহিমায় পৌছে দেয় বলে মনে করেন শিয়ালী ও কোড়া গ্রামের মহিলারা।বুধবার শিয়ালী ও কোড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গ্রামের এক প্রান্তে মাটির দাওয়ায় বসে ঢেঁকিতে চাল গুঁড়ানোর কাজ করে চলেছেন মহিলা ও পুরুষরা। যন্ত্র ও স্মার্ট ফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির যুগে সত্যি যেন এটা একটা বিরল দৃশ্য হিসাবেই সামনে আসে। এর থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেল কাঠের তৈরি ঢেঁকি গ্রামবাংলা থেকে এখনও একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। তাই শিয়ালী ও কোড়া গ্রামের রাস্তার পাশে একটি খামারে কাঠের ঢেঁকিতে চাল ঢেলে অন্যপ্রান্তে ঢেঁকিতে পা দিয়ে চলছে চাল গুঁড়ো তৈরীর কাজ। এই দৃশ্যই আরও একবার মনে করিয়ে দিল গ্রাম বাংলায় ঢেঁকির মাহাত্ম্যকে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২২
উৎসব

Jamai Sasthi: হায়দ্রাবাদবাসী দুর্গাপুরের জামাইয়ের ষষ্ঠীর মহাভোজের আয়োজন ভায়া আমেরিকা

পার্বণ আর বাঙালি সমুচ্চারিত শব্দবন্ধ। বাঙালি পার্বণ ছাড়া বাঁচতে পারবে না,আবার পার্বণ-ও বৃথা বাঙালি ছাড়া। ইংরাজি মাধ্যমে পড়া আধো আধো বাংলা বলা বাঙালির বাঙ্গালিত্ব বেঁচে আছে শুধুমাত্র রীতি-রেওয়াজ পালন করেই। বাড়িতে আসকে পিঠে বানাবার সরঞ্জাম না থাকলেও তাঁরা সপরিবারে কোনও এক কর্পোরেট সংস্থা আয়োজিত পৌষ পার্বণ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে যায়। স্যোসাল প্লাটফর্মে লাইভ না হলেও সেলফী পোস্ট করে অন্তত এই গর্ব শেয়ার না করে ক্ষান্ত হন না। সেই বাঙালির আজ এক বিশেষ দিন জামাই ষষ্ঠী। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিনটি হল জামাই ষষ্ঠী। বাংলায় দুটো বিশেষ দিন মাংসের (ছাগল) বাজেট পেশ হয়, এক ভাইফোঁটা আর এক জামাই ষষ্ঠী, সেই দাম-ই চলে আগামী দিন গুলিতে। জামাই ষষ্ঠী মানেই বাঙালিদের কাছে কার্যত মহা ভোজন উৎসব। বহু জামাই আছেন এমন দিনে সাবেকি বাঙালি সেজে ধুতি-পাঞ্জাবি পরে হাতে মিষ্টির ঝোলা ও বিশাল মাছ হাতে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হতে পছন্দ করেন। কিন্তু, কিছু নারীবাদী আবার রে রে করে এসে বলতে থাকেন জামাই হল গিয়ে মেয়ের বর। মেয়েকে ছেড়ে জামাই আদরের এত ঘটা কেন? সেটা কখনও কেউ কি ভেবেছেন? আসলে তাঁদেরকে সসন্মানে জানায়, তাহলে তো ভাইফোঁটার সাথে সাথে বোনফোঁটাও চালু করা উচিত? আসলে এই এক সমস্যা বাঙালিদের, ভাল কাজেও কাঠি না দিলে চলবে না, সেই জন্য শাশুড়িমায়েদের অনুরোধ চিংড়িমাছের মালাইকারির চিংড়ি থেকে কাঠি টা খুলে জামাইয়ের পাতে দিন। বেচারি একটা দিন শান্তিতে খাওয়া দাওয়া করুক।বাংলা বছরের নতুন ক্যালেন্ডার খুলেই নববিবাহিত বাঙালি যে দুটোদিন প্রথম খুঁজে দেখে তার একটি দুর্গাপুজা হলে অপরটি নিশ্চিত জামাইষষ্ঠী। আজ সেই বঙ্গজীবনের অঙ্গ এক বিশেষ দিন। বিবাহিতা কন্যা তথা জামাই বাবাজীবনদের জন্য বাঙালি সমাজে দারুণ এক পার্বণ। সে আনকোরা নতুন জামাই থেকে পুরনো জামাই বাবাজি সকলের জন্য বাংলা পঞ্জিকার এক বিশেষ দিন। বাংলার জামাইদের জন্য উৎসর্গীকৃত নির্দিষ্ট দিনটিতে জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় শাশুড়িরা প্রতি বছর পালন করেন। এটি মূলত ষষ্ঠীদেবীর পার্বণ। দিনবদলের সাথে সাথে এই ধর্মীয় সংস্কার সামাজিকতায় স্থান পেয়েছে গেছে।আধুনিকতার দিক থেকে আমরা যতই সমকালীন হই না কেন, কিছু কিছু রীতিনীতি, প্রথা-পার্বণ আজও বাঙালি ঘরে থেকে গিয়েছে। তাই এই বিশ্বায়নের যুগে বাঙালি জীবন থেকে আচার-অনুষ্ঠান সবই যে এক-এক করে উঠে যাচ্ছে বলে হা হুতাশ করা ঠিক না। কখনও পুরনো লোকাচার হাজির হচ্ছে নব আঙ্গিকে, যেমন নতুন মোড়কে জামাই আদর। গ্রামবাংলা, মফস্বলের পাশাপাশি শহুরে পরিমণ্ডলেও জামাইষষ্ঠী পালনের রীতি-রেওয়াজ খুব একটা ফিকে হয়ে যায়নি আজও। জিভে জল আনা নানান পদ রেঁধে জমিয়ে জামাইকে খাওয়ানোর আহ্লাদ আগেও যেমন ছিল, সেটা এখনও তেমনই আছে। আদরের জামাইকে খাতির-আপ্যায়নের ধরনটা যদিও বদলে বদলে যাচ্ছে। যেমন বদলে যাচ্ছে আয়োজনের রকমও। করোনা অতিমারি পরিস্থিতিতেও আয়োজনের ঘাটতি নেই। যারা কাছাকাছি আছেন তারা সপরিবারে হাজির হয়ে যাচ্ছেন শশুরবাড়ি। দূরপাল্লার ট্রেন ও যানবাহনের সমস্যায় অনেকেই এই মহা-অনুষ্ঠানে হাজির হতে পারেননি। সারা দিন ধরে ঘেমে নেয়ে বাটনা বেঁটে, সব্জী কেটে রান্নার জোগাড় করা থেকে শুরু করে জামাইয়ের জন্য ভুরিভোজ বানানোর ব্যাপার বদলে দিয়েছে কিছু বাঙালি রেস্তোরাঁর ষষ্ঠী স্পেশাল বা স্পেশাল থালি। জামাই প্রবাসী হলেও আজ আর দূরে নয়, জুম, স্কাইপ, হোয়াটসঅ্যাপ এর সৌজন্যে জামাইকে ভার্চুয়াল ফোঁটা দেওয়াও সেরে নেওয়া যাচ্ছে। এইরকমই পশ্চিম-বর্ধমানের দুর্গাপুরের এক পরিবার যাঁদের জামাই থাকেন সৈনিকপুরি, হায়দ্রাবাদে। ইচ্ছে থাকলেও তাঁদের পক্ষে এবারের জামাইষষ্ঠী অধরাই থেকে গিয়েছিলো। তাঁদের মনোকষ্ট বুঝতে পেরে সেটা নিরসন করতে এগিয়ে এলেন তাঁদের আমেরিকাবাসী বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত সন্তান সুরজিৎ বন্দোপাধ্যায়। বহুজাতিক সফটওয়্যার সংস্থায় কর্মরত হায়দ্রাবাদবাসী বাঙালি জামাই প্রীতম রায় সকালে নিয়মমাফিক অফিস যাওয়ার জন্য মধ্যাহ্ন ভোজনে বসার মুহুর্তে বাড়ির কলিং বেল বেজে ওঠে, ওনার সহধর্মিনী সুমানি রায় দরজা খুলে দেখেন হায়দ্রাবাদের এক সংস্থা আহার্ন্য জামাইষষ্ঠী-র মহা-আয়োজন নিয়ে হাজির তার দরজায়। তাঁরা জিঞ্জাসা করতেই জানতে পারেন তাঁর আমেরিকাবাসী দাদা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ওই রেস্তঁরা-র সাথে যোগাযোগ করে এই জামাইষষ্ঠীর মহা আয়োজন করেছেন। কি ছিলো না -ওই মেনুতে? বাসমতী চালের ভাত, ফিশ কাটলেট, চিকেন কাটলেট, ফিশ ডেভিল, কাসুন্দি,সালাড, মুগের ডাল, বেগুন ভাজা, সুক্তো, দই পটল, মিক্স ভেজিটেবল, দই বেগুন, সর্ষে দিয়ে মাছের ঝাল, মাছের কালিয়া, চিকেন কারি, চিংড়ির মালাইকারি, আলুর দম ও লুচি, লাচ্চা পড়োটা ও কষা মাংস, চাটনি,পাপড়, মোগলাই পড়োটা-আলুর তড়করি ও সালাড, নুডলস, চিকেন মনচুরিয়ান, চিলি মোমো, ডিমের কারি। দুর্গাপুরবাসি কমল বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাটা জানার পর জনতার কথাকে বলেন আমরা খুব খুসি আমার ছেলে সুরজিৎ আমেরিকা থেকে এই মহা আয়োজন করার জন্য। আক্ষেপ ছিল এবারে এই পরিস্থিতিতে মেয়ে জামাই না আসতে পারার জন্য। তার অনেকটাই আজ কেটে গেলো। সুমানি জনতার কথাকে বলেন আমরা এত দুরে থাকি, একটা দিনের অনুষ্ঠানের জন্য হটাৎ করে যাওয়া খুব চাপের,তারপর এই মহামারীর সময় বাবা মায়ের বয়স হয়েছে বাইরে থেকে গিয়ে ওঁদেরও বিপদে ফেলতে চাইনি। সকালে মা-বাবা ভিডিও কল করে ফোঁটা দেওয়ার সময়ও জানতো না দাদা এই রকম সারপ্রাইজ রেখেছিল আমাদের জন্য। আমি, প্রীতম ও মেয়ে জিনি, মাত্র তিন জন মানুষ কিন্তু খাওয়ার জন্য এটা আনেক বেশী, তাও আকস্মিক আনন্দ-র একটা আলাদা আমেজ আছে। এটাকে মূল্য দিয়ে হিসাব করা যায় না। আমরা এত দূরে থেকেও মুহূর্তের মধ্যে সব দুরত্ব ঘুচে গেল। আমার মেয়ে জিনি তো আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে কি মা সব ভালো করে রেখে দাও, সারা সপ্তাহ ধরে খাবো ।অনুষ্ঠান যেরকমই হোক, আপনার প্রিয় মানুষ সে যত দুরেই থাকুক না কেনও আধুনিক মিডিয়া, সামাজিক মাধ্যম ও বৈদ্যুতিকরণের জন্য সব কিছুই নাগালের মধ্যে। আপনি কি ভাবে পালন করতে চান সেটাই বড় কথা। সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে অনেক আগেভাগেই জানা যায়, কোন অনুষ্ঠানের জন্য কবে, কোথায় কী ব্যবস্থা থাকছে। পত্রিকা, সামাজিক মাধ্যমে সেই বিশেষ দিনের বিজ্ঞাপনী প্রচার, তামাশা, রঙ্গ, কেনাকাটার হরেক আয়োজন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জামাইদের নিয়ে নানা রঙ্গ-তামাশা চলতেই থাকে, এক জায়গায় লিখেছে জামাই কতপ্রকার? তার উত্তরে আরেকজন জানাচ্ছেনঃ ঘরজামাই, প্রবাসী জামাই, দায়িত্বশীল জামাই, উদাসীন জামাই, পেন্নামঠোকা জামাই, ইংলিশ-মিডিয়াম জামাই, ডাকসাইটে জামাই, প্রভাবশালী জামাই, সুবিধাবাদী জামাই, মিষ্টিমুখ জামাই, সুগার-ফ্রি জামাই, শৌখিন জামাই, আপনভোলা জামাই, টি-টোয়েন্টি ভক্ত জামাই, এমনই নানা প্রকার জামাইয়ের নিয়ে মজাদার মিম।জামাই নিয়ে মহান লোকসঙ্গীত শিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তির সেই বিখ্যাত লোকগানঃ বলি ও ননদি, আর দুমুঠো চাল ফেলে দে হাঁড়িতেঠাকুরজামাই এল বাড়িতে!জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

জুন ১৬, ২০২১
উৎসব

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনেও বেলুড়মঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

অতিমারির কারণে বেলুড়মঠে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। তারমধ্যেই আগামী মঙ্গলবার ৫ই জানুয়ারী সারদামনির মায়ের জন্মতিথি ও আগামী ১২ই জানুয়ারী স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুব উৎসবের দিনেও মঠ প্রাঙ্গণে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলেন মঠ কর্তৃপক্ষ। শনিবার বেলুড়মঠের রামকৃষ্ণ সারদা পীঠের অধ্যক্ষ স্বামী দিব্যানন্দজি মহারাজ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ৫ই জানুয়ারী সারদা মায়ের জন্মদিনের যাবতীয় অনুষ্ঠান হবে। তবে অতিমারির কারণে বেলুড়মঠের প্রাঙ্গণে ভক্তদের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। সারাদিন ব্যাপি এই অনুষ্ঠান মঠের ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যাবে। এছাড়াও আগামী ১২ই জানুয়ারী যুবদিবসের অনুষ্ঠানেও মঠ প্রাঙ্গণে অন্যান্য বছরের মত প্রভাতফেরী ও অন্যান্য অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। ৩৭তম যুবদিবসের অনুষ্ঠান হবে অডিটোরিয়ামের ভেতরে। বাইরের স্কুল থেকেও দুই-একজন অংশগ্রহনকারীরা আসবেন। গান করবেন, আবৃত্তি করবেন, আমাদের ছেলেরাও থাকবেন মঠের সন্যাসীরাও অংশগ্রহণ করবেন।স্বামী দিব্যানন্দজি মহারাজ আরও জানান, মঠের সহকারী সাধারণ সম্পাদক স্বামী বলভদ্রানন্দ জী মহারাজও যুবকদের উদ্দেশ্যে কথা বলবেন। ভক্তজন ও সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে তাঁর অনুরোধ, বাড়িতে থেকেই ইউটিউব চ্যানেলে যেমন দুর্গাপূজা দেখেছেন সেইভাবেই সারদামনির জন্মদিনের অনুষ্ঠান ও যুবদিবসের অনুষ্ঠান দেখতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। আগামী ২৬শে জানুয়ারী পর্যন্ত বেলুড়মঠ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগামী ২০শে জানুয়ারী আবার বৈঠকে বসবেন মঠ কর্তৃপক্ষ। এদিন বেলুড়মঠের সারদা পীঠে থাকা রেলের একটি কম্পিউটারাইজড টিকিট রিজার্ভেশন কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বেলুড়মঠের রামকৃষ্ণ সারদা পীঠের অধ্যক্ষ স্বামী দিব্যানন্দ জি মহারাজ জানান, তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন পূর্ব রেলের সিনিয়ার ডিভিশনাল ম্যানেজার। ওই টিকিট কাউন্টারটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানানো হয় তাঁকে। মূলত খরচের কারণেই ৪০বছরের পুরানো ওই টিকিট কাউন্টারটি সরিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়। স্বামী দিব্যানন্দজি জানান, এই টিকিট কাউন্টার থাকায় মঠের সন্যাসীদের খুবই সুবিধা হত। তিনি রেল কর্তিপক্ষকে আবেদন করেছেন যাতে বেলুড়মঠ সংলগ্ন রেল স্টেশনেই যদি স্থানান্তরিত করা হয় তাহলে মঠের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সুবিধা হবে।

জানুয়ারি ০২, ২০২১
উৎসব

আজ কালীপুজো, মন্দিরে মন্দিরে ভক্তের ঢল

কালীপুজো উপলক্ষে সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন সতীপীঠ ও সিদ্ধপীঠে নেমেছে ভক্তদের ঢল। তবে প্রায় প্রতিটি মন্দিরেই করোনাজনিত বিধিনিষেধ মেনে পুজো চলছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরে মন্দিরে যাতে করোনাজনিত বিধিনিষেধ মেনে চলা হয় সে বিষয়ে কঠোর দৃষ্টি রাখা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বর ও তারাপীঠের কালী মন্দিরে ছিল ভক্তের বিপুল সমাগম। শনিবার ভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে মানুষের যেন তিল ধারণের জায়গা নেই। নাটমন্দির থেকে শুরু করে আঁকাবাঁকা লাইন এগিয়ে গিয়েছে গঙ্গার উপর বালি ব্রিজে। তবে ভক্তরাও এদিন যথেষ্ট সুশৃঙ্খলভাবে পুজো দিচ্ছেন। তাঁরাও ধৈর্য ধরে লাইনে অপেক্ষা করছেন। মেনে চলছেন করোনাজনিত দূরত্ব। আরও পড়ুন ঃ জল থেকে কাঠামো তোলার জন্য এজেন্সি নিয়োগ হাওড়া পুরনিগমের এদিন দেখা গিয়েছে, দক্ষিণেশ্বরে পুরোহিতরাও পিপিই কিট পরে পুজো করছেন। ভক্তদের বলা হয়েছে, পুজো দেওয়ার পর তাঁরা যেন দ্রুত মন্দির ছেড়ে চলে যান।দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বরে এ দিন একসঙ্গে ২০০ জনকে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে গঙ্গার ঘাটে স্নান করে সরাসরি মন্দিরে প্রবেশ করা যাবে না। এমনকি গঙ্গার ঘাটে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতেও দিচ্ছে না পুলিশ। গর্ভগৃহে অবশ্য কোনো ভক্তকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এবার করোনাজনিত কারণে অনলাইনেও মায়ের পুজো দেখা যাবে। করোনাজনিত কারণে এবার প্রসাদ দেওয়া হবে না। পুজো চলছে কালীঘাট মন্দিরেও। সেখানেও সকাল থেকেই মানুষের লম্বা লাইন। অন্যদিকে তারাপীঠ মন্দিরেও সকাল থেকেই ছিল ভক্তের বিপুল সমাগম। এখানেও দেখা গিয়েছে পুরোহিতরা যথারীতি নিয়ম মেনে পুজো করছেন। কোনওভাবেই মানুষ যাতে করোনাজনিত বিধিনিষেধ না ভাঙে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে। বোলপুরে কঙ্কালীতলাতেও এদিন সকাল থেকেই ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

নভেম্বর ১৪, ২০২০
উৎসব

জল থেকে কাঠামো তোলার জন্য এজেন্সি নিয়োগ হাওড়া পুরনিগমের

বিজয়া দশমী থেকেই প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়েছে হাওড়ার বিভিন্ন ঘাটে। গঙ্গার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জলাশয় চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে প্রতিমা বিসর্জন হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পুরনিগম একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গঙ্গায় ফেলা ছোট কাঠামোগুলি দ্রুত তোলার জন্য বিশেষজ্ঞ এজেন্সিকে এবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিসর্জনের জন্য তাদের কাজে লাগানো হয়েছে। আরও পড়ুনঃ বিধি মেনেই হল সিঁদুর খেলা ও বিসর্জন জানা গিয়েছে , জলাশয়ের কাছাকাছি অস্থায়ীভাবে কাঠের ভ্যাট তৈরি করা হয়েছে। জলাশয় থেকে প্রতিমার কাঠামো ভ্যাটে ফেলার পরে সেই কাঠামো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি , বড় কাঠামো জল থেকে তোলার জন্য হাইড্রা মেশিনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘাটের থেকে আবর্জনা তোলার জন্য ই-রিক্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়া পুরনিগমের দাবি , ইতিমধ্যেই প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রতিমার কাঠামো জল থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে। আজও কাঠামো তোলার কাজ চলছে।পুরকর্মীদের এই কাজে লাগানো হয়েছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২০
উৎসব

বিধি মেনেই হল সিঁদুর খেলা ও বিসর্জন

বিধি মেনেই সম্পন্ন হল দেবীমূর্তির নিরঞ্জন। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুজো প্যান্ডেলে দেবীবরণ শুরু হয়। বিধি মেনেই হয় সিঁদুর খেলা। তারপর শুরু হয় প্রতিমা নিরঞ্জনের পালা। সকাল থেকে গঙ্গার ঘাটগুলিতে বিসর্জন শুরু হয়ে যায় । যা চলে রাত পর্যন্ত। আরও পড়ুনঃ করোনাকালে মণ্ডপের কৃত্রিম জলাধারে প্রতিমা নিরঞ্জন ত্রিধারা সম্মিলনীর সামাজিক দূরত্ব ও কোরোনা বিধি মেনে চলে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর্ব । ঘাটগুলিতে মাস্ক ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না । ঘাটগুলিতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । ঘাটগুলিতে অযথা ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না । তিন দিন ধরে চলবে এই বিসর্জন প্রক্রিয়া । প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্যে ১৭ টি ঘাটকে প্রস্তুত করেছে কলকাতা পৌরনিগম ।

অক্টোবর ২৬, ২০২০
উৎসব

করোনাকালে মণ্ডপের কৃত্রিম জলাধারে প্রতিমা নিরঞ্জন ত্রিধারা সম্মিলনীর

করোনা কালে সংক্রমণ শঙ্কায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পরিবর্তে রাস্তায় কৃত্রিম জলাশয় বানিয়ে অভিনব প্রতিমা বিসর্জন ত্রিধারা সম্মিলনীর। ক্রেনের সাহায্যে মণ্ডপ থেকে প্রতিমা আনার পর ওয়াটার জেট দিয়ে প্রতিমার মাটি গলিয়ে কাঠামো তুলে ফেলা হয়। উদ্যোক্তাদের কথায়, কোভিড বিধির কথা মাথায় রেখেই বিসর্জনে এই অভিনবত্ব। চলতি বছর ত্রিধারা সম্মিলনীর পুজোর থিম ছিল কোভিড যোদ্ধা। এই পুজো কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের পুজো হিসেবে বিশেষ পরিচিত। আরও পড়ুনঃ কুলটির বেলরুই গ্রামের রায় পরিবারে মা দুর্গাকে গান স্যালুট দিয়ে বিদায় দূরত্ববিধি মানতেই মণ্ডপের সামনে ২০ ফুট লম্বা এবং সমান প্রস্থের একটি চৌবাচ্চা তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই ক্রেনের সাহায্যে মণ্ডপ থেকে নিয়ে আসা হয় প্রতিমা।তারপর ওয়াটার জেট দিয়ে প্রতিমার মাটি গলিয়ে কাঠামো তুলে ফেলা হয়। উদ্যোক্তাদের দাবি, কলকাতায় এই রকম উদ্যোগ আগে কখনও হয়নি।

অক্টোবর ২৬, ২০২০
উৎসব

কুলটির বেলরুই গ্রামের রায় পরিবারে মা দুর্গাকে গান স্যালুট দিয়ে বিদায়

কুলটির বেলরুই গ্রামের রায় পরিবারে তিনশ বছরের অধিক সময় ধরে মায়ের আরাধনা হয়ে আসছে ৷ এই পুজোর বিশেষত্ব হল , গান স্যালুট দিয়ে দশমীতে মাকে বিদায় জানানো হয়৷ বিজয়া দশমীর দিন সিঁদুর খেলা শেষে মায়ের ঘট বিসর্জন সেরে গান স্যালুটে দেবীকে বিদায় জানায় রায় পরিবারের সদস্যরা ৷ যেখানে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সাথে মহিলারাও অংশগ্রহণ করেন। আরও পড়ুনঃ আজ দশমী , আড়ম্বরহীনভাবেই চলছে বিসর্জনের প্রস্তুতি এই বিষয়ে রায় পরিবারের তরফ থেকে বাচ্চু রায় জানিয়েছেন, ক্ষত্রিয় পরিবার হিসাবে তাদের পুজোর এই রীতি বংশ পরম্পরায় চলে আসছে ৷ একইসঙ্গে পরিবারের মহিলাদেরও ছোট থেকে আত্মরক্ষার স্বার্থে বন্দুক বা আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ৷ তাই তারাও দেবীকে বিদায় জানাতে এই রীতিতে অংশগ্রহণ করেন ৷ এদিন কুলটির বেলরুই গ্রামে রায় পরিবারের দেবীকে বিদায় জানানোর সময় গান স্যালুটের অনুষ্ঠান দেখতে সাধারণ মানুষ ভিড় করে।

অক্টোবর ২৬, ২০২০
উৎসব

আজ দশমী , আড়ম্বরহীনভাবেই চলছে বিসর্জনের প্রস্তুতি

আজ দশমী। উমার ঘরে ফেরার দিন।সকলের মনে বিষাদের সুর। বিকেল থেকেই শুরু হবে বিসর্জন। কিন্তু এবার বিসর্জনে থাকছে না কো্নও আড়ম্বর। বাজবে না ব্যান্ডপার্টি। ডিজে বাজানোর ক্ষে্ত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। খুব কম সংখ্যক পুজো কমিটির সদস্য মালবাহী গাড়ির সঙ্গে বিসর্জন ঘাটে যেতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতিতে সবরকমের শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা লরি বা ট্রেলারে তুলতে হবে। সরাসরি তা নিয়ে যেতে হবে বিসর্জন ঘাটে। এবার নির্ধারিত দিন ও সময় মেনে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। পুজো শুরু হওয়ার অনেক আগেই পুজো কমিটিগুলিকে বিসর্জন সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আরও পড়ুনঃ অতিমারীর খারাপ প্রভাব থেকে সকলকে রক্ষা করুক আনন্দ উৎসব , টুইট রাজ্যপালের পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত দিন ও সময়ে নির্দিষ্ট ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। সেই অনুযায়ী প্রত্যেকটি থানার আধিকারিকরা নিজেরাও খোঁজখবর নিয়েছেন, তাঁদের এলাকার কোন প্রতিমা কবে ও কখন বিসর্জনের জন্য বের হবে। কলকাতা পুলিশের আওতায় ২৪টি মূল ঘাট-সহ মোট ৩০টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া যায়। বারোয়ারি পুজোর ক্ষেত্রে মূলত গঙ্গায় বিসর্জন পরিকল্পনা করা হয়। জানা গিয়েছে , দশমীর দুপুর থেকেই প্রত্যেকটি ঘাটে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ নিয়োগ করা হচ্ছে। কারণ বাড়ির পুজোগুলি দশমীর বিকেলের পর থেকেই বিসর্জন দেওয়া শুরু করে। এছাড়াও দশমীর দিন বেশ কয়েকটি বারোয়ারি পুজো প্রতিমার বিসর্জন দেওয়া হয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২০
উৎসব

অতিমারীর খারাপ প্রভাব থেকে সকলকে রক্ষা করুক আনন্দ উৎসব , টুইট রাজ্যপালের

সকলকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানিয়ে টুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। ্তিনি টুইটে আরও লেখেন , এই মহাপর্ব মন্দের উপরে ভালোর জয় এবং অসত্যের উপরে সত্যের জয়কে চিহ্নিত করে। এই আনন্দ উৎসব অতিমারীর খারাপ প্রভাবের হাত থেকে সকলকে রক্ষা করুক। আরও পড়ুনঃ মহাষ্টমীতে ঢাকের তালে জমিয়ে নাচলেন নুসরত আমাদের সকলের জন্য নিয়ে আসুক শান্তি, সমৃদ্ধি, এবং সুখ। এর আগেও তিনি পুজো্র মধ্যে টুইট করে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, রবিবারের সকালেই তিথি অনুযায়ী বিজয়া দশমী পড়ে গিয়েছে। তারপরই তাঁর টুইটটি করেন রাজ্যপাল।

অক্টোবর ২৫, ২০২০
উৎসব

মহাষ্টমীতে ঢাকের তালে জমিয়ে নাচলেন নুসরত

মহাষ্টমীর সকালে সুরুচি সংঘের পুজোয় স্বামী নিখিলের সঙ্গে অঞ্জলি দিলেন অভিনেত্রী নুসরত জাহান। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাও। তারাও এদিন সুরুচি সংঘের পুজোয় অঞ্জলি দেন। উপস্থিত ছিলেন সুরুচি সংঘের পুজো উদ্যোক্তা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। আরও পড়ুনঃ বাঙালিদের উদ্দেশে মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা নরেন্দ্র মোদির শুধু অঞ্জলিই দিলেন না , স্বামী নিখিল ও মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঢাকের তালে তাল মিলিয়ে নাচলেনও। নুসরতের আহ্বানে পা মেলালেন সৃজিতপত্নী মিথিলাও। এর পাশাপাশি তাল মিলিয়ে ঢাক বাজাতে দেখা গেল টলিউড পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে । আবার নাচ শেষে নিজেই ঢাক বাজাতেই শুরু করলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ নুসরত জাহান। নেটদুনিয়ায় কিন্তু ইতিমধ্যেই দুরন্ত গতিতে ভাইরাল নুসরত জাহানের নাচের ভিডিও।

অক্টোবর ২৪, ২০২০
উৎসব

বাঙালিদের উদ্দেশে মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা নরেন্দ্র মোদির

মহাষ্টমীর সকালে এক টুইট বার্তায় বাঙালিদের মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মো্দি। এদিন টুইটে তিনি লেখেন, সকলকে জানাই মহাঅষ্টমীর প্রীতি ও শুভেচ্ছা। মা দুর্গার আশীর্বাদে সমগ্র দেশবাসীর জীবন যেন সুখে শান্তিতে, স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ থাকে এই কামনা করি। আরও পড়ুনঃ সেনা ক্যান্টিনে বিদেশি পণ্য বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের প্রসঙ্গত , এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ষষ্ঠীর দিন সল্টলেকের ইজেডসিসির পুজো উদ্বোধন করেছিলেন। সেদিন তিনি বাংলায় বক্তৃতা করেছিলেন। ফের অষ্টমীর দিন তিনি বাঙালিদের উদ্দেশে টুইট করেছেন। এটা আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের আগে বাঙালিদের মন জয়ের চেষ্টা বলে মত বিরোধীদের।

অক্টোবর ২৪, ২০২০
উৎসব

ফুল ছাড়াই বহু মণ্ডপে অঞ্জলি বাঙালির

করোনা সংক্রমণের কারণে ব্যতিক্রমীই হয়ে থাকল এবছরের অষ্টমী। শহরের বড় পুজো গুলি এবার ফুল ছাড়াই, শুধুমাত্র মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে অঞ্জলির ব্যবস্থা করেছিল। বাড়িতে বসে টিভিতে দেখে, বা পুজো মণ্ডপগুলিতে বসানো জায়ান্ট স্ক্রিনে অঞ্জলিপর্ব দেখে মনে মনে এদিন দূর থেকে বা বাড়িতে বসেই মাকে অঞ্জলি দিয়েছেন অধিকাংশ বাঙালি। তবে বিভিন্ন পাড়ার কিছু কিছু ছোট পুজোতে এবার ১৫-২০ জন করে ছোট ছোট দলে ভাগে করে, কয়েকদফায় অঞ্জলি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাস্ক পরে, স্যানিটাইজার হাতে সেখানেই লাইন দিয়ে অঞ্জলি দিতে দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। অনেক পুজো মণ্ডপেই দেখা যায়, বাড়ি থেকে যে যার মতো করে ফুল নিয়ে গিয়ে তা নিবেদন করছেন দেবী উদ্দেশে। অন্যান্যবারের মতো পুজো উদ্যোক্তারা এবার আর ফুল বিতরণ করেননি। আরও পড়ুনঃ ষষ্ঠীর সকাল থেকে নিম্নচাপের জের , শুরু বৃষ্টি অন্যদিকে, দর্শক শূন্য বেলুড় মঠে মন্দিরের পশ্চিম দিকের বারান্দায় কুমারী পুজো অনুষ্ঠি্ত হয় । এবার কুমারী পুজোতেও রয়েছে একাধিক বিধি নিষেধ। প্রতিবার কুমারীকে সন্নাসীরাই কোলে করে নিয়ে এসে মা দুর্গার মূর্তির পদতলে বসানো হয়, কিন্তু এবার কুমারীকে স্পর্শ করবে না কোনও সন্নাসী মহারাজরা। কুমারীর পরিবারের লোকেরাই নিয়ে এসেছেন কুমারীকে।

অক্টোবর ২৪, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

দু’মাস কোথায় ছিলেন? ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত, জানালেন সব

দুমাস ধরে পুলিশের খোঁজের বাইরে ছিলেন তিনি। তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পরপর দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তদন্তকারীদের দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জমি প্রতারণার মামলায় শনিবার সুমিতকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। রবিবারও তাঁকে ফের ডাকা হয়। এদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুমিত। তবে মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে বেশির ভাগ বিষয়েই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।গত দুমাস কোথায় ছিলেন, সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন করলে প্রথমে সুমিত বলেন, আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। পরে একই প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, এদিকে, আশপাশেই ছিলাম। তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি কলকাতাতেই ছিলেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।এত দিন আত্মগোপনে থাকার কারণ জানতে চাওয়া হলে সুমিত বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই তো মেনে চলছি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলতে চাননি তিনি। সেবাশ্রয়-সহ একাধিক বিষয়ে তাঁর নাম জড়ানোর প্রসঙ্গ উঠলে বলেন, মন্তব্য করতে পারব না।তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সুমিত বলেন, হতে পারে। তবে কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ যখনই ডাকবে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সুমিত বলেন, বাজে কথা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে দেখা যায়। তৃণমূলের গাড়িতে করে সেখানে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবে সুমিত বলেন, যে অফিসে কাজ করি, সেই অফিস থেকে গাড়িটা দিয়েছে।এদিকে সুমিত নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে আগামী দিনেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত ডেবরার মামলায় তাঁকে ফের ডাকা হয়েছে। তাঁর কথায়, কাল ১১টার সময় ডেকেছে। তবে এদিন কোনও নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।শালবনীর জমি প্রতারণা মামলা-সহ সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিসও জারি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তদন্তে সহযোগিতা করতে শুরু করেন তিনি। পরপর দুদিন ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের দুমাস কোথায় ছিলেনএই প্রশ্নের উত্তর ঘিরেই এখন নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘লম্বা লড়াই, তবে তিলোত্তমাই জিতবে’, পানিহাটিতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক ঘোষণা, ফের তদন্তের নির্দেশ

অভিশপ্ত ৯ অগাস্টের দুবছর পূর্ণ হল। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু-রহস্য আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় শুভেন্দু বলেন, লম্বা দুবছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিত ভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জায়গা থাকবে না। ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সূত্রে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তৎকালীন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের তদন্ত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের ঘোষণাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তিলোত্তমার পরিবার। তাঁদের আশা, এত দিন যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি, নতুন তদন্তে তার কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে।তিলোত্তমার মৃত্যুর দুবছরের স্মরণসভায় নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করে বলেন, রাখিপূর্ণিমার দিন অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় তিলোত্তমার মায়ের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর কথায়, আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামী দিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে। ফলে তিলোত্তমাকাণ্ডে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং পুরনো কোনও প্রশ্নের নতুন উত্তর মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা? ‘টার্গেট ছিল মমতাকে শেষ করা’, বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।মমতার সঙ্গে এদিন ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, হালিশহরে যাওয়ার সময় মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগানও। পরিস্থিতির জেরে কিছু সময় গাড়ি আটকে থাকে বলে তৃণমূলের দাবি।হালিশহর থেকে ফিরে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং গাড়ির সামনে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে জমায়েত করা হয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়।কল্যাণের আরও দাবি, মমতার গাড়িতে যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তাঁর দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।মমতার বক্তব্য, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের কাছে যাবেন এবং কোনও বাধাতেই পিছিয়ে আসবেন না।হালিশহর থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তিকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন মমতা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফর ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গাড়ি লক্ষ্য করে সত্যিই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
বিদেশ

হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সুমিত সোজা অভিষেকের বাড়িতে, ভবানী ভবনে কী জানলেন গোয়েন্দারা?

ভবানী ভবনে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি দফতর থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছেছিলেন তিনি। দীর্ঘ জেরার পর সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে জেরায় সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণার মামলায় শুক্রবার রাতে সুমিতকে নোটিস পাঠায় সিআইডি। সেই নোটিসে সাড়া দিয়েই শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী আগে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির জেরায় হাজির হন সুমিত।জমি প্রতারণার মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির টাকা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগের কথা সামনে আসেনি। তবে সুমিত দীর্ঘ জেরার পর অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।অভিযোগের তদন্তে সুমিতের খোঁজে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল বলে জানা গিয়েছে।পরে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। সেই আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরিয়ে তাঁর গন্তব্য হয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। এখন সিআইডির জেরায় কী তথ্য উঠে এল এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ফের খুলছে আর জি করের ‘ফাইল’! অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক তদন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়েছে আর জি কর-কাণ্ডের তদন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যেই পৃথক ভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ধর্ষণ ও খুনের আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষে যে তথ্য উঠে আসবে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা আগে থেকে দূর করা যায়নি, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগে থেমে থাকা তদন্তের বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আর জি কর-কাণ্ডে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি এবং অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ওই তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নতুন তদন্তে হাসপাতালের ত্রুটি বা অনিয়ম আড়াল করার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।এদিকে রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে অভয়া দিবস। দুই বছর আগে ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার স্মরণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।সকাল ১১টায় অভয়ার স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।অভয়ার মা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের।সিবিআইয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পৃথক তদন্তে নতুন করে কোন তথ্য সামনে আসে, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal