• ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Sir

দেশ

৮৫০৫ অফিসার মঙ্গলবার হাজিরা দেবেন? রাজ্যকে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে টানাপোড়েন পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। কমিশনের অভিযোগ ছিল, রাজ্য পর্যাপ্ত অফিসার দিচ্ছে না। সোমবারের শুনানির আগেই রবিবার রাজ্য সরকার কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানায়, অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল করার এক্তিয়ার নিয়েও একাধিক মামলা দায়ের হয়।সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে সেই সব মামলার শুনানি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা যে মামলা করেছে, তার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন ছিল, যে সংগঠন মূলত মন্দিরের দেখভাল করে, তাদের সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক কোথায়। একসঙ্গে অনেকে কথা বলায় এদিন বিরক্তিও প্রকাশ করেন তিনি।রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। তিনি জানান, আনম্যাপড ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৩২ লক্ষ। বাকি ভোটারদের লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে ডাকা হয়েছে। মোট ১.৩৬ কোটি মানুষকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। শুধু বানান ভুলের কারণেই প্রায় ৫০ শতাংশ ভোটারকে তলব করা হয়েছে বলে তিনি জানান।নির্বাচন কমিশনের দাবি, অফিসার চেয়ে রাজ্যকে পাঁচ বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য, আদালতে আসার পরই তারা এই দাবি জানতে পেরেছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানতে চান, ৮৫০৫ জন অফিসার মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছে রিপোর্ট করতে পারবেন কি না এবং তাঁদের নামের তালিকা কমিশনকে দেওয়া হয়েছে কি না। কমিশনের আইনজীবী জানান, কোনও নামের তালিকা তারা পাননি। তখন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, শুধু সংখ্যা পাঠালে হবে না, অফিসারের নাম, পদ এবং সমস্ত তথ্য দিতে হবে।প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, চার বা পাঁচ তারিখেই তালিকা দেওয়া যেত। এ নিয়ে অযথা বিতর্ক চাই না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্য জানায়, কোথায় কত অফিসার দরকার, তা জানতে সময় লেগেছে।রাজ্যের তরফে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, রাজসাহিত্য সংস্থা থেকে কর্মীদের এনে মাইক্রো অবজার্ভার করা হয়েছে এবং কমিশন কখনও গ্রুপ-বি অফিসার চায়নি। কমিশনের পাল্টা দাবি, এসডিএম বা এসডিও র্যাঙ্কের অফিসার চেয়ে একাধিক চিঠি দেওয়া হয়েছে।ইআরও ও মাইক্রো অবজার্ভারদের ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই, মাইক্রো অবজার্ভাররা নন। তিনি কড়া ভাষায় জানান, প্রয়োজনে আদালত নির্দেশ দেবে, কিন্তু কোনও অবস্থাতেই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাধা বরদাস্ত করা হবে না।আদালতের নির্দেশে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে স্ক্রুটিনির জন্য, অর্থাৎ রাজ্যে এসআইআর-এর সময়সীমা বাড়ানো হল। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে ৮৫০৫ জন অফিসারকে ইআরও-র কাছে রিপোর্ট করতে হবে। সমস্ত তথ্য যাচাই করে নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে, কাকে নিয়োগ করা হবে আর কাকে নয়। শেষ সিদ্ধান্ত ইআরও-র হাতেই থাকবে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর শুনানিতে নাটকীয় মোড়, হঠাৎ নিয়ম বদলে ডোমিসাইল মানল কমিশন

এসআইআর শুনানির একেবারে শেষ পর্বে এসে নিয়ম বদলাতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের লাগাতার চাপের মুখে এবার থেকে কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির পাশাপাশি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্স সার্টিফিকেটকেও প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। শনিবার এই সিদ্ধান্তের কথা রাজ্য নির্বাচনী দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।তবে এই ক্ষেত্রে শর্তও স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের সই করা ডোমিসাইল সার্টিফিকেটই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্য কোনও আধিকারিকের সই করা শংসাপত্র নথি হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে না। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় এই নতুন সংযুক্তি নিঃসন্দেহে বহু ভোটারের কাছে বড় স্বস্তির খবর।এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের একাধিক নির্দেশিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য যে নথিগুলির তালিকা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড কিংবা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট না থাকায় বিতর্ক তৈরি হয়। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর প্রশ্ন ছিল, বিহারে এসআইআর চলাকালীন যদি ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হয়ে থাকে, তবে বাংলায় তা করা হচ্ছে না কেন।এই একই প্রসঙ্গ ওঠে সুপ্রিম কোর্টেও। গত বুধবার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সওয়াল করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের চাপ এবং বিহার ও বাংলার জন্য আলাদা নিয়ম করা নিয়ে সমালোচনার মুখেই শুনানির শেষ দিনে এসে নিয়ম বদলাতে বাধ্য হল নির্বাচন কমিশন।ডোমিসাইল সার্টিফিকেট হল স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অনুমোদিত আধিকারিকদের দেওয়া শংসাপত্র। সাধারণত যাঁরা অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে একই এলাকায় বসবাস করছেন, তাঁরাই এই সার্টিফিকেট পাওয়ার যোগ্য। এই নথিতে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের সই থাকে।উল্লেখযোগ্য ভাবে, ২০২৫ সালে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকেই প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে তা বাদ দেওয়ায় বহু ভোটারকে নথি জোগাড় করতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। আজ, ৭ ফেব্রুয়ারি, শুনানির শেষ দিনে কমিশনের তরফে জানানো হল, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট এবার গ্রহণযোগ্য হবে। কয়েকটি জেলায় এখনও শুনানি শেষ হয়নি। সেই জেলাগুলিতে যদি শুনানির সময় বাড়ানো হয়, তবে ওই অতিরিক্ত সময়ে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন ভোটাররা।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
কলকাতা

সময় ফুরোল, কাজ বাকি! ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছোল, বড় ঘোষণা কমিশনের

নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের একাধিক জায়গায় এখনও ভোটার তালিকার কাজ অসম্পূর্ণ। কোথাও শুনানি শেষ হয়নি, আবার কোথাও নথি আপলোডের কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় বাড়াল নির্বাচন কমিশন।শনিবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি জানান, আপাতত আরও সাত দিন শুনানির কাজ চলবে, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ওই দিনই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। তবে সময় বাড়ানোয় সেই তালিকা প্রকাশও পিছিয়ে যাচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, ধাপে ধাপে সমস্ত কাজ শেষ করে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার পরেই বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্বে এসে দেখা যায়, বেশ কিছু জেলায় এখনও ভোটারদের নথি যাচাই এবং শুনানির কাজ শেষ করা যায়নি।এই কারণেই কয়েকটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন জানান। শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন মেনে নেওয়া হয়েছে। ফলে শুনানির সময় যেমন বাড়ল, তেমনই পিছোল চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও।এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও শুনানির কাজ বাকি রয়েছে। তবে মোট কাজের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। খুব বেশি কাজ বাকি নেই বলেই জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী সাত দিনের মধ্যেই সব শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে।চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ফেব্রুয়ারির শেষে যাবে কি না, এই প্রশ্নে তিনি জানান, শুনানির কাজ শেষ হলে তার পর আরও কয়েক দিন সময় লাগবে তথ্য চূড়ান্ত করতে। সেই হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
রাজ্য

জীবিত ভোটারকে মৃত! বাদুড়িয়ায় ভোটার তালিকা ঘিরে তুমুল বিতর্ক

শনিবার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্বের শেষ দিনে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় উঠল গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ, ৩৩ জন জীবিত ভোটারকে মৃত দেখিয়ে ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। ঘটনার প্রতিবাদে বিডিও অফিসে বিক্ষোভ দেখান ভোটাররা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।জানা গিয়েছে, চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যানা গ্রামের ৪৫ নম্বর বুথ এবং যশাইকাটি-আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০ নম্বর বুথে এই ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, মোট ৩৩ জন ভোটারের নাম ফর্ম ৭ ব্যবহার করে মৃত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তাঁরা সকলেই জীবিত। বিক্ষোভকারী ভোটারদের দাবি, কোনও রকম নোটিস বা যাচাই ছাড়াই তাঁদের নামের পাশে মৃত লেখা হয়েছে। এতে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় তৃণমূল নেতা মেহেবুর আলম বলেন, সামনে নির্বাচন। এসআইআর প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে জীবিত ভোটারদের মৃত দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, শুনানি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিজেপি বুথ সভাপতির মণ্ডলের বিরুদ্ধে বাদুড়িয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূলই এসআইআর প্রক্রিয়া বানচাল করতে এই অভিযোগ তুলছে। এই প্রসঙ্গে বাদুড়িয়া ব্লকের বিডিও পার্থ হাজরা জানান, কয়েকজন ভোটার লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে, এই ঘটনায় নির্বাচনী আধিকারিকদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে। গোটা ঘটনার বিস্তারিত জানতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে গাইঘাটার ধরমপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাইগাছি ১৪৮ নম্বর বুথেও। সেখানে ৬ জন জীবিত ভোটারকে মৃত দেখিয়ে ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিএলওর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে পারেন ভোটাররা। সত্তরোর্ধ্ব আকবর মণ্ডল, হানিফ মণ্ডল, মছিম মণ্ডল, ফতেমা বিবি, নুরজাহান বিবি ও রহিমা বিবিরা জানান, তাঁরা নিয়মিত ভোট দেন। অথচ হঠাৎ জানতে পারেন, তাঁদের মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতারা কাগজে কলমে তাঁদের মৃত বানাতে চাইছেন।

ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬
দেশ

সুপ্রিম কোর্টে ইতিহাস! বিচারপতির সামনে নিজেই সওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর

সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে বেলা ১টার কিছু পর শুরু হয় এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি। নজিরবিহীন ভাবে শুরু থেকেই শুনানিতে হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তাঁর মামলার পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবীরাই। সেই সময় সামনের সারিতে বসেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি আসন বদলে একেবারে সামনের সারিতে এসে বসেন।শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। মামলাকারী কবি জয় গোস্বামীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান। আগের দিনের আদালতের নির্দেশ কী ছিল, তা পড়ে শোনানো হয়। শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একটি নোট জমা দেওয়া হয়। বিচারপতিদের অনুরোধ করা হয়, সেই নোটটি দেখার জন্য। পাশাপাশি আবেদন জানানো হয়, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কারণে কেন এবং কোন ভিত্তিতে ভোটারদের ডাকা হচ্ছে, সেই তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করা হোক।রাজ্যের তরফে আদালতকে জানানো হয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য এখনও ১১ দিন বাকি। ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে। কিন্তু এখনও প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি রয়েছে। চার দিনের মধ্যে এই শুনানি শেষ করতে হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের শুনানি করতে হবে। রাজ্যের দাবি, সাধারণ মানুষ চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, যার ফলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।এই অবস্থার মধ্যেই সওয়াল করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কপিল সিব্বলের সওয়ালের মাঝেই তিনি নিজে বক্তব্য রাখতে চান। বিচারপতিরা তাঁকে কথা বলার সুযোগ দেন। সেই সুযোগ পেয়ে বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। এই দৃশ্য দেখে গোটা দেশ কার্যত এক অভূতপূর্ব মুহূর্তের সাক্ষী থাকে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে প্রশ্ন, আদালতে মমতার পক্ষে জোরালো সওয়াল

সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে বুধবার শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি। নজিরবিহীন ভাবে এই শুনানিতে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও আপাতত মমতার মামলায় সওয়াল করছেন তাঁর আইনজীবীরাই।শুনানি শুরুর সময় প্রথমে সামনের সারিতে বসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কিছুক্ষণ পরেই তিনি নিজের আসন বদলে এজলাসের একেবারে সামনের সারিতে এসে বসেন। শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত রয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতে মমতার পক্ষে সওয়াল করছেন আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান।আইনজীবীরা আদালতে গত দিনের নির্দেশ পাঠ করে শোনান। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে একটি নোট জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। সেই নোটটি বিচারপতিদের দেখার জন্য আবেদন জানান আইনজীবীরা। তাঁদের আর্জি, এই নোট অনলাইনে প্রকাশ করা হোক।আইনজীবীদের বক্তব্য, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে কেন এবং কোন যুক্তিতে ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, তা স্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এই তথ্য সামনে এলে সাধারণ মানুষের বিভ্রান্তি কমবে বলেই আদালতে জানানো হয়।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

শুনানির আগেই সুপ্রিম কোর্টে নতুন মামলা মমতার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় দাবি

এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি বুধবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা। সেই শুনানিতে জনতার হয়ে নিজে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শুনানির আগেই শীর্ষ আদালতে আরও একটি নতুন মামলা দায়ের করলেন তিনি। এই নতুন মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর মূল আবেদন, অবিলম্বে ভোটারদের নাম বাতিল করার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হোক।আবেদনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের বানান সংক্রান্ত অসঙ্গতির জন্য বহু ভোটারকে অকারণে শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের নোটিস অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক। তাঁর দাবি, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি রয়েছে এবং আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এই অবস্থায় নামের বানান নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে সাধারণ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার হবেন বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, যেসব ভোটারের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন যেন আধার কার্ডকে তথ্যপ্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাঁরা ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছেন, তাঁদের শুনানিতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হোক।এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত মাইক্রো অবজার্ভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে মামলায়। মমতার বক্তব্য, রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত নজরদারির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলা হচ্ছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই সব মামলার শুনানি হওয়ার কথা। তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলাও একই দিনে শোনা হবে। কবি জয় গোস্বামীর করা মামলাও সেই তালিকায় রয়েছে।আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলবেন। সেই অনুযায়ী বুধবার সকাল ঠিক ১০টার কিছু পরে তিনি শীর্ষ আদালতে পৌঁছন। শুনানির আগেই তাঁর নতুন মামলার দায়ের হওয়া ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
দেশ

কালো গাউনে সুপ্রিম কোর্টে মমতা? এসআইআর শুনানিতে নজির গড়ার সম্ভাবনা

এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি এখন পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এই মামলায় প্রয়োজনে নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি উপস্থিত থাকবেন, এমন ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। সূত্রের খবর, এদিন তাঁকে আইনজীবীর কালো গাউন পরেই দেখা যেতে পারে।এই সম্ভাবনার মাঝেই তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ঘিরে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, নীল পাড় সাদা শাড়ি পরে এক মহিলা সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি দিয়ে উঠছেন, গায়ে আইনজীবীর কালো গাউন। ছবির মাধ্যমে যে মুখ্যমন্ত্রীকেই বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূল শিবিরে কোনও সংশয় নেই। ছবির উপরে লেখা রয়েছে, শয়তানের উকিল বনাম জনতার উকিল।এসআইআর নিয়ে বাংলার মানুষকে অন্যায়ভাবে হেনস্তা করা হলে কাউকে ছাড়া হবে না বলে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাঁর সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এসেছে।বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি রয়েছে। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের দায়ের করা মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এক নম্বর কোর্টে শুনানির তালিকায় রয়েছে ২১ নম্বরে। একই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে যে পিটিশন দায়ের করেছেন, তা রয়েছে ৩৭ নম্বরে। কবি জয় গোস্বামীর মামলাটি রয়েছে ৩৬ নম্বরে।আইন সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন পোর্টাল বার অ্যান্ড বেঞ্চ জানিয়েছে, বুধবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি গেট পাস ইস্যু করা হয়েছে। তিনি জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান এবং সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়পত্রও ইতিমধ্যেই মিলেছে। ফলে এদিন তাঁর উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত।তবে তিনি আদৌ নিজে সওয়াল করবেন কি না, তা নিয়ে আইনি মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে হলে বার কাউন্সিলের সদস্য হওয়া এবং হাই কোর্টে অন্তত তিন বছরের প্র্যাকটিসের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যোগেশচন্দ্র ল কলেজ থেকে আইন পাশ করেছেন এবং আশির দশকে কিছুদিন আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসও করেছিলেন। কংগ্রেস নেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে তিনি নিম্ন আদালতে সওয়াল করেছিলেন বলেও জানা যায়।দীর্ঘদিন কোর্ট চত্বর থেকে দূরে থাকার পর আজ সত্যিই তাঁকে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এসআইআর মামলার শুনানিকে ঘিরে গোটা দেশের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই।

ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬
কলকাতা

ইতিহাস গড়তে চলেছেন মমতা? এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করার জল্পনা

এসআইআর মামলায় প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে নিজেই সওয়াল করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক দিন আগেই তিনি সে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই সম্ভাবনাই কি বাস্তব হতে চলেছে বুধবার? মঙ্গলবার এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রারের কাছে সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, মামলার আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন। তবে তাঁর সঙ্গে কতজন নিরাপত্তারক্ষী থাকবেন, সেই বিষয়েও আলাদা করে অনুমতির আবেদন জানানো হয়েছে। এই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স চাওয়াতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি সত্যিই শীর্ষ আদালতে নিজে সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী।নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে কোনও নথিভুক্ত আইনজীবী অথবা মামলার আবেদনকারী নিজে সওয়াল করতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের নথিভুক্ত আইনজীবী নন। তবে এসআইআর ইস্যুতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্যের সিইও দফতরের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। সেই কারণে আবেদনকারী হিসেবে তাঁর সওয়াল করার আইনি সুযোগ রয়েছে।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বুধবার রাজ্যের এসআইআর মামলায় চাইলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেই বক্তব্য রাখতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা করা হয়নি। তবু নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমতির আবেদন জমা পড়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে।এই মুহূর্তে দিল্লিতেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার তিনি নির্বাচন সদনে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় বৈঠক চলার পর বাইরে এসে মমতা অভিযোগ করেন, তাঁদের অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছেন বলে জানান তিনি।এই আবহে বুধবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর মামলায় আবেদনকারী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, তিনি সত্যিই সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে নিজে সওয়াল করেন কি না।

ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা শুনানিতে হইচই, কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত কাউন্সিলরের

এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে শুনানি কেন্দ্রে হুলস্থুল কাণ্ড। অভিযোগের কেন্দ্রে কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পরিষদের সদস্য অসীম বসু। শরৎ বোস রোডের একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন তিনি সেখানে পৌঁছন। তারপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।গত কয়েক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, শুনানিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা নথি নিচ্ছেন, কিন্তু তার বদলে কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কাউন্সিলর অসীম বসু শুনানি কেন্দ্রে যান বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছেই তিনি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। এমনকী, রসিদ না দিলে কোনও নথি জমা না দিতে শুনানিতে আসা মানুষজনকে নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের দাবি, কাউন্সিলর এবং তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েক জন এভাবে শুনানি কেন্দ্রে ঢুকে পড়তে পারেন না। বিষয়টি শান্তভাবে আলোচনা করা যেত। তাঁদের আরও বক্তব্য, এই ঘটনার ফলে শুনানির কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং দেরি হচ্ছে।ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু বলেন, মানুষ কীভাবে প্রমাণ করবেন তাঁরা কোন কোন নথি জমা দিয়েছেন, যদি কোনও রসিদ না দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে নথি নেওয়ার পর রসিদ দিতে হবে। তা সত্ত্বেও কেন এই অনিয়ম চলছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রসিদ না দিলে প্রয়োজনে শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলেন কাউন্সিলর।এই ঘটনাকে ঘিরে ভবানীপুর এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
কলকাতা

ভবানীপুরে গোপন বৈঠক মমতার, এসআইআর নিয়ে কড়া নির্দেশ বিএলএদের

এক মাসের ব্যবধানে ফের দলীয় বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আগের বারের মতো রাজ্যের সমস্ত বিএলএ নয়, এ বার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের কাউন্সিলর ও বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়েই রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন তিনি। শুক্রবারের এই বৈঠকে মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এসআইআর বা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া।দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত কাউন্সিলর ও বিএলএদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব ভোটারকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যুক্তিগত অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে, শুধুমাত্র তাঁদেরই বিস্তারিত তালিকা দিতে হবে। মমতা স্পষ্ট করে জানান, সামান্য ভুল বা তথ্যগত ত্রুটির জন্য যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে বা যাঁদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, সেই নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম-ঠিকানা ও নথি বিএলএদের হাতে থাকতে হবে।উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে এসআইআর সংক্রান্ত প্রায় সব নোটিসেই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি শব্দবন্ধ ব্যবহার করছে। এই শব্দের আড়ালে যাতে অকারণে ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে, সে বিষয়েই বিএলএদের সতর্ক থাকতে বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।রাজনৈতিক ভাবে ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর এই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেই বিপুল লিডে জয় পান তিনি। বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধান তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ওয়ার্ডের লিডই আবার তাঁকে ক্ষমতার শীর্ষে ফিরতে সাহায্য করেছিল।নতুন করে ভোটের আবহে বাংলার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এসআইআর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শেষ হলে ভবানীপুরে আর তৃণমূল এত বড় লিড পাবে না। এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই শুভেন্দু মন্তব্য করেছিলেন, ভবানীপুর কখনওই তৃণমূলের নিরাপদ আসন নয়। তাঁর দাবি ছিল, ভবানীপুরে সংখ্যালঘু ভোটার মাত্র ২০ শতাংশ এবং চেতলার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই প্রায় ১৭ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর-এ বাংলাদেশি সংখ্যালঘুদের নাম বাদ গেলে সেই লিড আর থাকবে না বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।এসআইআর প্রক্রিয়া যখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই ভবানীপুরের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইচ্ছাকৃত ভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এর পিছনে কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাউন্সিলর ও বিএলএদের স্পষ্ট ভাবে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও রকম গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর বিতর্কে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন কবি জয় গোস্বামী

পদবি সংক্রান্ত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে তৈরি হওয়া গোলযোগ এবার পৌঁছে গেল সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। জানা গিয়েছে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে মামলাটি দায়ের করেছেন কবি জয় গোস্বামী নিজেই। এত দিন এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন খোদ কবি। ফলে এসআইআর ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বুদ্ধিজীবীদের একাংশ দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় জয় গোস্বামীর নাম রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই তালিকায় রয়েছে তাঁর মেয়ের নামও। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল না থাকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কথা তুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়। গত ২ জানুয়ারি তিনি প্রয়োজনীয় নথিও জমা দিয়েছেন।এই বিষয়টি নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আজ যদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেঁচে থাকতেন, তাঁকেও হয়তো এসআইআরের লাইনে দাঁড় করানো হত।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। তাঁর মন্তব্য, প্রতিদিন নতুন করে আবেদন জমা পড়ছে এবং তাতে গোটা প্রক্রিয়াটাকেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। শুনানিতে আইনজীবী জানান, বাংলায় পদবীর নানা রকম বানানের কারণে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেমন মুখার্জি ও মুখোপাধ্যায়এই ধরনের পার্থক্যের জন্যই অসঙ্গতি দেখা দিচ্ছে। এমনকি আধার কার্ডও অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।বাংলার এসআইআর সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হলেও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারিই এই মামলার শুনানি হবে। অর্থাৎ আগেই যে দিন ধার্য ছিল, সেই দিনেই বিষয়টি শুনবে শীর্ষ আদালত।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
রাজ্য

এসআইআরের শুনানিতে ত্বহা সিদ্দিকী! বেরিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ভোটে জবাবের হুঁশিয়ারি

এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস থেকে বাদ পড়লেন না ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীও। মঙ্গলবার শুনানিতে হাজির হয়ে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। ত্বহার দাবি, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও আধিকারিকরা সেগুলি দেখে শুধু মুচকি হেসেছেন। তাঁর কথায়, শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এই হয়রানির জবাব যে ভোটেই মিলবে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।শুনানির নোটিস পেয়ে এ দিন নির্ধারিত সময়েই হাজির হন ত্বহা সিদ্দিকী। বাইরে বেরিয়ে তিনি বলেন, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে, আর রাজনৈতিক দলগুলি পরস্পরের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে। তাঁর মন্তব্য, বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরোধী হলেও বাস্তবে তারা একই খেলায় নেমেছে। একজন কামড়াচ্ছে, আর একজন সেই কামড় সারানোর ভান করছেএভাবেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন তিনি।পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ টেনে ত্বহা বলেন, তাঁর পরিবারের ইতিহাস শুধু এই রাজ্য নয়, দেশের বাইরেও বহু মানুষ জানেন। তবুও তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মুসলিমদের লক্ষ্য করেই বেশি করে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। কারণ বিজেপির ধারণা, মুসলিমরা তাদের ভোট দেয় না। ত্বহার দাবি, তাঁরা কোনও দলকেই অন্ধভাবে সমর্থন করেন না। যে দল উন্নয়ন করে, তার পাশেই থাকেন।ত্বহা আরও বলেন, ভোটের আগে রাজনীতিকরা সাধারণ মানুষের খুব কাছে এসে যান, কিন্তু ভোট মিটে গেলেই তাঁদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মানুষ এর জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সেই জবাব কোন দল পাবে, বিজেপি না তৃণমূলসে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পীরজাদা।শুনানির অভিজ্ঞতা নিয়ে ত্বহা জানান, তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি। তাঁর কথায়, তিনি সমস্ত কাগজপত্র ঠিকঠাক রেখেই শুনানিতে গিয়েছিলেন। আধিকারিকরা নথি দেখে শুধু হাসছিলেন, কোনও প্রশ্নই করেননি। ত্বহার দাবি, আধিকারিকরাও চাপে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই গোটা পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে।

জানুয়ারি ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা বিতর্কে বড় ধাক্কা, বসিরহাটের বিডিও সাসপেন্ড

বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বসিরহাট উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও তথা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার সুমিত প্রতিম প্রধানকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে তাঁকে ভোটার তালিকা সংশোধনের সমস্ত কাজ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।রবিবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী ভট্টাচার্যকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত বিডিও বেআইনিভাবে ১১ জন অতিরিক্ত এআরও নিয়োগ করেছিলেন। কমিশনের মতে, ওই ধরনের নিয়োগ করার কোনও আইনগত ক্ষমতাই তাঁর ছিল না। তবু তিনি নিজে থেকেই নোটিস জারি করে শুনানি প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন।চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৩সি ধারা স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এই নিয়োগকে কমিশন অনিয়ম বলেই চিহ্নিত করেছে। শুধু তাই নয়, ওই বেআইনি ভাবে নিযুক্ত অতিরিক্ত এআরও-রা এতদিন যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা কাজ করেছেন, সেগুলিও সম্পূর্ণ বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।পাশাপাশি, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর এবং মুখ্যসচিবের কাছ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে।এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ টিভি৯ বাংলাকে বলেন, সুষ্ঠুভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর ক্ষেত্রে এই প্রথম কোনও কঠোর ও ইতিবাচক পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। তাঁর কথায়, নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, আর এটিই তার প্রথম ধাপ।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর ইস্যুতে নোবেলজয়ীর বক্তব্যে অস্বস্তিতে বিজেপি? রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। এর আগে তাঁকে এসআইআর সংক্রান্ত একটি নোটিস দেওয়া হয়েছিল, যা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল তীব্র চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই নোটিসের প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য ছিল, আইন সবার জন্যই সমান। এই আবহেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ অমর্ত্য সেন।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হলে তা অবশ্যই ভাল সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলায় সেই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর নিয়ে অযথা তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকলেও, তার আগে সাধারণ ভোটারদের নিজেদের ভোটাধিকার প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক অধিকারকে লঙ্ঘন করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।অমর্ত্য সেনের এই মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপি বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, অমর্ত্য সেনের কথার উত্তর দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। শুভেন্দুর বক্তব্য, তিনি সবসময় এই ধরনের কথা বলে থাকেন এবং তাঁর কথার বিশেষ গুরুত্ব নেই। আরও এক ধাপ এগিয়ে শুভেন্দু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অমর্ত্য সেন কোনও শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থান করেছেন বা কোনও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেনএমন উদাহরণ নেই। যাঁদের বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অবদান নেই, তাঁদের মন্তব্যের জবাব দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলার জন্য অবদান কী। দেবাংশুর দাবি, নোবেল পুরস্কার বুঝেশুনেই দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, যে বাঙালিরা স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের আজ নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে।এসআইআর ইস্যুতে অমর্ত্য সেনের মন্তব্য এবং তার পাল্টা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর শুনানিতে রাজ্যের মন্ত্রী! শশী পাঁজাকে নোটিস ঘিরে তোলপাড়

এ বার এসআইআর শুনানিতে হাজিরার নোটিস পেলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। নোটিস অনুযায়ী, রবিবার দুপুর দুটোর মধ্যে তাঁকে কেশব অ্যাকাডেমিতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শশী পাঁজার নাম থাকলেও শুনানিতে ডাকা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত ও বিরক্ত তিনি।শশী পাঁজা জানিয়েছেন, তিনি এনুমারেশন ফর্মে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ঠিকঠাকভাবে জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কোনও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে নয়, শুধুমাত্র অ্যাপের প্রযুক্তিগত গলদের জন্যই ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম ডিজিটালভাবে দেখাচ্ছে না। এই বিষয়টি জানার পর তিনি অবাক হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।রাজ্যে অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হয়েছে এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ। ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করতেই এই প্রক্রিয়া চলছে। ফর্ম জমা নেওয়ার পর এখন চলছে শুনানির পর্ব। নামের বানান, তথ্যের অমিল, ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বহু ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা দেব-সহ একাধিক পরিচিত মুখ এই শুনানির নোটিস পেয়েছেন। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্যের মন্ত্রীর নামও।এই প্রসঙ্গে শশী পাঁজা বলেন, তিনি ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু কমিশনের তড়িঘড়ি কাজের জেরে বিএলওদের ব্যবহৃত অ্যাপ ও সফটওয়্যারে একাধিক গলদ দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই প্রকৃত তালিকায় নাম থাকলেও অ্যাপে তা দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানান, আলাদা কোনও সুবিধা না নিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে হাজির হবেন।তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় তিনি সত্যিই অবাক। তাঁর কথায়, যখন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকেই এ ভাবে ডাকা হচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে, তা সহজেই বোঝা যায়। গোটা বিষয়টি তাঁর কাছে হাস্যকর বলেই মনে হয়েছে।এ দিকে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূলের আইটি সেলের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যও। তিনি একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন। দেবাংশু জানান, এখনও পর্যন্ত তিনি হাতে নোটিস পাননি। তবে তাঁর দাবি, ২০০২ সাল থেকে তাঁর ও পরিবারের সকলের নথিতে নামের বানান এবং মধ্যনাম এক রয়েছে। ফলে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির প্রশ্নই ওঠে না। নোটিস হাতে পাওয়ার পরই কেন ডাকা হয়েছে, তা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
রাজ্য

‘এখন যুদ্ধের সময়’—এসআইআর ইস্যুতে তৃণমূলকে রণসজ্জায় নামালেন অভিষেক

এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন বিনা যুদ্ধে এক চুল জমিও ছাড়তে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রণসজ্জা দেখে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। আদালত থেকে রাজপথ, সব জায়গাতেই সরব ঘাসফুল শিবির।ভোটার দিবসে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে পথে নামছে তৃণমূল। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ব্লকে মিছিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ব্লকে দুটি করে মিছিল হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বুথে বুথে ভোটরক্ষা কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আত্মতুষ্টির সময় নয়, এটি লড়াইয়ের সময়। আগামী ২২ দিন দলের কর্মীদের মাঠে নেমে মাটি আঁকড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কাজের ক্ষেত্রে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। সূত্রের খবর, দলের এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের প্রায় সব স্তরের নেতানেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বিধায়ক, সাংসদ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরের নেতারা যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ এই বৈঠকে ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। সেখানে একের পর এক স্পষ্ট বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এই বৈঠকে বিএলএ-টুদের সক্রিয় উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়েও এক চুল জমি ছাড়তে রাজি নয় তৃণমূল, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই বিধায়ক ও সাংসদদের উদ্দেশে কড়া নির্দেশ দেন অভিষেক। প্রয়োজনে নিজেদের খরচে ওয়ার রুম চালানোর কথাও বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অন্য দলের মতো তৃণমূল বিধায়ক বা সাংসদদের বেতন থেকে টাকা কাটে না। দল যখন সুযোগ দিয়েছে, তখন এখন ঝাঁপিয়ে পড়ার সময়।লজিক্যাল ডিক্রিপেন্সির তালিকায় থাকা প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ নাম যাতে কোনওভাবেই বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই নামগুলি আগের ভোটার তালিকায় ছিল, এখন সেগুলি লজিক্যাল ডিক্রিপেন্সিতে দেখানো হয়েছে। এই ভোটারদের নাম রক্ষা করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।আগামী পনেরো থেকে কুড়ি দিন ওয়ার রুম সক্রিয় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। দুদিনের মধ্যে ওয়ার রুম কার্যকর করতে বলা হয়েছে। তাঁর সাফ কথা, ওয়ার রুম চালু না থাকলে বিজেপির ষড়যন্ত্র কীভাবে ধরা যাবে।

জানুয়ারি ২৪, ২০২৬
কলকাতা

এসআইআর নিয়ে টানাপোড়েন! চূড়ান্ত তালিকা কি পিছোচ্ছে?

এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন মনে করছে, আগামী ৭ তারিখের মধ্যে সমস্ত শুনানি শেষ করা সম্ভব হবে না। ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের কথা ছিল, তা আরও অন্তত ১০ দিন পিছিয়ে যেতে পারে।এর মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, শুনানির অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত ভাবে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। গড়িমসি লক্ষ্য করেই কমিশনের তরফে ERO এবং AERO-দের সতর্ক করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুনানি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোর্টালে আপলোড হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বিশেষ করে আনম্যাপড এবং লজিক্যাল ডিক্রিপেন্সি সংক্রান্ত তথ্য প্রতিদিন আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, যদি এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য এখনও বাকি থাকে, তবে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই তা সম্পূর্ণ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
কলকাতা

বন্দ্যোপাধ্যায় না ব্যানার্জি? বানানেই বিপত্তি, শুনানিতে ডাক কেন—ব্যাখ্যা কমিশনের

ভোটার তালিকা সংশোধনের শুনানিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রান হতে হচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ হিসেবে সামনে আসছে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। নামের বানান, বাবা বা মায়ের নামের সঙ্গে মিল না থাকা কিংবা বয়সের ফারাকের মতো বিষয় নিয়ে ভোটারদের শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।এই বিষয়টি নিয়েই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, বাবার পদবি ব্যানার্জি আর ছেলের পদবি বন্দ্যোপাধ্যায় হলে সেটাকে কেন সমস্যা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এবার সেই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।সুব্রত গুপ্ত জানান, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা খুব বেশি হওয়ায় কমিশনের কাজের চাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বানানগত ভুলের কারণেই শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তবে এই সমস্যার মূল কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি।তাঁর কথায়, বন্দ্যোপাধ্যায় ও ব্যানার্জি একই পদবি হলেও বানানের পার্থক্যের কারণে কম্পিউটার সিস্টেমে তা আলাদা হিসেবে ধরা পড়ছে। একই ভাবে, কোথাও দেখা যাচ্ছে পদবি দে হলেও কেউ লিখছেন Dey, কেউ লিখছেন De। উত্তরবঙ্গে গিয়ে তিনি দেখেছেন, অনেক পদবিরই পাঁচ-ছয় রকম বানান রয়েছে। ফলে কম্পিউটারের পক্ষে তা মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণেই একাধিক ক্ষেত্রে ভোটারদের বারবার শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।তবে গোটা প্রক্রিয়াটি আরও বেশি সময় নিয়ে করা গেলে ভালো হত বলেও মনে করছেন সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, একটু বেশি সময় পেলে আরও ভেবে কাজ করা যেত। কিন্তু এপ্রিলের মধ্যেই ভোট হওয়ার কথা থাকায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব পরিকল্পনা করে কাজ করতে হয়েছে। তাঁর দাবি, সময় কম থাকলেও তথ্য অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটার তালিকা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! অশান্তি হলেই বন্ধ শুনানি, সময়সীমা বাড়াতে পারে কমিশন

এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ১৪ ফেব্রুয়ারির বদলে অন্তত আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে খবর। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জেলাশাসকদের উদ্দেশে এক বিশেষ ও কড়া নির্দেশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্দেশে বলা হয়েছে, শুনানি কেন্দ্রে অশান্তি তৈরি হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতে হবে শুনানি।সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া ও ইটাহার, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি চলাকালীন চরম বিশৃঙ্খলার ছবি সামনে এসেছে। কোথাও বচসা, কোথাও ধাক্কাধাক্কি, আবার কোথাও শুনানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এই সমস্ত ঘটনার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে তলব করা হয়েছে। এমনকি উত্তর দিনাজপুরের বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।এই আবহেই নিরাপত্তা নিয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, যদি শুনানি কেন্দ্রের পরিবেশ উত্তপ্ত হয় বা ভোটাররা ভয় পেয়ে সেখানে যেতে না পারেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে শুনানি বন্ধ করে দিতে হবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোনওভাবেই শুনানি পুনরায় শুরু করা যাবে না।কমিশন সূত্রে খবর, সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকায় এখন শুনানি শেষ করার ক্ষেত্রে অতটা তাড়াহুড়ো নেই। তার বদলে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আপাতত কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।উল্লেখ্য, তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসেই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানি করতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরেই নিরাপত্তা ইস্যুতে রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াল কমিশন।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী শনিবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। সেই সময় যাতে কোনও রকম অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, তার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।এই পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, শুনানি বন্ধ হলে ভোট পিছিয়ে যেতে পারে। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সেটাই চাইছে। পাল্টা তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

‘কোনও যোগ্য উপভোক্তা অন্নপূর্ণার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না', জন্মদিনে মোদীর গ্যারান্টিতে উচ্ছ্বাস মহিলাদের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলায় পালিত হল অন্নপূর্ণা দিবস। এই উপলক্ষে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের ১.৫৮ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য মহিলা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।এদিন কলকাতার সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাসের কিস্তির টাকা ১.৫৮ কোটি উপভোক্তার মধ্যে অধিকাংশের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।কোনও যোগ্য মহিলা যেন বঞ্চিত না হন, বার্তা মোদিরঅনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ১২ বছরে রাজ্যের মানুষের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা সময়মতো তাঁদের কাছে পৌঁছত না। আগের তৃণমূল সরকারের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন দরিদ্র পরিবারগুলি। তবে বর্তমানে বিজেপি সরকার আটকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।মোদির কথায়, বাংলার মহিলাদের হাতে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন, তেমনই এগিয়ে যাওয়ার সাহসও থাকা দরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে অন্নপূর্ণা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, কোনও মায়ের কাছে এই ৩ হাজার টাকা সন্তানের পড়াশোনার খরচ হতে পারে। কোনও বোনের কাছে তা ওষুধ কেনা কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কাজে লাগতে পারে। পরিবারের ছোট-বড় নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি মহিলারা সংসারের একাধিক দায়িত্ব সামলান। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চিন্তা কমলে তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মা, বোন ও মেয়েদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের সমস্যার সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের জীবনে নতুন শক্তি যোগ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রকল্পে কোনও মধ্যস্থতাকারী বা কাটমানি নেই বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, একজন যোগ্য মহিলাও যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরন্তর কাজ করছে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির ঘোষণাএদিনের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাংলায় এই প্রকল্পের আওতায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের আওতায় তৈরি হতে চলা সমস্ত নতুন বাড়ির মালিকানা থাকবে মহিলাদের হাতে।মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতে কমিশন গঠনের দাবি মুখ্যমন্ত্রীররাজ্যে মহিলাদের উপর অপরাধ ও অত্যাচারের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত চার মাসে রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।রাজ্যের কোনও মহিলাকে যাতে অত্যাচারের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, নেশামুক্ত বাংলা গড়ে তুলতে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগরাজ্যে বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী মাতৃত্বের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাঁর সরকারের আমলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও মেয়ের বিয়ে হতে দেওয়া হবে না। যাঁরা এই ধরনের বিয়ে দিয়েছেন বা বিয়েতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রদীপের আলোয় তৈরি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি! মোদীর জন্মদিনে বাংলার বুকে এলাহি আয়োজন চমকে দিতে বাধ্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ পুরুলিয়ায়। এক লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হল। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে পুরুলিয়া ইনডোর স্টেডিয়ামে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর এই বিশাল প্রতিকৃতি। ঝাড়খণ্ডের ১১ জন শিল্পী তিন দিন ধরে পরিশ্রম করে বিভিন্ন রঙের এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। প্রদীপ দিয়ে তৈরি এই প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।শিল্পী সুজয় কুমার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের বোকারো, গিরিডি ও হাজারিবাগের ১১ জন শিল্পী এই কাজে অংশ নিয়েছেন। সাধারণত বিভিন্ন উপকরণ কিংবা বর্জ্য সামগ্রী ব্যবহার করে মোজাইক শিল্প তৈরি করা হয়। তবে এবার প্রায় এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পুরুলিয়ায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ বছর পুরুলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। সেবা সংকল্প অভিযান-এর অধীনে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ জ্বালিয়ে এই বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি ঘিরে পুরুলিয়ায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

দায়িত্ব বাড়লেও বদলায়নি শিকড়ের টান! ১৫০ বছরের মনসা মেলায় পুতুলের দোকানে বিকিকিনিতে ব্যস্ত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা

বিধায়ক হয়েছেন, বেড়েছে দায়িত্ব। কিন্তু শৈশবের স্মৃতি আর পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো ঐতিহ্য আজও অমলিন। বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মনসা পুজোর মেলায় পরিবারের সঙ্গে পুতুলের দোকানে বসে সেই কথাই যেন মনে করিয়ে দিলেন বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলাতে দেখা গেল তাঁকে।বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার কাছে এই মেলা শুধুমাত্র পুজো বা উৎসবের জায়গা নয়। তাঁর শৈশবের বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই মেলার সঙ্গে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে দেউচা রঘুনাথপুরের এই মেলায় আসতেন তিনি। মেলায় তাঁর বাবা দোকান বসাতেন। বাবার সঙ্গে সেই দোকানে বসে খদ্দের সামলানো, মেলার ভিড় দেখা সবই ছিল তাঁর ছোটবেলার পরিচিত অভিজ্ঞতা।সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবন। শৈশবের সেই দিনগুলি পেরিয়ে বর্তমানে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। বেড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও। তবে সেই পরিবর্তনের মধ্যেও পুরনো মেলার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন তিনি।এবার মনসা পুজো উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় ফিরে পুতুলের দোকানে বসেন বিধায়ক। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলানোর সময় তাঁকে দেখতে ভিড় জমান মেলায় আসা মানুষজন। কেউ দূর থেকে তাঁকে দেখেন, আবার কেউ এগিয়ে এসে কথা বলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর এই উপস্থিতি নজর কাড়ে স্থানীয়দের।কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য, দায়িত্ব ও পদ একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু শিকড় এবং শৈশবের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। বাবার সঙ্গে কাটানো দিনগুলি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই মেলায় পরিবারের দোকান আর শৈশবের স্মৃতি যেন ফের একসূত্রে বাঁধল বিধায়ককে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর এই সংযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

ব্রিকসের পর হঠাৎ শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক? ভাইরাল দাবিতে তোলপাড়, কী বলল দিল্লি?

ভারতের মাটিতে সদ্য শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা যোগ দেন। শি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকসের দুই অধিবেশনেও অংশ নেন। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে।চিনের গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে বিশেষ বিমানে শিকে চিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিও জানিয়েছে, দাবিটি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।এদিকে চিনের সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভাইরাল দাবির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের প্রথম অধিবেশনে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নেন। দুই অধিবেশনেই তিনি বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।চিনের বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর কর্মসূচি শেষ করে বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ সরকারি নথিতে তাঁর সফর নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।শুধু শি জিনপিং নন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া একাধিক রাষ্ট্রনেতা দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্বাস্থ্য নিয়েও এমন আলোচনা শুরু হয়।এই ধরনের দাবির বিরুদ্ধে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য যাচাই সংক্রান্ত শাখা সামাজিক মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতা নিয়ে ছড়ানো পোস্টকে ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্টে বিশ্বাস না করারও বার্তা দেওয়া হয়েছে।তবে শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ তাঁর স্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্ত্রোপচারের দাবি কোনও সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। একই সঙ্গে চিনের সরকারও এমন কোনও স্বাস্থ্যগত ঘটনার কথা ঘোষণা করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ওই দাবিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে চিনের সরকারি নথি রয়েছে। সম্মেলনের পর তাঁর বেজিং ফেরার বিষয়টিও চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের পর শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে যে দাবি ছড়িয়েছে, তার কোনও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে ছড়ানো অসুস্থতার দাবিকে ভুয়ো বলে সতর্ক করেছে। তাই এই মুহূর্তে শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক বা জরুরি অস্ত্রোপচারের দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

নিজের জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের জন্য মোদীর বড় বার্তা! বললেন, ‘আপনাদের ভরসাই আমার শক্তি’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। বাংলার মা-বোনেরা তাঁকে যে ভাবে ভালবাসা ও ভরসা দিয়েছেন, সেই কথাই নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মহিলাদের ভরসা তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মা-বোনেরা সবসময় তাঁকে ভালবাসা ও স্নেহ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মীয়তার অনুভূতি তাঁকে সবসময় শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলার মহিলাদের ভরসাই তাঁর শক্তি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বাংলার মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কর্মসূচি রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৩ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এ বার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারে মহিলাদের উপর অনেক দায়িত্ব থাকে। পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সামলানোর পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের প্রয়োজনও রয়েছে। হাতে কিছু অর্থ থাকলে জরুরি খরচ নিয়ে তাঁদের চিন্তা কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি কাজ করা এবং কম কথা বলা। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁদের পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প নিয়েও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। কলকাতায় এই প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীরা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম কেনার সহায়তা এবং ঋণের সুবিধা পেতে পারেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাদের প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুযোগ রয়েছে। ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ।ফলে মোদীর জন্মদিনে বাংলায় একদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা, অন্য দিকে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের বর্ষপূর্তিদুই কর্মসূচিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা এবং কারিগরদের জন্য প্রকল্পের সুবিধা ঘিরে এ দিন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের অর্থসাহায্য এবং বিশ্বকর্মা প্রকল্পের কর্মসূচিদুই ক্ষেত্রেই সরকারি ঘোষণাই এখন মূল বিষয়।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

পথ খরচ নিতে গিয়েই ফাঁদে! চার দশক পর কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেতা আকাশ

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর অবশেষে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুর এলাকার কোনও একটি জায়গা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এক পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পথ খরচ নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই ব্যাগে মাওবাদী সংগঠনের বই, পুস্তিকা এবং কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ছাত্রজীবন থেকেই অতি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি পিপলস ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। সারেঙ্গা, গোয়ালতোড়-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কাজ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকাতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।২০০৪ সালে সিপিআই মাওবাদী সংগঠন তৈরি হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে সক্রিয় ভাবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন অসীম। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কিষানজির মৃত্যুর পর মাওবাদী সংগঠনে তাঁর সক্রিয়তা আগের মতো ছিল না বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর জঙ্গলমহল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন আকাশ। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের বাংলায় আসার চেষ্টা করেন তিনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে পুলিশের অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের কয়েক জন সদস্য গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক জন আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়। এরপর বাংলার মাওবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আকাশ দীর্ঘদিন জঙ্গলে থাকার পর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের ব্যথার কারণে প্রায় চার দশক পর তিনি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। জঙ্গলে একটি একে-৪৭ এবং কিছু নথিপত্র রেখে তিনি গাড়িতে করে বাইরে বেরিয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।এর পর আরও কয়েক জন মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ আত্মসমর্পণ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। বরং কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের জঙ্গলমহলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই পরিকল্পনার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, আত্মগোপনের জন্য পরিচিত এবং আত্মীয়দের কয়েক জনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন আকাশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কখনও জায়গা বদল, কখনও ছদ্মবেশসব রকম ভাবে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ ছিল বলেও ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে।আকাশের স্ত্রীও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনিও মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।আকাশের গ্রেপ্তারের পর বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মাওবাদী দমনে যুক্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এক মাওবাদী নেতার গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেগুলি থেকে সংগঠনের বর্তমান বা অতীত কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
কলকাতা

১৩ বছর পর ফের খুলবে মহাকরণের দরজা? মুখ্যমন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষের পথে

পুজোর আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই রাজ্য প্রশাসনের ঠিকানায় বড় বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন আমলার জন্যও ঘর তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর আগেই মহাকরণে প্রশাসনিক কাজকর্মের একটি বড় অংশ শুরু হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।মহাকরণে সংস্কারের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, বৈঠকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘর এবং আরও পাঁচ মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অজয় পোদ্দারের জন্য মহাকরণে ঘর তৈরির কাজ চলছে। মহাকরণের তৃতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শুধু মন্ত্রীদের ঘর নয়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের জন্যও মহাকরণে জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের ঐতিহ্যবাহী এই ভবন থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মহাকরণ সংস্কারের সামগ্রিক দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কী ভাবে সংস্কারের কাজ এগোবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।মহাকরণের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দফতর মহাকরণ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েই সেই সময় প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সরানো হয়েছিল।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাকরণ সংস্কারের কাজ চললেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৩ বছর পরেও সংস্কারের একটি বড় অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই মহাকরণে তাঁর জন্য ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।এখন সেই প্রস্তুতিতেই আরও গতি এসেছে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, পুজোর আগেই কি নবান্নের বদলে মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মন্ত্রী ও আমলাদের ঘর তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে বহু বছর পর ফের মহাকরণে রাজ্য প্রশাসনের ব্যস্ততা দেখা যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal