• ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Education

রাজ্য

এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতিঃ নিজাম প্যালেসে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শুরু হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদ

সন্ধ্যে ৬টার আগেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজাম প্যালেসে প্রবেশ করলেন। ঠিক বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে লিফ্টে করে সিবিআই দফতরে উঠে যান প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিবিআইেয়ের আধিকারিকরা। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। পাশাপাশি এসএসসির পাঁচ উপাদেষ্টাকে সিবিআই দফতরে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ডিভিশন বেঞ্চ কোনও স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে হাজির হতে হবে। সেই মত সময়ের আগে পার্থবাবু সিবিআই দফতরে পৌঁছে যান। বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন এই মামলায় রায় দিতে অস্বীকার করেছে। পার্থবাবুর আইনজীবী মৌখিকভাবে আবেদন করেছিলেন। এভাবে এই ধরনের মামলায় শুনানি সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিনে ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায় শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে হাজির হতেই বলেননি একই সঙ্গে সহযোগিতা না পেলে মন্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। অর্থাৎ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী কোনও রক্ষাকবচ পেলেন না আদালত থেকে। জানা গিয়েছে, বিকেল প্যন্ত বাড়িতেই আছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিকেলের পরই বেরিয়ে পড়েন নিজাম প্যালেসেের দিকে। জানা গিয়েছে, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে।

মে ১৮, ২০২২
রাজ্য

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে আজ সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে নিজাম প্যালেসে হাজিরার নির্দেশ আদালতের

রাজ্য়ের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেসে সিবিআইয়ের অফিসে আজ সন্ধ্যে ৬টার মধ্যে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে শান্তিপ্রসাদ সিনহা সহ শিক্ষাদফতরের পাঁচ উপাচেষ্টাকে বিকেল চারটের মধ্যে সিবিআইয়ের ওই দফতরে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যের আরেক মন্ত্রী পরেশ অধিকারীকেও সিবিআইয়ের কাছে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে তিনি ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছেন। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এসএসসির ৭টা মামলায় সিঙ্গল বেঞ্চের সমস্ত রায় বহাল রেখেছে।

মে ১৮, ২০২২
রাজ্য

এসএসসি গ্রুপ সি নিয়োগে দুর্নীতিঃ প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে গ্রেফতারের দাবি শুভেন্দুর

এসএসসি গ্রুপ সি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সারা বাংলা। এবার এই দুর্নীতির তদন্তে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থ ক্যাবেনেট সদস্য তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে এক স্মরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই দাবি জানান বিজেপি নেতা শুভেন্দু।এদিনই হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ কমিটি এসএসসি গ্রুপ সি নিয়োগের তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেন। সেখানেই শিক্ষাদফতরের এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে শান্তিপ্রসাদ সিনহাসহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। নিয়োগে ভয়ঙ্কর বেনিয়মের কথা সেই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। এই মামলার শুনানি হবে আগামী ১৮ মে।এদিন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর মূলাধার। এসপি সিনহা কমিটি পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৈরি করেছেন। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর চোখের জল বৃথা যেতে পারে না। পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা উচিত। তাহলেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় পিসি-ভাইপোর নাম বলবে। তাঁর দাবি, টাকার বিনিময়ে চাকরি হয়েছে। এই জাহাজবাড়ির মালিক চাকরি বিক্রি করেছে। নিরপেক্ষ এজেন্সি তদন্ত করলেই লাইন দিয়ে তথ্যপ্রমান দিয়ে আসবে। এদিন বিরোধী দলনেতার মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে

মে ১৩, ২০২২
সম্পাদকীয়

আলিয়ার ভাইরাল ভিডিও, শিক্ষাঙ্গনে অবহেলিত শিক্ষা ও রাজনীতিকরণ

আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় রাজ্যের শিক্ষামহল। ভিডিও ভাইরাল হতে শোরগোল পড়ে যায় সবমহলেই। নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজ্যজুড়ে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত গিয়াসুদ্দিন মন্ডলকে। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে। ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে, ওই ছাত্রকে তাঁরা তিন বছর আগেই সাসপেন্ড করে দিয়েছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন হল ভিডিও ভাইরাল না হলে ওই ঘটনা কী সামনে আসত? নাকি ওই অভিযুক্ত গ্রেফতার হত?একজন উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে যে ভাষায় কথা বলা হয়েছে তা কোনও সমাজ বরদাস্ত করতে পারে না বলেই শিক্ষামহলের বক্তব্য। তাহলে কেন এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, এই প্রশ্নই সর্বস্তরে। এর আগে রায়গঞ্জ কলেজ, ভাঙর কলেজসহ নানা কলেজে অবান্তর ঘটনা ঘটেছে। এবারও মাত্রা ছাড়ায়েছে। কলেজে ছাত্র রাজনীতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাওয়ার ফলে ছাত্র সংসদের নির্বাচনই বন্ধ রেখেছে রাজ্য সরকার, এমনই মনে করছেন শিক্ষামহল। তবে শিক্ষাঙ্গনে গুন্ডারাজ যে কমেনি তার হাতে-নাতে প্রমান এই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা। কোনও সভ্যজগতে কোনও একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গেও কী এই ঘটনা ঘটানো যায়? প্রশ্নটা শুধু শিক্ষাঙ্গন নয়। এভাবে হেয়, অপমান করার সাহস কোথা থেকে পায়? বর্বরতার চূড়ান্ত।কোনও ঘটনা ঘটলেই হাত ধুয়ে নিতে উঠে-পড়ে লোকজন। যে অকথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তার নিন্দার কোনও ভাষা হতে পারে না। বাম আমলের মতো এখনও রাজনীতির হাত থেকে রেহাই পায়নি শিক্ষাক্ষেত্র। উপাচার্য নিয়োগ নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। বামেদের সময়েও ছিল। লবির লোক ছাড়া নাকি উপাচার্যই হওয়া যায় না বলে অভিযোগ। শিক্ষার মান সেখানে প্রশ্নের মুখে পড়তে বাধ্য। শিক্ষাক্ষেত্রে শাসন সেখানে থাকতে পারে না। শিক্ষাঙ্গন প্রকৃতই যেদিন রাজনীতিকরণ মুক্ত হবে সেদিন সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা সম্ভব। এই অভব্য ছাত্রসমাজের পিছনে কে বা কারা রয়েছে। সেই সব খতিয়ে দেখলে কেঁচো খুড়তে কেউটে বের হবেই। প্রথমত ছাত্রসমাজকে অহেতুক রাজনীতিতে অপব্যবহার তার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কে কার লোক। অতএব চিৎকার, চেঁচামেচি জুড়ে কিছু হবে না। নিন্দা করে কোনও লাভ হবে না। একমাত্র সিস্টেমের বদলই পারে শিক্ষাঙ্গণে প্রকৃত মানুষ তৈরি করতে। অন্যায় রাজনীতিকরণ বন্ধ না হলে কেউ ঘটনা নিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবে, একদল নিন্দার ঝড় তুলবে। কাজের কাজ কিছুই হবে না।

এপ্রিল ০৩, ২০২২
বিনোদুনিয়া

আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশোনার অ্যাপ, সুবিধা পাবেন গ্রামাঞ্চলের মানুষরা

বর্তমানে অনলাইনের যুগে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অ্যাপের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। বাড়িতে বসেই অ্যাপের মাধ্যমে পড়াশোনা করে পড়ুয়ারা অনেক লাভবান হচ্ছে। তবে এই অ্যাপ মূলত ইংরাজী ও হিন্দি ভাষায় থাকলেও আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশোনার অ্যাপ এখনও পর্যন্ত নেই। সেই সমস্যারই সমাধান করবে ক্লাসরুট।নবম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ভারতের প্রথম আঞ্চলিক ভাষায় বিনামূল্যে পড়াশোনার অ্যাপ নিয়ে এল ক্লাসরুট। এর পাশাপাশি এই অ্যাপ ব্যবহারকারী পাবেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার টপিক ও। এই অ্যাপেরই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল কলকাতা প্রেস ক্লাবে।এই অ্যাপের কো-ওনার কৃষ্টি দাস জানালেন, বিনামূল্যে আছে এবং বিনামূল্যেই থাকবে। তবে আমাদের এই অ্যাপ চালানোর খরচ তো আছেই। সোশ্যাল মিডিয়া যেভাবে চলে বিভিন্ন এনডর্সমেন্ট এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেইভাবেই আমাদের অ্যাপ চলবে। এছাড়া ভবিষ্যতের কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া গ্রামে গ্রামে গিয়ে আমরা এই অ্যাপটা কিভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাও শেখাবো।

মার্চ ২২, ২০২২
রাজ্য

'সন্তান পুত্র বা কন্যা-মাতা কোন ভাবেই দায়ী নন’, বিয়ের অতিথিদের এই পাঠ দিলেন শিক্ষক বাবা

একমাত্র কন্যা অদিতির বিয়ের আয়োজনে কোন খামতি রাখেননি বাবা। ফুল,মালা ও আলোক রোশনাইয়ে নিখুঁত ভাবে সাজানো হয় বিয়ে বাড়ি।বুধবার সারাটা দিন বিয়ে বাড়ি ভরে থাকে সানাইয়ের সুর মুর্ছনায়। এতকিছুর মধ্যেও ওই বিয়ে বাড়িতে সবথেকে বেশী নজরকাড়া ছিল পাত্রীর শিক্ষক বাবা শ্যামাপ্রসাদ দাসের দেওয়া সচেতনতার পাঠ। তিনি বিয়ে বাড়িতেই কন্যা সন্তান নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা তুলে ধরা বড়বড় ফ্লেক্স টাঙিয়েছেন। তাতে উল্লেখ থাকে সন্তান হোক পুত্র বা কন্যা-মাতা কোন ভাবেই দায়ী না।নিজের মেয়ের বিয়েতে শুধু এই বার্তা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি শ্যামাপ্রসাদ বাবু। তিনি রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারির আকারে বিয়ে বাড়ির মূল ফটকে পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে উপহার সামগ্রী নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাখেন। বুধবার রাতে বিয়ে বাড়ির অন্দরে প্রবেশের পর এইসব চাক্ষুষ করে অতিথিরা কার্যত থমকে দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হন। তবে তাঁরা পাত্রীর বাবার এমন ভাবানার তারিফ না করেও পারেননি।শ্যামাপ্রসাদ দাসের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে।তিনি যখন ছোট ছিলেন তখন তাঁদের পারিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা তেমন ছিল না। তবুও সমস্ত প্রতিকুলতাকে জয় করে মা সরস্বতীদেবীর প্রেরনায় লেখাপড়া চালিয়ে যান মেধাবী ছাত্র শ্যামাপ্রসাদ।বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করে সাফল্যের সঙ্গে তিনি স্নাতক হন। পরে তিনি স্কুল শিক্ষকতার চাকরি পান। এরপর সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরে। তবে শ্যামাপ্রসাদ বাবুর জীবনে বড় অঘটন ঘটে যায় কয়েক বছর আগে।হঠাৎতই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান শ্যামাপ্রসাদ বাবুর স্ত্রী কাকলীদেবী। তখন তাঁর একমাত্র কন্যা অদিতি অনেক ছোট। শ্যামাপ্রসাদ বাবু নিজেই একদিকে পিতা ও অন্যদিকে মাতার ভূমিকা নিয়ে তাঁর কন্যার যাবতীয় দায় দায়িত্ব পালন করেন। বাবার বিজ্ঞান প্রীতিকে অনুসরণ করে অদিতিও সম্প্রতি কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বিএসসি পাশ করে । এরই মধ্যে অদিতির সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে মালদার মথুরাপুর নিবাসী পেশায় ইঞ্জিনিয়ার যুবক স্বর্ণাঙ্কু সাহার। মেয়ের পছন্দের পাত্রকেই নিজের জামাই করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শ্যামাপ্রসাদ বাবু। বুধবার বিয়ের দিনেও মেয়ের ভাব ভালবাসার বিষয়টি তিনি একেবারে লিখিত ভাবেই সাজিয়ে গুছিয়ে জনসমক্ষে তুলে ধরেন।সন্তান হোক পুত্র বা কন্যা-মাতা কোন ভাবেই দায়ী না।একমাত্র কন্যার বিয়ের দিনই কেন বিয়ে বাড়িতে কন্যা সন্তান জন্মানোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরলেন? এর উত্তরে শ্যামাপ্রসাদবাবু বলেন, বিজ্ঞান ভিত্তিক কি কারণে সন্তান পুত্র বা কন্যা হয়ে জন্মায় তা বহু মানুষের কাছেই অজানা রয়ে আছে। তার কারণে এখনকার যুগেও বহু মানুষ মনে করেন কন্যা সন্তান জন্মানোর দায় শুধু মাত্র মায়ের। তাই কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য মায়েদের নির্যাতন হজম করতে হয়। কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার অপরাধে অনেক মায়ের প্রাণ খোয়ানোর মত ঘটনায় ঘটছে। অথচ বিজ্ঞান বলছে,সন্তান পুত্র হোক বা কন্য তার জন্য মাতা কোন ভাবেই দায়ী নয় । অন্ধ ধারনা থেকে মানুষ্য সমাজমুক্ত হতে না পারলে কোন কন্যা সন্তানের বাবা মা তাঁদের মেয়ের বিয়ে দিয়ে দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে থাকতে পারবেন না। তাই মেয়ের বিয়েতে বিজ্ঞানের এই পাঠ সবার সমক্ষে তুলে ধরেছেন বলে শ্যামাপ্রসাদ বাবু জানান। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, কোভিড অতিমারির জেরে দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি তাঁর মেয়ের বিয়েতে উপহার সামগ্রী নিয়ে আসার ব্যাপারে নিয়েধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানান।বিয়ে বাড়িতে সবার উপলব্ধির জন্য শ্যামাপ্রসাদ বাবু বিজ্ঞানের যে পাঠ দিয়েছেন ,তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে অদিতি ও জামাই স্বর্ণাঙ্কু। তাঁরা বলেন, এটাতো বিজ্ঞান সম্মত ভাবেই প্রমানিত সন্তান পুত্র বা কণ্যা যাই হোক- তার জন্য মাতা কোন ভায়েই দায়ী নন। এর কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অদিতি বলেন, নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান বইতেই আমরা পড়েছি আমাদের মানব শরীরে ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম আছে । তার মধ্যে একজোড়া ক্রোমোজোম হল সেক্স ক্রোমোজোম ।সেটা আমাদের মায়ের শরীরে XX। আর বাবার শরীরে XY। এই সেক্স ক্রোমোজোম-ই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে সহায়তা করে। বৈজ্ঞানিক ভাবেই এটা প্রমানিত যে বাবা ও মায়ের শরীরে থাকা অর্ধেক অর্ধেক ক্রোমোজোম সন্তান পেয়ে থাকে। সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের ক্রোমোজোম যদি আমরা ধরি তাহলে বাবার শরীর থেকে আসতে পারে X বা Y এর মধ্যে যে কোন একটি। মাতার শরীরে X ছাড়া যেহেতু অন্য আর কোন ক্রোমোজোম ভ্যারিয়েন্ট থাকে না তাই মায়ের শরীয় থেকে আসে শুধুমাত্র একটি X ক্রোমোজোম। তাই সন্তান যে হবে তাঁর সেক্স ক্রোমোজোম XX বা XY হতে পারে। ওই সন্তান পুত্র বা কন্যা যাই হোক তার জন্য মাতার কোন ভূমিকা থাকে না। পুরুষের ইচ্ছাতে এর সমস্ত কিছু না হলেও বৈজ্ঞানিক ভাবে বলা হয়েছে সন্তান পুত্র বা কন্যা যাই হোক তার পিছনে মূখ্য ভূমিকা পুরুষেরই থাকে। এত কিছু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মাতার জরায়ু থেকে সন্তান জন্ম নেয় বলে কন্যা সন্তান জন্মালেই মায়েদের দায়ী করা হয়। মানুষের এই ভুল ধারণা ভাঙতে তাঁর বাবা বিয়ে বাড়িতে আগত সব অতিথিকে যে পাঠ দিয়েছেন সেটা যথেষ্টই সময়োপযোগী ও যুক্তি সঙ্গত বলে অদিতি দাবি করেছে। জামাই স্বর্ণাঙ্কু বলেন, শনিবার বৌভাতের দিন তিনি মালদার বাড়িতে অতিথিদের একই পাঠ দেবেন। তার পিছনে উদ্দেশ্য একটাই থাকবে কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়া মায়েদের লাঞ্ছনা গঞ্জনা থেকে মুক্তি দেওয়া। বুধবার অদিতির বিয়েতে উপস্থিত থাকা অতিথি অঞ্জন মুখোপাধ্যায় ও যুথিকা দাস বলেন, কন্যার বিয়েতে কন্যা সন্তানের জন্ম নিয়ে কন্যার বাবার এমন বিজ্ঞান ভিত্তিক পাঠদান কার্যতই নজিরবিহীন। ওই পাঠদান থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাই সচেতন হলে সমাজেই মঙ্গল হবে ।

মার্চ ১১, ২০২২
রাজ্য

অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও পূর্ব বর্ধমানে হাজারের বেশী পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা রাখলো না

করোনা অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর বন্ধ ছিল স্কুল। অতিমারির প্রভাব শিথিল হবার পর স্কুল খুললে দেখা যায় অনেক পড়ুয়া আর স্কুলমুখী হচ্ছে না। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্র উঠে এল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা-ই রাখলো না জেলার ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে রয়েছে মেমারির রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ পরীক্ষার্থী ,বর্ধমানের তেজগঞ্জ হাইস্কুলে ৮ জন পরীক্ষার্থী ও কাটোয়ার একটি স্কুলের ১১ জন পরীক্ষার্থী।মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের এই ভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি হতবাক করেছে জেলার শিক্ষক মহলকেও। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় কেন এত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলো তার তথ্য অনুসন্ধান ভীষণ জরুরী বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের দেওয়া তথা অনুযায়ী এই বছর খাতায় কলমে জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৪ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যায়ন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে এবছর ছাত্রের তুলনায় ৭ হাজার বেশী ছাত্রীর নাভ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা।কিন্তু পরীকার প্রথ দিন থেকে ছাত্র ও ছাত্রী মিলিয়ে ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পা-ই রাখলো না। পরীক্ষায় না বসার ক্ষেত্রে অবশ্য ছাত্রীর তুলনায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে।শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, করোনা অতিমারির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাজ চলে গিয়েছে। অভিভাবকরা রেজগারহীন হয়ে পড়েছেন। সংসার টানতে ওইসব পরিবারের পড়ুয়াদেরও কাজে যেতে হয়েছে। আবার অনেক পড়ুয়া স্কুল বন্ধ থাকায় সংসারের আর্থিক দুরাবস্থা কাটাতে নানা জায়গায় কাজে চলে যায়। অনেক নাবালিকা ছাত্রীর আবার বিয়েও হয়ে গিয়েছে।এছাড়াও অনেকে ভেবে ছিল এই বছরও হয়তো পরীক্ষার পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণে পাশ করার সুযোগ মিলবে। কিন্তু তা না হওয়ায় পরীক্ষারফর্ম পূরণের পরে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্র মুখো হয়নি।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধীপতি দেবু টুডু বলেন,রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের নানাবিধ সহায়তা পবার ব্যবস্থা করেছে।তার পরেও একাংশ পরীক্ষার্থীর এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় না বসার কি কারণ থাকতে পারে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

স্কুল খোলার দাবিতে বর্ধমানে শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালো বাম শিক্ষক ও ছাত্র সংগঠন

বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন চালুর দাবীতে পথে নেমে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ালো বাম ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। স্কুল খোলার দাবিতে মঙ্গলবার বর্ধমানের কার্জনগেট চত্ত্বরে যৌথ ভাবে গণস্বাক্ষর সংগ্রহে নামে এবিটিএ,এবিপিটিএ, এসএফআই এবং বিএসপিএসের সদস্যরা। সেখানেই তারা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।সরকার দাবি না মানলে গোটা রাজ্যজুড়ে আইন অমান্য আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি এদিন দিয়েছেন এসএফআই নেতৃত্ব।আন্দোলনকারীরা এদিন অভিযোগ করেন, রাজ্যে মেলা,খেলা সবই চলছে। সর্বত্র স্বাভাবিক জীবনযাপনও চলছে। অথচ শুধু বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়গুলি। দাবি না মানলে গোটা রাজ্যজুড়ে এসএফ আই আইন অমান্য আন্দোলন করবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত গুপ্ত বলেন, আমরা চাই সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হোক। আবার স্কুলমুখী হোক ছাত্রছাত্রীরা। পঠন পাঠন চালুর মধ্যে দিয়ে রাজ্যে পূর্বের শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক এটাই আমাদের মূল দাবি। সুদীপ্তবাবু আরও জানান, এবছর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী অনুপস্থিত থেকেছে। বেড়েছে ড্রপ আউটের সংখ্যা। অনেক মেয়ে আছে যাদের অল্প বয়সে এই সময়ের মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। এরকম অবস্থা যদি চালু থাকলে আগামি দিনে শিক্ষাব্যবস্থা আরও চরম সংকটে পড়বে। তাই তাঁরা চান অবিলম্বে পঠন-পাঠন শুরু হোক বিদ্যালয় গুলিতে। এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধমান জেলার সম্পাদক অনির্বাণ রায় চৌধুরী জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার দাবি তুলেছে বামপন্থী শিক্ষক এবং ছাত্র সংগঠন গুলি। রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ও মানবসম্পদের কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলতে হবে। এই দাবিতে আগামী ২৭ তারিখ গোটা রাজ্য জুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে খোলা আকাশের নিচে ওপেন এয়ার ক্লাসরুম করবেন।

জানুয়ারি ২৫, ২০২২
রাজ্য

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পাড়ায় শিক্ষালয় শুরু, ধাপে ধাপে খুলবে স্কুল

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পাড়ায় শিক্ষালয় চালুর কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলন করে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, মোট ১২ হাজার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে তারাই ক্লাস নেবেন।করোনার সংক্রমণের জন্যই দুবছর বন্ধ স্কুলের দরজা। মাঝে কয়েকবার খোলা হলেও, তা বেশিদিনের জন্য সম্ভব হয়নি। কিছু সময়ের জন্য, আংশিকভাবে স্কুল খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই তা ফের বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। এই পরিস্থিতিতে, দীর্ঘদিন পড়ুয়ারা ঘরে বসে থাকার কারণে অভিভাবকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এই সবের মধ্যেই স্কুল খোলার বিষয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। বললেন, রাজ্য সরকার স্কুল খোলার পক্ষে।সোমবার পাড়ায় শিক্ষালয় প্রকল্পের ঘোষণা করার সময় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, রাজ্য সরকারও স্কুল খোলার পক্ষে। তবে সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় রাজ্য সরকার। যাতে স্কুল খোলার কয়েকদিন পরেই আবার বন্ধ করে দিতে হল, এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হয়। করোনা পরিস্থিতি দেখে স্কুল খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছেন। কবে স্কুল খোলা হবে, সেই কথা মুখ্যমন্ত্রী জানাবেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সব স্কুলই ধাপে ধাপে খুলতে চাই।

জানুয়ারি ২৪, ২০২২
কলকাতা

টেট উত্তরপত্র দেখাতে হবে পর্ষদকে, নির্দেশ হাইকোর্টের

শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নিয়ে জট যেন আর কিছুতেই পর্ষদের পিছু ছাড়ছে না। এবার টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট -এর ওএমআর সিট প্রকাশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার এক মামলার শুনানি চলাকালীন এই নির্দেশ দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। দ্রুত এই ওএমআর দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শান্তনু সিট আদালতে গিয়ে দাবি করেন, টেটের ওএমআর সিট বা উত্তরপত্র দেখাতে হবে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এই ওএমআর সিট দেখানো হয় না। শান্তনুর পাশাপাশি আরও ২৭ জন আদালতে এই একই দাবি করেন। তাঁদের দাবি, ওএমআর সিট দেখালেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কেমন পরীক্ষা দিয়েছেন।এই মামলার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন, মামলাকারীদের ওএমআর সিট দিতে হবে।প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদও জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে ওএমআর শিট দেখাতে তাদের কোনও সমস্যা নেই। ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষা নিয়ে এর আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। সেই তালিকায় আরও এক মামলার সংযোজন হল এবার। শান্তনু সিট নামে এক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপরই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, টেটের ফল নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর মনে।প্রাথমিক পর্ষদকে এই প্রথমবার কোনও মামলার প্রেক্ষিতে ওএমআর সিট দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হল। যদিও পর্ষদের ওএমআর দেখাতে কোনও আপত্তি নেই বলেই জানানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের দাবি, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হচ্ছে। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে যথাযথ আবেদন এলে ওএমআর-এর প্রতিলিপি দিয়ে দেওয়া হবে।

জানুয়ারি ২১, ২০২২
কলকাতা

Governor: বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরানোর ভাবনা!

রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার! অন্তর্বর্তিকালীন হিসেবে এই পদে মুখ্যমন্ত্রীকে আনার ভাবনা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবার এমনই জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এ বিষয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।রাজ্যপালের সঙ্গে নবান্নের বিরোধ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি রাজ্যপাল রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্যকে ডেকে পাঠান। তা নিয়ে নতুন করে সঙ্ঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যপাল একের পর এক টুইটে দাবি করতে থাকেন, তাঁর উপর্যুপরি ডাকেও সাড়া দিচ্ছেন না রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা। শাসকের অঙ্গুলি হেলনেই এমনটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন পদাধিকার বলে রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এই প্রেক্ষিতেই সাংবাদিক বৈঠকে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় ব্রাত্য বসুর কাছে। ঘটনাচক্রে ব্রাত্যই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী।এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি দিনের পর দিন এভাবে ফাইল ফেলে রাখেন। তিনি বিন্দুমাত্র সহযোগিতার মনোভাব যদি না দেখান, তা হলে কেরলের রাজ্যপাল যেমন বলেছেন, প্রাদেশিক স্তরে আমরাও তা করতে বাধ্য হব। সংবিধান খতিয়ে দেখব, দরকারে আইনজ্ঞদের পরামর্শ নেব। আমরা আইনজীবীদের কাছে জানতে চাইব, অন্তবর্তিকালীন সময়ের জন্য রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য পদে আমরা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আসতে পারি কি না।তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, এই প্রসঙ্গে ব্রাত্যর মুখে উঠে আসে সিপিএম শাসিত কেরলের রাজ্যপালের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা। প্রসঙ্গত, কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বলেছিলেন, ওই রাজ্যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের পদে যেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নকে আনা হয়। কেরলেও রাজ্যপালের সঙ্গে নির্বাচিত বাম সরকারের বিরোধ অব্যাহত।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২১
রাজ্য

SSC: এসএসসি প্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর!

রাজ্যে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ হবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। আজ, মঙ্গলবার বিধানসভায় ঘোষণা করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের ঢিলেমি ও নানারকমের আইনি জটিলতা, টেট দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। সেই প্রশ্নের উত্তরেই ব্রাত্য বসু এদিন বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ করা হবে।ব্রাত্য বসু বলেন, রাজ্য শিক্ষক নিয়োগে বদ্ধপরিকর। আমরা ইতিমধ্যেই প্রাথমিকে ৩৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করেছি। তবে শিক্ষক নিয়োগে অনেক মামলা হয়েছে। মামলা মিটিয়ে নিয়োগের চেষ্টা হচ্ছে। আগামী ২ মাসে এসএসসি-তে নিয়োগ হবে। আদালতের জট কাটিয়েই এসএসসি-তে নিয়োগ হবে দ্রুত। আগামী ২ মাসে ১৫ হাজার এসএসসি শিক্ষক নিয়োগ হবে রাজ্যে। আশ্বস্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।এসএসসির মাধ্যমে রাজ্য কবে থেকে আবার শিক্ষক নিয়োগ শুরু করবে, তা নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্ন করেন পাথরপ্রতিমার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সমীর জানা। প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এদিন বিস্তারিত বিষয়টি জানান।২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল।এই নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেইসব অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটে আটকে ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া। গত জুলাইয়ে উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগের উপর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ তুলে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
শিক্ষা

School Re-Open: অবশেষে রাজ্যে খুলছে স্কুলের দরজা, ছাত্র-ছাত্রীদের কলতানে মাতবে ক্লাসরুম

বাজলো ছুটির ঘণ্টা। দীর্ঘ প্রায় দুবছর হতে চলল ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলের মুখ দেখেনি। অবশেষে বছর শেষে আজ, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের দরজা খুলতে চলেছে। স্কুলগুলিতে স্যানাটাইজারের কাজ শেষ। স্কুলে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীরা। যদিও প্রথম দফায় নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হবে। তার মধ্যেও নানান নির্দেশিকা রয়েছে।রাজ্যের অন্য জেলার মত পুর্ব-বর্ধমান জেলার বিভিন্ন স্কুল আজ খুললো, সরকারি নির্দেশিকা ও কোভিড বিধি মেনে তাঁরা ছাত্রদের স্কুলে প্রবেশ করান। জেলার সিবিএসসি ইংরাজি মাধ্যমের স্কুল বর্ধমান মডেল স্কুলে আজ ছাত্রদের গোলাপ ফুল দিয়ে নবীনবরন করে নেওয়া হয়। বর্ধমান মডেল স্কুলের কর্নধার অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জনতার কথা-কে জানান অতিমারীর কারণে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আজ আবার স্কুল খুলতে চলেছে এবং ঈশ্বরের কৃপায় আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে সন্তানদের ফিরে পেতে যাচ্ছি। শিক্ষক ও শিক্ষা-কর্মীদের কাছে আবেদন দয়া করে ভুলে যাবেন না যে এই অবস্থার মধ্যে তাদের মনের মধ্যে অনেক চাপ গিয়েছে, হয় তো অনেকের মধ্যে কিছু খারাপ অভ্যাস জায়গা করে নিতে পারে। তাই তাদের সাথে সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ করুন এবং তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য চরম ধৈর্য ধরে রাখার চেষ্টা করুন। আশা রাখছি খুব শীঘ্রই আমরা শিশুদেরও স্কুলে আসতে দেখব। এর থেকে ভালো দৃশ্য সমাজে আমরা কিছু আশা করতে পারি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ও বাসের ভিতরে বাচ্ছারা মা-বাবা দের হাত ধরে স্কুল বাস/ক্যাব-র অপেক্ষায় যে কলতান করে তা কোনও সঙ্গীতের থেকে কম মধুর নয়। সকলের ভালো ও শুভ কামনা আশা করছি।যাত্রা শুরুএই সময় ছাত্রী-ছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাসে অভ্যস্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই সুযোগ হয়নি লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার। শিক্ষামহল মনে করে, স্কুলে গিয়ে সরাসরি পড়াশুনার মজাটাই আলাদা। তাছাড়া স্কুলে গিয়ে না পড়লে প্রকৃত শিক্ষা সম্পূর্ণ হতে পারে না। বীরভূমের লাভপুরের শম্ভুনাথ কলেজের ভূগোল-র অধ্যাপক ডঃ কুনাল চক্রবর্তী জনতার কথাকে বলেন ছাত্রদের সাথে অফলাইনে ক্লাস নেওয়ার মজাই আলাদা। যে অনুভুতি সামনা-সামনি ক্লাস নিলে হয় তা কোনোদিন-ই অনলাইনের ক্লাসে সম্ভব নয়। আমরা দীর্ঘদিন শিক্ষকতা সঙ্গে যুক্ত, ছাত্রদের চোখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি তারা কতটা নিতে পারছে, সেটা কোনও দিন-ই অনলাইনের ক্লাসে সম্ভব নয়। তাছাড়া অনেকেই প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে, সেখানে ইন্টারনেট পরিসেবা ততটা উন্নত নয়, কেউ হয়তো অর্থনৈতিক অবস্থা কারনে মোবাইল কিনতে পারেনি। তবে অনলাইন ক্লাস একটা দিগন্ত খুলে দিল, এটা নিশ্চিত ভাবেই প্রমানিত যে কোনও কিছুই প্রতিবন্ধকতা নয়। মানুষ চাইলে সব কিছুকেই অতিক্রম করতে পারে। আশা রাখি খুব শীঘ্রই ছোটোদেরও স্কুল শুরু হবে।

নভেম্বর ১৬, ২০২১
রাজ্য

NEET: পূর্ব বর্ধমানের ফুল বিক্রেতার ছেলের সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক ২৫০১, মুখ উজ্জ্বল বাংলার

ফিজিকস ১৮০ মধ্যে ১৪৬, কেমিস্ট্রিতে ১৮০ মধ্যে ১৬৫, বায়োলজিতে ৩৬০ এর মধ্যে ৩৫০। পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার সেহারাবাজার সি কে ইনস্টিটিউশনের আকাশ পোদ্দারের সর্বসাকুল্যে প্রাপ্ত নম্বর ৭২০ মধ্যে ৬৬১। সর্বভারতীয় রেঙ্ক ২৫০১। পার্সেন্টাইল সর্বসাকুল্যে ৯৯.৮৪। হ্যাঁ নিট পরীক্ষায় আকাশের সাফল্যের খতিয়ান। সাফল্যের ধারাবাহিকতা অবশ্যই আছে। কেননা, ২০১৮ সালে মাধ্যমিকে আকাশের প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৭০০ মধ্যে ৬৭০, আর উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০০ মধ্যে ৪৮৬।কেউ ভাবতেই পারেন আকাশের সাফল্য ব্যতিক্রমী কেন? অবশ্যই ব্যতিক্রমী! কেননা সাফল্যের চূড়ায় উঠতে গেলে যে আনুষঙ্গিক অনুকূল পরিবেশের দরকার হয় আকাশের ক্ষেত্রে সেটা প্রায় ছিল না বললেই চলে! বাবা রায়নার সেহারাবাজার এর সামান্য একজন ফুল ব্যবসায়ী। স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসার। দিনান্তে ফুল বিক্রি করে কটা টাকাই বা হয়। বিশেষ করে এই করোনাকালে সব অনুষ্ঠানই প্রায় বন্ধ। বন্ধ তাই ফুল কেনাও। বেঁচে থাকাটাই যাদের দুঃসহ ব্যাপার তাদের কাছে পড়াশোনা, সাফল্য এগুলো দিবাস্বপ্নের মতই। নুন আনতে পান্তা ফুরানো পরিবার না বললেও, শাক আনতে মাছ পুরানো পরিবার বলাই যায়। একাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ভাইয়ের খরচাও তো কম নয়। তবুও অসম্ভব জেদ সঙ্গী করে হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যে স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড় টেনে সাফল্যের তীরভূমি তে পৌঁছে গেল আকাশ।পাঁচজনের দু-কামরা ঘরের একটি কোনই বরাদ্দ ছিল আকাশের পড়াশোনার জন্য। ইডেন গার্ডেন্সে যার খেলার ইচ্ছে তার প্র্যাকটিস ছোট্ট এক কানা গলিতে। একটি টিমটিমে লাইটের আলো, গোটা কতক পাঠ্যবই, জনা চারেক শিক্ষকের পরামর্শ আর বাবা মায়ের আশীর্বাদ পাথেয় করে আকাশের পথ চলা এবং সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া। নিশানায় অবিচল না থাকলে এই লক্ষ্যভেদ কখনোই সম্ভব নয়।বর্ধমান শহরের রাজা স্যার এবং সেহারাবাজার এর নীলlঙ্ক স্যারের কাছে কেমিস্ট্রি, বাঁকুড়ার আকুই গ্রামের প্রসেনজিৎ স্যারের কাছে ফিজিকস এবং বর্ধমান শহরেরই ২০০৭ এর ডাক্তারী পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম হওয়া কামিরুল ইসলামের শিক্ষিকা রুনু মুখোপাধ্যায়ের কাছে জুলজি ও বোটানি পড়েছে আকাশ। না, কোন অনলাইন বা অফলাইন কোচিং এর সঙ্গে যুক্ত ছিল না সে। অর্থ ছিল না, ছিলনা মানসিকতাও। তার কথায়, চারজন টিউশনি স্যার এবং বিদ্যালয়ের স্যারদের সাহায্য নিয়েই এই সাফল্য। স্যাররা না থাকলে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্নই দেখতে পারতাম না। প্রথমদিকে পড়াশোনা সময় কম দিলেও শেষের দিকে ভীষণ রকমের পরিশ্রম করেছি। কোন কিছুর হিসেব করে নয়। প্রয়োজন মতো। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, জেঠু জেঠিমা দের আশীর্বাদ আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।ছাত্রের সাফল্যে স্বভাবতই খুব খুশি বায়োলজিক্যাল সাইন্স এর ম্যাডাম বর্ধমানের মালির বাগান এর রুনু মুখোপাধ্যায়। তিনি বললেন, হাই স্কুলের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বেদনা অনুভব করি না এই আকাশ দের জন্য। প্রতিবছরই বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী আমাদের পরামর্শ মেনে পরিশ্রম করে ডাক্তারি পড়ার ছাড়পত্র যোগাড় করে। এদের পাশে দাঁড়াতে পেরে বেশ আনন্দ হয়। আকাশের সাফল্য নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম। অত্যন্ত বিনয়ী ও অনুগত ছাত্র। ক্লাসের সময় শতকরা একশভাগ মনোযোগ দিত আর এটাই ওর সাফল্যের বড় দিক। ও অনেক বড় হবে। ওর কার্ডিওলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন যেন সফল হয়!পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত মাঠে যেত আকাশ। ক্যাপ্টেন হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি প্রথম পছন্দ হলেও, ক্রিকেটার হিসেবে তার আদর্শ ভারতীয় দলের হিটম্যান রোহিত শর্মা। প্রিয় গায়ক অরিজিত সিং এর গান শোনা এবং গাওয়া আকাশের আর এক শখ।প্রায় ৩৫ বছর আগে বিহার থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে রোজগারের একমাত্র বাহন ছোট্ট ফুলের দোকানটি করেছিলেন বাবা। বিয়ের সিজনে বা বিভিন্ন ধরনের পুজো-অনুষ্ঠানের সময়ে মাঝেমধ্যে আকাশকেও বাবার দোকানে বসতে হতো। ফলের আসায় ফুল বিক্রি! দুর্মূল্যের বাজারে সামান্য রোজগারে শিক্ষাদিক্ষা, খাওয়া পরা ও রোগ ব্যাধির ব্যালেন্স করা দুরূহ ব্যাপার। তাই জীবনটাকে অন্যরকমভাবে অনুভব করেছে সে।ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে পছন্দ করার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই বললো, আমি আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তান। আমাদের মত পরিবারগুলির কি কষ্ট আমরা জানি। চিকিৎসার খরচও প্রচুর। আমি চাই কোন গরিব মানুষ যেন বিনা চিকিৎসায় মারা না যায়। ডাক্তার হয়ে আমি তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে আসবো। আর্থিক দারিদ্রতার মতো কঠিন বাস্তবের সামনে দাঁড়িয়েই আমার এই ডাক্তারি পড়ার সিদ্ধান্ত। গরিব পরিবারের ছেলে মেয়েদের জন্য আমার বার্তা শুধু বই পড়ে যাও। স্কুলের স্যারেরা সাহায্য করবেনই। লক্ষ্যে স্থির থাকো। পরিশ্রম করে যাও। হতাশ নাহলে লক্ষ্যভেদ হবেই।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী তাহলে কার্ডিওলজি? অবশ্যই! ট্রাকে থাকছি। দৌড়ানো বন্ধ করছি না। আমাদের তো একটাই রাস্তা। আকাশের দিকে তাকিয়ে আকাশের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিকূলতার মেঘ সরিয়ে ফুলের সুগন্ধের মতই আকাশের ঝলমলে হাসি ছড়িয়ে পড়ল চতুর্দিকে।শ্রী অনিবার্য

নভেম্বর ০৭, ২০২১
কলকাতা

Bratya Basu: আন্দোলনকারী শিক্ষিকাদের বিজেপির ক্যাডার বলে তোপ শিক্ষামন্ত্রীর

বদলির প্রতিবাদে বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা পাঁচ শিক্ষিকাকে বিজেপি ক্যাডার বলে তোপ দাগলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এই ঘটনা অনভিপ্রেত বলে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্ট করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ওই পাঁচ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। তাঁরা সকলেই আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।অন্যায়ভাবে বদলির প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এসএসকে এবং এমএসকে শিক্ষিকারা। বদলির অস্বচ্ছতার দাবি তুলে রাস্তায় নামে শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ। বিকাশ ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েই সেই বিক্ষোভ। তারপর তাঁরা মুখে কিছু ঢেলে দেন। এরপর মুখ দিয়ে গ্যাজলা বেরোতে থাকেন। যে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে তাঁদের বিক্ষোভ, সেই ব্রাত্য বসুই তাঁদের বিজেপির ক্যাডার বলে তোপ দাগলেন।আরও পড়ুনঃ পেগাসাস ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা রাজ্যেরশিক্ষামন্ত্রী ফেসবুকে দাবি করেন, বাম সরকারের আমলে পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন বিভাগের অধীনে এসএসকে এবং এমএসকে-র সহায়ক-সহায়িকা, সম্প্রসারক-সম্প্রসারিকরা নামমাত্র সাম্মানিকের বিনিময়ে কাজ করতেন। কাজের নিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা বলে কিছু ছিল না। কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার শিক্ষা বিভাগের অধীনে এনে তাঁদের একটি সুসংবদ্ধ রূপ দেয়। সহায়ক-সহায়িকাদের সাম্মানিক বাড়িয়ে মাসিক ১০,৩৪০ টাকা এবং সম্প্রসারক সম্প্রসারিকাদের সাম্মানিক বাড়িয়ে ১৩,৩৯০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও বাৎসরিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট চালু করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে নিয়ে আসা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, যাঁরা ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন, তাঁদের অবসরের সময়ে প্রত্যেকের জন্য ৩ লক্ষ টাকা এককালীন অবসর-ভাতা চালু করা হয়েছে। এত কিছুর পরও যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা শিক্ষক শিক্ষিকা নন, বিজেপি ক্যাডার।

আগস্ট ২৫, ২০২১
বিদেশ

Taliban: হেরাটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জারি তালিবানি ফতোয়া, কী সেই ফতোয়া

সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবেন না ছেলে ও মেয়েরা। গত রবিবার আফগানিস্তান দখল নিশ্চিত করার পর হেরাটে প্রথম ফতোয়া জারি করল তালিবান। শনিবার ওই প্রদেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনের নেতৃত্ব, এমনটাই জানা গিয়ে সংবাদ সংস্থা সূত্রে।আরও পড়ুনঃ সেনাবাহিনী থেকে অনন্য সম্মান পেতে চলেছেন অলিম্পিকে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া২০০১ সালে তালিবানি শাসনের প্রথম-পর্ব শেষ হওয়ার পর গত দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে পড়াশোনা বা কোএডুকেশন শিক্ষানীতি চালু ছিল সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আফগানিস্তানে তালিবান-রাজ ফিরতেই হেরাটে ফের পুরনো নীতি চালু করা হল। তালিবান নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের জেরে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির বিশেষ সমস্যা না-হলেও বেকায়দায় পড়বে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, এমনটাই মত সে দেশের শিক্ষাবিদদের। হেরাট প্রদেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর তালিবান নেতা মোল্লা ফরিদ বলেন, সমাজে পচন ধরার মূলেই রয়েছে ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে শিক্ষা। বিকল্প কোনও রাস্তা নেই। ছেলেমেয়েদের একসঙ্গে পড়াশোনা বন্ধ করতে হবে। মহিলা অধ্যাপকেরা শুধুমাত্র মেয়েদেরই পড়াতে পারবেন।

আগস্ট ২১, ২০২১
শিক্ষা

TET-SSC: প্রতিবছর রাজ্যে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ, কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী? জানুন

এক টেট পরীক্ষার জট ছাড়াতে সময় লেগেছে পাক্কা পাঁচটি বছর। ২০১৬ সালের উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের সেই প্রক্রিয়া অবশেষে আদালতের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি শেষ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘোষণা, এখন থেকে প্রতিবছরই শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণা রাজ্যের শিক্ষক পদপ্রার্থীদের জন্য নতুন আশা সৃষ্টি করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শিক্ষক নিয়োগের বিভিন্ন পরীক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাই চাকরিপ্রার্থী শিক্ষকদের মনে এই ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।আরও পড়ুনঃ সোমবার থেকে বাড়ছে মেট্রো, জেনে নিন সময়সূচিশিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির শুক্রবারই কলকাতা হাইকোর্ট উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে। তার জেরে ইতিমধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশন ইন্টারভিউ নেওয়ার বিষয় নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। শুক্রবারের কলকাতার হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিরই মধ্যে এখন থেকে রাজ্য সরকার প্রতিবছর প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু শনিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, শূন্যপদের ভিত্তিতে প্রতিবছর টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাসম্ভব স্বচ্ছ রাখার চেষ্টা করা হবে । এদিকে কমিশনের তরফেও আলাদা সাংবাদিক বৈঠক করে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা কেটেছে। সফল প্রার্থীদের প্রথমে ইন্টারভিউ এবং তারপরে সেই ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করে নিয়োগ করা হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে কোনও অসন্তোষ থাকলে প্রার্থীরা কমিশনের দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেও কমিশনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ৭ বছর ধরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। একাধিকবার আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। শুধু তাই নয় উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ নিয়েও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হবে। পুজোর আগেই প্রাথমিকের টেটের ফল প্রকাশ করা হবে বলেও খবর। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য এমনটাই জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় সুপ্রিমকোর্ট সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য সরকারকে প্রাথমিকের টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট নেওয়া নিয়ে নির্দেশ দিয়েছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রী শনিবারের ঘোষণাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।

জুলাই ১০, ২০২১
কলকাতা

Dhankhar-Bratya meet: সংঘাত আবহেই বাজেট অধিবেশনের আগে রাজ্যপালের সঙ্গে ব্রাত্য সাক্ষাতে জল্পনা

রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাতের আবহেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সাক্ষাৎপর্বের শেষেই সে কথা ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও-সহ টুইট করেন রাজ্যপাল। লেখেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্যব্রত বসু সঙ্গে এক ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা হল। শুক্রবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের আগে এই বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, এদিনই রাজ্যপালের সঙ্গে দেবাঞ্জন দেবের যোগসূত্র খুঁজে বের করে একটি ছবি প্রকাশ করেছে তৃণমূল। এমন আবহে বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রাত্য বসুর এই সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এর পিছনে অন্য কোনও সমীকরণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। আরও পড়ুনঃ বিরোধী বিধান-র জ্যোতি স্নেহপ্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের অগস্টে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্বে নেওয়ার পর থেকেই নানা ইস্যুতে তীব্র দ্বন্দ্ব হয়েছে রাজভবন-নবান্নের। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেও সেই দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি আবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সংঘাত বেঁধেছে রাজ্যপালের। বৃহস্পতিবার আবার সংবাদ মাধ্যমকে একটি ছবি দেখিয়ে তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, ভুয়ো টিকা-কাণ্ডের প্রতারক দেবাঞ্জনের ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক নিরাপত্তা রক্ষী। তাঁর নাম অরবিন্দ বৈদ্য। সে-ও ভুয়ো কিনা বলতে পারব না। তিনি আরও বলেন, এটা চিনতে পারেন কিনা দেখুন তো! ওই নিরাপত্তারক্ষী কাদের পিছনে দাঁড়িয়ে আছেন? মাননীয় রাজ্যপাল ও তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে আছেন দেবাঞ্জনের নিরাপত্তা রক্ষী।Had an hour long useful interaction with Shri Bratyabrata Basu Roy Chowdhury, Minister in Charge Education @MamataOfficial and traversed several issues connected to state of affairs of State Universities. pic.twitter.com/hvPpvEPX7R Governor West Bengal Jagdeep Dhankhar (@jdhankhar1) July 1, 2021এমন পরিস্থিতিতে আবার শুক্রবার রাজ্যপাল বিধানসভায় যাবেন। তাই রাজ্য রাজনীতির কারবারিদের মতে, শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠিয়ে বক্তৃতার আগেই কিছুটা হলেও রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারপক্ষের সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও, সাংবিধানিকভাবে রাজ্যপাল রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। আর রাজ্যপাল নিজের টুইটে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিষয়েই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথা বলেছেন। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার ও রাজভবনের দূরত্ব কমানোর প্রয়াসের কথাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনীতিক বিশেষজ্ঞরা।

জুলাই ০১, ২০২১
রাজ্য

বাতিল হচ্ছে না মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক

কবে হবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা? সেই উত্তরের খোঁজে এখনও দিশেহারা কয়েক লক্ষ পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকরা। সম্ভাব্য দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারলেন না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেই পরীক্ষা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেবেন বলেও জানালেন শিক্ষামন্ত্রী। গত বছর মার্চ থেকেই রাজ্যে দাপট দেখাচ্ছে করোনা। অতিমারি পরিস্থিতিতে সেই সময় থেকেই বন্ধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাধারণত বছরের শুরুতে এই দুই পরীক্ষা হয়ে যায়। তবে করোনার জেরে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। ভোট মেটার পর এই দুই পরীক্ষা হবে বলেই দিনক্ষণ স্থির করা হয়েছিল। তবে কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মাধ্যমিকের দিনক্ষণ বদল করা হয়। যদিও উচ্চমাধ্যমিকের দিনক্ষণ অপরিবর্তিতই।কিন্তু বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই দুই পরীক্ষা কবে হবে সে বিষয়ে সামান্য ইঙ্গিত দিলেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্পষ্ট জানালেন, এখনই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক হচ্ছে না। অতিমারী পরিস্থিতি কেটে গেলেই দুই পরীক্ষা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে কি মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকও বাতিল হতে চলেছে, এমন গুঞ্জনও চতুর্দিকে শোনা যাচ্ছে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢাললেন শিক্ষামন্ত্রী। কোনওভাবেই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল হবে না বলেই জানিয়ে দিলেন ব্রাত্য বসু। তবে পরীক্ষার দিনক্ষণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন বলেই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক হোম সেন্টারে হবে বলে ইতিমধ্যেই পর্ষদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে হোম সেন্টার হবে কিনা, সে বিষয়েও এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মে ২১, ২০২১
রাজ্য

বাতিল হচ্ছে না মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক

কবে হবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা? সেই উত্তরের খোঁজে এখনও দিশেহারা কয়েক লক্ষ পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকরা। সম্ভাব্য দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারলেন না শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেই পরীক্ষা হবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নেবেন বলেও জানালেন শিক্ষামন্ত্রী। গত বছর মার্চ থেকেই রাজ্যে দাপট দেখাচ্ছে করোনা। অতিমারি পরিস্থিতিতে সেই সময় থেকেই বন্ধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাধারণত বছরের শুরুতে এই দুই পরীক্ষা হয়ে যায়। তবে করোনার জেরে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। ভোট মেটার পর এই দুই পরীক্ষা হবে বলেই দিনক্ষণ স্থির করা হয়েছিল। তবে কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মাধ্যমিকের দিনক্ষণ বদল করা হয়। যদিও উচ্চমাধ্যমিকের দিনক্ষণ অপরিবর্তিতই।কিন্তু বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে এই দুই পরীক্ষা কবে হবে সে বিষয়ে সামান্য ইঙ্গিত দিলেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্পষ্ট জানালেন, এখনই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক হচ্ছে না। অতিমারী পরিস্থিতি কেটে গেলেই দুই পরীক্ষা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে কি মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকও বাতিল হতে চলেছে, এমন গুঞ্জনও চতুর্দিকে শোনা যাচ্ছে। তবে সেই জল্পনায় জল ঢাললেন শিক্ষামন্ত্রী। কোনওভাবেই মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাতিল হবে না বলেই জানিয়ে দিলেন ব্রাত্য বসু। তবে পরীক্ষার দিনক্ষণ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেবেন বলেই জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। উল্লেখ্য, উচ্চমাধ্যমিক হোম সেন্টারে হবে বলে ইতিমধ্যেই পর্ষদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে হোম সেন্টার হবে কিনা, সে বিষয়েও এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মে ২১, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মিরিক যাওয়ার পথে ফের বিপদ! বালাসনের জলে ভেসে গেল অস্থায়ী সেতু

রাতভর টানা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর জলস্তর বাড়তেই কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। এর ফলে সড়কপথে মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগ আংশিক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। আপাতত বেইলি সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তার উপর নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা।গত জুলাইয়েও টানা বৃষ্টিতে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষ পর্যন্ত জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।এর পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় সেতু মেরামতির কাজ। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেনার তরফে তৈরি করা হয় বেইলি সেতুও। কিন্তু দেড় মাস যেতে না যেতেই ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হল।বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে বালাসন নদীর জলস্তর। এক সময় নদীর প্রবল স্রোতে ফের ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। ফলে মিরিকের পথে নতুন করে তৈরি হয়েছে যোগাযোগের সমস্যা।আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সরে গিয়ে এখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওই নিম্নচাপ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। সেই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলির দু-এক জায়গাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।শনিবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও থাকছে। দুধিয়ার সেতু ভেসে যাওয়ার পর নতুন করে সেই আশঙ্কা স্থানীয়দের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস।দুধিয়ার সেতু ফের ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মিরিকমুখী পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আপাতত ছোট গাড়ি বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল করলেও বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা! বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য

বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।বিধানসভায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই রাতে অতনু দাসকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।অতনু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে পাখণ্ডী বলে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবাদ করার কারণে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাগুলিতে মামলা বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, এখানে কুশপুতুল নয়, একটি ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেফতারি কেন হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাঙালির অসম্মানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগসব মিলিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অতনু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রাজ্য

আজ ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, কাল দ্বিতীয় শনিবার, পরশু রবিবার! পুজোর আগে টানা তিন দিন কী হবে গ্রাহকদের?

সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তার পরেই দ্বিতীয় শনিবার এবং রবিবারের ছুটি। ফলে পুজোর মুখে টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বহু জায়গায় এটিএম পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। যে কয়েকটি এটিএম চালু রয়েছে, সেখানে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।শুক্রবার সকাল থেকেই একাধিক জেলায় ব্যাঙ্কের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ দেখা যায়। আসানসোলেও পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন স্টেট ব্যাঙ্কের কর্মীরা। সব মিলিয়ে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।কেন এই ধর্মঘট? ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০২৪ সালের বেতন সংশোধনের সময় সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু করার বিষয়ে লিখিত চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর কেটে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।সংগঠনের অভিযোগ, বার বার আইনি জটিলতার কথা বলে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও কোনও সমাধান না হওয়ায় এবার ধর্মঘটের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন ব্যাঙ্ক অফিসাররা বলে দাবি সংগঠনের।ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, শুক্রবারের ধর্মঘটের পরও যদি দাবি পূরণ না হয়, তা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির পরেও দাবি না মানা হলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।এই ধর্মঘটের প্রভাব শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কের অফিসারও রয়েছেন। ফলে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্কের পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে।পুজোর আগে ব্যাঙ্ক পরিষেবা টানা তিন দিন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। টাকা তোলা, জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবার জন্য যাঁদের ব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের অনেককেই শুক্রবার সকাল থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।এদিকে এটিএম পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় এটিএম বন্ধ থাকায় চালু থাকা এটিএমগুলির সামনে লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। ফলে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের সঙ্গে শনি ও রবিবারের ছুটি যুক্ত হয়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবি নিয়ে ব্যাঙ্ক অফিসারদের এই আন্দোলন আগামী দিনে কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার। দাবি পূরণ না হলে সেপ্টেম্বরের তিন দিনের ধর্মঘট এবং অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

রাজাবাজার থেকে বেলেঘাটা, ৫০ বেআইনি বহুতল! কালো টাকার অভিযোগে এবার সিবিআই তদন্ত

কলকাতায় বেআইনি বহুতল নির্মাণের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি সিবিআইকে দায়িত্ব দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা থেকে ক্যানাল স্ট্রিটকলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের বিষয় আদালতের নজরে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এই নির্মাণগুলিকে ঘিরেই এ দিন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।শুধু তাই নয়, কলকাতা পুরসভা এই বেআইনি নির্মাণ সম্পর্কে কিছু জানত কি না, জানলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। পুরসভার কোনও আধিকারিকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট।আদালতে এ দিন সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, মামলাকারী সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আগের রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সিবিআই আদালতে জানায়। সেই কারণে তখন কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়।তবে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেন এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেছে হাই কোর্ট। তাই বিষয়টি আর ফেলে রাখা যায় না বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে সিবিআই সরাসরি তদন্ত করতে পারবে বলে স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।এখন কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত বেআইনি বহুতলগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছেন, নির্মাণের জন্য কী ভাবে অনুমোদন মিলেছিল, আর্থিক লেনদেনের কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং পুরসভার কোনও আধিকারিকের ভূমিকা ছিল কি না, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখবে সিবিআই।আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ফলে সিবিআইয়ের তদন্তে বেআইনি নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিদেশ

দিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে আজই বৈঠক! ব্রিকসের মঞ্চে কী বার্তা দেবে ভারত-রাশিয়া-চিন?

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার তিন দিনের ভারত সফরে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন। শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তাঁর বিমান অবতরণ করে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং।দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। তার আগে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন পুতিন। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বানি, প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি রুশ প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে সরে এসে শান্তির পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে মোদি-পুতিন বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।শুধু পুতিন নন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ফলে একই মঞ্চে ভারত, রাশিয়া ও চিনের তিন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। বিশ্ব রাজনীতিতে এই তিন দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষ করে আমেরিকার বাণিজ্যনীতি, একতরফা শুল্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে ভারত, চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন থেকে আমেরিকার উদ্দেশে কোনও বার্তা যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।পুতিন ও জিনপিং ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।সব মিলিয়ে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। যুদ্ধ, বাণিজ্য, শুল্ক, জ্বালানি এবং বিশ্ব অর্থনীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন আলোচনার কেন্দ্রে, তখন ব্রিকসের মঞ্চ থেকে কোনও বড় বার্তা আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিশ্বজুড়ে চলা একের পর এক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনও নতুন পথ কি দেখাতে পারবে ব্রিকস?

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরের নিয়োগে ‘বড় গরমিল’! সিবিআই তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার সিআইডি, সিবিআই অথবা কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাল সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।সংগঠনের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সময় প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ঠিক ভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্যই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।চিঠিতে ডেপুটি রেজিস্ট্রার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেটের সচিব পদে ভোটের বিধিনিষেধ চলাকালীন কী ভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, স্বজনপোষণ, প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক অনিয়মের মতো অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগকেই তদন্তের আওতায় আনা হোক। তবে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়।সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে গত ১৫ মে এবং ১২ জুনও একই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফের সেই দাবি জানানো হল।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, যেদিন বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ হয়েছে, সেদিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি সামনে এল। সংগঠনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এরই মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নিয়েও বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংগঠনের সদস্যদের অতীত এবং বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, তাঁদের সমস্ত ইতিহাস বের করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই যাদবপুরের নিয়োগ নিয়ে তদন্তের দাবিতে উপাচার্যের কাছে চিঠি যাওয়ায় রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।এখন উপাচার্য এই চিঠির পর কী পদক্ষেপ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কোনও তদন্ত হয় কি না এবং হলে কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শিক্ষা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মী বদলির বিল বিধানসভায় পাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার যুক্তি সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবেআপত্তি শিক্ষকমহলের।কলকাতা: রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকমহল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিলটি পেশ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছিল। সংশোধিত আইনে ২০১৭ সালের আইনের ১৪এ ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করতে পারবে সরকার।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই বদলি, দাবি সরকারেরসরকারের যুক্তি, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো হলে সেখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এ পরিণত করার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে পিএইচডি-র তত্ত্বাবধান বা গবেষণা প্রকল্পে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পাঠানো হলে তাঁরা পরিকাঠামো তৈরি, ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পৌঁছনোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মানবসম্পদের আদানপ্রদানও হবে।সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সরব শিক্ষকমহলতবে সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষকমহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত স্বশাসিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি বদলির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক সাগরময় ঘোষের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরাসরি বদলির পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করানো যেত।তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্পদ ও দক্ষতার ভাগাভাগির মতো মডেল জাতীয় শিক্ষানীতিতেও রয়েছে। কিন্তু জোর করে অধ্যাপকদের বদলি করলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।এক অধ্যাপকও প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগ করে, সেই শিক্ষকদের পরে রাজ্য সরকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাবে কেন?গবেষণা নিয়েও আশঙ্কাবিলটি ঘিরে গবেষণার ক্ষেত্রেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ। তাঁর দাবি, একটি বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকলেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব। হঠাৎ করে শিক্ষক বদলি শুরু হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।তাঁর মতে, বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থদাতা সংস্থা কোনও অধ্যাপকের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে। ঘন ঘন বা ইচ্ছেমতো বদলি শুরু হলে সেই অর্থসাহায্যও প্রভাবিত হতে পারে।প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্ণব হালদারও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করুক সরকারকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যার মূল কারণ যদি পরিকাঠামোগত দুর্বলতা হয়, তাহলে তার সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের বদলি না করে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।তাঁর মতে, সাধারণত অভিজ্ঞ অধ্যাপকেরা উন্নত গবেষণার সুযোগ, ল্যাবরেটরি, পরিকাঠামো এবং একাডেমিক পরিবেশের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু শিক্ষক বদলি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।বদলি নিয়ে নতুন বিতর্কএকদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মানবসম্পদ কাজে লাগানোর যুক্তি দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কাএই ক্ষমতা ভবিষ্যতে নির্বাচিতভাবে কোনও শিক্ষককে বদলি বা চাপের মুখে ফেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।ফলে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বনাম সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।Source: Telegraph India

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

'জনতার দরবারে' অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ ৩

জনতার দরবারে প্রোমোটারের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদমের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকেও পাকড়াও করা হয়েছে।দমদমে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের জালে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে। ধৃত নয়নাশিস দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজি ও প্রতারণার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর রাতেই বরুণ নট্ট, নয়নাশিস এবং সুমন্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তিন জনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের মূল নজর এখন কয়েকটি প্রশ্নেঅভিযোগে যে তোলাবাজির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বরুণ নট্ট এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে ও কার মাধ্যমে আদানপ্রদান হয়েছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর মাত্র দুদিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিন জনের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কতটা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি নাসবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার আদালতে ধৃতদের পেশ করার পর পুলিশি হেফাজত পাওয়া যায় কি না এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal