• ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Clash

রাজ্য

Khagragarh : তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অশান্তি অব্যাহত বর্ধমানের খাগড়াগড়ে

তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে ফের উত্তপ্ত হল বর্ধমানের খাগড়াগড়। দরজার তালা ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি দুয়ারে সরকার প্রকল্পে মানুষজনকে সাহায্যের জন্য রাখা নথিপত্রও নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এইসব ঘটনা নিয়ে একগোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এলাকা বারবার উত্তপ্ত হওয়ায় অতিষ্ট খাগড়াগড়ের বাসিন্দারা।আরও পড়ুনঃ বড় ঘোষণা নির্মলা সীতারামনেরতৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রবিবার অশান্ত হয় খাগড়াগড়। এরপর এদিন ফের খাগড়াগড় এলাকা উত্তপ্ত হল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে।এলাকার তৃণমূল নেতা শেখ ফিরোজের অনুগামী মহম্মদ হোসেন এদিন দাবি করেন, পুলিশের নির্দেশে রবিবার তাঁদের দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। তবুও রাতে কিছু দুষ্কৃতী কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে এলাকার মানুষকে সাহায্য করার জন্য যে সব নথিপত্র রাখা হয়েছিল সেইসবও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা পিয়ারী বিবি অভিযোগে বলেন, রান্না খাওয়া-দাওয়া করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমন গুন্ডামি অসহ্য হয়ে উঠছে।আরও পড়ুনঃ অক্টোবরেই চরম আকার নেবে তৃতীয় ঢেউ!যদিও এইসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিরোধী গোষ্ঠীর মহম্মদ ইনসান। পালটা অভিযোগে তিনি দাবি করেন, এলাকার যাবতীয় অশান্তির মূলে রয়েছে শেখ ফিরোজ ও তার অনুগামী শেখ হোসেন সহ তাঁর দলবল। ওরাই নিজেদের গোষ্ঠীর মেয়েদের নিয়ে এসে বাসিন্দাদেরর মারধর করিয়েছে। এছাড়াও ক্লাব নিয়ে নানা বেনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি চলছে বলেও মহম্মদ ইনসান দাবি করেছেন।আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ত্রিপুরা-চ্যালেঞ্জে নতুন তাস দেবএই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, সবটাই স্থানীয় ঘটনা। এর সাথে দলের কোনো যোগ নেই। এটা গোষ্ঠীকোন্দলের ব্যাপার নয়। ক্লাবের ব্যাপার হতেও পারে। এলাকায় কোন গোষ্ঠী নেই।

আগস্ট ২৩, ২০২১
দেশ

Border Clash: অসম-মিজোরাম সীমান্ত সংঘর্ষের বলি ৬ পুলিশকর্মী

অসম-মিজোরাম সীমান্তের সংঘর্ষে মৃত্যু অসমের ৬ পুলিশকর্মীর। সোমবার দুপুরে ওই অশান্তির পর টুইট করে এই খবর জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি জানিয়েছেন অসম পুলিশের ৬ জওয়ান নিহত হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, সাংবিধান নির্ধারিত সীমান্ত রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে এই ছয় পুলিশকর্মীর। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।আরও পড়ুনঃ অলিম্পিক টিটির তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছে গেলেন শরথ কমলঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় আট কৃষকদের ঘর জ্বালিয়ে দেয় কিছু দুষ্কৃতী। তারপরই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সীমান্তবর্তী ওই এলাকা। মিজোরাম পুলিশের ডিআইজি লালবিয়াকথাঙ্গা খিয়াংলে জানিয়েছেন, ওই আট কৃষকদের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও সেখানে কেউ ছিলেন না। সেই ঘটনা ঘটে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ। এই ঘরগুলি অসমের সীমান্তবর্তী গ্রাম ভাইরেংলের কৃষকদের। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তদন্ত চলছে।আরও পড়ুনঃ চিন্তা বাড়াচ্ছে দেশের ৫ রাজ্যের করোনা সংক্রমণঅভিযোগ, গত ১১ জুলাই মিজোরামের এক কৃষকের খেত, বাগানও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়েই অশান্তি শুরু হয়। সীমান্তের দিকে লাঠি নিয়ে ছুটে যায় দুই রাজ্যেরই কিছু লোক। এরপরই সীমান্ত পরিদর্শনে যাওয়া অসম সরকারের একটি টিমের গাড়ি লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটে সে দিন। আর তারপর থেকে জারি আছে অশান্তি। দিন দুয়েক আগেই উত্তর-পূর্বের সব মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। আর তারপরই আজকের এই ঘটনা।আরও পড়ুনঃ সুযোগ পেলেন অভিমন্যু, ভারতীয় টেস্ট দলে একসঙ্গে বাংলার ৩এ দিন অশান্তির পর মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা টু্ইটে লিখেছেন, এ সব এখনই বন্ধ হওয়া উচিৎ। অমিত শাহকে বিষয়টিতে নজর দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। অন্য একটি টুইটে তিনি দেখিয়েছেন, অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন এই ঘটনায়। তাঁর দাবি, নিরপরাধ মানুষকে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে দুষ্কৃতীদের হাতে। অন্যদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও টুইটে অমিত শাহকে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন।

জুলাই ২৬, ২০২১
রাজ্য

Harowa: হাড়োয়ায় শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে গুলি, নিহত ২

তৃণমূলের শহিদ দিবসে পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার-কাণ্ড হাড়োয়ায়। দলেরই দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক মহিলা-সহ ২ জনের। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন উভয়পক্ষের ১২ জন।বুধবার গোটা রাজ্যের সঙ্গে হাড়োয়ার ট্যাংরামারি গ্রামেও আয়োজন করা হয়েছিল শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান। সেখানেই পতাকা তোলাকে কেন্দ্র করে দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এর মধ্যেই চলে গুলি। পুলিশ সূত্রের খবর, নিহতরা হলেন লক্ষ্মী সর্দার(৬২) ও সন্যাসী সর্দার(৩৮)।আরও পড়ুনঃ শশাঙ্কের সঙ্গে কফি ডেটে গেলেন শ্রীলেখা, তারপর!পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূলের নেতা-কর্মী বিজেপিতে যোগ দেয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ফের তারা দলের এক প্রভাবশালী নেতার হাত ধরে তৃণমূলে ফিরে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে হাড়োয়ার বাছড়া মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকায় দলের আদি এবং নব্যদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। গুলি-বোমার লড়াইয়ে উত্তপ্ত ছিল এলাকা। তারই মধ্যে এ দিন সকালে এক পক্ষ দলীয় পাটি অফিসের সামনে ২১ শে জুলাই উপলক্ষে দলের পতাকা তোলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।এদিন দলীয় পতাকা তোলা হয়ে গেলে হইহুল্লোড় করার পর খাওয়া শেষে দুপুর আড়াইয়ে নাগাদ এক পক্ষ যখন বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেয় সে সময়ে অতর্কিতে তাদের উপর আক্রমণ অন্য গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। শুরু হয় মুড়িমুড়কির মত গুলি ও বোমা বৃষ্টি। বাড়ি ফেরার পথে ওই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান লক্ষ্মী মণ্ডল। গুলি এসে লাগে লক্ষ্মীর পেটে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বুকে গুলি লাগে সন্যাসী সর্দারের। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জুলাই ২১, ২০২১
রাজ্য

Galsi: গলসিতে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম আনিসুর মণ্ডল ওরফে কালো, চণ্ডীচরণ দাস ও শেখ নূর আলম। পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার বোলপুর গ্রামে চণ্ডীদাসের বাড়ি। অপর দুই ধৃত গলসির কড়কডাল গ্রামের বাসিন্দা। গলসি থানার পুলিশ বুধবার রাতে বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।আরও পড়ুনঃ বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় জখম বিজেপি নেত্রীপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁশের তৈরি বসার মাচা ভেঙে দেওয়া নিয়ে বুধবার বিকালে কড়কডাল গ্রামে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ৪ মহিলা-সহ উভয়পক্ষে ১০ জন জখম হন।জখমদের মধ্যে ৭ জনকে পুরষা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আঘাত গুরুতর থাকায় সেখান থেকে কয়েকজনকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।আরও পড়ুনঃ কেন দ্বিতীয় বিয়ে করলেন না পূজা ভাট!আক্রান্ত শেখ নূর আলম পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন বিকাল ৪টে নাগাদ লাঠি, রড, শাবল প্রভৃতি নিয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর বোন, মা, স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়দের মারধর করার পাশাপাশি তারা তাঁর বাড়িতে থাকা ২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে পালায়। অপরদিকে সফিকুল মল্লিকের অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকাল সাড়ে ৪টে নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে খলসেগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁর আর্তনাদ শুনে ভাই ছুটে আসেন। তাঁকেও মারধর করা হয়। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে গলসি থানার পুলিশ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। সিজেএম ধৃতদের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

জুলাই ১৫, ২০২১
রাজ্য

TMC Clash: তৃণমূল নেতার জমি দখল করল তৃণমূল নেত্রী, প্রকাশ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব

লাল ঝান্ডা পুঁতে দিয়ে এক তৃণমূল নেতার চাষের জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার চকদিঘী পঞ্চায়েতের পাহাড়পুর গ্রামে । ঘটনার বিষয়ে জমির মালিক কাশিনাথ সরকার শুক্রবার ওই তৃণমূল নেত্রী শিখা রায় ও তাঁর ছেলে সুমন্ত রায়ের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। কাশিনাথ সরকারের বাড়ি জামালপুরের চকদিঘীর পাহাড়পুর গ্রামে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসাবেই এলাকায় তিনি পরিচিত। পুলিশকে এদিন কাশিনাথবাবু জানিয়েছেন, পাহাড়পুরে জ্যোৎসুবল মৌজায় ৩৩৩ দাগে তাঁর ৬৯ শতক চাষ জমি রয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তাঁর বাবা হরিসাধন সরকার ১৯৪৯ সালে রেজিস্ট্রি করে দলিল দ্বারা ক্রয় করেন পাহাড়পুর গ্রাম নিবাসী ফকির বাগদির কাছ থেকে। যে সম্পত্তি তাঁর বাবার নামেই ভূমি দপ্তরে আর-এস ও এল-আর রেকর্ডে নথিমুক্ত রয়েছে।ওই জমিতে দীর্ঘকাল তাঁর বাবা চাষ করে এসেছেন বলে কাশিবাবু দাবি করেন।একই সঙ্গে তিনি জানান, জীবিতাবস্থায় তাঁর বাবা হরিসাধন সরকার ওই ৬৯ শতক চাষ জমি দলিল করে তাঁকে লিখে দিয়ে যান ।আরও পড়ুনঃ পুরসভার কর্মী বদলিতে বিধায়কের সম্মতি! শোরগোল বর্ধমানে কাশিনাথবাবু দাবি করেন, প্রায় ৭০-৭১ বছর ধরে তাঁর বাবা ও পরবর্তিতে তিনি ওই জমি চাষ করে আসছেন। কাশিনাথ বাবুর অভিযোগ, নিজেকে পাহাড়পুর এলাকার তৃণমূল নেত্রী বলে দাবি করা ফকির বাগদির বৌমা শিখা রায় তাঁর ছেলে সুমন্ত রায়কে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অন্য কারওর ট্র্যাক্টর নিয়ে এসে জোরপূর্বক তাঁর জমি চষে দেয়। এরপর প্রথমে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ঝান্ডা ওই জমিতে পুঁতে দেয়। পরে আবার ওই জমিতে বেগুন চারা লাগিয়ে দিয়ে তৃণমূলের ঝান্ডা সরিয়ে শিখাদেবী ও তাঁর ছেলে লাল একটি ঝান্ডা পুঁতে দিয়ে বেআইনিভাবে এদিন তাঁর জমির দখল নিয়েছে বলে কাশিনাথবাবু অভিযোগ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অফিসেও এদিন তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খাঁনের ইন্ধনেই শিখা রায় ও তাঁর ছেলে বেআইনিভাবে তাঁর জমির দখল নিয়েছে । তাই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছেও এই বিষয়ে সবিস্তার অভিযোগ জানাবেন বলে এদিন কাশিনাথবাবু জানান। কাশিনাথ সরকারের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী শিখা রায় বলেন, তাঁর শ্বশুরমশাই ফকির বাগদি পাগল ছিলেন। সেই সুযোগ নিয়ে পূর্বে অনেকে তাঁর শ্বশুর মশাইয়ের জমি নিজেদের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন। একইভাবে তাঁর শাশুড়ির কাছ থেকেও জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শিখাদেবী দাবি করেন, তাঁর শ্বশুরমশাই যে পাগল ছিলেন সেই সংক্রান্ত নথি(সার্টিফিকেট) তাঁর কাছে আছে । শিখাদেবীর বক্তব্য, তাঁর শ্বশুর যেহেতু পাগল ছিলেন তাই অন্য কাউকে তাঁর শ্বশুর সাজিয়ে তখনকার দিনে তাঁর জমি বিক্রি করা সংক্রান্ত দলিল করে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে শ্বশুরের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্যে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।তবে শিখাদেবী নিজেই এদিন জানান, জ্যোৎসুবল মৌজায় ৩৩৩ দাগে তাঁদের এলাকার তৃণমূল নেতা কাশিনাথ সরকারের যে ৬৯ শতক চাষ জমি রয়েছে, সেই জমি নিয়ে তিনি মামলা করেননি। তবে কাশিনাথ সরকার যেহেতু বারে বারে ১০৭ ধারা ও ১৪৪ ধারার নোটিস পাঠিয়ে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে হয়রানি করছেন, তাই তার বদলা নিতেই ৩৩৩ দাগের ওই জমি চষে দিয়ে তিনি বেগুনের চারা লাগিয়ে দিয়েছেন । তবে রাতে নয়, শুক্রবার দিনের আলোতেই তিনি এই কাজ করেছেন। আর ওই জমিতে তৃণমূলের কোনও ঝান্ডা নয়, একটা লাল কাপড়ের ঝান্ডা লাগিয়ে দিয়েছেন বলে শিখাদেবী জানিয়েছেন। আরও পড়ুনঃ সাদা চুল নিমেষে কালো করার প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায় কী কী, জানুন...চকদিঘি পঞ্চায়েতের প্রধান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা গৌরসুন্দর মণ্ডল বলেন, শিখা রায় যা করছেন ঠিক করছেন না।উনি যেভাবে জোরপূর্বক পাহাড়পুর এলাকার লোকজনের সম্পত্তির দখল নিয়ে নিচ্ছেন সেটা আইন বিরুদ্ধ কাজ হচ্ছে। তা নিয়ে ওই এলাকার মানুষজন ক্ষোভে ফুঁসছেন । শিখাদেবী যেহেতু আদালতে মামলা করেছেন, তাই ওনার আদালতের উপরেই ভরসা রাখা উচিত । শিখা রায়ের এমন কাজকর্মের জন্যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন এই বিষয়ে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেব। অন্যদিকে, জামালপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি মেহেমুদ খাঁন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে কে কি করছে সেটা তাঁর জানার কথা নয়। তিনি ঘটনা বিষয়ে কিছু জানেন না। কোথাও বেআইনি কিছু হয়ে থাকলে প্রশাসন তার ব্যবস্থা নেবে। বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জিতেন ডকাল বলেন, শুধু বিজেপির লোকজনই তৃণমূলের সন্তারের শিকার হচ্ছেন না । এখন, সন্ত্রাসের হাত থেকে তৃণমূলের লোকজনও যে ছাড় পাচ্ছেন না, তা চকদিঘির ঘটনা থেকেই পরিষ্কার হয়ে গেল ।

জুন ২৬, ২০২১
রাজ্য

TMC-Clash: তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমান, চলল ব্যাপক মারধর-ভাঙচুরও

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ জানিয়ে আসছেন বিরোধীরা। মারধর, ঘর ভাঙচুর, খুনের মতো ঘটনাও ঘটে চলেছে। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও। ফল ঘোষণার পর থেকেই পূর্ব বর্ধমানের রসিকপুর এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা চলছেই। যা গুরুতর আকার নেয় মঙ্গলবার। জানা গিয়েছে,তৃণমূল করলেও সংঘাতের বিরাম নেই এলাকার দুই গোষ্ঠীর মধ্যে। যার জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে এদিন। এলাকার যুব সভাপতি শেখ সাহেব। তাঁর উপর রাগ রয়েছে এলাকারই তৃণমূল জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুর রবের গোষ্ঠী।অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর হুমকি দেওয়া তো চলছিলই। এদিন বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় রবের গোষ্ঠী। বাড়িতে যাকেই সামনে পেয়েছে, তাকেই বেধড়ক মারধর করা হয়। রেহাই দেওয়া হয়নি বয়স্ক, মহিলাদেরও। যুব সভাপতিকে সামনে না পেয়ে তাঁর আত্মীয়দের মেরে কারুর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তো কারুর হাত কেটে দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তরা হলেন, শেখ সাহেব, মনোয়ারা বিবি( আত্মীয়া), শেখ শুকুর। তাদের দোকানও ভাঙচুর করে টাকাপয়সা লুঠ করে নিয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। এরকম অত্যাচারের কথা জানিয়ে পুলিশে বার বার অভিযোগ করা হলেও তার কোনও ফল মেলেনি বলে অভিযোগ। এদিন হামলার পর বর্ধমান পুলিশের আইসির কাছে দিয়ে অভিযোগ জানায় আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন আইসি। পুলিশের একটি দল গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে আসে। এদিকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা সরাসরি অস্বীকার করে জানান, আমি বাইরে ছিলাম।বিষয়টি ঠিক জানা নেই।এরকমটা হওয়ার কথা নয়।খোঁজ নিয়ে দেখবো।শুধু আক্রান্তের পরিবারই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দল যাই বলুক না কেন, এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।

জুন ২৩, ২০২১
রাজ্য

Group Clash: দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ-বোমাবাজিতে উত্তপ্ত জয়নগর

জমি বিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) জয়নগর। ব্যাপক বোমাবাজি হয় এলাকায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও এখনও থমথমে এলাকা।জানা গিয়েছে, জয়নগরের (Jaynagar) মম্মেজগড় এলাকায় একটা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল স্থানীয় দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে। রবিবার সকালে তা চরমে ওঠে। কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে ২ গোষ্ঠীর লোকেরা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। লাঠি-রড-বাঁশ দিয়ে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে দুই গোষ্ঠীর সদস্যরা। কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্যাপক বোমাবাজিও হয়। আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে।এরপরই ঘটনার প্রতিবাদে গোচরণ-দোসাহাট রোড অবরোধ করে স্থানীয়রা। গাছের গুড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় জয়নগর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাঁদের সামনেও দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। দীর্ঘক্ষণ পর আয়ত্তে আসে পরিস্থিতি। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২ টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের খোঁজে শুরু হয়েছে তদন্ত।

জুন ২০, ২০২১
রাজনীতি

Kailash Vijayvargiya: বিজয়বর্গীয়র নামে গো ব্যাক পোস্টার!

বিজেপির (BJP) অন্দরের ফাটল কী ক্রমশই চওড়া হচ্ছে! বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তর মুরলিধর সেন লেনের বাইরে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র বিরুদ্ধে পড়ল পোস্টার। তাতে তাঁকে TMC Setting Master বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। এক, দুটি নয় রাজ্য বিজেপির সদর দপ্তরের বাইরে এই পোস্টারে ছয়লাপ। একইরকম পোস্টার দেখা গেল হেস্টিংসের কার্যালয়ে এবং বিমানবন্দরের কাছেও দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে এসব পোস্টার দেখা গেল। যা থেকে আরও স্পষ্ট, একুশের ভোটে বঙ্গে বিজেপির ভরাডুবির পর থেকে কৈলাস দলের অন্দরেই আরও চক্ষুশূল হয়ে উঠছেন।মুকুল রায়ের সঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র (Kailash Vijayvargiya) সুসম্পর্ক গেরুয়া শিবিরের চেনা ছবি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মুকুল রায় (Mukul Roy)দলবদল করে তৃণমূলে ফেরার পর থেকে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে তো বিজেপির রাজ্য নেতা তথাগত রায় টুইটে কটাক্ষ করে ভোদা বিড়াল নামে ডেকেই ফেলেন। এবার মুকুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে কৈলাসকে বিঁধতে ছাড়লেন না অন্যরাও। পোস্টারে মুকুলের সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায় কৈলাসকে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ বঙ্গে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ার জন্য রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব কার্যত কেন্দ্রীয় নেতাদেরই দায়ী করছেন। নিশানায় অন্যতম কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই এ রাজ্যের পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। বাংলায় সংগঠনের প্রতিটি খুঁটিনাটি জেনে সেইমতো নীল নকশা ছকে তবেই ভোটযুদ্ধে এগোনো উচিৎ তাঁর। কিন্তু ভোটের ফলাফল বলছে, সেই কাজে তিনি ব্যর্থ। তাই তাঁর অপসারণের দাবিও উঠেছে। এবার বিজেপি রাজ্য দপ্তরের তরফেও সেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জুন ১৮, ২০২১
রাজ্য

রাজনৈতিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদ, জখম ৫

রাত পোহালেই ভোট। তার আগে রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদ। তৃণমূল-সিপিএম সংঘর্ষে জখম ২ পক্ষের বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁদের। গত কয়েকদিনে বারবার রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ডোমকলের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটপ্রচারে বেরিয়েছিল সিপিএমের কর্মী সমর্থকরা। অভিযোগ, সেখানেই তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে তাঁরা। ক্রমেই তা হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে বাঁশ, লাঠি নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। গুরুতর জখম হন মোট ৫ জন। অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। তাঁদের সামনেও চলে মারধর। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে পুলিশ। আগামিকাল অর্থাৎ সপ্তম দফায় ওই এলাকায় ভোট, তার আগে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নতুন করে যাতে এলাকায় উত্তেজনা না ছড়ায় সেই কারণে মোতায়েন করা হয়েছে বাহিনী। জানা যাচ্ছে, আহতদের মধ্যে ২ সিপিএম কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ভরতি করা হয়েছে বহরমপুর হাসপাতালে। উল্লেখ্য, ভোটের মরশুমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তির খবর প্রকাশ্যে এসেছে। কোথাও আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল, কোথাও বিজেপি কোথাও আবার সিপিএম। ঝড়ছে রক্ত। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। লাগাতার এহেন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে কমিশনের ভূমিকা।

এপ্রিল ২৫, ২০২১
রাজ্য

ভোট মিটতেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বর্ধমান

ভোটপরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমানের লক্ষ্মীপুর। শনিবার রাতে সংঘর্ষে জড়ায় তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। রাতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও রবিবার ভোর থেকে ফের নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে তৃণমূল-বিজেপি কর্মীরা।শনিবার অর্থাৎ পঞ্চম দফায় ভোট ছিল বর্ধমান দক্ষিণ আসনে। ভোট শেষ হওয়ার পর রাতে ওই এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাতেই অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করেন তৃণমূল কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ। গভীর রাতে ওঠে বিক্ষোভ। রবিবার সকালে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসকেও মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। রীতিমতো তাড়া করা হয় তাঁকে। আক্রান্ত হন একাধিক তৃণমূল কর্মী। তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় একটি ক্লাবেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বিজেপি। একের পর এক বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সংঘর্ষে জড়ায় তৃণমূল-বিজেপি। ভোট পরবর্তী হিংসায় কার্যত জ্বলছে বর্ধমান। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। আতঙ্কে কাঁটা স্থানীয়রা।

এপ্রিল ১৮, ২০২১
রাজ্য

শিবপুরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় র‍্যাফ

পুলিশি নিষ্ক্রীয়তার অভিযোগে থানা ঘেরাও তৃণমূলের।শিবপুরে ভোট পরবর্তী সংঘাত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। বাঁকড়ার পরে এবারে শিবপুরের চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায় বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয় ওলাবিবিতলার ভ্যানিশকালি এলাকা। সোমবার রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিবপুরের অনন্তদেব মুখার্জি লেনে নামে র্যা ফ। অনন্তদেব মুখোপাধ্যায় লেনের ভ্যানিস কালি অগ্রনী সংঘের মাঠের কাছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মারামারি হয়। সোমবার রাতে এই সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার তৃণমূল চ্যাটার্জিহাট থানা ঘেরাও করে। চ্যাটার্জিহাট থানার ওসির অপসারণের দাবিতে থানা ঘেরাও করে তারা। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় বার বার পুলিশকে ফোন করলেও রাতে ঘটনাস্থলে কোনও পুলিশ পাঠানো হয়নি। বিজেপির তরফেও জেলা নেতৃত্ব থানায় গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। তাঁদের অভিযোগ, ভোট শেষ হতেই চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি ঢুকে মারধর করেছে তৃণমূল। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দাবী বিজেপির মহিলা বাহিনী তৃণমূলের মহিলাদের উপর সোমবার রাতে লাঠি ও রড নিয়ে চড়াও হয়। এতে তৃণমূলের দুই মহিলা গুরুতর আহত হন। যদিও বিজেপি এই আক্রমণের কথা অস্বীকার করেছে। বিজেপির পাল্টা দাবি, তৃণমূলের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। গুরুতর আহত তৃণমূলের এক মহিলা কর্মী মুনমুন চক্রবর্তী বলেন, আমি অফিস থেকে ফিরছিলাম। হঠাৎ ৩০ থেকে ৪০ জন মহিলা আমাকে পিছন থেকে এসে মারধর শুরু করে দিল। মাথায় ইঁট দিয়ে মারলো। তার পর রাস্তায় ফেলে পিঠে লাঠি, টিউবলাইট দিয়ে বেধড়ক মারধর করলো। আক্রমণকারীরা সব বহিরাগত। ওরা প্রত্যেকেই বিজেপির আশ্রিত। এলাকার বাসিন্দারাই আমাকে ওদের হাত থেকে রক্ষা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়ে হাওড়া জেলা সদর তৃণমূল চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন, বিজেপি আশ্রিত মহিলা দুষ্কৃতীরা লাঠি, টিউবলাইট নিয়ে চ্যাটার্জিহাটের অনন্তদেব মুখার্জি লেনে বাড়ি বাড়ি ঢুকে ৬৫ থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধবৃদ্ধাদের মারধর করেছে। বেধড়ক মারধর করা হয়েছে তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার এলাকায় মদের দোকান রয়েছে। ওই নেতাই প্রচুর কালো টাকা ছড়িয়ে বাইরে থেকে মহিলা দুষ্কৃতী নিয়ে এসে এলাকার বাসিন্দাদের মারধর করেছে। ভোটের পর এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, হাওড়ায় শনিবার ভোট মিটতেই সব জায়গায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমাদের বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ করছে। সোমবার রাতে চ্যাটার্জিহাটেও একই ঘটনা ঘটেছে। হাওড়া জেলা হাসপাতালে প্রচুর বিজেপি কর্মী আহত হয়ে ভর্তি আছেন। এভাবে তৃণমূল আমাদের কর্মীদের মারতে থাকলে আমরা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবো না। আমরাও এবার পাল্টা মারবো। শনিবার ভোট মেটার পরেই রবিবার রাতে বাঁকড়ায় সংঘাতে জড়ায় তৃণমূল ও বিজেপি। সেই সংঘাতের রেশ মিটতে না মিটতেই সোমবার রাতে চ্যাটার্জিহাটে আবার যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে নামাতে হয় র্যা ফ। হাওড়ায় ঘটা একের পর এক ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক মহল।

এপ্রিল ১৩, ২০২১
বিদেশ

মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীতে বিক্ষোভ বাংলাদেশে, পাক-পন্থীদের তাণ্ডব, নিহত ৪

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়ই হিংসা ছড়াল বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায়। এর মধ্যে শুক্রবার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারি এলাকায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। শুক্রবারই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পূর্তি উৎসবের সূচনা হয়। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে ১৯৭১-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সহযোগী ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় গিয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মূলত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তান-পন্থী জামাত-ই-ইসলামি এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলিই এই বিক্ষোভে জড়িত।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী জামাতকে কয়েক বছর আগে হাসিনা সরকার নিষিদ্ধ করলেও নাম বদলে কয়েকটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নামের আড়ালে সক্রিয়তা চালিয়ে যাচ্ছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ওই সংগঠনগুলি পরিচালিত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাই মূলত হিংসাত্মক বিক্ষোভ চালাচ্ছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ এবং অসমের ভোটপ্রচারে মোদি-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অনুপ্রবেশ বিরোধী মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশের জনসমাজের একাংশে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জামাত-পন্থীরা কৌশলে ভারতবিরোধী জিগির তোলার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন।

মার্চ ২৬, ২০২১
রাজ্য

বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, রণক্ষেত্র দিনহাটা

ভোট যত এগিয়ে আসছে, জেলায় জেলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাও বাড়ছে। বুধবার বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহার জেলার দিনহাটায়। এই ঘটনায় সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দেহ।ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিনহাটা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় কমিশনের আধিকারিকরা।ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। স্থানীয় বিজেপি ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করেছে। জানা গিয়েছে, ওই বিজেপি কর্মীর নাম অমিত সরকার। বুধবার সকালে দিনহাটার পশু হাসপাতালের বারান্দায় অমিতের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য তথা মুখপাত্র দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেছেন, ভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি-র সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্যও সরব হয়েছেন ঘটনা নিয়ে। বুধবার সকালে এই ঘটনা নিয়ে টুইট করে তৃণমূলের প্রতি আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়েছে দিনহাটার পরিস্থিতি। সেখানকার বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কোচবিহারের সাংসদ তথা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটার বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা থানায় যান। সেখানে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তাঁরা। থানা থেকে ফেরার পথে তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে নিশীথের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। সে সময় বাধা দিলে পুলিশের উপরে চড়াও হন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠি চালিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দিকেও পাল্টা ঢিল ছুড়তে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। তখন কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। এর পরই এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেছেন, যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। যে বিজেপি নেতা বা কর্মী খুনের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে, তিনি নিশ্চয় দেখে ওই দাবি করছেন। তাহলে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক। এই ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তাই না জেনে কিছু বলতে চাইছি না। ঘটনা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও করেছেন তিনি। দুপুরে দিনহাটা শহরে মিছিল করে দিনহাটা সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরে সামনে অবস্থানে বসলেন দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী উদয়ন গুহ। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর এবং দিনহাটা শহরকে অশান্ত করার প্রতিবাদে অবস্থানে বসেছেন তিনি।

মার্চ ২৪, ২০২১
রাজ্য

মঙ্গলকোটে রাজনৈতিক হিংসার বলি এক

ফের রাজনৈতিক হিংসার বলি একজন।পূর্ব বর্ধমান জেলায় খুন হলেন তৃণমূলের এক বুথ সভাপতি। জখম হয়েছেন আরও এক তৃণমূল নেতা। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। মঙ্গলবার দুপুরে মঙ্গলকোট থানার নিগন গ্রামে তৃণমূল নেতা সঞ্জিত ঘোষকে ব্যাপক মারধর করা হয়। তাঁকে প্রথমে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাতে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে তৃণমূলের মোকাবিলা করতে না পেরে এইভাবে হিংসার রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। যদিও বিজেপির দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই রয়েছে এই খুনের পিছনে।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে মোটরবাইকে করে দলীয় কার্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন সঞ্জিতবাবু। সঙ্গে ছিলেন মঙ্গলকোটের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইব্রাহিম শেখ। নিগন গ্রামে তাঁদের বাইক আটকায় বিজেপির লোকজন। তৃণমূলের নিগন অঞ্চল সভাপতি ধ্রুব ভট্টাচার্য বলেন, সোমবার এলাকায় বিজেপির যুব মোর্চা রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ সভা করেছিলেন। সেখানে তিনি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন।তার জেরেই এদিন আমাদের নেতাদের উপর হামলা করা হয়েছে। বিজেপি মানুষ খুনের রাজনীতি শুরু করেছে।যদিও বিজেপির বর্ধমান পূর্ব সাংগঠনিক জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষের দাবি, তৃণমূল দুষ্কৃতীদের দল। নিগন গ্রামে যা ঘটেছে তা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই ঘটেছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।

জানুয়ারি ২৭, ২০২১
রাজ্য

বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত বর্ধমান-আসানসোল

বর্ধমানের ঘোড়দৌড় চটির জেলা বিজেপি কার্যালয়ে পুরনো এবং নতুন কর্মীদের মধ্যে ইটবৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি গাড়িতেও। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সূত্রের খবর, বর্ধমান সদর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীর অপসারণের দাবিতে সরব বিজেপির একটি গোষ্ঠী। তাঁদের অভিযোগ, বর্ধমান সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার উদ্বোধন করা দলীয় কার্যালয়ে অনৈতিক কাজ হচ্ছে। সেই অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিজেপির পুরনো কর্মীরা। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। অভিযোগ, নতুন কর্মীরা ওই দলীয় কার্যালয়ের ছাদ থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা ইট ছুঁড়তে থাকে। ভেঙে যায় পার্টি অফিসের জানলা। দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জিটি রোডে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার উপরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গাড়িগুলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। দমকল এসে অগ্নিকাণ্ড সামাল দেয়।উল্লেখ্য, বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ তারা পুরনো কর্মী। রক্ত দিয়েছেন। মার খেয়েছেন। কিন্তু যাদের সাথে লড়াই করে এসেছেন তাদের দলে নেওয়া হচ্ছে। তাদের কথা শোনা হচ্ছে না। দলে স্বেচ্ছাচারিতা চলছে। তারা বারবার সাংসদ থেকে দলীয় নেতৃত্ব সবাইকে জানিয়েছেন। কোনও ফল হয়নি। তাদের আরও অভিযোগ, আজ দলের অফিস থেকে অফিসিয়াল গ্রুপের লোকেরা তাদের প্রথম আক্রমণ করে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় বিজেপি ততটা সংগঠিত ছিলনা। কিন্তু লোকসভা ভোট থেকে সংগঠন বাড়তে থাকে। লোকসভায় বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে জয়ী হয় দল। কয়েকদিন আগেই স্বয়ং জেপি নাড্ডার রোড শোয়ে মানুষের ঢল নামে। তারপর এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলকে অবাক করেছে।বিজেপি এই ঘটনার দায় চাপিয়েছ তৃণমূল ও পিকের টিমের উপর। দলের জেলা সহসভাপতি প্রবাল রায়ের অভিযোগ, কোনও বিজেপি কর্মী বা সমর্থক এদিনের ঘটনায় জড়িত না। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাই দেখেছে কারা তান্ডব চালিয়েছে। বিজেপির পুরনো ও নতুনদের গন্ডগোল। পুলিশ না থাকলে ঝামেলা বাড়ত।অন্যদিকে, বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তাল হয় আসানসোলও। এদিন, বিজেপি জেলা কার্যালয়ে বারাবনি ও কুলটি মণ্ডলের কর্মীদের বৈঠক ছিল। উপস্থিত ছিলেন অরবিন্দ মেনন ও বাবুল সুপ্রিয়। তাঁদের সামনেই ফামেলায় জড়ান বিজেপি নেতা-কর্মীরা। গেরুয়া শিবিরের একাংশের অভিযোগ, সম্প্রতি বিজেপি জেলা যুব মোর্চার ঘোষিত কমিটিতে বাদ পড়েছেন অনেকেই। যাঁরা বাদ পড়েছেন তাঁরা পুরনো বিজেপি কর্মী। কিন্তু তৃণমূল থেকে আসা কর্মীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। ফলে নব্য-পুরাতন বিজেপি যুব মোর্চার মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত মাইক হাতে নিয়ে বাবুল ও অরবিন্দ মেনন পরিস্থিতি সামাল দেন।শুরু হয় বৈঠক।

জানুয়ারি ২১, ২০২১
রাজ্য

আসানসোলের বারাবনিতে তৃণমূল- বিজেপি সংঘর্ষ , আহত ২

বিজেপির আর নয় অন্যায়কর্মসূচিতে গুলি ও বোমাবাজির জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল আসানসোলের বারাবনি। এই ঘটনায় দুজন পায়ে গুলি লেগে আহত হয়েছেন। আহত বিজেপি কর্মীদের নাম স্বপন বাউড়ি ও সাধন রাউত। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে মিছিল বের করেছিল বিজেপি। বারাবনির জামগ্রাম থেকে কাপিস্টা পর্যন্ত বিজেপির মিছিল যাওয়ার কথা ছিল। তার জন্য সকাল থেকে কর্মী, সমর্থকরা জমায়েত হয়েছিলেন জামাগ্রামে। কিন্তু মিছিল শুরুর আগেই তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেই মিছিলকে লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি চালিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃ্তীরা। বোমাবাজিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। মোটরবাইকও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আরও পড়ুনঃ বর্ধমান শহরে দাদার অনুগামী পোস্টার, চাঞ্চল্য অন্যদিকে, বারাবনি তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, জামগ্রাম এলাকায় দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে শিবির করেছিলেন দলীয় কর্মীরা। ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসিত সিংয়ের দাবি, তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে বিজেপি। তারাই ঝাড়খণ্ড থেকে দুষ্কৃতীদের জড়ো করে বোমা-গুলি চালিয়েছে। আর যেসব গাড়ি পুড়েছে, তা তৃণমূল সমর্থকদেরই। সংঘর্ষের খবর পেয়ে বারাবনি থানার পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিজেপির মিছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস বেশ কিছু তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে মোটরবাইকে আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ, সেই আগুন নিভিয়েছে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২০
রাজনীতি

দুয়ারে সরকার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত বর্ধমান, পথ অবরোধ 

রাজ্যজুড়ে চলছে দুয়ারে সরকার কর্মসূচি। এবার সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শাসকদলের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এই ঘটনায় দুই গোষ্ঠীরই বেশ কয়েকজন জখম হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানের লোকো কলোনীতে। জানা গিয়েছে, বর্ধমানের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসেছে। সেখানেই ক্যাম্পের দখলদারি নিয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক খোকন দাস ও মহম্মদ সেলিমের অনুগামীদের মধ্যে বিবাদ বেধে যায়। ঘটনার প্রতিবাদে পথ অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আরও পড়ুন ঃ যারা বিজেপির ঝান্ডা খুলেছে, তাদের ঘাড় ধরে দলে নিয়ে আসবঃ দিলীপ তৃণমূল নেতা খোকন দাসের অভিযোগ, এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে তার অনুগামীরা শিবু ঘোষকে মারধর করে। শিবু ঘোষ বৌদি ও স্ত্রীকে নিয়ে বিদ্যাপীঠ স্কুলে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল। ওই সময়ে মহম্মদ সেলিম তার দলবল নিয়ে তাকে আক্রমণ করে। মার খাওয়ার এলাকার একটি বাড়িতে শিবু ঘোষ আশ্রয় নেয়। সেখানে ঢুকে মারধর করা হয়। তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন, যদি বিকেলের মধ্যে অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হলে তারা থানা ঘেরাও করবেন। পুলিশ প্রশাসন ঠিকমত কাজ করছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যদিকে প্রাক্তন কাউন্সিলর মহম্মদ সেলিম বলেন, দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে হাজির হয়ে শিবু ঘোষের নেতৃত্বে কয়েকজন দাদাগিরি করছিল। এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন। এই নিয়ে প্রথমে বাদানুবাদ হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের তাড়া করলে ছুটে পালাতে গিয়ে কেউ আহত হতে পারে। কেউ তাদের মারধর করেনি। আর ওখানে কোনও তৃণমূলের পার্টি অফিস নাই।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২০
রাজ্য

দিলীপ ঘোষের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

দিলীপ ঘোষের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত বিজেপি কর্মীর নাম অভীক মণ্ডল। তাকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বুধবার সিউড়ি জেলা স্কুল মাঠে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সভা ছিল। অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মী -সমর্থকদের বাধা দেওয়া হয় নানুরের শিমুলিয়া গ্রামে। চলে বোমা, গুলিও। বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একাধিক বাইক ভাঙচুর করা হয়। সমস্ত অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে তৃণমূল। আরও পড়ুন ঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হিটলার বলে কটাক্ষ সায়ন্তনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তাদের প্রথমে গ্রামে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। শিমুলিয়ায় এদিন পাল্টা তৃণমূল কর্মীদের লাঠিপেটা করেছেন বিজেপি সমর্থকরা বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আরও পুলিশকর্মী এলাকায় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়েই শিমুলিয়া চলে আসে নানুর থানার পুলিশ। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। অন্যদিকে, একইরকম ঘটনা ঘটে সাঁথিয়ার ভ্রমরকল গ্রামে। বিজেপির অভিযোগে, সেখান থেকেও দলের সমর্থকরা দিলীপ ঘোষের সভায় আসছিলেন। ভ্রমরকলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে রাস্তায় তির ধনুক নিয়ে বসে পড়েছেন বিজেপি সমর্থকরা।

নভেম্বর ২৫, ২০২০
রাজ্য

স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে ওঠায় যাত্রী-পুলিশ সংঘর্ষ , আহত ২

সাতসকালে স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল সোনারপুর রেল স্টেশন। রেলযাত্রীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুজন রেলযাত্রী। এরপর রেলযাত্রীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। পাল্টা পুলিশও লাঠিচার্জ করেছে রেলযাত্রীদের উপর। সোনারপুর জিআরপি, রেল সুরক্ষা বাহিনী এবং সোনারপুর থানার পুলিশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ঘটনার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি স্টাফ স্পেশাল লোকাল বাতিল করে রেল কর্তৃপক্ষ। যদিও কিছুক্ষণ পরে স্পেশাল ট্রেন যথারীতি চলতে শুরু করে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ৭ টা নাগাদ শিয়ালদহগামী বারুইপুর লোকালে সোনারপুর স্টেশন থেকে যাত্রীরা উঠতে চাইলে রেল সুরক্ষা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। তাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। মহিলা রেল যাত্রীরা রেললাইনে বসে অবরোধ শুরু করে। পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে রেল সুরক্ষা বাহিনী এবং জিআরপির খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে রেলযাত্রীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ট্রেনের কামরা। এরপরেই রেল পুলিশ এবং রেল সুরক্ষা বাহিনী যৌথ লাঠিচার্জ শুরু করে। আহত হন এক বৃদ্ধ এবং এক যুবক। ঘটনায় বৃদ্ধের মাথা ফেটে যায়। যুবকের হাতে চোট লাগে। তাদের দুজনকেই সুভাষগ্রাম হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২০
রাজনীতি

অনুব্রতর হুমকির পাল্টাতেই কি উত্তপ্ত মল্লারপুর?

বিজেপিকে মেরে হাত, পা ভেঙে দেওয়ার নিদান গত জুলাই মাসের এক দলীয় সভায় দিয়েছিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সম্প্রতি অনুব্রতর ওই উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদে মল্লারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। সেই ঘটনার রেশ ধরেই কি পাল্টা প্রতিরোধে সরগরম বীরভূমের মল্লারপুর? বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি লিপিবদ্ধ করতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন এক পঞ্চায়েত কর্মী। ওই কর্মীকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির বিজেপির দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়ূরেশ্বর ১ নং ব্লকে দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতের শিব গ্রাম মোড়ে৷ এই পঞ্চায়েত এখন তৃণমূলের দখলে এলেও দীর্ঘ ১৫ বছর এটি বিজেপির দখলে ছিল। বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮.৩০ মিনিটে দক্ষিণগ্রাম পঞ্চায়েতে জিআরএস পদে কর্মরত অভিজিৎ গড়াই সরকারি নির্দেশমতো টাওসিয়া গ্রামে বাংলা আবাস যোজনার জিও ট্যাগ করতে যান। ঠিক সেই সময় কয়েকজন যুবক এসে গালিগালাজ করেন, কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। কারণ জানতে চাইলে শুরু হয় বেপরোয়া লাথি, ঘুষি। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে অভিজিৎ বাবু মল্লারপুর থানায় অভিযোগ জানান বিজেপি কর্মী সুশান্ত দে, দীপ কুণ্ডুর নামে। এই অভিযোগের জেরে বিজেপি নেতা তথা মণ্ডল সভাপতি সুশান্ত দে-কে মুক্তির দাবিতে মল্লারপুর থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। মল্লারপুর থেকে সাঁইথিয়া যাওয়ার রাস্তায় বসে বিক্ষোভ চলায় রাস্তা বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে। এদিকে, ধৃত বিজেপি নেতাকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে তাঁকে তিন দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

‘কোনও যোগ্য উপভোক্তা অন্নপূর্ণার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না', জন্মদিনে মোদীর গ্যারান্টিতে উচ্ছ্বাস মহিলাদের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলায় পালিত হল অন্নপূর্ণা দিবস। এই উপলক্ষে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের ১.৫৮ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য মহিলা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।এদিন কলকাতার সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাসের কিস্তির টাকা ১.৫৮ কোটি উপভোক্তার মধ্যে অধিকাংশের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।কোনও যোগ্য মহিলা যেন বঞ্চিত না হন, বার্তা মোদিরঅনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ১২ বছরে রাজ্যের মানুষের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা সময়মতো তাঁদের কাছে পৌঁছত না। আগের তৃণমূল সরকারের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন দরিদ্র পরিবারগুলি। তবে বর্তমানে বিজেপি সরকার আটকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।মোদির কথায়, বাংলার মহিলাদের হাতে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন, তেমনই এগিয়ে যাওয়ার সাহসও থাকা দরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে অন্নপূর্ণা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, কোনও মায়ের কাছে এই ৩ হাজার টাকা সন্তানের পড়াশোনার খরচ হতে পারে। কোনও বোনের কাছে তা ওষুধ কেনা কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কাজে লাগতে পারে। পরিবারের ছোট-বড় নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি মহিলারা সংসারের একাধিক দায়িত্ব সামলান। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চিন্তা কমলে তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মা, বোন ও মেয়েদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের সমস্যার সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের জীবনে নতুন শক্তি যোগ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রকল্পে কোনও মধ্যস্থতাকারী বা কাটমানি নেই বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, একজন যোগ্য মহিলাও যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরন্তর কাজ করছে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির ঘোষণাএদিনের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাংলায় এই প্রকল্পের আওতায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের আওতায় তৈরি হতে চলা সমস্ত নতুন বাড়ির মালিকানা থাকবে মহিলাদের হাতে।মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতে কমিশন গঠনের দাবি মুখ্যমন্ত্রীররাজ্যে মহিলাদের উপর অপরাধ ও অত্যাচারের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত চার মাসে রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।রাজ্যের কোনও মহিলাকে যাতে অত্যাচারের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, নেশামুক্ত বাংলা গড়ে তুলতে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগরাজ্যে বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী মাতৃত্বের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাঁর সরকারের আমলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও মেয়ের বিয়ে হতে দেওয়া হবে না। যাঁরা এই ধরনের বিয়ে দিয়েছেন বা বিয়েতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রদীপের আলোয় তৈরি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি! মোদীর জন্মদিনে বাংলার বুকে এলাহি আয়োজন চমকে দিতে বাধ্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ পুরুলিয়ায়। এক লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হল। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে পুরুলিয়া ইনডোর স্টেডিয়ামে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর এই বিশাল প্রতিকৃতি। ঝাড়খণ্ডের ১১ জন শিল্পী তিন দিন ধরে পরিশ্রম করে বিভিন্ন রঙের এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। প্রদীপ দিয়ে তৈরি এই প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।শিল্পী সুজয় কুমার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের বোকারো, গিরিডি ও হাজারিবাগের ১১ জন শিল্পী এই কাজে অংশ নিয়েছেন। সাধারণত বিভিন্ন উপকরণ কিংবা বর্জ্য সামগ্রী ব্যবহার করে মোজাইক শিল্প তৈরি করা হয়। তবে এবার প্রায় এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পুরুলিয়ায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ বছর পুরুলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। সেবা সংকল্প অভিযান-এর অধীনে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ জ্বালিয়ে এই বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি ঘিরে পুরুলিয়ায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

দায়িত্ব বাড়লেও বদলায়নি শিকড়ের টান! ১৫০ বছরের মনসা মেলায় পুতুলের দোকানে বিকিকিনিতে ব্যস্ত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা

বিধায়ক হয়েছেন, বেড়েছে দায়িত্ব। কিন্তু শৈশবের স্মৃতি আর পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো ঐতিহ্য আজও অমলিন। বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মনসা পুজোর মেলায় পরিবারের সঙ্গে পুতুলের দোকানে বসে সেই কথাই যেন মনে করিয়ে দিলেন বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলাতে দেখা গেল তাঁকে।বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার কাছে এই মেলা শুধুমাত্র পুজো বা উৎসবের জায়গা নয়। তাঁর শৈশবের বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই মেলার সঙ্গে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে দেউচা রঘুনাথপুরের এই মেলায় আসতেন তিনি। মেলায় তাঁর বাবা দোকান বসাতেন। বাবার সঙ্গে সেই দোকানে বসে খদ্দের সামলানো, মেলার ভিড় দেখা সবই ছিল তাঁর ছোটবেলার পরিচিত অভিজ্ঞতা।সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবন। শৈশবের সেই দিনগুলি পেরিয়ে বর্তমানে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। বেড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও। তবে সেই পরিবর্তনের মধ্যেও পুরনো মেলার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন তিনি।এবার মনসা পুজো উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় ফিরে পুতুলের দোকানে বসেন বিধায়ক। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলানোর সময় তাঁকে দেখতে ভিড় জমান মেলায় আসা মানুষজন। কেউ দূর থেকে তাঁকে দেখেন, আবার কেউ এগিয়ে এসে কথা বলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর এই উপস্থিতি নজর কাড়ে স্থানীয়দের।কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য, দায়িত্ব ও পদ একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু শিকড় এবং শৈশবের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। বাবার সঙ্গে কাটানো দিনগুলি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই মেলায় পরিবারের দোকান আর শৈশবের স্মৃতি যেন ফের একসূত্রে বাঁধল বিধায়ককে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর এই সংযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

ব্রিকসের পর হঠাৎ শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক? ভাইরাল দাবিতে তোলপাড়, কী বলল দিল্লি?

ভারতের মাটিতে সদ্য শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা যোগ দেন। শি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকসের দুই অধিবেশনেও অংশ নেন। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে।চিনের গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে বিশেষ বিমানে শিকে চিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিও জানিয়েছে, দাবিটি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।এদিকে চিনের সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভাইরাল দাবির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের প্রথম অধিবেশনে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নেন। দুই অধিবেশনেই তিনি বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।চিনের বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর কর্মসূচি শেষ করে বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ সরকারি নথিতে তাঁর সফর নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।শুধু শি জিনপিং নন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া একাধিক রাষ্ট্রনেতা দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্বাস্থ্য নিয়েও এমন আলোচনা শুরু হয়।এই ধরনের দাবির বিরুদ্ধে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য যাচাই সংক্রান্ত শাখা সামাজিক মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতা নিয়ে ছড়ানো পোস্টকে ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্টে বিশ্বাস না করারও বার্তা দেওয়া হয়েছে।তবে শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ তাঁর স্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্ত্রোপচারের দাবি কোনও সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। একই সঙ্গে চিনের সরকারও এমন কোনও স্বাস্থ্যগত ঘটনার কথা ঘোষণা করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ওই দাবিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে চিনের সরকারি নথি রয়েছে। সম্মেলনের পর তাঁর বেজিং ফেরার বিষয়টিও চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের পর শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে যে দাবি ছড়িয়েছে, তার কোনও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে ছড়ানো অসুস্থতার দাবিকে ভুয়ো বলে সতর্ক করেছে। তাই এই মুহূর্তে শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক বা জরুরি অস্ত্রোপচারের দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

নিজের জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের জন্য মোদীর বড় বার্তা! বললেন, ‘আপনাদের ভরসাই আমার শক্তি’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। বাংলার মা-বোনেরা তাঁকে যে ভাবে ভালবাসা ও ভরসা দিয়েছেন, সেই কথাই নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মহিলাদের ভরসা তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মা-বোনেরা সবসময় তাঁকে ভালবাসা ও স্নেহ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মীয়তার অনুভূতি তাঁকে সবসময় শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলার মহিলাদের ভরসাই তাঁর শক্তি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বাংলার মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কর্মসূচি রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৩ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এ বার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারে মহিলাদের উপর অনেক দায়িত্ব থাকে। পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সামলানোর পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের প্রয়োজনও রয়েছে। হাতে কিছু অর্থ থাকলে জরুরি খরচ নিয়ে তাঁদের চিন্তা কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি কাজ করা এবং কম কথা বলা। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁদের পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প নিয়েও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। কলকাতায় এই প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীরা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম কেনার সহায়তা এবং ঋণের সুবিধা পেতে পারেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাদের প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুযোগ রয়েছে। ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ।ফলে মোদীর জন্মদিনে বাংলায় একদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা, অন্য দিকে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের বর্ষপূর্তিদুই কর্মসূচিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা এবং কারিগরদের জন্য প্রকল্পের সুবিধা ঘিরে এ দিন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের অর্থসাহায্য এবং বিশ্বকর্মা প্রকল্পের কর্মসূচিদুই ক্ষেত্রেই সরকারি ঘোষণাই এখন মূল বিষয়।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

পথ খরচ নিতে গিয়েই ফাঁদে! চার দশক পর কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেতা আকাশ

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর অবশেষে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুর এলাকার কোনও একটি জায়গা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এক পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পথ খরচ নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই ব্যাগে মাওবাদী সংগঠনের বই, পুস্তিকা এবং কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ছাত্রজীবন থেকেই অতি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি পিপলস ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। সারেঙ্গা, গোয়ালতোড়-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কাজ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকাতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।২০০৪ সালে সিপিআই মাওবাদী সংগঠন তৈরি হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে সক্রিয় ভাবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন অসীম। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কিষানজির মৃত্যুর পর মাওবাদী সংগঠনে তাঁর সক্রিয়তা আগের মতো ছিল না বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর জঙ্গলমহল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন আকাশ। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের বাংলায় আসার চেষ্টা করেন তিনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে পুলিশের অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের কয়েক জন সদস্য গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক জন আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়। এরপর বাংলার মাওবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আকাশ দীর্ঘদিন জঙ্গলে থাকার পর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের ব্যথার কারণে প্রায় চার দশক পর তিনি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। জঙ্গলে একটি একে-৪৭ এবং কিছু নথিপত্র রেখে তিনি গাড়িতে করে বাইরে বেরিয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।এর পর আরও কয়েক জন মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ আত্মসমর্পণ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। বরং কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের জঙ্গলমহলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই পরিকল্পনার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, আত্মগোপনের জন্য পরিচিত এবং আত্মীয়দের কয়েক জনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন আকাশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কখনও জায়গা বদল, কখনও ছদ্মবেশসব রকম ভাবে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ ছিল বলেও ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে।আকাশের স্ত্রীও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনিও মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।আকাশের গ্রেপ্তারের পর বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মাওবাদী দমনে যুক্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এক মাওবাদী নেতার গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেগুলি থেকে সংগঠনের বর্তমান বা অতীত কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
কলকাতা

১৩ বছর পর ফের খুলবে মহাকরণের দরজা? মুখ্যমন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষের পথে

পুজোর আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই রাজ্য প্রশাসনের ঠিকানায় বড় বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন আমলার জন্যও ঘর তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর আগেই মহাকরণে প্রশাসনিক কাজকর্মের একটি বড় অংশ শুরু হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।মহাকরণে সংস্কারের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, বৈঠকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘর এবং আরও পাঁচ মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অজয় পোদ্দারের জন্য মহাকরণে ঘর তৈরির কাজ চলছে। মহাকরণের তৃতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শুধু মন্ত্রীদের ঘর নয়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের জন্যও মহাকরণে জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের ঐতিহ্যবাহী এই ভবন থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মহাকরণ সংস্কারের সামগ্রিক দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কী ভাবে সংস্কারের কাজ এগোবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।মহাকরণের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দফতর মহাকরণ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েই সেই সময় প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সরানো হয়েছিল।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাকরণ সংস্কারের কাজ চললেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৩ বছর পরেও সংস্কারের একটি বড় অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই মহাকরণে তাঁর জন্য ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।এখন সেই প্রস্তুতিতেই আরও গতি এসেছে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, পুজোর আগেই কি নবান্নের বদলে মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মন্ত্রী ও আমলাদের ঘর তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে বহু বছর পর ফের মহাকরণে রাজ্য প্রশাসনের ব্যস্ততা দেখা যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal