• ২০ আশ্বিন ১৪৩৩, শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mamata Banerjee

রাজ্য

কেন বাংলায় নিষিদ্ধ ‘দ্য কেরালা স্টোরি’? কি বলছেন মুখ্যমন্ত্রী ও সংঘ পরিবার?

বাংলায় দ্য কেরালা স্টোরি নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সরকার। নিষিদ্ধ ঘোষণার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে দ্য কেরালা স্টোরি তৈরি করে বিজেপি উদ্দেশ্য প্রণোদিত উসকানি দিচ্ছে। দ্য কেরালা স্টোরি নিষিদ্ধ করতে মুখ্যসচিবকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের শান্তি সৌহার্দ্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ বলে খবর। যদিও বিজেপি ও হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি, সংখ্যালঘু তোষণ করতেই দ্য কেরালা স্টোরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়।সোমবার নবান্নে দ্য কেরালা স্টোরি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই অস্বস্তি ব্যক্ত করেন। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এই সিনেমা নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেন। মমতার দাবি, ওরা বিভাজনের রাজনীতি করছে। কেন দ্য কাশ্মীর ফাইলস বানালো ওরা? এক শ্রেণীর মানুষকে কটাক্ষ করার জন্য। এখন কেরালা স্টোরি বানিয়েছে। ওটা সিপিএম-এর রাজ্য। আমি ওদের একেবারেই সমর্থন করি না। ওরা বিজেপি-র সঙ্গে চলছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি মনোনীত কিছু তারকা তো বাংলাতেও এসেছিলেন। তাদের টাকা দেয় বিজেপি। তথ্য বিকৃত করে তারা নাকি বেঙ্গল ফাইলস নামে একটি ছবি বানাচ্ছে। আগে কাশ্মীর ফাইলস, তারপর দ্য় কেরল স্টোরি, এবার বাংলার মানুষদের তাতাতে বেঙ্গল ফাইলস তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে বাংলাকেও অপমান করার চেষ্টা করছে। ওরা বলছে, সেভ বেঙ্গল। কেন? শান্তিপ্রিয় একটা রাজ্য বাংলা। বিজেপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে কেন?তবে মুখ্য়মন্ত্রীর সিনেমা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর বিজেপি ও সংঘ পরিবার একযোগে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। দ্য কেরালা স্টোরির বাঙালি পরিচালক সুদীপ্ত সেন আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী আইসিসকে সমর্থন করছেন। তিনি সন্ত্রাসবাদীদের পক্ষে সমর্থন করছেন। আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, সত্যি ঘটনাকে আড়াল করতে চাইছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক টিকিয়ে রাখতেই এই পদক্ষেপ। বাঙালি হিন্দুদের অস্তিত্ব বিপন্ন নিয়ে সিনেমা হওয়া উচিত বলেও মনে করে সংঘ পরিবার। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সাংগঠনিক পর্যায়ে বৈঠক করছে আরএসস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

মে ০৯, ২০২৩
কলকাতা

পোষ্যকে হাতে নিয়েই ট্রেডমিলে ঘাম ঝড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ভিডিও ভাইরাল

ট্রেডমিলে হাঁটতে হাঁটতে বাজেট তৈরির কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যখন তিনি হাঁটার সময় পান না তখন ট্রেডমিলেই সেই কাজ সেরে নেন। রবিবার ছুটির দিনে ইনস্টাতে ট্রেড মিলে হাঁটার ভিডিও পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পোষ্যকে হাতে নিয়েই ট্রেডমিলে ঘাম ঝড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কয়েক সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে তাঁর হাতে মিষ্টি দেখতে একটি লোমশ বিদেশি কুকুর রয়েছে। সেই কুকুরটি হাতে নিয়েই ট্রেডমিলে হাঁটছেন মমতা। অবাক পানে তাকিয়ে রয়েছে কুকুরটি। সে কোনও দুষ্টমি করছে না।বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যখন মিছিলে হাঁটেন তখন তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেন না নেতা-নেত্রীরাও। এমনকী তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও প্রায় ছুটতে থাকেন। যখন বাইরে হাঁটার সময় পান না তখন ট্রেড মিলেই হাঁটা সেরে নেন তিনি। এবার ট্রেডমিলে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ওই মিষ্টি পোষ্যকে দেখে নেটিজেনরা মজার মজার মন্তব্য করেছেন।

মে ০৭, ২০২৩
রাজ্য

“অমর্ত্য সেনের বাড়িতে হাত দিলে আমি যা দেব না”, হুঙ্কার মুখ্যমন্ত্রীর, প্রতিবাদ মিছিল শান্তুনিকেতনে

জমি ইস্যুতে অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য় সেনের পাশে যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় রয়েছেন তা ফের ঘোষণা করে জানিয়ে দিলেন। আন্দোলনে নামার নির্দেশও দিয়ে গেলেন তিনি। অমর্ত্য সেনের বাড়িতে হাত দিলে আমি যা দেব না, আমায় চেনে না। মালদা থেকে ট্রেনে কলকাতা ফেরার পথে বোলপুর ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন মহিলাদের সামনে রেখে আন্দোলনে শামিল হতে। বঙ্গজননী ও পড়ুয়াদের সামনে রেখে আন্দোলনে করতে নির্দেশ দেন তিনি।ঘোষণা মতো শুক্রবার রবীন্দ্রভূমীতে রক্তকরবী মঞ্চস্থের মধ্য দিয়ে ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকে অমর্যাদার জন্য প্রতিবাদ জানানো হয়। কলকাতা থেকে চিত্রপরিচালক গৌতম হালাদার, অভিনেত্রী চৈতী ঘোষ সহ অনান্য শিল্পীর রক্তকরবী মঞ্চস্থ করে প্রতিবাদে শামিল হয়। শান্তিনিকেতন এখন যক্ষপুরী হয়ছে বলে দাবি করছেন শিল্পীরা।নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি, মানববন্ধন ও নাটকের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ হয় শান্তিনিকেতনে। এদিন প্রতীচী বাড়ি সংলগ্ন মোড় থেকে বিশ্বভারতীর সমবায় ব্যাঙ্ক পর্যন্ত পদযাত্রা করেন সামাজিক মর্যাদা রক্ষা কমিটি। পরে রাস্তার উপর রক্তকরবী নাটক পরিবেশন করে প্রদিবাদ করেন শিল্পীরা৷এদিকে ফের বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা আদালতকে মর্যাদা দিই। ম্যাজিস্ট্রেট অমর্ত্য সেনের প্রতীচী বাড়ির সামনে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। সেই ধারা লঙ্ঘন করে কি করে এত মানুষ জমায়েত হয়ে কর্মসূচি করতে পারে? আইন কি শুধু বিশ্বভারতীর জন্যই?নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ১৩ ডেসিমেল জমি দখল করে রেখেছেন। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এই অভিযোগ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে সর্বস্তরে। তবে প্রয়াত পিতা আশুতোষ সেনের উইল অনুযায়ী উত্তরাধিকার সূত্রে জমি তাঁরই, দাবি করেন অমর্ত্য সেন। ইতিমধ্যেই এই মর্মে সিউড়ি জেলা আদালত ও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অধ্যাপক সেন। হাইকোর্ট বিশ্বভারতীর জমি খালি করার নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।কিন্তু, দিনের পর দিন বিশ্ব বরেণ্য ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকে জমি দখলকারী, জমি কব্জাকারী প্রভৃতি শব্দে বলে এক প্রকার হেনস্থা ও অবমাননা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই মর্মে অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের ভূমিকার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের মানুষজন।শুক্রবার অমর্ত্য সেনকে উচ্ছেদের হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে প্রতীচী বাড়ি সংলগ্ন শিক্ষাভবন মোড় থেকে পদযাত্রা করেন সামাজিক মর্যাদা রক্ষা কমিটি। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে নাট্যকর্মী, সমাজকর্মী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন মানববন্ধন কর্মসূচিতে। প্রতিবাদ মিছিলে হাজির ছিলেন শান্তিনিকেতনের আশ্রমিকেরাও। উপাসনা গৃহের সামনের রাস্তা দিয়ে মিছিল শেষ হয় বিশ্বভারতীর সমবায় ব্যাঙ্কের কাছে৷ সেখানে রাস্তার উপর রক্তকরবী নাটক মঞ্চস্থ করে প্রতিবাদ করেন নাট্যকর্মীরা।

মে ০৬, ২০২৩
রাজ্য

বর্ধমানের জেলাশসক ও পুলিশ সুপারকে আমের প্যাকেট উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

মালদা যাওয়ার সময় বর্ধমান স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ানোয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেছিলেন। প্রশাসনিক বৈঠক ও দলীয় সভা করতে মালদা গিয়েছিলেন তিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে ফেরার পথে বর্ধমান স্টেশনে ফের একই ভিড় চোখে পড়ল। তবে এবার বিশেষ ঘটনার সাক্ষী থাকল উপস্থিতি মানুষজন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় আম ভর্তি প্যাকেট উপহার দিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা ও পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেনকে। হাজির ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।শুক্রবার ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে চড়ে মালদা থেকে কলকাতায় ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৫টার পর কাঞ্চনজঙ্ঘা বর্ধমান স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়। মুখ্য়মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক প্রিয়াংকা সিংলা ও পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ট্রেনের কামরা থেকে বেরিয়ে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের হাতে আম ভর্তি প্যাকেট ও তোয়ালে উপহার দেন। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ দায়িত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বপন দেবনাথ বলেন, মুখমন্ত্রী আমার সঙ্গে জেলার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেছেন। ৫ টা ১৩ মিনিটে ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস বর্ধমান স্টেশন ছেড়ে চলে যায়।

মে ০৫, ২০২৩
রাজনীতি

দিল্লিতে 'নিখোঁজ' মুকুল শেষমেশ রাতে ধরা দিলেন, জানালেন তিনি বিজেপিতেই রয়েছেন

মুকুল রায় নাকি নিখোঁজ? বাবাকে কোন দুজন যুবক সল্টলেকের বাড়ি থেকে এয়ারপোর্টে নিয়ে গিয়েছে। রীতমতো এয়ারপোর্ট অথরিটি, এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মুকুলপুত্র শুভ্রাংশু রায়। এমনকী বীজপুর থানায়ও অভিযোগ দায়ের করে শুভ্রাংশু। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ দিল্লিও চলে গিয়েছে মুকুল রায়ের খোঁজ করতে। কিন্তু রাতেই সংবাদ মাধ্যমে মুকুল রায় জানিয়ে দেন, তিনি স্বেচ্ছায় দিল্লি এসেছেন। কেউ তাঁকে জোর করেনি। তাঁর সঙ্গে শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা হয়েছে।গতকাল রাতে মুকুল রায় দুজন সঙ্গীকে নিয়ে দিল্লিতে যাওয়ার পর থেকে রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় হয়ে যায়। প্রথম দফায় মুকুল নিখোঁজ বলে তোলপাড় হয়ে যায় শুভ্রাংশুর বক্তব্যের পর। তারপর গতকাল রাতেই দিল্লি বিমানবন্দরে দেখা মেলে মুকুল রায়ের। তিনি দিল্লিতে কয়েক দিন থাকবেন বলেও প্রতিক্রিয়ায় জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সারা দিন মুকুলের কোনও খোঁজ মেলেনি। তারই মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা ফেসবুক পোস্ট করেন প্রত্যাবর্তন। ফের হইচই শুরু হয়ে যায় এই পোস্টকে কেন্দ্র করে।শেষমেশ রাতে এক সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মুকুল রায় জানিয়ে দেন, তিনি বিজেপিতে থেকেই রাজনীতি করবেন। শুভ্রাংশুর বিজেপিত যোগদান করা উচিত। কোনও দিন আমি তৃণমূল করিনি। ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তৃণমূল আর করব না। মুকুলের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আশার পর ফের শোরগোল পরে যায় রাজনৈতিক মহলে। সেভাবে আর মুকুলের প্রতিক্রিয়ার জবাব দিতে পারেননি পুত্র শুভ্রংশু। এখন দেখার বিষয় ফের কি গেরুয়া উত্তরীয় গলায় পরতে চলেছেন মুকুল? এই চর্চাই চলছে রাজনৈতিক মহলে।

এপ্রিল ১৮, ২০২৩
রাজনীতি

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস আর জাতীয় নয়, উঠে এল কেজরিওয়ালের আপ

৭ বছরেই শেষ জাতীয় দলের মর্যাদা। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবার আঞ্চলিক দলে পরিণত হয়েছে। সোমবার এই খবর জানিয়ে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন, তার আগেই চলে গেল সর্বভারতীয় তকমা। জাতীয় দলের মর্যাদা চলে গিয়েছে এনসিপি ও সিপিআইয়ের। অন্য দিকে আম আদমি পার্টি জাতীয় দলের স্বীকৃতি পেল। দিল্লি ও পঞ্জাবে রয়েছে আপের সরকার। গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে গিয়ে কুপোকাৎ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে তো চোখের জল নাকের জল এক করে ফেলেছে তৃণমূল। সেখানে নোটার থেকেও কম ভোট পয়েছে মমতার দল। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় দল হিসাবে তাদের মর্যাদা কেন কেড়ে নেওয়া হবে না? গত বছর জুলাইয়ে তৃণমূল, এনসিপি এবং সিপিআইকে চিঠি পাঠিয়ে জবাবদিহি চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন।কীভাবে জাতীয় দলের মর্যাদা পাওয়া যায়?প্রথমত, লোকসভা নির্বাচনে কোনও দলকে অন্তত তিনটি রাজ্য থেকে ভোটে লড়তে হবে ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে মোট লোকসভা আসনের ২ শতাংশ আসনে জিততে হবে।দ্বিতীয়ত, লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৪টি রাজ্যে ৬ শতাংশ করে ভোট পেতেই হবে ও এক বা তার বেশি রাজ্যে ৪টি লোকসভা আসন পেতে হবে।তৃতীয়ত, ৪টি বা তার বেশি রাজ্যে রাজ্য দলের তকমা থাকতে হবে দলের কাছে। এই তিন শর্তের যে কোনও একটি পূরণ করলেই জাতীয় দলের তকমা পাওয়া যায়।উল্লেখ্য, উপরোক্ত তিনটে শর্তের কোনওটি পূরন করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা মেঘালয়ের পাঁচ তৃণমূল বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তৃণমূলের জাতীয় দলের মর্যাদা চলে যেতেই বঙ্গ বিজেপি রেরে করে উঠেছে।

এপ্রিল ১০, ২০২৩
রাজ্য

সাগরদিঘির ধাক্কা, পঞ্চায়েত ভোটের আগে শক্ত হাতে সংগঠন গড়তে ময়দানে মমতা

মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির উপনির্বাচনে পরাজয়ে রীতিমতো নাড়াচাড়া দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। মুসলিম ভোট যে পুরোপুরি সুরক্ষিত নয়, তাও জানান দিয়েছে সাগরদিঘি। শুক্রবার কালীঘাটে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠকে বেশ প্রভাব ফেলেছে সাগরদিঘির পরাজয়। ফের দলের সংগঠন শক্ত হাতে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকের পর সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণায় রাজ্যে ও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, মাসে তিন দিন জেলা স্তরে সাংগঠনিক বৈঠক করবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য সংগঠনকে শক্তিশালী করা। এর পাশাপাশি সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রেখে আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমো শুক্রবার বৈঠক করেন সমাজবাদী নেতা অখিলেশ যাদবের সঙ্গে। ২৩ এপ্রিল মমতা বৈঠক করবেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের সঙ্গে। তারপর দিল্লি যাবেন মমতা। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফের রাজ্যে ও সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে দলকে শক্তিশালী করতে নিজেই উদ্যোগী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।পর্যবেক্ষক না বললেও ফের জেলায় জেলায় দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। এই পর্যবেক্ষক প্রথা তুলে দিয়েছিল তৃণমূল। একটা সময় মনে করা হচ্ছিল শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা খর্ব করতেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যবেক্ষক প্রথা তুলে দিয়েছিল। পরে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘুরিয়ে পর্যবেক্ষক প্রথা চালু করে দিল তৃণমূল। মোদ্দা কথা দলের হাল ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আদি তৃণমূলীরা অবহেলিত বলে দলে দাবি উঠছিল। আজকের বৈঠকে অনেকটাই বাড়তি দায়িত্ব বর্তেছে প্রবীন নেতাদের ওপর। বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে সংখ্যালঘু ভোটের দিকে। মালদা ও মুর্শিদাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ও মোশাররফ হোসেনকে।

মার্চ ১৭, ২০২৩
রাজ্য

'পাঠান' শাহরুখ প্রচন্ড ব্যস্ত, সাংসদ অভিনেতা দেবকে বড় দায়িত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা দেবকে পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়ার প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেব ঘাড় নেড়ে সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান। রাজ্যের পর্যটন দফতরের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসাবে কাজ করবেন টলি অভিনেতা।বুধবার নবান্ন সভাগৃহে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোমোশনের বৈঠক চলছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেবও। হঠাৎই মুখ্যমন্ত্রী দেবকে বলেন, তুমি বাংলার অ্যাম্বাসাডর হও। দেব মাথা নাড়ে। প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান থাকছে না। বিষয়টি স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, তা নয়। শাহরুখ ব্যস্ত। তাই পর্যটনের ব্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হচ্ছে দেব। এ ব্যাপারে বিজ্ঞাপন তৈরির জন্য গৌতম ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী দেবকে বলেন, তুমি আরও দু তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে নাও।

মার্চ ১৫, ২০২৩
রাজ্য

‘হঠাৎ করে চাকরি চলে গেলে সে খাবে কী?’ আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি বাতিলের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তবে পর পর চাকরি বাতিলের ঘোষণায় উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার আলিপুর আদালতের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, কথায় কথায় লোকের চাকরি খাবেন না। কালও দুজন আত্মহত্যা করেছেন। হঠাৎ করে চাকরি চলে গেলে সে খাবে কী? এটা রাজনীতির বিষয় নয়। দয়া করে রাজ্যের বদনাম করবেন না।বেআইনি নিয়োগের কারণে সম্প্রতি ৮৮৪ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তার আগে একই কারণে গ্রুপ ডি এবং শিক্ষক পদেও চাকরি হারাতে হয়েছে অনেককে। সদ্য প্রকাশিত শিক্ষা দফতরের ওএমআর শিটে নম্বরের মহিমা যে কাউকে অবাক করতে বাধ্য। ০, ১, ২ নম্বর পাওয়া পরিক্ষার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে করা হয়েছে ৫৪, ৫৫, ৫৬। সাদা চোখেই ধরা পড়েছে সীমাহীন দুর্নীতি। তবে চাকরি চলে যাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছেন।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এখন রোজ কথায় কথায় ৩ হাজার চাকরি বাদ, ৪ হাজার চাকরি বাদ। নীচুতলার কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, এটা আমার চিরকালের স্বভাব। তবে কালও দুজন আত্মহত্যা করেছেন। কেউ ভুল করলে তার দায় তাঁরা নেবেন কেন? হঠাৎ করে চাকরি চলে গেলে সে খাবে কী? যাঁরা অন্যায় করেছে অ্যাকশন নিন। আমার কোনও দয়া নেই তাঁদের জন্য।এমনকী চাকরি বাতিল হওয়াদের ফের নতুন করে সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, ছেলেমেয়েদের সুযোগ দিন। দরকার হলে তাঁদের পরীক্ষা নিন। আদালত যেটা বলবে সেটা আমরা করব। দয়া করে চাকরি খাবেন না। এটা আমার মনের ভাবনা। কথায় কথায় লোকের চাকরি খাবেন না। এটা রাজনীতির বিষয় নয়। অন্য রাজ্যে তো এটা হচ্ছে না। এরাজ্যে কেন হচ্ছে? আমাকে দুবেলা গালাগালি দিন। দরকার হলে মারুন। দয়া করে রাজ্যটার বদনাম করবেন না। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় এসে একটা সিপিএম ক্যাডারেরও চাকরি খাইনি। তোমরা কেন খাচ্ছ? দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কাড়ছ কেন?

মার্চ ১৪, ২০২৩
কলকাতা

কলকাতার পাশেই এবার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা, দেখা মিলবে জিরাফ, জেব্রার সঙ্গে

আলিপুর চিড়িয়াখানা দেখার আক্ষেপ ভুলিয়ে দেবে নিউটাউনের চিড়িয়াখানা। নতুন চিড়িয়াখানায় নতুন জীবজন্তু দেখার সুযোগ নিউটাউনে। এই চিড়িয়াখানার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৬- তে। তখন সেটা ছিল ডিয়ার পার্ক। এখন আস্ত চিড়িয়াখানা।২০১৬-তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিউটাউনে উদ্বোধন করেছিলেন হরিণালয়ের। যেখানে এতদিন শুধু দেখা মিলত হরিণের দলের। এবার হরিণালয় বদলে গেল চিড়িয়াখানায়। এখন হরিণের সঙ্গে জিরাফ, জেব্রা, ম্যাকাও, কালো রাজহাঁস, নানান রঙিন পাখি, সবই দেখা যাবে সেখানে। খুব শীঘ্রই নিয়ে আসা হবে বাঘও।বৃহস্পতিবার দুপুরে এই চিড়িয়াখানার ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নয়া চিড়িয়াখানার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ বন দপ্তরের আধিকারিকরা। দ্বিতীয় এই চিড়িয়াখানাটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ১৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। এদিন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, এই চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়াতে বাঘ , সিংহ, শিম্পাঞ্জি সহ বিভিন্ন প্রজাতির বানর আনা হবে। আপাতত ঠিক হয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রবেশ মূল্যর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এখানে প্রবেশ টিকিটের মূল্য ধার্য করা হবে।

ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৩
রাজ্য

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বাজেট ভাষণে ক্ষুব্ধ বিজেপি, এক বছরেই উলোট-পূরাণ

রাজ্যপাল হায় হায় বলে স্লোগান দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকারের দেওয়া লিখিত ভাষণ পাঠ করা নিয়েই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত। রাজ্যপালের ভাষণ চলাকালীন চোর ধরো জেল ভরো স্লাগান দিতে থাকেন বিজেপি বিধায়করা। ছিঁড়ে দেওয়া হয় রাজ্যপালের ভাষণের কপি। ওয়াকআউট করে বিজেপি বিধায়করা। এমনকী রাজ্যপাল বিধানসভা চত্বরে গাড়িতে ওঠার সময়ও গেরুয়া শিবিরের বিধায়করা স্লোগান দিতে থাকেন।এর আগে প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকরের সময় বিপরীত দৃশ্য দেখা যেত। তখন রাজ্যপালকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাত তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়করা, এখন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে বিজেপি বিধায়করা। একেবারেই উলোট-পূরাণ।গতবছর ২০২২ রাজ্য বাজেট অধিবেশনে তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় ভাষণ না পাঠ করেই বিধানসভার কক্ষ ত্যাগ করছিলেন। তখন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, শিউলি সাহারা ঘেরাও করে ফেলেছিলেন ধনকড়কে। কোনওরকম ভাবে নামকা ওয়াস্তে রাজ্য সরকারের লিখিত ভাষণ পাঠ করে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর চোখের ইশারায় তৃণমূলের মহিলা বিধায়করা এমন কান্ড ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এখন বিজেপির স্লোগান-বিক্ষোভের সমালোচনা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যপাল বদলে যেতেই বদলে গেল বিধানসভার পরিস্থিতি। এমনকী রাজভবনকে তৃণমূল বলত বিজেপির সদর দফতর। এখন পরিস্থিতির অনেকটাই বদল ঘটেছে। জগদীপ ধনকড় রাজ্যপালের পদ ছেড়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে ভোটই দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস।২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। তখনও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে বিজেপি। তারপর সেন্ট জেভিয়ার্সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডি লিট প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছিলেন রাজ্যপাল।মোদ্দা কথা রাজ্যপালের কর্মকান্ডে খুশি নয় বঙ্গ বিজেপি। এখনও অবধি রাজ্যপালের অবস্থানে তৃণমূল স্বস্তিতে।

ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৩
রাজনীতি

'ক্যা ক্যা করার জন্য কাক আছে, তুমি(বিজেপি) কেন ক্যা ক্যা করছো,' কটাক্ষ মমতার

মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল এনআরসি থেকে সিএএ প্রসঙ্গে। সংখ্যালঘু ও মতুয়াদের জন্য রাজ্য কি করেছে সে কথাও বললেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজনীতি নিয়ে ভাবছে অর্থনীতি নিয়ে ভাবছে না। কেন্দ্রীয় শাসক দলটা কেন এত হিংসুটে? প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যালঘুদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবছে না বলেও দাবি তাঁর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু জনসংখ্য়া আছে। সেটা তো তাদের অপরাধ নয়। তারা যদি পড়াশুনো করতে চায় আমাদের কি উচিত তাঁদের পড়াশুনার ব্যবস্থা করা। নাকি উইপোকা কামড়ালেও তাঁদের একটা এজেন্সি পাঠিয়ে গ্রেফতার করা। কোনটা কাজ? তাদের পড়াশুনা করিয়ে এগিয়ে দেওয়াটা আমাদের কাজ।ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন স্কলারশিপ কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের স্কলারশিপ অনেক বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১কোটি ২০ লক্ষ সংখ্য়ালঘু ছেলেমেয়ের ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ দিচ্ছি। শিক্ষাশ্রী তপসিলি জাতি ও উপজাতিদের দিচ্ছি। ওবিসি স্কলারশিপ এবছর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। ওবিসিদের জন্য তৈরি করেছি মেধাশ্রী। মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেছেন, মতুয়াদের জন্য আমরা সবটা করেছি। তাঁর বক্তব্য, ভোট এলে হঠাৎ ভাত খেয়ে বলবে আমরা মতুয়ার বন্ধু হয়ে গেলাম। ক্যা ক্যা করে চিৎকার করবে, ওদের বলুন ক্যাক্যা করার জন্য কাক আছে। তুমি কেন ক্যা ক্য়া করছো? এনআরসির নামে সবাইকে জেলে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ক্যার নামে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। যতদিন মতুয়াদের বড়মা বেঁচে ছিলেন তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা কে করেছিল? আমি করেছিলাম। কেউ তাকিয়ে দেখেনি। আমরা কন্য়াশ্রী কলেজ করেছি, কৃষ্ণনগরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্য়াম্পাস করেছি, মতুয়া বাড়ির গেট করা হয়েছে। সৌন্দর্যকরণ করা হয়েছে। কি করা হয়নি? আমি চাই আপনাদের উন্নয়ন হোক। রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্র, গরুপাচার, কয়লাপাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা একাধিক তৃণমূল নেতা ও প্রশাসনিক কর্তাকে গ্রেফতার করেছে। বিজেপি চোর চোর বলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্লোগানও দিচ্ছে সভা-সমাবেশ। মমতা এদিন বলেন, আমরা যদি চোর হই তোমরা ডাকাত। তোমরা কি করছ। ডাকাত, গদ্দার বলে কটাক্ষ করে মমতার অভিযোগ, পুরুলিয়ার কোটা নিজের পকেটে রেখে দিয়েছিলেন। কেন তারা চাকরি পায়নি?

জানুয়ারি ৩১, ২০২৩
রাজ্য

নবান্নের ১৪ তলায় অমিত-মমতা একান্তে বৈঠক, সাফাই শুভেন্দুর

একান্তে বৈঠক মানেই সেটিং গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে এভাবেই কটাক্ষ করেছে সিপিএম ও কংগ্রেস। বিজেমূল কটাক্ষের ফের সুযোগ পেয়েছে নবান্নের ১৪ তলায় অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০ মিনিটের বৈঠকের পর। যদিও সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই দুদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তো এক পা এগিয়ে ওই বৈঠক নিয়ে অমিত শাহ যা তাঁকে বলেছেন তা সাংবাদিকদের শুনিয়েছেন। শুভেন্দু বলেছেন, সীমান্তে বিএসএফের চৌকি নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, শুভেন্দু যাই বলুক না কেন মমতা-অমিতের বৈঠকের প্রকৃত নির্যাস কি তা কি সহজে প্রকাশ্যে আসবে? প্রথমত মমতা বা শাহ কেউই সাংবাদিক বৈঠক করে কিছু বলেননি। তাছাড়া দুজন শীর্ষ নেতৃত্ব একান্তে কোনও কথা বললে তা প্রকাশ্যে চলে আসবে তা ভাবার কোনও কারণ নেই।এর আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করলেই সেটিং সেটিং বলে চিৎকার জুড়ে দিত সিপিএম ও কংগ্রেস। এবার তো নবান্নে বৈঠক করলেন মমতা-শাহ। শুভেন্দু আবার ওই বৈঠকের সাফাই গাইতে অমিত শাহ কি বলেছেন তা ঘোষণা করে দিলেন। সময়ই জানান দিতে পারে আদৌ শাহ-মমতা কি আলোচনা হয়েছে।

ডিসেম্বর ১৭, ২০২২
রাজ্য

বড় খবরঃ বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার ঘরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু, সরগরম রাজ্য-রাজনীতি

বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে দুজনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ। নন্দীগ্রামে একজন তৃণমূল অন্যজন বিজেপির প্রার্থী। নির্বাচনে ছিল চরম উত্তেজনা। ভোটের ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। ভোট গড়াল আদালত পর্যন্ত। দীর্ঘ দিন বাদে একই ঘরে মুখোমুখী আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও শুভেন্দুর সঙ্গী ছিলেন তিন বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, মনোজ টিগ্গা ও অশোক লাহিড়ী। বিধানসভায় মমতার ঘরে শুভেন্দু, এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। বিধানসভাও সাক্ষী থাকল বিরল ছবির।বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাাধ্যায়ের ঘরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরা ছিলেন মেরে-কেটে ৩-৪ মিনিট। এটাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তাঁকে নাকি একাই ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সঙ্গে দলের আরও তিন বিধায়ককে নিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে। সূত্রের খবর, এদিন মার্শালকে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ডেকেছিলেন বিরোধী দলনেতাকে।শুক্রবার বিধানসভার এই সাক্ষাতের ঘটনায় তোলপাড় হয়ে পড়ে রাজ্য-রাজনীতি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে ডেকেছিলেন। সংবিধান দিবসে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্যই ডেকেছিলেন। সাক্ষাতের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শুভেন্দুকে চা খেতে ডেকেছিলাম। সংবিধান দিবসে উপলক্ষ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর উদ্দেশে বলেন, ভাইয়ের মতো স্নেহ করতাম। রাজ্যে তৃণমূল বনাম বিজেপির চরম সংঘাতের মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বিরোধী দলনেতার সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে জল্পনা ছড়িয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। রে রে করে উঠেছে বাম-কংগ্রেস।

নভেম্বর ২৫, ২০২২
দেশ

বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃত জামালপুরের দম্পতির পরিচয়ের খোঁজে জেলায় বেঙ্গালুরু পুলিস

অনুপ্রবেশকারী অভিযোগে পশ্চিম বাংলার দম্পতি জেলে বন্দি। বেঙ্গালুরু পুলিশ নগরিকত্ত্বের তথ্য যাচাই করতে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে চষে বেড়ালো। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী অভিযোগে বেঙ্গালুরুর জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে রাজ্যের এক শ্রমিক দম্পতিকে। রেহাই পায়নি তাঁদের দেড়বছরের শিশু পুত্রও। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে শিশু পুত্র আদিকে সঙ্গে নিয়েই বেঙ্গালুরুর জেলে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় দম্পতি পলাশ অধিকারী ও শুক্লা অধিকারী।বেঙ্গালুরুর ভারথুর থানার পুলিশ এখন এরাজ্যে এসে বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে ঘুরে নথি সংগ্রহ করছেন। তার মাধ্যমে তাঁরা নিশ্চিৎ হতে চাইছেন, তাঁদের করা মামলার জেরে বেঙ্গালুরুর জেলে বন্দি থাকা দম্পতি আদৌ কি বাংলাদেশি! নাকি তারা প্রকৃতই ভারতীয় নাগরিক। এমনটা জেনে অধিকারী পরিবারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, এবার হয়তো পলাশ এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র জেল থেকে মুক্তি পাবে।দম্পতি পলাশ অধিকারী ও শুক্লা অধিকারী পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের তেলে গ্রামের বাসিন্দা। পলাশ ও তাঁর পরিবারের সবাই শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পলাশ স্ত্রী শুক্লাদেবী ও শিশু পুত্র আদিকে সঙ্গে নিয়ে চলতি বছরের জুন মাসের শেষের দিকে পলাশ কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরূ যান। একই উদ্দেশ্যে পলাশের বাবা পঙ্কজ অধিকারী এবং মা সবিতাদেবীও বেঙ্গালুরু যান। সেখানকার মারাথাহাল্লি (Marathahalli) মহকুমার ভারথুর (varthur) থানার সুলিবেলে (sulibela) গ্রামের কায়েন খাঁনের ডেরায় তারা ওঠেন।সেখানে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা মজুরির শর্তে তারা কায়েন খাঁনের অধীনে কাজ করা শুরু করেন।তাদের কাজ ছিল হোটেল,রেঁস্তোরা, সিনেমা হল সহ বিভিন্ন জয়গা থেকে সংগৃহীত বর্জ্যবস্তু,বোতল,প্লাস্টিক সরঞ্জাম এইসব বাছাই করা।গত ২৭ জুলাই ভারথুর (varthur) থানার পুলিশ কায়েন খাঁনের ডেরায় হানা দেয়। সেখানে যাঁরা যাঁরা বাংলাভাষী ছিল তারা সবাই নাকি বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী, এমন সন্দেহে ভারথুর থানার পুলিশ তাদেরও আরো পাঁচ জনকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময়ে পলাশ,তাঁর স্ত্রী,বাবা-মা সবাই ভারথুর থানার পুলিশকে জানান তাঁরা কেউই বাংলাদেশী নন। তাঁরা নিজেদেরকে ভারতীয় বলে জানিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার কার্ড দেখান। সেইসব দেখে সেখানকার ভারথুর থানার পুলিশ পলাশের বৃদ্ধ বাবা,মাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু পলাশ এবং তাঁর স্ত্রী ও শিশুপুত্র সহ সাত জনকে ছাড়ে না। তাদের বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী অভিযোগে ভারথুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে শিশুপুত্র আদিকে সঙ্গে নিয়েই বেঙ্গালুরুর জেলে দিন কাটাচ্ছে পলাশ ও তাঁর স্ত্রী শুক্লা। ছেলে,বৌমা ও নাতি কে জেল থেকে মুক্ত করার জন্য পলাশের বাবা ও মা বেঙ্গালুরুতে থেকে নানাভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু সুরাহার কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় তাঁরাও যথেষ্ট হতাশ হয়ে পড়েছেন।বিডিও ( জামালপুর) শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, আমার ব্লকের তেলে গ্রামের বাসিন্দা এক দম্পতিকে ফরেনার্স এ্যাক্টে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সেখানকার জেলে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে বন্দি হয়ে রয়েছে। বিডিও জানান, তিন চারদিন আগে বেঙ্গালুরুর ভারথুর থানার তিন পুলিশ আধিকারিক তদন্তের স্বার্থে তাঁর কাছে আসে। পলাশ অধিকারী ও তাঁদের স্ত্রী প্রকৃতই ভারতীয় নাগরিক কিনা এবং তাদের ভোটার ও আধার কার্ডটি সঠিক কিনা, সেইসব বিষয়ে বেঙ্গালুরু পুলিশ তাঁর কাছে জানতে চায়। এছাড়াও পলাশদের পারিবারিক পরিচিতি, কতদিন ধরে তারা তেলে গ্রামে বসবাস করছে,তাদের কাস্ট স্ট্যটাস সহ নানা বিষয়ে জানতে চায়। সব তথ্য ভারথুর থারার মেইল আইডি তে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে বিডিও জানান। পশাপাশি তিনি এও বলেন, দম্পতি যে জৌগ্রামের তেলে গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সেই বিষয়ে জামালপুর থানার পুলিশও রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে। বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার আরও জানানা, ভারথুর থানার তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা শুধু জামালপুর বিডিও অফিস ও থানায় এসে তথ্য যাচাই করে ফিরে গিয়েছেন, এমনটা নয়। বেশ কয়েকদিন ধরে ওই পুলিশ আধিকারিক দল জামালপুরের জমি রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি দফতরের অফিস, জৌগ্রাম পঞ্চায়েত, এমনকি বর্ধমান দক্ষিন মহকুমা শাসকের অফিসেও তথ্য যাচাইয়ের জন্য গিয়েছিল।পলাশের বোন শম্পা হালদার বলেন, বেঙ্গালুরূ পুলিশ আধিকারিক দল আমাদের তেলে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। বাড়ি ঘর ঘর দেখার পাশাপাশি ওই পুলিশ দল আমার দাদা, বৌদি ও ভাইপোর ভারতীয় নাগরিকত্ত্ব সংক্রান্ত সব নথিও যাচাই করে। পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলেন। কোন খুঁত বেঙ্গালুরু পুলিশ বার করতে পারেননি । তাই আমরা প্রত্যাশা করছি, এবার হয়তো বেঙ্গালুরুর জেল থেকে আমার দাদা, বৌদি ও ভাইপো মুক্তি পাবে।

নভেম্বর ১৩, ২০২২
রাজনীতি

৬ বছর পর মমতার সভায় পাশে থাকছেন মুকুল, ফের সক্রিয় 'চানক্য'!

রাস উৎসবের মরসুমে কৃষ্ণনগরে তিন দিনের নদিয়া সফরে পা রেখেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া অধ্যুষিত নদিয়া জেলা নিয়ে ঘোর দুশ্চিন্তায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নদিয়া সফরের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। মমতার নদিয়া সফরকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল রায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।রানাঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকও পেয়েছেন মুকুল রায়। এমনকী বুধবার কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের প্রকাশ্য সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই মঞ্চে দেখা যেতে পারে একসময়ের তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে। তাহলে কী ঘাসফুল শিবিরে ফের মুকুলের উত্তোরন ঘটতে চলেছে, এই জল্পনাই ঘুরপাক খাচ্ছে তৃণমূলে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে, নদিয়ায় মতুয়াদের একটা বড় অংশ গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকে রয়েছে। এক্ষেত্রে চানক্য মুকুলকে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১-এ বিজেপির প্রতীকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয় পান মুকুল রায়। জয়ের কয়েকদিনের মধ্যেই সপুত্র তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেন তিনি। যদিও শুভ্রাংশু রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও মুকুল রায় অনেকটা আড়ালে চলে যান।কিছু দিন আগে তৃণমূল ভবনে যাওয়া, তারপর নেতাজি ইন্ডোরের সভায় হাজির, তারপর কালীঘাটে ভাইফোঁটায় যাওয়া। এবার সরাসরি মমতার সভায় থাকতে চলেছেন মুকুল রায়। তৃণমূলের মমতা ঘনিষ্ঠ পুরনোদের অনেকেই এখন ইতিহাস। তাহলে কী ফের মমতা মুকুলকে ভরসা করতে চলেছেন? তৃণমূলে সক্রিয় হচ্ছেন মুকুল? এই গুঞ্জন চলছে রাজ্য-রাজনীতিতে।

নভেম্বর ০৮, ২০২২
দেশ

চেন্নাইতে বাংলার রাজ্যপালের বাড়িতে ঢোলে কাঠি মমতার, মুখ্যমন্ত্রীর সফরে রাজনীতি দেখছে বিরোধীরা

কলকাতার দুর্গাপুজোর ছবি ভেসে উঠল চেন্নাইতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়ে কাঁধে ঢাক তুলে নিয়েছিলেন। তারপর টানা দুকাঠি দিয়ে ঢাক বাজিয়েছেন। এবার চেন্নাইতে গিয়ে রাজ্যপাল লা গণেশনের দাদার জন্মদিনে ঢোল বাজালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ওই দৃশ্য দেখে অবাক হয়েছেন তামিলনাড়ুবাসী।কালীপুজোর দিন মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে কালীঘাটে গিয়েছিলেন রাজ্যাল লা গণেশন। সেদিনই তামিলনাড়ুর বাড়িতে যাওয়ার নিমন্ত্রণ করে এসেছিলেন লা গণেশন। সই উপলক্ষ্যেই তামিলনাড়ু ছুটে গিয়েছেন মমতা। সেখানে গিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের সঙ্গেও সাক্ষাত করেছেন মমতা। যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছে বিজেপি ও কংগ্রেস। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, লা গণেশনের দাদার জন্মদিনে তামিলনাড়ু যাওয়া বাহানা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি গিয়েছিলেন স্টালিনের সঙ্গে দেখা করতে। অথচ রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে কোনও মন্তব্য করছেন না মমতা। যেহেতু স্টালিন রাহুল গান্ধীর মিছিলে হেঁটেছেন, তাই তাই তড়িঘড়ি তামিলনাড়ু গিয়েছেন মমতা। বিজেপির বক্তব্য, এসব দৌঁড়ঝাপ করে কিছু হবে না। লোকসভার ভোট এগিয়ে আসার আগে এমন ছোটাছুটি করেন।এদিকে বিরোধীদের সমালোচনা করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঢোল বাজিয়ে মাতিয়ে দিয়েছেন। দক্ষিণ ভারতীয়রা এই বাজনাকে ছেন্দা বলে। লা গণেশনের বাড়িতে ঢোকার সময় ছেন্দা বাজিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছিল। প্রথমে তিনি শোনেন।তারপর নিজেই ছেন্দা বাজাতে শুরু করেন। কলকাতায় দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ঢাক বাজিয়েছিলেন মমতা।

নভেম্বর ০৩, ২০২২
দেশ

শ্রমিকের কাজে ব্যাঙ্গালোরে গিয়ে ভিনদেশি অভিযোগে শিশু সন্তান সহ আটক বাঙালি দম্পতি, মুখ্যমন্ত্রীর শরণাপন্ন পরিবার

শ্রমিকের কাজ করতে ব্যাঙ্গালোরে গিয়ে ভয়ানক পরিণতির শিকার হয়েছেন পশ্চিম বঙ্গের বাসিন্দা এক দম্পতি। রেহাই পায়নি তাঁদের দেড়বছর বয়সী শিশুপুত্রও। বাংলাভাষী এই দম্পতিকে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কর্ণাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর পুলিশ জেলে পাঠিয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে শিশু পুত্র আদিকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাঙ্গালোরের জেলে দিন কাটাচ্ছেন দম্পতি পলাশ অধিকারী ও শুক্লা অধিকারী। তাঁদের বাবা-মা ব্যাঙ্গালোরে গিয়ে সেখানকার পুলিশকে ছেলে ও বৌমার ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত প্রমাণ পত্র দেখান। কিন্তু তাতেও লাভ কিছু হয় নি। এই পরিস্থিতিতে ছেলে, বৌমা ও নাতির ব্যাঙ্গালোরের জেল থেকে মুক্তির জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন অসহায় বাবা মা।দম্পতি পলাশ অধিকারী ও শুক্লা অধিকারী পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার জৌগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তেলে গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। সেখানে রয়েছে তাঁদের টিনের চালার দুকুঠুরি ভাঙাচোরা বাড়ি। ওই বাড়ি দেখলে যে কেউ বুঝে যাবেন দারিদ্রতাই অধিকারী পরিবারের নিত্যদিনের সঙ্গী। পলাশদের মতোই তাদের প্রতিবেশীরাও অত্যন্ত দরিদ্র। মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকুই শুধুমাত্র তাদের সম্বল। তাদের বেশিরভাগ দিন মজুরির কাজ করে অন্নের সংস্থান করেন। বাকিদের কেউ বালাপোশ তৈরি, আবার কেউ বিড়ি বাঁধার কাজ করে উপার্জন করেন।এমনই এক গ্রামের ছেলে পলাশ রোজগারের আশায় স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাঙ্গালোরে যায়। কিন্তু রোজগার তো দূরের কথা ,উল্টে সেখানে তাঁদের পরিণতি হয়েছে ভয়ংকর। যা জেনে স্তম্ভিত তেলে গ্রামের বাসিন্দারা ও জনপ্রতিনিধিরা।তেলে গ্রামেই বসবাস করেন পলাশ অধিকারীর আত্মীয় পিন্টু হাওলাদার । তিনি জানান,শ্রমিকের কাজ করার জন্য চলতি বছরের জুন মাসে শিশু পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে পলাশ তাঁর স্ত্রী ব্যাঙ্গালোরে যায়। একই উদ্দেশ্যে পলাশের বাবা পঙ্কজ অধিকারী, মা সবিতাদেবী ও প্রতিবেশী সুনীল অধিকারীও ব্যাঙ্গালোরে যান। সেখানকার মারাথাহাল্লি (Marathahalli) মহকুমার ভারথুর (Varthur) থানার সুলিবেলে (Sulibela) গ্রামের কায়েন খাঁনের ডেরায় তারা ওঠে। সেখানে দৈনিক ৩০০-৪০০ টাকা মজুরির শর্তে তারা কায়েন খাঁনের অধীনে কাজ করা শুরু করেন। তাদের কাজ ছিল হোটেল, রেঁস্তোরা, সিনেমা হল সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত বর্জ্যবস্তু, বোতল, প্লাস্টিক সরঞ্জাম ইত্যাদি বাছাই করা। পিন্টু হাওলাদার বলেন,সেখানে সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ করেই গত ২৭ জুলাই ভারথুর (Varthur) থানার পুলিশ কায়েন খাঁনের ডেরায় হানা দেয়। সেখানে যাঁরা যাঁরা বাংলাভাষী ছিল তারা সবাই নাকি বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী, এমন সন্দেহে ভারথুর থানার পুলিশ তাদের ও আরো পাঁচ জনকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যায়। ওইসময়ে পলাশ, তাঁর স্ত্রী,বাবা-মা ও প্রতিবেশী সুনীল অধিকারী সহ সবাই ভারথুর থানার পুলিশ কে জানান তাঁরা কেউই বাংলাদেশী নন। তাঁরা নিজেদেরকে ভারতীয় বলে জানিয়ে নিজের নিজের আধার কার্ড,প্যান কার্ড,ভোটার কার্ড দেখান। সেইসব দেখে সেখানকার পুলিশ পলাশের বৃদ্ধ বাবা,মা ও প্রতিবেশীকে ছেড়ে দিলেও পলাশ এবং তাঁর স্ত্রী ও শিশুপুত্র সহ সাতজনকে আটকে রাখে। ভারথুর থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে প্রায় তিন মাস হয়ে গেল শিশু পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে পলাশ ও তাঁর স্ত্রী ব্যাঙ্গালোরের জেলেই দিন কাটাচ্ছে বলে পিন্টু হাওলাদার জানিয়েছেন।সুনীল অধিকারী বলেন, আমিও রোজগারের আশায় পলাশদের সঙ্গেই ব্যাঙ্গালোরে যাই। সেখানেভারথুর থানার পুলিশ আমাকেও সন্দেহে ধরে। ওখানকার পুলিশের সঙ্গে আমাদের কথা বলার ক্ষেত্রে ভাষাগত সমস্যা হচ্ছিল। ওরা আমাদের কথা যেমন বুঝতে পারছিল না, তেমনই আমরাও ওদের কথা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। তবুও আমি, পলাশের বাবা- মা ও পলাশ বাংলা ভাষাতেই ভারথুর থানার পুলিশকে বারেবারে বলে যাই আমরা ভারতীয়,পশ্চিমবাংলার বর্ধমানের বাসিন্দ। তেলে গ্রামে থাকা আমার স্ত্রীর ফোন নম্বর ওরা চাইলে সেটাও আমি দিয়ে দিই। এর পর ওরা কি বুঝলো জানিনা। আমাকে এবং পালাশের বাবা ও মাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে পলাশ এবং তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে ছাড়ে নি। মিথ্যা অভিযোগে তদের জেলে পাঠিয়ে দেয়।সুনীলবাবু আরও জানান, এইসব দেখে তাঁর মনে হয় বাঙালিদের ব্যাঙ্গালোর কাজ করতে যাওয়া খুব একটা নিরাপদের নয়। তাই ওই ঘটনার আট দিন বাদে ট্রেনের টিকিট কেটে তিনি তেলে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। হুগলীর বৈঁচিগ্রামের বাসিন্দা পলাশের আত্মীয় সুজন হালদার বলেন, পলাশ এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের এমন করুণ পরিণতির কথা জেনে তিনি তাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যাঙ্গালোরে যান। কিন্তু কোন ভাবেই কিছু সুরাহা করতে পারছেন না। যে আইনজীবীকে নিযুক্ত করেছেন তার কাছ থেকেও আশানুরূপ সহযোগীতা পাচ্ছেন না। সুজন হালদার দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর জন্য কেন্দ্র পশ্চিম বাংলায় সিএএ (CAA), এনআরসি (NRC) লাগু করতে পারেনি। তবে তাঁর মনে হচ্ছে বিজেপি শাসিত কর্ণাটক সরকার অলিখিত ভাবে সিএএ, এনআরসি কার্যকর করে যাকে পাচ্ছে তাকে বিদেশী বলে জেলে ভরে দিচ্ছে। একই অভিযোগ করেছেন তেলে গ্রামের বাসিন্দা জৌগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য কৃষ্ণা সরকার। পলাশের বাবা ও মা বলেন, ছেলে, বৌমা ও নাতিকে ব্যাঙ্গালোরের জেল থেকে ছাড়াতে এখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তাঁদের একমাত্র ভরসা। তাঁরা মমতা ব্যানার্জীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন।বিডিও ( জামালপুর ) শুভঙ্কর মজুমদার টেলিফোনে বলেন, এমন একটা ঘটনার কথা আমি শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনকে ওয়াকিবহাল করা হয়েছে। এসডিও (বর্ধমান দক্ষিণ) বিষয়টি দেখছেন। জামালপুর বিধানসভার বিধায়ক অলোক মাঝি টেলিফোনে বলেন,পলাশ অধিকারী ও তাঁর পরিবার আমার বিধানসভা এলাকার তেলে গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত প্রামাণপত্রও তাদের রয়েছে। তা সত্ত্বেও কোন যুক্তিতে ব্যাঙ্গালোরের পুলিশ পলাশ এবং তাঁর স্ত্রী ও শিশু পুত্রকে কি অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জেলে ভরে রেখেছে সেটাই আশ্চর্য্যের। আলোক মাঝি জানান,কালি পুজো মিটলেই তিনি এই বিষয়টি নিয়ে জেলা জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন

অক্টোবর ২৫, ২০২২
কলকাতা

দুর্গা কার্নিভালে মাতোয়ারা রঙিন রেড রোড, খোঁচা শুভেন্দুর

এখন যেন দুর্গাপুজো শেষ হয়েও হয় না। পুজো না দেখলে একজায়গায় একাধিক প্রতিমা দেখার সুবর্ণ সুযোগ। এবার তো মহালয়ার আগে শ্রীভূমির দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। রেড রোডে চলছে দুর্গাপুজোর কার্নিভালের জাঁকজমকপূর্ণ আসর। এই কার্নিভালে অংশগ্রহণ করেছে ৯৫টি পুজো কমিটি। করোনা আবহের দুবছর পর ফের রঙিন সাজে সেজেছে রেড রোড।একবছর আগেই বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। তারপর এই প্রথম দুর্গাপুজোর জমজমাট কার্নিভাল কলকাতায়। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য কলকাতার রাস্তায় রঙিন শোভাযাত্রা হয়েছে। এবার জেলায় জেলায় দুর্গা কার্নিভাল হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রেড রোডে হাজির থেকে সমস্ত বিষয়টা নজরদারি করছেন।এবার প্রতিটি দুর্গাপুজো কমিটি নিজেদের অনুষ্ঠান দেখানোর জন্য সময় পাচ্ছে সর্বাধিক তিন মিনিট। একএকটি কমিটি সর্বাধিক ৫০ জন করে সদস্য নিয়ে আসতে পারছেন রেড রোডের কার্নিভালে। ট্যাবলো সঙ্গে রাখতে পারছে সর্বাধিক তিনটি। বিদেশি অতিথিরাও এই কার্নিভালে আমন্ত্রিত। হাজিরও হয়েছেন তাঁরা। মঞ্চে রয়েছেন রয়েছেন টলিউডের একঝাঁক তারকা শিল্পী।এরইমধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কার্নিভাল নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জলপাইগুড়ির মালবাজারের ঘটনার পরেও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য কায়দায় কার্নিভাল কেন বাতিল করা হল না? উত্তরবঙ্গে ঘটনা ঘটেছে বলে কলকাতায় কার্নিভাল হল? তাঁর দাবি, এই অবহেলার জন্যই আলাদা রাজ্যের দাবি ওঠে উত্তরবঙ্গ থেকে। সরকারি টাকায় মোচ্ছব হচ্ছে বলেও শুভেন্দু তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্য সরকারকে।

অক্টোবর ০৮, ২০২২
রাজ্য

দাদা বিজেপিতে যাওয়ায়, সাংসদ ভাই ব্রাত্য তৃনমুলের অনুষ্ঠানে

তৃণমূল সাংসদ হলেও দাদা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তৃণমূলের। ১৪ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুরে জেলা সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের সভায় ডাক পাননি তমলুকের সাংসদ দিব্য়েন্দু অধিকারী। এ নিয়েই ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ডাক না পাওয়ার পাশাপাশি দিব্যেন্দুর অভিযোগ, গত ২ বছর ধরে কোনও বৈঠকেই ডাকা হয়নি তাঁকে। হলদিয়াতে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শনিবার এই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।চলতি মাসের ১৪ সেপ্টেম্বর জেলা সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভায় ডাক না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই তথা পূর্ব মেদিনীপুর তমলুকের তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতা সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। তমলুকের সাংসদের এই বক্তব্যের পর নতুন করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল করেছে। ডাক না পাওয়ার কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসককে দায়ী করেছেন তিনি। শনিবার সকালে শিল্পনগরী হলদিয়া একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী।অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিব্য়েন্দু বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে কেন ডাকা হয়নি তা মুখ্যমন্ত্রীর দফতর বলতে পারবে ও এই জেলার জেলাশাসক বলতে পারবে। আমি বলতে পারব না। সাংসদ হিসাবে আমি দুবছর কর্মকাণ্ডের মধ্যে নেই। রাজ্য সরকারের কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাই না। এর থেকে দুঃখের আর কি আছে। তবে নিজের সাংসদ হিসাবে মেয়াদ থাকা অবধি তিনি মানুষের জন্য় কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। হলদিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দিব্যেন্দু বলেছেন, মানুষ কাছে এলে কথা বলতে চায়, তবে ভয়-ভীতি একটা কাজ করে। কারণটা আমি জানি না।যদিও সাংসদের এমন বক্তব্যে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতির্ময় কর। তিনি বলেছেন, সাংসদ কী মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ডাক পাওয়ার জন্য উদগ্রীব। মুখ্যমন্ত্রীর অনুকূলে জয়ী হয়ে তমলুকের সাংসদ হলেন দিল্লি গেলেন। সেই মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কের কুৎসা করার পর ডাক পাওয়ার আশা করেন কী করে। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাঝি দিব্যেন্দুর অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ...
  • 19
  • 20
  • 21
  • 22
  • 23
  • 24
  • 25
  • 26
  • 27
  • 28
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মহালয়ায় কখন করবেন পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ? জেনে নিন শুভ সময় ও বিশেষ নিয়ম

শিউলি ফুলের গন্ধ আর শরতের ভোরের বাতাসে ঢাকের মিঠে বোল এই তো আমাদের দুর্গোৎসবের প্রথম বার্তা! বছর ঘুরে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত দিনটি দোরগোড়ায়। ২০২৬ সালের ১০ই অক্টোবর, শনিবার (২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) শুভ মহালয়া। ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জলদগম্ভীর কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর সুর ভেসে আসার সঙ্গেই যেন বাঙালিয়া এক অদ্ভুত আবেগ আর নস্টালজিয়ায় ভেসে যায়। পিতৃপক্ষের সমাপনী আর দেবীপক্ষের এই নতুন সকালে চরাচর যেন এক স্বর্গীয় সুরের আহ্বানে জেগে ওঠে।মহালয়া শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি অনুভূতির নাম। পুরাণ মতে, এদিনই দেবী দুর্গা মর্ত্যে তাঁর পিতৃগৃহে পা রাখেন, শুরু হয় দেবীপক্ষ। এর পাশাপাশি এটি আমাদের শিকড়কে স্মরণ করার শ্রেষ্ঠ সময়। এদিন ভোরে গঙ্গার ঘাটে ঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার জন্য হাজারো মানুষের মিলনমেলা বসে। শাস্ত্রানুসারে অমাবস্যা তিথিটি শুরু হচ্ছে ৯ই অক্টোবর রাত ৯:৩৫ মিনিটে এবং থাকবে ১০ই অক্টোবর রাত ৯:১৯ মিনিট পর্যন্ত। পিতৃপুরুষকে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ১০ই অক্টোবর সকাল ১১:২৪ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫৬ মিনিট পর্যন্ত সময়টিকে সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হচ্ছে।তবে মহালয়া কিন্তু কেবল অতীতের স্মৃতি তর্পণ বা শাস্ত্রমতে তর্পণের আচারটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে আগমনীর গভীর আনন্দ। এই বিশেষ দিনে প্রতিমার চোখে তুলি ছোঁয়ানো অর্থাৎ চক্ষুদান রীতির মধ্য দিয়েই মৃন্ময়ী রূপ যেন চিন্ময়ীতে পরিণত হতে শুরু করে। ১০ই অক্টোবরের এই অলৌকিক ভোরে মহালয়া শেষ হতেই, পরের দিন ১১ই অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। চারপাশের কাশবনের দোল আর নীল আকাশের শুভ্র মেঘেরা তখন যেন চুপিচুপি জানান দেবে মা আসছেন। উৎসবের এই পবিত্র সূচনাকে সুন্দর ও মঙ্গলাময় রাখতে কিছু চিরন্তন রীতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা জরুরি। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুণ্যলগ্নে নিরামিষ আহার গ্রহণ করা ও যেকোনো প্রকার নতুন কেনাকাটা বা চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। পিতৃপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা আর মাতৃরূপী মহাশক্তির আবাহনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আসুন আমরাও হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে নিজেদের মনকে নির্মল করে তুলি। অপেক্ষা শুধু আর কটা দিনের শরতের এই আলো-আঁধারির খেলায় মহালয়ার ভোর যেন প্রতিটা বাঙালির অন্তরে পৌঁছে দেয় এক অনাবিল আনন্দের পরশ।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে হামলার নিন্দায় মমতা, তদন্তের মাঝেই ‘হিন্দুত্ববাদী’ মন্তব্যে অ্যাকশনের হুঙ্কার শুভেন্দুর

বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টে ৫ মিনিট নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া সাহা কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেফতার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতকে এদিন আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।কীভাবে ঘটেছিল হামলা?অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের মদের বোতল ছোড়ে একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী। বোতলের আঘাতে বাড়ির জানলার কাচ ভেঙে যায়। সেই সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। হামলার সময় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাড়ির এক গৃহসহায়িকা।বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ মুখ কাপড়ে ঢাকা এক ব্যক্তি বাইকে চেপে এসে ব্যাগ থেকে কাচের বোতল বের করে তাঁর বাড়ির জানলার দিকে ছুড়তে থাকে। পিছনে আরও কয়েকজন ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে বাইকে আসা এক ব্যক্তিকে বোতল ছুড়তে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফুটেজের অডিয়োয় আমাদের সঙ্গে লাগতে এসো না, আমরা দেশভক্ত এই ধরনের হুমকির কথাও শোনা যায় বলে দাবি।ঘটনার পর পুলিশ বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে এবং তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বাপ্পা গুছাইতকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার কারণ, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং এর পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করেছে, অভিযোগ বিকাশরঞ্জনেরহামলার ঘটনার পর বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পিছনে রয়েছে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা। তাঁর বক্তব্য, গরিব মানুষের অধিকারের পক্ষে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা এভাবে তাঁকে শিক্ষা দিতে চেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।বিকাশরঞ্জনের এই মন্তব্যকে ঘিরে পাল্টা সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে এবং তাঁর নির্দেশেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনার দায় সরাসরি হিন্দুত্ববাদীদের উপর চাপানোর বিরোধিতা করেছেন তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী শব্দটি প্রত্যাহার না করা হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ওই পোস্ট মুছে ফেলার উদ্যোগও পুলিশের তরফে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এ ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে গোটা হিন্দু সমাজকে অপমান করা হয়েছে। গেরুয়া, সনাতন, হিন্দুত্ব ও রাষ্ট্রবাদকে নিশানা করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়াবিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ ভয় দেখানো বা জঙ্গলরাজের সংস্কৃতি মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের নির্ভয়ে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।অন্যদিকে, যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানিয়েছেন, বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নজরে আনা হবে।একদিকে বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারি, অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী মন্তব্য ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা আইনি হুঁশিয়ারি সব মিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর পিছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
রাজ্য

১৯৭৬ সালে মহিষাসুরমর্দিনীতে উত্তমকুমার, ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন বাঙালিরা! কেন ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে?

প্রবাসে থাকা ছেলে মেয়েরা যেভাবে বছরের ৪ দিন তাদের ভিটেমাটির টানে ফিরে আসে, সেভাবে নস্টালজিক বাঙালিকে যিনি বেতারের সামনে শিকড়ের টানে টেনে আনেন তিনি আর কেউ নন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। মহালয়া (Mahalaya 2026) ,মহিষাসুরমর্দিণী (Mahisashurmardini) আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র (Birendra Krishna Bhadra) তিনটে নামই উচ্চারিত হয় এক স্বরে। মহালয়ার ভোরে এই চণ্ডীপাঠের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে যিনি গোটা বিশ্বে নিজের কণ্ঠকে অমর করে রেখে গিয়েছেন, সেই বাঙালি মধ্যবিত্ত সাদামাটা ধুতি পাঞ্জাবি পরা কণ্ঠশিল্পীই বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র। যাঁর হাত ধরে বাঙালির পুজোর (Durga Puja) ঢাকে কাঠি পড়ে। আজ ২০২৬ সালের মহালয়ার অপেক্ষায় রাত জাগছে বাঙালি, সেই পরিচিত কণ্ঠে মহিষাসুর মর্দিণী শুনবে বলেই। ১৯০৫ সালের এই দিনটিতেই উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবাদপ্রতিম বেতার ব্যক্তিত্ব বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। বাবা রায়বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন একজন ভাষাতত্ত্ববিদ, মা ছিলেন সরলা দেবী। ছোটবেলায় ঠাকুরমা যোগমায়া দেবীর কাছে সংস্কৃত শিক্ষার হাতেখড়ি হওয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ মাত্র আট বছর বয়সে প্রখর স্মৃতিশক্তির জোরে নির্ভুল চণ্ডীপাঠ করে সবাইকে চমকে দিতেন। ১৯২৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়েতে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর মন পড়ে থাকত ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের অল ইন্ডিয়া রেডিওর দফতরে। অফিস শেষের আড্ডা থেকেই ধীরে ধীরে বেতারে নাটকের সুযোগ পান। পরবর্তীতে চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে আকাশবাণীতে যোগ দেন।আকাশবাণীতে যোগ দেওয়ার পর বাণীকুমার ভট্টাচার্যের রচনা এবং রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিকের সুর পরিচালনায় শুরু হয় মহালয়ার কালজয়ী অনুষ্ঠান মহিষাসুরমর্দিনী। লাইভ সম্প্রচারের সেই যুগে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ আগের রাত থেকেই স্টেশনে থেকে ভোরবেলায় স্নান সেরে, গরদের ধুতি-পাঞ্জাবি পরে চণ্ডীপাঠে বসতেন। একদিন স্টুডিওতে রসিকতা করে বাংলা ভাষ্যটিও স্তোত্রের ঢঙে সুর করে পড়তে গিয়ে জন্ম নেয় তাঁর সেই অবিস্মরণীয় অবদান, যা ১৯৬৬ সালে বাণীকুমারের পরামর্শে রেকর্ড করা হয়। আজও প্রতি মহালয়ার ভোরে প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে শোনা যায় এই স্মরণীয় কন্ঠস্বরে চণ্ডীপাঠ, যেন মা দুর্গা প্রথম অঞ্জলি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের থেকেই নেন।কেবল রেডিওর জাদুকরী কণ্ঠই নয়, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ছিলেন একজন চমৎকার নাট্যকার, সমৃদ্ধ লেখক এবং পরিচালক। তিনি পেশাদারি মঞ্চে সাহেব বিবি গোলাম-এর মতো সফল নাটক পরিচালনা করার পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফল-এর মতো চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন। অনেক গুণী ব্যক্তি রেডিওর জন্যই একসময় নিজেকে উৎসর্গ করে দেন। গোটা বিশ্বে যখন তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ছে তখন হঠাৎই ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ প্রথা ভেঙে তাঁর জায়গায় মহানায়ক উত্তমকুমারকে দিয়ে চণ্ডীপাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাঙালির আবেগে ঘা পড়তেই, বহু বাঙালি ভক্ত রেডিও অফিসের ওপর চড়াও হয়। কেউই ভালোভাবে গ্রহণ করেনি সেই দিনের চণ্ডীপাঠ। স্বাভাবিক ভাবেই সে বছর পুণরায় ষষ্ঠীর দিন বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মহিষাসুরমর্দিনী সম্প্রচার করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গোটা ঘটনাতে তিনি ছিলেন নির্বিকার স্থির, বোধহয় তিনি মন থেকে জানতেন কিছু স্থান অপরিবর্তনশীল। ১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর মহাপ্রয়াণ ঘটলেও বাঙালি সংস্কৃতির আকাশে তিনি অমর হয়ে রয়েছেন। শরতের ভোরে শিউলি ঝরা হাওয়ায় তাঁর সেই বজ্রনির্ঘোষ অথচ সুরময় কণ্ঠে আশ্বিনের শারদপ্রাতে শুনলেই আজও মনে হয় পুজোর বাদ্যি বেজেছে। এভাবেই কিংবদন্তি বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিণীর মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি বাঙালির মনে।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

জেলকোভিচের গোলেই বধ ইস্টবেঙ্গল, আইএফএ শিল্ড মোহনবাগানের

সেমিফাইনালে বিপক্ষকে ৭ গোল দিয়ে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় পৌঁছেছিল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিটে জেলকোভিচের গোলেই বধ ইস্টবেঙ্গল। ২২ তম আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। এদিন বেশ গুছিয়ে ফুটবল খেলেছে মেরিনার্সরা। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু হওয়ার আগে ইস্টবেঙ্গলের এই হার দলের মনোবলে কতটা আঘাত করবে সেটাও দেখার। গত সিজনের আইএসএল কাপ ইস্টবেঙ্গলের ঘরে ছিল। শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল একটি সুযোগ পেয়েও কাডে লাগাতে পারেনি। বিরতির শেষ মুহূর্তে লীড নিয়ে নেয় মোহনবাগান। তখন বেশ চাপে ছিল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের একের পর আক্রমণে তখন দিশেহাপা ইস্টবেঙ্গল। জেলকোভিচের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। বৃহস্পতিবার আইএফএ শিল্ডের (IFA Shield 2026) ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant) ও ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC) মুখোমুখি হওয়ায় ফের ফুলবল জ্বরে ভুগতে শুরু করে কলকাতা। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দুই দলের সমর্থকরা তখন নিজের দলের সমর্থনে চিৎকারে গলা ফাটাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও আর গোল পায়নি ইস্টবেঙ্গল জেলকোভিচের গোলই ম্যাচের পার্থক্য় গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষের দিকে দুটো কর্ণার কিক পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল।

অক্টোবর ০৯, ২০২৬
রাজনীতি

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উদ্ধার, আরও সম্পদের সন্ধানে তদন্তে পুলিশ

সরকার বদলের পর থেকে নানা অভিযোগে একের পর এক হেভিওয়েট নেতা, মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। এখনও তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি অব্যাহত। এবার কাটোয়ায় গ্রেফতার হওয়া নেতার বাড়ি থেকে রাশি রাশি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সম্পত্তির হদিশও মিলেছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার দুই তৃণমূল নেতা সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী কিভাবে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এদের সঙ্গে জড়িত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।জানা গিয়েছে, সামন্য বেতনে বেসরকারী একটি মোবাইল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন ওই দুই নেতা। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিয়েই কাটোয়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর সর্বসময়ের সঙ্গী দীগন্ত পালের সঙ্গে বিশেষ সখ্য়তা স্থাপন করে ফেলেন। এরপর সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তীর ধনসম্পত্তি বাড়তে বিদ্যুৎ গতিতে। ইতিমধ্যে সরকার পরিবর্তন হতেই আর্থিক দুর্নীতির মামলায় রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দীগন্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সূত্রের খবর, এরপরই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেরাচ্ছিল সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায় ও সুদীপ্ত চক্রবর্তী। তবে শেষমেশ পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুজনই। এখন তাঁদের বেআইনি ধনসম্পদ নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সুপ্রিয়র বাড়ি থেকে ৯ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে তাঁরা সোনা রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই সোনা কোথা থেকে এসেছে তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদের কাছে দামি চারচাকাও রয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
কলকাতা

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা, সিপিএম নেতার অভিযোগ ওড়ালেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়

সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা করা অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব যাদবপুরে তাঁর বাড়ির জানালার কাঁচ ভাঙা হয়েছে। তিনি স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ করেছে। এই হামলায় বিজেপির মদত আছে বলে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন। তবে যাবদপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, জয়শ্রীরাম বলে অন্যায় করলেই কি সে বিজেপি হয়ে যায়। তা হতে পারে না। আজ ভোরে তার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে কাচের বোতল ছোড়া হয়। বিকাশরঞ্জন বলেন, মদের বোতন ছড়িয়ে আছে। শক্ত কাচ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছে বাইকে এল, ছবি তুললো। তারপর বলতে থাকল, আমরা মায়ের সন্তান। আমাদের পিছনে লেগেছিস। ওই ব্যক্তির মুখ ঢাকা ছিল। মোটর বাইকের নম্বরও ঢাকা ছিল। একেবারে পরিকল্পনা করে এসেছিল। আমি অনবরত হিন্দু মৌলবাদের বিরুদ্ধে বলছি তাই এই হামলা। এর পিছনে সর্বরীদেবীর পার্টিদের মদত আছে। বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলের এটা কাজ নয়। কোনও দুষ্কৃতীকারীর কাজ। মুখে স্লোগান দিয়ে এই কাজ করে সরকার ও বিজেপির বদনাম করছে। জয়শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে, কোনও অন্যায় কাজ করল তাঁকে বিজেপি বলা যায় না।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ইতি, প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর

প্রয়াত হলেন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার অন্যতম স্বতন্ত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিত নানা পাটেকর বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে তিনি জানান, খবরটি সত্যি। তিনি সেই সময় পুনেতে ছিলেন এবং গোয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। পরিবারের তরফে পরে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে ভারতীয় সিনেমায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন নানা পাটেকর। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করার পর ১৯৭৮ সালে গমন ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর পরিন্দা, ক্রান্তিবীর, অগ্নিসাক্ষী, খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল, আব তক ছাপ্পান, অপরাধ, রাজনীতি থেকে ওয়েলকামএকাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে।পরিন্দা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পান নানা পাটেকর। ক্রান্তিবীর-এর জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। অন্যদিকে, ২০০৭ সালের জনপ্রিয় ছবি ওয়েলকাম-এ গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিচয় তৈরি করে। চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে পরবর্তী সময়ে ওয়েলকাম ব্যাক ছবিতেও সেই ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে।মারাঠি সিনেমাতেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের নটসম্রাট ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত এক মঞ্চ অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। ড. প্রকাশ বাবা আমটেদ্য রিয়েল হিরো ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পান।শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, পরিচালক ও লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক ছবিটি পরিচালনা করার পাশাপাশি ছবিতে অভিনয় ও লেখার কাজও করেন তিনি। অভিনয় ও চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন নানা পাটেকর। নাম ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছেন তিনি।নানা পাটেকরের প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হল। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তাঁর অভিনীত একাধিক চরিত্র দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬
রাজ্য

দুর্গাপুজোর মুখে শিয়ালদহ ডিভিশনে বাড়ল ট্রেন ও এসি লোকালের স্টপেজ, যাত্রীস্বার্থে একাধিক উদ্যোগ রেলের

দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে যাত্রী পরিষেবাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে শিয়ালদহ ডিভিশন একাধিক যাত্রীকেন্দ্রিক পরিচালনামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দৈনন্দিন শহরতলির যাতায়াতকে আরও দ্রুত, সুবিধাজনক ও আরামদায়ক করে তুলতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে অতিরিক্ত পরিষেবা এবং নতুন স্টপেজ। এর ফলে শহরতলির বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা পূরণ হবে।শান্তিপুরকৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনে পরিষেবার সংখ্যা বৃদ্ধি:দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক যাতায়াতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দিগনগর হল্ট হয়ে শান্তিপুর (STB) ও কৃষ্ণনগর সিটি জংশনের মধ্যে দৈনিক ট্রেন পরিষেবা ১ জোড়া থেকে বাড়িয়ে ২ জোড়া করা হয়েছে। সকালের UP ট্রেনটি শান্তিপুর থেকে ০৯:৩৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:০৭ ঘণ্টায় কৃষ্ণনগর সিটি জংশনে পৌঁছাবে। ফেরার DN ট্রেনটি কৃষ্ণনগর থেকে ১০:১৭ ঘণ্টায় ছেড়ে ১০:৪৩ ঘণ্টায় শান্তিপুরে পৌঁছাবে। এর ফলে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া এবং স্থানীয় যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।শিয়ালদহবজবজের মধ্যে গভীর রাতে ইএমইউ পরিষেবা:দেরিতে কর্মস্থল থেকে ফেরা কর্মীদের সুবিধার্থে শিয়ালদহ ডিভিশন পরীক্ষামূলকভাবে শিয়ালদহ (SEALDAH) ও কমাগাটা মারু বজবজ (KBGB)-এর মধ্যে গভীর রাতে একটি শহরতলির পরিষেবা চালু করেছে। DN ট্রেনটি শিয়ালদহ থেকে ২২:৫৫ ঘণ্টায় ছেড়ে ২৩:৪৩ ঘণ্টায় বজবজ পৌঁছাবে। ফেরার UP ট্রেনটি বজবজ থেকে ২৩:৫৪ ঘণ্টায় ছেড়ে ০০:৪৮ ঘণ্টায় শিয়ালদহে পৌঁছাবে। এর ফলে রাতের শেষভাগেও যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য শহরতলির রেল যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ:শহরতলির যাত্রীদের আরও আরামদায়ক যাত্রার সুযোগ করে দিতে শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন সেকশনের বদকুল্লা স্টেশনে চারটি এসি ইএমইউ লোকালের পরীক্ষামূলক স্টপেজ দেওয়া হয়েছে।দৈনিক পরিষেবা (রবিবার ব্যতীত): ট্রেন নং ৩১৮৪৫ UP (শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১১:৫৩/১১:৫৪ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৬ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশনশিয়ালদহ) ১৩:৪০/১৩:৪১ ঘণ্টায় থামবে।রবিবারের বিশেষ সময়সূচি: ট্রেন নং ৩১৮৪৭ UP (শিয়ালদহকৃষ্ণনগর সিটি জংশন) বদকুল্লায় ১৩:৫৯/১৪:০০ ঘণ্টায় এবং ট্রেন নং ৩১৮৪৮ DN (কৃষ্ণনগর সিটি জংশনশিয়ালদহ) ১৬:১৫/১৬:১৬ ঘণ্টায় থামবে।এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহের DRM শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, পরিষেবার এই সংযোজনগুলি শহরতলির ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি, বজবজ সেকশনে নির্দিষ্ট গভীর রাতের যোগাযোগ এবং বদকুল্লায় নতুন এসি ইএমইউ স্টপেজ, দৈনন্দিন যাত্রীদের পরিবর্তিত চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে। সকলের জন্য রেলযাত্রাকে আরও সহজলভ্য, নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক করে তুলতে শিয়ালদহ ডিভিশন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অক্টোবর ০৮, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal