• ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

উৎসব

উৎসব

রথযাত্রায় ঐতিহ্যের পাশে রাজ্য, ১০০-১৫০ বছরের প্রাচীন রথ কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান; জেলাজুড়ে বিশেষ প্রস্তুতির নির্দেশ নবান্নের

রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথ উৎসবগুলিকে আরও সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ১০০ থেকে ১৫০ বছর বা তারও বেশি পুরনো ঐতিহ্যশালী রথযাত্রা কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই জেলার প্রশাসনের মাধ্যমে এই ধরনের ঐতিহাসিক রথযাত্রা কমিটিগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী ১৩ জুলাই এই অনুদানের চেক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে রাজ্যের বিভিন্ন রথযাত্রা কমিটির প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে পারেন বলেও নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, রাজ্যজুড়ে রথযাত্রা এবং উল্টোরথকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলাশাসক (ডিএম)-দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রথযাত্রা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতি বছর রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও পর্যটক এই উৎসবে অংশ নেন। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।এই উদ্দেশ্যে প্রতিটি জেলায় রথযাত্রার রুট এবং প্রধান জনসমাগমস্থলে সেবা শিবির (ফ্যাসিলিটেশন ক্যাম্প) গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের শিবির উল্টোরথের দিনও চালু রাখতে হবে। প্রতিটি জেলার জন্য এই শিবির পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সেবা শিবিরে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র, প্রবীণ নাগরিক, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ভক্তবান্ধব পরিষেবাও চালু করা যাবে।এছাড়াও, কোনও জেলার প্রশাসনের মতে যদি কোনও রথযাত্রা কমিটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বিপুল জনসমাগম বা উৎসবের ব্যাপ্তির কারণে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার যোগ্য হয়, তবে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।রথযাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উৎসবের আগেই জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর, দমকল, পূর্ত দপ্তর, পুরসভা, পঞ্চায়েত, পরিবহণ দপ্তর, রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকগুলিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে।নবান্ন আরও জানিয়েছে, রথযাত্রার রুট ও সেবা শিবিরে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনেই করতে হবে। পাশাপাশি, ভক্তদের সুবিধার জন্য শিবিরে কী কী পরিষেবা পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কেও প্রচারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।উৎসব শেষ হওয়ার পরে প্রতিটি জেলা প্রশাসনকে গৃহীত পদক্ষেপ, বরাদ্দ অর্থের ব্যবহার, কর্মসূচির আলোকচিত্র এবং সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন দ্রুত তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে জমা দিতে হবে। প্রশাসনের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাগুলিকে সংরক্ষণ, উৎসাহ প্রদান এবং ভক্তদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার।পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে প্রাচীন রথযাত্রা হিসেবে সর্বাধিক স্বীকৃত হল মাহেশ রথযাত্রা।মাহেশ রথযাত্রা (হুগলি),স্থান: মাহেশ,জেলা: হুগলী,শ্রীরামপুর মহকুমা,শুরু: আনুমানিক ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ,প্রতিষ্ঠাতা: ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী (Dhrubananda Brahmachari)-এর মাধ্যমে জগন্নাথদেবের পূজার প্রচলন হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে বিশ্বাস করা হয়।বয়স: প্রায় ৬৩০ বছরেরও বেশি (২০২৬ সালের হিসেবে)।বিশেষত্ব: এটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, India-র অন্যতম প্রাচীন এবং Puri-র বাইরে সবচেয়ে বিখ্যাত জগন্নাথ রথযাত্রাগুলির একটি।ইতিহাসমাহেশের জগন্নাথ মন্দিরে বহু শতাব্দী ধরে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বর্তমান বিশাল কাঠের রথটি ১৯শ শতকে নতুনভাবে নির্মিত হলেও রথযাত্রার ঐতিহ্য কয়েক শতাব্দী পুরোনো। প্রতি বছর লক্ষাধিক ভক্ত এই উৎসবে অংশ নেন।উল্লেখযোগ্য প্রাচীন রথযাত্রামহেশ রথযাত্রা, শ্রীরামপুর (হুগলী জেলা)(Mahesh Rath Yatra) প্রায় ৬৩০+ বছরের ঐতিহ্য।গুপ্তিপাড়া রথযাত্রা (হুগলী জেলা) Guptipara Rath Yatra প্রায় ২৭০৩০০ বছরের ঐতিহ্য; ভাণ্ডার লুঠ উৎসবের জন্য বিখ্যাত।ময়না রথযাত্রা, চিরঞ্জীবপুর (পূর্ব মেদিনীপুর) Moyna Rath Yatra কয়েক শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।মহিষাদল রথযাত্রা, (পূর্ব মেদিনীপুর) Mahishadal Rath Yatra রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক রথযাত্রা।পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক ঐতিহাসিক রথযাত্রা হিসেবে হুগলির মাহেশ রথযাত্রা-ই স্বীকৃত। এর ইতিহাস প্রায় ১৩৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয়েছে বলে ঐতিহ্যগতভাবে ধরা হয়, ফলে এটি ৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো।

জুলাই ০৫, ২০২৬
উৎসব

প্রাক শীতে বর্ধমান রাঙিয়ে দিল এক অন্য 'পলাশ', মহাসমারোহে শিশুদিবস পালিত বর্ধমান মডেল স্কুলে

মহাসমারোহে ও আনন্দঘন পরিবেশে আজ বর্ধমান মডেল স্কুলে পালিত হল চাচা নেহেরুর জন্মদিন যা ভারতবর্ষে শিশুদিবস হিসাবে পালিত হয়। সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল কচিকাঁচাদের হাসি, গান, নাচ এবং নানা আয়োজনের রঙিন ছটা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কথা বলা পুতুল (ভেন্ট্রিলোকুইজম), যাদু প্রদর্শনী ও শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী বনাম ছাত্রদের ক্রিকেট ম্যাচে জমে ওঠে দিনভর উৎসবমুখরতা।দিনের মূল আকর্ষণ ছিলেন জি বাংলার মীরাক্কেল খ্যাত পলাশ অধিকারী। তাঁর অসাধারণ ভেন্ট্রিলোকুইজম পরিবেশনা শিশুদের মুগ্ধ করে দেয়। নানান মজার চরিত্র, ছাত্রদের সাথে চমৎকার কথোপকথন ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় তিনি শিক্ষার্থী ও দর্শকদের মন জয় করেন। তাঁর সাথে তালে তাল মিলিয়ে ইন্দ্রজাল (যাদু) পরিবেশন করেন অম্বরীশ দাস।অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ পর্ব ছিল শিক্ষক/শিক্ষাকর্মী বনাম ছাত্রদের প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। হাসি-মজা ও উচ্ছ্বাসে ভরা এই খেলায় ছাত্ররা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের হারিয়ে জয় ছিনিয়ে নেয়।সংস্থার কর্ণধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল শিশুদিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, যতদিন শিশু থাকা যায় ততদিনই মঙ্গল। বড় হলেই যত সমস্যা। তিনি আরও যোগ করেন, শিশুদের নিষ্পাপ মন ও সরলতা বজায় রেখেই তারা যেন বড় হয়ে ওঠে।তিনি বিখ্যাত কবিতার পংক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে। ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা সবাই একদিন বড় হবে, তখন তোমাদের বাবা-মায়ের মতোই দায়িত্ব নিতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল শিশুর প্রতি স্নেহ, ভালোবাসা ও আশীর্বাদ জানিয়ে তিনি কামনা করেন, তারা যেন এই পৃথিবীর নতুন বাণীর অগ্রদূত হয়ে উঠতে পারে।এই বিশেষ দিন উপলক্ষে সকল ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়। বর্ধমান মডেল স্কুলে দিনটি শেষ হয় শিশুদের হাসিখুশি মুখ, আনন্দময় মুহূর্ত এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যা নিশ্চিতভাবেই তাদের আগামী দিনের বড় হয়ে ওঠার পথে সুন্দর এক স্মৃতি হয়ে থাকবে।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
উৎসব

বর্ধমানে ‘দূর্গা মাতা সঙ্ঘের’ কালীপুজোয় সাবেকিয়ানা ও বনেদীয়ানার মেলবন্ধন

১৭ বছরে পদার্পণ করলো ঐতিহ্যবাহী পুজো, মণ্ডপে ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়ির রূপে ফুটে উঠেছে বাংলার মাটির ঘ্রাণ।পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের বাজেপ্রতাপপুর সংলগ্ন হটুদেওয়ান এলাকার কালীপুজো এবারেও নজর কাড়ছে থিমে ও ভাবনায়। দূর্গা মাতা সংঘ এবারে তাদের কালীপুজোর ১৭তম বছরে পদার্পণ করলো। প্রতি বছরই অভিনব থিমের মাধ্যমে মাতৃ বন্দনাকে নতুন রূপে উপস্থাপন করে এই সংঘ। ২০২৫ এ তাঁদের থিমসাবেকিয়ানা ও বনেদীয়ানা, যার মর্মবাণীগ্রাম বাংলার বনেদীয়ানা, মাটির ঘ্রাণে মিশে যায়,সাবেকিয়ানায় মাতৃ বন্দনা, অন্ধকারে আলো ছায়।থিমের এই ভাবনা শুধু কথায় নয়, প্রতিটি ইট ও মাটির গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যের ছোঁয়া। শিল্পীদের সৃজনশীলতায় মণ্ডপে উঠে এসেছে এক পুরানো ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়ির প্রতিরূপ। বাড়ির ছাদে গজিয়ে উঠেছে বটগাছ, যার ঝুরি নেমে এসেছে বারান্দা ছুঁয়ে, আর দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছেসব মিলিয়ে যেন হারিয়ে যাওয়া সময়ের এক নিঃশব্দ গল্প বলা হচ্ছে মণ্ডপের দেওয়ালে দেওয়ালে।তবে শুধু প্রাচীনতার ছায়া নয়, ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়ির এই চেহারাকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে আধুনিকতার কোমল পরশে। মণ্ডপের চারপাশে ফুলের সাজ, আলোর মেলা ও রঙিন ব্যাকড্রপে এক চমকপ্রদ রূপ পেয়েছে মায়ের আবাস। যেন অতীত ও বর্তমানের মিলন ঘটেছে এক মঞ্চেযেখানে ঐতিহ্যের গন্ধে ভরে উঠেছে আধুনিকতার আলো।রবিবার সন্ধ্যায় দূর্গা মাতা সংঘর এই পুজোর উদ্বোধন করেন বর্ধমান সদর দক্ষিণের মহকুমাশাসক বুদ্ধদেব পান। তিনি উপস্থিত সকলকে দীপাবলির অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান। সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ ও সুন্দর প্রতিমা ও প্যান্ডালের ফুলের সাজ দেখে বর্ধমান সদর দক্ষিণের মহকুমাশাসক দূর্গা মাতা সঙ্ঘর ভুয়াশী প্রশংসা করেন। উদ্বোধন পর্বের পর পাড়ার কচিকাঁচা নিয়ে নাচ-গান-কবিতা সহ নানাবিধ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।দূর্গা মাতা সংঘ-র সম্পাদক তারকনাথ মুখোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান, সোমবার রীতি মেনে কালীপুজোর আয়োজন করা হবে, ভক্তদের উপস্থিতিতে মাতৃ আরাধনায় মুখরিত হবে গোটা এলাকা। মঙ্গলবার সংঘ-র সদস্য ও পরিবার বর্গের মধ্যে মায়ের ভোগ বিতরণ করা হবে। যেখানে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ৮০০-র বেশি মানুষ মায়ের ভোগ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পুজো পর্বের সমাপ্তি হবে বুধবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে স্থানীয় প্রতিভা ছাড়াও বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।আয়োজক কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, এই থিমের মাধ্যমে আমরা আজকের প্রজন্মকে স্মরণ করাতে চাই সেই গ্রাম বাংলার গরিমাযেখানে ছিল বনেদিয়ানা, ঐতিহ্য আর মাটির ঘ্রাণে ভরা এক সহজ সরল জীবন। আধুনিকতার ভিড়ে সেই আবেগ যেন হারিয়ে না যায়, সেটাই আমাদের প্রয়াস।স্থানীয় বাসিন্দারাও উচ্ছ্বসিত। স্থানীয় বাসিন্দা রীনা বোধক জানান, প্রতি বছর এই পুজো যেন গোটা এলাকাটাকে নতুনভাবে একত্র করে। শুধু দেবী বন্দনা নয়, আমাদের শিকড়কে মনে করিয়ে দেয় এই আয়োজন। আমরা গোটা পাড়া চারদিন হই-হই করে কাটিয়ে দিই। ২০২৫-র দূর্গা মাতা সংঘর থিমের শিল্পী সুব্রত বৈরাগী, এবং তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন সংঘ-র সক্রিয় সদস্য সৌম্য দাস।হরিনারায়নপুরের এই কালীপুজো আজ শুধুই ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এক সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রতীকযেখানে দেবী কালী যেন শুধু অন্ধকারের বিনাশিনী নন, বরং ঐতিহ্যের রক্ষাকর্ত্রী, যিনি মাটির গন্ধে মিশে আছেন গ্রামীণ বাংলার প্রতিটি প্রাণে।

অক্টোবর ১৯, ২০২৫
উৎসব

চোটখন্ড উন্নয়নী সংঘ দুর্গোৎসব ঘিরে চার দিনের আয়োজনে আনন্দমুখর পরিবেশ

চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের আয়োজিত দুর্গোৎসব এ বছরও যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো। টানা চারদিন ধরে শিষ্টাচার মেনে পূজা-পার্বণ, বিবিধ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাতৃ আরাধনায় সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।প্রথামত ষষ্টী-তে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পুজারম্ভ হয়। সপ্তমী তিথিতে নবপত্রিকার স্নান, অষ্টমী তিথিতে সন্ধিপূজা ও বলিদান, ও নবমী তিথিতে হোম যজ্ঞ-র আয়োজন কর হয়। দশমী তিথিতে দেবী অপরাজিতার পুজার মাধ্যমে সাঙ্গ হয় এবছরের আরাধনা, অপেক্ষা আরেকটি বছরের।দশমী তিথিতে দেবী দুর্গার পূজা-পর্ব শেষে আয়োজিত হয় সান্ধ্যকালীন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এলাকার কচিকাঁচা থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ কৃতী শিল্পীরাও এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। এর পাশাপাশি চারদিন ধরে চলতে থাকা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ক্লাবের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয় স্মারক পুরস্কার।একাদশীর দিনে প্রথা অনুযায়ী দিনের বেলা ঢাক-ঢোল বাদ্যি সহযোগে এলাকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা দেবী প্রতিমা নিরঞ্জনে অংশগ্রহণ করেন। সন্ধ্যার পর চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০০ জন ভক্তের মাঝে চোটখন্ড বারোয়ারী তলায় খিচুড়ি ভোগ বিতরণ করা হয়। ভোগ প্রাপ্তির আনন্দে চারিদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।চোটখন্ড উন্নয়নী সঙ্ঘের সম্পাদক সান্তনু চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সকলে মিলেমিশে দুর্গোৎসব পালন করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। স্থানীয় মানুষজনের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে উৎসবের আমেজ আরও বেড়ে ওঠে। ক্লাবের অপর এক সদস্য চঞ্চল মোহন্ত জনতার কথাকে জানান, সারাবছরই আমরা প্রত্যেকেই নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকি। এই চারটে দিন পজোর ব্যস্ততায় বারোয়ারী তলায় কি ভাবে কেটে যায় বুঝতেই পারিনা। পাড়ার মা, বোন ও ছোটছোট ছেলেমেয়েরা প্রচুর আনন্দ করে/করেন। তিনি জানান, আবার আরেকটি বছরের অপেক্ষা, তিনি আরও বলেন তাঁরা সামনের বছর আরও ভালো কিছু করার পরিকল্পনা করবেন। সকলে মিলে বসেই সেই পরিকল্পনা করবেন বলে জানান।

অক্টোবর ০৩, ২০২৫
উৎসব

পুজোতে ভরসা ট্রেনই, বাঙালির ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে প্রথম পছন্দ

ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি পুজোর সময় বেড়াতে যাবেই। পুজোর সময় ট্রেনে প্রচুর ভিড় হয় এবং ওয়েটিং লিস্টও থাকে প্রচুর। অনেকেই হয়তো অনেকদিন আগে থেকে প্ল্যান করেও টিকিট পান না কারণ টিকিটের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। ট্রেন যেহেতু খুবই সাশ্রয়ী একটি পরিবহণের মাধ্যম, তাই অনেকেই ট্রেন পথটিকেই নিজেদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রাখেন এবং তা প্রাপ্ত অকুপেন্সি পজিশনের লিস্ট থেকেই পরিষ্কার। যেমন, কলকাতা - আগরতলা গরিব রথ এক্সপ্রেসে অকুপেন্সি পজিশন প্রায় ১৮৫% অর্থাৎ মানুষ একটি বার্থে একাধিকবার ভ্রমণ করেছেন। তেমনি কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসেও প্রায় ১৮০% অকুপেন্সি রয়েছে। আবার জম্মু তাওয়াই এক্সপ্রেস যেটি কলকাতা থেকে ছাড়ে সেটিরও অকুপেন্সি প্রায় ১৬৫% এই পুজোর ৭ দিনে। কামরূপ এক্সপ্রেস যেটি ডিব্রুগড় যায় সেটির চাহিদা তো বরাবর থাকে, এই ট্রেনটির অকুপেন্সিও প্রায় ১৬৪% অর্থাৎ একটি বার্থ একাধিকবার ব্যবহার করা হয়েছে। তেমনি মুম্বাই মেল, হাওড়া - অমৃতসর মেল যেগুলির অকুপেন্সি প্রায় ১৫০% অর্থাৎ ট্রেনের উপর মানুষের যে অগাধ ভরসা সেটা পুজোর এই ৭ দিনের পরিসংখ্যান থেকেই প্রমাণিত। অমৃতসরগামী অকালতখ্ত এক্সপ্রেসের অকুপেন্সি প্রায় ১৫০%, হাওড়া - বিকানির সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস অকুপেন্সি প্রায় ১৪৩% । এছাড়া পূর্বা এক্সপ্রেস, উপাসনা এক্সপ্রেস এগুলির অকুপেন্সি ১৪০% । এরপর আসা যাক মালদা - দিঘা এক্সপ্রেস, এই ট্রেনটিতেও অকুপেন্সি ১৩০% অর্থাৎ এই ট্রেনটিতেও প্রচুর মানুষ ঘুরতে গেছেন। রাধিকাপুরগামী কুলিক এক্সপ্রেস ১২১%, তিস্তা - তোর্সা এক্সপ্রেস ১২৫%, মালদা - আনন্দ বিহার যেই ট্রেনটির মাধ্যমে প্রচুর মানুষ মালদা থেকে দিল্লী যান সেটির অকুপেন্সি ১২৪%, কলকাতা - শিলঘাট কাজিরাঙা এক্সপ্রেসেও ১২২% অকুপেন্সি, রাজধানী এক্সপ্রেসে ১১৪% অকুপেন্সি , পুজোর চারদিনে দার্জিলিং মেলে অকুপেন্সি ১১৪%। যে ট্রেনটির কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সেটি হল হাওড়া - নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটিতেও অকুপেন্সি ১০৫% । শিয়ালদহ - নিউ দিল্লী দুরন্ত এক্সপ্রেসেও অকুপেন্সি প্রায় ১১০% । বাঙালি পুরী যাবে না এটা তো হতে পারে না, কলকাতা - পুরী স্পেশাল ট্রেনটির অকুপেন্সিও ১০০ শতাংশের উপরে। অর্থাৎ প্রতিবারের মতো এবারের পুজোতেও বাঙালির ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে প্রথম পছন্দ ট্রেন। মানুষ ট্রেনের উপরেই ভরসা রেখেছেন এবং এই পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।

অক্টোবর ১৬, ২০২৪
উৎসব

নগরবাসীর মঙ্গল কামনায় ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দুর্গা পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ল রাঢ় বঙ্গে

বর্ধমান রাজ পরিবারের প্রথামতই প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরেও মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে বর্ধমান শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা ঘট উত্তোলন ও প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়েই বর্ধমানে আনুষ্ঠানিকভাবে শারদ উৎসবের সূচনা হল। আজ বৃহস্পতিবার প্রতিপদে রূপোর ঘটে রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠিত জলাশয় কৃষ্ণসায়ের থেকে জল ভরে নিয়ে আসা হয়। সর্বমঙ্গলা ট্রাস্টি বোর্ডের আয়োজনে বিবিধ বাদ্যযন্ত্রের সমবেত পরিবেশনায় এক্কাগাড়িতে করে ঘট নিয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে মঙ্গল ঘট মন্দিরে এনে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বৃহস্পতিবার বর্ধমানে মা সর্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলন শোভাযাত্রায় বিভিন্ন জায়গার অসংখ্য মানুশ অংশগ্রহ্নন করেন।কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাট থেকে ঘটে জল ভরে সুসজ্জিত এক্কাগাড়ি করে মন্দিরের উদ্দেশ্যে শুরু হয় শোভাযাত্রা, সেই ঘট রাঢ়বঙ্গের অন্যত্যম অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে আনা হয় তারপর সেই ঘট প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয় দেবী সর্বমঙ্গলার দূর্গা পুজোর আবাহন।জানায়ায় ১৭০২ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে চুনুরীদের কাছে থাকা দেবীর মুর্তীটি বর্ধমান শহরের অদুরে দামোদর নদের পার থেকে উদ্ধার করে বর্ধমানের মহারাজ কীর্তিচাঁদ মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার পুজা শুরু হয়। রাঢ়বঙ্গের প্রথম নবরত্ন মন্দির এটি। এই মন্দিরের দুটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বারটি অধিক পুরাতন। মন্দিরের দক্ষিণ দিকে আরও একটি প্রবেশ দ্বার আছে সেটিকেই প্রধান প্রবেশদ্বার বলা হয়ে থাকে। দক্ষিণ দিকের প্রবেশদ্বারের সামনেই রয়েছে দুটি শিবমন্দির। একটির নাম চন্দ্রেশ্বর। অপরটির ইন্দ্রেশ্বর। কথিত আছে এই দুটি মন্দির-ই বর্ধমানের রাজা চিত্রসেন রায়ের দুই রানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনেরদিকে আরও তিনটি উত্তরমুখী শিবের মন্দির আছে। যেগুলির নাম যথাক্রমে রামেশ্বর, কমলেশ্বর এই দুটি মন্দিরের গায়ে টেরাকোটার কাজ লক্ষিত করায়ায়। মন্দিরের শ্বেতপাথরের শিবলিঙ্গ আছে। এই দি মন্দিরের মধ্যে রয়েছে মিত্রেশ্বর শিব মন্দির। যার শিবলিঙ্গ কালো পাথরের।প্রতি বছরই প্রথা মেনে মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবীর ঘট উত্তলোন হয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজপরিবারের প্রথা মেনে দশমি অবধি নয় (৯) দিন ধরে চলবে মা সর্বমঙ্গলার পুজো। দৈনন্দিন প্রথা মেনে দুর্গা পুজার দিনগুলিতেও মায়ের নিত্যপুজার কোনও হেরফের হয় না। দেবী অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী কষ্টিপাথরের খোদাই করা মূর্তি। সুবিশাল রুপোর সিংহাসনে তিনি অধিষ্টাত্রী থাকেন। আগে মহাঅষ্টমীর সন্ধি পুজোয় কামান দাগা হতো, মেষ, মহিষ ও ছাগ বলি হতো বলে জানা যায়। কামান ব্লাস্ট হয়ে বহু মানুষের হতাহতের কারণে বর্তমানে আর কামান দাগানো হয় না। কথিত আছে, সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সন্ধিপুজোর কামানের আওয়াজ শুনে আশেপাশের গ্রামগুলির সমস্ত জমিদার বাড়িতে সন্ধিপুজো শুরু হতো। সর্বমঙ্গলা মন্দিরে নবমী তিথিতে নবকুমারী পুজো হয়। নবদুর্গার বিভিন্ন রুপকে নব কুমারী রুপে পুজোর প্রচলন আছে এই মন্দিরে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৪
উৎসব

বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের রাখীবন্ধন উৎসব, ব্যাপক সাড়া বর্ধমানে

রাখীবন্ধন উৎসব পালন করল বেঙ্গল প্রেস ক্লাব। সোমবার বর্ধমানের বিজয় তোরণের সামনে এই অনুষ্ঠান হয়। এদিন কার্জনগেট চত্বরে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পক্ষে রাখী পড়ানো হয় বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাসকে। পাশাপাশি পথচলতি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সাধারণ মানুষের হাতে রাখী পড়িয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয়। এই উৎসবে বর্ধমান শহরে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বুধবার সকাল ৮টা থেকেই উৎসবের শুরু হয়ে যায়। বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের সভাপতি বিজয়প্রকাশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক সৌগত সাঁই বলেন, রাখীবন্ধন সামাজিক বন্ধনের অঙ্গীকার। এই উৎসব জাতপাত, ধর্ম বর্ণ, প্রাদেশিকতা সব কিছুর উর্দ্ধে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখীবন্ধন উৎসবকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়। চাই ঐক্য। এই অনুষ্ঠানে বেঙ্গল প্রেস ক্লাবের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।

আগস্ট ১৯, ২০২৪
উৎসব

অষ্টমীর ভোগে 'চা' নিবদন করা হয়ে থাকে 'সর' এর মা অন্নপূর্ণাকে

কথিত আছে, বিবাহের পর কৈলাশ শিখরে দেবাদিদেব মহাদেব ও তাঁর সহধর্মিণী পার্বতী বেশ সুখেই দাম্পত্যজীবন কাটাচ্ছিলেন। শিব ছিলেন হত-দরিদ্র। বিবাহের কিছুকাল কাটতে না কাটতেই আর্থিক অনটনের জেরবার হয়ে ওঠে তাঁদের সংসার। শুরু হয় দাম্পত্যকলহ। পার্বতীর তিরস্কারে গৃহ ত্যাগ করে মাধুকরী শুরু করেন দেবাদিদেব। কিন্তু কোথাও ভিক্ষে না ব্যর্থ মনোরথে কৈলাশে ফিরে আসেন। কৈলাশে ফিরে বাড়িতে সঘৃত পালান্ন, পায়েস, পিঠে প্রভৃতি খান। তারপর দেবাদিদেব দেবীর মহিমাবৃদ্ধির জন্য কাশী শহরে অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। লোকাচার, চৈত্রমাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে সেই মন্দিরে দেবী অন্নপুর্ণা কৈলাশে পদার্পন করেন। সেই থেকেই দেবী অন্নপূর্ণার পূজার প্রচলন বাড়ে। কাশী ভ্রমণকারীদের কাছে দেবী অন্নপুর্ণার মন্দির খুবই আকর্ষনীয়। এই মন্দিরে অন্নকূট উৎসব বিখ্যাত।চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে দেবী অন্নপূর্ণার পূজা করা হয়। এই পুজা নিয়ে নানাবিধ মিথ ছড়িয়ে আছে, কেউ কেউ মনে করেন, দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা করলে গৃহে অন্নাভাব থাকে না। উত্তরপ্রদেশের কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার একটি বিখ্যাত মন্দির আছে, এই মন্দিরে অন্নপূর্ণা পূজা ও অন্নকূট উৎসব প্রসিদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গেও অন্নপূর্ণা পূজার বিশেষ প্রচলন রয়েছে।পূর্ব বর্ধমান জেলার পশ্চিম প্রান্তের জাতীয় সড়ক ধরে প্রায় ২৪ কিলমিটার গিয়ে গলসি থেকে গ্রাম সড়ক যোজনা-র রাস্তা ধরে আরো ৭ কিলমিটার গেলেই সর বলে একটি গ্রাম আছে। বর্ধিষ্ণু এই গ্রামে জনবসতি সরকারি হিসাবে প্রায় ৫ হাজার। সর গ্রামের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের অন্নপূর্ণা পুজা এই বছরে ৯৮ তম বৎসরে পদার্পণ করল। বাংলার ১৩৩৩ সালে সর গ্রামে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের পুজা সূচনা হয়। মহাধুমধাম ও নিষ্ঠা সহকারে দেবীর আরাধনা করা হয় এখানে। পরিবারের বেশীরভাগ মানুষজন কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও এই পুজোর টান উপেক্ষা করে কেউই সর-এ না এসে পাড়েন না।বাড়ির বর্ষিয়ান সদস্যা আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথাকে জানান, তাঁর শাশুড়ি মা অন্নপূর্ণা কে মেয়ে রূপে পুজা করতেন বলে আমরা নবমীর দিনটিকে মেয়ের বিয়ের দিন বলে গন্য করি। তিনি জানান, নবমীর দিন প্রায় ৫০০ মানুষ মায়ের অন্নভোগ গ্রহণ করেন। ওইদিন খিচুড়ি ভোগ নিবেদন করা হয় মাকে। সাথে বিভিন্ন রকম ভাজা পদ দেওয়া হয়। সাথে পরমান্ন বা পায়স ও দেওয়া হয় দেবীকে। নবমীর রাতে শীতল আরতি র পর মণ্ডপেই গান বাজনার আসর বসে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, যেরকম কোনও মেয়ের বিয়েতে বিয়ের রাতে বাসর বসে ঠিক সেই রকমই আমাদের এখানেও দেবীর বাসর বসে, তাতে পরিবারের যে যার মত আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক পরিবেসন করে। মূল ব্যাপার সকলে মিলে একটা জমাটি আনন্দ হয় বলে তিনি জানান।আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দশমীর সকালে যেহেতু মাকে দধিকর্মার (চিঁড়ে ভোগ) দেওয়া হয় এই কারনে বাড়িতে অন্ন রান্না হয় না। সেদিন বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে ভাতের হাঁড়ি চাপবেনা বলে জানান। ওইদিন দুপুরে লুচি, তরকারি, চিরে, দই খাওয়া হয়। তিনি আরও জানান, দশমীর সন্ধ্যায় মাকে বরণ করে বিসর্জনের আয়োজন করা হয়। পরিবারের লোক ব্যতীত পড়শীরাও সেই বিদায়বেলায় মাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত থাকেন। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা সকলে রাতে ফিরে এসে এখানে মাছ-ভাত খান। সেদিনের আয়োজনে কোনও হিসাব থাকে না। যেরকম মানুষ থাকবে তাঁদের সকলকেই খাওয়ানো হয়। এইদিন রাতে ভাত, কলাইয়ের ডাল, কুমরোর তরকারি, আলুপোস্ত ও মাছের টক রান্না হয়। তিনি বলেন এটা আমাদের কাছে একটা মিলন উৎসবের মত।আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সরএর বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যেরা এই কটি দিনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিরাট পরিবার আমাদের ছোট থেকে বুড়ো এই পুজোর অপেক্ষায় দিন গুণী সকলে। পরিবারের আরো এক সদস্য জ্যেষ্টপুত্র অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সর-এর রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির থেকে প্রথমে নারায়ণকে মা অন্নপূর্নার মণ্ডপে আনা হয়, তারপর নারায়ণ কে প্রতিষ্টা করে পুজা আরম্ভ করা হয়। তিনি জানান প্রথামত প্রতিপদের দোলের দিন মায়ের গায়ে মাটি দেওয়া হয়। তারপরই মায়ের মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়। তিনি জানান, মায়ের মূর্তি স্থানীয় মৃতশিল্পীতেই বানান। তিনি বলেন তাঁদের এখানে এই পুজো মূলত অষ্টমী, নবমী ও দশমী এই তিন দিন-ই হয়।এই পরিবারের সদস্য মুম্বাই প্রবাসী বহুজাতিক সংস্থার কর্মকর্তা অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁদের এই পুজোয় অষ্টমীর দিন থেকে ভোগ খাওয়ানো হয়। অষ্টমীর দিন পরিবারের সদস্য সহ প্রায় ৪০০ জনের মত মানুষ মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন। এছাড়াও নবমীর দিন ৫০০-র মত মানুষ ভোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু দশমীর রাতে তাঁদের সেরকম কোনও নির্দিষ্ট হিসাব থাকে না। সকলেরই আমন্ত্রণ থাকে। যত মানুষ প্রতিমা নিরঞ্জনে আসেন তাঁদের সকলেকেই খাওয়ানো হয়ে থাকে।অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই পুজো কোনমতেই এতটা সুষ্টভাবে সুসম্পন্ন হতোনা, যদি না আমাদের অগ্রজ অশেষ বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে (সর) থাকতেন। পরিবারের বেশীরভাগ সদস্য বাইরে থাকার কারনে এই পুজো প্রারম্ভিক সকল ব্যবস্থা তিনি মোটামুটি একার হাতেই সামলান। এছাড়াও আরো একটি পরিবারের কথা না বললেই ন্য, সেটি হল সর এর চট্টোপাধ্যায় পরিবার। বংশপরাম্পরায় এই পরিবার মা অন্নপূর্ণার পুজার সাথে সেই সৃষ্টি লগ্ন থেকে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। পরিবারের সদস্য জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর মার অবদান আমাদের এই পুজোয় বিশেষ প্রসংসার দাবী রাখে।আরতি বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের বাড়ির পুজোর প্রতিষ্টা নিয়ে বলতে গিয়ে জানান, তাঁর শশুড় ও শাশুড়ি দুজনেই স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেন। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা অশ্বিনী বন্দ্যোপাধ্যায় স্বপ্নে দেখেন মা তাঁকে তাঁর বাড়িতে আসবে বলে জানাচ্ছে। তিনি আর্থিক কারনে ইতস্তত করছেন, ঠিক সেই রাতেই তাঁর সহধর্মিনী গুণমঞ্জরী বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি কন্যা সন্তানে ব্যাকুল ছিলেন, তিনি ও স্বপ্নে দেখেন মা অন্নপূর্না তাঁর কাছে মেয়ে রূপে আসতে চাইছেন। জানা যায় স্বপ্নাদেশে মা অন্নপূর্ণা অশ্বিনী বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান, তিনি তাঁর জন্য কোনোরূপ আরম্ভর না করে দৈনন্দিন রান্নার জন্য যা জুটবে তাই দিয়েই ভোগ নিবেদন করার কথা। পরিবারের সদস্য অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সেইমত আমরা যেভাবে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করি সেই সমস্ত পদ-ই মাকে ভোগ রূপে রেঁধে দেয়ে থাকি। তিনি জানান, মাকে কলাইয়ের ডাল, মুগের ডাল, ছোলার ডাল, আলু পোস্ত, ঝিঙ্গে পোস্ত, বাটি পোস্ত, এঁচোর, শুক্ত, আঞ্জা শাক (কচু শাক), মোচা, থোর এই সমস্ত অতি সাধারণ নিত্যদিনের যে পদ আমরা বাড়িতে রাধেঁ থাকি, সেই পদগুলিই মাকে এই পুজোতে ভোগ নিবেদন করা করা হয়। এবং বাজারে সাধারণত যে যে ফল পাওয়া যায় সেই সকল ফলই মায়ের পুজোতে নিবেদন করার রীতি। আলোক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান সর-এর মা অন্নপুর্ণাকে চা ভোগ দেওয়া কথা। তিনি বলেন, নিত্যদিনের পানীয় চা কে ভোগ হিসাবে নিবেদন করতে সচারচর দেখতে পাওয়া যায় না। সেটা একমাত্র সরর পুজোতেই পাবেন।অলোক বন্দ্যোপাধ্যায় আরো জানান, তাঁদের প্রথা মত, বাড়ির জ্যেষ্ঠপুত্রের উপস্থিতিতে মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় মা অন্নপূর্ণার বোধন ও চক্ষুদান হয়। এবং বাড়ির জ্যেষ্ঠবধু (শিখা বন্দ্যোপাধ্যায়)মায়ের সকল লোকাচার পালন করেন। সেই কারনে বাড়ির জ্যেষ্ঠবধু শিখা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পুজার দিনগুলি শুদ্ধাচারে থাকেন। তিনি কোনও রূপ প্রসাধনী ব্যবহার এমনকি কেশ সজ্জা ও করতে পারবেন না ওই দিনগুলিতে।

এপ্রিল ১৭, ২০২৪
উৎসব

ডিহিপাড়ার 'বানেশ্বরের' গাজনের এক অজানা লোমহর্শক কাহিনী

বাঁকুড়া জেলার ডিহিপাড়া গ্রামে মধুকেশ্বর শিবের মূর্তি স্থাপন ও পুজারম্ভ শুরু হয় বাংলার ১২৩০ এ। জানা যায় গাজন ও চড়ক উৎসব তাঁর অনেক আগে থেকেই চালু ছিল এই এলাকায়। এই ব্যাপারে ডিহিপাড়া গ্রামে আদি বাসিন্দা রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জনতার কথা কে বলেন, জনশ্রুতি, এখন যে জায়গায় মন্দিরটি অবস্থিত সেখানে আগে ঘন জঙ্গল ছিল। দামোদরের পারে আবস্থিত ডিহিপাড়া গ্রামের সেই জঙ্গলে দামোদরের অপরদিক থেকে একটি গাভীকে প্রায়-ই দামোদর নদ সাঁতরে এপারে জঙ্গলে আসতে দেখা যেত। এবং গাভীটি দামোদর পেরিয়ে এসে ওই ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করত।তিনি জানান, স্থানীয়রা বেশ কিছুদিন যাবৎ ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে, কৌতুহলবশত একদিন ওই জঙ্গলে প্রবেশ করে দেখেন, গাভীটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাঁর বাঁট থেকে দুধ ঝড়ে পড়ছে একটি নির্দিষ্ট স্থানে। স্থানীয় মানুষজন আরো কৌতুহলে গাভীটিকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে যায়গাটা পরিষ্কার করতেই তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা দেখে তারা নির্বাক হয়ে যান। তাঁরা দেখেন, যে যায়গাটিতে ওই গাভীর বাঁট থেকে আঝোর ধারায় দুধ ঝড়ে পড়ছিল, সেখানে একটি প্রস্তরের শিব লিঙ্গ। সেই থেকেই মধুকেশ্বর শিবের পুজা আরম্ভ হয়।রাখহরি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডিহিপাড়া-র গাজন উৎসব চার দিন ধরে হয়, যার সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তিতে। তার আগে ৮ দিন ধরে বাবা মধুকেশ্বরকে পরমান্ন দেওয়া হয়, এবং সেই প্রসাদ সারা গ্রামেই বিতরণ করা হয়। মধুকেশ্বরের গাজনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভক্ত (সন্যাস) হয়। গাজন শুরুর আগেরদিন স্নান করে শুদ্ধ বসনে বাবা মধুকেশ্বরের আটচালায় প্রবেশ করেন ভক্তেরা। তাঁর পরেরদিন বাবা বানেশ্বর কে স্নান করিয়ে পুজাপাঠ করা হয়। কথিত আছে শিব উপাসক বান রাজা দ্বারকাধীশ শ্রীকৃষ্ণ-র সহিত যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি উৎপাদন করে অমরত্ত্ব লাভের আকাঙ্খায় নিজ গাত্র লোহিত দ্বারা মহাদেবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করে, সেই কারনে মহাদেব বা শিব কে বানেশ্বর-ও বলা হয়ে থাকে।রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জানান এটি (বানেস্বর) সিঁদুর মোচিত লম্বা এক কাঠের পাটা বিশেষ। বংশ পরম্পরায় কর্মকার (কামার) সম্প্রদায়ের একজন একটি লৌহ শলাকা পুজার আগে ওই কাঠের পাটাতনে পোথিত করে দিয়ে যায়। এরপর বানেশ্বরকে সমগ্র গ্রাম ও দেবত্ত স্থানে ঘোরানো হয়। সন্ধ্যা বেলায় সেটিকে একটি প্রতিষ্টিত পুকুরে স্নান ও পুজার্চনা করিয়ে মন্দিরে আনা হয়। এই পুজা অনুষ্ঠানে ভক্ত সন্যাসীদের বিভিন্ন দৈহিক যন্ত্রণা ধর্মের অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়।অনেক ভক্তকেই একটি কাঠের দন্ড থেকে ওপরে পা বেঁধে নিচের দিকে মাথা করে ঝুলতে দেখা যায় এবং তাঁকে অন্যরা দুলতে সাহায্য করেন। এবং নিচের দিকে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানের পর ভক্তরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্বপাক হোবৃশী ও ফলাহার করেন। তাঁদের ভোজনের সময় পুরো এলাকা নিস্তব্দ থাকে। খাওয়ার সময় কোনও শ্বব্দ হলে ভক্তদের খাওয়ায় বাধা পরে যাবে এবং তারা সেই খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না।গাজনের দ্বিতীয় দিনটিকে দিন গাজন বলা হয়ে থাকে। সেই দিন বানেস্বরকে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুজার্চনা করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যাবেলা পুর্বদিনের মতই পুকুরে স্নান করিয়ে আগুন জ্বেলে ভক্তরা কাঠের পাটাতনে ঝুলতে থাকেন। এবং রাতে প্রতিষ্টিত পুকুরে চার প্রহরে চারবার পুজা করা হয়। এই পুজার্চনাকে স্থানীয় ভাবে ঘাটজাগানো বলা হয়ে থাকে। এবং ভোর রাতে মা কামাক্ষা কে ঘাটে আনার জন্য ঘাটে বিশেষ পূজার্চনা করে কপোত বলিদান করা হয়ে থাকে।কামাক্ষা দেবীকে মন্দিরে আনাটা ডিহিপাড়া গাজনের একটি বিশেষ আকর্শন। হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায় এই দৃশ্য দেখার জন্য। পাট ভক্তগন (সন্ন্যাসী) দেবীকে বহন করে মন্দিরে আনেন। ঢাকের ছন্দে নাচতে নাচতে মা আসেন মন্দিরে। একটি মাটির কলসিকে জলে নামিয়ে আড়াই বার ঢেউ দিয়ে যতটা ভরবে সেই ঘটটিকে মাথায় গামছা বেঁধে নিয়ে আসা হয়। গ্রামের আদি বাসিন্দা রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জানান, মায়ের এমন-ই কৃপা, নাচলেও একফোঁটা জল ওই মাটির কলসি থেকে বেরিয়ে আসে না। এবং সেই কলসি ভর্তী করার সময় কোনোরূপ ঢাক বাজবে না। জানা যায় ঢাকের ছন্দে ভুল থাকলে মায়ের গতি রুদ্ধ হয়ে যায়। এবং সেই সময় মা কে সামনের দিকে আগিয়ে নিয়ে আসা যায় না। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে ভক্তিমূলক গান বাজিয়ে মাকে তুষ্ট করা হয়। তারপরই পাট ভক্তেরা প্রবল বেগে দৌড়ে মাকে নিয়ে মন্দিরে দিকে নিয়ে চলে আসেন।গাজনের তৃতীয় দিন বানেস্বর বা পাট নিয়ে নদীতে স্নান করতে যাওয়া হয়। সেখানে স্নান করে, পাশের একটি গ্রাম রাঙামাটি তে বিশ্রামালয়ে বিশ্রাম নিয়ে পুজার্চনা হয়। বানেশ্বরের আগমনে সেই যায়গাটিতে ছোট একটি মেলা বসে। রাত বাড়লে পাট মন্দিরে আসে। এবং সেই সময় আতশবাজি প্রদর্শন হয়। মন্দিরে আসার পর দেবতার উদ্দশ্যে হোমাহুতি ও যজ্ঞ করা হয়। হমের প্রথম তিলক মধুকেশ্বর ও দ্বিতীয় তিলক বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তদানীন্তন মহারাজা গোপাল সিংহ কে উৎস্বর্গ করা হয়। এই গোপাল সিংহ-ই ছিলেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। ওই রাতে চার প্রহর মধুকেশ্বর ও মা কামাক্ষা দেবীকে জাগিয়ে রাখার জন্য তাঁদের নামে বারংবার জয়ধ্বনী দেওয়া হয়।গাজনের চতুর্থ দিন চড়ক অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনের শেষে পাট ভক্তরা পুকুরে স্নান করে মন্দির প্রাঙ্গণে নৃত্য করেন। চড়ক তলায় পুজা উপলক্ষে মনোহারি দ্রব্য, জিলাবি ও নানাবিধ খাওয়ার দোকানের পসরা নিয়ে মেলা বসে। পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষে গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রামবাসীদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে আন্নুকুটে অংশগ্রহন করেন। প্রায় ৪ হাজারের আশপাশ মানুষ এই অন্নকূটে আসেন। রাতে গাজনের শেষে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মেনেই রাতে যাত্রাপালা, লোকগান, হরিনাম সংকীর্তন-র আয়োজন করা হয়। প্রত্যেক বছরই বহু মানুষের সমাগম হয় এই পুজতে। দূর দুরান্ত থেকে মানুষের অনেকেরই ধারনা স্বয়ম্ভু বানেশ্বরের পুজা অর্চনা করলে সংসারের মঙ্গল সাধন হবে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৪
উৎসব

বাংলায় ব্যতিক্রম: রাজ ঐতিহ্যের রীতি মেনে আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে মেতেছে বর্ধমান

দোল পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ গতকাল, সোমবার সারা বাংলা রঙের উৎসবে মেতেছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা এই উৎসবের আবহে ভোট প্রচারও করেছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল একদা রাজাদের শহর বর্ধমান। ঐতিহ্যের পরম্পরা বজায় রেখে আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে মেতেছে বর্ধমান। অবশ্য হাল আমলের দুএকটি হাউসিং কমপ্লেক্সে ও কিছু কলা ও সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্র গতকাল সোমবার হোলি বা দোল পূর্ণিমা পালন করেছে। যা বর্ধমানের ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন নগর বর্ধমানের বাসিন্দারা দোল উৎসব পালন করেন দোল পূর্ণিমার পরের দিন। রাজাদের আমল চলে গেলেও সেই রীতিনীতি মেনেই রঙের উৎসব পালন করে চলেছেন বর্ধমানবাসী। শুধু শহর বর্ধমান নয় সাবেকি রীতি মেনে অম্বিকা কালনা সহ আরও বেশ কয়েক জায়গায় আজ চলছে রঙের উৎসব।কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাব এই প্রথা চালু করেন। প্রথম দিন অর্থাৎ দোল পূর্ণিমার দিনটি বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল। এও কথিত আছে বর্ধমানে দোল পূর্ণিমা তিথিটি হল কূল দেবতার দোল উৎসবের দিন। লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দিরে দোল পালন হয়েছে গতকাল। সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে। সেই উপলক্ষে রাজবাড়ির অন্দর মহলে দোল খেলা হয়ে থাকে। পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে সাধারণের রঙের উৎসব। সেই রীতির আজও চালু রয়েছে।

মার্চ ২৬, ২০২৪
উৎসব

আড়াল আবডালেও যেন 'রাজনীতির রঙ' না লাগে! রঙ নিয়ে ছুতমার্গী রঙীন বাঙালি

দিনগুলি মোর - সোনার খাঁচায় রইল না- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি। বাঙালির কোনও অনুষ্ঠানই সম্পূর্ন হয় না কবিগুরুর গান ছাড়া, সে পয়লা বৈশাখ হোক বা বসন্ত উৎসব। সোনার খাঁচার সোনার দিন অনেকটা কল্পনিক লাগলেও বাঙালি আজও রঙ খেলে, সে হোলি বা দোলযাত্রা বা বসন্ত উৎসব যে নামেই হোক।রাত পোহালেই দোলযাত্রা। সাজো সাজো রব বাজারে। নিত্যসামগ্রীর দোকানের নিত্যদ্রব্য সরিয়ে সাময়িক ভাবে জায়গা হয়েছে রঙ-র। নানা রঙের শোভায় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। অতীতে লাল, হলুদ, গোলাপি, নীল, কমলা মত স্বাভাবিক কয়েকটি রঙের আবির-ই দেখা যেত, এখন নানা-রঙের বাহার। বেনিআসহকলা (বেগুনী, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল) বাইরেও বেশ কিছু রঙের দেখা মিলছে বাজারে।শহর বর্ধমানে রঙের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, অপ্রচলিত (uncommon) রঙের চাহিদা-ই সবচেয়ে বেশী এইবারে। ভরা ভোট মরসুমে কেউই তাঁর নিজের রঙ চেনাতে নারাজ। তাই লাল, নীল, সবুজ বা গেরুয়ার পরিবর্তে অপ্রচলিত রঙের দিকেই বেশী ঝুঁকেছেন জনগণ। শহরের তেঁতুলতলা পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দোল উৎসবে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নিজ-নিজ দলের রঙের আবিরই কিনছেন।এবারে লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যেই দোলযাত্রা অনুষ্টিত হতে চলেছে। শিল্পাঞ্চল থেকে বর্ধমান গ্রামীণ-এ শুরু হয়ে গেছে জোড় প্রচার পর্ব। শহর থেকে শহরতলী চলছে দোলের প্রস্তুতি। মল থেকে শুরু করে ছোট-বড় বাজারে আবির ও রঙের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বাজারে কচি কাঁচাদের ভিড় লক্ষণীয়। রঙের ব্যাপারীরা জানাচ্ছেন, ক্রেতাদের মধ্যে এ বার আবিরের চাহিদা বেশী। কিন্তু তারা আবিরের রঙ নিয়ে বেশ সজাগ। সাধারণ ভাবে যে যে রঙ (লাল, নীল, সবুজ, গেরুয়া) রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত বা কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাপ বহন করে, সেই সেই রঙের আবিরের থেকে তারা এড়িয়েই চলছেন। এবারে ক্রেতারা মজেছেন হলুদ, বেগুনি, আকাশি, হালকা গোলাপির মত অনেক নাম না জানা রঙে।রবিবার বর্ধমানে বিরহাটার এক রঙের দোকানে ক্রেতা জানান, এবারে বেশীরভাগ স্কুলের পরীক্ষা হয়ে রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে বলে ছাত্র-ছাত্রীদের রঙ মেখে শরীর খারাপ হয়ে পরীক্ষা খারাপ হবে-র মত ব্যাপার নেই। তাই বাচ্ছারা এবারে জোড় কদমে রঙ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্ধমান শহরে বেশ কয়েকটি জায়গায় দোল উৎসব পালন করার আয়োজন করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র টাউনহলে এক দোল উৎসব কমিটির আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী দোল উদযাপন অনুষ্ঠান চলছে।বর্ধমান শহরের বীরহাটার আবির বিক্রেতা জনতার কথা কে জানান, এবারে গোলা রঙের চাহিদা সেই ভাবে নেই বললেই হয়, তাঁর বদলে আবিরের চাহিদা দারুন। বিক্রেতার দাবি, এ বার সবচেয়ে বেশি বিক্রী হচ্ছে হলুদ ও আকাশি আবির। তার পরে বেগুনি ও হালকা আকাশি রঙের আবিরও কিনছেন ক্রেতারা।পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রধান দুই শহর কালনাও বর্ধমান-এ নির্ধারিত দোলের দিনে কোনোরূপ রঙ খেলা হয় না। প্রথামত এইদিন বর্ধমান মহারাজার পরিবার তাঁদের অধিষ্টাত্রী দেবীর পায়ে আবির দিয়ে দোল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন, এবং পরের দিন শহরের আম জনতা সকলে রঙের উৎসবে মাতেন। মহারাজাদের শাসনকাল থেকেই এই রীতি চলে আসছে যা আজও প্রবাহমান।শহরের এক বাচিক শিক্ষা কেন্দ্র শ্রুতিশ্রীর প্রধান সুদেষ্ণা আচার্য জনতার কথা কে জানান, তাঁরা তাঁদের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বসন্ত উৎসব পালন করছেন। এবার তারা তাদের উৎসব নতুন পল্লী আদি কালীবাড়িতে পালন করছেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা কোনও অনুষ্ঠান-ই কবিগুরুকে ছাড়া পালন করতে পারিনা, সে ভাবেই তাঁর গান ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান......র মধ্যেই আমরা আমাদের মনের রঙের ফেরী করব আগামীকাল।।বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জনতার কথা কে বলেন, দোল মানেই রঙের উৎসব। দোল মানেই শত দুঃখকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেকে রঙিন করে তোলা। সকল দুঃখ কষ্টকে দূরে সরিয়ে রেখে আনন্দের পথে এগিয়ে চলাই জীবন। আর এই রঙের উৎসব পরিবারের সাথে কাটানোতেই তাঁর সবচেয়ে বেশী অনন্দ বলে তিনি মনে করেন।

মার্চ ২৪, ২০২৪
উৎসব

কালনায় থিমের পুজো ছেড়ে টাইপ স্কুলের সরস্বতী পুজোয় মাতলেন প্রাক্তন ছাত্ররা

এ যেন রকেট কে উপেক্ষা করে ঢেঁকিতে চড়ে বসা। হ্যাঁ, সে রকমই এক অসাধারণ দৃশ্য দেখা গেল পুর্ব বর্ধমান জেলার কালনা বা অম্বিকা কালনা শহরে। মন্দির শহর কালনার জনপ্রিয়তম পুজোর মধ্যে অন্যতম মহিষমর্দিনী পুজো। এই পূজোয় প্রচুর জনাসমাগম হয়। এর সাথে সাথে শহরের সব চেয়ে জনপ্রিয় সরস্বতী পুজো। শহরের আনাচে কানাচে থিম পুজোর রমরমা। কোনও ক্লাবের ১০ লাখ বাজেট তো কারুর ২৫।সেই সব চাকচিক্য জাঁকজমকপূর্ণ থিম পুজো এড়িয়ে একদল মানুষ ভিড় জমিয়েছেন পলেস্তারা খসে পরা, রঙচটা, নিরিবিলি এক কর্মমন্দিরে। তাঁরা তাঁদের জীবনের আনন্দ খুঁজে নিলেন তাঁদের জীবন ও জীবিকার সাথে একান্ত ভাবে জড়িয়ে থাকা সেই পুরানো টাইপস্কুলে। তাঁদের সকলেই আজ প্রতিষ্ঠিত স্ব স্ব ক্ষেত্রে। কেউ রাজ্য সরকারি আধিকারিক তো কেউ কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক। তাঁদের অনেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি দপ্তরে কর্মরত। কেউ কেউ অবসরপ্রাপ্ত। কিন্তু তাঁরা সকলেই এক সুত্রে গাঁথা মালার মত হাজির হয়েছিলেন অমল স্যারের (অমল কুমার শীল) মর্ডান কমার্সিয়াল ইনস্টিটিউট। এবছর তাঁরা তাঁদের টাইপ স্কুলের সরস্বতী পুজোর সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করলেন। সংস্থার কর্নধার অমল শীল জনতার কথা কে জানান এবার পুজোটা নমো নমো করে সারার পরিকল্পনা ছিল। প্রতি বছরের ন্যায় ছাত্র ছাত্রীদের খাওনোর কোনও ভাবনা ছিলনা।অমল শীল বলেন, কম্পিউটারের আগমনের পর থেকে টাইপ রাইটারের জৌলস ক্রমশই হারাতে থাকে। নিত্যদিন নানাবিধ প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে ক্রমশ পিছু হাটতে থাকে টাইপ। এক সময় আমাদের এই স্কুলে ২৫০ ওপর ছাত্র-ছাত্রী ছিল। গমগম করত এই পুজো। এখন মেরেকেটে ২০ জনের মত! তাঁরা সকলেই স্টেনো শর্টহ্যান্ড শেখে। তিনি আরও জানান তাঁর এই স্কুল থেকে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্র সরকারি চাকরি পেয়েছে। তাঁরা সকলেই সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁদের উদ্যোগেই এবছর পুজো হচ্ছে। তারাই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেছে বলে জানান অমল বাবু।অমল শীল জানান, তার ছাত্ররা কর্ম সুত্রে অনেক দূরে দূরে থাকেন। তা স্বত্তেও এই পুজোতে হাজির হয়েছেন। তিনি জানান কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক পদে কর্মরত শুভাশিস ব্যানার্জী এসেছিলেন কালনা থেকে ১২০ কিমি দূর দূর্গাপুর শহর থেকে। অমল শীল জানান, কিছুদিন আগেও কোলকাতা হাইকোর্টে এক স্টেনো পরীক্ষায় এই স্কুলেরই ছাত্র কালনা শহরের দেবজ্যোতি ব্যানার্জী প্রথম স্থান লাভ করেন।ওই ইনস্টিটিউট-এর এক প্রাক্তন ছাত্র, অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য সরকারি আধিকারিক দেবাশিষ গোস্বামী জনতার কথাকে জানান, অমল স্যার র প্রাণ এই ইনস্টিটিউট। তিনি অর্থলাভের জন্য ওই ইনস্টিটিউট-এ আসেন না। ওটা ওনার প্যাশন। দেবাশিষ গোস্বামী জানান শত ব্যস্ততার মধ্যেও সরস্বতী পুজোতে একবার এখানে আসার চেষ্টা করি। তিনি জানান, আজ আমি যে যায়গায় তার জন্য এই ইনস্টিটিউট-এর অবদান অনেকেংশেই।বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন সরস্বতী। হিন্দু ধর্মমতে সৃষ্টির দেবতা ব্রহ্মাই প্রথম তাঁর স্ত্রী সরস্বতীর আরাধনা করেন। মর্ডান কমার্সিয়াল ইনস্টিটিউট-র অমল শীল তার ছাত্রদের কাছে ব্রহ্মা। তাঁরা মনে করেন তাঁদের কর্মজগতের সৃষ্টিকর্তা তো অমল শীল-ই। তাঁর ছাত্রকুলের কাছে ৭৫টি বসন্ত অতিক্রান্ত অমল বাবুর নাম চিরকাল অমলীন হয়েই থাকবে এটাই তাঁদের আশা।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৪
উৎসব

দোলায় চড়ে নজরকাড়া শোভাযাত্রা কালীপ্রতিমার, মন কাড়ল বর্ধমানের

শ্যামাপুজোর বিসর্জন শোভাযাত্রা মাতিয়ে দিল বর্ধমান শহর। দোলায় চড়ে কালীপ্রতিমার শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার পাশে ভির জমালেন অগুনিত মানুষ। বর্ধমানের ঠাকুরপল্লী স্বামীজি সংঘের এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ। ক্লাবের সদস্য ও সদস্যারা হাজির ছিলেন মায়ের বিদায়বেলায়। নজর কাড়ল বর্ধমানের।বিগত কয়েকবছর ধরেই চলছে কালীপ্রতিমার দোলায় চড়ে শোভাযাত্রা। সঙ্গে নানা বাদ্য। ক্লাবের পুরুষ-মহিলা উভয়ের কাঁধে ভর করে দোলায় যাত্রা করেন মা। মাঝে মাঝে চলে মাকে দোলায় চড়িয়ে নৃত্য। সেই দৃশ্য দেখতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা থেকে মানুষজন হাজির ছিলেন। পাশাপাশি রাস্তার পাশে মায়ের দোলায় যাত্রা একবার দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন বহুজন। কালীপুজে কমিটির পক্ষে আশুতোষ দে ও সুজন দাস বলেন, বিগত কয়েকবছর ধরেই মাকে নিয়ে দোলায় শোভাযাত্রা বের হয়। এটাই আমাদের বিশেষত্ব। প্রচুর মানুষ আমাদের সহযোগিতা করেন। আগমী দিনে এই অনুষ্ঠান আরও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নেওয়া হবে নতুন পরিকল্পনা। আমাদের কালীপুজো ৬৪ বছর পার করেছে। স্বামীজি সংঘের সদস্যরা জানান, সারা বছর এই দিনটার অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা।

নভেম্বর ১৮, ২০২৩
উৎসব

বর্ধমান শহরে ৫১ ফুটের কেদারনাথ মন্দির দেখতে ভক্তদের ঢল

কালীপুজোর ধারে-ভারে উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, নদীয়া জেলার দাপট থাকলেও আসতে আসতে বাঙালির ১২ মাসের ১৩ পার্বণের অন্যতম এই পুজো ক্রমশ জমজমাট আকার ধারন করেছে দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম জেলা পূর্ব-বর্ধমানে। সন্ধ্যা নামতেই আলোর উৎসব ও শক্তির আরাধনায় মেতে উঠেছেন জেলাবাসী। নানা ধরনের থিম থেকে জনপ্রিয় স্থাপত্যের অনুকরণে তৈরি পুজো মণ্ডপের পাশাপাশি, বেশ কিছু ঐতিহ্যশালী মন্দিরে এবারও জমজমাট শ্যামাপুজো।কালীপুজোর মণ্ডপেও থিমের ছড়াছড়ি। কোথাও দিল্লী-র লালকেল্লা তো আবার কোথাও দুর্গম অমরনাথ। সেই থিমের আশ্রয় নিয়েই জমজমাট পুজোর আয়োজন হয়েছে বর্ধমান শহরের বাজেপ্রতাপপুর সংলগ্ন হরিনারায়ণপুরের দুর্গামাতা সংঘের কালি পুজোয়। ১৫তম বছরে তাঁদের নিবেদন রাঙা জবার সূত্রে গাঁথা। আকর্ষণ এই কেদারনাথ।। ভারতের বিখ্যাত তীর্থ যাত্রাগুলির মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ তীর্থস্থান কেদারনাথ। কেদারনাথ পুণ্যভুমি ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে গাড়োয়ালের হিমালয় পর্বতশ্রেণীতে অবস্থিত কেদারনাথ শহরে মন্দাকিনী নদীর তীরে স্থাপিত একটি শিব মন্দির। মন্দিরের ইতিহাসকে স্মরণ করে ভক্তদের ঢল নামে এই মণ্ডপে। পুজোর দিন সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তসমাগম শুরু হয়ে যায়। রাতে পুজোর বিশেষ আয়োজন করা হয়। এই পুজোয় ভক্তদের জমায়েতকে কেন্দ্র করে বর্ধমান শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখার জন্য বর্ধমান থানার পক্ষ থেকে সিভিক ভলেন্টিয়ার পাঠানো হয়।দুর্গামাতা সংঘের কেদারনাথ মন্দিরের আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখতে শহর ও শহরের আশপাশ থেকে প্রচুর মানুষের আগমন হচ্ছে। এবছরে তাঁদের মণ্ডপের উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহারাজ স্বামী অজ্ঞেয়ানন্দ ও পূর্ব বর্ধমান জেলা মহিলা থানা ইন্সপেক্টর-ইন-চার্জ বনানী রায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে তাঁরা এলাকার কচিকাঁচাদের নিয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। হোম মহাযজ্ঞ-এর মধ্যদিয়ে শ্যামা মায়ের আরাধনায় ব্রতী হন তাঁরা। পুজোর পরেরদিন সন্ধ্যায় মায়ের ভোগের আয়োজন করেন দুর্গা মাতা সংঘ, প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মায়ের ভোগ গ্রহণ করেন।১৫তম বছরে দুর্গা মাতা সংঘের ৫১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট কেদারনাথ মণ্ডপ দেখতে মানুষের ঢল নামে। স্থাপত্যের সাথে সাথে আলোর রোশনাই-এ সেজে উঠেছে তাঁদের মণ্ডপ। সংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সৌম্য দাস জনতার কথাকে জানান, এবছরে তাঁদের পুজোর বাজেট প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। মূলত সদস্য চাঁদা ও কিছু সহৃদয় সংস্থা হাত বাড়িয়েছেন বলেই আমাদের মত ছোট্ট পাড়ায় বড় মাপের পুজো করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জনতার কথার মাধ্যমে সেই সমস্ত সহৃদয় ব্যক্তি ও সংস্থা কে ধন্যবাদ জানান। সাথে সাথে সংঘের প্রতিটি সদস্য কেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দুর্গা পুজোর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এত বড় পুজোর আয়োজন করা খুবই কষ্টসাধ্য এক কাজ, তা সম্ভব হয়েছে একমাত্র ক্লাবের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য-ই।সংঘের অপর এক সদস্য তারকনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, দেখতে দেখতে আমাদের পুজো ১৫তম বছরে পদাপর্ণ করল। নিছকই পুজোর আনন্দে পুজো করার নেশা নিয়ে শুরু করা দুর্গা মাতা সংঘের ছোট্ট পুজো ক্রমশ মহীরুহতে পরিণত হচ্ছে। এতে আগামীদিনে দায়ীত্বও অনেকগুন বেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, আমাদের অনুভুতি অনেকটা জনপ্রিয় বাংলা কমেডি শোয়ে পরান বন্দ্যোপাধ্যায়-র বিখ্যাত ডায়লগ ভালো হয়েছে, কিন্তু আরও ভালো করতে হবে-র মত। মানুষের চাহিদা পুরণের চ্যালেঞ্জ-ই সবচেয়ে প্রাধান্য আমাদের কাছে।দুর্গা মাতা সংঘের কালচারাল কমিটির প্রধান চঞ্চল চৌধুরি জানান, উদ্বোধনের দিন এলাকার কচিকাঁচারা কবিতা, গান, ছোট নাটিকা, নৃত্য-এ প্রায় ২৫ জন তাঁদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁরা আরও একটি জমজমাট গানবাজনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে বলে তিনি জানান।

নভেম্বর ১৪, ২০২৩
উৎসব

কদর কমেছে মাটির প্রদীপের, হাল ছাড়তে নারাজ মৃৎশিল্পীরা

হাতে গোনা আর মাত্র ১২টি দিন, আর তারপরই সারা দেশ সহ বঙ্গ-ও আলোর রোশনাই ঝলমলে হয়ে উঠবে। ১২ নভেম্বর রবিবার ঘোর অমাবস্যায় অন্ধকারকে দুরে সরিয়ে আলো দিয়ে ঝকঝকে করতে মা কালী মর্তে আবির্ভূত হবেন। কিন্তু যাঁদের মাটির প্রদীপে ঝলমল করে বা করেছে উৎসবের আঙিনা, সেই মৃৎশিল্পীদের ঘরেই এখন অন্ধকার। সৌজন্যেঃ বৈদ্যুতিক মোমবাতি, টুনি লাইট।আহ থেকে পাঁচ সাত বছর আগেও কালি / শ্যামা পুজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী-র সন্ধ্যায় চোদ্দ প্রদীপ জালানো হত। সেখান থেকে সময়ের বিবর্তনে চোদ্দটি মোমবাতি তে রুপান্তর হল। কালীপুজোর সময় মাটির প্রদীপের চাহিদা ভালোই থাকতো। বৈদ্যুতিক আলোর বিশেষ চায়না আলোর প্রাদুর্ভাবে কালীপুজোর মুখে গভীর চিন্তায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী, হরিরামপুর, কুশমন্ডি, তপন, গঙ্গারামপুর, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট ও হিলি সহ সারা রাজ্যের কুমোররা।মাটির প্রদীপের কদর কমতে থাকায় এই কাজ ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছেন। আলোর উৎসব তথা দীপাবলীতে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে মাটির প্রদীপ। প্রদীপের চাহিদা কমলেও হাল ছাড়েননি জেলার অনেক মৃৎশিল্পীরা। মৃৎশিল্পীরা পুজোর নানা উপকরণের সঙ্গে মাটির তৈরি প্রদীপ তৈরি করে আসছেন বংশ পরম্পরায়।কিন্তু বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক বৈদ্যুতিক বাতি বাজারে চলে আসায় প্রাচীন সেই মাটির প্রদীপ হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু বাজারে সেই প্রদীপের কম চাহিদা থাকায় প্রায় বন্ধের মুখে এই শিল্প।জেলার বিভিন্ন গ্রামের বহু কুমোর পরিবার আগে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে। মৃৎশিল্পীরা দীপাবলিকে সামনে রেখে ব্যস্ত নানা ধরনের প্রদীপ তৈরি করতে। তবে জেলার বংশীহারী ও গঙ্গারামপুরের বেশ কিছু মৃৎশিল্পীর গলায় আক্ষেপের সুর তাঁরা বলেন, আজকালকার ডিজিটাল যুগে যে হারে চায়না লাইট, টুনি বাল্ব ও নানা ধরনে এলইডি লাইট এসেছে সেই তুলনায় হাতে গড়া মাটির প্রদীপের বিক্রয় কমেছে। লাভ কম হলেও কুমোরদের আশা এই বছর তাঁরা লাভের মুখ দেখবেন। তাঁরা আরও বলেন, বর্তমানে মাটি ও খড়ির দামও বেড়েছে। কিন্তু প্রদীপের দাম বাড়ছে না। যা কোনও রকম খাওয়া খরচটা ওঠে। আগামী দিনে মাটির প্রদীপের চাহিদা বাড়বে বলে আশাবাদী জেলার মৃৎশিল্পীরা।

অক্টোবর ৩১, ২০২৩
উৎসব

বর্ধমানে স্কুল ছাত্র তৃপ্তিময়ের তৈরি মূর্তির বোধন ষষ্টিতে

বর্ধমানের প্রাচীনতম ওয়ার্ড দামোদরের পাশে কাঞ্চন নগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় এর দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র শ্রী তৃপ্তিময় ঘোষ বিগত আট বছর ধরে নিজের হাতে পারিবারিক দুর্গা ঠাকুর বানিয়ে নিজেই পুজো করে বর্ধমানবাসীকে স্তম্ভিত করেছে । এলাকার মানুষজন অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তার এই প্রতিভা আরো বিকশিত হোক এবং তার সৌরভ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক যাতে, দেবী দুর্গা আমাদের শুধু লৌকিক দেবতাই নয় সমগ্র জাতির মা, যিনি এক ধারে নিজের সংসারকে রক্ষা করছেন অন্যদিকে সমগ্র পৃথিবীকে বিপদের হাত থেকে বাঁচাচ্ছেন।মানুষ ও প্রাণীকুল অর্থাৎ জীব বৈচিত্রের ইকোলজি প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করছেন। ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত, শিক্ষা রত্ন ও জাতীয় শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়, মনে করেন মাতৃরূপী নারী শক্তি যে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারে তার আইকন হচ্ছেন আমাদের আরধ্যা দেবী দুর্গা দশভূজা। ১৯০৩ সালে কাঞ্চননগরে আশিটির বেশি দুর্গাপুজো হতো, এবং স্কুলেও দুর্গা পুজোর জন্য এক মাস ছুটি থাকত। এই আশিটি দুর্গা পুজোয় এলাকার অর্থনৈতিক সামাজিক অবস্থা ও এলাকার কৃষ্টি সংস্কৃতি আভিজাত্য ঐতিহ্য এর ধারক বাহক হিসাবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে বারবার দামোদরের ভয়াল বন্যাকে উপেক্ষা করে।তাই কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয় এর কীর্তিমান ছাত্র তৃপ্তিময় ঘোষ এর নিদর্শন যা বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও এলাকার আভিজাত্যকে তুলে ধরেছে । তাদেরই পূর্বপুরুষ শ্রীযুক্ত নলিণাক্ষ ঘোষ মহাশয়, বিদ্যালয়ের প্রথম ট্রাস্টির নয় জন সদস্যের মধ্যে শুধু একজনই ছিলেন তাই নয়, তিনি সেই সময় ব্রিটিশ আমলে দীননাথ দাস মিডিল ইংলিশ স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কার্যভার গ্রহণ করেন, এবং সেই সময়ের বিদ্যালয়ের দুর্গাপুজোর সমস্ত দায়-দায়িত্ব প্রথম ডাক্তার ভূতনাথ দাস এর সঙ্গে ভাগ করে পরিচালনা করতেন। আমরা বিদ্যালয়ের তরফ থেকে তৃপ্তিময় ঘোষ ও তার পরিবারকে অসংখ্য শুভেচ্ছা বুক ভরা ভালবাসা জানাচ্ছি ও তার উদ্ভাবন শক্তি আরও বিকশিত ও প্রসারিত হোক এই কামনা করছি। তৃপ্তিময় জনতার কথাকে জানায়, আমি এই পূজা প্রথম শুরু করি শুধু দুর্গা মূর্তি দিয়ে। তারপর বিগত আট বছর ধরে, আমি এই প্রতিমা তৈরি করি। আমি কোনো মিস্ত্রির কাছে প্রতিমা তৈরি শিখিনি। আমার এই প্রতিমা তৈরিতে সাহায্য করেন আমার মা। এই পূজা তে সেইরকম কোনো উপকরণ লাগে না। আমি মনে করি যে মা কে পূজা করতে কোনো কিছু লাগে না শুধু যেটা লাগে সেটা হল ভক্তি ও ভালোবাসা। আমার এই পূজার মূল আকর্ষণ হল নবমীর দিন আমি আমার মা কে পূজা করি। আমি প্রথম পূজা শুরু করি ২ বছর ৫ মাস বয়স থেকে। আমি আমার বাড়ি তে দুর্গা পূজা করি, ও এক বার আমি কালী পুজো করে ছিলাম। আমার পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হয় না । আমার বাবা এক জন ব্যবসায়ী আর আমার দাদু স্কুলের ট্রাস্ট বডির সদস্য ছিলেন ও দাদু র বাবা এই মিডিল ইংলিশ স্কুলের হেড মাস্টার ছিলেন। আমরা থাকি তেলি পাড়া, কাঞ্চন নগর এ। আমি দুর্গা, কালী, সরস্বতী মূর্তিও বানাতে পারি। এখানে উল্লেখ্য, ব্রিটিশ আমলে স্কুলের পূর্ব দিকে কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির এলাকা ও তেলিপাড়া-টি লাট সাহেব পাড়া বলে খ্যাত ছিল। বিদ্যালয়ে দুর্গা পুজোর বা লক্ষ্মী পূজো বা ষষ্ঠীতে পুজোর পূজারী ছিলেন অভয়পদ ভট্টাচার্যের পরিবার যাদের আদি বাড়ি ছিল বনতীর সুপুর, চিন্ময়পদ ভট্টাচার্য ছিলেন শেষ পূজারী। তাই ব্রিটিশ আমলের স্কুল ও ডিসপেন্সারি শুধুমাত্র গরিবদের জন্য লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যের ধারক বাহক ছিল তাই নয়, পূজার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় যে সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং জীব বৈচিত্র্য কে বাঁচিয়ে রাখার উত্তম পথপ্রদর্শক তা বারবার প্রমাণ করে। হয়তো সেই জন্যই এই ইকো ইস্কুলে কৃত্রিম পাখির বাসা বিদ্যালয় এর আভিজাত্য ঐতিহ্য ও সামাজিকতাকে তুলে ধরেছে, এবং লক্ষীর বাহন পেঁচা কোভিড পরিস্থিতিতে সমগ্র কাঞ্চন নগর তথা বর্ধমানবাসীকে সোশ্যাল ভ্যাকসিন হিসাবে কাজ করে প্যান্ডেমিকের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। তথ্যসূত্র বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল যেখানে বলা হয়েছে বার্ণ আউল অ্যাক্ট এজ এ সোশ্যাল ভ্যাকসিন অথবা পেঁচা বায়ো ইন্ডিকেটার হিসাবে কাজ করে পরিবেশে এবং মহামারী থেকে রক্ষা করে।

অক্টোবর ২০, ২০২৩
উৎসব

দেশ-বিদেশের ১৫০০ বাঙালি ১২ দিন ধরে কলকাতায় সাহিত্য-সংস্কৃতির মহাযজ্ঞে সামিল

বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা ঘোষণার দাবিকে সামনে রেখে শেষ হলো ১২ দিন ব্যাপী যতদূর বাংলা ভাষা অনুষ্ঠান। ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা যুগসাগ্নিকের উদ্যোগে গত সাতাশে অগাস্ট গঙ্গা বক্ষে এই অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ বারোদিনব্যাপী বঙ্গীয় সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, গল্পপাঠ, শ্রুতিনাটক, সংগীত, নৃত্য, শিল্পকলা, ও নাট্যাভিনয় অনুষ্ঠিত হয়। গোটা অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজ্য সহ ৬টি দেশের বাংলা ভাষার ১৫০০ বেশি কবি, সাহিত্যিক অংশ গ্রহণ করেন।এ প্রসঙ্গে, যুগসাগ্নিক পত্রিকার সম্পাদক প্রদীপ গুপ্ত বলেন, সমগ্র ভূখণ্ডে যেখানেই বাংলাভাষা উচ্চারিত হয় আমরা সেখানেই পৌঁছাতে চাই। আর এই কার্যসিদ্ধি সম্ভব হয়েছে কবিতা-সাহিত্য-সংস্কৃতির হাত ধরে। যুগসাগ্নিক ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা ছাড়াও আরও কয়েকটি সাহিত্য পত্রিকার সহযোগিতায় বিগত তিন বছর ধরে হয়ে আসছে যতদূর বাংলা ভাষা শীর্ষক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতের সমস্ত রাজ্যের বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষার কবি-সাহিত্যকদের মিলনক্ষেত্র গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি আমরা। তবে বিগত বছরের তুলনায় এবারের অনুষ্ঠানসূচি আরও বৃহৎ আঙ্গিকে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ১২ দিন ব্যাপী এই সূচি ভারতবর্ষে ইদানীংকালে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে সর্ব প্রথম ও সর্ববৃহৎ বঙ্গীয় সাহিত্য সংস্কৃতির মিলন মেলার চেহারা নিয়েছে। ভারতের ১২ টি রাজ্য ও বিশ্বের ছটি দেশের মোট ১৫০০ কবি-সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি মনষ্ক মানুষ এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও অন্তোদয় অনাথ আশ্রমের শিশুদের বিশেষ অংশগ্রহণ ছিল সমগ্র অনুষ্ঠানে। এই অনুষ্ঠান থেকে সকল ভাষাকে সম্মান জানিয়েই বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষা ঘোষণার দাবি তোলা হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৩
উৎসব

উল্টোরথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ঝলসে প্রাণ গেল ৬ জনের

উল্টোরথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল পড়শি রাজ্য ত্রিপুরার কুমারঘাটে। বিশেষ ডিজাইনে তৈরি সেই রথে অনেকে মানুষ সওয়ার হয়েছিলেন। রথের ভিতরে থাকা অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।। তবে মৃতের সংখ্যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।কীভাবে ঘটল এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা? জানা গিয়েছে, রথের একটি লোহার অংশ আচমকা বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করে। অজান্তেই মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন অনেকেই। সবার সামনে তাঁরা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকেন একে একো। তাঁদের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখলেও কারও কিছু করার ছিল না সেই সময়। শুধু চোখের সামনে বিয়োগ যন্ত্রণা সহ্য করা ছাড়া।এরই মধ্যে রথে আগুন ধরে যায়। ওই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন লোকজন। জানা গিয়েছে, রথের দড়ি টানছিলেন যাঁরা, তাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৩
উৎসব

পুজো বললেও! এই পুজোতে পুরোহিত লাগেনা, দক্ষিণবঙ্গে মহাসমারোহে শুরু ছট পুজো

ছট পুজোর আরাধ্য দেবতা সূর্য। এই পুজোয় মূলত সূর্য দেবতার আরাধনা করা হয়। অন্যান্য পুজোর মতো কোনও দেবতার মুর্তী সচারচর দেখা যায় না এও পুজোয়। মুর্তী সামনে রেখে তাঁর অস্তিত্ব কল্পনা করেই পুজো হয়। কিন্তু এ পুজোই কল্পনার কোনও স্থান নেই, আসলে প্রয়োজনই নেই। কারন, স্বয়ং সূর্য দেবতাকে চোখের সামনে দেখেই এই পুজো করা হয়।সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন, এত বড় পুজো কিন্তু কোনও পৌরহিত্য নেই। হিন্দু ধর্মের যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা ব্রত উদযাপনের সময় দেবতার উদ্দেশ্যে পূজা নিবেদনের জন্য ব্রাহ্মণ বা পূজারির মাধ্যম প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এই ছট ব্রতধারীরা নিজেরাই মন্ত্রোচ্চারণ করে সূর্যদেবতার কাছে অর্ঘ্য প্রদান করেন। এই ব্রতটি পুরোপুরি লৌকিক। মুল অর্থে এই ছট আসলে প্রকৃতির পুজো। জল, বাতাস ও প্রকৃতি বন্দনা করে এই পুজো করা হয়। ছটপুজোর পিছনে এই মতাদর্শ কাজ করে বলেই হয়ত এই পুজোয় ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতের উপস্থিতি আবশ্যিক ততটা নয়। অবশ্যই কেউ কেউ যদি মনে করেন, তিনি পৌরহিত্যের উপস্থিতিতে বা ব্রাহ্মণের মাধ্যমেই ব্রত উদযাপন করতে পারেন। ছট পুজো উপলক্ষ্যে বর্ধমান শহর সংলগ্ন দামোদর নদের বিভিন্ন ঘাটে অসংখ্য মানুষের জমায়েত হল আজ। রবিবার বিকাল থেকেই সদরঘাট ও অন্যান্য এলাকায় ঘাট গুলিতে পুজো উপলক্ষ্যে ভিড় করেন পুণ্যার্থীরা। ঘাট গুলিতে ভিড় সামাল দিতে ও কোনও রকমের দুর্ঘটনা এড়াতে বর্ধমান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারীর ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান পুরসভার অন্তর্গত ১৬ টি ঘাট রয়েছে যেখানে ছটপুজোয় পুণ্যার্থীদের জন্য পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। মূলত, দামোদর নদ ও বাঁকা নদীতে ঘাট গুলি রয়েছে। এছাড়া, পঞ্চায়েত এলাকা গুলিতেও বেশ কয়েকটি ঘটে পুজোর ব্যবস্থা করা হয়।বর্ধমানের সদরঘাট এলাকা ছট পুজো উপলক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া শহরের ভিতরের রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত ৪০০ পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ঘাট এলাকা গুলিতে ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। রবিবার বিকালে ৩ টে থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত ও সোমবার সকাল ভোর ৪ টে থেকে সকল ৮ টা পর্যন্ত শহরের রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে পুলিস সুত্রে জানা গিয়েছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২২
উৎসব

ভাইফোঁটা! একদিন আগে থেকেই মিষ্টির দোকানে লাইন

ভাইফোঁটা মানেই ভাইয়ের পাতে কিছু খাবারদাবার তুলে দিতে বোনের সাধ। আর তার সাথে নানা ধরণের মিষ্টি দিয়ে মিষ্টিমুখের পালা। দক্ষিণবঙ্গের বর্ধমানে মিষ্টির নানা ধরণের আধিপত্য কোন কাল থেকেই। তবে সবার উপরে রয়েছে জিআই ট্যাগ পাওয়া সীতাভোগ আর মিহিদানা। অন্য মিষ্টির সাথে এ দুটোও পড়বে ভাইয়ের পাতে।রাত পোহালেই ভাইফোঁটা। আর সকাল থেকেই মিষ্টির দোকানগুলোতে ভিড় জমেছে ক্রেতাদের। বাজারদরের সাথে পাল্লা দিয়ে এবারে মিষ্টির দামও বেড়েছে। কিন্তু দুবছর কোভিডের জেরে ভাইফোঁটা সেভাবে হয়নি। এবারে তাই তাগিদ বেশি। ক্রেতারা জানাচ্ছেন, ভাইফোঁটা উপলক্ষে অনেক স্পেশাল মিষ্টি তৈরি হয়। সেগুলো তারা কিনছেন। তার সাথে সীতাভোগ আর মিহিদানা সেটাও চাই।শহর বর্ধমানের এক মিষ্টি বিক্রেতা সৌমেন দাস জানান, এবারেও ভাইফোঁটা সন্দেশ সহ অন্য মিষ্টি হয়েছে। লোকে একটু হাল্কা মিষ্টি চাইছেন। তাই আমুলের বরফি সন্দেশ রয়েছে। রয়েছে চিলি রসগোল্লা। যা কাঁচালংকার ঝাল দিয়ে বানানো। আর সীতাভোগ মিহিদানা তো আছেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

দু’মাস কোথায় ছিলেন? ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত, জানালেন সব

দুমাস ধরে পুলিশের খোঁজের বাইরে ছিলেন তিনি। তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পরপর দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তদন্তকারীদের দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জমি প্রতারণার মামলায় শনিবার সুমিতকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। রবিবারও তাঁকে ফের ডাকা হয়। এদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুমিত। তবে মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে বেশির ভাগ বিষয়েই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।গত দুমাস কোথায় ছিলেন, সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন করলে প্রথমে সুমিত বলেন, আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। পরে একই প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, এদিকে, আশপাশেই ছিলাম। তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি কলকাতাতেই ছিলেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।এত দিন আত্মগোপনে থাকার কারণ জানতে চাওয়া হলে সুমিত বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই তো মেনে চলছি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলতে চাননি তিনি। সেবাশ্রয়-সহ একাধিক বিষয়ে তাঁর নাম জড়ানোর প্রসঙ্গ উঠলে বলেন, মন্তব্য করতে পারব না।তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সুমিত বলেন, হতে পারে। তবে কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ যখনই ডাকবে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সুমিত বলেন, বাজে কথা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে দেখা যায়। তৃণমূলের গাড়িতে করে সেখানে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবে সুমিত বলেন, যে অফিসে কাজ করি, সেই অফিস থেকে গাড়িটা দিয়েছে।এদিকে সুমিত নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে আগামী দিনেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত ডেবরার মামলায় তাঁকে ফের ডাকা হয়েছে। তাঁর কথায়, কাল ১১টার সময় ডেকেছে। তবে এদিন কোনও নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।শালবনীর জমি প্রতারণা মামলা-সহ সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিসও জারি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তদন্তে সহযোগিতা করতে শুরু করেন তিনি। পরপর দুদিন ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের দুমাস কোথায় ছিলেনএই প্রশ্নের উত্তর ঘিরেই এখন নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘লম্বা লড়াই, তবে তিলোত্তমাই জিতবে’, পানিহাটিতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক ঘোষণা, ফের তদন্তের নির্দেশ

অভিশপ্ত ৯ অগাস্টের দুবছর পূর্ণ হল। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু-রহস্য আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় শুভেন্দু বলেন, লম্বা দুবছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিত ভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জায়গা থাকবে না। ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সূত্রে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তৎকালীন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের তদন্ত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের ঘোষণাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তিলোত্তমার পরিবার। তাঁদের আশা, এত দিন যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি, নতুন তদন্তে তার কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে।তিলোত্তমার মৃত্যুর দুবছরের স্মরণসভায় নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করে বলেন, রাখিপূর্ণিমার দিন অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় তিলোত্তমার মায়ের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর কথায়, আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামী দিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে। ফলে তিলোত্তমাকাণ্ডে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং পুরনো কোনও প্রশ্নের নতুন উত্তর মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা? ‘টার্গেট ছিল মমতাকে শেষ করা’, বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।মমতার সঙ্গে এদিন ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, হালিশহরে যাওয়ার সময় মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগানও। পরিস্থিতির জেরে কিছু সময় গাড়ি আটকে থাকে বলে তৃণমূলের দাবি।হালিশহর থেকে ফিরে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং গাড়ির সামনে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে জমায়েত করা হয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়।কল্যাণের আরও দাবি, মমতার গাড়িতে যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তাঁর দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।মমতার বক্তব্য, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের কাছে যাবেন এবং কোনও বাধাতেই পিছিয়ে আসবেন না।হালিশহর থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তিকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন মমতা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফর ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গাড়ি লক্ষ্য করে সত্যিই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
বিদেশ

হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সুমিত সোজা অভিষেকের বাড়িতে, ভবানী ভবনে কী জানলেন গোয়েন্দারা?

ভবানী ভবনে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি দফতর থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছেছিলেন তিনি। দীর্ঘ জেরার পর সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে জেরায় সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণার মামলায় শুক্রবার রাতে সুমিতকে নোটিস পাঠায় সিআইডি। সেই নোটিসে সাড়া দিয়েই শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী আগে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির জেরায় হাজির হন সুমিত।জমি প্রতারণার মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির টাকা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগের কথা সামনে আসেনি। তবে সুমিত দীর্ঘ জেরার পর অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।অভিযোগের তদন্তে সুমিতের খোঁজে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল বলে জানা গিয়েছে।পরে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। সেই আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরিয়ে তাঁর গন্তব্য হয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। এখন সিআইডির জেরায় কী তথ্য উঠে এল এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ফের খুলছে আর জি করের ‘ফাইল’! অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক তদন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়েছে আর জি কর-কাণ্ডের তদন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যেই পৃথক ভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ধর্ষণ ও খুনের আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষে যে তথ্য উঠে আসবে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা আগে থেকে দূর করা যায়নি, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগে থেমে থাকা তদন্তের বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আর জি কর-কাণ্ডে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি এবং অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ওই তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নতুন তদন্তে হাসপাতালের ত্রুটি বা অনিয়ম আড়াল করার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।এদিকে রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে অভয়া দিবস। দুই বছর আগে ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার স্মরণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।সকাল ১১টায় অভয়ার স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।অভয়ার মা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের।সিবিআইয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পৃথক তদন্তে নতুন করে কোন তথ্য সামনে আসে, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal