• ১০ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

War

বিদেশ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত দিলেন জেলেনস্কি

আলোচনায় কাজ না হলে আরও একটা বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে, দাবি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তবে একইসঙ্গে তিনি এ-ও মনে করেন যে, যুদ্ধ যদি থামাতে হয় তবে তা আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোলোদিমির সম্প্রতি ইউক্রেনে রাশিয়ার অনুপ্রবেশ ঠেকানো নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। ভোলোদিমির জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার মাধ্যমেই ইউক্রেনে রাশিয়ার অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে চান। তবে একই সঙ্গে তাঁর মত, সেই আলোচনা যদি ব্যর্থ হয় তা হলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে বাধ্য।ভোলোদিমির বলেছেন, যুদ্ধ শেষ করার স্বার্থে প্রয়োজনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেও আপত্তি নেই তাঁর। তবে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের একটি শর্ত আছে। ভোলোদিমির জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি মনে করে তাদের মদতপুষ্ট ইউক্রেনের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকাকে ইউক্রেনের সরকার স্বাধীন বলে ঘোষণা করবে, তবে সেই ইচ্ছে পূরণ হবে না। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি এই সংক্রান্ত কোনও বোঝাপড়াতেই আসতে চান না।

মার্চ ২১, ২০২২
বিনোদুনিয়া

জয় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস সবচেয়ে দুর্দান্ত অভিনয় শিল্পীদের স্বীকৃতি দিল

জয় ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলা ২০২২ ছিল ধুমধামের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি তারকা-খচিত সন্ধ্যা কারণ কলকাতার ওয়েস্টিন, রাজারহাটে বাংলা সিনেমার চলচ্চিত্রের শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছিল। মহান জাঁক জমক ও আড়ম্বরের মধ্যে উদযাপিত হল , পুরষ্কার অনুষ্ঠানের পঞ্চম সংস্করণটি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে স্বীকৃত নামগুলির জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং শিল্পীদের স্পটলাইট আলোকিত করেছে।রাতের বেলায় সবচেয়ে বেশি উল্লাস ছিল বরুন বাবুর বন্ধু এবং টনিক চলচ্চিত্রের জন্য, যেখানে দুটি সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে বিজয়ী হিসেবে আইকনিক ব্ল্যাক লেডি ভাগাভাগি করতে চলেছে। উভয় সিনেমার কাস্ট তাদের গৌরবের মুহূর্তে তাদের পথ তৈরি করায় মঞ্চটি দেখার মতো ছিল। ৮১ বছর বয়সে, পরাণ বন্দোপাধ্যায় প্রমাণ করেছিলেন যে বয়স একটি সংখ্যা ছাড়া কিছুই নয়, কারণ অভিনেতা টনিকের জন্য প্রধান ভূমিকায় (পুরুষ) সেরা অভিনেতা দাবি করেছিলেন। অভিনেতা বলেন, ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে অক্সিজেন দিয়েছে। বয়সের মাপকাঠির অন্য প্রান্তে ছিলেন কিশোর এবং শিশু শিল্পী সামিউল আলম যিনি ট্যাংরা ব্লুজ চলচ্চিত্রে তার দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য পার্শ্ব চরিত্রে (পুরুষ) সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। জয়া আহসান গর্ব ও আনন্দে উদ্ভাসিত ছিলেন কারণ তিনি বিনিসুতয় তার দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য প্রধান চরিত্রে (মহিলা) সেরা অভিনেতার স্বীকৃতি পান। লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় প্রবীণ চলচ্চিত্র অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে। প্রায় পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে ১০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে, তারকা সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জির কাছ থেকে পুরস্কারটি পান। একজন ডাক্তার হিসাবে রোগীদের চিকিত্সা করা থেকে প্রথমবারের মতো অভিনয়ে পরিবর্তন করার পদক্ষেপটি কিঞ্জল নন্দার জন্য একটি ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছিল কারণ তিনি হীরালাল ছবিতে তার ভূমিকার জন্য সেরা আত্মপ্রকাশ (পুরুষ) পুরস্কারটি ঘরে তুলেছিলেন। সাক্ষী হওয়ার আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল অর্পিতা চ্যাটার্জি তার ২৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পাওয়া। অভিনেত্রী আইকনিক ব্ল্যাক লেডির সাথে তার বড় মুহূর্ত পেয়েছিলেন কারণ তিনি আব্যাক্তোতে তার অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী (সমালোচক) পুরস্কার জিতেছিলেন। যেখানে অর্পিতা তার প্রথম ফিল্মফেয়ার গৌরবের স্বাদ পেয়েছিলেন, বাবা যাদব, ভারতীয় চলচ্চিত্র কোরিওগ্রাফার, এবং বাংলা ও হিন্দি সিনেমার পরিচালক, তার তৃতীয় পুরস্কার জিতেছিলেন। তিনি ম্যাজিক চলচ্চিত্রের রোমান্টিক ট্র্যাক মোন আনমোনের জন্য সেরা কোরিওগ্রাফির পুরস্কার জিতে নেন।

মার্চ ২০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

মহারাষ্ট্রে পুরস্কৃত হল বাংলার স্বল্প দৈর্ঘের ছবি 'স্বপ্ন'

১২০০ টির ও বেশী স্বল্প দৈর্ঘের ছবি নিয়ে আয়োজিত রিল ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (Reel International Film Festival) প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হল বাংলার স্বল্প দৈর্ঘের ছবি স্বপ্ন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সূর্যদীপ। এই রিল ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশানাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয় মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদে। ছবির পরিচালক জনতার কথাকে জানান, প্রতিযোগিতাটা খুব কঠিন ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষার মোট ১২০০ এর বেশি স্বল্প দৈর্ঘ্য ছবি এই ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণ করেছিল। ভারত সহ ইংল্যান্ড, জার্মান, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, কানাডা, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও আরও অন্যান্য দেশের বিখ্যাত পরিচালকদের ছবির পাশাপাশি আমার পরিচালিত বাংলা ছবি স্বপ্ন স্পেশল জুড়ি পুরস্কার (Special Jury Award) পাওয়ায় আমি ভীষণ খুশি। ছবি সম্বন্ধে জানাতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমান বিশ্বের বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের প্রধান সমস্যা শিশুশ্রমিক, তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার বক্তব্য নিয়েই আমাদের এই গল্প।স্বপ্ন শর্টফিল্ম সম্মন্ধে বলতে গিয়ে ফিল্মের পরিচালক সূর্যদীপ জনতার কথাকে বলেন, আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাবো গল্পের লেখক বিশ্বজিৎ চৌধুরী কে, এবং সেই সঙ্গে স্বপ্ন শর্ট ফিল্মের সকল কলা কুশলীদের। বিশ্বজিৎ বাবুর গল্পটা আমাকে ভীষণ ভাবে নাড়া দেয়, ভালো গল্প হলে পরিচালনার দায়িত্ব টাও অনেকটা বেড়ে যায়, তাই আমি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী চেষ্টা করেছি একটা ভালো ছবি দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্য। বর্তমানে বাংলা ছবির দর্শক সংখ্যা হাতে গুনে বলে দেওয়া যায়, আর শর্টফিল্ম শুনলে তো সেটা হাসির খোরাক হয়ে যায় অনেকের কাছে, তাই মানুষ যাতে আরো বেশি করে বাংলা ছবি দেখে, বাংলা ছবি দেখার আগ্রহ দেখায় তার দায়িত্ব যেমন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বিশিষ্ট বর্তমান পরিচালকদের, তেমনই আমাদের মতো নবাগত শর্টফিল্ম পরিচালকদের ও সেই দায়িত্বটা সমান ভাবে নিতে হবে, তবেই দর্শক বন্ধুরা বেশি করে বাংলা ছবি দেখার আগ্রহ দেখাবেন।স্বপ্ন তে অভিনয় করছেন একাধিক নতুন মুখ, যাদের মধ্যে অনেকেই ক্যামেরার সামনেও প্রথম বার। এই ছবির প্রধান দুই চরিত্র, দুই শিশু শিল্পী শান্তনু চক্রবর্তী ও বর্ষা পাল, যাদের অভিনয় ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রশংসা পেয়েছে, শুধু তাই নয়, পেয়েছে তিন তিনটি ফেস্টিভ্যাল থেকে শ্রেষ্ট শিশু শিল্পীর পুরস্কার। সূর্যদীপ আরও জানান, আমি ষ্টার কাস্ট এ বিশ্বাসী নই । সুপ্ত প্রতিভা গুলো বের করে আনতে সর্বদা চেষ্টা করি। কাজ টা যথেষ্ট কঠিন হলেও আমি ভরসা রাখি নতুনদের উপর। ছোট এবং নবাগত শিল্পীদের দের নিয়ে কাজ একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ, আমি সেটা সর্বদা নিতে প্রস্তুত। আমি মনে করি নতুন শিল্পী উঠে না আসলে প্রথম যে সমস্যাটা হবে সেটা হল, দর্শক দের মধ্যে একই মুখ দেখতে দেখতে একঘেয়েমি ক্লান্তি এসে যাবে, আর যেটা হবে সেটা হল, জেনেরেশন গ্যাপ বা সাপ্লাই চেন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কোনো পরিচালকের ক্ষমতা থাকে না কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী কে ষ্টার বানানোর। তাদের চেষ্টা আর প্রতিভাই তাদের সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেয়। পরিচালকের কাজ তাদেরকে চরিত্রগুলো তে কি কি বৈশিষ্ট আছে, তা সন্মন্ধে একটা পরিষ্কার ধারণা দেওয়া আর টেকনিকালি সঠিক কিছু পদ্ধতি ও কৌশল তাদেরকে শিখিয়ে দেওয়া মাত্র।এই ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গেছে বেশ কিছু থিয়েটার কর্মীদের, যার মধ্যে অনুপম মুখার্জি ও পুষ্পিতা বক্সী অন্যতম। সূর্যদীপ নিজেও একজন নাট্য জগতের মানুষ তাই নাটকের শিল্পীদের নিয়ে কাজ করতে হয়ত তিনি পছন্দ কড়েছেণ। এই প্রসঙ্গে তিনি জনতার কথাকে বলেন, নাটকের ছেলে মেয়েদের নিয়ে কাজ করলে কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায় কারণ পরিচালক ঠিক কি চাইছে তারা খুব সহজেই বুঝে যায়।স্বপ্ন শর্টফিল্মে চিত্রগ্রহনের দায়িত্বে ছিলেন সৌনক দাস ও সৌরভ সাহা। নতুন অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে সুবীর মুখার্জী, লক্ষী হালদার, সুমন অধিকারী, পিন্টু ঘোষাল, অর্ণব সেন গুপ্ত ও বান্টি হালদারকে অভিনয় করতে দেখা গেছে এই ছবিতে। এখনো পর্যন্ত স্বপ্ন শর্টফিল্মটি পনেরো টা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এ অংশগ্রহণ করে সর্বমোট নয়টা ফেস্টিভ্যাল থেকে পুরস্কৃত হয়েছে।।

মার্চ ১৩, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌নিমন্ত্রিত হয়েও শচীনের বাড়িতে রান্না করে খেতে হয়েছিল শেন ওয়ার্নকে!‌

নিমন্ত্রিত হয়েও আমন্ত্রণকারীর বাড়িতে রান্না করে খাওয়া! এই রকম আজব ঘটনা কখনও শুনেছেন নাকি? হ্যাঁ, এমনটাই ঘটেছিল। তাও আবার শচীন তেন্ডুলকারের বাড়িতে। আর আমন্ত্রিত ব্যক্তির নাম শুনলে আরও চমকে যাবেন, শেন ওয়ার্ন। ঘটনাটা ঘটেছিল ১৯৯৮ সালে। ভারত সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া দল। বাইশ গজে যতই লড়াই থাকুক না কেন, মাঠের বাইরে শেন ওয়ার্নের সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্ব ছিল শচীন তেন্ডুলকারের। সেই সিরিজে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে একটা ম্যাচ ছিল। অস্ট্রেলিয়া দল মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর শচীন নৈশভোজের জন্য ওয়ার্নকে তাঁর বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ওয়ার্ন নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে শচীনের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ওয়ার্ন কোনও একসময় শচীনকে বলেছিলেন, ভারতীয় খাবার তিনি পছন্দ করেন। তাই ভারতীয় খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল ওয়ার্নের জন্য। নৈশভোজের টেবিলেন বসে একটুকরো চিকেন মুখে তোলার পরই ওয়ার্ন চোখে সর্ষের ফুল দেখেছিলেন। তারপর শচীন লক্ষ্য করেন, তাঁর ম্যানেজারকে ওয়ার্ন কিছু বলছেন। শচীন যখন অন্যদের খাবার পরিবেশন করতে ব্যস্ত, তখন ওয়ার্ন নিজের খাবারের প্লেট টেবিলে রেখে শচীনের ম্যানেজারকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে যান। ম্যানেজারের সাহায্যে রান্নাঘরে গিয়ে নিজে রান্না করে তারপর ডিনার করেন। আসলে মশলাদার খাবার খেতে পারেননি ওয়ার্ন। তাই নিজেই রান্না করে খেয়েছিলেন। শচীন নিজেই এই ঘটনার কথা তুলে ধরেছিলেন।মাঠের মধ্যে বিপক্ষ ব্যাটারদের স্পিনে জালে ফেললেও দারুণ দিলদরিয়া ছিলেন শেন ওয়ার্ন। তাঁর মহানুভবতার কথা তুলে ধরেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। আর এই মহানুভবতা আবার ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের ওপর দেখিয়েছিলেন ওয়ার্ন। ইংল্যান্ড দল অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল। সিরিজের ফাঁকে ইংল্যান্ড ক্রিকেটাররা মেলবোর্নের অনতিদূরে একটা গল্ফ ক্লাবে গল্ফ খেলতে চেয়েছিলেন। টিম হোটেল থেকে ইংল্যান্ড ক্রিকেটারদের গল্ফ ক্লাবে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করেছিলেন শেন ওয়ার্ন। বিশাল অঙ্কের সেই হেলিকপ্টার ভাড়ার বিল ওয়ার্ন নিজেই মিটিয়েছিলেন। এমনকি গল্ফ ক্লাবের বিলও ওয়ার্ন মিটিয়েছিলেন। ওয়ার্নের এই ব্যবস্থাপনায় খুশি হয়ে ইংল্যান্ড শিবিরের পক্ষ থেকে ওয়ারনকে একটা বিশেষ উপহার দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, হেলিকপ্টার ভাড়া ও গল্ফ ক্লাবের বড় অঙ্কের বিল পাওয়ার পরে ওয়ার্নের রিঅ্যাকশন ছিল, ঠিক আছে। একবারের জন্যও ওয়ার্ন কিন্তু বলেনি, এই বিলটার জন্য কি ইংরেজ ক্রিকেটাররা ওকে টাকা দেবে! ও চুপচাপ বিল মিটিয়ে দেয়।

মার্চ ১১, ২০২২
বিদেশ

চতুর্থ বৈঠকও নিস্ফলা, ইউক্রেনের দাবি মানতে নারাজ রাশিয়া

চতুর্থ বৈঠকও সম্পূর্ণ নিস্ফলা। ১৫ দিন বাদেও রফাসূত্র মিলল না রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। বৃহস্পতিবারই তুরস্কে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সার্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু সেই বৈঠকেও কোনও রফাসূত্র মেলেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের উপরে রাশিয়া সামরিক অভিযান শুরু করার পর এই প্রথম দুই বিদেশমন্ত্রী মুখোমুখি বৈঠকে বসেন।বৈঠক শেষে ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা জানান, ইউক্রেনের তরফে যুদ্ধবিরতি ও মারিউপোল থেকে মানবিক করিডর তৈরির আর্জি জানানো হয়েছিল, কিন্তু রাশিয়ার তরফে সেই আবেদন স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী লাভরভ জানান, বেলারুশে কূটনৈতিক স্তরের আলোচনার বিকল্প হতে পারে না। তবে দুইপক্ষেই ফের একবার বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন যুদ্ধ থামানোর রফাসূত্র খোঁজার জন্য।ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী বলেন, আমি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী লাভরভের কাছে খুব সহজ একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আমি ইউক্রেনের মন্ত্রী, কর্তৃপক্ষ, প্রেসিডেন্টকে এখুনি ফোন করতে পারি এবং মানবিক করিডর তৈরির জন্য ১০০ শতাংশ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারি। আমি ওনার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে উনিও একই কাজ করতে পারবেন কিনা। উনি কোনও উত্তর দেননি।এদিকে, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর দাবি, ইউক্রেনের প্রতিনিধি কেবল বৈঠকে যোগ দিতে হবে, সেই কারণেই এসেছিলেন। যুদ্ধবিরতির দাবি আলোচ্য বিষয় ছিল না। তিনি পরমাণু আক্রমণ বা যুদ্ধের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিতে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি না যে ইউক্রেনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব পরমাণু যুদ্ধের আকার নিতে পারে। আমি এটা বিশ্বাস করিনা এবং করতেও চাই না।

মার্চ ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‘‌দর্শকরা তোমার ঠুকঠুক ব্যাটিং দেখতে আসেনি, শচীনের শট দেখতে এসেছে’‌ সৌরভকে কেন একথা বলেছিলেন ওয়ার্ন?‌

২২ গজের লড়াইয়ে বিপক্ষের ক্রিকেটারদের অস্ট্রেলিয়ানরা স্লেজিং করবেন না, এটা হতেই পারে না। অসি ক্রিকেটারদের হাত ধরেই অন্য মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিল ক্রিকেট মাঠের স্লেজিং। তবে অন্য ক্রিকেটারদের তুলনায় শেন ওয়ার্ন ছিলেন একটু অন্যরকম। খুব বেশি স্লেজিংয়ে মনোযোগ দিতেন না। তবু সৌরভ গাঙ্গুলিকে একবার তাঁর স্লেজিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছিল। ওয়ার্নের স্লেজিংয়ে উত্যক্ত হয়ে তাঁকে উইকেটও উপহার দিয়েছিলেন সৌরভ।১৯৯৯ সালে অ্যাডিলেডে ভারতঅস্ট্রেলিয়া টেস্ট ম্যাচ চলছিল। ক্রিজে ব্যাট করছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি ও শচীন তেন্ডুলকার। সৌরভ ছিলেন স্ট্রাইকিং এন্ডে, আর শচীন তখন ছিলেন ননস্ট্রাইকিং এন্ডে। ওয়ার্নের বলে জমাটি ডিফেন্স করছিলেন সৌরভ। শচীন ও সৌরভ জুটি ততক্ষণে সেঞ্চুরির পার্টনারশিপ করে ফেলেছে। জুটি ভাঙতে না পেরে সৌরভকে স্লেজিং করেছিলেন ওয়ার্ন। সৌরভ ডিফেন্স করেই পা দিয়ে বল সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তা দেখে ওয়ার্ন সৌরভকে বলেছিলেন, পার্টনার, মাঠের এই ৪০ হাজার দর্শক তামার এই ঠুকঠুক ব্যাটিং দেখতে আর বলকে লাথি মারা দেখতে আসেনি। দর্শকরা শচীনের শট দেখতে এসেছে।ওয়ার্নের এই কথা শুনে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি সৌরভ। পাল্টা জবাব দিতে চেয়েছিলেন। ওয়ার্নের ওই কথা শুনে তিন বল পরেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে তাঁর বল বাউন্ডারির বাইরে ফেলতে চেয়েছিলেন সৌরভ। উইকেটের পেছনে থাকা অ্যাডাম গিলক্রিস্ট দুরন্ত স্টাম্পড করেন সৌরভকে। ওই ইনিংসে ১৭২ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৩৩ বলে ৬০ রান করেছিলেন সৌরভ। আর শচীন ১৩৩ বলে করেছিলেন ৬১। তিনিও ওয়ার্নের শিকার হয়েছিলেন। ওয়ার্নের বলে ফরোয়ার্ড শট লেগে জাস্টিন ল্যাঙ্গার শচীনের ক্যাচ নিয়েছিলেন। ওই ইনিংসে ৯২ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন ওয়ার্ন। সৌরভ, শচীন ছাড়াও তিনি তুলে নিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড় ও এমএসকে প্রসাদকে। গত শুক্রবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কিংবদন্তী লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। তাঁর মৃত্যুর পর অনেকেই ওয়ার্নকে নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করেছেন। কেই বলেছেন স্পিনের জাদুকর, কেউ আবার তাঁকে অবিহিত করেছেন মায়াবী ক্রিকেটার হিসেবে। কেউ বলেছেন থিয়েটার ছিলেন, কেউ আবার বলেছেন ব্লক ব্লাস্টার। বিশুদ্ধ বিনোদনকারী শব্দটি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে প্রায়ই লেখা হয়ে থাকে। যা শেন ওয়ার্নের ক্ষেত্রে ছিল একেবারে ছিল যথার্থ সত্য। মাঠের মধ্যে কিংবা বাইরে, বিনোদনের ব্যাপারে তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

মার্চ ০৯, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বিশেষ সম্মানে সম্মানিত পরিচালক অরূপ সেনগুপ্ত

ইতিমধ্যে অরূপ সেনগুপ্ত নামটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত। বলিউড থেকে একাধিক স্বপ্ন নিয়ে অরূপ বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখেন। পরিচালনা করতে থাকেন চার এক্কে প্যাঁচ, এ.কে.Ray, Unethical-র মতো শর্টফিল্ম। এর আগেও বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে তার পরিচালিত শর্টফিল্ম আনএথিক্যাল। কিন্তু এবার তামিল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ মনোনীত হয় অরূপ সেনগুপ্ত পরিচালিত আরোহন প্রোডাকশন এর প্রযোজিত ছবি আনএথিক্যাল এবং জিতে নেন বেস্ট কনসেপ্টচুয়্যাল অ্যাওয়ার্ডস। অরূপ সেনগুপ্ত পরিচালিত আনএথিক্যাল-এ অভিনয় করেছেন তন্ময় ভট্টাচার্য, পৌলমী দাস, পূজা গাঙ্গুলি এবং সুপর্ণা চ্যাটার্জী। অরূপ সেনগুপ্তের হাত ধরে প্রথম বাংলা সিনেমার জগতে পা রাখতে চলেছে তন্ময়। এই ছবির অ্যাওয়ার্ড নিয়ে জনতার কথা কে অরূপ জানান, এই ছবিটা ২৭ মিনিটের। অ্যাওয়ার্ড সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়েছে অনলাইনে। খুব ভালো লাগছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

আতঙ্কে আন্ডারগ্রাউণ্ড ও বাংকারে দিন কাটানো, তারপর টানা হাঁটা, বর্ধমানের বাড়িতে ফিরলো দুই পড়ুয়া

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণে আন্ডারগ্রাউণ্ডের মধ্যে শ্বাসকষ্ট সহ্য করেই দিন কাটছিল ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলের। সেই কথা জানতে পারার পর থেকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শেখ আকিব মহম্মদের বাবা মায়ের। অবশেষে অবসান হল উৎকণ্ঠার। রাশিয়ান সেনাদের হামলায় তছনছ হয়ে যাওয়া ইউক্রেনের খারকিভ থেকে শনিবার সকালেই বাড়ি ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে শেখ আকিব। ছেলে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণ থেকে বাড়ি ফিরে আসতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে আকিবের বাবা মায়ের। খুশি প্রতিবেশীরাও। স্থানীয় বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এদিনই আকিবের বাড়িতে পৌছে তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পূর্বস্থলীর চুপি কালিতলা এলাকায় বাড়ি শেখ আকিব মহম্মদের। সে ২০১৮ সালে ইউক্রেণের খারকিভ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য যায়। দিন দশেক আগে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেণের খারকিভে আটকে পড়ে ডাক্তারি পড়ুয়া এই বাঙালি যুবক। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিন আকিব সহ প্রায় পাঁচ শতাধীক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর ঠাঁই হয় সেখানকার আন্ডারগ্রাউন্ডে। আকিব জানিয়েছে,চেহারা মোটাসোটা হওয়ায় আন্ডারগ্রাউন্ডে তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকায় খাবারদাবার কিনে খাওয়াও সেখানে দুরহ হয়ে পড়ে। সামান্য কিছু শুকনো খাবার খেয়ে আতঙ্ক বুকে নিয়েই আন্ডারগ্রাউণ্ডে তাঁকে দিন কাটাতে হয়। গত ১ মার্চ সকালে তাঁরা আন্ডারগ্রাউণ্ড থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান। সেখান থেকে ট্রেন ধরে তাঁরা পোলান্ড বর্ডারে পৌছান। ইন্ডিয়ান এম্বাসি পোলাণ্ড বর্ডার থেকে তাঁদেরকে দিল্লিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। ৪ মার্চ দিল্লিতে পৌছান। শনিবার সকালে দিল্লী থেকে পূর্বস্থলীর চুপির বাড়িতে ফেরেন। আকিবের বাবা শেখ আমজাদ বলেন, আমার ছেলে বাড়ি ফিরতে পারলেও এখনও অনেক ভারতীয় ছাত্রছাত্রী দেশে ফিরতে পারেনি। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে ওইসব ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক ভারত সরকার। আকিমের মতোই এদিন ইউক্রেণ থেকে বর্ধমানের নারান দিঘীর বাড়িতে ফিরেছে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ুয়া ছাত্র রোহিত ভগত। বাংকারে কয়েকদিন কাটিয়ে তার পর সাত কিমি পথ হেঁটে পোল্যান্ড বর্ডারে পৌছায় রোহিত। সেখান থেকে ভারতীয় এম্বাসির ব্যবস্থাপনায় অনেক কষ্টে বাড়ি ফিরে আসতে পারলেও স্বস্তিতে নেই রোহিত। কোর্সের ফাইনাল ইয়ার শেষ হতে তাঁর আর তিন মাস বাকি ছিল। এই অবস্থায় শিক্ষাগত ডিগ্রীর ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা ভেবেই রোহিতের দুশ্চিন্তা এখন বহুগুন বেড়ে গিয়েছে। রোহিত জানিয়েছে, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ইউক্রেণে যান। বাকি ছিল ফোর্থ ইয়ারের আর তিন মাসের কোর্স। সামনের জুন মাসেই ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া গোলা বারুদের আঘাত হানা শুরু করেদেয়। তার করণে সমগ্র ইউক্রেণ জুড়ে তৈরি হয়েযায় যুদ্ধ পরিস্থিতি। এই অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাঁদের কয়েক দিন বাংকারের মধ্যে কাটাতে হয়। কোনওক্রমে সেখান থেকে তাঁরা লিভিয়া পৌছান। পরে সাত কিলোমিটার হেঁটে সেখান থেকে পোলান্ড বর্ডারের নতুন চেকপোস্টে হাজির হন। যেটা খুলেছিল ভারতীয় এম্বাসি, সেই চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় এম্বাসি থেকে তাঁদের বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয় পোল্যান্ডের ইন্ডিয়ান এম্বাসির ভাড়া করা হোটেলে। সেটিকেও ক্যাম্প বলা যেতে পারে। ওই ক্যাম্পে ছশোর উপর ভারতীয় ছাত্র ছাত্রী ছিল। দেশে ফেরার জন্য সেখান থেকেই সমস্ত ব্যবস্থা করে দেয় ইন্ডিয়া এম্বাসি।শেষপর্যন্থ শনিবায় সকালে বর্ধমানের বাড়িতে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে রোহিত জানান। ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি রোহিতের পরিবার। তবে ছেলের লেখাপড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে তারাও যথেষ্ট চিন্তায় পড়ে গিয়েছেন।

মার্চ ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সাম্প্রতিক ফর্ম আশা জাগাচ্ছে রনজিতে, টানা তৃতীয় জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলা

বছর দুয়েক আগে তীরে এসে তরী ডুবেছিল বাংলার। রনজি ফাইনালে উঠেও শেষরক্ষা হয়নি। সৌরাষ্ট্রের কাছে কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বাংলাকে। এবছর চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কিনা, সময়ই বলবে। তবে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের সাম্প্রতিক ফর্ম দেখে আশাবাদী হতেই পারেন বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা। বরোদা ও হায়দরাবাদকে প্রথম দুই ম্যাচে হারানোর পর চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধেও চালকের আসনে বাংলা। বাংলার ৪৩৭ রানের জবাবে চণ্ডীগড় প্রথম ইনিংসে শেষ ২০৬ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ১৮১ ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করে বাংলা। জয়ের জন্য ৪১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে চণ্ডীগড় তুলেছে ১৪/২।প্রথম ইনিংসে ২৩১ রানে এগিয়ে যায় বাংলা। সুযোগ ছিল চণ্ডীগড়কে ফলোঅন করানোর। সেই রাস্তায় হাঁটেনি বাংলা। ব্যাটারদের প্র্যাকটিসের সুযোগ দিকেই আবার ব্যাট করতে নামে। প্রথম ইনিংসে চণ্ডীগড় যে বেশিক্ষণ লড়াই করতে পারবে না, দ্বিতীয় দিনের শেষেই ছবিটা পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল। ৬ উইকেটে ১৩৩ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল। অঙ্কিত কৌশিক ৩০ রানে ও গৌরব গম্ভীর ১১ রানে ক্রিজে ছিলেন। গৌরভ গম্ভীরকে (১৩) দিনের শুরুতেই তুলে নেন মুকেশ কুমার। দলের ২০৬ রানের মাথায় ঈশান পোড়েলের বলে অঙ্কিত কৌশিক আউট হন। তিনি করেন ৬৩। একই ওভারে শ্রেষ্ঠ নির্মোহিকে (০) তুলে নেন ঈশান। জশকরণদীপ সিংকে (৩১) তুলে নিয়ে চণ্ডীগড়কে ২০৬ রানে গুটিয়ে দেন শাহবাজ আমেদ। বাংলার হয়ে নীলকন্ঠ দাস ৩টি, মুকেশ কুমার, ঈশান পেড়েল ও সায়নশেখর মণ্ডল ২টি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলা। নবম ওভারেই ফিরে যান অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন। তিনি মাত্র ১৪ রান করে আউট হন। বাংলার রান তখন ১৮। আর এক ওপেনার সুদীপ ঘরামি (১৩), তিন নম্বরে নামা ঋত্বিক রায়চৌধুরীও (৬) ব্যর্থ। ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলা। মনোজ তেওয়ারিও(১৩) রান পাননি। অনুস্টুপ মজুমদার (৪৩) কিছুটা লড়াই করেন। ১২০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। অভিষেক পোড়েল (৩৮) ও শাহবাজ আমেদ (৩২) কিছুটা লড়াই করেন। ৮ উইকেটে ১৮১ তুলে দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করে বাংলা। জয়ের জন্য ৪১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চণ্ডীগড়ও শুরুতে ধাক্কা খায়। সপ্তম ওভারে আর্সলান খানকে (৪) তুলে নেন মুকেশ কুমার। আর এক ওপেনার হারনুর সিংকে (১০) ফেরান ঈশান পোড়েল। দিনের শেষে চন্ডীগড় ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৪। শেষদিনে জয়ের জন্য বাংলার প্রয়োজন ৮ উইকেট।

মার্চ ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

স্পিন বোলিংকে শিল্পের পর্যায়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন ওয়ার্ন, মত সৌরাশিস লাহিড়ীর

মাত্র ৫২ বছর বয়স। এই বয়সেই মারা যাবেন ক্রিকেটের কিংবদন্তী! না, শেন ওয়ার্নের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। গোটা ক্রিকেট বিশ্ব স্তম্ভিত, শোকাহত। শোকাহত বললে কম বলা হয়। রীতিমতো বাক্যহারা হয়ে পড়েছেন সকলে।শেন ওয়ার্নের মৃত্যু মানতে পারছেন না বাংলার প্রাক্তন স্পিনার তথা বর্তমান বাংলা সিনিয়র দলের সহকারী কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী। কটক থেকে ফোনে সৌরাশিস জনতার কথার প্রতিনিধিকে বলেন, ওয়ার্নের মৃত্যুর খবর শুনে আমার হাতপা থরথর করে কাঁপছিল। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। এত কম বয়সে চলে যাবেন, ভাবতেই পারছি না। সত্যিই অবিশ্বাস্য। গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়ে গেল।শেন ওয়ার্নের সঙ্গে কখনও সামনা সামনি মিলিত হওয়ার সুযোগ হয়নি সৌরাশিস লাহিড়ীর। তবে ওয়ার্নের বোলিং দেখে বড় হয়েছেন বাংলার এই প্রাক্তন স্পিনার। একসময় ওয়ার্নের স্পিনে মোহিত হয়ে থাকতেন বলে জানান সৌরাশিস। তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের কাছে স্বপ্নের নায়ক। ওর বোলিংয়ে মোহিত ছিলাম। কখনও সাক্ষাৎ হয়নি। কিন্তু ওয়ার্নকে দেখেই বড় হয়েছি। আমি তো ওকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্পিনার হিসেবে মনে করি। শুধু দুর্দান্ত বোলারই ছিলেন না, বর্ণময় চরিত্রও ছিলেন। ওয়ার্নের হাত থেকে এমন কিছু বল বেরিয়েছে, ক্রিকেট যতদিন থাকবে, সেই বলগুলোর কথাও ততদিন থেকে যাবে।সৌরাশিস আরও মনে করেন, স্পিন বোলিং যে ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পার্ট হতে পারে, সেটা শেন ওয়ার্নই দেখিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, স্পিন বোলিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন শেন ওয়ার্ন। স্পিন বোলিং যে ক্রিকেটের দুর্দান্ত পার্ট হতে পারে, তাঁর মতো অন্য কেউ তুলে ধরতে পারেননি। বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা স্পিনার হিসেবে আমি ওয়ার্নকেই বেছে নেব। অধিনায়ক হওয়ার মতো সমস্ত গুনও ওয়ার্নের মধ্যে ছিল বলে মনে করেন সৌরাশিস। তিনি বলেন, দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সব গুনই ছিল ওয়ার্নের মধ্যে। কিন্তু স্টিভ ওয়া ও রিকি পন্টিংয়ের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকায় দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ হয়নি।ওয়ার্নের ক্রিকেট ধারাভাষ্যেও মুগ্ধ সৌরাশিস। তিনি বলেন, এত সুন্দর বিশ্লেষণ করতে খুব কম ধারাভাষ্যকারকেই দেখেছি। এককথায় অসাধারণ। আর বৈচিত্রময় চরিত্রর দিক দিয়ে ইমরান খান, ইয়ান বথামদের পাশেই শেন ওয়ার্নকে রাখব। সত্যি কথা বলতে কী, ওর মৃত্যু ক্রিকেট বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

সেঞ্চুরি হাতছাড়া সায়নশেখরের, টানা ৩ ম্যাচ জয়ের পথে বাংলা

এবছর রনজি ট্রফিতে দুরন্ত ছন্দে বাংলা। প্রথম দুটি ম্যাচে বরোদা ও হায়দরাবাদকে হারানোর পর চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধেও জয়ের পথে অভিমন্যু ঈশ্বরণরা। দ্বিতীয় দিনের শেষে চালকের আসনে বাংলা। বাংলার প্রথম ইনিংসে ৪৩৭ রানের জবাবে চণ্ডীগড় তুলেছে ৬ উইকেটে ১৩৩। এখনও পর্যন্ত ৩০৪ রানে পিছিয়ে রয়েছে চণ্ডীগড়। প্রথম দিনের ৩২৯/৬ রান হাতে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলা। আগের দিন মনোজ তেওয়ারি ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এদিন মাত্র ১১ রান যোগ করে তিনি আউট হন। মনোজ যখন আউট হন, বাংলার রান ৩৫০/৭। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান সায়নশেখর মণ্ডল ও মুকেশ কুমার। জুটিতে ওঠে ৭২ রান। এই জুটিই বাংলাকে ৪০০ রানের গন্ডি পার করে দেন। ২৮ রান করে গুরিন্দার সিংয়ের বলে আউট হন মুকেশ কুমার। পরের বলেই ফেরেন ঈশান পোড়েল (০)। নীলকন্ঠ দাসও (১) বেশিক্ষণ ক্রিজে কাটাতে পারেননি। ফলে সঙ্গীর অভাবে সেঞ্চুরি অধরা থেকে যায় সায়নশেখর মণ্ডলের। ১৪২ বলে ৯৭ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। ৪৩৭ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার ইনিংস। সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও আক্ষেপ নেই সায়নশেখরের। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি চণ্ডীগড়ের। পঞ্চম ওভারে মুকেশ কুমারের বলে বোল্ড হন অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা হার্নুর সিং (১৫)। এরপর চণ্ডীগড়কে টেনে নিয়ে যান অধিনায়ক মনন ভোরা ও আর্সলান খান। দুজনে ৫০ রানের জুটি গড়ে তোলেন। ১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো চণ্ডীগড় ১০৫ রানের মাথায় হারায় ষষ্ঠ উইকেট। ৯৭ রানে পড়েছিল চতুর্থ উইকেটটি। মনন ৩৫, অমৃত লাল লুবানা ১০, জসকরন সোহি শূন্য ও গুরিন্দর সিং ৪ রানে আউট হন। অঙ্কিত কৌশিক ৩০ ও গৌরব গম্ভীর ১১ রানে অপরাজিত রয়েছেন। নীলকণ্ঠ দাস ১৪ ওভারে ৪টি মেডেন-সহ ২৫ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন। সায়নশেখর মণ্ডল ১০ রান দিয়ে ২টি উইকেট পান। মুকেশ কুমার পেয়েছেন ১টি উইকেট।

মার্চ ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু স্পিনের যাদুকরের, বাহান্নতেই থেমে গেলো জীবন

থেমে গেলো স্পিনের যাদুকরের হাত, তাঁর আঙ্গুলের ছোঁয়া পেয়ে আর লাল বলটা বনবন করে ঘুড়বে না সবুজ গালিচায়। মাত্র ৫২ বছর বয়সে থেমে গেলো মহান ক্রিকেট শিল্পী-র জীবন। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা স্পিনার মৃত্যুর সময় তাইল্যান্ডে তাঁর নিজ বাসভবনে ছিলেন।শ্যেন ওয়ার্নের সংস্থা শনিবার বিবৃতি দিয়ে এই মর্মান্তিক খবর জানায়। তারা এই বিবৃতিতে জানায়, শ্যেন তাইল্যান্ডে প্রয়াত হয়েছেন এবং তাঁর নিজস্ব বাংলোতে এই মহান ক্রিকেটারকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের সমস্ত রকম চেষ্টা স্বত্তেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর পরিবার এই সময়ে গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।Sad to hear the news that Rod Marsh has passed. He was a legend of our great game an inspiration to so many young boys girls. Rod cared deeply about cricket gave so much-especially to Australia England players. Sending lots lots of love to Ros the family. RIP mate❤️ Shane Warne (@ShaneWarne) March 4, 2022শনিবার ভারতীয় সময় ৭:২৩ মিনিটে, মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাক্তন ক্রিকেটার রডনি মার্শের প্রয়াণে টুইট করেছিলেন শ্যেন। রডনি মার্শ বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। সেই শোকবার্তায় শ্যেন ওয়ার্ন লিখেছিলেন, রড মার্শ প্রয়াত হওয়ার খবর শুনে খুবই খারাপ লাগছে। উনি ক্রিকেটেরএক কিংবদন্তি ছিলেন। বহু উদীয়মান ক্রিকেটারের অনুপ্রেরণা ছিলেন। রড ক্রিকেট ভালোবাসতেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। ওঁর পরিবারকে অনেক অনেক ভালবাসা জানাই।১৩ সেপ্টেম্বর ১৬৬৯ আপার ফার্নট্রি গলি, ভিক্টোরিয়াতে শ্যেন ওয়ার্ন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৪৫টি টেস্টে ৭০৮টি উইকেট সংগ্রহ করেন। শ্রীলঙ্কার মুথাইয়া মুরলিধরনের (৮০০) পর তিনি দ্বিতীয় সর্ব্বচ্চ উইকেট সংগ্রাহক।বর্তমানে শ্যেন তাঁর তাইল্যান্ডের নিজের বাংলোতে বসবাস করছিলেন। নিজের বাসস্থানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ভারতে আইপিএল-এর প্রথম সংস্করনে বিজয়ী দল রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক ছিলেন শেন।

মার্চ ০৪, ২০২২
বিদেশ

পেশোয়ারের মসজিদে আত্মঘাতী জঙ্গি হানায় মৃত কমপক্ষে ৩০, জখম ৫০-এর বেশি

শুক্রবারের প্রার্থনা চলাকালীন পেশোয়ারের কোছা রিসালদার এলাকায় এক মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে ইতিমধ্যেই ৩০ জন মারা গিয়েছেন এবং এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পেশোয়ার শহরের পুলিশ প্রধান মহম্মদ আইজাজ খান জানিয়েছেন, দুই জন হামলাকারী মসজিদে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেখানে উপস্থিত দুই পুলিশ কর্মীর ওপর আততায়ীরা গুলি চালিয়েছেন। গুলিতে এক পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং অপর এক পুলিশকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। খান জানিয়েছেন, গুলি চালনার ঘটনার পরই মসজিদ বিস্ফোরণে শব্দে কেঁপে ওঠে। সাংবাদিকদের ওই পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন বিস্ফোরণের ফলে অনেকেই আহত হয়েছেন এবং পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। আইজাজ খানের মতে, বিস্ফোরণের কারণ ও কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, এখনই তা বলা সম্ভব নয়। তবে কোনও তথ্য পেলে তা জানানো হবে।বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ঘটনার প্রবল নিন্দা করে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করার। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করাতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সে নিয়ে আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।মসজিদে বিস্ফোরণের পর সেখানে পুলিশের পাশাপাশি পাকিস্তান সেনা বাহিনীর দলও পৌঁছে গিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। বিস্ফোরণস্থল ঘিরে ফেলা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই বোম্ব স্কোয়াড পৌঁছে গিয়েছে এবং এলাকা পরিদর্শন করে দেখছে সেখানে আর কোনও বোমা আছে কিনা। বোমা বিস্ফোরণে আহতদের পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বিস্ফোরণে আহত অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানিয়েছে এটি একটি আত্মঘাতী জঙ্গি হানা ছিল।

মার্চ ০৪, ২০২২
বিদেশ

পোলান্ড সীমান্তের কাছে গুলিবিদ্ধ ভারতীয় পড়ুয়া, ভর্তি হাসপাতালে

কিভ থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হলেন ভারতীয় পড়ুয়া। কিভ থেকে পোলান্ড সীমান্তের দিকে আসার পথে এই পড়ুয়া গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে মাঝ পথ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে কিভের একটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কিভের একজন ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং তাকে অবিলম্বে কিভের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ওই ছাত্রের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।এর আগেও রুশ হামলার মুখে পড়ে প্রাণ হারান কর্নাটকের বাসিন্দা এক মেডিক্যাল পড়ুয়া। মঙ্গলবার খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। এই পড়ুয়া উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা। মৃত পড়ুয়ার নাম নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধর। নবীন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবীন। সেই মুহূর্তেই ওই জায়গায় আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৯টি বিমান চালাচ্ছে বায়ুসেনা এবং দেশের বিমান সংস্থাগুলি। বৃহস্পতিবার থেকেই উদ্ধারকাজে নেমেছে এই বিমানগুলি। এদিকে যুদ্ধ কবলিত ভিন্ দেশ থেকে ঘরে ফেরার চেষ্টা। কিন্তু সীমান্ত পেরোনোর আগেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে সর্বস্ব লুট। কনকনে শীতে গরম জামা-জুতো লুট করতেও কার্পণ্য করেনি লুটেরা। এমন অবস্থায় এক ইউক্রেনীয় পরিবারে তিন রাতের আশ্রয় মেলে। অবশেষে প্রবাসী বাঙালির সাহায্যে পোল্যান্ডের অ্যাম্বুল্যান্সে চড়ে সীমান্ত পার। জীবনের এমনই ঘটনাবহুল কয়েকটি দিন কাটিয়ে আজ, শুক্রবার পোল্যান্ড থেকে উড়ানে ফিরছেন অসমের গুয়াহাটির বাসিন্দা এক যুবক। ঘটনার আকস্মিকতায় বিধ্বস্ত যুবক পিছনের কটা দিন মনে করতেই বার বার আতঙ্কিত এবং উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন।

মার্চ ০৪, ২০২২
বিদেশ

ইউক্রেনীয় সেনার হাতে পণবন্দি ভারতীয় পড়ুয়ারা! চাঞ্চল্য

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরই সেই দেশ থেকে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে আটকে থাকা ভারতীয়দের। ইউক্রেনের এয়ারবেস বন্ধ থাকায়, প্রতিবেশী পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ার পথ ধরে বিশেষ বিমানের মাধ্যমে ভারতীয়দের উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। তবে সীমান্ত অবধি পৌঁছতেও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে ভারতীয় পড়ুয়াদের। সম্প্রতিই পড়ুয়ারা অভিযোগ জানিয়েছিলেন, সীমান্তে ইউক্রেনীয় সেনা মারধর করছে। এবার ভারতীয়দের পণবন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল। বুধবারই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে দাবি করে হয়, খারকিভে একদল ভারতীয় পড়ুয়াকে বন্দি করে রেখেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। তাদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র গতকালই একটি সাংবাদিক বিবৃতিতে বলেন, গোপনসূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জোর করে একদল ভারতীয় পড়ুয়াকে খারকিভে আটকে রেখেছে। ওই পড়ুয়ারা ইউক্রেনের সীমান্ত পার করে বেলগার্ডে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু তাদের জোর করে বন্দি বানিয়ে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধারকার্যে সবরকমের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত এবং তাদের উদ্ধার করে রাশিয়ার সীমান্ত দিয়ে ভারতের সামরিক বা উদ্ধারকারী বিশেষ বিমানে করে দেশে পাঠাতে আগ্রহী।উল্লেখ্য, গতকালই খারকিভে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের এই বার্তালাপের কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এই বিবৃতি পেশ করা হয়।

মার্চ ০৩, ২০২২
রাজ্য

শিবের মাহাত্মের কথা শুনে শিব মন্দিরে গিয়ে পুজো সারলেন খান সাহেব

পুরোহিত ভাতা পাওয়া ব্রাক্ষ্মণদের সঙ্গে বৈঠক কারার সময়ে খান সাহেব জেনেছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের মাহাত্ম্যের কথা। পুজারী ব্রাহ্মণদের কাছে তিনি এও জেনেছিলেন মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব শিবের মহারাত্রি। তার পরেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ঠিক করে নেন এই বছরের শিবরাত্রির দিনে তিনি দেবাদিদেব শিবের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন। সেই মত মঙ্গলবার সাত সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে তিনি সোজা চলে যান জামালপুর ব্লকের জৌগ্রামে থাকা সুপ্রাচীন জলেশ্বর শিব মন্দিরে।মন্দিরের পুজারি ব্রাহ্মণের করা মন্ত্রোচ্চারণ শুনে নিজের মুখে তা বলে খান সাহেব শিবের কাছে পূজার্ঘ্য নিবেদন করেন। হাতজোড় করে দেবাদিদেবকে প্রণাম জানিয়ে তিনি আশীর্বাদ প্রার্থনাও করলেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান মেহেমুদ খানের এমন শিব ভক্তি দেখে এদিন জলেশ্বর মন্দির চত্ত্বরে থাকা অনেক শিব ভক্তও থমকে দাঁড়িয়ে যান। হঠাৎ করে দেবাদিদেব শিবের দ্বারস্থ হওয়ার কি কারণ তার ব্যখ্যা দিতে কোন কুণ্ঠা বোধ করে নি মেহেমুদ খান। তিনি বলেন, এই জগৎ চালাচ্ছেন উপরওয়ালা।কেউ তাঁকে বলেন আল্লা, আবার কেউ বলেন ঈশ্বর। তাঁর করুণা ছাড়া এই জগৎতে কোন কিছুই সম্ভব নয়। মেহেমুদ খান জানান, রাজ্য সরকারের পুরোহিত ভাতা পাওয়া জামালপুরের ব্রাহ্মণদের সঙ্গে একদিন তিনি একটি বৈঠকে বসেছিলেন। তখন এক প্রবীন ব্রাহ্মণ পুজারির কাছে হিন্দু ধর্মের সর্বশক্তিমান দেবতা শিবের মাহাত্ম্যের কথা তিনি শুনেছিলেন। তারপরেই দেবতা শিবের চরণে পুজো দেওয়ার ব্যপারে মনস্থির করেন। সেই মতই শিবরাত্রির এই দিনে তিনি জলেশ্বর শিব মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে দেবতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন বলে জানান। পাশাপাশি মেহেমুদ খান এও বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারে বারে এই বাংলার সর্ব ধর্ম সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। সম্প্রীতি বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রীও সকলকে এক হয়ে থাকার বার্তা দেন। তাঁরই দলের একজন সেনাপতি হয়ে তিনিও মনে করেন সব ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোটাই প্রকৃত ধার্মিকের কাজ। সেই বিশ্বাস ও ভক্তিতে ভর করেই এদিন জলেশ্বর শিব মন্দিরে পৌছে ভক্তি ভরে পুজো দিয়েছেন বলে খান সাহেব জানিয়ে দেন।

মার্চ ০১, ২০২২
দেশ

রুশ বোমায় খারকিভে মৃত্যু ভারতীয় ছাত্রের, রুশ ও ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব নয়াদিল্লির

ইউক্রেনে রুশ হামলার মুখে পড়ে নিহত ভারতীয় পড়ুয়া। মঙ্গলবার খারকিভে বোমা বিস্ফোরণের ফলে এই ভারতীয় পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইতিমধ্যেই এই কথা জানিয়েছেন। এই পড়ুয়া উত্তর কর্নাটকের বাসিন্দা। মৃত ছাত্রের নাম নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধর। নবীন মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নবীন। সেই মুহূর্তেই ওই জায়গায় আছড়ে পড়ে রুশ বোমা। এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একটি টুইট বার্তায় জানান, গভীর দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আজ সকালে খারকিভে বিস্ফোরণের ফলে একজন ভারতীয় পড়ুয়া প্রাণ হারিয়েছে। মন্ত্রণালয় তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই। টুইট করে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।With profound sorrow we confirm that an Indian student lost his life in shelling in Kharkiv this morning. The Ministry is in touch with his family.We convey our deepest condolences to the family. Arindam Bagchi (@MEAIndia) March 1, 2022 রুশ বাহিনীর বোমাবর্ষণে ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়া নবীন শেখারাপ্পা জ্ঞানগউধরের মৃত্যুর পরই কূটনৈতিক সক্রিয়তা শুরু করল নরেন্দ্র মোদি সরকার। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াদিল্লির রুশ এবং ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে বলে বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।Deeply anguished that an Indian student, Naveen Gyanagoudar, has lost his life today in shelling in Kharkiv, Ukraine.My heartfelt condolences to his family and friends. Such tragedies numb us. Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 1, 2022বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, অবিলম্বে খারকিভ-সহ বিভিন্ন শহরে আটকে পড়া ভারতীয়দের ইউক্রেনের বাইরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পথ (সেফ প্যাসেজ) দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে যুধুধান দুই পক্ষকে। বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিঙলা পৃথক ভাবে রুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করে এই বার্তা দেন।বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি টুইটারে লিখেছেন, খারকিভ-সহ যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরগুলিতে যে ভারতীয় নাগরিকেরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে নিরাপদ নিষ্কাশনের পথ দিতে বিদেশ সচিব ফের রাশিয়া এবং ইউক্রনের রাষ্ট্রদূতের কাছে দাবি জানিয়েছেন।মঙ্গলবার, যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিঘাত বাড়িয়েছে রুশ সেনা। মরণপণ প্রতিরোধ করছে ইউক্রেন ফৌজও। এই পরিস্থিতিতে সেখানে আটক ভারতীয়, বিশেষত পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নরেন্দ্র মোদী সরকার। নিহত নবীনের এক বন্ধু জানাচ্ছেন, খাবার আনতে বেরিয়ে ছিল তাঁর বন্ধু। বাকিরা হস্টেলে থাকলেও নবীন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। তাঁর ওই ফ্ল্যাটটি ঠিক গভর্নর হাউসের পিছনে। সেখানেই হামলা করেছে রুশ সেনা।

মার্চ ০১, ২০২২
বিদেশ

সকালে রাশিয়ার ট্যাঙ্কবাহিনীর গোলাবর্ষণে মৃত্যু কমপক্ষে ৭০ ইউক্রেনীয় সেনার, মৃত্যু ১১ সাধারণ নাগরিকের

সোমবার রাতে বেলারুশে যুদ্ধরত দুটি দেশ ইউক্রেন এবং রাশিয়ার শান্তি আলোচনার প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে। তারপর থেকেই রুশ হামলা দ্বিগুণ হারে বেড়েছে ইউক্রেনে। মঙ্গলবার ষষ্ঠ দিনে প্রবেশ করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।মঙ্গলবার সকালে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বে ইভানকিভ শহরের সেনাঘাঁটিতে রাশিয়ার ট্যাঙ্কবাহিনী গোলাবর্ষণ করে। তাতে অন্তত ৭০ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সেনাঘাঁটির পাশাপাশি বসতি এলাকাগুলিতেও হামলা চালাচ্ছে তারা। এমনটাই দাবি করেছে ইউক্রেন। ফলে রুশ হামলায় বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন অস্ত্রহীন সাধারণ মানুষও।এদিকে আর মাত্র ২৪ ঘণ্টা পরই ফুরোবে ইউক্রেনের সমস্ত হাসপাতালগুলির অক্সিজেনের সরবরাহ। এমনই সতর্কবার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এর ফলে হাসপাতালগুলিতে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি হাজারো মানুষের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা আছে বলেও বার্তা দিল হু। হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস ঘাব্রেয়েসাস এবং ইউরোপের আঞ্চলিক ডিরেক্টর হান্স ক্লুগে একটি যৌথ বিবৃতিতে জানান, ইউক্রেনে অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। বেশির ভাগ হাসপাতালেই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মজুত থাকা অক্সিজেন ফুরোবে। কিছু হাসপাতালে ইতিমধ্যেই অক্সিজেন ফুরিয়েছে। এর ফলে ভর্তি হাজারো মানুষের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা আছে।সোমবার রাত থেকেই ইউক্রেনের শিল্প ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং অন্যতম বড় শহর খারকিভে নিরন্তর হামলা চালাতে শুরু করেছে রুশ বাহিনী। ট্যাঙ্কবাহিনীর গোলাবর্ষণে প্রায় তছনছ হয়ে গিয়েছে এই শহর। যা কিনা ইউক্রেনের অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্রও বটে। বিদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই এই শহরে পড়াশোনা করতে আসেন এবং থাকেন। যাঁদের অনেকে এখনও রয়েছেন এই শহরে। মঙ্গলবার সকালে রাশিয়ার হামলায় সেখানে কম করে ১১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে ইউক্রেন।

মার্চ ০১, ২০২২
রাজ্য

বিধ্বস্ত ইউক্রেন, ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রহর গুনছেন বর্ধমানের পরিবার

গোলা-গুলির লড়াইয়ে তপ্ত ইউক্রেন। রাশিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইউক্রেনও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। দিন যত গড়াচ্ছে ততই ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেরও উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই এই রাজ্যের অনেক ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে কর্মসূত্রে যাওয়া মানুষ ইউক্রেনৈ আটকে পড়েছেন। যেমনটা ইউক্রেনের পলতভা শহরে আটকে রয়েছে বর্ধমানের রায়ান ১ নম্বর পঞ্চায়েতের নারায়ণদীঘি এলাকার বাসিন্দা তারাচরণ ভকতের ছেলে রোহিত ভকত। ছেলের কথা ভেবে এখন চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছন ভকত পরিবারের সদস্যরা। রোহিতের মা গীতা ভকত শনিবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনে তাঁর ছেলে সারে তিন বছর আগে কম্পিউটার সায়েন্স ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য যায়। আচমকা রাশিয়ান হামলা শুরু হয়ে যাওয়ায় গোটা ইউক্রেন জুড়ে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। অন্যান্য দেশের লোকেরা সবাই নিজের নিজের দেশে ফিরে আসার চেষ্টা করছে। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে তার ছেলে ও ছেলের সঙ্গীরা। সড়ক পথে প্রায় ৩০০কিলোমিটার দূরে হাঙ্গেরির সীমান্তে নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে বেরিয়েও রাস্তা বন্ধ থাকায় সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। সেখান থেকেই প্লেনে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল ভারতীয় দূতাবাস।রোহিতের পরিবার জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তাঁরা রীতিমত উদ্বেগে রয়েছেন। ছেলের সঙ্গে ঘন ঘন যোগাযোগ রাখছেন ফোনের মাধ্যমে। রোহিত তাদের বড় ছেলে। তাঁদের সাড়ে তিন বছরের আরেকটি পুত্র সন্তান আছে। বর্ধমান শহরের সিএমএস ( বি সি রোড) স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার জন্য রোহিতকে ইউক্রেনে পাঠানো হয় উচ্চ শিক্ষার জন্য। কিন্তু পড়াশোনার একদম শেষ পর্যায়ে এসে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ক্যারিয়ারের কি হবে তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সব আশঙ্কাকে ছাপিয়ে এখন ঘরের ছেলের ঘরে ফিরে আসার প্রহর গুনছেন মা, বাবা থেকে গোটা পরিবার ও পাড়া প্রতিবেশীরা।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
রাজ্য

আবার ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলার, জমে উঠেছে ম্যাচ

নাটকীয়ভাবে জমে উঠেছে বাংলা-হায়দরাবাদ রনজি ম্যাচ। চতুর্থ দিন জয়ের জন্য হায়দরাবাদের দরকার ২৩৫ রান। অন্যদিকে, বাংলার প্রয়োজন ৯ উইকেট। বেশ কয়েকবছর ধরে ব্যাটিং বিপর্যয় বাংলার রোগে পরিনত হয়েছে। এই মরশুমেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে কোনও ইনিংসেই আড়াইশো রানের গন্ডি টপকাতে পারল না বাংলা। প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ২৪২। দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে গেল মাত্র ২০১ রানে। অনুস্টুপ মজুমদার ও শাহবাজ আমেদের জন্যই ২০০ রানের গন্ডি টপকাতে সমর্থ হয় বাংলা।দ্বিতীয় ইনিংসে হায়দরাবাদের ঘাড়ে বাংলা বড় রানের বোঝা চাপাতে পারত। কিন্তু আবার ব্যাটিং বিপর্যয়ের জন্য সম্ভব হলে না। আগের দিন দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারে আউট হয়েছিলেন সুদীপ ঘরামি। তৃতীয় দিন ১৫.৩ ওভারে দলের ৩৪ রানের মাথায় অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরনের উইকেট হারায় বাংলা। ২৪ রান করেন ঈশ্বরন। ৬৯ রানের মাথায় পড়ে তৃতীয় উইকেট। ১৭ রান করে আউট হন সায়নশেখর মণ্ডল। প্রাক্তন অধিনায়ক মনোজ তিওয়ারি আবার ব্যর্থ। মাত্র ১৭ বল ক্রিজে ছিলেন। ১০ রান করে তিনি রান আউট হন। ৮১ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলা। ঋত্বিক রায়চৌধুরি (৪১) মিডল অর্ডারে কিছুটা লড়াই করেন।১১৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলা। এরপর রুখে দাঁড়ান অনুস্টুপ মজুমদার ও শাহবাজ আমেদ। জুটিতে ৬৫ রান তুলে দলের মান বাঁচান। ৪২ রান করে তনয় ত্যাগরাজনের বলে অনুস্টুপ আউট হন। পরপরই রান আউট হন অভিষেক পোড়েল (০)। বাংলার সপ্তম উইকেট পড়ে ১৮৩ রানে। সেখান থেকে ২০১ রানে অল আউট হয়ে যায় বাংলা। ৮৭ বলে শাহবাজ আহমেদ ৫১ রান করে ধারাবাহিকতার পরিচয় দেন। তনয় ত্যাগরাজন ও তিলক ভর্মা ৩টি করে উইকেট নেন। ২৩৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারের প্রথম বলেই মুকেশ কুমারের শিকার হন অধিনায়ক তন্ময় আগরওয়াল। দিনের শেষে হায়দরাবাদ ১ উইকেট হারিয়ে চার রান তুলেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • ...
  • 14
  • 15
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal