• ২৭ পৌষ ১৪৩২, বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Three Friend

নিবন্ধ

শেষ দেখা (শেষ পর্ব) -ছোট গল্প

সুমেধা নাতির সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলার পর ওকে ভিতরে যেতে বলে কাজের লোকের সাথে ভেতরে পাঠিয়ে দেন।অর্ক তনির এগজ্যাক্টলি কি হয়েছে আমাকে বল। আকুল হয়ে মাতৃ হৃদয় জানতে চায়। ডাক্তার সুমেধা নামা সুমেধা জানতে চায়।ওর বাবা তো আমাকে বরাবর বলে মেয়েটা কেন যে ওদেশে থেকে গেল আজও বুঝলাম না। আমাদেরও এত বছরের মধ্যে একবার ওখানে যেতে বলেনি। আমরা নিজেরা একবার যখন গেলাম ও এসেছিল আমাদের সাথে দেখা করতে কিন্তু ও কোথায় , কার সাথে থাকে কিছুই জানায়নি। আজ বুঝতে পারছি কেন আমাদের সাথে দূরত্ব তৈরি করেছিল। এসব কথা তন্দ্রার মা বলতে থাকেন।অর্ক,আমিই দায়ী তোমাদের জীবন নষ্ট করার জন্য। আমি তখন ডাক্তার হিসেবে না মা হিসেবে ওদের দু বোনকে বুঝতে হতো। চন্দ্রা কে বাঁচাতে আমি তন্দ্রার স্বপ্ন, আনন্দ সব বলি দিয়ে ফেললাম। আমি বুঝতেই পারিনি তোমাদের সম্পর্কটা এত গভীর ছিল। আমাকে ক্ষমা কর অর্ক।এখানে কারো কিছু করার ছিল না। যা ভবিতব্য ছিল হয়েছে।তবে ঈশ্বর মনে হয় আমাদের একটা সূযোগ দিয়েছেন।কি রকম?আজ আমার অনেক কিছু বলার আছে তোমার আর কাকুর কাছে। চন্দ্রার সাথে বিয়েটা আমি বাধ্য হয়েই করছিলাম। তোমার মুখের উপর না বলতে পারিনি যেমন, তেমন তন্দ্রার উপর অভিমানেও। আমাকে ভূল বুঝে কিছু না জানিয়ে না বলে, বলার সুযোগ না দিয়ে চলে গেল আর সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। জানতে দিল না কি বুঝলো আর কেন? আমাকে কিছু বলার সুযোগ ও দিল না। খুব রাগ হয়েছিল। তাই চন্দ্রা কে ভালো না বা হলেও বিয়েটা করলাম। ভাবলাম চন্দ্রা তো আমাকে ভালোবাসে ও খুশি থাক। ওর মানসিক অবস্থা দেখে তখন আমি আর কিছুই ভাবিনি। কিন্তু সব ভুল ছিল। চন্দ্রা যখন বলল শুধুমাত্র তন্দ্রার কাছ থেকে আমাকে দুরে সরাবে বলে ও এই, নাটকটা করেছে তখন আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেছিল। আমি যে কত বড় ভুল করেছি বুঝতে পারি আর আমার সেদিন থেকে শুরু হয় নতুন একটা লড়াই। কাকীমা হয়ত কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পেরেছিলে। আজ তাই তন্দ্রা যখন ফিরে এসেছে আমি চাই ওর এই বিপদের সময় আমি ওর সাথে থাকি। আর বাকি জীবনটা আমি ওকেই দিতে চাই। হয়তো ভাবছো চন্দ্রা কি করবে?চন্দ্রা নিজেই আমাকে বলেছে ও এন জি ও র কাজ নিয়ে উত্তর ভারতে চলে যাবে। আর ও তো কোনো দিন এই সম্পর্কটাকে গুরুত্ব দেয়নি। আজ যখন আমি একটা প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পেয়েছি সেটা করতে চাই।অর্কর কাছ থেকে এত কথা শোনার পর তন্দ্রার বাবা তন্ময় বাবু বলেন এতদিনে আমার কাছে পুরো চিত্রটা পরিস্কার হলো। মেয়েটা আমার কোনো দিন মুখে কিছু বলেনি, যত কষ্ট সবসময় আমাদের থেকে আড়াল করে গেছে। চুনি (চন্দ্রার ডাক নাম) ছোটবেলা থেকেই ওকে হিংসা করত। অনেক বুঝিয়েছি কিন্তু ওর কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাবলে ও যে এরকম করতে পারে আমি তো ভাবতে পারছি না। আমি তো ভেবেছিলাম ও আর অর্ক পরস্পরকে পছন্দ করে। কিন্তু কোথাও যে একটা ছন্দের অমিল রয়েছে সেটা বারবার মনে হয়েছে কিন কি সেটা বুঝতে পারিনি। আজ বুঝতে পারলাম। আমি বলছি অর্ক তুই যা তনিকে সময় দে। ও একটু শান্তি পাক। অনেক কষ্ট পেয়েছে আমার এই মেয়েটা।আচ্ছা আচ্ছা সব অর্ক যা ভালো মনে করবে হবে কিন্তু তনির ট্রিটমেন্ট কোথায় হবে? ওদেশে যদি হয় তবে তো ও একা। আমরা নাহয় মাঝে মাঝে গেলাম। কিন্তু এখানে আমরা সবাই আছি এখানে তো হতেই পারে। তুই আছিস আমি আছি আমাদের পরিচিত ডাক্তারেরা আছে, বলেন তন্দ্রার মা।দেখা যাক তন্দ্রার সাথে কথা না বলে তো কিছু করা যাবে না। ওর মতামত জানতে হবে।ওখানে কি সব ব্যবস্থা করা আছে? মানে অপারেশনের ডেট নেওয়া আছে? তন্দ্রার মা তন্দ্রার কে জিজ্ঞাসা করেন।মোটামুটি সব ঠিক করা আছে। কিছু মেডিসিন চলছে আমি স্পেশাল পারমিশন নিয়ে এসেছি। ওখানে গিয়ে দেখাবার পর ডেট ফিক্সড হবে।এখানেও তো চিকিৎসা এখন ভালো হয়,আমরা আছি, এখানে একবার কথা বললে হয় না? অর্ক তো এখন ভারতের একজন নামকরা ডাক্তার; ওর চেনা পরিচিত কতজন আছে। তুই একবার ভেবে দেখ মা।মায়ের কথা চুপ করে শোনে তন্দ্রা। কিছু বলতে পারে না গলা বন্ধ হয়ে আসে। ভাবে মা ,এইরকম ভাবে কেন এতদিন ডাকো নি। আমি চাইলেও কি এখন থাকতে পারব? আমারও যে ইচ্ছা করছে না যেতে। কতদিন পর সবাই একসাথে হয়েছি। এসব ভাবতে ভাবতে ওর চোখ ভিজে আসে। মাকে বলে তোমার কোলে মাথা দিয়ে একটু শোবো? তুমি আজ আমার কাছে থাকো।মা আদর করে কোলে টেনে নেয়। মায়ের চোখেও আজ জল।মা মেয়ের এই দৃশ্য বাইরে থেকে দেখে চন্দ্রিল। ওর খুব ভালো লাগে মায়ের এই আনন্দ দেখে। ছোটবেলা থেকেই মাকে একা সব করতে দেখছে। আনন্দ করতে মা কে দেখেনি। ওর খুব ভালো লাগছে দেখে।এখানে একা দাঁড়িয়ে কেন? কিছু লাগবে? জিজ্ঞাসা করে চন্দ্রা। না না কিছু না। আমি এমনিই দাঁড়িয়ে আছি।আমাকে বলতে পারো কোনো অসুবিধা হলে। আমি তো তোমার মাসি, মায়ের দিদি। আমাকে মামনি ও বলতে পারো।আচ্ছা ঠিক আছে। বলে ওর ঘরে চলে যায়। ওর ও আজ চোখে জল বাধা মানছে না। এত আপনজনের মাঝে ওর খুব ভালো লাগে।ও ভাবে মা যদি এখানে থেকে যায় তাহলে হয়তো মা সুস্থ হয়ে যাবে। মাকে একবার বলে দেখবে। এটাও ঠিক এতদিন গ্র্যানি আমাদের দেখে রেখেছে তাকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে মা হয়তো এরকম ডিসিশন নেবে না। তবুও একবার বলতে হবে।এইসব, ভাবছে এমন সময় দরজায় ঠকঠক আওয়াজ।বাইরে দাঁড়িয়ে অর্ক, দেখে চন্দ্রিল। প্লিজ ভেতরে আসুন।তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।বলুন, আগে বসুন।হুমম, বলে চেয়ারটি টেনে নিয়ে বসে।তুমি বড়ো হয়েছো তোমার মতামতের একটা মূল্য আম কাছে আছে। তার আগে বলো তুমি সব জানো তো? আমি কে? তোমার আমার সম্পর্ক কী?অর্কর দিকে তাকিয়ে চন্দ্রিল বোঝার চেষ্টা করে ঠিক কি বলতে চাইছেন ওকে এই মানুষ টা। মুখে বলে হুমম্ জানি।বেশ তাহলে তো ভালোই হলো। এখন তোমাকে আমি যেটা বলব ভালো করে শুনবে। তারপর ভেবে চিন্তে উত্তর দেবে।বলুনতোমার মায়ের ডিজিজের ব্যাপারে তুমি কতটা জানো?মা আমাকে যেটুকু বলেছেন। মায়ের ব্রেইনে একটা টিউমার হয়েছে যেটা অপারেশন করা কঠিন, কিন্তু না করলে যে প্রবলেম গুলো হবে সেটা আরও ডেঞ্জারাস। অপারেশন যদি সাকসেসফুল হয় তাহলে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকবে কিছুদিন। আমি জানি মা বেশি দিন থাকবে না। তাই তো আমাকে নিয়ে এসেছে। অসহায় ভাবে কথাগুলো বললো চন্দ্রিল।ওর কাছে এইভাবে কথা গুলো শুনে অর্কর চোখ ভরে এলো; নিজের অজান্তেই কখন যেন ছেলেকে নিজের বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলো।এভাবে জড়িয়ে ধরাতে চন্দ্রিল হতবাক হয়ে যায়। ও তো ভাবতেই পারেনি এরকম কিছু হবে।অর্ক বলে আমি আছি তো, কোনো চিন্তা করোনা। এখন আমাদের স্টেডি হয়ে মায়ের পাশে থাকতে হবে। তুমি তো যথেষ্ট ব্রেভ বয়।এখন চলো মায়ের সাথে কিছু কথা বলি। এই বলে ছেলেকে নিয়ে তন্দ্রার ঘরে গেল।তন্দ্রা তখনও মায়ের কোলে শুয়ে আছে।চন্দ্রিল ঢুকে বলে ওয়াও মা তুমি এখনও মায়ের আদর খাচ্ছো? দারুন ব্যাপার, আমার খুব খুশি লাগছে।ওর এই কথা শুনে সবাই হেসে ওঠে।ও একটু বিস্মিত হয় এই ভেবে যে হাসির কি হলো!তখন তন্দ্রার মা বলেন দাদু ভাই ওটা হবে আমি খুব খুশি হয়েছি।ও আচ্ছা।এরপর ওরা সবাই তন্দ্রার চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। এর মধ্যে শুচি আসে। ও যোগ দেয় ঐ আলোচনায়।ঈশ্বর মনে হয় বসেই থাকে আমরা যা ভাবব তার উল্টো করার জন্য। আমাদের চিন্তা ভাবনা অনুযায়ী সব ঘটনা ঘটলে মনে হয় ঈশ্বরের আসন টলে যেতে পারে স্বয়ং ঈশ্বর তাই সব ঘটনা গুলো উল্টে পাল্টে দেয়। তাই মনে হয় জীবনের সব চাওয়া গুলো আর পাওয়া হয়ে ওঠে না;অর্ক ভাবতে থাকে।খুব কি বেশি চেয়ে ফেলেছিলাম? এত বছর পরে ,এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরে একটু সাথে থাকতে চেয়েছি মাত্র। না আর যেন কিছু ভাবতে পারছে না অর্ক।অপারেশন টা সবার কথা মতো এখানেই হয়। তন্দ্রার শুধু একবার ওদেশে একবার যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, ওখানে যে ও আরেক মা কে রেখে এসেছে। ফোনে তার সাথে কথা বলে সব জানায়। অর্ক তাকে বলে যদি উনি আসতে চান তাহলে ও সব ব্যবস্থা করে দেবে। সব কিছু ঠিক করে অর্ক ওর বন্ধু স্থানীয় বিখ্যাত ডাক্তারকে দিয়ে অপারেশন করায়, নিজে সঙ্গে থাকে। নিজে করেনি কারণ আপনজনের অপারেশন নিজে করা যায় না। সব ঠিক ছিল। দুদিন পর হঠাৎ জটিলতা দেখা দেয়। কিছুক্ষনের জন্য জ্ঞান আসে আর তখন ও সবাই কে একসাথে দেখতে চায়। আর তার সাথে মিসেস টেলর কে দেখতে চায়। এর পরেই জ্ঞান হারায়।ওর ইচ্ছা কে সম্মান জানিয়ে অর্ক লন্ডনে ফোন করে মিসেস টেলরকে আসতে বলে। উনি ও খুব উতলা হয়ে ওঠেন। ওনার কথা শুনে মনে হয় যেন নিজের সন্তান অসুস্থ হয়ে পরেছে। অর্ক অবাক হয়ে যায় ওনার এই রকম উৎকন্ঠা দেখে। ও সঙ্গে সঙ্গে সব ব্যবস্থা করে দেয় ওনার আসার;সাত দিনের মধ্যে যাতে উনি আসতে পারেন। এদিকে চলে তন্দ্রাকে নিয় যমে মানুষে টানাটানি। কেউ আর নিজের কাজে ফিরে যেতে পারে না। সবার মন পড়ে থাকে তন্দ্রার কাছে। সবাই মনে একটাই কথা ভাবে কেন এমন হলো? কি হবে শেষ পর্যন্ত?এরমধ্যে সবাই কে অবাক করে দিয়ে চন্দ্রা চন্দ্রিলকে নিজের কাছে টেনে নেয়। ওর দেখাশোনা, ওর ভালো থাকা সব দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেয়।তন্দ্রার মা, বাবা বয়স হলেও সারাদিন প্রায় থেকে যান হাসপাতালে। চন্দ্রা মা বাবাকেও সামলায়।অর্ক বেশি সময়টাই বসে থাকে তন্দ্রার কাছে। মনে হয় একবার যখন ফিরে পেয়েছি আর হারাতে দেব না এরকম ব্যাপার।কিন্তু বিধির বিধান মনে হয় তা যেন ছিল না। সাত দিনের মাথায় মিসেস টেলর হাসপাতালে পা দিতে জ্ঞান আসে আবার তন্দ্রার। ওনার হাত ধরে তন্দ্রা শুধু বলে চাঁদ রইলো; অর্ককে দেখিয়ে বলে ওর বাবা।অর্ক বুঝতে পারে আর সময় নেই তন্দ্রার দুই হাত চেপে ধরে যেনো যেতে দেবে না কিছুতেই। কিন্তু সেতো আর হয়না। যখন, যার, যেখানে যাবার সময় আসবে তখন, তাকে, সেখান থেকেই চলে যেতে হবে। তন্দ্রাও অর্কর হাতে হাত রেখেই পাড়ি দেয় ওপারে। যেখানে সব কষ্ট দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, সেই রাজ্যে।যাবার আগে শেষ বারের মতো সবাই কে দেখতে পায়। সবাই কে মিলিয়ে দিয়ে যায়। দিদিকে দিয়ে যায় সন্তান সহ সংসার, যা ও পেতে পারত। মা বাবা কে সান্ত্বনা হিসেবে দেখিয়ে দেয় মিসেস টেলর কে, যে নিজের সন্তানকে হারিয়ে একা বাঁচত, আবার অজানা একজনকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত তাকেও হারালেন। অর্ককে দিয়ে গেল আত্মগ্লানি থেকে মুক্তি।নিজের জীবন থেকে নিজে মুক্তি পেলো সবার সঙ্গে শেষ বারের মত দেখা করে, যত ভুল বোঝা ছিল সব মিটিয়ে। ছেলেকে বাবার কাছে দিয়ে তন্দ্রা পাড়ি দিল আনন্দের রাজ্যে।শ্রীমতি রাখি রায়বর্ধমান-সমাপ্ত-

মে ০১, ২০২২
নিবন্ধ

শেষ দেখা (দ্বিতীয় পর্ব) -ছোট গল্প

বেলা তখন এগারো টা হবে কলিং বেল বেজে উঠল। বিতান দরজা খুলতে গেলে তন্দ্রা ওর বিছানায় উঠে বসে; মনের কোনে আজও একটা অস্থিরতা সৃষ্টি হতে দেখে ও নিজেই খুব অবাক হয়। আজও কি তাহলে অন্তরের গভীরে রয়ে গেছে অর্কর প্রতি ভালোবাসা!ধীর পায়ে বেরিয়ে আসে ড্রয়িং রুমে। ওর পিছনে ছায়ার মত আসে চাঁদ; একটু যেন চমকে গেল অর্ক। এটা কে? নিজের মনে নিজেকে প্রশ্ন করে। এ যে আমার ছোট বেলা ভাবে অর্ক। এসব ভাবতে গিয়ে খেয়াল করে নি সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে তন্দ্রা।কেমন আছো? জিজ্ঞাসা করে তন্দ্রা।ওর ডাকে সম্বিত ফিরে আসে অর্কর। হ্যাঁ, ভালো আছি। বলে তাকায় তন্দ্রার দিকে। তন্দ্রার শরীরের কথা শুনেছে বিতানের কাছে। তবুও চোখের সামনে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। ভাবে সেই সুন্দর তন্বী মেয়েটা রোগের কারণে কি হয়েছে।তন্দ্রা ব্যাপারটা স্বাভাবিক করার জন্য বলে ওঠে তুমি যে সময় বের করে আসতে পেরেছ সে জন্য ধন্যবাদ।এতক্ষণে নিজের মধ্যে ফিরে আসে অর্ক, বলে আসতে তো আমাকে হতোই। আমার যে অনেক কিছু বলার ছিল যা বলার সুযোগ পাইনি।ওদের এই কথোপকথনের মধ্যে শুচি উঠে রান্না ঘরের দিকে যায় এবং বিতানকে ইশারায় ডেকে নিয়ে যায়।অর্ক বুঝতে পারে না কিভাবে শুরু করবে। তন্দ্রার কাছে এগিয়ে গিয়ে ওর হাতটা ধরে বলে আমাকে ক্ষমা করে দে।আমার প্রতি তোর অনেক অভিযোগ আছে আমি জানি। আমি যে এতগুলো বছর মনে কি গ্লানি বয়ে বেরাচ্ছি সে আমিই জানি। তুই এখন আর বিশ্বাস করবি না আমি জানি,তবু বলছি। আমি বাধ্য হয়েছিলাম সেদিন।অর্ক বলতে থাকে, তন্দ্রা আমি নিজের ইচ্ছায় বিয়েটা করিনি। আমি চাইই নি বিয়েটা করতে। আমি তো তোকে ভালোবেসেছি। আমি শুরু থেকেই তোকে ভালোবাসি, তোর সাথেই জীবন কাটাতে চেয়েছি। কিন্তু উভয়ের পড়া আর কেরিয়ারের কথা ভেবে বলা হয়ে ওঠেনি। তাই সেবার দিল্লিতে সেমিনারে্ গিয়ে যখন শুনলাম তুই বাইরে হায়ার ডিগ্রীর জন্য যাওয়ার চেষ্টা করছিস তখন তোকে আমার মনের কথা জানানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।আর বলেও দিলাম কোনো কিছু না ভেবে। আমি কিন্তু জানতাম না ঠিক কি হবে তোর উত্তর। তবে আমার উপর তোর ভরসা আর বিশ্বাস দেখে মনের কোনে একটা আশা ছিল আবার ভয়ও ছিল যদি আমার জন্য তোর মনে সেরকম কিছু না থাকে তাহলে নিজের কাছে ছোটো হয়ে যাব। তুই যদি অন্য কাউকে পছন্দ করিস। এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বলেও দিলাম। তোর কাছে যখন সাড়া পেলাম তখন আমার কি অবস্থা হয়ে ছিল সেটা তো তুই সবথেকে ভালো জানিস।তার ফল যে তুই পেয়েছিস সে তো দেখলাম তোর সাথে রয়েছে।ওই রকম আনন্দ আমার আগে হয় নি; কলকাতা ফেরার পর সেদিন প্রথম বাড়ি ফিরে চন্দ্রিমাকে ফোন করে ডাকি। ওই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু আর তোর দিদি তাই ওকে ই খবরটা প্রথম দেব ঠিক করি আর ওর মাধ্যমে আমাদের বাড়িতে জানাব এটাও ভাবি। কিন্তু ও জানার পর যেটা ঘটল সেটা আমি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। আমি তো ভাবতাম ও কাউকে পছন্দ করে, ওর কাছে সেরকমই শুনেছিলাম। যদিও খোলাখুলি কিছু বলেনি কোনো দিন। আমি তো খুব ভালো বন্ধু ছাড়া ওকে কখনো কিছু ভাবিনি। অতি উৎসাহিত হয়ে ওকে সেদিন কথাটা বলতে যাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো ভুল। আমি ভাবিনি নিজের দিদি হয়ে এইভাবে হিংসা করতে পারে। আমার সম্বন্ধে এরকম ভাবতে পারে সেটাও বুঝিনি। ওর সাথে যখন এই নিয়ে কথা, তর্ক বিতর্ক চলছে তখন তুই এসেছিলি, আমি মায়ের কাছে পরে শুনলাম। আমি যে ভয়টা পেয়েছিলাম সেটাই ঘটল।তুই অভিমান করে চলে গেলি, কোনো রকম কোনো যোগাযোগ করলি না, করার পথ ও বন্ধ করে দিলি। আমি তখন তোর দিদির অভিনয়ের কাছে অসহায়। সবাই তখন আমাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে লাগল। আমার মা,বাবা, তোর মা সবাই। ডাক্তার বললেন ওকে কোনো রকম মানসিক চাপ দেওয়া চলবে না। তখন বাধ্য হয়ে আমি বিয়েতে রাজি হই। ও আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেনি। শুধু তোর প্রতি হিংসা করে, তোর কাছ থেকে আমাকে দুরে সরিয়ে নিতে এই বিয়ে। প্রথম প্রথম তোর কথা উঠলেই সিনক্রিয়েট করত। তারপর থেকে আমি চুপচাপ থাকি। ও ওর কাজে সফল হয়েছে। ও আমাকে তোর কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল সেটা পেরেছে।অর্ক ঝড়ের মতো কথাগুলো বলে গেল। এমন সময় শুচি খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে ঢুকল।কিছু মনে করোনা তোমার শেষের কথাগুলো কিছুটা শুনেছি, তুমি আমাদের জানাতে পারতে। তুমি কিছু ই বলোনি, শুধু বারবার তন্দ্রার খোঁজ করতে।ওটা আমার খুব ভুল হয়েছে, সেসময় তোদের সব জানালে ভালো করতাম। আজ তোদের আর আমার কথা বিশ্বাস হবে না। বিশ্বাস করা না করা তোদের ব্যাপার। আমার বূকের উপর একটা পাথর চাপানো ছিল এতদিন আজ তন্দ্রাকে সব বলে কিছু টা হালকা লাগছে। হ্যাঁ, আর একটা কথা যেটা না বললে সম্পুর্ণ হবে কথা। আমাদের শুধু বিয়েটাই হয়েছে। ও চেয়েছিল তন্দ্রাকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে দিতে, আমাকে ওর কাছ থেকে কেড়ে নিতে ও সেটা এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের মুখে আমাকে বলেছে। সেদিন থেকে ও আমার কাছে পৃথিবীর জঘন্যতম মানুষ। আমি চেষ্টা করি সবসময় ওর সামনে না পড়তে। আমাদের দেখা হয়না বললেই চলে। ও থাকে ওর জীবন নিয়ে। ওর কলেজ, আউটিং, পার্টি এসব নিয়ে।তবে ইদানিং যেন একটু পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। জানিনা তার মধ্যে আবার কিছু আছে কিনা!তন্দ্রা এই কথাগুলো শোনার পরে অর্কর দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকালো যার মধ্যে কোনো ক্ষোভ, দুঃখ, রাগ কিছু তো ছিলই না বরং একটা কষ্ট, সহানুভূতি দেখতে পেল শুচি।অর্ক এবার তন্দ্রাকে বলল আমার উপর রাগ, অভিমান, ঘৃণা এসব বুকে নিয়ে চলে গেছিলি তো আমি বুঝেছিলাম তখনই যখন মা আমাকে বলেছিলেন তুই এসেছিল। কিন্তু এতবড় একটা খবর তুই আমার থেকে আড়ালে রাখলি!! এতটা অবিশ্বাস!!না না, তা নয় বলে ওঠে তন্দ্রা।তবে আজ যখন তুই এই অবস্থায়, ছেলে এতবড় হয়ে গেছে তখন তুই আসলি, কেন আগে আমাকে বলিসনি?আমি চলে গেছিলাম ঠিক। রাগ হয়েছিল নিজের উপরে। যে আবেগ আমি ধরে রেখেছিলাম এতদিন কেন সেটা ভাবলাম সেই ভেবে খুব রাগ হয়েছিল নিজের উপর। তাই ঠিক করছিলাম তোমাদের জীবন থেকে নিজেকে অনেক দুরে সরিয়ে নিয়ে যাব। তাই পরেরদিন বাড়ি থেকে দিল্লি চলে গেলাম, সাতদিনের মধ্যে লন্ডন।কিন্তু ভাগ্য আমাকে সাথ দিল না। আমি তোমাকে ভুলব ভাবলে কি হবে, ভোলার পথ তো ঈশ্বর বন্ধ করে দিয়েছে সেদিন রাতে।যেদিন বুঝতে পারলাম সেকথা প্রথমে তোমাকেই জানাবো বলে ফোন করেছিলাম। কিন্তু ফোন ধরলো তোমার স্ত্রী। সেকথা শুনে আমার কি হয়েছিল জানিনা। তবে জ্ঞান ছিল না। যখন জ্ঞান ফিরল নিজেকে হসপিটালের বেডে দেখলাম।তারপর সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফোন করে জানতে পারলাম দিদির সাথে তোমার বিয়ের কথা। মা তখন বলেছিল তোকে জানাই নি, তুই কষ্ট পাবি। আর তুই তো এখানে নেই। দু বোনের এই নিয়ে বিবাদ হোক আমি চাই নি। আমি মাকে আর কিছুই জিজ্ঞাসা করিনি। আর কিই বা জিজ্ঞাসা করতাম?আমার তখন বলার কিছু ছিলনা। আমি শুধু বলেছিলাম, তাহলে আমি দুরেই থাকি, দেশে আর ফিরে যাব না।তাই আর দেশে সেভাবে আসা হয়নি। আর তোমার জীবনে আমার জন্য যাতে কোনো অশান্তি না হয় তাই বলিনি কিছু।জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলাম নিজের মত করে।আমার এই লড়াইয়ে আমাকে সাথ দিয়েছে আমার রুমমেট আফরিন আর ছিলেন, না ছিলেন কেন আজও আছেন আমার বাড়িওয়ালা মিসেস টেলর। আমরা ভারতীয়রা ভাবি না যে ইউরোপীয় মহিলাদের মধ্যে মাতৃত্ব বোধ নেই! একদম ভুল ভাবনা। আজ পর্যন্ত উনি আমাকে এবং আমার ছেলেকে যেভাবে আগলে রেখেছেন কোনো ভারতীয় মহিলা পারবে না। আমার প্রতি ওনার স্নেহের কারণ ওনার মৃতা মেয়ে। সে নাকি আমার মতো ছিল অবশ্যই ইউরোপীয় ভার্সন বলে একটু হাসার চেষ্টা করে তন্দ্রা।আজও আমি ওনার কাছেই থাকি। মায়ার বাঁধনে বাঁধা পড়েছি আমিও।যাক সেসব কথা। আমি তোমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে চাই নি কারণ আমি ভেবেছিলাম আমি তোমার আর দিদির মাঝে অযাচিতভাবে অনুপ্রবেশ করে ফেলেছি। সেদিন যা ঘটে ছিল সেটা সাময়িক আবেগ। আমি ভেবেছিলাম তুমি দিদিকে ই ভালোবাসো। আমি ভাবিনি দিদি আমার সাথে এরকম করতে পারে। আমার রাগ হয়েছিল মায়ের উপরে , পরে ভাবলাম মা হয়ত দিদির আর তোমার ব্যাপারটা জানত। এটা ভাবলাম কারণ আমি যখন বলেছিলাম তখন মা এমনভাবে অবাক হয়েছিল যেন আমার কথাটা অসম্ভব। তাই আমি আর কোনো কথা কাউকে জানাইনি। শুধু শুচি জানত পরে বিতান জেনেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। বলে অসহায় ভাবে তাকালো তন্দ্রা। সেই আসতে হলো আর তোমার সামনাসামনি হতেও হলো এই ছেলের জন্য। এত কথা একসঙ্গে বলে তন্দ্রা হাঁফাতে লাগলো। শরীর খুব দুর্বল।অর্ক শুচিকে বললো ওকে ঘরে নিয়ে যা, রেস্ট নিক। অনেকক্ষন বসে আছে। আর ওর ছেলেকে পাঠিয়ে দে আমি একটু কথা বলি।শ্রীমতি রাখি রায়বর্ধমানক্রমশঃ ...

এপ্রিল ২৪, ২০২২
নিবন্ধ

শেষ দেখা (প্রথম পর্ব ) -ছোট গল্প

মানুষের জীবনে কিছু ঘটনা এমনভাবে ঘটে সেই মূহুর্তে তার ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে জীবনের হিসেবটাই পাল্টে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু যে বা যারা তারা সেই সময় ঘটনার স্রোতে ভেসে যায়। এরফলে বেশির ভাগ মানুষ পরস্পরের থেকে দূরে সরে যায়। আবার জীবন সায়াহ্নে এসে মনে যদি হয় পিছনে ফেলে আসা দিনে ফিরে যাই সেটা কি সম্ভব?এসব ভাবতে ভাবতে কলকাতায় পৌঁছে গেল তন্দ্রাদের প্লেন;তন্দ্রা আর ওর ছেলে চন্দ্রিল। আজ নতুন বছরের প্রথম দিন ; বহুবছর পর দেশের মাটিতে পা দিল তন্দ্রা।ওদের এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে এসেছে তন্দ্রার ছোটোবেলার বন্ধু বিতান আর শূচি।। ওরা এখন স্বামী স্ত্রী। এতদিন দেশের বাইরে থেকেও ওদের মাধ্যমেই দেশের সব কথা জানতে পারে তন্দ্রা। সত্যি বন্ধুত্ব কাকে বলে ওদের দেখলে বোঝা যায়।সেই ছোটো থেকে ওরা তিনজন একসাথে আছে। সমাজের যে তলাতেই ওদের অবস্থান হোক না কেন। ওদের বন্ধুত্বের মাঝে কোন কিছু আসেনি কখনো।বেরিয়ে এসে আবেগে আপ্লুত হয়ে পরস্পর কে জড়িয়ে ধরে ওরা। যেন ছোটো বেলায় ফিরে গেছে।তিনজনের অনেক পরিবর্তন হয়েছে,চেহারার।চোখের নিচে বলিরেখা, মাথার চুল রূপোলী হয়েছে, তবুও মন যেন আজ আবার ছেলে বেলায় ফিরে গেছে।চন্দ্রিল মায়ের এই আনন্দ দেখে অবাক হলেও আশ্চর্য হয়নি। কারণ মায়ের কাছে এই দুই বন্ধুর কথা অনেক শুনেছে ও, আর এটা লক্ষ্য করেছে মায়ের চোখ মুখে একটা আনন্দ ঝরে পড়তে ছোটো বেলার বন্ধুদের কথা বলতে গেলে। আজ তো তাদের এতদিন পর সামনে পেল। এই দেখা আর এই স্পর্শের অনুভূতি ব্যক্ত করা যায় না।ওরা সবাই হৈচৈ করে গাড়িতে উঠল। কথা যেন আর শেষ হয়না। চন্দ্রিল একটা ব্যাপার খেয়াল করলে পুরানো কথা যত ই হোক গভীরে কিন্তু ঢুকছে না কেউ।যাই হোক ওরা বিতান শূচীর নতুন ফ্ল্যাটে এলো। যদিও তন্দ্রা বলেছিলো হোটেলে উঠবে। কিন্তু ওরা তা হতে দেয়নি। চন্দ্রিলের এই প্রথম ভারতে আসা। মায়ের মুখে এতদিন গল্প শুনেছে। খুব ভালো লাগছে মা কে এত খুশি দেখে।ওরা ফ্রেশ হয়ে হালকা কিছু খেলো। তারপর চন্দ্রিল ওদের জন্য বরাদ্দ ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।ও ভাবে এতটা জার্নির ক্লান্তির পর মা কি করে এখনও গল্প করছে এই অসুস্থ শরীরে!! যাক অনেক দিন পরে দেশে ফিরে মা যে সব ভুলে আছে ভালো লাগছে এটা দেখে। এইসব ভাবতে ভাবতে চোখ জড়িয়ে গেল চন্দ্রিলের।তখনো বিতান, শূচি আর তন্দ্রা ডুব দিয়েছে ওদের অতীতে।তিনজনে এক পাড়াতেই থাকত। এক স্কুলে একই ক্লাসে পড়ত। তন্দ্রার বাবা ইন্জিনিয়ার আর মা ডাক্তার ছিলেন; বিতানের বাবা ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মা গৃহবধূ আর শূচির বাবার একটা ছোটখাটো স্টেশনারী দোকান ছিল আর মা ছিলেন প্রাইমারী টিচার।তিনজনের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান কিন্তু ওদের বন্ধুত্ব সবার কাছে উদাহরণ হয়ে আছে আজও।তন্দ্রা আর বিতান খুব ভালো স্টুডেন্ট ছিল আর শূচি ছিল মধ্য মানের। ওদের মধ্যে কখনও প্রতিযোগিতা ছিল না বরং বলা ভালো পরস্পরের সহযোগিতায় ওরা ভালো রেজাল্ট করত। এইভাবে স্কুল শেষ করে তন্দ্রা গেল মেডিকেল কলেজে, বিতান ইন্জিনিয়ারিং আর শূচি ভূগোল নিয়ে ভর্তি হলো।তন্দ্রার এক দিদি ছিল ওর থেকে বছর তিনের বড়ো। সে কিন্তু পড়াশোনায় অত ভালো ছিল না। কিন্তু অসম্ভব সুন্দর ছিল। তাই একটু অহংকার ছিল। তন্দ্রা যেমন সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারত ওর দিদি চন্দ্রা কিন্তু পারত না। বোনের এই সহজ সরল স্বভাবের জন্য বোনের সঙ্গেও খুব একটা ঘনিষ্ঠভাবে মিশত না।তন্দ্রা তুই কিন্তু সেই আগের মতোই আছিস, বলে শূচি।কেন তোরা ভেবেছিলি কি আমি পাল্টে যাবে! তন্দ্রা বলে উঠলো।তুই যখন লন্ডনে পড়তে চলে গেলি ভেবেছিলাম আর বোধহয় তুই যোগাযোগ রাখবি না। কিন্তু আমরা ভূল ছিলাম তুই সেটা প্রমাণ করে দিলি কিছু দিনের মধ্যে, বিতানের এই কথা শুনে তন্দ্রা বলল তোরাও তো আমার সঙ্গে একই রকম ভাবে আছিস আজ পর্যন্ত।আজ আমি যখন দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম তখন তোরা তো আমাকে সাদরে আহ্বান করলি।চল এবার একটু বিশ্রাম করি আর শরীর দিচ্ছে না। বলে তন্দ্রা উঠে চন্দ্রিল যে ঘরে শুয়ে সেই ঘরের দিকে যাচ্ছিল। ওর হাতটা ধরে শূচি বলল আজ থেকে তুই আর আমি একঘরে শোব। কত গল্প জমে আছে বলত।তন্দ্রা একটু ইতস্তত করলেও তা টিকলো না শূচির কাছে অগত্যা ওকে শূচির সাথে ওর ঘরে যেতে হোলো। শূচি ওকে ঠিক করে শোওয়ার ব্যবস্থা করে বাইরে এল। বিতান তখন ব্যালকনিতে গিয়ে বসেছে।তন্দ্রাকে দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে জানো; ওর মতো একটা এত ভালো মেয়ে কেন যে এত কষ্ট পাচ্ছে কী জানি! ইশ্বরের বিচার নেই।স্কুলের সেই উজ্জ্বল মেয়েটা আজ শরীরের আর মনের কষ্টে একদম ভেঙে পড়েছে কিন্তু বাইরে দেখো এতটুকু প্রকাশ নেই। কথা গুলো বলে শূচি।বিতান বলে আমি সেটাই ভাবছি এতক্ষণ বসে।শোনো ও আমাদের কাছে যতদিন থাকবে ওকে কোনো রকম কষ্ট পেতে দেব না।আর একটা কথা চন্দ্রিল কতটা কী জানে আমর জানিনা তাই সাবধান। তন্দ্রা শুধু বলেছে ও চন্দ্রিলকে সব বলেছে। কিন্তু কতটা কি তো জানিনা তাই বললাম।ঠিক আছে এখন ওঠো একবার বাজার যেতে হবে।দুজনে উঠে পড়ল।~তন্দ্রার ঘুমন্ত মুখটা দেখে শূচির মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। ভাবে এতদিন পরে এল অথচ সময় খুব কম ওর হাতে। এই সময়টা ওর সঙ্গে কীভাবে কাটালে ওকে ভরিয়ে তোলা যাবে ভাবতে থাকে ও।শূচির মন চলে যায় সেই ছোটোবেলায়। শূচির মাকে তন্দ্রার মা খুব পছন্দ করতেন। ডাক্তার হলেও সংস্কৃতি জগতের সাথে যোগাযোগ ছিল আর শূচির মা খুব ভালো গান করতেন ও আবৃত্তি ও ভালো করতেন। একটা স্কুল ছিল ওনার যেখানে আশেপাশের ছেলেমেয়েরা গান ও আবৃত্তি শিখতে আসত। তন্দ্রা আর ওর দিদি চন্দ্রাকে ওদের মা সুমেধা আবৃত্তি আর গান শেখার জন্য ভর্তি করে দেয় শূচির মা সঞ্চারীর গানের স্কুলে। সেখানেই প্রথম বিতান আর শূচির সাথে পরিচয় তন্দ্রার। চন্দ্রা খুব ভালো গান গাইত আর তন্দ্রা আবৃত্তি করত। বিতান আর শূচিও গান গাইত। শূচির গলায় যেন মা সরস্বতী সুর ঢেলে দিয়েছেন। পড়াশোনার সাথে সাথে ওদের সংস্কৃতি চর্চাও চলত একসাথে। চন্দ্রা ওদের থেকে বড়ো ছিল ও তাই ওদের সাথে খুব একটা থাকত না।তন্দ্রার আবৃত্তি সবাইকে মুগ্ধ করত। পড়াশোনায় ভালো, দারুন আবৃত্তি করে। সঞ্চারী তন্দ্রাকে খুব ভালোবাসতেন ওর মিষ্টি স্বভাবের জন্য। ওরা একটু একটু করে বড়ো হতে লাগল। প্রাইমারী পেরিয়ে সবাই হাইস্কুলে ভর্তি হলো। ততদিনে তন্দ্রার দিদি ক্লাস এইট। ওরাও ভর্তি হলো এক স্কুলে। তন্দ্রা আর ওর দিদিকে চাইলেই কলকাতার নামকরা স্কুলে পড়াতে পারত ওদের মা বাবা, কিন্তু ওনারা সবসময় চেয়েছিলেন যে ওরা সাধারণভাবে মানুষ হোক।শূচির ভাবনাতে ছেদ পড়ল বিতানের ডাকে। রান্না বান্না হবে না নাকি?হ্যাঁ হ্যাঁ সব হবে। বলে শূচি। আজ বেশি কিছু করব না, ওরা কি খায় দেখি তারপর করছি। এই বলে ও ঘরের অন্যান্য কাজে লেগে গেল।বিতান ওর ল্যাপটপ নিয়ে বসল, চায়ের জন্য হাঁক দিয়ে।ছুটির দিনে খালি চা করে করে ক্লান্ত হয়ে পড়ি গজগজ করতে করতে চা দিয়ে গেল শূচি।তন্দ্রা উঠে পড়েছে দেখে শূচি ওর খাবার কথা জানতে চাইলে তন্দ্রা বলে দিল তেল মশলা কম দিয়ে যা করে দিবি তাতেই হবে।শূচি জানে তন্দ্রা কি খেতে ভালোবাসে। তন্দ্রা অনেকবার ওদের বাড়িতে খেয়েছে। হ্যাঁরে তোরা এখনও গান করিস? জিজ্ঞাসা করে তন্দ্রা।করি তো মাঝে মাঝে আমাদের যখন আড্ডা হয় তখন। আর তুই? কবিতা?না রে বহু দিন আগে ছেড়ে দিয়েছি।এর মধ্যেই চন্দ্রিল কখন উঠেছে ওরা খেয়াল করেনি-- মা আবৃত্তি করত? অবাক হয়ে প্রশ্ন করে।কেন রে তুই জানিস না! তোর মা অসাধারণ আবৃত্তি করত। শূচি বলে ওঠে।না গো মনি মা কোনো দিন বলেনি। হ্যাঁ, এই ডাকটা তন্দ্রাই শিখিয়েছে।আমি কবিতাই ছেড়ে দিয়েছিলাম তাই তোকে কিছু বলিনি বাবা। আর বলার মতো কোনো সিচুয়েশন তৈরি হয়নি। আজ কথা উঠল তাই জানলি।বেশ বেশ মা ছেলের মান অভিমান পরে হবে। এখন বস এখানে। বলে হাত ধরে বিতান চন্দ্রিলকে ওর পাশে বসায়।তোর মায়ের কথা আমরা বলব তোকে। ও চিরকাল ওরকম নিজের কথা কখনো বলে না। ওর সামনে কেউ ওর প্রশংসা করলে ও বিব্রত হয়, বিতান বলে।আচ্ছা মামু তোমাদের কাছে অনেক কিছু জানার আছে।ওদের নিয়ে বিতান আর শুচি মেতে ওঠে।~দুদিন টানা বিশ্রাম নিয়ে তন্দ্রাকে যেন একটু ফ্রেশ লাগছে বলল শুচি।হ্যাঁ অনেকটাই।তাহলে এবার ওর প্রোগ্রামটা জেনে নিতে হবে। সেই মতো তুমি ছুটি নিও।দেখা যাক,; তবে আমি সব জায়গায় তোমাদের সঙ্গ দিতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। হালিশহরে তুমিই নিয়ে যেও।ওদের এই কথোপকথনের মাঝে তন্দ্রা এসে বলে শোনন আমি আগে চন্দ্রিলকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ যাবো। বিতান একটু খোঁজ নিয়ে দেখিস কবে গেলে দেখা পাওয়া যাবে।ওর এই কথা শুনে বিতান আর শুচি পরস্পরের দিকে তাকায়।আমি এখনই জেনে নিচ্ছি কিন্তু তুই ওদের বাড়িতে যাবি না? জিজ্ঞাসা করে বিতান।বাড়িতে যাওয়াটা কি ঠিক হবে? তুই আগে ফোন টা কর তো। যেখানে যেতে বলবে সেখানে যাবো।ঠিক আছে তাই হবে বলে বিতান ফোন করে।হ্যালো অর্ক দা তুমি কি খুব ব্যস্ত? তোমাকে তো সব বলেছিলাম।হ্যাঁ দুদিন হলো এসেছে।ঠিক আছে তাহলে তুমি আগামী কাল এসো। বলে ফোন কেটে দিয়ে বলে তোকে কোথাও যেতে হবে না সে নিজেই আসবে।রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও তন্দ্রা ছটফট করতে থাকে। কিছুতেই ঘুম আসে না। পুরোনো কথা সব উঁকি দেয় মনের জানালা দিয়ে।অর্ক দা ওদের স্কুলের সিনিয়র ওর দিদির বন্ধু। তাই ওদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল। কিন্তু কোনো দিন তন্দ্রা সেভাবে দেখেনি। আর সব সিনিয়রদের যেমন দেখতে ওকেও সেইভাবেই দেখতে। প্রথম মনে দোলা লাগে ও তখন ক্লাস নাইন আর অর্ক দা টুয়েলভ। স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে তন্দ্রা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আফ্রিকা কবিতা আবৃত্তি করে। অসাধারণ আবৃত্তি শুনে দর্শক আসন বাকরুদ্ধ হয়ে ছিল। সেই দিন যখন অর্ক দা এসে ওর আবৃত্তির প্রশংসা করে তখন তন্দ্রা অনুভব করে ওর মনের কোনে যেন একটা অন্যরকম ভালোলাগা সৃষ্টি হয়েছে।সেই ভালোলাগা ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয় যখন তন্দ্রা ও মেডিকেল কলেজে পড়তে যায়। তিন বছর আগে দুর্দান্ত রেজাল্ট করে অর্ক ভর্তি হয়েছিলো ঐ কলেজে। তন্দ্রার দিদি তখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সপ্তাহান্তে তিনজন একসাথে বাড়ি ফিরত। কিন্তু তন্দ্রা ওর মনের কথা কখনো অর্ক কে জানাতে পারে নি।এইভাবে চলতে থাকে ওদের দিন।এম.এস. করে অর্ক কলকাতার হাসপাতালেই থেকে যায়। তন্দ্রা এম. ডি. চান্স পেয়ে দিল্লি যায় পড়তে।পড়া ছাড়া তন্দ্রা কিছুই জানতো না। মনে মনে অর্ককে ভালোবাসে কিন্তু প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। কথা হয় ঠিকই কিন্তু অপর জনের মনটা বুঝে উঠতে পারে না। দিদির হাবভাব দেখলে ওর মনে হয় যে অর্কদাকে বিশেষ চোখে দেখে তাই ওর বলা হয়না। আবার কখনো মনে হয় যে না অর্ক যেন তন্দ্রার প্রতি একটু দুর্বল। এই দোলাচলে কাটতে থাকে দিন~তন্দ্রার এম. ডি র পরীক্ষা হয়ে গেছে, কিছু কাজ থাকায় ও দিল্লি থেকে যায়। এবার ওর স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপ। ও বরাবর অঙ্কলজিস্ট হতে চেয়েছে। সেই কারণে এবার ওর বিদেশ যাত্রা। সব মোটামুটি হয়ে গেছে। রেজাল্ট টা বেরিয়ে গেলেই চলে যাবে। এমন সময় একটা সেমিনারে অর্ক র সাথে দেখা হয় ;তন্দ্রাও সেখানে ওর একজন প্রফেসরের সাথে গেছিল। ওই প্রফেসর তন্দ্রাকে খুব ভরসা করেন। অর্ক কে দেখে তন্দ্রা অবাক হয়। কিন্তু এটাও ভাবে ওকে তো এই আসার ব্যপারে কিছু জানায়নি। অর্ক ফোনে প্রায়ই কথা বলে যদিও বেশির ভাগ প্রফেশনাল কথা। তবুও একটু অবাক হয়। জানতে পারে হঠাৎই আসতে হয়েছে আর ওর এক পুরোনো বন্ধুর বাড়িতে উঠেছে।দুদিন সেমিনারে তন্দ্রা ওর সিনিয়র প্রফেসরের সাথে বেশিরভাগ সময় কাটায়, অর্কর সাথে খুব বেশি কথা হয়না। সেমিনার শেষে হঠাৎ তন্দ্রাকে ডেকে অর্ক বলেতুই রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নে আমি বন্ধুর গাড়ি নিয়ে আসছি একবার বেরোবো তোর সাথে কিছু কথা আছে। তন্দ্রা অবাকই হয় একথা শুনে, কিন্তু কিছু বলার আগেই অর্ক চলে যায়। এরপর যথারীতি ওরা বেরিয়ে পড়ে। অনেক দুর চলে যায় দুজনে । একটা রোড সাইড ধাবায় বসে খেতে আর এটা সেটা কথা বলতে বলতে রাত গড়িয়ে যায় খেয়াল করে না দুজনের কেউ। অথচ কি যে বলবে অর্ক সেটাও বোঝেনা তন্দ্রা। এরমধ্যে মেঘ জমে আকাশে। বৃষ্টি আর সঙ্গে ঝড় শুরু হয়। উপায় না পেয়ে ওই ধাবাতেই রাত কাটাবার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় সমস্যা। ওই ধাবাতে সেই ভাবে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই ; একটা রেস্ট রুম আছে শুধু। অগত্যা উপায় না পেয়ে সেখানেই রাতটা কোনো রকমে কাটানোর কথা ভাবে। অনন্যোপায় হয়ে রাজী হতে হয় তন্দ্রাকে। আর সেখানেই ঘটে যায় সেই ঘটনা যা ওর জীবনের অনেক কিছু পাল্টে দিয়েছে। ওই ঝড়ের রাতে ওরা পরস্পরের মনের কথা বলে। পরস্পরের ভালোবাসা বিনিময়ের প্রমাণ নিজের অজান্তেই তন্দ্রাকে দিয়ে দেয় অর্ক। যদিও তন্দ্রাও সেদিন ভাবেনি কি ঘটে গেল।নিজেদের এতদিন ধরে রাখা আবেগের যেন বাঁধ ভেঙে গেছিল সেদিন। সম্বিত ফিরল পরদিন সকালে। তবুও তন্দ্রা বলতে পারেনি ওর বিদেশে পড়তে যাওয়ার কথা। যদিও অর্ক জানত কিছুটা। তবুও সঠিক ভাবে কিছু জানত না; তন্দ্রা যে সেই কারণে দিল্লিতে রয়েছে সেটা জানত না। অর্ক জানত যে তন্দ্রা বিদেশে যেতে চায় কিন্তু এটা জানত না যে এখনই যাবে।দিন পনের পর তন্দ্রা বাড়ি গেল সুখবর নিয়ে মা বাবার সঙ্গে দেখা করতে। এই খবরে ওর মা তো ভীষণ খুশি, বাবাও। খবরটা সামনসামনি দেবে বলে অর্কদের বাড়ি গেল, অর্ক সেদিন বাড়িতে এসেছিল। ওদের বাড়িতে আগেও অনেকবার গেছে। কিন্তু এবার একটা অন্য মন অন্য একটা ভাবনা নিয়ে গেল। অর্ক ঘরে ছিল বলে ওর মা ওকে ঘরেই যেতে বললেন এও বললেন যে যা তোর দিদি ও আছে।ঘরে ঢুকতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়ল তন্দ্রা, একি দিদি অর্ককে জড়িয়ে ধরে আছে! অর্ক দিদির কথা শুনে কি বলছে! এসব কথা বলিস না! একথার মানে কী?অর্কর মনে কী আছে তাহলে? যেটা ঘটেছে সেটা কি নেহাত একরাতের দুর্ঘটনা? না আর কিছু ভাবতে পারে না তন্দ্রা। বেড়িয়ে চলে আসে ওখান থেকে একটা জরুরি কল এসেছে বলে অর্কর মাকে।তন্দ্রা ভাবে কি করবে ও? দিদি কে পথ ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে? নাকি অর্কর সামনে জিজ্ঞাসা করবে ও কি চায়?না কিছুই জানার দরকার নেই, যেমন ছিলাম তেমনই ভালো থাকবে ভেবে তন্দ্রা অর্কর সাথে কোনো ভাবে দেখা না করে চলে যায়। অর্ক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে তন্দ্রা ওর মাকে ওর আর অর্কর ব্যাপারে একটু আভাস দিয়েছিল।তন্দ্রার মনে যে আশঙ্কা ছিল সেটা সত্যি হলো ও ওখানে যাওয়ার দুমাসের মধ্যেই টের পেল ও ওর ভালোবাসার উপহার নিয়ে এসেছে নিজের শরীরের মধ্যে। এর মধ্যে আরও অনেক খবর এলো।কেউ কিছু জানতে পারেনি তন্দ্রার কথা। একমাত্র শুচি আর বিতান জানত।এরপর ও পাঁচ বছর দেশে আসেনি। ততদিনে চন্দ্রিল বছর চারেকের হয়ে গেছে। একটা কাজে এসেছিল কলকাতা চন্দ্রিল কে ওর বাড়িওয়ালার কাছে রেখে। মা বাবার সাথে দেখা করেছিল। মা বিয়ের কথা বললে ওর বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ফিরে গেছিলো।যোগাযোগ নামমাত্র ছিল মা বাবার সাথে।আর শুচি ও বিতানের সাথে সব সময় যোগাযোগ ছিল।বেশ চলে যাচ্ছিল মা ছেলের জীবন। কিন্তু এই মারন রোগ আবার ফিরিয়ে নিয়ে এল ওকে অতীতের কাছে। একটা দ্বিধা থাকলেও ও চায় একবার চন্দ্রিলের কথাটা সামনাসামনি বলতে। আর ও চন্দ্রিল কেও কথা দিয়েছে একবার ওর বাবাকে দেখাবে।। তারপর চন্দ্রিল কে নিয়ে ফিরে যাবে ওদেশে। এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল।শ্রীমতি রাখি রায়বর্ধমানক্রমশঃ ...

এপ্রিল ১৭, ২০২২

ট্রেন্ডিং

শিক্ষা

পৌষের গন্ধে গ্রামবাংলা: পিঠে, ঘুড়ি আর লোকজ জীবনের উৎসব

পৌষ নামলেই গ্রামবাংলার হাওয়া বদলে যায়। ভোরের কুয়াশা আরও ঘন হয়, খড়ের গাদায় রোদ্দুর বসে, আর মাটির উঠোনে ভেসে আসে চাল ভাপার সোঁদা গন্ধ। এই সময়েই বাঙালির ঘরে ঘরে আসে এক লোকজ উৎসবপৌষ পার্বণ, যাকে গ্রামবাংলা আদর করে ডাকে পিঠে পার্বণ বলে।এই উৎসব কোনও মন্দিরে বাঁধা নয়, কোনও মন্ত্রে আবদ্ধ নয়। এ উৎসব ছড়িয়ে থাকে উঠোনে, রান্নাঘরে, খোলা মাঠে আর মানুষের মুখের হাঁসিতে। নতুন ধান ওঠার আনন্দে কৃষকের ঘরে যে তৃপ্তি, তারই রসায়ন মিশে যায় পিঠের নরম স্বাদে।গ্রামবাংলার মায়েদের কাছে পৌষ পার্বণ মানে শুধু রান্না নয়এ এক সামাজিক আচার। ভোর থেকে শুরু হয় চাল ভেজানো, বাটা, খোলায় নলেন গুড় বসানো। মাটির উনুনে ধোঁয়া ওঠে, কাঁসার থালায় সাজে ভাপা পিঠে (সিদ্ধ পিঠে), সরু চাকলি, পাটিসাপটা। দুধ পুলির ভেতর গুড় আর নারকেলের মিশেলে লুকিয়ে থাকে দিদিমা-ঠাকুমার হাতের ছোঁয়া, যা কোনও রেসিপির বইয়ে লেখা নেই।লোকসংস্কৃতির এই পরম্পরায় পিঠে শুধু খাবার নয়, এক ভাষা। সেই ভাষায় কথা বলে মমতা, আতিথেয়তা আর ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ। পৌষের সকালে প্রতিবেশীর ঘরে পিঠে পাঠানো যেমন রীতি, তেমনই রীতি একসঙ্গে বসে খাওয়ারধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ছাপিয়ে।পৌষ সংক্রান্তির আর এক অবিচ্ছেদ্য ছবি আকাশ। নীল আকাশ জুড়ে রঙিন ঘুড়ির উড়ান যেন লোকশিল্পের চলমান ক্যানভাস। যা দেখে কবির সুমন (তখন সুমন চট্টোপাধ্যায়) লিখেছিলেন পেটকাটি চাঁদিয়াল মোমবাতি বগ্গা - আকাশে ঘুড়ির ঝাঁক, মাটিতে অবজ্ঞা। রাঢ় বঙ্গের অন্যতম জনবহুল বর্ধমান শহরে ও তার আশপাশের গ্রামগুলিতে এই দিনে ঘুড়ি ওড়ানো শুধু খেলা নয়, এক উৎসব, সকাল চা খেয়েই ছাদে জড়ো আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা, চোখ বন্দি আকাশে, ছাদে-ছাদে চটুল হিন্দি গানের ভিতরেই ভেসে আসছে একটাই আওয়াজ ভো-কাট্টা। দামোদরের পাড়ে বসা আদিবাসী ও উপজাতিদের মেলায় ঘুড়ির সঙ্গে মিশে যায় ঢাক, ধামসা, মাদল ও বাঁশির সুর। লোকনৃত্য, হস্তশিল্প আর খোলা মাঠের এই মিলনমেলা যেন বাংলার বহুত্বকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে।এই মেলায় দেখা যায় সাঁওতাল, বাউরী, বাগদি সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতিনতুন রঙিন পোশাক, পায়ের তালে মাটির ছন্দ দিরি দিম দিম বোল তোলে। আধুনিক শহুরে জীবনের বাইরে দাঁড়িয়ে এই লোকজ উৎসব আমাদের মনে করিয়ে দেয়সংস্কৃতি মানে শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ।আজ শহরের ফ্ল্যাটবাড়িতে পিঠে আসে বাক্সবন্দি হয়ে, ঘুড়ি ওড়ানো হয় ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে। তবু পৌষ পার্বণ এলেই মন ছুটে যায় গ্রামেমাটির ঘর, খোলা উঠোন আর আগুন পোহানো বিকেলের দিকে। কারণ এই উৎসব আমাদের শেখায়, উৎসবের আসল সৌন্দর্য জাঁকজমকে নয়, বরং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের উষ্ণতায়।পৌষ পার্বণ তাই শুধুই একটি দিন নয়এ এক স্মৃতি, এক গন্ধ, এক জীবন্ত লোকসংস্কৃতি। সময় বদলায়, রূপ বদলায়, কিন্তু পিঠের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে থাকা গ্রামবাংলার আত্মা আজও অটুট।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের খেসারত, ভারতকে ফের শুল্কের ফাঁদে ফেললেন ট্রাম্প

বছরের শুরুতেই ভারতের উপর ফের শুল্কের আঘাত আনল আমেরিকা। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্য করবে, তাদের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সেই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে। গত অর্থবর্ষে ইরানের সঙ্গে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে ভারত।বর্তমানে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। সেই আন্দোলনের প্রতি প্রথম থেকেই সমর্থন জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। এমনকি প্রয়োজন হলে ইরানের উপর সামরিক হামলার পরিকল্পনার কথাও তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলির উপর কড়া অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।সোমবার নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ বাণিজ্য করছে, তারা আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে বাধ্য হবে। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।ইরানের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য করে চিন। তবে ভারতের সঙ্গেও তেহরানের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তেহরানে ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারত ইরানে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। একই সময়ে ইরান থেকে ৪৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬৪ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১৪ হাজার কোটি টাকা। এই বাণিজ্যের মধ্যে রয়েছে রাসায়নিক দ্রব্য, ফল, বাদাম, তেল এবং জ্বালানি জাতীয় পণ্য।ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করার কারণেই এবার ভারতের উপর বাড়তি শুল্ক চাপাল আমেরিকা। এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। ফলে তখন ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের হার পৌঁছেছিল ৫০ শতাংশে। এবার ইরান ইস্যুতে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াল ৭৫ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

রণক্ষেত্র ইরান, আমেরিকার হামলার হুঁশিয়ারি, আগুনে ঘি ঢালল খামেনেই

ইরানকে ঘিরে চরম উত্তেজনা। একে অপরকে প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। ট্রাম্প যে কোনও মুহূর্তে ইরানে সেনা হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাল্টা খামেনেই ট্রাম্পকে পরাজিত ও অত্যাচারী শাসক বলে কটাক্ষ করেছেন।ইরানে সরকার-বিরোধী আন্দোলন দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দেশের বহু শহরে বিক্ষোভ চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইন্টারনেট ও ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ থামছে না। নির্বাসিত নেতা রেজা পহেলভিকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও জোরালো হয়েছে। এই আবহে ট্রাম্পের সঙ্গে পহেলভির কথোপকথনের খবর সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানো বন্ধ না হলে আমেরিকা চুপ করে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকেই ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দেন, ইরানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না তাঁর প্রশাসন। এমনকি ইরানে স্টারলিংক পরিষেবা চালুর পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইরান আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও তেহরান সেই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে অশান্তি ছড়ানোর মূল্য চোকাতে হবে আমেরিকাকে।সরকারি টেলিভিশনে ভাষণ দিয়ে খামেনেই ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ট্রাম্প একজন অযোগ্য ও অত্যাচারী শাসক। আগে নিজের দেশ সামলাক। খামেনেই দাবি করেছেন, খুব শীঘ্রই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আসবে। যদিও বাস্তবে তার কোনও ইঙ্গিত নেই। অভিযোগ, বিক্ষোভ দমাতে ইরানে পুলিশ ও সেনা নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। শুধু তেহরানেই দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই আন্দোলন চলছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত অচল।ইরানের অশান্তির প্রভাব বিদেশেও পড়েছে। লস এঞ্জেলসে ইরান সমর্থনে মিছিল চলাকালীন ভিড়ের মধ্যে ট্রাক ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও সেখানে কেউ হতাহত হয়নি। চালককে আটক করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানে হামলা হলে তার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা। ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকার কালিবাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা বড় ভুল হিসাব করছে। হামলা হলে ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলি নিশানা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রাক্তন সামরিক কর্তারাও।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

নোবেল নিয়ে পোপের দরবারে মাচাদো, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির নেপথ্যে কি ভ্যাটিকান?

গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মাচাদো। সেই পুরস্কারই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিতে চান তিনি, যাতে নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে বন্দি করা যায়এমন দাবিও করেছিলেন মাচাদো। এবার সেই নোবেলজয়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল চতুর্দশ পোপ লিওর। এই সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।সোমবারই নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তার মধ্যেই পোপের সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাৎ হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের সমর্থনে ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি হিসেবেই কি এই বৈঠক? প্রথম মার্কিন পোপের সঙ্গে এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক তাৎপর্য খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।জানা গিয়েছে, পোপ লিওর সঙ্গে দেখা করার কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল না মাচাদোর। ভ্যাটিকান পরে তাদের দৈনিক বুলেটিনে এই সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর থেকেই ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সফর করছেন মাচাদো।আগামী সপ্তাহে তিনি আমেরিকা যাচ্ছেন। সেখানে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগেই পোপের সঙ্গে দেখা হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে। যদিও প্রথম মার্কিন পোপ লিও ভেনেজুয়েলার উপর আমেরিকার আগ্রাসনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন।মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহরণের ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে সরব হয়েছেন পোপ। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির উপর তাঁর নজর রয়েছে এবং দেশের অবস্থা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সামাজিক সুরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন পোপ লিও।অন্যদিকে, ট্রাম্প ও মাচাদোদুজনেই প্রকাশ্যে মাদুরোর বিরোধিতা করে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, মাদুরো দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছেন। মাদুরো অপহৃত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন মাচাদো।এই প্রেক্ষাপটে পোপ লিওর সঙ্গে মাচাদোর সাক্ষাৎ যে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার লড়াইয়ে এই বৈঠক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
কলকাতা

এবার টুটু বোসকে তলব! এসআইআর শুনানিতে ডাকা হল মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতিকে

এসআইআর শুনানিতে এবার হাজিরার নোটিস পেলেন প্রাক্তন সাংসদ এবং মোহনবাগানের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন বোস, যিনি টুটু বোস নামেই পরিচিত। শুধু তাঁকেই নয়, একই সঙ্গে তলব করা হয়েছে তাঁর পুত্র তথা মোহনবাগান ক্লাবের সচিব সৃঞ্জয় বোসকেও। জানা গিয়েছে, টুটু বোসের গোটা পরিবারকে এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মোহনবাগানের সহ-সভাপতি কুণাল ঘোষ। সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বাংলার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে তলব করা হয়েছে। নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মহম্মদ শামির মতো পরিচিত মুখদের নাম সেই তালিকায় রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল বাংলার ফুটবল জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ টুটু বোসের নাম। জানা যাচ্ছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি তাঁকে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। শুধু টুটু বোস নন, তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও ডাকা হয়েছে ওই শুনানিতে। তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ সৃঞ্জয় বোসও।এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ ফেসবুকে লিখেছেন, টুটু বোস বাংলার ফুটবল ও মোহনবাগানের প্রাণপুরুষ। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ এবং হুইলচেয়ার ছাড়া তাঁর চলাফেরা সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হাজিরার নোটিস পাঠানো অমানবিক বলেই মন্তব্য করেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, এখন টুটু বোসকে প্রমাণ দিতে বলা হচ্ছে যে তিনি বাংলার নাগরিক। কুণাল ঘোষের দাবি, এই ঘটনার জবাব নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে আসন্ন নির্বাচনে দিতে হবে।উল্লেখ্য, খেলোয়াড়দের এসআইআর শুনানির নামে হেনস্তার অভিযোগ তুলে সোমবার বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রায় ১৫০ জন ক্রীড়াবিদ প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। এর আগেই এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের কড়া সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ধরনের নোটিস পাঠানোকে অমানবিক ও অসংবেদনশীল বলে উল্লেখ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। সেই সবের পরেও টুটু বোসের মতো পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বকে তলব করা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হল রাজ্য রাজনীতিতে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
রাজ্য

নিপা ভাইরাসে কাঁপছে বাংলায়! আবার রাজ্যে ফিরছে কোয়ারেন্টাইন ..

বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এর ভাইরাস রিসার্চ ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা পুণের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারও নড়েচড়ে বসেছে। দিল্লি থেকে আজই একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে আক্রান্ত নার্সদের সংস্পর্শে আসা এক চিকিৎসক, দুজন নার্স, একজন সাফাই কর্মী এবং একজন অ্যাম্বুলেন্স চালককে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিপা আক্রান্ত নার্স অসুস্থ অবস্থায় কাটোয়ায় যাঁদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের খোঁজ চালাতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।জানা যাচ্ছে, ওই নার্স ২ জানুয়ারি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে কাটোয়ার এক চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসক সিদ্ধেশ্বর গুপ্ত জানিয়েছেন, ওই তরুণী একবার জ্ঞান হারিয়েছিলেন ঠিকই, তবে তখন জ্বর বা গা ব্যথার মতো কোনও অস্বাভাবিক উপসর্গ চোখে পড়েনি।এর পর ৩ জানুয়ারি ফের সংজ্ঞা হারালে পরিবারের লোকজন তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত।এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

থামছেই না হিন্দু খুন, ফেনিতে অটোচালক সমীর দাসকে হত্যা করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা

বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু খুনের ঘটনা সামনে আসছে। দীপু দাসকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনার পর থেকেই একাধিক হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল আরও একটি নাম। ফেনি জেলার দাগনভূঞায় খুন হল ২৮ বছরের অটোচালক সমীর কুমার দাস। অভিযোগ, তাঁকে খুন করে দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে।মর্মান্তিক এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত সমীর দাস দাগনভূঞা উপজেলার রামানন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা কার্তিক কুমার দাস ও মা রিনা রানি দাস। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাছেই পরিকল্পিতভাবে সমীর দাসকে হত্যা করা হয়। খুনের পর তাঁর অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা।পরে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় পড়ে থাকা দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। দাগনভূঞা থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুষ্কৃতীদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়েছে।এর আগে কয়েকদিন আগে জয় মহাপাত্র নামে এক হিন্দু যুবককে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে অশান্তির আবহ তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতিতেই প্রথমে হিন্দু যুবক দীপু দাসকে মারধর করে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরপর একে একে আরও হিন্দু যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। এই নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মোট আটজন হিন্দু যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বলে জানা যাচ্ছে।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

নিরাপত্তার অজুহাত খারিজ, বাংলাদেশের ভারতে খেলা নিয়ে বড় বার্তা আইসিসির

মিথ্যেবাদী তকমা পাওয়ার পর ফের বড় ধাক্কার মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে খেলতে না আসার যে দাবি বিসিবি করেছিল, তা মানতে নারাজ আইসিসি। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সূত্রে খবর, বাংলাদেশকে আগের সূচি অনুযায়ীই ভারতে খেলতে হবে। অর্থাৎ কলকাতা এবং মুম্বইতেই লিটন দাসদের ম্যাচ আয়োজন করা হবে।জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের অভিযোগ নিয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত করেছে আইসিসি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে, ভারত সফরে এলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও বড় ঝুঁকি রয়েছে কি না। সেই মূল্যায়নের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কলকাতা ও মুম্বইয়ে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ঝুঁকির মাত্রা কম থেকে মাঝারি। নিরাপত্তা নিয়ে বড় কোনও সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত অতীতেও একাধিক বিশ্বমানের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তাই বাংলাদেশের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় প্রশাসনের কোনও অসুবিধা হবে না। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ সরানো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে।এর আগে শোনা যাচ্ছিল, বিসিবির অনুরোধ কিছুটা মেনে কলকাতা ও মুম্বইয়ের বদলে চেন্নাই ও তিরুঅনন্তপুরমে ম্যাচ সরানো হতে পারে। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইতিবাচক রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। ফলে বাংলাদেশকে আগের সূচি মেনেই ভারতে খেলতে হতে পারে বলে মনে করছে ক্রিকেটমহল। যদিও আইসিসির তরফে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।উল্লেখযোগ্য ভাবে, সোমবারই আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে বাংলাদেশ ভুল তথ্য দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, আইসিসি নাকি জানিয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে নিরাপত্তা সমস্যা বাড়বে এবং বাংলাদেশের নির্বাচনের কারণেও ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু আইসিসি সেই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানায়, এমন কোনও মন্তব্য তারা করেনি। ক্রীড়া উপদেষ্টার এই বক্তব্যে আইসিসি যথেষ্ট বিরক্ত বলেই মনে করছেন ক্রিকেট মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal