• ২৭ পৌষ ১৪৩২, মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Madhyamik

রাজ্য

১৯৬৭ সালের অ্যাডমিট কার্ড হাতে শুনানিতে হাজির ৭৫ বছরের বৃদ্ধা, চমকে গেল এসআইআর কেন্দ্র

শুরু হয়ে গিয়েছে এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। প্রতিটি বিধানসভা ক্ষেত্র পিছু একাধিক জায়গায় চলছে শুনানি। স্কুল ও সরকারি অফিসে তৈরি করা হয়েছে শুনানি কেন্দ্র। প্রথম পর্যায়ে মূলত আনম্যাপড ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।এই শুনানির মাঝেই নজর কাড়লেন শ্রীরাম মন্দির লেনের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী ভারতী দে। ফর্মে নামের ক্ষেত্রে সামান্য ভুল থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিতে এসে নিজের সঙ্গে নিয়ে আসেন ১৯৬৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট। এত পুরনো নথি, তাও আবার এত ভালো অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত অনেকে।নির্বাচন কমিশনের এসআইআর যাচাই প্রক্রিয়ায় দশটিরও বেশি নথি দেখানোর সুযোগ রয়েছে। মাধ্যমিক সংক্রান্ত নথির পাশাপাশি আরও একাধিক পরিচয়পত্র গ্রহণ করা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই এত বছরের পুরনো অ্যাডমিট কার্ড এবং শংসাপত্র অক্ষত অবস্থায় দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন অনেকে। তবে ভারতী দেবীর কথায়, পড়াশোনার সব কাগজপত্র তিনি সযত্নে রেখে দিতে ভালোবাসেন। কিন্তু সেগুলি যে একদিন এত কাজে লাগবে, তা তিনি ভাবেননি।কেন তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে ভারতী দেবী বলেন, নামের ক্ষেত্রে হয়তো কোনও ভুল ছিল। তাই শুনানির নোটিস এসেছিল। তবে সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে জানানো হয়, বাড়িতেই নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা যাচাই করতে আসবেন। তিনি আরও জানান, বিগত প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি ভোট দিয়েছেন এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।বয়সের ভারে শরীর এখন দুর্বল। শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও এদিন পায়ে হেঁটেই শুনানি কেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছন তিনি। গণভবন থেকে বেরিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন ওই বৃদ্ধা।অন্যদিকে, চেতলা গার্লস স্কুলে নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি শুনানি কেন্দ্র করা হয়েছে। তার কাছেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি সহায়তা ক্যাম্প বসানো হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ এসে নিজেদের সমস্যা ও প্রশ্ন জানাচ্ছেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকার কাউন্সিলর ও কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ওই ক্যাম্পে যান এবং দীর্ঘক্ষণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫
রাজ্য

সর্বভারতীয় জেইই-তে রাজ্যেও প্রথম পূর্ব বর্ধমানের দেবদত্তা, মাধ্যমিকেও ছিল শীর্ষে

সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (জেইই) মেন পরীক্ষায় নজর কাড়া ফল করেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের বাসিন্দা দেবদত্তা মাঝি। এই দেবদত্তা মাঝি ২০২৩ সালের মাধ্যমিকেও প্রথম স্থান অর্জন করেছিল। এবার সর্বভারতীয় স্তরে রেজাল্ট করে নিজের মান রাখলেন। দেবদত্তা মাঝি কাটোয়া শহরের দুর্গাদাসী চৌধুরী গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭০০ নম্বরের মধ্যে দেবদত্তা পেয়েছিল ৬৯৭ নম্বর। ৯৯.৫৭ শতাংশ। আর এই সর্বভারতীয় জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (জেইই) মেন পরীক্ষায় দেবদত্তার প্রাপ্ত নম্বর ৩০০ এর মধ্যে ২৭৫।দেবদত্তার মা দুর্গাদাসী চৌধুরী গার্লস হাই স্কুলেরই শিক্ষিকা এবং বাবা আসানসোলের একটি কলেজের অধ্যাপক। দেবদত্তার মা জানিয়েছেন, দেবদত্তা মাধ্যমিক দিয়েছে যে স্কুল থেকে, সেই স্কুল থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। দেবদত্তা প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সে পড়াশোনা করে। দেবদত্তার ইচ্ছা আইআইটি বা ব্যাঙ্গালোরে আইআইএসসি তে পড়াশোনা করার।উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্বের জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশন (জেইই) মেন- এর ফল প্রকাশ করল জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা এনটিএ। পরীক্ষা শেষের ১২ দিনের মাথায় প্রকাশিত হল ফলাফল। এ বছর জেইই মেন-এর জানুয়ারি পর্ব বা প্রথম পর্বের পরীক্ষা হয়েছিল ২২ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লক্ষ।

ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫
শিক্ষা

দেখে নিন এক ঝলকে ২০২৪ মাধ্যমিকের মেধা তালিকা

প্রকাশিত হল ২০২৪ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। এবারের রাজ্য মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় প্রথম দশে রয়েছেন মোট ৫৭ জন কৃতী ছাত্র-ছাত্রী। মেধাতালিকায় ছেলেদের সংখ্যা ৪৫ জন এবং মেয়েদের সংখ্যা ১২ জন। যদিও পাশের হারে মেয়েরা এবার ছেলেদের থেকে বেশী পাশ করেছে। মাধ্যমিক ২০২৪-এ প্রথম দশের সম্পূর্ণ মেধাতালিকা জেনে নিন। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৮০ দিনের মাথায় ফলাফল বেরোলো। পাশের হারে শীর্ষে রয়েছে কালিম্পং জেলা। অন্য জেলাগুলির সফলতাও এবারে নজরকাড়া। কোন জেলার কোন পড়ুয়া সেরা দশে? রইল তার সবিস্তার তালিকা।প্রথম:চন্দ্রচূড় সেন। কোচবিহারের রামভোলা হাইস্কুলের এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩ (৯৯%)।দ্বিতীয়:সাম্যপ্রিয় গুরু পুরুলিয়া জেলা স্কুলের ছাত্র। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯২ (৯৮.৯৬%)।তৃতীয়:এবারের মাধ্যমিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৩ জন পরীক্ষার্থী। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের ছাত্র উদয়ন প্রসাদ, বীরভূমের ইলামবাজারের নিউ ইন্টিগ্রেটেড গভর্নমেন্ট হাইস্কুলের পুষ্পিতা বাঁশুরি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র নৈঋতরঞ্জন পাল তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১।চতুর্থ:এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় চতুর্থ হয়েছেন হুগলির কামারপুকুর রামকৃষ্ণ হাইস্কলের ছাত্র তপজ্যোতি মণ্ডল। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০ (৯৮.৫৭%)।পঞ্চম:পূর্ব বর্ধমানের অর্ঘ্যদীপ বসাক ৬৮৯ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন। অর্ঘ্যদীপ পারুলডাঙা নসরতপুর হাইস্কুলের পড়ুয়া।ষষ্ঠ:মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্থানে ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রয়েছেন মোট ৪ জন। এদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলের কৃষাণু সাহা, পশ্চিম মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র কৌস্তভ সাহু। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অলিভ গায়েন এবং মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের ছাত্র মহম্মদ সাহারুদ্দিন।সপ্তম:৬৮৭ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে সপ্তম স্থানে রয়েছেন মোট ৯ জন। তাঁরা হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী আবৃত্তি ঘটক, কোচবিহারের মাথাভাঙা হাইস্কুলের আসিফ কামাল। বালুরঘাট গার্লস হাইস্কুলের অর্পিতা ঘোষ, বালুরঘাট হাইস্কুলের সাত্যদা দে, পূর্ব মেদিনীপুরের জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের সুপমকুমার রায়, বীরভূমের সরোজিনী দেবী শিশু মন্দিরের আরত্রিক শ, পূর্ব মেদিনীপুরের বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের কৌস্তভ মল, নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণমিশনের আলেখ্য মাইতি।অষ্টম:৬৮৬ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে অষ্টম স্থানে রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর মিশন গার্লস স্কুলের ছাত্রী তনুকা পাল, পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবনের ছাত্রী ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী, নদিয়ার কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের ঋদ্ধি মল্লিক ও বর্ধমান মিউনিসিপাল হাইস্কুলের ছাত্র দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য।নবম:মাধ্যমিকে ৬৮৫ নম্বর পেয়ে নবম স্থানে দক্ষিণ দিনাজপুরের বাউল পরমেশ্বর হাইস্কুলের অস্মিতা চক্রবর্তী, এই জেলারই রৌণক ঘোষ, মালদহের মোহামপুর এইচএসএসবি হাইস্কুলের বিশালচন্দ্র মণ্ডল, এই স্কুলেরই আমিনুল ইসলাম। বীরভূমের সাইঁথিয়া টাউন স্কুলের চন্দ্রদীপ দাস, বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের অরুণিমা চট্টোপাধ্যায়, মেদিনীপুরের কলেজিয়েট স্কুলের ধৃতিমান পাল। ঝাড়গ্রামের রানি বিনোদমঞ্জরী গার্লস হাইস্কুলের অণ্বেষা ঘোষ, রামকৃষ্ণ শিক্ষা মন্দিরের সায়ক শাসমল ও সাগর জানা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ঋতব্রত নাথ, ঋত্বিক দত্ত। নদিয়ার চাকদহের রামলাল অ্যাকাডেমির ছাত্র জিষ্ণু দাস, বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম শিক্ষায়তনের সাগ্নিক ঘটক, শ্যামপুর হাইস্কুলের অরণ্যদেব বর্মন, সারজোনী বিদ্যাপীঠের সায়নদীপ মান্না।দশম:২০২৪ র মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় দশম স্থানে রয়েছেন মোট ১৫ জন। এদের প্রত্যেকেরই প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৪। তারা হলেনঃ১। পূর্ব মেদিনীপুরের কন্টই মডেল ইন্সটিউশনের সম্পাদ পারিয়া, ঋতম দাস। ২। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান বিদ্যার্থী ভবন গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী সম্পূর্ণা নাথ, ৩। হুগলির ইএলআইটি কো-এডুকেশন স্কুলের ছাত্র নীলাঙ্কন মণ্ডল, ৪। বাঁকড়ার তালডাংরা ফুলমতী হাইস্কুলের সৌমিক খান। ৫। পূর্ব বর্ধমানের পারুলডাঙা নসরতপুকর হাইস্কুলের অর্ণব বিশ্বাস, ৬। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া কাশীরাম দাস ইন্সটিটিউশনের অনীশ কোনার।৭। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী ভূমি সরকার, ৮। মালদহের মোজামপুর হাইস্কুলের বিশাল মণ্ডল, ৯। বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সৌভিক দত্ত, গড় রায়পুর হাইস্কুলের ছাত্র সৌম্যদীপ মণ্ডল। ১০। পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাবভনের ছাত্র অগ্নিভ পাত্র, ১১। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র শুভ্রকান্তি জানা, ১২। সারদী বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের ইশান বিশ্বাস।

মে ০২, ২০২৪
শিক্ষা

মাধ্যমিকে প্রথম কাটোয়ার দেবদত্তা ও দ্বিতীয় বর্ধমানের শুভমের সাফল্যের পিছনে কারণ কি?

এবার মাধ্য়মিক পরীক্ষায় জয়জয়কার বর্ধমান জেলার। বিশেষত কাটোয়া ও বর্ধমান শহরের নাম জ্বল জ্বল করছে। সারা রাজ্যে মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছে দেবদত্তা মাঝি। ৬৯৭ নম্বর পেয়ে প্রথম কাটোয়ার দুর্গাদাসী চৌধুরানী হাইস্কুলের ছাত্রী। মাধ্য়মিকে প্রথম স্থানাধিকারী ছাত্রীর উচ্ছ্বসে ভেসে গিয়েছেন। দেবদত্তা জানিয়েছে, এই ফল উৎসর্গ করেছে মাকে। এই সাফল্য এসেছে স্কুলের ও গৃহশিক্ষদের জন্য। ফলপ্রকাশের পর থেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে হাজির হয়েছেন পাড়া প্রতিবেশি থেকে আত্মীয়স্বজনেরা। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তে চান তিনি।দেবদত্তা মাঝি প্রাইভেট টিউশন যেমন পড়ত, তেমনই বাড়িতেও নিজের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখত। দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়ত এবারের মাধ্যমিকের একমাত্র প্রথম স্থানাধিকারী। সাদামাটা পরিবারে বড় হয়েছে দেবদত্তা। সেলফ-স্টাডি করতেই বেশি পছন্দ করে।এদিকে বর্ধমান শহরের শুভম পাল মাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৫। এবারে তাঁর রেজাল্ট আকাশছোঁয়া, খবর পেতেই বাড়িতে উৎসবের আমেজ। যেন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছেন না শুভম। শহরের ঐতিহ্য়বাহী বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল হাই স্কুলের ছাত্র শুভম। শুভমের কথায়, ভীষণ ভাল লাগছে। এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। তবে এতটা ভাল ফল হবে আশা করতে পারিনি।প্রত্যেকটা বিষয়ে একজন করে প্রাইভেট টিউটর ছিল শুভমের। মা বাংলার শিক্ষিকা। মায়ের কাছেই বাংলা পড়তাম। শুভম বলেন, মা সব থেকে সাহায্য করেছেন। স্কুলের শিক্ষকরাও পাশে ছিল। সে জানিয়েছে, সারাদিন নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা করতাম না। যখন ইচ্ছে হত তখনই পড়তাম। বাঁধাধরা ছিল না কিছুই। পাঠ্য বই ভাল করে পড়তে হবে। প্রতিটা লাইন খুঁটিয়ে পড়েই সাফল্য এসেছে। শুভমের পড়াশোনা ছাড়া গান, আবৃত্তিতে বেশ ঝোঁক রয়েছে।

মে ১৯, ২০২৩
রাজ্য

মালদার হাসপাতালে বসে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পরীক্ষা দিলেন দুই মা

পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মুখ ভাল করে দেখার আগেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসলেন পরীক্ষার্থী। মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বেডে বসেই পরীক্ষা দেন প্রসূতি। তাঁকে দেখাভালের জন্য তাঁর পাশেই ছিলেন চিকিতসক ও নার্স। এমনকী একজন সিভিক ভলেন্টিয়ারও ছিলেন। পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মালদা মেডিকেল কলেজের বেডে বসেই পরীক্ষা দিলেন প্রসূতি ওই মহিলা। মালদা মেডিকেল কলেজে মাধ্যমিক ওই পরীক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুস্থ অবস্থায় পরীক্ষা দিতে পারছেন কিনা তার তদারকি করেন মেডিকেল কলেজের কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতীম মুখোপাধ্যায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর পাশেই পরীক্ষার সময়টুকু একটানা বসেছিলেন একজন চিকিৎসক, কর্তব্যরত নার্স। ছিলেন সিভিক ভলেন্টিয়ারও।মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা গ্রামের বাসিন্দা সিরিন বিবি। বছর দেড়েক আগে গ্রামের সরিফ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। গত শনিবার মালদা মেডিক্যাল কলেজে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয় সিরিন। বুধবার মধ্যরাতে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয় সে। এমন পরিস্থিতিতেও মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার মনোবল তুঙ্গে ছিল সিরিনের।এদিকে চিকিৎসকদের নজরদারি ও নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মালদা মেডিক্যালে পরীক্ষা দিয়েছে সিরিন বিবি। তবে শুধু সিরিন নয় মাদ্রাসা পরীক্ষা দিচ্ছে কোলের শিশুকে নিয়ে সাহারাবানু খাতুম। সে মানিকচকের বালুটোলার বাসিন্দা। যদিও সাহারাবানুর পুত্রসন্তান হয়েছে প্রায় চার মাস আগে। কিন্তু সম্প্রতি শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে যাওয়ায় তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই জায়গায় অন্য বেডে সিরিনের সাথেই মাদ্রাসার পরীক্ষা দিচ্ছে সাহারাবানু।

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৩
রাজ্য

মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী রৌনককে সম্বর্ধনা পুর্ব-বর্ধমানের জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা-র

বর্ধমান শহরের সিএমএস স্কুলের ছাত্র রৌনক মণ্ডল। ২০২২র মাধ্যমিক পরীক্ষায় যুগ্ম প্রথম স্থানাধিকারী। রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন হাই স্কুল (বাঁকুড়া) অর্ণব ঘড়াই রৌনক -এর সাথে যুগ্ম ভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ বছর ৭ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ অবধি মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়েছিল। করোনা অতিমারির কারণে ২০২১ এ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়নি। ২০২২ এ মোট মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬৩। ছাত্রের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯ জন। এবং ছাত্রী ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪। সারা রাজ্যে ৪ হাজার ১৫৪ টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সম্পুর্ণ আদর্শ করোনা বিধি মেনে।পুর্ব-বর্ধমান জেলার জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা মাধ্যমিকে প্রথম স্থানাধিকারী রৌনক মণ্ডল-কে তাঁর জেলাশাসক কার্যালয়ে শুক্রবার সম্বর্ধনা দেন। জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা রৌনক-কে একটি ল্যাপটপ উপহার দেন। ভবিষ্যতে কি হতে চাই সে কথা জানতে চাইলে, রৌনক প্রিয়াঙ্কা সিংলা কে জানান আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। প্রিয়াঙ্কা সিংলা তার সাফল্য কামনা করে শুভকামনা জানান, যাতে সে তার লক্ষ্যে অবিচল থেকে লক্ষ্য পুরণ করতে পারে।রৌনক জানান, সে মাধ্যমিকে প্রথম হবে সেটা আশা করেননি। তার ধারনা ছিল সে এক থেকে দশের মধ্যে থাকবে। রৌনক কতক্ষণ পড়ত জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলা এ কথা জানতে চাইলে, তাঁর মা জেলাশাসক-কে জানান, রৌনক দিনে গড়ে আট ঘণ্টা পড়ত। তিনি আরও জানান, রৌনক খুব বেশী রাত জেগে পড়েনি।শুক্রবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর প্রথম স্থানাধিকারী পূর্ব বর্ধমানের রৌনক মণ্ডল জানতে পারেন তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৩। সে জানাই, তার প্রিয় বিষয় জীবনবিজ্ঞান এবং অঙ্ক। যেহেতু আমার লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া তাই, নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছি।রৌনকের প্রিয় চরিত্র ফেলুদা, সত্যজিত রায়ের অমর সৃষ্টি পড়েই অবসর সময় অতিবাহিত করে সে। অবসর সময়ে ভলিবল খেলত বলে জানাই রৌনক। রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুরাগী, সময় পেলেই রবীন্দ্রনাথের গান গুনগুনিয়ে ওঠে। জেলাশাসকের কাছ থেকে ল্যাপটপ উপহার পেয়ে খুবই খুশি মাধ্যমিকে প্রথম রৌনক। সে জানাই এই ল্যাপটপ আমার পড়াশোনার জন্য খুব-ই কাজে লাগবে।

জুন ০৩, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, অভিযোগের আঙুল উঠলো বন্ধুর দিকে

বিয়ে বাড়িতে গিয়ে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমানে। মৃত ছাত্রের নাম শেখ জিৎ (১৬)। বর্ধমানের সড়াইটিকর মন্সিপাড়ার এই ছাত্র এবছর বর্ধমান হাই মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে।শনিবার সকালে এলাকার একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্তায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যদিও হাঁটু ভাঁজ করা অবস্তায় ছাত্রের পা মাটিতে ঠেঁকেছিল। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ছাত্র জিৎ আত্নহত্যা করেছে বলে মানতে চাননি তাঁর পরিবার। জিৎকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। ছাত্রেয় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কি তার তদন্ত পুলিশ শুরু করেছে।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র শেখ জিৎ শুক্রবার তাঁদের পাড়ারই একটি বিয়ে বাড়িতে যায়।সেখানে সবার সঙ্গে সে নাচ-গান করে। বন্ধু শেখ শরিফের বাড়িতে রাতে ঘুমাতে যচ্ছে বলে বলে জিৎ তাঁর বাড়ির লোকজনকে জানায়। জিতের বাবা শেখ আল্লারাখা এদিন পুলিশকে অভিযোগে জানান, তাঁর ছেলে শুক্রবার পাড়ার একটি বিয়ে বাড়িতে যাবার সময় বলে যায় বাড়িতে আনন্দ করবো। রাতে বাড়িতে ফিরবো না। বন্ধু শেখ শরিফের বাড়িতে ঘুমাবো বলেও সে জানিয়ে যায়। এরপরই এদিন সকালে বাড়ির অদূরেএকটি গাছে ঝুলে থাকা অবস্থায় ছেলের দেহ উদ্ধার হয়৷ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা দেখেন ছেলের দেহ গাছে ঝুললেও হাঁটু ভাঁজ করা অবস্তায় তাঁর পা মাটিতে ঠেকে আছে।শেখ আল্লারাখা বলেন, পুলিশ ঘটনা বিষয়ে শরিফকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় রাত বারোটার সময় সে জিৎকে ঘর থেকে বার করে দিয়েছে। ঘর থেকে বের করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে শরিফ জানায়, তাঁর ঘুম পেলেই জিৎ উঠে পালিয়ে যাচ্ছিল। তাই সে জিৎকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার কথা জিতের বাড়িতে জানালে যদি বকাবকি করে তাই কাউকে কিছু জানায় নি বলে শরিফ বলে। ছেলের বন্ধুর এমন বক্তব্য রহস্যজনক ঠেকায় শেখ আল্লারাখা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার যথোপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।তদন্তে নেমে পুলিশ ছাত্রের মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

মার্চ ২৬, ২০২২
রাজ্য

রং খেলতে বেরিয়ে খুন ঝাড়গ্রামের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

বাড়ি থেকে দোল খেলতে বেরিয়ে মৃত্যু হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। মৃতের নাম দীপ সাহা (১৬)। কিশোরের বাড়ি ঝাড়গ্রাম শহরের সুভাষপল্লি এলাকায়। শহরের বাণীতীর্থ হাই স্কুলের ছাত্র ছিল সে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ আইটিআই সংলগ্ন শীতলাডিহি এলাকা থেকে ওই কিশোরের অচেতন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন ঘোড়াধরায় বসন্ত উৎসবে বন্ধুদের সঙ্গে এসেছিল দীপ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নাবালককে ঘোড়ধরা পার্কের বাইরে থাকা কিছু যুবক ধাওয়া করেছিল। ছুটতে ছুটতে সে পড়ে যায়। জানা গিয়েছে, পুরনো বিবাদের জেরে সুভাষপল্লি এলাকার ছেলেদের মারধর করার জন্য পিছু ধাওয়া করছিল শহরের স্টেশন পাড়ার কয়েক জন যুবক। এ দিন সন্ধ্যায় ঝাড়গ্রাম থানায় কৌশিক দাস, অনুরাগ তিওয়ারি ও আয়ুষ যাদব, এই তিন জনের নামে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ওই কিশোরের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।মৃতের বাবা দিলীপ সাহা বলেন, আমার ছেলে কোনও দিন ঝামেলা গন্ডগোলে থাকে না। পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।

মার্চ ১৯, ২০২২
রাজ্য

টুকলি নিয়ে মারপিট বচসা, পরীক্ষাকেন্দ্রে জখম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

পরীক্ষা কেন্দ্রে টুকলি করা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিরোধ। তার জেরেই পরীক্ষাকেন্দ্র চত্বরে অন্য পরীক্ষার্থীদের মারধোরে জখম হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাঁর নাম শুভম ঘোষ। মঙ্গলবার ভৌতবিজ্ঞান পরীক্ষা শেষে এই ঘটনাটি ঘটে পূ্ব বর্ধমানের কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। মাথায় আঘাত লাগায় চিকিৎসার জন্য পরীক্ষার্থী শুভম ঘোষ কে উদ্ধার করে এদিন নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার পরেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হন অভিভাবকরা।অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কাটোয়া মহকুমার মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্র মধ্যে একটি হল অগ্রদ্বীপ ইউনিয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই পরীক্ষা সেন্টারে অগ্রদ্বীপ সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতন, মাখালতোড় উচ্চবিদ্যালয় সহ আসপাশের কয়েকটি স্কুল মিলে মোট ২৭৬ জন পড়ুয়া মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। মাখালতোড় উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র শুভম ঘোষ অগ্রদ্বীপের পলাশির বাসিন্দা। শুভম জানিয়েছে,পরীক্ষা শেষে হবার পর সে বাইরে বের হয়। তখনই সে দেখে সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতন স্কুলের বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী তার এক বন্ধুকে ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করছে। তা দেখে সে বন্ধুকে বাঁচাতে যাই। তখন মারধোরে জড়িতরা তাঁর বন্ধুকে ছেড়ে দিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়ে মারধর করতে শুরু করে। তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি পেটাতে শুরু করে। পরীক্ষাকেন্দ্র চত্ত্বরে থাকা সিভিক ভলান্টিয়াররা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।মারধোরের কারণ প্রসঙ্গে শুভম জানায়,পরীক্ষাকেন্দ্রে টুকলি করা নিয়ে কয়েকদিন ধরে সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতনের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর ওই বন্ধুর ঝামেলা ঝামেলা চলছিল। আর টুকলি বিবাদ তৈরি হওয়ায় সুবোধ চৌধুরী শিক্ষানিকেতনের পরীক্ষার্থীরা এদিন পরীক্ষা শেষে হামলা মারধোর শুরু করে দেয়। আক্রান্ত শুভমের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এদিনের ঘটনা বিষয়ে অগ্রদ্বীপ পুলিস ফাঁড়িতে অভিযোগ জানিয়েছেন। কাটোয়া মহকুমা শিক্ষাদপ্তরের এ-আই শেখর মণ্ডল বলেন,ঘটনাটি নিয়ে ওই স্কুলের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মার্চ ১৫, ২০২২
রাজ্য

অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও পূর্ব বর্ধমানে হাজারের বেশী পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা রাখলো না

করোনা অতিমারির কারণে প্রায় দুবছর বন্ধ ছিল স্কুল। অতিমারির প্রভাব শিথিল হবার পর স্কুল খুললে দেখা যায় অনেক পড়ুয়া আর স্কুলমুখী হচ্ছে না। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই চিত্র উঠে এল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। অ্যাডমিট কার্ড পেয়েও এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে পা-ই রাখলো না জেলার ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী। তার মধ্যে রয়েছে মেমারির রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ১৪ পরীক্ষার্থী ,বর্ধমানের তেজগঞ্জ হাইস্কুলে ৮ জন পরীক্ষার্থী ও কাটোয়ার একটি স্কুলের ১১ জন পরীক্ষার্থী।মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের এই ভাবে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি হতবাক করেছে জেলার শিক্ষক মহলকেও। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় কেন এত সংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলো তার তথ্য অনুসন্ধান ভীষণ জরুরী বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা।জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দফতরের দেওয়া তথা অনুযায়ী এই বছর খাতায় কলমে জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২৪ হাজার ১৩৮ জন ও ছাত্রী সংখ্যা ৩১ হাজার ৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যায়ন থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে এবছর ছাত্রের তুলনায় ৭ হাজার বেশী ছাত্রীর নাভ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী হিসাবে নথিভুক্ত হয়েছে।সোমবার থেকে শুরু হয়েছে এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা।কিন্তু পরীকার প্রথ দিন থেকে ছাত্র ও ছাত্রী মিলিয়ে ১০৩১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে পা-ই রাখলো না। পরীক্ষায় না বসার ক্ষেত্রে অবশ্য ছাত্রীর তুলনায় ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে।শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, করোনা অতিমারির কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাজ চলে গিয়েছে। অভিভাবকরা রেজগারহীন হয়ে পড়েছেন। সংসার টানতে ওইসব পরিবারের পড়ুয়াদেরও কাজে যেতে হয়েছে। আবার অনেক পড়ুয়া স্কুল বন্ধ থাকায় সংসারের আর্থিক দুরাবস্থা কাটাতে নানা জায়গায় কাজে চলে যায়। অনেক নাবালিকা ছাত্রীর আবার বিয়েও হয়ে গিয়েছে।এছাড়াও অনেকে ভেবে ছিল এই বছরও হয়তো পরীক্ষার পরিবর্তে আভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণে পাশ করার সুযোগ মিলবে। কিন্তু তা না হওয়ায় পরীক্ষারফর্ম পূরণের পরে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্র মুখো হয়নি।এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহকারী সভাধীপতি দেবু টুডু বলেন,রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের নানাবিধ সহায়তা পবার ব্যবস্থা করেছে।তার পরেও একাংশ পরীক্ষার্থীর এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় না বসার কি কারণ থাকতে পারে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

মার্চ ১০, ২০২২
রাজ্য

নাবালিকা ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করিয়ে তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেল পুলিশ

বিনাপণে বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের রাতে নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দিয়েছিল বাবা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার খবর পেয়েই পূর্ব পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ দ্রুত বেরোয়া গ্রামে পৌছে নাবালিকা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বিয়ে রেখে দেয়। তার কারণে নিরুপায় হয়ে বউ ছাড়াই টোপর হাতে নিয়ে ওই রাতেই নিজের বাড়ি ফিরে যেতে হয় বর বাবাজীবনকে। আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ি যেতে না হওয়ায় সোমবার মহানন্দেই মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিল ভাতারের মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।ছাত্রীটি এদিন জানিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য সে রবিবার রাতে পড়াশুনা করছিল। পরীক্ষা না দিয়ে ছাদনাতলায় বিয়ের পিঁড়িতে বসার কোনও চিন্তাভাবনা তার মাথাতেই ছিল না। একপ্রকার জোর করেই ওই দিন তাঁকে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য বাধ্য করা হচ্ছিল। তবে অবশ্য ভাতার থানার ওসি সৈকত মণ্ডলের জন্য তা আর কেউ করতে পারেনি। তাই এদিন ভালোভাবেই মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা দিতে পেরেছি বলে ছাত্রী জানিয়েছে। নাবালিকা ওই ছাত্রী আরও জানিয়েছে,পড়াশুনা ছেড়েদিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্ন সে দেখেনা। লেখাপড়া শিখে নিজেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করারই তাঁর এখন একমাত্র লক্ষ্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাতারের বেরোয়া গ্রামেরওই ছাত্রীরা দুই বোন। সে ছোট। তাঁর দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের বাবা জনমজুরির কাজ করেন ৷ মা গৃহবধু। মাহাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্রীটি । তাঁর সিট পড়েছে এরুয়ার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। যে যুবক রবিবার তাঁকে বিয়ে করতে টোপর মাথায় দিয়ে হাজির হয়েছিল তার বাড়ি বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার তালিত গ্রামে। ছাত্রীর মা এদিন বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বড় মেয়ের বিয়েতে অনেক ধারদেনা হয়ে গেছে। ছোট মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।তালিতের পাত্রটিও খারাপ ছিলনা । তার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর যখন আমাদের ছোট মেয়েকে বিনাপণে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় আমরা রাজি হয়ে যাই । তবুও আমরা অনুরোধ করেছিলাম মাধ্যমিক পরীক্ষার পর বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু পাত্রপক্ষ শর্ত রেখেছিল রবিবার রাতেই বিয়ে দিতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা মাধ্যমিক পরীক্ষার আগের দিন রাতে বিয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ।তবে মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ার পুলিশ রাতে আমার বাড়িতে পৌছে বিয়ে বন্ধ করিয়ে দেয় । ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দিতে পারবোনা বলে পুলিশের কাছে মুচলেখাও লিখে দিয়েছেন বলে ছাত্রীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন। এই ঘটনার কথা জেনে ওই ছাত্রী সহপাঠীরা ভাতার থানার পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

করোনা-কাল কাটিয়ে আজ শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা

আজ থেকে শুরু হচ্ছে এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। করোনা অতিমারির কাল সময়কে পেরিয়ে এবার পরীক্ষা হবে ফের অফলাইনে। মাধ্যমিকের পরীক্ষা পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সবরকমের ব্যবস্থা করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ রাজ্য সরকার। পরীক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি কোভিড বিধি নিষেধ মেনে যাতে পরীক্ষা হয় সেদিকেও কঠোর দৃষ্টি রাখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের পড়ুয়ারা যাতে নির্বিঘ্নে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে পারে তার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে আপামর রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক সংক্রান্ত কন্ট্রোলরুম চালু হয়েছে। ০৩৩ ২৩২১৩৮২৭-সহ বেশ কয়েকটি নম্বর পর্ষদের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত হেল্পলাইন চালু থাকবে বলে জানিয়েছে পর্ষদ। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারেন সে জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে গণপরিবহণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে। ইন্টারনেটেও নজরদারি চালানো হবে।পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।এবছর মাধ্যমিকে বসছে ১১ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থী। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্য়া এবছর বেশি। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪। আর ছাত্রদের সংখ্যা ৫ লক্ষ ৫৯।পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মলনে বলেন, এবছর ৫০ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী বেড়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরীক্ষার সেন্টার বা মূল পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা এবছর ১৪৩৫। এছাড়া সাব-ভেন্যু থাকছে ২ হাজার ৭৫৯টি। সব মিলিয়ে মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা চার হাজার ১৫৪টি।

মার্চ ০৭, ২০২২
রাজ্য

এ এক মন ভালো করা কাহিনী, ক্যানসারকে দূরে সরিয়ে কঠিন লড়াই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সামিনার

শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি ক্যানসার। তা বলে জীবনযুদ্ধে হার মানতে চায়না ছাত্রী সামিনা খাতুন। তাঁর একটাই লক্ষ্য, মারণ ব্যাধির সব জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়েও সাফল্যের সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য মনের জেদকে সম্বল করেই কিশোরী সামিনা সোমবার বসতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়। লেখাপড়া শেখার জন্য ছাত্রী সামিনার এমন জীবন সংগ্রামের সাথী হয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে সামিনার যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এই বছর পূর্ব বর্ধমান জেলায় মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ৫৫ হাজার ৪৪৯ জন। তার মধ্যে ছাত্র রয়েছে ২৪,১৩৮ জন । আর ছাত্রী রয়েছে ৩১,৩১৫ জন। এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিয়েছে এই বছর জেলায় ছাত্রদের থেকে ৭ হাজার বেশী ছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। সেই ছাত্রীদের মধ্যেই একজন জেলার জামালপুর ব্লকের রামনাথপুর গ্রাম নিবাসী ছাত্রী সামিনা খাতুন। রামনাথপুরের শেখ পাড়ার এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সামিনা। ছোট্ট দুকুঠুরি ঘরে পরিবারের সকলে বসবাস করেন। সামিনার বাবা শেখ আলম খেতমজুরির কাজ করেন। মা নূরজাহান বেগম সাধারণ গৃহবধূ। সামিনার দিদি আসলিমা বিবাহিতা।ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়া শেখার বিষয়ে সামিনার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে সামিনা ভর্তি হয় স্থানীয় বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একের পর এক ক্লাসের পরীক্ষায় পাশ করে সামিনা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তির্ণ হয়।এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামিনার জীবনে ছন্দপতন ঘটে যায় এরপরেই। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরত কালেই ছাত্রী সামিনার শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। তাঁর বাবা মা তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।পরিবারের সকলে তখন মনে করেছিলেন জামালপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের চিকিৎসাতেই সামিনা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তা হয় না। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে সামিনার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি। তারপর থেকে টানা দুবছর ধরে তাঁর ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে।এখন নিয়ম করে সামিনাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি নিতে যেতে হয়। এর জন্য মাথার চুল সব উঠে যাওয়ায় সামিনা প্রথমে একটু মুষড়ে পড়েছিল ঠিকই। তবে এখন তা নিয়ে সামিনা আর মাথা ঘামাতে চায় না। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া। সমিনা জানিয়েছে, তাঁর দুই কানের নিচে গলার অংশে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে ঠিকই তবে এখনও খাওয়া দাওয়া সে ভালভাবে করতে পারে না। গলায় খুব ব্যাথা থাকায় ভাত গিলে খেতে পারে না। শুধু পাতলা সুজি কোন রকমে খেয়ে দিনের পরদিন তাঁকে পেট ভরাতে হচ্ছে। তবে কষ্ট যাই থাক লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সে বিছানায় শুয়ে থেকে দিন কাটাতে চায় না।সামিনা জানায়, তাঁকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল ভাবে উত্তীর্ণ হতে হবেই। তাই মারণ ব্যাধির সব জ্বালাযন্ত্রনা সহ্য করে নিয়ে সোমবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার জন্য মনোনিবেশ করেছে বলে আত্মবিশ্বাসী সামিনা এদিন জানিয়েছে।ছাত্রী সামিনার বাবা শেখ আলম বলেন, আমি খেতমজুরির কাজ করে যে টুকু রোজগার করি তা দিয়েই পরিবারের সকলের দিন গুজরান হয়। দুবছর ধরে আমার ছোট মেয়ে সামিনার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে এতবড় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পুষ্টিকর খাবারদাবার কিছুই দিতে পারি না।মেয়ের স্কুলের শিক্ষক মহাশয়গণ ছাড়াও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক, স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ জিয়ারুল রহমান সহ আরও কয়েকজন শুভানু্ধ্যায়ী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির জন্য মেয়েকে নিয়মিত বর্ধমান হাপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে পারছি। আলম বাবু আরও বলেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর মেয়ে দমে যায়নি। সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সে এতদিন পুরোদমে পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছে । সামিনার মা নূরজাহান বেগম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালেই তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কোন সহৃদয় মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবে মেয়েকে ভিন রাজ্যের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারেন।বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, সামিনা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের এ- বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুবছর আগে ওর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে যতটা সম্ভব সামিনাকে সাহায্য করা হয়েছে। সামিনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় স-সন্মানে যাতে উত্তীর্ণ হতে পারে তার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা ওর জন্য থাকছে। শ্যামল বাবু এও বলেন, সামিনা আমাদের চোখে জীবন সংগ্রামের যোদ্ধা। জীবন যুদ্ধেও সামিনা যাতে জয়ী হতে পারে সেই লড়াইয়েও সামিনার পাশে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক শিক্ষিকারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার কমিটির বৈঠকের সময়ে সামিনার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের তরফে লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখা হয়েছে।পরিক্ষার দিনগুলিতেও সামিনাকে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়েও বিদ্যালয় নজর রাখবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন,ব্লক প্রশাসনও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে অসুস্থ ছাত্রী সামিনার পাশে থাকবে। ওর যাতে কোন অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হবে তা নেওয়া হবে।

মার্চ ০৬, ২০২২
রাজ্য

মাধ্যমিকের আগের দিন আত্মঘাতী কাটোয়ার পরীক্ষার্থী, ইতিহাস পরীক্ষার দুশ্চিন্তাই কী কাল হল?

ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে হয়তো সব ভুলে যাবে। এমন দুঃশ্চিন্তার জেরে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর আগের দিনেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক পরীক্ষার্থী। মৃতর নাম বিশাল চৌধুরী(১৬)। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার আউড়িয়া গ্রামে। আউড়িয়া গ্রামে মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করতো আউড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র বিশাল। এদিন বেলায় মামার বাড়ির একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রের ঝুলন্ত মৃতদেহ। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতের মামা রাহুলদেব দাঁ বলেন, ছোট থেকেই বিশাল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। মাধ্যমিকের টেষ্ট পরীক্ষাতেও ৬৮৫ নম্বর পায়। টেষ্টে ইতিহাস বিষয়ে ৮৫ নম্বর পেয়েছিল। কিন্তু ভুলে যাওয়া স্বভাবের কারনে বিশালের মনে আশঙ্কা তৈরি হয় ষে হয়তো ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে সব ভুলে যাবে। আর তার কারণেই পরীক্ষার ফল খারাপ হয়ে যাবে ধরে নিয়ে কিছুদিন যাবৎ বিশাল খুব টেনশন করতে শুরু করে। রাহুলবাবু বলেন, অহেতুক টেনশন না করার জন্য বিশালকে আমরা বোঝাতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ও যে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে তা আমরা কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী তন্ময় চৌধুরীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় চন্দ্রিকাদেবী তাঁর একমাত্র সন্তান বিশালকে নিয়ে অউড়িয়া গ্রামে বাপের বাড়িতে থাকা শুরু করেন। চন্দ্রিকাদেবী অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। তন্ময় বাবু কাটোয়াতে থাকলেও স্ত্রী ও একমাত্র ছেলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতেন না। সেই সব বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে বিশাল পড়াশুনাতেই বেশী মনোনিবেশ করে থাকতো। বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে বেশী মেলামেশায় না মেতে থেকে সে পড়াশোনা নিয়েই সারাটা দিন নিজেকে ব্যস্ত রাখতো। ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে সব ভুলে যাবে এমন আশঙ্কা সে কিছু দিন যাবৎ প্রকাশ করতে শুরু করে। মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন যত ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই বিশালের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চা বিস্কুট খেয়ে সে দোতলায় নিজের ঘরে পড়তে চলে যায়। তখন একতলার গৃহস্থালীর কাজকর্ম করছিলেন চন্দ্রিকাদেবী। হঠাৎ দুতলা থেকে একটা আওয়াজ পেয়ে তিনি উপরে ছুটে যান। দেখেন ছেলের ঘরের দরজা বন্ধ। তারপর তিনি দোতলার ঘরের জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেন ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ছেলের দেহ ঝুলছে। চন্দ্রিকাদেবী চিৎকার শুরু করলে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে যায়। তারা দরজা ভেঙে বিশালকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মার্চ ০৬, ২০২২
রাজ্য

সোমবার শুরু মাধ্যমিক, একগুচ্ছ ব্যবস্থা রাজ্যের

চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা আগামী সোমবার শুরু হচ্ছে। পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা এড়াতে এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষার পর্ব সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। পরীক্ষার দিনগুলোতে ইন্টারনেটে প্রশ্ন ফাঁস বা অন্য সমস্যা রুখতে যে সমস্ত এলাকায় নেট সার্ভারে অনিয়ম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে সেই এলাকাগুলোতেই বিশেষভাবে নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।পরীক্ষার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নবান্নে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন পুলিশ কর্তারা। প্রথমে ঠিক হয়েছিল পরীক্ষার দিনগুলোতে প্রশ্ন ফাঁস আটকাতে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ রাখা হবে। তবে পরে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।আগামী ৭,৯,১১,১২ ও ১৪ তারিখ মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর সওয়া ৩টে অবধি ইন্টারনেটে সাইবার বিশেষজ্ঞ দলের বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরারও ব্যবস্থা থাকছে। পুলিশকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় এবার অফলাইনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে।তবে করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এবার হোম সেন্টারেই হবে পরীক্ষা।পরীক্ষা চলাকালীন কঠোরভাবে কোভিড বিধি নিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব বিধি মেনে বসাতে বলা হয়েছে। মাস্ক ও স্যানিটাইজার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য কোনও পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে পেন, পেন্সিল, স্কেল ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলী শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, সব মিলিয়ে চার হাজার ১৫৪টি কেন্দ্রে ১১ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৩ জন পরীক্ষার্থী এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। যেটা একটা রেকর্ড। এর মধ্যে ৬ লক্ষ ২৬ হাজার ৮০৪ জন ছাত্রী রয়েছে। সকাল পৌনে বারোটায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য পনেরো মিনিট সময় পাবেন। বেলা তিনটে পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। প্রশ্ন ফাঁস এড়াতে পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পনেরো মিনিটের আগে ছাত্রছাত্রীরা কক্ষের বাইরে বের হতে পারবেন না।করোনার বাড়বাড়ন্তের কারণে গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা হচ্ছে অফলাইনে।৭ মার্চ থেকে ১৬ মার্চ অবধি চলবে পরীক্ষা। ইতিমধ্যেই অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেয়ে গেছেন পড়ুয়ারা। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই কথা মাথায় রেখেই এবার বিশেষভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে মাধ্যমিক পরীক্ষায়।

মার্চ ০৫, ২০২২
রাজ্য

Student's Struggle: শরীরে বাসা বেঁধেছে মারন রোগ, তবুও মাধ্যমিক পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য এক ছাত্রীর সংগ্রামের কাহিনী

শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি ক্যানসার। তা বলে জীবনযুদ্ধে হার মানতে চায় না ছাত্রী সামিনা খাতুন।তাঁর এখন একটাই লক্ষ্য, মারণ ব্যাধির জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়েও পড়াশুনা চালিয়ে গিয়ে সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।মনের জেদকে সম্বল করেই কিশোরী সামিনা সেই লক্ষ্য পূরণের পথে এখন এগিয়ে চলেছে। শুধুমাত্র লেখাপড়া শেখার জন্য এক ক্যানসার আক্রান্ত ছাত্রীর এমন কঠিন লড়াইয়ে ব্রতি হওয়া কার্যতই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীরা।পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম রামনাথপুর। এই গ্রামের শেখ পাড়ার এক দিন দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সামিনা খাতুন। ছোট্ট দুকুঠুরি ঘরে পরিবারের সকলে বসবাস করেন । সামিনার বাবা শেখ আলম খেতমজুরির কাজ করেন। মা নূরজাহান বেগম সাধারণ গৃহবধূ।সামিনার দিদি আসলিমা বিবাহিতা। ছোট বয়স থেকেই লেখাপড়া শেখার বিষয়ে সামিনার আগ্রহ তৈরি হয়। তাঁর বাবা তাঁকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ সম্পূর্ণ করে সামিনা ভর্তি হয় স্থানীয় বনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। একের পর এক ক্লাসের পরীক্ষায় পাশ করে সামিনা অষ্টম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়। এই পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও সামিনার জীবনে ছন্দপতন ঘটে যায় এরপরেই।আরও পড়ুনঃ ফের আংশিক লকডাউনের সম্ভাবনা রাজ্যে, আপাতত বাতিল দুয়ারে সরকার কর্মসূচিঅষ্টম শ্রেণিতে পাঠরত কালেই ছাত্রী সামিনার শারীরিক অসুস্থতা শুরু হয়। তাঁর বাবা মা তাঁকে জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। পরিবারের সকলে তখন মনে করেছিলেন জামালপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের চিকিৎসাতেই সামিনা সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তা হয় না। বিভিন্ন ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ধরা পড়ে সামিনার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারণ ব্যাধি। তার পর থেকে টানা দুবছর ধরে তাঁর ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। এখন নিয়ম করে সামিনাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি-র জন্য নিয়ে যেতে হয়। এর জন্য মাথার চুল সব উঠে যাওয়ায় সামিনা প্রথমে একটু মুষড়ে পড়েছিল ঠিকই। তবে এখন তা নিয়ে সামিনা আর মাথা ঘামাতে চায় না। তাঁর মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন সে সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তির্ণ হওয়ার জন্য শুধুই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে।সমিনা জানিয়েছে, তাঁর দুই কানের নিচে গলার অংশে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসা চলছে ঠিকই তবে এখনও খাওয়া দাওয়া সে ভালভাবে করতে পারছে না। গলায় খুব ব্যাথা থাকায় ভাত গিলে খেতে পারছে না। শুধু পাতলা সুজি কোনওরকমে খেয়ে দিনের পর দিন তাঁকে পেট ভরাতে হচ্ছে। তবে কষ্ট যাই থাক লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে সে বিছানায় শুয়ে থেকে দিন কাটাতে চায় না। সামনেই তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় সফল ভাবে তাঁকে উত্তীর্ণ হতেই হবে। তাই মারণ ব্যাধির জ্বালা যন্ত্রণা সব সহ্য করে নিয়ে সে এখন শুধু পড়াশুনাতেই মনোনিবেশ করেছে বলে আত্মবিশ্বাসী সামিনা জানিয়েছে।আরও পড়ুনঃ বাহার কী স্বাদ ঘর মে- চিকেন রেশমি কাবাবছাত্রী সামিনার বাবা শেখ আলম বলেন , আমি খেতমজুরির কাজ করে যে টুকু রোজগার করি তা দিয়েই পরিবারের সকলের দিন গুজরান হয়। দুবছর ধরে আমার ছোট মেয়ে সামিনার ক্যানসার রোগের চিকিৎসা চলছে। মেয়ে এতবড় কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে তাঁকে পুষ্টিকর খাবারদাবার কিছুই দিতে পারছি না। মেয়ের স্কুলের শিক্ষক মহাশয়গণ ছাড়াও জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খাঁন, কর্মাধ্যক্ষ ভূতনাথ মালিক, স্কুলের পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ জিয়ারুল রহমান সহ আরও কয়েকজন শুভানু্ধ্যায়ী আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই কেমো থেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপির জন্য মেয়েকে নিয়মিত বর্ধমান হাপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে আসা ও ওষুধের খরচ জোগাড় করতে পারছি।আলম বাবু আরও বলেন, কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেও তাঁর মেয়ে দমে যায়নি। সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার জন্য সে এখন পুরোদমে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। সামিনার মা নূরজাহান বেগম বলেন, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাপাতালেই তাঁর মেয়ের চিকিৎসা চলছে। কোন সহৃদয় মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তবে মেয়েকে ভিন রাজ্যের বড় কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যেতে পারেন। অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য নূরজাহান বেগম সকলের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।আরও পড়ুনঃ প্রায় ৩ লক্ষ কিশোর-কিশোরীকে করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু পূর্ব বর্ধমানেবনবিবিতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল রায় বলেন, সামিনা খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের এ- বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দু,বছর আগে ওর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। তারপর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে যতটা সম্ভব সামিনাকে সাহায্য করা হয়েছে। সামিনা মাধ্যমিক পরীক্ষায় স-সন্মানে যাতে উত্তীর্ণ হতে পারে তার জন্য বিদ্যালয়ের তরফে সমস্তরকম সহযোগিতা থাকছে। শ্যামলবাবু এও বলেন, সামিনা আমাদের চোখে জীবন সংগ্রামের যোদ্ধা । জীবন যুদ্ধেও সামিনা যাতে জয়ী হতে পারে সেই লড়াইয়েও সামিনার পাশে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকারা। মাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার কমিটির বৈঠকের সময়ে সামিনার অসুস্থতার বিষয়টি বিদ্যালয়ের তরফে লিখিত ভাবে জানিয়ে রাখা হবে। পরীক্ষার দিনগুলিতেও সামিনাকে যাতে কোন অসুবিধায় পড়তে না হয় সেই বিষয়েও বিদ্যালয় নজর রাখবে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন। জামালপুর ব্লকের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন, ব্লক প্রশাসনও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে অসুস্থ ছাত্রী সামিনার পাশে থাকবে। ওর যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার তা নেওয়া হবে।

জানুয়ারি ০১, ২০২২
রাজ্য

Examination Schedule: মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা, পরীক্ষার সূচি জানুন

আগামী বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। ৭ মার্চ থেকে শুরু হবে ২০২২ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষা চলবে ১৬ মার্চ পর্যন্ত। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক শুরু হবে ২ এপ্রিল থেকে। চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। উচ্চ মাধ্যমিক হবে হোম সেন্টারে। অর্থাৎ স্কুলেই হবে পরীক্ষাগ্রহণ।২০২২ সালের মাধ্যমিকের সূচি-৭ মার্চ বাংলা৮ মার্চ ইংরেজি৯ মার্চ ভূগোল১১ মার্চ ইতিহাস১২ মার্চ জীবনবিজ্ঞান১৪ মার্চ অঙ্ক১৫ মার্চ ভৌত বিজ্ঞান১৬ মার্চ ঐচ্ছিক বিষয়পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মাধ্যমিক শুরু হবে সকাল ১১টা ৪৫ থেকে। চলবে বেলা ৩টে পর্যন্ত। প্রথম ১৫ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়ুয়ারা পড়বে। পরের তিন ঘণ্টা থাকবে লেখার জন্য। এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন ৯ হাজার ৯৯১ টি স্কুলের পড়ুয়ারা। আমাদের হোম সেন্টার হবে না। কোভিড বিধি মেনে যতখানি পারব পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়াব। সেই হিসাবে পরীক্ষা হবে। এখনও অবধি সিদ্ধান্ত টেস্ট আমরা নেব। তবে সবটাই নির্ভর করবে কোভিড পরিস্থিতির উপরে। ডিসেম্বরের শেষের দিকে স্কুলগুলিতে টেস্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যাবে বলে আশাবাদী পর্ষদ সভাপতি।অন্যদিকে ২ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মোট ৫৬ টা বিষয়ের উপর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে। একাদশে রয়েছে ৬০টি বিষয়ে পরীক্ষা। কারণ এ বছর একাদশে আরও চারটি ভোকেশনাল কোর্স বেড়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশের পরীক্ষা হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা ১৫ পর্যন্ত। একই দিনে একাদশের পরীক্ষা হবে বেলা ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ পর্যন্ত। উচ্চমাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা শুরু হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ। প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষাগুলো স্কুলগুলিই পরিচালনা করবে।

নভেম্বর ০১, ২০২১
শিক্ষা

Madhyamik Result 2021: মাধ্যমিকে নজিরবিহীন ফল, পাশ ১০০ শতাংশ, ৬৯৭ নম্বর পেল ৭৯ জন

Madhyamik Exam 2021: মাধ্যমিকে পাশের হার এবার অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেল। করোনা আবহে ১০০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রীকেই পাশ ঘোষণা করেছে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ। তবে এবার কোনও মেধাতালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না। মঙ্গলবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে ২০২১ মাধ্যমিকের ফল ঘোষণা করেন। পর্ষদের ৪৯টি ক্যাম্প থেকে মার্কশিট, অ্যাডমিট কার্ড এবং সার্টিফিকেট বিতরণ হবে। ৭৯ জন পরীক্ষার্থীর সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৭।এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০ লক্ষ ৭৯ হাজার ৭৫০ জন। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের সংখ্যাও ছিল বেশি। মাধ্যমিকের ফলাফলের ভিত্তি ছিল নবম শ্রেণির ফল ও দশম শ্রেণির ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট। দুই পরীক্ষা থেকেই ৫০ শতাংশ নম্বর নেওয়া হয়েছে। এদিনই করোনাবিধি মেনে স্কুলগুলি থেকে মাধ্যমিকের মার্কশিটের সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা।ফল জানা যাবে নীচের ওয়েবসাইটগুলি থেকেঃ-www.wbbse.wb.gov.inhttps://wbresults.nic.inwww.exametc.comMadhyamik Result 2021- এই অ্যাপ ডাউনলোড করেও জানা যাবে পরীক্ষার ফল।করোনা পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না হওয়ায় বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে এবারের মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হল। এবার পাশ করেছে সকলেই অর্থাৎ নজিরবিহীন ভাবেই এবার পাশের হার ১০০ শতাংশ। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। মাধ্যমিকে পাশের হার গতবছর ছিল ৮৬.৩৪ শতাংশ।

জুলাই ২০, ২০২১
রাজ্য

Madhyamik Result: মাধ্যমিকের ফলপ্রকাশ এ মাসেই

আগামি ২০ জুলাই ফলপ্রকাশ হতে চলেছে এবছরের মাধ্যমিকের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে শুক্রবার একথা ঘোষণা করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ফল প্রকাশ করবে পর্ষদ। বেলা ১০ টা থেকে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ও বোর্ডের অ্যাপে এই ফল জানতে পারা যাবে। করোনা পরিস্থিতির জন্য এবার দশম শ্রেণির পরীক্ষা হয়নি। ফলে পড়ুয়ারা অ্যাডমিট কার্ডও পায়নি। তাই এবার পড়ুয়াদের ফল জানতে হবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং জন্মতারিখ ব্যবহার করে। স্কুল থেকে মার্কশিট নিয়েও ব্যবহৃত হবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর। যে যে ওয়েবসাইটে ফল জানা যাবে, তা নিম্নরূপ:www.wbbse.wb.gov.inhttps://wbresults.nic.inwww.exametic.com

জুলাই ১৬, ২০২১
রাজ্য

Madhyamik and Higher Secondery Examination: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতির ঘোষণা করল বোর্ড

করোনা (Coronavirus) পরিস্থিতিতে স্থগিত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক। বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে মূল্যায়ন হবে, যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে ফর্মুলা জানালেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চমাধ্যমিক সংসদের সভাপতি। কোনও পড়ুয়া চাইলে বসতে পারে দশমের পরীক্ষায়। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে ফলপ্রকাশের সম্ভাবনা। বিকল্প পরীক্ষা পদ্ধতি জানতে পেরে স্বস্তিতে পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকরা।মধ্যশিক্ষা (Madhyamik) পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় জানান, মাধ্যমিকের বিকল্প হিসাবে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফল এবং দশম শ্রেণির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফলপ্রকাশ করা হবে। ওই নম্বরে কেউ সন্তুষ্ট না হলে আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে নেওয়া হবে পরীক্ষা। ওই পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে দেওয়া হবে মার্কশিট। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ডঃ মহুয়া দাস জানান, উচ্চমাধ্যমিকের বিকল্প হিসাবে ২০১৯ সালের মাধ্যমিকের চারটি বিষয়ের সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তি করে ৪০ শতাংশ নম্বরের ওয়েটেজ, ২০২০ সালের একাদশের বার্ষিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ৬০ শতাংশ ওয়েটেজ এবং দ্বাদশের প্র্যাকটিকাল প্রজেক্টের ভিত্তিতে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ফলপ্রকাশ করা হবে। করোনা আবহে বারবার পিছিয়েছে মাধ্যমিক (Madhyamik Exam) এবং উচ্চমাধ্যমিক (Higher Secondery Exam)। বিধানসভা নির্বাচনের পর বোর্ডের দুই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলেই প্রথমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রেখে কীভাবে তা নেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা হয়। করোনা আবহে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক নেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে জনমতও জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জনমত পাওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী চলতি বছরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিকল্প পদ্ধতিতে কীভাবে পড়ুয়াদের নম্বর দেওয়া হবে, তা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিক সংসদ স্থির করবে বলেও জানান তিনি।

জুন ১৮, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

১৯৭১-এর যুদ্ধনায়ককে কেন ডাকা হল এসআইআর শুনানিতে? মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বুকে কাঁপন ধরানো প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর শুনানিতে তলব করা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধানকে কেন পরিচয় প্রমাণের জন্য নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সোমবার মুখ খুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডমিরাল প্রকাশ। তাঁর পোস্ট সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাডমিরাল প্রকাশের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে পূর্ববর্তী এসআইআর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।এলাকার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার মেডোরা এরমোমিল্লা ডিকোস্টা জানান, এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, অংশ নম্বর এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ফর্মের সঙ্গে পুরনো ভোটার তালিকার স্বয়ংক্রিয় মিল করা সম্ভব হয়নি। শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলেই এই ধরনের ক্ষেত্রে শুনানির জন্য ডাকা হয় বলে জানান তিনি।১৯৭১ সালের যুদ্ধে বায়ুসেনার পাঞ্জাব স্কোয়াড্রনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান চালিয়েছিলেন অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীর চক্র পান। প্রায় ৪০ বছর নৌসেনায় কাজ করেছেন তিনি। ফাইটার স্কোয়াড্রন, এয়ার স্টেশন, আইএনএস বিরাট-সহ মোট চারটি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করেছেন। নৌসেনাপ্রধান থাকাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও করেছিলেন তিনি।নোটিস পাওয়ার পর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডমিরাল প্রকাশ লেখেন, এসআইআর ফর্মে যদি প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফর্ম সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএলও তিনবার তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখনই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া যেত। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী যথাক্রমে ৮২ ও ৭৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, অথচ তাঁদের বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাও আবার আলাদা আলাদা দিনে।এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক তীব্র হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য না থাকলে বিএলও অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাপিং করতে পারে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিদেশ

ইরানে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ভারতীয়রা? অভিযোগ উড়িয়ে মুখ খুলল তেহরান

খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সেই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে খবর, অন্তত ছজন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু ভারতীয় নয়, বিক্ষোভ দমনের নামে অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও নাকি আটক করছে ইরানের প্রশাসন। এই অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই সব দাবি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলল তেহরান।মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা জড়িত ছিলেন। তবে এই খবরকে কার্যত ভুয়ো বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি।এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রদূত লেখেন, ইরান নিয়ে বিদেশি বহু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সকলকে নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্র থেকে খবর জানার অনুরোধ জানান। যদিও বাস্তবে ইরান থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ। পাশাপাশি বিদেশে ফোন করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ফলে মৃত ও গ্রেপ্তারির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা না করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা, এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর এই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছেন তিনি। তেহরান-সহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ? এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় শীর্ষ আদালত

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের করা মামলার ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।এদিন এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যে চলা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে মামলা করেছিলেন দুই তৃণমূল সাংসদ। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।শুনানিতে কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন বহু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, বাংলার বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কমিশনের তরফে যে সব অমিল বা লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সির কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে কমিশনের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জবাব দিতে তাদের দুসপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা জমা দিতে হবে।আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

আরএসি নেই, ওয়েটিং নেই! বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলের

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই বাংলা থেকে গড়াতে চলেছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের চাকা। হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলবে এই নতুন প্রিমিয়াম ট্রেন। আগামী ১৭ জানুয়ারি মালদহ স্টেশন থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ট্রেন চালু হওয়ার খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।এবার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট সামনে আনল রেল। জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে কোনও আরএসি বা ওয়েটিং লিস্ট টিকিট থাকবে না। শুধুমাত্র কনফার্ম টিকিটেই যাত্রা করা যাবে। অর্থাৎ টিকিট কাটলে সিট বা বার্থ নিশ্চিত থাকবেই।রেল সূত্রে খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ন্যূনতম ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য। রাজধানী এক্সপ্রেস বা শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের ভাড়া সামান্য বেশি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ থাকবে। পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও আলাদা কোটা থাকছে। ডিউটি পাস কোটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।ভাড়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ধরা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। ২এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ৩ টাকা ১০ পয়সা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রতি কিলোমিটারে ৩ টাকা ৮০ পয়সা।যেহেতু ন্যূনতম ৪০০ কিলোমিটারের ভাড়া নেওয়া হবে, তাই ৩এসি শ্রেণিতে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রার জন্য খরচ পড়বে ৯৬০ টাকা। ২এসি শ্রেণিতে এই ভাড়া হবে ১২৪০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে ১৫২০ টাকা। এই ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত জিএসটি যোগ হবে।হাওড়া থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। এই পথে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ২৪০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৩১০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে প্রায় ৩৮০০ টাকা।রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বের যাত্রায় ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৪৮০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৬২০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৭৬০০ টাকা। ৩০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ক্ষেত্রে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৭২০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৯৩০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পৌঁছবে প্রায় ১১ হাজার ৪০০ টাকায়।বর্তমানে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলা সরাইঘাট এক্সপ্রেসে সর্বোচ্চ ভাড়া ৩এসি শ্রেণিতে ১৪১০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ১৯৮৫ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৩৩২০ টাকা।সময়সূচি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে গুয়াহাটিগামী বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে এবং পরের দিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে গুয়াহাটিতে পৌঁছবে। গুয়াহাটি থেকে এই ট্রেন ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ এবং পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। সপ্তাহে ছয় দিন এই ট্রেন চলবে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চলবে না।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
রাজ্য

কাজের কাগজেই ভোটাধিকার! উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড় ছাড় নির্বাচন কমিশনের

উত্তরবঙ্গের চা এবং সিঙ্কোনা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এবার কাজের নথিই যথেষ্ট বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বহু বাগান শ্রমিকের ভোটাধিকার পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হল।রবিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট চা বা সিঙ্কোনা বাগানে কাজ করার প্রমাণপত্র জমা দিলেই হবে। তবে তার সঙ্গে বৈধ বাসস্থানের প্রমাণপত্র যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই দুটি নথি থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আর কোনও সমস্যা হবে না।এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহার জেলার চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরাই এসআইআর পর্বে এই সুবিধা পাবেন।প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রথমে মোট ১১টি নথি নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে আরও দুটি নথি যুক্ত করা হয়আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত নথি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের বহু চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকের কাছেই এই নথিগুলি নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা বাগানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক পরিচয়পত্র অনেকের কাছেই অধরা।এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসকরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, যাতে বাগানের কাজের নথিকেই ভোটার তালিকাভুক্তির প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবশেষে সেই দাবিতে সায় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এর পাশাপাশি, রাজ্যের প্রান্তিক এবং বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের কথা মাথায় রেখে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন। ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষও সহজে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি কে? জানুন বিচারপতি সুজয় পালের পুরো প্রোফাইল

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিচারপতি সুজয় পাল। এতদিন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে তাঁর নামেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়।প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম অবসর নেওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি সুজয় পাল। তার আগে এই পদে ছিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন। পরে তাঁকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হলে সেই পদে আসেন বিচারপতি সুজয় পাল।বিচারপতি সুজয় পালের জন্ম একটি প্রবাসী বাঙালি পরিবারে। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রদেশে। তিনি এলএস ঝা মডেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে রাণি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকেই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ২০১১ সালে তিনি জব্বলপুরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে তাঁর ছেলে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করায় তাঁকে তেলঙ্গানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৬ মে বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির অবসরের পর আর কোনও বাঙালি বিচারপতি এই পদে আসেননি। সেই পরিস্থিতি এখনও বদলাল না। নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ফের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করছেন আইন মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal