• ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার ১৬ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Ganges

কলকাতা

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের ১০ দিনের মধ্যে চালু হচ্ছে গঙ্গার নীচের মেট্রোপথ, একঝলকে হাওড়া থেকে ধর্মতলা

গত ৬ মার্চ গঙ্গার নীচের মেট্রোপথের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে একাধিক মেট্রো প্রকল্পের উদ্বোধনের পর স্কুলপড়ুয়াদের সঙ্গে মেট্রো সফরও করেন তিনি। কিন্তু আদৌ কবে যাত্রীরা এই মেট্রো পথে সফর করতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অবশেষে শনিবার দুপুরে মেট্রোর তরফে ঘোষণা করা হল যে, আগামী শুক্রবার (১৫ মার্চ) সাধারণ যাত্রীদের জন্য খুলে যাবে এসপ্ল্যানেড-হাওড়া ময়দান রুটে গঙ্গার নীচ দিয়ে মেট্রোর দরজা।এছাড়া আগামী শুক্রবার থেকে নিউ গড়িয়া থেকে রুবি পর্যন্ত এবং জোকা-তারাতলা মেট্রোপথের মাঝেরহাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশেও মেট্রো চলাচল শুরু হবে।কলকাতা মেট্রোর তরফে জানানো হয়েছে যে, এসপ্ল্যানেড ও হাওড়া স্টেশন থেকে দিনের প্রথম মেট্রো ছাড়বে সকাল ৭টায়। শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে। গোটা দিন মোট ১৩০টি মেট্রো যাত্রীদের পরিষেবা দেবে। ব্যস্ত সময়ে ১২ মিনিট অন্তর এবং অন্য সময়ে ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মেট্রো পরিষেবা মিলবে। তবে রবিবার মেট্রো পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।রুবি-গড়িয়া মেট্রোপথে সকাল ৯টায় দিনের প্রথম মেট্রো ছাড়বে রুবি এবং গড়িয়ে স্টেশন থেকে। শেষ মেট্রো ছাড়বে বিকেল ৪টে ৪০ মিনিটে। ২০ মিনিট অন্তর পরিষেবা পাওয়া যাবে। তবে এই মেট্রোপথে শনি ও রবিবার কোনও পরিষেবা মিলবে না।অন্যদিকে, জোকা-তারাতলা মেট্রোপথের মাঝেরহাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশে ২৫ মিনিট অন্তর মেট্রো পাওয়া যাবে। দিনের প্রথম মেট্রো ছাড়বে সকাল সাড়ে ৮টায়, শেষ মেট্রো দুপুর বিকেল ৩টে ৩৫ মিনিটে। এই মেট্রো পথেও শনিবার এবং রবিবার মেট্রো পরিষেবা মিলবে না।নদীর উপরের জলস্তর থেকে ৩৩ মিটার নীচে তৈরি হয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত যাওয়ার সুড়ঙ্গ। নদীখাতের থেকে আরও ১৩ মিটার গভীরে পলিমাটির ভিতর দিয়ে গিয়েছে সেগুলি। জোড়া সুড়ঙ্গের পেট চিরে ছুটবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। মেট্রোযাত্রীদের মাথার উপর দিয়ে বয়ে যাবে গঙ্গা। কখন গঙ্গার নীচ দিয়ে ট্রেন ছুটছে সেটা জানা যাবে ট্রেনে বসেই। ৫২০ মিটার সুড়ঙ্গপথ পার হওয়ার সময়ে যাত্রীদের বিশেষ অনুভূতি দিতে নীল রঙের এলইডি আলো বসানোর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে ওই পথটুকু পার হতে সময় লাগবে দেড় মিনিটেরও কম। গঙ্গা দিয়ে মেট্রো যাওয়ার সময় যাত্রীরা ফোনে কথা বলতে পারবেন। এ জন্য অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

মার্চ ০৯, ২০২৪
কলকাতা

মেট্রো হুগলি নদীর নীচ দিয়ে যুক্ত করলে হাওড়া ও কলকাতাকে

কলকাতা মেট্রোর মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন পালক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নবনির্মিত এসপ্লানেড মেট্রো স্টেশন থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ইস্ট -ওয়েস্ট মেট্রোর হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্লানেড অংশের (৪.৮ কি মি দীর্ঘ) উদ্বোধন করলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী এদিন অরেঞ্জ লাইনের কবি সুভাষ - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় অংশ (৫.৪ কি মি দীর্ঘ ) এবং পার্পল লাইনের সম্প্রসারিত তারাতলা - মাঝেরহাট অংশেরও (১.২৫ কি মি দীর্ঘ ) উদ্বোধন করেন। এই করিডোরগুলির উদ্বোধনের ফলে কলকাতা এবং হাওড়ার পরিবহণ মানচিত্রে এক বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী মোদী নবনির্মিত এসপ্লানেড স্টেশনের বাইরে ও ভেতরে প্রতীক্ষারত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার পি উদয় কুমার রেড্ডি ত্রিমাত্রিক মডেলের সাহায্যে প্রধানমন্ত্রীকে ইস্ট - ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প ব্যাখ্যা করে বোঝান। ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মকাণ্ডের এক অত্যাশ্চর্য এই নিদর্শন সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে অবহিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। সারা দেশে এই প্রথম হুগলির মতো কোনও বড় নদীর নিচ দিয়ে মেট্রো পরিষেবা চালু করার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার জন্য মেট্রোর আধিকারিক, কর্মী , ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকদের প্রশংসা করেন। ইস্ট -ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের এই অংশ গণ-পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, ঝঞ্ঝাটমুক্ত ও পরিবেশ-বান্ধব করে তুলবে।উদ্বোধনের পরে মোদী পতাকা নেড়ে নতুন এই তিনটে রুটে মেট্রো যাত্রার সূচনা করেন। এসপ্লানেড থেকে মেট্রোয় চেপে সফরও করেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরকালে তিনি স্কুলের পড়ুয়া, শ্রমিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের পাশে বসে তাদের সাথে মত বিনিময়ও করেন। পড়ুয়াদের থেকে তিনি কলকাতা মেট্রোর কাছে তাঁদের প্রত্যাশা সম্বন্ধে বিশদে জানতে চান। এছাড়াও প্রথম বারের জন্য হুগলি নদীর নিচ দিয়ে যাত্রার অভিজ্ঞতা কেমন লাগল তা তিনি জানতে চান। পড়ুয়ারা কলকাতা ও আশেপাশের অধিবাসীদের এই স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রসঙ্গত আজ কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরোও ১১.৪৫ কি.মি. দৈর্ঘ্য জুড়ে গেলো যা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬৯২৫ কোটি টাকা। দক্ষিণ ২৪ পরগণা , হাওড়া , হুগলি , মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত এলাকার অধিবাসীরা কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে ঝঞ্ঝাটমুক্ত ভাবে খুব সহজেই দ্রুত পৌঁছতে পারবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এসপ্লানেড স্টেশন চত্বরে উচ্ছাসে ফেটে পড়েন মেট্রোর আধিকারিক ও কর্মীরা। দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের উচ্ছাসে একে অপরকে আলিঙ্গণ করেন তাঁরা। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আজ আগ্রা, পুনে, কোচি এবং দিল্লি - মিরাট আর.আর.টি.এস -এর একটি অংশের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন হওয়া এইসব অংশে পতাকা নাড়িয়ে প্রথম ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন তিনি।

মার্চ ০৬, ২০২৪
কলকাতা

নদীগর্ভে দেশের প্রথম পাতাল রেল কলকাতায় , জলের তলায় পাওয়া যাবে ফোনের পরিষেবা।

গঙ্গার নিচে সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো রেল প্রকল্পের আজ শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এছাড়াও ভারচুয়াল মাধ্যমে নিউ গাড়িয়া থেকে রুবি পর্যন্ত মেট্রো রেল পরিষেবা এবং তাড়াতলা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত সম্প্রসারিত রুটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা গেছে, আজ উদ্বোধনের পরই দ্রুত শুরু হতে চলেছে এই রূট গুলির মেট্রো পরিষেবা। ভবিষ্যতে হোয়াটস্যাপ টিকিট ও চালু করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন রেলের সিপিআরও।জলের তলায় মোবাইল পরিসেবা পাওয়া নিয়ে মেট্রো রেল যাত্রীদের একটা দুর্ভাবনা ছিল। সে দূর্ভাবনা দূর করতে, ভারতীয় এয়ারটেল এবং ভোডাফোন, আইডিয়া-র অধিকর্তারা জানান, মেট্রো রেলের ইস্ট ওয়েস্ট জোনে নিরবিচ্ছিন্নভাবে মোবাইল পরিষেবা দেওয়ার পরিকাঠামো সম্পূর্ণ হয়েছে। কোলকাতার প্রথমদিকের মেট্রো রেলে দীর্ঘদিন মোবাইল পরিষেবা পাওয়া যায়নি, পরে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ সেই প্রসঙ্গে বিশেষ পরিকাঠামো তৈরী করেন। বিভিন্ন টেলিকম সংস্থাগুলিও তাদের পরিষেবার মান উন্নত করেন। এবার ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর এসপ্ল্যানেড থেকে হাওড়া ময়দানের মধ্যে দূরত্বের একাংশে দশতলা বাড়ির সমান গভীরতায় গঙ্গার নিচে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গপথে ছুটবে ট্রেন।The metro journey was made memorable thanks to the company of these youngsters and those who worked on this project. We also travelled through the tunnel under the Hooghly river. pic.twitter.com/wAGQ3wuS2v Narendra Modi (@narendramodi) March 6, 2024দূরভাষ পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থা এয়ারটেল জানিয়েছে, প্রথম থেকেই উন্নত পরিষেবা দিতে নেটওয়ার্ক পরিকাঠামোর জন্য হাওড়া ময়দান, হাওড়া স্টেশন, মহাকরণ এবং এসপ্ল্যানেড স্টেশনগুলি ফাইবার অপটিক-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। ৫জি র গতিতে নিরবিচ্ছিন্ন ফোন বা ডেটা পরিষেবা দিতে তৈরী হয়েছে উন্নত পরিকাঠামো। দ্রুতগতির ভিডিও প্রবাহ, গেমিং, চ্যাটিং, ছবি তুলে উপলোডে করার মতো পরিষেবা দিতে তারা তৈরী বলে দাবি সংস্থার সিইও অয়ন সরকারের।আরও এক দূরভাষ পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থা ভোডাফোনের ডিরেক্টর নবীন সিঙ্গভি মঙ্গলবার বলেন, ময়দান - এসপ্ল্যানেড অংশে নেটওয়ার্ক পরিষেবা কাঠামো সম্পূর্ণ। যার হাত ধরে ইস্ট- ওস্টের ১৭টি মেট্রো স্টেশনেই তাদের গ্রাহক মোবাইল পরিষেবা পাবেন।

মার্চ ০৬, ২০২৪
রাজ্য

প্রতিষ্ঠা দিবসে ভাগীরথী নদী বক্ষে বাংলা পক্ষর এক অভিনব মিছিল

বাংলা ও বাঙালীর আপন সংগঠন বাংলা পক্ষ তাঁদের ষষ্ট-তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এক অভিনব কর্মসূচি করল। ৭ই জানুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসে উদযাপন করতে হুগলীর চুঁচুড়া থেকে ৯০ কিলোমিটার গঙ্গাবক্ষে অভিযান করল সংগঠনের সদস্যরা। ভাগীরথী নদীতে দুটি লঞ্চে প্রায় সাড়ে তিনশো সদস্য উপস্থিত ছিলেন এই ভাসমান মিছিলে। নদী বক্ষে এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদ সদস্য ও সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, মহম্মদ শাহীন, মনন মন্ডল, সৌম্য কান্তি ঘোড়ই সহ বিভিন্ন জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, দর্পন ঘোষ, মামুদ আলি মণ্ডল, দেবাশীষ মজুমদার, প্রবাল চক্রবর্তী, অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত সাহা, সুতনু পণ্ডিত, ছাত্রপক্ষের রণ ভট্টাচাৰ্য সহ প্রমুখ ব্যক্তি।সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি জানালেন, বাংলা পক্ষ তার গর্বের ৬ বছর অতিক্রম করল। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে সংগঠন ক্রমশঃ বিস্তার লাভ করছে। বাংলার বুকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা বাংলা পক্ষই করেছে। হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ কিভাবে বাঙালিকে বঞ্চিত করে এসেছে তা বাঙালির সামনে প্রথম তুলে ধরে বাংলা পক্ষ এবং বাঙালির অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করে চলেছে বাংলা পক্ষ। তিনি আরও জানান, বাংলা পক্ষের বিভিন্ন সফলতার মধ্যে অন্যতম WBCS পরীক্ষায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাংলা ভাষার বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা। বাংলার ভূমিপুত্রদের বঞ্চিত করে বহিরাগতরা জাল ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও কাস্ট সার্টিফিকেটের মাধ্যমে বাংলার ভূমিপুত্রদের প্রাপ্য আধাসেনার চাকরি গুলো দখল করছিল সেই তথ্য প্রথম তুলে ধরে বাংলাপক্ষ। বাংলাপক্ষের আন্দোলন ও অভিযোগের ভিত্তিতে জাল ডোমিসাইল চক্রের বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলা পক্ষের বহু পথ চলা বাকি। এবং বাংলাপক্ষের প্রতিটি সদস্য বিশ্বাস করে এক দিন বাংলার সব কিছু বাঙালির হবে এবং বাংলা পক্ষ তা করেই ছাড়বে। স্কুল ও কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বেশি পৌঁছোনোই আগামীর লক্ষ্য। গ্রামে সংগঠনে জোর দেবে সংগঠন।

জানুয়ারি ০৮, ২০২৪
রাজ্য

কুমিরের পর এবার গঙ্গায় ধরা পড়ল ঘড়িয়াল, মালদার গ্রামে হইচই

এর আগে গঙ্গায় কুমির দেখা গিয়েছিল। কুমির ধরাও পড়েছিল। এবার এল ঘড়িয়াল। বুধবার সকালে মাছ ধরতে গিয়ে মাঝিদের জালে ধরা পড়লো একটি ঘড়িয়ালের বাচ্চা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল শোরগোল পড়ে যায় মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উৎসবটোলা এলাকায়। এরপর মাঝিরা ওই ঘড়িয়ালের বাচ্চাকে গঙ্গা নদী থেকে নিজেদের উৎসবটোলা গ্রামে নিয়ে আসে। ঘড়িয়াল দেখতে ভীড় করে স্থানীয় মানুষজন। তারপর খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। পরে বনদপ্তরের কর্মীরা এসে ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।উৎসবটোলা এলাকার মাঝি তুফান চৌধুরী জানান, এদিন ভোরে তিনি মথুরাপুরের গঙ্গা নদীতে নৌকায় করে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। সেই সময় তার জালেই একটি বাচ্চা ঘড়িয়াল আটকে পড়ে। তাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। কোনওরকমে জালে পেঁচানো ওই ঘড়িয়ালটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয় গ্রামে।বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের ঘড়িয়াল বর্ষার মরশুমে মাঝেমধ্যেই মালদার ফুলাহার এবং গঙ্গা নদীতে দেখা যায়। মূলত ঘড়িয়ালরা প্রজনন ঘটাতে এবং খাবারের খোঁজে এইসময় নদীতে চলে আসে। ফোর ঘড়িয়ালটিকে নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বন দফতর।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৩
কলকাতা

সেলফিই কাল, সৎকারে গিয়ে গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন পাঁচ যুবক

মৃতদেহ সৎকার করতে এসে সেলফিতে মেতেছিলেন পাঁচ যুবক। শহরের নিমতলা ঘাটে এই সেলিফর সময় বান আসতেই গঙ্গায় তলিয়ে যায় পাঁচ যুবক। সোমবার রাতের এই ঘটনার পর স্থানীয়দের তৎপরতায় দুজন যুবককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ডুবুরি নামিয়ে নিখোঁজদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, মৃত এক যুবককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।পুলিশের দাবি, যুবকরা সৎকার করতে নিমতলা ঘাটে এসেছিলেন। তখন গঙ্গায় বান আসার সতর্কতা ঘোষণা করা হচ্ছিল। এরা সবাই মদ্যপ অবস্থায় ছিল। সতর্কতা ঘোষণাকে কোনও তোয়াক্কা করেনি বেলেঘাটার এই পাঁচ যুবক।

অক্টোবর ১১, ২০২২
রাজ্য

ফের খুন পানিহাটিতে! বন্ধুদের মধ্যে মদ্যপানে বচসা,তার জেরে চার বন্ধু মিলে গলার নলি কেটে গঙ্গার চড়ে পুতে দেওয়ার অভিযোগ,গ্রেপ্তার চার

যানা যায়, পানিহাটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিভি গঙ্গার ঘাটে ৫ বন্ধু মিলে মদ্যপান করছিল, সেই সময় ভান্ডারী নামে এক বন্ধু বাকি চার বন্ধুর সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। বচসা চলাকালীন চার বন্ধু মিলে ভান্ডারী নামের যুবককে গলার নলি কেটে গঙ্গার মাটির চরে পুঁতে দেয় এমনটাই অভিযোগ। সকালে এসে স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পায় গঙ্গায় মৃতদেহ, তারপর খড়দহ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দেয়।খুনের তদন্তে নেমে খরদা থানার পুলিশ ঘটনার সাথে যুক্ত চার অভিযুক্তকে মুস্তাক, সূর্য, লাল্লু ও নিবেদকে বেলঘড়িয়া কামারহাটি ও আগরপাড়া অঞ্চল থেকে খুনে ব্যবহৃত চপার সহ গ্রেপ্তার করে। আজ অভিযুক্তদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে। খুনের ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২
রাজ্য

জগদ্দলে গঙ্গায় ডুবে মৃত পরিবারের পাশে সাংসদ অর্জুন সিং, দিলেন আর্থিক সাহায্য

মঙ্গলবার দুপুরে জগদ্দলের বিচুলি ঘাটে গঙ্গায় তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল তিন কিশোর-সহ চারজন। ওইদিন রাতেই বিপর্যয় মোকাবিলার টিম বিচুলি ঘাট থেকেই শম্ভু রাম (১৯) ও সৌরভ প্রাসাদের (১৪) মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বুধবার সকালে ব্যারাকপুর দুই পয়সার ঘাট থেকে জিতু চৌধুরীর (১৪) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন সন্ধায় ব্যারাকপুর দুই পয়সার ঘাট থেকেই গৌতম প্রাসাদের (১৫) দেহ উদ্ধার করা হয়। তারপর তাঁর দেহ জগদ্দল বিচুলি ঘাটে আনা হয়। চারজনই ভাটপাড়ার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগদ্দল স্টেশন সংলগ্ন পূর্বাশা কলোনির বাসিন্দা। মৃতদের পরিবার পিছু ব্যক্তিগতভাবে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেবার কথা বুধবার ঘোষণা করেছিলেন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের সাংসদ অর্জুন সিং। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্বাশা কলোনি এলাকায় গিয়ে ৪ পরিবারের হাতে এক লক্ষ টাকা করে চেক তুলে দিলেন ব্যারাকপুরে সংসদ অর্জুন সিং। তার সাথে ছিলেন তৃণমূল নেতা মনোজ গুহ, স্থানীয় কাউন্সিলর সীমা মন্ডল সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতারা। শোকোস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেতা মনোজ গুহ বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই, তবে সাংসদ নিজ উদ্যোগে তিনি এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করেছেন।

সেপ্টেম্বর ০২, ২০২২
রাজ্য

মালদায় গঙ্গার ভাঙনে সাধারনের মধ্যে আতঙ্ক

গঙ্গা নদীতে ব্যাপক ভাঙন, এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক। মালদার মানিকচকের ভূতনি চড়ের কেশোরপুর কালুটন টোলা এলাকায় নদীপাড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন। গঙ্গার তীব্র ভাঙ্গনে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে ভযাচ্ছে নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে। এভাবেই ভাঙ্গন চলতে থাকলে গোটা এলাকা তলিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যে নদী তীরবর্তী এলাকায় থাকা বড় বড় গাছ তলিয়ে যাচ্ছে গঙ্গা গর্ভে।

আগস্ট ২৯, ২০২২
রাজ্য

ভাঙণ প্রতিরোধের কাজের বরাতের অর্থ নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের কোন্দলে দুই নেত্রীর ভিন্নমত

ভাঙণ প্রতিরোধের কাজের বরাতের অর্থ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুই নেত্রীর ভিন্নমত। মালদার মানিকচক বিধানসভার বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের দাবী এলাকার ভাঙণ প্রতিরোধের জন্য ৪২কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানান ৪২কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানা নেই।তিনি বলেন ভাঙণ প্রতিরোধের জন্য ৭কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এই সময় ভাঙণ প্রতিরোধের কাজ করলে বরাদ্দ অর্থ জলে যাবে। তাই ভাঙণের প্রবনতা কমলে কাজ হবে। ভাঙণ প্রতিরোধের কাজের নিয়ে মন্ত্রী ও বিধায়কের মুখে বরাদ্দ অর্থের পরিমান নিয়ে ভিন্ন মত হওয়ায় জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির দাবী ভোট রাজনীতির জন্য ভাঙণ প্রতিরোধ কাজের বরাদ্দ অর্থের কথা বলছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। আসলে কোন অর্থই বরাদ্দ হয় নি। শুধু তাই নয় অর্থ তছরূপের জন্যও মন্ত্রী বরাদ্দ অর্থের পরিমান কম বলেছেন এমনই অভিযোগ করছেন বিরোধীরা।

আগস্ট ০৯, ২০২২
রাজ্য

Dead Crocodiles: শুশুক নয়, গঙ্গার পাড়ে মিলল কুমিরের মৃত দেহ, ব্য়াপক চাঞ্চল্য়

শেষমেশ মিলল গঙ্গার সেই কুমিরের দেহ। তবে জীবিত নয়, মৃত। রীতিমতো দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত কুমিরের দেহ মেলায় ব্য়াপক চাঞ্চল্য় ছড়িয়েছে হুগলির শ্রীরামপুরে। কেন এমন ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রকৃতপ্রেমীরা।শ্রীরামপুরে গঙ্গার ঘাটের কাছে কচুরিপানার মধ্যে উল্টে পড়ে রয়েছে কুমিরের দেহ। পচন ধরে গিয়ে দুর্গন্ধে মম করছে পুরো এলাকা। রবিবার ভোরবেলা শ্রীরামপুর কালিবাবুর শ্মশান ঘাটের কুমিরের মৃতদেহ দেখে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা।গঙ্গায় কুমির দেখা গিয়েছে, এই নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য় ছড়িয়ে পড়েছিল বেশ কিছু দিন ধরে। কুমিরটিকে দেখতে পেয়েছিল নদিয়ার বাসিন্দারা। একসময় কুমিরটি ধরাও পড়ে। তখন কুমিরটিকে ধরে বন দফতরের হাতে তুলে দিয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। জানা গিয়েছিল কুমিরটি বেজায় অসুস্থ। মনে করা হচ্ছে সেই কুমিরটি সম্ভবত এটাই। তবে মানুষের মধ্য়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এদিন গঙ্গার পাড়ে কচুরিপানার মধ্যে উল্টে করে পড়ে ছিল কুমিরটি। এত সোশাল মাধ্য়মে দেখা গিয়েছিল গঙ্গায় কুমির ভাসছে। তখন সন্দেহ হয়েছিল, তবে এই কুমিরের মৃত দেহ দেখে মনে হচ্ছে এটাই সেই কুমিরটা হতে পারে। খবর পেয়ে শ্রীরামপুর পুরসভার আধিকারিক আসে ঘটনাস্থলে। বিষয়টি জানিয়ে বনদফতরে খবর দেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিরের মৃতদেহটি বনদফতর নিয়ে যায় গড়চুমুকে।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২১
রাজ্য

মালদার গঙ্গায় কী 'করোনা আক্রান্তের' দুটি মৃতদেহ! তদন্তে পুলিশ

অবশেষে আশঙ্কায় সত্যি হলো রাজ্য প্রশাসনের। মানিকচক ব্লকের ভুতনি থানা হীরানন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশরপুর গঙ্গার ঘাটে ভেসে আসলো দুটি মৃতদেহ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই দুটি মৃতদেহ ভিন রাজ্য থেকে নদীপথে ভেসে এসেছে মালদার ভুতনি এলাকার গঙ্গা নদীতে, এমনটাই অনুমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের। শনিবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় এলাকার জেলেদের। এরপরই খবর পৌঁছায় ভুতনি থানায়। অবশেষে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশরপুর গঙ্গার ঘাটে ওই মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য তদারকির কাজ শুরু করেন। দুটি দেহ মধ্য বয়স্ক পুরুষের বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।এদিকে এই ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে গঙ্গায় করোনায় মৃতদেহের ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর থেকেই সেই দেহ গঙ্গা নদী পথে প্রবাহিত হয়ে মালদার মানিকচকের গঙ্গার ঘাটে আসতে পারে এমনটাই অনুমান করে রাজ্য সরকার। জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর বেশ কয়েকদিন পরেই কেশরপুর এলাকার গঙ্গার ঘাটে ভেসে এলো দুটি মধ্য বয়স্ক পুরুষের মৃতদেহ। সেই মৃতদেহ দুটি গঙ্গা নদীর ঘাটের একটি কচুরিপানা সংযুক্ত গাছের আটকে থাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পুলিশের অনুমান করোনায় আক্রান্ত ওই দুটি মৃতদেহ ভিন রাজ্য থেকে মালদায় ভেসে এসেছে। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার কার্য চালাচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। ইতিমধ্যে ওই এলাকায় পৌঁছে গিয়েছে জেলার প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবেলা দপ্তরের কর্মীরাও। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। মৃত ওই দুটি দেহ অজ্ঞাত বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা।

জুন ০৫, ২০২১
কলকাতা

জলোচ্ছ্বাসের জেরে বাড়বে গঙ্গার উচ্চতা, ডুবতে পারে কলকাতা

ভরা কোটাল আর চন্দ্রগ্রহণ, সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় যশের আছড়ে পড়ার সময়। এই ত্র্যহস্পর্শে আজ, বুধবার গঙ্গায় ভারী বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কায় তিলোত্তমা কলকাতায় ফের জলমগ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা। তবে নবান্নে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, গোদের উপর বিষফোঁড়া। একে দুর্যোগ, তাতে ভরা কটাল, সঙ্গে চন্দ্রগ্রহণ। ভরা পূর্ণিমায় গঙ্গায় জলস্তর বাড়বে। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় গঙ্গা থেকে জল ঢুকে পড়বে। তার জন্য অবশ্য আলাদা ব্যবস্থা করা আছে।মৌসম ভবন মঙ্গলবার জানায়, ঘূর্ণিঝড় যশ বুধবার চন্দ্রগ্রহণের দিন বেলা বারোটার আশে-পাশে ওড়িশার দামরা পোর্টের কাছে স্থলভূমিতে আছড়ে পড়বে। সেই সময় পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সমুদ্র উপকুলে যেমন ৭৫-৮০ কিমি বেগে ঝড়ের সঙ্গে প্রবল জলোচ্ছ্বাস দেখা যাবে, তেমনই ভারী বৃষ্টি হবে। একইভাবে কলকাতা মহানগরের উপর দিয়েও মুষলধারে প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি ৬০-৭০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে ঠিক ওই সময়েই কলকাতার গঙ্গায় ভরাকোটাল আসছে। সকাল সওয়া নটায় নদীতে শুরু হবে জোয়ার। বেলা পৌনে এগারোটা নাগাদ সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যাবে জোয়ারের জলের উচ্চতা।আরও পড়ুন: https://janatarkatha.com/kolkata/high-court-closed-for-two-days-due-to-yash-terror-narad-bail-hearing-further-delayed-002254আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চন্দ্রগ্রহণ ও ভরাকোটালের যৌথপ্রভাবে গঙ্গায় জল বৃদ্ধি পাচ্ছে, সঙ্গে যশ বা ইয়াস । কলকাতা পুরসভার নিকাশিবিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তারক সিং, গঙ্গায় জলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে যাতে শহরে প্রবেশ না করতে পারে সেই জন্য লকগেটগুলি পরিদর্শন করেন। জানিয়ে দেন, জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের জল বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার গঙ্গায় সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত লকগেট বন্ধ থাকবে। পরে তারক সিং জানান, ভরাকোটালের প্রভাবে গতকাল গঙ্গায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬.৭৫ ফুট বেশি উচ্চতায় পৌঁছেছিল জলের উচ্চতা। বুধবার সেটি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.২৫ ফুটের বেশি উচ্চতায় পৌঁছে যাবে বলে পূর্বাভাস। লকগেট বন্ধ থাকায় ওই সময় যদি প্রবল বৃষ্টি হয় তা হলে সমস্ত জল শহরেই জমে থাকবে, শহর জলমগ্ন হবেই।জমা জলে যশের সময় কলকাতা ভাসতে পারে আশঙ্কা করে মঙ্গলবার বিদায়ী ডেপুটি মেয়র ও প্রশাসকমণ্ডলীয় সদস্য অতীন ঘোষ ভয়ানক এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শহরবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। বলেন, কলকাতা একটি বাটির মতো। শহরের জমা বৃষ্টির জল বাগজোলা, চড়িয়াল ও বিদ্যাধরীর মতো যে পথেই ফেলে দেওয়া হয় গঙ্গা অথবা সাগরের মোহনায় পড়ে। তাই লকগেট বন্ধ থাকায় জমা জল সরানোর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অন্তত কয়েক ঘণ্টা জল জমবেই।

মে ২৬, ২০২১
নিবন্ধ

নদী কে জায়গা দিনঃ প্রসঙ্গ গঙ্গা ভাঙ্গন

বর্ষা শুরু হলেই আতঙ্কের প্রহর গোনা শুরু হয় মানুষ গুলোর। ঝুপ ঝাপ নদী পাড়ের মাটি খসে পড়া নতুন নয় এদের কাছে। তবে বর্ষার বিপুল জলরাশির যোগানে উন্মত্ত নদী যখন বিঘের পর বিঘে জমি, বাস্তু ভিটে, রাস্তা থেকে শুরু করে সভ্যতার সব নিদর্শন মুছে দিতে উদ্যত হয়, তার প্রলয়ঙ্করী রূপে মানুষ আতঙ্কিত হয়, জীবন হানিও ঘটে। নদী ভাঙন এক অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম, কিন্ত এই ভাঙনের কবলে পড়ে যখন মানুষ বিপর্যস্ত হয় তখন তা বিপর্যয় রূপে দেখা দেয়। দিশেহারা, সর্বহারা মানুষের হাহাকারে ভারী হয়ে যায় ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাতাস। এরা সেই মানুষ গুলো যাদের সাথে নদীর যুগযুগ ধরে আত্মীয়তার সম্পর্ক। নদীর তীরে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের জীবনে নদী যেমন আশীর্বাদ স্বরূপ ঠিক তেমনই আতঙ্কের কারণ। নদীমাতৃক ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গে প্রাচীন কাল থেকেই নদীর তীরবর্তী অঞ্চল মানুষের বসবাসের স্থান হিসাবে খুব জনপ্রিয়।তার অন্যতম কারণ গুলি হলো সুলভ উর্বর জমি, পরিবহনের সুবিধা, বানিজ্যিক আদান প্রদান, মাছ ধরা সহ নানা রকমের জীবিকার সুযোগ। গাঙ্গেয় সভ্যতা সংস্কৃতি অতি প্রাচীন, সেটা সন্দেহাতীত, কিন্ত ব-দ্বীপে গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ পথ নিয়ে যথেষ্ঠ মত পার্থক্য আছে। রাধাকমল মুখার্জি, কাননগোপাল বাগচী এবং ওল্ডহ্যাম, রিকস, শেরউইল প্রমূখ ব্রিটিশ নদী বিশেষজ্ঞরা ভাগীরথী কেই গঙ্গার প্রাচীন প্রবাহ পথ বলে তাঁদের লেখায় উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীকালে সেচ বিশেষজ্ঞ উইলককস তাঁর ধারণার কথা বলতে গিয়ে ভাগীরথী কে সেচের জন্য কাটা খাল বলে উল্লেখ করেছিলেন, বিভিন্ন মানচিত্র বিশ্লেষণ করে অনেকেই তাঁর মত সমর্থন করেন এবং পদ্মাকেই গঙ্গার আদি প্রবাহ পথ বলে তাঁদের লেখায় উল্লেখ করেন। প্রাচীনত্বের দিক থেকে গঙ্গা বা ভাগীরথী যেটিই হোক কিন্ত জনবসতি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্র হিসেবে ভাগীরথীর উপত্যকা বেশি প্রাচীণ তা এর তীরে ছড়িয়ে থাকা তাম্রলিপ্ত, কর্ণ সুবর্ণ, চন্দ্রকেতুগড় ইত্যাদি স্থান গুলি প্রমাণ করে।গগঙ্গা নদী বাংলায় প্রবেশ করেছে রাজমহল পাহাড়ের পাশ দিয়ে। প্রাচীণ যুগে গারো-রাজমহল গ্যাপ নামক ভূপ্রাকৃতিক খাতটি পলি সঞ্চয়ের ফলে বর্তমানে এই সমভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই পলি শুধুমাত্র হিমালয় থেকে নিয়ে আসা সূক্ষ্ গঙ্গা বাহিত পলি নয়। দামোদর, অজয় সহ একাধিক নদ নদী, ছোটনাগপুরের মালভূমি থেকে মোটা দানার বালি মিশ্রিত পলি নিয়ে এসে প্রাথমিক ব- দ্বীপ গঠনের কাজ করেছিলো যাকে বলে প্যারা ডেল্টা। এর উপর সঞ্চিত হয়েছে গঙ্গার পলি। বালি মিশ্রিত নিম্নভাগে র পলির অভ্যন্তরীণ বাঁধন আলগা হওয়ার জন্য নদীর জলের প্রবল চাপে তা সহজেই আলগা হয়ে ধুয়ে যায়।উপরের কাদা মিশ্রিত পলি স্তর ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে না পেরে খসে পড়ে। এটিই পাড় ভাঙার প্রক্রিয়া। নদীর প্রস্থ বরাবর একটি নির্দিষ্ট অংশে পর্যা়ক্রমিকভাবে এই ভাঙাগড়ার কাজ চলে, ভূগোলের পরিভাষায় যাকে বলে meander belt বা রিচ পয়েন্ট। এর মধ্যে নদীর চলাচল এক অতি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়ম।এটা ঘটবেই।রাজমহল থেকে ফারাক্কা পর্যন্ত ৭২ কিমি পথে বামদিক থেকে অনেক শাখানদী এসে মিশেছে, যেমন কালিন্দী, ফুলহার, মহানন্দা, ছোট ভাগীরথী ইত্যাদি। সম্ভবত ১৫৭৫ এ গৌড় এর ধ্বংসের আগে পর্যন্ত কালিন্দী, মহানন্দা, ছোট ভাগীরথী বরাবর ছিল গঙ্গার প্রবাহ পথ। কিন্ত ১৫৭৫ এর পর গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন ঘটে যার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৭৭৯ এর J. D. Rennell এর মানচিত্রে যেখানে গঙ্গার অবস্থান গৌড়ের অনেকটা দক্ষিণে। রাধাকমল মুখোপাধ্যায় তাঁর The Changing Face of Bengal গ্রন্থে এই কালিন্দী কেই গঙ্গার মূলস্রোত বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদুনাথ সরকারের রচনা The History of Bengal (Muslim Period) থেকে ধারণা করা যায় যে সেই সময় রাজমহলের পর গঙ্গা একাধিক শাখায় বিভক্ত হতো। একটি কালিন্দী- মহানন্দার পথে, অপরটি গঙ্গা -পদ্মার খাত ধরে। বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলার মিঠিপুর গ্রামের কাছে গঙ্গা দুটি শাখায় ভাগ হয়েছে, একটি পদ্মা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, আর ভাগীরথী দক্ষিণমুখী হয়ে প্রায় ৫০০কিমি পথ অতিক্রম করে মায়াপুরের কাছে জলঙ্গী র সাথে মিলিত হওয়ার পর হুগলী নদী নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। গঙ্গার থেকে ভাগীরথীর যে উৎস মুখ তা বিগত কয়েক শতাব্দী তে বার বার পরিবর্তীত হয়েছে, বিভিন্ন গবেষণা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রমান পাওয়া যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাগীরথীর খাতটি পদ্মার তুলনায় কম বেশি এক মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। এরফলে একমাত্র বর্ষা কাল ছাড়া ভাগীরথী তে স্বাভাবিক জলপ্রবাহ আসা সম্ভব নয়। ফিডার ক্যানেল এর মাধ্যমে সারা বছর জলের ধারা অব্যাহত রাখা ও কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখার জন্য ফারাক্কা বাঁধের পরিকল্পনা করা হয়। প্রকৃতিকে আয়ত্তে আনতে গিয়ে হিমালয় থেকে নিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চয়ের ব্যাপারটা পরিকল্পনার ফাঁক হিসাবে থেকেই যায়। সূত্র বলছে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ৬৪ কোটি টন পলি রাজমহল ও ফারাক্কার মাঝে গঙ্গা বক্ষে জমা হয়। গঙ্গা নদী প্রবাহ পথ আঁকাবাঁকা এবং ফারাক্কা ব্যারেজ নদীটির গতিশীল ভারসাম্য বিঘ্নিত করেছে এবং নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ ব্যাহত করেছে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে বাম দিকে এবং ফারাক্কা বাঁধের নিচের ডান প্রান্তের দিকে নদী প্রবাহের একটি সাধারণ প্রবণতা রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধের উজানে পলিতে আবদ্ধ গঙ্গা পাড় ভেঙে নতুন পথের সন্ধান করছে।বাঁধ নির্মাণের পূর্বে এই ভাগীরথী তে জলের যোগান যা ছিল, পরবর্তীকালে তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পলি উজানে সঞ্চিত হয়ে যাওয়ার ফলে ভার মুক্ত নদী প্রবাহ নিচের অংশেও ভাঙন ঘটাচ্ছে। নদী প্রবাহিত হয় প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে। গাঙ্গেয় ব -দ্বীপের যে অংশে গঙ্গা ও ভাগীরথী বয়ে চলেছে সেটি মূলত মৃতপ্রায় ব -দ্বীপের অন্তর্গত। এই পর্যায়ে নদীর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় বলে অত্যন্ত আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়। জলের চাপে অবতল দিকের পাড় ভাঙতে থাকে, অপর দিকে নতুন ভূমি জেগে ওঠে উত্তল দিকে। ক্রমাগত পলি সঞ্চয়ের ফলে ভূমিভাগের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে নদী তার পুরোনো খাত পরিত্যাগ করে নতুন পথে চলে। এসবের ফলশ্রুতি হিসেবে দেখা যাই এক বৃহৎ অংশের মানুষ এই নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়েন প্রতি বছর। এবছরও তার ব্যাতীক্রম ঘটে নি।পাড় ভাঙনের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে গঙ্গা বক্ষে গজিয়ে ওঠা চরের ভাঙ্গনের করুণ অধ্যায়। গঙ্গার ভাঙনের সাথে চর সৃষ্টি, অবলুপ্তি, পুনরাই জেগে ওঠার সম্পর্ক বেশ যে প্রাচীন তার প্রমান কিছুটা পাওয়া যায় Major Henry Thomas Colebrooke, W. W. Hunter (1876), Captain W. Sherwill দের বর্ণনায়। ভূতনির চর ও নিরমল চরে মানুষের জীবনযাপন চলে আবাস তৈরি, বাস্তুচুতি ও আবাস পুনর্নির্মাণের চক্রাকার আবর্তে।নদী মানুষের দ্বন্দ্বে অনেক ক্ষেত্রেই গঙ্গা বক্ষের চর গুলি হয়ে উঠেছিল মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা ও জীবনযাপনের রসদ।কিন্ত নদীর পাড় ভাঙ্গনের সুবাদে এবছর সেগুলিও সঙ্কটে।গঙ্গা তথা ভাগীরথীর তীরে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার এক বৃহৎ অংশের মানুষের বাস যারা প্রতি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনের কবলে পড়ে চরম দুর্দশার সম্মুখীন হন। ফি বছর নদীর পাড় ভাঙ্গনে গড়ে ৮ বর্গ কিমি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যায় আমাদের রাজ্যে। ফারাক্কা ব্যারেজের প্রবাহের উজানে ১৯৬৯ থেকে ১৯৯৯ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মালদা জেলায় গঙ্গার বাম তীরের ভাঙনের ফলে ৪.৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মনিচাকের ২২ মৌজা, কালিয়াচক-১ এবং কালিয়াচক-২, কালিয়াচক-৩, রতুয়া-১ এবং রতুয়া-২ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদী গর্ভে চলে গেছে। কালিয়াচক-২ ব্লকের ভূতনির চর ও পঞ্চানন্দপুরের মধ্যে নদীর বাম তীরের অঞ্চলটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। এই বছর ভাঙনের কবলে মালদার রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা বিপর্যস্ত। ওই দুই পঞ্চায়েতের নয়া বিলাইমারি, খাকচাবনা, টিকলিচর ও জঞ্জালিটোলা গ্রামগুলিতে গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়েছে।মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গার তীরেও প্রায় কয়েক কোটি মানুষ বাস করেন। ফারাক্কা ব্যারাজের নীচ থেকে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার ডান তীরে ৯৪ কিমি ব্যাঙ্কলাইন রয়েছে এবং ফারাক্কা, সামশেরর গঞ্জ, সুতি-১, সুতি-২, রঘুনাথগঞ্জ-২, লালগোলা, ভগবানগোলা-১, ভগবানগোলা-২, রাণী নগর-১, রাণী নগর-২ এবং জলঙ্গী প্রভৃতি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের এই সমস্ত এলাকায় তীব্র পাড় ভাঙন ঘটে। ফারাক্কার কুলদিয়ার চর সহ হোসেনপুর চর এই বছরে ইতিমধ্যেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। গঙ্গা ও ফুলহার নদী দিয়ে ঘেরা এই দুই পঞ্চায়েত এলাকার দুই নদীর মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে উর্বর কৃষিভূমি ও বিশাল গো চারণ এলাকা। তাই জীবন জীবিকা নির্বাহে গঙ্গা তীরের এই জায়গা ছেড়ে কেউ যেতে চান না। যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব কষ্টসাধ্য, বন্যা ও ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার বিঘা জমি, ভিটে মাটি হারানো সত্ত্বেও স্থানীয় বাসিন্দারা বংশানুক্রমে এখানেই থাকতে চান। অনেকেই আবার পরিনত হন নথিহীন নব্য শরণার্থী বা রুটি রুজির তাগিদে মুম্বাই গুজরাতের কোন পরিযায়ী শ্রমিকে।গঙ্গা নদী ভাগীরথী নাম নিয়ে দক্ষিণ বাহিনী হয়ে মায়াপুরের কাছে জলঙ্গী র সাথে মিলিত হয়ে, হুগলী নদী নাম নিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। এই অংশেও নদী আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত। এর ফলে নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমানের পুর্বস্থলী ১ ও ২, কালণা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। পুর্বস্থলী ১নম্বর ব্লকের নসরতপুর, জালুইডাঙা সবচয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। নসরত পুরের কিশোরীগঞ্জ, মনমোহনপুরের বাসিন্দাদের অনেকের বাড়ি, চাষের জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে এই বছরেই। পুর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লকের মেরতলা, কুটুরিয়া, গোপীপুর, তামাঘাটা এবং অগ্রদ্বীপ এর বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গনের কারণে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া-2 নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মঠপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাগীরথী নদীর ভাঙ্গনে এই বছর বহু মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।কালনার ধাত্রীগ্রাম পঞ্চায়েতের কালিনগর, যার কাবাডি গ্রাম হিসেবে খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। গ্রামের অনেকেই কাবাডিতে জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিনের ভাঙ্গনের জেরে বহু ঘরবাড়ি, জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। মানুষ যখন ভেবে ফেলে নদী কেবল তার বেঁচে থাকার খোরাক জোগানোর উপকরণ মাত্র মুশকিলটা হচ্ছে ঠিক তখনই। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথেসাথে, বাস্তু জমি, চাষের উপযোগী জমি সব কিছুর চাহিদা বেড়েছে বিপুল পরিমাণে। শুধু তাই নয়, মানুষ উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা কে জয় করতে চেষ্টা করছে। ঠিক যেমন হয়েছে ফারাক্কা ব্যারেজের ক্ষেত্রে। উত্তর বঙ্গের সাথে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ থেকে শুরু করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা স্বাভাবিক রাখা, ব্যবসা বানিজ্য সবকিছুই ফারাক্কা ব্যারেজের প্রস্তাবনা বা রূপায়ণের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাস্তবায়িত হয়েছে বা হচ্ছে। এর সাথে আছে বিপুল সংখ্যক মানুষ, যারা নদীর তীরে বসবাস করেন, নদীর বুকে জেগে ওঠা চর গুলিও বাদ থাকে না। অপরিকল্পিত ভাবে নদীর পাড়ের মাটি কেটে নিয়ে দিনের পর দিন চলে মাটি পাচার, গজিয়ে ওঠে ইট-ভাটা। এই সবের সাথেই নদী হারিয়ে ফেলেছে তার চলার স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্ত নদীকেও তো তার স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখতে জায়গা দিতে হবে। এর মধ্যে মানুষ তার সভ্যতা গড়ে তুললে, নদীর দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ যদি থাকে সেটা আমাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনার।বছর দুয়েক আগে ট্রেনে যাবার পথে পরিচয় হওয়া এক সাধারণ মালদা বাসীর সাথে এই নদী ভাঙ্গনের কথা, ফারাক্কা ব্যারেজের কথা প্রসঙ্গে তার দেওয়া একটা সাধারন উপমার কথা বেশ ভালো লেগেছিল।তিনি বলেন নদীর চলার পথ ঠিক সাপের মতো, আর সাপ কে যদি তার মাথার কাছে চেপে ধরে সে গোটা শরীর আরো বেশী আঁকাবাঁকা করে নিজেকে মুক্ত করার জন্য। এই ফারাক্কা বাঁধ হলো সেই সাপের মাথার মতো, যা চেপে ধরেছে গঙ্গার স্বচ্ছন্দ গতিকে। আর নদী ক্রমশ চেষ্টা করে চলেছে তার মুক্তির পথ খোঁজার। নদীর তীরে বসবাসের সুযোগ যেমন অনেক, তেমনই ঝুঁকির কথাটাও ভুলে গেলে চলবেনা। স্রোতের সঠিক ঘাত প্রতিঘাত বিশ্লেষণ না করে অবৈজ্ঞানিক বাঁধ নির্মাণ, বোল্ডার ফেলা, বিদেশী ঘাসের চাষ, গাছ লাগানো, তার জালির ব্যবস্থা ইত্যাদি হয়তো সাময়িক ভাবে ক্ষতের মলম দিতে পারে কিন্ত তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হতে পারে না। নদীর পাড়ে বসবাসকারী বিপুল মানুষের পুনর্বাসন করা হয়েতো কঠিন কাজ, কিন্ত দূরসংবেদন ও ভৌগলিক তথ্য ব্যবস্থা (GIS) র সঠিক প্রয়োগ এর কিছুটা সমাধান করতে পারে। ভাঙন প্রবন নদীর তীর গুলির মানচিত্র প্রস্তুত করে, কত বছরের মধ্যে সম্ভাব্য ভাঙন কবলিত হতে পারে তার ভিত্তিতে যদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাহলে প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে হাজার হাজার পরিবেশ-গত উদ্বাস্তু মানুষের যন্ত্রণা কিছুটা হলেও হয়তো কমানো যাবে।তথ্য সূত্রঃ১। বাংলার নদীকথা কল্যাণ রুদ্র, ২০০৮২। বাংলাদেশের নদ নদী ও পরিকল্পনা কপিল ভট্টাচার্য, ১৯৫৯৩। The Changing Face of Bengal রাধাকমল মুখোপাধ্যায়, ১৯৩৮৪। Rivers of Bengal(সঙ্কলিত) কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, ২০০১৫। https://bn.m.wikipedia.org৬। No voice, no choice: Riverine changes and human vulnerability in the chars of Malda and Murshidabad, জিনিয়া মুখার্জী, ২০১১(http://idsk.edu.in/wp-content/uploads/2015/07/OP-28.pdf)৭। Time Streams: History and Rivers in Bengal, Graham P. Chapman Kalyan Rudra, ২০১৫ ডঃ কুণাল চক্রবর্তী, সহকারী অধ্যাপকশম্ভুনাথ কলেজ, লাভপুর, বীরভূম ওডঃ ইন্দ্রাণী মুখার্জী, সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ, পূর্ব বর্ধমান

নভেম্বর ০২, ২০২০
উৎসব

জল থেকে কাঠামো তোলার জন্য এজেন্সি নিয়োগ হাওড়া পুরনিগমের

বিজয়া দশমী থেকেই প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়েছে হাওড়ার বিভিন্ন ঘাটে। গঙ্গার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জলাশয় চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে প্রতিমা বিসর্জন হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পুরনিগম একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গঙ্গায় ফেলা ছোট কাঠামোগুলি দ্রুত তোলার জন্য বিশেষজ্ঞ এজেন্সিকে এবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিসর্জনের জন্য তাদের কাজে লাগানো হয়েছে। আরও পড়ুনঃ বিধি মেনেই হল সিঁদুর খেলা ও বিসর্জন জানা গিয়েছে , জলাশয়ের কাছাকাছি অস্থায়ীভাবে কাঠের ভ্যাট তৈরি করা হয়েছে। জলাশয় থেকে প্রতিমার কাঠামো ভ্যাটে ফেলার পরে সেই কাঠামো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি , বড় কাঠামো জল থেকে তোলার জন্য হাইড্রা মেশিনের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঘাটের থেকে আবর্জনা তোলার জন্য ই-রিক্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাওড়া পুরনিগমের দাবি , ইতিমধ্যেই প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রতিমার কাঠামো জল থেকে তোলা সম্ভব হয়েছে। আজও কাঠামো তোলার কাজ চলছে।পুরকর্মীদের এই কাজে লাগানো হয়েছে।

অক্টোবর ২৭, ২০২০
রাজ্য

উদ্বোধনের আগেই গঙ্গাযাত্রা নির্মীয়মান বিশ্রামগৃহের

নির্মীয়মান বিশ্রাম গৃহের ভেঙে পড়ল গঙ্গায়। এ যেন একেবারে গঙ্গাযাত্রা। সাঁকরাইলের মাণিকপুর ফাঁড়ির সারেঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের হীরাপুরে গঙ্গার পাড়ে থাকা শ্মশানে শ্মশানযাত্রীদের জন্য নির্মীয়মান একটি বিশ্রামাগার এদিন ভেঙ্গে পড়ে নদীতে। রবিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জায়গাটিতে গঙ্গার পাড়ে ইঁট দিয়ে তৈরি গার্ডওয়াল রয়েছে বহু বছর আগে থেকেই। সেই গার্ডওয়ালের ভিতরে তৈরি করা হচ্ছিল এই বিশ্রামগৃহটি। জেলা ও ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের বৈতরণী প্রকল্পের টাকায় এই ভবনটি গড়া হচ্ছিল শ্মশানযাত্রীদের বিশ্রামের জন্য। রবিবার সকালে নদীগর্ভে রীতিমতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নীল-সাদা রঙের একতলা বাড়িটি। বাড়িটি ধ্বসে পড়ে গঙ্গাবক্ষে। যদিও এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা জখমের ঘটনা ঘটেনি। মাস ছয়েক আগে এই ভবননি নির্মানের কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে ছিল। কয়েকদিনের মধ্যে উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল বিশ্রামগৃহটির। এদিন সকালে ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি দেখতে আসেন স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রধান মৃদুলা বাছার, সাঁকরাইলের বিডিও সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তা। গত কয়েকদিন ধরেই গঙ্গা নদীতে চলছে ভরা কোটাল। তার জেরেই এই ঘটনা বলে অনুমান এলাকার বাসিন্দাদের।

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

ট্রেন্ডিং

দেশ

নিট কেলেঙ্কারির ভয়ংকর ফাঁস! “৫০০-৬০০ নম্বর নিশ্চিত”, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে বিস্ফোরক তথ্য

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মূল অভিযুক্ত শুভম খয়েরনার পরীক্ষার্থীদের ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত। তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট থেকেই ফাঁস হয়েছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।নিট ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তভার এখন সিবিআইয়ের হাতে। ইতিমধ্যেই জাতীয় পরীক্ষাকর্তা সংস্থা পরীক্ষা বাতিল করেছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দিনও ঘোষণা করা হয়েছে।তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নাসিক থেকে গ্রেফতার হওয়া শুভম খয়েরনার গত এপ্রিল মাসেই তার সাপ্লায়ার যশ যাদবকে জানিয়েছিল যে প্রশ্নপত্রের কপি জোগাড় হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ২৯ এপ্রিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তি হয়। তারপর থেকেই শুরু হয় পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করে প্রলোভন দেখানো।অভিযুক্তরা পড়ুয়াদের বোঝাত, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র নিলে তারা নিশ্চিতভাবে বেশি নম্বর পাবে এবং দেশের নামী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ চলত মূল অভিযুক্তদের মধ্যে। সেখানে পরীক্ষার্থীদের ৭২০ নম্বরের পরীক্ষায় ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হত।সিবিআই ইতিমধ্যেই শুভমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। চ্যাটের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কপিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও শিকর-সহ দেশের বিভিন্ন বড় কোচিং কেন্দ্রে এই প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং কেরলেও ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।শুভম খয়েরনার বয়স ৩০ বছর। নাসিকের ইন্দিরানগরের বাসিন্দা সে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্র হলেও কখনও ডাক্তারি পাশ করতে পারেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে নিটের প্রশ্নপত্র কিনে পরে তা ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয় সে।এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ, লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে কীভাবে বড় চক্র কাজ করছিল, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে তদন্তে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কাণ্ডে বড় অ্যাকশন! একসঙ্গে সাসপেন্ড তিন আইপিএস অফিসার

ক্ষমতায় এসেই আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নির্যাতিতা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জন আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে তদন্তও।যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের সময় পুলিশের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। এফআইআর করতে দেরি এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সেই সময় পুলিশের আধিকারিক এবং অফিসারদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মূল মামলার তদন্ত যেহেতু সিবিআই করছে, তাই সেই তদন্তে রাজ্য সরকার কোনও হস্তক্ষেপ করবে না।আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছিল বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দুই পুলিশ অফিসার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।আরজি কর কাণ্ডের সময় কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন বিনীত গোয়েল। ডিসি সেন্ট্রাল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় পুলিশের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছিলেন এবং সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এত প্রশ্ন কেন উঠেছিল।এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুরু থেকেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল নতুন সরকার।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

শাহজাহানদের জেল নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা! মোবাইল উদ্ধার, সাসপেন্ড দুই শীর্ষ আধিকারিক

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বন্দিদের হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জেলের ভিতর থেকেই অপরাধচক্র চালানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।শুক্রবার বিধানসভা থেকে নবান্নে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানান, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে মোবাইল ব্যবহারের অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়। তদন্তে অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডিসির উপস্থিতিতে এবং কারা দফতরের ডিজির নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে একাধিক মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগার থেকেই অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল। তাঁর কথায়, গোটা রাজ্যের অপরাধীরা জেলের ভিতর থেকেই নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছে।এই ঘটনায় পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণও শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কাজ একদিনের নয়। বছরের পর বছর ধরে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত দুর্নীতির আঁতাত তৈরি হয়েছে। সেই চক্র ভাঙতে সময় লাগবে।শুভেন্দু আরও জানান, দমদম থেকে বহরমপুর পর্যন্ত একাধিক সংশোধনাগারে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বন্দিদের আলাদা সেলে রাখা থেকে শুরু করে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলে বসে যারা অপরাধচক্র চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘরাইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, দায়িত্বে গাফিলতি হলে শুধু অপরাধীদের বিরুদ্ধে নয়, যারা তাদের সাহায্য করছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কোন কোন বন্দির কাছে মোবাইল ছিল, কার নামে সিম ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কীভাবে সেই ফোন জেলের ভিতরে পৌঁছল, তা জানতে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়েছে।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আরজি কর কান্ডে বড় পদক্ষেপ! তিন আইপিএস সাসপেন্ড, ফের খুলছে তদন্তের ফাইল; মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের বহুল আলোচিত চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে নতুন করে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা তিন আইপিএস অফিসারবিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-র ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট তলব করেছিলেন। আরজি করের ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামলেছিল, কোথায় কোথায় গাফিলতি হয়েছে এবং কোন স্তরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, প্রাথমিক তদন্তেই উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ। বিশেষ করে ঘটনার পর যথাসময়ে এফআইআর দায়ের, প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্তের প্রাথমিক ধাপগুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্যের উল্লেখ করে শুভেন্দু দাবি করেন, নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সরকারি স্তরে আর্থিক সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড সামনে আসতেই সারা রাজ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। চিকিৎসক সমাজের লাগাতার আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষের মুখে তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়। পরবর্তীতে তাঁকে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এসটিএফ-এর এডিজি ও আইজিপি পদে বদলি করা হয়েছিল।একই সময়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ ওঠার পর তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে থাকা ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ও আরজি কর-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে বারবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছিলেন। তাঁর ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় আসছে।শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তদন্ত শুধু প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজন হলে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ন্যায়বিচারের পথে বড় পদক্ষেপ বলে দাবি করলেও, শাসকদলের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলেই কটাক্ষ করেছে।আরজি কর কাণ্ডে নতুন করে তদন্তের দরজা খোলায় ফের সামনে আসছে সেই ভয়াবহ রাতের বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন। এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

ঘরছাড়াদের ফেরাতে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর! তবে মানতে হবে কড়া শর্ত

ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের তরফে দাবি করা হচ্ছিল, বিভিন্ন জেলায় তাঁদের বহু নেতা-কর্মী আক্রান্ত এবং ঘরছাড়া। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনেও সেই অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আর সেই অভিযোগের পরই বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।বিধানসভায় এদিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হন শাসকদলের প্রার্থী রথীন্দ্রনাথ বোস। বিরোধীরা কোনও প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অত্যাচারে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন।এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর জানা মতে বর্তমানে কেউ ঘরছাড়া নন। তবে যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিরোধী দলনেতাকে নামের তালিকা জমা দিতে বলেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, আপনারা তালিকা দিন, কারা ঘরছাড়া হয়েছেন জানিয়ে দিন।তবে এখানেই একটি স্পষ্ট শর্ত বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তালিকায় থাকা কেউ যদি একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর থাকে, তাহলে তাঁকে ঘরে ফেরানো হবে না। বরং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু যদি কেউ নির্দোষ হয় এবং সত্যিই ঘরছাড়া থাকেন, তাহলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার তাঁকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে দেবেন বলে আশ্বাস দেন শুভেন্দু।বিধানসভায় এই আলোচনা শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে দেখা করেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সূত্রের খবর, তিনি শুভেন্দুকে বলেন যে বাইরে পরিস্থিতি এখনও অশান্ত। তখন মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরের দিন পুলিশের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে এবং সেখানে পান্নালালকেও থাকতে বলেন তিনি।শোনা যাচ্ছে, সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য লিখিত আমন্ত্রণপত্র চান পান্নালাল। পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কারণ, বিধানসভায় আগেই শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, বিরোধীদেরও সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। আর এবার পুলিশের বৈঠকে বিরোধী বিধায়ককে ডাক দিয়ে তিনি যেন সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট করে দিলেন।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

আর গোপন কিছু নয়! বিধানসভার সব কার্যকলাপ লাইভ দেখানোর ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বিধানসভার প্রথম দিন থেকেই বড় পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধায়করা কে কতটা কাজ করছেন, কে নিয়মিত বিধানসভায় উপস্থিত থাকছেন, তা যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিধানসভার কার্যকলাপ লাইভ সম্প্রচারের ঘোষণা করলেন তিনি। তাঁর কথায়, জনগণের নজরদারি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, অতীতের অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতা তিনি আর টেনে আনতে চান না। পুরনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে গিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নিয়ম মেনেই বিধানসভা চালানোর উপর জোর দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিধানসভাকে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ করে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।তিনি জানান, বিধায়কদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতেই পারেন না তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কী কাজ করছেন। তাই বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ বিধানসভার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ সরাসরি সম্প্রচার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।বিধানসভায় বিশৃঙ্খলা ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও বিধায়ককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা উচিত নয়। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং গণতান্ত্রিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মঞ্চ।শুভেন্দু আরও জানান, বিধানসভায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এখনও ভোটাভুটির ক্ষেত্রে কাগজে লিখে মত জানাতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশন হলে বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণেই নতুন বিধানসভা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।বিরোধীদের উদ্দেশেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, বিরোধীদের আরও বেশি করে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বিরোধী বিধায়করা সরাসরি মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। পাশাপাশি কোনও মন্ত্রী এলাকায় গেলে স্থানীয় বিধায়ককে আগাম জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।শেষে বিরোধীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে চিঠি পাঠালেও উত্তর পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাবে। বিরোধীরা চিঠি দিলে তিনি নিজে তার উত্তর দেবেন বলেও জানান শুভেন্দু।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

নাম না করেই অভিষেককে নিশানা তাপস রায়ের! “বিজেপি নয়, ওর ব্যবস্থা করবে জনগণ আর তৃণমূল”

নতুন সরকার গঠনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। স্পিকার নির্বাচনের দিন তৃণমূলকে একের পর এক আক্রমণ শানালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। নাম না করেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। তাপসের বক্তব্য, বিজেপি তাঁর কিছু করবে না। তাঁর ব্যবস্থা করবে জনগণ এবং তৃণমূলই।শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন বিজেপির রথীন্দ্র বসু। এরপর বিভিন্ন দলের বিধায়করা বক্তব্য রাখেন। সেই সময় বক্তব্য রাখতে উঠে তাপস রায় শুরু থেকেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে থাকেন। তৃণমূল বিধায়কদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, অনেক তো করেছেন। এবার দেখতে খারাপ লাগছে নাকি?এরপরই তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের ভোট ছিল না, এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। সেই ধর্মযুদ্ধে যারা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানান তিনি।নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে তাপস বলেন, বিধানসভায় কোনও দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান যেন না ওঠে, তার জন্য প্রয়োজন হলে আইন আনতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।এরপরই নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তাপস রায়। তিনি বলেন, একজন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। যদিও বাংলার দলের আবার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক! এই মন্তব্যে তৃণমূল বিধায়করা প্রতিবাদ শুরু করলে তাপস বলেন, সব বলা যায়। বলতে দিতে হবে।তাপস আরও বলেন, সে বলেছিল হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলছি, এবার সে বাইরে বেরোক। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ আর তৃণমূলই করবে।ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়েও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তাপসের দাবি, তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে বিজেপির বহু কর্মী খুন হতেন। তিনি বলেন, আজ যদি ওরা ক্ষমতায় ফিরত, তাহলে দেড়শোর বেশি বিজেপি কর্মীর লাশ গুনতে হত। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হত। লক্ষ লক্ষ বিজেপি সমর্থক ঘরছাড়া থাকতেন।একসময় তৃণমূলেরই নেতা ছিলেন তাপস রায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন তিনি। পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাপস বলেন, আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, তাহলে আমাকে জেলে পাঠান।শেষে জয় শ্রীরাম এবং ভারত মাতার জয় ধ্বনি দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন বিজেপি বিধায়ক।

মে ১৫, ২০২৬
কলকাতা

পদ হারিয়েই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির! তৃণমূলে কি বাড়ছে বিদ্রোহ?

লোকসভায় মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর তারপর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ পদ হারানোর পর সমাজমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন কাকলি। সেই পোস্ট ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের একাংশ নেতার মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে, কেউ আবার সমাজমাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অনেকেই দলের খারাপ ফলের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাককে দায়ী করেছেন। সেই আবহেই কাকলির পোস্ট নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে।গত বছরের অগস্ট মাসে আচমকাই লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দায়িত্ব দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কিন্তু মাত্র নমাসের মধ্যেই ফের সেই পদে ফিরিয়ে আনা হল কল্যাণকে। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত?পদ থেকে সরানোর পর সমাজমাধ্যমে কাকলি লেখেন, ৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। এই পোস্ট থেকেই স্পষ্ট, সিদ্ধান্তে তিনি যে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।এর আগেও কাকলির ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একাধিক পোস্ট করে দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ফেলেছিলেন। সমাজমাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে সিপিএম নেতৃত্ব এবং মহম্মদ সেলিমের প্রশংসাও করেছিলেন।আরও একটি পোস্টে বৈদ্যনাথ লিখেছিলেন, আমার মাকে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। প্রশ্ন করুন সব্যসাচী দত্ত কোথায়? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পোস্টের পর থেকেই কাকলির অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।এখন ছেলের পর মা-ও প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখানোয় তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কাকলির পোস্ট নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal