• ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

নিবন্ধ

নিবন্ধ

গুরু–শিষ্যের মধুর বন্ধন ও যুবশক্তির আহ্বান, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবসের প্রাসঙ্গিকতা

ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও মননচর্চার ইতিহাসে যে কয়েকটি সম্পর্ক যুগ যুগ ধরে মানবসভ্যতাকে পথ দেখিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের (তৎকালীন নরেন্দ্রনাথ দত্ত) মধুর গুরুশিষ্য সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কেবল আধ্যাত্মিক সাধনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা মানবকল্যাণ, যুবসমাজের জাগরণ ও জাতিগঠনের এক শক্তিশালী ভিত্তি নির্মাণ করেছিল।সংশয়ী নরেন্দ্র থেকে অগ্নিপুরুষ বিবেকানন্দউনিশ শতকের কলকাতায় পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত, যুক্তিবাদী ও সংশয়ী যুবক নরেন্দ্রনাথ দত্ত ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরে তাঁর আগমন এবং সেখানেই সাক্ষাৎ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে। নরেন্দ্রনাথের সরাসরি প্রশ্ন আপনি কি ঈশ্বরকে দেখেছেন?এর উত্তরে রামকৃষ্ণদেবের সহজ অথচ দৃঢ় ঘোষণা হ্যাঁ, যেমন তোকে দেখছি, তার থেকেও স্পষ্টভাবেএই একটি কথাই নরেন্দ্রনাথের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।ভালোবাসা, শাসন ও বিশ্বাসের অনন্য মেলবন্ধনরামকৃষ্ণদেব নরেন্দ্রনাথের মধ্যে ভবিষ্যতের এক মহান নেতার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। কখনও স্নেহে, কখনও কঠোর শাসনে, আবার কখনও নিঃশর্ত বিশ্বাসে তিনি নরেন্দ্রনাথকে গড়ে তুলেছিলেন। নরেন্দ্রনাথও ধীরে ধীরে তাঁর সমস্ত অহং, সংশয় ও ব্যক্তিগত বেদনা গুরুদেবের চরণে সমর্পণ করেন। এই সম্পর্ক ছিল গভীর মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণযেখানে গুরু শিষ্যকে ঈশ্বরচিন্তায় উদ্বুদ্ধ করেছেন, আবার শিষ্য গুরুর আদর্শকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছেন।রামকৃষ্ণের আদর্শ, বিবেকানন্দের বিশ্বজয়১৮৮৬ সালে রামকৃষ্ণদেবের মহাপ্রয়াণের পর সন্ন্যাস গ্রহণ করে নরেন্দ্রনাথ হলেন স্বামী বিবেকানন্দ। গুরুর বাণীকে পাথেয় করে তিনি ভারতবর্ষের পথে পথে ঘুরে দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষের দুঃখ দেখেন এবং উপলব্ধি করেন জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। এই ভাবনাই তাঁকে শিকাগো ধর্মসভায় ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের মুখপাত্র করে তোলে এবং বিশ্বকে নতুন করে ভারতের পরিচয় দেয়।যুবদিবস ও স্বামী বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতাস্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন, ১২ জানুয়ারি, আজ পালিত হয় জাতীয় যুবদিবস হিসেবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর অদম্য বিশ্বাস আমাকে একশো উদ্যমী যুবক দাও, আমি ভারত গড়ে দেব। যুবসমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। চরিত্রগঠন, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক ও মানসিক দৃঢ়তাএই গুণগুলির মধ্য দিয়েই তিনি যুবকদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে আহ্বান জানিয়েছিলেন।বর্তমান সময়ে যখন হতাশা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও দিশাহীনতা যুবসমাজের একাংশকে গ্রাস করছে, তখন স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ নতুন করে পথ দেখায়। তাঁর শিক্ষা বলেনিজেকে বিশ্বাস করো, দেশের জন্য ভাবো, মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করো।রামকৃষ্ণদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের সম্পর্ক কেবল একটি গুরুশিষ্যের কাহিনি নয়; এটি এক আদর্শ উত্তরাধিকারের গল্প, যেখানে আধ্যাত্মিক সাধনা সমাজসংস্কারের রূপ নিয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুবদিবস পালন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়যুবশক্তিই জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সেই শক্তিকে সঠিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী, মানবিক ও আত্মনির্ভর ভারত।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
নিবন্ধ

সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে রসুনের উপকারিতা জানুন

বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব সাধারণত বেড়ে যায় এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক এক চক্র। কয়েকটি কারণে বর্ষাকালে সাপের আনাগোনা বাড়ে। সেগুলির মধ্যে অন্যতম, বন্যা ও জল জমা, সাপ সাধারণত মাটির গর্তে বাস করে। বর্ষায় সেই গর্তে জল জমে যাওয়ায় তারা শুকনো জায়গা খুঁজে বেরিয়ে আসে। আশ্রয় খোঁজা, বৃষ্টিতে সাপ আশ্রয় নিতে খোঁজে শুকনো ও উষ্ণ জায়গাযেমন: বাড়ির বারান্দা, রান্নাঘর, গ্যারেজ, বা স্টোররুম। এছাড়াও সাপ খাবারের খোঁজে বসতিতে ঢুকে পরে। ইঁদুর, ব্যাঙ ইত্যাদি জীব বর্ষাকালে উঁচু ডাঙ্গা জমি, বসত বাড়িতে উঠে আসে, তাদের অনুসরন করে সাপ মানুষের বসতিতে ঢুকে পড়ে। যেসব এলাকা বনাঞ্চল বা জলাভূমির পাশে, সেখানে বর্ষায় সাপ চলাচল বেশি হয়।সাপের উপদ্রব থেকে নিরাপদে দূরে থাকতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে করেন কেউ কেউ। কিন্তু আমাদের বাড়িতেই এক ভেষজ সবসমই থাকে সেই রসুন ব্যাবহার করে সাপ থেকে দূরে থাকা যায় বলে অনেকের-ই ধারণা। সাপের আসা-যাওয়ার পথে রসুন দেওয়ার পেছনে একটি প্রচলিত লোকবিশ্বাস রয়েছে। এটি মূলত প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর পেছনে কিছু সাধারণ কারণ নিচে দেওয়া হলো:কেন রসুন দেওয়া হয়?তীব্র গন্ধ: রসুনের গন্ধ অত্যন্ত তীব্র এবং এটি অনেক প্রাণীর জন্য খুবই অস্বস্তিকর। কিছু মানুষের ধারণা যে সাপ তাদের সংবেদনশীল জিহ্বা (জ্যাকবসন অঙ্গ) দিয়ে পরিবেশের গন্ধ বোঝে, আর রসুনের তীব্র গন্ধ তাদের বিরক্তি উদ্রেক করে।রসুনে অ্যালিসিনের মতো সালফার সমৃদ্ধ যৌগ থাকে, যা তীব্র গন্ধ তৈরি করে। এই গন্ধ সাপের সংবেদনশীল ইন্দ্রিয় অঙ্গগুলিকে (বিশেষ করে জ্যাকবসন অঙ্গ, যা তারা তাদের জিহ্বার মাধ্যমে পরিবেশকে ঘ্রাণ নিতে ব্যবহার করে) জ্বালাতন করতে পারে বা অভিভূত করতে পারে।লোকবিশ্বাস ও অভ্যাসঃ গ্রামাঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই রসুন, পেঁয়াজ, নিমম বা কর্পূর ব্যবহারের মাধ্যমে সাপ দূরে রাখার চেষ্টা চলে আসছে। যদিও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব একটা নেই, তবুও অনেকেই এটাকে কার্যকর মনে করেন। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে সাপ তাড়ানোর চেষ্টা হিসেবে রসুন ব্যবহার একটি বিকল্প পদ্ধতি।বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে এখনও সরাসরি প্রমাণ নেই যে রসুন সাপকে নিশ্চিতভাবে তাড়াতে পারে। তবে কিছু গবেষণা বলেছে, সাপ সাধারণত তীব্র গন্ধ বা ঝাঁঝালো রাসায়নিক এড়িয়ে চলে, তাই কিছু ক্ষেত্রে রসুন কার্যকর হতে পারে।রসুন ব্যবহার পদ্ধতিঃ১। রসুন থেঁতো করে সাপের সম্ভাব্য চলাচলের রাস্তায় ছড়িয়ে দিন।২। রসুন ও লবণের মিশ্রণ একটি কাপড়ে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।৩। রসুন তেলের সঙ্গে ন্যাপথলিন মিশিয়ে ব্যবহার করেন অনেকে (সতর্কতার সঙ্গে)।তবে মনে রাখবেনঃ১। সাপ তাড়ানোর জন্য রেসকিউ টিম বা স্থানীয় বন দপ্তরে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায়।২। বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার, ঘাসছাঁটা রাখা, ইঁদুর-মুরগির আনাগোনা কমানোএসব বেশি কার্যকর।সাপ তাড়ানোর জন্য কিছু নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো, যা আপনি রসুনের পাশাপাশি ব্যবহার করতে পারেন:পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন (সবচেয়ে কার্যকর উপায়)১। বাড়ির চারপাশে ঝোপঝাড়, লম্বা ঘাস, ময়লা, কাঠের গুঁড়ি বা ইটের স্তূপ থাকলে সাপ আশ্রয় নিতে পারে।২। পুরনো বা অব্যবহৃত জিনিস সরিয়ে ফেলুন।৩। ইঁদুর বা ছোট প্রাণী থাকলে সাপ আসতে পারে, এদের নিয়ন্ত্রণ করুন।প্রাকৃতিক প্রতিকারঃ১. রসুন ও পেঁয়াজঃ রসুন ও পেঁয়াজ থেঁতো করে মিশিয়ে সাপের চলাচলের পথে ছড়িয়ে দিন। আপনি চাইলে সেগুলোর রস করেও স্প্রে করতে পারেন।২. লবণ ও চুনঃ চুন ও লবণ (নুন) মিশিয়ে দেয়ালে বা জানালার আশপাশে ছিটিয়ে রাখুন৩. নিমের পাতা ও তেলঃ নিমের তেল সাপদের প্রচণ্ড অপছন্দের জিনিস। এটি জলের সঙ্গে মিশিয়ে সাপের আসা যাওয়ার পথে স্প্রে করতে পারেন।৪. সাদা ভিনিগারঃ ভিনিগার ও লবণ মিশিয়ে সাপের চলার পথে স্প্রে করুন। মাটির গন্ধ নষ্ট হওয়ায় সাপ এড়িয়ে চলে।কম্পন ও শব্দ ব্যবহারঃসাপ শব্দ-সংবেদনশীল (কম্পনে সাড়া দেয়)। মাটি কাঁপায় এমন যন্ত্র (যেমন: হাতুড়ি দিয়ে ঠোকাঠুকি), বা ব্যাটারিচালিত কম্পন-ডিভাইস সাপ দূরে রাখতে পারে।পোষা প্রাণীঃ কুকুর (দেশী বা বিদেশি) সাপের উপস্থিতি টের পেলে ঘন ঘন ডাকতে থাকে। গ্রামের অনেক বাড়িতে পোষা প্রাণী রাখার ফলে সাপ আসার সম্ভাবনা কমে যায়।যা করবেন নাঃসাপ দেখলে নিজে রিস্ক নিয়ে তাড়াতে যাবেন না।, পেট্রোল, অ্যাসিড বা আগুন ব্যবহার করবেন না। সাপটিকে না মেড়ে তারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। আপতভাবে বিষাক্ত মনে হলেও সাপ সামাজের ভারসাম্য রাখতে বিরাট ভুমিকা নেয়। সাপ দেখলে বা সন্দেহ হলে আপনার এলাকায় বন দফতর বা স্থানীয় সাপ উদ্ধারকারী দলের (snake rescuer) সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অনেক জায়গায় হেল্পলাইন নম্বরও রয়েছে। প্রয়োজনে জেলার বনদপ্তরে ফোন করে সাহায্য নিন। এছাড়াও জেলায় জেলায় বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংস্থা আছে যাঁরা বসতি থেকে সাপ গুলিকে উদ্ধার করে নিরাপদে অরণ্যে পৌছাতে সাহায্য করেন। যেমন, বর্ধমান জেলায় তথাগত পাল আছেন, যিনি তাঁর দৈনন্দিন পেশার কঠিন চাপের ফাঁকেও এই ধরনের নোবেল জব করতে ভালবাসেন।

জুন ২৮, ২০২৫
নিবন্ধ

৮ জুন শুধুই কি একটা আন্তর্জাতিক নারী দিবস? এ লড়াই যেন অনন্তকালের

আজকের দিন শুধু একটা আন্তর্জাতিক নারী দিবস নয়, এটি নারী শক্তির জয়যাত্রা, অগ্রগতির প্রতীক এবং এক অবিরাম সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।একবিংশ শতাব্দীর এই যুগে নারী দিবস কেবল অধিকার আদায়ের স্লোগান নয়, এটি নারীদের বহুমুখী অবদানকে উদযাপন করার একটি মঞ্চ। আজকের নারী শুধু ঘরের চার দেওয়ালে আবদ্ধ নন, তিনি মহাকাশচারী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, রাষ্ট্রনেতা, শিল্পী এবং আরও অনেক কিছু। প্রযুক্তি প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন, নিজেদের দক্ষতা ও মেধা দিয়ে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নারীদের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে।চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান।তবে এই অগ্রগতির মাঝেও কিছু কঠোর বাস্তবতা থেকে যায়। বিশ্বের বহু জায়গায় আজও নারীরা বৈষম্য, সহিংসতা এবং অসমতার শিকার। সাইবারবুলিং, লিঙ্গভিত্তিক ডিজিটাল বিভাজন এবং অনলাইনে হয়রানি বর্তমান যুগের নতুন চ্যালেঞ্জ। কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য, কাঁচের ছাদ ভেঙে উচ্চ পদে পৌঁছাতে না পারা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে পিছিয়ে থাকাও এখনও বড় সমস্যা। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত, অনেক নারী এখনও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবে ভুগছেন।আজকের নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পুরুষ ও নারী উভয়কেই এই সমতার আন্দোলনে যুক্ত হতে হবে। শিক্ষা, সচেতনতা এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতা বাড়াতে হবে সমাজের প্রতিটি স্তরে।এই নারী দিবসে আমাদের ভাবতে হবে: কীভাবে আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল বিশ্ব তৈরি করতে পারি, যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদে, স্বাধীনভাবে এবং সমানভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারবে? কীভাবে আমরা প্রযুক্তির শক্তিকে ব্যবহার করে নারীদের ক্ষমতায়ন করতে পারি এবং অনলাইন সহিংসতা থেকে তাদের রক্ষা করতে পারি? আজকের দিনে নারীর ক্ষমতায়ন মানে শুধু অফলাইনে নয়, অনলাইনেও তাদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা।লিঙ্গ সমতা: কেবল নারীর সমস্যা নয়, সমাজের অগ্রগতির চালিকাশক্তিআমরা প্রায়শই লিঙ্গ সমতাকে কেবল নারীদের সমস্যা হিসেবে দেখি। কিন্তু আজকের দিনে এটি স্পষ্ট যে, লিঙ্গ সমতা শুধুমাত্র নারীর অধিকারের প্রশ্ন নয়, এটি একটি উন্নত, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের চাবিকাঠি। যখন নারীরা শিক্ষার সুযোগ পায়, কর্মক্ষেত্রে সমান অংশীদারিত্ব পায় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়, তখন পুরো সমাজ লাভবান হয়।অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে জিডিপি বাড়ে, পরিবারে সচ্ছলতা আসে। শিক্ষায় নারীর বিনিয়োগ ভবিষ্যত প্রজন্মকে আরও সচেতন ও সক্ষম করে তোলে। নেতৃত্ব পদে নারীদের উপস্থিতি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং কার্যকর নীতি নির্ধারনে সহায়তা করে।আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমাদের এই বার্তাটি জোরে বলতে হবে: লিঙ্গ সমতা কোনও বিশেষ লিঙ্গের জন্য নয়, এটি মানবজাতির সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। পুরুষদেরও এই সমতার সংগ্রামে সমান অংশীদার হতে হবে। তাদের সচেতনতা, সমর্থন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব হয় না। আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ি যেখানে প্রতিটি লিঙ্গ তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা নিয়ে বিকশিত হতে পারবে।মানসিক স্বাস্থ্য এবং নারী: নীরব সংগ্রাম যা দেখা জরুরিআন্তর্জাতিক নারী দিবসে আমরা নারীদের বাহ্যিক অর্জন নিয়ে কথা বলি। কিন্তু প্রায়শই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের নীরব সংগ্রামগুলো উপেক্ষিত হয়। সমাজের চাপ, কর্মজীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হওয়ার কারণে নারীরা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং বিষন্নতায় বেশি ভোগেন।অনেক সমাজে আজও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয় না। যা নারীদের সাহায্য চাইতে বাধা দেয়। শক্তিশালী নারী হওয়ার সামাজিক প্রত্যাশা তাদের ভেতরের কষ্টকে আড়াল করে রাখে। এই নারী দিবসে আমাদের উচিত এই নীরব সংগ্রামকে প্রকাশ্যে আনা।আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে নারীরা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সকলের জন্য সহজলভ্য করতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একজন নারী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার পাশাপাশি মানসিকভাবেও যেন সুস্থ থাকেন। তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। কারণ একজন সুস্থ মনের নারীই একটি সুস্থ সমাজের ভিত্তি।

জুন ০৭, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (অন্তিম পর্ব )

ঐশী নিজের গল্প শেষ করলো, সৈকত এতক্ষন মন্ত্র মুগ্ধের মত গল্পটি শুনছিল, এবার সে বললো, ব্যাপারে, এবারের সফরটা মনে থেকে যাবে, যা একটা গল্প শোনালেন। একই গল্পে এই ধরণের অসুখ আর নরখাদক, এখনো ভাবতে পারছিনা আমি ঠিক কি শুনে নিলাম ,সেরা লেখেন আপনি। এই গল্প বেস্ট সেলার হবেই মিলিয়ে নেবেন আপনি।ঐশী: ধন্যবাদ।সৈকত: আচ্ছা । গল্পটা বই আকারে কবে পাবো ?ঐশী: আসা করি খুব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন।দেখতে দেখতে কেটে গেলো সেদিনের রাত, পরেরদিন বিকালে দুরন্ত এক্সপ্রেস এসে থামলো যশবন্তপুর স্টেশনে। সবার মতোই সৈকত আর ঐশীও নিজেদের লাগেজ নিয়ে ট্রেন থেকে বেরিয়ে এলো। সৈকত: আচ্ছা আপনার বোন কই ?ঐশী: চলুন দেখা করিয়ে দি, বাইরে আছে ওরা।সৈকত ঐশী স্টেশন এর বাইরে বেরোতেই একটা মেয়ে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো ঐশীকে। ঐশী সৈকতের দিকে তাকিয়ে বললো, এই যে তিথি।সৈকত: Hi তিথি ! Nice to meet you.তিথি সৈকতের দিকে তাকিয়ে বললো, same to you, আপনি ?ঐশী: আমার নতুন বন্ধু। ট্রেনে দেখা হলো, তোর গল্প বলতে বলতে এতদূর চলে এলাম।তিথি: oo wow. New friend ! নাম কি এই নতুন বন্ধুর ?সৈকত: সৈকত সেন, পেশায় সাংবাদিক।তিথি: আমি তিথি পেশায় নার্স।সৈকত: great তিথি ম্যাম।তিথি: আমাদের বাড়ি পর্যন্ত যেতে হবে কিন্তু।সৈকত কিছু একটা বলতেই যাবে এমন সময় কেও একজন বলে উঠল, আজকে হবেনা, ওনাকে অন্যদিন আসতে বলিস।সৈকত দেখলো তিথির পিছনে বছর ৩৫ এর এক মহিলা, চেহারা দেখে মনে হচ্ছে হয় তিনি খেলাধুলার সাথে যুক্ত নাহলে পুলিশ। তিথি বললো: কিন্তু দিদি কেনো?মহিলাটি বললেন: আজকে বাড়িতে একটু অসুবিধা আছে রে।সৈকত: আচ্ছা তিথি অন্য কোনো একদিন আসা যাবে নাহয়।ঐশী: ও আমাদের তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বোন প্রিয়া। তিথির সাথে ও চলে এসেছিল এখানে। আগে পুলিশ ছিল, এখন সেচ্ছাবসর নিয়েছে।সৈকত: আচ্ছা তাহলে এবার আমি আসি, দেখি ট্যাক্সি কোথায় পাই!ঐশী: বাই।তিথি: বাই দাদা।সৈকত: বাই ঐশী, বাই তিথি।সৈকত দেখলো প্রিয়ার চোখে যেনো তার প্রতি এক রাশ অবিশ্বাস, সৈকত অবশ্য বেশি ভাবলনা, পুলিশ ছিল হয়ত সেই জন্যই শুরুতেই কাওকে বিশ্বাস করতে পারেন না নিজেকে এই সান্তনা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো সে।সৈকত বাইরে বেরিয়ে একটা টাক্সি করে নিল। একটা হোটেল আগেই বুক করে রাখা আছে, ওখানেই গিয়ে উঠবে সে। টাক্সিতে যেতে যেতে ঐশীর বলা গল্পটা তার মনে পড়তে থাকলো। কি সুন্দর গল্প লেখে আর বলে মেয়েটা, সত্যিই সে ফ্যান হয়ে গেছে ঐশীর। হটাৎ তার মনে একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো, আচ্ছা তিথী মানসিক রোগী ছিল, তিথী অনেক বছর ছিলনা এদের সাথে, সেখানে খেতেও নাকি পেতোনা ঠিক করে..... এদিকে ওর বড়দিদি একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন যিনি শ্রেয়ার মতই সেচ্চাবসর নিয়েছেন। ঐশী নিজেই গার্গীর মতই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। আজ থেকে কয়েক বছর আগে মালদায় একটা এইরকম সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনাও ঘটেছিল, তাহলে কি ঐশী নিজের জীবনের গল্পই এইভাবে তাকে বলে দিলো?সৈকত ফোন করলো নিজের বন্ধু এবং বর্তমান লালবাজারের ACP সুবীরকে । সুবীর ফোন ধরতেই সৈকত প্রথম প্রশ্ন করলো, আচ্ছা সুবীর , মালদায় আজ থেকে ৫ বছর আগে যে মানুষ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে কি ACP সুদীপ সেন নিখোঁজ হয়েছিলেন না মারা গিয়েছিলেন ?সুবীর: জানা যায়নি , তবে যতদূর শুনেছি উনিও গায়েব হয়েছিলেন বডি পাওয়া যায়নি বলেই তোদের ফ্যামিলির হাতে দাদাকে তুলে দেওয়া যায়নি। আর অস্বাভাবিক ভাবেই তোর দাদার পর আর কেও গায়েব হয়নি।সৈকত: আমি জানতে পেরে গেছি সুবীর, কে ছিলো আসলে এইসব মানুষ দের গায়েব হওয়ার পিছনে?সুবীর: কি বলছিস ?সৈকত: যা বলছি ঠিক বলছি। আমি পেয়ে গেছি ওই রাক্ষুসী তার ঠিকানা, ও মানুষ নয়, নরখাদক যে বেচেঁ গেছে তার দুই বোনের জন্য কিন্তু আমার দাদার মৃত্যুর প্রতিশোধ আমি নেবোই।হটাৎ এইসময় সৈকতের ট্যাক্সি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গিয়ে ধাক্কা মারে আর একটা গাড়িকে, সৈকত বুঝে ওঠার আগেই গাড়ির ফ্রন্ট সিটে সজোরে ধাক্কা খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে।২ মাস পর:আদ্রিতা: ডক্টর কি বুঝছেন ? ও ঠিক হয়ে যাবে তো?ডক্টর চৌধুরী: দেখুন ম্যাম সৈকতের শারীরিক সমস্যা সমাধান তো ডক্টর উদয়ন দাস করেই দিয়েছেন কিন্তু সৈকতের মানসিক সমস্যার সমাধান হতে আরো সময় লাগবে।আদ্রিতা: ওর schizophrenia আবার ফিরে এসেছে?ডক্টর চৌধুরী: ফিরে আসার জন্য কোনোদিন সে যায়নি এইরোগ থেকে মুক্তি নেই আদ্রিতা । সে থেকেই গিয়েছিল সবার অজান্তে শুধু সময় পেতেই আবার নিজের খেলা দেখিয়েছে।আদ্রিতা: কিছু কি করা যায়না? ওকে যে এই কষ্টে আর দেখতে পারিনা আমি।ডক্টর চৌধুরী: ওর দাদাই ছিল ওর সবচেয়ে কাছের বন্ধু, ওর জীবনের যেকোনো সমস্যা ওর দাদাই সমাধান করে দিত, সুদীপ এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর থেকেই ও নানারকম গল্প ভাবতে থাকে নিজের মাথায়, ভেবে নিতে থাকে সেই সমস্ত চরিত্র যারা হয়ত সত্যি নেই এই দুনিয়ায় কোথাও । ও সেই চরিত্রগুলোকে মেরে নিজের দাদার মৃত্যুর প্রতিশোধ তোলে। এর আগেও বহুবার ও এইরকম করেছে, এবারেও একই কাজ করলো আর ওর মধ্যে এই জিনিষ তখনই দেখা যায় যখন ও নিজেকে একা মনে করে। যেমন এবারের ট্রেন জার্নি র সময় ওই বার্থে যার আসার কথা ছিল সে আসেইনি, পুরো রাস্তা সৈকত একা একা কাটিয়েছে আর ভেবে নিয়েছে একটা গল্প। এখন ও আবার ঠিক আছে কিন্তু যখনই ও আবার নিজেকে একা মনে করবে তখনই আবার এই রোগ জাকিয়ে বসবে, আদ্রিতা, তুমি ওর স্ত্রী তোমাকেই দায়িত্ত্ব নিতে হবে যাতে ও কোনোদিন নিজেকে একা অনুভব না করে, সবসময় ওর সাথে থাকতে হবে তোমাকে। পারলে তুমিই পারবে ওকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে।আদ্রিতা: আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো স্যার, আমি চেষ্টা করবো যাতে সৈকতের মনে বেড়ে ওঠা এই মিথ্যা গল্প গুলো দূর হয়ে যায় আর ও সত্যি দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে পারে।এমনসময় কেবিনে এলো সৈকত, আদ্রিতা, তুমি আমায় যে এখানে কেন আনো, সেই সিডেটিভ দিয়ে কি কি বলিয়ে নেয় আমাকে দিয়ে।সৈকত আরো কিছু বলতেই যাচ্ছিলো, কিন্তু আদ্রিতা সুযোগ দিলো, উঠে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো ওকে আর কানের মধ্যে বললো, শান্ত হও সৈকত, আমি আছি তো তোমার সাথে সবসময়, তোমার বেস্টফ্রেন্ড। ~সমাপ্ত~লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

মে ০৯, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (তৃতীয় পর্ব )

তন্ময় থানায় ঢুকলো আর সোজাসুজি শ্রেয়ার কেবিনে এসে ঢুকলো, তখনও শ্রেয়া মন দিয়ে ওই কানের দুলটা দেখছিলো, তন্ময় ঢুকতেই সে সেটা টেবিলের উপরেই রেখে দিলো আর উঠে দাঁড়ালো সম্মানের খাতিরে।তন্ময়: আরে বসে পড়ো, এই মুহূর্তে তুমি লিডার।শ্রেয়া: কিন্তু স্যার আপনি তো আমার সিনিয়র।তন্ময়: সেসব পরে হবে, আগে আমার কিছু কথা আছে। বসো বলছি। শ্রেয়া চেয়ারে বসলো আর সামনেরটায় তন্ময়, তুমি হয়তো জানো না আমি তোমার দিদিকে ভালোবাসি। শ্রেয়া: জানি স্যার। ও আমায় সবই বলে।তন্ময়: জানো? তবে বলোনি কেন?শ্রেয়া: কারণ আমি চেয়েছিলাম দিদিই আমার পরিচয় দিক।তন্ময়: সব যখন জানাজানি হয়েই গেছে তখন আমি কি তোমাদের ওই দুজনের পরিবারে তৃতীয় সদস্য হতে পারি?শ্রেয়া: আমি আপনাকে নিজেই দাদার মতোই দেখি। তন্ময়: এদিকে আপনি বলে যাচ্চো। আজ থেকে তুমি বলবে আমায়।শ্রেয়া: আচ্ছা তাই হবে।তন্ময়: আর শ্রেয়া আর একটা ব্যাপার, নাহ থাক কাল বলবো, আগে আমি নিজে শিওর হই। চলো এবার নিজের ঘরে যাও, রাত হয়েছে অনেক।শ্রেয়া: আজ স্যার আবার পাহারায় বসেছে, আমি কি করে বাড়ি যাই। তন্ময়: বিগত দুদিন আমি বিশ্রাম নিয়েছি আজ তুমি নাও, বাড়ি যাও দিদির সাথে সময় কাটাও। কথা দিচ্ছি আমি ওই রাস্কেলকে ধরেই ছাড়বো।তন্ময় রাতের ডিনারটা সেরে নিলো থানার পাশের হোটেলটায়, এবার ওকে বেরোতে হবে রাতের এই শহরে টহল দিতে। ঠান্ডাটাও বেশ বেড়ে গেছে, বাইরে এখন ৬ ডিগ্রী। রাস্তায় বেরিয়ে একবার ভাবলো গার্গীকে ফোন করবে, এমন সময় তন্ময়ের ফোন নিজেই বেজে উঠলো, মৃদুল ফোন করেছে।তন্ময় ফোন ধরতেই শুনতে পেলো, স্যার বাঁচান আমায়! স্যার আমাকে মেরে ফেলবে..... স্যার!একটা প্রবল আর্তনাদে ফোন টা কেটে গেলো। তন্ময়ের বুক কাপছে, তাহলে কি মৃদুল আজকে শিকার হলো। তন্ময়ের আর ভাবার সময় নেই সে নিজের পিস্তল হাতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়লো। রাতের অন্ধকার আর নিঃস্তব্ধ হাড় হিম করা পরিবেশ যে কোনো কারোর বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে বাধ্য। কিন্তু আজকে তন্ময়কে ওই অপরাধীর শেষ দেখতেই হবে ,আর নয়। তন্ময়ের জীপ রাতের অন্ধকার ভেদ করে এগিয়ে চলেছে, কিন্তু কই ? কোথাও কিছু নেই। তন্ময় নিজের জীবনে এত জটিল কেস কোনোদিন দেখেনি। এই কেস টার উপর সে জীবনের সবচেয়ে সময় খরচ করে ফেলেছে। এইসব ভাবতে ভাবতে সে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল হটাৎ তার গাড়ির সামনে এসে পড়ল গার্গী। সে সজোরে ব্রেক কষে গাড়িটা কোনমতে থামলো। গার্গী প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে, সে তন্ময়কে দেখতেই তার কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো। তন্ময় জিজ্ঞেস করলো, কি হয়েছে?গার্গী: একটা বিভৎস দেখতে জন্তু আমার সামনে একটা লোককে মেরে খেয়ে ফেললো, এখন এখান থেকে তাড়াতাড়ি চলো নাহলে আমিও মরে যাবো।তন্ময়: আমি আছি তো। চলো আমিও দেখতে চাই পশুটাকে।গার্গী: প্লিজ তন্ময় চলো এখান থেকে।তন্ময়: গার্গী আমি এই কেসটার জন্য নিজের সম্মান হারিয়েছি আমি ওই জন্তুটাকে ছাড়বোনা। কোনো মতেই না।গার্গী: তন্ময় , প্লিজ তুমি পরেও তদন্ত করতে পারবে কিন্তু আজকে না। আমি দেখেছি কিরকম ভয়ানক ছিল ওর চোখ গুলো ।তন্ময়: এই জীপ টা নিয়ে এখান থেকে চলে যাও।আমি ওই পশুটাকে না দেখে যাবো না কোনোভাবেই।গার্গী: আমি তোমাকে একা ফেলে এখন থেকে কোনো ভাবেই যেতে পারিনা।তন্ময়: এটা আমার অর্ডার গার্গী। তুমি এখনই বেরিয়ে যাও এখান থেকে। আজকে আমি কোনোভাবেই যেতে পারবনা এখান থেকে।এই বলে তন্ময় এগিয়ে যেতে থাকলো সামনের দিকে, হাতে স্রেফ একটা পিস্তল। পিছনে না দেখলেও সে বুঝতে পারলো তার পিছনে পিছনে গার্গী আসছে। সে আবার বললো, গার্গী যাও এখান থেকে।কিন্তু কোনো সাড়া পেলনা। সে আবার বললো, গার্গী আমার কথা কি তুমি বুঝতে পারছনা? যাও এখান থেকে। তুমি থাকলে আমার কাজের অসুবিধা হবে। এবারেও কোনো উত্তর এলোনা। তোমার সাথে সাথে আমারও বিপদ বাড়বে, প্লিজ যাও।কিন্তু এবারেও কোনো উত্তর এলোনা।তন্ময় বিরক্ত হয়ে পিছন ফিরে তাকালো, কিন্তু যা দেখলো সেটা সে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি। হতবাক হয়ে সে শুধু দাড়িয়ে রইলো, যেনো নিজের সমস্ত শক্তি এক মুহুর্তের মধ্যে সে হারিয়ে ফেলেছে।তন্ময় দেখছে তার সামনে দাড়িয়ে শ্রেয়া, মুখে রক্ত, হাতেও রক্ত লেগে। তন্ময় বুঝতে পারলনা ব্যাপারটা। প্রথমে ভাবলো হয়তো শ্রেয়া কোনোভাবে আহত হয়েছে কিন্তু তারপরেই মনে হলো এই রক্ত শ্রেয়ার শরীরের নয় বরং এই রক্ত অন্যকারোর । তন্ময় বলে উঠলো, শ্রেয়া এটা কি?? তুমি এই অবস্থায়?? কি করেছ তুমি?শ্রেয়া বড়ই অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে তন্ময়ের দিকে,কোনো কথা বলছেনা। শুধু মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ হচ্ছে। হটাৎ শ্রেয়া জাপিয়ে পড়লো তন্ময়ের উপর। বড়ই হিংস্র তার দৃষ্টি, সে তন্ময়ের ঘাড়ে কামড় বসানোর চেষ্টায় রয়েছে সে, শুরু হলো ধস্তাধস্তি। দুজনেই দুজনকে সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে চলেছে, সবে আজকের শ্রেয়াকে দেখলে চেনার উপায় নেই এই শ্রেয়াই সেই পুলিশ অফিসার যে দিনেরবেলায় সবার রক্ষাকর্তী আর রাতের অন্ধকারে আজ সে হয়ে উঠেছে এক পিশাচিনী । তন্ময় বহু কষ্টে শ্রেয়া লাথ মেরে দূরে ফেলে দিলো আর হাতড়ে নিজের পিস্তলটা মাটি থেকে হাতে তুলে নিল । আর তারপরেই সোজা উঠে দাঁড়িয়ে পিস্তল তাক করলো শ্রেয়ার দিকে, শ্রেয়া হিংস্র গর্জন করেই চলেছে।এখন শ্রেয়া তন্ময়ের গান পয়েন্টে। তন্ময় গুলি চালাতে যাবে এমন সময় কেও একজন সজোরে তন্ময়ের মাথায় পিছন থেকে মারলো কোনো রড জাতীয় পদার্থ দিয়ে। তন্ময় জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে ।যখন তন্ময়ের জ্ঞান ফিরলো তখন সে একটা ঘরে আধ শোয়া অবস্থায় পড়ে আছে। সে বুঝল তার হাত পা বাঁধা। সে চিৎকার করে উঠলো, শ্রেয়া এইগুলো কি ধরনের অসভ্যতা। তুমি জানো না আমি কে! আমি কি করতে পারি তোমার সাথেএমন সময় তন্ময়কে অবাক করে দিয়ে দরজা দিয়ে ঢুকলো গার্গী।তন্ময়: গার্গী তুমি?? শ্রেয়া কি তোমার সাথেও কিছু করেছে?? উত্তর দাও গার্গী। কোথায় সেই বিশ্বাসঘাতক? আমার হাত পা টা খুলে দাও একবার তারপর ওকে দেখছি আমি।গার্গী: তন্ময় ক্ষমা করো কিন্তু শ্রেয়া বিশ্বাসঘাতক নয়।তন্ময়: মানে? কি বলছো কি তুমি ?গার্গী: তোমার সাথে বিশ্বাসঘাকতায় আমি জড়িত।তন্ময় হতবাক হয়ে গেলো, তার মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না। এদিকে গার্গী বলে চললো, শ্রেয়া মানসিক ভারসম্যহীন। ওর মধ্যে একধরণের অদ্ভুত অসুখ আছে যেটা দেখা দেয় কয়েক বছর আগে একটা কেস সল্ভ করতে গিয়ে।তন্ময়: তুমি কি বলতে চাইছো ? কোন কেস?গার্গী: দাড়াও আমাকে শেষ করতে দাও। আমার কথা শেষ হলেই তুমি সব বুঝে যাবে। ওটা ছিল দুর্গাপুরের কেস। ওটা সল্ভ করার পর থেকেই ওর মধ্যে একটা পরিবর্তন আমি লক্ষ্য করেছিলাম। ধীরে ধীরে পরিস্থতি এমন হয় যে ওর মধ্যে দুটো সত্তা জেগে ওঠে, ১. সারাদিন সবার চোখের সামনে একজন কর্তব্যরতা পুলিশ কর্মী যে মানুষের সেবা করে, মানুষকে সুরক্ষা প্রদান করে আর ২. রাত বাড়লেই সেই পুলিশ কর্মী হয়ে যায় একজন নরখাদক। হ্যাঁ তন্ময় তুমি ঠিকই শুনছো ওই সেই নরখাদক, সেই জন্তু। আমি জানতাম না গোটা ঘটনাটা , এই মাত্র কয়েকদিন আগেই সমস্ত জানতে পারি আর ভাবতে থাকি কিভাবে শ্রেয়া কে না জানিয়ে শ্রেয়ার মধ্যে থেকে সেই নরখাদক কে শেষ করবো। শ্রেয়া যে আমার নিজের বোন, ওকে আমি মরতে দিতে পারিনা।তন্ময়: কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব?গার্গী: সেটা আমিও বুঝিনি তন্ময়। কয়েকমাস আগে আমাদের গুদাম ঘরে যখন একটা লোকের আধ খাওয়া দেহ পেলাম তখন বুঝলাম আমার বোন রাতে পাহাড়া নয় বরং শিকারের খোঁজে বেরিয়ে যায়। আমি খোঁজ নিলাম, ডক্টর মাথুরের সাথে কনসাল্ট করলাম আর উনিই শ্রেয়ার অজান্তেই ওর অবচেতন মনের সব কথা বের করে এনে। শ্রেয়া একজন সৎ পুলিশ অফিসার কিন্তু ওর মনের কোনো এক গভীরে লুকিয়ে আছে ওই নরখাদক সত্ত্বা। ও এখনো ট্রিটমেন্টে রয়েছে। আর অবাক বিষয় গার্গী নিজেই জানেনা ও রাতের অন্ধকারে এইসব করে বেড়ায়। ও আমার কানের দুল পর্যন্ত খুঁজে পেয়েছে খুনের জায়গায় আর ভাবছে আমি নাকি খুন গুলো করছি।তন্ময়: কিছুই মাথায় ঢুকছেনা আমার ঠিক। এসব কি হচ্ছে কেন হচ্ছে? এসব সত্যিই হচ্ছে?গার্গী: হচ্ছে তন্ময়, হচ্ছে। ডক্টর মাথুর বলেছেন ওই দুর্গাপুরের কেস সলভ করতে গিয়ে যখন প্রায় ১৫ দিন শ্রেয়া ওদের হাতে বন্দি হয়েছিল তখন ওকে প্রতিরাতে এই মানুষের মাংস খেতে দেওয়া হতো। পেটের খিদে মেটাতে ওকে খেতেও হয়েছে সেসব আর অবশেষে যখন ওকে খুঁজতে খুঁজতে পুলিশ মূল অপরাধী পর্যন্ত পৌছালো ততদিনে বোন আমার মানুষের মাংসের স্বাদ পেয়ে গেছে।তন্ময়: গার্গী আমকে খুলে দাও। আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমায় সাহায্য করবো। আর এই কথা তুমি আর আমি ছাড়া কেও জানবে না। ট্রাস্ট মি!গার্গী: আমি তোমায় বিশ্বাস করি তন্ময়, ভালোবাসি, প্লিজ আমার আর আমার বোনের পাশে থেকো। গার্গী তন্ময়ের সমস্ত বাঁধন খুলে দেয়, কিন্তু তন্ময় নিজেই ছিল বিশ্বাসঘাতক, সে নিজের সাফল্যের জন্য সব করতে পারে, নিজে বাঁধন মুক্ত হতেই সে পাশে পরে থাকা লাঠি দিয়ে গার্গীর মাথায় সজোরে আঘাত করে। গার্গী লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।তন্ময় বলে, সরি গার্গী, আমি তোমায় ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু এই কেসটায় আমায় জিততেই হবে।তন্ময় ঘর থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে আর মূল বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গুদাম ঘরটায় যায়, ঘরে ঢুকে দেখে সামনে দাড়িয়ে শ্রেয়া। তন্ময় বলে ওঠে, শ্রেয়া সারেন্ডার করো, নাহলে এখনই আমি কিন্তু.... এক্ষুনি ফায়ার করবো।শ্রেয়া অতি ক্রুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তন্ময়ের দিকে আর ক্রমাগত গর্জন করতেই থাকে। এরপরের শ্রেয়া ছুটে আসে তন্ময়ের দিকে, তন্ময় একটা গুলি চালায় শ্রেয়ার হাতকে লক্ষ্য করে, কিন্তু সেটা লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়। শ্রেয়া দৌড়ে এসে তন্ময়ের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। শুরু হয় আবার লড়াই, তন্ময় আপ্রাণ চেষ্টা করে শ্রেয়াকে বাগে আনার কিন্তু শ্রেয়া যেন আরো বেশি শক্তিশালী এবারে। তাও তন্ময় কোনোভাবে শ্রেয়াকে দূরে ছুড়ে ফেলে আর পিস্তল তুলে নিয়ে গুলি চালাতে যায়, কিন্তু একি গুলি কোই?শ্রেয়া আবারো উঠে ওর দিকে দৌড়ে আসে, বিপদ বুঝে তন্ময় পালাতে যায় কিন্তু পা পিছলে মাটিতে পরে যায়, সাথে সাথেই শ্রেয়া ওর উপর ঝাঁপিয়ে পরে, তবে এবার আর তন্ময় কোনো প্রতিরোধের সুযোগটুকু পায়না, শ্রেয়া তন্ময়ের নুলি ছিঁড়ে ফেলে।২ মাস পর: তন্ময়ের মৃত্যুর পর গোটা ডিপার্টমেন্ট হাল ছেড়ে দেয়, শ্রেয়া নিজের ব্যার্থতার বোঝা মাথায় নিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয় আর চলে যায় মুম্বাই, সেখানে তার কোনো এক কাকা আছেন। অবশ্য তাকে জোর করেই মুম্বাই পাঠায় গার্গী, সেখানে শ্রেয়ার ট্রিটমেন্ট করায় তার কাকা। গার্গী চাইলে নিজের বোনের ট্রিটমেন্ট করতেই পারতো কিন্তু সে চায়নি পুলিশ কোনোভাবে তার বোনকে সন্দেহ করুক। প্রায় ৬ মাসের ট্রিটমেন্টের পর শ্রেয়ার ভিতরের নরখাদক সত্তা সম্পূর্ণরূপে লোপ পায় শ্রেয়ার অজান্তেই আর এইভাবেই শেষ হয় জলপাইগুঁড়ির আতঙ্ক।ক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ২৭, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (দ্বিতীয় পর্ব )

প্রতিদিনের মতোই আজও তন্ময় এসে বসেছে নিজের চেয়ারে আর দেখে চলেছে একের পর এক ফাইল, তার ভিতরে একই সাথে অস্বস্তি আর রাগের অনুভূতি হচ্ছে।অস্বস্তি এটা ভেবে যে সে কিছুতেই কোনো সন্দেহভাজন ধরতেই পারছেনা আর রাগ এটা ভেবে এই শ্রেয়ার আগে তার মাথায় এই গোটা এক সপ্তাহ রাত ৮টা -ভোর ৫টা কারফিউ জারি রাখার কথা। মেয়েটা এই রাতের অন্ধকারে ফাঁকা রাস্তায় নিজেরই লোক সাজিয়ে রেখেছে চারিদিকে। অপরাধী শিকার দেখে যদি লোভে পরে এগিয়ে আসে তো কিস্তিমাত।এমনসময় প্রায় হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে এসে অমিত বাবু বললেন, ম্যাম, কাল রাত থেকে সুবীর বাবুকে পাওয়া যাচ্ছিলোনা, আজ সকালে মনিস্ট্রির সামনে ওনার জামা কাপড় আর আধ খাওয়া শরীর পাওয়া গেছে।কথা বলতে গিয়ে অমিত বাবু যেন হাপিয়ে উঠছেন, ভয় তার চোখে মুখে স্পষ্ট। ম্যাম এটা কোনো মানুষের কাজ হতেই পারেনা, এটা কোনো না কোনো জন্তুর কাজ।শ্রেয়া: জন্তু? এই শহরের মাঝে? কি করে আসবে? আর আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা কি বলছে?অমিত: ম্যাম কোনো সিসিটিভিতে কিছু ধরা পড়েনি, শুধু দেখা যাচ্ছে সুধীর একটু এগিয়ে গেলো সামনে একটা কফি সপের দিকে, তারপর হটাৎ ওর চিৎকার, ব্যাস, তারপর আর কোনো ফুটেজ নেই ম্যাম।শ্রেয়া: কোনো সিরিয়াল কিলার? কিন্তু সে মানুষের মাংস কেন খাবে?তন্ময় এবার বলে উঠলো, খেতেই পারে, হতে পারে সে ক্যানিব্যাল, বা হতে পারে তার কোনো পোষা জন্তু আছে যে মানুষের মাংস খায় রাতের অন্ধকারে।শ্রেয়া: মানে স্যার আপনি বলছেন আমাদের শহরে নরখাদক ঘুরে বেড়াচ্ছে?তন্ময়: শুধু নড়খাদক বলিনি শ্রেয়া, কোনো মানুষের পোষা হিংস্র জন্তুও হতে পারে, তুমি বোধহয় পুরোটা শুনলেনা, এভাবে কিন্তু নিজের জায়গা বেশিদিন ধরে রাখা চাপ।শ্রেয়া আর কথা বাড়ালোনা তন্ময়ের সাথে, সে জানে তন্ময় মেনেই নিতে পারেনা তার জুনিয়র তাকে লিড করছে এই কেসে, আর তাই মুহূর্তে মুহূর্তে তাকে ক্ষত বিক্ষত করে কথার বানে।তন্ময় আর দেরি না করে বেরিয়ে পড়লো ক্যাফেটেরিয়ার উদ্দেশ্যে, আজ সে ঠিক করে নিয়েছে গার্গীকে সে প্রপোজ করবে। একমাত্র গার্গীই পারে তাকে ভালোবাসতে আর ভালো রাখতে।শ্রেয়া বেরিয়ে পড়লো নিজের তদন্তের খোঁজে, সে তন্ময়কে বেরিয়ে যেতে দেখে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো, এই লোকটা থাকলে তার তদন্তের কোনো কাজই করা সম্ভব হবেনা। শ্রেয়া সুমন্তকে বললো, জিপ বের করো, ঘটনাস্থলে যাওয়া দরকার আগে।প্রায় ২০ মিনিট পর মনিস্ট্রির সামনে এসে থামলো জিপ, শ্রেয়া নেমে এলো, বডি নিয়ে যাওয়া হয়েছে পোস্টমর্টেম করতে। শ্রেয়া চারিদিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে চলেছে, এগিয়ে যাচ্ছে সামনের সেই কফিসপের দিকে। নাহ খুনি যেন কোনো প্রমান ছেড়েই রাখেনি। এতো সুন্দরভাবে গুছিয়ে ক্রাইম কি একজনের পক্ষে সম্ভব?সুমন্ত: ম্যাম ইনি কিছু বলতে চান।শ্রেয়া নিজের খেয়াল থেকে বেরিয়ে এলো, তার সামনে দাঁড়িয়ে একজন বেশ বয়স্ক লোক এই ঠান্ডায় কেঁপে চলেছেন, শ্রেয়া, কিছু দেখেছেন?লোকটা ভয়ে কিছু বলতে পারছেন না, শুধু পকেট থেকে বের করে দিলেন একটা কানের দুল আর কাপা স্বরে বলে উঠলো, কাল রাতে ওই পুলিশ অফিসারকে......নাহ আর পারলোনা লোকটা, বোধহয় ওই ভয়ানক দৃশ্যটা মনে পরে গেলো, শ্রেয়া , সুমন্ত এনাকে নজর রেখো, আর আপনি আমার অর্ডার ছাড়া এই জায়গা ছাড়বেন না।শ্রেয়া এবার কানের দুলটা আরো ভালো করে দেখলো, চোখের মুখে একটা অন্যরকম যেন ভয়ের আভাস স্পষ্ট, তাহলে কি স্যার যেটা বললেন সেটাই ঠিক?তন্ময়ের অনেক অনুরোধে শেষমেষ নিজের কাজ শেষ করে ক্যাফেটেরিয়ায় এসেছে আজ গার্গী, কিন্তু তার মন যেন এখানে নেই। তন্ময় অবশ্য প্রতিদিনের মতোই গার্গীকে নিজের মনের কথা, ভালোবাসার কথা বলেই চলেছে, তবে একটা সময়ের পর তন্ময়ের মনে হলো সে যেন কেবলই দেয়ালের সাথে কথা বলে যাচ্ছে কারণ গার্গী তো পাত্তাই দিচ্ছেনা তার মনের অবস্থাকে।তন্ময়: গার্গী তোমাকে আজকে কিরকম আনমনা মনে হচ্ছে ! সব ঠিক আছে তো ?গার্গী: কি?তন্ময়: তুমি ঠিক আছো?গার্গী: ঠিক না থাকার কি আছে?তন্ময়: তাহলে এইরকম লাগছে কেনো তোমায় ??গার্গী: কিরকম লাগছে?তন্ময়: পুলিশের চোখকে ফাঁকি দেওয়া এত সহজ নয় ম্যাম। আপনি কিছু একটা লুকাচ্ছেন মিস ডক্টর।গার্গী: এই পুলিশগিরি বাইরে করবে আমার সাথে করতে এসো না, আর তাছাড়াও আমার অনেক কাজ আছে তন্ময়, তোমার জন্য চেম্বার ছেড়ে এসেছি।তন্ময়: আহা রেগে যাও কেন, তুমি ছাড়া আর কে আছে বলো যার কাছে একটু সময় চাইতে পারি।গার্গী: দেখো তন্ময়, তোমায় আমি অবশ্যই পছন্দ করি, তুমি তোমার বাবা মা, ভাই বোন, তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড সবার ব্যাপারে নিজেই বলেছো কিন্তু আমায় জিজ্ঞেস করেছো কোনোদিনও আমার পরিবারে কে থাকে? আমি কিভাবে বড়ো হয়েছি? আমায় কি কি সহ্য করতে হয়েছে? তন্ময় তুমি বলো তুমি আমায় ভালোবাসো অথচ তুমি তোমার ভালোবাসার কোনো খবর রাখো না উল্টে তুমি এমন ব্যবহার করো যেন মনে হয় চেম্বারের বাইরেও আমি কারোর কাউন্সেলিং করছি।তন্ময়: সরি গার্গী, আমি এর আগে কখনো প্রেম করিনি, তাই আমি অনেক ভুল করেছি, কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি তোমায় ভালোবাসি। আজ তুমি বলো তোমার পরিবারের ব্যাপারে, তোমায় বিয়ে করতে হলে তো তাদেরকে আগে চিনতে হবে, তবে না গিয়ে বলতে পারবো আমি আপনার মেয়েকে ভালোবাসি, ওকে নিজের করতে চাই।গার্গী: আমার বাবা মা কেও নেই, আজ থেকে ৫ বছর আগে একটা এক্সিডেন্টে দুজনেই....!তন্ময়: সো সরি, তাহলে তোমার পরিবার?গার্গী: আমার পরিবার একজনকে নিয়েই আমার বোন। আর আমার বোন হলো শ্রেয়া, ইন্সপেক্টর শ্রেয়া, যাকে তুমি একদমই সহ্য করতে পারোনা।তন্ময় চমকে গেলো এই কথাটা শুনে, শ্রেয়া তোমার বোন?গার্গী: আজ্ঞে হ্যাঁ, ও আমারই বোন, যতবার তোমায় বলতে গেছি তুমি কথা ঘুরিয়ে দিয়েছো। এবার বলো, শ্রেয়ার দিদির সাথে প্রেম করবে? ও ছাড়া কিন্তু আমার কেও নেই, আমি ওর কেও নেই তাই আমরা কিন্তু যেখানেই থাকবো একসাথে থাকবো। তন্ময়: আজ থেকে আছে তো, আমি আছি তোমাদের দুজনের জন্য আর তোমরা দুজন আমার জন্য।গার্গী: সত্যি বলছো তন্ময়?তন্ময়: সত্যি সত্যি সত্যি, তিন সত্যি। এবার তো একটু হাসুন ম্যাম, আপনার ওই হাসি দেখার জন্য যে আমি প্রাণও দিতে পারি। গার্গী: থাক অনেক হয়েছে, এবার যাও নিজের কাজে আর আমাকেও যেতে দাও।তন্ময়: গার্গী, তুমি আমায় যতটা খারাপ ভাবো আমি কিন্তু ততটা নয়।গার্গী: তুমি খারাপ মানুষ নয় তন্ময়, কিন্তু তোমার ছোটবেলা কেটেছে একাকিত্বে, আর তাই তুমি চাইলেও নিজের আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব বদলাতে পারোনা। আর এটা নিয়ে আবার নিজেই কষ্ট পাও। তুমি মানুষ ভালো শুধু নিজেকে চিনতে পারোনা।তন্ময়: তুমি আছো তো আমায় চেনানোর জন্য। থাকবে তো এভাবেই?গার্গী: ঠিক থাকবো। এবার বরং আসি, নাহলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।তন্ময়: আচ্ছা বেশ আর আটকাবো না।এই বলে গার্গী উঠে দাঁড়ালো এবং রেস্টুরে্নট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে এগিয়ে গেলো, এরই মাঝে হটাৎ গার্গী দাঁড়িয়ে পড়লো আর বললো, তন্ময়, সাবধানে থেকো, আমি তোমায় ভালোবাসি, পারলে নিজেকে এবং শ্রেয়াকে এই কেস থেকে দূরে নিয়ে যেও, মনে করো এটাই আমার তোমার থেকে আবদার।তন্ময়: কিন্তু, এই কেসটা শ্রেয়ার জন্য খুব জরুরী।গার্গী: কারোর প্রাণের থেকে বড়ো কিছু হতে পারেনা তন্ময়।এই বলে গার্গী বেরিয়ে গেলো। গার্গী র এইরকম আচরণ তন্ময়কে বেশ অবাক করে তুললো। যে মেয়ে সবসময হাসি খুশি থাকে, যে মেয়ে তার হাসির কারণ, যে তাকে সবসময় মোটিভেট করেছে এই তদন্তে সেই কিনা আজকে এইরকম ভাবে কেস ছেড়ে দিতে বলছে ? তন্ময় ভাবলো, কি হলো, আমাকে সরিয়ে নাহয় তাও বুঝলাম নিজের বোনকে সুযোগ করে দিতে চায় কিন্তু নিজের বোনকেও সরে যেতে বলছে ?? কেনো জানিনা মনে হচ্ছে ও কিছু বড়ো একটা লুকিয়ে ফেলছে।এমন সময় তন্ময়ের ফোন টা বেজে উঠলো, তন্ময় দেখলো স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে মৃদুলের নাম। এই মৃদুল হলো তন্ময়ের অতি বিশ্বস্ত ইনফরমার, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে এই ছেলেটা খবর বের করতে পারেনা।আজ থেকে পাঁচ বছর আগের কথা, তখন এই মৃদুল ছিল কুখ্যাত মাফিয়া আবরারের ডানহাত। বহু চেষ্টা করেও পুলিশ আবরারকে ছুঁতে পর্যন্ত পারেনি। অবশেষে কেসটা এলো তন্ময়ের হাতে। তন্ময়ও প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিলো ঠিক এমন সময়ে সামনে উপস্থিত হলো মৃদুল।দিনটা ছিল এক বর্ষার, মৃদুল পুরোই ভিজে গেছে আর হাঁপাচ্ছে। তন্ময় ওকে শান্ত করে জল দেয় খেতে। তারপর মৃদুল ধীরে ধীরে সব তথ্য দেয় আবরারের আর মৃদুলের বিশ্বাসঘাতকতাই আবরারকে ধরিয়ে দেয়।আবরার ধরা পড়ার পর অবশ্য তন্ময় জানতে চেয়েছিলো কেন সে নিজের মালিকের সাথে এইরকম করলো, উত্তরে সে বলেছিলো আবরারের স্ত্রীকে সে ভালোবাসতো আর আবরার প্রতিদিন প্রতিরাত মেয়েটার উপর অত্যাচার করে বেড়াতো তাই আর সহ্য না করতে পেরে শেষমেষ সে এই সিদ্ধান্তই নেয়। এখন অবশ্য দুজনে একসাথে সুখেই আছে। মৃদুল নিজের ব্যবসাও করছে আর সাথে তন্ময়ের খবরি সে।তন্ময় ফোনটা ধরতেই মৃদুল বলে উঠলো,স্যার একটা খবর আছে!তন্ময়: কি ?মৃদুল:আজ থেকে ২ বছর আগে রানিগঞ্জে এইরকম মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল স্যার।তন্ময়: কিন্তু সেরকম তো কোনো রিপোর্ট ফাইল হয়নি!মৃদুল: হবে কিভাবে ? কারণ যারা নিখোঁজ হয়েছিল তারা সবাই গ্যাংস্টার ছিল, একটা সময় প্রায় ৫ টা গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য লড়াই করছিল কিন্তু হটাৎ একটা গোষ্ঠী ফুলে ফেঁপে ওঠে আর আর বাকি গোষ্ঠী গুলোর লোকজন যেনো ভ্যানিশ হয়ে যায় পুরো, কেও খুঁজে পায়নি তাদের।তন্ময়: সেটাতো নিজেদের মধ্যে লড়াইতে বাকিরা মারাও যেতে পারে...মৃদুল: স্যার লোক গুলো ঠিক এইভাবেই ভ্যানিশ হতো, শুধুই রক্ত আর হাড় পাওয়া যেত মাঝে মাঝে, মাঝে মাঝে সেটাও না। পুলিশ রিপোর্ট ফাইল হয়নি কারণ ওদের পরিবারের লোকেরা ভয় পেয়েছিলো।তন্ময়: আচ্ছা যে গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত টিকে গিয়েছিল তাদের নেতার নাম কি ?মৃদুল: ওয়াসিম ! কিন্তু স্যার ওয়াসিমও বেচেঁ নেই।তন্ময়:সে কি মারা গেলো কিভাবে ?মৃদুল: ওইভাবেই, একদিন ওরও রক্ত আর হাড় পাওয়া যায়। তবে এই কেস তার ইনভেস্টিগেশন করেছিল শ্রেয়া ম্যাম !তন্ময় : কি ?মৃদুল: ইয়েস স্যার! আর শেষ পর্যন্ত রণজিৎ ধরা পড়ে ম্যামের হাতে, আর জানা যায় যে এই রণজিৎ নিজে সর্বেসর্বা হওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের সমস্ত শত্রুদের মেরে কুকুরকে খাইয়ে দিত।তন্ময়: এই রণজিৎ কোথায় এখন ?মৃদুল: যেদিন এর কেস কোর্টে ওঠে সেদিন কোর্টে যাওয়ার রাস্তায় রণজিৎ সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে আর পুলিশ এনকাউন্টার করে দেয়।তন্ময়: আচ্ছা রঞ্জিতের ডেড বডির কি হয়েছিল?মৃদুল: রঞ্জিতের কোনো ফ্যামিলি ছিলনা তাই পুলিশ ওর সৎকার করেছিল।তন্ময়: কুকুর গুলোর কি হয়েছিল?মৃদুল: পুলিশ, কুকুর গুলোকে বন বিভাগের কর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছিল।তন্ময়: সব কিছুই যে শেষ হয়ে বসে। ক্রিমিনাল বেচেঁ নাই। মরণাস্ত্র মানে কুকুর গুলোর পক্ষে সম্ভব নয় তাহলে এই নতুন কিলার আমদানি হলো কিভাবে ?মৃদুল: আপাতত এইটুকুই খবর পেয়েছি স্যার।তন্ময়: আচ্ছা একটা কাজ করো, আপাতত একজনের উপর নজর রাখতে হবে। ১-২ দিনেই কাজ হয়ে যাবে মনে হয়।মৃদুল: কে স্যার?তন্ময়: গার্গী চৌধুরীক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ২০, ২০২৫
নিবন্ধ

গল্প হলেও সত্যি কি? (প্রথম পর্ব )

নিউজ রিপোর্টার সৈকত কে কর্ম সূত্রে বহু জায়গায় ছুটে বেড়াতে হয় সারা বছর, অবশ্য তার ঘুরতেও বেশ ভালই লাগে। আর লাগবে না কেনো, যখন ঘোরার টাকা সংস্থা থেকে দেওয়া হয়। ছোটো থেকেই তার লেখালেখি আর নতুন জায়গায় ভ্রমণ এই দুই ছিল সবচেয়ে বেশি পছন্দ, তাই আজ থেকে ৪ বছর আগে যখন একটা ছোটো নিউজ চ্যানেল তাকে রিপোর্টার হিসাবে সিলেক্ট করে তখন সে মাইনের কথা না ভেবেই সেখানে কাজে ঢুকে পড়ে। আজ ৪ বছর পর ভারতের অন্যতম বৃহৎ নিউজ নেটওয়ার্ক এবিপি তে সে কর্মরত।ব্যাঙ্গালোরগামী দুরন্ত এক্সপ্রেসে সে এখন একজন যাত্রী। ব্যাঙ্গালোরে প্রধান মন্ত্রীর এক বিরাট জনসভা কভার করতে তাকে পাঠানো হচ্ছে । এসি কামড়ার সাইড আপার বার্থে সিট পেয়েছে সৈকত। আর নিচে আর একজনের আসার কথা। ট্রেন হুইসেল বাজিয়ে দিয়েছে, এবার সে তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এমন সময় প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে এক বছর ২৫-২৬ এর মহিলা ট্রেনে উঠলেন। মহিলাটি দুদিকে তাকাতে তাকাতে অবশেষে সৈকতের বার্থের সামনে এসে দাড়ালেন আর হাঁপ ছেড়ে লাগেজ গুলো বার্থের নিচে ঢুকিয়ে দিয়ে সৈকতের সামনের সিটে বসে পড়লেন।সৈকত বললো: আপনি যদি ক্লান্ত থাকেন তো আমি উপরে চলে যাচ্ছি, আপনি রেস্ট নিতে পারেন আপনার সিটে।মহিলাটি এবার সৈকতের দিকে তাকিয়ে একটু হেসে বললো, আরে না না ! তার কোনো দরকার নেই। আর এখনো প্রায় ২৯ ঘণ্টার জার্নি, এইতো সবে শুরু এখনই হাঁপিয়ে গেলে হয় নাকি !সৈকত: হ্যাঁ এটা অবশ্য ঠিক। বাই দা ওয়ে আমি সৈকত সেন, এবিপি নিউজ রিপোর্টার।মহিলা: Wow, thats great. Nice to meet you. আমি ঐশী সাহা, সাইকোলজিস্ট।সৈকত: মানে আপনার কাজ মানুষের মন পড়া তাইতো?ঐশী: একদমই, মানুষের মন এই পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল এক জিনিস, সেটা বুঝতে আলাদা পড়াশোনাই করতে হয় । অবশ্য আমি গল্পও লিখি একটু একটু।সৈকত: বেশ ভালই তো হলো তাহলে, আপনার গল্প শুনতে শুনতে রাস্তাটা পার করেই ফেলবো নাহয়।ঐশী: ভালো বললেন তো আপনি, আমিও একটা গল্প এই আজকেই লেখা শেষ করলাম, লিখতে লিখতে এতটাই বেহুস ছিলাম শেষ ৩-৪ দিন যে খেয়ালই ছিলনা আজকে ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার টিকিট কেটে রেখেছি।সৈকত: কোনো সেমিনার আছে নাকি ব্যাঙ্গালোরে ??ঐশী: না মশাই। সম্পূর্ন নিজেস্ব কারণে যাচ্ছি!সৈকত: ও বুঝলাম।ঐশী: তো কি বুঝলেন আপনি ?সৈকত: বুঝলাম আপনার পার্সোনাল কোনো কারণ আছে, যেটা হয়তো আপনি বলতে ইচ্ছুক নন।ঐশী: ওইরকম কোনো ব্যাপারই না। আসলে আমার বোন ২ বছর চিকিৎসাধীন ছিলো। ওর মানসিক কিছু সমস্যা ছিল যেগুলো বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে লেগেছিল, শেষ পর্যন্ত আমার কাকা ব্যাঙ্গালোরের ডক্টর, ওনার চেনা একজন বন্ধুর কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এখন সুস্থ হয়ে গেলেও আর এখানে ফিরে আসেনি, ওখানেই থেকে গেছে। ওর সাথেই দেখা করতে যাচ্ছি।সৈকত: বাহ, ভালো অনেকদিন পর বোনের সাথে দেখা করবেন।ঐশী: হ্যাঁ খুব খুশি আমি। জানেন আমার বোন তিথি এমনিতে খুব ভালোই মেয়ে ছিল, কিন্তু ওর বয়স যখন ৯-১০ তখন একদিনের ঘটনা, আমরা সবাই আমার মামাবাড়ী যাচ্ছিলাম, রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল কিন্তু হটাৎ আমরা খেয়াল করলাম তিথি আমাদের সাথে নেই। হন্যে হয়ে ওকে খুঁজলাম আমরা কিন্তু পেলাম না। প্রায় ৬ বছর পর ওকে খুঁজে পাওয়া গেলো কলকাতার একটা বস্তিতে। ওকে কিডন্যাপ করে ভিক্ষার কাজে লাগানো হয়েছিল, ওকে খেতে পর্যন্ত দিতনা ওরা। ওকে আমরা উদ্ধার করে নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু তারপর থেকেই যেনো ওর মধ্যে একটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে আজকে ও নিজের জীবন গুছিয়ে নিয়েছে, আর আমরাও ওর জন্য খুশি। সৈকত: সত্যি, আপনারা খুব লাকি বলতে হয়। নাহলে এইভাবে কত বাচ্চা হারিয়ে যায় কোনোদিন ফিরেও আসেনা। আপনার বোন আবার নতুন ভাবে জীবন ফিরে পেয়েছে শুনে খুব ভালো লাগলো। আচ্ছা একটা গল্প শোনা গেলে ব্যাপারটা মন্দ হতোনা, এমনিতেও সন্ধ্যে প্রায় হয়ে এসেছে।ঐশী: হ্যাঁ , তাহলে আজকেই শেষ করা ক্রাইম থ্রিলারটা শোনাই ?সৈকত: হ্যাঁ, বেস্ট হবে ।ঐশী: আপনি কিন্তু গল্প প্রকাশ হওয়ার আগেই শুনে নিচ্ছেন মশাই। সৈকত: আপনার গল্পের নিখুঁত রিভিউ দেবো ম্যাডাম, চিন্তা করবেন না, গল্প বেস্ট সেলার হবে।ঐশী: ধন্যবাদ, তাহলে শুনুনঐশী শুরু করলো তার লেখা গল্প আতঙ্ক।শীতের সন্ধ্যে ঝুপ করে নেমে পড়ে, ট্রেনে যাত্রাপথে প্রাকিতিক সৌন্দর্য যেনো আরো বেড়ে উঠেছে , এর মধ্যে ঐশীর ক্রাইম থ্রিলার যেনো একটা আলাদাই পরিবেশ গড়ে তুলতে শুরু করেছে।আতঙ্ক চারিদিকে অন্ধকার, গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, দূরে কিছুজনের আর্তনাদ। তন্ময় দেখতে পাচ্ছে পৃথ্বী তার পাশেই রয়েছে আর কিছুটা দূরে ওই চারচাকা গাড়িটা দাঁড়িয়ে। এতক্ষনে আফজাল খানের সব লোকেরা প্রায় নিহত আর আফজাল খানের গাড়িটাও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত। তন্ময় আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে পৃথ্বীকে নির্দেশ দিলো গাড়ির দরজা খুলে আহত আফজাল খানকে বের করে আনার। পৃথ্বী সেটাই করতে গেলো কিন্তু হিতে বিপরীত হলো, দরজা খোলার সাথে সাথেই পিস্তল হাতে আফজাল খান পরপর তিনটে গুলিতে পৃথ্বীকে রক্তাক্ত করে দিলো, পৃথ্বী মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, তন্ময় ঘটনার তীব্রতায় চমকে প্রায় চিৎকার করে উঠলো আর একটা গুলি তার কাঁধে লেগে বেরিয়ে গেলো, ততক্ষনে আরো দুটো গুলি তন্ময়ের পাশ থেকে অজিত আফজাল খানকে লক্ষ্য করে মেরেছে আর তাতেই শান্ত হয়েছে আফজাল খান। অন্ধকার, গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, দূরে কিছুজনের আর্তনাদ। তন্ময় দেখতে পাচ্ছে পৃথ্বী তার পাশেই রয়েছে আর কিছুটা দূরে ওই চারচাকা গাড়িটা দাঁড়িয়ে। এতক্ষনে আফজাল খানের সব লোকেরা প্রায় নিহত আর আফজাল খানের গাড়িটাও গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত। তন্ময় আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে পৃথ্বীকে নির্দেশ দিলো গাড়ির দরজা খুলে আহত আফজাল খানকে বের করে আনার। পৃথ্বী সেটাই করতে গেলো কিন্তু হিতে বিপরীত হলো, দরজা খোলার সাথে সাথেই পিস্তল হাতে আফজাল খান পরপর তিনটে গুলিতে পৃথ্বীকে রক্তাক্ত করে দিলো, পৃথ্বী মাটিতে লুটিয়ে পড়লো, তন্ময় ঘটনার তীব্রতায় চমকে প্রায় চিৎকার করে উঠলো আর একটা গুলি তার কাঁধে লেগে বেরিয়ে গেলো, ততক্ষনে আরো দুটো গুলি তন্ময়ের পাশ থেকে অজিত আফজাল খানকে লক্ষ্য করে মেরেছে আর তাতেই শান্ত হয়েছে আফজাল খান।তন্ময় আর ভাবতে পারছেনা ওর জ্ঞান লোপ পাচ্ছে।কয়েকমাস পর:গার্গী: দেখো তন্ময়, আজ তুমি শ্রেয়ার অধীনে কাজ করছো কিন্তু কাল শ্রেয়া তোমার অধীনে কাজ করবে হয়তো। এটা নিয়ে এত আপসেট হয়ো না। তুমি ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অফিসার, তোমার অভিজ্ঞতা ওই মেয়েটার কাজেও লাগতে পারে, আর কেস সলভ হতে পারে, তোমার কর্তব্য এই কেস সলভ করা, তাই নয় কি?তন্ময়: আমি আপসেট নই, হ্যাঁ তিন চার মাস আগে হলে হয়তো ভীষণ আপসেট হতাম কিন্তু আজ নই।গার্গী: thats great. আমি এইরকম ভাবেই তোমাকে দেখতে চাই।তন্ময়: জিজ্ঞেসা করলেনা তো যে কেনো আপসেট নই।গার্গী: আচ্ছা বলো কেনো আপসেট নও তুমি ?তন্ময়: শুধু তোমার জন্য।ভাগ্যিস আমার ডিপ্রেসন দেখা দিয়েছিল নাহলে তো এইরকম ডাক্তারের এর সাথে দেখাই হতনা।কালিম্পঙ শহরে বেশ কয়েক মাস ধরে মানুষ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেই মানুষের হাড় , রক্ত হয়তো পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু মানুষটি গায়েব, যেনো কোনো পশু খেয়ে সাফ করে ফেলেছে। লোকাল পুলিশ যথেষ্ট স্ট্রাগল করছে এই কেস গুলো সামলাতে। অবশেষে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টীম পাঠানো হলো জলপাইগড়িতে, যে দলের নেতৃত্বে তন্ময় সেন। তন্ময় সেন নিজের ১০ বছরের চাকরি জীবনে বহু অসম্ভব কেস সলভ করেছে। এখানে এসে সে পুরোদমে কাজ শুরু করে দল নিয়ে কিন্তু বাধ সাধল তার মানসিক অবস্থা। সদ্য একটি শুট আউটে তার চোখের সামনে মারা যায় তার পরম প্রিয় বন্ধু পৃথ্বী সিংহ। পৃথ্বীর মৃত্যু তাকে এতটাই নাজেহাল করে তোলে যে তার কাজে আর মন বসেনা, সবসময় তার এটাই মনে যে সেই দায়ী, সে চাইলেই হয়তো সেদিন নিজে যেতে পারতো ওই গাড়ির দরজা খুলতে কিন্তু......ফলাফল কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে সেখানেই এক psychiatrist এর সাথে যোগাযোগ করতে হয় এবং সেখানেই শুরু হয় তার ট্রিটমেন্ট। এদিকে ১ মাসেও কেস progress সেভাবে না হওয়াতে নেতৃত্ব থেকে তন্ময়কে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং নতুন দায়িত্ব এসে পরে শ্রেয়ার কাধে। শ্রেয়া চৌধুরী এই কালিম্পঙ জায়গারই মেয়ে, অত্যন্ত সাহসী এবং ডিপার্টমেন্ট এর ভরসা তন্ময়ের পরিবর্ত হিসাবে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য এই শ্রেয়া। ক্রমশ...... (পরের পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী। (Sayantan Goswami)

এপ্রিল ১৫, ২০২৫
নিবন্ধ

জীবন-বোধ (কবিতা)

জীবন যুদ্ধে হেরে গিয়ে যদি, নিজেকে হারিয়ে ফেল,হারিয়েছো কি তুমি? পেয়েছো বেশি, মনকে এটাই বলো, কখনও কি তুমি দেখেছো ভেবে! যা কিছু তোমার গেছে, তার থেকে তুমি পেয়েছো বেশি,এই পৃথিবীর কাছে, কি নিয়ে এসেছো?কি তোমার গেছে, এটাই যদি ভাবো! উঠবে কি করে, বাড়বে কি করে? জীবন যুদ্ধে ভাগো, সব ভুলে গিয়ে,আবার তুমি নতুন করে ভাবো, নুতন পৃথিবী ডাকছে তোমায়। এবার তুমি জাগো, ভয়টা কিসের?কিসের দুঃখ, কিসের শোক? দুই দিনের তুমি পৃথিবীর মাঝে, ভুলে যাও সব দুর্ভোগ।এসেছো যখন ধরনীর মাঝে, রেখে যাও কিছু দাগ।পৃথিবী তোমায় করবে মনে, এমন কিছু কর্ম থাক।।কবি প্রদীপ্ত সরকার

মার্চ ০২, ২০২৫
নিবন্ধ

মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া

ঝিরঝিরে হাওয়া বইছে বিশাল অশ্বত্থগাছের পাতায় পাতায় শিরশিরানি জাগিয়ে। শতাব্দী প্রাচীন গাছটার আনাচকানাচ থেকে উপচে পড়ছে কত না পাখির কলকাকলি পায়রাদের বকবকম.. ঘুঘুদের কুড়কুড়.. টিয়ার ঝাঁকের তীক্ষ্ণস্বন.. কাক-এর কর্কশ আওয়াজ .. চড়ুই-শালিকদের সমবেত কিচিরমিচির .. টুনটুনি-বুলবুলিদের সুরেলা শিস .. .. নারায়ণপুরের আকাশে ভোর জাগছে মৃদু মোলায়েম আমেজ নিয়ে।মহাষষ্ঠীর ভোর। এবার মাতৃপূজার নির্ঘণ্ট প্রতিদিনই ঊষালগ্ন ছোঁয়া। আজ সকাল সাড়ে ছয়টায় দেবীআরাধনার সূত্রপাত। পূজামণ্ডপ ধুয়ে, বেদীতে আল্পনা দিয়ে, ফুল-বেলপাতা গুছিয়ে, প্রসাদের থালা সাজিয়ে, আয়োজন চলছে তারই। আশ্বিনের এই শারদপ্রভাতে পুজোআর্চা সেরে, সন্ধ্যায় দেবীর বোধন দিয়ে শুরু হয়ে যাবে জগজ্জননীর আরাধনা।কাল সন্ধ্যায় এসেছি গ্রামের বাড়িতে। যাবতীয় পেশাগত দায়দায়িত্ব সেরে, বাড়িঘরের দেখাশোনার ভার উপযুক্ত হাতে ন্যস্ত করে, শেষ মুহূর্তের হাজারো ব্যস্ততা সরিয়ে, পিতৃপুরুষের ভিটেয় এসে পৌঁছতে সন্ধ্যা গড়িয়েছে। বর্ধমান থেকে পঁচিশ কি.মি. উজিয়ে এসে, বাসরাস্তা ছেড়ে বটগাছের ঝুরি-দোলানো গ্রামের পথে গাড়ি ঢুকে পড়েছে হেলেদুলে। ভরাশরতের টইটম্বুর পুকুরের পাশ কাটিয়ে, জোনাক-জ্বলা বাঁশঝাড়ের অন্ধকার আর্চ ফুঁড়ে, এঁকেবেঁকে আধ কি.মি. পেরিয়ে, এসে গেছি নারায়ণপুর এই সাতান্ন বছরের জীবনে পুজোর কদিন যা আমার একমাত্র ঠিকানা।এই পুজোবাড়ি, লোকমুখে যার চলতি নাম চাতোর (চত্বর-এর অপভ্রংশ ), আমাদের ছোটবেলায় ছিল এক লম্বা মাটির চারচালা। সামনে ত্রিপল-এ ছাওয়া লম্বা বাঁশের কাঠামো পুজোর কদিন ধারণ করতো উৎসাহী মানুষজনকে টলমলে কুচোকাঁচা থেকে শুরু করে ন্যুব্জ বৃদ্ধবৃদ্ধারা সকালসন্ধ্যা ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টার ঐকতান .. ধূপধুনোগুগগুল-এর ধূম্রজাল .. মন্ত্রমুখর পূজার্চনার শরিক হতেন এখানেই সমবেত হয়ে। সেই মাটির গাঁথনির জায়গা নিয়েছে শানবাঁধানো পাকা মণ্ডপ, শক্তপোক্ত টিনের ছাউনি, আর মর্মরমণ্ডিত পুজাবেদী সেও হয়ে গেল বেশ কয়েক দশক।ছোটোবেলায় পঞ্চমী-ষষ্ঠীর দিন যখন এসে পড়তাম, বাড়ির কর্মসহায়করা ব্যস্ত থাকতো খড় পেঁচিয়ে দীর্ঘ রজ্জু-রচনায়, যার ফাঁকে ফাঁকে গুঁজে দেওয়া হতো ছোটো ছোটো আমশাখা, প্রতিটি শাখায় চারপাঁচটি করে পাতা সেই মালায় সেজে উঠতো মন্ডপের চারপাশ আর প্রতিটি বাড়ির প্রবেশদ্বার। আজ সেই মঙ্গলমালিকারও রূপবদল হয়েছে ছোটো ছোটো আমশাখার জায়গা নিয়েছে একটি একটি করে আমের পাতা। তাতে আর কিছু না হোক, অপচয় কমেছে সবুজপত্রের।আমাদের শৈশবে এই মণ্ডপে ঠাকুর গড়তে আসতেন বটুদা। পরে তাঁর স্থান নেন জয়দেবদা। ওঁর সৃষ্টিতে মায়ের মুখ হতো অপেক্ষাকৃত কোমল, কিছুটা প্রাচীনপন্থী। সেই মুখশ্রীই রয়ে গেছে আজও, এই থীমময় পৃথিবীতে দুর্গাপ্রতিমার ছিরিছাঁদ আর মূর্তিশৈলী নিয়ে যতই পরীক্ষানিরীক্ষা-পরিবর্তনের ঢেউ উঠুক না কেন !জয়দেবদা আজ বৃদ্ধ, চোখে কম দেখেন ; চলনবলনে গ্রাস করেছে স্থবিরত্ব। তবু আজও রথযাত্রা থেকে শুরু করে তিনদফায় এসে, কদিন থেকে, তিনি গড়ে দিয়ে যান আমাদের মা হরগৌরীর মৃৎপ্রতিমা থেমে থেমে .. ঘোলাটে চোখে .. কতক আন্দাজে .. কতক কম্পিত আঙুলের অভ্যস্ততায় ড. সুজন সরকার : বর্ধমান।

অক্টোবর ০৯, ২০২৪
নিবন্ধ

এ’ কোন সকাল - রাতের চেয়েও অন্ধকার!

সেই এলোমেলো দিকহারানো সন্ধ্যা-বায়ের লুটোপুটি খাওয়া ঘর-বার-উঠোন-বাজারে, কাজলকালো রাত পেরিয়ে, আধফোটা কুসুমের মতো ফুটে ওঠা আগমনী আলো আজ আবার ছড়িয়ে দিল মাতৃপূজার সুসমাচার। বেজে উঠলো আলোর বেণু; আজ প্রভাতে সে সুর শুনে খুলে দিলাম হৃদয়ের রুদ্ধ দুয়ার। কিন্তু সবার অন্তরের পুঞ্জীভূত আঁধার কাটলো কি? মাতলো কি ভুবন? যে নিবিড় বেদনা আচ্ছন্ন করে রেখেছে বুকের মাটি, মনের আকাশ কালো করে জমে থাকা সেই মেঘ যেন রাতের চেয়েও অন্ধকার করে রেখেছে শরতের আকাশবীণায় গানের মালা বিলানো আজকের এই মহালয়ার সকালকে।অথচ, বর্ষণক্ষান্ত আশ্বিনের নীল আকাশে সাদা মেঘের বহরে অমলধবলপালে আজ লেগেছে মন্দমধুর হাওয়া; দুধসাদা কাশের গুচ্ছ বেঁধে, ঝরা শেফালীর মালা গেঁথে, নবীন ধানের অঞ্জলি দিয়ে ডালা সাজিয়ে শারদলক্ষ্মী এসে গেছেন শুভ্র মেঘের রথে সমাসীন হয়ে। ধৌতশ্যামল আলোঝলমল বনগিরিপর্বতে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর শ্বেতশতদলশোভিত করুণানয়নের আশীর্বাণী। শিউলীতলার পাশে পাশে.. ঝরা ফুলের রাশে রাশে.. শিশিরভেজা ঘাসে ঘাসে অরুণরাঙা চরণ ফেলে.. জলতরঙ্গে ঝিলমিল ঝিলমিল ঢেউ তুলে ছড়িয়ে পড়ছেন তিনি। আলোছায়ার আঁচলখানি লুটিয়ে পড়ছে বনে বনে; ফুলগুলি ঐ মুখে চেয়ে কী কথা গুনগুনোচ্ছে মনে মনে, কে খবর রাখে তার! তবু ঐটুকু ঐ মেঘাবরণ দু হাত দিয়ে সরিয়ে, মুখের ঢাকা হরণ করে, শারদলক্ষ্মীকে বরণ করে নিতে যেন কারো মন নেই আজ। এমন নিরানন্দ দেবীপক্ষের সূচনা খুব বেশী দেখা গেছে কি?একদিকে বানভাসি নদী-মাঠ-ঘর-গেরস্থালির অপার দুর্ভোগ, অন্যদিকে অগ্নিমূল্য হাটবাজার; আর সব ছাপিয়ে এক নির্যাতিতা প্রতিবাদিনীর সর্বপরিব্যপ্ত বেদনার্ত ছায়া এবারের মাতৃপক্ষকে যেন ঢেকে রেখেছে এক তিমিরঅবগুণ্ঠনে। উৎসবে মেতে ওঠার মেজাজটাই পাড়ি দিয়েছে দিকশূণ্যপুরের দিশায়।তবু এরই মধ্যে পথে-পার্কে-পল্লীপ্রান্তে শালবল্লা-বাঁশ-ত্রিপল-প্লাইউডের কাঠামো-রা সেজে উঠছে দ্রুত। দোকান-পসার-মল-মার্কেটে ভীড়ও খানিক খানিক জমে উঠছে। মহালয়ার রাতভোর অসংস্কৃত বাজী-র উদযাপন এবার কিছু কম (আজকাল পাড়ার যে যে বাড়িতে বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ আছেন বলে খবর, তাঁদের জানালার কাছাকাছিই সাধারণতঃ বাজী ফাটানো হয় বেশী)। ইতস্ততঃ কিছু ক্লাবের মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র-ও সাড়া দিলেন বহু যুগের ওপার থেকে আজ ভোরবেলায়, যদিও কিছু স্তিমিতস্বনে। তবে পিতৃতর্পণাভিলাষীরা ছাড়া নদীর তীরে কাশের বনে মানুষের ঢল নামলো কই!মন ভালো নেই; আমাদের অনেকেরই মন ভালো নেই। আজ অখিলবিমানে দিকে দিকে সর্বস্যার্তিহরা দেবীমায়ের জয়গান। সিংহস্থা শশীশেখরা মরকতপ্রেক্ষা জগজ্জননী দূর করুন এই দুঃসহ আঁধার। ভয়ের আবহ শেষ হোক সবার ঘরের প্রতিটি দুর্গা হেসে উঠুক সুখে-সাহসে-সাফল্যে প্রতিটি অভয়া বিচার পাক!ওগো আমার আগমনী আলো, জ্বালো প্রদীপ জ্বালো, জ্বালো গো- ড. সুজন সরকার, বর্ধমান। ।

অক্টোবর ০২, ২০২৪
নিবন্ধ

মাতৃবিয়োগ উড়ান সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের, এক মহিয়সী নারীর কাহিনী

এআই এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়ের মা গীতা চট্টোপাধ্যায়ের জীবনাবসান হয় গত ৩১ অগাস্ট। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গীতাদেবী ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে তিনি শিক্ষিকতা করেছেন। গীতা চট্টোপাধ্যায়ের আরেক পুত্র বিভাস চট্টোপাধ্যায় বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদে আসীন। গীতাদেবী শিক্ষকতা করতেন বাগবাজারের আদর্শ মহিলা বিদ্যালয়ে। মৃত্যুর সময় সংসারে রেখে গিয়েছেন পুত্রদ্বয় বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় ও বিভাস চট্টোপাধ্যায়, পুত্রবধূদ্বয় গার্গী লাহিড়ী চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা চট্টোপাধ্যায়। নাতি, নাতনি মৈত্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়, বিহান চট্টোপাধ্যায় ও রিয়ান চট্টোপাধ্যায়।১৯৪২ সালের ২৮ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত বনেদি পরিবারে জন্ম হয় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের। তখন তাঁরা থাকতেন তৎকালীন মধ্যপ্রদেশের(এখন ছত্তিসগড়) অম্বিকাপুরে। এক মাসের মধ্যেই মাতৃহারা হন ছোট্ট গীতা। জন্মদাত্রী মায়ের অনুভতির স্বাদ পাননি। সাত ভাইবোনের মধ্যে সব থেকে ছোট ছিলেন তিনি। বাবা ছিলেন প্রথিতযশা চিকিৎসক অনাথ বন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পড়াশুনা করেছেন। ট্রান্সফারেবল জব ছিল অনাথবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মধ্যপ্রদেশের অম্বিকাপুরে পরিবার নিয়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন তিনি। সেই সময় নারী শিক্ষার খুব বেশি প্রচলন ছিল না। তবে চেষ্টার কোনও ত্রুটি ছিল না গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একনিষ্ঠ অধ্যাবসায় থাকায় তাঁকে কখনও থামতে হয়নি। পড়াশুনা করেছেন অম্বিকাপুরে এডওয়ার্ড সেকেন্ডারি স্কুল, তারপর গভঃ ডিগ্রি কলেজ অম্বিকাপুর। এমএ, বিএড-ও করেছেন তিনি। অনাথ বন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি বাড়ি ছিল বর্ধমান জেলার নাড়ুগ্রামে।গীতাদেবী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ২জুন, সাল ১৯৬৬। তাঁর বিয়ে হয়েছিল মুর্শিদাবাদের গোপালপুর গ্রামে। স্বামী বিশ্বনাথ চট্টোপাধ্যায় চাকরিসূত্রে দমদমে আসেন। তিনি ছিলেন শিক্ষক। দমদমেই স্থায়ী বসবাস শুরু করেন তাঁরা। বিয়ের পর প্রথম পর্যায়ে ছেলেদের পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন গীতাদেবী। ছেলেরা একটু বড় হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে বাগবাজারের আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে চাকরি সামলেছেন, আরেক দিকে সাংসারিক লড়াই করে গিয়েছেন গীতাদেবী। ছেলেদের সুশিক্ষায় বড় করে তুলেছেন।নারী শিক্ষা প্রসারে অত্যন্ত অগ্রগন্য ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। বিশেষত নারী শিক্ষার প্রসার না ঘটলে কোনও জাতির উন্নতি হতে পারে না। ছাত্রীদের মনের মনিকোঠায় থাকতেন তাঁদের পছন্দের শিক্ষিকা। সহকারি শিক্ষিকাদের সঙ্গেও খুবই সদ্ভাব ছিল তাঁর। শিক্ষা অন্ত প্রাণ ছিলেন গীতাদেবী।এদিকে স্বামীর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে ছেলেদের পড়াশুনা থেকে খাওয়া-দাওয়া, পোষাক-পরিচ্ছদ সবেতেই নজর ছিল তাঁর। সকালে স্কুল করে এসেই সাংসারিক যুদ্ধে নেমে পড়তেন। কখনও ছেলেদের বুঝতে দেননি তাঁদের বাবার অভাব। একাধারে মা ও বাবা দুই ভূমিকাই সাফল্যের সঙ্গে পালন করেছেন গীতা দেবী। তিন ছেলের মধ্যে মেজ ছেলের কঠিন অসুখে ১৯৮১ সালে অকাল প্রয়াণ ঘটে। জীবনে দুটি বড় ধাক্কা সামলে নিয়ে বজ্রহাতে সংসার ধরে রেখেছেন। আশির কোঠাতেও সবসময় খবর নিতেন ছেলেরা কী করছে? কেমন আছে? তাঁরা কি খেয়েছে? অফিস গিয়েছে কিনা? নাতি-নাতনিদের শুদ্ধ বাতাস ছিলেন তিনি। দীর্ঘ দিন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন গীতা চট্টোপাধ্যায়।গীতা চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শুধু পারিবারিক ক্ষেত্র নয়, তাঁর অগুনতি ছাত্রী ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় গীতা চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণে বাগবাজার গঙ্গাতীরে ভাগবত সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৫ টায় দমদম রোড, হনুমান মন্দিরের কাছে পুরাঙ্গনে স্মরণসভা হবে অবসর প্রাপ্ত এই মহিয়সী শিক্ষিকার।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৪
নিবন্ধ

২৪ বনাম ৪৮, এও আরেক অফিস প্রেম (ছোট গল্প)

(বাস্তব কাহিনি অবলম্বনে গল্পকাহিনী, তবে কেউ নিজের গায়ে মেখে দায় চাপাবেন না)প্রথম যখন অফিসে আসতো তখন আলুথালু ভাবে থাকতো। তাঁর প্রতি আকর্ষণ হওয়ার কোনও কারণ কারও থাকতে পারে না। সমাজের পুরো বিবর্ণতাই যেন তাঁকে গ্রাস করেছে। দেখলেই মনে হবে জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে এই বয়সেই যেন পেরে উঠছে না। বিদ্ধস্তও চেহারা। কপালে হাত দিয়ে টেবিলে মাথায় রেখে কি ভারি ভারি বিষয় ভাবছে কে জানে। তবে নাতাশার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল ঠিক মাস দুয়েক বাদেই। বস জিজ্ঞেস করছে এসাইনমেন্ট কেমন হচ্ছে? জবাব দিতেও যেন অনীহা। জোর করে যেন জবাব চাইতে হচ্ছে। এভাবেই চলছে মেরেকেটে আরও দিন পনেরো। এবার বদলাতে শুরু করল নাতাশা রায়। আসলে বদল কিছু নয়, আগেরটা ছিল ভেক। এবার ভোল বদল। তাঁকে যে পার্মামেন্ট একটা পোস্ট পেতেই হবে।জিনসের কাটা-ছেঁড়া প্যান্ট, ব্লু টি শার্ট। দুটোই ব্রান্ডেড। মুখে পালিস, ঠোঁট লালে লাল। চোখমুখের চাহনিতে জানান দিচ্ছে নতুন কিছু ঘটছে। অফিসের লোকজনও ভাবছে কাকে দেখছে তাঁরা। কি এমন হল সাজগোজের হঠাৎ এত বড় পরিবর্তন। শুধু তাই না হাঁটাচলাতেও যেন নয়া ছন্দ। অফিসের পুরনো লোকেরাও ভেবে পাচ্ছে না ব্যাপারটা। তাহলে নাতাশা কি......। হতে পারে নতুন কিছু ঘটছে।অফিসগুলোতে তন্বী কেউ এলে আলোচনার শেষ থাকে না। এমন পরিস্থিতি এখন কর্পোরেট যে কোনও অফিসের ক্ষেত্রেই বড় কিছু নয়। তবু লোকেদের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ, উৎসাহ থাকেই। কি হচ্ছে, কি হতে যাচ্ছে এই গুঞ্জন চলতেই থাকে। এক্ষেত্রেও তাঁর অন্যাথা হওয়ার কথা নয়। নাতাশার দিকে সবারই নজর। কখন অফিসে আসছে, কোন ধরনের পোষাক পরে আসছে, কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেশি। কাজ কম, এমন পিএনপিসি করেই যেন সময় কাটছে অফিসে।সিঁড়ির পাশ দিয়ে উঠতে গিয়েই অফিস বয় রাজু ভিরমি খেয়ে পড়ছিল আর কি। এ কি দেখছে অফিসের বস রাহুল আর নাতাশা চোখে চোখ রেখে গল্পে মশগুল। রাহুল মুখোপাধ্যায় এই অফিসের সকলের বস। রাজু পাশ দিয়ে চলে গেলেও ওরা খেয়াল করেনি। দুজনে তখন আর পৃথিবীর বাকি কিছু দেখতে পাচ্ছে না, এমনই হাল। নিমিষের মধ্যেই রাজু দেখে নিয়েছে দুজনেই মুচকি হেসে কথা বলছে, চার চোখের ভাষাতেই যেন অন্য কথা। এবার রাজুর মনে হল তাহলে অফিসে কিছু একটা ঘটছে। অফিসের লনে কথা বলছিল। প্রায় ঘন্টাখানেক অন্তরের গল্প চলল দুজনের। এরইমধ্যে অফিসের আরেক কর্মী বিকাশ বাইরে বের হয়েই বেশ অবাক হল। এ কি দেখছে। মোবাইল ফোনের কোনও ছবি দেখিয়ে নাতাশা কিছু বোঝাতে চাইছে রাহুলকে। কি দেখাচ্ছে সেটা বুঝতে পারেনি বিকাশ। কিন্তু দুজনের ঘনিষ্ঠতা নজর এড়ায়নি। বরং রাহুলকে এভাবে নাতাশার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখে বিকাশ নিজেই লজ্জা পেয়ে আর সেখানে দাঁড়ানোর কথা ভাবেনি। তড়তড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গিয়েছে।আজ, বিকাশের বড় একটা এসাইনমেন্ট আছে। রাস্তায় যেতে যেতে নাতাশা ও রাহুলের দুজনের কাছাকাছি হওয়ার দৃশ্য যেন তাঁর চোখে রয়েই গিয়েছে। বিকাশ মনে মনে ভাবছে, নাতাশার সঙ্গে ঝাড়ি মেরে কোনও লাভ হল না। তার মানে রাহুলের সঙ্গে নাতাশা কি সম্পর্কে জড়াচ্ছে? কিন্তু রাহুল তো এমন ছিল না। এমন করবেই বা কেন? ওর সংসার আছে এক ছেলে, এক মেয়ে। মেয়ে ক্লাস ফোর-এ পড়ে। এতো সিরিয়াস ছেলেটা তাহলে কি সত্যি নাতাশার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে রাহুল? না শুধু গল্প করছে। কিন্তু লনে কখনও যে এর আগে টানা এক ঘন্টা কখনও গল্প করতে দেখেনি রাহুলকে। অফিসে মেয়ে নেই যে তাও নয়। বিকাশের চিন্তা ওদের প্রেম কাহিনী নিয়ে এমন নয়, নিজের কাজের লক্ষ্য যে এবারও পূরণ হওয়ার নয়। সেই নিয়েই অফিসের নীচের গুমটি থেকে একটা বড় সিগারেট ধরিয়ে এসাইনমেন্টের যাওয়ার জন্য ক্যাব ধরল।এদিকে নাতাশা রাহুলের এই এক ঘন্টার গল্প নিয়ে অফিসের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে। বস যখন নতুন কারও প্রেমে পরে তখন অন্য কর্মীদের চাপ বাড়ে বইকি। এবার তো সমস্ত রেসপন্সিবেলিটি নাতাশার জন্য ভর করবে। তাছাড়া এই ছুড়ি যদি পার্মামেন্ট হয় তাহলে তো আর রক্ষে নেই। কাজ তো করবেই না বরং অন্যদের সর্বনাশ। এই ভেবে অফিসের বাকি কর্মীদের ঘুম ছুটেছে। এক বিকাশ চাপ নিয়ে অফিসে সেদিন আর আসেনি।নাতাশার সঙ্গে রাহুলের ঘন্টা খানেকের গল্পে থেমে থাকল না। এবার রাহুলের ভালো মন্দ বুঝতে শুরু করেছে নাতাশা। রাহুলকে বিদেশি চকোলেট চুষতে দেখে অবাক অফিসের কর্মীরা। এ কি দেখছে তারা। যাকে মিষ্টি বা লজেন্স অফার করলে মুখ ঘুরিয়ে নিত। বলতো, ওসব কেউ খায়? বিদেশি নয় এক টাকার লজেন্সও রাহুলে হাতে। ডালমে কুছ তো কালা হ্যায়। না পুরা ডালই কালা হ্যায়। এবার দিন পার হতে থাকে নয়া নয়া আলোচনায়, গমগম করতে থাকে অফিস।রাহুলের অফিস রুমে টেবিলের সামনে দুটো চেয়ার। ঘরে ঢুকে ডান দিকের কোনের চেয়ারে বসে নাতাশা। হঠাৎ করে রাহুলের ঘরের দিকে তাকালে ওই ঘরে আর কেউ আছে কিনা বোঝার উপায় নেই। সেই বিশেষ অ্যাঙ্গেলই চেয়ারে বসে নাতাশা। অফিস লনের পর এবার সরাসরি অফিসে বসের চেম্বারে। এ যে কি হচ্ছে! এই ভেবেই বাকিদের বুক ধরফর করতে শুরু করেছে। হঠাৎ অফিসে হাজির জমাটো বয়। সারা অফিস এবার জমাটো ডেলিভারি বয়ের দিকে তাকিয়ে আছে অবাক নয়নে। সাধারণত এই অফিসে জমাটো ডেলিভারি বয়দের খুব একটা দেখা যায় না। কারণ কেউ কখনও বাইরের খাবার অর্ডার করেনি। অফিস বয়রা খাবার এনে দেয়। কারও বুঝতে অসুবিধা হল না। এই অর্ডার বসের। এবার দুজন জমিয়ে লাঞ্চ করবে একসঙ্গে। নয়া দৃশ্য।যথারীতি খাবারের প্যাকেট ঢুকলো বসের চেম্বারে। অফিস বয় রাজুকে আগেই নাতাশা বলে রেখেছিল খাবার আসবে। অফিস বয়ও ভাবতে শুরু করেছে এটা কি হচ্ছে। আগে তো কখনও রাহুল স্যার কোনও খাবারের অনলাইন অর্ডার করত না। কারণ, অনলাইনের এই জগতেও রাজুর আনা খাবার ছাড়া খায় না বস। রাজুকে বলতো খাবার আনতে। এবারই প্রথমবার জোমাটো বয় অফিসে ঢুকলো রাহুলের খাবার দিতে। খিদের পেটে আর অপেক্ষা নয়। রাহুল ও নাতাশা খেতে শুরু করল। এরই মধ্যে চিৎকার করে সহকর্মী মিষ্টিকে খেতে ডাকলো বস। মিষ্টি সুরেলা কন্ঠে জানিয়ে দিল তাঁর খিদে নেই। এই না খাওয়ার আসল কারণ যে নাতাশা তা বুঝতে অসুবিধা হল না অফিসের অন্যদের। নাতাশা আর বসের ঘনিষ্ঠতায় অফিসে নিজেকে গুরুত্বহীন ভাবতে শুরু করেছে মিষ্টি। বড্ড চাপ নিয়ে ফেলেছে মিষ্টি। তাহলে কি বস আর তাঁকে পছন্দ করছে না? এবার বদ বুদ্ধি ঘুরতে থাকে মিষ্টির। যখন তখন ছুটি, মাইনে বাড়ানো এসব আর কি সহজে হবে? ভাবতে থাকে মিষ্টি। বসকে ভোলানো আর সহজ হবে না। তাহলে উপায়! নাতাশা ও বসকে বিপাকে ফেলতে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে মিষ্টি।অপেক্ষায় থেকে থেকে একদনি রাহুল ও নাতাশার অজান্তে দুজনের পাশাপাশি বসা ছবি তোলে মিষ্টি। অপ্পো মোবাইলে তোলা এই ছবিই এখন তাঁর অস্ত্র। যে করে হোক ঘায়েল করতে হবে নাতাশা ও বসকে। তাঁর মাথায় ঘুরতে থাকে কিভাবে বসকে চাপে ফেলবে। অফিসের রাজনীতি এবার পৌঁছে যায় বসের গৃহস্তের হেঁশেলে। আগুন ধরাতে কি আর দেশলাই কাঠি লাগে! এই একটা ছবিই তো দাউ দাউ করে জ্বালিয়ে দেবে সংসার। নছনছ করে দেবে রাহুল-নাতাশার মধুর সম্পর্ক। এবার সেই ছবি পৌঁছে গেল রাহুলের হোম মিনিস্টারের কাছে। না তাতেও ক্ষান্ত হয়নি মিষ্টি। এবার একের পর এক টেক্ট শুরু করল রাহুলের বউ ববিতাকে। এসব দেখে মাথায় ভুত চাপলো ববিতার।যে সময়ে এই ছবি আর টেক্সট চালাচালি হচ্ছে তখন বস পুরুলিয়ায় অফিসের কাজে প্রচন্ড ব্যস্ত। রাহুলের পুরুলিয়া যাওয়াটা কাজে লাগিয়েছে মিষ্টি। কর্তা ঘরে না থাকায় দুজনে বেশ কতক্ষণ মোবাইলে কথাও বলেছে। আগুনে ঘি পড়তেই রেগে কাইকাই করতে শুরু করে ববিতা। এক মিষ্টির দেওয়া ছবি ও তাঁর মুখে শুনেই মন খারাপের দেশে চলে যায় ববিতা। শরীরে জ্বালা শুরু হয়ে যায়। তাহলে কি সত্যি নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে নাতাশা-রাহুল? ভাবতে শুরু করে ববিতা। এর আগে প্রিয়ার কেসটা সাল্টে দিয়েছিল ববিতা। মনে সন্দেহ বাড়তে থাকে। আর অপেক্ষা না করে ববিতা রাহুলকে ফোন করে জানতে চায় নাতাশা কে? তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক কি? রাহুল অফিসের কাজের ব্যস্ততায় হোম মিনিস্টারের এই প্রশ্নের কি জবাব দেবে বুঝে উঠতে পারছে না। ববিতা এত কথা জানলোই বা কি করে? এবার এই সব মাথায় ঘুরতে থাকে রাহুলের। ববিতাকে বলে কলকাতায় ফিরে সব জানাবে। এখনই বলতে হবে বলে হাউ হাউ করতে থাকে ববিতা। কোনও ভাবে ববিকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকে রাহুল। ববিতাকে ম্যানেজ করার সময় ববি বলে ডাকে রাহুল। একের অফিসের চাপ, তারওপর বউয়ের পাহাড় প্রমান অভিযোগ। হাপিয়ে উঠতে থাকে রাহুল।কিছু দিন পর কলকাতায় ফেরে রাহুল। তাঁর মাথায় আছে বউকে ঠান্ডা করতে হবে। কোনওরকমে ববিতাকে বুঝিয়েছে। এসব কিছু না। তোমাকে যাঁরা বলেছে তাঁরা না বুঝে বলছে। এটা তেমন কিছু নয়। কিন্তু সারা অফিস রাহুল-নাতাশার চর্চায় গমগম করছে। তাহলে অফিসের হাল কি হবে? রাহুলের সংসারের আগুন কি সত্যি লেগে গেল? সম্পর্ক নষ্ট করতে নানা চক্রান্ত চললেও নাতাশা ও রাহুলের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। নাতাশা লাল টপ পড়লে, রাহুল লাল টি-শার্ট পড়ছে। একজন কালো ড্রেস পড়লে, আরেকজনও তাই পড়ছে। প্রেমের গন্ধে মম করছে অফিস। এবার কাজের বদলে টেবিলে টেবিলে একটাই পিএনপিসি রাহুল ও নাতাশা।এক দিন অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছে রাহুল। বাড়িতে ফিরতেই গিন্নির মুখ ভার। এক কথা দুকথায় নাতাশাকে নিয়ে দুজনের মধ্যে খুচরো ঝগড়াও হয়ে গেল। রাহুল আর বুঝতে পারে না কি করে বিষয়টা হালকা করবে। এমন ভাব দেখায় সে যেন কিছু জানে না। ববিতাকে বলে কি যে তুমি আজকাল বলছ। নিজে মনে মনে ভাবতে থাকে অফিসের জুনিয়র স্টাফকে নিয়ে কি বলছে ববিতা। এত খবর কিভাবে পেল সে। ওর কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। এসব ভাবতে থাকে। এরপর হঠাৎ ববিতা বলে ওঠে বাড়িতে দুটি সন্তান থাকতেও নাতাশার প্রতি এতো টান কিসের। আমাকে ছাড়তে পারলেও ওদের কি করবে? অভিযোগ এবার আরও গুরুতর। রাহুল ভাবছে কি বলছে ববিতা। কি হল। কেন এসব আজে-বাজে বকছো, ববিতাকে বলে রাহুল। ববিতা একশ্বাসে বলতে থাকে আমি সব জানি। ওই নাতাশার সঙ্গে তুমি কি করছ। আমি কি জানি না ভাবছো। আমাকে ছেড়ে তুমি ওই কচি মেয়েটাকে বিয়ে করতে চাও। এসব বলতে বলতে ববিতার দুই চোখের কোনে জলও চলে আসে। রাহুল কিছুতেই বুঝতে পারে না কেন এসব বলছে ববিতা। তাছাড়া কলকাতাতেই রাহুল ছিল না ৭দিন।কয়েকবার ববিতাকে রাহুল বলে অযথা কি যে ভাবছো, বাজে চিন্তা করো না। ভাতের হাড়ির মতো মুখ করে ছিল ববিতা। কোনও জবাব না পেয়ে এবার ঝাঝানি দিয়ে ওঠে ববিতাকে। কি হয়েছে বলতে পারছো না। পাগল হয়ে গেছে নাকি। নাতাশার সঙ্গে সম্পর্ক! এসব গল্প কে বানিয়েছে। তোমাকে কে বলেছে। তুমি তো দেখছি আমার চাকরি নিয়ে টানাটানি করতে শুরু করবে। কার কথায় এসব করছো। কান দিয়ে তো ভালো দেখতে পাচ্ছো। গল্পের গরু এতক্ষণে গাছের ডগায় উঠে গিয়েছে। এবার রাহুল ববিতাকে বলে আমার আর কিছু বলার নেই। বলতে থাকো। কিন্তু তোমায় খবরটা দিল কোনও মহানুভব। আমার অফিসে খোচর লাগিয়েছো। গুড। অনেক অনেক চাপের পর মিষ্টির বলা সব কথা বলে দেয় ববিতা। মাথায় যেন বাজ পড়ে রাহুলের। সে নাকি কলকাতা ছাড়ার আগে মিষ্টির ওপর অফিসের দায়িত্ব দিয়েছিল। কাকে দিয়েছে রানির পাঠ। সেই নাকি খবরিলাল। বেইমান, গদ্দার শব্দগুলি মাথায় এলেও এতটা নীচু স্তরে ভাবে না রাহুল। শুধু এটুকু ভাবে কাদের সঙ্গে সে কাজ করছে। জুনিয়র স্টাফ তাঁকে বস হিসাবে একটু গাইড করা। যাতে অসুবিধায় না পরে সেদিকে নজর ছিল রাহুলের। আর মিষ্টি কোথাকার জল কোথায় নিয়ে গিয়েছে। ববিতা রাহুলের কথায় আস্বস্ত হল। বোঝালো এমন কিছু নয়। আর তো দিন পনেরো। তারপর তো নাতাশার চুক্তির মেয়াদ শেষ।কাজের চুক্তি শেষ হতেই নাতাশা অফিস ছাড়লো। এদিকে বসের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তোলপাড়। বিষয়টা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা যে নাতাশার ছিল না তা কিন্তু নয়। তাঁর হাবেভাবেই তা স্পষ্ট। রাহুল অফিসে আসতেই ববিতার মুখ ফ্যাকাসে বিবর্ণ হয়ে যেত। অফিসে গেলে কিছু না ঘটে। তবে নাতাশা অফিস ছাড়লেও দেখা-সাক্ষাৎ ছাড়লো না রাহুলের সঙ্গে। এবার অনেক সতর্ক রাহুল। নাতাশার প্রতি আকর্ষণ বরং আরও বেড়ে গেল রাহুলের। অফিসে না এলেও পার্কস্ট্রিটের রেস্তোরাঁ এখন বাঁধা রাহুল ও নাতাশার। অফিস থেকে সোজা পার্কস্ট্রিট। তারপর বন্ধুদের ঠেক। তারপর বাড়ি। এই রুটিনে চলতে থাকে রাহুলের গতে বাঁধা জীবন।এখন আবার রাহুলের অফিসের টিফিন আসে বাড়ি থেকে। ববিতাই টিফিন বানিয়ে দেয়। রাহুলের প্রতি ববিতার প্রেম যেন নতুন করে উথলে পরতে শুরু করে। আপাতত সংসার টিকে গেল রাহুল ববিতার। এত কিছুর পরও নাতাশা ও রাহুলের সম্পর্কেও কোনও টানাপোড়েন নেই। চব্বিশ বর্ষীয়ার সঙ্গে আটচল্লিশের প্রেমের পড়শ চলছে। একইসঙ্গে দুই ছেলে-মেয়ে আর ববিতাকে নিয়ে চুটিয়ে সংসারও চলছে রাহুলের। এখনও এভাবেই দিন কেটে চলেছে ত্রিকোন প্রেমের সম্পর্কের। তিলোত্তমা নগরীতে এভাবেই চলছে ববিতা-রাহুল-নাতাশার মতো হাজার হাজার সম্পর্ক। অন্য বিষয়ের মতো বৈধ বা অবৈধ বিতর্ক যেমন থাকবে তেমনই প্রেম তো আর বাধা মানে না.......... টিকিয়ে রাখতে শুধু যেন কৌশলের বদল ঘটে।

জুন ২৯, ২০২৪
নিবন্ধ

হারিয়ে যাওয়া 'সকাল'

নতুন সালের চরম গ্রীষ্মকালেআম লিচুর গাছ পুড়ে যায়,শাঁস থাকেনা তালে।বৃষ্টি তো দৃষ্টির বাইরেফোঁটাও পড়েনা এসে।সূর্যকে তো জিততেই হবে,সিদ্ধ করার রেসে।।গরমকালে পান্তাভাত থাকতেই হবে পাতে,ঠান্ডা বোতল পানীয়ের একটাসদাই থাকে মোর হাতে।খেলতে যেতে পাইনা বাইরেবাড়িতে কেঁদে মরি,প্রখর রোদে রাস্তায় বেরোলেমাথা ঘুড়ে মোরা পরি।।সকালটা যেন হারিয়েই গেলোভোরের পরেই দুপুর।নিশুতি দুপুরে মানুষ তো ছারএকটাও থাকেনা কুকুর।গরমের চোটে বারে বারে স্নানদিয়ে গায়ে মাথায় পিয়ার্স,কবে দেখবো টেম্পারেচারপঞ্চাশ ডিগ্রী সেলসিয়াস।।

মে ০১, ২০২৪
নিবন্ধ

ঝাপসা পলাশ

সেই কাকভোর থেকে অগোছালো শরীরটাকে টেনে হিচড়ে, ইচ্ছে -অনিচ্ছের রাস্তা মাড়িয়ে বয়ে নিয়ে যাওয়া এখন করুণ অভ্যেস।রাতের বিছানায় নেতিয়ে না পড়া পর্যন্ত শান্তি নেই, সংসার বড় বালাই। তাই চা, বিড়ি, ফর্দ, সমালোচনা, গালাগালি, হিসেবনিকেশ।অসুখটা ঠিক শরীরে নয়। চাওয়া পাওয়ার ঘাটতি গুলো মনের ভিতর জমে বাষ্প হয়ে মেঘ হয়, কিন্তু বৃষ্টি হয়না।জীবাণুদের কোলাহল বাড়তে থাকে, বিপ্লবের টের পাই সেই অদ্ভুত নীরব অনুভূতির সাম্রাজ্যে - যেটা আজও বেশ অচেনা।কল্পনার বেনো জলে ভেসে আসে উদগ্র বাসনা - ব্যার্থ চাহিদাগুলো সার দিয়ে দাঁড়ায়, সস্তা লালসার দংশনে মন জেরবার।রাত বাড়ে, পাল্লা দিয়ে চলে গাঢ় নীলচে অন্ধকারে অগাধ সাঁতার, অন্তহীন আকাশের মতো, যেখানে শব্দ নেই আছে বিস্তার।হারতে হারতেও লড়াইটা টিকিয়ে রাখার ক্ষীণ প্রয়াস, বারোমাস। কুয়াশা মাখা ভোরের পর একঘেয়ে সকাল, ঘর্মস্রাবি দিনের শেষে চোখের কোনে জমে ঝুল।সাতচল্লিশটা বসন্ত পার করার পর পলাশ, কৃষ্ণচূড়ারা আজও শুধুই লালচে ফুল।দীপক কুমার মণ্ডলবর্ধমান

এপ্রিল ১৯, ২০২৪
নিবন্ধ

আপনি কোন ট্রেনে চাপেন EMU নাকি MEMU? জানেন তাদের পার্থক্য?

কলকাতা ও হাওড়ার শহর ও শহরতলীর বাসিন্দরা EMU লোকাল ট্রেনগুলিতে চড়েননি, এরকম যাত্রী খুব কমই আছেন। অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই যাতায়াত মাধ্যম এই অঞ্চলের দ্রুত নগরায়নের সহায়ক হিসেবেও বলা যেতে পারে। EMU ট্রেনগুলি শহরতলির অংশগুলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধাকে ত্বরান্বিত করে। দ্রুতগতির ত্বরণ, চওড়া কোচ, চওড়া দরজা - জানালা, ফলে ভালোভাবে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা এবং কোচের অভ্যন্তরে হাই স্পিড ফ্যানগুলি যাত্রী স্বাচ্ছন্দের সহায়ক। এই অঞ্চলে প্রথম EMU ট্রেন চলাচল শুরু হয় হাওড়া - শেওড়াফুলি সেকশনে ১৯৫৭ সালে। EMU ট্রেনে অনেকগুলি করে ইউনিট থাকে। প্রত্যেকটি unit এ থাকে দুটি ট্রেইলার কোচ এবং একটি মোটর কোচ এবং EMU ট্রেনে কোচের সংখ্যা সচরাচর তিনের গুণিতকে হয়। বর্তমানে ৯ কোচ বা ১২ কোচ EMU ট্রেনের চলাচল পূর্ব রেলের অধিক্ষেত্রে দেখা যায়। এর প্রত্যেকটি ট্রেইলার কোচে ১১৩ জন যাত্রী বসতে পারে যেখানে মোটর কোচে বসতে পারে ৯৮ জন যাত্রী। এছাড়া EMU ট্রেনগুলিতে স্থানীয় পণ্যের সহজে বাজারজাত করার জন্য vendor কোচ ও যুক্ত থাকে যেখানে ৮৬ জন যাত্রী বসতে পারে। ২৫ KV AC ট্র্যাকশন এবং কনভার্টার এর সাহায্যে এই ট্রেনের DC মোটরগুলিকে চালানো হয়। পূর্বরেলের অধিক্ষেত্রে কলকাতা, হাওড়ার শহর এবং শহরতলীর যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখতে রোজ প্রায় ১২৭২ টি EMU লোকাল চলাচল করে। এর মধ্যে হাওড়া ডিভিশনে চলে ৩৮৬ টি লোকাল ট্রেন এবং শিয়ালদহ ডিভিশনে ৮৮৬ টি লোকাল ট্রেন। এছাড়াও প্রায় একইরকম দেখতে MEMU বা Mainline EMU ট্রেন চলাচল করে। এই MEMU ট্রেনগুলি সচরাচর শহরতলীর বাইরের অঞ্চলে স্বল্প এবং মাঝারি দূরত্বের ট্রেন হিসেবে চালানো হয়। EMU ট্রেন এর মতোই MEMU ট্রেনগুলিরও আলাদা কোনও ইঞ্জিন থাকে না। মোটর কোচগুলি এখানে ইঞ্জিনের কাজ করে। যদিও MEMU ট্রেনের দৈর্ঘ্য সাধারণত EMU ট্রেনের তুলনায় বেশি হয়। কারণ, MEMU ট্রেনগুলিতে কোচের সংখ্যা সচরাচর EMU ট্রেনগুলির তুলনায় বেশি হয়। বর্তমানে পূর্ব রেলে মোট ১৪১ টি MEMU ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে হাওড়া ডিভিশনে চলে ৪৫ টি, শিয়ালদহ ডিভিশনে ১৩ টি, আসানসোলে ৮৫ টি এবং মালদা ডিভিশনে ৬ টি। ১৯৯৫ সালে আসানসোল-আদ্রা বিভাগে MEMU পরিষেবা প্রথম শুরু হয়েছিল।এছাড়াও আছে DEMU ট্রেন। তবে এগুলি চলে ডিজেল মোটরে। পূর্ব রেলে এখন মোট ৫০ টি DEMU সার্ভিস চলাচল করে। এরমধ্যে ১১ টি হাওড়া ডিভিশন, ৩৯ টি মালদা ডিভিশনে চলে। এই EMU /MEMU /DEMU ট্রেনগুলি পূর্বরেলের অধিক্ষেত্রে স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বে কম খরচে যাতায়াতের জন্য সকল শ্রেণীর মানুষের কাছে সমাদৃত। সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকায় লোকাল ট্রেনে চড়ে যতটা দূরত্বে যাওয়া যেতে পারে, তা অকল্পনীয়। এর পরিবর্তে যে কোনও স্থল পরিবহনের মাধ্যমে সমদূরুত্বে যাতায়াত করতে ২০ টাকা দিতে হতে পারে। বাংলার আর্থ সামাজিক উন্নতিতে পূর্ব রেল এই সাবার্বান ট্রেনগুলির পরিচালনায় অত্যন্ত তৎপর এবং গণপরিবহনের মাধ্যমের উপর সঠিক গুরুত্ব আরোপ করে যথাযতভাবে চালাতে সর্বদা সচেষ্ট।

এপ্রিল ১১, ২০২৪
নিবন্ধ

'পাখি' র, সাধ অনেক। সাধ্য অল্প। তবুও আয়োজন ছিল। যা 'না বললেই নয়"

না, পাখি-তে ফাঁকি নেই। ঠাস বুনন। সমকালীন জীবনকে তুলে ধরাই নাটকের ধর্ম। সময় তাই নাটকের প্রাণ ভোমরা। তাই মনোজ মিত্রের পাখিকে জানতে গেলে ফিরে যেতে হবে আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগে। নকশাল আন্দোলন এর অন্তিম পর্বে। কলকাতায় নুতন সরকার। গড়ের মাঠে পেলেকে রুখে দিচ্ছে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সবুজ মেরুন বাহিনী। অন্যদিকে একে একে বন্ধ হচ্ছে শিল্প কারখানা। হারিয়ে যাচ্ছে তরুণের স্বপ্ন। উচ্চবিত্ত হচ্ছে মধ্যবিত্ত। মধ্য নিম্ন। সমাধি হচ্ছে স্বপ্নের।মনোজ মিত্রের পাখি নাটকে নীতিশ স্বপ্ন সমাধি। একদল অর্থপুষ্ট বন্ধুর সেলসম্যান সাথি। ফেরি করে। অন্যের বাড়িতে পৌঁছে দেয় হেরিকেন। তাদের বাড়িতে আলো জ্বলে। কিন্তু নিজের বাড়িতেই ঘোর অন্ধকার। স্বপ্ন বড় নয়। তবুও সমাজের চোখে তা দুঃস্বপ্ন। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকায় বড়লোক বন্ধুদের খাওয়ানোর দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। দশম বিবাহ বার্ষিকীতে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টা। অন্যদিকে কষ্টিপাথরে যাচাই করা যোগ্য সহধর্মিনী বিলাসিতাই ভাবে নীতু র স্বপ্নকে। নুন আনতে পান্তা পুরানো সংসারের ঘানি টানতে টানতে স্বপ্নই শেষ হয়ে গেছে তার জীবনে। কঠিন বাস্তবতার মোড়কে তার জীবন দর্শন। অর্থহীনরা প্রসব করে অর্থহীন স্বপ্ন। আবিষ্কার করতে হয় আত্মসম্মানকে বাঁচিয়ে রাখার নবনব কৌশল। তবুও স্বামীর পাশে। ভালোবেসে।নীতুর সাধ অনেক। সাধ্য অল্প। তবুও আয়োজন ছিল। ছিল হৃদয়বান মাসতুতো ভাইয়ের সাহচর্য, উষ্ণ উপস্থিতি। কিন্তু বাধ সাধলো একটা চিঠি। বড়লোক বন্ধুদের করুণা মাখা একটি ছোট্ট চিঠি। নিমন্ত্রণের ইচ্ছে প্রকাশই যথেষ্ট। আয়োজন বিলাসিতা। বেমানান। ব্যর্থ উপার্জনের সঙ্গে সঙ্গতে। গরিবির নির্মমতায় নিষ্পেষিত নীতু।স্বপ্নের সমাধিতে দিশেহারা নীতুর একমাত্র অবলম্বন শ্যামা। ভালোবাসাই সমাধান। নিজেদের পর্ণ কুঠিরে দুজনে খুঁজে পায় দুজনকে। মেতে উঠে ভালোবাসার আলিঙ্গনে। সোহাগে সান্ত্বনায় উপভোগ করে পূর্ণতা প্রাপ্তির আনন্দ।গত ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বর্ধমান অনীকের সৌজন্যে সংস্কৃতি লোক মঞ্চে ফিরে এলো ১৯৭৭ সাল। শিল্প হারা রাজ্যের ঝরাজীর্ণ অর্থনীতির শিকার নীতু র চরিত্রে শিক্ষক ডক্টর দিলীপ বিশ্বাসের অসাধারণ উপস্থাপনায়। কখনো স্বপ্ন, কখনো সমাধি। কখনো আবেগময়, কখনো আবেগহীন। পরিশেষে বাস্তবতায় আত্মসমর্পণ। শ্যামার চরিত্রে সহধর্মিনী রুনু মুখোপাধ্যায়ের যোগ্য সঙ্গত। নিয়ন্ত্রিত আবেগ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে কঠিন বাস্তবের সম্মুখীন হওয়া একটি জীবনকে। যোগ্য কপতি। উকিলের চরিত্রে বাবলুদা এবং নিতুর ভাইয়ের চরিত্রে অনিমেষদার সাবলীল অভিনয়। টানটান নাটকে দর্শক মন্ডলী ক্ষণিকেই ফিরে গিয়েছিল ১৯৭৭ সালের কলকাতায়। শুনছিল সময়ের পদধ্বনি। আলোক-আবহ নিখুঁত এবং নিটোল! নেশা ছাপিয়ে যায় পেশা কে। তাই হয়তো অভিনয়ের গুণে বিভিন্ন পেশায় থাকা কুশীলবদের প্রত্যেকটি চরিত্র হয়ে উঠেছিল প্রাণশক্তিতে ভরপুর, জীবন্ত। সঠিকভাবেই আয়না ধরা হয়েছিল জীবনের প্রতি।অনন্তদেব গুহ, (শিক্ষক ও নাট্যপ্রেমী)

মার্চ ০৩, ২০২৪
নিবন্ধ

ভাষা। আমার ভাষা। আপনার ভাষা। আমাদের সবার ভাষা।

স্বাধীনতার পর ভারত কি ভাবে চলবে তা ঠিক করার জন্য একটি সংবিধানের পরিকল্পনা করা হয়। যে আইনসভা এই সংবিধানটি তৈরি করবে বলে ঠিক হয় তাকে আমরা সবাই সংবিধান সভা বলে জানি। ভারতের শাসনকার্যে কোন ভাষার ব্যবহার হবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিবিধতায় ভরা এই দেশ আমাদের। এই বিবিধাতার মধ্যে একতা আমাদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। তবে মুশকিল হলো সব কটি ভাষাকেই সরকারি কাজে লাগানোর অনেক অসুবিধা আছে। ধরা গেল কেন্দ্রীয় স্তরে কোন একটি আইন তৈরি হলো। সেই আইনটির শত শত ভাষায় নোটিফিকেশন করা একটি দুঃসাধ্য ব্যাপার। এবং আজ থেকে ৭০-৭৫ বছর আগে সেটা আরো কষ্টকর ছিল। ঠিক হয় যে ভাষাটি ভারতের সবথেকে বেশি সংখ্যক লোকেজন ব্যবহার করে থাকেন সেই হিন্দি কে কেন্দ্রীয় স্তরে রাজ ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এর আগে অনেক গুণীজন হিন্দি ভাষার জন্য সওয়াল করে গেছেন। দুজন অহিন্দি ভাষী মানুষের কথা বলতেই হয়। তারা হলেন মহাত্মা গান্ধী ( মাতৃভাষা গুজরাতি) ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ( মাতৃভাষা বাংলা)। মাথায় রাখবেন কথাটি হল রাজভাষা, রাষ্ট্রভাষা নয়। এবং অবশ্যই ইংরেজির ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। রাজ্যগুলি নিজ নিজ স্তরে ভারতের অন্যান্য ভাষাগুলিকে ব্যবহার করতে পারবেন।আরেকটু বৃহত্তর স্তরে বেশি সংখ্যক ভাষাকে ব্যবহার করার জন্য সংবিধানের অষ্টম তপশীল তৈরি হয়। এই তপশীলে অন্তর্ভুক্ত ভাষাগুলিতে ভারতবর্ষের সরকারি পরীক্ষাগুলি দেওয়া যায়। ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্তির ফলে এখন অষ্টম তপশীলে ভাষার সংখ্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাইশ। উদাহরণস্বরূপ সান্তালি ( সাঁওতালি ) ভাষা অষ্টম তপশীল অন্তর্ভুক্ত একটি ভাষা। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কোন পরীক্ষার্থী মনে করলে বেশ কিছু পেপারের পরীক্ষা সাঁওতালি মাধ্যমে দিতে পারবেন। এমনকি তিনি মনে করলে তার ইন্টারভিউ তিনি সাঁওতালি ভাষায় দিতে পারবেন। সব ভাষাকে সম্মান জানিয়ে আমাদের দেশ এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও আরো এগিয়ে যাবে।ভারতের সঙ্গে স্বাধীন হওয়া এবং ভারত থেকে আলাদা হওয়া দেশটি হলো পাকিস্তান। আজকের বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং পূর্ব দিকে অবস্থিতির কারণে পূর্ব পাকিস্তান বলে জানা যেত। পশ্চিম পাকিস্তানের সব থেকে বেশি সংখ্যক লোকেজন উর্দু ভাষা ব্যবহার করে থাকেন। পূর্ব পাকিস্তানে মূলত বাংলা ভাষা বলা হতো। সংখ্যার দিক দিয়ে তৎকালীন পাকিস্তানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সরকার সমগ্র দেশে উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। বাংলা ভাষাভাষীর উপর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী মানুষজন মেনে নিতে পারলেন না। বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, স্বাধীনতা আন্দোলন। পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব পাকিস্তান একটি নতুন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেল। বাংলাদেশ। বলাবাহুল্য বাংলাদেশের স্বাধীকারের সংগ্রামে তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছে যে দেশ সেটি হল আমাদের দেশ ভারত।ভাষার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক স্তরে সেই স্মৃতিকে মনে রেখে আজকের দিন একুশে ফেব্রুয়ারি কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারিআমি কি ভুলিতে পারিআবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।হিন্দি ভাষী কোন মানুষ শুধুমাত্র একটি ভাষা হিন্দি নিয়ে ভারতবর্ষের বেশিরভাগ কাজ করতে পারবেন। যদি তিনি ইংরেজি ভাষাটা শিখে নেন তবে তার কাছে এটা একটি বাড়তি পাওনা।বাংলাভাষী কোন মানুষ শুধুমাত্র বাংলা ভাষা ব্যবহার করে রাজ্যস্তরের বেশিরভাগ কাজ করতে পারবেন। তবে রাজ্যের বাইরের কাজ সমাধা করতে গিয়ে অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হবেন। এই একই কথা অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাগুলোর জন্যও প্রযোজ্য। বলিউডের প্রভাবে ও অন্যান্য বিভিন্ন কারণে অহিন্দি ভাষা মানুষেরা অনেকেই আজ হিন্দি ভাষার সঙ্গে পরিচিতি লাভ করেছেন। আঞ্চলিক ভাষাভাষী মানুষজন যদি ইংরেজিটা শিখে নিতে পারেন তবে তারা তিন তিনটি ভাষার ব্যবহার করতে পারছেন। নিজস্ব মাতৃভাষা, হিন্দি ও ইংরেজি।ভারতবর্ষে অবস্থিত বেশিরভাগ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন মাতৃভাষার ব্যবহার শুধুমাত্র নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে করতে পারেন। একটি দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া সরকারিস্তরে এ ভাষা গুলির ব্যবহার সাধারণত হয় না। তাই এই সম্প্রদায়ের মানুষজনদের অবধারিতভাবে সেই রাজ্যের আঞ্চলিক ভাষাটি শিখতে হয়। সর্বভারতীয় স্তরে কাজের জন্য তারা হিন্দি শিখে থাকেন। ও উচ্চতর সফলতার জন্য ইংরেজি ভাষাটি শেখাটা একরকম বাধ্যতামূলক ব্যাপার। তাই ভারতবর্ষের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ জন একাধারে ন্যূনতম চারটি ভাষা শেখেন। নিজস্ব মাতৃভাষা, আঞ্চলিক ভাষা, হিন্দি ও ইংরেজি। কিছু কিছু আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন এর বাইরে অন্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের মাতৃভাষা ব্যবহার করে থাকেন। দেখা যায় ভাষা ব্যবহারে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে।একটি শিশু তার মা-বাবাকে অনুসরণ করে প্রথম শব্দগুলি বলতে শেখে, বুঝতে শেখে। একটু একটু করে সে ছোট ছোট বাক্য বলতে শেখে। বাড়িতে ব্যবহৃত ভাষাটি হয়ে ওঠে তার মাতৃভাষা। শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে সেই ভাষাটি ব্যবহৃত হলে শিশুর পক্ষে শিক্ষা গ্রহণ করা খুব সহজ হয়। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি তার মাতৃভাষার পরিবর্তে অন্য কোন অপরিচিত ভাষায় তার শিক্ষা দীক্ষা আরম্ভ হয় তবে সেটি শিশুটির পক্ষে বড্ড কষ্টকর হয়ে যায়। যদি শিশুটি তার কথা বড়দের বলতে পারতো তবে সে বলতো তাকে যেন নিজের মাতৃভাষাতেই প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। ভারতের সংবিধান শিশুদের এই কথা ভেবেই অনুচ্ছেদ ৩৫০ এর ক তে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কথা বলেছে। ভারতের বেশিরভাগ ভাষায় এই সুবিধা নেই এবং যে গুটিকয়েক ভাষায় এই সুবিধা আছে সেখানে আমরা অভিভাবকগণ অনেকেই মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাদান থেকে অনেক সময় সন্তানদের বঞ্চিত করে রাখি।আপনি যতো বেশি ভাষা শিখবেন ততো বেশি সমৃদ্ধ হবেন। এ কথা আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। আমার মাতৃভাষা বাংলা। হিন্দি, ইংরেজি ও ওড়িয়া ভাষা শেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এখন একটু একটু করে সাঁওতালি শিখছি। বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করার অনেক উপকারিতা পাই আমি ও আনন্দ অনুভব করি।ভারত বিবিধতায় ভরা দেশ। এই দেশে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা সহাবস্থান করে। আমরা সমস্ত ভাষাকে সম্মান করবো। তবে খেয়াল রাখবো মানুষের উপর যেন কোন ভাষা চাপিয়ে দেওয়া না হয়। এবং আমরাও জ্ঞানত ও অজ্ঞানত যেন তা না করি। আমার ইচ্ছা হবে আমি আমার মাতৃভাষা ব্যবহার করবো। আমার ইচ্ছা হবে আমি অন্য ভাষা ব্যবহার করবো। আমার ইচ্ছা হবে আমি সামনের জনের মাতৃভাষা ব্যবহার করবো। আমাদের ইচ্ছা হবে আমরা নিজ নিজ বা পরস্পরের মাতৃভাষা ব্যবহার করবো। আমাদের ইচ্ছা হবে আমরা অন্য একটি ভাষা ব্যবহার করবো। ভাষা ব্যবহারে আমাদের এই স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করবো। এভাবেই সমস্ত ভাষাকে সম্মান জানিয়ে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করবো।কৃষ্ণেন্দু কুমার মন্ডল নবোদয়।

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৪
নিবন্ধ

রাজ্য স্তরে সন্মানিত বর্ধমানের নাট্যদলের নাটক 'ভৌতিক'

নাটকে অবদানের জন্য বিভিন্ন বিভাগে নাট্য একাডেমির তরফে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের শিরোপা পেলো পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের ময়না অন্যভবনা নাট্য ও সংস্কৃত চর্চার প্রযোজনা ভৌতিক। পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমী পুরস্কার ২০২৪- সম্মানে ভূষিত হলো ময়না অন্যভাবনার শত-রজনী মঞ্চায়ন অতিক্রান্ত এই নাটক। ভৌতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু এবং নাটকটির নির্দেশনা দেন প্রখ্যাত নাট্যকার স্বরাজ ঘোষ। ভৌতিক নাটকটি-কে ১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার কলকাতার শিশির মঞ্চে সম্মানিত করা হলো। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী তথা বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু, পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমীর সভাপতি, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, নাট্য একাডেমীর সদস্যা অর্পিতা ঘোষ, সদস্য সচিব দেবকুমার হাজরা, পশ্চিমবঙ্গের সেচ ও জলসম্পদ মন্ত্রী তথা নাট্য ব্যক্তিত্ব পার্থ ভৌমিক প্রমুখ। রাজধানী শহর দিল্লি সহ পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলায় একাধিক বার এই নাটক মঞ্চস্থ ও সমাদৃত হয়েছে। বেশ কিছু প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চেও পুরস্কৃত হয়েছে ভৌতিক নাটকটি।রেলপথে বর্ধমান-হাওড়া কর্ড লাইনের নবগ্রাম স্টেশনের পাশে এক ছোট্ট গ্রামের নাট্য দল ময়না অন্য ভাবনা কয়েকদিন আগেই মহাসমারোহে শততম দিনের নাটক উপস্থাপনা করলো বর্ধমান শহরের সংস্কৃতির প্রানকেন্দ্র সংস্কৃতি লোকমঞ্চে। সেদিন তাঁদের প্রযোজনা সত্যিই মুগ্ধ করে দেয় উপস্থিত দর্শকদের। এক গা ছমছম মঞ্চ সজ্জা দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জেগেছিল হয়ত বা কোনও গায়ে কাঁটা দেওয়া ভুতের কাহিনী নিয়ে আবর্তিত হবে এদিনের নাটক।ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু, নির্দেশনা স্বরাজ ঘোষের। এই নাটকের উৎস জানতে চাইলে, ভৌতিক নাটকের মূল চরিত্র ভুতের ভূমিকার অভিনেতা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা দূরদর্শনে একটি নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে তাঁরা প্রথম স্থান লাভ করেন। গ্রাম থেকে আসা একদল তরুণ ছেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সেই প্রতিযোগিতার বিচারক সৌমিত্র বসু তাঁদের তাঁর লেখা ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য দেন।তাঁদের দলের প্রান ভোমরা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ২০১৭ সালে ময়না অন্য ভাবনা সৃষ্টি হয়। অনেকের আমাদের কাছে দাবী ছিল করলে ভালো কিছু কর, নাহলে বন্ধ করে দাও। সেই ভালো করে করার জেদ থেকেই অন্য ভাবনার যাত্রা শুরু। তিনি জানান ভৌতিক ছাড়াও তাঁদের এই মুহুর্তে তিনটি নাটক চলছে, যথাক্রমে প্রতিঘাত, আযান্ত্রিক, ও কর্মফল। তিনি জানান তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের সবকটি জেলা সহ রাজধানী শহর দিল্লীতেও ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন। তিনি আরও জানান, নাটককে ভালোবেসে আমরা নাটক করি। নাটক থেকে কোনও আয় আমরা করিনা। আমদের প্রত্যকেই কিছু না কিছু কাজ করি, সেখান থেকে সময় বার করেই আমাদের নাট্য চর্চা।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৪
নিবন্ধ

ভাবনায় অন্য মাত্রা যোগ করে ১০০ রজনী অতিক্রান্ত করল 'অন্য ভাবনা'-র 'ভৌতিক'

২০২৪-এ বছরের প্রথম দিনটা শুরু হলো একেবারে ভৌতিক ভাবে। জোড়া নাটকের মুর্ছনায় মেতে উঠলো শহর বর্ধমান। ১লা জানুয়ারি ইংরাজি নববর্ষের প্রথম দিনে যখন একদল মানুষ হুল্লোর করে পিকিনিক-এ ব্যস্ত ঠিক সেই দিন ভরসন্ধ্যায় শহরের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেট চত্তরে সংস্কৃতি লোকমঞ্চে অয়োজিত হল এই জোড়া নাটক। নাট্য পিপাসু বর্ধমান-বাসীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি লোকমঞ্চ আক্ষরিক অর্থেই হাউসফুল ছিল।প্রথম নাটকটি ছিল তিমিরবরণ রায় রচিত এবং প্রিয়তোষ রায় নির্দেশিত মনসামঙ্গল কাব্যের আশ্রয় করে জীয়ন কন্যা। যাত্রা দলের নায়েব বা চাঁদসদাগর ও লখিন্দর চরিত্রের অভিনেতা দর্শক মনে দাগ কেটে যায়। হারমোনিয়াম ও বাংলা ঢোলের আবহে মঞ্চে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা যাত্রা-র আমেজ বেশ পাওয়া গেল। এই নাটকের এক অন্যতম আকর্ষন এর গান। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোক নাটকের সম্পদ মনসামঙ্গল। এদের আছে আলাদা পরিবেশন রীতি, আলাদা আঙ্গিক। যাতে গ্রামীণ মানুষের আশা-আকাঙ্খা আর জীবনের ভাবচিন্তা পরিস্কার বোঝা যায়। ১লা জানুয়ারি ছিল তাঁদের ষষ্ট প্রযোজনা। তাঁদের মঞ্চাভিনয় দেখে কোন সময়েই মনে হয়নি তাঁরা মাত্র ছয়দিন এই নাটকটি মঞ্চস্থ করছেন।তাঁদের জীয়ন কন্যা নাটকটি যে বার্তা বহন করে তা আজকের দিনে খুব-ই প্রাসঙ্গিক। দেশ জুড়ে যখন ধর্ম নিয়ে রাজনিতীর হিড়িক, যখন মানুষকে তাঁর শিক্ষা দিয়ে বিচার না করে, ধর্মের শতাংশের নিরিখে বিবেচনা করা হয়, ঠিক সেই সময়ে এই ধরনের বার্তাবহনকারি নাটকের প্রাসঙ্গিকতা উপলব্ধি করার মত। এক নামকরা চিত্র সমলোচক একবার বলেছিলেন, যে স্লোগান দেওয়ালে লিখে বোঝানো যায় না তাঁর জন্য সিনেমা/নাটক করতে হয়। ঠিক সে রকমই এক বার্তা যুদ্ধ নয় শান্তি চায় বক্তব্য কে ফোটাতে সত্যজিৎ রায় সৃষ্টি করেন হীরক রাজার দেশ। এই নাটকের মাধ্যমে যাঁরা ধর্মের জিগিড় তুলে বিভেদের রাজনীতি করছেন তাঁদের মুখে বেহুলার চরিত্রে মুসলিম মহিলার অভিনয় যেন সজোরে থাপ্পড়।নাট্য সন্ধ্যার দ্বিতীয় উপস্থাপনা ছিল ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক। বর্ধমান-হাওড়া কর্ড লাইনের নবগ্রাম স্টেশনের পাশে শহরতলীর এক ছোট্ট গ্রামের নাট্য দলের শততম দিনের প্রযোজনা দাগ কেটে গেল এদিনের উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে। এক গা ছমছম মঞ্চ সজ্জা দেখে প্রথমেই অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছিল হয়ত বা কোনও গায়ে কাঁটা দেওয়া ভুতের কাহিনী নিয়ে আবর্তিত হবে এদিনের নাটক।উপস্থিত দর্শককুলকে ভুল প্রমান করে একাধিক ভ্রান্তিময় বদ্ধমূল ভুল ধারনার গোড়ায় আঘাত করলো তাঁদের এই প্রযোজনা। এক গহন জঙ্গলে মাঝ রাত্রিতে আত্মহননে উদ্যত যুগলকে একটি ভুত যে অবচেতন মনের হদিস দিলেন তা সত্যিই সমাজের সামগ্রিক চেতনা ফেরাবার জন্য যথেষ্ট। নাটকের বেশ কয়েকটি সামজিক বার্তার মধ্যে অন্যতম কোনও কিছু হেলায় পেলে তাঁর মুল্য থাকেনা। নাটকের মাধ্যমে যা মূল বার্তাটি তারা দিতে চেয়েছেন, বাঁচতে গেলে লড়তে হবে, মৃত্যুর অনেক রাস্তা আছে, আত্মহননের অর্থ হেরে যাওয়া।ময়না অন্য ভাবনার ভোতিক নাটকটি রচনা করেন সৌমিত্র বসু, নির্দেশনা স্বরাজ ঘোষের। এই নাটকের মূল চরিত্র ভুতের ভূমিকার অভিনেতা সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, তাঁরা দূরদর্শনে একটি নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, সেখানে তাঁরা প্রথম স্থান লাভ করেন। গ্রাম থেকে আসা একদল তরুণ ছেলের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে সেই প্রতিযোগিতার বিচারক সৌমিত্র বসু তাঁদের তাঁর লেখা ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করার জন্য দেন। বছরের প্রথম দিনে তাঁরা তাঁদের শততম রজনী বর্ধমান শহরে মঞ্চস্থ করলেন। সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ২০১৭ সালে ময়না অন্য ভাবনা সৃষ্টি হয়। অনেকের আমাদের কাছে দাবী ছিল করলে ভালো কিছু কর, নাহলে বন্ধ করে দাও। সেই ভালো করে করার জেদ থেকেই অন্য ভাবনার যাত্রা শুরু। তিনি জানান তাঁদের এই মুহুর্তে চারটি নাটক চলছে, যথাক্রমে প্রতিঘাত, আযান্ত্রিক, কর্মফল ও ভৌতিক। তিনি জানান তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের সবকটি জেলা সহ রাজধানী শহর দিল্লীতেও ভৌতিক নাটকটি মঞ্চস্থ করেছেন। সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, তাঁদের নাটকটি এতটাই জনপ্রিয় এই মহুর্তে তা জানাতে তিনি বলেন জানুয়ারী মাসেই তাঁদের এখনও অবধি ১৫টি শো আছে। তিনি জানান, নাটককে ভালোবেসে আমরা নাটক করি। নাটক থেকে কোনও আয় আমরা করিনা। আমদের প্রত্যকেই কিছু না কিছু কাজ করি, সেখান থেকে সময় বার করেই আমাদের নাট্য চর্চা।প্রথম থেকে শেষ অবধি যে টানটান অভিনয় দেখা গেল তাতে এটুকু বোঝা গেল কেন তাঁরা এত দ্রুত শততম রজনী পার করলেন। আশা করাই যায় অতি দ্রুত তাঁরা সহস্র রজনীও অতিক্রম করবেন। নাটকের মূল চরিত্রাভিনেতা ভুত রূপী সুকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-র অভিনয়ে দর্শককূল মুগ্ধ হয়ে যায়। সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন ভুত কে আমরা ভালোবাসি বলেই ভুতের গল্প পড়ি, আর সেই ভুতের গল্প বই বেস্ট সেলার হয়। আজকের নাটক দেখতে বসে দর্শকদের অভিব্যাক্তি দেখে মনে হচ্ছিল তাঁরা তাঁদের অজান্তে কখন যেন ভূতকে ভালোবেসে আপন করে ফেলেছেন।

জানুয়ারি ০২, ২০২৪
নিবন্ধ

বিশ্বকাপের আসরে কেন সাফল্যের শীর্ষে বিরাট, শামি'রা? উত্তর খুঁজলেন মনস্তত্ত্ববিদ ইন্দ্রানী সারাঙ্গী

সেমিফাইনালে ভারতের বিরাট জয়। বিরাট কোহলির বি-রা- ট কীর্তি অর্জনে আজ আমরা আপ্লুত, গর্বিত। উপরন্তু তাঁর বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর উত্তরসূরী শচিন তেণ্ডুলকরের উদ্দেশ্যে নমন এবং স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার প্রতি ছুঁড়ে দেওয়া চুম্বন তাঁকে একজন আদর্শ পুরুষ হিসাবে আমাদের সামনে তুলে ধরল। তাঁর বহুজনপ্রিয় তারকা স্ত্রী, নিজের অবগুণ্ঠন-মুক্ত আবেগ সাবলীল ভাবে প্রকাশ করে অশ্রুসিক্ত চোখে স্বামীকে অভিনন্দন জানালেন, বারংবার ফিরিয়ে দিলেন স্বামীর পাঠানো চুম্বন।আজ ওই মাঠে আর এক স্বামী, মোহম্মদ শামি তাঁর প্রতিভার দাপটে ভারত এবং ভারতবাসীকে গৌরবান্বিত করলেন, কিন্তু তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁর স্ত্রী আজ স্টেডিয়াম-এ নেই, তিনি আজ আদালতে, কিন্ত কেন?এই প্রসঙ্গে শিখর ধাওয়ান এর কথাও মনে আসে। ফুরফুরে মেজাজের ক্রিকেটার, বিরোধী টিমের ঘুম কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। শামির মত আজ তিনিও আদালতের দ্বারস্থ, নিজের নিজের সন্তানের সান্নিধ্যটুকু পাওয়ার জন্য।মনোবিদের দৃষ্টিকোন থেকে বোঝার চেষ্টা করি, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জুটির সম্পর্ক। কিন্তু সবটা না জেনে বোঝার চেষ্টা তো ধৃষ্টতা। তবু বারংবার মাঠে শামির প্রদর্শন বোঝায় তিনি ঠিক কতটা আবেগ ঢেলে দিচ্ছেন তাঁর বোলিং-এ। আবেগ নাকি ক্ষোভ? একই মাঠে দুই স্বামী, দজনেই গুনের পাহাড়, তবু ব্যক্তিগত জীবনে দুই প্রান্তের অভিজ্ঞতা দুজনের।বিবাহ-বিচ্ছেদ অথবা ভুল সঙ্গী নির্বচন করাটা আজকের দিনে খুব সাধারণ ঘটনা। বেমানান সম্পর্কে আটকে থাকার চেয়ে বিচ্ছেদ শ্রেয়। কিন্তু এতটা ভূল হচ্ছে কেন সঙ্গী চয়নে? বড় হয়ে ওঠার সময়, ব্যক্তিত্ব গঠনে কোথাও যে ফাঁক থেকে যাচ্ছে তেমনটা আমরা বলতেই পারি। সঠিক সঙ্গী পাওয়ার জন্য সবার আগে নিজেকে সঠিক ভাবে চিনতে হবে, বিরাট-অনুষ্কা হবার আর কোন পথ আছে কি?

নভেম্বর ১৬, ২০২৩
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • ›

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

তিস্তা নিয়ে বড় চাল চিনের! বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা, ভারতের উদ্বেগ আরও বাড়ল

তিস্তা নদীকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে পাশে থাকার বার্তা দিল চিন। সোমবার বেজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ঢাকাকে সবরকম সাহায্য করতে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে চিনের দাবি, এই যৌথ উদ্যোগ কোনও তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয় এবং বিষয়টিকে অযথা অন্য দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এই প্রকল্পে ভারতের সহযোগিতার কথা ভাবা হলেও বর্তমান প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে চিনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এরপর থেকেই ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে। কারণ, তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার খুব কাছাকাছি।চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ ও চিনের সহযোগিতা কোনও তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। তাঁর দাবি, তিস্তা নদীর উন্নয়ন বাংলাদেশের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। সেই কারণে বাংলাদেশ চাইলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে চিন।শুধু তিস্তাই নয়, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং জনকল্যাণমূলক একাধিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী বেজিং। দুই দেশের মধ্যে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে চিন।বাংলাদেশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিস্তা-সহ একাধিক নদী উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা ও বেজিংয়ের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাওয়ার চায়নার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তির পর থেকেই তিস্তা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে তিস্তা প্রকল্প ঘিরে বাংলাদেশ ও চিনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটির ভৌগোলিক অবস্থান এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে ভবিষ্যতে এই বিষয়টি দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

হাইকোর্টে একদিনে জোড়া ধাক্কা! অভিষেককে কালই দিতে হবে কণ্ঠস্বরের নমুনা, মিলল না কোনও স্বস্তি

কলকাতা হাইকোর্টে একদিনে পরপর দুই বড় ধাক্কার মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদনের দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ হয়। এরপর ডিজে মন্তব্য মামলায়ও স্বস্তি পাননি তিনি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য তাঁকে হাজিরা দিতেই হবে।বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, চার মে ভোটের ফল ঘোষণার পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে বাজবে। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সাইবার অপরাধ আইনে অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের আবেদন জানায় তদন্তকারী সংস্থা। বিধাননগর আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করায় মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হবে তাঁকে।এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট মন্তব্য যে তাঁরই, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। তাই নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের কোনও প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার তরফে কোনও কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়।তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, মামলার বিস্তারিত শুনানি মঙ্গলবার হবে। তবে তার আগে তদন্তের প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা নেই। ফলে নির্ধারিত সময়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাজিরা দিতেই হবে।একই দিনে আরও একটি মামলায় ধাক্কা খান অভিষেক। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতির আবেদন দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তা খারিজ করে দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মামলার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে। এর আগেও একই ধরনের দ্রুত শুনানির আবেদন করা হলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। ফলে আপাতত আদালত থেকে কোনও স্বস্তি পেলেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

একুশে জুলাইয়ের আগেই বড় ধাক্কা! কুণাল, দোলা, বৈশ্বানরের বিরুদ্ধে মামলা, শুরু নতুন বিতর্ক

একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হল। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশের আনুষ্ঠানিক অনুমতি পাওয়ার আগেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভাস্থলের মাপজোকের কাজ শুরু করা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই পদক্ষেপ।রবিবার একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে পৌঁছেছিলেন। অভিযোগ, তখনও ওই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি মেলেনি। তবুও রাস্তার একটি অংশে ফিতে দিয়ে মাপজোক করা হয়। এই ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তিন নেতাকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।সোমবার বিধানসভাতেও এই বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে হলে নিয়ম মেনে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বহুবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমান সরকারও নিয়ম মেনেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দিচ্ছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, অনুমতি ছাড়া কীভাবে সভাস্থলের মাপজোক করা হল। তাঁর বক্তব্য, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই আবেদন করতে হবে এবং প্রশাসন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। বিধানসভায় এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই কুণাল ঘোষ, দোলা সেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবর সামনে আসে।একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের বিভিন্ন শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণ আরও উত্তপ্ত হতে পারে।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

বিধানসভায় শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্য! ‘কালি গেলে দোয়াতও যাবে’, কাকে ইঙ্গিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী?

একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই সোমবার বিধানসভায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল আগেভাগে একুশে জুলাইয়ের সভাস্থলে পৌঁছনো নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরেও একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। সেই বক্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, একুশে জুলাইয়ের সভাস্থলে আগে থেকেই যাওয়ার অনুমতি কারা দিয়েছিল। এই প্রসঙ্গেই তিনি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের নেতাদের উপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাও টেনে আনেন তিনি।তারাতলার কারখানা বিপর্যয়ের ঘটনায় নাম জড়ানো এবং তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিধায়ক কুণাল ঘোষের বক্তব্যেরও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আরও গ্রেফতারের দাবি তুলছেন। এমনকি কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, যদি সব সিদ্ধান্ত তিনিই নিতে চান, তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর আসনেও বসে যেতে পারেন।এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি কালীচরণের সঙ্গে অন্যদের নামও জুড়ে দেন, তাহলে তদন্তের স্বার্থে সকলের বিরুদ্ধেই সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার হবে। কোনও ব্যক্তি প্রভাবশালী হলেই তাঁকে ছাড় দেওয়া হবে না।তবে নিজের বক্তব্যের শেষেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, প্রমাণ ছাড়া কোনও পদক্ষেপ করবে না সরকার। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে এবং যথেষ্ট প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নির্দোষ বা ভদ্র মানুষের বিরুদ্ধে সরকার কোনও অন্যায় পদক্ষেপ করবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বড় ঘোষণা! কবে চালু হবে, কারা থাকবেন আইনের বাইরে জানালেন শুভেন্দু

বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার প্রতিশ্রুতি আগেই দিয়েছিল রাজ্যের বিজেপি সরকার। সোমবার বিধানসভায় এই বিল পেশ হতে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা আনা হয়নি। তবে অধিবেশনের শেষ পর্বে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতেই সরকার বদ্ধপরিকর। বিলের খসড়া তৈরির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনবেই। আগামী দুই জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। উত্তরাখণ্ড, অসম এবং গুজরাটে চালু হওয়া অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন আইন তৈরি করা হবে। তাঁর দাবি, একই রাজ্যে ধর্মভেদে আলাদা আইন চলতে পারে না। তাই সকলের জন্য এক আইনের ব্যবস্থা করাই সরকারের লক্ষ্য।তবে এই আইন থেকে কিছু শ্রেণির মানুষকে ছাড় দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, মূলবাসী, আদিবাসী, কুড়মি-সহ প্রাচীন জনজাতির মানুষ এই প্রস্তাবিত আইনের আওতার বাইরে থাকবেন। এই বিষয়ে সুপারিশ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে থাকবেন অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিক, আইন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী এবং প্রশাসনের প্রতিনিধি। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব, দত্তক গ্রহণ-সহ মোট নয়টি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে এই কমিটি।সরকার জানিয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে অগস্ট মাসে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল বিধানসভায় আনার প্রস্তুতি নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মানুষের মতামতও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। যাঁদের কোনও মতামত বা আপত্তি রয়েছে, তাঁরা কমিটির কাছে তা জানাতে পারবেন।এদিকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পক্ষে সওয়াল করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, এই আইন শুধু বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, সমাজের বহু মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। তাই দ্রুত এবং সর্বসম্মতিক্রমে এই আইন কার্যকর হওয়া উচিত বলেই মত প্রকাশ করেছেন তিনি। বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সরকারের এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

জয়প্রকাশ মজুমদারের বিপদ আরও বাড়ল! এবার মামলার শুনানি থেকেও সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

জেলবন্দি তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় এল। তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানির আগেই কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই মামলা না শোনার কথা জানিয়েছেন। ফলে এখন এই মামলার শুনানি কোন বিচারপতির এজলাসে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান বিচারপতি।জয়প্রকাশ মজুমদার বর্তমানে বাড়ি দখলের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলবন্দি। তাঁর জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত শুনানির আগেই বিচারপতির সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে মামলায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।চলতি মাসের তিন তারিখ সল্টলেক এলাকা থেকে জয়প্রকাশ মজুমদারকে আটক করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পরে বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, দীর্ঘ বারো বছর ধরে একটি বাড়ি দখল করে রাখা হয়েছিল। বাড়ির মালিক ভাড়া চাইতে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জয়প্রকাশ মজুমদারকে নিয়ে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতে যায়। সেই সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতার একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।গ্রেপ্তারের পর আইনি সুরাহার জন্য তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জামিনের আবেদন করেন। সেই মামলার শুনানির আগেই বিচারপতি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ানোয় মামলার পরবর্তী শুনানি নিয়ে নতুন করে অপেক্ষা শুরু হয়েছে। এখন প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী নতুন বেঞ্চে এই মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত হবে।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

বড় সিদ্ধান্ত! তৃণমূলের ওবিসি তালিকা বাতিল, বিধানসভায় পাশ হল নতুন আইন

বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল। এর ফলে তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ওবিসি সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হল। একই সঙ্গে ওবিসি তালিকার একটি বড় অংশেও সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ওবিসি সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও আইনসম্মত হবে।অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ বিধানসভায় দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। পরে ধ্বনিভোটে বিল দুটি পাশ হয়ে যায়। একটি বিল পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত এবং অন্যটি সরকারি চাকরিতে ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত।নতুন আইনে ওবিসি এ শ্রেণির অধীনে থাকা পঁয়ষট্টিটি জনগোষ্ঠীর তালিকায় কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে ওবিসি বি শ্রেণির অধীনে থাকা আটাত্তরটি জনগোষ্ঠীর তালিকায় বড় পরিবর্তন করা হয়েছে। সংশোধনী বিলে ওই তালিকা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ওবিসি হিসেবে কোন শ্রেণি স্বীকৃতি পাবে, তা অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।নতুন ব্যবস্থায় রাজ্য সরকার অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে ওবিসি সংরক্ষণের হার ঠিক করবে। প্রয়োজন হলে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই হার পরিবর্তন করা যাবে। তবে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি এবং ওবিসিসব মিলিয়ে মোট সংরক্ষণের পরিমাণ পঞ্চাশ শতাংশের বেশি করা যাবে না।এ ছাড়াও কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ওবিসি সম্প্রদায়কে সামাজিক ও শিক্ষাগত অবস্থার নিরিখে একাধিক ভাগে ভাগ করা যাবে। প্রতিটি ভাগের জন্য আলাদা সংরক্ষণের হারও নির্ধারণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।সরকারের দাবি, এই সংশোধনের ফলে সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং নতুন আইন বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত কোনও আর্থিক ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।অন্যদিকে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত সংশোধনী বিলে কমিশনের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কমিশনে একজন সভাপতি, তিনজন সদস্য এবং একজন সদস্য-সচিব থাকবেন। সদস্য-সচিব হিসেবে এমন একজন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে, যিনি রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদে অন্তত তিন বছর কাজ করেছেন।কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, অথবা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, তা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করে কমিশন রাজ্য সরকারকে সুপারিশ জানাবে।সরকারের বক্তব্য, এই সংশোধনের মাধ্যমে অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ভূমিকা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি ওবিসি তালিকা তৈরি, সংশোধন এবং সংরক্ষণ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

জুন ২৯, ২০২৬
কলকাতা

ওবিসি বিল ঘিরে তুমুল নাটক! দরজা খুলেও কেন বেরোলেন না কয়েকজন বিধায়ক?

ওবিসি সংক্রান্ত সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ হওয়ার সময় তৈরি হল নাটকীয় পরিস্থিতি। ভোটাভুটির আগে বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ বিধায়ক ওয়াকআউট করলেও কয়েকজন বিধায়ক সভাকক্ষেই থেকে যান। সেই ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা।সোমবার বিলটি নিয়ে ভোটাভুটির সময় দেখা যায়, বিরোধী শিবিরের অধিকাংশ সদস্য সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেই সময় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ায় বিধানসভার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কয়েকজন বিধায়ক বাইরে যেতে পারেননি বলে জানা যায়। পরে পরিষদীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দরজা খুলে দেওয়া হয়।তবে দরজা খুলে যাওয়ার পরেও কয়েকজন বিধায়ক সভাকক্ষেই থেকে যান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোসারফ হোসেন, বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ, বায়রন বিশ্বাস, পান্নালাল হালদার এবং মুরারইয়ের মোসারফ হোসেন। তাঁদের সভাকক্ষে থেকে যাওয়াকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত কুণাল ঘোষকে ওই বিধায়কদের উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। পরে বাহারুল ইসলাম, কাজল শেখ এবং বায়রন বিশ্বাসকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। অন্যদিকে দলের প্রবীণ নেতারাও সেই সময় বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দরজা বন্ধ থাকার কারণেই কি কয়েকজন বিধায়ক বাইরে যেতে পারেননি, নাকি দরজা খোলার পরেও সভাকক্ষে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁদের নিজস্ব? যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে আসেনি।শেষ পর্যন্ত ওবিসি সংশোধনী বিলের পক্ষে ভোট পড়ে একশো ছিয়াশি। বিপক্ষে ভোট দেন সতেরো জন সদস্য। ভোটদান থেকে বিরত থাকেন ছয় জন বিধায়ক। বিলটি ধ্বনিভোট এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় পাশ হয়ে যায়।

জুন ২৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal