• ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার ১১ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Bardhaman

নিবন্ধ

দুর্ঘটনায় স্বামীর অকালমৃত্যুর পর হারিয়ে গেল নবমীসন্ধ্যার এই আনন্দবাসর ছেড়

ওং নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু/নমো, অপবিত্র পবিত্রবা/ সর্বাবস্থা গতহপিবা/ যৎস্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং সবাহ্যাঃ অভ্যন্তরশুচি/ ওং নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু নমো বিষ্ণু।হাতের তালুতে গঙ্গাজল নিয়ে মুখে ছিটিয়ে রোজকার মতো অঞ্জলি শুরু হলো আজও। দেহমন শুচি করে নিয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে আত্মনিবেদন... তাঁর করুণা-আনুকূল্য প্রার্থনা... সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলির আনুষ্ঠানিকতা--- সব নিয়েই সমাধা হলো মহানবমীর সকালের পুষ্পাঞ্জলি। হালকা রোদ... ফুরফুরে হাওয়া... নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায় শরৎ আজ মনহারানো খুশী নিয়ে এসে হাজির। আজ মূল পুজো দুপুরে। আমাদের গ্রামের অপেক্ষাকৃত বড় (আকারে ও জনসংখ্যায়) বর্ণহিন্দুপাড়াটি গ্রামের পশ্চিমাংশে। আমরা তাকে ওপাড়া বলে থাকি। সেখানে একটি বারোয়ারীপুজো হয়, গ্রামের অধিষ্ঠাত্রীদেবী মা তারা-র মন্দিরের কাছেই। মহানবমীর দুপুরে ছাগবলী হয় সেখানে। এপাড়া ওপাড়ার পুজোর চার ঢাকী একযোগে দ্রিমিদ্রিমি বোল তোলে সেখানে, সঙ্গে জুটে যায় পুজোর সেরা নতুন পোশাকটি চাপিয়ে গাঁয়ের ছেলে-মেয়ে-বৌ-ঝি-তরুণ-যুবকের দল। মহাপূজার সবচেয়ে জমজমাটি সময় এই গ্রামে নবমীর দুপুরটিই--- অনেক দুমফটাস -ফিসফিস-খিলখিল-রহস্যময়ীহাসির ঝিলিক এর ভাঁজে ভাঁজে!বলি শেষ হতেই বাজনা বাজাতে বাজাতে সবাই হৈ হৈ করে চলে আসে এপাড়ায়। চাতোর-এ ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে আরতি। ভিড়ে ভিড়াক্কার পুজোতলা.. ঢাকঢোলকাঁসরঘণ্টায় কান ঝালাপালা... অনেকক্ষণ ধরে আরতি। চলে যায় ওপাড়ার মানুষরা... শুরু হয় হোম... সুকৌশলে ছোট ছোট কাঠের টুকরো পাঁজা করে সাজিয়ে অগ্নিসংযোগ... একটানা সুরেলা মন্ত্রোচ্চারণসহ ফুল-বেলপাতা-ঘৃতাহুতি... হোম-এর ফোঁটা... শান্তিজল...সকালে অঞ্জলির পর গুছিয়ে নাস্তা হোলো মুড়ি-ঘুগনি-বোঁদে-চা দিয়ে। ঢালা বিছানায় একটু গড়াগড়ি। বর্ধমান থেকে গাড়ি হাঁকিয়ে এসে গেল অনীক-চিত্রা-সুকন্যা-বাদশাদা। খানিক গল্পগুজব করে ঠাকুর প্রণাম সেরে সবাই মিলে রওনা দিলাম পাশের গ্রাম রতনপুর-এর উদ্দেশে।নারায়ণপুর থেকে মাত্র দুকি.মি. দূরে রতনপুর। বেশ বর্ধিষ্ণু এই গ্রামে আছে এক সাধুবাবার আশ্রম। এঅঞ্চলে প্রখ্যাত এই সাধুবাবার উল্লেখ আছে ভারতের সাধক-এও । বছরে ছমাস তিনি থাকতেন রতনপুরে , বাকি ছমাস বোলপুরের শ্রীনিকেতনে ওনার আরেক আশ্রমে। লোকে বলতো দুশো-র বেশী বয়স ওনার। খুব ছোটবেলায় একবার এসেছিলাম এখানে । বিশাল বটগাছের ছায়ায় এক খুব বুড়োমানুষের মুখ মনে পড়ে আবছা ।মূল সড়ক থেকে গাঁয়ের পথে কি.মি.খানেক ঢুকে নিরালা এক প্রাচীরঘেরা আশ্রম। সুবিশাল এক বটবৃক্ষ পিতামহ ভীষ্মের মতো তার অসংখ্য ডাল ও ঝুরি মেলে ছায়ায় ঢেকে রেখেছে সম্পূর্ণ এলাকা। বটমূলে বাঁধানো বেদী, পাশেই ছোট্ট দোচালা ঘরে সাধুবাবার প্রতিকৃতি সাজানো; একমনে পুজো করছেন এক শ্বেতবস্ত্রধারী ভক্ত। গুটিকয় বাচ্চা সঙ্গ দিল আমাদের... ঘুরে ঘুরে ছবি তুললাম সেই মহাবটচ্ছায়ে... দাঁড়ালাম গিয়ে পিছনের নিরালা পুকুরের বাঁধানো ঘাটে... দেখে এলাম আরো পিছনে বাঁধানো চত্বরের প্রান্তে সাধুবাবার সুন্দর মূর্তি... কথা বললাম আশ্রমের দায়িত্বে থাকা সত্তরোর্ধ্ব মানুষটির সঙ্গে।আষাঢ়-এর গুরুপূর্ণিমায় অনুষ্ঠান হয় আশ্রমে, আর চৈত্রমাসে তিনদিনের হরিসংকীর্তনে পাত পড়ে হাজার হাজার মানুষের। কোনো ভক্ত বা স্থায়ী আশ্রমিকের বাস নেই এখানে; সাধুবাবাও দেহ রেখেছেন সেই ৮৫ সালে, তবু সেই হাস্যমুখ যোগীপুরুষের অদৃশ্য উপস্থিতি আজও যেন রয়ে গেছে এই ছায়াসুনিবিড়শান্তিরনীড়-এর প্রতিটি ডালে ডালে পাতায় পাতায়!ফিরে এলাম নারায়ণপুর। ওরা বিদায় নিল মধ্যাহ্নভোজ-এর সনির্বন্ধ অনুরোধে কান না দিয়ে। ততক্ষণে জ্যেঠতুতো দাদা-র সম্বন্ধী জয় এসে গেছে বর্ধমান থেকে দুই বন্ধু বন্ধন আর অভিজিতকে নিয়ে। সবাই একসঙ্গে বসে গল্পগুজব-গানবাজনা করতে করতেই ওপাড়া থেকে জগঝম্প সহযোগে পুজোর ভিড় এসে হাজির। হৈ হৈ করে শুরু হয়ে গেল আরতি, আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ ভেঙে নামলো বৃষ্টি।সেই বৃষ্টিতে ঠাকুরঘর-মণ্ডপের ছাউনি-ছাতার তলায় ঠাসাঠাসি করে আমরা সবাই--- পাকাচুল প্রৌঢ়.. নুয়ে পড়া বৃদ্ধা.. টেরিবাগানো নবযুবক.. সালঙ্কারা নবোঢ়া তরুণী.. ফিটফাট গাঁয়ের জামাই.. সিকনি-গড়ানো বাচ্চা। একসময় বাদলধারা হলো সারা; হোম-শান্তিজল-ফোঁটা শেষ করে ফিরে এসে বিছানায় বডি ফেললাম তিনটে নাগাদ।আমাদের ছোটবেলায় নবমীর বিকেলে পাড়ায় নারকেল-কাড়াকাড়ি খেলা হতো। অনেকটা রাগবী খেলার স্টাইলে, একটা ঝুনো নারকেল নিয়ে পনেরো-বিশজন যুবকের টানাটানি, কে সেটা কুক্ষিগত করতে পারে। ঢাকঢোলকাঁসরের আবহসঙ্গীতে দারুন জমতো সেই নির্দোষ বলপ্রয়োগের খেলা। বহুদিন হলো উঠে গেছে সেই রীতি।তবে এখনও আছে নবমীর সন্ধ্যায় আরতি-র পর চাতোর-এ সিঁদুরখেলা। শুরু হয় সামাজিক প্রথা অনুযায়ী সধবাদের একে অন্যকে সিঁদুর পরানো দিয়ে, আর শেষ হয় হোলি-র মতো মুখে-গালে জবরদস্তি সিঁদুর মাখিয়ে দেওয়ার দুষ্টুমি দিয়ে। বেশ মজা লাগে দেখে; কিন্তু বছরকয়েক আগে এখানকার সিঁদুরখেলায় সবচেয়ে প্রাণোচ্ছল এক বৌদি, দুর্ঘটনায় স্বামীর অকালমৃত্যুর পর হারিয়ে গেল নবমীসন্ধ্যার এই আনন্দবাসর ছেড় --- তারপর থেকেই সিঁদুরখেলার আনন্দ-উচ্ছ্বাস-উচ্ছলতার আড়ালে বেশ কিছু দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাই যেন!ডঃ সুজন সরকারবর্ধমান।

অক্টোবর ০৫, ২০২২
রাজ্য

২৬৩ বছরের পুরানো কালনার ভবানন্দপুরে বিচারক হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায়'র "মুখার্জী বাড়ি"র পুজো

কালনা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রাম ভবনন্দাপুর। সেই সময়ে শহর থেকে দূরে এই প্রত্যন্ত গ্রামে দুর্গা পুজো করা দূর অস্ত, ভাবনাটাই ছিলো কঠিন। বর্তমানে মুখোপাধ্যায় পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায় জানালেন, সতেরশো খীষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কালনা মহুকুমার অন্তর্গত ভবানন্দপুর গ্রামে জমিদারী লাভ করেন। এই অঞ্চলে দুর্গা পুজোর অধিক্য সেভাবে না থাকায় তিনি দুর্গা পুজোর উদ্যোগ নেন। বহুকাল অবধি এই মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজো-ই গ্রামের একমাত্র পুজো ছিলো। গ্রামবাসীরা চারদিন ধরে এই মন্ডপেই আনন্দ করতেন।শারদ সন্মান নিয়ে ক্ষুদে সদস্যদের উল্লাসভবানন্দপুরে গ্রামে এই দুর্গা পুজোর প্রবর্তক ছিলেন হরিনারায়ন মুখোপাধ্যায়। তারই উদ্যোগে এই পুজোর সূত্রপাত। পরিবারের সুত্রে জানা যায়, হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায় ১৭৫৯ এ (ইংরাজী) এই পুজো শুরু করেন। সাবেকি ঘরানার প্রতিমা, প্রথা মেনে মহালয়ার ভোরে দেবীর চক্ষূদান করা হয়। দেবীর গায়ে মাটি দেওয়া হয় জন্মাষ্টমীর পরেরদিন। মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য অশোক মুখোপাধ্যায় জনতার কথা কে জানান, অতীতে এই পুজোতে ছাগল বলিদান দেওয়া হত। উত্তরসুরীদের কাছে শোনা কথা, কোনও এক সাধক একবার এই পুজোতে আসেন, তাঁর আদেশেই ছাগল বলি দেওয়া বন্ধ হয়। বর্তমানে এই পুজোতে ছাঁচি কুমড়ো, কলা ও আখ বলি দেওয়া হয়। নবমীর দিন কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়।মুখার্জী বাড়ির কুমারী পুজোঅশোক মুখোপাধ্যায় আরও জানান, গ্রামের সকলে এসে মায়ের ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন। আনুমানিক ১৫০০ থেকে ১৬০০ মানুষ মায়ের ভোগ প্রসাদ এখানে বসে খেয়ে যান। গ্রামের মানুষজনই সোৎসাহে এই ভোগ প্রসাদ বিতরণ করেন। জনতার কথার প্রতিনিধীর, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধিতে পুজোর আচার বা মানুষজন কে নিমন্ত্রনে কোনও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিনা প্রশ্নের উত্তরে অশোক মুখোপাধ্যায় জানান, দ্রব্য মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেভাবে আমারা কোনও কিছু ত্রুটি রাখিনি, কিভাবে মায়ের পুজোর যোগার হয়ে যাচ্ছে সেটা আমরাও বুঝতে পারিনা, পরিবারের প্রত্যকেই তাঁর অর্থনৈতিক ক্ষমতা মত এগিয়ে আসেন তাই এই পুজো করতে আমাদের সেভাবে এখনও কোনও অসুবিধার মধ্যে প্ররতে হয়নি।পরিবারের আরও এক সদস্য তাপস মুখোপাধ্যায় জানান ১৭৭৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট কোলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামে চালু হয়। হরিনারায়ণ মুখোপাধ্যায় সেই সময়ে সেই কোর্টে কলকাতায় বিচারক ছিলেন তাঁরই উদ্যোগে এই পুজোর শুরু। তাঁর কথায় এই পুজোর খরচ মায়-ই যোগার করে নেন। তিনি আরও বলেন পরিবারের সকলে এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে এই পাঁচদিন আমরা মাতোয়ারা থাকি। তাঁর বিশ্বাস খুবই জাগ্রত এই পুজো।পরিবারের কনিষ্ট সদস্য কুনাল মুখোপাধ্যায় জানান, বংশ পরম্পরায় একটা লিগাসি আমরা ক্যারী করে চলেছি খুব আনন্দ সহকারে, আমরা কোনও সময়েই মনে করিনা আমরা খাওয়াচ্ছি। এই যে গ্রামবাসীদের ভোগ বিতরণ, এটা মা দুর্গা নিজেই করিয়ে নেন, এতে আমাদের কোনও ভুমিকা নেই। তিনি ও পরিবারের বাকি সদস্যরা প্যানোরামা ও জনতার কথার শারদ সন্মান সেরা বনেদী বাড়ির পুজো পুরস্কার পেয়ে খুবই আনন্দিত বলে জানান। পুরস্কার পাওয়ার মোমেন্টো নিয়ে পরিবারের সদস্যদের ঢাক বাজিয়ে নৃত্য করতেও দেখা যায়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
রাজ্য

দেবীর নয়টি রূপের নব-কুমারী পুজো বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে

কোভিড বিধি শিথিল হতেই সেই পুরনো ছন্দে ফিরেছে উৎসব।ছন্দে ফিরেছে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির। প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই নবমীর দিনে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। যদিও অন্যান্য জায়গায় অষ্টমীতে কুমারী পুজো হলেও এখানে নবমী তিথিতেই নজন কুমারীকে দেবী দুর্গার নটি রূপে পুজো করা হয়ে থাকে। দেবীর নটা রূপের বিভিন্ন কুমারীরা হলেন, কালিকাঃ প্রত্যুষা ভট্টাচার্য, সাগ্নিকা মিশ্রঃ মালিনী, প্রত্যাশা চক্রবর্তীঃ সুভগা,কব্জিকাঃ রীতবৃতি ব্যানার্জী,কালসন্দর্ভাঃ মেঘা রায়,বর্ণিতা মুখার্জিঃ মালিনী,কালসন্দর্ভাঃ ঐশী মুখার্জি, পৌষালী চক্রবর্তীঃ মালিনী আর উমাঃ সুর্বণা ব্যানার্জী। নবকুমারী পুজোর জন্য অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন মন্দিরে বেশ ভিড় দেখা যায় মন্দিরে।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,বর্ধমানের রাজপরিবারের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দির বর্ধমানের ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির অন্যতম। বাহির সর্বমঙ্গলা অঞ্চলে বাস করা চুনুরীদের কাছ থেকে পাওয়া কষ্ঠি পাথরের অষ্টাদশী ভূজা দেবী মূর্তি বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ১৭৪০ সালে রাজা কীর্তি চাঁদ অষ্টাদশী দেবী মূর্তিকে প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে মহতাব চাঁদ এই মন্দির তৈরী করেন। রাজা নেই তো কি হয়েছে, রাজার নিয়ম নীতি সবই এখনও বর্তমান। পুজোর দিনগুলোয় ঐতিহ্য মেনে অক্ষরে অক্ষরে মানা হয় সেই রাজ পারিবারের রীতিনীতি। নিয়ম নিষ্ঠায় কোনও নড়চড় হয় না। বর্ধমান শহর ছাড়িয়ে জেলা ও ভিন জেলার বহু ভক্ত এদিন নবকুমারী পুজোয় উপস্থিত হন।জমিদারি প্রথা বন্ধ হলে, ১৯৫৯ সালে তৎকালীন মহারাজ উদয় সিংহ একটি ট্রাস্টি বোর্ড তৈরি করেন এবং তাদের হাতেই মন্দিরের দায়িত্ব তুলে দেন তিনি। এরপর থেকে আজও এই পুজো এবং মন্দিরের দায়িত্ব নিয়ম মেনে পালন করে চলেছে এই ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।অন্যান্য অনেক জায়গায় অষ্টমী তিথিতে কুমারী পুজো আয়োজন করা হলেও যেহেতু এখানে নবরাত্রি পুজো হয়। তাই নবমী তিথিতে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কুমারী পুজো হয়ে আসছে।ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, একেবারে নিয়ম মেনেই এখানে নব কুমারী পুজো হয়। কোভিডের জন্য গত বছর শুধুমাত্র একজন কুমারীকে পুজো করা হয়। কিন্তু এবার ৯ জন কুমারীকেই পুজো করা হচ্ছে। এদিন পুজো শেষে মালসায় করে ভোগ বিতরণ করা হয়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের তালিতে ভট্টাচার্য্য পরিবারের ৩৫০ বছরের দুর্গা পুজো মহাসমারোহে পালিত

পূর্ব বর্ধমান জেলার তালিত গ্রামের ভট্টাচার্য্যদের জমিদার বাড়ির দুর্গা এর পুজো পালিত হচ্ছে ধুমধাম সহকারে। প্রত্যেক বছরের মত এবছরও এই পুজো ঘিরে পরিবারের সদস্যদের উন্মাদনা চোখে পড়ার মত। পরিবার সুত্রে জানা যায় প্রতিমার কাঠামো প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো। পরিবারের সদস্যদের কথায়, রথযাত্রার দিন গঙ্গা মাটি দিয়ে এক চালার প্রতিমা গড়া শুরু হয়। তাঁরা আরও জানান তালিতের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো দেখতে এসেছিলেন সাধক কমলাকান্ত এবং মা সারদা দেবী। মন্দিরের পুরোহিত জানান এ বাড়ির রীতি, পুরোহিত পুজো করতে বসলে শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসন থেকে আর উঠতে পারবেন না। দেবীর উদ্দেশে বলিদান দেওয়া হয় ছাঁচিকুমড়ো ও আখ। অতীতে পুজোর বিভিন্ন রীতি পালনে বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগা অনুসরনে করা হত। ১৯৯৫ সালের মহস্টমীর দিন মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগা বন্ধ হয়ে যায়।তালিতের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় এখনো এতটুও ভাটা পড়েনি। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য সৌরভ ভট্টাচার্য্য জনতার কথা কে জানান, সারা বছর দেশে বিদেশে পরিবারের সদস্যরা থাকলেও এই চারটে দিন তাঁরা একত্রিত হয়ে মহানন্দে কাটিয়ে দেন। গত দুবছর করোনার কারণে পুজোয় জমায়েত একটু কম হলেও জৌলুস কমেনি এতটুকু। বছরের পর বছর পুরোনো রীতি মেনেই পালিত হয়ে আসছে আমাদের তালিতের জমিদার বাড়ির (ভট্টাচার্য পরিবারের) দুর্গাপুজো। ২০২২এর প্যানোরামা শারদ সন্মান সেরা বনেদী বাড়ির পুজো তে তাঁদের সন্মানিত করা হয়।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
নিবন্ধ

সেই ঘচাংফু দেখতে আগে কচিকাঁচাদের ভিড়ে জুটে যেতাম আমিও

ঘুম ভেঙেছে অনেকক্ষণ, তাও এপাশ ওপাশ করতে করতে শেষতক যখন বিছানা ছাড়লাম, ঘড়ির কাঁটা সাতটা ছাড়িয়েছে। আদা-চা খেয়ে সংক্ষিপ্ত স্নান... নতুন পাঞ্জাবী... মেয়েকে টেনে তুলে স্নান করানো... তারপর সোজা মণ্ডপে।বুড়োদা-নুপুরদার যুগলবন্দীতে মহাষ্টমীর সকালের পুজো তখন মাঝপথে। বুড়োদা-র বাবা স্বর্গত ব্রজরাখাল মুখোপাধ্যায় আমাদের কুলপুরোহিত ছিলেন। দীর্ঘকায় কৃশ মানুষটিকে দাদামশাই বলতাম আমরা। পরিণত বয়সেও ঈষৎ ঝুঁকে দাঁড়িয়ে একহাতে ঘণ্টা নেড়ে তাঁর আরতি করা মনে পরে আজও।বাবার পর পুজোর দায়িত্ব নিল বুড়োদা, বংশীধর মুখোপাধ্যায়-- সেও হয়ে গেল তিন দশকের ওপর। স্বল্পভাষী প্রচারবিমুখ নির্লোভ মানুষটিকে বড় ভাল লাগে আমার; কী নিষ্ঠাভরে একমনে কোনো হাঁকডাক ছাড়াই পুজো করে যান, এই মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে-মার্কা আধুনিক দুনিয়ার সামনে তা একটা দৃষ্টান্ত হতে পারে!তন্ত্রীধারক পুরোহিত, অর্থাৎ যিনি পুঁথি দেখে মন্ত্রপাঠ করেন--- সেই ভূমিকায় দূরশৈশবে দেখতাম স্বর্গত প্রভাকর ভট্টাচার্য ওরফে হদেভটচাজ -কে। আবছা আবছা মনে পড়া সেই বৃদ্ধ মানুষটি আত্মহত্যা করার পর বহুবছর দায়িত্বে ছিলেন স্বঃ অজিত ভট্টাচার্য। তাঁর অবর্তমানে নুপুরদা, সে হবে বছরকুড়ি।চাতোর-এ বসে মন্ত্রোচ্চারণ শুনছি --অং মম হৃদয়ে, তং মম বাহুমূলে, নং মম জিহবায়, সং মম নাসিকায়...ইত্যাদি। মাথার ওপর অশ্বত্থগাছের পাতায় হাওয়া বইছে ঝিরঝিরিয়ে... পুবের আকাশে ঘনাচ্ছে ধূসর-কালো মেঘ... রোদ ওঠেনি এখনো... একসার প্যাঁকপেঁকে হাঁস পচাকাকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে হেলেদুলে চলে গেল পাশের পুকুরের দিকে...কাছে বসা বিনুদা-র সাথে টুকটাক গল্প জুড়ে দিলাম। বিনুদা প্রতিবেশী, বছর আষ্টেক বড় আমার চেয়ে। সেলস-এর কাজে ছিল বর্ধমান-এর এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। সুদীর্ঘ কর্মজীবন ছেড়ে ইদানীং বসে গেছে গাঁয়ে। ছেলে সম্প্রতি দুর্গাপুরে কাজ পেয়ে চলে গেছে... মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে সে-ও বছরসাতেক হোলো... গ্রামে সময় কাটে না... লোকজন নেই... কথা বলার তেমন কেউ নেই...ঘরে বসেই টুকটাক কাজ করো না কেন বিনুদা?দূর দূর! ধারবাকিতেই খেয়ে নেবে সব।ঢাক বেজে উঠলো ঝমঝমিয়ে, সঙ্গে কাঁসরঘন্টা। সকালের আরতি শুরু। আশপাশের মেয়ে-বৌরা জুটতে লাগলো পুজোতলায় । বাটি হাতে রঙিন পুঁচকে... সদ্যতরুণী মায়ের কোলে ছটফটে বাচ্চা... স্খলিত পায়ে আমার বাবা-মায়ের মতো জনাকয় বয়স্ক মানুষ...উঠে দাঁড়ালাম গিয়ে ঢাকীর ঠিক পিছনে, এখান থেকে প্রদীপের আলোয় চকচকে মায়ের মুখ ভালো দেখা যায়।আরতি শেষ হতেই সকালের পুষ্পাঞ্জলি। পুজোর ঘরে ঢুকে পড়ে রূপা-তিস্তা-আমি বসে পড়লাম দেওয়াল ঘেঁষে। ঠাসাঠাসি ভীড়। হাতে হাতে গঙ্গাজল.. ফুল.. বেলপাতা। মন্ত্র বেশীরভাগই মুখস্থ হয়ে গেছে এত বছরে, বাকিটা কান খাড়া করে শুনে যা মনে আসে বলে দিলাম। মা নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন!এক ব্যাচে সব কুলোলো না, আরেক ব্যাচ ঢুকলো ঘরে। পুরোহিত ঠাকুরকে প্রণাম করে বেরিয়ে এসে সিদ্ধান্ত হোলো: রূপা ডায়াবেটিক, তাই উপবাস আর দীর্ঘায়িত করবে না; মহাভক্ত তিস্তা আর আমি মহাষ্টমীর উপবাস টেনে দেব বিকেলে সন্ধিপুজা অবধি। আর সদা-উপবাসী আমার মা তো আছেই !সন্ধিক্ষণ আজ বিকেল সাড়ে তিনটেয়। আমাদের পুজো বৈষ্ণবমতে, তাই বলি নেই। তবে পাড়ার একপ্রান্তে সিংহবাড়ির পুজোয় (ওঁরা প্রতিমা ছাড়াই, শুধু মণ্ডপে মঙ্গলঘট স্থাপন করে পুজো করেন) চালকুমড়ো বলি হয়। সেই ঘচাংফু দেখতে আগে কচিকাঁচাদের ভিড়ে জুটে যেতাম আমিও।যুগ যুগ ধরে বর্ধমান শহরের প্রসিদ্ধ সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের সামনের চক-এ রাখা কামান দাগা হোতো সন্ধিক্ষণে। সেই কামান-নির্ঘোষ শুনে আশপাশের সমস্ত গ্রামগঞ্জে সন্ধিপুজোর সূচনা হোতো। গত শতাব্দীর শেষের দিকে একবার কামান দাগার সময় দুর্ঘটনা ঘটে-- কামানটি ফেটে গিয়ে দুজন প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে ধর্মীয় কারণে কামান দাগার রেওয়াজ--- বর্ধমানে তো বটেই, পরবর্তীকালে বাংলার অন্যত্রও। এখন ঘড়ির কাঁটাই নির্দেশ দেয় -- কোন মুহূর্তে কোথাও সন্ধিপুজোর আরতিতে ঢাকে কাঠি পড়বে, বা ঝলসে উঠবে বলির খড়গ অন্য কোথাও!দুপুরবেলা পুণ্যকামী চিত্তে উপোসী পাকস্থলী থেকে মনকে সরানোর প্রয়াস পাচ্ছি, এমন সময় আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো। সেই শুরু; অঝোরধারায় বর্ষণ চললো দুপুর গড়িয়ে বিকেল। আকাশের মুখ ঢাকা, ধোঁয়ামাখা চারিধার...দুলছে বাঁশবন, কলার ঝাড়...পাশের বাড়ির টিনের চালে অবিরাম ঝমাঝম... উঠোন জুড়ে জলের ধারা... ছাদ থেকে দৃশ্যমান দূরে হারানো সবুজ খেতের সর্বাঙ্গে বৃষ্টির ধূসর চাদর ...ডানপিটে বৃষ্টির মধ্যে শেষ পর্যন্ত ছাতা নিয়েই ঠাকুরতলায়। পুজোপাঠের পর শুরু হলো আরতি। এই দুর্যোগেও এসেছেন অনেকেই --- ঠাকুরঘরের বারান্দায়-ছাউনিতে-ছাতামাথায় গাছতলাতেও! জোড়া ঢাক- জোড়া কাঁসর -পেটাই ঘণ্টার সমবেত গুরুনাদে চাপা পড়ে গেছে বর্ষণগীত। ধুপধুনোর মৃদু ধূম্রজালের মধ্যে দিয়ে প্রদীপের আলো ঝিকমিক করছে মায়ের মুকুটে.. কানপাশায়.. ডাকের সাজে।বহুক্ষণ চললো আরতি। বৃষ্টি ধরে এলো ক্রমে; কমে আসছে দিনের আলোও। ততক্ষণে চোখ বুজে জোড়হাতে চেয়ে ফেলেছি সবার জন্য অনেক কিছু। রুপোর চামর দুলিয়ে আরতি শেষ করলো বুড়োদা। আমরাও জলকাদা-মাখা পা চাতোর-এর টিউবওয়েলে ধুয়ে এসে বসে পড়লাম পুষ্পাঞ্জলি দিতে। অঞ্জলির শেষে নতুন করে চাওয়ার মতো কিছু আর মনে এলো না। শুধু মনে মনে বললাম বারবার-- মা, আমাদের সবাইকে দেখো, ভালো রেখো , রক্ষা কোরো।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

অক্টোবর ০৪, ২০২২
রাজ্য

রাঢ়ভূমি নারায়ণপুরের সরকার বাড়ির দু'শো বছরের পুরনো পুজো, দ্বিভুজা মা দুর্গার কার্তিক গণেশহীন মর্ত্যে আগমন

পুজো শুরু কাল। নারায়ণপুরে দেশের বাড়িতে দুশো বছরের বেশী পুরোনো পুজো আমাদের। এই পঞ্চান্ন বছরের জীবনে একবার ছাড়া কখনও গ্রামের বাইরে পুজো কাটাই নি। এটা আনন্দের চেয়েও বেশী একটা অভ্যাস... পরম্পরা... ঐতিহ্যরক্ষার দায়িত্ববোধ ।পেশাগত সব দায়িত্ব তাই গুটিয়ে ফেলেছি শুক্রবার রাতের মধ্যেই। আজ সকাল থেকেই বেরোনোর তোড়জোড়। মেয়ে কলকাতার বাসা থেকে বর্ধমান এসে পড়লো দুপুরেই। রূপা ওকে নিয়ে গাড়িতে লটবহর তুলে গ্রামের বাড়ি যাবে কাল সকালে। আমার যাওয়া আজই।সবদিক সামলে সুমলে স্কুটারের সামনে সুটকেস ঠেসে নিয়ে রওনা দিলাম, ঘড়িতে তখন বিকেল তিনটে পঁচিশ। বাড়ি থেকে আধ কি.মি. দূরেই জাতীয় সড়ক; আজ বিকেলে কেন কে জানে গাড়ির চাপ একটু কম। তবু গাঁক গাঁক করে ছুটে আসা ট্রাক-ডাম্পার-দূরপাল্লার বাস-পেরাইভেটদের থেকে সদাসন্ত্রস্ত আমি এগোলাম কোনোমতে। জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে; যেখানে সেখানে রাস্তার ধারে একমানুষ সমান খোঁড়াখুঁড়ি... কংক্রিটের বাফার... ক্রেন... পে লোডার। কোনোমতে গুড়গুড় করে বিশ মিনিটে সাড়ে সাত কি.মি. পাড়ি দিয়ে নবাবহাট মোড়--- দু নং জাতীয় সড়ক ছেড়ে উত্তরমুখী সিউড়ি রোডে ঢুকে পড়া গেল; যেন প্রাণ আসলো ধড়ে!মসৃণ পীচঢালা রাস্তা... গাড়ি কম... দুপাশ শ্যামলে শ্যামল, আকাশ নীলিমায় নীল। একশো আট শিবমন্দির-এ ভ্রমণার্থীদের ভিড়। তালিত রেলগেট হাট করে খোলা, অন্তহীন অপেক্ষা থেকে রেহাই পেলাম তাই। বাড়ি থেকে উনিশ কি.মি. আসার পর হলদী-র কাছে খড়ি নদীর সেতু পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম ডানদিকে।বিস্ময়ের ওপর বিস্ময়! এই সদা-আহত রুগ্ন গ্রামীণ পথও এখন বেশ ঝাঁ চকচকে। পুরুষ্টু ধানের শীষে দোল খেয়ে যাচ্ছে বাতাস... তারে দোল খাচ্ছে ফিঙে- বাঁশপাতি-মাছরাঙা... মাঝেমাঝেই ঘুঘুদম্পতিদের উড়ে যাওয়া পথের এপাশ থেকে ওপাশে। এদিকের গ্রামগুলি বেশ সাফসুতরো; কিছু বাড়িতে রঙের পোঁচ পরেছে নতুন, কিছু বাড়ি মলিন ও পারিপাট্যহীণ... সম্ভবত বাসিন্দারা ভাগ্যান্বেষণে চলে গেছেন অন্যত্র। থৈ থৈ করছে পুকুরগুলি... ধারে বকবাবাজীদের একঠেঙে প্রার্থনা... কোথাও খোঁটায় বসে ডানা শুকাচ্ছে পানকৌড়ি...প্রকৃতিতে বেশ একটা শান্ত তৃপ্ত ভাব যেন আজ! শষ্যক্ষেত্রের সোনার গানে সমান তানে যেন যোগ দিয়েছে সবাই, সুর ভাসিয়ে দিয়েছে ভরন্ত পুকুরের অমল জলরাশিতে, প্রকৃতি যেন নিমগ্ন আজ মহাষষ্ঠীর পরম প্রেয় লগ্নের প্রত্যাশায়।মাহিনগর-মোহনপুর-হরিবাটি-কামারপাড়া-ধান্দলসা-বিঘড়ে পেরিয়ে এসে গেল নারায়ণপুর --- বাড়ি থেকে উনত্রিশ কি.মি. পথ পেরিয়ে, ঠিক সত্তর মিনিটের মাথায়। স্কুলমোড় দিয়ে ঢুকে গাঁয়ের মধ্যে কংক্রিট-বাঁধানো এক কি.মি. আঁকাবাঁকা পথ ধরে অবশেষে পৌঁছে গেলাম আমাদের সাবেক ভদ্রাসনে।জ্যেঠতুতো দাদারা ও ছোটকাকা এসে পড়েছে ইতিমধ্যেই। বাবা-মাকে তো পাঠিয়ে দিয়েছিলাম চতুর্থী-র দিনই। সবার সাথে দেখাশোনা কুশলবিনিময় হতে হতেই দিনের আলো নিভে এলো , বেজে উঠলো ঢাকের বাদ্যি।সকাল-সন্ধ্যায় ঠাকুরতলায় ঢাক-ঢোল-কাঁসি-র এই একপ্রস্থ বৃন্দবাদনকে এখানে বলা হয় ধেমুল। কোন শব্দের অপভ্রংশ এটা জানিনা, তবে শুনেছি ভোরবেলা এই বাজনা দিয়ে ঠাকুরের ঘুম ভাঙানো হয়, আর সাঁঝের ঝোঁকে এর উদ্দেশ্য দেবতার বন্দনা। ছোটোবেলায় এই ধেমুল-এর সাথে সন্ধ্যের মুখে প্রবল নাচানাচি করতাম একপাল সমবয়সী ছেলেপিলে মিলে; আর আজ বাজনদারেরা ঢাকের বোল তুললো প্রায় ফাঁকা মণ্ডপে।গ্রাম এখন বলতে গেলে শুনশান, বিশেষত আমাদের পাড়ায় স্থায়ী বাসিন্দা এখন বিরল। প্রায় পঁচিশটি পরিবারের মধ্যে অর্ধেক বাড়িতে কেউই থাকেন না, শহরবাসী হয়েছেন সবাই। বাকি বাড়িগুলিতে প্রৌঢ় দম্পতি বাপ-পিতেমো-র ভিটে আগলাচ্ছেন কোনোমতে, ছেলেমেয়েরা কর্মসূত্রে পাকাপাকিভাবে বাইরে। রাঢ়ভূমির গ্রামের পর গ্রামে এটাই এখন সাধারণ চিত্র। ভাবতে ভয় হয়, এই প্রজন্মের পর বাংলার গ্রামগুলি কি একেবারেই উজাড় হয়ে যাবে--- ছিয়াত্তরের মণ্বন্তর, বর্গীর আক্রমণ, বা ম্যালেরিয়া-ওলাউঠোয় ছাড়খার হয়ে যাওয়া বাংলার মতো?আমাদের এই পুজো ব্যতিক্রমী , কারণ মা এখানে পূজিতা হন মহিষাসুরমর্দিনী নয়, হরগৌরী-রূপে। মায়ের দুইটি হাত, বসে আছেন মহেশ্বরের পাশে, দুপাশে সরস্বতী ও লক্ষ্মীকে নিয়ে। সিংহ-অসুর-কার্তিক-গনেশ কেউ নেই, আছেন বরং নন্দী ও ভৃঙ্গী। নিপাট ঘরোয়া রূপে এই মাতৃপূজা চলছে কত কাল, সঠিক জানা নেই কারো। তবে লিখিত নথি আছে অন্ততঃ দুশো বছর আগে পর্যন্ত।ঠাকুরতলায় ছায়া দিচ্ছে যে বিশাল অশ্বত্থগাছটি, আমার সাতাশি বছর বয়সী বাবাও আজন্ম তাকে দেখে আসছেন ঠিক এমনটিই! একসময় বিকেলে তার ডালে ডালে অগুনতি টিয়াপাখির কলরবে মানুষের কথা শোনা যেত না, আজ সেখানে সম্পূর্ণ নীরবতা। সব টিয়া নাকি ধরে নিয়ে গেছে পাখিচোরেরা; আবার কারো কারো বক্তব্য গাছের কোটরে সাপ থাকে, তারাই নাকি পাখির ডিম খেয়ে খেয়ে বংশলোপ করে দিয়েছে!সন্ধ্যায় দেবীর বোধন। কুলপুরোহিত বুড়োদা ও নুপুরদা স্বল্পালোকিত মন্ডপে বসে নিষ্ঠাভরে ক্রিয়াকর্ম সারলেন। শুরু হয়ে গেল মাতৃবন্দনা। কাল সকাল সাতটায় নবপত্রিকা স্নান করাতে যাওয়া হবে পালকি চড়িয়ে।ডঃ সুজন সরকার,বর্ধমান।

অক্টোবর ০২, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার মদতে মারধর করে খুনের অভিযোগ মৃতার পরিবারের

পারিবারিক বিবাদের জেরে স্ত্রী ও শ্বাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ পূর্ব বর্ধমানের আলুডাঙ্গা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী শেখ ফিরোজের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শ্বাশুড়ি আজো রাউতের মৃত্যু ঘটেছে। তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মারধর করেই তাকে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শিবশঙ্কর ঘোষের হাত আছে বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি করেন। যদিও শিবুবাবু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই ঘটনা ঘটেছে বর্ধমানের লোকো এলাকায়।পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ গতকাল তাদের জামাই ভাগ্নেকে নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় তাদের বাড়ি আসে। এসে সে ডিভোর্সের মামলা করার জন্য হম্বিতম্বি করতে থাকে। একইসঙ্গে নিজের স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তাকে বাঁচাতে ছুটে এলে শ্বাশুড়িকে ভীষণভাবে মারে। তার জেরেই তিনি মারা যান বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।মৃতার মেয়ে ও তার ভাই জানায়, বেশ কয়েকবছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে পণ ও দানসামগ্রী সব দিয়েও জামাইয়ের মন পাওয়া যায়নি। সে মদ্যপ অবস্থায় স্ত্রীকে লাগাতার নির্যাতন করতো। উপায়ান্তর না দেখে মেয়েটি ছেলেমেয়েকে নিয়ে লোকো নেপালী পল্লীতে বাপের বাড়ি চলে আসে। পরে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করা হয়। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা শিবু ঘোষ বারবার তাদের ডেকে হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগ তুলে নেবার চাপ দিয়েছেন। এমনকি অফিসে ডেকেও ভয় দেখিয়েছেন। এছাড়াও তার হস্তক্ষেপেই স্থানীয় পার্টি অফিসে গিয়েও সুবিচার পাননি তারা। তাদের দাবি অভিযুক্ত শেখ ফিরোজ শিবু ঘোষের অনুগামী। তার উস্কানিতেই সে এত বড় ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শেখ ফিরোজকে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।অন্যদিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শিবশঙ্কর ঘোষ জানান, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। তার অফিসে বা পার্টি অফিসে কোনো মিটিং হয়নি। পরিবারের সদস্যরা শেখ ফিরোজের চরম শাস্তি দাবি করেছেন।

অক্টোবর ০২, ২০২২
রাজ্য

সব্জী ব্যবসায়ী মায়ের অনুপস্থিতিতে মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু বর্ধমানের রসুলপুরে

এক নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুর নতুন রাস্তা এলাকায়। মেয়েটির বয়স মাত্র সতেরো। তার মা ও এলাকাবাসীর ধারণা, তাকে কেউ খুন করেছে। পুলিশ খুনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। জেলা পুলিশসুপার জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে ফরেন্সিক টিমের সাহায্য নেওয়া হবে।পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুর রেল গেটের কাছে নতুন রাস্তা এলাকায় মৃতার বাড়ি। তার মা দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে থাকেন। প্রতিদিন ভোরে তিনি সব্জি আনতে মেমারি যান। আজ ও মেয়েকে বলেই বেরোন। মেয়েকে জানিয়ে বাইরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে যান। আলোও জ্বালা ছিল। সকাল ৭ টা বাজতে ১০ মিনিট আগে তিনি ফিরে আসেন। তিনি ও তার ভাইপো গিয়ে দেখেন মেয়ের কোনো সাড় নেই। বালিশ টা একপাশে পড়ে আছে। মুখটা কিছুটা ফোলা। তাদের চিৎকারে এলাকার মানুষ ছুটে আসেন। এসে দেখা যায় মেয়েটি মৃত। এরপর পুলিশ আসে। উত্তেজিত এলাকাবাসী মৃতদেহ নিয়ে যেতে বাঁধা দেন। তাদের বুঝিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠায় পুলিশ।এলাকায় এসেছেন জেলা পুলিশসুপার কামনাশীষ সেন সহ পুলিশের টিম।জেলা পুলিশসুপার জানান; ঘটনাটি সকালের দিকেই ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তারা ফরেন্সিক টিম ডেকেছেন।মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্তে নেমেছে। এর কিনারা করবেই পুলিশ।মৃতা মেয়েটি বৈদ্যডাঙ্গা গার্লস স্কুলে পড়তো। তার মৃত্যতে শোকের ছায়া এলাকায়।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২
রাজ্য

লাগাতার যাত্রীদের দুর্ভোগের পর আপাতত SBSTC -তে ধর্মঘট উঠলো

দক্ষিণবঙ্গ সরকারি পরিবহণ সংস্থায় অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ধর্মঘট আপাতত উঠে গেল। পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিষ চক্রবর্তী এই কর্মীদের মাসে ২৬ দিন কাজের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বলেছিলেন কালীপুজোর পর আলোচনায় বসবেন ধর্মঘটী কর্মীদের সঙ্গে। তবে পুজোর মুখে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা ভেবে আন্দোলন তুলে নেওয়া উচিত। শেষমেশ কর্মবিরতি তুললো ধর্মঘটীরা।আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পরিবহণমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন কালীপুজোর পর তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তাছাড়া পুজোর মুখে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছিল। এসব কথা ভেবেই কর্মবিরতি তুলে নেওয়া হল। সাতদিনের বাস ধর্মঘটের ফলে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ নিদারুণ দুর্ভোগদের মধ্য়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা জানাচ্ছিল, লিখিত না দিলে তাঁরা ধর্মঘট তুলবে না। পুজোর মুখে এই ধর্মঘটের ফলে যাতায়াত ব্য়বস্থা বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্য়ে পড়েছিল।প্রসঙ্গত, আন্দোলনকারীরা সকলেই তৃণমূল সরকারের আমলেই কাজে যোগ দিয়েছেন। সংগঠনের পতাকা নিয়ে আন্দোলন করলেও আইএনটিটিইউ রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছিল ধর্মঘটীদের সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে ধর্মঘটীরা কোথাও আইএনটিটিইউসির বা কোথাও তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা নিয়েই কর্মবিরতি পালন করেছে।

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২
রাজ্য

এবার বর্ধমানে শাসক দলের নেতা জড়ালেন 'খাস' কেলেঙ্কারীতে

খাস জমি নিজের বাবা মায়ের নামে পাট্টা রেকর্ড করে নেওয়ায় অভিযোগ উঠলো প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের গলসি ব্লকের ভূমি দপ্তরের কাজ নিয়ে ভুরি ভুরি অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ। যা নিয়ে বারবার ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে এবার গলসিতে ৬৭ শতক খাসজমি নিজের বাবা ও মায়ের নামে রেকর্ড করে নেওয়ায় অভিযোগ উঠেছে খোদ গলসি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি রুবিমনি কিস্কুর বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই গলসি ২ নম্বর ব্লক বিএলআরওকে লিখিত ভাবে অভিযোগে জানিয়েছেন গলসি ২ নম্বর ব্লকের মসজিদপুর গ্রামপঞ্চায়েতের তেঁতুলমুড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। পাশাপাশি এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে বিজেপি ও সিপিআইএম। অভিযোগে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গলসি ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি রুবিমনি কিস্কু তার সময়েই ওই দুর্নীতি করেছেন। তাদের দাবী, ক্ষমতা ও টাকার বলে ওই জমির পাট্টা বের করে নিজের বাবা ও মায়ের নামে রেকর্ড করিয়েছেন রুবিমনি। তবে জমিটি এখনও তেঁতুল মুড়ি গ্রামের কয়েকজন চাষি চাষ করেন। অভিযোগকারীরা আরও জানিয়েছেন, বেলান মৌজায় অবস্থিত ওই জমিটির দাগ নম্বর ১০৫৪। গোরা জমিটির পরিমাণ ২ একর ৭৬ শতক। সেখান থেকেই ৬৭ শতক জমি পাট্টা রেকর্ড করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছেতবে জমিটি এখনও স্থানীয় চাষিদের দখলেই রয়েছে। মূল্যবান ওই জমিটি গলসি-শিকারপুর রোডের পাশে অবস্থিত। বিষয়টি নিয়ে গলসি ২ নম্বর ব্লকের বিএলআর প্রবোধ আড্ড এই বিষয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে যাত্রীবাহি বাসের সাথে ডাম্পারের সংঘর্ষে আহত একাধিক

যাত্রীবোঝাই বাসের সঙ্গে ডাম্পার মুখোমুখি সংঘর্ষ। দুর্ঘটনাটি ঘটে বর্ধমান কাটোয়া রোডের ভাতারের পাটনা মোড় সংলগ্ন এলাকায়। বর্ধমান থেকে বেসরকারি যাত্রীবোঝাই বাসটি কাটোয়ার দিকে যাচ্ছিল। কাটোয়া থেকে একটি ডাম্পার বর্ধমানের দিকে যাওয়ার পথে ভাতারের পাটনা মোড়ের কাছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারকে পাশ কাটাতে গিয়ে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনার জেরে অল্পবিস্তার আহত হন ৩ জন। স্থানীয় মানুষজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠায়।ঘটনা জেরে বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বর্ধমান কাটোয়া সড়কপথ। পুলিশ তড়িঘড়ি দুর্ঘটনাগ্রস্থ গাড়িগুলিকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

দুর্ভোগের চুড়ান্ত, বেসামাল সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা, মন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসে চিঁড়ে ভিজলো না

সরকারি বাসের অস্থায়ী কর্মীদের ধর্মঘটের অচলাবস্থা আজও কাটেনি। তিনটি বাসের যাত্রীদের একটি করে বাসে যেতে হচ্ছে। তাও বেশিরভাগ সময় অমিল। একদিকে ট্রেনের গোলযোগ, অন্যদিকে বাস পরিষেবার এই বিঘ্ন পুজোর আগে দুর্যোগ ঘনিয়ে এনেছে কলকাতা সহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের জন্য। কর্মীরা জানিয়েছেন, মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় তাঁরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। আশ্বাস নয়, লিখিত চান তাঁরা।গত কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার অস্থায়ী কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে শিকেয় উঠেছে বাস পরিষেবা। প্রত্যেকদিন ২৮টির মতো বাস বর্ধমান ডিপো থেকে ধর্মতলা এবং করুণাময়ীতে যাতায়াত করে। কর্মবিরতির ফলে তার সংখ্যা কমে গিয়েছে অনেক।আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের চুক্তিমত ২৬ দিনের ডিউটি দেওয়ার কথা কিন্তু সেটা তাঁরা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা স্টিয়ারিং ডিউটির টাকা পাচ্ছেন না। ধর্দেমঘটীদের দাবি, অবিলম্বে এই সমস্যাগুলি সহ তাঁদের আরও যে দাবী রয়েছে সেগুলি না মিটলে তাঁরা এই কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন। বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ সহ দশ দফা দাবীতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে শামিল হয়েছেন বর্ধমান এসবিএসটিসি ডিপোর শতাধিক ড্রাইভার, টিকিট কালেকটর সহ অন্যান্য বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। ফলে সেদিন থেকেই একের পর এক বাতিল হয়েছে বর্ধমান কলকাতা ও বর্ধমান করুণাময়ী রুটের এসবিএসটিসি বাস। প্রথম দিন থেকেই এই অস্থায়ী কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।এই আন্দোলনের ফলে কলকাতা ও সল্টলেকগামী বহু এসবিএসটিসি বাস বাতিল হওয়ায় সমস্যার মধ্যে পড়েছেন যাত্রীরা। কেউ যাবেন ধর্মতলা আবার কেউ করুণাময়ী যাবেন। বাস ধরতে গিয়ে বাসের দেখা না মেলায় চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন যাত্রীসাধারণ। এভাবে আন্দোলন করায় আমরা চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছি, মন্তব্য জনৈক যাত্রীর। হাতে গোনা কয়েকটি বাস চলছে তাতেও অস্বাভাবিক ভিড়। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, বেসরকারি বাস যেগুলি মিলছে তারা এই সুযোগে বড় দাও মারছে। বেশি ভাড়া নিচ্ছে। কাজের জায়গায় পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এর সমাধান চাইছেন তারা।অন্যদিকে, বাস কর্মীরা জানান, তাঁদের নানারকম বেতন কাঠামোয় কাজ করতে হচ্ছে। রয়েছে বৈষম্য। মন্ত্রী ২৬ দিনের বেতনের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। ওই টাকায় চলা অসম্ভব। আন্দোলনকারীরা বলছেন, আশ্বাস অনেক শুনেছি, স্থায়ী সমাধান চাই। এই ভোগান্তির জন্য যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইছেন ধর্মঘটীরা।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২
রাজ্য

সরকার নির্ধারিত নূন্যতম মজুরি না পাওয়ায় জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসে বিক্ষোভ ঠিকাশ্রমিক সংগঠনের

সরকার নির্ধারিত নূন্যতম মজুরি দিচ্ছেনা এজেন্সি। অবিলম্বে তাদের প্রাপ্য টাকা তাদের ফেরত দিতে হবে।এই দাবীতে জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাল পূবর্ব বর্ধমান জেলা স্কাভেনজার্স সিকিউরিটি ও ঠিকাশ্রমিক সংগঠন। তাদের আরও অভিযোগ, ২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই এজেন্সি। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এই এজেন্সি ৮.৩৩ শতাংশ হারে বোনাস তুললেও তাদের নির্ধারিত হারে বোনাস দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ।এই অভিযোগের দ্রুত নিস্পত্তি চেয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাল সংগঠনের সদস্যরা। দ্রত তাদের সমস্যার সমাধান না হলে তারা আরও বৃহৎ আন্দোলনে সামিল হবেন বলে জানিয়েছেন। বিক্ষোভ শেষে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট উত্তোলন মধ্যে দিয়ে রাঢ়বঙ্গে পুজো শুরু

বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রীদেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরের ঘট উত্তোলন মাধ্যমেই মহালয়ার পরদিন থেকে শারদ উৎসবের সূচনা হয়ে গেল রাঢ়বঙ্গে। দুবছর কোভিড বিধির সরকারী নির্দেশিকা মেনেই পুজোর আয়োজন করতে হয়ছিল। এবছর সেরকম কোনও করোনা বিধি নেই। সোমবার কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী থেকে ঘট উত্তোলন করে শোভাযাত্রা ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট প্রতিস্থাপন করা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট আনার প্রাচীন প্রথা রয়েছে। কথিত আছে বর্ধমানের বাহিরসর্ব্বমঙ্গলা অঞ্চলে জেলেদের জালে একটি অদ্ভূত দর্শন পাথর উঠে আসে। কিছুটা শিলার মত দেখতে ওই পাথর দিয়েই তখনকার দিনে গুগলি, শামুক থেঁতো করতেন এলাকার বাসিন্দারা। সেই শিলা যে আদতে দেবী মূর্তি, তা পরে বুঝতে পারেন এলাকার এক পুরোহিত। কাহিনী অনুসারে আরও জানা যায় সেই সময় দামোদর নদ লাগোয়া চুন তৈরির কারখানার জন্য শামুকের খোল নেওয়ার সময় শিলামূর্তিটি চলে যায় চুন ভাটায়। তখন শামুকের খোলের সঙ্গে শিলামূর্তিটি পোড়ানো হলেও মূর্তির কোনো ক্ষতি হয়নি।সেই রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পাওয়া মাত্রই বর্ধমানের মহারাজা শিলামূর্তিটিকে নিয়ে গিয়ে সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু করেন।দেবী সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট স্থাপনঐতিহাসিক মতে বর্ধমানের মহারাজা শ্রী কীর্তিচাঁদ, ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে সর্বমঙ্গলা মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কিন্তু এই মন্দিরে থাকা মাতা সর্ব্বমঙ্গলার মূর্তিটি মন্দিরের থেকেও বেশি প্রাচীন। অনেকের মতে মূর্তিটি ১০০০ বছর পুরোনো, আবার কারো মতে ২০০০ বছরের পুরনো। এই মূর্তিটি হল কষ্টিপাথরের অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষমর্দিনী। যা দৈর্ঘ্যে বারো ইঞ্চি, প্রস্থে আট ইঞ্চি। মন্দিরে রুপোর সিংহাসনে দেবী আসীন থাকেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পরে, বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। সেই বোর্ডের হাতে এই প্রাচীন মন্দিরটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। তার পর থেকে এখনো পর্যন্ত সেই ট্রাস্টি বোর্ডই এই মন্দিরের দেখাশোনা করে আসছে।মায়ের মন্দির থেকে ঢাক, ক্লাব ব্যান্ড ও ব্যান্ড সহযোগে ঘোড়ার গাড়ি করে বিসি রোড হয়ে রাজবাড়ি সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা পৌঁছায় কৃষ্ণসায়রের চাঁদনী ঘাটে। সেখানে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার ঘট উত্তোলনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা সিংলা, স্থানীয় বিধায়ক খোকন দাস, ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক আইনজীবী সঞ্জয় ঘোষ, প্রাক্তন সম্পাদক বর্তমান ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডঃ শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান সহ সকল কাউন্সিলার। অগনিত ভক্ত সমাগমে ঘট ভরা সম্পন্ন হয়।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানের ৪০০ বছরের পুরানো এই জমিদার বাড়ি পুজো এখন এলাকার পুজো

এলাকায় এখনো রাশভারী জমিদার বাড়ি হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে এই খাঁ পরিবার আর্থিক অনটনে জর্জরিত। তবে তাই বলে কি দুর্গাপুজো বন্ধ হয়ে যাবে। মুসকিল আসানে এগিয়ে এসেছেন পাড়া প্রতিবেশীরা। এখন পাড়াপ্রতিবেশীরাই চাঁদা তুলে জমিদার খাঁ বাড়ির দুর্গা পুজোর আয়োজন করেন।প্রায় ৪০০ বছরের পুরানো এই পুজো। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের মোহনপুর গ্রামে খাঁ পরিবারের আগে জমিদারি ছিল। বনপাশ পঞ্চায়েত এলাকার মোহনপুর বহু পুরানো একটি গ্রাম। এই গ্রামের খাঁ পরিবারের দুর্গাপুজো এলাকার সবচেয়ে পুরনো পুজো। এখন জমিদারী না থাকলেও খাঁ পরিবারের সেই সাবেকি আমলের ভাঙাচোরা দুর্গামন্দির দাঁড়িয়ে আছে। মন্দিরের যদিও ভগ্নপ্রায়।স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশীষ সাধু জানান বিগত কয়েকবছর ধরেই পাড়ার লোকজনরাই নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে এই পুজোর আয়োজন করে আসছেন। খাঁ পরিবারের সদস্যা লতিকা খাঁ জানান একসময় পরিবারে স্বচ্ছলতা ছিল তখন ধূমধাম করে পুজো আয়োজন করা হত। কয়েকশো মানুষ টানা কয়েকদিন ধরে পুজোয় মেতে থাকতেন। তাদের খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও হত। কিন্তু এখন আর্থিক অবস্থা খারাপ। তাই পাড়ার সকলে মিলে পুজোর দায়িত্ব নিয়েছেন।

সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২
রাজ্য

বর্ধমানে বেহাল রাস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল স্কুল পড়ুয়া সহ এলাকাবাসী

বেহাল রাস্তা অবস্থা। পাকা দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল এলাকার স্কুল পড়ুয়ারা সহ এলাকাবাসীরা। গলসি এক নম্বর ব্লকের লোয়া কৃষ্ণরামপুর অঞ্চলের মানুষের সাথে বেশকিছু স্কুল পড়ুয়ারা আন্দোলনে সামিল হয়। প্লাকার্ড হাতে তারা স্কুল না যাবার স্লোগান দিতে থাকে। তারা জানাই, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দুয়াটুকুড়ি থেকে অমরপুর যাবার পাঁচ ছয় কিমি রাস্তার বেহাল দশা। বিষয়টি নিয়ে তারা কয়েকবার গলসি ১ নং ব্লক বিডিও অফিসে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তাতে সুরাহা না মেলায় এদিন পথ অবরোধ করেছেন। তাদের দাবী ওই রাস্তার জন্য গ্রামে আসেনা অ্যাম্বুলেন্স। ফলে নিত্য দুর্ভোগ পরেন রোগী ও প্রসুতি মায়েরা। তাছাড়া ওই রাস্তা দিয়ে কসবা রাধারানী হাই স্কুল ও লোয়া দিবাকর হাই স্কুলে পড়তে যায় এলাকার শতশত স্কুল পড়ুয়া। এমনকি ওই রাস্তা দিয়ে লোয়া ও পুরসা হাসপাতাল যেতে হয় এলাকার মানুষদের। গোটা রাস্তা জুড়ে বড়বড় গর্ত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার নারানপুর, সোদপুর, কেন্দুয়াটুকুড়ি, সোদপুর মানা, জয়কৃষ্ণবাটি, কসবা, জাঁহাপুর, মৌগ্রামার সাত থেকে আট হজার মানুষ। এমনকি কসবায় ব্যাংক, পঞ্চায়েত অফিস ও বিডিও অফিসে যেতে নিত্য সমস্যায় পরছেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবী দ্রুত নতুন রাস্তা তৈরী করুক প্রশাসন।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২
রাজনীতি

শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তেজনা ঘরবাড়ি ভাঙচুর গলসিতে

শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তেজনা ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের গলসিতে। বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে গলসি ১ নম্বর ব্লকের পারাজ গ্রামে ভাঙচুর চলে। দুটি চালাঘর ও বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার রাতে গলসির রকোনা গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে খেলা ছিল। সেখানে এলাকার পারাজ অঞ্চল একাদশ ও উচ্চগ্রাম একাদশ মুখোমুখি হয়। পারাজ অঞ্চল চার গোলে জয়লাভ করে। বিজয়ী ট্রফি নিয়ে পারাজ গ্রামে ফিরলে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। এরপরই দুটি গোষ্ঠীর চারটি বাইক ভাঙচুর হয়। এর পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় মুখে কুলুপ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসর নেতৃত্বর।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২
রাজ্য

অসময়ে বেশী বৃষ্টি পদ্ম চাষীদের মাথায় হাত

টানা দুবছর ব্যবসা একেবারে বন্ধ ছিল।এবার কোভিড বিধি শিথিল হলেও লাভ নয়, লোকসানের মুখে পদ্মচাষীরা।পূর্ব বর্ধমানের ভাতার,আউশগ্রাম, দেওয়ানদীঘি সহ জেলার সর্বত্রই কমবেশি পদ্মচাষ হয়। কিন্তু এবার বর্ষার শুরুতে অনাবৃষ্টির কারণে পুকুরে সেই ভাবে পদ্ম গাছ বেড়ে ওঠেনি। পুকুরের জলের অভাবে পদ্মগাছ শুকিয়ে যায়। এখন আবার ঠিক উল্টো চিত্র। লাগাতার বৃষ্টির জন্য পদ্মফুল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।পদ্মচাষী হারু ধারা, সর্বেশ্বর মাঝিরা জানান,প্রতিবছরই পুজোর মরশুমে পদ্মের চাহিদা থাকে।এবারও ভালোই চাহিদা আছে বাজারে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় বাজারে জোগান দিতে পারচ্ছেন না।করোনার জন্য দুবছর তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধই ছিল।এবছর তারা ভেবেছিলেন ঘুরে দাঁড়াবেন। তাতে বাধ সেধেছে আবহাওয়া। কখনো অনাবৃষ্টি তো আবার কখনো অতিবৃষ্টি। আবহাওয়া খামখেয়ালিতে পদ্মচাষীরা চরম সংকটে পড়েছেন।চড়া দাম দিয়ে পুকুর ডাক (লিজ) নিয়েছেন এলাকায় পদ্মচাষীরা। কিন্তু এখন যা অবস্থা দুমুখ সমান হবে কিনা সেটা নিয়ে চিন্তিত তারা। পূর্ব-বর্ধমান জেলার পদ্মচাষীরা মূলত ফুল নিয়ে হাওড়ার হাটে যান। সেখানেই সারাবছর কেনাবেছা চলে।কিন্তু পুজোর মরশুমে এখন পদ্মচাষীদের মাথায় হাত। বৃষ্টি বেশী হওয়ায় পদ্মের কুড়ি বড় হচ্ছে না।পচে যাচ্ছে বলে জানান চাষীরা।

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২
রাজ্য

বন্ধ হতে বসা দুর্গা পুজোকে চালু করতে হিন্দুদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসেন মুসলিমরা

দুর্গাপুজোয় সমান আনন্দে মাতেন গ্রামের মুসলিম পরিবারের সদস্যরাও। পূর্ব বর্ধমানের জঙ্গলমহল আউশগ্রামের গোয়ালআড়া গ্রামের দুর্গাপুজো আগে ছিল মণ্ডল পরিবারের পারিবারিক পুজো। পরিবারের আর্থিক অবস্থা প্রথমদিকে ভালো ছিল। তাই ভালোভাবেই পুজো হত। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে মণ্ডল পরিবার আর পুজো চালিয়ে যেতে পারেনি। তখন থেকেই পুজোর দায়িত্ব নেয় গ্রামবাসীরা। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হিন্দুদের পাশাপাশি এগিয়ে আসেন গ্রামের মুসলিম ধর্মালম্বী মানুষজনও। ফলে গোয়ালআড়া গ্রামের দুর্গাপুজো সর্বধর্মের সম্প্রীতির পুজো হয়ে উঠেছে। তা যথার্থই হয়ে উঠেছে ধর্ম যার যার উৎসব সবার।দুর্গামন্দির পরিস্কার রাখতে ঝাঁট দেওয়া থেকে পুজোর বাজারহাট সব কাজেই সমানভাবে গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন অংশ নেন। গোয়ালআড়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় সেখ মুস্তাক আলি বলেন,আমাদের গ্রামের এই দুর্গাপুজো দেড়শো বছরের প্রাচীন। অনেক আগে থেকেই ওই পরিবার পুজো বন্ধ করে দেন। তখন থেকেই গ্রামের সকলে পুজোর দায়িত্ব নেয়। পুজোয় কোনও খামতি রাখা হয় না। প্রথা মেনেই নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো হয়। এই বছর আমরা সরকারি অনুদান পেয়েছি।আউশগ্রামের গোয়ালআড়া গ্রামের অধিকাংশ কৃষিজীবী মানুষের বসবাস। গ্রামে হিন্দু, মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। প্রায় দেড়শো বছর আগে মণ্ডল পরিবারের এক পূর্বপুরুষ এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেন। প্রথমদিকে দুর্গাপুজো ধুমধাম সহকারেই হত। শতাব্দীকাল পর থেকে পুজোটি বারোয়ারি হয়ে যায়। গ্রামবাসী সুনীল মণ্ডল বলেন, মণ্ডল পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে আর পুজো করা সম্ভব ছিল না। তারপর পুজোর দায়িত্ব গ্রামের সকলে নিয়ে নেন। এখন এটি বারোয়ারি পুজো। শুধু বারোয়ারি নয়, এই পুজোয় এখন হিন্দু মুসলিম সকলের পুজো।গোয়ালআড়া গ্রামের দুর্গাপুজোয় প্রতিমা তৈরির সময় থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন অংশ নেন। পুজোর যাবতীয় খরচ হিন্দু মুসলিম সকলেই চাঁদা তুলে বহন করেন। মন্দির চত্বর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা থেকে মন্দিরের তদারকি, বাজারহাট করা সবেতেই সমান ভূমিকা নেন। মহালয়ার দিন মোচ্ছবের আয়োজন থাকে। তার খরচও সমানভাবে বহন করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।গ্রামবাসী আবদুল গনি জানান পুরানো দুর্গামন্দির ভেঙে নতুন পাকা মন্দির তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পুজোতে আমরাও চাঁদা দিয়ে থাকি। গেরাই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল লালন নামে একজন ব্যবসায়ী মন্দির নির্মাণের জন্য খরচ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আব্দুল লালন বলেন, আমি গ্রামের ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি মন্দিরের অবস্থা ভগ্নপ্রায় হয়ে রয়েছে।আমি গ্রামবাসীদের বলি পুজোর যা খরচ হবে আমি সব ব্যয় করবো।ওরা সম্মতি জানিয়েছে।আমি এই বছর সমস্ত খরচ দেব।ধর্ম যার যার উৎসব সবার,আমরা সকল গ্রামবাসী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পুজোয় মেতে উঠি।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২
রাজ্য

পুজোর মুখে বিড়ম্বনা! দশ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে বর্ধমান ডিপোর এসবিএসটিসির অস্থায়ী কর্মীরা

বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরন সহ দশ দফা দাবীতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে সামিল হলেন বর্ধমান এসবিএসটিসি ডিপোর শতাধিক ড্রাইভার, টিকিট কালেকটর সহ অন্যান্য বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা। ফলে আজ সকাল থেকেই বাতিল হয়েছে বর্ধমান কলকাতা ও বর্ধমান করুণাময়ী রুটের এসবিএসটিসি বাস। সকাল থেকেই এই অস্থায়ী কর্মীরা তৃণমূল কংগ্রেসের পাতাকা হাতে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। ডিপোর সামনে বিক্ষোভে দেখাচ্ছেন তারা। অর্ধেকেরও বেশি বাস বাতিল হয়েছে তাদের এই আন্দোলনের ফলে। সমস্যা না মিটলে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।পুজোর মুখে এই কর্মবিরতিতে বিপাকে পরেছেন নিত্যযাত্রী সহ ক্ষূদ্র ব্যবসায়ীরা। এমনিতেই ১৫ই সেপ্টম্বর থেকে রাতের ও সকালের শহরের মধ্য দিয়ে যে এসবিএসটিসি বাসগুলি চলত তার যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী থাকাই নিত্যযাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে আজ থেকে এই অবরোধের ফলে খুবই বিপাকে পরছেন বাসযাত্রীরা।

সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 12
  • 13
  • 14
  • 15
  • 16
  • 17
  • 18
  • ...
  • 40
  • 41
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

মোদিকে হত্যার ছক? বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রীর রুট থেকে উদ্ধার বিস্ফোরক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেঙ্গালুরু সফর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। যে রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) কনভয় যাওয়ার কথা ছিল, সেই পথের ধারে উদ্ধার হয়েছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত জেলাটিন স্টিক। ঘটনার পর থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। পুলিশ এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বেঙ্গালুরুর আর্ট অফ লিভিং সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) । সেই সময় কাগ্গালিপুরা এলাকার থাথাগুনির কাছে রাস্তার ধারে কয়েকটি জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়।জানা গিয়েছে, মোদির (PM Modi) সফরের আগে পুলিশের কাছে একটি সন্দেহজনক ফোনকল আসে। ফোনে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এরপরই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই তল্লাশিতেই রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়।ঘটনার পরই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রবিবার ভোরে এক ব্যক্তি স্থানীয় থানায় ফোন করে এইচএএল এবং আর্ট অফ লিভিং সেন্টারে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি (PM Modi) ।পরে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কোরামাঙ্গালায় তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এইচএএল বিমানবন্দরের কাছে কোনও সন্দেহজনক বস্তু না মিললেও আর্ট অফ লিভিং যাওয়ার রাস্তায় জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। কীভাবে ওই বিস্ফোরক সেখানে পৌঁছল, কারা তা সরবরাহ করেছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সন্দেহভাজন যুবকের পাশাপাশি তাঁর বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি অতীতেও বেঙ্গালুরুতে ভিআইপি সফরের সময় একই ধরনের ফোন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন। তখনও তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের রুট থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

সাসপেন্ড হতেই বিস্ফোরক ঋজু! “চাকরি বিক্রি হয়েছে, সবাই জানে”

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের নেতা ঋজু দত্ত। চাকরি বিক্রি থেকে শুরু করে কাটমানি, টিকিট বাণিজ্য একের পর এক অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, চাকরি বিক্রি হয়নি, এটা বলার মতো বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। চাকরি বিক্রি হয়েছে, সেটা প্রমাণিত।এখানেই থামেননি ঋজু। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির প্ল্যান পাশ করানো থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজ সব ক্ষেত্রেই টাকা দিতে হয়। এমনকি বাড়িতে কোমড বসানোর ক্ষেত্রেও তৃণমূলের লোকেরা টাকা নেয় বলে দাবি করেন তিনি।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ঋজু বলেন, বাংলার মানুষ এবার মন খুলে কথা বলতে পারছেন। কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে ভারত জিতেছে, পাকিস্তান হেরেছে। মানুষ নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে।তৃণমূলে থাকার সময় নিজের অবস্থান নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋজু দত্ত। তিনি বলেন, আরজি কর আন্দোলনের সময় আমি দলের হয়ে লড়াই করেছি। সন্দেশখালির সময়ও দলকে সমর্থন করেছি। কারণ আমি দলের মুখপাত্র ছিলাম। কিন্তু মন থেকে কোনওদিন সেগুলো মেনে নিতে পারিনি। দল যা বলতে বলত, বাধ্য হয়ে সেটাই বলতে হত।আইপ্যাক নিয়েও তীব্র অভিযোগ করেছেন তিনি। ঋজুর দাবি, দল চালাত আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। তৃণমূল নয়। টিকিট দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হত। আমার কাছেও ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে বিজেপিও কটাক্ষ করতে শুরু করেছে তৃণমূলকে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার বক্তব্য, এখন ধাক্কা খেয়ে অনেকেরই চেতনা ফিরছে।তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ঋজু দত্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি কোনও আবেদন করেননি। যদিও বিজেপি নেতাদের পাশে পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমার এলাকার বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি পুলিশকে ফোন করে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতারাও আমার পরিবারকে সাহায্য করেছেন।ঋজুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
দেশ

বেঙ্গালুরু থেকেও বাংলার জয়গান মোদীর, “তিন থেকে ২০০, এটাই নতুন ইতিহাস”

বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মুখে বারবার উঠে আসছে বঙ্গজয়ের প্রসঙ্গ। এবার কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সভা করেও বাংলার জয় নিয়ে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে তিনি তুলে ধরলেন গত ১০ বছরে বাংলায় বিজেপির উত্থানের কাহিনি।বেঙ্গালুরুতে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মোদী বলেন, অসমে টানা তিনবার এনডিএ সরকার গঠন করেছে। বাংলায় প্রথমবার বিজেপি এত বড় আশীর্বাদ পেয়েছে। গুজরাটেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে দারুণ ফল করেছে বিজেপি। এই সবই নতুন ইতিহাস তৈরির ঘটনা।এরপর বাংলায় বিজেপির লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দশ বছর আগে বাংলায় আমাদের মাত্র তিনজন বিধায়ক ছিল। তখন সংগঠনও খুব শক্তিশালী ছিল না। আজ সেই বাংলা থেকেই ২০০-র বেশি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। এটা ইতিহাস রচনার থেকে কম কিছু নয়।২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।এবারের নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। রাজ্যের একাধিক এলাকায় গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। বিজেপির ভোটের হারও ৪৫ শতাংশের বেশি বলে দাবি দলের।শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে নেমে পড়েছেন তিনি। সোমবার নবান্নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর।বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। আর সেই আবহেই দেশের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলার জয়কে ইতিহাস বলে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের ফলের পর রক্তাক্ত খুন! এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী হত্যায় আরও এক গ্রেপ্তার

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী তাপস নস্কর খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে হাসনাবাদ থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের নাম ভোলা কর। রবিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবরবিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন, মঙ্গলবার গভীর রাতে খুন হন তাপস নস্কর। ঘটনার পরই একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদের মিঠুন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই ভোলা করকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভোলা করের নাম ছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার পিছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিশের দাবি, এই খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই।স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাপস নস্কর। সেই সূত্রে এলাকায় প্রোমোটিংয়ের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কাজের অভিযোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় থানায় তাপসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল।নির্বাচনের আগে পুলিশ তাঁকে সতর্ক করেছিল বলেও জানা গিয়েছে। এমনকি ভোটের আগে তাঁকে নজরবন্দিও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তাপস। ভোট শেষ হওয়ার পর ফের এন্টালিতে ফিরে আসেন তিনি।তারপরই ৫ তারিখ গভীর রাতে এন্টালির চৌধুরী লেনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয় মানুষ পুলিশে খবর দিলে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাপসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে ভোলা করের নামও ছিল।এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, এটি রাজনৈতিক খুন নয়। তাঁর দাবি, নির্মাণ ব্যবসা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছুদিন বাইরে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছিলেন তাপস। তারপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

সরকার বদলাতেই বড় পদক্ষেপ! অবশেষে প্রকাশ্যে এসএসসি-র গোপন ওএমআর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই বদলে গেল স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট অবশেষে প্রকাশ করল এসএসসি। সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের ওএমআর প্রকাশ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৪ সালেই কলকাতা হাইকোর্ট সমস্ত ওএমআর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু তারপরেও এতদিন পর্যন্ত সব ওএমআর প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওএমআর মূল্যায়নকারী সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীর ঠিকানা থেকে একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই হার্ডডিস্ক থেকেই নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পরীক্ষার্থীর ওএমআর পাওয়া যায়। এরপরই তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সমস্ত ওএমআর প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখলেও এতদিন পর্যন্ত পুরো তথ্য সামনে আনা হয়নি। এবার এসএসসি জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র সমস্ত ওএমআরও প্রকাশ করা হবে।এখন ২০১৬ সালের সমস্ত পরীক্ষার্থী নিজেদের ওএমআর দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার এসএসসি-র তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআই সূত্রে পাওয়া ওএমআর শিট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরো প্যানেল বাতিল হয়। এরপর থেকেই চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওএমআর প্রকাশের দাবি উঠছিল। ওএমআর নষ্ট করা এবং কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছিল।এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ওএমআর প্রকাশ হওয়ায় নতুন করে রাজ্যের শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
রাজ্য

“শেষে রাহুলের কাছেই হাতজোড় করতে হবে!” মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, একসময় বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তিনিই রাজনৈতিক সংকটে পড়ে সকলকে পাশে চাওয়ার চেষ্টা করছেন।অধীর চৌধুরী বলেন, বামেদের সরানোর সময় উনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়। এখন দিদি নিজেই বিপদে পড়েছেন। তাই সবাইকে ডাকছেন। তাঁর কটাক্ষ, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছেও হাতজোড় করতে হতে পারে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অধীর। তিনি বলেন, বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা দেখতে চাই। যদি কেউ যান, তাহলে বোঝা যাবে বাংলার মানুষ এখনও তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মানছেন কি না।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও আক্রমণ শানান অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, শুনছি খোকাবাবুর বাড়ি এখন দর্শনীয় জায়গা হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার সুবাদে কত ক্ষমতা পাওয়া যায় এবং সেই ক্ষমতায় কেমন বাড়ি তৈরি হয়, তা দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। এখানেই থামেননি অধীর। তাঁর মন্তব্য, খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজিয়াম হয়ে যাবে।জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, দিদি আগামী দিনে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এটা নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর কাছেই তাঁকে যেতে হবে।প্রসঙ্গত, শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গঠনের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আসতে হবে। বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মমতা স্পষ্ট বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।যদিও তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় এখনও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বামেরা। আপাতত তারা একাই লড়াই করার অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

টোল প্লাজার ক্যামেরায় ধরা পড়ল খুনিদের গাড়ি! ইউপিআই সূত্রে চাঞ্চল্যকর মোড়

চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে বড় সূত্র পেল পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত গাড়ির ফাস্ট্যাগ পেমেন্ট থেকে একটি ইউপিআই লিঙ্কের খোঁজ মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।তদন্তকারীদের দাবি, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি বালি টোলপ্লাজা হয়ে এলাকায় ঢুকেছিল। টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে টোলের টাকা ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। সেই অনলাইন পেমেন্টের সূত্র ধরেই কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে, তা জানতে পেরেছে পুলিশ।চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। চন্দ্রনাথ ছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলুপ এলাকার ঈশ্বরপুর পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েতে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন সময় থেকেই তাঁদের পরিচয়। ধীরে ধীরে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন চন্দ্রনাথ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।বুধবার রাতে আচমকাই খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তারপর থেকেই তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। আততায়ীদের গতিবিধি জানতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা টাওয়ার ডাম্পিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার আগে এবং পরে এলাকার মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কোন কোন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল বা কল রিসিভ করা হয়েছিল, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক নম্বর চিহ্নিত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক মোবাইল টাওয়ারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে বহু ফোন কলের মধ্যে থেকে সন্দেহভাজন নম্বর আলাদা করার কাজ চলছে। তদন্তকারীরা দেখছেন, ঘটনার আগে ও পরে কোন কোন নতুন নম্বর থেকে হঠাৎ ফোন আদানপ্রদান হয়েছে। সেই নম্বরগুলির টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে আততায়ীদের গতিবিধি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মে ১০, ২০২৬
দেশ

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বড় ঘোষণা থলপতি বিজয়ের! বিনামূল্যে বিদ্যুৎ থেকে নারী সুরক্ষায় একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার থলপতি বিজয়। শপথ নেওয়ার পরই প্রথম ভাষণে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।চেন্নাইয়ে শপথ গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, আমি সাধারণ মানুষ। আপনাদের ভালবাসা আর সমর্থনেই আজ এখানে পৌঁছেছি। সরকারের সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং কাজের দায়ভার আমারই থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগের ডিএমকে সরকার বিপুল ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছে। তবে মানুষের সমর্থন থাকলে তাঁর সরকার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করবে।এদিন জোট রাজনীতি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন বিজয়। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার কোনও জোটসঙ্গীর চাপের কাছে মাথা নত করবে না। সরকার নিজের নীতি মেনেই চলবে।অনুরাগীদের উদ্দেশেও আবেগঘন বার্তা দেন দক্ষিণী তারকা। তিনি বলেন, আপনারাই আমার জীবন। আপনাদের ভালোর জন্যই আমি কাজ করব। আপনাদের ছাড়া আমি কিছুই নই। তাঁর মুখে শোনা যায় জনপ্রিয় তামিল শব্দবন্ধ এন নেনজিল কুডিয়িরুক্কুম, যার অর্থ, যাঁরা আমার হৃদয়ে থাকেন।মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন বিজয়। তিনি জানান, তামিলনাড়ুর মানুষ মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা নারী সুরক্ষা বাহিনী গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।এছাড়াও রাজ্যে মাদক রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিজয়ের দাবি, নতুন সরকার স্বচ্ছভাবে কাজ করবে এবং নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করার চেষ্টা করবে।এদিন বিজয়ের সঙ্গে আরও নজন শপথ নেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান, আধব অর্জুন, নির্মল কুমার, এন আনন্দ, অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু, প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিক অরুণ রাজ, পি ভেঙ্কটারামনন এবং সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক কীর্তনা। বিরুধুনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন কীর্তনা।

মে ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal