প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। তার মধ্যে অন্যতম ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’। ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় দেশবাসীকে নিজেদের বাড়িতে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করার আবেদন জানিয়েছে বিজেপি। দলের সভাপতি নিতিন নবীন জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিজের জন্মদিনে দেশবাসীর শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, এই উদ্যোগ তাঁকে গভীর ভাবে স্পর্শ করেছে। মানুষের আশীর্বাদ দেশসেবার প্রতি তাঁর সংকল্প আরও শক্তিশালী করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই প্রকাশিত হয়েছে একটি বিশেষ গান। ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ নামের গানটি তৈরি করেছেন আমন পান্ত এবং স্নেহা শঙ্কর। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের পাশাপাশি তাঁর ২৫ বছরের জনজীবনকে সামনে রেখে গানটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা।
গানটির সঙ্গে প্রকাশিত ভিডিয়োতেও প্রদীপকে মূল প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ জনজীবনকে সামনে রেখে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই গান তৈরি করা হয়েছে। জন্মদিনের কর্মসূচির সঙ্গে গান প্রকাশও আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু জন্মদিন উদযাপন নয়, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। এই কর্মসূচির মধ্যে রক্তদান শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, প্রদর্শনী, সেমিনার এবং বিভিন্ন জনসংযোগমূলক কর্মসূচি রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের জনজীবন পূর্তিকেও এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন দেশবাসীকে ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো হোক। দলের তরফে এই কর্মসূচিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানুষের আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছার প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের পাঁচশোরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও প্রদীপ জ্বালানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচি দেশজুড়ে বড় আকারে পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদি ২০০১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর জনজীবনের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার বিষয়টিও এবারের কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০১৪ সালে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। বিজেপি জানিয়েছে, এই দীর্ঘ জনজীবনকে সামনে রেখেই এক মাস ধরে বিভিন্ন পরিষেবা ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।
জন্মদিনে দেশবাসীর শুভেচ্ছার জবাবে মোদি যে বার্তা দিয়েছেন, তাতেও ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ বিশেষ জায়গা পেয়েছে। মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদকে দেশের সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে জন্মদিনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি শুধু এক দিনের জন্মদিন উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ থেকে শুরু করে রক্তদান, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসংযোগমূলক নানা কর্মসূচি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন এবং ২৫ বছরের জনজীবনকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

