• ৬ ভাদ্র ১৪৩৩, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

West Bengal

কলকাতা

ভোটের আগে বড় ধাক্কা! দাগী নেতাদের নিরাপত্তা এক ঝটকায় তুলে নিল কমিশন

ভোটের আগে রাজ্যে আরও কড়া হল নির্বাচন কমিশন। অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে এমন নেতাদের আর নিরাপত্তা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার কমিশন জানতে চেয়েছে, সেই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না।কমিশন সম্প্রতি রাজ্যের সব বিধানসভা কেন্দ্র, পুলিশ জেলা ও কমিশনারেট থেকে নিরাপত্তা পাওয়া ব্যক্তিদের নাম ও পদবীসহ পূর্ণ তালিকা চেয়েছিল। এরপর জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যাঁরা জামিনে মুক্ত বা প্যারোলে আছেন, কিংবা যাঁদের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করতে হবে। শুধুমাত্র পদ বা সম্ভাব্য হুমকির অজুহাতে নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।এই নির্দেশ অনুযায়ী দুই এপ্রিল রাতের মধ্যেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এবার কমিশন সেই কাজ হয়েছে কি না, তার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। রাজ্য পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের শুক্রবার দুপুর বারোটার মধ্যে আপডেট রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।এই সিদ্ধান্তের ফলে একাধিক প্রভাবশালী নেতার নিরাপত্তা আপাতত তুলে নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে যাঁরা গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত অথচ এখনও গ্রেফতার হননি, তাঁদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে আগামী দশ দিনের মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, প্রতিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের মাধ্যমে এমন এলাকা চিহ্নিত করতে হবে যেখানে অশান্তির সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি, গত নির্বাচনে যারা কোনও অপরাধে জড়িত ছিল, সেই দুষ্কৃতীদেরও চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এপ্রিল ০৩, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগেই বড় কড়াকড়ি! রাজ্য জুড়ে জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, অমান্য করলেই গ্রেফতার

ভোট শুরু হতে এখনও প্রায় কুড়ি দিন বাকি। তার মধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে মঙ্গলবার যে বিক্ষোভ হয়েছে, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে। মালদহের কালিয়াচকের ঘটনাতেও তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় সংস্থাকে দিতে হয়েছে। ভোট ঘোষণার পর এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়।এই পরিস্থিতিতে কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, রাজ্যের কোথাও বেআইনি জমায়েত করা যাবে না। বৃহস্পতিবার থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে।কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কোনও মিছিল, সভা বা জমায়েত করতে হলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কোনও জমায়েত করা হলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হবে। এমনকী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে যেতে হলেও আগে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।এছাড়াও বিএলও রক্ষা কমিটি মঞ্চকেও কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যদি তারা আবার কোনওভাবে মঞ্চ তৈরি করে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে সাসপেনশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।গত মঙ্গলবার ফর্ম ছয় সংক্রান্ত বিষয়ে সিইও দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান একদল বিএলও। পরে সেখানে উপস্থিত অন্য দলের সমর্থকদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।অন্যদিকে, বুধবার মালদহে সাত জন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার দায় কমিশনের দিকে ঠেলেছেন। অন্যদিকে কমিশন রাজ্যের পুলিশ প্রধানের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে।এই সমস্ত বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এরপরই দ্রুত রাজ্য জুড়ে বেআইনি জমায়েত বন্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়।

এপ্রিল ০৩, ২০২৬
রাজ্য

কার্গিল যোদ্ধার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ! তীব্র চাঞ্চল্য

দেশের জন্য প্রায় তিরিশ বছর কাজ করেছেন, অংশ নিয়েছেন কার্গিল যুদ্ধেও। সেই প্রাক্তন সেনা জওয়ান আজাদ আলির নামই এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জানা গিয়েছে, রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা আজাদ আলি ওই এলাকার দুইশো নয় নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন। দুই হাজার দুই সালের ভোটার তালিকায় তাঁর এবং তাঁর বাবা-মায়ের নাম ছিল। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিও তাঁদের কাছে রয়েছে। কিন্তু নতুন পরিপূরক তালিকা প্রকাশের পর তিনি দেখেন, তাঁর এবং পরিবারের আরও এক সদস্যের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনি এবং তাঁর পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আজাদ আলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। কার্গিল যুদ্ধের পাশাপাশি অপারেশন বিজয় এবং অপারেশন পরাক্রমেও তিনি যুক্ত ছিলেন। উনিশশো পঁচানব্বই সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি এবং গত বছরের অক্টোবর মাসে সুবেদার পদ থেকে অবসর নেন।আজাদ আলির বক্তব্য, দেশের সুরক্ষার জন্য তিনি সবসময় প্রস্তুত ছিলেন এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। অথচ এখন নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করার পরও তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর মতো যাঁদের কাছে এত নথি নেই, তাঁদের কী হবে।স্থানীয় আধিকারিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের কাছেও দুঃখজনক, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এখন তাঁকে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক পক্ষের দাবি, প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই চলছে এবং যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করলে সমাধান সম্ভব।এই ঘটনাকে ঘিরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এপ্রিল ০২, ২০২৬
রাজ্য

সাত এপ্রিলেই সব পরিষ্কার! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় আশ্বাস, সন্তুষ্ট শীর্ষ আদালত

ভোটের আগে বড় স্বস্তির খবর এল আদালত থেকে। বিবেচনাধীন থাকা সমস্ত ভোটারের নাম খুব দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। সেই আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টও।বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি চিঠি তুলে ধরা হয়। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামী সাত এপ্রিলের মধ্যেই সব বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এই বক্তব্য শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।এদিন আদালতে জানানো হয়, মোট প্রায় ষাট লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় সাতচল্লিশ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় দুই লক্ষ করে নাম যাচাই ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।এর আগে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক নামের নিষ্পত্তি আদৌ সম্ভব কি না। বিশেষ করে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ বাড়ছিল। তবে এদিন আদালতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।সুপ্রিম কোর্ট জানায়, হাই কোর্টের এই অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে বলে তারা আশা করছে।এছাড়াও আদালত জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই ট্রাইবুনালের কাজও শুরু হবে। বৃহস্পতিবার থেকেই ট্রাইবুনাল কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার প্রাক্তন বিচারপতিদের প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা ঘিরে বিস্ফোরক দাবি! একজনের হাতে হাজার হাজার আবেদন, প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির মাঝেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এদিন উঠে আসে বিপুল সংখ্যক ফর্ম জমা পড়ার বিষয়টি। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, নির্বাচন কমিশনের দফতরে হঠাৎ করেই গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম একসঙ্গে জমা পড়ছে।তিনি আদালতে বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও বিবেচনাধীন নামগুলির নিষ্পত্তির কাজ চলছে। এই পরিস্থিতিতে এত বড় সংখ্যায় আবেদন জমা পড়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দোষারোপ করেননি, তবে কেন এই সময়ে এত আবেদন জমা পড়ছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্যের পর সতর্ক করে বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। এরপর নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানান, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যায়। এমনকি যাঁর সেদিনই আঠারো বছর পূর্ণ হচ্ছে, তিনিও আবেদন করার অধিকার রাখেন। তাই এই প্রক্রিয়ায় কাউকে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়।শুনানির সময় আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, এখানে সমস্যা হচ্ছে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়া। সেই প্রসঙ্গেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন ব্যক্তিই নাকি কয়েক হাজার ফর্ম জমা দিয়েছেন। এই ঘটনায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।প্রধান বিচারপতি বলেন, এই ধরনের ঘটনা নতুন নয় এবং অতীতেও এমন নজির রয়েছে। তবে আবেদনকারীদের পরিচয় জানা না যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইনজীবীরা। তাঁদের দাবি, বুথভিত্তিকভাবে আবেদনকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হলে অভিযোগ জানানো সহজ হবে।আদালত জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম বিবেচনা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের পরে আবেদন করলে নাম তালিকায় উঠলেও সেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার নাও থাকতে পারে।এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানান, তাঁদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক নাম তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এবং অনেক নাম বাদও যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এরই মধ্যে মঙ্গলবার রাজ্যের নির্বাচন দফতরের বাইরে উত্তেজনা ছড়ায়। দুই রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ফর্ম জমা দেওয়া নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে এবং পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায়। মারধর, ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই। এক পক্ষের অভিযোগ, ফর্মের মাধ্যমে বাইরে থেকে লোক এনে ভোটার তালিকায় ঢোকানো হচ্ছে, অন্য পক্ষ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।এই ঘটনায় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
দেশ

দেশজুড়ে শুরু জনগণনা, কিন্তু বাদ পশ্চিমবঙ্গ! কেন এই ব্যতিক্রম? বাড়ছে জল্পনা

দেশজুড়ে আজ থেকে শুরু হল বহু প্রতীক্ষিত জনগণনা প্রক্রিয়া। এই জনগণনা হবে দুই ধাপে। এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হচ্ছে বাড়ি ও বাসস্থানের তথ্য সংগ্রহের কাজও। তবে এই প্রক্রিয়া আপাতত শুরু হচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।জানা গিয়েছে, জনগণনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি রাজ্য। এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গকে জানানো হয়েছে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, জনগণনা সম্পূর্ণভাবে একটি কেন্দ্রীয় বিষয় এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই তা করা হবে।এইবারের জনগণনা সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। নাগরিকদের নিজেদের তথ্য নিজেরাই নথিভুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য, বাড়ি ও সম্পত্তির বিবরণ দিতে হবে। এরপর সরকারি আধিকারিকরা বাড়িতে গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন। একবার তথ্য জমা হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা যাবে না।আজ থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপ চলবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ পর্যন্ত। প্রথমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নাগরিকরা নিজেরাই তথ্য জমা দিতে পারবেন। তারপর সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই তথ্য যাচাই করবেন।এই প্রথমবার দেশের জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। নাগরিকরা নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন এবং যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ নম্বর পাবেন। পরে সরকারি কর্মীরা সেই নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য মিলিয়ে দেখবেন।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১১ সালের পর এই প্রথম জনগণনা হচ্ছে। সাধারণত প্রতি দশ বছর অন্তর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এবারের জনগণনার জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ জায়গায় জনগণনা শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থাকা এই সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই ইস্যুতে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এপ্রিল ০১, ২০২৬
রাজনীতি

শাহের ‘জনতার চার্জশিট’-এ বারবার শুভেন্দু, বাংলায় বিজেপির মুখ নিয়ে জোরালো জল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সফরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন, তা ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু ঘোষণা না হলেও, তাঁর বক্তব্য এবং জনতার চার্জশিট-এ একাধিকবার শুভেন্দু অধিকারী-র উল্লেখ বিজেপির অন্দরেই তাঁর বাড়তি গুরুত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।শনিবার প্রকাশিত বিজেপির তথাকথিত জনতার চার্জশিট-এ রাজ্যের শাসক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ১৫ বছরের শাসনকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আক্রমণ করা হয়েছে। অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি থেকে শুরু করে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা মোট ১৫টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই অভিযোগপত্রে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।তবে এই চার্জশিটের একটি বিশেষ দিক নজর কেড়েছে গণতন্ত্রের উপর আঘাত অধ্যায়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার প্রসঙ্গ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু নথিতেই নয়, নিজের বক্তব্যেও শাহ বারবার সেই প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে এবং বিরোধী নেতারাও তার শিকার।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতারাও অতীতে হামলার মুখে পড়লেও তাঁদের প্রসঙ্গ এ ভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফলে শুভেন্দুকে ঘিরে এই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট বলেই মনে করা হচ্ছে।শাহের বক্তব্যে আরও একটি দিক উঠে আসে রাজ্যে বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তির প্রসঙ্গে শুভেন্দুর ভূমিকা। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বিজেপির ভোট শতাংশ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং রাজ্য জুড়ে তিনি দলের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।মঞ্চে উপস্থিত রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং নেতা শমীক ভট্টাচার্য-র উপস্থিতি সত্ত্বেও শাহের বক্তব্যে শুভেন্দুর নামই বেশি করে উঠে আসে। এমনকি, দলীয় সূত্রে দাবি, প্রার্থী তালিকা তৈরিতেও তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্য।বিজেপি এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা না করার নীতি বজায় রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের আগে এই প্রথম বড় কর্মসূচিতে শুভেন্দুকে ঘিরে শাহের বিশেষ উল্লেখ রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মত বিশ্লেষকদের।সব মিলিয়ে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও, বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব যে ক্রমশ বাড়ছে, শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই বার্তাই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মার্চ ২৯, ২০২৬
কলকাতা

তৃণমূলকে আক্রমণ, বাম শাসনের প্রশংসা শাহর, রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতায় এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন তিনি দাবি করেন, বর্তমান তৃণমূল সরকারের তুলনায় বাংলায় বামফ্রন্টের শাসন অনেক ভালো ছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।কলকাতায় বিজেপির চার্জশিট প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, বাংলায় সোনার বাংলা গড়ার নামে হিংসা ও অরাজকতা বেড়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে এবং সিন্ডিকেট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, তোষণের রাজনীতি করা হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।শাহ দাবি করেন, পরিবর্তনের আশায় বাংলার মানুষ একসময় তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু এখন অনেকেই মনে করছেন, আগের বাম শাসনই ভালো ছিল। এই প্রসঙ্গে তিনি তৃণমূল সরকারের সঙ্গে বাম আমলের তুলনা টানেন।এদিন তিনি তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রকাশ করেন। সেখানে দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা, সিন্ডিকেট রাজ এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এবারের নির্বাচনে বাংলার মানুষকে ভয় আর ভরসার মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।শাহ আরও দাবি করেন, গত কয়েক বছরে দেশের একাধিক রাজ্যে বিজেপি প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে। এবার বাংলাতেও বিজেপি বড় জয় পাবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর কথায়, অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গে একই দলের সরকার গঠনের সময় এসে গেছে।এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

মার্চ ২৮, ২০২৬
কলকাতা

শেষ মুহূর্তে বড় বদল! অবশেষে বিমানে অন্ডাল যাচ্ছেন মমতা, সকাল থেকে টানটান নাটক

সকাল থেকে অনিশ্চয়তার পর শেষ পর্যন্ত অন্ডাল সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন করে সূচি পাঠানো হয়েছে বিমানবন্দরে। ঠিক হয়েছে, দুপুর দুটো দশের বিমানে তিনি কলকাতা থেকে অন্ডাল রওনা দেবেন।আবহাওয়ার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরই দুপুরের বিমানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।এদিন সকালে অবশ্য ভিন্ন ছবি দেখা গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানযাত্রা বাতিল করা হয়। তখন খবর পাওয়া যায়, তিনি সড়কপথে অন্ডালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রেও জানানো হয়েছিল, নির্ধারিত বিমানে তিনি যাচ্ছেন না।সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল। একটি ছিল সড়কপথে যাওয়া, অন্যটি বিমানপথে। জানা গিয়েছিল, নির্ধারিত কাজ দ্রুত শেষ হলে তিনি সড়কপথে রওনা দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিকেল দুটো থেকে আড়াইটের মধ্যে বেরোনোর সম্ভাবনা ছিল। তবে কাজ শেষ হতে দেরি হলে এবং বিকেলের দিকে বেরোতে হলে বিমানপথে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখা হয়েছিল।শেষ পর্যন্ত সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিমানেই অন্ডাল যাবেন। সকাল থেকে এই সফর ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে অবশেষে নির্দিষ্ট সময়েই তাঁর যাত্রা নিশ্চিত হল।

মার্চ ২৭, ২০২৬
রাজ্য

আবার ফিরছে তাণ্ডব! ঝড়-বৃষ্টিতে কাঁপবে বাংলা, একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা

বৃহস্পতিবার বিকেলে খারাপ আবহাওয়ার জেরে হঠাৎই ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব দেখেছিল রাজ্যবাসী। প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে উঠেছিল যে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান অবতরণ করতেও সমস্যায় পড়ে। সেই ঘটনার পর ফের একই রকম দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়।আলিপুর আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে শুক্রবার থেকে রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এবার একাধিক জেলার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন রাজ্যজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত এই সতর্কতা জারি থাকবে।শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় কালবৈশাখীর জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।উত্তরবঙ্গেও একই পরিস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার ওই সব এলাকায় ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দমদম এলাকায় প্রায় পনেরো কিলোমিটার উঁচু উলম্ব মেঘ তৈরি হয়েছিল। তার জেরেই আচমকা ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চলে। প্রবল হাওয়ায় অনেক জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়। এবার সেই রকম পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

মার্চ ২৭, ২০২৬
রাজ্য

অবশেষে ডিএর টাকা ছাড়ছে রাজ্য! কবে, কীভাবে পাবেন কর্মীরা? জানুন বিস্তারিত

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই অর্থদপ্তর থেকে টাকা ছাড়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। গ্রুপ ডি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সরাসরি তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। অন্যদিকে বাকি কর্মীদের ক্ষেত্রে সেই টাকা জমা পড়বে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে।জানা গিয়েছে, সরকারি কর্মীরা চাইলে এখন নিজেদের বকেয়া ডিএর হিসাবও দেখতে পাচ্ছেন। কীভাবে এই টাকা জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে, সেই প্রক্রিয়াও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা বিল তৈরি করে তা অনুমোদন করলে সেই টাকা কর্মীদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। একইসঙ্গে কিস্তিতে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্যও দেখা যাবে।উল্লেখ্য, বহুদিন আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। সেখানে আদালত নির্দেশ দেয়, বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে। যদিও সেই সময়সীমার মধ্যে টাকা দেওয়া হয়নি। পরে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয়।পরবর্তীতে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কর্মীদের আইনি অধিকার এবং তা দিতেই হবে। মে মাসের মধ্যে দুই কিস্তিতে ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তার মধ্যে প্রথম কিস্তি মার্চ মাসের শেষের মধ্যে দেওয়ার কথা বলা হয়।এরপর বাকি টাকা কীভাবে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত পুরো টাকা কর্মীরা পাননি। রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, বহু পুরনো নথি ডিজিটাল না হওয়ায় তা যাচাই করতে সময় লাগছে। সেই কারণে ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা দেরি হয়েছে।এরই মধ্যে ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, চলতি মাসের মধ্যেই ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ দিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন সরকারি কর্মীরা।

মার্চ ২৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোটার তালিকা থেকে উধাও নাম! নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেতার স্ত্রীর নাম বাদে তুমুল বিতর্ক

সোমবার রাতে প্রকাশিত সম্পূরক ভোটার তালিকাকে ঘিরে নন্দীগ্রামে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় অযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ সভাধিপতি এবং তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের স্ত্রী রহিমা বিবির নাম। প্রায় ষাট বছর বয়সী রহিমা বিবির নাম বাদ পড়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট প্রায় আশি হাজার ভোটার যাচাইয়ের তালিকায় ছিলেন। তার মধ্যে প্রায় সত্তর হাজার ভোটারের নথি বিচারকরা পরীক্ষা করেছেন। এখনও সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত না হলেও, যাঁদের নাম যোগ্য বা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের নাম ধীরে ধীরে সামনে আসছে।এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ সুফিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ১৯৮৬ সাল থেকে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত। তবুও তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে যাওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় নেই বলে তিনি জানান।অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে কটাক্ষ করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের এক বিজেপি নেতা বলেন, শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। এই ধরনের ভুলের জন্য কমিশন নয়, বরং স্থানীয় স্তরের কর্মীরাই দায়ী বলে দাবি করেন তিনি।এদিকে নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটার তালিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে মোট ১৭টি বুথ থাকলেও কয়েকটি বুথের তথ্য এখনও অনলাইনে দেখা যাচ্ছে না। ফলে মনে করা হচ্ছে, সেই বুথগুলির যাচাই প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।যে সব বুথের তথ্য পাওয়া গেছে, সেখানে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন বুথে বিচারাধীন ভোটারদের মধ্যে অনেকের নাম বাতিল করা হয়েছে। কেন্দামারি, জালপাই, মহম্মদপুর, সামসাবাদ এবং দাউদপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠছে।সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা নিয়ে নন্দীগ্রামে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। এই বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

মার্চ ২৫, ২০২৬
রাজ্য

রামনবমীর মিছিল মানেই কড়া বিধি! নজরে ড্রোন, সর্বত্র পুলিশি ঘেরাটোপ

রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে কোনও রকম অশান্তি এড়াতে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় রামনবমীর মিছিল বের হবে। তার আগেই বুধবার নবান্ন থেকে ভিডিও বৈঠকের মাধ্যমে সমস্ত জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করেন মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, মিছিল যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সেই জন্য পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাওড়া, চন্দননগর এবং ইসলামপুরের মতো এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। অতীতে এই সব এলাকায় মিছিলকে ঘিরে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল বলে প্রশাসন বিশেষ সতর্ক।সারা রাজ্যে প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে কলকাতায় থাকবে প্রায় এক হাজার পুলিশ। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যও নেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে উসকানিমূলক বার্তা বা পোস্ট ছড়ানো বন্ধ করতে সাইবার নজরদারিও চালানো হচ্ছে। ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই মিছিল করতে হবে। কোনওভাবেই অস্ত্র নিয়ে শোভাযাত্রা করা যাবে না। নির্দিষ্ট সময় ও রুট মেনে মিছিল করতে হবে এবং কোনও মিছিলে পাঁচশোর বেশি মানুষ থাকতে পারবেন না। এই নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবান্নে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও খোলা থাকবে, সেখান থেকে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে।কলকাতা পুলিশও বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। শহরে প্রায় ষাটটি মিছিল বের হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বড় মিছিল শুরু হবে এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, হেস্টিংস এবং কাশীপুর এলাকা থেকে। প্রতিটি মিছিলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।পুলিশকর্মীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ প্রতিরক্ষামূলক পোশাক রাখা হবে। কোথাও কোনও সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিছিলগুলির উপর ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং পুলিশ সেই ফুটেজ নজরে রাখবে।পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, বাইক নিয়ে মিছিল করা যাবে না এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রুটেই শোভাযাত্রা করতে হবে। প্রতিটি মিছিলের আগে ও পরে পুলিশ থাকবে এবং আশপাশের এলাকাতেও টহলদারি চালানো হবে। পুলিশকর্মীদের পোশাকে বডি ক্যামেরাও থাকবে, যাতে পুরো পরিস্থিতি রেকর্ড করা যায়।সব মিলিয়ে রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও রকম অশান্তি না ঘটে এবং উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

মার্চ ২৫, ২০২৬
রাজ্য

এক ঝটকায় বাদ ১৩ লক্ষ নাম! সামনে এল চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান

অবশেষে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের পরিসংখ্যান সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। এতদিন ধরে যে বিপুল সংখ্যক নাম বিচারাধীন ছিল, সেই বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ৬০ লক্ষ নাম যাচাইয়ের জন্য রাখা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়া এখনও চলছে ।মঙ্গলবার প্রথম সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হলেও সেখানে ঠিক কত নাম রয়েছে, তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল । প্রায় দেড় দিন পর কমিশন সূত্রে জানা গেল, এখন পর্যন্ত ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। অর্থাৎ নতুন করে প্রায় ১৩ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। তার আগে খসড়া তালিকাতেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। পরে চূড়ান্ত তালিকায় আরও প্রায় ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে হিসেব উঠে এসেছে।কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, মঙ্গলবার যে প্রথম সম্পূরক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে প্রায় ১০ লক্ষ নাম রয়েছে। তবে এই তালিকার মধ্যে কতজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।এদিকে, আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় সম্পূরক তালিকা প্রকাশিত হতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রতিদিন নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে কি না, সেটাও বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

মার্চ ২৫, ২০২৬
রাজ্য

আজ রোদ, কাল ঝড়! আবার ফিরছে বৃষ্টির তাণ্ডব, সতর্ক করল আবহাওয়া দফতর

উইকএন্ড জুড়ে বৃষ্টির পর নতুন সপ্তাহের শুরুতেই আকাশ পরিষ্কার এবং রোদ ঝলমলে। তবে এই রোদ দেখে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের শেষের দিকে আবারও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্য জুড়ে।গত সপ্তাহে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বাংলার বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি হয়েছিল, যা চৈত্রের গরমে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সেই প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি। নতুন করে আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হচ্ছে, যার জেরেই আবারও বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার রাজ্যের বেশিরভাগ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।এদিকে বৃষ্টি থাকলেও তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। আগামী চার দিনে রাজ্যে চার থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে এখনই তীব্র গরমের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।আজ কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২২ ডিগ্রি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে ৫৪ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে। আজ কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগণাতেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।তবে দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।উত্তরবঙ্গেও আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গের নিচের দিকের কিছু জেলায় আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকবে। সপ্তাহের শেষে উত্তরবঙ্গেও আবার বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে জানানো হয়েছে।

মার্চ ২৩, ২০২৬
রাজ্য

চৈত্রে শীতের কামড়! এক ধাক্কায় ১১ ডিগ্রি কমে তাপমাত্রা, কাঁপছে বাংলা

চৈত্র মাসের শুরুতেই বাংলার আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গরমের বদলে হঠাৎ করেই ফিরে এসেছে শীতের আমেজ। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বহু জায়গায় রাতে আবার কম্বল টানতে হয়েছে মানুষকে। ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে টানা ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই নেমে গিয়েছে।শুক্রবার রাত থেকে কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে তাপমাত্রায়। প্রথমে প্রায় পাঁচ ডিগ্রি কমার পর শনিবার তা আরও কমে গিয়ে মোট প্রায় এগারো ডিগ্রি নেমে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে এসেছে তেইশ দশমিক দুই ডিগ্রিতে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল উনিশ দশমিক সাত ডিগ্রি।আবহাওয়া দফতরের মতে, রবিবার থেকে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করবে। বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। তবে এখনও কিছু জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় ঘণ্টায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতেও আংশিক মেঘলা আকাশের সঙ্গে মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতাতেও মেঘলা আকাশ থাকবে এবং এক-দুবার বৃষ্টি হতে পারে।সোমবার থেকে এই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃষ্টির পরিমাণ কমে গিয়ে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে।অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে এখনও দুর্যোগ কাটেনি। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় আগামী বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও খুব ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও সপ্তাহের শেষে আবারও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সব মিলিয়ে আবহাওয়ার এই আচমকা বদলে চৈত্রের শুরুতেই অবাক বাংলার মানুষ।

মার্চ ২২, ২০২৬
রাজ্য

ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত! পুলিশের ভূমিকা কমিয়ে আধা সেনার হাতে দায়িত্ব? জল্পনা তুঙ্গে

ভোটের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, ভোটের কয়েক দিন আগে থেকেই রাজ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা হতে পারে। সূত্রের খবর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ আধিকারিক এবং পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের তরফে এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভোটের পাঁচ দিন আগে থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ মূলত আইনগত কাজ ও নথিপত্র সামলাবে, আর নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে আধা সেনার হাতে। ভোটের দিনেও একই ব্যবস্থা বজায় রাখার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আগে বুথে ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সহায়তার দায়িত্বে পুলিশ থাকত, এবার সেই দায়িত্ব অন্যভাবে ভাগ করা হতে পারে।অন্যদিকে, প্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়মও জারি করেছে কমিশন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁদের সমাজমাধ্যমে থাকা সব অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। কোন কোন মাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং কতগুলি অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তা হলফনামায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।ভোটের আগে ভুয়ো প্রচার রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটে কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে নির্দিষ্ট কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞাপন দিলে তা নিয়মভঙ্গ বলে গণ্য হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়ম প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও সংগঠনসবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।এছাড়া বিজ্ঞাপনের অনুমোদন নিয়ে কোনও আপত্তি থাকলে তার জন্য আলাদা আপিলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে প্রচার বা খবর প্রকাশ হচ্ছে কি না, তাও নজরে রাখা হবে।এদিকে, অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও ইদের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে এবং ওই সপ্তাহেই দ্বিতীয় তালিকাও আসতে পারে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বহু আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। পাশাপাশি এই মাসের মধ্যেই আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে আসতে পারে বলে খবর।সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।

মার্চ ২১, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের আগে কড়া বার্তা! নির্বাচন কমিশনের টানা বৈঠক, নজরে আইন-শৃঙ্খলা

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে প্রস্তুতি জোরদার করতে শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছে নির্বাচন কমিশন। দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ভার্চুয়াল মাধ্যমে জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এই বৈঠকে ভোটের প্রস্তুতি, সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।জানা গেছে, এই বৈঠকের পর শনিবার আবার সব পর্যবেক্ষকদের নিয়ে আলাদা বৈঠক করা হবে। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক এবং ৮৪ জন পুলিশ ও ব্যয় পর্যবেক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।এদিকে নতুন দফতরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে নির্বাচন কমিশনের। শিপিং কর্পোরেশন ভবনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের নতুন অফিস আগামী সোমবার থেকে পুরোপুরি চালু হবে। কিন্তু সেই অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে কিছু উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে।এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নতুন দফতরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়েও রাখা হবে এই অফিসকে। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে এই ধারাবাহিক বৈঠক ও পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ২০, ২০২৬
রাজ্য

বিজেপির দ্বিতীয় তালিকায় বড় চমক! কে কোথা থেকে লড়ছেন জানলে অবাক হবেন

দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। এর আগে প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এবার আরও ১১১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট ২৫৫টি আসনে প্রার্থী ঠিক করেছে দল। বাকি রয়েছে আরও ৩৯টি আসন।বুধবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একাধিক বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেই বৈঠক হয়। আগে শোনা যাচ্ছিল প্রায় ৪৫টি আসনে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেল এখনও ৩৯টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি।এই তালিকায় একাধিক চমক রয়েছে। হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে, তবে খড়গপুর সদর থেকে নয়। সেখানে আগে থেকেই দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল হিরণ আদৌ টিকিট পাবেন কি না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে শ্যামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে।এগরা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে দিব্যেন্দু অধিকারীকে। মানিকতলা থেকে তাপস রায় এবং টালিগঞ্জ থেকে পাপিয়া অধিকারীকে প্রার্থী করা হয়েছে।লোকসভা নির্বাচনের পর আবারও বিধানসভা ভোটে সুযোগ পেলেন রেখা পাত্র। আগে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে লড়লেও তিনি হেরে গিয়েছিলেন। এবার তাঁকে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জমে উঠেছে।

মার্চ ১৯, ২০২৬
রাজ্য

রাতারাতি বড় নির্দেশ! বাংলার ১৫ পুলিশ অফিসারকে ভিনরাজ্যে পাঠানোয় চাঞ্চল্য

আবারও গভীর রাতে এল নতুন নির্দেশ। যাঁদের কিছুদিন আগেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি করা হয়েছিল, সেই পুলিশ অফিসারদেরই এবার পাঠানো হচ্ছে ভিনরাজ্যে। বুধবার রাতেই এই নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। মোট ১৫ জন পুলিশ অফিসারকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে।এবার তামিলনাড়ু ও কেরলে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই কারণে আগেই এ রাজ্যের কয়েকজন অফিসারকে সেখানে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। ভোট ঘোষণার আগে যিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন, সেই জগদীশ প্রসাদ মিনাকেও তামিলনাড়ুতে অবজারভার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।এবার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হল। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা এবং শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজাকেও তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ধৃতিমান সরকার এবং আমনদীপ সিংকেও পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।সব মিলিয়ে মোট ১৫ জন অফিসারকে তামিলনাড়ু ও কেরলে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন রাশিদ মুনির খান, সন্দীপ কারা, প্রিয়ব্রত রায়, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী, মুকেশ, মুরলীধর শর্মা, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, ধৃতিমান সরকার, সি সুধাকর, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমনদীপ সিং, আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া এবং সৈয়দ ওয়াকার রাজা।এই অফিসারদের অনেককেই সম্প্রতি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বদলি করা হয়েছিল। এবার তাঁদেরই আবার ভিনরাজ্যে পাঠানো হল। শুধু তাই নয়, পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার জন্য যে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, সেই প্রশিক্ষণও এই ১৫ জনের অধিকাংশের নেই বলে জানা যাচ্ছে। ফলে এত তাড়াহুড়ো করে তাঁদের পাঠানো হল কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মার্চ ১৯, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 32
  • 33
  • ›

ট্রেন্ডিং

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal