• ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Coochbehar

রাজ্য

কোচবিহারে নৃশংসতা! স্ত্রীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন, পুড়ে মৃত্যু নার্সের

কোচবিহারে এক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্বামীর সঙ্গে অশান্তির জেরে ওই মহিলার গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। দাউদাউ করে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার শহরের বকশিবাড়ি এলাকায়। মৃত মহিলার নাম ছন্দা রায়। তাঁর বয়স আনুমানিক পঁয়ত্রিশ বছর। পেশায় তিনি নার্স ছিলেন।জানা গিয়েছে, রাত প্রায় নটা থেকে সাড়ে নটার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর গায়ে আগুন লাগানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি দাউদাউ করে জ্বলতে থাকেন। গুরুতর অবস্থায় সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। মাঝেমধ্যে তাঁর স্বামী এসে সেখানে থাকতেন। ঘটনার সময়ও স্বামী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। অভিযুক্তের নাম রণজিৎ রায়। তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক।ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোচবিহারের ভাওয়াল মোড়ের কাছে একটি টোল গেট এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে। খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ এবং দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। সেই অশান্তি থানাতেও গড়িয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই কি এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।ঘটনার সময়ের একটি ভয়াবহ দৃশ্যের কথাও জানিয়েছেন এক প্রতিবেশী। স্থানীয় বাসিন্দা রুমা দত্ত বলেন, তিনি তখন ঘরের ভিতরে ছিলেন। হঠাৎই বাইরে এক মহিলার তীব্র চিৎকার শুনতে পান। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, আগুনে জ্বলতে জ্বলতে একজন দৌড়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে একজন নিজের জামা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তিনি দেখেন বারান্দায় আগুন জ্বলছে।এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কীভাবে এবং কেন এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, তা জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

মার্চ ১২, ২০২৬
রাজ্য

ব্রিজে উঠতেই বিকট শব্দ, মুহূর্তে ভেঙে পড়ল সেতু! ঝুলে রইল ডাম্পার

পণ্যবোঝাই লরি তখন সবে ব্রিজে উঠেছে। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে পুরনো সেতুটি। নীচে নদী, আর ব্রিজের উপর ঝুলে থাকে পণ্যভর্তি ডাম্পার। শুক্রবার সকালে কোচবিহারের শীতলকুচি লালবাজার এলাকার দেবনাথ পাড়ায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে স্বস্তির কথা, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন বাজার থেকে বারোমাসিয়া যাওয়ার গ্রামীণ সড়কের উপর থাকা ওই পুরনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার সকালে একটি ভারী পণ্যবাহী ডাম্পার ব্রিজে উঠতেই তার ভার সহ্য করতে না পেরে সেতুটি ভেঙে পড়ে। ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজের লোহার পাইপ ও বিমে মরচে ধরেছিল। সেতুর অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, সেই অবহেলার ফলেই আজ এই দুর্ঘটনা।এলাকাবাসীর আরও প্রশ্ন, কীভাবে ওই ব্রিজে এত ভারী পণ্যবাহী গাড়ি ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের নজরদারি কোথায় ছিল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। দুর্ঘটনার জেরে ওই গ্রামীণ সড়কে আপাতত যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্রিজ সংস্কার কিংবা বিকল্প রাস্তা বা অস্থায়ী সেতু তৈরির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ব্রিজের লোহার বিমে দীর্ঘদিন ধরেই মরচে ধরেছিল এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল। জেলাশাসককেও জানানো হয়েছে। তিনি জানান, নিয়ম ভেঙে কেউ যদি সেখানে ভারী যান ঢুকিয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
রাজ্য

‘ফাইনাল লিস্ট প্রকাশ করে পরের দিন ভোট ঘোষণা করবে বিজেপি’—মমতার দাবিতে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়

২০২৬-এর নির্বাচনের আগে রাজবংশী ভোটকে নজরে রেখেই কি বড়সড় শক্তি-প্রদর্শন? এসআইআর বিতর্কের উত্তাপের মধ্যেই কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে বিশাল জনসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা, বন্দেমাতরম বিতর্ক, বিজেপির রাজনীতিএকাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেন এসআইআর প্রসঙ্গ নিয়ে।মমতার অভিযোগ, এসআইআর পুরো বিষয়টাই একটি রাজনৈতিক চাল। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে দিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। মঞ্চ থেকে বলেন, সকলেই এসআইআরে নাম তুলুন। এটা ওদের কৌশল। সামনে নির্বাচন, তাই সবটাই প্ল্যান করে করা হয়েছে। আমরা না করলে ওরা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করবে।তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ফাইনাল লিস্ট তৈরি করে পরের দিনেই নির্বাচন ঘোষণা করতে পারে, যাতে কেউ আদালতে যাওয়ার সুযোগ না পায়। যদিও আইনি বিষয় আদালতের উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন তিনি, কিন্তু রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিকভাবেই লড়বেন বলে স্পষ্ট করেন।মমতার অভিযোগ, বিজেপির হাতে রাজ্য গেলে বাংলার অস্তিত্বই বিপদে পড়বে। তাঁর কথায়, বিজেপি এলে আপনার ঠিকানা, সম্মান, সবটাই প্রশ্নের মুখে পড়বে। বাংলাকে ডিটেনশন ক্যাম্প বানিয়ে দেবে। কিন্তু বাংলায় আমরা তা হতে দেব না। কোনও এনআরসি হবে না, কোনও ডিটেনশন ক্যাম্পও নয়।ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সুর তুলে তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশ ও অসমে ডিটেনশন ক্যাম্প চালু করা হয়েছে, কিন্তু বাংলায় তা কখনওই হতে দেওয়া হবে না।এই মন্তব্যের পরেই পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার কটাক্ষ করে বলেন, এ কী অদ্ভুত কথা! যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই উনি হেরে গিয়েছেন। এখন থেকেই হারের অজুহাত দিচ্ছেন।কোচবিহারের রাজনীতিতে এবং রাজবংশী ভোটে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

মমতার রুদ্রমূর্তি! কোচবিহারের মঞ্চেই কেন্দ্রের নোটিস ছিঁড়ে তুফান তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

নতুন শ্রম কোড রাজ্যে লাগু হবে নাএ কথা আগেই জানিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এবার কেন্দ্রের পাঠানো সেই শ্রম আইনের প্রতিলিপি রাজ্যের হাতে আসে। সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই শর্তকে সম্পূর্ণ অসম্মানজনক বলে দাবি করে কোচবিহারের জনসভা থেকেই কাগজ ছিঁড়ে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।দুদিনের কোচবিহার সফরে গিয়ে কেন্দ্রকে একের পর এক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইন নিয়ে। মমতার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে কেন্দ্র থেকে একটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেখানে ১০০ দিনের কাজের টাকার জন্য নতুন নিয়ম চাপানো হয়েছে, যা রাজ্য কোনওভাবেই মানবে না। তাঁর কথায়, আমরা এই শর্ত মানি না, মানবও না। এটা আমাদের অপমান করার চেষ্টা। তাই আমি এই কাগজ ছিঁড়ে ফেললাম। এটা কেন্দ্রের নোটিস নয়এটা আমার নিজের কাছে থাকা কাগজ। কেন্দ্রের কাগজ হলে তাও মানাতাম না।কেন্দ্রের নতুন শ্রম কোডে বিভিন্ন রাজ্যে একই কাজের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো, পৃথক নিরাপত্তা বিধি এবং নানা জটিলতা দূর করার দাবি করা হয়েছিল। দেশের ৪৪টি আলাদা শ্রম আইনকে একত্র করে চারটি নতুন কোড চালুর কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র। নভেম্বর থেকেই সেই শ্রম আইন কার্যকর হয়েছে। তবে কোনও রাজ্যে এই কোড চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সিদ্ধান্তের উপর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তারা এই নয়া কোড মানবে না। যদিও কিছু বেসরকারি সংস্থা ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়ম চালু করেছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য নোটিস-ছিঁড়ে ফেলা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন অনেকে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

রাতের গোপন বৈঠক, তীব্র ধমক—কোচবিহারে কী বার্তা দিলেন মমতা?

একজন প্রাক্তন মন্ত্রী, অন্যজন বর্তমান। দুজনই তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁদের মধ্যে চলা বিবাদে অস্বস্তি বাড়ছে দলে। সেই ঘটনাই সামনে এল ঠিক তখনই, যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহার সফরে গিয়েছেন। সামনে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই উদয়ন গুহ এবং রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ঘিরে দলীয় অমিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।সোমবার মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহারে পৌঁছনোর পর বিকেলে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেদিন তাঁর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। কিন্তু তৃণমূল সূত্রের খবর, রাতেই সার্কিট হাউসে জেলার নেতাদের নিয়ে আলাদা বৈঠক ডেকে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মমতা। সেখানেই বর্তমান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মধ্যে চলা বিরোধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দলের ভেতরকার এই টানাপোড়েন বন্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী নাকি স্পষ্ট বার্তা দেন।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দুজন মন্ত্রী-সহ সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়া এবং গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশী বদন বর্মন। সূত্রের দাবি, মমতা পরিষ্কার জানিয়েছেনদলে প্রবীণ-নবীন কোনও বিভেদ চলবে না। সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে।রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটে কোচবিহারের ৯টি বিধানসভার মধ্যে ৫টিতে তৃণমূল অল্প ব্যবধানে এগিয়েছিল, বাকি চারটিতে এগিয়েছিল বিজেপি। বরাবরই উত্তরবঙ্গ তৃণমূলের জন্য কঠিন এলাকা বলে ধরা হয়। লোকসভা নির্বাচনে সেই ছবি খানিক বদলালেও, সামনে বিধানসভা ভোট। এখন যদি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও বাড়ে, তা হলে দল আবারও পুরনো সমস্যায় পড়তে পারেএমন আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

শীতলকুচি কাণ্ডে সাসপেন্ড কোচবিহারের পুলিশ সুপার

রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরতেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক রদবদল ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বদল হয়েছে পুলিশ কর্তারাও। কোপ পড়েছে কোচবিহার পুলিশ সুপারের উপরেও। প্রশাসন সূত্রের খবর, ভোটের সময় শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় জওয়ানদের গুলি চালানোর ঘটনার জেরেই সুপারকে সাসপেন্ড করা হল। কোন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় জওয়ানরা ভোটারদের উপর গুলি চালিয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত করতে পারে রাজ্য।ভোটের আগেই দিনহাটায় এক বিজেপি নেতার রহস্যমৃত্যু হয়। সেই মৃত্যুকে কাণ্ড করে উত্তাল হয় দিনহাটা। বিজেপি সাংসদ তথা বিধায়ক নীশীথ প্রামাণিকের নেতৃত্ব দিনহাটার শহরাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। এর পরই নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়েছিল কোচবিহারের তৎকালীন পুলিশ সুপার কে কান্নান। তাঁকে সরিয়ে জেলার পুলিশ সুপার করা হয় দেবাশিস ধরকে। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ ছিল, দেবাশিসবাবু বিজেপির হয়ে ভোটের সময় কাজ করছিলেন। এর মাঝেই চতুর্থ দফা ভোটের দিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল শীতলকুচি বিধানসভার অন্তর্গত জোড়পাটকির ১২৬ নং বুথে ভোটারদের উপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে। চারজনের মৃত্যুও হয়। এই ঘটনায় তোলপাড় হয় বঙ্গ রাজনীতি। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বন্দুক ছিনতাই করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গুজবের জেরে প্রায় ১৫০ জন গ্রামবাসী ঘিরে ফেলেছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাই আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় জওয়ানরা। সে কথা অবশ্য মানতে রাজি ছিলেন না তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ছুটে গিয়েছিল শীতলকুচিতে। আশ্বাস দিয়েছিলেন ক্ষমতায় ফিরলে গুলিকাণ্ডের তদন্ত হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কোন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হবে।

মে ০৬, ২০২১
রাজ্য

কোচবিহারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের

চতুর্থ দফায় বঙ্গের নির্বাচনে নজিরবিহীন হিংসার জের। আগামী ৭২ ঘণ্টা কোচবিহার জেলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন। ফলত রবিবার কোচবিহার সফর বাতিল হচ্ছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। শীতলকুচি-সহ জেলার ৫টি স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলিতে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রবেশ করতে পারবেন না, জানিয়ে দিল কমিশন। এই নয়া নির্দেশ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে দাবি, মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতেই কমিশনের এই নয়া নির্দেশিকা। তবে রবিবার সূচি অনুযায়ী, নাগরাকাটায় যাবেন তৃণমূল নেত্রী।

এপ্রিল ১০, ২০২১
রাজ্য

ভোট শুরু হতেই রক্তাক্ত শীতলকুচি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে হত ৪

প্রাণহানি দিয়ে দিন শুরু হয়েছিল। বেলা বাড়তে সেই শীতলকুচিতেই বাড়ল মৃতের সংখ্যা। এ বার কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে সেখানে আরও ৪ ব্যক্তির প্রাণ গেল। মাথাভাঙা হাসপাতালে তাঁদের ময়নাতদন্ত চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে আরও ৪ ব্যক্তি জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নিহতরা সকলেই তাঁদের সমর্থক বলে দাবি তৃণমূলের। অন্যদিকে, পাঠানটুলির ৮৫ নম্বর বুথ থেকে বলপূর্বক বিজেপির এজেন্ট আনন্দ বর্মনকে বের করে দেয় তৃণমূল। এরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। বোমাবাজিও করা হয় ওই বুথের সামনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। জখম হন বেশ কয়েকজন।শীতলকুচির জোড়পাটকির ১২৬ নম্বর বুথের বাইরে এই ঘটনা ঘটেছে। গোটা ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপি-র হয়ে কাজ করছে। রাতভর মদ-মাংস খেয়ে সকালে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। সুষ্ঠ নির্বাচন করানোর ভার যাদের কাঁধে, তাঁদের নির্বিচারে গুলি চালানোর অধিকার কে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জোড়াফুল শিবির।স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মী সংবাদমাধ্যমে বলেন, দলে দলে মানুষ ভোট দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিনা প্ররোচনায় গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুথের ভিতরে যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করে তৃণমূল।অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিক গোটা ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লাগাতার উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন মমতা। মাথাভাঙা, শীতলকুচি, কোচবিহারের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরতে বলেন তিনি, তাতেই একটি বিশেষ শ্রেণির লোক উত্তেজিত এবং তা থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে পড়েন। কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি গুলি চালিয়ে থাকে, তা আত্মরক্ষার্থেই চালিয়েছে। আসলে তৃণমূল জানে, ওরা হারছে। তাই উশৃঙ্খলতা তৈরি করছে। গোটা ঘটনায় অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, সিআরপিএফ নয়, গুলি চালিয়েছে সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স)। রাজ্য নির্বাচন পর্যবেক্ষক বিবেক দুবে জানিয়েছেন, তৃণমূল এবং বিজেপি-র মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। বাধা দেওয়া হচ্ছিল ভোটদানেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ধরা হয়। রাইফেলও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাতেই গুলি চলে।কিন্তু স্থানীয় এক বাসিন্দার যুক্তি, নিহতদের পরিচয় তাঁদের বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি তাঁদের সমর্থন নয়। তাঁরা ভোটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়ে যদি গুলি চালাতে হয়, তাহলে পায়েও তো গুলি চালাতে পারত। তা না করে সোজাসুজি বুকে গুলি করা হল কেন প্রত্যেককে?কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনেই কেন্দ্রীয় বাহিনী এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শীতলকুচির তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম রায়। তিনি বলেন, কী বলব আমি? শীতলকুচির মানুষ আমার স্বজন। চার-চারটি তরতাজা প্রাণ চলে যেতে দেখে চোখের জল চেপে রাখতে পারছি না। মানুষ এখনও ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন, ভোট দিচ্ছেন। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করছেন। সেই মনোবল ভেঙে ফেলার চেষ্টা চলছে। আজকের ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। দায়ী বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে এ সব হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ নিয়ে ফোনে কথা হয়েছে, তিনি পুরোটা দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন পার্থপ্রতিম।নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ফোনে প্রাথমিক রিপোর্ট নিয়েছেন। কী কারণে গুলি চালাতে হল, কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেল না, সব সমেত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি।শনিবার সকালে চতুর্থ দফায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে দফায় দফায় শীতলকুচিতে সঙ্ঘর্ষ বেধেছে তৃণমূল এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে। সকালে পাঠানটুলি শালবাড়ির ২৮৫ বুথে ভোট দিতে গিয়ে আনন্দ বর্মণ নামের এক ১৮ বছরের কিশোরের মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের লোকজন নিজেদের বিজেপি সমর্থক বলে দাবি করলেও, আনন্দ কাদের পক্ষে, তা নিয়েও রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়। তার মধ্যেই এই ঘটনা।

এপ্রিল ১০, ২০২১
রাজ্য

ভোট দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু যুবকের, রণক্ষেত্র শীতলকুচি

চতুর্থ দফার ভোটের শুরু থেকেই উত্তপ্ত কোচবিহারের শীতলকুচি। গুলিতে প্রাণ গেল এক যুবকের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় পাঠানটুলি এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ময়দানে নামে পুলিশ, ব়্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কমিশনের তরফে ফোন করা হয়েছে রিটার্নিং অফিসারকে।বিজেপি কর্মীদের দাবি, শনিবার সকালে ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছিল তাঁদের। এই নিয়ে একাধিক বুথে অশান্তি হয়। বিজেপির অভিযোগ, পাঠানটুলির ৮৫ নম্বর বুথ থেকে বলপূর্বক বিজেপির এজেন্ট আনন্দ বর্মনকে বের করে দেয় তৃণমূল। এরপরই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বোমাবাজিও করা হয় ওই বুথের সামনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়।সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীরা। জখম হন বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ওই ব্যক্তি মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।কর্মীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। যদিও পরিবারের দাবি, ওই যুবক বিজেপির পোলিং এজেন্ট নন। তিনি প্রথমবার ভোট দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হন। এদিন সিতাই এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এছাড়াও কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গায় সকাল থেকেই বোমাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ। একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিক্ষেত্রেই অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে।যদিও অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের। তাঁদের পালটা দাবি উত্তরবঙ্গের দিনহাটা, শীতলকুচি, নাটাবাড়ি, তুফানগঞ্জের একাধিক বুথে তৃণমূলের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই এবিষয়ে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল।

এপ্রিল ১০, ২০২১
রাজ্য

জোয়ারে আসে, ভাটায় চলে যায়, নাম না করে বেসুরোদের তোপ মমতার

এবার কোচবিহারে দাঁড়িয়ে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী-সহ দল বিরোধীদের নেতাদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কোচবিহারে দলীয় জনসভার মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, একটা, দুটো নেতা আছে যারা জোয়ারে আসে, ভাটায় চলে যায়। যারা প্রথম থেকে দলে ছিলেন তাঁরা দলের সঙ্গেই আছেন। রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে আটকাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের নেতাদের বলেছেন নিচু তলার কর্মীদের আরও দায়িত্ব দিতে। আরও পড়ুন ঃ সুব্রত বক্সি-কেষ্টকে ফোন করছে বিজেপি, বিস্ফোরক মমতা উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন দলের একের পর এক সাংসদ-বিধায়ক। তাঁদের অধিকাংশেরই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামীও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। এদিন নাম না করে দলের সমস্ত বিক্ষব্ধদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, থাকার ইচ্ছা না থাকলে দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন। তৃণমূল মানুষের জন্য কাজ করে। যারা সারা বছর মানুষের সঙ্গে ছিলেন, দলের সঙ্গে ছিলেন তাঁরা দলেই আছেন। কাকে ভোটে টিকিট দেওয়া হবে না হবে সেটা দল কাজের ভিত্তিতে ঠিক করে। যারা ভালো কাজ করেন তাঁরা গুরুত্ব পাবেন। যারা জানে দল টিকিট দেবে না তাঁরা চলে যাচ্ছে, ভাবছে যদি টাকাটা কমে যায়, যদি জেলে পাঠিয়ে দেয়, তাই বিজেপিতে নাম লেখাচ্ছে। কিন্তু আমরা আদর্শ বদলাই না। আদর্শ বদলানো যায় না। কাপড় জামা বদলানো যায়।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজনীতি

কোচবিহারকে রক্ষা করুন, নইলে বাংলা রক্ষা পাবে না, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনে হারতে হয়েছিল দলকে। জিতেছিলেন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিশীথ প্রামাণিক। বুধবার কোচবিহারে দলীয় জনসভার মঞ্চ থেকে নাম করে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে বিজেপিকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, লোকসভা নির্বাচনে ভোটে জিতে অশান্তি করছে বিজেপি। শান্ত কোচবিহারকে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। নিশীথ প্রামাণিকের নাম না করে এদিন মমতা বলেন, আমরা যাকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম বিজেপি তাঁকে নিয়ে এসেছে। যেন পুরনো বোতলে নতুন মদ। যে জিতেছে সে এখন গুণ্ডামি করছে। আরও পড়ুন ঃ নাম না করে দলের বিদ্রোহীদের আক্রমণ মমতার এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন বিজেপি, ভেদাভেদ, ভাগাভাগির রাজনীতি করছে। রাজবংশী- বাঙ্গালিদের মধ্যে ঝামেলা বাঁধাতে চাইছে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও এদিন আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, নাম নিতেও লজ্জা করে। বলছে ডিসেম্বরের পর মারবে। ওদের মুখে খালি ভাংচুর-মারামারির কথা, খাদ্য-বস্ত্রের কথা নেই। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতাদের এদিন ফের বহিরাগত বলেছেন তিনি। বলেছেন, বিজেপি বহিরাগতদের রাজ্যে আনছে। আরএসএস গুণ্ডারা রাজ্যে আসছে। চম্বলের ডাকাত আসছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থনের আবেদন এদিন কোচবিহারবাসীকে জানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, লোকসভা ভোটে আমাদের ভোট দেন নি। তাতে আমার কোনও অভিমান নেই। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারকে ওদের হাত থেকে রক্ষা করুন। কোচবিহার থেকেই শুরু হয় বাংলা। কোচবিহার রক্ষা না পেলে বাংলাও রক্ষা পাবে না।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজ্য

সুব্রত বক্সি-কেষ্টকে ফোন করছে বিজেপি, বিস্ফোরক মমতা

কোচবিহারে দলীয় জনসভার মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, দলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুব্রত বক্সি ও বীরভূমে দলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ফোন করেছেন বিজেপি নেতারা। তাঁর কথায়, বিজেপি কোথায় গেছে বুঝুন। ওদের এতটুকু সৌজন্যতা বোধ নেই। আমার দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে ফোন করেছিল বিজেপির এক নেতা। বলছে, আপনার সঙ্গে কথা আছে, বসতে চাই। কেষ্টকেও ফোন করেছিল দিল্লি থেকে। কেষ্ট আমাকে কাল ফোন করে বলল, দিদি আমাকে বলছে আপনার সঙ্গে বসতে চাই। কেষ্ট বলে দিয়েছে আমি তৃণমূল করি, আপনাদের সঙ্গে বসব কেন? আরও পড়ুন ঃ সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বললে চলে যাব , ফের বেসুরো জিতেন্দ্র এদিন জাতীয় সঙ্গীত বদল বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, বিজেপি বলছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জনগনমণ বদলে দেবে। জাতীয় সঙ্গীত বদলে দেবে। যেন হাতের মোয়া। ক্ষমতা থাকলে বদলে দেখাক। ওরা রবীন্দ্রনাথকেও জানে না। কবে কোথায় রবিঠাকুরের জন্ম জানে না। বলছে বিশ্বভারতী নাকি রবি ঠাকুরের জন্মস্থান! বুধবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের জনসভা থেকে বিজেপির উদ্দেশ্যে হুঙ্কার ছেড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, চলে আসুন যুদ্ধ হয়ে যাক, রাজনৈতিক যুদ্ধ। আপনাদের সঙ্গে থাকবে গুণ্ডা, আমাদের সঙ্গে মানুষ। দেখি কারা যেতে। মমতা এদিন দাবি করেন, তিনি রাজবংশী, অলচিকি ভাষা জানেন। এই দুই ভাষায় তিনি কবিতা লিখেছেন।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২০
রাজ্য

কোচবিহারে বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল তুফানগঞ্জের সুভাষপল্লী এলাকায়। বুধবার স্থানীয় এক স্কুলের সাইকেল স্ট্যান্ড এলাকায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় দেহ। বিজেপির অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আরও পড়ুন ঃ দুর্গাপুরে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একযোগে কাজের বার্তা মমতার জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমার অন্দরানফুলবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুভাষ পল্লী এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাস (৩৫)। বিজেপি কর্মী স্বপনবাবু ছিলেন পেশায় স্বর্নকার। বুধবার সকালে স্থানীয় গার্লস স্কুলের সাইকেল স্ট্যন্ডের বারান্দায় স্বপন দাসের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতের স্ত্রী সকালে এসে তাঁর স্বামীকে শনাক্ত করেন। মৃতদেহের আশপাশে রক্তের দাগ থাকায় স্থানীয়দের অনুমান স্বপন দাসকে কে বা কারা মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাটি জানাজানি হতেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনাস্থলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই ঘটনাস্থলে আসে তুফানগঞ্জ থানার বিরাট পুলিশ বাহিনী। বিজেপির অভিযোগ, বিজেপি করার অপরাধে স্বপন দাসকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। একই অভিযোগ করেছেন মৃতের স্ত্রী চুমকি দাস। তিনি তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পূর্নাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনার রাজনৈতিক কোন রং রয়েছে কিনা তার তদন্ত শুরু করেছে তুফানগঞ্জ থানা পুলিশ। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠান হয়েছে কোচবিহার জেলা হাসপাতালে।

ডিসেম্বর ০৯, ২০২০
রাজনীতি

বিজেপিতে যোগ দিলেন মিহির গোস্বামী

অবশেষে তৃৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। প্রসঙ্গত, শুক্রবার তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। এদিন তিনি দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে কেন্দ্রের শাসকদলে যোগদান করেন। তাঁর যোগদানের সময় উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ও অর্জুন সিং। কৈলাস বিজয়বর্গীয় তার গলায় উত্তরীয় পড়িয়ে দলে বরণ করে নেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে মিহির গোস্বামী বলেন, আমি ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছি৷ আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে যে অনাচার চলছে, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি সংস্থার রাজত্ব তৈরি হয়েছে তার প্রতিবাদেই আমার এই সিদ্ধান্ত। স্বাধীনতার পর থেকে বাম ও ডানপন্থী উভয় জামানায় উত্তরবাংলার প্রতি যে বঞ্চনা, ধারাবাহিকভাবে যে অবহেলা হয়ে এসেছে তার প্রতিবাদে আমার ধর্মযুদ্ধ বলতে পারেন ৷ রাজনৈতিক জীবনের প্রান্তে এসে, আমি আমার বাংলার নতুন দিনের ভোট দেখতে চাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ সুদিন দেখতে পাব ৷ আরও পড়ুন ঃ মারের বদলা মারের নিদান দিলীপের প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে থেকে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামীর। বারবার দলের নেতা-মন্ত্রী এমনকী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। দলের তরফে প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে একাধিক নেতা কথা বলেন মিহিরবাবুর সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে আসে বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে মিহির গোস্বামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা। তখন থেকেই শুরু কানাঘুষো। অনেকের মনেই ধারণা তৈরি হয়, সাংগঠনিক পদত্যাগের পাশাপাশি এবার মিহিরবাবু দলবদলও করতে চলেছেন। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত এই জল্পনাকে প্রশ্রয় দেননি বিধায়ক। বরং বারবারই জানিয়েছেন, দলবদল নিয়ে কখনওই কিছু ভাবেননি তিনি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দলের প্রতি অভিমান ব্যক্ত করে একটি ফেসবুক পোস্ট করেন বিধায়ক। সেখানেই লেখেন, আজ এই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আমার যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাই। আমি আশা করছি, আমার দীর্ঘদিনের সাথী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা আমাকে মার্জ্জনা করবেন।

নভেম্বর ২৭, ২০২০
রাজ্য

রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকের পরও একই অবস্থানে মিহির গোস্বামী

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক মিহির গোস্বামীর সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে দুজনের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী জানান, বিজয়া করতেই মূলত মিহির গোস্বামীর বাড়িতে এসেছিলেন। তবে সাক্ষাৎ হওয়ার পর নানা বিষয়ে কথা হয়েছে দুজনের। ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে তা যদিও খোলসা করে বলেননি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। মিহির গোস্বামীর দলের অভিমান প্রসঙ্গেও সেভাবে কিছু বলেননি মন্ত্রী। তবে তাঁর কথায়, মিহিরদা পুরনো লোক। ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মিহিরবাবু দলে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। আরও পড়ুনঃ ত্রিপুরায় বাঙালি হত্যার প্রতিবাদে পথে বাংলা পক্ষ কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী জানান, ফেসবুক পোস্ট ও কলকাতার নেতাদের একাংশের ভূমিকা নিয়ে একই অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তবে রাজ্য নেতৃত্ব তথা দলনেত্রীর বার্তা পাওয়ার পরে যে সব কিছু গভীরভাবে তলিয়ে দেখে পদক্ষেপ করবেন। চিন্তন ও মন্থনের পরে যে সিদ্ধান্ত নেব, তা জনসমক্ষে জানিয়ে দেব।

নভেম্বর ২৪, ২০২০
রাজ্য

বিজেপির বুথ কমিটির সম্পাদক খুন , অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

বিজেপির বুথ কমিটির সম্পাদককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম কালাচাঁদ কর্মকার। তিনি বিজেপির বুথ সম্পাদক পদে ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনার জেরে বুধবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে তুফানগঞ্জের নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের চামটা গ্রামের কর্মকারপাড়ায়। খবর পেয়ে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। মৃতের পরিবারের তরফ থেকে লক্ষ্মী বর্মন বলেন, বুধবার সকালে কালাচাঁদবাবুকে রাস্তায় ফেলে মারছিল কয়েকজন। সেই সময় বাড়ির লোকরা বাঁচাতে যায়। ওই সময়ই কালাছাঁদের পেটে লাথি মারা হয়েছে। তখই জ্ঞান হারান তিনি। এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কালাচাঁদকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। পরিবারের তরফ থেকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা রঞ্জিত বর্মন, কমল বর্মন, সঞ্জিত বর্মন, নারায়ণ বর্মন ও দিলীপ বর্মনকে এই মারধরের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে দুই ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে ফের বচসা বাধে। শুরু হয় হাতাহাতি। ঘরের সামনে অশান্তি দেখে তা মেটাতে বের হন কালাচাঁদবাবু। অভিযোগ, তখনই তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তড়িঘড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দুই ক্লাবের বচসার জেরেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তি অশান্তি মেটাতে গিয়েছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কমল বর্মন নামে একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। ইতিমধ্যেই তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। আরও পড়ুন ঃ প্রয়াত জেলা কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি আভাস ভট্টাচার্য্য বিজেপির তরফে টুইটে বলা হয়েছে, কোচবিহারে বিজেপির বুথ সম্পাদক কালাচাঁদ কর্মকারকে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। রক্তের রাজনীতি করে বাংলার মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না মমতা ব্যানার্জী। আপনার দিন গোনার পালা শুরু! অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, কোচবিহারে বিজেপির বুথ সম্পাদক কালাচাঁদ কর্মকারকে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী পিটিয়ে হত্যা করেছে, কিন্তু প্রশাসন চোখে কাপড় বেঁধে রেখেছে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে। খুব শীঘ্রই মানুষ এর জবাব দেবে এই অহংকারী সরকারকে।

নভেম্বর ১৮, ২০২০
রাজনীতি

এই দল আমার নয়, হতে পারে নাঃ মিহির গোস্বামী

আমার দল আর আমার নেত্রীর হাতে নেই, অর্থাৎ এই দল আর আমার নয়, হতে পারে না। দিদি এখানে নিস্পৃহ। ফের তৃ্ণমূলের বিরুদ্ধে এ ভাষাতেই তোপ দাগলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক মিহির গোস্বামী। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে আরও লেখেন , শ্যামা মায়ের আরাধনালগ্নে আমার এই অনুমান আরও দৃঢ় হয়েছে। তাই এই দলের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করাটাই কি স্বাভাবিক নয়? তাঁর অভিযোগ , যে দলের অভিধানে সম্মান বলে শব্দটিই অনুপস্থিত , সেই দলে বাইশটা বছর কাটিয়ে দিলাম! কী করে সম্ভব হল, কেন তা সম্ভব হল এসব প্রশ্ন উঠে আসে নিজের মনেই! উত্তর একটাই খুঁজে পাই, দিদি! দলের ভেতর অজস্র অপমান অবমাননা ক্রমাগত সহ্য করে গিয়েছি অকারণে, চুপ করে থাকার জন্য শুভানুধ্যায়ীরাও বিরক্ত হয়েছেন বারবার। কিন্তু আমার উত্তর একটাই ছিল, দিদি! যার উপর বিশ্বাস-আস্থাতেই এতদিন টিকে ছিলাম। আরও পড়ুন ঃ উত্তর ২৪ পরগণার সব আসন দখল করবঃ দিলীপ তিনি দলের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে আরও লেখেন , ১৯৮৯ সাল থেকে মমতা বন্দ্যো্পাধ্যায়ের নেতৃত্ব মেনে চলেছি। দীর্ঘ তিরিশ বছর অতিক্রম করার পর বোধগম্য হয়েছে, দিদির লোক এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। অন্যায্য সবকিছু মেনে নিয়ে যো হুজুর করে টিকে থাকতে পারলে থাকো, নয়ত তফাৎ যাও। তিনি আরও লেখেন , সংগঠন থেকে আমার অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা করার পর ছয় সপ্তাহ কেটে গেছে। এই বিয়াল্লিশ দিনে আমি সব দলের কাছ থেকে এক বা একাধিক ফোন কল পেয়েছি, কথা বলেছি। বহু পুরনো রাজনৈতিক বন্ধুর ফোন পেয়েছি রাজ্যের বাইরে থেকেও। কিন্তু গত ছয় সপ্তাহে খোদ নেত্রীর কাছ থেকে কোনও ফোন আসেনি। কোনও বরখাস্তনামা কিংবা বহিস্কারের নির্দেশও আসেনি তাঁর কাছ থেকে।

নভেম্বর ১৭, ২০২০
রাজ্য

পুলিশ গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল

পুলিশ নিয়মমাফিক রাজ্যপালকে গার্ড অব অনার দেয়নি। এবার তা নিয়ে রাজ্য সরকার তথা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে এ প্রসঙ্গে একটি টুইটও করেন তিনি। রাজ্য পুলিশ রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন বলেও অভিযোগ করেন রাজ্যপাল। আরও পড়ুন ঃ দেখবি আর জ্বলবি, লুচির মত ফুলবিঃ শুভেন্দু বৃহস্পতিবার প্রথমে পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী। এছাড়াও বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকও ছিলেন রাজ্যপালের সঙ্গে। তারপর সেখান থেকে মদনমোহন মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন। কোচবিহার রাজবাড়িও ঘুরে দেখার পর সার্কিট হাউসে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। এরপর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যু্তে ক্ষোভ উগড়ে দেন। উপাচার্যরা তার সঙ্গে দেখা না করায় তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করেন এবং রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

নভেম্বর ১২, ২০২০
রাজনীতি

তৃণমূল ছাড়ছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামী

তৃণমূলে আর ফিরবেন না কোনওদিনই। সো্মবার একথা জানিয়ে দিলেন কোচবিহারের দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদ্রোহী বিধায়ক মিহির গোস্বামী। আগামী দিনে কোন দলে যোগ দেবেন এই প্রশ্নে তাঁর সাফ কথা-- অনেকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি অবশ্য এখনই কিছু ঠিক করেননি। মানসিক প্রস্তুতি নিলে জানাব। তিনি এদিন বলেন , বেড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে, এটা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে দ্বিধা ছিল, তিনি সেটা বেঁধে দিলেন। সম্প্রতি এক কর্মিসভায় দিনহাটার তৃ্ণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ দলের নেতা - কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন , অনেক খেয়েছেন। আবার খাবেন। তবে এখন ছ মাস খাওয়া বন্ধ রাখুন। এখন মানুষের খাবার মানুষকে খেতে দিন। এবার মানুষের খাবার কেড়ে নিলে মানুষ পরবর্তী্তে আর খাওয়ার সুযোগ দেবে না। সেই প্রসঙ্গ টেনে মিহিরবাবু বলেন , একজন বিধায়কের মুখে এমন কথা মানায় কি ? শুধু নীচুতলার নেতা-কর্মী কেন, দলের উপরের নেতারাও দুর্নীতিগ্রস্ত। মিহিরবাবু দাবি করেন, দোলা সেনও প্রায় একই ধরনের কথা বলে নীচুতলার দলীয় নেতাকর্মীদের অপমান করেছেন। মিহিরবাবু জানান, দোলার বক্তব্য ছিল , ৭৫ শতাংশ দলকে দিন, ২৫ শতাংশ নিজের রাখুন। মিহিরের আপত্তি, দোলার এই কথায় দলের দুর্নীতিগ্রস্ততার বিষয়টিই সিলমোহর পেয়ে যায়। ফলে তিনি অপমানিত বোধ করছেন। মিহিরবাবুর বক্তব্য, যেসব বিধায়ক ও সাংসদ দলীয়কর্মীদের এভাবে অসম্মান করছেন, তাঁদের এ বার নিজেদের দিকেও তাকানো দরকার। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করে বলেন, তৃণমূলের অবস্থা উলঙ্গ রাজার মতো। আরও পড়ুন ঃ রাজ্য নেতৃত্বকে উপেক্ষা? মন্ত্রীর সভামঞ্চে হাতের লাঠি বহিষ্কৃত নেতা! তাঁর সবচেয়ে ক্ষোভের জায়গা , উত্তরবঙ্গের প্রতি বঞ্চনা। তাঁর মতে, যা আগেও ছিল, এখনও চলছে। মিহির জানান, সব কিছুই কলকাতাকেন্দ্রিক। কিছু নেতা সব কিছু কলকাতা থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত এখানকার ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। শুভেন্দু অধিকারীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি কিছু না বলে মিহিরবাবু জানান, শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ৪০ বছরের সম্পর্ক। প্রসঙ্গত , দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে অক্টোবরের গোড়াতেই দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন মিহিরবাবু। এরপর থেকে কখনও নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে বৈঠক করে , কখনও রাজ্যের মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা না করে তাদের ফিরিয়ে দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি।

নভেম্বর ০৯, ২০২০
রাজনীতি

দলের তরফে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুই পূরণ হয়নি , অভিযোগ মিহির গোস্বামীর

ফের দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। শুক্রবার তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন , আজ যখন দেখছি দিদির দলে কোন ঠিকাদার থিংকট্যাঙ্ক কোম্পানি ঢুকে ঘরবাড়ি তছনছ করে দিচ্ছে, অপমানিত জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তখন দিদি অন্তরালে নির্বিকার! তাহলে সেই ঘরবারির মতো দিদির প্রতি এতদিনের সব আস্থা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাওয়াটা কী স্বাভাবিক নয়? আরও পড়ুন ঃ দার্জিলিং পুরসভার ১৭ কাউন্সিলর বিজেপি ছেড়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় তিনি আরও লেখেন , কংগ্রেসকে হারাতেই তৃণমূলে আস্থা রেখেছিলেন। তবে তা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যারা কুকথা বলেছেন, তারাই আবার দলে যোগ দেওয়ায় বিরক্ত হয়েছিলেন তিনি। এত কিছুর পরেও তিনি দলনেত্রীর উপর আস্থা হারাননি। দলের তরফে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও কিছুই পূরণ হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। দলে একাধিকবার অপমানিতও হতে হয়েছে তাঁকে। এদিন এভাবেই দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক। প্রসঙ্গত , কয়েকদিন আগে তিনি দলের বিরুদ্ধে এই একই ইস্যু্তে সুর চড়িয়েছিলেন। তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কও কম হয়নি। এদিন ফের তিনি এই ইস্যুতে মুখ খোলায় নতুন করে এই বিতর্ক মাথাচাড়া দেবে বলে মত রাজ্যের রাজনৈ্তিক মহলের।

নভেম্বর ০৬, ২০২০

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সুমিত সোজা অভিষেকের বাড়িতে, ভবানী ভবনে কী জানলেন গোয়েন্দারা?

ভবানী ভবনে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি দফতর থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছেছিলেন তিনি। দীর্ঘ জেরার পর সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে জেরায় সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণার মামলায় শুক্রবার রাতে সুমিতকে নোটিস পাঠায় সিআইডি। সেই নোটিসে সাড়া দিয়েই শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী আগে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির জেরায় হাজির হন সুমিত।জমি প্রতারণার মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির টাকা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগের কথা সামনে আসেনি। তবে সুমিত দীর্ঘ জেরার পর অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।অভিযোগের তদন্তে সুমিতের খোঁজে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল বলে জানা গিয়েছে।পরে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। সেই আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরিয়ে তাঁর গন্তব্য হয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। এখন সিআইডির জেরায় কী তথ্য উঠে এল এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ফের খুলছে আর জি করের ‘ফাইল’! অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক তদন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়েছে আর জি কর-কাণ্ডের তদন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যেই পৃথক ভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ধর্ষণ ও খুনের আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষে যে তথ্য উঠে আসবে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা আগে থেকে দূর করা যায়নি, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগে থেমে থাকা তদন্তের বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আর জি কর-কাণ্ডে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি এবং অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ওই তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নতুন তদন্তে হাসপাতালের ত্রুটি বা অনিয়ম আড়াল করার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।এদিকে রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে অভয়া দিবস। দুই বছর আগে ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার স্মরণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।সকাল ১১টায় অভয়ার স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।অভয়ার মা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের।সিবিআইয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পৃথক তদন্তে নতুন করে কোন তথ্য সামনে আসে, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিদেশি প্রতিযোগীদের টেক্কা দিয়ে সাফল্য, আন্তর্জাতিক ক্যারাটে মঞ্চে গুসকরার জয়জয়কার

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফের উজ্জ্বল হল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার নাম। কলকাতার নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দশম আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত সাফল্য পেল গুসকরার একটি ক্যারাটে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিযোগীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিদেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে একসঙ্গে ৩১টি পদক জয় করেছেন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ১৬ জন প্রতিযোগী।গত ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গুসকরার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিযোগীরা মোট ৩১টি ইভেন্টে অংশ নেন। তাঁদের ঝুলিতে এসেছে ৫টি স্বর্ণ, ৮টি রৌপ্য এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক। এই সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে গুসকরা জুড়ে।স্বর্ণপদক জয়ীদের মধ্যে রয়েছেন শ্রেয়াঙ্ক মুর্মু, অন্যরা সাউ, সৌরদীপ অধিকারী এবং অরণ্যা দত্ত। তাঁদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বাকি প্রতিযোগীরাও বিভিন্ন ইভেন্টে সাফল্য অর্জন করে গুসকরার ক্রীড়াক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিযোগীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা-সহ সাতটিরও বেশি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। ফলে এমন একটি প্রতিযোগিতার মঞ্চে গুসকরার খেলোয়াড়দের এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন জেলার ক্রীড়ামহলের সঙ্গে যুক্তরা।প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্ণধার তথা প্রধান প্রশিক্ষক সেনসাই পার্থ সারথী পাল বলেন, গুসকরা থেকে এই প্রথম এত সংখ্যক প্রতিযোগী আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করল। তাঁর মতে, ক্যারাটেকে শুধুমাত্র পদক জয়ের খেলা হিসেবে দেখলে চলবে না। শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানো, আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি, আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তোলাই এই খেলার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।অভিভাবকরা যদি সেই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সন্তানদের ক্যারাটে প্রশিক্ষণে উৎসাহিত করেন, তাহলে আগামী দিনে আরও বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে বলেও আশাবাদী তিনি।এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে, গুসকরার এই সাফল্য কোনও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাফল্য নয়। এটি গোটা পূর্ব বর্ধমান জেলার গর্ব। আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুসকরার খেলোয়াড়দের এই নজরকাড়া পারফরম্যান্স আগামী দিনে জেলার ক্যারাটে চর্চাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দেরও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের মেলে ধরার ক্ষেত্রে এই সাফল্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

‘মেসি’ হয়ে ওঠার নেপথ্যের মানুষ আর নেই, প্রয়াত জর্জ মেসি

৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মেসির পরিবারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলেজর্জ মেসি শুধু লিওনেল মেসির বাবা ছিলেন না, ছেলের দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও পরামর্শদাতাও ছিলেন। মেসির ফুটবলজীবনের শুরু থেকে তাঁর পাশে ছিলেন জর্জ। ছেলের প্রতিভার উপর আস্থা রেখে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।রোজারিওতেই ছোটবেলায় ফুটবলের হাতেখড়ি হয়েছিল মেসির। নিউওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুব দলে খেলার সময় তাঁর প্রতিভা নজর কাড়ে। শারীরিক বৃদ্ধির জন্য হরমোনের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল মেসির। সেই পরিস্থিতিতে ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জর্জই তাঁকে নিয়ে স্পেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বার্সেলোনায় মেসির ফুটবলজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।ছেলের সঙ্গে বার্সেলোনায় থেকেছেন জর্জ। মেসির পেশাদার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গেও জড়িয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সাঁ জাঁ এবং ইন্টার মায়ামিমেসির ক্লাবজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।শুধু ফুটবল নয়, মেসির ব্যক্তিগত জীবনেও বাবার প্রভাব ছিল গভীর। কঠিন সময়েও জর্জ ছেলের পাশে থেকেছেন। তাই মেসির জীবনে জর্জ ছিলেন একইসঙ্গে বাবা, অভিভাবক, পরামর্শদাতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাদার প্রতিনিধি।চলতি বছর বিশ্বকাপের সময় থেকেই জর্জের অসুস্থতার খবর সামনে আসতে শুরু করেছিল। মেসিও একসময় জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের নানা কারণে তিনি কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। পরে দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষ হল জর্জ মেসির।মেসির ফুটবলজীবনের উত্থানের সঙ্গে জর্জের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ছেলের প্রতিভায় বিশ্বাস রেখে যে মানুষটি তাঁর পথচলার শুরু থেকে পাশে ছিলেন, তাঁর প্রয়াণে মেসির জীবনে তৈরি হল এক গভীর শূন্যতা। ফুটবল দুনিয়াতেও নেমে এসেছে শোকের আবহ।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
ভ্রমণ

সিকিমের অফবিট সৌন্দর্যে মুগ্ধ করবে জুলুক থেকে জোংগু, ঘুরে এলে মন চাইবে বারবার

ব্যস্ত শহরের কোলাহল, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি আর প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপ থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতে আমরা কয়েকজন বন্ধু বেরিয়ে পড়লাম ভারতের উত্তর-পূর্বের ছোট্ট অথচ অপরূপ সুন্দর রাজ্য সিকিমের উদ্দেশ্যে। পাহাড়, মেঘ, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির টানে বহুদিন ধরেই সিকিম আমাদের স্বপ্নের গন্তব্য ছিল।শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে চড়ে যখন সিকিমের পথে যাত্রা শুরু করলাম, তখনই বুঝতে পারলাম এক অন্য জগতে প্রবেশ করতে চলেছি। তিস্তা নদী আমাদের পথসঙ্গী হয়ে বয়ে চলছিল। পাহাড়ের গা বেয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তা, দূরে মেঘে ঢাকা পাহাড়ের সারি আর নদীর কলকল শব্দ যেন মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিল।গ্যাংটক পৌঁছে আমরা প্রথমেই শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলা দেখে মুগ্ধ হলাম। তবে আমাদের আসল লক্ষ্য ছিল সিকিমের কিছু অফবিট বা কম পরিচিত স্থান ঘুরে দেখা। তাই পরদিন সকালে আমরা রওনা দিলাম জুলুকের উদ্দেশ্যে। পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। পথে বিখ্যাত জিগজ্যাগ রোডের ৩২টি বাঁক দেখে আমরা অভিভূত হয়ে গেলাম। পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচের রাস্তা দেখতে যেন বিশাল কোনো শিল্পকর্মের মতো লাগছিল।জুলুকের ঠান্ডা আবহাওয়া আর নিস্তব্ধ পরিবেশ আমাদের মন জয় করে নিল। রাতের আকাশে অসংখ্য তারার মেলা দেখে মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গের খুব কাছাকাছি এসে গেছি। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে এই অভিজ্ঞতা সত্যিই ছিল অসাধারণ।পরের দিন আমরা গেলাম থাম্বি ভিউ পয়েন্টে। ভোরবেলায় সূর্যের প্রথম আলো যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা শৃঙ্গে পড়ল, তখন সেই দৃশ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। সোনালি আলোয় ঝলমল করা পর্বতশ্রেণি আমাদের চোখে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে রইল।এরপর আমরা উত্তর সিকিমের এক সুন্দর অফবিট গ্রাম জোংগুতে পৌঁছালাম। এটি লেপচা সম্প্রদায়ের সংরক্ষিত এলাকা। এখানকার মানুষজন অত্যন্ত আন্তরিক এবং অতিথিপরায়ণ। তাদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করল। ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, পাহাড়ি ঝরনা এবং সবুজ বনভূমির মধ্যে কয়েকটি দিন কাটিয়ে মনে হলো প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অপূর্ব সহাবস্থান প্রত্যক্ষ করছি।জোংগু থেকে ফেরার পথে আমরা কয়েকটি অজানা ঝরনা এবং ছোট পাহাড়ি গ্রামে থামলাম। প্রতিটি স্থান যেন প্রকৃতির নিজস্ব হাতে সাজানো একেকটি চিত্রপট। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও ঝরনার শব্দ, আবার কোথাও শুধুই নীরবতাসব মিলিয়ে সিকিমের প্রকৃতি যেন হৃদয়কে নতুন করে বাঁচতে শেখায়।ভ্রমণের শেষ দিনে আমরা বুঝতে পারলাম, সিকিম শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি এক অনুভূতির নাম। এখানে পাহাড় শুধু চোখকে নয়, মনকেও ছুঁয়ে যায়। প্রকৃতির এত কাছে এসে জীবনের ছোট ছোট সুখগুলোর মূল্য আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়।ফেরার পথে গাড়ির জানালা দিয়ে শেষবারের মতো পাহাড়গুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সিকিম যেন নীরবে বলছেআবার এসো। আমরাও মনে মনে প্রতিশ্রুতি দিলাম, এই অফবিট সৌন্দর্যের রাজ্যে আবার ফিরে আসব। কারণ সিকিমের মায়া একবার যার মনে জায়গা করে নেয়, তাকে বারবার টেনে নিয়ে যায় তার সবুজ পাহাড়, নীল আকাশ আর মেঘের দেশে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

‘রাজনীতিটাই জটিলতা’, শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর এনডিএ নিয়ে বড় বার্তা দুই সাংসদের

এনডিএ-তে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনার মধ্যেই শনিবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করলেন এনসিপিআইয়ের দুই সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমান। বৈঠকের পর এনডিএ নিয়ে তাঁদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তাঁরা। আবু তাহের জানান, এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠকে তাঁরা যাবেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিটাই জটিলতা। প্রতিদিন জটিলতার মধ্যে দিয়ে চলছি।এনসিপিআইয়ের মোট ২০ জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানকে ঘিরেই মূলত জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই তিন সাংসদের নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে তাঁদের বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।এই তিন সাংসদ এখনও পর্যন্ত এনডিএ-র বিভিন্ন বৈঠক থেকে দূরে থেকেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়। তার পরেই শনিবার শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়।পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন দুই সাংসদ। বৈঠকে তাঁদের রাজ্য এবং নিজ নিজ লোকসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাঁরা। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের বিভিন্ন সমস্যার কথাও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন বলে দাবি করেন দুই সাংসদ।বৈঠকের পর আবু তাহের এবং খলিলুর রহমান জানান, তাঁদের উত্থাপিত সমস্যাগুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এনডিএ-র সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা পুরোপুরি থামেনি।বিশেষ করে তিন সংখ্যালঘু সাংসদকে ঘিরে যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই আবু তাহেরের এনডিএ-র নামে কোনও বৈঠকে যাব না মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্য দিকে, প্রধানমন্ত্রী ডাকা বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি এবং তার পরেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎদুই ঘটনাকে পাশাপাশি রেখে রাজনৈতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
রাজ্য

রাতের অন্ধকারে পুলিশের অভিযান, দত্তপুকুর থেকে পাকড়াও নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক

নৈহাটির প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দে-কে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শনিবার তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হবে।২০২৪ সালের উপনির্বাচনে নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সনৎ দে। তবে তার আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় সূত্রে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং জমি দখলের অভিযোগ ছিল বলে জানা যায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়। এরপর সনৎ দে-র বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরেই শুক্রবার রাতে দত্তপুকুরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এর আগে গত জুন মাসে জনরোষের মুখেও পড়েছিলেন সনৎ দে। নৈহাটির বিজয়নগরে নিজের বাড়ির কাছে দলীয় কার্যালয় খোলার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে চোর, চোর স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।তদন্তকারীরা সেই অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখছেন। সব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়নি।শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেফতারের পর শনিবার সনৎ দে-কে বারাকপুর আদালতে পেশ করার কথা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে পুলিশ কী তথ্য পায় এবং আদালতে কী অবস্থান জানায়, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal