• ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২, বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Madhura

বিনোদুনিয়া

প্রতারিত হয়েও, আগমনী গানের সুরের মুর্ছনায় ভেসে 'উমা আইলো' মধুরার-ই ঘরে

বছরভর অপেক্ষা সেই চারটে দিনের। যে যার সাধ্যমত আয়োজন করে দেবী দুর্গা-র আরাধনায় ব্রতী হয়। দেবীর মর্ত্যে আগমনের আশায় যে গান বাঁধা হয় তারই নাম আগমনী গান। আগমনী গানের প্রেক্ষাপট আমাদের বঙ্গজীবনের সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে মিলেমিশে এককার হয়ে গেছে।পুরাণে শিব-দুর্গা বা হর-পার্বতী সম্বন্ধে যাই লিপিবদ্ধ থাকনা কেন আমাদের বঙ্গের লৌকিক দেবদেবীদের নিয়ে বেশ কিছু উপাখ্যান আছে। সেগুলির মধ্যে শিব-দুর্গার এই উপাখ্যান অন্যতম। শিব-দুর্গার এই উপাখ্যানকে সামনে রেখেই বাংলায় রচিত হল আগমনী গান। লোকমুখে প্রচলিত কাহিনীর দিকে যদি নজর দেওয়া যায়, তাহলে জানা যাবে, বিত্তশালী বাবা দক্ষ গিরিরাজের মেয়ে উমার (দূর্গা/পার্বতী) শ্মশান বাসি শিবের সাথে বিবাহ হয়েছে। বিয়ের পরে সাংসারিক রীতি অনুযায়ী দ্বিরাগমনে উমা শশুর বাড়ি চলে গেলে মেয়ের কথা ভেবে ভেবে মা মেনকার মন আকুল হয়ে ওঠে।এই শরৎ কালের কোনও এক রাতে মেয়ে উমাকে স্বপনে দেখে মা মেনকা কাতর অনুরোধ করে গিরিরাজকে বলেন উমাকে কয়েকদিনের জন্য বাপের বাড়ি নিয়ে আসতে। অবশেষে মা মেনকা ও বাবা দক্ষরাজের অনুরোধে উমা তাঁর শ্মশান বাসী ভোলানাথকে অনেক বুঝিয়ে কয়েকদিনের দিনের জন্য বাপের বাড়ি আসতে সম্মত হয়। উমার বাপের বাড়ি আগমনকে কেন্দ্র করেই যে গান রচিত হয় তাঁকেই আগমনী গান বলে অবিহিত করা হয়।সারা বছর নানা মাধ্যমে এত গান রিলিজ হয় পুজোর গান-র সেই অর্থে কৌলীন্য হয়ত অনেকটাই হারিয়েছে। কিন্তু তাঁর মধ্যেও পুজো উপলক্ষ্যে বেশ কিছু কাজ হচ্ছে। সেরকমই একটি গান আইলো উমা। বিশিষ্ট কণ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী মধুরা ভট্টাচার্যের ইউটিউব চ্যনেলে প্রকাশিত হলো দুর্গা পুজো উপলক্ষে পুজোর আগমনী গান আইলো উমা। গানটির সুরকার প্রদ্যুত দে সরকার, মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছেন সৌরভ বাবাই চক্রবর্তী, কথাঃ প্রিয় চট্টোপাধ্যায়, গানটিতে তবলা সঙ্গত করেছেন সুভাষ, পল, সুভাষ (সেতার) বুবাই (বাঁশি), অ্যালবামটির ভিডিওগ্রাফি করেন অভিষেক আগরওয়াল। এছাড়া কস্টিউম ডিজাইন করেন সুমিত্রা মুখার্জি, যিনি সম্পর্কে মধুরার দিদি হন। মেকাপ অরিজিত মাইতি, গানটির মিক্সিং মাস্টারিং করেছেন সঞ্জয় ঘোষ।আইলো উমা ভিডিও অ্যালবামটি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে যথেষ্ট সারা ফেলে দিয়েছে। রিলিজ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ ইতিমধ্যে গানটি শুনে ফেলেছেন। গানটির সুর থেকে কথা সর্বপরি মধুরার সুমধুর কণ্ঠ দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে। সঙ্গীতপ্রিয় মানুষজনের মতে এই গানটির আবেদন অত্যন্ত কোমল। গানটি শুনতে শুনতে কেমন যেন হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। কারুর কারুর মতে গানটি শুনে বাংলা স্বর্নযুগের গানের কথা মনে পরে নাস্টালজিক হয়ে পড়ছেন।গানটি শুনতে যতই মধুর হোক, প্রকাশিত হওয়া অবধি রাস্তা কিন্তু অতটা মসৃন ছিল না। শিল্পী জানান, গানটি মধুরার নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করার কোনও পূর্ব পরিকল্পনা প্রাথমিক ভাবে ছিল না। মধুরা আক্ষেপের সাথে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে জানান, তাঁর পূর্ব পরিচিত কোনও এক ব্যক্তির মাধ্যমে একটি নামী মিউজিক কোম্পানি থেকে অফার আসে তাঁর কাছে একটি আগমনী গানের মিউজিক ভিডিও বানানোর জন্য। তিনি আরও জানান এর আগে ঐ কোম্পানির জন্য তিনি একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত রেকর্ড করেছেন। তাই কোম্পানির ব্র্যান্ড স্বমন্ধে অবিহিত থাকায় রাজি হয়ে যান।মধুরা লাইভ অনুষ্ঠানে সেই মধ্যস্ততাকারী ব্যক্তির নাম জানান। তিনি বলেন সমরেন্দ্র দত্ত নামে এক ব্যক্তি তাঁকে অনুরোধ করেন, মধুরার পছন্দের সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার ও মিউজিসিয়ান বেছে নিয়ে একটি পুজোর গান তৈরি করে সেই নামী মিউজিক কোম্পানিকে দিতে। মধুরা জানান তাঁকে কোম্পানীর তরফে সেপ্টেম্বরের ২০-র মধ্যে গানটি শেষ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। সময় খুব কম থাকা স্বত্তেও মধুরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গানটি রেডি করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছিলেন।মধুরা আরও জানান তিনি নিজের খরচায় প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ করার পর ঐ কোম্পানির সাথে মধ্যস্ততাকারি সমরেন্দ্র দত্ত কাছে অগ্রীম চান, বাধ সাধে সেখানেই। তিনি নানা আছিলায় তাঁর ফোন এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। শেষমেশ সমরেন্দ্র দত্ত মধুরাকে জানান এই গানটি এখন হচ্ছে না। মধুরা লাইভ অনুষ্ঠানে তাঁর সকল শুভানুধ্যায়ী ও মিউজিক জগতের মানুষদের কে অনুরোধ করেন সকলেই যেন ঐ ব্যক্তি থেকে দূরত্ব রেখে চলে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক আদানপ্রদান থেকে যেন অবশ্যই বিরত থাকে।মধুরা জানান, ইতিমধ্যে অনেক টাকাই ইনভেস্ট হয়ে গিয়েছিলো, এবং তাঁর সহযোগী, শুভাকাঙ্খী ও পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে ভিডিওটি সম্পূর্ণ করেন। মধুরা আরও জানান, উমা মা যেন চাইছিলেন যাতে এই ভিডিওটি মধুরার নিজের চ্যনেল থেকেই প্রকাশ পায়। গানটি শেষমেশ মধুরার নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ করে শিল্প স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন।৭০ থেকে ৯০ এর দশক সারা বিশ্বের বাঙ্গালী পুজোর দুমাস আগে থেকে দুটি জিনিসের জন্য গভীর আগ্রহে বসে থাকতো, একটি পুজা বার্ষিকী পত্রিকা অপরটি পুজোর গান। সে লতা মঙ্গেসকর থেকে আশা ভোঁসলে, হেমন্ত, সন্ধ্যা, মহঃ রফি, সতিনাথ মুখোপাধ্যায়, আরতি কে নেই সেই দৌড়ে? পুজোর গান হল শারদোৎসবে বাঙালির মন রঙিন-করা, স্মৃতি উদ্বেল-করা রেকর্ড সঙ্গীত। সেসময় রেকর্ড কোম্পানিগুলিতে পুজোর গানের প্রস্তুতি চলত প্রায় সারা বছর ধরে।এই পূজোর গানের দৌড়ে সঙ্গীতের রথী মহারথীদেরও দেখা মিলত, কখনো পণ্ডিত রবিশঙ্কর তো কখনো পুজোর গানে সুর দিচ্ছেন উস্তাদ আলি আকবর খান মত তাবড় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী। সুরকার পণ্ডিত রবিশঙ্কর গান বাঁধলেন হৈমন্তী শুক্লার জন্য। সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের পূজোর গানে সুর দিচ্ছেন স্বয়ং কিশোরকুমার! আবার উল্টোটাও! কিশোরের গানের সুর দিচ্ছেন লতা। বঙ্গ-জীবনের অঙ্গ পুজোর-গানের কথা বলতে গিয়ে সেতার সম্রাট পন্ডিত রবিশঙ্কর একবার বলেছিলেন গানও পুজোই। আমার জীবনের সংস্কারেও পুজো মিশে আছে। সংস্কার বঙ্গ জীবনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে মজ্যাগত। চৈতন্যভাগবত-এ বলা আছে, মৃদঙ্গ মন্দিরা শঙ্খ আছে সব ঘরে। দুর্গোৎসব কালে বাদ্য বাজাবার তরে। কালের চাকায় গানও ঘোরে! প্রথমে রেকর্ড (এল পি), তারপর এলো ক্যাসেট, সিডি হয়ে এখন পুজোর গান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এখন মানুষ গান শুধু শোনেই না নয়ন ভরে দেখে।

অক্টোবর ১৫, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

রিমিক্সের ভিড়ে খোলা হাওয়া মধুরা'র বাংলা দেশাত্মবোধক গানের ভিডিও অ্যালবাম 'ন হন্যতে'

ভারতের ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সঙ্গীতশিল্পী মধুরা ভাট্টাচার্যের প্রযোজনায় প্রকাশিত হল অরিজিনাল বাংলা গান;ন হন্যতে ও তার মিউজিক ভিডিও। এই গানটির সুর দিয়েছেন সঙ্গীত শিল্পী মধুরা নিজেই। গানটি কথা লিখেছেন সৃজন। রিলিজ করেছে মধুরার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ও লেবেল MADHURAA থেকে। ভারতের স্বাধীনতা ৭৬ বছর পুর্তী উপলক্ষে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতেই মূলত তাঁর এই উপস্থাপনা বলে জানান শিল্পী মধুরা। মধুরা তার নিজের দাদু (মাতামহ) শ্রী সাধনানন্দ মিশ্র কে (যিনি, দেশ ভাগের বিরুদ্ধে, অনশনে অন্যতম ভূমিকা পালন করে, জেলও খেটেছিলেন) তাঁর এই গান উৎসর্গ করেছেন।বাংলা সঙ্গীত জগতে মধুরা ভট্টাচার্য অতি পরিচিত নাম। টেলিভিশন সিরিয়াল থেকে রুপালি পর্দায় তাঁর অবাধ বিচরণ। বাংলা সিরিয়ালে গাওয়া তাঁর একাধিক হিট টাইটেল ট্র্যাক আজও বাঙ্গালির ঘরে ঘরে বাজতে শোনা যায়। ন হন্যতে গানটির যন্ত্রানুসঙ্গ ও ব্যবস্থাপনা সোমনাথ রায় ও সুব্রত বোস এর।ন হন্যতে, কথাটির অর্থ, যার ক্ষয় নেই বা মৃত্যু নেই! ন হন্যতে নামটির সাথে আমদের সম্ভবত প্রথম পরিচয় সাহিত্যিক মৈত্রেয়ী দেবীর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসে। জানা যায় মৈত্রেয়ী দেবী তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক মির্চা এলিয়াদের লেখা Bengali Nights বা লা নুই বেঙ্গলী বইয়ের প্রত্যুত্তরে, ন হন্যতে বইটি লেখেন। মৈত্রেয়ী দেবী এই উপন্যাসটি লিখে ১৯৭৬ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার পান। ন হন্যতে কথাটি ভগবত গীতা থেকে নেওয়া। আত্মার সম্বন্ধে সেখানে বলা হয়েছে (গীতা ২.২০):অজো নিত্যঃ শাশ্বতোঽয়ং পুরাণো, ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে।অর্থাৎ, (আত্মার) জন্ম নেই, (আত্মা) নিত্য, শাশ্বত, প্রাচীন শরীরকে হত্যা করলেও, একে হত্যা করা যায় না।ন হন্যতে গান টির প্রথমে ঘর ছেড়ে এসেছে, ঘরেরই হিফাজতে - প্রাণপাতে দ্বিধাহীন, নশ্বর দেহেও ন হন্যতে এই চারটি লাইনেই তাঁর সঙ্গীত প্রাজ্ঞ্যতার প্রমান দিয়েছেন শিল্পী মধুরা ভাট্টাচার্য। তাঁর গায়কী নিয়ে অতি বড় মূর্খও প্রশ্ন করবে না। কিন্তু তাঁর সুরারোপিত গান সত্যিই মনোরম। ৭ মাত্রার ৩|২|২ ছন্দের রুপক তালে, এই অনবদ্য গানটি মুক্তি পাওয়ার দু দিনের মধ্যেই সঙ্গীত পিপাসুদের মন জয় করতে সমর্থ হয়েছে।ন হন্যতে গানে র্যাপের অংশটির মূল আকর্ষন, গীতিকার ও র্যাপার সৃজনের অনবদ্য র্যাপের সাথে সাথে মধুরার অনবদ্য আলাপ। আহির ভৈরব রাগের আলাপের মুর্ছনায় সঙ্গীত পিপাসু শ্রোতারা মুগ্ধ হতে বাধ্য। ছোট থেকেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিমাপ্রাপ্ত মধুরা তাঁর সঙ্গীত প্রজ্ঞ্যার প্রতি সুবিচার করেছেন বলেই সমলোচকদের ধারণা।মধুরা এই প্রজেক্ট এর কথা বলতে গিয়ে, এই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত সকলকে ও ঈশ্বরকে বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, তার সঙ্গীত গুরুজি শ্রী সন্দীপ নাগ, ভিডিওগ্রাফার অভিষেক আগরওয়াল, লিরিসিস্ট সৃজন, মিউজিক আরেঞ্জর সোমনাথ রায়, সুব্রত বোস, ষ্টুডিও ভায়োলিনা ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার তরুণ দাস, এনাদের একজনকেও ছাড়া এই গানটি এতো অল্প সময়ে, মাত্র ৬/৭ দিনের মধ্যে কমপ্লিট করা সম্ভব হতোনা।

আগস্ট ১৫, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

'কুপন' নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার নেওয়া! এনএবিসি 'বঙ্গ সম্মেলন' নিয়ে ক্ষোভ সঙ্গীত শিল্পী মধুরা'র

এবছরে এনএবিসি বঙ্গ সম্মেলনএ গিয়ে চূড়ান্ত অপদস্থ হতে হয়েছে বাংলার শিল্পীদের। আয়োজকদের অব্যবস্থার নানা অভিযোগ শিল্পীরা তাঁদের সামাজিক মাধ্যমে করছেন। তাঁদের অভিযোগ: প্রাপ্য পারিশ্রমিক না পাওয়া, খাওয়া-দাওয়ার অব্যবস্থা, হোটেলের ঘর নির্ধারিত সময়ের আগে ছেড়ে দেওয়ার আদেশ, অনুষ্ঠানের অদ্ভুত সময়সূচী; নানাভাবে বাংলার বিশিষ্ট শিল্পীদের নানারকম অপ্রীতিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয় এনএবিসি অনুষ্ঠানে এসে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স-র বঙ্গ সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের আতিথেয়তা নিয়েও! নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স-র বঙ্গ সম্মেলন-এ বাংলার শিল্পীদের অপমান, অসম্মান ও অবহেলা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই আয়োজক সংস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন বাংলার নবীন থেকে প্রবীন শিল্পীরা।সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়ে এক খোলা চিঠিতে এই বছরের (২০২৩) আটলান্টাতে আয়োজিত নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স বঙ্গ সম্মেলন-এ বাংলার শিল্পীদের অপমান ও হেনস্থায় বাংলার একঝাঁক শিল্পী প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী পণ্ডিত স্বপন চৌধুরী, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, বিক্রম ঘোষ থেকে শুরু করে সঙ্গীত শিল্পী রাঘব চট্টোপাধ্যায়,অঞ্জন দত্ত, শ্রীকান্ত আচার্য্য, মনোময় ভট্টাচার্য্য, সৌমিত্র রায়, অনুপম রায়,অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, লোপামুদ্রা মিত্র, শুভমিতা ব্যানার্জী, জয়তী চক্রবর্তী, ইমন চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, মধুরা ভট্টাচার্য, তৃষা পাড়ুই ছাড়াও কবি শ্রীজাত, সুবোধ সরকার, সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্র, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, জয় সরকার ও টলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা/ অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী,সোহিনী সরকার ছাড়াও আরও অনেকে তাঁদের সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে এর প্রতিবাদে ফেটে পড়েন।এই মহুর্তের বাংলা সিনেমা ও টেলিভিশন-র ব্যস্ততম সঙ্গীত শিল্পী মধুরা ভট্টাচার্য এনএবিসি বঙ্গ সম্মেলনএ গিয়ে তাঁর সুমধুর অভিজ্ঞতার কথা জনতার কথা কে জানালেন। মধুরা জানান তিনি, ২০১৭ সালের এনএবিসি বঙ্গ সম্মেলনএ প্রথম বার তিনি গিয়েছিলেন, এবং ওটাই তাঁর শেষ যাওয়া! মধুরা জানান এনএবিসি সম্পর্কে এক বিশাল ধারণা নিয়ে ওখানে গিয়েছিলাম, প্রচুর মানুষ, দারুণ সুন্দর ব্যবস্থা হবে ওখানে, সবার মত এই রকমই ধারনা আমারও ছিল! ২০১৭ তে প্রথম বার ওখানে পৌঁছাবার পরই বেশীরভাগ ধারনাই ভুল প্রমাণিত হল। তিনি জানান, তিনি ছাড়াও অনেক গুণী শিল্পী সেই বারের অনুষ্ঠানে একত্রে ওখানে গিয়েছিলেন।মধুরা জানান, দীর্ঘ বিমান যাত্রায় ক্লান্ত হয়ে, ওখানে একেবারে অন্য একটা ওয়েদারে পৌঁছাবার পর অনেক্ষনের অপেক্ষা রুম এলটমেন্ট এর জন্য। সেসব না হয় মেনে নেওয়া যায়, আমরা মেনে নিইও। অনুষ্ঠানের সময়সূচীর পরিবর্তন! সেসবও ঠিক আছে। হয়েই থাকে।মধুরা আরও বলেন, তবে আমার সবচেয়ে খারাপ লেগেছিল, পৌঁছনোর পরেই, আমাদের হাতে খাবারের কুপন ধরানো! ছোট ছোট কাগজের টুকরোতে এনএবিসি লেখা কুপন। বঙ্গ সম্মেলনএ শিল্পী হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়ে কুপন নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সকালের ব্রেকফাস্ট থেকে রাতের ডিনার নিতে হবে! আমার সেই ছোটোবেলার কথা মনে পড়ে গেলো, পাড়ার পুজোর প্যান্ডেলে টিফিন বা ভোগ নেওয়ার জন্য কুপন নিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর কথা। মধুরা জানান, দীর্ঘ বিমান যাত্রায় ক্লান্তি ও ধকলের পর, লাইন দিয়ে কুপন নিয়ে দাঁড়িয়ে খাবার মত মানসিকতা ছিলোনা, তাছাড়া দু-তিন দিনের মধ্যে অনেকগুলো অনুষ্ঠান ছিল, তার প্রস্তুতিও ছিল। সর্বোপরি শিল্পী হিসাবে লাইনে দাঁড়িয়ে কুপন নিয়ে খাবার নেওয়া আমার কাছে খুব-ই অপমানজনক লেগেছিল। নীরব প্রতিবাদ হিসেবে তাই বেশিরভাগ সময়েই, আমি ও আরও কয়েকজন সহশিল্পী বাইরে থেকে নিজেরাই খাবার কিনে এনে খেয়েছি। সবসময় অনুষ্ঠানের টাইট শিডিউলে সেটাও সম্ভব হয়নি যদিও। তাতে আয়োজক দের কারও মাথা ব্যথা হবে, সেটা এক্সপেক্ট করাও ভুল!তিনি বলেন,তবে বলা বাহুল্য, সেবারে গিয়ে বেশ এমন কয়েকজন শ্রোতার সাথেও আলাপ হয়েছিল, যাঁরা তাদের মতন করে যথা সম্ভব যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের সাথে খুবই সুন্দর হৃদ্যতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সেই থেকে। প্রতিবার হয়তো কোর কমিটিতে বদল হতে থাকে। তাই কিছু মানুষের কেলাসনেস এর জন্যে সবাইকে দায়ী কখনোই করবোনা।মধুরা জানান, ওই অভিজ্ঞতার পর এনএবিসি যাবার ইচ্ছা বা আকর্ষণই কমে গিয়েছিল। এর পরেও এনএবিসি থেকে অনুষ্ঠান করার প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু আমি খুব সন্তর্পনে এড়িয়ে গেছি। তিনি জানান এই বছরেও এনএবিসি থেকে প্রস্তাব এসেছিলো, কিন্তু আমার চুক্তি যে তাদের মনমত হয়নি, এটা আমার পক্ষে খুবই মঙ্গলদায়ক হয়েছে।মধুরার জানান, এবছর যা যা ঘটেছে তাতে আয়োজকদের আরও অনেকটা বেশি সচেতন হওয়া উচিত। এতদূর থেকে এতজন শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হলে, আয়োজকদের আরও অনেকটা সময়, ভাবনা চিন্তা, বোধের প্রয়োজন। নানান খুঁটি নাটি দিক অনেক কিছু ভাবার থাকে। শিল্পীরা রোবট নন। তাদের ন্যূনতম হলেও, একটা কমফর্ট এর প্রয়োজন হয়, সুস্থ শরীরে, হাসি মুখে, দুই আড়াই ঘণ্টা শ্রোতা দের নির্ভেজাল আনন্দ দিতে। শিল্পীদের ডেকে নিয়ে গিয়ে যে ভাবে অপমানিত হতে হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে প্রবীন থেকে নবীন। সামাজিক মাধ্যমে চোখ বোলালেই তাঁর আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।একটি খোলা চিঠি তাঁরা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন তাতে লেখা,সুধী, উত্তর আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলন ২৩, আটলান্টিক সিটিতে ঘটে যাওয়া কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদপত্র। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী, বিদ্বজ্জনের লাগাতার হেনস্থা এখন বঙ্গ সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণীয় এক অনুষ্ঠান। পূর্বের সম্মেলনগুলিতেও এমন উদাহরণ অসংখ্য। তবে এবারের সম্মেলন বোধহয় আগের সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। অব্যবস্থা, অসৌজন্য, অমার্জিত ব্যবহার, অসহযোগিতা শিল্পীদের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করে চলেছে ক্রমাগত, ভদ্রতাবোধকে দুর্বলতা ভেবে একের পর এক অপমানসূচক ঘটনা সম্মেলন কর্তারা ঘটিয়েই চলেছেন। অতিথি শব্দটার সঙ্গে যে বিশ্বজনীন আতিথ্যের সংযোগ, তা তারা ভুলতে বসেছেন। এই পরিস্থিতিতে, বাংলার সব শিল্পী আজ এনএবিসির যে কোনও অনুষ্ঠান নিয়ে চূড়ান্ত আতঙ্কিত, অপমানিত। তাই একজোট হয়ে আজ তীব্র প্রতিবাদ জানাই এনএবিসির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে। অপমানের আকস্মিকতায় আমরা মূক ও স্তম্ভিত। ভবিষ্যতের কর্মপন্থা কী হবে, তা অচিরেই প্রকাশ করব আমরা। ধিক্কার জানাই সংগঠকদের যারা এই রুচিহীন সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। বঙ্গ সম্মেলনের জনপ্রিয়তা বিশিষ্ট, স্বনামধন্য শিল্পীদের জন্য, অপদার্থ সংগঠকদের জন্য নয়, এ কথা যেন তারা বিস্মৃত না হন। সংস্কৃতি মঞ্চ আমাদের কাছে পবিত্র এক জানলা, তাকে নোংরা করার অধিকার আপনাদের কেউ দেয়নি। আমাদের শিল্পীজীবন আমাদের নিজস্ব, সেই আত্মসম্মানের জায়গায় কেউ হাত দিলে; সাবধান. গর্জে উঠবে বাংলার সব শিল্পীদল।

জুলাই ০৮, ২০২৩
বিনোদুনিয়া

প্রকাশ হল 'ম্যাহেসুস' মিউজিক অ্যালবাম, মাধুর্য ছড়ালেন 'মধুরা'

নিতিন জৈন পরিচালিত মিউজিক ভিডিও ম্যাহেসুস গানটি মুক্তি পেল এনভি প্রোডাকশনের ব্যানারে। মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করতে দেখা যাবে বসুন্ধরা পণ্ডিতা ও করণ সারোহা কে। শিশুশিল্পী হিসাবে রয়েছেন কবীর পাহনা এবং অ্যামারাইরা সুদ।এই মিউজিক অ্যালবাম-এ কন্ঠ দিয়েছেন রাজ বর্মন ও মধুরা ভট্টাচার্য। এই প্রজন্মের বাঙ্গালি কণ্ঠ সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম মধুরা। সঙ্গীতের সুত্রে দীর্ঘ সময় মুম্বাই-য়ে কাটিয়েছেন। আর বাংলা টেলিভিশিন ও সিনেমার জগতে অতি পরিচিত মুখ তিনি।ম্যাহেসুস গানটা নিয়ে জনতার কথা কে সঙ্গীতশিল্পী মধুরা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, খুব সুন্দর একটা ৯০ দশকের ফিল আছে গানটার মধ্যে। পুরুষ কন্ঠটা রাজ বর্মনের। ও প্রথমে গানটার ব্যাপারে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। যারা মিউজিক করেন, তারা সবাই দিল্লি, মুম্বই দুই জায়গার ব্যস্ততম মানুষ। এই মিউজিক ভিডিওটার মাধ্যমে একটা গল্প খুব সুন্দরভাবে বলা হয়েছে। যাঁরা অভিনয় করেছেন তারাও খুব-ই ভালো অভিনয় করেছেন। পুরো ব্যাপারটা খুব ভালো ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষের ও বেশি মানুষ গানটা শুনেছেন। এটাও একটা বিশেষ ভালোলাগা।কেকে-র অকাল প্রয়াণের পর যখন মুম্বাই ও কলকাতার সঙ্গীতশিল্পী দের মধ্যেআমরা-ওরা ধারনা-র অদৃশ্য প্রাচীর তৈরি হচ্ছে ঠিক সেই সময় মধুরা-র ম্যাহেসুস যেন সেই ক্ষতে প্রলেপ। অনেক আগেই তিনি সর্বভারতীয় স্তরে তাঁর সঙ্গীতের মাধ্যমে সামনে এসেছেন। আমাদের আশা ম্যাহেসুস তাঁকে প্রচারের আলোয় আরও সামনে এনে দেবে।

জুন ১৬, ২০২২
বিনোদুনিয়া

শিল্পী মেয়ের অনুরোধে, গানের খাতা-র ধুলো ঝেড়ে ফের স্বমহিমায় সঙ্গীতশিল্পী শম্পা ভট্টাচার্য

রাতের চোখে ঘুম যে নামে, চাঁদের পাশে মেঘ যে থামে, আমার পাশে নেই তো তুমি মা, তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না মা...... হ্যাঁ, ঠিক-ই ধরেছেন, মা ও মেয়ের সম্পর্কের বন্ধন নিয়ে স্টার জলসা-র জনপ্রিয় সিরিয়াল মা-এর টাইটেল সঙ্গীতের কথাই বলছি। এই মুহুর্তে বাংলা সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে জনপ্রিয়তম মধুরা ভট্টাচার্যর যেন তাঁর শিল্পী সত্ত্বার পাশে মায়ের উপস্থিতি না পেলে, তাঁর অনেক কিছুই অপূর্ণ থেকে যাচ্ছিলো।মেয়েদের বড় করে তুলতে গিয়েই সঙ্গীত শিল্পী শম্পা ভট্টাচার্য তাঁর গানের খাতা কবেই আলমারী তে তুলে রেখেছিলেন। তাঁর একটাই লক্ষ্য ছিলো যেভাবেই হোক সন্তানদের প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। আজ মধুরা সফল একজন সঙ্গীত শিল্পী ও বড় কন্যা সুমিত্রা একজন প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইনার। মঞ্চের পাটাতন শক্ত হতেই মেয়ে মধুরা টেনে ধরলেন মা শম্পা ভট্টাচার্য-র হাত। এবার আর উপেক্ষা করতে পারলেন না মা।শম্পা ভট্টাচার্য-র সঙ্গীত শিক্ষা শুরু খুব ছোটো বয়সে। তাঁর ঠাকুমা শান্তিময়ী দেবী সেই সময়ের একজন বিশিষ্ঠ শিক্ষাবিদ ছিলেন, তিনি বেশ কয়েকটি কবিতার বই লিখেছিলেন। তদকালীন সময়ে তিনি এক বিদুষী মহিলা ছিলেন। শম্পার বাবা সাধনানন্দ মিশ্র রবীন্দ্রসঙ্গীত ও পুরাতনী গানে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ছোটো বয়স থেকেই শম্পা বাড়িতে এক সুন্দর সাংগীতিক পরিবেশে বড় হয়ে উঠেছেন।শিল্পী শম্পা ভট্টাচার্য রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রসংগীত ও ইতিহাসে মাস্টার্স করেন। তিনি যেকোনও ঐতিহ্যবাহী (Traditional) গানে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি ১৯৮১ সাল থেকে অতুল প্রসাদী, দ্বিজেন্দ্র গীতি এবং রজনীকান্তর গানের ধারায় আকাশবাণীর শিল্পী হিসেবে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত। এছাড়াও তিনি পুরাতনী গানেও খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন কারণ তার বাবা এবং ঠাকুমার কাছ থেকে সেই গান তিনি শিখেছিলেন। তিনি একটি আদ্যন্ত সঙ্গীতীক পরিবারের বংশধর। ১৯৮৬ তে তাঁর গাওয়া অতুল প্রসাদ, রজনীকান্ত এবং দ্বিজেন্দ্র গীতি-র ক্যাসেট প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি ঐতিহ্যবাহী (Traditional) গানের একজন বি-হাই (B-High) শিল্পী, এবং শম্পা ১৯৮১ থেকে কলকাতা দূরদর্শনের সাথে যুক্ত।শম্পা কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন জায়গা যেমন, রবীন্দ্র সদন, মধুসূদন মঞ্চ, শিশির মঞ্চ, গিরিশ মঞ্চ, মহাজাতি সদন, অহীন্দ্র মঞ্চ, উত্তম মঞ্চ, শরৎ সদন-এ অনুষ্ঠান করেছেন। তিনি বিভিন্ন জনপ্রিয় মেলা তে তাঁর মধুর কন্ঠের মুর্ছনা ছড়িয়ে দিয়েছেন। শম্পা বিষ্ণুপুর ঘরনার প্রবাদপ্রতিম শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী পণ্ডিত তারাপদ চক্রবর্তী-র পিঠস্থান বিষ্ণুপুর মেলা এবং বাংলার বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।মেয়ে মধুরা সাথে মা শম্পাশম্পা ভট্টাচার্য নীহার রঞ্জন বন্দোপাধ্যায়, সিদ্ধেশ্বর ভট্টাচার্যের কাছ থেকে তার ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি সুকুমার মিত্র, বিমান মুখোপাধ্যায়, মীরা দত্ত রায়-র কাছ থেকে নজরুল গীতি এবং বাংলা আধুনিক গান শেখেন। শম্পা অতুল প্রসাদী, দ্বিজেন্দ্র গীতি, রজনীকান্ত গীতি শিক্ষা লাভ করেন নীলা মজুমদার কাছে।তাঁর রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষা লাভ প্রবাদ প্রতিম রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুচিত্রা মিত্র-র কাছে এবং তিনি শ্রীমতি সুমিত্রা সেনের কাছ থেকেও রবীন্দ্র সঙ্গীত শিক্ষা লাভ করেন যখন তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীতের ছাত্রী ছিলেন। শান্তিনিকেতনে থাকাকালীন তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীতের আরও দুই মহিরূহ শ্রীমতী কণিকা বন্দোপাধ্যায় ও শ্রীমতি নীলিমা সেন-র কাছে রবীন্দ্রসংগীত শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।শিল্পী শম্পা ভট্টাচার্য সমন্ধে জনতার কথা কে কন্যা বিশিষ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী মধুরা বলেন, মা বাবা সমন্ধে কি আর বলবো, আমি আজ যা কিছু, যেটুকু হতে পেরেছি সমস্তটাই মা এবং বাবার জন্য। আমার সঙ্গীত জীবনের প্রথম গুরু আমার মা। আমার খুব মনে পড়ে, আমি যখন ছোট ছিলাম, মা রেওয়াজ করতে বসলেই আমার বসার যায়গা ছিল মায়ের হারমোনিয়াম ও তবলা। সেগুলি কে চেয়ার ভেবে বসে পড়তাম। কেননা ওই দুটো যন্ত্র-ই আমার বসার উচ্চতায় থাকতো। আজ বুঝতে পারি মাকে কতটা বিরক্ত করতাম! আমার গানের হাতে খড়ি মায়ের কাছেই। তাঁর কাছেই আমার প্রথাগত শিক্ষা শুরু। এখনও যেকোনো ঐতিহ্যবাহী (Traditional) গান যেমন, অতুল প্রসাদ, রজনীকান্ত এবং দ্বিজেন্দ্র গীতি যাঁর গানই হোক তোলার প্রয়োজন হলেই মায়ের স্মরনাপন্ন হতে হয়। আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের ক্ষেত্রে বলতে গেলে তিনি চলমান গীতবিতান, যে গানই বলি সেটা তাঁর তোলা আছে। কি করে যে এত রবীন্দ্রসঙ্গীত জানেন আমি জানি না। আমরা বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীরা নিজেদের গান গাইতে গেলেই খাতা বা ট্যাব ছাড়া গাইতে ভরসা পাই না। তিনি কি করে এত রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথা-সুর একেবারে নোটেশন মিলিয়ে অবলীলায় গাইতে পারেন, ভাবতে অবাক লাগে। হয়ত তখনকার দিনের শিক্ষা পদ্ধতিটাও সেরকমই ছিল, তাই তিনি পারেন।মেয়ে মধুরার উৎসাহে শিল্পী শম্পা ভট্টাচার্য আবার জনসমক্ষে। বেতার ও দুরদর্শন ক্ষ্যাত সঙ্গীত শিল্পী শম্পা ভট্টাচার্য তাঁর গানের ডালি সাজিয়ে উপস্থিত সামাজিক মাধ্যমে। মধুরার উদ্যোগে তাঁর নতুন ফেসবুক পেজ গানে গানে শম্পা ভট্টাচার্য তে উঁকি দিলেই শোনা যাচ্ছে ঘরোয়া মেজাজে সেই উদাত্ত কণ্ঠের অতুল প্রসাদী, রজনীকান্ত এবং দ্বিজেন্দ্র গীতি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর গাওয়া অতুল প্রসাদী চিত্ত দুয়ার খুলিবি কবে মা - চিত্ত-কুটীরবাসিনী মন ছুঁইয়ে যায়, নেটনাগরিক দের প্রসংশায় বোঝা যায় যে সঠিকভাবে সঙ্গীত পরিবেশন করতে পারলে এই প্রজন্ম-ও ভালো গান শুনতে প্রস্তুত। কুটির বাসিনী শম্পা-র চিত্ত দুয়ার খুলতে মেয়ে মধুরা সত্যিই সফল।

এপ্রিল ৩০, ২০২২
বিনোদুনিয়া

বাংলার মধুরার মধুর কন্ঠে মাতোয়ারা মুম্বাই

তোমায় ছাড়া ঘুম আসে না মা। ২০০৯ এর শেষের দিকে শহর থেকে গ্রাম-বাংলা এই গানের জাদুতে মেতে থাকতো। সকলের মুখে মুখে ঘুরে বেরানো এই গানের মুর্ছনায় একটাই প্রশ্ন ছিল কে এই মধুর সঙ্গীত শিল্পী? কি মায়াময় কণ্ঠ! শিল্পী ছিলেন মধুরা ভট্টাচার্য।যখন তিনি দশম শ্রেণিতে পড়েন সেই ২০০৫ সাল থেকেই পেশাগতভাবে গান গাইছেন মধুরা। আজ তিনি দেশের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা হিসাবে পরিচিত। প্লেব্যাক, বাংলা, হিন্দি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন এবং মঞ্চে এক ব্যস্ততম খ্যাতনামা শিল্পী।২০০৫ সালে ইটিভি, কালার্স বাংলায় সুপারহিট টেলিভিশন মেগা সিরিয়াল বহ্নিশিখা দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু, তারপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্টার জলসা, জি-বাংলা, কালার্স বাংলা, লাইফ ওকে চ্যানেলে ৮০ টিরও বেশি সুপার হিট টিভি সিরিয়ালে টাইটেল সং-এ কণ্ঠ দেন তিনি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য মা, বোঝেনা সে বোঝেনা, মেরি মা, কিরণমালা, রাগে অনুরাগে, চোখের বালি, গোয়েন্দা গিন্নী, পুণ্যি পুকুর, মিলন তিথি, জয়ী, কুঞ্জছায়া, প্রথমা কাদম্বনি।২০০৭-তে তিনি ইন্ডিয়ান আইডল-এ অংশ নিয়েছিলেন, ২০০৯-তে অল ইন্ডিয়া মিউজিক প্রতিযোগিতা সিতারোঁ কো চুনা হ্যায়-এ ১১ জন কঠিন প্রতিযোগির সঙ্গে লড়াই করে দ্বিতীয় স্থান আধিকার করে ভারত জোড়া খ্যাতি লাভ করেন।মধুরা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীত নিয়ে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মধুরার এই সংগীত সাধনার প্রেরণা তাঁর মা শম্পা দেবী, তিনি আকাশবাণী ও দূরদর্শন-এর নিয়মিত সংগীতশিল্পী, বাবা প্রাক্তন বিচারপতি তুষারকান্তি ভট্টাচার্য সরকারি আধিকারিক হলেও খুব ভাল আবৃত্তিকার ও লেখক।তাঁর প্রথম বাংলা ছবিতে আত্মপ্রকাশ প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের মাহাকাল ছবিতে। তারপর থেকে তাঁর দৌড় আর থামানো যায়নি। সঙ্গীত রসিকদের মতে, তাঁর নামকরণ যে কতটা সার্থক তা তাঁর গান শুনলেই বোঝা যায়। প্রথম জীবনে তিনি নিলাক্ষী নামে পরিচিত ছিলেন। মনে করা হয় সাফল্যকে আরও মসৃন ও শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্যই তিনি নাম পরিবর্তন করে মধুরা হন।মধুরা মুম্বাই ও কলকাতার বহু বিখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে সিনেমায় ডুয়েট ও একই মঞ্চে আনুষ্ঠান করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, উদিত নারায়ণ, বাবুল সুপ্রিয়, অভিজিৎ, কুমার সানু, শান, শফতত আমানত আলি, অঙ্কিত তিওয়ারি, অরিজিৎ সিংহ। এর পাশাপাশি অরুনধতি, দিওয়ানা, কি করে তোকে বোলবো, তোর নাম, তিনপাত্তি, শিকারি, উড়োচন্ডী, গুগলি-র মত বকব্লাস্টার সিনেমায় টলিউড এবং বলিউড-এর বিখ্যাত সংগীত পরিচালক জিৎ গাঙ্গুলি, দেবোজ্যোতি মিশ্র, ইন্দ্রাদীপ দাশগুপ্ত এবং আরও অনেকের সঙ্গে কাজ করেছেন। অপর্না সেন পরিচালিত সিনেমা আরশিনগরে মওলা গানের জন্য মধুরাকে শ্রেষ্ট সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে টেলিসিনে পুরস্কার প্রদান করা হয়।ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মধুরাকে চিনে আয়জিত ১০ম এশিয়া আর্ট ফেস্টিভ্যাল আমন্ত্রন জানানো হয়। অনুষ্ঠানগুলি বেজিং সহ আরও ১৪টি প্রদেশে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে আমন্ত্রণমূলক আনুষ্ঠান করেন। তাঁকে ২০১৭ সালে উত্তর আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্সে (এনএবিসি) আমন্ত্রিত করা হয়েছিল। ২০১৮-তে টরন্টো, ২০১৮ এবং ২০১৯-তে মধুরা তাঁর সহ সঙ্গীত শিল্পীদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে সাঙ্গীতের মাধুর্য্য ছড়িয়ে আসেন।জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ছবিঃ ফেসবুক

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ব্রিগেডের পরই কি ভোটের দিন ঘোষণা? বড় ইঙ্গিত দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন কবে হবে এবং কবে ফল ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। নানা মহল থেকে নানা ধরনের জল্পনা শোনা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই ভোট ঘোষণার সময় নিয়ে একটি ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মঙ্গলবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে ধর্মতলায় চলা ধরনা কর্মসূচি তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর সাংবাদিকদের সামনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বিজেপিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির ইঙ্গিতেই কাজ করছে।এই প্রসঙ্গেই কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ব্রিগেডের সভার পর যদি ভোটের দিন ঘোষণা করা হয়, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি দাবি করেন, এর আগেও এমন হয়েছে যে ব্রিগেডে সভা করার পরই ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী শনিবার চৌদ্দ মার্চ ব্রিগেড ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সভার পরই নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করতে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনকে ভর্ৎসনা করেছে আদালত। তাঁর কথায়, সব কথা লিখিত নির্দেশে থাকে না, অনেক বিষয় শুনানির ভিডিও দেখলে বোঝা যাবে।বিবেচনাধীন ভোটারদের প্রসঙ্গেও বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী পঁচিশ তারিখ এই বিষয়ে আবার শুনানি রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটের দিন যদি পনেরো বা ষোলো তারিখে ঘোষণা করা হয়, তাতেও চিন্তার কিছু নেই। কারণ এই পুরো বিষয়টি তারা নজরে রাখছেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বাংলার ভোটের দিন ঘোষণা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৬
রাজনীতি

একদা কমিউনিষ্ট ঘাঁটিতে টানা তিনবার জিতেও নিশ্চিন্ত নয় তৃণমূল! বর্ধমান দক্ষিণে এবার কি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই?

দক্ষিণ বর্ধমান বরাবর কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই কেন্দ্র থেকে প্রথম দুটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরী। তখন তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন অবিভক্ত কমিউনিষ্ট পার্টি তথা সিপিআই থেকে। তারপর এই আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ধমানের মহারানী রাধারাণী মহতাব জয়ী হয়েছিলেন। তার আগের নির্বাচনে বিনয় চৌধুরী পরাজিত করেছিলেন বর্ধমানের মহারাজাকে। সেই সম্মান পুনরুদ্ধার করতে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছিলেন মহারাণী। তার পরে শুধু ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে এই কেন্দ্রে কংগ্রেস জয় পেয়েছিল। এখানে থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাছাড়া ২০০৬ পর্যন্ত সিপিএম এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে। ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ব্যাপক ভোটের ব্য়বধানে পরাজিত করেন রাজ্যের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে। প্রায় ৩৭ হাজার ভোটে পরাজিত হন নিরুপম সেন। ২০১৬-তেও জয় পায় তৃণমূল। তখনও এই কেন্দ্রে প্রধান বিরোধী দল ছিল সিপিএম। রবিবঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্য়বধানে সিপিএম প্রার্থী আইনুল হককে পরাজিত করেন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ নন্দীকে পরাজিত করেন তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তবে জয়ের ব্যবধান অনেকটাই কমে যায়। পাশাপাশি প্রায় অর্ধেক ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে থাকে তৃণমূলের থেকে। এই নির্বাচনে সিপিএম প্রার্থী পৃথা তা প্রায় ২৩ হাজারের ওপর ভোট পেয়েছিল।বর্ধমান পুরসভা এলাকা নিয়েই বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। তবে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কি হতে চলেছে তা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই শহরজুড়ে। প্রথমত বিধায়ক খোকন দাসই টিকিট পাচ্ছেন কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। বিধায়ক অনুগামীরা জোরের সঙ্গে বলছেন টিকিট খোকন দাসই পাচ্ছেন। শহরে এক যুব নেতার নাম ভাসিয়ে দেওয়া হলেও বর্ধমান দক্ষিণে আদৌ সে টিকিট পাবেন কিনা তা নিয়ে কম জল্পনা নেই। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ক্রীড়া অনুষ্ঠান সবেই জোরদার প্রতিযোগিতা চলছে তৃণমূলের দুই তরফ থেকেই। অনেকের আবার বক্তব্য, নেপোয় দই মেরে দেবে না তো!তৃণমূল যাকেই প্রার্থী করুক এবার জোরদার লড়াই হবে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে। এদিকে তৃণমূলের একটা সূত্রের দাবি, শহরে দলে ঘরের মধ্যে ঘর তৈরি হয়েছে। সেই ঘরও যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই সেই অংশের দাবি। তাঁদের ভূমিকা জয়-পরাজয়ে অনেকটা নির্ভর করবে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। পাশাপাশি যে ভাবে পর পর নির্বাচনে ওয়ার্ডগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল তাতে সংশয় বেড়েছে। মোদ্দা কথা, পর পর তিনবার জয় পেলেও এবার বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রে নেক-টু-নেক ফাইট হবার সম্ভাবনা প্রবল। একতরফা জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

ধরনা শেষ করেই প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা মমতার! কেন্দ্রকে নিশানা করে বড় মন্তব্য

ধর্মতলায় একশো এক ঘণ্টা ধরে চলা ধরনা কর্মসূচি শেষ করার পরেই প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে রাজ্য সরকারের অতিথিশালায় রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মতলা থেকে সোজা সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী। দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হন তিনি। সেই সময় আবারও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় তাঁকে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যেহেতু প্রাক্তন রাজ্যপাল পরের দিন রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। তিনি জানান, আনন্দ বোসের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর এবং তাঁদের মধ্যে ভালো সম্পর্কও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটের আগে আচমকা তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, নিজের মনের কথাও আনন্দ বোসকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁকে আবার বাংলায় আসার আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।এই সাক্ষাৎ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোসের প্রশংসা করেন। মমতা লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল ডক্টর সিভি আনন্দ বোস রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ধর্মতলায় পাঁচ দিনের ধরনা কর্মসূচি শেষ করার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, আনন্দ বোস অত্যন্ত পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় রাজ্যের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ হয়েছিল। সেই আলাপচারিতা তাঁর কাছে সবসময় মূল্যবান হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন মমতা।মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আনন্দ বোসের আগামী দিনের সমস্ত উদ্যোগ ও দায়িত্বের জন্য তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁর অগাধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের পথচলায় আরও বড় সাফল্য এনে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মার্চ ১০, ২০২৬
দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, তবু বাংলাদেশের পাশে ভারত! পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর বড় সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। তার জেরে গোটা বিশ্বেই জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা বাড়ছে। ভারতেও গ্যাস ও জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারত। দুঃসময়ে প্রতিবেশী দেশকে সাহায্য করতে পাঁচ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব পাইপলাইনের মাধ্যমে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল তিনটে কুড়ি মিনিট নাগাদ ভারতের অসমের নুমালিগড় তৈলশোধনাগার থেকে ডিজেল পাম্পিং শুরু হয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে পাঠানো এই জ্বালানি প্রায় চুয়াল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পর্বতপুর ডিপোতে পৌঁছে যাবে বলে জানা গেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার এই সময়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই পাইপলাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জ্বালানি আসায় পরিবহন খরচ এবং সময় দুটোই অনেক কমে যায়।কিছুদিন আগেই বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ভারতের পক্ষ থেকে ডিজেল রফতানি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে পরে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এই পরিস্থিতিতেই আবার বাংলাদেশে ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তৈরি করা হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব পাইপলাইন প্রকল্প। এই প্রকল্প দুই দেশের অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়।বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে সেখানকার সরকার। তবে উদ্বেগ শুধু জ্বালানি নিয়েই নয়। খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের সাহায্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতির মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বলে খবর। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশের তেলের ট্যাঙ্কার এবং জাহাজ এখন সমুদ্রে অপেক্ষা করে রয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

লক্ষ্যের লক্ষ্যপূরণ অধরাই, অল ইংল্যান্ড শিরোপা হাতছাড়া

অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের স্বপ্ন এবারও অপূর্ণই থেকে গেল ভারতের। ফাইনালে উঠেও খেতাব জিততে পারলেন না ভারতের তরুণ শাটলার লক্ষ্য সেন। রবিবার (৯ মার্চ) পুরুষদের সিঙ্গলস ফাইনালে চাইনিজ তাইপেইয়ের লিন চুন ই-র কাছে হেরে যান তিনি। লক্ষ্যের লক্ষ্যপূরণ অধরাই থেকে গেল।প্রায় ৫৭ মিনিট ধরে লড়াই চলা এই ম্যাচে লক্ষ্য ১৫-২১ এবং ২০-২২ ব্যবধানে পরাজিত হন। ফলে গত ২৫ বছর ধরে অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের খেতাব জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হল। অন্যদিকে, এই জয়ের মাধ্যমে লিন চুনই প্রথম চাইনিজ তাইপেই শাটলার হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের খেতাব জিতলেন।উল্লেখ্য, চার বছর আগে অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ হয়েছিলেন লক্ষ্য সেন। চলতি বছর আবারও ফাইনালে উঠে সেই আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ এসেছিল। আলমোড়ার ২৪ বছরের এই শাটলার ফাইনালেও লড়াই চালালেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা অধরাই থেকে যায়।এই টুর্নামেন্টে ফাইনালে ওঠার পথে লক্ষ্য সেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান। তিনি বিশ্বের এক নম্বর শাটলার শি ইউ কি এবং বিশ্ব তালিকার ছয় নম্বরে থাকা লি শি ফেংকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছান। সেমিফাইনালে কানাডার ভিক্টর লেইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে পায়ের চোট নিয়েও ৯৭ মিনিট লড়াই করে জয় তুলে নেন তিনি।ভারতের ইতিহাসে অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষদের সিঙ্গলসে এখনও পর্যন্ত মাত্র দুই ভারতীয় শাটলার খেতাব জিতেছেন, প্রকাশ পাড়ুকোন (১৯৮০) এবং পুলেল্লা গোপীচাঁদ (২০০১)। এছাড়া প্রকাশ নাথ (১৯৪৭) এবং সাইনা নেহওয়াল (২০১৫) ফাইনালে উঠলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেননি।এবার লক্ষ্য সেন ফাইনালে উঠলেও শেষ হাসি হাসতে পারলেন না। ফলে অল ইংল্যান্ডে ভারতের শিরোপা জয়ের অপেক্ষা এখনও অব্যাহত রইল।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

“একুশের মতো পরিস্থিতি আর নয়”—বাংলায় ভোট ঘিরে কড়া বার্তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি আর যেন বাংলায় না ফিরে আসে, সেই বার্তাই বারবার দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। ছাব্বিশের নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও চাপমুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানালেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলায় দুদিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ভোটে কোনও ধরনের হিংসা বা ভয় দেখানো বরদাস্ত করা হবে না। ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেই বৈঠকে ভোট কত দফায় হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে এক বা দুই দফায় ভোট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজনৈতিক দলগুলির মতামত নেওয়া হয়েছে এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই ভোটের দফা নির্ধারণ করা হবে। দিল্লিতে ফিরে কমিশন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট করে বলেন, এবারের ভোটে কোনওভাবেই হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, ভোট যেন সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে হয়, সেই বিষয়ে কমিশন বিশেষ নজর দেবে। ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করার ঘটনাও কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি বলেন, অতীতে ভোটের আগে এবং ভোটের পরে যে ধরনের হিংসার ঘটনা দেখা গিয়েছিল, কমিশন আশা করছে এবারে সেই পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। যদি কারও বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।সোমবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেখানে রাজ্যের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের কড়া বার্তা দেন তিনি। কোথাও কোনও অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নির্দেশ না মানলে শুধু পদ থেকে সরানোই নয়, বিভাগীয় তদন্তের মুখেও পড়তে হতে পারে বলে জানিয়ে দেন।এবারের নির্বাচনে প্রতিটি বুথে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। সব বুথেই ওয়েব সম্প্রচারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। ভোট দিতে যাওয়ার সময় বুথের বাইরে মোবাইল ফোন জমা রেখে তবেই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে ভোটারদের। ভোটযন্ত্রে প্রার্থীদের রঙিন ছবি দেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে। কোনও প্রার্থী চাইলে ভোটের সাত দিনের মধ্যে ভোটযন্ত্র পরীক্ষা করার সুযোগও দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র খোলা হবে, যাতে ভোটাররা সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সাহায্য পেতে পারেন।

মার্চ ১০, ২০২৬
কলকাতা

ষাট লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলে! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উত্তরে বাড়ল ধোঁয়াশা

এসআইআর প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ষাট লক্ষ। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ইতিমধ্যেই দশ লক্ষ ভোটারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ভোটের আগে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিবেচনাধীন ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এড়িয়ে গেলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও বিবেচনাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনও দিশা দিতে পারেননি। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার জানান, বিবেচনাধীন ভোটারদের নথি পরীক্ষা করে দেখার কাজ করছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। তাঁরা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং সেখানে জানিয়েছেন যে দশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে বাকি পঞ্চাশ লক্ষ ভোটারের বিষয় নিয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা উচিত।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী গত আটাশ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করার কথা বলা হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নের আগের দিন পর্যন্ত এই তালিকা প্রকাশ করা যেতে পারে বলে নির্দেশ রয়েছে। ফলে বিবেচনাধীন ভোটারদের অনেককেই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে তাঁদের ভোটাধিকার রয়েছে কি না তা জানার জন্য।এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের ঘোষণা করা উচিত নয়। তবে নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহেই ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে পারে বলে জল্পনা চলছে। অর্থাৎ ভোটের সময় একেবারেই সামনে চলে এসেছে। হাতে সময় খুবই কম। এখনও পর্যন্ত মাত্র দশ লক্ষ ভোটারের নথি পরীক্ষা শেষ হয়েছে, বাকি বিপুল সংখ্যক ভোটারের বিষয় নিষ্পত্তি বাকি। এত কম সময়ে এই বিশাল কাজ শেষ করা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকেও এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বিবেচনাধীন লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঝুলে রইল।

মার্চ ১০, ২০২৬
দেশ

ভোটার তালিকা বিতর্কে বড় মন্তব্য! “একজনও বৈধ ভোটার বাদ যাবে না” বলল সুপ্রিম কোর্ট

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আগাম পিটিশন দাখিল হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই ধরনের আগাম আবেদন ভুল বার্তা দিতে পারে। আদালতের মতে, এতে মনে হতে পারে যে আবেদনকারীরা বিচারব্যবস্থার উপর ভরসা রাখতে পারছেন না। প্রধান বিচারপতি মেনকা গুরুস্বামীকে জানান, আগাম পিটিশনের মাধ্যমে এমন বার্তা যাচ্ছে যে সিস্টেমের উপর আস্থা নেই। তাই তিনি আবেদনটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরামর্শও দেন। একই সঙ্গে আদালত আশ্বাস দেয়, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়বে না।এসআইআর সংক্রান্ত মামলা ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। এর মধ্যেই সোমবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। আগের দিন মেনকা গুরুস্বামী অভিযোগ করেছিলেন, অনেক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং তাঁদের নথিও গ্রহণ করা হয়নি। তিনি জানান, যাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন তাঁদের নথিও এখন গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।এই প্রসঙ্গেই মঙ্গলবার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যেই প্রায় দশ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কোনও প্রশ্নের মুখে ফেলবেন না। তাঁরা নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছেন। যাঁরা প্রকৃত ভোটার, তাঁদের অবশ্যই তালিকায় যুক্ত করা হবে বলে আদালত জানায়।রাজ্যের নতুন আবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, এই পিটিশন আগাম করা হয়েছে এবং এখনই তার প্রয়োজন ছিল না। তিনি মেনকা গুরুস্বামীকে আবেদন প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ভোট ঘোষণার আগেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আদালত এও জানায়, প্রয়োজন হলে এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার নোটিসও জারি করা হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালত সব পক্ষকেই নজরে রাখছে বলে মন্তব্য করে বেঞ্চ।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা অমীমাংসিত ভোটারদের তালিকা পরীক্ষা করে দেখছেন। এদিন আদালত নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে এই কাজে সবরকম সাহায্য করতে হবে। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের যখন লগইন পরিচয়পত্র প্রয়োজন হবে, তখনই নির্বাচন কমিশনকে তা দ্রুত ব্যবস্থা করে দিতে হবে বলে জানায় আদালত।অমীমাংসিত তালিকার তথ্য পরীক্ষা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, দ্রুত সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছে, এই বিষয় দেখভালের জন্য একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। সেখানে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে রাখা হবে এবং একাধিক বিচারপতি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন। নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে আদালত জানিয়েছে।

মার্চ ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal