• ১৩ কার্তিক ১৪৩৩, সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Om

রাজ্য

এসআইআর শুনানির আগে বড় মোড়, মতুয়াদের ভোটাধিকার নিয়ে স্পষ্ট কমিশন

রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে এসআইআর-এর শুনানি। তার ঠিক আগের দিন মতুয়াদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে সিএএ সার্টিফিকেট গ্রাহ্য করা হবে। ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের দীর্ঘদিনের ধন্দ কাটল।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁদের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় নেই, তাঁরা নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন। পরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করা হবে। এই ক্ষেত্রেও সিএএ নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট লিঙ্ক ডকুমেন্ট হিসেবে দেখানো যাবে।এতদিন প্রশ্ন ছিল, মতুয়ারা কি নো ম্যাপিং ভোটারের আওতায় পড়বেন? আর পড়লে ২০০২ সালের কোন নথি তাঁরা দেখাবেন? কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু সিএএ নাগরিকত্বের সার্টিফিকেটে প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য থাকে, তাই ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে ওই সার্টিফিকেটই লিঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ অনলাইনে ফর্ম পূরণের সময় এবার থেকে এই সার্টিফিকেটও গ্রহণযোগ্য হবে।তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, নির্বাচন কমিশন বলছে সার্টিফিকেট গ্রাহ্য হবে, কিন্তু আধার কার্ডকে কেন মানা হচ্ছে না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।অন্যদিকে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০ হাজার মানুষ সিএএ-তে আবেদন করে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তাঁদের ভোটার তালিকায় নাম থাকবেই। তাঁর দাবি, বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীদের পাশে বিজেপিই রয়েছে।উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল, নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরেই ভোটাধিকার পাওয়া যাবে। শুধু আবেদন করলেই ভোটার তালিকায় নাম ওঠানো যাবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, আগে নাগরিক হতে হবে, তার পরেই ভোট দেওয়ার অধিকার মিলবে।এই নির্দেশের পর থেকেই মতুয়াদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। কারণ অনেকেই সিএএ-তে আবেদন করেছেন এবং তাঁদের মোবাইলে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট সংক্রান্ত মেসেজও এসেছে। কিন্তু সেই সার্টিফিকেট শুনানিতে আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। বিশেষ করে মতুয়াদের প্রায় ৯০ শতাংশই শুনানির নোটিস পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছিল।এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বাংলা সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মতুয়াদের উদ্দেশে বার্তা দেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক মতুয়া ও নমঃশূদ্র পরিবারের পাশে কেন্দ্রীয় সরকার রয়েছে। মর্যাদার সঙ্গে ভারতে থাকার অধিকার তাঁদের আছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁদের জন্য আরও কাজ করা হবে।এই সব কিছুর মধ্যেই শুনানির ঠিক আগে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে মতুয়াদের জন্য বড় স্বস্তি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, সিএএ সার্টিফিকেট তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করে আবেদন করবেন।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
কলকাতা

ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বড় পদক্ষেপ, সকাল ১১টা থেকে কলকাতায় শুনানি

রাত পোহালেই শুরু হতে চলেছে এসআইআর-এর দ্বিতীয় ধাপ। শনিবার সকাল ১১টা থেকে কলকাতায় শুরু হবে শুনানি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধাপে প্রায় ৩২ লক্ষ ভোটারকে ডাকা হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে মূলত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় নো ম্যাপিং হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের কাছেই নোটিস পাঠানো হয়েছে।শুনানির সময় ভোটারদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হবে। জমা দেওয়া নথি দেখে সন্তুষ্ট না হলে সেগুলি আরও ভালো করে খতিয়ে দেখবেন আধিকারিকরা। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় আটটি করে জায়গায় শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একাধিক স্কুল ও সরকারি অফিসে এই শুনানি হবে।শুনানির দায়িত্বে থাকবেন ইআরও এবং এইআরও পদমর্যাদার আধিকারিকরা। একটি ভেন্যুতে এক দিনে সর্বাধিক ১৫০ জন ভোটারের শুনানি নেওয়া হবে। কলকাতায় বেলতলা গার্লস স্কুল, আলিপুর মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুলে শুনানি হবে। এছাড়াও লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ, লরেটো ডে স্কুল, মর্ডান হাইস্কুল ফর গার্লস, মৌলনা আজাদ মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুল, ভবানিপুর গার্লস হাইস্কুল এবং হরিমোহন ঘোষ কলেজে শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও একইভাবে শুনানি চলবে। তবে কোনও পৌরসভা বা পঞ্চায়েত অফিসে শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়নি।শুনানিতে হাজির হওয়ার সময় ভোটাররা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার দেওয়া পরিচয়পত্রও গ্রহণযোগ্য। এছাড়া পেনশন পেমেন্ট কার্ড, ১৯৮৭ সালের আগে ইস্যু হওয়া পরিচয়পত্র বা শংসাপত্র, জন্মের সার্টিফিকেট, ভারতের পাসপোর্ট, মাধ্যমিক স্তরের সার্টিফিকেট, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাগত নথি, রাজ্যের দেওয়া স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র, জাতিগত শংসাপত্রও দেখানো যেতে পারে। যেখানে এনআরসি চালু হয়েছে, সেখানকার শংসাপত্রও গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি রাজ্য বা স্থানীয় প্রশাসনের তৈরি ফ্যামিলি রেজিস্টার, সরকারি জমির নথি বা বাড়ির দলিলও দেখানো যেতে পারে।নির্দিষ্ট দিনে কোনও ভোটার যদি শুনানিতে হাজির হতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে চিন্তার কারণ নেই। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, উপযুক্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য কারণ দেখাতে পারলে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে।

ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫
কলকাতা

বাংলাদেশে হিন্দু খুনের প্রতিবাদে উত্তাল কলকাতা, বাংলা হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ, ধুন্ধুমার

কলকাতার রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠল মঙ্গলবার। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এই ঘটনায় একাধিক বিক্ষোভকারী আহত এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন-সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দীপুচন্দ্র দাসকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নৃংশস ভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। তাঁকে মারধর করে পোস্টে বেঁধে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী বাংলাদেশ পুলিশ স্বীকার করে দীপু কোনওরকম সাম্প্রদায়িক কথা বলেনি। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকী বাংলাদেশ পুলিশ তাঁকে না রক্ষা করে হত্যাকারীদের হাতে তুলে দেয় বলে অভিযোগ।বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অত্য়াচারের প্রতিবাদেই এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকরা হাইকমিশনের সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন। প্রথমদিকে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বেগবাগান এলাকায় একাধিক পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।পুলিশ সূত্রে খবর, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের মূল গেটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বারবার মাইকে সতর্কবার্তা দিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ধস্তাধস্তি শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। লাঠিচার্জের পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। সাময়িকভাবে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা রক্ষা করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সেই কারণেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী সংগঠনগুলির বক্তব্য, তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানিয়ে তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫
বিদেশ

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে হামলার পরও অকুতোভয় কর্তৃপক্ষ, সন্ত্রাসের নিন্দার ঝড় বিশ্বের সর্বত্র

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল ঢাকায় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। দেশের দুটি প্রথম সারির সংবাদপত্রের দফতরে এই হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে সাংবাদিক মহল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে নিন্দার ঝড় বয়েছে অন্যত্র।ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে আসার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। পরবর্তীতে হিংসা ছড়িয়ে পরে নানা জায়গায়। নৃশংস ভাবে হিন্দু যুবক খুন থেকে সংস্কৃতি সংগঠনের ওপর হামাল। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত হামলা চলতে থাকে।প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকায় অবস্থিত প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে একদল দুষ্কৃতী হামলা চালায়। তারা অফিসে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। আগুন লাগিয়ে দেয় এই অফিসদুটিতে। যদিও এই ঘটনায় বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতির খবর নেই, তবে আচমকা হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য সংবাদকর্ম ব্যাহত হয়। সংবাদপত্র প্রকাশনা বন্ধ রাখতে হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইন পোর্টালেও আর খবর আপলোড করা যায়নি।হামলার ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সম্পাদকীয় মহল একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি, আর সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা গভীর উদ্বেগজনক। এই দুই সংবাদপত্র গোষ্ঠীও জানিয়ে দেয় তারা ভয় পায় না। খবর প্রকাশ করতে কোনও পরোয় তারা করবে না। এমনকী দফতরের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে।ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের তরফে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।এই ঘটনার পর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হুমকি বা হামলার মাধ্যমে সত্য প্রকাশ থামানো যাবে না। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসনের কাছে।আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলার ঘটনা শুধু দুটি সংবাদপত্রের ওপর আঘাত নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল। এখন দেখার, প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

ডিসেম্বর ২১, ২০২৫
বিদেশ

আইএমএফের চাপে লাগামছাড়া জিএসটি! পাকিস্তানে জনবিস্ফোরণের আশঙ্কা

কন্ডোমের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি নিয়ে চরম উদ্বেগে পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর নির্দেশে এই কর বসানো হয়েছে। এর ফলে কন্ডোমের দাম এতটাই বেড়েছে যে তা এখন নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আইএমএফ-এর কাছে কর কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আইএমএফ। এই সিদ্ধান্তে দেশে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের আশঙ্কা করছে পাক সরকার।আইএমএফ-এর ঋণের উপরই কার্যত নির্ভরশীল পাকিস্তানের অর্থনীতি। দেশের আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে চলতি বছরে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছে ইসলামাবাদ। সেই ঋণের শর্ত হিসেবেই কর আদায় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে আইএমএফ। তার জেরেই কন্ডোম, স্যানিটারি ন্যাপকিন ও শিশুদের ডাইপারের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি বসানো হয়েছে।পাকিস্তান সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কথা ভেবে অন্তত কন্ডোমের উপর থেকে কর কমানো হোক। কিন্তু আইএমএফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের মাঝপথে কর কাঠামোয় কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে। আইএমএফের যুক্তি, কন্ডোমের উপর থেকে কর তুলে নিলে সরকারের কয়েকশো কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে, যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়।এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগে রয়েছে শাহবাজ শরিফের সরকার। পাকিস্তানে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় ২.৫৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষ বাড়ছে। সরকার মনে করছে, কন্ডোমের দাম বেড়ে যাওয়ায় বহু মানুষ তা ব্যবহার করতে পারছেন না। এর ফলে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের উপর আরও চাপ ফেলবে।পাক সরকারের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। কিন্তু আইএমএফ-এর কড়া অবস্থানের সামনে আপাতত অসহায় ইসলামাবাদ। এখন পরের বাজেটের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া শাহবাজ সরকারের হাতে আর কোনও পথ খোলা নেই।

ডিসেম্বর ২০, ২০২৫
কলকাতা

রোহিঙ্গা ভোটার নিয়ে বিজেপির দাবি ভুয়ো? কমিশনের নাম করে পাল্টা অভিষেক

অনুপ্রবেশকারী ভোটার ইস্যুতে ফের বিজেপিকে কড়া আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বিজেপির তোলা অভিযোগ নির্বাচন কমিশন নিজেই খারিজ করে দিয়েছে। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, ভোটার তালিকার সামারি রিভিশন বা এসএসআর প্রক্রিয়ায় সাধারণত দেড় থেকে দুই শতাংশ মৃত ভোটারের নাম বাদ যায়, এটা নতুন কিছু নয়।অভিষেকের বক্তব্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন পর্ব শেষ হওয়ার পরে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। তখনই স্পষ্ট হবে কার নাম থাকছে আর কার নাম বাদ যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি যে এক কোটি বা দেড় কোটি রোহিঙ্গা ভোটারের গল্প ছড়াচ্ছে, তা নির্বাচন কমিশনই নাকচ করে দিয়েছে।তিনি আরও বলেন, যদি সত্যিই কোথাও অনুপ্রবেশকারী বা রোহিঙ্গা ভোটার থাকে, বিজেপি সেই তালিকা প্রকাশ করুক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব যাঁর হাতে, সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তাঁর অধীনে থাকা বিএসএফ ও সিআরপিএফ তখন কী করছিল? সীমান্তে নজরদারি যদি ঠিকমতো হয়, তা হলে এত অনুপ্রবেশ ঘটছে কীভাবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই সরব। বিজেপির দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় এমন ছবি সামনে এসেছে, যেখানে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে বাক্স-প্যাটরা নিয়ে সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তাঁরা বিএসএফ-এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।এই আবহেই এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সেই তালিকা থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
বিদেশ

গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতেই গ্রেফতার! ৩০ বছর ধরে আমেরিকায় থাকা ভারতীয় মহিলাকে আইসিই-র ধাক্কা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতির আবহে দুঃস্বপ্নের মধ্যে পড়েছে আমেরিকার লং বিচ শহরের পরিচিত কৌর পরিবার। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাস করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাব্বলজিৎ বাবলি কৌরকে হঠাৎ গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউয়ের শেষ ধাপে গ্রেফতার করল আইসিই। ৬০ বছরের বাবলি কৌরকে ১ ডিসেম্বর বায়োমেট্রিক স্ক্যানের সময় আটক করা হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট।পরিবারের দাবি, গ্রিন কার্ডের আবেদন আগেই অনুমোদিত হয়েছিল। বাবলির মার্কিন নাগরিক মেয়ে ও জামাইয়ের স্পনসরশিপেই সেই আবেদন জমা পড়েছিল। অথচ কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই অফিসে ঢুকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বাবলির মেয়ে জোতির কথায়, গ্রেফতারের পর তাঁর মাকে হাত-পা শিকল পরিয়ে পুরুষদের ভরা একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেই অভিজ্ঞতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। পরিবার আশঙ্কায় ছিল, কারণ এমন অনেক ঘটনার কথা তারা শুনেছে যেখানে মানুষ হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়।১৯৯৪ সালে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে আমেরিকায় আসেন বাবলি কৌর। প্রথমে ল্যাগুনা বিচে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। প্রায় দুই দশক ধরে লং বিচে নটরাজ কুইজিন অফ ইন্ডিয়া অ্যান্ড নেপাল নামে একটি জনপ্রিয় রেস্তরাঁ চালাতেন বাবলি ও তাঁর স্বামী। কোভিডের সময় সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি রয়্যাল ইন্ডিয়ান কারি হাউসে কাজ করছিলেন। স্থানীয় সমাজে যথেষ্ট পরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন কৌর পরিবার।বাবলির মেয়ে জানান, গ্রিন কার্ডের শেষ ধাপের অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন থেকেই তাঁর মায়ের মনটা অশান্ত ছিল। অফিসে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। কয়েক জন ফেডারেল এজেন্ট ভিতরে ঢুকে একটি ঘরে যান। তারপর বাবলিকেও সেই ঘরে ডাকা হয়। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরিবারের দাবি, বাবলির কোনও অপরাধমূলক ইতিহাস নেই।গ্রেফতারের পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা পরিবার জানতেই পারেনি বাবলিকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। সেখানে ২০ জনের বেশি বন্দির সঙ্গে একটি ঘরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। পরিবার জানাচ্ছে, রাতে আলো নিভে না, চারপাশে সব সময় চিৎকার ও কান্নার শব্দ। ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না বাবলি কৌর।এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লং বিচের কংগ্রেসম্যান রবার্ট গার্সিয়া। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অফিস বাবলিকে মুক্ত করতে সব রকম চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, কঠোর অভিবাসন নীতির নামে পরিশ্রমী ও সৎ মানুষদের এভাবে আতঙ্কিত করা মানবিকতার সম্পূর্ণ বিরোধী।এদিকে বাবলি কৌরের গ্রেফতারের কারণ এখনও স্পষ্ট করেনি মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর। প্রশ্ন উঠছে, গ্রিন কার্ড প্রায় হাতে পৌঁছে যাওয়ার মুহূর্তে কেন এই পদক্ষেপ, তার উত্তর এখনও অধরা।

ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা

কলকাতা প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে নতুন কমিটি গঠন, ফের জয়ী সভাপতি, সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ

শনিবার অনুষ্ঠিত কলকাতা প্রেস ক্লাবের বার্ষিক নির্বাচন হয়। একই দিনে ভোট গণনার পর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন স্নেহাশিষ শূর। সম্পাদক পদে ফের জয়ী হয়েছেন কিংশুক প্রামানিক। কয়েক বছর পর সভাপতি ও সম্পাদক পদে সরাসরি লড়াই হল। যদিও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন সভাপতি ও সম্পাদক। বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন অরিজিৎ দত্ত। এদিন সদস্য-সদস্যাদের উপস্থিতির হার ছিল বেশ নজরকাড়া। এই নির্বাচনে সম্পাদক পদে ফের জয়ী হয়েছেন কিংশুক প্রামানিক। নির্বাচনে তিনি সর্বোচ্চ ৩৮৪ ভোট পেয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন, অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মুস্তাক খান পেয়েছেন ৮৬ ভোট। পূর্বের সভাপতি স্নেহাশিস শূর আবারও সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৩২৬ ভোট নিয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফিরেছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সুদীপ্ত সেনগুপ্ত পেয়েছেন ১৭৬ ভোট।সহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন শৈবাল বিশ্বাস (২৫৮ ভোট) এবং শুভদ্যুতি দত্ত (২১৬ ভোট)। সহ সম্পাদক পদে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নিতাই মালাকার আগেই নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অরিজিৎ দত্ত ফের নির্বাচিত হয়েছেন কোষাধ্যক্ষ পদে। অরিজিৎ দত্ত পেয়েছেন ৩৮০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী মৃণালকান্তি সরকার পেয়েছেন ১০১ ভোট।কার্যকরী সমিতির জন্য নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:অংশু চক্রবর্তী ৩৩৫ ভোটঅনিন্দিতা সিনহা ৩২৪ ভোটসুগত বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১০ ভোটদেবাশিস সেনগুপ্ত ৩০৯ ভোটসুমন গঙ্গোপাধ্যায় ৩০৭ ভোটপুলক মিত্র ২৭৭ ভোটসত্যব্রত ভট্টাচার্য ২৪৯ ভোটদেবযানী লাহা ঘোষ ২৪৭ ভোটনতুন কার্যনির্বাহী কমিটি:সভাপতি: স্নেহাশিস শূরসহ সভাপতি: শৈবাল বিশ্বাস ও শুভদ্যুতি দত্তসম্পাদক: কিংশুক প্রামাণিকসহ সম্পাদক: নিতাই মালাকারকোষাধ্যক্ষ: অরিজিৎ দত্তকার্যকরী সদস্যরা:অনিন্দিতা সিনহা, অংশু চক্রবর্তী, দেবাশিস সেনগুপ্ত, দেবযানী লাহা ঘোষ, পুলক মিত্র, সত্যব্রত ভট্টাচার্য, সুগত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুমন গঙ্গোপাধ্যায়।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫
কলকাতা

মেসি কাণ্ডে ১০০ কোটির ঘাপলা? সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেই সামনে এল বড় অভিযোগ। প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনও মাথা জড়িত রয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত হওয়া দরকার।অর্জুন সিং বলেন, মাঠে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ স্পষ্ট ছিল। অনেকেই বলছিলেন, তাঁরা মেসিকে দেখতে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, স্টেডিয়াম হয়তো প্রতীকী মূল্যে বুক করা হয়ে থাকতে পারে, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্য জায়গায়। সাধারণ মানুষের আপত্তি ছিল জলের বোতলের দাম নিয়ে। ১০ টাকার জলের বোতল ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, মেসিকে কার্যত চুরি করে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, গোটা ঘটনায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে।অর্জুন সিং আরও বলেন, সাধারণ মানুষ বলছেন, যাঁদের মাঠে দেখা গিয়েছে, তাঁদের দেখানোর নাম করে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। এই টাকার বড় অংশ আত্মসাৎ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, কী চুক্তি হয়েছিল, কোথায় ক্ষতি হয়েছে, সব কিছু সামনে আনা দরকার। এই কারণে দ্রুত ইডি তদন্ত হওয়া উচিত বলেও দাবি জানান তিনি।এ প্রসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্জুন সিং। তাঁর প্রশ্ন, কেন ডিজি-কে হঠাৎ প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে উঠে যেতে হল। তাঁর কথায়, ডিজি আবেগের বশে কিছু কথা বলে ফেলেছিলেন। তারপর দুমিনিটের মধ্যেই তাঁকে প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে চলে যেতে হয়।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মেসিকে দেখার জন্য কেউ চার হাজার, কেউ আট হাজার, আবার কেউ ১০ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলার কারণে মেসির এক ঝলকও দেখতে পাননি তাঁরা। ক্ষুব্ধ দর্শকরা পুলিশ এবং উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। স্টেডিয়ামের ভেতরে পরিস্থিতি রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। চলে ব্যাপক ভাঙচুর। সরকারি সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার জানান, যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫
রাজ্য

ফলতায় মহিলাদের ক্ষোভের মুখে নির্বাচন পর্যবেক্ষক! ছাতা হাতে ধাওয়া, স্লোগানে উত্তেজনা

ফলতায় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সি মুরুগান বৃহস্পতিবার মহিলাদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বৃদ্ধ ভোটারদের তালিকা যাচাই করতে তিনি দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পায়রাচালি এলাকায় যান। ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর বুথের ভোটাররা ঠিক আছেন কিনা, তাঁরা জীবিত কিনাসেটা খতিয়ে দেখতে তিনি বাড়ি বাড়ি যাচ্ছিলেন।ঠিক সেই সময় এলাকার তৃণমূল-সমর্থিত মহিলাদের একদল হঠাৎ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কেউ ছাতা হাতে তেড়ে যান, কেউ আঙুল তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। অভিযোগ করতে থাকেনকেন গ্রামে রাস্তা হয়নি, কেন ঘর পাচ্ছেন না, কেন ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ। এসব উন্নয়নমূলক অভিযোগই তাঁরা পর্যবেক্ষকের সামনে তুলতে থাকেন।মুরুগান পরে জানান, এই ধরনের অভিযোগের সঙ্গে এসআইআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই। এসআইআর হল ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া, উন্নয়ন বা সরকারি প্রকল্পের কাজ নয়এই বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন। তবুও বিক্ষোভ থামেনি।ঘটনায় অসন্তুষ্ট মুরুগান জানান, তিনি পুরো ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট আজই জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। তাঁর কথায়, আপত্তি থাকলেও এসআইআর-এর কাজ নিয়মমতো চলবে। বিক্ষোভের জেরে এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হয়, তারপর পর্যবেক্ষক সেখান থেকে ফিরে আসেন।

ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
বিদেশ

"আঁখ মারে...," মহিলা সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পাকিস্তান সেনার জেনারেলের অসভ্য আচরণে সোশাল মিডিয়ায় তোলপাড়

পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের ডিরেক্টর জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীর একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক সংবাদিক আবসা কোমালের প্রশ্নের জবাবে তিনি হেসে তাকে আঙুল দিয়ে চোখের দিকে চোখ মারেন।সংবাদিক তার কাছে প্রশ্ন করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে তার করা অভিযোগ সম্পর্কে, যেখানে তিনি খানেরকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, রাষ্ট্রবিরোধী এবং দিল্লির হাত ধরে কাজ করছে হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী বলেন, আরও একটি পয়েন্ট যোগ করি, তিনি মানসিক রোগী। এরপর তিনি হাসি দিয়ে সাংবাদিকের দিকে চোখের ইশারা করেন।ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর সোশাল মিডিয়ায় সরাসরি ক্ষোভ দেখা দেয়। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, তিনি কোনো পেশাদার সেনা নন। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এটা দেখাচ্ছে তাদের সেনাবাহিনী কতটা অসংগঠিত। কেউ কীভাবে ইউনিফর্ম পরে এভাবে চোখের ইশারা করতে পারে?চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রায়শই ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত হয়ে থাকেন। মে মাসে দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে ছোট সামরিক সংঘর্ষের সময়ও তিনি সুপরিচিত হয়েছিলেন।

ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
কলকাতা

মৃত-ভুয়ো ভোটারের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য, এবার কঠোর নির্বাচন কমিশন

কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু বিএলও। আবার অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বেশ কিছু বিএলও পক্ষপাতিত্ব করছেন এবং অনেক জায়গায় মৃত, ভুয়ো ও অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের নাম ইচ্ছে করে রাখা হচ্ছে। এসব বিতর্কের মাঝেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিএলওদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাল।কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে সব অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে, সেগুলি ঠিক করার জন্য বিএলওদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে ভুল শুধরে ফেললে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কোনও ভুল ধরা পড়লে তা গাফিলতি বা ইচ্ছাকৃত বলে গণ্য হবে এবং কমিশন ব্যবস্থা নেবে।এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার সময়সীমাও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে কমিশন। আগের নির্ধারিত ৪ ডিসেম্বরের বদলে এখন ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম বিলি ও সংগ্রহ করা যাবে। এই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যেই সব ভুল সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ওই সময়সীমার মধ্যে ভুল সংশোধন করলে তা অনিচ্ছাকৃত হিসেবে ধরা হবে। কিন্তু এরপর ভুল পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সিইও দফতরের মাধ্যমেই এই বার্তা পাঠানো হয়েছে সব বিএলওদের কাছে।জানা গিয়েছে, রাজ্যের নানা এলাকায় রোল অবজার্ভাররা ইতিমধ্যেই একাধিক বিএলওকে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বহু জায়গায় কোনও সংশোধন হয়নি। তার পরই কমিশন চূড়ান্ত বার্তা দিলভুল এখনই শুধরে নাও, নইলে ১১ ডিসেম্বরের পর আর ছাড় দেওয়া হবে না। এখন নজর থাকবে, বিএলওরা এই সুযোগের মধ্যে কতটা দ্রুত ভুল সংশোধন করেন, আর সময়সীমার পর কোনও ভুল বেরোলেই কমিশন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।

ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫
রাজ্য

৫১৭ ভোটার, একজনও মৃত নয়! ঘাটালের রহস্যময় বুথ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

রাজ্যের বেশ কয়েকটি বুথকে বিশেষ নজরে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কারণ, ওই সব বুথে মৃত ভোটার নেই বললেই চলে, এমনকী বহু ভোটার ঠিকানাও বদল করেননি। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, তবে অন্যান্য জেলাতেও একই ছবি মিলেছে। তার মধ্যেই সবচেয়ে নজর কেড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমার চন্দ্রকোনা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথ।এই ১৪৮ নম্বর বুথে মোট ভোটার ৫১৭ জন। ডিজিটাইজড এনুমারেশন ফর্ম রয়েছে ৫১৩ জনের। মাত্র ৪ জন স্থায়ী ভাবে ঠিকানা বদল করেছেন। কিন্তু আশ্চর্য বিষয় হল, চন্দ্রকোনা পৌরসভার বাকি ২০টি বুথে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪৯ হলেও এই এক বুথে একজন মৃত ভোটারও নেই। কমিশনের প্রতিদিনের রিপোর্টে এই তথ্য উঠে আসতেই প্রশাসনের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।এই বুথের বিএলও বিকাশ লাহা জানিয়েছেন, তাঁর বুথের ভোটার তালিকা যে কোনও সময়ে যাচাই করা যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, ২০১২ সাল থেকে তিনি নিয়ম মেনে কাজ করছেন। কেউ মারা গেলে ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই তিনি খোঁজ নিয়ে নাম বাদ দিতেন। এসআইআর শুরুর আগেই তিনি দুজন মৃত ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন বলেও জানান। তাঁর কথায়, পৌরসভার দেওয়া মৃত্যুর তালিকা আর ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখলেই সব পরিষ্কার হবে, তাই এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।তবে এর মধ্যেই সামনে এসেছে এক নতুন তথ্য। গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা উত্তম হাতি দেড় বছর আগে মারা গিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী বন্দনা হাতি জানিয়েছেন, এসআইআর শুরু হওয়ার আগেই বিএলও এসে তাঁর স্বামীর তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কীভাবে মৃত ভোটার শূন্যের তালিকায় এই বুথ রইল, তা নিয়ে প্রশাসনেও ধোঁয়াশা কাটছে না।

ডিসেম্বর ০৭, ২০২৫
রাজ্য

ভোটার তালিকায় মৃত্যু রহস্য! ৩ দিনে ২২০৮ থেকে নেমে এল মাত্র ২৯

প্রথমে সামনে এসেছিল ২২০৮টি এমন বুথের নাম, যেখানে ২০০২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একজন ভোটারেরও মৃত্যু হয়নি বলে দেখানো হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসতেই জোর শোরগোল শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, এত বছরে কি সত্যিই ওই সব বুথে একজনও মারা যাননি? এরপর বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট চায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলার আধিকারিকরা। তারপর থেকেই অস্বাভাবিক গতিতে নামতে শুরু করে এই ধরনের বুথের সংখ্যা।সোমবার যেখানে এমন বুথের সংখ্যা ছিল ২২০৮, মঙ্গলবার তা নেমে আসে ৪৮০-এ। আর বুধবার সেই সংখ্যাই আরও কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৯-এ। প্রথম দিনের হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এমন বুথের সংখ্যা ছিল ৭৬০। বুধবার সেই সংখ্যা নেমে আসে ২০-এ। নতুন তথ্য অনুযায়ী, জলপাইগুড়িতে রয়েছে ১টি, মালদহে ৪টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২০টি, হাওড়ায় ১টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১টি ও পুরুলিয়ায় ২টি এমন বুথ, যেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত ভোটারের নাম নেই।জেলাশাসকদের রিপোর্ট বলছে, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই সংখ্যাও শূন্যে নেমে যেতে পারে। এই দ্রুত বদলে যাওয়া তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বিরোধীদের বক্তব্য, যদি অবজারভার না আসতেন এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে তথ্য সংশোধনের নির্দেশ না দেওয়া হত, তাহলে কি এই ভুলগুলো ধরা পড়ত? এই পরিবর্তনের গতি ও ধরন নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।এদিকে বুধবার পর্যন্ত কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ লক্ষ ফর্ম জমা পড়েনি। মঙ্গলবার এই সংখ্যাটা ছিল ৪২ লক্ষ। ডিজিটাইজেশনের হার ইতিমধ্যেই ৯৮ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২২ লক্ষ, ঠিকানা বদল করা ভোটার ১৭.৫ লক্ষ, নিখোঁজ ভোটার ৪ লক্ষ এবং ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা ১.২ লক্ষ বলে জানানো হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে এই বিপুল পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫
কলকাতা

ভুয়ো নাম ঢোকানোর অভিযোগের পরই কি কমিশনের ইউ-টার্ন? বদলে গেল পুরো সিস্টেম

৯৯ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম জমা পড়ে গিয়েছে। তবুও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠে চলেছে। এক দিকে সোমবার বিএলও-দের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। অন্য দিকে বিজেপি ও বিরোধীদের অভিযোগ, ব্লক লেভেল অফিসারদের উপর চাপ দিয়ে ভুয়ো নাম ঢোকানোর চেষ্টা চলছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার থেকেই বিএলও অ্যাপে আনা হল বড় বদল।এখন পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করার পর বিএলও-রা সেই তথ্য অ্যাপে এন্ট্রি করতেন। কিন্তু একবার এন্ট্রি হয়ে গেলে আর সংশোধনের কোনও সুযোগ ছিল না। মঙ্গলবার থেকে সেই নিয়ম বদলে যাচ্ছে। এবার অ্যাপে যুক্ত করা হল এডিট অপশন। অর্থাৎ কোনও ভুল হলে এবার বিএলও-রা নিজেরা সংশোধন করতে পারবেন, পাশাপাশি ইআরও-রাও সেই তথ্য এডিট করতে পারবেন।সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের আসার পরেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগের চাপেই কি এই বদল? সেই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ বিরোধীদের দাবি ছিল, জোর করে ভুয়ো নাম এন্ট্রি করানো হচ্ছে বিএলও-দের দিয়ে।সোমবার রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজে সিইও দফতরে গিয়ে এই অভিযোগ জানান। তিনি বলেন, বিএলও-দের থেকে ওটিপি নিয়ে আইপ্যাক-এর লোকেরা বেআইনিভাবে নাম ঢোকাচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বেই বিজেপির প্রতিনিধিরা সেদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ডেপুটেশন দেন।এই অভিযোগের পরই নির্বাচন কমিশন বিএলও অ্যাপে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন ব্যবস্থায় ভুল ধরার পাশাপাশি সংশোধনের সুযোগ থাকায় এবার নাম এন্ট্রি নিয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
কলকাতা

ভোটার তালিকা নিয়ে আজ কমিশনের দরবার, সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন ঘিরে বাংলায় যখন একের পর এক অভিযোগ উঠছে, সেই অবস্থায় সরাসরি মানুষের কথা শোনার জন্য দরবার বসাল নির্বাচন কমিশন। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এই বিশেষ শুনানি চলছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের দোতলায় বসে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ শুনছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।সম্প্রতি বাংলার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৯৯০ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্তকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে বাংলার এসআইআর-এর দায়িত্ব দেন। রবিবার থেকেই পুরো দমে কাজে নেমে পড়েছেন এই পর্যবেক্ষক।কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে কোনও অভিযোগ, অনুযোগ বা সমস্যা সরাসরি এসে জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। শাসক দল থেকে বিরোধী দলসবারই নানা অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ রয়েছে। সেই সব কথাই সরাসরি শোনা হচ্ছে এই দরবারে।শুধু কলকাতায় বসে কাজ নয়, সোমবার থেকেই জেলায় জেলায় নেমে পড়েছে কমিশনের বিশেষ দল। মোট ১৩ জন পর্যবেক্ষক একসঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুব্রত গুপ্ত। ইতিমধ্যেই তিনি ফলতা এলাকা ঘুরে এসেছেন। বাকি ১২ জন পর্যবেক্ষকও নিজেদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলাগুলিতে গিয়ে একেবারে তৃণমূল স্তরে ভোটার তালিকার কাজ খতিয়ে দেখবেন। কোথাও ভুল বা অনিয়ম হলে তা সরাসরি কমিশনকে জানানো হবে বলেই সূত্রের খবর।ভোটার তালিকার এই বিশেষ পরিমার্জন ঘিরে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সেই আবহেই কমিশনের এই সক্রিয় ভূমিকা নতুন করে কৌতূহল বাড়িয়েছে।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
দেশ

লক্ষদ্বীপ প্রথম, উত্তর প্রদেশ একেবারে শেষে! ভোটার তালিকায় বড় ফাঁকফোকরের ইঙ্গিত

দেশের ৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জনের কাজ। প্রথম দফায় পরীক্ষামূলক ভাবে এই কাজ শুধু বিহারেই শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় তা একসঙ্গে একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হয়েছে। এই কাজ ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। কোথাও আতঙ্ক, কোথাও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। কোনও কোনও রাজ্যে আত্মঘাতী হয়েছেন বিএলও-ও। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিজের গতিতে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। সোমবার সেই কাজের বর্তমান অবস্থা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত লক্ষদ্বীপে ১০০ শতাংশ ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে এখন শুধুই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের অপেক্ষা। লক্ষদ্বীপে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৭ হাজারের একটু বেশি। সেখানে কাজ করেছেন ৫৫ জন বিএলও।লক্ষদ্বীপের পরেই রয়েছে গোয়া। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৯২ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে। গোয়ায় মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লক্ষ ৮৫ হাজার। কাজ করেছেন ১ হাজার ৭২৫ জন বিএলও। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজস্থান। সেখানে ৮৯ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে। রাজস্থানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ কোটি ৪৬ লক্ষেরও বেশি। কাজ করেছেন ৫২ হাজার ২২২ জন বিএলও।এর পরেই চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলা। বাংলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোটার তালিকার ফর্ম ডিজিটাইজড হয়েছে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। সেখানে ৮৬ শতাংশ কাজ হয়েছে। রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ। কাজ করেছেন ৬৫ হাজার ১৪ জন বিএলও।ষষ্ঠ স্থানে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি। সেখানে ৮৩ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে। মোট ভোটার ১০ লক্ষ ২১ হাজার। কাজ করছেন ৯৬২ জন বিএলও। সপ্তম স্থানে রয়েছে গুজরাট। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৮১ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে। সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ কোটি ৮ লক্ষেরও বেশি। কাজ করছেন প্রায় ৫০ হাজার বিএলও।অষ্টম স্থানে রয়েছে ছত্তিশগড়। সেখানে ৭৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরেই রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর। সেখানে ৭৬ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে। দশম স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে ৭৫ শতাংশ কাজ হয়েছে।এই তালিকার একেবারে নীচে রয়েছে কেরল ও উত্তর প্রদেশ। কেরলে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬৪ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ হয়েছে। আর উত্তর প্রদেশে সবচেয়ে কম, প্রায় ৫৫ শতাংশ কাজই শেষ হয়েছে। কমিশনের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

ডিসেম্বর ০১, ২০২৫
দেশ

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কমিশনের কঠোর বার্তা, চাপ বাড়ছে শাসক দলের অভ্যন্তরে

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি সরগরম। একদিকে, একাধিক ব্লক লেভেল অফিসারের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে রাজ্য অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূলের শাসক দল শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পথে নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে হাজির হয় তৃণমূলের ১০ প্রতিনিধি। সূত্রের খবর, কমিশন প্রতিনিধি দলকে আইন ও প্রক্রিয়ার সব দিক পরিষ্কার করে বোঝায়।কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক বক্তব্য থাকতে পারে, তবে এসআইআর নিয়ে ভুল প্রচার বা বিএলওদের হুমকির কোনো সুযোগ নেই। কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ভারতীয় ভোটাররা ভোট দেবে, অনুপ্রবেশকারীরা নয়। নির্বাচনের সব কাজ নির্বাচনী আইন মেনে হবে।কমিশনের বার্তার পর তৃণমূল অভিযোগ করেছে, আদতে বিএলওদের হুমকি দিচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, এটা কি শুধু পশ্চিমবঙ্গের জন্য বলছে? গুজরাটেও বিএলও আত্মহত্যা করেছে। শুভেন্দু অধিকারী তো বিএলওদের জেলে ঢোকানোর হুমকি দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কমিশন কেন কোনো পদক্ষেপ নিল না?অন্যদিকে, বিজেপি জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে ৮৫ শতাংশ ফর্ম ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজড করা হয়েছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ফুল বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় তৃণমূলকে বলেছে নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা করতে। এবার তৃণমূলকেও লাইনে আসতে হবে।এসআইআর প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানের জন্য রাজ্যে আসছেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তিনি জেলায় জেলায় গিয়ে প্রক্রিয়ার কাজ খতিয়ে দেখবেন। সঙ্গে থাকবেন মোট ১২ জন অভিজ্ঞ আইএএস অফিসার। প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে তারা রিপোর্ট পাঠাবেন বিশেষ পর্যবেক্ষককে।

নভেম্বর ২৯, ২০২৫
দেশ

‘ভুয়ো ভোটারে সরকার বৈধ?’ কমিশনের সামনে বিস্ফোরক প্রশ্ন তৃণমূলের

একুশ জুলাই শহিদ মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারিই দিয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা SIR ঘিরে সমস্যা তৈরি হলে বাংলা ছেড়ে দিল্লি যেতে এক মুহূর্তও দেরি হবে না। কয়েক মাসের ব্যবধান। বাংলায় SIR শুরু হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই সেই হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিল। শুক্রবার সকালে দিল্লির বুকে নির্বাচন কমিশনের দরজায় হাজির হয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল।দলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-এর নেতৃত্বে মোট ১০ জন সাংসদ কমিশনের দফতরে যান। উল্লেখযোগ্যভাবে, সোমবার ভার্চুয়াল বৈঠক থেকেই এই প্রতিনিধি দল গঠন করে দিয়েছিলেন অভিষেক নিজেই। সেই দলে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর, প্রতিমা মণ্ডল এবং সাকেত গোখলে।শুক্রবার প্রায় দুঘণ্টা ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর সঙ্গে বৈঠক করেন ডেরেকরা। বৈঠক শুরুর আগেই কমিশনারের হাতে একটি তালিকা তুলে দেন তৃণমূল সাংসদরা। সেই তালিকামৃতের তালিকা। ডেরেকের দাবি, SIR-এর জেরে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেই তালিকাই আমরা কমিশনারের হাতে তুলে দিয়েছি। ওদের হাতে রক্ত লেগে আছে।বৈঠকে মোট পাঁচটি প্রশ্ন তুলে ধরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। প্রথম প্রশ্ন ছিল, ভুয়ো ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিতেই যদি শুধু SIR শুরু হয়, তা হলে ত্রিপুরার মতো রাজ্য বাদ কেন? দ্বিতীয় প্রশ্নযাঁদের আজ কমিশন ভুয়ো বলছে, তাঁদের ভোটেই তো গঠিত হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, তা হলে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারও কি অবৈধ? তৃতীয় প্রশ্নে বিএলও-দের মৃত্যুর দায় কারসেই প্রশ্ন তোলা হয় কমিশনের সামনে। চতুর্থ প্রশ্নে তৃণমূল দাবি করে, বাংলায় বিজেপির নেতারা যখন প্রকাশ্যে বলছেন ১ কোটি ভোটার বাদ যাবে, তখন মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে কেন এবং কেন তা থামানো হচ্ছে না। পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, বিহারে ভোটের আগে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা দেওয়া হল, অথচ বাংলায় সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের দিয়ে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের কাজ পর্যন্ত করাতে রাজি নয় কমিশনএর কারণ কী?তৃণমূল সাংসদদের দাবি, এই পাঁচটি প্রশ্নের কোনওটারই সরাসরি উত্তর কমিশন দেয়নি। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠক থেকে ডেরেক বলেন, তৃণমূল SIR-এর বিরোধী নয়। আমরা চাই এটা সঠিকভাবে হোক। কিন্তু আমরা যে প্রশ্নগুলি করেছি, তার কোনওটারই উত্তর দেওয়া হয়নি। নানা কথা বলা হয়েছে, শুধু মূল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। শতাব্দী রায় যখন মৃতের তালিকাটি কমিশনারের হাতে দেন, তখন তাঁর মুখে বিস্ময় ধরা পড়ে বলেও দাবি তৃণমূল নেতাদের।রাজনৈতিক মহলের মতে, SIR ঘিরে রাজ্য-দিল্লি সংঘাত এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একুশ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে যে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তারই বাস্তব রূপ দেখা গেল শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দরজায়। এই সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক শিবির।

নভেম্বর ২৮, ২০২৫
কলকাতা

এসআইআর নিয়ে কমিশনের দরজায় তৃণমূল! শুক্রবার বৈঠকে কী বিস্ফোরক তথ্য দেবে দল?

এসআইআর নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। অবশেষে নির্বাচন কমিশনের দরবারেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার রাতেই রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন ই-মেল করে কমিশনের কাছে বৈঠকের আবেদন জানান। সেই আবেদনের জবাব এসেছে দ্রুত। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টা বৈঠকের সময় নির্ধারিত।কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর চলাকালীন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কাজেই তৃণমূলের বক্তব্যও শোনা হবে। শুধু তৃণমূল নয়, আরও চারটি রাজনৈতিক দলকে একই দিনে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। কারা সেই দলতা স্পষ্ট না করলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।তৃণমূলের চার প্রতিনিধি এই বৈঠকে যোগ দেবেন। গেরুয়া শিবির, বাম, কংগ্রেসসব পক্ষই কাছে নজর রাখছে, কারণ এসআইআর-কে ঘিরে অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগ চলছেই।তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি CEC জ্ঞানেশ কুমারকে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন ১ হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছিল চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের দিয়ে এসআইআর-এর কাজ করানো যাবে না। বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশিকা বহাল ছিল। তাহলে রাজ্যের সিইও অফিস কীভাবে এমন নিয়োগের প্রস্তাব দিলএই প্রশ্ন এখন বিস্ফোরক হয়ে উঠেছে।এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্র কোনও সরকারি বা আধা-সরকারি স্থাপনাতেই হওয়া উচিত। বেসরকারি জায়গা সাধারণত নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা রক্ষায় এই প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আবার শাসক-বিরোধী লড়াইতেও এই ইস্যু বাড়িয়ে দিতে পারে উত্তেজনা।এসআইআর বা Social Impact Review এখনই ভোটের আগে সবচেয়ে আলোচিত কিওয়ার্ড হয়ে উঠেছে। শুক্রবারের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেই দিকেই তাকিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

নভেম্বর ২৫, ২০২৫
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 8
  • 9
  • 10
  • 11
  • 12
  • 13
  • 14
  • ...
  • 53
  • 54
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

যে কোনও মুহূর্তে নেমে আসতে পারে তুষারধস? বদ্রীনাথ নিয়ে গবেষণায় বড় সতর্কবার্তা

চার ধামের অন্যতম বদ্রীনাথ কি বড় বিপদের মুখে? উত্তরাখণ্ডের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রের উপর ঝুলে রয়েছে তিনটি হিমবাহ। গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই হিমবাহগুলির কোনও একটিতে ফাটল ধরলে সেখান থেকে নেমে আসতে পারে বিশাল বরফের স্রোত। তাতে বদ্রীনাথের মন্দির এলাকা, জনবসতি, রাস্তা এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে বিশ্ব। কয়েক দিন আগে ভুটানে হ্রদ ভেঙে সংকোশ নদীতে জলস্রোত বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে নতুন একটি গবেষণায় বদ্রীনাথের হিমবাহ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতের হিমালয়ের বদ্রীনাথ জনপদে ঝুলন্ত হিমবাহ থেকে সৃষ্ট তুষারধসের ঝুঁকি মূল্যায়ন শীর্ষক ওই গবেষণায় এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।গবেষণায় বলা হয়েছে, বদ্রীনাথের উপর ঝুলে থাকা তিনটি হিমবাহের কোনও একটিতে ফাটল ধরলে সেখান থেকে বরফের বিশাল অংশ নীচে নেমে আসতে পারে। সেই বরফের স্রোতে জনবসতি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটা হবে, তা নির্ভর করবে বরফ কত দূর পর্যন্ত নেমে আসছে তার উপর। পাহাড়ের ঢাল এবং জমির গঠনও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, তুষারধসের গতি এবং তার ফলে কতটা ক্ষতি হতে পারে, তা শুধু বরফের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না। বরফ যে পথ দিয়ে নীচে নামবে, সেই পথের আকৃতি এবং আশপাশের ভূপ্রকৃতিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে। ফলে একই পরিমাণ বরফের ধস হলেও বিভিন্ন এলাকায় তার প্রভাব আলাদা হতে পারে।এই বিপদ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতার উপর জোর দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বদ্রীনাথের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি আগে চিহ্নিত করতে হবে। প্রতিটি এলাকার ঝুঁকি অনুযায়ী আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণকাজের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।প্রাকৃতিক বিপর্যয় পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয়। তবে আগাম ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেতে পারে। বদ্রীনাথের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র এবং সেখানকার মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাই এখন থেকেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে এই গবেষণা।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
বিদেশ

৩২ লক্ষ আফ্রিকানকে দাস হিসেবে পাচার! ব্রিটেনের ইতিহাসের সেই অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে এবার ক্ষমার সুর

আফ্রিকার লক্ষ লক্ষ মানুষকে অপহরণ করে দাস হিসেবে বিক্রি করেছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা। সেই দাস ব্যবসায় বড় ভূমিকা ছিল ব্রিটেনেরও। বহু বছর ধরে চলে আসা এই নিষ্ঠুর ব্যবসার জন্য এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত ব্রিটিশ সরকার। সম্প্রতি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে অতীতের এই অন্যায়ের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তিনি মানতে রাজি নন।শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি নিবন্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডায় বসতে চলেছে কমনওয়েলথের শীর্ষ সম্মেলন। তার আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ওই সম্মেলনে ক্যারিবিয়ান দেশগুলি ব্রিটেনের কাছে দাস ব্যবসার জন্য ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।নিবন্ধে বার্নহ্যাম লিখেছেন, দাস ব্যবসার শিকার মানুষদের যে ভয়াবহ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল, তা তিনি বুঝতে পারেন। সেই ঘটনার জন্য তিনি গভীর ভাবে মর্মাহত। তাঁর মতে, অতীতের সেই নিষ্ঠুরতার প্রভাব এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি।প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে আফ্রিকার মানুষদের দাস হিসেবে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চাওয়ার যে দাবি উঠেছে, আলোচনায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। এই দাবি শুনতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান আলাদা। বার্নহ্যামের বক্তব্য, অতীতের অন্যায়ের জন্য বর্তমান ব্রিটিশ নাগরিকদের দায়ী করা যায় না। তাঁর মতে, সেই ঘটনা ঘটেছিল অন্য এক সময়ে, অন্য আইনের অধীনে। সেই সময়ের অন্যায়ের সঙ্গে বর্তমান ব্রিটিশ জনগণ বা সরকারের ব্যক্তিগত কোনও ভূমিকা নেই। তাই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবির সঙ্গে তিনি একমত নন।উল্লেখ্য, ব্রিটেনের রাজা চার্লস বর্তমানে ক্যারিবিয়ান দেশগুলি সফর করছেন। বাহামাসে গিয়ে তিনি সেখানকার দাসপ্রথার ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন এবং ব্রিটিশ শাসনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে দাস ব্যবসার জন্য ব্রিটেনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য, দাস ব্যবসা থেকে ব্রিটেন যে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছিল, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে পরে দাসপ্রথা বন্ধ করার ক্ষেত্রেও ব্রিটেন ভূমিকা নিয়েছিল বলে দাবি তাদের। ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। যদিও দাসপ্রথা বন্ধের পরেও ভারত-সহ বিভিন্ন দেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ চলেছিল।ইতিহাসের হিসাব অনুযায়ী, পঞ্চদশ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা অন্তত ১ কোটি ২৫ লক্ষ আফ্রিকানকে অপহরণ করে দাস হিসেবে বিক্রি করেছিল। এর মধ্যে ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের হাতে পাচার হয়েছিলেন প্রায় ৩২ লক্ষ মানুষ। সেই অন্ধকার ইতিহাসের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি নতুন করে জোরালো হচ্ছে। তবে ক্ষমা চাওয়ার পথে এগোলেও ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি নয় ব্রিটেন।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

ইন্দ্রনীল গ্রেফতারের তিন দিনের মাথায় স্ত্রীকে লালবাজারে তলব! জেরায় কী জানালেন মধুছন্দা?

ইউনেস্কোর নাম এবং লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রির অভিযোগে তদন্তে নতুন মোড়। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে শনিবার লালবাজারে জেরা করল বিশেষ তদন্তকারী দল। ইন্দ্রনীল সেন গ্রেফতার হওয়ার তিন দিনের মধ্যেই তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল। রাত আটটা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে জেরা।যে সংস্থার নামে পুজোর প্রিভিউ শো-এর পাস বিক্রি করা হয়েছিল, সেই মাস আর্ট-এর সভাপতি ছিলেন মধুছন্দা। অভিযোগ, ইউনেস্কোর লোগো বেআইনি ভাবে ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া থেকে শুরু করে সংস্থার বিভিন্ন নথিতে তাঁর সই ছিল। গত জুন মাসে বউবাজার থানায় যে অভিযোগ জমা পড়েছিল, তাতে দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে মধুছন্দার নাম ছিল। প্রথম অভিযুক্ত ছিলেন তাঁর স্বামী ইন্দ্রনীল সেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার সময় মধুছন্দা দাবি করেছেন, মাস আর্ট-এর অন্য কর্তারা যেখানে সই করতে বলেছেন, তিনি সেখানেই সই করেছেন। তাঁকে কোনও বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে ইন্দ্রনীল স্ত্রীকে কোনও নথিতে সই করার জন্য চাপ দিতেন কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মধুছন্দাকে জেরা করে সংস্থার সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসুর নামও উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া এফআইআরে নাম থাকা আরও দুজনের ভূমিকা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে মধুছন্দা ও ধ্রুবজ্যোতিকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সংস্থা থার্ড লাইন ক্রিয়েশন মাস আর্ট সোসাইটিকে ৬৬ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল। ওই টাকার মধ্যে ২২ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা আইস্কেপ এবং মায়রা নামে দুটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, এই দুটি সংস্থা ইন্দ্রনীলের মেয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন। সেই সূত্রে তাঁকেও লালবাজারে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ তিনটি সংস্থার কর্মীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন তথ্য জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে ওই সংস্থাগুলির কর্মীদের একে একে জেরা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।অন্য দিকে, তদন্তকারীদের কাছে পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ইউনেস্কোর লোগো দেখে তাঁরা এই প্রিভিউ শো-তে অংশ নিতে রাজি হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, মাস আর্ট-এর কর্মীরাই বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে গিয়ে প্রিভিউ শো-এর ব্যবস্থা করতেন। এর বদলে পুজো কমিটিগুলিকে সামান্য টাকা এবং এলইডি গেট বসানোর সুযোগ দেওয়া হত। অভিযোগ, ওই গেটে বিজ্ঞাপন দেখানোর পরিবর্তে পুজো উদ্যোক্তাদের দেড় থেকে দুলক্ষ টাকা দেওয়া হত।পুলিশের দাবি, পাস বিক্রির বিনিময়ে পুজো উদ্যোক্তারা খুব সামান্য টাকা পেয়েছিলেন। গোটা আর্থিক লেনদেন এবং সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মধুছন্দার জেরার পর এই মামলায় আর কার কার নাম উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

উৎসবের মরসুমে নিরাপত্তায় বড়সড় প্রস্তুতি, পুজো কমিটিগুলিকে কী কী করতে বলল নবান্ন?

দুর্গাপুজো শেষ। সামনে কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো এবং ছটপুজো। এই উৎসবগুলিকে ঘিরে বিভিন্ন মণ্ডপ ও ঘাটে প্রচুর মানুষের ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। চোরবাগান কাণ্ডের পর আরও সতর্ক হয়েছে প্রশাসন। উৎসবের ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপণ এবং ঘাটের নিরাপত্তাসব বিষয়েই একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন।নির্দেশিকায় পুজো কমিটিগুলিকে মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রবেশ ও বেরোনোর পথ যথেষ্ট চওড়া রাখতে হবে। কোনওভাবেই যাতে মণ্ডপের ভিতরে অতিরিক্ত ভিড় জমে না যায়, সে দিকে নজর রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।কোন মণ্ডপে কত মানুষের ভিড় হতে পারে, তা মাথায় রেখে পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি মণ্ডপে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা ঠিকমতো করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ ও প্রশাসন।মণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা এড়াতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে। কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে যাতে দমকল পৌঁছতে পারে, সেই ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।শুধু মণ্ডপ নয়, ছটপুজো উপলক্ষে বিভিন্ন ঘাটের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক প্রশাসন। ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। নৌকায় রাখতে হবে লাইফ জ্যাকেট। পাশাপাশি ঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও করতে হবে।কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর পরেই রয়েছে ছটপুজো। ফলে উৎসবের মরসুমে মণ্ডপ এবং ঘাটে ভিড় সামলানো প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। চোরবাগান কাণ্ডের পর কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না নবান্ন। তাই আগেভাগেই পুজো কমিটি, পুলিশ এবং প্রশাসনের জন্য একাধিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

মতুয়াদের জন্য বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, দু’মাসের মধ্যে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাস

আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী আবেদনকারীদের শুনানি শেষ করে শংসাপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ঠাকুরনগরে আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দিয়ে এই ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এখনও প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর শুনানি বাকি রয়েছে। আগামী দুমাসের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার পর ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও সরকার সাহায্য করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঠাকুরবাড়িতে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, এই সরকার শুধু বিজেপির নয়, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষেরও। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে তাঁদের অযথা চিন্তা করার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে এই আইন কার্যকর করা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দু বলেন, ঠাকুরনগরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর করার কথা বলেছিলেন। ২০২৪ সালের ৬ মার্চ এই আইন কার্যকর করা হয়। তাঁর দাবি, অন্য রাজ্যগুলিতে এই আইনের আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরোধিতা করেছিলেন। এর ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ সমস্যায় পড়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর শিলিগুড়িতে অমিত শাহের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাঁর দাবি, গুজরাত ও রাজস্থানের মতো রাজ্যে এই আইন কার্যকর করার ক্ষমতা দেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকার তা করেনি। কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সাহায্যে যতটা সম্ভব শুনানির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।শুভেন্দুর কথায়, এখন নাগরিকত্বের আবেদন সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা আধিকারিকদের এ বিষয়ে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ আবেদনকারীর শুনানি বাকি রয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সেই শুনানি শেষ করে আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।তফসিলি জাতিভুক্ত আবেদনকারীদের শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ায় কাউকে বাধা দেওয়া হবে না। তবে কারা শংসাপত্র পাওয়ার যোগ্য, তা সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও যাচাইয়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।শুধু নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়াই নয়, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রেও সরকার সাহায্য করবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগামী জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান শুরু হলে সিএএ-র আওতায় শংসাপত্র পাওয়া ব্যক্তিদের নাম তোলার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথি তৈরি করতেও সাহায্য করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণার পর এখন নজর থাকবে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করে আবেদনকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়ার কাজ কতটা এগোয়।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
রাজ্য

মতুয়া-গড়ে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে কী কী পদ দিয়ে সাজল পাত?

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বার মতুয়া-গড়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ঠাকুরবাড়িতে আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে মন্দিরে পুজো দেন তিনি। ঘণ্টা বাজিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক সোমা ঠাকুর। পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরনগরে সভা করার কথা শুভেন্দুর। তার পর শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নের জন্য সকাল থেকেই বাড়িতে চলেছে বিশেষ আয়োজন।শুভেন্দুর জন্য নিজের হাতে রান্না করেছেন শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা। মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে রয়েছে নানা ধরনের পদ। ভাতের সঙ্গে থাকছে উচ্ছে ভাজা, বেগুন ভাজা, পমফ্রেট মাছ, চিংড়ির মালাইকারি, মটন এবং দেশি মুরগির ঝোল। এ ছাড়াও রয়েছে চিংড়ি দিয়ে মোচা, ইলিশ ভাপা ও ইলিশ ভাজা। তবে এই মেনুর অন্যতম আকর্ষণ ঠাকুরবাড়ির বিশেষ পদ চিংড়ি পিঠে। খাওয়ার শেষে থাকছে দই ও মিষ্টি।মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নের জন্য রান্নাঘরে সকাল থেকেই ব্যস্ততা ছিল। সোমা জানিয়েছেন, তিনি নিজের হাতেই রান্না করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম মতুয়া-গড় সফরকে ঘিরে ঠাকুরবাড়িতে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরবাড়িতে তিন গোঁসাই ঠাকুরকে বরণ করা হয়। এর পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, আগের মুখ্যমন্ত্রী কোনওদিন মতুয়াদের কথা ভাবেনি। নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা ভাবেননি। মতুয়াদের আশীর্বাদেই আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আজ এখানে সেবা কার্য করতে এসেছি।জানা গিয়েছে, ঠাকুরবাড়িতে পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরনগরে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পর শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারবেন তিনি। সব কর্মসূচি শেষ করে বিকেলে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাঁর।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
কলকাতা

বাংলার ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের হাহাকার! মজুত ১০ হাজারেরও কম, অস্ত্রোপচার পিছনোর আশঙ্কা

রাজ্যজুড়ে রক্তের জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্ক মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলায় রক্তের মজুত ১০ হাজার ইউনিটেরও কম বলে জানা গিয়েছে। অথচ প্রতিদিন রাজ্যে প্রায় তিন হাজার ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, বর্তমান মজুত দিয়ে আগামী দিনে চাহিদা মেটানো কঠিন হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী, ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা, জটিল অস্ত্রোপচার এবং দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। এই পরিস্থিতিতে রক্তের জোগান নিয়ে চিন্তায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। শনিবারের হিসাব অনুযায়ী, কলকাতায় রক্তের মজুত ছিল প্রায় ৫৬০ ইউনিট।রক্তের জোগান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর অস্ত্রোপচারের জন্য রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগীর পরিবারের অনুরোধে শনিবার রাতে সেখানে যান বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর উদ্যোগে সমস্যার সমাধান হয় বলে জানা গিয়েছে। এর পর সজল প্রশ্ন তোলেন, একজন বিধায়ককেই যদি রক্তের জন্য এত সমস্যায় পড়তে হয়, তা হলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে?তবে রাজ্যে রক্তের ঘাটতির কথা মানতে চাননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিরল রক্তের গ্রুপের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তবে সাধারণ ভাবে রক্তের ঘাটতি নেই। ও নেগেটিভ বা এবি নেগেটিভ-এর মতো বিরল গ্রুপের রক্ত পেতে সমস্যা হলে মানিকতলার কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাঙ্কের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। সেখানে পর্যাপ্ত রক্ত মজুত রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।দীর্ঘদিন ধরে রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ডি আশিসের মতে, রক্ত পাচার নিয়ে নানা খবর ছড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে রক্তদান নিয়ে অনীহা তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, রক্তদান করেও লাভ নেই, কারণ সেই রক্ত পাচার হয়ে যেতে পারে। তাঁর বক্তব্য, এই ধারণার প্রভাব রক্তদান আন্দোলনের উপর পড়ছে। অন্য দিকে, রক্তের অভাবে কিছু অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিতে হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে সংগৃহীত রক্তের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কলেজ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান শিবির থেকে। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন ক্লাবে নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ডি আশিসের বক্তব্য, নতুন কমিটিগুলি দায়িত্ব নেওয়ার পর রক্তদান শিবির আয়োজন করতে সময় লাগতে পারে। ফলে এই সময়ে বড় শিবিরের সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ব্লাড ডোনর অর্গানাইজেশনের জাতীয় সভাপতি বিশ্বরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, রবিবার একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হবে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আরও বেশি মানুষকে রক্তদানে এগিয়ে আসার আবেদন জানানো হচ্ছে। রক্তের জোগান বাড়াতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য দপ্তরও নির্দেশিকা জারি করেছিল। হাসপাতাল সংলগ্ন পুজো কমিটিগুলিকে রক্তদান শিবির আয়োজন করতে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে রক্তের মজুত বাড়াতে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রাজ্যে রক্তের প্রকৃত ঘাটতি কতটা, তা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

নভেম্বর ০১, ২০২৬
দেশ

হুডখোলা গাড়িতে রাহুল সামনে, মমতা পিছনের সারিতে! বাংলার ভোটে হারের পর বদলে গেল সমীকরণ?

হুডখোলা গাড়ির সামনের সারিতে রাহুল গান্ধী। তাঁর পিছনের সারিতে ফারুক আবদুল্লা ও ডি রাজা। তৃতীয় সারিতে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের পাশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে এই ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলের পর বিরোধী জোটে মমতার অবস্থান বদলেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।একসময় বিভিন্ন আন্দোলনে সামনের সারিতে দেখা যেত মমতাকে। বিরোধী রাজনীতিতেও তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূলের বড় ধাক্কার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। রামলীলা ময়দানে যাওয়ার পথে হুডখোলা গাড়িতে রাহুল গান্ধীকে সামনের সারিতে এবং মমতাকে পিছনের দিকে দেখা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ছবি বিরোধী জোটে নেতাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।ওই গাড়িতে ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এবং তেজস্বী যাদবও। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখা যায়। তবে তিনি ছিলেন পিছনের সারিতে।বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রয়োজনে বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও বাংলায় সেই প্রস্তাবে তেমন সাড়া মেলেনি। এর পর দিল্লিতে গিয়ে একাধিক বার রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রামলীলা ময়দান এলাকায় পুলিশ ও আধাসেনা মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অন্তত ২০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-যুক্ত ক্যামেরা।হুডখোলা গাড়িতে কোন নেতা কোথায় ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। তবে শুধু আসন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিরোধী জোটে কোনও নেতার গুরুত্ব কমেছে বা বেড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। সমাবেশে নেতাদের বক্তব্য এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।

নভেম্বর ০১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal