• ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩, রবিবার ০২ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

SSC

কলকাতা

শিক্ষক নিয়োগে বড় বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঘোষণায় চমকে রাজ্য, বদলে গেল সব হিসাব

শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ এবং হাজার হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনার পর এবার নতুন বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের বরিষ্ঠ আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সরকার আরও এক ধাপ এগোল বলে দাবি করা হয়েছে।শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গত কয়েক বছরে রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত ছিল। নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় আদালতের নির্দেশে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই স্বচ্ছ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বর্তমান সরকার। এবার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ হিসেবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিককে বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকার শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা হবে এবং নিয়োগ কমিশনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। সেই লক্ষ্যেই নিয়োগ কমিশনগুলিকে সর্বভারতীয় মানের কাঠামোয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাখা হবে না।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই বরিষ্ঠ আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালার হাতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে বলেই সরকারের আশা।একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি হবে মেধা এবং যোগ্যতা। অতীতের মতো কোনও ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মকে বরদাস্ত করা হবে না। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।সরকারের এই ঘোষণার পর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন বহু চাকরিপ্রার্থী। এখন নজর থাকবে নতুন কমিশনের অধীনে নিয়োগ কতটা স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেদিকেই।

জুলাই ০৪, ২০২৬
কলকাতা

সরকার বদলাতেই বড় পদক্ষেপ! অবশেষে প্রকাশ্যে এসএসসি-র গোপন ওএমআর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই বদলে গেল স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট অবশেষে প্রকাশ করল এসএসসি। সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের ওএমআর প্রকাশ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৪ সালেই কলকাতা হাইকোর্ট সমস্ত ওএমআর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু তারপরেও এতদিন পর্যন্ত সব ওএমআর প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওএমআর মূল্যায়নকারী সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীর ঠিকানা থেকে একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই হার্ডডিস্ক থেকেই নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পরীক্ষার্থীর ওএমআর পাওয়া যায়। এরপরই তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সমস্ত ওএমআর প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখলেও এতদিন পর্যন্ত পুরো তথ্য সামনে আনা হয়নি। এবার এসএসসি জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র সমস্ত ওএমআরও প্রকাশ করা হবে।এখন ২০১৬ সালের সমস্ত পরীক্ষার্থী নিজেদের ওএমআর দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার এসএসসি-র তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআই সূত্রে পাওয়া ওএমআর শিট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরো প্যানেল বাতিল হয়। এরপর থেকেই চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওএমআর প্রকাশের দাবি উঠছিল। ওএমআর নষ্ট করা এবং কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছিল।এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ওএমআর প্রকাশ হওয়ায় নতুন করে রাজ্যের শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

দোলের পরেই ফের ইডির জালে পার্থ-অর্পিতা! ১৬-১৮ মার্চেই তলব, বাড়ছে এসএসসি দুর্নীতি মামলার চাপ

এসএসসি দুর্নীতি মামলায় আবারও জোর তৎপরতা শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, দোল উৎসবের পরেই ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে দুজনকে ডাকা হতে পারে।প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই মামলায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও গ্রেপ্তার হন। পরে দুজনেই জামিন পান। তবে তদন্ত থেমে নেই। প্রাথমিক নিয়োগ কাণ্ডের পাশাপাশি এসএসসি দুর্নীতির তদন্তও চালাচ্ছে ইডি। ইতিমধ্যেই ওই মামলায় চার্জশিট জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, এসএসসি সংক্রান্ত নথি ও তথ্য খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক ক্ষেত্রে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই নতুন করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুজনকে আলাদা করে ডেকে মুখোমুখি প্রশ্ন করা হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। কয়েক বছর জেলবন্দি থাকার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। তার আগেই জামিন পেয়েছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।দোলের ছুটির আবহ কাটতেই তদন্তে ফের গতি আসছে। ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে হতে পারে পার্থ ও অর্পিতাকে। এসএসসি দুর্নীতি মামলায় এই জিজ্ঞাসাবাদ নতুন করে কোন তথ্য সামনে আনে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

মার্চ ০২, ২০২৬
কলকাতা

বুট পরে নয়, চপ্পলেই পরীক্ষা! কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে, বাড়তি সতর্কতায় কমিশন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এসএসসি গ্রুপ সি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা। এর আগে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলও প্রকাশিত হয়েছে। এবার পরীক্ষায় বসছেন শিক্ষাকর্মী পদপ্রার্থীরা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে আগের পুরো প্যানেল বাতিল হওয়ার পর নতুন করে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।আজ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীও আসছে। তবে পরীক্ষা চলাকালীন কোনও বাহিনী যাতে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ না করে, সে বিষয়ে কড়া নির্দেশ জারি করেছে কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। বুট পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে না। সাধারণ চপ্পল বা হাওয়াই চটি পরে আসতে হবে। স্বচ্ছ কলম এবং কাচের বোতলে জল নিয়ে আসার নির্দেশও বহাল রয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।রাজ্যজুড়ে মোট ১৬৯৩টি কেন্দ্রে এই লিখিত পরীক্ষা হচ্ছে। মোট শূন্যপদ রয়েছে ২৯৮৯টি। আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ ৪ হাজার। দুপুর ১২টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন বহু পরীক্ষার্থী। এক প্রার্থী বলেন, আগে পরীক্ষা দিই, তারপর বোঝা যাবে কী হয়।২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আদালতের নির্দেশে আগের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। সেই কারণেই নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে গ্রুপ ডি পরীক্ষা। দীর্ঘ বিতর্কের পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।

মার্চ ০১, ২০২৬
কলকাতা

ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিলের জটিল মামলা আবার আলোচনায়, দাগি প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এল নাম!

কলকাতা হাইকোর্টের একটি উল্লেখযোগ্য রায়ের আলো আবার সমালোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যারা চাকরি পাননি, তাদের মধ্যে কয়েকজন দাগি প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়। এখন ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসএসসি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত করেছে ২০১৬ সালের ওয়েটিং লিস্টের দাগি প্রার্থীদের নাম।এই তালিকায় নাম থাকা মাত্রই বিতর্ক শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রামের লক্ষ্মী তুঙ্গারের নামও তালিকায় রয়েছে, যিনি ২০১৬ সালে নিয়োগ বৈধতা নিয়ে মামলা করেছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, বঞ্চিত প্রার্থীর নামে মামলা হয়েছে, যারা লড়েছেন তাঁদের নাম এখন দাগি তালিকায়। এটা একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ। অনেক চূড়া এখনও প্রকাশ পায়নি। তিনি আরও বলেন, নিয়োগ আটকানোর চেষ্টা অনেকবার হয়েছে। তবে যোগ্য শিক্ষকের নিয়োগ বাধ্যতামূলক। তবে এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা কিছুটা প্রকাশ পেয়েছে।চাকরিহারা রাকেশ আলম বলেন, যখন তালিকা প্রকাশিত হলো, তখন স্পষ্ট হলো এই প্যানেল রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে তৈরি। আমরা যোগ্য শিক্ষকদের পক্ষে, কোনও রাজনৈতিক পক্ষ নই। ওএমআর মিসম্যাচের অভিযোগে দাগিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীরাও উঠে এসেছে।এসএসসি সূত্রে জানা যায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একজনও দাগি প্রার্থী থাকবেন না, সেই নির্দেশনা মেনে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত তালিকা ভোটের আগে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
রাজ্য

আপাতত স্বস্তি যোগ্য শিক্ষকদের, চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি সুপ্রিম কোর্টের

অবশেষে কিছুটা স্বস্তির। সৌজন্যে সুপ্রিম কোর্ট। যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩১ ডিসেম্বর নয়, ২০২৬ সালের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকবেন যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই সময়সীমার মধ্যেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এমনই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। রাজ্যের তরফে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হলেও আদালত সেই আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে প্রায় আট মাসের অতিরিক্ত সময় দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়কালে যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিয়মিত বেতন পাবেন এবং পড়ানোর কাজও চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, এই সুবিধা শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নির্দেশ কার্যকর হবে না।আজকের এই রায়ে বড় স্বস্তি পেল রাজ্য সরকারও। কারণ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা এবং বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক সংকট এড়ানো রাজ্যের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আগের যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিষেবা ও বেতন বহাল থাকবে।উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই জটিল প্রক্রিয়া শেষ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ায় রাজ্য সরকার সময় বাড়ানোর আবেদন জানায়।আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কয়েক মাস সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আর্জিও জানানো হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫
কলকাতা

নতুন এসএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন! ফের অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হাই কোর্টের

নতুন করে এসএসসি যে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে, তার ভবিষ্যৎ নিয়েই ফের অনিশ্চয়তার কথা উঠে এল কলকাতা হাই কোর্টে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, এই পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেলেও শেষ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নির্ভর করবে মামলার রায়ের উপর। আগেও এই বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি বলেছিলেন, এই পরীক্ষার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।এ দিন এসএসসির মেধার ভিত্তিতে অতিরিক্ত দশ নম্বর দেওয়ার মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট করে জানান, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পেলেও মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেই চাকরির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকবে। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই বিষয়ে প্রার্থীদের স্পষ্ট ভাবে জানাতে হবে।প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে সেই রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টেও। এরপর এসএসসি নতুন করে যে পরীক্ষা নিয়েছে, সেই পরীক্ষার বিষয়টিও এখন আদালতে বিচারাধীন। বুধবার সেই মামলারই শুনানি ছিল।এই মামলায় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছিল, তারা কখনও বলেনি যে নতুন পরীক্ষা নেওয়ার পদ্ধতিতে ফ্রেশারদের অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আদালত শুধু এটুকুই চেয়েছিল, কোনও অযোগ্য পরীক্ষার্থী যেন পরীক্ষায় বসতে না পারে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দুর্নীতিমুক্ত হোক। রাজ্য যখন পুরনো ও নতুন প্রার্থী মিলিয়ে একসঙ্গে পরীক্ষা নিয়েছে, তার দায়ও রাজ্যেরই বলে মন্তব্য করা হয়। তবে যোগ্য প্রার্থীরা যেন কোনও ভাবেই সমস্যায় না পড়েন, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।এদিকে এসএসসি নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের যে নতুন পরীক্ষা নিয়েছে, সেখানে পুরনো প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুনরাও অংশ নেন। কিন্তু পরে ভেরিফিকেশনের সময় দেখা যায়, অতিরিক্ত ১০ নম্বরের কারণে বহু নতুন প্রার্থী যাচাই প্রক্রিয়াতেই ডাক পাননি। ফলে নতুন পরীক্ষার ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ নিয়ে ফের বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
কলকাতা

৭ হাজার ২৯৩ ‘দাগি’র পুরো নাম প্রকাশ করতেই হবে, SSC-কে কড়া নির্দেশ

নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতেই ফের মামলার মুখে পড়ল এসএসসি। অযোগ্য প্রার্থীরা কীভাবে আবার পরীক্ষায় বসছে, তা নিয়েই মামলা ওঠে কলকাতা হাইকোর্ট-এ। এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা আবারও কড়া নির্দেশ দিলেন। বুধবারের মধ্যেই ৭ হাজার ২৯৩ জন দাগি বা অযোগ্য প্রার্থীর পুরো তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে।এটা এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক বার শীর্ষ আদালত ও হাইকোর্ট এসএসসি-কে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে বলেছিল। সেই মতো কিছু তালিকা প্রকাশও করা হয়েছিল। পরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবার দাগি প্রার্থীদের নাম উঠে আসায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।বিচারপতি অমৃতা সিনহা আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন, অযোগ্যদের নাম, অভিভাবকের নাম, রোল নম্বর-সহ সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে। সেই মতে গত ২৭ নভেম্বর এসএসসি ১ হাজার ৮০৬ জন নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক-শিক্ষিকার নাম প্রকাশ করে, যাঁরা তখন চাকরি করছিলেন।কিন্তু এ দিন আদালত জানায়, এসএসসি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা সম্পূর্ণ নয়। এসএসসি আগেই জানিয়েছিল মোট অযোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ২৯৩ জন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত শুধু গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি-র ৩ হাজার ৫১২ জন এবং ১ হাজার ৮০৬ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ হয়েছে। বাকি সবার সম্পূর্ণ তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।এ বার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আউট অফ প্যানেল, র্যাঙ্ক জাম্প এবং ওএমআর মিস ম্যাচএই সব ধরনের অনিয়মে যুক্ত মোট ৭ হাজার ২৯৩ জনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতেই হবে। শুধু তাই নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্যানেল প্রকাশের পর যাঁদের নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের তালিকাও আগামী শুনানিতে আদালতে জমা দিতে হবে।এই ৭ হাজার ২৯৩ জনের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মীদুপক্ষই। অনেকেই তখন চাকরি করছিলেন, আবার কেউ কেউ তালিকায় থাকলেও চাকরিতে যুক্ত ছিলেন না। তবে এবার আদালত সকলেরই সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে আবারও চাকরি কেলেঙ্কারি নিয়ে চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
কলকাতা

অবশেষে প্রকাশ্যে এসএসসির ‘দাগিদের’ তালিকা, এক লাফে সামনে এল ১৮০৬ জনের নাম

ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা চাকরিপ্রার্থীদের তালিকায় দাগি প্রার্থীদের নাম জড়িয়ে পড়তেই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্ক গড়ায় প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। দুই আদালতই সাফ জানিয়ে দেয়, কোনও পরিস্থিতিতেই দাগি চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাখা যাবে না। এমনকি বিশেষভাবে সক্ষম হলেও দাগিরা চাকরির সুযোগ পাবেন না, এমন কঠোর নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।সুপ্রিম কোর্টের তরফে তখনই স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, দাগি প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সেই নির্দেশ ঘিরেই অপেক্ষা চলছিল গোটা রাজ্য জুড়ে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেখানেই তিনি স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রশংসা করে জানান, আদালতের নির্দেশ মেনেই স্বচ্ছভাবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই কোর্টের নির্দেশ মেনে সব কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনেই শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, খুব শীঘ্রই দাগি প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হবে। তাঁর বক্তব্য ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কোনও দাগি প্রার্থীকে রাখা যাবে না এবং সেই কারণেই তালিকা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।শেষ পর্যন্ত সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটাল স্কুল সার্ভিস কমিশন। অবশেষে সামনে এল দাগি প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। সেই তালিকায় রয়েছে মোট ১৮০৬ জন দাগি চাকরিপ্রার্থীর নাম। শুধু রোল নম্বরই নয়, তালিকায় দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অভিভাবকের নাম, জন্মতারিখ এবং কোন বিষয়ের জন্য আবেদন করেছিলেন, সেই সমস্ত বিস্তারিত তথ্যও।নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন এই তালিকা প্রকাশ নতুন করে আলোড়ন ফেলবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলের একাংশ। এখন নজর, এই তালিকা প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
কলকাতা

এসএসসি ঘিরে নতুন বিতর্ক, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়োগ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর

কলকাতা হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষক নিয়োগ প্যানেলের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ জানতে চেয়েছে, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। শুধুমাত্র প্যানেল সদস্য নয়, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের নিয়োগপত্র কারা পেয়েছিলেন, সেই তথ্যও কমিশনকে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে।২০১৬ সালের এই নিয়োগ প্যানেল ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু পুরনো প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়োগ ও নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় কমিশনের ওপর চাপ বেড়েছে। আদালতের এই নির্দেশ আগামী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ এবং কার্যকর করার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছে।বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন যে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের কোনও প্রার্থী যদি চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেন, তবে তাঁর বা তাঁদের ভাগ্য আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।একই সঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, চলতি বছরের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ওএমআর শিট কমিশনকে আপলোড করতে হবে। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনারা ওএমআর শিট আপলোড করেননি কেন? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রথম দিন থেকে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা উচিত, না হলে পরে আবার অনিয়মের অভিযোগ উঠবে।এভাবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপর আবারও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার চাপে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নির্দেশ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করতে পারে।

নভেম্বর ২৭, ২০২৫
কলকাতা

১০ নম্বর বাতিল চাই! রাস্তায় দাবদাহ—পুলিশকে ধেয়ে গেল নতুন চাকরিপ্রার্থীরা

কলকাতার রাজপথে ফের উত্তেজনা। নতুন করে তেতে উঠল আন্দোলন। এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলে আজ কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল শহরের বুকে। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ব্যারিকেড ভেঙে দৌড়ে মিছিল এগিয়ে যাওয়া, রুট পরিবর্তন, পুলিশের প্রস্তুতির ঘাটতিসব মিলিয়ে দুপুর থেকেই উত্তেজনায় টগবগ করছে ধর্মতলা ও তার সংলগ্ন এলাকা।অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিলের দাবিতে আজ পথেই নামেন ফ্রেশার্স চাকরিপ্রার্থীরা। প্রথমে তাঁদের গন্তব্য ঠিক ছিল ধর্মতলা। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুট বদলে ঠিক হয়, তাঁরা রামলীলা ময়দানে যাবেন। কিন্তু সেখানেই তৈরি হয় নতুন সমস্যা। চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল যখন নির্দিষ্ট রুটে এগোতে শুরু করে, পুলিশ তখন তাদের আটকে দেয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার-চেঁচামেচি।ব্যারিকেড সরিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা দলে দলে এগোতে থাকেন ধর্মতলার দিকেই। মাঝপথেই নিজেরাই রুট বদলে নেন। তাঁরা দ্রুত এগোতে শুরু করেন এস এন ব্যানার্জি রোড ধরে। সেখানে যথেষ্ট পুলিশ না থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত নাস্তানাবুদ হয়ে যায় কলকাতা পুলিশ। পুলিশের তৈরি অস্থায়ী ব্যারিকেডও ভেঙে মিছিল এগিয়ে চলে। ফলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় রাস্তায়।এক চাকরিপ্রার্থী অভিযোগ করেন, আমাদের মিছিল যাওয়ার কথা ছিল বিকাশ ভবনের দিকে। কিন্তু পুলিশ নিজেদের সুবিধে মতো ঘুরিয়ে দিতে চাইছে। কমিশনের সঙ্গে মিলেই আমাদের আন্দোলন চেপে ধরার চেষ্টা চলছে। আমরা ধর্মতলাতেই অবস্থান করব। ১০ নম্বর বাতিল করতেই হবে।আরও এক চাকরিপ্রার্থী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ১০ নম্বর বাতিল চাই, এক লক্ষ আসন বাড়াতে হবে। আমরা ধর্মতলা যেতেই পারব। দেখি পুলিশ কীভাবে আটকায়! এই মন্তব্যের পরই দেখা যায়, চাকরিপ্রার্থীরা দৌড়ে দৌড়ে ধর্মতলার দিকে ছুটছেন। police প্রস্তুত না থাকায় মুহূর্তে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স ডেকে আনা হয়, যাতে ধর্মতলায় ঢোকার আগেই মিছিলকে আটকে দেওয়া যায়।এসএলএসটি ফল প্রকাশের পর থেকেই নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, অতিরিক্ত ১০ নম্বর যোগ হওয়ার ফলে অনেকেই ফুল মার্কস পেলেও ভেরিফিকেশনের কল পাননি। সেই প্রতিবাদেই তাঁরা পথে নেমেছেন। আজকের ঘটনায় সেই ক্ষোভ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ল কলকাতার মাঝরাস্তায়।

নভেম্বর ২৪, ২০২৫
কলকাতা

দাগী প্রার্থী পরীক্ষায় বসলেন কীভাবে? এসএসসি-র ব্যাখ্যায় বাড়ল রহস্য

একাদশদ্বাদশের এসএসসি ফলপ্রকাশ হতেই যে নামটি সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে, তা হল নীতীশরঞ্জন বর্মন। কয়েক মাস আগেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসসি যে দাগী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে স্পষ্টভাবে ছিল নীতীশরঞ্জনের নাম। আর সেই নীতীশই এবার নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষায় বসে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকও পেয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছেএকজন দাগী প্রার্থী কীভাবে পরীক্ষায় বসলেন? কীভাবে ইন্টারভিউয়ের তালিকায় নাম উঠল? বিতর্ক মুহূর্তে চড়ে গিয়েছে মাথা তুলেই।এই অভিযোগ আদালতে তুলে ধরেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে মামলা গৃহীত হয়েছে। আদালতে শামিম জানান, নীতীশরঞ্জন বর্মন নামে ওই প্রার্থী অযোগ্য হয়েও পরীক্ষায় বসেছেন, এমনকি ভেরিফিকেশনের জন্যও ডাক পেয়েছেন। একই অভিযোগ করেছেন নীতীশরঞ্জনের স্ত্রীও, যাঁর সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। তিনিই প্রথম আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর দাবি, নীতীশ দাগী হয়েও ভুলভাবে পরীক্ষায় বসেছেন এবং এখন ভেরিফিকেশন রাউন্ডেও জায়গা পেয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।বিতর্কের ঢেউ যখন তুঙ্গে, তখন স্কুল সার্ভিস কমিশন মুখ খুলল। কমিশনের বক্তব্য, ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ের কথা বলেছিল। সেই নির্দেশ মানতেই নাকি কিছু ক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এসএসসি একই সঙ্গে জানিয়েছে, সব তথ্যই যাচাই করা হচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে যদি গরমিল ধরা পড়ে, দাগী হয়েও কেউ যদি সতর্কতা সত্ত্বেও তালিকায় ঢুকে পড়েন, তাহলে ভেরিফিকেশনের সময় সেই প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার পূর্ণ অধিকার কমিশনের রয়েছে।এদিকে আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছেএকজনও দাগী প্রার্থী পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য যে ছাড়ের কথা বলা হয়েছিল, তা বয়স বা শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, দাগী তালিকার ক্ষেত্রে নয়। ফলে নীতীশরঞ্জন বর্মন কীভাবে পরীক্ষায় বসলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হচ্ছে। আদালতকক্ষে এই ব্যাখ্যার ওপরেই নজর এখন সবার।রবিবার দিনভর এই বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র আলোচনার ঢেউ। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেনআইনের ফাঁক কি কাজে লাগাল নীতীশ? নাকি নিয়োগ ব্যবস্থার ত্রুটি এতটাই গভীর যে দাগী তালিকা থাকা সত্ত্বেও এমন ভুল সম্ভব? এখন অপেক্ষা আদালতের সিদ্ধান্তের, আর সেই সিদ্ধান্তই ঠিক করবে নীতীশরঞ্জনের মতো বিতর্কিত প্রার্থীর ভবিষ্যৎ।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
কলকাতা

অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর নিয়ে তোলপাড়! এসএসসি তালিকায় ১৯৯৭ পর জন্মেও ‘এক্সপেরিয়েন্স’?

এসএসসি-র এগারো-বারোর শিক্ষক নিয়োগে ফের নতুন করে বিতর্কে আগুন লেগেছে। উচ্চ কাট-অফের চাপে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নতুনরা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ৬০ নম্বরের মধ্যে পূর্ণ ৬০ পেলেও চাকরি হয়নি একাধিক প্রার্থীর। কমিশনের প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মোট ২০ হাজারের সামান্য বেশি প্রার্থীকে ডাকা হয়েছে, আর সেই তালিকার বড় অংশেই ইন-সার্ভিস শিক্ষকেরা সুবিধা পেয়েছেন অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত দশ নম্বরের জোরে। এই বাড়তি নম্বরেরই বিরোধিতায় এবার পথে নেমে সরব হয়েছেন নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। তাঁদের বক্তব্য, যাঁদের জন্ম ১৯৯৭ সালের পর, এমন বহু প্রার্থীও নাকি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর পেয়েছেন বলে তালিকায় দেখা যাচ্ছে। বয়সের হিসাবে যা একেবারেই অসম্ভব। এই অভিযোগ ঘিরে শোরগোল বাড়তেই স্কুল সার্ভিস কমিশন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। কমিশনের বক্তব্য, যে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণই প্রার্থীদের অনলাইন মাধ্যমে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। আপাতত ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার নম্বর যুক্ত করে প্রাথমিক তালিকা বানানো হয়েছে। এর পরেই তথ্য যাচাইকরণ চলবে। সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনে কোনও গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যাবেন। পরে অঞ্চলভিত্তিক ইন্টারভিউ লিস্ট প্রকাশ করা হবে।এদিকে অভিযোগ উঠছে কাট-অফ এতই বেশি যে, ভালো নম্বর পেয়েও বহু প্রার্থী তালিকার বাইরে। ইংরেজিতে কাট-অফ ৭৭, বাংলায় ৭৩, অঙ্কে ৭১ এবং ইতিহাসে ৭৫এই অত্যাধিক কাট-অফের কারণেই নাকি পূর্ণ নম্বর প্রাপ্তদের মধ্যেও বাদ পড়ার ঘটনা ঘটছে। যদিও কমিশন সূত্রের দাবি, যাঁদের ডাকা হয়েছে তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ফ্রেশার। কিন্তু কমিশনের এই ব্যাখ্যায় পরিস্থিতি শান্ত তো হয়নি, বরং ক্ষোভ আরও বেড়েছে।করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত এ দিন রীতিমতো মিছিল করে বিক্ষোভ দেখান নবাগত চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের দাবি, অভিজ্ঞতার অতিরিক্ত ১০ নম্বর প্রক্রিয়াটাই অবিচার। ফুল মার্কস পেয়েও যদি ইন্টারভিউর ডাক না আসে, তাহলে নিয়োগ পদ্ধতি প্রশ্নের মুখে পড়ে। ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে পরিস্থিতি, আর এই নিয়েই সরগরম রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগের অঙ্গন।

নভেম্বর ১৭, ২০২৫
কলকাতা

পূর্ণ নম্বর পেয়েও চাকরি নয়! একাদশ-দ্বাদশ নিয়োগে ফ্রেশারদের বিস্ফোরক অভিযোগ

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে সামনে এল এক অভূতপূর্ব ছবিপূর্ণ নম্বর পেয়েও চাকরি পেলেন না বহু ফ্রেশার প্রার্থী। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হল নতুন ইন্টারভিউ তালিকা, আর তার পর থেকেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে। বিশেষ করে বাংলায়, ইংরেজিতে, অঙ্কে ও ইতিহাসে যে ধরনের কাট-অফ দেখা গেল, ফ্রেশারদের কাছে তা যেন প্রবল ধাক্কা।ইংরেজিতে কাট-অফ ৭৭, বাংলায় ৭৩, অঙ্কে ৭১ এবং ইতিহাসে ৭৫ নম্বর। পরীক্ষায় যাঁরা নিজেদের বিষয়ের লিখিত অংশে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই জানাচ্ছেনপূর্ণ নম্বর থাকলেও তাঁরা কাট-অফ পেরোতে পারেননি। বহু নতুন প্রার্থী প্রশ্ন তুলছেন, অভিজ্ঞতার নম্বরের কারণে কি ইন-সার্ভিস শিক্ষকেরাই এভাবে সুবিধা পাচ্ছেন? কারণ দেখা যাচ্ছে, যাঁরা বিষয়ের নম্বর কম পেয়েছেন, তাঁরাও অভিজ্ঞতার নম্বর ভরসায় তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ফ্রেশারদের মতে, এই পরিস্থিতি তাঁদের জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, মোট ২০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থীকে ডাকা হয়েছে ইন্টারভিউয়ের জন্য। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ফ্রেশার। কিন্তু আশ্চর্যভাবে দেখা যাচ্ছে, অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বহু ইন-সার্ভিস শিক্ষক আবার নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় ডাক পাননি। কমিশন সূত্রের দাবি, এঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশ নবম-দশমের নিয়োগ পর্যায়ে ডাক পেয়ে যেতে পারেন। যদিও নবম-দশমের নথি যাচাই এখনও শুরু হয়নি।মোট শূন্যপদ ৩৫ হাজার ৭২৬। এর মধ্যে একাদশ-দ্বাদশে শূন্যপদ রয়েছে ১২ হাজার ৫১৪টি। এবার ১৪ সেপ্টেম্বর হয়েছিল একাদশ-দ্বাদশের লিখিত পরীক্ষা, যেখানে আবেদন করেছিলেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার প্রার্থী। আর ৭ সেপ্টেম্বর নেওয়া হয়েছিল নবম-দশমের পরীক্ষা, যার আবেদনকারী প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার। এত বিপুল আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ২০ হাজারের কিছু বেশি প্রার্থী ইন্টারভিউ ডাক পেয়েছেন। আর সেই তালিকাতেই দেখা যাচ্ছে পূর্ণ নম্বরধারী বহু ফ্রেশার বাদ, আর কম নম্বর পেয়েও অভিজ্ঞতার জোরে তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন ইন-সার্ভিস শিক্ষকরা।এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ফ্রেশার প্রার্থীদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেননতুনদের কি ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে? একইসঙ্গে উঠছে আরও অভিযোগএকদিকে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের পর সরকার ও কমিশন স্বচ্ছতার কথা বললেও বাস্তব চিত্র কি সত্যিই তেমন? পূর্ণ নম্বর পেয়েও চাকরি না মেলার ব্যাখ্যা কারও কাছেই স্পষ্ট নয়।একাদশ-দ্বাদশের ফল সামনে আসতেই নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবার নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়ল। ফ্রেশারদের দাবি, যদি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণ নম্বরও চাকরির পথে যথেষ্ট না হয়, তাহলে তাঁদের লড়াই কতটা সুষ্ঠু তা নিয়েই প্রশ্ন রয়ে যায়।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা

২০ হাজার উত্তীর্ণ, কিন্তু আন্দোলনের নেতারা? বিস্ময়ে ভরা শনিবার সন্ধ্যা

নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত কয়েক বছর ধরে যাঁদের দিন-রাত পথে দেখা গিয়েছে, যাঁদের কণ্ঠস্বরেই আন্দোলনের আগুন জ্বলেছেশনিবার সন্ধ্যায় একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগের নতুন ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশের পর তাঁদের জীবনে ঠিক কী পরিবর্তন এল? প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন এই পর্যায়ে। বহু চাকরি হারানো মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখতে পেলেও, আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা সেই কয়েকজন পরিচিত চাকরিপ্রার্থীতাঁদের মুখে কি কোনও স্বস্তির হাসি ফুটল?চিন্ময় মণ্ডল, সুমন বিশ্বাস, মেহবুব মণ্ডল এবং সঙ্গীতা সাহাকরুণাময়ীতে বিকাশ ভবনের সামনে দিনের পর দিন যাঁদের দেখা যেত, রাতভর যাঁরা অবস্থান করতেন, যাঁদের চোখে প্রতিবাদের ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার স্পষ্ট ছিলশনিবারের তালিকা সেই দীর্ঘ সংগ্রামে ঠিক কী বার্তা দিল?চিন্ময় মণ্ডলের নাম উঠল না তালিকায়। শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ তিনি। দিল্লি থেকে কলকাতানিয়োগের স্বচ্ছতার দাবি নিয়ে দৌড়ে বেড়িয়েছেন বহুবার। কিন্তু নতুন প্রকাশিত তালিকায় তিন নম্বরের কারণে কাট-অফের ওপারে উঠতে পারলেন না। চিন্ময়ের কথায়, আশানুরূপ ফল হয়নি। তবুও তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েননি। বললেন, নবম-দশমের ফলাফলের দিকে এখনও তাকিয়ে আছেন।একই ছবি সুমন বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও। চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি ছিলেন আন্দোলনের প্রথম সারিতে। তাঁর নামও নেই এই তালিকায়। তবুও হতাশ নন। বরং তাঁর আক্ষেপযোগ্যতার বিচার হয়নি ঠিকমতো। তাঁর অভিযোগ, পুরনো ও নতুন আবেদনকারীকে একসঙ্গে মেশানোয় প্রকৃত যোগ্যদের ক্ষতি হয়েছে। একজন নতুন আবেদনকারী তাঁকে জানিয়েছেন, ৬০-এর মধ্যে পুরো ৬০ পেয়েও ইন্টারভিউ ডাক পাননি।মেহবুব মণ্ডল অবশ্য তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। ভেরিফিকেশনের ডাকও এসেছে তাঁর কাছে। কিন্তু ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও বেশি ভাবাচ্ছে তাঁকে অন্যদের ভবিষ্যৎ। সাত বছর চাকরি করে যাঁদের আবার নতুন করে পরীক্ষার লড়াইয়ে নামতে হয়েছে, তাঁদের অনেকেই এবারও কাট-অফ তুলতে পারেননি। আন্দোলনের দীর্ঘ রাতগুলোতে যাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন, তাঁদের কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কাই তাঁকে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এই শিক্ষকদের জন্য রাজ্যের উচিত আলাদা ব্যবস্থা করা, যাতে কেউ কাজ হারিয়ে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে না দেওয়া হয়।সঙ্গীতা সাহার নাম উঠেছে তালিকায়। তবুও মনে নেই উচ্ছ্বাস। বরং ক্ষোভ, বেদনা আর দীর্ঘ অবিচারের স্মৃতি চেপে ধরেছে তাঁকে। তাঁর কথায়, বিনা দোষে তাঁদের অন্যায় পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের অপরাধ ছিল না, কিন্তু তবুও তাঁদের জীবনকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বছরের পর বছর। আশেপাশের বহু সহযোদ্ধা কাট-অফ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সঙ্গীতার প্রশ্নযাঁরা এবারও সুযোগ পেলেন না, তাঁদের ভবিষ্যতের কথা কি সরকার ভাববে? আদালত কি তাঁদের জন্য কোনও পথ খুলে দেবে? অনেকেই তাঁকে ফোন করে বলেছেন, এবারও কিছু হয়নিএখন কী করবেন, সেই উত্তর অন্ধকারেই রয়ে গেছে।একদিকে নতুন তালিকা বহু মানুষের কাছে আশার আলো, অন্যদিকে আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা এই চার জনের গল্প যেন আবার প্রশ্ন তোলেনিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সেই দীর্ঘ পথ শেষে কি সত্যিই স্বচ্ছতার আলো দেখা গেল, নাকি এখনও বহু মানুষের জীবন লড়াইয়ের অন্ধকারেই পড়ে রইল?

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
কলকাতা

‘কিছু বলব না’— চোখে জল নিয়ে জেলমুক্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী

অবশেষে সাড়ে তিন বছর পর জেলমুক্তি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে চেপে বেরিয়ে এলেন তিনি। চোখে জল, মুখে একটাই কথা কিছু বলব না। তারপরই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাড়ির পথে নাকতলার উদ্দেশে রওনা দেন প্রাক্তন মন্ত্রী। হাসপাতাল থেকে বেরোনোর মুহূর্তে চারপাশে ভিড় জমায় অনুগামীরা। কারও হাতে বেহালা পশ্চিমে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেই চাই লেখা পোস্টার, কেউ আবার মোবাইলে রেকর্ড করছেন সেই ঐতিহাসিক দৃশ্য।২০২২ সালের জুলাইয়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে প্রথমে গ্রেপ্তার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে। তার পর থেকেই জেলবন্দি ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভেতরে কেটেছে তাঁর তিনটি বছর, অসুস্থতার কারণে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে।এরপর একে একে তিনটি মামলায় ইডি, সিবিআই এবং নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ দুর্নীতি মামলা জামিন পান পার্থ। কিন্তু আদালতের শর্ত ছিল, এই মামলাগুলিতে অন্তত আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি মিলবে না। সোমবার অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হতেই মঙ্গলবার সকালে আদালতের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় রিলিজ অর্ডার। প্রেসিডেন্সি জেল ও হাসপাতাল দুই জায়গায়ই সেই নির্দেশ পৌঁছনোর পর অবশেষে সবুজ সংকেত মেলে মুক্তির।দীর্ঘ আইনি লড়াই, অসুস্থতা আর অভিযোগের ভার পেরিয়ে শেষমেশ নিজের বাড়িতে ফিরলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিকেল নাগাদ নাকতলার বাড়িতে পৌঁছতেই সমর্থকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। কেউ ফুলের মালা নিয়ে এগিয়ে আসে, কেউ আবেগে কেঁদে ফেলেন। পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় বাড়িতে প্রবেশ করেন তিনি।রাজনৈতিক মহলে এই মুক্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। কেউ বলছেন, এটা নতুন রাজনীতির ইঙ্গিত, কেউ আবার মনে করছেন, দুর্নীতির মামলা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মেলা এখনও বাকি। তবে আপাতত তিন বছর তিন মাসের বন্দিদশার অবসান। আর তার সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য।

নভেম্বর ১১, ২০২৫
রাজ্য

'সতীদাহের নামে নারীদের যেমন চিতায় তুলত, আমরাও তেমনই অগ্নিপরীক্ষায়', কালো পোশাকে প্রতিবাদে পরীক্ষাকেন্দ্রে মেহবুবরা

কালো পোশাকে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নিলেন চাকরিহারাদের একাংশ। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষক মেহবুব মণ্ডল। কালো পাঞ্জাবি পরে পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হলেন তিনি। বারুইপুরের বাসিন্দা মেহবুবের পরীক্ষা পড়েছে সোনারপুর বিদ্যাপীঠ স্কুলে। সকালেই রওনা দিয়ে পৌঁছে যান কেন্দ্রে। ক্ষোভ চেপে রাখেননি, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সোজাসুজি উগরে দেন মনের কথা। তাঁর অভিযোগ, যেভাবে সতীদাহের নামে নারীদের জোর করে চিতায় ঠেলে দেওয়া হত, কিংবা গ্যালিলিওকে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ আর বিচার বিভাগের সহায়তায় আজ আমাদেরও ঠিক তেমনভাবেই আবার নতুন অগ্নিপরীক্ষায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফল কী হবে, আমরা জানি না।সেই বহুল আলোচিত প্যানেলই এর কেন্দ্রে। রাতারাতি প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক চাকরি হারিয়েছিলেন। এরপর থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত হয়েছে অসংখ্য শুনানি, দরবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চাকরি ফেরাতে না পেরে নতুন পরীক্ষাতেই বসতে হচ্ছে তাঁদের। এবার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ হবে ৩৫ হাজার ৭৫২ শূন্যপদে।দুই দফায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথম ধাপ ৭ সেপ্টেম্বরযেখানে নবম-দশম শ্রেণির জন্য পরীক্ষা দেবে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ প্রার্থী। দ্বিতীয় ধাপ ১৪ সেপ্টেম্বরএকাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য বসবেন আরও ২ লক্ষ ৪৬ হাজার চাকরিপ্রার্থী। ফলে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার। রাজ্যজুড়ে প্রথম দিনে ৬৩৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে, আর দ্বিতীয় দিনে ৪৭৮টি কেন্দ্রে বসবেন পরীক্ষার্থীরা।

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

'এসএসসি-র নয়া নিয়োগ পরীক্ষায় ফের দাগিদের সুযোগ', বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

নয় বছর পর আবারও হতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার আগেই উঠছে একাধিক প্রশ্নআসন্ন পরীক্ষা কি সত্যিই হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ? আর কি দেখা যাবে না অনিয়ম, কারও চোখের জল? প্রায় ৬ লক্ষ প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই পরীক্ষার ওপর। তবু রাজনৈতিক মহলে সংশয় কাটছে না।এই পরিস্থিতিতেই আসানসোলে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এখনও ১৫২ জন দাগি প্রার্থীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন। যদিও তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। শুভেন্দুর কথায়, ১৯৫৮ জন দাগি শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যে ১৮০৬ জনের নাম প্রকাশ করেছে কমিশন। কিন্তু ১৫২ জনকে বাদ রাখা হয়েছে না, বরং তাঁদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ এক প্রহসনের পরীক্ষা। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, টাকা নিয়ে কেন্দ্র ঠিক হয়েছে, তৃণমূল নেতারা পুলিশের সহযোগিতায় গোটা প্রক্রিয়াকে ভণ্ডুল করছে। এর ফল কিছুই হবে না, হবে কেবল অশ্বডিম্ব।অন্যদিকে, পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। তিনি জানান, এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ৫ লক্ষ ৬৫ হাজার। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বসবেন ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯১৯ জন প্রার্থী। আর ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশের জন্য বসবেন ২ লক্ষ ৪৬ হাজার জন। প্রথম দিনে গোটা রাজ্যে থাকছে ৬৩৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র, দ্বিতীয় দিনে ৪৭৮টি কেন্দ্র।অর্থাৎ, দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হতে চলা শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশাসন আশাবাদী হলেও বিরোধীরা মনে করছে এর মধ্যেও লুকিয়ে আছে অনিয়মের ছাপ

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

SSC-এর 'অযোগ্য' তালিকায় তৃণমূলের দাপুটে বিধায়কের ছেলের বউয়ের নামও

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) প্রকাশ করেছে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ওই তালিকায় নাম রয়েছে মোট ১৮০৪ জনের। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে চাপে পড়ল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।প্রকাশিত তালিকার ১২৬৯ নম্বরে রয়েছেন পানিহাটির তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষের পুত্রবধূ শম্পা ঘোষ। উত্তর চব্বিশ পরগনার নৈহাটির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তিনি। তবে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় নিজের নাম প্রকাশ পাওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শম্পা ঘোষ।এছাড়া, রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষের নামও রয়েছে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায়। তিনিও রাজপুরের এক স্কুলে শিক্ষকতার দায়িত্বে ছিলেন। শুধু তাঁরা নন, তালিকায় আরও আছেন পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে দলীয় পদে থাকা নেতাদের আত্মীয়-স্বজন।এসএসসি জানিয়েছে, এই তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে আবার নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। কমিশন তাঁদের আবেদনপত্র বাতিল করার পাশাপাশি অ্যাডমিট কার্ডও স্থগিত করেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে শাসক দলের অস্বস্তি আরও বাড়ল এই তালিকা প্রকাশের ফলে। কারণ, অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ প্রার্থীদের পাশাপাশি শাসক দলের জনপ্রতিনিধি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে আসায় বিরোধীরা নতুন করে রাজনৈতিক অস্ত্র পেয়ে গেল।

আগস্ট ৩১, ২০২৫
রাজ্য

'দাগি' তালিকায় TMC কাউন্সিলরের নাম, হাইকোর্টে ফের মামলা করার হুঁশিয়ারি

অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ হতেই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর নাম। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কুহেলি ঘোষের নামও উঠে এসেছে দাগি তালিকায়। শনিবার প্রকাশিত তালিকায় ১,৮০৪ জনের মধ্যে রয়েছেন তিনিও। তালিকায় নিজের নাম দেখে ক্ষুব্ধ কুহেলি জানিয়েছেন, তিনি আগামী সোমবার ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।কুহেলি ঘোষ বলেন, আমি আগেই মামলা করেছিলাম। সিবিআই-কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিলাম। আদালতে জানিয়েছিলাম, আমাকে যে কোনও তদন্তকারী সংস্থা ডাকুক। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে ডাকেনি। হঠাৎ করেই জানতে পারলাম তালিকা প্রকাশ হচ্ছে, আর সেখানে আমার নাম রয়েছে। কেন আমার নাম এসেছে, সেটা এখনও পরিষ্কার নয়।তালিকার ৬৪৭ নম্বরে রয়েছে কুহেলির নাম। প্রথমে তিনি প্রাথমিক শিক্ষিকার পদে নিযুক্ত ছিলেন। পরে হাইস্কুলে শিক্ষিকার চাকরিও পান। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পুরনো প্রাইমারির চাকরিতে ফেরার জন্য সব নথি জমা দিলেও এখনও সেই প্রক্রিয়া এগোয়নি। পরীক্ষা দিয়ে নিয়ম মেনে তিনি চাকরি পেয়েছেন বলেই দাবি করেছেন কুহেলি ঘোষ।শুধু কুহেলি ঘোষই নন, ওই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন একাধিক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নামও। তালিকার ৩১৬ নম্বরে রয়েছেন হুগলির খানাকুলের দাপুটে তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য বিভাস মালিক। তিনি তারকেশ্বরের একটি বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি ১,৩৩২ নম্বরে রয়েছে তাঁর স্ত্রী সন্তোষি মালিকের নামও। তালিকায় আরও রয়েছে জেলা পরিষদের সদস্যা সাহিনা সুলতানার নাম।

আগস্ট ৩১, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ইটাহারের বিডিওর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ বিজেপির; পাল্টা অভিযোগ বিডিওর

উত্তর দিনাজপুর: ইটাহার ব্লকের বিডিও দিব্যেন্দু সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সরকারি কাজের আড়ালে ব্যক্তিগত খরচের বিল সরকারি খাতে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। পাশাপাশি নিরপেক্ষ অডিট ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে দল।বিজেপির অভিযোগ, ২০২৪ সালে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার নির্মাণ ও সংস্কারের বিভিন্ন কাজের জন্য এক ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দলের দাবি, সরকারি টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে কিছু কাজ হলেও, তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেনের কার্যালয়ের সৌন্দর্যায়ন এবং বিডিওর ব্যক্তিগত কিছু কাজ সরকারি নিয়ম না মেনে মৌখিক নির্দেশে করানো হয়।অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, খাসির মাংস, বাড়ির রাঁধুনি ও গৃহকর্মীর বেতন, ট্রলিব্যাগ, এমনকি বাড়ির ছাদের দোলনার খরচও সরকারি বিল হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা সরকারি অর্থের চরম অপব্যবহারের নজির হতে পারে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।বুধবার বিকেলে বিজেপি নেতা নিমাই সিংহের নেতৃত্বে দলের এক প্রতিনিধি দল এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার হুমায়ুন রহমান ইটাহার বিডিও অফিসে গিয়ে বকেয়া বিল মেটানোর দাবি জানান। অভিযোগ, এ নিয়ে বিডিওর সঙ্গে বচসা শুরু হয়। বিজেপি কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে লাইভ সম্প্রচার শুরু করলে বিডিও আপত্তি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।এরপর ঠিকাদার হুমায়ুন রহমান ও বিজেপি নেতারা ইটাহার থানায় বিডিওর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।ঠিকাদার হুমায়ুন রহমানের দাবি, আমি লক্ষ লক্ষ টাকার কাজ করেছি। কিন্তু এখন বিডিও সমস্ত কাজ অস্বীকার করছেন এবং বিল মেটাতে অস্বীকার করছেন। তাই বাধ্য হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিডিও দিব্যেন্দু সরকার। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কোনও কাজই মৌখিক নির্দেশে করা হয় না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ভুয়ো বিল জমা দিয়ে বৈধ নথি ছাড়াই টাকা দাবি করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাঁকে তিন বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করার সুপারিশ করেছি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আর্থিক নিরীক্ষার দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের পরই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

বড় সিদ্ধান্ত, ছাব্বিশ অগস্টের মধ্যে খালি করতে হবে ময়দান মার্কেট! এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পে নতুন নির্দেশ

এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত শেষ করতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। ময়দান মার্কেটের পাঁচশো আটাশ জন ব্যবসায়ীকে আগামী ছাব্বিশ অগস্টের মধ্যে দোকান খালি করে অন্যত্র সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের পূর্ত দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই নোটিস জারি করা হয়েছে (Dharmatala)।জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড (Dharmatala) পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এসপ্ল্যানেড স্টেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেশনটি তৈরি হবে বর্তমান ময়দান মার্কেটের নিচে। সেই কারণেই নির্মাণকাজ শুরু করার আগে পুরো বাজার এলাকা খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সাময়িকভাবে কলকাতা পুলিশের মাউন্টেড প্যাডক মাঠে স্থানান্তর করা হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।এই বাজার স্থানান্তর নিয়ে অতীতে একাধিকবার বিতর্ক ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ স্থানান্তরে সম্মতি জানিয়েছেন। এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রশাসন নির্মাণকাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে (Dharmatala)।এদিকে জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে (Dharmatala)। ভিক্টোরিয়া স্টেশনের নির্মাণকাজ জোরকদমে চলছে। টানেল বোরিং যন্ত্র ইতিমধ্যেই ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। ফলে এসপ্ল্যানেড স্টেশনের কাজও দ্রুত শুরু করতে চাইছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজার খালি হলে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ শুরু করা আরও সহজ হবে বলে প্রশাসনের আশা।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

আজ থেকেই শুরু ডিজিটাল জনগণনা! মাত্র দশ মিনিটে ঘরে বসেই করুন কাজ, জানুন পুরো নিয়ম

রাজ্যজুড়ে আজ থেকে শুরু হল ষোড়শ জনগণনার কাজ। এবার প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হচ্ছে। পাশাপাশি চালু হয়েছে স্বগণনার সুবিধাও। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন। শনিবার নবান্নে বসে নিজেই অনলাইনে স্বগণনা সম্পন্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সকলকে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং স্বগণনার সুযোগ। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনকল্যাণ এবং উন্নত ভারতের লক্ষ্য পূরণে এই আধুনিক জনগণনাকে সফল করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনার কাজে রাজ্যজুড়ে তিন হাজার চারশো জন সুপারভাইজার এবং মোট চৌদ্দ হাজার তিনশো নিরানব্বই জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তবে যাঁরা অনলাইনে আবেদন করবেন, তাঁরা বাড়ির তথ্যের পাশাপাশি পরিবারের তথ্যও নিজেরাই জমা দিতে পারবেন।এই জনগণনায় অনলাইনে মোট চৌত্রিশটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। বাড়ি এবং পরিবারের বিভিন্ন তথ্য জমা দেওয়ার জন্য বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সেখানে খুব অল্প সময়েই ফর্ম পূরণ করা সম্ভব।স্বগণনার প্রথম পর্ব চলবে পনেরোই আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ষোলোই আগস্ট থেকে চৌদ্দই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে আগামী আটাশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সরকার আশা করছে, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে জনগণনার কাজ আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুল হবে।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

আজ থেকে আর আধার বা ভোটার কার্ড নয়! সরকারি বাসে ফ্রি যাতায়াতের জন্য বাধ্যতামূলক এই নতুন কার্ড

আজ থেকে রাজ্যে চালু হল মহিলাদের জন্য বিশেষ গোলাপি কার্ড। সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে এখন থেকে এই কার্ড দেখাতে হবে। গত পয়লা জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে ভ্রমণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত আধার কার্ড বা ভোটার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আজ থেকে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে গোলাপি কার্ডই হবে প্রধান পরিচয়পত্র।রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শহর, শহরতলি এবং দূরপাল্লার সরকারি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও সাধারণ সব বাসেই এই সুবিধা মিলবে। পরিবহণ দপ্তর জানিয়েছে, গোলাপি কার্ডের জন্য অনলাইন এবং অফলাইনদুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে।অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে গোলাপি কার্ডের আবেদন লিঙ্কে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদন জমা দিলেই একটি রসিদ পাওয়া যাবে। সেই রসিদ সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।আবেদনের জন্য প্রয়োজন হবে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ, স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র, এক কপি পাসপোর্ট মাপের ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর।যাঁরা অফলাইনে আবেদন করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের বিডিও কার্যালয়ে এবং পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট পুরসভায় গিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। সমস্ত নথি যাচাইয়ের পর আবেদনকারীর হাতে গোলাপি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।পরিবহণ দপ্তরের আশা, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে মহিলাদের বিনামূল্যে সরকারি বাসে যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হবে।

আগস্ট ০১, ২০২৬
দেশ

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, শেষমেশ কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা! ভাইরাল ভিডিওতে কী বললেন তরুণী?

দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে আলোচনায় উঠে আসা এক তরুণীর একটি ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিওতে তাঁকে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যাচ্ছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।পুলিশের দায়ের করা শূন্য নম্বর এফআইআরে ওই তরুণীর বয়স পঁচিশ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভাইরাল ভিডিওতে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বয়স মাত্র পনেরো বছর। তিনি বলেন, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কনট প্লেস থেকে যন্তর মন্তরের আন্দোলনে গিয়েছিলেন। সেখানে আশপাশের মানুষের বক্তব্যে প্রভাবিত হয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।ভিডিওতে ওই তরুণী বলেন, তিনি বড় ভুল করেছেন এবং তাঁর মন্তব্য ক্ষমার অযোগ্য। তিনি গোটা দেশের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান, এই ভুল আর কোনও দিন করবেন না। নিজের আচরণের জন্য তিনি লজ্জিত বলেও দাবি করেন।এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় কয়েকজন তাঁর এবং তাঁর মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে তিনি তাঁদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান, তরুণ প্রজন্মকে শুধুমাত্র শাস্তি নয়, সঠিক পথও দেখানো উচিত।উল্লেখ্য, গত তেইশে জুলাইয়ের বিক্ষোভে আপত্তিকর স্লোগান ও মন্তব্যের অভিযোগে ঊনত্রিশে জুলাই নয়ডা এক্সপ্রেসওয়ে থানায় শূন্য নম্বর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। ভাইরাল ভিডিও এবং তরুণীর দাবির সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

আগস্ট ০১, ২০২৬
রাজ্য

ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার অর্পিতা! হামিমের গোপন চক্রে নতুন বিস্ফোরক মোড়

জঙ্গি সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী। ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে অর্পিতা সরকার নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামিমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিমের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে অর্পিতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁদের একাধিক কথোপকথনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি। সেই সূত্র ধরেই অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, হামিম বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। সেই কাজে অর্পিতাকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে এই সমস্ত তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং সরকারি ভাবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, হামিমের পরিবারের আদি বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর এলাকায়। পরে তার পরিবার হাওড়ার পিলখানায় বসবাস শুরু করে। কয়েক মাস আগে তারা বর্ধমানের একটি আবাসনে ভাড়া থাকতে শুরু করে। সেখান থেকেই হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর আবাসনের বাসিন্দারা জানান, তাঁরা কখনও বুঝতেই পারেননি তাঁদের পাশেই এমন একজন থাকতেন, যাকে নিয়ে এত বড় তদন্ত চলছে।এসটিএফ এখন হামিম, অর্পিতা এবং তাঁদের সম্ভাব্য যোগাযোগের পুরো নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন, চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত একাধিক বিষয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে তদন্তকারী মহলের বক্তব্য।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

আজ থেকেই স্কুলে বড় বদল! পড়ুয়াদের পাতে নতুন খাবার, নিজেই রান্নাঘরে মুখ্যমন্ত্রী

আজ থেকে সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য নতুনভাবে মিড ডে মিল সরবরাহ শুরু হল। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী পাইলট প্রকল্পের আওতায় বড় রান্নাঘরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের আগে যজ্ঞে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং প্রতীকীভাবে খাবার তৈরির কাজেও অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকেরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়ারাও উপস্থিত ছিল। পরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়িরও উদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজ থেকেই সরকারি স্কুলে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের ফলে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত মানের খাবার পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলমুখী করা এবং তাদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই বহু বছর আগে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সেই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হচ্ছে।সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক রান্নাঘরে তৈরি খাবার বৈদ্যুতিক গাড়িতে করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রতিটি খাবারের পাত্র সিল করা থাকবে যাতে খাবারের মান ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। স্কুলে পৌঁছে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে সেই সিল খোলা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ পড়ুয়ার কাছে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মিড ডে মিলের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।মিড ডে মিল নিয়ে সমালোচনার জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমালোচনা থাকবেই। তবে সরকারের লক্ষ্য পড়ুয়াদের উন্নত মানের খাবার পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও জানান, অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখে রাজ্যের স্কুলগুলিতেও সপ্তাহে দুই দিন ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মিড ডে মিল প্রকল্পে যুক্ত রাঁধুনিদের নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাঁধুনি কাজ হারাবেন না। নতুন ব্যবস্থাতেও তাঁদের যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি তাঁদের মাসিক সম্মানী দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আগস্ট ০১, ২০২৬
কলকাতা

বিশ বছর পর কলকাতায় ফিরেই আবেগে ভাসলেন তসলিমা! বললেন, ‘মনে হচ্ছে নিজের দেশেই ফিরেছি’

প্রায় দুই দশক পর আবার কলকাতায় ফিরলেন বাংলাদেশের লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘদিন পর এই শহরে পা রেখে নিজের আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। বিমানবন্দরে পৌঁছেই জানান, কলকাতায় ফিরে তাঁর মনে হচ্ছে যেন নিজের দেশেই ফিরে এসেছেন। বহু বছর পর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে সাহিত্য মহলেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।কলকাতায় এসে তসলিমা বলেন, তিনি বাংলা ভাষা এবং এই শহরের টানেই একসময় এখানে থাকতে এসেছিলেন। ইউরোপের স্বচ্ছন্দ জীবন ছেড়ে বাংলা ভাষার জন্যই কলকাতাকে বেছে নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি এবং এই শহরের মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।বাংলাদেশে ফিরতে না পারার কষ্টের কথাও তুলে ধরেন তসলিমা। তিনি বলেন, নিজের দেশে ফিরতে না পারার যন্ত্রণা কিছুটা কমে যায় যখন তিনি পশ্চিমবঙ্গে আসেন। তাঁর অনুভূতি, বাংলার এই অংশে এলেই মনে হয় তিনি নিজের মাটির কাছাকাছি চলে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর কলকাতায় ফিরে সেই অনুভূতিই আবার নতুন করে ফিরে এসেছে বলে জানান তিনি।দুই হাজার সাত সালে তাঁর লেখা একটি বইকে ঘিরে বিতর্কের পর কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল তসলিমাকে। সেই সময়কার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁকে অস্থায়ীভাবে অন্যত্র যাওয়ার কথা বলা হলেও পরে আর কলকাতায় ফিরে আসার সুযোগ পাননি। সেই সময়ের নানা কঠিন অভিজ্ঞতা আজও তাঁর মনে দাগ কেটে রয়েছে। তবে অতীতের সেই কষ্টের স্মৃতি আর মনে করতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কলকাতায় ফিরে তসলিমার এই সফর ঘিরে সাহিত্যপ্রেমী এবং পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আগস্ট ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal