• ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩, সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Panic

রাজ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আতঙ্কে নদিয়ায় তেলের হাহাকার! পাম্পে লম্বা লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না ডিজেল

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তেই নদিয়ায় পেট্রোল পাম্পগুলিতে দেখা গেল অস্বাভাবিক ভিড়। কোথাও লম্বা লাইন, কোথাও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না ডিজেল। অনেকেই তিন থেকে চারটি পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।পাম্পের সামনে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে। মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, যদি দেশে তেল সংকট তৈরি হয়, তা হলে আগে থেকেই মজুত করে রাখা ভাল। এই ভেবেই প্রয়োজনের বেশি তেল কিনতে ভিড় করছেন বহু মানুষ।একজন ক্রেতা জানান, যুদ্ধের কারণে ডিজেল পাওয়া যাবে না এমন খবর শুনেই তিনি তেল কিনতে এসেছেন। তাঁর চাষের কাজ রয়েছে। ধান চাষের জন্য ডিজেল দরকার। প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি ডিজেল পাননি বলে জানান।পেট্রোল পাম্পের এক কর্মী বলেন, গত দুদিনে হঠাৎ করে ডিজেলের বিক্রি অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে ডিজেল শেষ হয়ে গিয়েছে। আপাতত ডিজেল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। পেট্রোল এখনও পাওয়া যাচ্ছে, তবে তারও চাহিদা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে। আগে কোনওদিন এত বিক্রি হয়নি বলেই দাবি তাঁর।এই পরিস্থিতিতে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে ঠিকই, কিন্তু ভারতে তেলের কোনও ঘাটতি নেই। কিছু জায়গায় আতঙ্কের কারণে মানুষ অকারণে তেল মজুত করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল রয়েছে। যুদ্ধপথ এড়িয়ে তেল আনার ব্যবস্থাও খোলা আছে। গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।অন্যদিকে তৃণমূলের কৃষ্ণনগর জেলা যুব সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে দেশের কাছে প্রায় পঁচিশ দিনের তেল মজুত রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই কারণেই এই ভিড় ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।সব মিলিয়ে গুজব, যুদ্ধের খবর এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে নদিয়ায় তেলের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে। তবে প্রশাসনের তরফে বারবার জানানো হচ্ছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবু পাম্পের সামনে লম্বা লাইন এখনও কমেনি।

মার্চ ০৫, ২০২৬
রাজ্য

কাগজপত্র না মেলাতেই বিপদ! ভোটার লিস্টের উদ্বেগে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ ৬৩ বছরের ব্যক্তির

কামারহাটির প্রফুল্লনগরের বাসিন্দা ৬৩ বছরের রিকশাচালক অশোক কুমার সরদার এখন আর জি কর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। পরিবার বলছে, ভোটার তালিকায় নিজের নাম না থাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকমতো না মেলায় ভয়, লজ্জা এবং মানসিক চাপেই তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেইএটাই তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। যদিও একই তালিকায় তাঁর ঠাকুমার নাম ছিল, কিন্তু বানান ছিল ভুল। সে কারণে বারবার তিনি মনে করতেন, তাঁকে হয়তো কোনও সমস্যার মুখে পড়তে হবে। পরিবার তাঁকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কিছুতেই আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাগজপত্র ঠিক করতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। বুধবার সকালেও তিনি নথিপত্র নিয়ে এদিক-ওদিক ছুটেছেন। বিকেল পর্যন্ত কোনও সমাধান না মেলাতেই সন্ধ্যায় হঠাৎ সিসিআর ব্রিজের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। আচমকা ট্রেনের ধাক্কায় শরীরের নিচের অংশ গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের দাবি, তাঁর দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।অশোকবাবুর মেয়ে চৈতালি সরকারের কথায়, আমরা সকালের দিকেই কাগজপত্র জোগাড় করছিলাম। পাড়ার এক দাদা ফর্ম ফিলআপ করেও দিয়েছেন। কিন্তু বাবা মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল। সবাই এত কথা বলছিল, এত আতঙ্ক তৈরি হচ্ছিল যে বাবা আর সহ্য করতে পারেনি। পরিবার মনে করছে, কিছুদিন ধরে এলাকায় ভোটার লিস্ট ঘিরে যে চাপ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা এই দুঃখজনক ঘটনার অন্যতম কারণ। ভীত, বিভ্রান্ত এবং অসহায় মনে করাতেই অশোকবাবু আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি পরিবারের।বর্তমানে তিনি হাসপাতালে অতি সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করার নামে ভয় তৈরি করা হলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারেঅশোকবাবুর ঘটনা তারই একটি মর্মান্তিক উদাহরণ।

নভেম্বর ২০, ২০২৫
রাজ্য

ফর্ম না–পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ, পূর্ব পুটিয়ারিতে বৃদ্ধার মৃত্যুর পর আলোচনায় প্রশাসনিক বিভ্রান্তি

কলকাতার পূর্ব পুটিয়ারিতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকা এক বৃদ্ধা আগুনে পোড়া অবস্থায় প্রাণ হারালেনএমনই দাবি করেছেন তাঁর পরিবার। মৃতার নাম যমুনা মণ্ডল, বয়স ৬৭। পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এলাকায় ভোটার এনুমারেশন ফর্ম বিলি হচ্ছিল। আশপাশের বাড়িগুলিতে ফর্ম পৌঁছোলেও তাঁদের বাড়িতে পৌঁছায়নি। সেই কারণেই যমুনা দেবী অস্বাভাবিক আতঙ্কে ভুগছিলেন।যমুনার ছেলে মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল বলেন, তাঁর মায়ের আগে থেকেই স্নায়ুর সমস্যা ছিল। ফর্ম না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। গত শনিবার তাঁরা অবশেষে এনুমারেশন ফর্ম পান। কিন্তু তাতেও যমুনা দেবীর ভয়ের অবসান হয়নি বলে দাবি পরিবারের। সোমবার সকালে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।এদিকে দক্ষিণ দমদম থেকেও সামনে এসেছে আর-একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানকার আরএন গুহ রোডের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ হাজরা, বয়স ৪৬, কয়েকদিন ধরে এসআইআরসংক্রান্ত দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, বৈদ্যনাথ বাবুর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল নাএই বিষয়টি তাঁকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলছিল। দুদিন আগে গভীর রাতে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। তাঁর মোবাইল ফোন বাড়িতেই পড়ে ছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আজ তাঁর দেহ উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এসআইআরনিয়ে তৈরি হওয়া ভয়ই তাঁকে চরম পদক্ষেপে ঠেলে দিয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভয় ও বিভ্রান্তির অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে দায়ী করেছে। আবার বিজেপির অভিযোগ, আতঙ্ক ছড়িয়ে ভোট রাজনীতি করছে রাজ্যের শাসকদলই।ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। কিন্তু দুই পরিবারের মর্মান্তিক ক্ষতি পাহাড়প্রমাণ প্রশ্ন তুলছেএসআইআরসম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এত ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে কেন, এবং এই আশঙ্কা দূর করতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন কি না।(মানসিক চাপ বা সংকটে থাকলে যেকোনও সময় কিরণ ১৮০০-৫৯৯-০০১৯ হেল্পলাইনে সাহায্য পাওয়া যায়।)

নভেম্বর ১৮, ২০২৫
রাজ্য

এসআইআর আতঙ্কে ফের মৃত্যু! ভোটার লিস্টে নাম থেকেও আত্মঘাতী জলপাইগুড়ির কমলা রায়

রাজ্যজুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিলি করছেন বিএলওরা। আর এই সময়েই ফের আতঙ্কের ছায়া জলপাইগুড়িতে। অভিযোগ, এসআইআর-এর ভয়ে আত্মঘাতী হলেন এক মহিলাকমলা রায়। বয়স ৫৩। বাড়ি বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষা জলপাইগুড়ির সাতকুড়ায়। তাঁর পরিবার সরাসরি দাবি করেছে, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারেএই আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছিল। সেই আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত ওঁকে গ্রাস করল।পরিবার জানিয়েছে, প্রায় ৪০ বছর আগে কমলা রায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন। তারপর থেকেই সাতকুড়া এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। তাদের বক্তব্য, কমলার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসব বৈধ নথিই ছিল তাঁর হাতে। কিন্তু তবুও তিনি ক্রমশ মনে ভয় জমাচ্ছিলেনএসআইআর কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে কি না, এই আশঙ্কাতেই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই আতঙ্ক থেকেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন কমলা।ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও শাসক দলের নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দাবি, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই কমলা রায় আতঙ্কে ছিলেন। এই ভয়ই তাঁকে দুর্বল করে দেয়। আমরা সবরকমভাবে পরিবারের পাশে থাকব।পুলিশ ইতিমধ্যেই দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। তদন্ত চলছে মানসিক চাপে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কারণ খুঁজে বের করতে।উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই জলপাইগুড়ির আমবাড়িতে একইভাবে আত্মঘাতী হন ভুবনচন্দ্র রায় নামে এক প্রৌঢ়। তাঁর অভিযোগ ছিল, পরিবারের অন্য সবার ফর্ম এসআইআর-এ পৌঁছালেও তাঁর মেয়ের ফর্ম আসেনি। সেই আতঙ্কেই চরম পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। পরপর দুই মৃত্যুতে জেলায় এসআইআর নিয়ে অস্বস্তি আরও বেড়েছে।

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
রাজ্য

৩০ বছর ধরে দেশে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় আতঙ্কিত বৃদ্ধের মৃত্যু— নদিয়া তহেরপুরে চুপচাপ পরিবার

নদিয়া জেলার তহেরপুর গ্রামে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ষাটের কোঠায় পড়া প্রবীণ শ্যামলকুমার সাহার। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে একান্তভাবে চলে এসেছিলেন শ্যামলকুমার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তহেরপুরে বসবাস করছিলেন, ভোটারের আধার কার্ডও ছিল। কিন্তু ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম অনুপস্থিত ছিল।পরিবারের অভিযোগ, তখন থেকেই ব্যক্তিগতভাবে হয়রানির ভীতি ও নাগরিকত্ব-ভিত্তিমূলক উদ্বেগে মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতে এসে তাদের এনুমারেশন ফর্ম হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্থানীয় ব্লকএলঅফিসার (বিএলও)। সেই দিন থেকেই শ্যামলকুমার খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেন। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ঠিক মতো খাওয়ার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন তিনি।শেষ সোমবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃতের স্ত্রী বলেন, আমরা তহেরপুরে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আছি। ওর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব ছিল। তারপর ওই এনুমারেশন ফর্ম আনার পর থেকেই ওর মাথায় চিন্তার দানা বাঁধতে থাকে। আমি কিছু বললে বলত অত আমার কানের সামনে বকবক করো না তো। আসলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না ওর। তাই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করছিল।পড়শি এক যুবক জানান, আসলে সরকার বা Citizenship Amendment Act (CAA)-কথায় নাগরিকত্ব পাবে বলেছে না কোনো অধিকারিক; একটি রাজনৈতিক দল বলেছিল। তাহলে আর সেই কথায় কীভাবে ভরসা রাখবে? বলেই বৃদ্ধের পরিবার দাপিয়ে চলছিল ভয় আর সংশয়ের মধ্যে।পরিবারের দাবি, আজও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিক অথবা প্রশাসনের কেউ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। কেউ আদালতে বা সরকারী স্তরে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। পরিবারের চোখে আজ 누র আবস্থান, কান্নায় ভেঙে পড়েছে তারা।নদিয়ার তহেরপুর গ্রামে এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছেনাগরিকত্ব-বিহীন পরিবেশ, ভোটার তালিকা-হরচর, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই গল্পে উঠে এসেছে। এই দুর্ঘটনায় সরকারি-নির্বাহী ব্যবস্থার দুচোখ বন্ধ থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

নভেম্বর ১০, ২০২৫
রাজ্য

ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয়ে মৃত্যু? ধনেখালিতে মর্মান্তিক ঘটনা ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি

ফের এসআইআর আতঙ্কে কাঁপল হুগলি। ধনেখালির সোমসপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কানা নদী এলাকায় নিজের শিশুকন্যাকে বিষ খাইয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক ২৭ বছর বয়সি গৃহবধূ। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় আট বছর আগে হরিপালের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই তরুণীর। কিন্তু পারিবারিক বিবাদের কারণে গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি বাপের বাড়িতেই থাকছিলেন। সেখানেই শুক্রবার সকালে ঘটে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা। প্রথমে তাঁদের ধনেখালি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা-মেয়েকে পাঠানো হয় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে তাঁদের বাড়ির সকলেই এসআইআর ফর্ম পেয়েছিলেন, কিন্তু ওই গৃহবধূ পাননি। সেই থেকেই তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন, বারবার বলছিলেন আমার ফর্ম কেন আসেনি? পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেও উদ্বেগ কাটেনি তাঁর। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্কও ছিল একেবারে ছিন্ন। ফলে আরও একাকী হয়ে পড়েছিলেন তিনি।পরিবারের এক সদস্য বলেন, ও খুব চিন্তায় ছিল। ভয় করছিল, ফর্ম না পেলে যদি নাম বাদ যায়, যদি কোনও সমস্যা হয়! সকালে সেই ভয়ই যেন পেয়ে বসে তাঁকে। নিজের শিশুকন্যাকে কীটনাশক খাইয়ে নিজেও তা পান করেন।ঘটনার খবর ছড়াতেই এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য। ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি নেতারা যে ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে তাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছেন। ডানকুনিতে যেমন ঘটনা ঘটেছিল, এবার তা ধনেখালিতে। মেয়েটি ফর্ম না পেয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এসব রাজনীতির ভয়াবহ পরিণতি।অন্যদিকে, গৃহবধূর ভাইয়ের দাবি, ও ফর্ম পায়নি বলেই ভয় পেয়েছিল। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। হয়তো ভেবেছিল আমি ফর্ম পাব না, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি এখনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, তৃণমূলের দাবি বিজেপির ভয় দেখানো রাজনীতি-র জেরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।ধনেখালির এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক আতঙ্কের জেরে আর কত প্রাণ যাবে? ভোটের আগে কি আরও বাড়বে এই মানসিক চাপ?

নভেম্বর ০৯, ২০২৫
রাজ্য

ভোটার তালিকার আতঙ্কে মৃত্যু! ধূপগুড়ি থেকে কুলপি কাঁপছে বাংলা

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে রাজ্যে বাড়ছে উত্তেজনা। একদিকে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়ি, অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি দুই প্রান্তে একই ছবি। আতঙ্ক, অসুস্থতা, আর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু। আর দুই ক্ষেত্রেই অভিযোগের তির উঠছে এসআইআরের (Special Intensive Revision) কাজের দিকে।ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর দক্ষিণ ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা লালু রাম বর্মন (বয়স প্রায় ৭২)। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। ভোটার কার্ডও পাননি তিনি। সম্প্রতি এলাকায় যখন ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন শুরু হয়েছে, সেই খবর পেয়েই নাকি আতঙ্কে ছিলেন বৃদ্ধ।বৃহস্পতিবার বিএলও (Booth Level Officer) ফর্ম দিতে গেলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, আতঙ্কেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন লালু রাম বর্মন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের পুত্রবধূ মতি মালা বর্মন বলেন, শ্বশুরমশাই সারাদিন চিন্তায় ছিলেন। বারবার বলছিলেন, আমার নাম যদি না থাকে তাহলে কী হবে? বিএলও ফর্ম দিতে আসতেই তিনি ভয় পেয়ে যান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ।অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও সুমিত দাস জানিয়েছেন, ওঁদের বাড়িতে পাঁচজন সদস্য। চারজনের হাতে ফর্ম তুলে দিয়েছিলাম। পাশের বাড়িতে যেতেই শুনি বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।ঠিক একইভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভার কালীচরণপুরেও ঘটল আরেক মর্মান্তিক ঘটনা। সেখানকার কিশোরপুর হাই মাদ্রাসার শিক্ষক শাহাবুদ্দিন পাইক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শনিবার সকালে ক্লাস চলাকালীন। হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পাঁচদিন পর মৃত্যু হয় তাঁর। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, সেরিব্রাল অ্যাটাক-এ মৃত্যু।তবে পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকা নিয়ে আতঙ্কেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন শাহাবুদ্দিন। ২০০২ সালের সংশোধিত তালিকায় তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নাম না থাকায় তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বহুদিন ধরে। সেই মানসিক চাপই নাকি মৃত্যুর কারণ।এর মধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার ও কুলপির বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার। বাপি হালদার বলেন, মানুষ আতঙ্কিত। বিজেপি ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে কেউ রোহিঙ্গা, কেউ অনুপ্রবেশকারী বলে দেগে দিচ্ছে। এই মানসিক চাপে মানুষ অসুস্থ হচ্ছেন। আমরা আশ্বস্ত করছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।অন্যদিকে মথুরাপুরের বিজেপি নেতারা অভিযোগ তুলেছেন, এসবই তৃণমূলের রাজনৈতিক নাটক। নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলছে।উত্তর থেকে দক্ষিণ দুই প্রান্তেই ভোটার তালিকার আতঙ্ক এখন রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নভেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

"আমার কাগজ নেই, আমাকে বার করে দেবে"— ভাঙড়ে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এসআইআরএর পরিবেশ ঘিরে আরও এক মৃত্যুর ঘটনা। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আত্মহত্যার খবরের পর এবার ভাঙড়। শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম সফিকুল গাজি। তাঁর পরিবারের দাবি, কাগজপত্র নিয়ে আতঙ্কে ভুগেই আত্মঘাতী সফিকুল। বুধবার সকালে ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা।পরিবার জানাচ্ছে, গত কয়েক দিন ধরেই এক অদ্ভুত ভয় গ্রাস করেছিল সফিকুলকে। কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন না। খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ। মাঝেমধ্যে কাগজপত্র নিয়ে বসতেন, আর বারবার একটাই কথা আমার সব কাগজ নেই আমাকে এখান থেকে বার করে দেবে। স্ত্রী জানিয়েছেন, টানা দুই দিন ধরে স্বামী এমন কথাই বলে যাচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে স্বাভাবিক মতোই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে স্ত্রী ও ছেলে কাজে বেরিয়ে যান। ফিরে এসে দেখেন ঘরের ভিতর ঝুলছে তাঁর দেহ। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।ভাঙড়েই শ্বশুরবাড়ি ছিল সফিকুলের, সেখানেই থাকতেন। আসল বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, শুনেছি ওর বাবা-মায়ের বৈধ কাগজপত্র ছিল। কিন্তু ওর নিজের নামে কিছুই নেই। সেই হতাশাই ওকে শেষ করে দিল। এটা শুধু মৃত্যু নয়, আতঙ্কের একটা ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। সেই সঙ্গে তিনি বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন গতকাল সাত জন, আজ আট! বিজেপিকে জবাব দিতে হবে। এই মৃত্যু মিছিলের দায় তাঁদের।বিজেপির রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে তৃণমূলই। এখন আবার মৃতদেহের রাজনীতি করছে। কে কোথায় মরছে, সেটাই নজর রাখছে ওরা। এসআইআরএর আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বেগ আর সেই সঙ্গেই প্রশ্ন, এই আতঙ্ক থামবে কবে?

নভেম্বর ০৫, ২০২৫
রাজ্য

বাড়ি-বাড়ি ফর্ম, রাস্তায় আতঙ্ক—হাসপাতালে তৃণমূল কাউন্সিলর

এখন বাংলায় এসআইআর ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে ফর্ম বিলি, বাড়ি-বাড়ি যাবেন বিএলওরা। আর সেই গরম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী সাকির আলি। তৃণমূল বলছে, মানুষের আতঙ্ক সামলাতে গিয়েই অসুস্থ তিনি। বিজেপি-র ভাষায়এ সবই নাটক।রবিবার আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সাকির আলি। ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শয্যায় শুয়েই তিনি দাবি করেছেন, তাঁর ওয়ার্ডে একটি বড় বস্তি এলাকা আছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই সেখানে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দিনভর বহু মানুষ তাঁর কাছে ছুটে এসেছেনতাঁদের নাম বাদ যাবে না তো? কাগজপত্র ঠিক আছে তো? কী করতে হবে? কারও হাতে পাকা নথি নেই, কারও তথ্য মেলে না। সেই আতঙ্ক সামলাতে সামলাতেই ধকল যায় তাঁর, দাবি কাউন্সিলরের। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এমনটাই বলছে তৃণমূল শিবির।অন্যদিকে বিজেপি একেবারে পাল্টা সুরে। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য স্বপন পাল বলেন, পুরোটাই নাটক! তাঁর অভিযোগ, দেশের ১২টি রাজ্যে এসআইআর চলছে, কোথাও এমন কেউ অসুস্থ হচ্ছে না। কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের কাউন্সিলরই কেবল অসুস্থ হচ্ছেন! অভিযোগ আরও এগিয়ে গিয়ে বলেন, রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাকির আলির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই প্রচারের আলোয় আসতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।এদিকে এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক যে বাস্তব, তা স্পষ্ট রাজ্যের নানা প্রান্তে। ইতিমধ্যেই একাধিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আতঙ্ককে দায়ী করা হচ্ছে। হুগলির ডানকুনিতে রবিবার সন্ধ্যায় মারা গিয়েছেন ষাট বছর বয়সি হাসিনা বেগম। স্থানীয়দের দাবি, এসআইআর নিয়ে আতঙ্কেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। মানুষ এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, কী কী নথি লাগবে, কীভাবে নাম নথিভুক্ত হবে। তার মধ্যেই আতঙ্ক যেন ছায়ার মতো তাড়া করছে সাধারণ মানুষকে।রাজ্যজুড়ে প্রশ্ন একটাইএসআইআর কার্যকর করতে গিয়ে প্রশাসন কি ন্যায়সঙ্গতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে? নাকি আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে? মানুষের ঘরে ঘরে অস্থিরতা বাড়ছে, রাজনৈতিক পালটা-যুদ্ধ আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। আর এই সবকিছুর মধ্যেই হাসপাতালে শুয়ে আছেন সাকির আলিতাঁর দাবি, মানুষ বাঁচাতে গিয়ে তাঁর নিজের শরীরই হার মানল। বিজেপি বলছে, সবটাই সাজানো দৃশ্য। সত্যি কোনটা? উত্তর চাইছে রাজ্যবাসী।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
রাজ্য

'চা হাতে হাঁটছিলেন, হঠাৎ পড়ে গেলেন'—এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু কি সত্যিই? রহস্য বাড়ছে

এসআইআর নিয়ে রাজ্যে ফের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য। আগরপাড়া, ইলামবাজার ও পূর্ব বর্ধমানের পর এবার ডানকুনিএকই আতঙ্কের ছবি উঠে এল। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন, অর্থাৎ এসআইআরএর ভয়েই হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। যদিও বিজেপি পুরো অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে, বলেছেশাসকদলের রাজনৈতিক নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।মৃতের নাম হাসিনা বেগম, বয়স ৬০। হুগলির ডানকুনি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও বয়সের কারণে মেয়ের বাড়িতে থাকতেন, ডানকুনিরই ২০ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরেই এসআইআর নিয়ে প্রচণ্ড আতঙ্কে ছিলেন তিনি। তিন দিন আগে এলাকায় এ নিয়ে সচেতনতা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেও গিয়েছিলেন হাসিনা। কিন্তু বৈঠকের পরেও উদ্বেগ যেন কমেনি, বরং বাড়তেই থাকে।রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চা হাতে নিয়ে হাঁটছিলেন, এমন সময় মাঝরাস্তায় মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। আশপাশের লোকজন তাকে ধরে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তখনই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।সোমবার সকালে মৃতার বাড়িতে পৌঁছন ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম। তাঁর দাবি, হাসিনার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় না থাকায় ভয় আরও বাড়ে। সেই আতঙ্কই শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর কারণ। তিনি বলেন, মানুষের মনে ভয় ঢুকে যাচ্ছে। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু আর কত প্রাণ যাবে? পাশের বাড়ির এক মহিলাও নাকি একই আতঙ্কে হৃৎরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ, এমনটাই দাবি শবনমের।তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষও বলেন, চাপ নিতে না পেরে মৃত্যু। তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। বারবার অসুস্থ হচ্ছিলেন, শেষে হার্ট অ্যাটাক।অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি, এসব নিছক রাজনৈতিক চক্রান্ত। বিরোধী নেতা দেবাশীষ মুখোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর নিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। ২০০২ সালে মমতা নিজেই এ প্রকল্পকে সমর্থন করেছিলেন। এখন রাজনীতি করছেন।এসআইআর নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে। সরকারি তালিকা নিয়ে মানুষের ভয় বাড়ছে না কি রাজনৈতিক লাভের হিসেবএই প্রশ্ন এখন ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণের মধ্যেও।

নভেম্বর ০৩, ২০২৫
দেশ

Omicron : 'ওমিক্রন' সাধারণ সর্দি জ্বর ছাড়া কিছুই নয়! দাবি আমেরিকাবাসী ইজরায়েলি চিকিৎসকের

করোনা আবহের মধ্যেই সারা বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার নতুন রূপ ওমিক্রন (Omicron)। দক্ষিণ আফ্রিকা, আমেরিকা, ইউনাইটেড কিংডম সহ বিভিন্ন দেশ ঘুরে এবার আঘাত হেনেছে ভারতে। প্রতিদিন ভয়ঙ্কর ভাবে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ফলস্বরূপ ফের পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু রাজ্য আংশিক লকডাউনের পথে হেঁটেছে।ওমিক্রন নামক নতুন দৈত্যের আতঙ্কে যখন মানুষ সিঁটকে গেছে, ঠিক তখনই একফালি আশার আলো দেখালেন ইজরায়েলের চিকিৎসক, বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস হার্ট স্পেশালিস্ট মেডিকেল ডিরেক্টর আফশাইন এমরানি। তিনি এই করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তের পর থেকে করোনা মহামারী সম্পর্কে নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে সতর্কবাণী শুনিয়েছেন। তিনি ২৮ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার টুইট করে জানিয়েছেন যে, ওমিক্রন আক্ষরিকভাবে-ই এক ভ্যাকসিন যা কোনও ভ্যাকসিন কোম্পানি তৈরি করতে পারেনি। এই চিকিৎসকের দাবি, একবার ওমিক্রন-এ আক্রান্ত হলে সেই ব্যাক্তি-র দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা নেই। তিনি লিখেছেন যে, এই ভাইরাসের বিস্তারের সাথে সাথেই ৮ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে গোটা বিশ্বকে টিকা দেওয়া হয়ে যাবে। অক্সিজেন, আপাতকালীন ব্যাবস্থা, হাসপাতাল কোন কিছুরই প্রয়োজন পরবে না। সারা বিশ্বে গণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে। এতে ভয়ের কোনও কিছুই নেই, এটা আশীর্বাদ স্বরূপ। তিনি ওমিক্রন ভাইরাসটিকে একটি সাধারন সিজনাল কোল্ড ভাইরাস ছাড়া আর কিছুই নয় বলে দাবি করেছেন।আরও পড়ুনঃ রাতারাতি দিঘা ছাড়ার হুড়োহুড়ি পর্যটকদেরএমরানি-র মন্তব্যের সারমর্ম এই মুহুর্তে সারা বিশ্ব উপলব্ধি করতে পারছে। বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকায় ওমিক্রন দ্রুত ছড়াচ্ছে। তিনি টুইটে জানিয়েছেন এই ভাইরাসকে ৮০ শতাংশ জনসংখ্যাকে সংক্রামিত করা থেকে কোনভাবেই আটকানো যাবে না। মাস্ক, ভ্যাকসিন কোনও কিছুই এতে কাজে আসবে না। হ্যাঁ, অবশ্যই, যাদের টিকাকরণ হয়ে গেছে তাদের মৃত্যুর বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।Im getting requests to do TV, newspaper and radio interviews. I wont. But, for those interested, here are my basic thoughts:1- Omicron is nothing more than a seasonal cold virus. Now we have 5 coronaviruses that will be around. Afshine Emrani MD FACC (@afshineemrani) December 28, 2021আফসাইন এমরানি দাবি করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুই মিলিয়ন করে মানুষ আক্রান্ত হবে। তারপরে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে। তাঁর মন্তব্যের কিছু সময় পর থেকেই সারা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করছে কিভাবে ওমিক্রন সারা বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাঁর যুক্তির সাপেক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা-র বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা দেখলে বোঝা যাচ্ছে সেখানে কত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।আরও পড়ুনঃ রাজ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গেল ৬ হাজার, বাড়ছে উদ্বেগবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তার সাপ্তাহিক মহামারী সংক্রান্ত আপডেটে বলেছে যে, করোনার নতুন রূপ ওমিক্রন সামগ্রিক ঝুঁকি খুব বেশি। আবার, জাতিসংঘের (UN) স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে ইউনাইটেড কিংডম (UK), দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) এবং ডেনমার্কের (Denmark) প্রাথমিক তথ্য থেকে যা বোঝা যাচ্ছে তাতে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের তুলনায় ওমিক্রনের আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কম।

জানুয়ারি ০৩, ২০২২
রাজ্য

Covid: দুর্গাপুরে কোভিড আক্রান্ত তিন শিশু, বাড়ছে শ্বাসকষ্টজনিত জ্বর, আতঙ্ক শিল্পশহরে

দুদিন আগে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের শিশু বিভাগে ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। আতঙ্কে শিশুদের নিয়ে হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করে অভিভাবকরা। দূর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল কতৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও শোনেনি তাঁরা। এবার এই হাসপাতালে তিন শিশুর শরীরে করোনা সংক্রমণ হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।ইনজেকশন বিতর্কের মাঝেই দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে তিন শিশুর শরীরে কোভিডের নমুনা ধরা পড়ায় অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট জনিত জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এর ফলেই ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পশহর দুর্গাপুরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর জেলা স্বাস্থ্য দফতর।সূত্রের খবর, দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমস্ত শিশুরই কোভিড পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই শনিবার তিন শিশুর শরীরে কোভিডের নমুনা পাওয়া যায়। এই শিশুদের সঙ্গে সঙ্গেই কোডিড ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডেপুটি CMOH কেকা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, করোনার থার্ড ওয়েভ নিয়ে স্বাস্থ্য দফতর চিন্তিত। একই সঙ্গে শিশুদের অভিভাবকদের আরও সতর্ক ভাবে কোভিড বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২১
রাজ্য

ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি,আতঙ্ক চাকদহে

নদিয়া: ভর সন্ধেবেলায় জনবহুল এলাকায় চলল গুলি।দুটি দোকানে ভাঙচুরও চালানো হয়। ঘটনার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। হামলাকারী তৃণমূল সমর্থক বলে অভিযোগ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের। তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, ওই দুষ্কৃতী কোনওদিনই তাঁদের দলের সমর্থক নয়।অভিযোগ, বুধবার সন্ধেবেলা চাকদহ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যসরা এলাকায় হামলা চালায় তাপস বিশ্বাস ওরফে হুলু নামে এক সমাজবিরোধী। প্রথমে একটি চায়ের দোকানের সামনে পরপর দুরাউন্ড গুলি চালায়। এরপর ওই দোকানের থেকে কিছুটা দূরে আরও একটি চায়ের দোকানে ঢুকে হামলা চালায়। দোকানের সমস্ত জিনিস ভাঙচুর চালায়। দোকানদার ও উপস্থিত ক্রেতাদের মারধর করে। দোকানদারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আশেপাশের মানুষজন ছুটে এলে হুমকি দিতে দিতে এলাকা ছাড়ে। স্থানীয় দোকানদারদের অভিযোগ, তাপস বিশ্বাস নামে ওই বছর তিরিশের যুবক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দোকানের সামনে এসে হুমকির সুরে বলে, তোরা বিজেপির বড় নেতা হয়ে গিয়েছিস? এরপরই গুলি ছুড়তে শুরু করে। মোট চার রাউন্ড গুলি চালায়। চাকদহ শহর বিজেপির সভাপতি শ্যামল বিশ্বাসের অভিযোগ, হামলাকারী তৃণমূল সমর্থক। ওই দুষ্কৃতী আমাদের দুই কর্মীর দোকানে ভাঙচুর চালায়। চাকদহে থেকে বিজেপি করা যাবে না বলে হুমকি দেয়। বলে বিজেপি করতে গেলে এমনই অবস্থা হবে। আমরাও দলগতভাবে বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছি।যদিও চাকদহ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি সাধন বিশ্বাসের দাবি, যে ছেলেটি তাণ্ডব চালিয়েছে সে তৃণমূল কংগ্রেস করে না। তিনি বলেন, এর আগেও ওর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ও এলাকায় দুষ্কৃতী বলেই পরিচিত। বিরোধী রাজনৈতিক দল উল্টো কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ওই ছেলেটি আমাদের দলের কেউ নয়। ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি।

অক্টোবর ০১, ২০২০

ট্রেন্ডিং

বিদেশ

শেখ হাসিনাকে ঘিরে ফের জটিলতা! ভারতে আসছেন না তারেক রহমান? দিল্লির বার্তায় বাড়ছে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে থাকার পর সেই সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।গত ৫ অগস্ট নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনের পর পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে হাসিনা যে বার্তা দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে ঘিরে বর্তমান সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা সামনে এসেছে। আগামী মাসে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। তিনি বলেছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী মুখোমুখি বসে কথা বললেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ভারত ও বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লি?তবে তারেক রহমানের ভারত সফর এখনই বাতিল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। সম্মেলনের পাশাপাশি আলাদা করে বৈঠক হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরও নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের কোনও যোগ নেই। ফলে হাসিনাকে ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কদুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখছে দিল্লি বলে মনে করছেন কূটনীতিকদের একাংশ।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না। তিনি এলে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি বৈঠক হয় কি না, আর সেই বৈঠকে দীর্ঘদিনের জটিল সম্পর্কের কোনও বরফ গলে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে কূটনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

দু’মাস কোথায় ছিলেন? ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে মুখ খুললেন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত, জানালেন সব

দুমাস ধরে পুলিশের খোঁজের বাইরে ছিলেন তিনি। তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। পরপর দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার তদন্তকারীদের দফতর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জমি প্রতারণার মামলায় শনিবার সুমিতকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি। রবিবারও তাঁকে ফের ডাকা হয়। এদিন প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। ভবানী ভবন থেকে বেরোনোর পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুমিত। তবে মামলা বিচারাধীন থাকার কারণে বেশির ভাগ বিষয়েই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।গত দুমাস কোথায় ছিলেন, সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন করলে প্রথমে সুমিত বলেন, আমি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। পরে একই প্রশ্ন করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, এদিকে, আশপাশেই ছিলাম। তাঁর এই মন্তব্যের পর তিনি কলকাতাতেই ছিলেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।এত দিন আত্মগোপনে থাকার কারণ জানতে চাওয়া হলে সুমিত বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেমন নির্দেশ দিয়েছে, তা-ই তো মেনে চলছি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও মুখ খুলতে চাননি তিনি। সেবাশ্রয়-সহ একাধিক বিষয়ে তাঁর নাম জড়ানোর প্রসঙ্গ উঠলে বলেন, মন্তব্য করতে পারব না।তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে সুমিত বলেন, হতে পারে। তবে কারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ যখনই ডাকবে, তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।তাঁর বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে সুমিত বলেন, বাজে কথা। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি।এর আগে সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যেতে দেখা যায়। তৃণমূলের গাড়িতে করে সেখানে যাওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবে সুমিত বলেন, যে অফিসে কাজ করি, সেই অফিস থেকে গাড়িটা দিয়েছে।এদিকে সুমিত নিজেই জানিয়েছেন, তাঁকে আগামী দিনেও তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে হবে। চাকরি দুর্নীতি সংক্রান্ত ডেবরার মামলায় তাঁকে ফের ডাকা হয়েছে। তাঁর কথায়, কাল ১১টার সময় ডেকেছে। তবে এদিন কোনও নথি সঙ্গে আনতে বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।শালবনীর জমি প্রতারণা মামলা-সহ সুমিতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও লুকআউট নোটিসও জারি হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তদন্তে সহযোগিতা করতে শুরু করেন তিনি। পরপর দুদিন ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের পর সুমিতের দুমাস কোথায় ছিলেনএই প্রশ্নের উত্তর ঘিরেই এখন নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

‘লম্বা লড়াই, তবে তিলোত্তমাই জিতবে’, পানিহাটিতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক ঘোষণা, ফের তদন্তের নির্দেশ

অভিশপ্ত ৯ অগাস্টের দুবছর পূর্ণ হল। তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীতে রবিবার পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু-রহস্য আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জন্য নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।সভায় শুভেন্দু বলেন, লম্বা দুবছরের লড়াই। দীর্ঘ লড়াই। তবে আমি বলছি, নিশ্চিত ভাবে এই লড়াইয়ে তিলোত্তমা জিতবে। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনও জায়গা থাকবে না। ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিলোত্তমার দেহ তড়িঘড়ি সৎকারের পেছনে তৎকালীন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সূত্রে তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তৎকালীন বারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের তদন্ত প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু।২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার রুম থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করেছিল। তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই তিলোত্তমার পরিবার দাবি করে এসেছে, এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন করে তদন্তের ঘোষণাকে তাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তিলোত্তমার পরিবার। তাঁদের আশা, এত দিন যে প্রশ্নগুলির উত্তর মেলেনি, নতুন তদন্তে তার কিছুটা হলেও স্পষ্ট হবে।তিলোত্তমার মৃত্যুর দুবছরের স্মরণসভায় নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ করে বলেন, রাখিপূর্ণিমার দিন অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযানের সময় তিলোত্তমার মায়ের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ হয়েছিল। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতেও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।শুভেন্দুর কথায়, আমি ভুলি না। যা করণীয় কাজ করছি, আগামী দিনেও করব। এর শেষ আমাকে দেখতেই হবে। ফলে তিলোত্তমাকাণ্ডে নতুন করে শুরু হওয়া তদন্তে ঠিক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয় এবং পুরনো কোনও প্রশ্নের নতুন উত্তর মেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
রাজ্য

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা? ‘টার্গেট ছিল মমতাকে শেষ করা’, বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।মমতার সঙ্গে এদিন ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, হালিশহরে যাওয়ার সময় মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগানও। পরিস্থিতির জেরে কিছু সময় গাড়ি আটকে থাকে বলে তৃণমূলের দাবি।হালিশহর থেকে ফিরে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং গাড়ির সামনে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে জমায়েত করা হয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়।কল্যাণের আরও দাবি, মমতার গাড়িতে যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তাঁর দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।মমতার বক্তব্য, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের কাছে যাবেন এবং কোনও বাধাতেই পিছিয়ে আসবেন না।হালিশহর থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তিকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন মমতা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফর ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গাড়ি লক্ষ্য করে সত্যিই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
বিদেশ

হাসিনা ফেরার আগেই বাংলাদেশে বড় ‘পালাবদল’! বিএনপির সঙ্গে কি মিশছে আওয়ামী লিগ? সাংসদের মন্তব্যে তুঙ্গে জল্পনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি তৈরি হতে চলেছে নতুন সমীকরণ? দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং আওয়ামী লিগ কি এবার কাছাকাছি আসতে পারে? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার জল্পনার মধ্যেই এমনই এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা।চলতি বছরের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা, এমন খবর সামনে এসেছে। তার মধ্যেই আওয়ামী লিগকে নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন বিএনপির এক সাংসদ। সুনামগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার একটি সমাবেশে বলেন, আওয়ামী লিগ তাঁদের শত্রু নয়, বরং মিত্র। তাঁর দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই পক্ষ একসঙ্গে লড়াই করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আওয়ামী লিগ বিএনপির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তা হলে কি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা আওয়ামী লিগকে ফের রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার কোনও পরিকল্পনা রয়েছে? বিএনপির সঙ্গে কি সত্যিই তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা? আপাতত এই প্রশ্নগুলির কোনও নিশ্চিত উত্তর মেলেনি।কারণ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আওয়ামী লিগের সঙ্গে দল মিশে যাওয়ার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। তারেক রহমানও এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি। বরং শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে বিএনপি।২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ছাত্র-যুব আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন হয়। দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগ এবং তাদের ছাত্র সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।এর পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি এবং আওয়ামী লিগের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও জোরালো হয়েছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার অডিয়ো বার্তা প্রকাশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংসদের আওয়ামী লিগকে মিত্র বলা এবং দুই দলের এক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর এই মন্তব্যই দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হাসিনার দেশে ফেরার আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিই নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

১০ ঘণ্টার জেরা শেষে সুমিত সোজা অভিষেকের বাড়িতে, ভবানী ভবনে কী জানলেন গোয়েন্দারা?

ভবানী ভবনে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর সিআইডি দফতর থেকে বেরোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়। শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছেছিলেন তিনি। দীর্ঘ জেরার পর সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে। তবে জেরায় সুমিতের কাছ থেকে ঠিক কী তথ্য পাওয়া গেল, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জমি প্রতারণার মামলায় শুক্রবার রাতে সুমিতকে নোটিস পাঠায় সিআইডি। সেই নোটিসে সাড়া দিয়েই শনিবার ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। সুমিতের বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে তাঁর আইনজীবী আগে জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত মামলায় শীর্ষ আদালত থেকে সুরক্ষা পেয়েছেন তিনি। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তেই সেই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই সিআইডির জেরায় হাজির হন সুমিত।জমি প্রতারণার মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দুর্নীতির টাকা তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। যদিও এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগের কথা সামনে আসেনি। তবে সুমিত দীর্ঘ জেরার পর অভিষেকের বাড়িতে যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত মামলাতেও সুমিতের নাম অভিযুক্ত হিসেবে উঠে আসে।অভিযোগের তদন্তে সুমিতের খোঁজে এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। সেখানে দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালানো হলেও সুমিতের সন্ধান মেলেনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে তদন্তকারীদের তৎপরতা বাড়ে। পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল বলে জানা গিয়েছে।পরে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবী। সেই আইনি প্রক্রিয়ার পর শনিবার সিআইডির তলবে ভবানী ভবনে হাজির হন তিনি। প্রায় ১০ ঘণ্টার জেরা শেষে বেরিয়ে তাঁর গন্তব্য হয় অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি। এখন সিআইডির জেরায় কী তথ্য উঠে এল এবং তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

আগস্ট ০৮, ২০২৬
কলকাতা

ফের খুলছে আর জি করের ‘ফাইল’! অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এ বার পৃথক তদন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়েছে আর জি কর-কাণ্ডের তদন্ত। হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এর মধ্যেই পৃথক ভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। শনিবার স্বাস্থ্যদপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাতে ধর্ষণ ও খুনের আগে এবং পরে ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পাশাপাশি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ওই তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কাজ করা অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন তদন্তকারীরা। তদন্ত শেষে যে তথ্য উঠে আসবে, তা রাজ্য সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, নতুন করে তদন্তে হাসপাতালের প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি ছিল, সেই ঘাটতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কেন তা আগে থেকে দূর করা যায়নি, তা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগে থেমে থাকা তদন্তের বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আর জি কর-কাণ্ডে পৃথক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।আর জি কর-কাণ্ডের পর হাসপাতালের বিভিন্ন ত্রুটি এবং অনিয়ম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি ওই তরুণী চিকিৎসক হাসপাতালের কিছু অন্ধকার দিক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তবে এই দাবিগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। নতুন তদন্তে হাসপাতালের ত্রুটি বা অনিয়ম আড়াল করার কোনও চেষ্টা হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেই বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।এদিকে রবিবার রাজ্যজুড়ে পালিত হবে অভয়া দিবস। দুই বছর আগে ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার স্মরণে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।সকাল ১১টায় অভয়ার স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় ছোট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা।অভয়ার মা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথও নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। সেখানে বিকেলে উপস্থিত থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের।সিবিআইয়ের তদন্ত চলার মধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পৃথক তদন্তে নতুন করে কোন তথ্য সামনে আসে, আর জি কর-কাণ্ডের তদন্তে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর।

আগস্ট ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal