• ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩, রবিবার ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Violence

রাজনীতি

নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি নিয়ে সরব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেক-কল্যাণের ওপর হামলায় বিজেপিকে নিশানা

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতারি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগকে সামনে এনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, বাংলায় বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক হিংসার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার পিছনে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তার পরদিনই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলিকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।আক্রান্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে আক্রান্ত নেতার পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে উসকে দিয়ে বিজেপি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের নামে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামাচ্ছে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক বিরোধিতাকে দমন করতে রাজনৈতিক হিংসাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের ঘটনা এত ঘনঘন ঘটতে পারে কি না।সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলা বরাবরই সৌজন্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে হিংসা, ভয় দেখানো বা গুন্ডামির কোনও স্থান নেই। তাই এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে। সেই আবহেই তাঁর এই বার্তা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

মে ৩১, ২০২৬
কলকাতা

ঘরছাড়াদের ফেরাতে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বহু নেতা-কর্মী আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগের পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।বিধানসভায় এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন।এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর জানা মতে বর্তমানে কেউ ঘরছাড়া নন। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিরোধী দলনেতাকে নামের তালিকা জমা দিতে বলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, আপনারা তালিকা দিন, কারা ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে দিন।তবে এখানেই একটি স্পষ্ট শর্ত বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর থাকে, তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। বরং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ নির্দোষ হয় এবং সত্যিই ঘরছাড়া থাকেন, তাহলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।বিধানসভায় এই আলোচনা শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সূত্রের খবর, তিনি শুভেন্দুকে বলেন যে বাইরে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। তখন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরের দিন পুলিশের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে এবং সেখানে পান্নালালকেও থাকতে বলেন তিনি।শোনা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আমন্ত্রণপত্র চান পান্নালাল। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, বিধানসভায় আগেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, বিরোধীদেরও সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আর এবার পুলিশের বৈঠকে বিরোধী বিধায়ককে ডাক দিয়ে তিনি যেন সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করে দিলেন।

মে ১৫, ২০২৬
রাজ্য

ফল ঘোষণার পরই উত্তপ্ত বাংলা! জিয়াগঞ্জে ভাঙা লেনিনের মূর্তি ঘিরে তীব্র বিতর্ক

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তেই মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে একটি মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মূর্তিটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।সম্প্রতি হওয়া নির্বাচনে বিজেপি বিপুল আসন জিতে সরকার গঠন করার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এই ভাঙচুরের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ তুলেছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, দলের ভাবমূর্তি খারাপ করার জন্যই এই ধরনের অভিযোগ আনা হচ্ছে।নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, মোট আসনের মধ্যে বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস অনেক কম আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা আগের তুলনায় অনেকটাই কম।এদিকে, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদ ছাড়তে রাজি নন। তিনি দাবি করেছেন, প্রকৃত জনসমর্থন তাদের পক্ষেই ছিল এবং ভোটের ফল সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।

মে ০৬, ২০২৬
কলকাতা

ফল বেরোতেই কড়া হুঁশিয়ারি! হিংসা করলেই গ্রেফতার, স্পষ্ট বার্তা নির্বাচন কমিশনের

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময় থেকেই জানানো হয়েছিল, ভোটপর্ব শেষ হলেও বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে। লক্ষ্য একটাই, ভোট-পরবর্তী হিংসা রোখা। এবার এই বিষয়ে আরও কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হিংসায় উস্কানি দেওয়া বা ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না।ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাঙচুরের খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ আধিকারিকদের হিংসা রুখতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ভাঙচুরে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। শুধু তাই নয়, যারা হিংসায় উস্কানি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং ফল ঘোষণার পরেও সেই শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।এদিকে, নির্বাচনের ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনওভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। যদি কেউ বিরোধী দলের দফতর দখল বা ভাঙচুরে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে দলীয় স্তরেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে অনুরোধ করেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে হিংসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।

মে ০৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোট মিটতেই রণক্ষেত্র! কড়া পদক্ষেপে নামল শিলিগুড়ি পুলিশ, একের পর এক গ্রেফতার

ভোট শেষ হতেই হিংসার আশঙ্কায় কড়া অবস্থান নিল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রশাসন এবার শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় হিংসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কোনও রকম আপস করা হবে না। তিনি বলেন, হিংসার ঘটনার মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ টহলও বাড়ানো হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেখানে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে, কেউ যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নেন। কোনও ধরনের প্ররোচনামূলক কাজ বা গুজব ছড়ানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোশ্যাল মাধ্যমে ভুয়ো খবর ছড়ালেও রেয়াত করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শহরের শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করলে কাউকেই ছাড়া হবে না।

মে ০৬, ২০২৬
কলকাতা

অশান্তিতে জ্বলছে বাংলা! ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট-পরবর্তী হিংসা আটকাতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন । বৃহস্পতিবার প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট নির্দেশ দেন, যারা অশান্তি ছড়িয়েছে, তাদের আজ রাতের মধ্যেই গ্রেফতার করতে হবে।বুধবার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই একাধিক এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণে আগাম সতর্ক হয়ে উঠেছে কমিশন । বৈঠকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা হয় মূলত ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের মতোই ভোটের পরের পরিস্থিতিতেও কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। কোনও অশান্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা গোলমাল করে পালিয়ে রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট শেষ হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা করা যাবে না। রাজ্যে এখনও ৭০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে। গণনার দিন এবং তার পরেও নিরাপত্তা যেন কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে ।উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের পর কলকাতার বেহালা ও গড়িয়া-সহ একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলার বিভিন্ন অংশ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে। ২০২১ সালের ভোটের পরেও রাজ্যে হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগে থেকেই কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এপ্রিল ৩০, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের পরেই অশান্তি! অস্ত্র রাখার ডাক অধীরের, বাড়ছে বিতর্ক

প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর সামনে আসছে। আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মী খুনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে এক পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, মানুষকে নিজেদের রক্ষা করতে হলে প্রস্তুত থাকতে হবে।শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। কৃষ্ণ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় কৃষ্ণ ঘোষ-সহ তাঁর পরিবারের আরও দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, রাতে বাড়ি ফেরার সময় কিছু দুষ্কৃতী তাঁদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করে এবং শারীরিক ভাবে হেনস্থা করে। এরপর কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছন অধীর চৌধুরী। তিনি জানান, আক্রান্ত পরিবার তাঁর সঙ্গে আগে সৌজন্য বিনিময় করেছিল। তবে তারা কোন দলের সমর্থক, তা তিনি নিশ্চিত নন। তাঁদের সাধারণ মানুষ বলেই উল্লেখ করেন তিনি।এরপর তিনি এলাকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুষ্কৃতীদের মোকাবিলা করতে হলে ঘরে ঘরে লাঠি বা অস্ত্র রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। বহরমপুর শহরের এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এপ্রিল ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেলডাঙা মামলায় হঠাৎ বড় মোড়! ডিভিশন বেঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি

বেলডাঙা হিংসা মামলায় বড় পরিবর্তন ঘটল আদালতে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ফলে মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে ফের পাঠানো হয়েছে।সূত্রের খবর, এনআইএ-র বিশেষ আদালতের একটি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনআইএ এই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছিল। কিন্তু শুনানির সময় বিচারপতি জানান, এই মামলায় ইউএপিএ বা বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ধারা প্রযোজ্য হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রধান বিচারপতির। তাই এই বেঞ্চে মামলার শুনানি এগোনো সম্ভব নয় বলে জানানো হয়।এই কারণেই মামলাটি ফের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে।বেলডাঙায় হিংসার ঘটনায় ১৫ জন অভিযুক্তকে আগেই জামিন দিয়েছিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। আদালতের বক্তব্য ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় এই জামিন দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এনআইএ হাইকোর্টে যায়।ঘটনার পেছনে রয়েছে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় তৈরি হওয়া উত্তেজনা। ওই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং একাধিক জায়গায় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে এই মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই শুরু হয় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত।

এপ্রিল ২১, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙা কাণ্ডে নতুন মোড়! জামিন নিয়ে হাই কোর্টে ছুটল এনআইএ

বেলডাঙা কাণ্ডে নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ এবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। আগে এনআইএ-র বিশেষ আদালত শর্তসাপেক্ষে ১৫ জন অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি এবং সেই কারণেই এই জামিন দেওয়া ঠিক হয়নি।আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, ৯০ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এনআইএ চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। এমনকি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও আদালতের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। এরপর ১০ হাজার টাকার বন্ডে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করে বিশেষ আদালত। যদিও তাঁদের চলাফেরার উপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।হাই কোর্টে এনআইএ-র বক্তব্য, তদন্ত চলাকালীন এইভাবে জামিন দেওয়া উচিত হয়নি। আদালতে প্রশ্ন ওঠে, যখন সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটি হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে, তখন কীভাবে নিম্ন আদালত জামিন মঞ্জুর করল। এই বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী শুনানিতে স্পষ্ট হবে, এই জামিন বহাল থাকবে নাকি হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করে নতুন নির্দেশ দেবে।উল্লেখযোগ্য, গত জানুয়ারি মাসে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ছিল, ঝাড়খণ্ডে ওই শ্রমিককে খুন করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙায় রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয় এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এমনকি সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। পরে রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, যদিও এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল।পরবর্তীতে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে যায়। মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। এখন জামিনের প্রশ্নে নতুন করে এই মামলায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
রাজ্য

চার্জশিট দিতে দেরি, বড় ফায়দা অভিযুক্তদের! বেলডাঙ্গা কাণ্ডে ১৫ জন জামিনে মুক্ত

বেলডাঙ্গা হিংসা মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল বিশেষ আদালত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে না পারায় ১৫ জন অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা নব্বই দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা করতে পারেনি বলেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।মোট পঁয়ত্রিশ জন ধৃতের মধ্যে পনেরো জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে জামিন পেলেও তাঁদের উপর একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা কলকাতা পুরসভা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। মামলার শুনানির দিন তাঁদের আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। প্রত্যেককে দশ হাজার টাকার বন্ডে জামিন দেওয়া হয়েছে।চলতি বছরের শুরুতে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের খুনের অভিযোগ ঘিরে মুর্শিদাবাদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহ বাড়িতে ফিরতেই বেলডাঙ্গায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। রেল ও সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার একটি অংশে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্ত হন সংবাদকর্মীরাও। সেই সময় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি উঠেছিল। পরে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়। মামলাটি উচ্চ আদালত হয়ে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষে তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে যায় এবং তারা তদন্ত শুরু করে।এই অবস্থায় চার্জশিট জমা দিতে দেরি হওয়ায় অভিযুক্তদের জামিন মেলায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বাসন্তীতে তাণ্ডব! রাস্তায় ফেলে পুলিশ অফিসারকে বাঁশ দিয়ে পেটাল দুষ্কৃতীরা

ভোটের আবহে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাসন্তী। রাস্তায় ফেলে এক পুলিশ অফিসারকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এক পুলিশ অফিসারকে বাঁশ দিয়ে মারধর করা হচ্ছে। গুরুতর জখম হয়েছেন ওই পুলিশ অফিসার।আহত পুলিশ অফিসারের নাম সৌরভ গুহ। তিনি বাসন্তী থানার সাব ইন্সপেক্টর। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় তিনি ছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন।ঘটনাটি ঘটে যখন বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার এলাকায় প্রচারে বেরিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় বাজার এলাকায় আচমকাই হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তাণ্ডব শুরু করে। একাধিক মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়েই আক্রান্ত হন পুলিশ কর্মীরাই। অভিযোগ, সাধারণ পোশাকে থাকা সাব ইন্সপেক্টর সৌরভ গুহকে লক্ষ্য করে তাড়া করে দুষ্কৃতীরা। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। এরপর তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়। তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন তিনি।পরে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ক্যানিং, বাসন্তী এবং গোসাবা এলাকার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উপস্থিত রয়েছেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরাও। কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং টহলদারি শুরু হয়েছে।এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। আহত পুলিশ অফিসারকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বাসন্তী এলাকা আগে থেকেই স্পর্শকাতর বলে পরিচিত। প্রতি নির্বাচনেই এখানে হিংসার অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশকেই রাস্তায় ফেলে মারধরের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের এক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচন চলাকালীন নিয়ম মেনে চলা উচিত এবং পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে বিজেপির এক নেতা বলেছেন, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের ভবিষ্যতে ফল ভোগ করতে হবে।

মার্চ ২৬, ২০২৬
দেশ

বেলডাঙা মামলায় রাজ্যকে বড় ধাক্কা! NIA তদন্তে সায় সুপ্রিম কোর্টের

বেলডাঙা হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় NIA তদন্তে সায় দিল শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আলাদা করে হস্তক্ষেপ করা হবে না।এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, বেলডাঙার পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করবে। পাশাপাশি কেন্দ্র যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে NIA তদন্তও হতে পারে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়ে দেয়।শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, UAPA-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হয়েছে কি না, সেই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট খতিয়ে দেখবে। অর্থাৎ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া আপাতত হাইকোর্টের নজরেই চলবে।জানুয়ারি মাসের শুরুতে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ জেলায় ফেরার পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর এলাকায় রেললাইনেও অবরোধ করা হয়। রেললাইনে বাঁশ ফেলে দেওয়া হয় এবং সেখানে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবি দেখা যায়। পুলিশ পৌঁছলে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসা বাধে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সাংবাদিকরাও। এই ঘটনায় সাংসদ ইউসুফ পাঠান কেন সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় যাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিন দিন পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন মিম নেতা বলেও জানা গেছে।এই অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, শুক্রবার জুম্মাবারের দিন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতি জড়িত থাকে। কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি আগে থেকেই তুলেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। হাইকোর্টে মামলা হলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি NIA তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে স্বাধীনতা দেওয়া হয়।সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের সেই নির্দেশে হস্তক্ষেপ না করায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করেনি এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টে পাঠিয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের আবেদনে শীর্ষ আদালত গুরুত্ব দেয়নি।সব মিলিয়ে বেলডাঙা হিংসা মামলায় NIA তদন্তের পথে বড় বাধা সরল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে হাইকোর্টে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
দেশ

এসআইআর ইস্যুতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ সুপ্রিম কোর্টের, চাপে প্রশাসন

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় গন্ডগোলের অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআর-এর কাজে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো এবং হিংসার অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি পীযূষ পান্ডেকে শোকজ করেছে শীর্ষ আদালত। তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হলফনামা জমা দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এসআইআর-এ শুনানি পর্ব শুরু হওয়ার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির খবর সামনে আসে। কোথাও বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে, আবার কোথাও অফিসে ঢুকে আধিকারিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।এই সব অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, হুমকি, হিংসা এবং ভয় দেখিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এফআইআর দায়ের হয়নি বলেও জানানো হয় আদালতে। এর পরই শীর্ষ আদালত রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ করে ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেয়।ডিজি পীযূষ পান্ডে এই শোকজের কী জবাব দেন, সেটাই এখন দেখার। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। তাঁদের নথি যাচাইয়ের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না।রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শোকজ করা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। তাঁর দাবি, ডিজিকে শোকজ করার অর্থই হল রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীকে শোকজ করা, যেহেতু পুলিশ দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

রবিবার রাতে ভয়াবহ তাণ্ডব দক্ষিণ কলকাতায়, গোলপার্কে গুলি-বোমা, আহত ২

দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকায় রবিবার রাতে ভয়াবহ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পিকনিককে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বোমাবাজি ও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছেন। এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত কাঁকুলিয়া রোড এলাকায় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রবিবার তাঁরা পিকনিক সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় হঠাৎ অন্য এলাকার কয়েকজন যুবক এলাকায় ঢুকে গোলমাল শুরু করে। তাদের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। ভয়ে বহু মহিলা ঘরের ভিতরে চলে যান।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এই দুষ্কৃতীদের বাধা দিতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপক্ষের মধ্যে ইট ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। ইটের আঘাতে কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ। রাস্তায় রক্তের দাগও দেখা যায়। অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন দুষ্কৃতীরা বোমা ছোড়ে এবং অন্তত এক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। এই ঘটনায় দুই জন আহত হয়েছেন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ, সেই সময় জনতার একাংশ পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। এই গোলমালের মধ্যে কয়েকটি বাইক ও স্কুটি ভাঙচুর করা হয়।এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ্যাং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এলাকা দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এমনকি একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল ও বোমার টুকরো উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬
রাজ্য

তদন্ত এনআইএ-র হাতে, মুর্শিদাবাদে পুলিশ সুপার বদল! নবান্নের বড় সিদ্ধান্ত

বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল। শুক্রবার ওই ঘটনার তদন্তভার পায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তার পরের দিনই বদল করা হয় মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারকে। এর পর শনিবার নবান্ন থেকে একযোগে ২২ জন আইপিএস পদমর্যাদার আধিকারিকের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। শহর ও জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে এই রদবদল ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধৃতিমান সরকারকে। কুমার সানি রাজকে পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ শাখা এসএসআইবি-তে। ধৃতিমান সরকার এর আগে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করেছেন।শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটেও গুরুত্বপূর্ণ বদল হয়েছে। যুবভারতী কাণ্ডের পরে সাসপেন্ড হওয়া তৎকালীন ডিসি অনীশ সরকারের জায়গায় ডিসি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন পুষ্পা। বনগাঁর পুলিশ সুপার দীনেশ কুমারকে করা হয়েছে ডিসি (উত্তর)। ডিসি (দক্ষিণ শহরতলি) বিদিশা কলিতাকে পাঠানো হয়েছে বনগাঁর পুলিশ সুপার হিসেবে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন চারু শর্মা। ডিসি (পূর্ব) পদে আনা হয়েছে জসপ্রীত সিংকে। ডিসি (পূর্ব শহরতলি) হয়েছেন অমিত বর্মা এবং ডিসি (দক্ষিণ) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক সরকারকে।এছাড়াও বারাসতের পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝারখরিয়াকে দার্জিলিং জেলার পুলিশ সুপার করা হয়েছে। অমিত পি জাভালগিকে পাঠানো হয়েছে আইজি, বারাসত রেঞ্জে। অলোক রাজোরিয়া পেয়েছেন ডিআইজি, বর্ধমান রেঞ্জের দায়িত্ব। মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন পুলিশ সুপার আরিশ বিলালকে পাঠানো হয়েছে এসএসআইবি-তে। প্রদীপ কুমার যাদবকে বদলি করে এসএসআইবি, উত্তরবঙ্গ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।বেলডাঙা অশান্তির পর একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

অশান্ত বেলডাঙা নিয়ে আদালতের বড় বার্তা, প্রয়োজনে কেন্দ্র দেবে আরও বাহিনী

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বর্তমানে এলাকায় যে পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে, জীবন ও জীবিকা রক্ষার স্বার্থে তাদের পুরোপুরি ব্যবহার করা হোক। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, যদি বাহিনী পর্যাপ্ত না হয়, তা হলে রাজ্যের অনুরোধে কেন্দ্র আরও বাহিনী অনুমোদন করুক।বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জানান, প্রতিবাদের নামে বেলডাঙায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। রেলের সম্পত্তি নষ্ট করা হয়েছে, সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এই অশান্তি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, যা পুলিশ সুপার নিজেই স্বীকার করেছেন। অথচ এরপরেও পরিস্থিতি সামলাতে রাজ্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।মামলাকারী আরও জানান, গত বছর জুলাই মাসে একই ধরনের পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে সামসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে বাহিনী থাকলেও, বেলডাঙায় সেই বাহিনী কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, বেলডাঙায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অর্থাৎ ১৪৪ ধারা জারি করা হোক। পাশাপাশি দেশের শান্তি নষ্ট করার জন্য বাইরে থেকে কোনও অর্থ আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এনআইএ তদন্তেরও আবেদন জানানো হয়।এই অভিযোগের জবাবে রাজ্যের তরফে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, এর আগেও মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং ঘরছাড়াদের নিরাপদে ঘরে ফেরানো হয়েছে। বিচারপতিরা তখন জানতে চান, বর্তমানে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশাসনিক স্তরে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।এরপর রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকায় পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে এবং তারা নিয়মিত টহল দিচ্ছে বলেও দাবি করে রাজ্য।রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়, বর্তমানে বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাজারও খুলেছে। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, যেহেতু কেন্দ্রীয় বাহিনী ইতিমধ্যেই এলাকায় রয়েছে, তাই জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য তাদের পুরোপুরি ব্যবহার করা হোক। প্রয়োজনে আরও বাহিনী চাইলে কেন্দ্র অনুমোদন দেবে।বিচারপতি পার্থসারথি সেন রাজ্যের উদ্দেশে বলেন, মামলাকারীর অভিযোগ অনুযায়ী রাজ্য প্রথম দিকে পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেই অভিযোগের জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান, এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। তাঁর বক্তব্য, মামলাকারী চান সব জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও বিএসএফ নামানো হোক। তবে রাজ্য ঘটনার দিন থেকেই এবং তার পরেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

জানুয়ারি ২০, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙা কাণ্ডে ফের গ্রেপ্তার! সিসিটিভি-ভিডিও দেখে আরও ৫ জনকে তুলল পুলিশ

ঝাড়খণ্ডে এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় যে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছিল, সেই ঘটনায় আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই এই পাঁচ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৬-এ।গত শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক সংখ্যালঘু যুবকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এলাকায়। ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে, ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। একাধিক জায়গায় ভাঙচুর চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। শুক্রবারের পর শনিবারও এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। জাতীয় সড়ক ও রেললাইন অবরোধের পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ। তিনি জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে, তারা যেখানেই থাকুক না কেন। সেই ঘোষণার পরই একে একে শুরু হয় গ্রেপ্তারি। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন মিম নেতা তথা বেলডাঙা ১ ব্লকের সভাপতি মতিউর রহমান সহ একাধিক ব্যক্তি।এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এরই মধ্যে পুলিশ আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম নূর আলম, রবিউল ইসলাম, নূর আলম মোল্লা, লাদিম শেখ এবং তুফাইল শেখ। পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সোশাল মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ধৃতদের বহরমপুর আদালতে তোলা হবে।

জানুয়ারি ২০, ২০২৬
রাজ্য

বিক্ষোভে ঘেরা বিধায়ক! জেড প্লাস নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে হুমায়ুন

বেলডাঙার অশান্ত ঘটনার পর এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজের জন্য জেড প্লাস নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাঁকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালতে জানিয়েছেন তিনি।সোমবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির পর বিচারপতি হুমায়ুন কবীরকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাতে বলেন। আদালত জানায়, নিরাপত্তার প্রয়োজন কতটা, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব প্রশাসনের। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।সম্প্রতি ভিনরাজ্যে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। গত শনিবার সেই বিক্ষোভস্থলে যান হুমায়ুন কবীর। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনিই বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কোনওক্রমে এলাকা ছাড়তে হয় তাঁকে।এর আগেও ব্রিগেড পরিদর্শনে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন হুমায়ুন। সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগান দিতে থাকেন। এই একের পর এক ঘটনার কথা উল্লেখ করেই তিনি আদালতে নিরাপত্তার আবেদন করেছিলেন।আদালতে হুমায়ুন কবীর আবেদন জানান, অন্তত কিছু দিনের জন্য হলেও যেন তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ বলেন, নিরাপত্তা দেওয়ার আগে হুমকির মাত্রা বিচার করতে হবে। সেই মূল্যায়নের পরই সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তাই আদালত থেকে সরাসরি নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।হুমায়ুন কবীরের আইনজীবী অনুরোধ করেন, যতদিন না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন গ্রহণ করছে, ততদিন অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা দেওয়া হোক। তবে সেই আর্জি গ্রহণ করেনি আদালত।এদিকে নতুন দল গঠনের পর ব্রিগেডে সভা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেই জন্য অনুমতিও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতি মেলেনি বলে তিনি দাবি করেছেন। এখন তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদেই তাঁর সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙার আগুন পৌঁছল হাইকোর্টে! কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত আসছে

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় এবার বিষয়টি গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। বেলডাঙার অশান্তিপ্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের আবেদন জানানো হয়েছে। সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। আজই যদি মামলা দায়ের করা হয়, তবে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এর আগেই বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই আবেদনের রেশ কাটতে না কাটতেই বিষয়টি এবার আদালতের বিচারাধীন হল।গত শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ জেলা। সূত্রপাত হয় ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে। অভিযোগ, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ জেলায় ফিরতেই বেলডাঙায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করে। অবরোধ করা হয় রেললাইনও।শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের উপর বাঁশ ফেলে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই বাঁশে ঝোলানো ছিল মৃত শ্রমিকের ঝুলন্ত অবস্থার ছবি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়। সেই বচসা দ্রুতই উত্তেজনায় রূপ নেয়।ঘটনাস্থলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন গণমাধ্যমকর্মীরাও। সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় না যাওয়ায় সাংসদ ইউসুফ পাঠানের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার তিন দিন পর তিনি এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন মিম দলের নেতা বলেও জানা গেছে। হায়দরাবাদ ভিত্তিক সংখ্যালঘুদের এই রাজনৈতিক দলের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।এই অশান্ত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি নতুন নয়। আগেই শুভেন্দু অধিকারী সেই দাবি জানিয়েছিলেন। এবার সেই দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হল। শেষ পর্যন্ত বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখন আদালতের হাতেই।

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
রাজ্য

বেলডাঙা হিংসার পরে মৃতের বাড়িতে সাংসদ, দেরি না দায়িত্ব— বিতর্ক তুঙ্গে

অশান্ত বেলডাঙায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি। দুদিনের হিংসার পর এলাকাজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ। আজও চলছে রুটমার্চ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিরোধীদের একটাই প্রশ্ন ছিল, এত বড় ঘটনার পরেও কোথায় ছিলেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান? কেন তাঁকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না? এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বেলডাঙায় দেখা গেল ইউসুফ পাঠানকে। তিনি যান নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে আলাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন সাংসদ। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।এর একদিন আগেই বহরমপুরে রোড শো করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি জানান, ইউসুফ পাঠান এলাকায়ই ছিলেন এবং বেলডাঙায় যেতে চেয়েছিলেন। অভিষেক বলেন, তাঁর র্যালি ও বৈঠক শেষ হলে সাংসদ, বিধায়করা একসঙ্গে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে আর্থিক সাহায্য ও মৃতের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।এই ঘোষণার পরেই বেলডাঙায় ইউসুফের উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, আলাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউসুফও আর্থিক সাহায্য ও চাকরির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলডাঙার বিধায়কও।পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউসুফ পাঠান বলেন, এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা শুধু নিজের জন্য কাজ করেন না, যে রাজ্যে কাজ করেন সেই রাজ্যের উন্নয়নেও তাঁদের বড় ভূমিকা থাকে। তাই এই ধরনের ঘটনা হওয়া কখনওই কাম্য নয়।তবে দেরিতে এলাকায় আসা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ মানতে নারাজ সাংসদ। তাঁর দাবি, তিনি এলাকাতেই ছিলেন এবং জনপ্রতিনিধিরা মাঠে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ করছিলেন। তাঁর কথায়, তাঁরা সব সময় মানুষের পাশেই আছেন।

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

বিরাটির পর দত্তপুকুরে রাতভর তাণ্ডব! একে একে পাঁচ সিপিএম অফিসে ভাঙচুর-আগুন, উঠল বিজেপির নাম

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটিতে সিপিএমের সভা ঘিরে উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাতের দিকে দত্তপুকুরে একের পর এক সিপিএমের পার্টি অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল। বামেদের দাবি, দত্তপুকুরে মোট পাঁচটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকটি অফিসে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।সিপিএমের অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা রড ও হাতুড়ি নিয়ে একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অফিসের আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়। দেওয়ালে থাকা বাম নেতাদের ছবিও ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি দলের। দত্তপুকুরের দুনম্বর রেলগেট, গঙ্গাপুর মোড় এবং দত্তপুকুর স্টেশনের কাছে-সহ একাধিক এলাকায় এই হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি কার্যালয়ে কাগজপত্র বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।এই হামলার পিছনে সরাসরি বিজেপির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আহমেদ আলি খান দাবি করেছেন, রাতের অন্ধকারে বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার বারাসত এক নম্বর বিডিও দফতরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সিপিএমের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচির পরেই পার্টি অফিসগুলিতে হামলার ঘটনা ঘটায় দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনায় পুলিশে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।তবে সিপিএমের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা অরিন্দম দে জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই বিজেপির নাম জড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে দত্তপুকুরের ঘটনা নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর।এর আগেই শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের একটি পথসভা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। সভামঞ্চে ভাঙচুর, চেয়ার ভাঙা এবং ব্যানার নষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। বামেদের দাবি, সভায় হামলার পাশাপাশি তাঁদের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। সভায় সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল।বিরাটির ঘটনার ক্ষেত্রেও সিপিএম বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, পুলিশের উপস্থিতিতেই সভামঞ্চে হামলা হয়েছে এবং পুলিশ হামলাকারীদের আটকাতে কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। সুজন চক্রবর্তী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত প্রতিবাদ কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপির তরফে অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি, সভায় স্থানীয়রা কিছু স্লোগানের প্রতিবাদ করেছিলেন এবং উল্টে তাঁদের দলের মহিলা কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।একই রাতে হাবড়াতেও বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার অভিযোগ ওঠে। হাবড়া এক নম্বর রেলগেটের কাছে এসএফআইয়ের পথসভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তির অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে বিজেপি। এই ঘটনায় হাবড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।বিরাটি, হাবড়া এবং দত্তপুকুরের পরপর ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ২৪ পরগনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। দত্তপুকুরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই এসএফআই নেতা আকাশ করকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ-সূত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন। তবে সিপিএম যে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার মূল অভিযোগ তুলেছে, সেই অভিযোগের সঙ্গে ওই গ্রেফতারের যোগসূত্র বা হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিলের কাছে ৪-০ হার, তবু যুবভারতীতে লড়াইয়ের গল্প লিখল ভারত

যুবভারতীতে ফলাফলটা ভারতের পক্ষে নয়। স্কোরবোর্ডে ৪-০। কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে শনিবার যে লড়াই উপহার দিল ভারত, তা নিছক চার গোলের হারের গল্প নয়। গুরপ্রীত সিংহ সান্ধুর দুটি বড় ভুলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাল ভারত। তবে রায়ান উইলিয়ামস, মনবীর সিংহ, অভিষেক সিংহদের লড়াকু ফুটবল প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের মন জিতে নিল।ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল একটাই প্রশ্নব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ভারত কত গোল হজম করবে? মাঠে সেই আশঙ্কার ছাপ অবশ্য শুরুতে খুব একটা দেখা যায়নি। বরং প্রথমার্ধের একটা বড় সময় ভারত রক্ষণ সামলে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠে এসেছে। ব্রাজিলের তারকা সমৃদ্ধ আক্রমণভাগকে বেশ কিছুটা সময় আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় রক্ষণ।কিন্তু বড় দলের বিরুদ্ধে সামান্য ভুলের মূল্য যে কতটা চড়া হতে পারে, যুবভারতী তারই সাক্ষী থাকল।গুরপ্রীতের দুই ভুলেই পিছিয়ে পড়ল ভারতশুরুতেই ভিনিসিয়াসের শট আটকে গুরপ্রীতকে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। গ্যালারি থেকেও এসেছিল প্রশংসার আওয়াজ। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না।২৮ মিনিটে বক্সের ডান দিক থেকে এস্তেভাওর নেওয়া শট ছিল গুরপ্রীতের নাগালের মধ্যেই। বলের গতি বেশি থাকলেও সেটি সামলানোর যথেষ্ট সুযোগ ছিল ভারতীয় গোলরক্ষকের। কিন্তু তাঁর হাতের নীচ দিয়ে বল গড়িয়ে জালে ঢুকে যায়। ব্রাজিল এগিয়ে যায় ১-০।প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ভারত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে ফের বিপর্যয়। ৪২ মিনিটে এস্তেভাওর তৈরি করা সুযোগ থেকে পেদ্রোর শট আটকাতে গিয়ে গুরপ্রীতের ডান হাতের গ্লাভসে বল লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়।মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল। অথচ প্রথমার্ধে ভারত যে ভাবে রক্ষণ সামলাচ্ছিল, তাতে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।এরপর আরও একটি বিপজ্জনক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ভিনিসিয়াসের শট গুরপ্রীতের গায়ে লেগে গোলের দিকে যাচ্ছিল। পিছন থেকে দানিলো ছুটে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় রক্ষণ কোনও রকমে পরিস্থিতি সামলে নেয়।ব্রাজিলের তারকাদের আটকে রাখল ভারতব্রাজিল যে ভারতকে হালকা ভাবে নেয়নি, প্রথম একাদশেই তার প্রমাণ ছিল। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোসদের সঙ্গে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলাররাও ছিলেন দলে।তবু ম্যাচের শুরুতে ব্রাজিলের আক্রমণকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয়নি। ভিনিসিয়াস বাঁ দিক দিয়ে বারবার আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও তাঁকে বেশির ভাগ সময় নজরে রেখেছিলেন অভিষেক সিংহ। ব্রাজিলীয় তারকা কয়েক বার ড্রিবল করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অভিষেক পিছনে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন।শুধু রক্ষণ নয়, সুযোগ পেলেই ভারতীয় ফুটবলাররা পাল্টা আক্রমণে উঠেছেন। রায়ান উইলিয়ামস ও মনবীর সিংহের গতির উপর ভর করে ব্রাজিলের বক্সে ঢোকার চেষ্টাও হয়েছে একাধিক বার।বিরতির পর বদলে গেল ব্রাজিলদ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন আনেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। মাঠে আসেন গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ়, স্যামুয়েল লিনোর মতো ফুটবলাররা। পরিবর্তিত দল নিয়েও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি।৫৮ মিনিটে বিজয়ের পা থেকে বল কেড়ে নেয় ব্রাজিল। দূর থেকে শক্তিশালী শটে গোল করেন স্যামুয়েল লিনো। ভারত তখন ৩-০ পিছিয়ে।তবে এই সময়েও ভারত লড়াই থেকে সরে যায়নি। ৬৪ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামস ব্রাজিলের বক্সে ঢুকে পড়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। তাঁর শট আটকে দেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক মাউরো।এর কিছুক্ষণ পর রায়ান ও মনবীরের দারুণ বোঝাপড়ায় ফের সুযোগ তৈরি হয়। রায়ান বল বাড়ান মনবীরকে। পরে মনবীরের ক্রস ফের রায়ানের দিকে। চলতি বলে শট নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।সেই মুহূর্তে যুবভারতীর গ্যালারিতে হয়তো অনেকেরই মনে হয়েছিলএকটি গোল অন্তত প্রাপ্য ভারতের।শেষ মুহূর্তেও গোলের ধাক্কাম্যাচের বাকি সময়ে দুদলই আক্রমণে উঠেছে। ভারত চেষ্টা করেছে ব্যবধান কমানোর, ব্রাজিল খুঁজেছে আরও গোল। শেষ পর্যন্ত সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ দিকে চতুর্থ গোল পেয়ে যায় ব্রাজিল।লিনোর শট প্রভসুখন গিলের শরীরের নীচ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।চার গোলের ব্যবধান নিঃসন্দেহে বড়। কিন্তু ম্যাচের পুরো ছবিটা শুধু স্কোরলাইন দিয়ে বোঝা যাবে না। ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যক্তিগত ভুল এবং আক্রমণে শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ের অভাব।তার বিপরীতে ইতিবাচক দিকও কম নয়। বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ভারত ভয় পেয়ে গুটিয়ে থাকেনি। রায়ান, মনবীর, অভিষেক, বিজয়রা বারবার প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে অভিষেকের ভিনিসিয়াসকে সামলানোর চেষ্টা এবং রায়ানের আক্রমণাত্মক মানসিকতা নজর কেড়েছে।সামনে আরও কঠিন পরীক্ষাব্রাজিলের বিরুদ্ধে ০-৪ হার দিয়ে ভারতের এই পর্ব শেষ হচ্ছে না। বরং সামনে আরও একটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আগামী ৬ অক্টোবর উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত।যুবভারতীর রাত ভারতের জন্য ফলের দিক থেকে হতাশার হলেও, লড়াইয়ের মানসিকতা পরের ম্যাচের আগে কিছুটা আত্মবিশ্বাস জোগাতেই পারে। চার গোলের ব্যবধানের আড়ালে তাই থেকে গেল অন্য এক ছবিবিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবলারদের হার না মানা লড়াই।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
দেশ

তৃণমূলের চেয়ার এবার কাকলির হাতে! দোলার জায়গায় বিজেপি, সংসদে রদবদল ঘিরে তুমুল চর্চা

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হাতছাড়া হয়েছে। রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির থেকে বেরিয়ে যাওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার। অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে।শনিবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠনের পরই এই রদবদলের কথা প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এবং লোকসভার স্পিকারের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের স্থায়ী কমিটির নতুন চেয়ারম্যানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের জন্য পুনর্গঠিত কমিটিগুলির মধ্যে রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন সুধাংশু ত্রিবেদী।এই বদলকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে মূলত কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্র করে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের একদল সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ একাধিক সাংসদ। তাঁরা কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানিয়েছিলেন। পরে সংসদে তাঁদের আসনেও পরিবর্তন করা হয়।এ বার সেই বিদ্রোহী শিবিরেরই অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদের জায়গায় রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে সংসদীয় কমিটির এই রদবদলকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।অন্য দিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদে দোলা সেনের জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। অর্থাৎ একই রদবদলে তৃণমূল দুটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারম্যানের পদ হারাল। একটি পদ গেল বিজেপির হাতে, অন্যটি গেল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রীর হাতে।তবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ সাংসদপদ এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। তৃণমূলের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। লোকসভার সচিবালয় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তাঁদের সাংসদপদ বাতিল হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।ফলে এক দিকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তৃণমূলের দুই চেয়ারম্যান পদ হাতছাড়া হওয়া, অন্য দিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির দায়িত্ব পাওয়া এবং একই সময়ে বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ নিয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকাসব মিলিয়ে সংসদে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মেয়েদের পর ছেলেরাও সোনা! মালয়েশিয়াকে ৫-১ উড়িয়ে ইতিহাস, অলিম্পিকের টিকিটও পাকা ভারতের

৪৪ বছর পর মেয়েদের হকিতে সোনা এসেছিল। এ বার পুরুষদের দলও সেই পথেই ইতিহাস গড়ল। মালয়েশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে পুরুষ হকির সোনা ধরে রাখল ভারত। শুধু সোনাই নয়, এই জয়ের সঙ্গে ২০২৮ সালের অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতাও অর্জন করল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম একই আসরে ভারতের পুরুষ ও মহিলা হকি দল দুটিই সোনা জিতল। পুরুষ হকিতে পরপর দুবার সোনা জেতার নজিরও এই প্রথম ভারতের।শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। তবে বেশিক্ষণ সেই ব্যবধান থাকেনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে সমতা ফেরায় মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আবার ভারতকে এগিয়ে দেন যুগরাজ সিং। ২৩ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকেই আসে সেই গোল।বিরতির পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিল ভারত। ৪২ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ব্যবধান বাড়ান হার্দিক সিং। এর পর ৫৪ মিনিটে শিলানন্দ লাকরা গোল করে ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্কোর ৫-১ করেন হরমনপ্রীত। ১৪টি পেনাল্টি কর্নার পেলেও ভারত তার মধ্যে তিনটি কাজে লাগাতে পেরেছে। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিয়েই সোনা নিশ্চিত করে ভারত।হকির পাশাপাশি কুস্তিতেও সোনা এসেছে। পুরুষদের ৫৭ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগে উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আমন সেহরাওয়াত। এক সময় এগিয়ে থেকেও পরে পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় কুস্তিগির। এই বিভাগে এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রথম সোনা এনে দিয়েছেন আমন। অন্য দিকে মহিলাদের ৫৩ কেজিতে রুপো পেয়েছেন অন্তিম পাঙ্ঘাল। পুরুষদের ৯৭ কেজিতে ব্রোঞ্জ জিতেছেন দীপক পুনিয়া।তিরন্দাজিতেও ইতিহাস তৈরি হয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভ বিভাগে সোনা জিতেছেন কুমকুম মহোদ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ সেটের পর লড়াই ৫-৫ সমতায় শেষ হয়। শুট-অফে নিখুঁত ১০ পয়েন্ট তুলে সোনা নিশ্চিত করেন কুমকুম। এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজ তিনি। পুরুষদের রিকার্ভে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন নীরজ চৌহান।গলফেও এল ঐতিহাসিক সাফল্য। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে ১৫ আন্ডার ২৬৫ স্কোর করে সোনা জিতেছেন প্রণবী উরস। এশিয়ান গেমসে এই বিভাগে ভারতের প্রথম সোনা এটি। দলগত বিভাগেও রুপো পেয়েছে ভারত।দিনের শেষে ক্রিকেটেও সোনার মুকুট পেল ভারত। পুরুষদের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে। অভিষেক শর্মা ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তিলক বর্মা ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন। জবাবে পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থেমে যায়। হাসান নওয়াজ ৫১ বলে ৯৬ রান করে শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেও পাকিস্তানকে জেতাতে পারেননি।এর ফলে এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের দুই সোনাই এ বার ভারতের দখলে। মহিলা দলও আগে সোনা জিতেছিল। হকি এবং ক্রিকেটের পাশাপাশি কুস্তি, তিরন্দাজি ও গলফে সাফল্য মিলিয়ে শেষ দিনে ভারতের সোনার সংখ্যা এক ধাক্কায় বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২১টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৭টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ৮৫টি পদক নিয়ে এশিয়ান গেমস শেষ করেছে ভারত। পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

এস্তেভাঁও-পেদ্রো-লিনোর গোলের ঝড়, তবু ভারতকে নিয়ে কেন আলোচনা? ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুবভারতীর ম্যাচে চমক

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ। ফল অবশ্য ভারতের পক্ষে গেল না। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলে হারাল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এস্তেভাঁও, পেদ্রো এবং স্যামুয়েল লিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে কার্লো আনচেলোত্তির দল। তবে স্কোরলাইন যতই একপেশে হোক, ভারতের ফুটবলাররা বেশ কিছু সময়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলেছেন এবং একাধিক গোলের সুযোগও তৈরি করেছিলেন।বিশ্ব ক্রমতালিকায় ব্রাজিল পঞ্চম এবং ভারত ১৩৮ নম্বরে। ফলে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। ভারতের সামনে ছিল দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নিজেদের পরীক্ষা করার বিরল সুযোগ। শেষ পর্যন্ত হার এলেও ম্যাচের শুরুতে ভারত যথেষ্ট লড়াই করেছে। ব্রাজিল প্রথম গোল পায় ২৮ মিনিটে। এস্তেভাঁওয়ের বাঁ পায়ের শটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ৪২ মিনিটে পেদ্রো ব্যবধান বাড়ান। প্রথমার্ধ শেষ হয় দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই।দ্বিতীয়ার্ধে ভারত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ব্রাজিলের আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বদলি হিসেবে নামা স্যামুয়েল লিনো ৫৮ মিনিটে তৃতীয় গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় ৪-০ করেন তিনি। ফলে বড় ব্যবধানে ম্যাচ শেষ হলেও ভারতের লড়াইয়ের কয়েকটি মুহূর্ত আলাদা করে নজর কেড়েছে।ভারতের আক্রমণেও সুযোগ এসেছিল। মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামস গোল করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু ব্রাজিলের রক্ষণ এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি তাঁরা। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভারত আক্রমণে উঠেছে এবং শুধু নিজেদের অর্ধে আটকে থাকেনি।রক্ষণেও আনোয়ার আলি ও আকাশ মিশ্রকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দায়িত্ব সামলাতে দেখা যায়। ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা থাকলেও ভারত শুরুতে তাঁদের গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুও একাধিক বার ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকান।এই ম্যাচে ভারতীয় গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলেরও আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়। ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলাটাই তাঁর কাছে বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। ভারতের কোচ খালিদ জামিলের কৌশল নিয়েও ম্যাচের আগে যথেষ্ট আলোচনা ছিল। পানামার বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের পর ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর দল কী ভাবে খেলবে, ছিল সেটাই বড় প্রশ্ন।ভারত শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি এবং চার গোল হজম করেছে। কিন্তু দেশের মাটিতে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও ম্যাচটিকে ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।ফল ভারতের পক্ষে নয়, সেটাই সত্যি। কিন্তু যুবভারতীর সেই সন্ধ্যায় ব্রাজিলের মতো বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে ভারতের ফুটবলাররা যে লড়াইয়ের কিছু ছবি রেখে গেলেন, সেটাই এখন আলোচনার অন্যতম বিষয়। ০-৪-এর স্কোরলাইন তাই ম্যাচটির পুরো গল্প বলে না।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ককপিটে হামলার পর যাত্রীরাই ধরলেন সহ-পাইলটকে! তারপর তাঁকে ছেড়ে দিতে কেন চাপ এসেছিল?

মাঝ আকাশে ককপিটে হামলা। তার পর যাত্রীদের তৎপরতায় আটক হলেন অভিযুক্ত সহ-পাইলট। তাঁকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে দাবি যাত্রীদের। কিন্তু সেই সময় বিমানের অন্য কর্মীদের কয়েক জন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে অন্য কর্মীরা কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত চলছে।ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ককপিটের জরুরি কুঠার ব্যবহার করা হয়েছিল এবং অভিযুক্ত সহ-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।হামলার পর বিমানটি আচমকা নীচে নামতে শুরু করে। ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তখন কয়েক জন যাত্রী ভিতরে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ধরে ফেলেন। পরে তাঁকে বেঁধে রাখা হয় বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এই তৎপরতার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরে অন্য দুই পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।বিমানে থাকা দুই যাত্রী জিকা মানেস এবং ড্যানিয়েল স্লিখটার দাবি করেছেন, কয়েক জন যাত্রী মিলে হামামকে আটকেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, হেডফোনের তার এবং টেপ ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এর পর বিমানের অন্য কয়েক জন কর্মী এসে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কেন তাঁকে মুক্ত করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন ওই যাত্রীরা।এই দাবিই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুধু যাত্রীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিমানের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, এমন তথ্য এখনও নেই। ফ্লাইদুবাইয়ের ওই কর্মীরা কেন অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে যাত্রীরা দাবি করছেন, তা তদন্তের বিষয়।এদিকে হামাম আল-হামামির অতীত নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর আগে ওমানের বিমান সংস্থায় কাজ করার সময় তাঁর উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে উড়ান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর পরিচয় ও অতীত নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন দাবির সবটাই এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি।সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য, অভিযুক্ত সহ-পাইলটের অতীত এবং ঘটনায় আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।ফ্লাইদুবাই বিমানের এই ঘটনায় দ্রুত যাত্রীদের হস্তক্ষেপ এবং পরে অন্য পাইলটদের বিমান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনাই বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। কিন্তু অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে বেঁধে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্মীদের চাপ দেওয়ার যে দাবি যাত্রীরা করেছেন, সেটি তদন্তে কতটা সত্যি, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
কলকাতা

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় নামছে ককরোচ জনতা পার্টি? পুজোর পর কীসের প্রস্তুতি

দিল্লি, মুম্বইয়ের পর এবার কি কলকাতার রাস্তাতেও নামতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত এই কর্মসূচির দিনক্ষণ বা স্থান চূড়ান্ত হয়নি।এর আগে নিট পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে সেই কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি বলে দাবি। এবার এসআইআর এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কলকাতায় নতুন করে কর্মসূচি করার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর।সূত্রের খবর, কলকাতায় প্রস্তাবিত কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব। কোথায় এবং কবে সভা করা হবে, তা নিয়ে তৃণমূলের পাশাপাশি বাম ছাত্র সংগঠনের সঙ্গেও আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির তরফে অভিজিৎ দীপকেরা এই বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছেন বলে সূত্রের দাবি।এর মধ্যেই আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। ওই কর্মসূচিতে ইতিমধ্যেই বাম ছাত্র সংগঠনের সমর্থন মিলেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে দিল্লির পর কলকাতাতেও একই ধরনের কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।তবে কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রস্তাবিত কর্মসূচিতে তৃণমূলের সাহায্যের খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে সিপিএম। সংগঠনের এই উদ্যোগকে ঘিরে বামেদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, স্যান্ডো গেঞ্জির আবার বুকপকেট। ওদের দলে কতজন আছে যে সহযোগিতা করবে। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে নিট আন্দোলন থেকে শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতে এসএফআই সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে। কলকাতায় কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বও কথা বলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ফলে দুর্গাপুজোর পর কলকাতায় ককরোচ জনতা পার্টির আদৌ কোনও সভা হয় কি না, হলে তাতে কারা যোগ দেন এবং এসআইআর ও জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিকে সামনে রেখে কী কর্মসূচি নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বারবার ধসে বন্ধ শিলিগুড়ি-সিকিমের পথ! এবার বদলে যাবে দশ নম্বর জাতীয় সড়ক, তৈরি হবে সুড়ঙ্গ-উঁচু সেতু

বর্ষা এলেই ধস, কখনও মাটি বসে যাওয়া, আবার কখনও যানজটে থমকে যায় পাহাড়ের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার অন্যতম প্রধান পথ দশ নম্বর জাতীয় সড়কের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ শুরু হল। রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার রাস্তার আমূল উন্নয়নের জন্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার প্রকল্পের দরপত্র ডেকেছে জাতীয় সড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে রাস্তা চওড়া করার পাশাপাশি একাধিক সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধসপ্রবণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দশ নম্বর জাতীয় সড়কের রংপো থেকে রানিপুল অংশটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫.৮৭ কিলোমিটার। বর্তমানে এই রাস্তার একাধিক অংশ বর্ষায় ধস এবং মাটি বসে যাওয়ার সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন প্রকল্পে বর্তমান রাস্তা দুই লেনে উন্নীত করা হবে। রাস্তার দুপাশে পাকা অংশও রাখা হবে। পাশাপাশি ধসপ্রবণ এবং মাটি বসে যাওয়ার এলাকাগুলিতে প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এই প্রকল্পে একাধিক সুড়ঙ্গ এবং উঁচু সেতুপথ তৈরির পরিকল্পনা। পাহাড়ের যে অংশগুলিতে রাস্তা বারবার ধসের কবলে পড়ে বা মাটি বসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নতুন পরিকাঠামোর মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে। ফলে প্রকল্পটি শুধু রাস্তা চওড়া করার কাজ নয়, বরং গোটা রংপো-রানিপুল পথের পরিকাঠামো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা।এই প্রকল্পের জন্য দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর। ৬ নভেম্বর থেকে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত তা জমা দেওয়া যাবে। ১৭ নভেম্বর দরপত্র খোলার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্রয় ও নির্মাণ পদ্ধতিতে করার পরিকল্পনা হয়েছে। সরকারি নথিতে কাজের সময়সীমা ৪৭৪৫ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা দীর্ঘদিন ধরেই দশ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই রাস্তা শুধু সিকিম বা কালিম্পংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ, পর্যটন, পণ্য পরিবহণ এবং সীমান্ত এলাকার অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।বর্ষায় দশ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নামলে সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী থেকে পণ্যবাহী গাড়িসবাইকে তার প্রভাব সামলাতে হয়। সেই কারণে নতুন প্রকল্পে রাস্তার নিরাপত্তা এবং সারা বছর যোগাযোগ সচল রাখার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সরকারি দরপত্রের নথিতে প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য ৭০৬ কোটি ৬৩ লক্ষ ৪০ হাজার ১৮৭ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দরপত্রের কাজের বিবরণে দুই লেনের রাস্তা, পাকা পাশের অংশ, সুড়ঙ্গ, উঁচু সেতুপথ এবং ধস ও মাটি বসে যাওয়ার প্রবণ এলাকার চিকিৎসার কথা স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপো থেকে রানিপুল পর্যন্ত দশ নম্বর জাতীয় সড়কের চেহারা অনেকটাই বদলে যেতে পারে। পাহাড়ি পথে ধসের ঝুঁকি কমানো, যান চলাচল আরও মসৃণ করা এবং সিকিমের সঙ্গে সমতলের যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

অক্টোবর ০৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal