• ৯ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mini

স্বাস্থ্য

শিশুদের জন্য প্রথম হাসপাতাল চালু হাওড়ায়

হাওড়া জেলায় পথম শিশু হাসপাতাল চাল্য হল। মাস কয়েক আগে বহির্বিভাগ চালু করা হলেও এদিন আন্তর্বিভাগও চালু করা হয়েছে। ২০টি শয্যার এই শিশু হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্যও থাকছে শয্যা। এছাড়া রয়েছে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও। থাকছে শিশুদের পাঁচটি এনআইসিইউ। হাওড়া ময়দানে মহত্মা গান্ধী রোডে একটি তিনতলা ভবনে এই হাসপাতালটি তৈরি করা হয়েছে। দোতলায় রয়েছে অপারেশন থিয়েটার ও শিশু ও প্রসূতি বিভাগ। এদিন নবনির্মিত এই হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায় ও হাওড়া সদরের সাংসদ প্রসূন বন্দোপাধ্যায়। উদ্বোধনের পর সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায় জানান, গরীব মানুষও যাতে এই হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা করাতে পারেন তা দেখা হবে। পাশেই রাজ্য সরকারের নিজস্ব জায়গায় হাসপাতালটির আরও বড় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও এদিন জানান তিনি। এই হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ছাড়াও গায়নোকোলজিস্টরা থাকবেন।ইন্ডিয়ান রেড ক্রস সোসাইটির সম্পাদক তথা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সুজয় চক্রবর্তী জানালেন, শিশুদের টাইফয়েড, হারনিয়ার মতো চিকিৎসা হবে। এছাড়াও শিশুদের স্পিচ থেরাপি, কাউন্সেলিংও হবে এখানে। হবে চামড়ার চিকিৎসা। এমনকী শিশুদের জটিল অস্ত্রোপচারও। সাংসদ তহবিলের ১০ লক্ষ টাকা অনুদান ও সমবায় দফতরের আর্থিক সাহায্যে এই হাসপাতালটি তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যায় হাসপাতালটি তৈরি করা হল। ইন্ডিয়ান রেড ক্রস সোসাইটি ও রাজ্য সরকারের সমবায় দফতরের যৌথ উদ্যোগেই শিশু হাসপাতালটি তৈরি হল।

ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২১
রাজ্য

ফালাকাটায় আদিবাসী নৃত্যে পা মেলালেন মমতা, দেখুন ভিডিও

উত্তরবঙ্গের ফালাকাটায় রীতিমতো অভিভাবকের ভূমিকায় দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মঙ্গলবার গণবিবাহের আসরে দাঁড়িয়ে পাত্র-পাত্রীদের হাতে তুলে দিলেন উপহার। পা মেলালেন আদিবাসী নৃত্যে।এদিন ফালাকাটায় এক সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মমতা। সেখান থেকে চা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। চা সুন্দরী প্রকল্পের জন্য ঘোষণা করেন ৫০০ কোটি টাকা। তিনবছরের মধ্যে গৃহহীনদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জানান, ফালাকাটা-ময়নাগুড়ি পুরসভার কথা। বলেন, তৃণমূল যা বলে তাই করে। কারও কারও মতো ভোটের সময় সাধারণ মানুষের কথা মনে পড়ে না। প্রকাশ্যে বিজেপিকে বদমাশের গাছ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। যদিও পরে মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। বলেন, অপপ্রচার, চরিত্রহনন করা ছাড়া ওদের কোনও কাজ নেই। বিবাহের আসরের পাশেই নাচে মেতে উঠেছিলেন আদিবাসী মহিলারা। তাঁদের সঙ্গেই পা মেলান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীকে ঠিক দিদির মতো পাশে পেয়ে আপ্লুত প্রত্যেকে।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২১
রাজনীতি

রাজ্যে বিজেপিতে বিধায়ক ২৭জন!

এই মূহুর্তে বিজেপির মোট বিধায়কের সংখ্যা কত? সংখ্যাটা শুনলে হিসেব গুলিয়ে যেতে বাধ্য। অন্য দল থেকে যোগ দেওয়ার পর এরাজ্যে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা পৌঁছেছে ২৭-এ। যোগদানকারীদের মধ্যে তৃণমূল, সিপিএম ও কংগ্রেসের বিধায়ক রয়েছেন। তবে সব থেকে বেশি বিধায়ক এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে। এছাড়া রাজ্যের তিনজন প্রাক্তন মন্ত্রী যোগ দিয়েছেন পদ্ম শিবিরে।২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্যে বিজেপি মাত্র ৩ আসনে জয় পেয়েছিল। খড়্গপুর থেকে জয় পান বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য বিধায়ক পদ ছাড়তে হয় দিলীপ ঘোষকে। তখন বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় দুইয়ে। তারপর ২০১৯ উপনির্বাচনে আরও ৪ আসনে জয়লাভ করে পদ্মশিবির। মোট বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৬-এ। উল্লেখ্য, ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে এখন সেই দলে রয়েছে মোট ২৭ জন বিধায়ক। আর দুজন প্রাক্তন বিধায়ক। শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। এঁরা প্রথমে মন্ত্রিত্ব ও পরে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।তৃণমূল থেকে ১৫জন বিধায়ক এসেছেন পদ্মশিবিরে। কংগ্রেস থেকে ৩জন। ২জন সিপিএম থেকে ও সিপিআইয়ের ১ জন। এর মধ্যে দিপালী বিশ্বাস সিপিএম থেকে ভায়া তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসের দুলাল বর তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। দলে যোগদান করে এখন বিজেপির বিধায়ক ২৭ জন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায় কীনা সেটাই দেখার।কংগ্রেস এখনও বিধানসভায় বিরোধী দল। এই দলের অধিকাংশ বিধায়ক লিখিতভাবে কংগ্রেসে থাকলেও তৃণমূল ও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যে এখন কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা কত? তা বলতে হিমসিম খাবে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব। তৃণমূলে একদিকে যেমন অন্য দল থেকে বিধায়ক এসে যোগ দিয়েছে, ঘাসফুল থেকেও একটা অংশ বিজেপিতে গিয়ে ভিড়ছেন।

ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২১
রাজ্য

ফের রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী!

১৫ দিনের মধ্যে ফের রাজ্যে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হলদিয়ায় এক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেন তিনি। তবে, মোদির এবারের সফরে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি এখনও নেই।বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত পেট্রোলিয়ামের এক সরকারি কর্মসূচিতে ঝটিকা সফরে রাজ্যে পা রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। কলকাতা হয়ে সরাসরি তিনি চলে যাবেন শুভেন্দুর গড় হলদিয়ায়। সেখানেই সরকারি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সেখান থেকেই দিল্লি ফিরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্য নেতৃত্ব চেষ্টা করছে, সম্ভব হলে প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফর দীর্ঘায়িত করে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি তাতে অন্তর্ভুক্ত করার। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই দুদিনের রাজ্য সফরে আসার কথা ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর। কিন্তু শুক্রবার দিল্লিতে ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে বিস্ফোরণ হওয়ায় সেই সফর বাতিল হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে হাওড়ার যোগদান মেলায় কেন্দ্রস্তরের বড় কোনও নেতাকে আনার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। তাছাড়া আগামী ৫-৬ ফেব্রুয়ারি এমনিও রাজ্যে আসতে চলেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

জানুয়ারি ৩০, ২০২১
কলকাতা

অসুস্থ মন্ত্রী অরূপ রায়

অসুস্থ রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়। রবিবার বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অসুস্থ বোধ করেন অরূপ রায়। চিকিৎসকরা তাঁকে প্রাথমিক পরীক্ষা করার পর হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তবে রাজ্যের মন্ত্রী তথা হাওড়া টাউনের তৃণমূল সভাপতির শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। পরিবার সূত্রে খবর, ষাটোর্ধ্ব অরূপ রায়ের হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস রয়েছে। তাই তাঁকে প্রতিনিয়তই সাবধানে থাকতে হয়। তবে সম্প্রতি প্রশাসনিক ও দলীয় কাজের বেশ চাপ রয়েছে তাঁর উপর। সেসবের জেরেই হয়ত আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে মনে করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ২৪, ২০২১
রাজনীতি

বৈশালী ডালমিয়াকে বহিষ্কার, এরপর কার পালা

সকালে হাওড়ার এক বিধায়ক মন্ত্রীত্ব ছাড়লেন, বিকেলে আর এক বিধায়ককে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হল। দলবিরোধী কাজের জন্য বালির দলীয় বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়াকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি। দীর্ঘদিন ধরেই দলের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলছিলেন বালির এই বিধায়ক। শেষমেশ তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে ক্রীড়া দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হাওড়া উত্তরের বিধায়ক লক্ষ্মীরতন শুক্লা মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। তখন ও দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন।আজ, শুক্রবার মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন হাওড়া ডোমজুড় এর আরেক বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সেক্ষেত্রেও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ নিয়ে বালির বিধায়ক বৈশালী ডালমিয়া পরিষ্কার বলেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় চলে যাওয়া দলের ক্ষতি, সাধারণ মানুষের ক্ষতি। সে কাজের লোক। বৈশালী ডালমিয়া মাঝেমধ্যেই দলের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এসব নানা কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল কংগ্রেসের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি।সমবায়মন্ত্রী তথা হাওড়ার তৃণমূল নেতা অরূপ রায় জানিয়ে দেন, দল একেবারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৈশালী ডালমিয়া না থাকলেও দলের কোনও ক্ষতি হবে না। দলের কর্মীরাই দলের সম্পদ। তাছাড়া দলবিরোধী কোনও কাজ করলে তাঁকে বরখাস্ত করা উচিত এবং তিনি সে কাজ করেছেন বলেই অরূপবাবুর দাবি।বেশ কয়েক মাস ধরেই দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ প্রথমে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। তারপর পদ্ম শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। এটা বাংলার রাজনীতি একটা ধারায় পরিণত হয়েছেতৃণমূল নেতৃত্ব সেভাবে কারও বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই পর্যায়ে প্রথম বৈশালী ডালমিয়ার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়ে অন্যদের বার্তা দেওয়া হল। এর পরও কেউ যদি দল বিরোধী কাজ করেন সেক্ষেত্রেও বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি তৃণমূলের একাংশের মুখে কিছুতেই লাগাম টানা যাচ্ছে না। তাই এরপর কার পালা সেটাই এখন দেখার।

জানুয়ারি ২২, ২০২১
রাজ্য

ভোটের আগে মন্ত্রীত্ব, পদ দুই ছাড়লেন লক্ষ্মীরতন, এরপর কে?

শুভেন্দু অধিকারীর পর ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন আর এক মন্ত্রী। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাইছেন। দলের হাওড়া জেলা সভাপতি পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন লক্ষ্মীরতন। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন এরপর তালিকায় কে আছেন?জানা গিয়েছে, রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে ফের ক্রিকেটের জগতে ফিরতে চান লক্ষ্মীরতন শুক্লা। রাজনৈতিক মহলের মতে, জেলার দুই মন্ত্রীর বিবাদের মাঝে পড়ে হাওড়া উত্তরের এই তৃণমূল বিধায়ক বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। তিনি কী করবেন তাই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।সূত্রের খবর, মন্ত্রিত্ব ও তৃণমূলের সাংগঠনিক পদ ছাড়লেও বিধায়ক পদ থেকে এখনই তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন না। মেয়াদ শেষ হওযা পর্যন্ত বিধায়ক পদে থাকবেন। একথা তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেনও। বিগত কয়েকদিন ধরেই লক্ষ্মীরতন বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছিল। তিনি দলবদলে নেই বলেই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে উত্তর হাওড়া কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে জয় পান। তাঁকে ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।রাজনীতির কারবারিদের মতে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে এই পদত্যাগ তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা। প্রথমত মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ। তারওপর দলের জেলা সভাপতির পদও ছেড়েছেন। একেই হাওড়ায় অরূপ রায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে মতবিরোধ তুঙ্গে। ভবিষ্যতে খেলার ময়দানে ফিরে যান কীনা তারই অপেক্ষা। শুভেন্দু, লক্ষ্মীরতনের পর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক মন্ত্রীকে নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে।

জানুয়ারি ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

সৌরভ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, খোঁজ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী

মৃদু হৃদরোগে আক্রান্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার বাড়িতে জিম করার সময় মাথা ঘুরে পড়ে যান সৌরভ। তড়িঘড়ি তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আপাতত সৌরভের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।সৌরভের আরোগ্য কামনায় টুইট করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌরভের অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। জানা গেছে সৌরভের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এরাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় প্রমুখ। প্রয়োজনে সৌরভকে দিল্লির এইমসে নিয়ে চিকিৎসা করা হলে সবরকম সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এদিকে সৌরভের এই অসুস্থতার খবরে বাংলার ক্রীড়াজগতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা।সৌরভকে জরুরি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে হাসপাতালে। ইতিমধ্যে একাধিক শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আ্যাঞ্জিওগ্রাফি করার জন্য মহারাজকে ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর ইসিজি করা হয়েছে। সেখানেই বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। এছাড়া, ইকো কার্ডিওগ্রাম করা হয়েছে। রাজ্য সরকার তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে সবরকম সহযোগিতা করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।

জানুয়ারি ০২, ২০২১
রাজ্য

হাওড়ায় তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে গড়হাজির দুই মন্ত্রী, বাড়ছে জল্পনা

শুক্রবার হাওড়াতেও পালিত হল তৃণমূলের ২৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস। এই প্রতিষ্ঠা দিবসেও পিছু ছাড়ল না গোষ্ঠীকলহের বিতর্ক। এদিন দলের হাওড়ার কদমতলার জেলা সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে রাজের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় উপস্থিত থাকলেও গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের সদর সভাপতি তথা মন্ত্রী লক্ষীরতন শুক্লা। দেখা মিলল না দলের কোর্ডিনেটর তথা আর এক মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের। দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের মুল অনুষ্ঠানে জেলার দুই মন্ত্রী তথা হেভিওয়েট নেতার অনুপস্থিতিতে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই প্রসঙ্গে, তৃণমূলের সদর চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন, কে বা কারা আসেননি জানি না। তবে আসা উচিত ছিল। প্রথম থেকে দল করে আসা তৃণমূল কর্মীরা সবাই এসেছে। যাঁরা আসেননি তাঁদেরকে আসার জন্য অনুরোধ করব। অন্যদিকে এদিন জেলা নেতৃত্বের এমন ধরনের মনোভাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন হাওড়ার সাংসদ প্রসূণ বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠা দিবসে এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। দলীয় কর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন। ক্ষোভের সঙ্গে সাংসদ বলেন, আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি জেলার তিন নেতা তিন দিকে আলাদা আলাদা কেন র্যালি করছে? আমার খুব মন খারাপ, আমি খুব শকড। এইভাবে চললে হাওড়ার ১৬টা আসন ধরে রাখা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দলীয় হোর্ডিং নিয়েও এদিন তিনি ক্ষোভ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দল না থাকলে লালবাতি নীলবাতি পাব না এই বার্তাও দিলেন দলীয় নেতৃত্বকে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে রাজ্যের দুই মন্ত্রী তথা হাওড়ার হেভিওয়েট নেতা অরূপ রায় এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে চলছে ঠান্ডা লড়াই। সম্প্রতি একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁদের দুজনকে একসঙ্গে হাজির হতে দেখতে পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। তাই জল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে। তারই মধ্যে এদিন প্রতিষ্ঠা দিবসে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লক্ষ্মীরতন শুক্লার উপস্থিতি না থাকা উষ্কে দিচ্ছে নয়া বিতর্ক।

জানুয়ারি ০১, ২০২১
খেলার দুনিয়া

সৌরভকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ অশোকের

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিলেন শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। বুধবার নিজের ফেসবুক পেজে বিষয়টি পোস্ট করেন শিলিগুড়ির পুরপ্রশাসক। তাঁকে ক্রিকেটার হিসাবেই দেখতে চান তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে বেহালার বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। সেখানে রাজনীতি ও ক্রিকেট নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয় সৌরভ ও ডোনার সঙ্গে। নিজের ফেসবুক পেজে এদিন অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন, তিনি ভারতের ক্রিকেট আইকন সৌরভ গাঙ্গুলীকে রাজনীতিতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সৌরভকে বলেছেন, ক্রিকেট তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। দেশের মানুষ চায় তা সৌরভের জনপ্রিয়তা যেন অক্ষুন্ন থাকে। সেই সঙ্গে শিলিগুড়ির ক্রিকেট নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিলিগুড়ির ক্রিকেটের উন্নয়নে সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস মহারাজের কাছ থেকে পেয়েছেন বলেও দাবী করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। সময় পেলে সৌরভ শিলিগুড়িতে আসবেন, তাঁর বাসভবনে আসবেন বলেও তাঁকে কথা দিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলী। ক্রিকেটের পাশাপাশি অশোক ভট্টাচার্যের সাথে রাজনীতি নিয়েও কথা হয়েছে সৌরভ জায়া ডোনার। ডোনা জানতে চেয়েছেন আসন্ন বিধানসভায় তিনি লড়ছেন কিনা। তারজন্য ডোনা আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন অশোক ভট্টাচার্য। সৌরভের বিজেপি যোগ নিয়ে বিস্তর জল্পনা ছড়িয়েছে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক। তারপর এক মঞ্চে দিল্লিতে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা গিয়েছে সৌরভকে। সেই জল্পনার মাঝেই সৌরভের বাড়িতে অশোক ভট্টাচার্যের মধ্যাহ্নভোজন, আলোচনা। পরে সিপিএম নেতার ফেসবুকে পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। ফেসবুকে অশোক ভট্টাচার্য লিখেছেন: আজ সৌরভ গাঙ্গুলির বাড়িতে বসে সৌরভ আর ডোনার সাথে অনেক গল্প হলো। শিলিগুড়ির খবর, ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হলো। আমি ইলেকশনে লড়ছি কিনা তাও জানতে চাইলো! তার জন্যে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়ে রাখলো। রাজনীতির কথা প্রসঙ্গে আমার মত,ওর রাজনীতিতে যুক্ত না হওয়া, তাও বলেছি। কথা প্রসঙ্গে বলেছি ক্রিকেট ওকে জন প্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে। দেশের মানুষ চায় তা যেন অব্যাহত থাকে। ওর সাথে শিলিগুড়ির ক্রিকেট নিয়েও কথা হয়। ও সব রকম সহযোগিতা করবে। একবার এসব নিয়ে কথা বলতে শিলিগুড়িতে আসবে। তখন আমাদের বাড়িতে গিয়ে ওর কাকিমার সাথে দেখা করে আসবে বললো। ছবিটা তুলেছে ডোনা।

ডিসেম্বর ৩০, ২০২০
রাজ্য

এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ শুভেন্দু অধিকারীর

নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগেছেন। ফিরহাদ হাকিম, সৌগত রায়, অমিত মিত্রকও আক্রমণ শানাতে ছাড়েননি। শেষমেশ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। ৭ জানুয়ারির বদলে ৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে সভা করবেন শুভেন্দু। জবাব দেবেন মমতার সভার। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এদিন প্রথম কাঁথিতে মিছিল ও সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। ভিড়ে ঠাসা ছিল মিছিল দাবি করেছে বিজেপি। এদিন শুভেন্দু একের পর এক তির ছুড়তে থাকেন। শুভেন্দু বলেন, মিনি পাকিস্তান বলা মন্ত্রী বলছেন শুভেন্দুর মুখে পরিবারতন্ত্র বলা মানায় না। আরে মাননীয় মিনি পাকিস্তান বলা মন্ত্রী আমি আপনার জামাইকে বলিনি তৃণমূলের যুব নেতা। লাল চুল, কানে দুল তার নাম যুবা তৃণমূল। আমি তাঁর কথা বলিনি। সৌগত রায়ের দাদা আমাদের বড় নেতা, প্রাক্তন রাজ্যপাল। আমি তাঁর কথাও বলিনি। আমি বলেছি কয়লা চোর, বালি চোর, পাথর চোর, গরুপাচারকারী ভাইপোর কথা। আবার চাকরি দিতে পারেনি পাউচ বিক্রি করার ব্যবস্থা করেছেন অর্থমন্ত্রী, বলেছেন শুভেন্দু। এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেননি শুভেন্দু। এদিন কাঁথির সভায় তৃণমূলনেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেছেন তিনি। প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী বলেন, আপনি ৭জানুয়ারী, ১৪মার্চ, ১০ নভেম্বর কোনও দিন আসেননি। কাল টিভিতে দেখলাম আপনি আসছেন। আপনি এলে রাস্তা সারাবে। আমার জেলার লাভ হবে। আমি ৭ তারিখে প্রতিবছর আমি যাই। এবার ওই দিন বড় কর্মসূচি নেব না। ৭ তারিখ আসছেন, ভাল কথা মোস্ট ওয়েলকাম। এতদিন আসেননি। আসুন। আমি যা যা বলতে আসছেন আমি জানি। ১০০০টা শুভেন্দু তৈরি হয়। কে ওটা, কী হবে। শুভেন্দুকে কাউন্টার করতে হাটবারে হাটবারে চারটা-পাঁচটা পুলিশের পাইলট কার নিয়ে জোড়া জোড়া মন্ত্রী। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, ৭ তারিখে আসুন, ভাষন দিন। আমি ৮ তারিখে সভা করা আপনার সব কথার জবাব দিয়ে দেব। আমি শৃঙ্খলাপরায়ন লোক। আমি আজই কৈলাশ বিজয়বর্গীয় জানিয়েছি নন্দীগ্রামে ৮ তারিখ সভা হবে। উনি সরকারি ক্ষমতায় লোক আনবেন, আমি আবেগ-ভলবাসায় লোক আনব। শুভেন্দু এদিন একাধিকবার ফিরহাদ হাকিমকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, উপনির্বাচনে টিকিট পায়নি বলে তৃণমূলনেত্রীর বাড়িতে ঢিল মারতে গিয়েছে। আমফানের পর কলকাতার লোক বুঝে গিয়েছিল কী তাঁর যোগ্য়তা। গ্রামের সঙ্গে লড়াই দক্ষিণ কলকাতার চার-পাঁচটা লোকের। ৪০ টা দফতর ওই চার-পাঁচটা লোকের। শুভেন্দুর ঘোষণা, গোপীবল্লভপুরের দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু হাত মিলিয়েছে। যেতে তোমাদের হবেই। পদ্ম ফুটিয়ে ঘুমাতে যাব।

ডিসেম্বর ২৪, ২০২০
রাজ্য

‘বিজেপি বহিরাগতদের এনে ব়্যালি করছে’, দাবি অনুব্রতর

ডাকবাংলো মোড় থেকে চৌরাস্তা গোটা রাস্তাতেই ব্যান্ড বাজছে। বাড়ির উপর থেকে ফুল পড়ছে। জনজোয়ারে ভেসে এগিয়ে চলেছেন অমিত শাহ। পরে শাহের জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে যেন জনতার বাঁধ ভাঙল। বোলপুরে এ দিন অমিত শাহের মেগা ব়্যালিতে ভিড় ছিল উপচে পড়া। তবে, একে আমল দিতে নারাজ খোদ বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। উল্টে এখানেও বহিরাগত তত্ত্ব হাজির করলেন নেত্রীর আস্থাভাজন কেষ্ট। দলীয় বঙ্গধ্বনী কর্মসূচির মাঝেই নিজস্ব কায়দায় বললেন, বিজেপি বহিরাগতদের এনে এই ব়্যালি করছে। আমি জেলার লোক নিয়ে মিছিল করি। কয়েকটা ব্লক নিয়ে মিছিল করলেই এর থেকে বেশি ভিড় জমিয়ে দিতে পারি। আরও পড়ুন ঃ রোড শোতে উপচে পড়া ভিড়, হুডখোলা গাড়ি থেকে পরিবর্তনের ডাক শাহের এখানেই থেমে থাকেননি অনুব্রত। উল্টে কিছুটা চ্যালেঞ্জের সুরেই তাঁর দাবি, আগামী ৪ জানুয়ারি থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সভা শুরু হবে। প্রতিটা ব্লকে ৮০ হাজার করে লোক থাকবে। এরপরই তৃণমূল নেত্রীর পদযাত্রার প্রসঙ্গ উত্থাপ করে তিনি বলেন, মমতাদির সবা-মিছিল হলে পাঁচ-ছয়টা ব্লক থেকে মিছিল তাতেই চার-পাঁচ লাখ লোক হয়ে যায়। এসব আমাদের কাছে কোনও ব্যাপার নয়। বিজেপির এ দিনের কর্মসূচিতে যে ভিড় হয়েছে তাতে কি তিনি ভীত? অনুব্রত মণ্ডল বলেন, আমিত শাহ রোজ আসুন। এতে তৃণমূলের কোন ক্ষতি হবে না। উৎসাহিত হবে দলের কর্মীরা। একই সঙ্গে বলেন, শুভেন্দু হোক বা অন্য কেউ- তৃণমূল ছাড়লে ক্ষতি দলত্যাগীদের। ফের বাংলার ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
রাজ্য

রোড শো’তে উপচে পড়া ভিড়, হুডখোলা গাড়ি থেকে পরিবর্তনের ডাক শাহের

রবিবার অনুব্রত মণ্ডলের খাস তালুকে রোড শো করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কর্মীদের ভিড় এতটাই ছিল এক কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে সময় লেগে গেল এক ঘণ্টারও বেশি। শুধু তাই নয় রাস্তার দুপাশে বিজেপির কর্মী সমর্থকদের ভিড় এতটাই ছিল যে রাস্তার দুপাশে দড়ি দিয়ে আটকে রাখা যাচ্ছিল না কর্মী-সমর্থকদের। রীতিমতো পুলিশকে বেগ পেতে হয় কর্মী-সমর্থকদের আটকানোর জন্য। অমিত শাহের রোড শো এর একদম প্রথমে ছিলেন বীরভূমের পুলিশ সুপার। হুডখোলা গাড়িতে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ কে সঙ্গে নিয়ে এদিন রোড শো-র প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভালো মুডে দেখা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রোড শো-র প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত গোলাপের পাপড়ি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়তে ছুঁড়তে গেলেন অমিত শাহ। আরও পড়ুন ঃ পাহাড়ে বিমলের সভার আগে আদিবাসীদের হুঁশিয়ারি আগুন জ্বলবে এরপর হুডখোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে সুর চড়ালেন অমিত শাহ। বলেন, এরকম রোড শো জীবনে দেখিনি। এটা ঐতিহাসিক। ডাকবাংলো মোড় থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত রোড শোতে ভিড় প্রসঙ্গে বার্তা দেন শাহ। মেদিনীপুরের পর বীরভূমে অনুব্রতর গড়ে ফের পরিবর্তনের বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। এছাড়াও বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে সোনার বাংলা গড়ার ডাক শাহের। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, তোলাবাজি বন্ধে পরিবর্তন দরকার। বিজেপি বাংলার উন্নয়ন করবে। রোড শো ঐতিহাসিক। এরকম র্যালি আগে দেখিনি। মোদিজির প্রতি ভালবাসা দেখছি। হিংসা বদলে বদল জরুরি। ভাইপোর দাদাগিরি বন্ধ হবে। অমিতের দাবি, বাংলার উন্নয়ন করবে বিজেপির সরকারই। বলেন, যেখানে বিজেপির শাসন, সেখানেই উন্নয়ন। উন্নয়নের রাস্তা থেকে সরে গিয়েছে বাংলা। পাশাপাশি মানুষের কাছে বিজেপিকে ভোটে জয়ী করার আহ্বানও জানান তিনি। বলেন, এতদিন তো কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূলকে দেখলেন। কিন্তু তাতে কি অবস্থার কোনও বদল হয়েছে? বিজেপিকে একটি বার সুযোগ দিন, সোনার বাংলা গড়ব।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
কলকাতা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওদিন দলবদল করেনি, দাবি সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনওদিন দলবদল করেনি। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে নিজের দল প্রতিষ্ঠা করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটাকে দলবদল বলে না। এভাবেই রবিবার মেদিনীপুর কলেজ মাঠের জনসভায় করা অমিত শাহের বক্তব্যের জবাব দিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, অমিত শাহর মতো একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সেটা জানা উচিত ছিল। বারবার বাংলায় এসে একটা দল যদি তৃণমূলকে অপমানজনকভাবে উপেক্ষা করার চেষ্টা করে তা হলে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করব। রাজ্য সরকারের নামে একের পর এক মিথ্যে কথা বললে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। বাংলার মানুষ এই বঞ্চনার জবাব বিজেপিকে দেবে। আরও পড়ুন ঃ অনুব্রত বিজেপিতে যোগ দিতে চাইলে ভেবে দেখবেনঃ দিলীপ ঘোষ সুব্রত মুখোপাধ্যায় এদিন আরও বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী বারবার দাবি করেছেন, তাঁর সরকার নাকি বাংলাকে ধান, শস্য দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের কর্মীরা সেই ধান, শস্য রাজ্যবাসীকে দেয়নি। নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। কিন্তু আসল সত্যি অন্য। মমতার সরকার রাজ্যের দশ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। মহামারীর সময় দেশের কোনও রাজ্য সরকার মানুষের জন্য এমন ব্যবস্থা করতে পারেনি। মমতার সরকার যেটা করেছে তা ভারতের ইতিহাসে লেখা থাকবে। কেন্দ্র দাবি করেছে, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা তারা বাংলার জনগণকে দিতে চেয়েছে। কিন্তু তৃণমূল নাকি রাজ্যে তা চালু করতে দেয়নি। এই রাজ্যে দেড় কোটির বেশি মানুষ বার্ষিক ৫ লাখ টাকা করে স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেয়েছেন। তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের উপর নির্ভর করে ছিল না। অমিত শাহ হোম মিনিস্টার। এত বড় পদে থেকে ভুল তথ্য দিলে আমরা প্রতিবাদ করব। বাংলার মানুষও প্রতিবাদ করবে। তিনি এদিন আরও বলেন, যাঁরা বাংলার সংস্কৃতি বোঝেন না, বাংলার গর্ব বিদ্যাসাগর-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান দেয় না, তাঁরা আবার বাংলা দখলের স্বপ দেখেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিদ্যাসাগরের মূর্তিভাঙা প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। আক্রমণ শানান শুভেন্দু-সহ দলত্যাগী সকল নেতাদের উদ্দেশেও। বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতার অভিযোগ, যাঁরা এভাবে দল ছাড়েন তাঁরা বিশ্বাসঘাতক। তাঁরা মীরজাফর, জগৎ শেঠ। মানুষ এঁদের ক্ষমা করে না। বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে সুব্রতবাবুর শ্লেষ, একা শুভেন্দুকে নিয়েই ২৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে। এরপর কোনদিন তো বলে বসবেন ৩০০-এর বেশি আসন পাবে! এখনই সামলে নেওয়া উচিৎ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পূর্ব মেদিনীপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা মামুদ হোসেন তার ৫০০ অনুগামীকে নিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। সুব্রত মুখোপাধ্যায় তার হাতে পতাকা তুলে দিয়ে দলে স্বাগত জানান।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
রাজ্য

বোলপুরের বাউল বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ অমিত শাহর

শ্যমবাটিতে বাউল শিল্পী বাসুদেব দাসের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্দিষ্ট সময়ের খানিকটা পরেই অমিত শাহ পৌঁছন বাউল বাসুদেবের বাড়িতে। সেখানকার শিবমন্দিরে প্রথমে পুজো দেন। এরপর দাওয়ায় এসে বসেন। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন বাড়ির মেয়েরা। তোমায় হৃদমাঝারে রাখব গান শুনে মধ্যাহ্নভোজ সারেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়, অনুপম হাজরা প্রমুখ। কথা ছিল, বোলপুরে গেলে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একেবারে স্থানীয় খাবার খাবেন বাউল পরিবারে। আরও পড়ুন ঃ ৭০ বছর পর ঐতিহাসিক সাফল্য ভারত সরকারের সেইমতো রবিবার অতিথি আপ্যায়ণের জন্য সকাল থেকেই তোড়জোড় শুরু হয় রতনপল্লির বাউল বাসুদেব দাসের পরিবারে। পাতে ছিল, ভাত, মুগের ডাল, বেগুন ভাজা, পালং শাকের তরকারি, আলু পোস্ত, চাটনি। কলাপাতায় এই সব পদ সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, নিজের গলায় একখানা গানও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শোনান শিল্পী। মাটির দাওয়ায় বসেই তা বেশ উপভোগও করলেন অমিত শাহ।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
রাজ্য

৭০ বছর পর ঐতিহাসিক সাফল্য ভারত সরকারের

৭০ বছর ধরে ভারত সরকার তেলের খোঁজ চালাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ১৯৪৯ সালে থেকেভারত সরকার খোঁজা শুরু করে এরপর ষাটের দশক থেকে ওএনজিসি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তেলের খোঁজ শুরু করে। কিন্তু বড় কোন সাফল্য দেখতে পাইনি ভারত সরকার। মোদি সরকারের নেতৃত্বে ২০১৪ সালে সরকার আরও জোর দিতে শুরু করে খনিজ তেলের ওপর। এরপরই পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাইগাছি এলাকায় শুরু হয় খননের কাজ। প্রথম পর্যায় অনেক প্রধান জানায় তিনি এলাকা পরিদর্শন করবেন।সেই মতই রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার অশোক নগর বাইগাছি এলাকায় আসেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মন্ত্রী নিজে খনিজ তেল উৎপাদন স্থলের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে দেখে জানায় উৎকৃষ্টমানের তেল এই এলাকা থেকে পাওয়া যাচ্ছে। এরপর এই তেল হলদিয়ায় নিয়ে গিয়ে সংশোধন করা হবে বলে জানায় মন্ত্রী। এছাড়া তিনি জানায়, স্থানীয় উন্নতির আরো একধাপ নতুন পালক হয়ে উঠবে এই অশোকনগরের খনিজ তেল উৎপাদন কেন্দ্র। আরো দুধাপ জায়গা নিয়ে আরো বড় প্লান্ট তৈরি করা হবে। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান আরো বাড়বে বলে দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন ঃ বিশ্বভারতীর সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিলেন অমিত শাহ এছাড়াও রাজ্যের অর্থনীতি আরো ভালো তৈরি হবে বলে জানান তিনি।পশ্চিমবঙ্গের অশোকনগর কেন্দ্রের যে তেল উৎপাদন হচ্ছে তা উৎকৃষ্টমানের তেল। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তেল সাপ্লাই করা হবে। এর জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান স্থানীয় ওএনজিসি কর্মীদের। মন্ত্রী জানায় স্থানীয় মানুষদের সাহায্য অত্যন্ত জরুরী এছাড়াও এখানে যে ট্রাক বা যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে তার ফলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান বাড়বে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাশক্তির বলে দেশ আরও আত্মনির্ভর হচ্ছে। পূর্ব ভারতে বেশি করে সাফল্য মিলছে। আমরা একদিকে যেমন সোনার বাংলা গড়বে পাশাপাশি জয় বাংলা স্লোগানও তুলব। তিনি বলেন, আমরা এই এলাকায় আরও অনুসন্ধানের কাজ শুরু করব। স্থানীয় প্রশাসনের তাতে সহযোগিতা চাই। যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এদিনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের দেখা যায়নি।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
রাজ্য

বিশ্বভারতীর সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিলেন অমিত শাহ

লাল মাটির বোলপুরে অমিত শাহর কর্মসূচি ঘিরে সাজো সাজো রব। শাহী পোস্টার এবং কাটআউটে ছেয়ে গিয়েছে বোলপুরের চারদিক। বোলপুরে সকালেই পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পৌঁছানোর পর উপাসনা গৃহ ঘুরে দেখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর সঙ্গীত ভবনে যান শাহ। সঙ্গীত ভবনের পড়ুয়াদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দর্শকাসনে বসে অনুষ্ঠান দেখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহা। শান্তিনিকেতনে ভিজিটর্স বুকে নিজের প্রতিক্রিয়া লেখেন তিনি। সেখান থেকে বাংলাদেশ ভবনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন শাহ। আরও পড়ুন ঃ কৃষক পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন অমিত শাহর, খেলেন কলাপাতায় অমিত শাহ বলেন, আমি এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সম্মান জানালাম। আজ খুব সৌভাগ্যের দিন। জগতকে বাংলার সঙ্গে যুক্ত করতে শান্তিনিকেতন তৈরি করা হয়েছিল। শতবর্ষ উদযাপিত হতে চলেছে বিশ্বভারতীর। তাই এটাই সময় বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি সঙ্গে সকলের পরিচয় ঘটানোর। কদিকে বাঙলি মনন-আবেগকে নাড়া দেওয়া, অন্যদিকে হিন্দুত্বের মোড়কে বিজেপির প্রচার। এই দুয়ের লক্ষ্যে ভোটের আগে এবার বঙ্গ সফরে অমিত শাহ।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
রাজনীতি

বিধানসভা ভোটের আগে দলের বৈঠকে সংগঠন মজবুতের উপর জোর অমিত শাহের

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। শনিবার রাতে নিউটাউনের হোটেলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নেতা-কর্মীদের হোম টাস্ক বেঁধে দিলেন অমিত শাহ। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিজেপির রাজ্য নেতাদের সমস্ত কর্মসূচি বেধে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যার মধ্যে সবচেয়ে জরুরি বুথস্তরে সংগঠন মজবুত করা। কীভাবে হবে সেই কাজ? ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজে কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি যেতে হবে। আরও পড়ুন ঃ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে শুভেন্দুর শ্লোগান তোলাবাজ ভাইপো হঠাও পাশাপাশি প্রতি বুথে পাঁচটি করে দেওয়াল লিখন করাতে হবে। এককথায়, এবার মাঠে নেমে গা ঘামাতে হবে বিজেপির বুথস্তরের কর্মীদের। যা দেখে কেউ কেউ বলছেন, তৃণমূল স্তরে ঘর গুছিয়ে তৃণমূলকে মাত দিয়ে চাইছেন শাহ। সেদিকে নজর রেখেই রাজ্যে আগামীদিনে শুভেন্দুকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এমনকী, নির্বাচনী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্বও পেতে পারেন তিনি। নিউটাউনের বৈঠকেই অমিত শাহ জানিয়েছেন, নতুন বছরে জানুয়ারি মাসে তিনদিন রাজ্যে আসবেন তিনি এবং জে পি নাড্ডা।

ডিসেম্বর ২০, ২০২০
রাজ্য

কৃষক পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন অমিত শাহর, খেলেন কলাপাতায়

মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একাধিক কর্মসূচির মাঝে মধ্যাহ্নভোজ সারতে বালিজুড়ি গ্রামে কৃষক পরিবারে পৌঁছলেন তিনি। পরিবারের মহিলা সদস্যরা শঙ্খধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান তাঁকে। মেদিনীপুরের বালিজুড়ির কৃষক ঝুনু ওরফে সনাতন সিংয়ের বাড়িতে তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। মাটি দিয়ে নিকোনো বাড়িতে সূক্ষ্ম হাতে আঁকা হয়েছিল আলপনা। এছাড়াও লেখা হয় স্বাগতম। শুক্রবার সকাল থেকে গেরুয়া শিবিরের নেতাকর্মীদের আনাগোনা লেগেই ছিল। বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয়েছিল নিরাপত্তারক্ষীদের। শনিবার দুপুর দেড়টার কিছু পরে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কৃষক সনাতনের মাটির বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কনভয়। সেই সময় তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সনাতনের পরিজনেরা। আরও পড়ুন ঃ ক্ষুদিরাম বোসকে স্মরণ অমিত শাহের পরিবারের মহিলা সদস্যরা শঙ্খধ্বনি দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অল্প কিছুক্ষণ আলাপচারিতা সারেন অমিত শাহ। বসেন বাড়ির সামনে থাকা খাটিয়ায়। তারপর ধীরে ধীরে সনাতন সিংয়ের বাড়ির দাওয়ায় গিয়ে পৌঁছন অমিত শাহ। মাটিতে বসে কলাপাতায় খাবার খান তিনি। তাঁর মেনুতে ছিল লাউ মুগডালের বিশেষ পদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খাওয়ানো হয় ভাত, রুটি, উচ্ছে ভাজা, পটল ভাজা, বেগুন ভাজা, খসলা শাকের ভাজা, লাউ মুগডাল, শুক্তো, চাটনি ও পাঁপড়। ছিল স্যালাড এবং টক দই। পরিমাণে অল্প হলেও সব পদই খান তিনি। তাঁর সঙ্গে একই পংক্তিতে বসে ওই খাবার খান দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়রাও।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২০
রাজ্য

ক্ষুদিরাম বোসকে স্মরণ অমিত শাহের

ক্ষুদিরাম বোস যতটা বঙ্গ থেকে ছিলেন ততটা ভারতবর্ষের এবং পন্ডিত রাম প্রসাদ বিসমিল ততটাই উত্তরপ্রদেশ থেকে, যতটা পশ্চিমবঙ্গ থেকে। পশ্চিম মেদিনীপুরে শহীদ ক্ষুদিরাম বোসের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, আমরা দেশের জন্য মরার সুযোগ পাইনি, তবে আমরা দেশের জন্য বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছি। আসুন আমরা সাহসী শহীদ ক্ষুদিরাম বোসকে স্মরণ করি এবং তাঁর নির্ধারিত পথে চলি এবং দেশের বিশিষ্ট প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী ও সুরক্ষিত ভারত গড়ে তুলি। আজ আমি সেই সাহসী শহীদ ক্ষুদিরাম বোসের জন্মস্থানে আসার সৌভাগ্য পেয়েছি যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর সর্বস্ব ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁর জন্মস্থানে এসে এখানের মাটি, হাওয়ার স্পর্শ কপালে পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গ ও বাঙালি পুত্রদের অবদান ভারত কখনই ভুলতে পারে না। ক্ষুদিরাম বোস ছিলেন এই ঐতিহ্যের বাহক। তিনি এমন সাহসী যুবক ছিলেন, যিনি কেবল ১৮ বছর বয়সে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করে হাতে গীতা নিয়ে ফাঁসির দড়িকে চুম্বন করার সাহস দেখিয়েছিলেন। এ সময় তাঁর জনপ্রিয়তা সারা দেশে এত বেশি ছিল যে কিছু তাঁতি ধুতিতে ক্ষুদিরাম বোস লিখতে শুরু করেছিলেন এবং তিনি বাংলার যুব সমাজের স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়েছিলেন। ফাঁসির দড়ি গলায় পরার আগে শহীদ ক্ষুদিরাম বোস দ্বারা উচ্চারিত বন্দে মাতরমের স্লোগানটি বঙ্গ ও ভারতের যুবকদের মুক্তির স্বপ্নে পরিণত হয়েছিল। আরও পড়ুন ঃ বিজেপিতে শুভেন্দু সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতার যোগদান এটি একটি কাকতালীয় ঘটনা যে এই দিনে মহান দেশপ্রেমিক পন্ডিত রাম প্রসাদ বিসমিল, আশফাক উল্লা খান এবং ঠাকুর রওশন সিংকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। আজ এই তিন সাহসীদের শহীদ দিবসও। তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আজ আমি সেই তিন সাহসী শহীদকেও প্রণাম জানাই। আমি যখন বাংলায় এসেছি, এখানে এসে এই মাটির মাটি মাথায় রেখে নতুন চেতনা এবং নতুন শক্তি অনুভব করছি। আমি আজ থেকে এখানকার তরুণদের বলতে চাই যে আমরা দেশের জন্য মরার সুযোগ পাই নি, তবে অবশ্যই দেশের জন্য বাঁচার সুযোগ পেয়েছি। আসুন আমরা সাহসী শহীদ ক্ষুদিরাম বোসকে স্মরণ করি এবং তাঁর নির্ধারিত পথে চলি এবং দেশের বিশিষ্ট প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী, শক্তিশালী ও সুরক্ষিত ভারত গড়ে তুলি। আমি আবারও সাহসী শহীদ ক্ষুদিরাম বোসের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তাঁকে প্রণাম জানাই। বছরের পর বছর ধরে, তাঁর সর্বোচ্চ ত্যাগ দেশের যুব সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে, তাদের পক্ষে দেশের জন্য বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতি নিতে এবং যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সংকল্পকে শক্তিশালী করতে বাধ্য করবে। তাদের পরিবারের পায়ে মাথা নত করে আমি আবারও আমার কথা শেষ করি। এছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গবাসীর সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধি কামনায় মেদিনীপুরের মা সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে প্রার্থনা করেন। মা কালীর ঐশ্বরিক আশীর্বাদই পারে সকলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ নিশ্চিত করতে।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 28
  • 29
  • 30
  • 31
  • 32
  • 33
  • 34
  • ...
  • 37
  • 38
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal