• ২৭ মাঘ ১৪৩২, শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Tar

রাজ্য

আত্মার অনুজ্ঞা: ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হল বর্ধমানের বিদ্যালয়ে

আজকের দিনটি ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় স্মরণ করাল। ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বরএক শতাব্দী ও অর্ধকাল আগে, ৩৭ বছর বয়সী এক সাহিত্যিক তাঁর অন্তরের অনুজ্ঞায় লিখে ফেলেছিলেন একটি গানবন্দে মাতরম, সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাং। নৈহাটির সেই নীরব প্রেরণা থেকেই জন্ম নিয়েছিল এমন এক স্তব, যা শতবর্ষ পেরিয়েও অনুরণিত আজও ভারতবাসীর হৃদয়ে।সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, এই গানটিকে সাত বছর পরে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস আনন্দমঠ-এ অন্তর্ভুক্ত করেন, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে ভারতীয়দের একত্রিত করেছিল এক মহৎ আহ্বানেদেশমাতৃকার বন্দনায়। ভারত সরকার পরবর্তীতে একে জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা প্রদান করে।আজ, বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ম্বরে পালিত হল এই ঐতিহাসিক রচনার ১৫০ বছর পূর্তি।বিদ্যালয়ের প্রাত্যহিক সম্মেলনে শিক্ষক দীপ্তসুন্দর মুখোপাধ্যায় স্মরণ করালেন,কোন জাতি দেশকে মা রূপে, কোন জাতি পিতা রূপে সম্বোধন করে। বন্দে মাতরম-এর এই দুই শব্দে যে ভারতমাতার বন্দনা করা হয়েছে, তাঁর স্নেহচ্ছায়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল ভারতবাসী। প্রথম স্তবকটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হওয়ায় এটি সর্বজনগ্রাহ্য ও সর্বজনাদৃত হতে পেরেছে।বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক, রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত বলেন,বন্দে মাতরম এমন এক উচ্চারণ যা আমাদের ছোটবেলাকে দেশপ্রেমে উষ্ণ করেছিল। আজও এই উচ্চারণ আমাদের অনুপ্রাণিত করে সেই মহত্তম দেশনায়কদের দেখানো পথে এগিয়ে যেতে।উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশপ্রেমমূলক কবিতা আবৃত্তি ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সঙ্গীত অনুষ্ঠান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমর আহ্বানবন্দে মাতরম।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
দেশ

ভোরের ট্র্যাজেডি... চোখের সামনে ছিন্নভিন্ন দেহ, ট্র্যাকে লুটিয়ে পড়লেন পুণ্যার্থীরা

উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে ভোরের শান্ত সকাল মুহূর্তে পরিণত হল বিভীষিকায়। কার্তিক পূর্ণিমার পুণ্যস্নান শেষ করে স্টেশনে ফিরছিলেন বহু ভক্ত। সকালের ব্যস্ততার মাঝেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনা। প্ল্যাটফর্মের উল্টো দিকে নামতে গিয়ে হাওড়া-কালকা মেলের তলার তলায় চলে গেলেন তাঁরা। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ গেল অন্তত ছয় পুণ্যার্থীর, আহত একাধিক। চিৎকারে, কান্নায় আর আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে ভীতি, স্তব্ধ হয়ে যায় চুনার স্টেশন।বুধবার ভোরবেলা ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুর জেলার চুনার রেলওয়ে স্টেশনে। কার্তিক মাস হওয়ায় বহু পুণ্যার্থী সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। রেলসূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোরের সেই ভিড়ে অনেকেই প্ল্যাটফর্মের বিপরীত পাশে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতিতে এসে পড়ে হাওড়া-কালকা মেল। আর তারই ধাক্কায় থেঁতলে যান পুণ্যার্থীরা। সেকেন্ডের মধ্যেই মৃত্যু, লুটিয়ে পড়ে নিথর দেহ, চারদিকে শুধু আর্তনাদ আর শোকের হাহাকার।ঘটনার পরই স্টেশন জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা। পুলিশ ও রেল আধিকারিকরা দ্রুত পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রেল প্রশাসন ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেকেন মানুষজন ট্র্যাক দিয়ে নামলেন, স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, সব কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ভয়াবহ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এসডিআরএফ ও এনডিআরএফ-কে উদ্ধারকাজে নেমে পড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আহতদের যত্নসহকারে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই ছত্রিশগড়ের বিলাসপুরের কাছে মালগাড়ি ও যাত্রীবাহী ট্রেনের সংঘর্ষে প্রাণ যায় ১১ জনের। তার রেশ কাটার আগেই ফের ট্র্যাজেডি। রেল নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে।

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
রাজ্য

রোটারি ক্লাবের সম্মাননা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান

বৃহস্পতিবার বর্ধমানের রোটারি ক্লাব রোটারি ভারত সাক্ষরতা অভিযান প্রকল্পে বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুপকুমার দত্তকে ২০২৫ সালের নেশন বিল্ডার অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ সম্মানে ভূষিত করেছেন।বর্ধমানের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে সহশিক্ষক অনুপকুমার দত্ত উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পুরুলিয়া জেলা স্কুল থেকে পড়াশোনা করেন। তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর পাস করে সহশিক্ষক হিসেবে কাঞ্চননগর দীননাথ দাস উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গবেষণার সঙ্গেও যুক্ত। ইলসবেয়ার থেকে ছাত্রাবস্থায় তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তার গবেষণা থ্যালাসেমিয়া পেশেন্টদের বারবার রক্ত নেওয়ার ফলে জমে থাকা রক্তের অতিরিক্ত লৌহ যৌগকে আলাদা করার রাসায়নিক বন্ধন এর সাহায্যে আলাদা করার পদ্ধতি আবিষ্কার এর দিশা দেখান। মেধাবী ও পরিশ্রমী এই শিক্ষকের বহু কৃতী ছাত্রছাত্রী মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংএর প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুনামের সঙ্গে স্ব স্ব ক্ষেত্রে কর্মরত।অনুপকুমার দত্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান ছাড়াও গাছপালা পরিচর্যা করে থাকেন। মিড ডে মিলের শাকসবজি যোগানের পুষ্টিবাগান দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁর। এছাড়াও নানা ধরণের ফলফুলের গাছ বিভিন্ন নার্সারি থেকে এনে বসিয়েছেন। বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি যুক্ত। চিলড্রেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটিতে তিনি স্থানীয় শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করে থাকেন। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাবের সভাপতি ড সাইদা পারভিন এবং বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ড মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরস্কৃত শিক্ষকের বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ড সুভাষচন্দ্র দত্ত জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডে আমাদের নিত্যসঙ্গী তথা ছাত্রপ্রিয় অনুপকুমার দত্তের এই পুরস্কারের সংবাদে আমরা সবাই আনন্দিত।

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

গোপন ইনপুট পেয়ে দুরন্ত হানা, ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে

আরপিএফের রুটিন তল্লাশিতে উদ্ধার টাকার পাহাড়। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে এক যাত্রীকে। যার জেরে ডানকুনি স্টেশনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।ধৃত যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা ছাড়াও উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক কেজি রূপো। আরপিএফ সূত্রে খবর, জেরায় কোন বৈধ নথি দেখাতে পা পারায় আটক করা হয়েছে অভিযুক্ত যাত্রীকে। এত বিপুল পরিমাণ টাকা কী কারণে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল ওই যাত্রী তার খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। রেলযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে তৎপর রেল। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব রেলের রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ) আগের তুলনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। লাগাতার নজরদারি চালানো হচ্ছে বিভিন্ন স্টেশনে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) হাওড়া ডিভিশনের ডানকুনি স্টেশনে সন্দেহভাজন এক যাত্রীকে আটক করে আরপিএফ।তল্লাশিতে ওই যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার হয় সাড়ে ১২ লক্ষ টাকার বেশি নগদ। পাশাপাশি তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ৩.০৫১ কেজি রূপো। জেরায় এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও বাজেয়াপ্ত রূপোর কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি ওই ব্যক্তি।এরপর বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) আটক ব্যক্তিকে উদ্ধার হওয়া নগদ ও রূপোর সঙ্গে আয়কর দপ্তর, কলকাতার হাতে তুলে দেয় আরপিএফ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে আয়কর দপ্তর।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২৫
দেশ

নতুন রূপে জিএসটি ঘোষণা, দাম কমতে চলেছে একাধিক পণ্য - পারিষেবার

নতুন জিএসটি স্ল্যাব ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকার। পুজোর আগে প্রায় জিনিসপত্রের দাম কমতে চলেছে। স্বাস্থ্যবিমা এবং জীবনবিমায় জিএসটি থাকল না, ১৮% থেকে একেবারে ০। ৩৩ টি প্রয়োজনীয় ওষুধের GST শূন্য করায় দাম কমল।বেশিরভাগ খাবারের দাম কমবে। ছানা, রুটি, পনির, ঘি, বাটার, দুধের জিএসটি প্রায় থাকছেই না।তেল, সাবান, শ্যাম্পু, ব্রাশ, শেভিং ক্রিম সব কিছুরই দাম কমছে, ১৮ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ জিএসটি।নুডলস, চানাচুর, নিমকি, ভুজিয়া টাইপ খাবারের দামও কমছে।বাচ্চাদের ন্যাপকিন, ডায়াপারের দাম কমছে।খাতা, পেন, পেনসিল, গ্লোব, ম্যাপ, রাবার - ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম কমছে।জুতো, জামাকাপড়ের দামও কমবে। চাষবাসের জিনিসপত্র, কীটনাশকের দাম কমছে, ফলে সার্বিক ভাবে শাক সবজি ও কৃষিজাত পণ্যের দাম কমার কথা।বাসনপত্র, স্কুটার, বাইক, গাড়ির জিএসটি ২৮ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ, ফলে দাম কমবে।টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিনের মতো জিনিসের দামও কমছে।মোদ্দা কথা মধ্যবিত্তদের রোজকারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কিছুটা হলেও কমতে পারে। কারণ কোন কায়দায় কোন জিনিসের দাম বাড়বে বলা মুশকিল। পুজোর আগে এর থেকে ভাল উপহার আর কিছু হতে পারে না বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৫
রাজ্য

পদ্মশ্রী জয়ী সাঁতারুর বাড়িতে ভয়াবহ চুরি, উধাও ১২০ টির বেশি মেডেল

হুগলির হিন্দমোটর দোবাই পুকুরে প্রাক্তন সাঁতারু ও পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত বুলা চৌধুরীর পৈতৃক বাড়িতে চুরির ঘটনা। দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকা বাড়ি থেকে সোনা, রুপো, ব্রোঞ্জের শতাধিক মেডেল, পদ্মশ্রী ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারের রেপ্লিকা, বিদেশি পদক ও দামি সামগ্রী খোয়া যায়। ঘটনাস্থলে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ও চন্দননগর কমিশনারেটের আধিকারিকরা তদন্তে নেমেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে একই বাড়িতে দুবার চুরি হলেও আজও তার কিনারা হয়নি।ঘটনার পর পদ্মশ্রী পুরস্কার জয়ী বিখ্যাত সাঁতারু বলেন, আমি মানসিক ভাবে খুব বিপর্যস্ত। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী যখন কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তখন আমি বিদেশে সাঁতার প্রতিযোগিতায় যাওয়ার সময় উনি আমায় বলেছিলেন বুলা দেশের জন্য সোনা আনবে, আমি ৬ টি সোনার মেডেল এনে ওনার কথা রেখেছিলাম। এখন উনি মুখ্যমন্ত্রী। এবার আমার আবেদন তাঁর কাছে, দয়া করে প্রশাসনকে জোর দিন যাতে আমার সমস্ত মেডেল গুলো উদ্ধার হয়। বুলার অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

আগস্ট ১৫, ২০২৫
রাজ্য

বর্ধমানে ঘাপটি মেরেছিল জামতারা গ্যাংয়ের তিন প্রতারক, গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ

বর্ধমান শহরে ঘাপটি মেরে দিব্যি প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিল ঝাড়খণ্ডের জামতারা গ্যাংয়ের তিন প্রতারক। বর্ধমান থানার পুলিশ এঁদের বিষয়ে কোনও কিছু টের পায়নি। কিন্তু দিল্লি পুলিশের হাত থেকে রেহাই মেলেনি ওই তিন প্রতারকের। বর্ধমান শহরের আলমগঞ্জের একটি ভাড়াবাড়িতে হানা দিয়ে দক্ষিণ- পশ্চিম দিল্লির সবদরজং এনক্লেবের সাইবার থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম রবি মণ্ডল, রমেশ কুমার মণ্ডল ও মহেন্দ্র কুমার মণ্ডল। রবির বাড়ি ঝাড়খণ্ডের জামতারা জেলার শিয়াতর গ্রামে। রমেশের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দেওঘর জেলার মাের্গা মুণ্ডা থানার কেন্দুয়াতণ্ডে। অপর ধৃত মহেন্দ্র ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বেঙ্গাবাদ থানার রাতডি এলাকার বাসিন্দ।এদিন রাতেই তিন ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করে দিল্লি পুলিশ। হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধার এবং গ্যাংয়ের বাকিদের হদিশ পেতে দিল্লি পুলিল তিন ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশ আবেদন জানায়। সিজেএম বিনোদ কুমার মাহাত সেই আবেদন মঞ্জর করেন। আগামী ২৭ মের মধ্যে ধৃতদের পাতিয়ালা হাউস কোর্টের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করার জন্য সিজেএম তদন্তকারী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।২৮ মের মধ্যে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট ই-মেইল করে পাঠানোর নির্দেশও সিজেএম দিয়েছেন । সাইবার প্রতারণায় এই ধৃতরা বেশ পটু বলে পুলিশের দাবি। দিল্লির সেক্টর আর কে পুরম এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ আগওয়াল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ১২ মে লক্ষ্মণ আগরওয়ালের ফোনে একটি মেসেজ আসে। মেসেজটি দিল্লির জলবোর্ড থেকে পাঠানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়। মিটার রিডিং আপ-টু ডেট না করার জন্য তাঁর জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে বলে সেই মেসেজে জানানো হয়। জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া আটকাতে লক্ষ্মণ আগরওয়ালকে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করার কথাও মেসেজে বলা হয়। সরল মনে তা বিশ্বাস করে লক্ষ্মণ ওই অ্যাপ ডাউনলোড করেন। অভিযোগ, এর পরেই লক্ষ্মণের কাছে তাঁর ব্যাঙ্কের বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তিনি তাও দিয়ে দেন। এরপরই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে থাকা তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৮ হাজার ১৬১ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এ নিয়ে খোঁজখবর চালিয়ে লক্ষ্মণ জানতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জলবোের্ডর কর্মীর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তাঁকে ঠকানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি দক্ষিণ- পশ্চিম দিল্লির সবদরজং এনক্লেবের সাইবার থানার অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে সেই সাইবার থানার পুলিশ যে মোবাইল নম্বর থেকে লক্ষ্মণকে মেসেজ পাঠানো হয়েছিল সেটির সম্পের্ক তথ্য সংগ্রহ করে। টেকনিক্যাল সাপোর্টের মাধ্যমে দিল্লি পুলিল জেনে যায় প্রতারকরা বর্ধমান থানা এলাকায় রয়েছে। এরপরেই দিল্লি পুলিশের একটি দল বর্ধমানে এসে স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিয়ে তিন প্রতারককে পাকড়াও করে।

মে ২৫, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে মোবাইল প্রাপ্তি পুন্যার্থীদের, পুজো দিতে গিয়ে খোয়া গিয়েছিল

তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে এসে কারও মোবাইল হয় চুরি হয়ে গিয়েছিল। নয় তো গিয়েছিল হারিয়ে। এমন প্রায় ৩১ টি মোবাইল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই মোবাইল পুন্যার্থীদের হাতে ফিরিয়ে দিল তারাপীঠ থানার পুলিশ। ওই মোবাইলগুলির অনেকগুলো আবার সুদূর কলকাতা, হাওড়া, হুগলী এমনকি বিহারের পুন্যার্থীদের। রয়েছে মন্দিরের পূজারীর মোবাইলও। খোয়াও যাওয়া মোবাইল ফেরত পেয়ে খুশি সকলেই।সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ এখন রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের অন্যতম তীর্থক্ষেত্রের জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে বিহার, ঝাড়খণ্ডের বেশি সংখ্যক মানুষ তারাপীঠে মা তারার পুজো দিতে আসেন। মন্দিরে প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয়। বিশেষ দিনে সেই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ভাদ্রমাসের কৌষিকী অমাবস্যায় সেই সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছে যায়। পুন্যার্থীরা যখন মা তারার দর্শনের জন্য ব্যস্ত থাকেন সেই সুযোগে হাত সাফাই করে একদল দুষ্কৃতী। ফলে পুণ্য করতে এসে মোবাইল খুইয়ে হতাস হয়ে ফিরে যান পুন্যার্থীরা। মোবাইল খুইয়ে অনেকেই ভেবেছিলেন, আর তা ফিরে পাবেন না। কিন্তু পুলিশের সাইবার সেল এবং তারাপীঠ থানার উদ্যোগে তা সম্ভব হওয়ায় সকলেই খুশি। তাঁদেরই একজন বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা রাজীব নেহার। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে তারাপীঠে এসেছিলাম। মন্দির সংলগ্ন আঘোর আশ্রমে উঠেছিলাম। রাত্রে জানালা থেকে দুটো মোবাইল চুরি হয়ে যায়। একটা মোবাইল অনেক পুরনো তাই কোন কাগজ ছিল না। আরেকটা একদম নতুন ছিল। সেই কারণে একটি মোবাইল চুরির অভিযোগ করেছিলাম। ফোনটা যে ফিরে পাব ভাবিনি। কিন্তু তারাপীঠ থানার সহযোগিতায় ফোনটা ফিরে পেলাম।মন্দিরের সহযোগী পূজারী চন্দন কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, মাস চারেক আগে তারাপীঠের রাস্তা থেকে মোবাইল ফোন হারিয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে তারাপীঠ থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। সেই ফোন ফিরে পেলাম। পুলিশের উদ্যোগ ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।বীরভূম জেলা পুলিশ হারিয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করে প্রাপকের হাতে ফিরিয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয় কয়েক বছর আগে। ফিরিয়ে দেওয়া অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল প্রাপ্তি। সেই অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই ৩১ জনের মোবাইল প্রাপ্তি হল শনিবার। মোবাইল ফিরে পেয়ে পুলিশকে সাধহুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।

মে ২৫, ২০২৫
রাশিফল

মেষ রাশির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে

আজ, ১৩ মে ২০২৫, মঙ্গলবার (২৯ বৈশাখ ১৪৩২), আপনার রাশিচক্র অনুযায়ী দিনটি কেমন কাটবে তা জানতে নিচে প্রতিটি রাশির জন্য সংক্ষিপ্ত রাশিফল দেওয়া হলো:🐏 মেষ (Aries)দূর দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা সফল হতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। 🐂 বৃষ (Taurus)বাড়িতে সতর্ক থাকুন, চুরির আশঙ্কা রয়েছে। আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। 👥 মিথুন (Gemini)জমি বা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য শুভ দিন। শেয়ারে বিনিয়োগ লাভজনক হতে পারে। 🦀 কর্কট (Cancer)বন্ধুদের বিরোধিতা থেকে সাবধান থাকুন। সঞ্চয়ের দিকে বিশেষ নজর দিন। 🦁 সিংহ (Leo)পরিবারের সদস্যদের আগমন আনন্দ বৃদ্ধি করবে। সম্মান ও মর্যাদা বাড়বে। 🌾 কন্যা (Virgo)ব্যবসায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ এড়িয়ে চলুন। মাথা গরম করলে কাজের ক্ষতি হতে পারে। ⚖️ তুলা (Libra)ভাই-বোনের কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারেন। দাম্পত্য জীবনে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। 🦂 বৃশ্চিক (Scorpio)নিয়ম লঙ্ঘন করলে বিপদে পড়তে পারেন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শুভ যোগ রয়েছে। 🏹 ধনু (Sagittarius)সম্প্রীতি ও প্রজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যাবেন। সম্পর্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে। 🐐 মকর (Capricorn)কারও কুপ্রভাবে সংসারে অশান্তি হতে পারে। সামাজিক সুনাম বা প্রতিপত্তি বাড়বে। 🌊 কুম্ভ (Aquarius)সাংসারিক কারণে মানসিক যন্ত্রণা বাড়তে পারে। আজ অবাক করে দেওয়া সুখবর আসতে পারে। 🐟 মীন (Pisces)ব্যয় বাড়তে পারে। সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যা মিটে যেতে পারে।

মে ১৩, ২০২৫
রাজ্য

মুর্শিদাবাদে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ

মুর্শিদাবাদ সীমান্তে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ। মুর্শিদাবাদের রানিনগর থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ রুটমার্চ। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই রুটমার্চ বলে জানিয়েছেন পুলিশ।ওয়াকফ সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবিতে জ্বলছিল মুর্শিদাবাদ। অশান্তি ছড়িয়েছিল মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায়। এলাকায় শান্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে গোটা জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন। মহামান্য আদালতের নির্দেশেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয় মুর্শিদাবাদ জেলায়। আর যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে । সেই দিকটা লক্ষ রেখেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন।

এপ্রিল ১৬, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে বিশেষ লাইনে পুন্যার্থী, হস্তক্ষেপ প্রশাসনের, কবে মিটবে এই বিতর্ক?

তারাপীঠ মন্দিরের জটিলতা মেটাতে অফিসে সেবায়েতদের ডেকেছিলেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক। তাঁদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবায়েতরা। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ। তাঁদের দাবি শাসক দলের নির্দেশে চলছেন মহকুমা শাসক। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি সেবায়েতদের একাংশের। সোমবার চারজন পুন্যার্থীকে বিশেষ লাইনে ঢুকিয়ে পুজো করানো নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। ওইদিন তারাপীঠ মন্দিরের পালাদার ছিলেন কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত রায়। মন্দির কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে প্রশাসনের নির্দেশে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের জন্য দুটি লাইন কড়া হয়েছে। একটি ৫০০ টাকার বিশেষ লাইন। অন্যটি সাধারণ পুন্যার্থীদের জন্য। একটি আছে প্রোটোকল লাইন। যে লাইনে প্রশাসনিক আধিকারিক, মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, রাজনৈতিক দলের প্রধানরা লাইন না দিয়েই সরাসরি মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করতে পারবেন। সেই প্রোটোকল লাইন দিয়ে সোমবার কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রশান্ত রায় চারজন নিকট আত্মীয়কে ঢুকিয়ে ছিলেন। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় মন্দিরে। মন্দিরের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবি প্রোটোকল লাইনে চার পুন্যার্থীদের ঢোকানোর প্রতিবাদ করেন। এনিয়ে মন্দিরেই বচসা বাধে। এরপর রবিবাবু মন্দিরের সেবাইত, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, সুকুমারবাবু মন্দিরের অফিস ঘরে বসে মন্দির থেকে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেন। বন্ধ করে দেন ৫০০ টাকার বিশেষ লাইন। ফলে সোমবার রাত্রি ১১ টা পর্যন্ত অরক্ষিত ছিল মন্দির। এতেই মন্দিরের সেবায়েতদের একাংশ ক্ষোভ ফেটে পড়ে। যেখানে মন্দিরের আয়ের টাকায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হয়েছে সেখানে পালাদারদের বা মন্দির কমিটিকে না জানিয়ে মন্দিরকে সারাদিন অরক্ষিত করে দেওয়া হল কেন? তাছাড়া সুকুমার মুখোপাধ্যায় একজন মন্দিরের সেবায়েত। তিনি কিসের বলে নিরাপত্তারক্ষী তুললেন?কুণালবাবুর বক্তব্য, তারাপীঠ মন্দিরে সারাদেশের ভাবাবেগ জড়িয়ে। যেখানে দেশের প্রধান থেকে হাজার হাজার হিন্দুধর্মালম্বী মানুষ ভিড় করেন। সেখানে তৃণমূলের একজন ব্লক সভাপতি কিভাবে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিতে পারে? এনিয়ে রামপুরহাট মহকুমা শাসক আমাদের অফিসে ডেকে ব্যক্তিগত ব্যবসা নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেন। কিন্তু অন্যায়ভাবে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ার বিষয়ে কর্ণপাত করলেন না। আমাদের মনে হয়েছে মহকুমা শাসক তৃণমূলের নির্দেশে কাজ করছেন।এদিকে মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন আরেক সেবায়েত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মন্দিরে শাসক দলের রাজত্ব চলছে। ১৫ বছর ধরে মন্দির কমিটির কোন নির্বাচন হয়নি। ফলে একনায়কতন্ত্র চলছে। তিনমাস ধরে বিশেষ লাইনের কয়েক কোটি টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় রয়েছে কেউ জানে না। মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে ২০২২ সালে দুবার মহকুমা শাসকের কাছে তথ্য জানার অধিকার আইনে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোন উত্তর মেলেনি। এখন শাসক দলের সঙ্গে প্রশাসন যোগসাজশ করে চলছে। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।এবিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে আমরা মন্দির শান্তিশৃঙ্খল ভাবে পরিচালনা করতে চাইছি। কিন্তু কিছু সেবায়েত নিয়ম ভেঙে মন্দির চালাচ্ছেন। এনিয়ে গণ্ডগোলের জেরেই লাইন থেকে নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছিল। তবে তারা ছিলেন মন্দিরের আশেপাশেই।সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, কোন সেবায়েত যদি নিরাপত্তারক্ষীকে না মানে, মন্দিরের দায়িত্বে থাকা প্রধানকে যদি না মানে তাহলে নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন কি? নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার পরিবার মন্দিরের সমস্ত রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তাদের জন্যই মন্দিরে অশান্তি হচ্ছে।রামপুরহাট মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, আমি মন্দিরের সমস্যা নিয়ে জানতে ওনাদের ডেকেছিলাম। ওনাদের বলে দেওয়া হয়েছে কোনওরকম নিয়ম ভাঙা যাবে না। ওনারা যে অভিযোগ করছেন সেটা ঠিক নয়। তবে লজ নিয়ে কোন অভিযোগ জমা পড়লে তদন্ত করে দেখব। হঠাৎ করে মন্দিরে থেকে নিরাপত্তারক্ষী কেন তুলে নেওয়া হল সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান মহকুমা শাসক।ধ্রুব সাহা বলেন, শাসক দলের মদতে মন্দির চলছে। চলছে ব্যাপক অরাজকতা। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের টাকায় উন্নয়ন হচ্ছে। আবার মন্দিরের টাকাও উন্নয়ন খাতে খরচ দেখানো হচ্ছে। শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট করে নোংরা জলের ট্রাংক নির্মাণ করা হচ্ছে। সমস্ত অনিয়ম হচ্ছে মহকুমা শাসকের ইন্ধনে। আমরা এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।

মার্চ ১৯, ২০২৫
শিক্ষা

জেলিফিশ বা স্টারফিশ কি ভূমিকম্পের আগাম সর্তকতা দিতে পারে? কি জানাচ্ছেন পরিবেশবিদ ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত?

সম্প্রতি ভূমিকম্পের সময় সৈকত শহর দীঘা ঘুরে আসা পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের কাঞ্চননগর দীননাথ দাস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, জাতীয় শিক্ষক, শিক্ষারত্ন, জাতীয় মেন্টার, স্টেম এডুকেটর ও বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও গবেষক কি বলছেন শুনে নেব।ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত ১৯৮৬ -১৯৮৭ কলেজ লাইফ থেকে শিক্ষামূলক ভ্রমণ ও বেড়াবার জন্য ২০২৪ পর্যন্ত অন্তত দশবার দিঘার সমুদ্র বেড়াতে গেছেন, এবং সাতবার পুরীর সমুদ্র গেছেন । প্রথম যখন সরকারি অতিথিশালার সামনে নিউ দীঘায় যান, তখন নিউ দীঘা থেকে খুব সহজেই সি-বিচ ধরে ওল্ড-দিঘা ও মোহনা পায়ে হেঁটে যাওয়া যেত । তখন সৈকতে প্রচুর বিভিন্ন রকমের সামুদ্রিক জীবজন্তু দেখা পাওয়া যেত । কিন্তু বছর তিন চারেক পর ১৯৯১ থেকেই ওল্ড দিঘা সমুদ্র সৈকতের কিনারা ধরে হেঁটে যাওয়া যেত না, এবং জীবজন্তু আগের মত আর পাওয়া যেত না, পরিমাণও কমতে শুরু করে। ২০২৩-২৪ এর আগে জেলিফিশ জেলেদের মাছ ধরার জালে এলেও কখনো দীঘার ব্যাককারেন্টে বা ভাটার সময় সমুদ্র সৈকতে দেখা যেত না। সম্প্রতি ড. দত্ত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ যখন দিঘার সমুদ্রে প্রাতঃভ্রমণে বের হন সকালবেলায় অসংখ্য এধার উধার ছড়িয়ে তারার মত স্টারফিশ, এবং জেলির মতো স্বচ্ছ ছাতার মত হালকা নীলাভ দাগ কাটা জেলিফিশ জলে ঢেউয়ের সঙ্গে ভাসতে দেখতে পান। তিনি জানান, এইরকমই দুটি জেলিফিশ ব্যাক কারেন্টে আটকে গেল। তার পাশাপাশি অসংখ্য তারামাছ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকলো । জেলিফিসের উপরের তল অর্থাৎ অ্যাবরাল সাইডে প্রচুর ছোট স্টারফিস ছোট ছোট শামুক, ঝিনুক, ও মাছ দেখতে পেলেন। ওরাল সাইডে বিভিন্ন জুওয়েড সহ হলুদ রঙের গোনোজুওয়েড। এখন ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত কি বলছেন; তিনি কিছু ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে জেলিফিস টিকে জলে ভাসিয়ে দিতে সমর্থ হলেন। কিছুটা চুপসে যাওয়া জেলিফিস গাড়ির টায়ারের মতো বা ছাতার মতো দেখতে লাগলো। সেইদিন দেখেছিলেন আগের দিনের থেকে সমুদ্র বেশ কিছুটা ক্ষেপে উঠেছে। ঢেউগুলো অনেক বেশ বড় বড় আকার নিচ্ছিল এবং তীর পর্যন্ত চলে আসছিল। তখন বোঝা যায়নি কেন এরকম হচ্ছিল।ফেব্রুয়ারি ২৫ তারিখ সকাল ছয়টা দশে ভূমিকম্প দিঘা-তে কম্পন এর মাত্রা ছিল ৫.৩০ যেটার উৎপত্তি সমুদ্রের ২৩ কিলোমিটার গভীর, এবং ১৩১ কিলোমিটার পূর্ব বঙ্গোপসাগরে।এখন ডক্টর সুভাষচন্দ্র দত্ত কি মনে করছেন?তার প্রশ্ন হলো ২০২৩ সালের আগে জেলিফিশ সেভাবে কখনো আসেনি? ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দেখা গিয়েছিল। তারা মাছও এত সংখ্যায় দেখা যায়নি? বাড়ি এসে বিভিন্ন জার্নালের লিটারেচার সার্ভে করে ডক্টর দত্ত দেখলেন যে জলের দূষণ, তাপমাত্রা, চাপ, তাপ, চৌম্বকত্ব, তীব্রতা, কম্পাঙ্ক, প্লবতা, বিভিন্ন ভারী ধাতু বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম, নিকেল, পারদ এর প্রাচুর্যতা ও প্লাস্টিক দূষণ, অত্যাধিক মাছের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত মাছ ধরা, মানুষের কার্যকলাপ, এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি জেলিফিশ কে বিব্রত করে তাদের বাস্তুতন্ত্রে থাকতে এবং এরা সক্রিয়ভাবে সারা দেয় ও ওই ইকোলজিক্যাল নিচ বা থাকার জায়গা থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পিঁপড়ে, পাখি, হাতি, ইঁদুর, এবং বিভিন্ন প্রাণীরা যেমন আগে থেকে বুঝতে পারে ভূমিকম্পের কথা।এই সমস্ত কারণে তিনি মনে করেন জেলিফিশ ও স্টারফিস রা ২৪ তারিখে ভূমিকম্পের কথা আগাম বুঝতে পেরে ছিল এবং তাদের বাস্তুতন্ত্র ছেড়ে সমুদ্র সৈকতে চলে এসেছিল। ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত একই ঘটনা চাক্ষুষ করেছিলেন ২০০৪ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর সমুদ্রের ভূমিকম্পে তথা সুনামিতে। সেই সময় সমুদ্রের জল পিছিয়ে গেছিল, সমুদ্রের তলদেশ ওঠা নামা করছিল, এবং বিভিন্ন কাংরা, শামুক, ঝিনুক, ও বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ প্রাণী সেদিন দেখেছিলেন। সেদিন বিভিন্ন জলজ প্রাণীরা ভূমিকম্পের তথা সুনামির ফলে সমুদ্র সৈকতের দিকে নিজস্ব বস্তুতন্ত্র ছেড়ে চলে এসেছিল।এই সমস্ত ঘটনা ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি, ভবিষ্যতে জেলিফিশ ও স্টারফিশ কে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস জানার বায়ো-ইন্ডিকেটার হিসাবে কাজে লাগানো যেতে পারে । যদিও এ ব্যাপারে অনেক গবেষণা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিক্ষক ড. সুভাষ চন্দ্র দত্ত ।

মার্চ ১৬, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে অশান্তিতে গ্রেফতার বিজেপি নেতৃত্ব, কি নিয়ে এত গন্ডগোল?

তারাপীঠে অশান্তি যেন কিছুতেই কমছে না। বরং তা বেড়েই চলেছে। এর আগের শ্মশানে রিজার্ভার নির্মানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি। এবার বৈষ্ণবদের সমাধি ধ্বংস করে শ্মশানের মধ্যে নোংরা জল মজুতের বিরোধিতা করতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে একাধিক নেতা কর্মীকে। দলীয় সভাপতি এবং নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তারাপীঠ থানায় বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। পরে অবশ্য সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।সূত্রের খবর, বীরভূমের তারাপীঠের প্রধান রাস্তার দুপাশের এবং পাণ্ডা পাড়ার নোংরা জল মজুত করার জন্য তারাপীঠ শ্মশানে একটি রিজার্ভার নির্মাণ করছিল জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। সেই জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলার কথা। পশ্চিমাঞ্চল পরিবেশ আদালতের নির্দেশে ওই কাজ করা হচ্ছিল বলে জানান তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায়। শ্মশানের পবিত্রতা নষ্ট করে রিজার্ভার নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিজেপির পক্ষ থেকে শ্মশানে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মাটি ফেলে কিছুটা বন্ধ করে দেওয়া হয় রিজার্ভারের গর্ত। ওইদিন বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা হুঁশিয়ারি দেন ফের কাজ শুরু হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে দল। বিজেপির হুঁশিয়ারিকে আমলা না দিয়ে দিন দুয়েক থেকে একই জায়গায় ফের মাটি কাটার কাজ শুরু করে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। তারই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। নেতৃত্ব দেন দলের জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা, জেলা সহ সভানেত্রী রুপা মণ্ডল, জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল, বিজেপি মোর্চার জেলা সভানেত্রী রশ্মি দে। সকলে মিলে কোদাল ধরে গর্তে মাটি ভরাট করতে শুরু করেন। এরপরেই তারাপীঠ থানার পুলিশ গিয়ে ধ্রুব সাহা সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। বিজেপি থানাতেও বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি, ধৃতদের নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক পর সকলকে ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়।এদিকে বিজেপি নেতা কর্মীদের গ্রেফতারের পরেই শ্মশানের সাধু সন্তরা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে খনন কাজের কাছে জমায়েত হন। তারা বিজেপির পতাকা খুলে ফেলে দেন। ছিঁড়ে ফেলেন পোস্টার। সাধুদের দাবি, নোংরা জলকে পরিশ্রুত করে নদীতে ফেলার জন্য এই নির্মাণ হচ্ছে। এটা ভালো কাজ। বিজেপির নোংরা রাজনীতিকে আমরা ধিক্কার জানাই।যদিও ধ্রুব সাহার বক্তব্য, সাধুদের আমরা শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। অধিকাংশ সাধু আমাদের সঙ্গে আছেন। কিছু সাধু তৃণমূলের কাছে সুবিধা পেয়ে এসব করছেন। তারা সাধু নন। সাধু হলে সনাতনী সমাধি ধ্বংসের প্রতিবাদে সোচ্চার হতেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৃণমূল আমাদের আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য দলীয় অফিসে মস্তান জমায়েত করেছিল। পুলিশ তাদের সরাতে না পেরে আমাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। কোন মতে শ্মশানে নির্মাণ কাজ করতে দেব না।শ্মশানে নোংরা জলের রিজার্ভার নির্মাণের প্রতিবাদ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ বৈরাগী বৈষ্ণব সমিতির রাজ্য সম্পাদক শ্যামা পদ দাস বলেন, বিষয়টি খুব চিন্তার। এভাবে বৈষ্ণবদের সমাধি ধ্বংস করা উচিত নয়। আমরা এই নির্মাণের বিরোধিতা করছি।তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, এই কাজ করছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। পবিত্র মহাশ্মশানে এবং দ্বারকা নদীতে যাতে দুষিত জল না পরে সেই জন্য রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে জমা হওয়া জল পরিশ্রুত করে দ্বারকা নদীতে ফেলা হবে। এর ফলে দ্বারকার জলে দূষণ হবে না। এই নির্মাণ করতে গিয়ে একটিও গাছ কাটা হবে না। ধ্বংস করা হবে না সমাধি।প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর জয়দীপ মুখোপাধ্যায় তারাপীঠের দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে ২০১৮ সালে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার রায়ে আদালত ৭০ টি হোটেললজকে চিহ্নিত করে জরিমানা করে। সেই সঙ্গে দূষণ রোধে সরকারকে একাধিক নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই ওই নির্মাণ বলে জানান সুকুমার মুখোপাধ্যায়।

মার্চ ০৬, ২০২৫
রাজ্য

তারাপীঠে উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়, দেশের মঙ্গল কামনায় করলেন প্রার্থণা

সস্ত্রীক মা তারাকে পুজো দিলেন দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। দেশের মঙ্গল কামনা করে মা তারার কাছে প্রার্থণা করলেন তিনি। আজ বেলা ১০টা ১৫ মিনিটে তারাপীঠ মন্দিরে পৌঁছান উপরাষ্ট্রপতি। তারপর মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পুজো অর্চনা করেন। পুজো দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, মা তারার কাছে দেশের মঙ্গল কামনা করছি। মা তারার দর্শনে আমরা দুজনে এক আলাদা অনুভুতি পেয়েছি।আজ, শুক্রবার দিল্লী থেকে বিমানে করে পানাগড় পৌঁছান উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপর সেখান থেকে বায়ুসেনার চপারে চড়ে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমানার বায়ুসেনার সুঁড়িচুয়া এয়ারবেসে অবতরণ উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তারপর সেখান ১০টা১৫ মিনিটে সড়ক পথে পৌঁছান তারাপীঠ মন্দিরে। সেখানে পুজো দেওয়ার পর ১০টা৩৫ মিনিটে তারাপীঠ থেকে বেড়িয়ে ১১টা ২০ মিনিটে ফের বায়ুসেনার চপারে চড়ে পানাগড়ের উদ্যেশ্যে রওয়ানা দেন।

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৫
দেশ

নির্মলা সীতারামনের বাজেটে মধ্যবিত্তের কতটা সুরাহা হোল? জানুন

সংক্ষেপে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬গড় মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কোন আয়কর নয়; লক্ষ্য মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চয় এবং ভোগ ব্যয় বাড়ানো।নতুন কর কাঠামোয় বেতনভোগী বর্গের বার্ষিক ১২.৭৫ লক্ষ টাকা আয়ে করের পরিমাণ শূন্য।কেন্দ্রীয় বাজেটে উন্নয়নের চারটি চালিকাশক্তি চিহ্নিত কৃষি, অণু-ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প, বিনিয়োগ এবং রপ্তানি।কৃষকদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা-র আওতায় আসবে কৃষি উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে থাকা ১০০টি জেলা।তুর, অড়হর এবং মুশুর ডালের উৎপাদন বাড়াতে মিশন ফর আত্মনির্ভরতা ইন পালসেস।পুনর্মাজিত সুদ ছাড় প্রকল্পের মাধ্যমে কেসিসি-র আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ।অর্থবর্ষ ২৫-এ আর্থিক ঘাটতি ৪.৮ শতাংশ হবে বলে অনুমান, অর্থবর্ষ ২৬-এ তা ৪.৪ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য।ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে ঋণের সংস্থান বৃদ্ধি, জামিনযুক্ত ঋণের সীমা ৫ কোটির বদলে ১০ কোটি টাকা।মেক ইন ইন্ডিয়ায় গতি আনতে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প ক্ষেত্রকে নিয়ে আসা হচ্ছে জাতীয় উৎপাদন অভিযানের আওতায়। সরকারি স্কুলগুলিতে আগামী ৫ বছরে ৫০,০০০ অটল টিঙ্কারিং ল্যাব।শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উৎকর্ষ কেন্দ্র, মোট বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা।পিএম স্বনিধি-র আওতায় ব্যাঙ্ক থেকে আরও ঋণ, ইউপিআই সংযুক্ত ক্রেটিড কার্ডের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বসীমা ৩০,০০০ টাকা।গিগ কর্মীদের পরিচয়পত্র, ই-শ্রম পোর্টালে নিবন্ধন এবং পিএম জন আরোগ্য যোজনার আওতায় স্বাস্থ্য পরিষেবা।উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে শহর কর্মসূচির আওতায় নগরাঞ্চলের সমস্যা দূর করতে ১ লক্ষ কোটি টাকা।ছোট মডিউলার রিঅ্যাক্টার নিয়ে গবেষণার জন্য পরমাণু শক্তি মিশন বাবদ ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে পুনর্মাজিত উড়ান প্রকল্পের আওতায় নতুন ১২০টি গন্তব্য।১ লক্ষ আবাসন নির্মাণে গতি আনতে ১৫,০০০ কোটি টাকা এসডাব্লুএএমআইএইচ তহবিল গড়ে তোলা হবে।গবেষণা এবং উদ্ভাবনমূলক উদ্যোগে বেসরকারি ক্ষেত্রের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে বরাদ্দ ২০,০০০ কোটি টাকা।১ কোটিরও বেশি প্রাচীন লিপি ও লেখ সংরক্ষণে জ্ঞান ভারতম মিশন।বীমা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ৭৪ থেকে বেড়ে ১০০ শতাংশ।বিভিন্ন আইনের ১০০-রও বেশি সংস্থানকে অপরাধের তকমামুক্ত করা।আপডেটেড আয়কর রিটার্নের সময়সীমা ২ বছর থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪ বছর।টিসিএস প্রদানে বিলম্বকে অপরাধের তকমামুক্ত করা।ভাড়াবাবদ টিডিএস ২.৪ লক্ষ থেকে বেড়ে ৬ লক্ষ টাকা।ওপেন সেলের ক্ষেত্রে আইপিএফডি-র ওপর শুল্কে রেহাই।ব্যাটারি উৎপাদনে গতি আনতে বৈদ্যুতিক যানের এবং মোবাইল ব্যাটারি উৎপাদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূলধনে কর রেহাই।জাহাজ নির্মাণে কাঁচামাল এবং উপকরণের ওপর ১০ বছরের জন্য শুল্কে ছাড়।হিমায়িত মাছের পেস্টে শুল্কের হার ৩০ থেকে কমে ৫ শতাংশ, মাছ থেকে তৈরি তরল সারের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১৫ থেকে কমে ৫ শতাংশ।সংসদে আজ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার সংক্ষিপ্তসার বিভাগ - কবাজেটে সকলের বিকাশ-এর মন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেকটি অঞ্চলের সুষম উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিকশিত ভারতের মূল নীতিগুলি তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী :১. সম্পূর্ণ দারিদ্র্য দূরীকরণ;২. বিদ্যালয়ে শিক্ষার উৎকর্ষমান সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া;৩. সকলের জন্য সার্বিক, উন্নত এবং সুলভ চিকিৎসা পরিষেবা;৪. উপযুক্ত নিয়োগ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া;৫. অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৭০ শাতংশে নিয়ে যাওয়া; এবং৬. দেশকে সারা বিশ্বের খাদ্য থালি করে তুলতে কৃষকদের ভূমিকায় অগ্রাধিকার।কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬-এ বিকাশ হার বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে মর্যাদা দেওয়া এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তবর্গের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। দরিদ্র, তরুণ প্রজন্ম, কৃষক এবং মহিলাদের উন্নয়নে বিশেষ সংস্থান রয়েছে এই বাজেটে। কর, বিদ্যুৎ, নগরোন্নয়ন, খনি, আর্থিক ক্ষেত্রে সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণমূলক কাঠামোকেও পরিমার্জিত করে ভারতের বিকাশের যাবতীয় সম্ভাবনার সদ্ব্যবহার এবং বিশ্বের বাজারে এদেশের পণ্য ও পরিষেবার চাহিদা বাড়ানোর বিষয়গুলিও বাজেটে প্রাধান্য পেয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেট বলেছে যে কৃষি, ক্ষুদ্র-মাঝারি ক্ষেত্র, বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বিকশিত ভারতের পথে যাত্রার মূল চালিকাশক্তি।প্রথম চালিকাশক্তি : কৃষি বাজেটে প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা-র ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এর আওতায় আসবে ১০০টি জেলা। লক্ষ্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শস্যের বৈচিত্র্য, ফসল পরবর্তী মজুত ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্প মেয়াদি ঋণের সংস্থান সহজতর করা। সূচনা হবে বহুক্ষেত্রিক গ্রামীণ সমৃদ্ধি এবং স্থিতিস্থাপকতা কর্মসূচির। রাজ্যগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই কর্মসূচির আওতায় দক্ষতায়ন, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের প্রসারের পাশাপাশি সামগ্রিক ভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে গ্রামের মহিলা, তরুণ কৃষক, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এবং ভূমিহীন পরিবারগুলিকে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন যে সরকার ৬ বছরের মিশন ফর আত্মনির্ভরতা ইন পালসেস নামে একটি কর্মসূচি চালু করবে। এখানে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তুর, অড়হর এবং মুশুর ডালের ওপর। নাফেড এবং এনসিসিএফ-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা আগামী ৪ বছর কৃষকরা যতটা পরিমাণে এই সব ডাল বিক্রি করতে চান, ততটাই কিনে নেবে। শাক-সব্জি এবং ফলমূলের উৎপাদন বৃদ্ধির একটি সার্বিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে বাজেটে। উচ্চফলনশীল শস্য বীজের জাতীয় মিশন এবং তুলোর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫ বছরের একটি বিশেষ কর্মসূচির কথাও বলা হয়েছে। পুনর্মার্জিত সুদ রেহাই কর্মসূচির আওতায় কিষাণ ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণের ঊর্ধ্বসীমা ৩ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হবে। দ্বিতীয় চালিকাশক্তি : ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্র ভারতের রপ্তানিতে ৪৫ শতাংশ অবদান এই ক্ষেত্রের। প্রযুক্তিগত বিকাশ, দক্ষতায়ন, মূলধনের সংস্থান প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিরিখে এই সব সংস্থার আর্থিক আদান-প্রদানের সীমা আড়াই থেকে দুই গুণ বাড়ানো হয়েছে। জামিনযুক্ত ঋণের ঊর্ধ্বসীমাও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মহিলা, তপশিলি জাতি ও উপজাতি বর্গের ৫ লক্ষ নতুন উদ্যোগপতিকে সহায়তার জন্য অর্থমন্ত্রী একটি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় আগামী ৫ বছর ২ কোটি টাকা পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে। খেলার সরঞ্জাম উৎপাদনে মেক ইন ইন্ডিয়া ব্র্যান্ডকে বিশ্বের বাজারে আরও জনপ্রিয় করতে চায় সরকার। মেক ইন ইন্ডিয়া কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে ছোট-বড় সব শিল্পকে আওতায় এনে সূচনা হবে জাতীয় উৎপাদন মিশনের। তৃতীয় চালিকাশক্তি: বিনিয়োগ অর্থমন্ত্রী মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল এবং উদ্ভাবন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে জোর দিয়েছেন। মানবসম্পদে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেছেন সরকারি স্কুলগুলিতে আগামী ৫ বছরে ৫০,০০০ অটল টিঙ্কারিং ল্যাব গড়ে তোলা হবে। গ্রামীণ এলাকায় সরকারি স্কুল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে ভারত নেট প্রকল্পের আওতায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভারতীয় ভাষায় ডিজিটাল বইয়ের সংস্থানে রূপায়িত হবে ভারতীয় ভাষা পুস্তক প্রকল্প। মানবসম্পদের দক্ষতায়ন ও উৎকর্ষমানের বিকাশে জাতীয় স্তরে চারটি আন্তর্জাতিক মানের উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এর লক্ষ্য মেক ফর ইন্ডিয়া, মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড কর্মসূচিকে জোরদার করা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত একটি উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে। গিগ কর্মীদের (ডেলিভারি বয় বা এই ধরনের কাজে নিযুক্ত) দেওয়া হবে পরিচয়পত্র। ই-শ্রম পোর্টালে তাঁদের নিবন্ধন হবে। পিএম জন আরোগ্য যোজনার আওতায় চিকিৎসার সুযোগ পাবেন তাঁরা। অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে বিনিয়োগের বিষয়ে শ্রীমতী সীতারমন বলেছেন যে পরিকাঠামো সংক্রান্ত মন্ত্রকগুলি সরকারি, বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৩ বছরের একটি রূপায়ণ সংক্রান্ত উদ্যোগ হাতে নেবে। মূলধনী বিনিয়োগ এবং সংস্কারের জন্য রাজ্যগুলিকে ৫০ বছর বিনাসুদে ঋণ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী ১.৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলেছেন। নতুন প্রকল্পগুলির অর্থায়নের প্রশ্নে মূলধন বাবদ ১০ লক্ষ কোটি টাকার সংস্থানে অর্থমন্ত্রী দ্বিতীয় সম্পদ মুদ্রাকরণ পরিকল্পনা ২০২৫-৩০-এর ঘোষণা করেছেন। জল জীবন মিশনের মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই কাজে পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হবে। সিটিস অ্যাজ গ্রোথ হাবস- সামগ্রিক ভাবে নগর বিকাশ এবং জল ও শৌচালয় পরিষেবা উন্নত করতে সরকার ১ লক্ষ কোটি টাকার একটি তহবিল গড়ে তুলবে। উদ্ভাবন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা হয়েছে। বেসরকারি উদ্যোগে গবেষণার কাজে গতি আসবে এর ফলে। অর্থমন্ত্রী ন্যাশনাল জিওস্প্যাশিয়াল মিশনের ঘোষণা করেছেন এসংক্রান্ত পরিকাঠামো জোরদার করতে। এর থেকে পাওয়া তথ্যাদি নগর পরিকল্পনার কাজ সহজ করবে। ১ কোটি প্রাচীন লিপি ও লেখ সংরক্ষণে জ্ঞান ভারতম মিশনের ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামিল হবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, এমনকি বেসরকারি পক্ষও। ভারতীয় জ্ঞান ধারার ভান্ডার নিয়ে গড়ে উঠবে একটি জাতীয় ডিজিটাল রেপোজেটরি। চতুর্থ চালিকাশক্তি : রপ্তানি এক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করবে বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এবং অর্থমন্ত্রক। রপ্তানির বাজার ধরতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থাগুলির সহায়তায় কাজ করবে রপ্তানি প্রসার মিশন। ডিজিটাল জনপরিকাঠামো সমৃদ্ধ ভারতট্রেডনেট এক্ষেত্রে তথ্য ও অর্থ সংস্থানে কাজ করবে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রসার এবং বিশ্বের সরবরাহ শৃঙ্খলে সংযুক্তির প্রসারে একাধিক পদক্ষেপের কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী। শিল্প ৪.০ সংক্রান্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার দেশে বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নির্মাণ ক্ষেত্রকে সহায়তা করবে। টায়ার ২ শহরগুলিতে গড়ে তোলা হবে গ্লোবাল কেপেবিলিটি সেন্টার। পচনশীল বাগিচা পণ্যের বিমানে পরিবহণ এবং মজুত ব্যবস্থাকে জোরদার করতে পরিকাঠামো উন্নত করা হবে। জ্বালানি হল সংস্কার অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়টিকেই জ্বালানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিগত ১০ বছরে সরকার কর ক্ষেত্রে বিস্তৃত সংস্কার কর্মসূচিতে হাত দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আবারও বলেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার। আর্থিক ক্ষেত্রে সংস্কার এবং বিকাশ ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসকে জোরদার করতে অর্থমন্ত্রী সমগ্র পরিমণ্ডলে ব্যাপক পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। বীমা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৭৪ থেকে ১০০ শতাংশ করা হবে। কর সহ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলিকে নাগরিক কেন্দ্রিক করে তোলার ওপর আবারও জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী : ১. নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সংস্কারে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি এর কাজ হবে আর্থিক নয় এমন ক্ষেত্রগুলির নিয়ন্ত্রণ, শংসাপ্রদান এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা। পারস্পরিক বিশ্বাস ভিত্তিক নানা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জোরদার করা হবে ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস-কে কমিটি সুপারিশ পেশ করবে ১ বছরের মধ্যে। এই কাজে সামিল হতে রাজ্যগুলিকে উৎসাহিত করা হবে।২. রাজ্যগুলির বিনিয়োগ সহায়তা সূচক ২০২৫-এ সূচনা হবে এই কর্মসূচির, জোরদার হবে প্রতিযোগিতামূলক সহযোগিতার পরিমণ্ডল।৩. আর্থিক সুস্থিতি ও বিকাশ পরিষদ (এফএসডিসি)-এর আওতায় ব্যবস্থাপনা এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্তমানে প্রযোজ্য আর্থিক নিয়ন্ত্রণবিধি ইত্যাদি খতিয়ে দেখা হবে। এই সব বিধির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গড়ে তোলা হবে একটি ব্যবস্থাপনা।৪. জন বিশ্বাস বিল ২.০ বিভিন্ন আইনের ১০০টি সংস্থানকে অপরাধের তকমা মুক্ত করা হবে।আর্থিক শৃঙ্খলা অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন জিডিপি-র অনুপাতে কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণ নিম্নমুখী রাখতে সরকার সচেষ্ট। এক্ষেত্রে আগামী ৬ বছরের পরিকল্পনা রূপরেখা বিশদ ভাবে রয়েছে এফআরবিএম-এর বিবৃতিতে। পুনর্মার্জিত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫-এ আর্থিক ঘাটতি জিডিপি-র ৪.৮ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা। ২০২৫-২৬-এর বাজেট হিসাব অনুযায়ী তা হতে পারে জিডিপি-র ৪.৪ শতাংশ। পুনর্মার্জিত হিসাব ২০২৪-২৫ পুনর্মার্জিত হিসাব অনুযায়ী ঋণ বাদ দিয়ে সরকারি কোষাগারের ৩১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা আসতে পারে। এর মধ্যে কর সংগ্রহ দাঁড়াবে ২৫.৫৭ লক্ষ কোটি টাকা। মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৪৭.১৬ লক্ষ কোটি টাকায় যার মধ্যে মূলধনী ব্যয় ১০.১৮ লক্ষ কোটি টাকা। বাজেট হিসেব ২০২৫-২৬ এক্ষেত্রে ঋণ ব্যতিত সংগ্রহের পরিমাণ ৩৪.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা হতে পারে। ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৫০.৬৫ লক্ষ কোটি টাকায়। কর বাবদ ২৮.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা পেতে পারে সরকার।বিভাগ খদেশ গঠনে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভূমিকার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-২৬-এ নতুন কর সীমার ও হারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বছরে ১২ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত আয়কর দিতে হবে না। এক্ষেত্রে অবশ্য মূলধনী লাভের দিকটি বাদ থাকছে। ৭৫ হাজার কোটি টাকা স্ট্যান্টার্ড ডিডাকশনের কথা মাথায় রাখলে দেখা যাচ্ছে বেতনভোগী কর্মীদের বার্ষিক ১২.৭৫ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত আয়কর দিতে হবে না। নতুন এই কর কাঠামো এবং প্রত্যক্ষ কর সংক্রান্ত নানা প্রস্তাবের দরুণ সরকারের রাজস্ব প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা কমবে। পুনর্মার্জিত আয়কর সীমা অনুযায়ী ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করের হার শূন্য, ৪ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ, ৮ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, ১২ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, ১৬ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ, ২০ থেকে ২৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। বার্ষিক ২৪ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের ক্ষেত্রে করের হার ৩০ শতাংশ। টিডিএস টিসিএস প্রণালীতে যুক্তিযুক্ত করতে প্রবীণ নাগরিকদের সুদ বাবদ আয় কর ছাড়ের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে টিডিএস-এর সীমা বছরে ২.৪ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। টিডিএস মতো টিসিএস প্রদানের ক্ষেত্রেও বিলম্ব এবার থেকে আর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। নাগরিকরা যাতে স্বেচ্ছায় কর দিতে আরও উৎসাহী হয়ে ওঠেন সেজন্য মূল্যায়ন বর্ষের ভিত্তিতে আপডেটেড রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময়সীমা ২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর করা হচ্ছে। আয়ের আপডেট বাবদ ৯০ লক্ষ করদাতা বাড়তি কর দিয়েছেন। ছোট সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তাদের নিবন্ধনের সময়সীমা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। এছাড়াও করদাতারা এখন নিজের দখলে থাকা দুটি সম্পত্তির ক্ষেত্রে বার্ষিক মূল্য শূন্য বলে দাবি করতে পারেন। এক্ষেত্রে কোন শর্ত থাকছে না। গত বাজেটের বিবাদ থেকে বিশ্বাস কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ৩৩ হাজার করদাতা এর সুযোগ নিয়েছেন। প্রবীণ এবং অতিপ্রবীণদের আরও সহায়তার লক্ষ্যে ২৯ আগস্ট ২০২৪ কিংবা তার পরে ন্যাশনাল সেভিংস স্কিম থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে করে রেহাই দেওয়া হবে। এনপিএস বাৎসল্য খাতার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে। ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসের বিষয়টি জোরদার করতে আন্তর্জাতিক আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত মূল্যমান অপরিবর্তিত রাখার মেয়াদ ৩ বছর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে করের ক্ষেত্রে নিশ্চয়তার লক্ষ্যে সেলফ হার্বার রুলের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের প্রসারে, অনাবাসী ভারতীদেরে কথা মাথায় রেখে একটি অনুমান ভিত্তিক কর ব্যবস্থাপনার কথা ভাবা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ জলপথে চলাচলকারী জলযানগুলির ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রযোজ্য টন ভিত্তিক কর ব্যবস্থাপনা চালু হবে। স্টার্টআপ পরিমণ্ডলকে বিকশিত করতে নিগমায়নের সময়সীমা বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে সভারেন ওয়েল ফান্ড এবং পেনশন ফান্ডে বিনিয়োগের সময়সীমা আরও ৫ বছর বাড়িয়ে ২০৩০-ের ৩১ মার্চ করা হয়েছে। শিল্পপণ্যের শুল্ক প্রণালীকে যুক্তিযুক্ত করতে বাজেটে ৭টি শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা হয়েছে। এর পাশাপাশি সেস প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সংবেদনশীলতার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে ৩৬টি জীবনদায়ী ওষুধ, ক্যান্সার ও বিশেষ ধরনের রোগের একাধিক ওষুধের ওপর সীমাশুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। রোগীদের বিনামূল্যে প্রদান করা হলে মেধাস্বত্ব সহায়তা কর্মসূচির আওতায় থাকা ১৩টি নতুন ওষুধে ভিত্তি সীমাশুল্ক কার্যকর হবে না। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও মূল্যসংযোজনের প্রসারে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ খনিজে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে ২০২৪-এর জুলাইয়ে। আরও ১২টি খনিজের ক্ষেত্রেও এই নীতি কার্যকর হবে। দেশে বস্ত্র উৎপাদনে গতি আনতেও বিভিন্ন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে কিংবা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। মেক ইন ইন্ডিয়ার প্রসারে ব্যাটারি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উপকরণে কর সংক্রান্ত সুবিধা মিলবে। রপ্তানি ক্ষেত্রের প্রসারে বিশেষ জোর দেওয়া হবে হস্তশিল্প সামগ্রীর ওপরে। হিমায়িত মাছের পেস্টে শুল্ক ৩০ থেকে কমে ৫ শতাংশ হবে। মাছ থেকে উৎপাদিত তরল সারের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমে হবে ৫ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বিকশিত ভারতের যাত্রায় মূল স্তম্ভগুলি হল গণতন্ত্র, জনবিন্যাস এবং চাহিদা। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা মাথায় রেখে কর কাঠামোয় ধারাবাহিক পরিমার্জন করে চলেছে সরকার। নতুন কর কাঠামোর সুবাদে মধ্যবিত্তদের হাতে টাকা আসবে। বাড়বে ভোগ ব্যয়, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগ।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৫
দেশ

অবশেষে মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা জানাল উত্তরপ্রদেশ সরকার

প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভে স্নান করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক ছিল। শেষমেশ উত্তর প্রদেশ সরকার মহাকুম্ভে পদপৃষ্ট এবং মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছে। মহাকুম্ভের ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণা জানিয়েছেন, গতকাল রাতে কুম্ভস্নান করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। জখম হয়েছেন ৯০ জন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে ৩৬ জনের চিকিৎসা চলছে।মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। সূত্রের খবর, মহাকুম্ভের ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণা এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ১টা থেকে ২টোর মধ্যে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। তাতেই পদপিষ্ট হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় মিলেছে, বাকি ৫ জনের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। মহাকুম্ভে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন।মহাকুম্ভে বুধবার ভোররাতে শাহি স্নান ঘিরে প্রবল হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে বেশ কয়েকজন পুণ্যার্থী। বুধবার ভোরে মৌনী অমাবস্যায় পবিত্র স্নানের জন্য প্রচুর পুণ্যার্থী একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন। তখনই এই ভয়ঙ্কর বিপত্তি ঘটে। অবশেষে উদ্ধারকার্যে সেনাবাহিনী নামাতে হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য, দর্শনার্থীদের ধৈর্য ধরে থাকার এবং ব্যারিকেড এবং পন্টুন সেতুতে ভিড় এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

জানুয়ারি ২৯, ২০২৫
রাজ্য

গুরুতর অভিযোগ তৃণমূলের চিকিৎসক বিধায়কের বিরুদ্ধে, ক্ষুব্ধ তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতরা

এর আগে হুমকি, তোলাবাজি মাস্তানী সহ নানা অভিযোগ শোনা তৃণমূলের কোনও কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে। এবার বীরভূমের এক তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে তোলপাড়। তিনি আবার পেশায় চিকিৎসক। সেই চিকিৎসাক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে।মত্ত অবস্থায় অপারেশন করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক চিকিৎসক-বিধায়কের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে বুধবার অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতরা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের চিকিৎসক-বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাটি ঘটেছে তারাপীঠ শহরের একটি নার্সিংহোমে। বুধবার ওই নার্সিংহোম ও বিধায়কের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েতরা। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে দিন কয়েক আগে বীরভূমের হাসানের বিধায়ক চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী সুজাতা মুখোপাধ্যায়। সুজাতাদেবী সাহাপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যাও। অস্ত্রোপচারের পর সোমবার সুজাতাদেবীর মৃত্যু হয়।সুজাতা দেবীর স্বামী তথা তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, চিকিৎসক-বিধায়ক মত্ত অবস্থায় ভুল অপারেশন করেছিলেন। তারই জেরে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পুর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক বিধায়ক। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠ শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৪
রাজ্য

ট্যাবের টাকা কোথায়? মালদা থেকে সাইবার ক্যাফের মালিককে গ্রেফতার বর্ধমান পুলিশের

পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের হাতে ধরা পড়লো মালদার সাইবার ক্যাফের এক মালিক। অভিযুক্ত যুবকের ট্যাব কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার ঘটনা জানাজানি হতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোমবার গভীর রাতে মালদার বৈষ্ণবনগর থানার কৃষ্ণপুর এলাকার বাড়ি থেকেই সাইবার ক্যাফের মালিক হাসেম আলীকে গ্রেফতার করে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার মালদা আদালতের মাধ্যমে ধৃতকে সাত দিনের জন্য ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে তদন্তকারী পুলিশকর্তারা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ট্যাব কেলেঙ্কারির পান্ডা এই হাসেম আলীর মাধ্যমে প্রচুর সূত্র বেরিয়ে আসতে পারে। কারা এতদিন ধরে ছাত্রদের লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব করার পিছনে যুক্ত রয়েছে, সেটিও জানতে তৎপর তদন্তকারী পুলিশকর্তারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈষ্ণবনগর থানার কৃষ্ণপুর এলাকার বাসিন্দা হাসেম আলী। তার বৈষ্ণবনগরের এমএলএ মোড়ে রাস্তার ধারে ছোট্ট একটি সাইবার ক্যাফের দোকান রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক পাশ ওই যুবক যে বিশেষ কায়দায় পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক বিষয়ে পারদর্শী তা জানতে পেরেও হতবাক হয়েছে পুলিশ। ধৃত হাসেম আলীর কাছ থেকে তিন বছরের একটি কম্পিউটার সার্টিফিকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ ।জেলার পুলিশ সুপার সায়ক দাস জানিয়েছেন, ট্যাব কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে গত জুলাই মাসে হাসেম আলি একটি মোবাইল ফোন মাধ্যমে বাংলার শিক্ষা পোর্টাল অ্যাকসেস করে। সাথে সাথে হাসেম নিজেও একটি অ্যাকাউন্ট মোডিফাই করেছিল। এই কাজে হাসেম যে মোবাইলটি ব্যবহার করতো সেটিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। এই ঘটনায় হাসেমের সঙ্গে আরও কিছু জন জড়িত থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। বর্ধমান জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জুলাই মাসে হাসেম আলী তার মোবাইল ফোনে বাংলা শিক্ষা পোর্টালে ঢুকে। এরপরই পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টের তথ্য বদলে দেয় বলে পুলিশ এখনও পর্যন্ত জানতে পেরেছে। তারপরে ধীরে ধীরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ধৃত হাসেম আলী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ট্যাব কেলেঙ্কারিতে শুধু হাসেম আলী একা জড়িত নয়। এর পিছনে অনেক বড় বড় মাথা রয়েছে। সেইসব পান্ডাদের সন্ধান পেতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালদা আদালতের কাছে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে বর্ধমান পুলিশ। ধৃত হাসেম আলির মা নুরজাহান বেগম বলেন, আমার ছেলেকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। ও যদি সত্যি এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে থাকত, তাহলে আজকে আমাদের আধা কাঁচা, আধা পাকা বাড়িতে থাকতে হত না। আমার ছেলের কোনওরকম বিলাসবহুল জীবনযাত্রাও ছিল না। সাদামাটা ভাবেই থাকতো। তারপরেও হঠাৎ করে পুলিশ এসে ছেলেকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ধরে নিয়ে গিয়েছে। আমার ছেলে নির্দোষ। উল্লেখ্য, পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রায় শতাধিক পড়ুয়ার পাশাপাশি মালদার গাজোল, হবিবপুর এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের তিনটি বিদ্যালয়ের প্রায় দেড়শ জন পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই মালদার জেলাশাসকের নির্দেশে শুরু হয় তদন্ত। তিনটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নামে এফআইআর করে জেলা শিক্ষা দপ্তর। এরই মধ্যে সোমবার গভীর রাতে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ মালদায় হানা দিয়ে ট্যাব কেলেঙ্কারিতে হাসেম আলী নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার সেই মোবাইল ফোনও।

নভেম্বর ১২, ২০২৪
রাজ্য

তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মেলনী ঘিরে ভাতারে বিশৃঙ্খলা, কোনওরকমে সামলালেন বিধায়ক

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে তৃণমূল কংগ্রেসের বিজয়া সম্মিলনীকে কেন্দ্র করে তুলকালাম পরিস্থিতি। গন্ডগোলের রেশ গড়িয়েছে বর্ধমান-কাটোয়া রাজ্য় সড়কে। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিজয়ার অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত অশান্তি ও দ্বন্দ্বে চলতে থাকে বিশৃঙ্খলা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী নিজে পরিস্থিতি সামলাতে নাজেহাল হয়ে যান। নিজে পথে নেমে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেন। শেষমেশ ভাতার হাউজিং মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। কোনওপ্রকারে অনুষ্ঠান শুরু হলেও উত্তেজনা চলতেই থাকে। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অশোক হাজরাকে উত্তেজিত হতে দেখা যায়। ব্লক তৃণমূল সভাপতি বাসুদেব যশ অশোকবাবুকে শান্ত করার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় মঞ্চের আশপাশে কর্মীদের একাংশ চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। মঞ্চে অশান্তি চলতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে দিয়ে বিজয়া সম্মিলনী শেষ করে দিতে বাধ্য হন নেতারা। ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, বিজয়া সম্মিলনী একটা মিলনের অনুষ্ঠান। আনন্দের বিষয়। তাই আমরা প্রথম থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব বলে ঠিক করেছিলাম। বক্তৃতা পর্ব রেখে অনুষ্ঠান দীর্ঘায়িত করতে চাইনি। বিশৃঙ্খলার বিষয়টি অবশ্য বিধায়ক এড়িয়ে যান। এ নিয়ে তাঁর সাফাই, বাইরে কি ঘটেছে সঠিক জানি না। অনুষ্ঠান সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই ভাতারে দলের সহ সভাপতি অশোক হাজরার সঙ্গে দলের একাংশের মনোমালিন্য চলছে। বিশেষ করে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অশোকবাবুর প্রভাব রয়েছে। দলের অভ্যন্তরের কিছু সমস্যা এমনিতেই চলছিল। বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে তা প্রকাশ্যে চলে আসে। যদিও অশোক হাজরার দাবি, বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের কারণে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। তবে তারপর সুষ্ঠভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে।

অক্টোবর ২৩, ২০২৪
রাজ্য

"আরজিকরে কি হয়েছে জানেন তো?", ভাতারে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে হুমকি দিয়ে গ্রেপ্তার সিভিক ভলেন্টিয়ার

আরজিকর মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে নৃশংস ভাবে খুনের ঘটনায় তোলপাড়। রাজ্যজুড়ে চলছে প্রতিবাদ। তারই মাঝে এবার পূর্ব বর্ধমানের ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালের ঘটনায় আরেক হুমকির ঘটনা। অভিযোগ, হাসপাতালের কর্তব্যরত এক মহিলা ডাক্তারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মদ্যপ অবস্থায় থাকা এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। তা নিয়ে শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়ায় ভাতার হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে। ভাতার থানায় চলে বিক্ষোভ। দাবি করা হয় অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারকে গ্রেপ্তারের। তাতে জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সংঘমিত্রা ভৌমিক এবং মহিলা চিকিৎসকও বিক্ষোভে সামিল ছিলেন। এর পরেই অভিযুক্ত ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার আমন দীপ জানান,অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ার সুশান্ত রায়কে ভাতার থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাঁকে রবিবারর বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে ।সূত্রের খবর, কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ায় ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত প্রায় ২-১৫ নাগাদ। ওইসময় হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন শিশু বিশেষজ্ঞ সুতপা নস্কর। ওইদিন বিকেল থেকেই বর্ধমান কাটোয়া সড়কে পুন্যার্থীদের প্রচুর ভিড় ছিল। কাটোয়া থেকে গঙ্গাজল নিয়ে হাজার হাজার পুন্যার্থী বর্ধমানেশ্বর মন্দিরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। প্রচুর বাইক ও বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছিল। ওই রাতে ভাতার এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটে। তখন সেইসব দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীদের নিয়ে নাস্তানাবুদ হচ্ছিলেন হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ডাক্তার সুতপা নস্করের বক্তব্য়,রাতে তখন হাসপাতালে দুর্ঘটনাগ্রস্থ রোগীদের ভিড় ছিল। তাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তখন সুশান্ত রায় নামে ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার হাসপাতালে আসেন। পেটে অস্বস্তি ও মাথা ঘুরছিল বলে তিনি জানান। আমি ওই ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম। তবুও ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার আমার সাথে চুড়ান্ত দুর্ব্যবহার করতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন,আর জি করে কি হয়েছে জানেন তো?জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক(২) সূবর্ণ গোস্বামী বলেন. আরজিকরে কি হয়েছে আমরা সবাই জানি। ওই ঘটনা নিয়ে সারা দেশ উত্তাল। বিভিন্ন রাজ্যে চিকিৎসকরা এই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করছেন। এই আবহে ভাতারে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার মদ্যপবস্থায় আমাদের এক মহিলা চিকিৎসকের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেছে। ওই সিভিক ভলেন্টিয়ারে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আগস্ট ১০, ২০২৪
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 31
  • 32
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ফের আগুনে আতঙ্ক! সল্টলেক সেক্টর ফাইভের বহুতলে ধোঁয়া, দমকলের তৎপরতা

আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষত এখনও তাজা। তার মধ্যেই ফের আগুন শহরে। এবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল সল্টলেক সেক্টর ফাইভ-এ। একটি বহুতল অফিস ভবন থেকে গলগল করে ধোঁয়া বের হতে দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।জানা গিয়েছে, গ্লোবসিন ক্রিস্টাল বিল্ডিং-এ আচমকাই আগুন লাগে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা পৌঁছেই গোটা বিল্ডিং খালি করে দেন। আতঙ্কে একে একে বাইরে বেরিয়ে আসেন তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কর্মীরা। অফিস টাইম হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় ভিড় জমে যায়। আশপাশের এলাকা থেকেও বহু মানুষ ছুটে আসেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, হঠাৎ করেই অফিসের ভিতরে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে সকলকে নিচে নেমে যেতে বলা হয়। এক কর্মী জানান, তখন তাঁরা অফিসের ভিতরেই ছিলেন। হঠাৎ বলা হয় বাইরে বেরিয়ে যেতে। পরে নিচে নেমে শোনা যায়, উপরের একটি রেস্তোরাঁয় আগুন লেগেছে।তবে ঠিক কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেস্তোরাঁ থেকেই আগুন ছড়িয়েছে, না কি অন্য কোনও জায়গা থেকে, তা খতিয়ে দেখছেন দমকল কর্মীরা। ভবনের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।দমকলের চেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে। তবুও ব্যস্ত সময়ে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে অফিস কর্মীদের মধ্যে। এলাকায় এখনও কৌতূহলী মানুষের ভিড় রয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

ভারত-বিরোধিতার অধ্যায় শেষ? মোদির ফোনে বদলাচ্ছে ঢাকা-দিল্লির সমীকরণ!

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। এই জয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছেঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক কি আবার উষ্ণ হতে চলেছে?শুক্রবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানান। পরে ফোনেও তাঁর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মোদি লেখেন, বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিরাট জয়ের জন্য তারেক রহমানকে তিনি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এই জয় বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।এর জবাবে বিএনপির পক্ষ থেকেও মোদিকে ধন্যবাদ জানানো হয়। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কও নতুন করে শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে উপদেষ্টা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। তাঁর প্রায় দেড় বছরের শাসনকালে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। ভারত-বিরোধী মনোভাব, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং মৌলবাদী শক্তির উত্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ঘটনাও নজরে আসে। এই পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একাধিকবার কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়।এই নির্বাচনে মৌলবাদী দল জামাতকে পিছনে ফেলে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে পাকিস্তানের প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনায় বড় ধাক্কা লেগেছে। নির্বাচনের আগে জামাতের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর যোগাযোগ নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। তবে ভোটে জামাতের পরাজয়ে সেই সমীকরণ বদলে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পথে। এখন নজর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের দিকে। মোদি ও তারেকের এই সৌজন্য বার্তা কি দুই দেশের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে? দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
কলকাতা

বিদেশি ভোটার ইস্যুতে কড়া নির্বাচন কমিশন! একাধিক জেলাশাসক তিরস্কৃত

ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, কোন কর্তৃত্বে এআরও-রা ইআরএমও-দের ডেকেছিলেন। একাধিক জেলার জেলাশাসকের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে কমিশন।কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও মালদার জেলাশাসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কোচবিহারের জেলাশাসককে নথি আপলোডে দেরির জন্য তিরস্কার করা হয়েছে। দুই ২৪ পরগনার জেলাশাসকের কাজ নিয়েও অসন্তোষ জানানো হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে রাজনৈতিক মন্তব্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এসআইআর শেষ হওয়ার আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৈঠক করেন। ভিডিও কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকও। বৈঠকে স্পষ্ট বলা হয়, কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম যেন ভোটার তালিকায় না থাকে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবে তথ্য যাচাই করতে হবে। সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যদি ভবিষ্যতে কোনও নাম থেকে যায়, তা হলে এক বা পাঁচ বছর পরেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। মামলা পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান যাঁদের বৈধ ভোটার বলে চিহ্নিত করে, তাঁদের বাইরে কাউকে বৈধ ভোটার হিসেবে মানা যায় না। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ ভোটার হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন কমিশন সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।অন্যদিকে তৃণমূলের সোশাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, তাঁরাও চান না কোনও বিদেশি ভোটার থাকুক। তবে বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক বা গরিব মানুষদের বারবার নোটিস দিয়ে ডাকা হচ্ছে। তাঁদের পক্ষে বারবার যাতায়াত করা সম্ভব নয়। ফলে তাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিদেশি ভোটার বিতর্কে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
বিদেশ

মোদী বিরোধী আগুনঝরা ভাষণ, তবু ভোটে হার! সারজিস আলমকে ফিরিয়ে দিল পঞ্চগড়

বাংলাদেশের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেন ছাত্রনেতা সারজিস আলম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত তিনি। অতীতে ভারতের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেছিলেন এবং সরাসরি নরেন্দ্র মোদি-র নাম করে সমালোচনা করেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র দেশত্যাগ নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।পঞ্চগড়-১ আসনে জামাত জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন সারজিস। তাঁর মন্তব্য ঘিরে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি হাসিনার দেশছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে ঐতিহাসিক তুলনাও করেছিলেন। সেইসব বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তুলেছিল।কিন্তু ভোটের ফল অন্য কথা বলল। শেষ পর্যন্ত তিনি বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমশ স্পষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোটের বড় জয়। সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে বিএনপি জোট।ঢাকা-৩ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বরচন্দ্র রায়। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার ভোট বেশি পেয়েছেন।বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া-র পুত্র তারেক রহমান ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬ দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে দুদশক পর সরকার গঠনের পথে বিএনপি। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।মূল প্রতিপক্ষ জামাত জোট ১০০-র নীচে থেমে গেছে বলে জানা গিয়েছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপিও বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল জয়ের পর কি বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে? অরাজকতার অভিযোগে উত্তাল সময়ের পর পদ্মাপারের দেশে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

হাসপাতাল থেকে ছাড়া, তবু মাঠে অনিশ্চিত অভিষেক! পাকিস্তান ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ভারতের শিবিরে?

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনও পুরো সুস্থ নন ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা। কবে তিনি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে মাঠে নামবেন, তা স্পষ্ট নয়। টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁর খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ইঙ্গিত দিয়েছেন, অভিষেকের ফিরতে আরও এক-দুটি ম্যাচ সময় লাগতে পারে।বৃহস্পতিবার নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর ড্রেসিংরুমে একটি ভিডিও করেন অর্শদীপ সিং। সেই ভিডিওতেই দেখা যায় অভিষেককে। তাঁকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। অর্শদীপ জানতে চাইলে অভিষেক বলেন, তিনি ডাল-ভাত খাচ্ছেন, তবে পুরোপুরি ভালো নেই। অর্শদীপ মজা করে বলেন, তাঁকে অনেকটা রোগা লাগছে। যদিও সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি অভিষেক। শোনা গিয়েছিল, পেটের সমস্যার কারণে তাঁর ওজন অনেকটাই কমে গিয়েছে। ভিডিও দেখেও অনেকে একই মন্তব্য করেছেন।অসুস্থতা নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন অভিষেক। কিন্তু প্রথম বলেই আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তার পর আর তাঁকে মাঠে দেখা যায়নি। দিল্লি ফেরা, কোচ গৌতম গম্ভীর-এর বাড়িতে যাওয়া, পরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াসবই হয়েছে চুপিসারে। গতকাল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও নামিবিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে তিনি খেলবেন কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। টসের সময় সূর্যকুমার বলেন, অভিষেক এখনও পুরো সুস্থ নন। ফলে পাকিস্তান ম্যাচে তাঁর নামার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ম্যাচের পরে বরুণ চক্রবর্তী জানান, অভিষেক অনেকটাই ভালো আছেন।তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলে এই অনিশ্চয়তা চিন্তা বাড়াচ্ছে সমর্থকদের। অভিষেক কবে মাঠে ফিরবেন, এখন সেদিকেই নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
দেশ

লালকেল্লার পর ফের কাঁপছে দিল্লি! স্কুলে বোমা হুমকি ঘিরে তীব্র আতঙ্ক

নভেম্বরে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল রাজধানী। দিল্লি-র লালকেল্লা-র সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের স্মৃতি এখনও টাটকা। তার মধ্যেই আবার ছড়াল বোমাতঙ্ক। শুক্রবার সকালে রাজধানীর একাধিক স্কুলে বোমা রাখা হয়েছে বলে হুমকি আসে। আতঙ্ক ছড়ায় পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে।দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে অন্তত তিনটি স্কুলে বোমা রয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। প্রথমে বিটি তামিল স্কুলে বোমা থাকার খবর ছড়ায়। সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা হয় পড়ুয়াদের পরিবারকে। পরে আরও দুটি স্কুলে একই ধরনের হুমকি আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও পুলিশ। দ্রুত স্কুলগুলি খালি করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট।এর আগেও সোমবার ১৩টি স্কুলে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছিল। সেই ইমেলে লেখা ছিল, আফজল গুরুর স্মৃতিতে দিল্লিকে খলিস্তান বানানো হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। যদিও পরে সেই হুমকি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। তবু আতঙ্ক কাটেনি।গত ২৯ জানুয়ারি পাঁচটি স্কুল একই ধরনের হুমকি পেয়েছিল। তার আগের দিন দ্বারকা আদালত চত্বর উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি আসে। এমনকি সংসদ ভবন নিয়েও হুমকির ইমেল পাঠানো হয়েছিল। এক সপ্তাহে দুবার স্কুলে বোমা রাখার হুমকি ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনের।১০ নভেম্বর লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবু একের পর এক হুমকি ইমেল প্রশাসনকে চিন্তায় ফেলেছে। এখনও পর্যন্ত হুমকির উৎস জানা যায়নি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বারবার বোমা হুমকির ঘটনায় আতঙ্কে দিল্লিবাসী। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজধানীতে ফের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
রাজ্য

পুণেতে খুন পুরুলিয়ার শ্রমিক! ভাষা বিতর্ক না কি মদের ঝামেলা—রহস্যে ঘনাচ্ছে মৃত্যু

ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ায়। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র-এর পুণে থেকে উদ্ধার হয়েছে পুরুলিয়ার বরাবাজারের বাসিন্দা সুখেন মাহাতোর দেহ। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আমিন সওকত শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই খুন হতে হয়েছে সুখেনকে। যদিও তদন্তে নেমে পুণে পুলিশের দাবি, ভাষা নয়, মত্ত অবস্থায় বচসা থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তরফে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।মঙ্গলবার পুণে শহরের কাছে শিকরাপুর থানার এলাকায় একটি হোটেলের পিছন থেকে সুখেনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, সহকর্মীদের হাতে খুন হয়েছেন সুখেন এবং এর নেপথ্যে রয়েছে ভাষাগত বিদ্বেষ।অন্যদিকে, সুখেনের ভাই তুলসীরাম মাহাতো পুণেতে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন। তাঁর সম্মতিক্রমেই এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিকরাপুর থানায় মারাঠি ভাষায় এফআইআর লেখা হলেও তা হিন্দিতে অনুবাদ করে তাঁকে শোনানো হয়। তুলসীরাম জানিয়েছেন, তাঁর সম্মতি নিয়েই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।তুলসীরামের বয়ান অনুযায়ী, ৯ তারিখ দুপুরে সুখেন বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশে বের হন। সন্ধ্যায় তিনিও কাজে যান, কিন্তু সেখানে সুখেনকে দেখতে পাননি। ফোন করলেও যোগাযোগ হয়নি। রাতেও একাধিকবার ফোন করা হয়, কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। পরদিন সকালে শিফট শেষ করে বাড়ি ফিরে সুখেনকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে সুপারভাইজার সন্দীপ জানান, একটি হোটেলের পিছনে সুখেনের দেহ পড়ে রয়েছে। সেখানে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন তুলসীরাম।শুক্রবার দুপুরে সুখেনের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পুরুলিয়ার বরাবাজারে যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এই ঘটনায় ভাষা-বিদ্বেষ না কি ব্যক্তিগত বচসা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুণে পুলিশ। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী রয়েছে, তা জানতে অপেক্ষা তদন্তের অগ্রগতির দিকে।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
দেশ

তারেকের জয়ে উচ্ছ্বসিত মোদি? কূটনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড়সড় জয়ের পথে বিএনপি। ফলাফল স্পষ্ট হতেই দলের সভাপতি তারেক রহমান-কে শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকালে এক্স হ্যান্ডলে বার্তা দিয়ে মোদি লিখেছেন, এই জয় প্রমাণ করে বাংলাদেশবাসী তারেকের নেতৃত্বে আস্থা রেখেছেন।মোদি তাঁর বার্তায় আরও জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশের পাশে ভারত রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে, তা আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।শুক্রবার সকালেই বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল পরিষ্কার হয়ে যায়। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট হয়েছে। তার মধ্যে ২০০-র বেশি আসনে এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের পথ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দুটি আসনে লড়ে দুটিতেই জয় পেয়েছেন তারেক রহমান।এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে তারা।এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মোদির শুভেচ্ছাবার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মোদি তাঁর বার্তায় লিখেছেন, বিএনপি দেশের নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে এবং তারেকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলেই তিনি আশাবাদী।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন আদালত তাঁকে গণহত্যা মামলায় সাজা শুনিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার তাঁর প্রত্যর্পণ দাবি করলেও এ বিষয়ে ভারত সরকার প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।এই পটভূমিতে বিএনপির জয়ের আভাস মিলতেই মোদির দ্রুত শুভেচ্ছাবার্তা কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এখন নজর, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়।

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal