• ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩, সোমবার ১১ মে ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Lord Shiva

উৎসব

ডিহিপাড়ার 'বানেশ্বরের' গাজনের এক অজানা লোমহর্শক কাহিনী

বাঁকুড়া জেলার ডিহিপাড়া গ্রামে মধুকেশ্বর শিবের মূর্তি স্থাপন ও পুজারম্ভ শুরু হয় বাংলার ১২৩০ এ। জানা যায় গাজন ও চড়ক উৎসব তাঁর অনেক আগে থেকেই চালু ছিল এই এলাকায়। এই ব্যাপারে ডিহিপাড়া গ্রামে আদি বাসিন্দা রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জনতার কথা কে বলেন, জনশ্রুতি, এখন যে জায়গায় মন্দিরটি অবস্থিত সেখানে আগে ঘন জঙ্গল ছিল। দামোদরের পারে আবস্থিত ডিহিপাড়া গ্রামের সেই জঙ্গলে দামোদরের অপরদিক থেকে একটি গাভীকে প্রায়-ই দামোদর নদ সাঁতরে এপারে জঙ্গলে আসতে দেখা যেত। এবং গাভীটি দামোদর পেরিয়ে এসে ওই ঘন জঙ্গলে প্রবেশ করত।তিনি জানান, স্থানীয়রা বেশ কিছুদিন যাবৎ ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখে, কৌতুহলবশত একদিন ওই জঙ্গলে প্রবেশ করে দেখেন, গাভীটি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এবং তাঁর বাঁট থেকে দুধ ঝড়ে পড়ছে একটি নির্দিষ্ট স্থানে। স্থানীয় মানুষজন আরো কৌতুহলে গাভীটিকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে যায়গাটা পরিষ্কার করতেই তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা দেখে তারা নির্বাক হয়ে যান। তাঁরা দেখেন, যে যায়গাটিতে ওই গাভীর বাঁট থেকে আঝোর ধারায় দুধ ঝড়ে পড়ছিল, সেখানে একটি প্রস্তরের শিব লিঙ্গ। সেই থেকেই মধুকেশ্বর শিবের পুজা আরম্ভ হয়।রাখহরি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডিহিপাড়া-র গাজন উৎসব চার দিন ধরে হয়, যার সমাপ্তি ঘটে চৈত্র সংক্রান্তিতে। তার আগে ৮ দিন ধরে বাবা মধুকেশ্বরকে পরমান্ন দেওয়া হয়, এবং সেই প্রসাদ সারা গ্রামেই বিতরণ করা হয়। মধুকেশ্বরের গাজনে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন ভক্ত (সন্যাস) হয়। গাজন শুরুর আগেরদিন স্নান করে শুদ্ধ বসনে বাবা মধুকেশ্বরের আটচালায় প্রবেশ করেন ভক্তেরা। তাঁর পরেরদিন বাবা বানেশ্বর কে স্নান করিয়ে পুজাপাঠ করা হয়। কথিত আছে শিব উপাসক বান রাজা দ্বারকাধীশ শ্রীকৃষ্ণ-র সহিত যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি উৎপাদন করে অমরত্ত্ব লাভের আকাঙ্খায় নিজ গাত্র লোহিত দ্বারা মহাদেবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করে, সেই কারনে মহাদেব বা শিব কে বানেশ্বর-ও বলা হয়ে থাকে।রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জানান এটি (বানেস্বর) সিঁদুর মোচিত লম্বা এক কাঠের পাটা বিশেষ। বংশ পরম্পরায় কর্মকার (কামার) সম্প্রদায়ের একজন একটি লৌহ শলাকা পুজার আগে ওই কাঠের পাটাতনে পোথিত করে দিয়ে যায়। এরপর বানেশ্বরকে সমগ্র গ্রাম ও দেবত্ত স্থানে ঘোরানো হয়। সন্ধ্যা বেলায় সেটিকে একটি প্রতিষ্টিত পুকুরে স্নান ও পুজার্চনা করিয়ে মন্দিরে আনা হয়। এই পুজা অনুষ্ঠানে ভক্ত সন্যাসীদের বিভিন্ন দৈহিক যন্ত্রণা ধর্মের অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়।অনেক ভক্তকেই একটি কাঠের দন্ড থেকে ওপরে পা বেঁধে নিচের দিকে মাথা করে ঝুলতে দেখা যায় এবং তাঁকে অন্যরা দুলতে সাহায্য করেন। এবং নিচের দিকে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানের পর ভক্তরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে স্বপাক হোবৃশী ও ফলাহার করেন। তাঁদের ভোজনের সময় পুরো এলাকা নিস্তব্দ থাকে। খাওয়ার সময় কোনও শ্বব্দ হলে ভক্তদের খাওয়ায় বাধা পরে যাবে এবং তারা সেই খাবার গ্রহণ করতে পারবেন না।গাজনের দ্বিতীয় দিনটিকে দিন গাজন বলা হয়ে থাকে। সেই দিন বানেস্বরকে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুজার্চনা করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যাবেলা পুর্বদিনের মতই পুকুরে স্নান করিয়ে আগুন জ্বেলে ভক্তরা কাঠের পাটাতনে ঝুলতে থাকেন। এবং রাতে প্রতিষ্টিত পুকুরে চার প্রহরে চারবার পুজা করা হয়। এই পুজার্চনাকে স্থানীয় ভাবে ঘাটজাগানো বলা হয়ে থাকে। এবং ভোর রাতে মা কামাক্ষা কে ঘাটে আনার জন্য ঘাটে বিশেষ পূজার্চনা করে কপোত বলিদান করা হয়ে থাকে।কামাক্ষা দেবীকে মন্দিরে আনাটা ডিহিপাড়া গাজনের একটি বিশেষ আকর্শন। হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমায় এই দৃশ্য দেখার জন্য। পাট ভক্তগন (সন্ন্যাসী) দেবীকে বহন করে মন্দিরে আনেন। ঢাকের ছন্দে নাচতে নাচতে মা আসেন মন্দিরে। একটি মাটির কলসিকে জলে নামিয়ে আড়াই বার ঢেউ দিয়ে যতটা ভরবে সেই ঘটটিকে মাথায় গামছা বেঁধে নিয়ে আসা হয়। গ্রামের আদি বাসিন্দা রাখহরি চট্টোপাধ্যায় জানান, মায়ের এমন-ই কৃপা, নাচলেও একফোঁটা জল ওই মাটির কলসি থেকে বেরিয়ে আসে না। এবং সেই কলসি ভর্তী করার সময় কোনোরূপ ঢাক বাজবে না। জানা যায় ঢাকের ছন্দে ভুল থাকলে মায়ের গতি রুদ্ধ হয়ে যায়। এবং সেই সময় মা কে সামনের দিকে আগিয়ে নিয়ে আসা যায় না। একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে ভক্তিমূলক গান বাজিয়ে মাকে তুষ্ট করা হয়। তারপরই পাট ভক্তেরা প্রবল বেগে দৌড়ে মাকে নিয়ে মন্দিরে দিকে নিয়ে চলে আসেন।গাজনের তৃতীয় দিন বানেস্বর বা পাট নিয়ে নদীতে স্নান করতে যাওয়া হয়। সেখানে স্নান করে, পাশের একটি গ্রাম রাঙামাটি তে বিশ্রামালয়ে বিশ্রাম নিয়ে পুজার্চনা হয়। বানেশ্বরের আগমনে সেই যায়গাটিতে ছোট একটি মেলা বসে। রাত বাড়লে পাট মন্দিরে আসে। এবং সেই সময় আতশবাজি প্রদর্শন হয়। মন্দিরে আসার পর দেবতার উদ্দশ্যে হোমাহুতি ও যজ্ঞ করা হয়। হমের প্রথম তিলক মধুকেশ্বর ও দ্বিতীয় তিলক বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের তদানীন্তন মহারাজা গোপাল সিংহ কে উৎস্বর্গ করা হয়। এই গোপাল সিংহ-ই ছিলেন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা। ওই রাতে চার প্রহর মধুকেশ্বর ও মা কামাক্ষা দেবীকে জাগিয়ে রাখার জন্য তাঁদের নামে বারংবার জয়ধ্বনী দেওয়া হয়।গাজনের চতুর্থ দিন চড়ক অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনের শেষে পাট ভক্তরা পুকুরে স্নান করে মন্দির প্রাঙ্গণে নৃত্য করেন। চড়ক তলায় পুজা উপলক্ষে মনোহারি দ্রব্য, জিলাবি ও নানাবিধ খাওয়ার দোকানের পসরা নিয়ে মেলা বসে। পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষে গ্রামের বাসিন্দা ও গ্রামবাসীদের আত্মীয় স্বজন নিয়ে আন্নুকুটে অংশগ্রহন করেন। প্রায় ৪ হাজারের আশপাশ মানুষ এই অন্নকূটে আসেন। রাতে গাজনের শেষে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মেনেই রাতে যাত্রাপালা, লোকগান, হরিনাম সংকীর্তন-র আয়োজন করা হয়। প্রত্যেক বছরই বহু মানুষের সমাগম হয় এই পুজতে। দূর দুরান্ত থেকে মানুষের অনেকেরই ধারনা স্বয়ম্ভু বানেশ্বরের পুজা অর্চনা করলে সংসারের মঙ্গল সাধন হবে।

এপ্রিল ১৩, ২০২৪
রাজ্য

উধাও খোদ মহাদেব! বর্ধমানে চুরি গেলো শিবলিঙ্গ এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য

শিবলিঙ্গ চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহিতে। শুক্রবার সকালে মাধবডিহির নরত্তমবাটি গ্রামের বাসিন্দারা দেখেন শিবলিঙ্গ নেই। কিভাবে শিবলিঙ্গটি উধাও হল তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না গ্রামের বাসিন্দারা। ধর্মীয় স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে একটি শিব ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ছিল। কথিত আছে এখানকার দেবাদিদেব মহাদেব নাকি কোন মন্দিরে নয় বরং খোলা জায়গাতেই থাকতে পছন্দ করেন। রাতের অন্ধকারে কোন ভাবে সেই শিবলিঙ্গের অর্ধেক অংশ উধাও হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। কিভাবে সেই শিবলিঙ্গটি উধাও হয়ে গেল সেই নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছেন তারা। এই ঘটনায় গ্রামের মানুষরা খুবই দুঃখিত। যেহেতু এই শিব ঠাকুরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কাল্প কাহিনী রয়েছে তাই এই ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না তারা। শিবলিঙ্গটিকে খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে মাধবডিহি থানার পুলিশ।সেবাইত শান্তিনাথ ব্যানার্জী বলেন, উপরের অংশ নিয়ে গেছে দুস্কৃতিরা।কিন্তু বাবাকে অর্থাৎ শান্তিনাথকে নিয়ে যেতে পারে নি।কারণ বাবা মহাদেব এখানে স্বপ্নাদেশ দিয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। সুতরাং বানার আসল রূপ এখানে আছে।গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষ বলেন, শিবলিঙ্গটি কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে।স্থানীয় বাসিন্দা জয়রাম চক্রবর্তী বলেন, এটি কষ্টিক পাথরের শিবলিঙ্গ। হাজার বছরের পুরনো, বহু মূল্য। তার ধারণা কোন তান্ত্রিকের কাজ হতে পারে।

অক্টোবর ১৪, ২০২২
রাজ্য

শিবের মাহাত্মের কথা শুনে শিব মন্দিরে গিয়ে পুজো সারলেন খান সাহেব

পুরোহিত ভাতা পাওয়া ব্রাক্ষ্মণদের সঙ্গে বৈঠক কারার সময়ে খান সাহেব জেনেছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের মাহাত্ম্যের কথা। পুজারী ব্রাহ্মণদের কাছে তিনি এও জেনেছিলেন মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব শিবের মহারাত্রি। তার পরেই পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান ঠিক করে নেন এই বছরের শিবরাত্রির দিনে তিনি দেবাদিদেব শিবের মন্দিরে গিয়ে পুজো দেবেন। সেই মত মঙ্গলবার সাত সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে তিনি সোজা চলে যান জামালপুর ব্লকের জৌগ্রামে থাকা সুপ্রাচীন জলেশ্বর শিব মন্দিরে।মন্দিরের পুজারি ব্রাহ্মণের করা মন্ত্রোচ্চারণ শুনে নিজের মুখে তা বলে খান সাহেব শিবের কাছে পূজার্ঘ্য নিবেদন করেন। হাতজোড় করে দেবাদিদেবকে প্রণাম জানিয়ে তিনি আশীর্বাদ প্রার্থনাও করলেন। মুসলিম পরিবারের সন্তান মেহেমুদ খানের এমন শিব ভক্তি দেখে এদিন জলেশ্বর মন্দির চত্ত্বরে থাকা অনেক শিব ভক্তও থমকে দাঁড়িয়ে যান। হঠাৎ করে দেবাদিদেব শিবের দ্বারস্থ হওয়ার কি কারণ তার ব্যখ্যা দিতে কোন কুণ্ঠা বোধ করে নি মেহেমুদ খান। তিনি বলেন, এই জগৎ চালাচ্ছেন উপরওয়ালা।কেউ তাঁকে বলেন আল্লা, আবার কেউ বলেন ঈশ্বর। তাঁর করুণা ছাড়া এই জগৎতে কোন কিছুই সম্ভব নয়। মেহেমুদ খান জানান, রাজ্য সরকারের পুরোহিত ভাতা পাওয়া জামালপুরের ব্রাহ্মণদের সঙ্গে একদিন তিনি একটি বৈঠকে বসেছিলেন। তখন এক প্রবীন ব্রাহ্মণ পুজারির কাছে হিন্দু ধর্মের সর্বশক্তিমান দেবতা শিবের মাহাত্ম্যের কথা তিনি শুনেছিলেন। তারপরেই দেবতা শিবের চরণে পুজো দেওয়ার ব্যপারে মনস্থির করেন। সেই মতই শিবরাত্রির এই দিনে তিনি জলেশ্বর শিব মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে দেবতার আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন বলে জানান। পাশাপাশি মেহেমুদ খান এও বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারে বারে এই বাংলার সর্ব ধর্ম সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। সম্প্রীতি বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রীও সকলকে এক হয়ে থাকার বার্তা দেন। তাঁরই দলের একজন সেনাপতি হয়ে তিনিও মনে করেন সব ধর্মকে শ্রদ্ধা জানানোটাই প্রকৃত ধার্মিকের কাজ। সেই বিশ্বাস ও ভক্তিতে ভর করেই এদিন জলেশ্বর শিব মন্দিরে পৌছে ভক্তি ভরে পুজো দিয়েছেন বলে খান সাহেব জানিয়ে দেন।

মার্চ ০১, ২০২২
নিবন্ধ

আটশ' শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে নিহত কৌরবপক্ষের তেইশতম প্রজন্ম বর্মন বংশের রাজা জল্পেশের শিবমন্দির

আধমাইলটাক লম্বা এক পায়ে চলা পথ-- ধুলায় ধুসর, ভিড়ে ভিড়াক্কার! যাত্রীদের ক্যাঁও ম্যাঁও... ফেরিওয়ালাদের হুল্লোড়... বাচ্চাকাচ্চাদের চ্যাঁ ভ্যাঁ... বাঁশির প্যাঁ পো... মাইকের অমায়িক নির্ঘোষে জয় জয় শিবশঙ্কর কাঁটা লাগে না কঙ্কর... থেকে থেকেই আশেপাশে পিলে চমকানো ব্যোম ভোলে... তবে সব কিছু ছাপিয়ে যেত পথের দুপাশে চট-বস্তা-খড়ের ভুমিশয্যায় সারি সারি বিকলাঙ্গ ভিখারীর আর্তনাদ!বীভৎস ঘা... খসে পড়া আঙ্গুল বা হাত পা... বিকট অঙ্গবিকৃতি... সেই সব ঘা বা হাত পায়ে অনেক সময় লোহার কাঁটা বা বাঁশের কঞ্চি ঢোকানো-- মা বলতো ছোটবেলায় ছেলেধরারা ওদের ধরে নিয়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে, কেটে-পচিয়ে ভিক্ষে করাচ্ছে! চোখে দেখে সহ্য করতে পারতাম না সেই শিশুবয়সে; ফোঁপাতে ফোঁপাতে, কখনো বা ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের হাত ধরে কোনো মতে পেরিয়ে যেতাম সেই পথটুকু!আজ বুঝি, ওরা বেশির ভাগই ছিল কুষ্ঠরোগী-- চিকিৎসাহীণতায় অঙ্গবিকৃতির শিকার! রোগক্লিষ্ট অঙ্গের স্নায়ু শুকিয়ে গিয়ে ব্যথার অনুভূতি চলে যেত, ফলে মানুষের নজর টানতে কাঁটা ঢুকিয়ে বা দগদগে ঘা নিয়ে শুয়ে বসে থাকতে হয়ত খুব বেশি কষ্ট হত না তাদের। তবু জল্পেশ মন্দিরের মহাশিবরাত্রির মেলায় সেই সব ভিখারীরা আমার শৈশবস্মৃতির চিরকালীন দুঃস্বপ্ন হয়ে রয়ে গেছে।জল্পেশের শিবমন্দিরজল্পেশ মন্দির। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বিখ্যাত এই শিবমন্দিরের ইতিহাস আজকের নয়। কুরুক্ষেত্রযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন কৌরবপক্ষের মহারথী ভগদত্ত। তাঁর পরের তেইশ প্রজন্ম পেরিয়ে বর্মন বংশের শেষ রাজা জল্পেশ নাকি এই মন্দির রচেন আনুমানিক আটশ শতাব্দীতে। কয়েক শতক পর বখতিয়ার খিলজি-র হাতে ধ্বংস হয়ে যায় সুপ্রাচীন এই শৈবতীর্থ। দ্বাদশ শতাব্দীতে ভুটানের এক রাজা নতুন করে একে গড়ে তুললেও পরে আবার জঙ্গলে ঢাকা পড়ে যায় সব কিছু। ১৫২৪ খ্রীষ্টাব্দে কোচবিহার রাজবংশের বিশ্ব সিংহ আবার গড়ে তোলেন এই দেবস্থান। ১৫৬৩-তে তাঁর ছেলে মহারাজা নারায়ণ, ও ১৬৬৩-তে রাজা প্রাণ নারায়ণ আরো দুবার এর সংস্কার করেন। কোচবিহার রাজবংশের পৃষ্ঠপোষকতায় জল্পেশ মন্দির ফিরে পায় পুরনো গৌরব। কিন্তু গোল বাধলো আবার। রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ-এর অভিষেকের সময় রাজছত্র ধরতে অস্বীকার করেন অধীনস্থ বৈকুন্ঠপুর রাজ্যের রাজা মহীদেব রায়্কত, এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তখন থেকে স্থানীয় বৈকুন্ঠপুর-এর রায়্কত-রাই মন্দিরের দেখভাল করতেন। এই বৈকুন্ঠপুর রাজ্যেরই অন্তর্গত ছিল পরবর্তীকালে গড়ে ওঠা জলপাইগুড়ি শহর ও আশপাশের এলাকা। জোরালো ভূমিকম্পে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৮৯৯ সালে রাজা যোগেন্দ্রদেব রায়কতের মহিষী রাণী জগদীশ্বরী দেবী পুনর্নির্মাণ করান বর্তমান মন্দিরটি।জলপাইগুড়ি শহর থেকে তেইশ কি.মি., ময়নাগুড়ি বাইপাস মোড় থেকে মাত্র ছয় কি.মি. দুরে.. জল্পেশ্বর শিবমন্দিরের বহিরঙ্গ রূপটি সাদামাটা, অন্যান্য হিন্দুমন্দিরের থেকে কিছু আলাদা; খানিকটা যেন ইসলামী আদল আছে। ১২৬ ফুট উঁচু, ও ১২০ ফুট চওড়া ধবধবে সাদা মন্দিরের মাথায় বিশেষত্বহীন মূল গম্বুজটিকে ঘিরে চারটি ছোট গম্বুজ। ভিতরে ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গেছে গর্ভগৃহে; জলপূর্ণ কুন্ডের মাঝে বিরাজমান অনাদি শিবলিঙ্গ। জুন থেকে অক্টোবর-- ঘোর বর্ষায় তা সম্পূর্ণ ডুবে যায়। বছরে তিনবার উৎসব জল্পেশ-এ-- বৈশাখী, শ্রাবনী, আর মহা-শিবরাত্রি মেলা। সারা বছর ধু ধু মাঠে এলোমেলো বইত উদাসী হাওয়া; পাশ দিয়ে তিরতিরিয়ে বয়ে চলা জরদা নদীর বালি উড়তো হিমালয় ছুঁয়ে আসা উত্তুরে বাতাসে। আর শিবরাত্রির সময় লাখ বারো ভক্তের সমাগমে রমরমিয়ে উঠতো মাইলের পর মাইল ফাঁকা জমি জুড়ে জমে ওঠা মেলা। পনেরো কি.মি. দুরের তিস্তা নদী থেকে জলপূর্ণ ঘট বয়ে এনে অনাদি শিবলিঙ্গের মাথায় ঢেলে দিতেন ভক্তরা। আমার শৈশবে এক পক্ষকাল ধরে চলত সে মেলা। কী না পাওয়া যেত সেখানে! স্বাধীনতার আগে নাকি হাতিও কেনাবেচা হতো; পাশের রাজ্যগুলি, এমনকি নেপাল-ভুটান-পূর্ব বাংলা থেকেও মানুষ আসতেন হাতি কিনতে! এই কদিন বেশিরভাগ বাস নিজের রুট ছেড়ে দিয়ে সামনে বোর্ড ঝোলাতো জল্পেশ মেলা । আন্তর্জাতিক সীমান্তও এসময় হয়ে যেত শিথিল; ভক্তরা আসতেন বাংলাদেশ থেকেও। প্রতি বছর উপোস করে জল্পেশ্বর-র মাথায় জল ঢালতে যেত মা, আর খুব ছোট থেকেই সঙ্গী হতাম আমি। সেই মর্মবিদারী ভিক্ষুককুলের মধ্য দিয়ে যাওয়াটা ছিল বিভীষিকা! ভিড়ের ঠেলায় ছুটতাম ছোটো ছোটো পায়ে... জরদা নদীর কাঠের পুল পেরিয়ে আরো কিছুদুর... মন্দিরের গেটের সামনে দুই হাতির মূর্তি... কারো হাত ধরে ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকতাম বাইরে... ভিড়ে ঠাসা সিঁড়ি দিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে নেমে যেত মা... শিবলিঙ্গে জল ঢেলে কোনমতে হাত বাড়িয়ে একটু স্পর্শ করা... একবার মনে আছে আস্ত একটা তাজা কলা মা নিয়ে এসেছিল ফুল পাতার স্তূপ হাতড়ে!ভিখারীদের সেই ভয়ানক দৃশ্য এড়াবার উপায় বার ফেলেছিলাম পরের দিকে। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে চোখদুটো আধবোজা করে এদিক ওদিক না তাকিয়ে পেরিয়ে যেতাম রাস্তাটুকু। শেষবার গেছিলাম বোধ হয় সপ্তম শ্রেনীতে পড়ার সময়। চলতে চলতে চট-বাঁশ-ত্রিপলের এক ছাউনি দেখেছিলাম পথের ধারে, বোধ হয় পুতুলনাচ বা জাদুর খেলা বা ওই জাতীয় কিছুর আয়োজন। কোনো মানুষ দেখা যাচ্ছিল না সেখানে। ছাউনির সামনে লম্বা বাঁশের মাথায় বাঁধা ছিল মাইক। গরম হাওয়া বইছিল এলোমেলো। তপ্ত শেষ বসন্তে মেলার ভিড়ে নিঃসঙ্গ এক মাইকের নিশ্চুপ প্রতীক্ষা চার দশক পেরিয়ে, কেন জানি না, মনে জেগে আছে আজো!ডঃ সুজন সরকার বর্ধমান।

মার্চ ০১, ২০২২
ভ্রমণ

শিব- পার্বতীর বিবাহ স্থলে

শিব ঠাকুরের একটা সরল, সাধাসিধে ভোলাভালা ইমেজ আছে, তিনি ভোলানাথ। জাঁকজমক, আড়ম্বরের বেশী দরকার হয় না, অল্পেই তিনি তুষ্ট তাই তিনি আশুতোষ। কোনো অহঙ্কারের লেশ মাত্র নেই, অথচ তিনিই সব। ছোটবেলা থেকে তাঁর অনেক গল্প - কাহিনী মায়ের কাছে শোনা। সচরাচর রাগ করেন না, কিন্তু রেগে গেলে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন, নটরাজ রূপে। ২০১৩ সালে কেদারনাথ মহাপ্রলয়ের সময়ে প্রকৃতির যে প্রলয়ঙ্করী রূপ দেখে আমরা শিউরে উঠেছিলাম, সেও ছিল বাবার রুদ্র রূপের প্রকাশ। আসলে ঈশ্বর আর প্রকৃতি তো আলাদা নয়, প্রকৃতির মধ্যেই তিনি বিরাজ করেন। পৌরাণিক কাহিনী তে আমরা জানি দক্ষ যজ্ঞের স্থলে সতীর দেহ ত্যাগের পর শিবের তাণ্ডব এবং তারপর বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হওয়া, যা থেকে ৫১টি সতী পিঠের উৎপত্তি। পরবর্তী কালে সতী জন্ম নেন হিমালয় কন্যা পার্বতী রূপে। শিব কে পতি হিসাবে পাবার জন্য তিনি বহু বছর কঠোর তপস্যা করেন। আর পার্বতী তো আমাদের ঘরের মেয়ে। উমা, গৌরী, দুর্গা কত আদরের নামে আমরা তাকে ডাকি। কৈলাস থেকে প্রতি বছর তিনি আমাদের কাছে ছেলে মেয়ে সহ আসেন। কেদারনাথ থেকে ফেরার সময় পৌঁছে গিয়াছিলাম ত্রিয়ুগীনারায়ণ, কথিত আছে যেখানে রাজনন্দিনী পার্বতী ও শিবের স্বর্গীয় বিবাহ সম্পন্ন হয়।ব্রহ্ম শিলাপার্বতীর তপস্যার স্থানটি ছিল বর্তমান গৌরীকুণ্ড। তপস্যায় সন্তুষ্ট মহাদেব পার্বতীর বিবাহ প্রস্তাব মঞ্জুর করেন গুপ্তকাশী তে। কেদারনাথ যাওয়া - আসার পথে শোন প্রয়াগ থেকে ১২ কিমি দূরে ত্রিয়ুগীনারায়ণ নামক একটি ছোট্ট পাহাড়ী গ্রাম। শোনপ্রয়াগ থেকে ত্রিয়ুগীনারায়ণ পর্যন্ত পুরো পথটাই চিরপাইনে ঢাকা, বেশ মনোমুগ্ধকর।গঠনশৈলী র দিক থেকে কেদারনাথ মন্দিরের মত একটি ছোট মন্দির আছে। মনে করা হয় এই মন্দিরের বর্তমান রূপ আদি শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত। ভিতরে তিনটি যুগ (সত্য, ত্রেতা এবং দ্বাপর) ধরে প্রজ্জ্বলিত অখণ্ড অগ্নিশিখা, যা জ্বালানো হয়ে ছিল সেই বিবাহের সময়, তাই এটি ত্রিযুগী। এই মন্দিরের আরাধ্য দেবতা নারায়ণ, শিব-পার্বতীর বিবাহে তিনি ছিলেন পার্বতীর ভাই এর ভূমিকায়। এই দুটি কারণে মন্দিরের নাম ত্রিয়ুগীনারায়ণ। এই মন্দির অখণ্ড ধুনি মন্দির নামেও খ্যাত। মন্দিরের সীমানায় চারটি কুণ্ড আছে। রুদ্র কুণ্ড স্নানের জন্য, বিষ্ণু কুণ্ড পরিষ্কারের জন্য, ব্রহ্ম কুণ্ড পানের জন্য, সরস্বতী কুণ্ড পূর্বপুরুষ দের জলদানের জন্য নির্দিষ্ট। এই বিবাহে পৌরহিত্য করেন প্রজাপতি ব্রহ্মা। ব্রহ্ম শিলা নামক এক শিলা খন্ড আছে, যা বিবাহ স্থলটিকে নির্দেশ করে। মন্দিরের ভিতরে রুপোর বিষ্ণু, লক্ষী ও সরস্বতীর মূর্তি আছে। এই মন্দিরে পূজো দেবার সময় দর্শনার্থীরা কাঠ নিয়ে আগুনে অর্পণ করে, তার ছাই নিয়ে আসেন আশীর্বাদ হিসাবে। এটি বৈবাহিক সম্পর্কের শান্তি নিয়ে আসে বলে মনে করা হয়। পূজার জিনিসপত্র নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করার পর, পুজারিজী ব্রহ্ম শিলা র চারপাশে ঘুরিয়ে তারপর পূজো নিবেদন করলেন। এটাই প্রচলিত রীতি। তাঁর সাথে অনেকক্ষণ ধরে কথোপকথনে জানতে পারলাম পার্বতীর তপস্যা স্থল থেকে শুরু করে এই মন্দিরের সমস্ত কথা। তিনি জানালেন বহু প্রাচীন কাল থেকেই অনেক পরিব্রাজক এই মন্দিরে এসেছেন। উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এখানে এসেছিলেন, তাঁর রচিত হিমালয়ের পথে পথে গ্রন্থে এর উল্লেখ আছে। শিব-পার্বতীর বিবাহে-র স্থান হিসাবে খুব জনপ্রিয় ও পবিত্র এই জায়গায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন প্রথিতযশা শিল্পপতি ধিরুভাই আম্বানি ও কোকিলাবেন সহ আরো অনেক বিখ্যাত মানুষ। এখানে বিবাহ অনুষ্টানের জন্য আনেক আগে থেকে মন্দির কমিটির কাছে বুকিং করে রাখতে হয়। মন্দির সহ চারপাশের পরিবেশ অদ্ভুত শান্ত, নিরিবিলি। এখান থেকে গাড়য়াল হিমালযের বিখ্যাত গিরিশৃঙ্গ গুলি দৃশ্যমান। এখানকার মৃদুমন্দ বাতাস আজও চুপি চুপি সেই সুদূর অতীতের গল্প গাথা ই শুনিয়ে যায়। কেদারনাথ যাওয়া বা আসার পথে আধ বেলা হাতে থাকলে এই সুন্দর মন্দির ও স্বর্গীয় বিবাহের স্থানটি ঘুরে রোমাঞ্চকর অনুভূতির স্বাদ নিতে পারেন।ডঃ ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়সহকারী অধ্যাপকচন্দ্রপুর কলেজ (বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়)কিভাবে যাবেনহরিদ্বার থেকে শোন প্রয়াগ ২৩১ কিমি। শোন প্রয়াগ থেকে ১২ কিমি দূরে ত্রিয়ুগীনারায়ণ মন্দির। কোথায় থাকবেনশোন প্রয়াগ এ থাকার জন্য অনেক লজ ও হোটেল আছে। ত্রিয়ুগীনারায়ণ এ GMVN এর হোটেল আছে।

অক্টোবর ২৯, ২০২০

ট্রেন্ডিং

দেশ

মোদিকে হত্যার ছক? বেঙ্গালুরুতে প্রধানমন্ত্রীর রুট থেকে উদ্ধার বিস্ফোরক

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বেঙ্গালুরু সফর ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। যে রাস্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) কনভয় যাওয়ার কথা ছিল, সেই পথের ধারে উদ্ধার হয়েছে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত জেলাটিন স্টিক। ঘটনার পর থেকেই ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। পুলিশ এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বেঙ্গালুরুর আর্ট অফ লিভিং সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) । সেই সময় কাগ্গালিপুরা এলাকার থাথাগুনির কাছে রাস্তার ধারে কয়েকটি জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়।জানা গিয়েছে, মোদির (PM Modi) সফরের আগে পুলিশের কাছে একটি সন্দেহজনক ফোনকল আসে। ফোনে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এরপরই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। সেই তল্লাশিতেই রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়।ঘটনার পরই হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রবিবার ভোরে এক ব্যক্তি স্থানীয় থানায় ফোন করে এইচএএল এবং আর্ট অফ লিভিং সেন্টারে বিস্ফোরণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি (PM Modi) ।পরে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে কোরামাঙ্গালায় তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এইচএএল বিমানবন্দরের কাছে কোনও সন্দেহজনক বস্তু না মিললেও আর্ট অফ লিভিং যাওয়ার রাস্তায় জেলাটিন স্টিক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। কীভাবে ওই বিস্ফোরক সেখানে পৌঁছল, কারা তা সরবরাহ করেছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সন্দেহভাজন যুবকের পাশাপাশি তাঁর বাবা-মাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি অতীতেও বেঙ্গালুরুতে ভিআইপি সফরের সময় একই ধরনের ফোন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন। তখনও তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের রুট থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

সাসপেন্ড হতেই বিস্ফোরক ঋজু! “চাকরি বিক্রি হয়েছে, সবাই জানে”

তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের নেতা ঋজু দত্ত। চাকরি বিক্রি থেকে শুরু করে কাটমানি, টিকিট বাণিজ্য একের পর এক অভিযোগে সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, চাকরি বিক্রি হয়নি, এটা বলার মতো বড় পাপ আর কিছু হতে পারে না। চাকরি বিক্রি হয়েছে, সেটা প্রমাণিত।এখানেই থামেননি ঋজু। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির প্ল্যান পাশ করানো থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজ সব ক্ষেত্রেই টাকা দিতে হয়। এমনকি বাড়িতে কোমড বসানোর ক্ষেত্রেও তৃণমূলের লোকেরা টাকা নেয় বলে দাবি করেন তিনি।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ঋজু বলেন, বাংলার মানুষ এবার মন খুলে কথা বলতে পারছেন। কলকাতার রাস্তায় বেরোলে মনে হচ্ছে ভারত জিতেছে, পাকিস্তান হেরেছে। মানুষ নতুন স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে।তৃণমূলে থাকার সময় নিজের অবস্থান নিয়েও মুখ খুলেছেন ঋজু দত্ত। তিনি বলেন, আরজি কর আন্দোলনের সময় আমি দলের হয়ে লড়াই করেছি। সন্দেশখালির সময়ও দলকে সমর্থন করেছি। কারণ আমি দলের মুখপাত্র ছিলাম। কিন্তু মন থেকে কোনওদিন সেগুলো মেনে নিতে পারিনি। দল যা বলতে বলত, বাধ্য হয়ে সেটাই বলতে হত।আইপ্যাক নিয়েও তীব্র অভিযোগ করেছেন তিনি। ঋজুর দাবি, দল চালাত আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। তৃণমূল নয়। টিকিট দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হত। আমার কাছেও ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।এই পরিস্থিতিতে বিজেপিও কটাক্ষ করতে শুরু করেছে তৃণমূলকে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার বক্তব্য, এখন ধাক্কা খেয়ে অনেকেরই চেতনা ফিরছে।তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন ঋজু দত্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি কোনও আবেদন করেননি। যদিও বিজেপি নেতাদের পাশে পাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমার এলাকার বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি পুলিশকে ফোন করে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। উত্তর কলকাতার বিজেপি নেতারাও আমার পরিবারকে সাহায্য করেছেন।ঋজুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
দেশ

বেঙ্গালুরু থেকেও বাংলার জয়গান মোদীর, “তিন থেকে ২০০, এটাই নতুন ইতিহাস”

বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের মুখে বারবার উঠে আসছে বঙ্গজয়ের প্রসঙ্গ। এবার কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে সভা করেও বাংলার জয় নিয়ে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একইসঙ্গে তিনি তুলে ধরলেন গত ১০ বছরে বাংলায় বিজেপির উত্থানের কাহিনি।বেঙ্গালুরুতে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মোদী বলেন, অসমে টানা তিনবার এনডিএ সরকার গঠন করেছে। বাংলায় প্রথমবার বিজেপি এত বড় আশীর্বাদ পেয়েছে। গুজরাটেও পঞ্চায়েত নির্বাচনে দারুণ ফল করেছে বিজেপি। এই সবই নতুন ইতিহাস তৈরির ঘটনা।এরপর বাংলায় বিজেপির লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দশ বছর আগে বাংলায় আমাদের মাত্র তিনজন বিধায়ক ছিল। তখন সংগঠনও খুব শক্তিশালী ছিল না। আজ সেই বাংলা থেকেই ২০০-র বেশি আসনে জয় পেয়ে বিজেপি সরকার গঠন করেছে। এটা ইতিহাস রচনার থেকে কম কিছু নয়।২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপি মাত্র তিনটি আসনে জয় পেয়েছিল। এরপর ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে।এবারের নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ৮০টি আসন। রাজ্যের একাধিক এলাকায় গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। বিজেপির ভোটের হারও ৪৫ শতাংশের বেশি বলে দাবি দলের।শনিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে নেমে পড়েছেন তিনি। সোমবার নবান্নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা রয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর।বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। আর সেই আবহেই দেশের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলার জয়কে ইতিহাস বলে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

ভোটের ফলের পর রক্তাক্ত খুন! এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী হত্যায় আরও এক গ্রেপ্তার

এন্টালিতে তৃণমূল কর্মী তাপস নস্কর খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে হাসনাবাদ থেকে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের নাম ভোলা কর। রবিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবরবিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন, মঙ্গলবার গভীর রাতে খুন হন তাপস নস্কর। ঘটনার পরই একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসনাবাদের মিঠুন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই ভোলা করকে গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাপস খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরে ভোলা করের নাম ছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার পিছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে। যদিও পুলিশের দাবি, এই খুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ নেই।স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাপস নস্কর। সেই সূত্রে এলাকায় প্রোমোটিংয়ের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কাজের অভিযোগ ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় থানায় তাপসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছিল।নির্বাচনের আগে পুলিশ তাঁকে সতর্ক করেছিল বলেও জানা গিয়েছে। এমনকি ভোটের আগে তাঁকে নজরবন্দিও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান তাপস। ভোট শেষ হওয়ার পর ফের এন্টালিতে ফিরে আসেন তিনি।তারপরই ৫ তারিখ গভীর রাতে এন্টালির চৌধুরী লেনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয় মানুষ পুলিশে খবর দিলে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাপসের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়, যার মধ্যে ভোলা করের নামও ছিল।এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ালেও কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, এটি রাজনৈতিক খুন নয়। তাঁর দাবি, নির্মাণ ব্যবসা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছুদিন বাইরে থাকার পর সম্প্রতি এলাকায় ফিরেছিলেন তাপস। তারপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

সরকার বদলাতেই বড় পদক্ষেপ! অবশেষে প্রকাশ্যে এসএসসি-র গোপন ওএমআর

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই বদলে গেল স্কুল সার্ভিস কমিশনের অবস্থান। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর শিট অবশেষে প্রকাশ করল এসএসসি। সূত্রের খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থীদের ওএমআর প্রকাশ করা হয়েছে।এর আগে ২০২৪ সালেই কলকাতা হাইকোর্ট সমস্ত ওএমআর প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু তারপরেও এতদিন পর্যন্ত সব ওএমআর প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল।তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওএমআর মূল্যায়নকারী সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মীর ঠিকানা থেকে একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই হার্ডডিস্ক থেকেই নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সমস্ত পরীক্ষার্থীর ওএমআর পাওয়া যায়। এরপরই তা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে সমস্ত ওএমআর প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টও সেই নির্দেশ বহাল রাখলেও এতদিন পর্যন্ত পুরো তথ্য সামনে আনা হয়নি। এবার এসএসসি জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র সমস্ত ওএমআরও প্রকাশ করা হবে।এখন ২০১৬ সালের সমস্ত পরীক্ষার্থী নিজেদের ওএমআর দেখতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার এসএসসি-র তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সিবিআই সূত্রে পাওয়া ওএমআর শিট ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুরো প্যানেল বাতিল হয়। এরপর থেকেই চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ওএমআর প্রকাশের দাবি উঠছিল। ওএমআর নষ্ট করা এবং কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছিল।এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ওএমআর প্রকাশ হওয়ায় নতুন করে রাজ্যের শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

মে ১০, ২০২৬
রাজ্য

“শেষে রাহুলের কাছেই হাতজোড় করতে হবে!” মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, একসময় বাম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এখন তিনিই রাজনৈতিক সংকটে পড়ে সকলকে পাশে চাওয়ার চেষ্টা করছেন।অধীর চৌধুরী বলেন, বামেদের সরানোর সময় উনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। পরে কিষানজিকে হত্যা করা হয়। এখন দিদি নিজেই বিপদে পড়েছেন। তাই সবাইকে ডাকছেন। তাঁর কটাক্ষ, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছেও হাতজোড় করতে হতে পারে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন অধীর। তিনি বলেন, বিকেল চারটে থেকে ছটার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা দেখতে চাই। যদি কেউ যান, তাহলে বোঝা যাবে বাংলার মানুষ এখনও তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মানছেন কি না।এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও আক্রমণ শানান অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, শুনছি খোকাবাবুর বাড়ি এখন দর্শনীয় জায়গা হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার সুবাদে কত ক্ষমতা পাওয়া যায় এবং সেই ক্ষমতায় কেমন বাড়ি তৈরি হয়, তা দেখতে মানুষ ভিড় করছেন। এখানেই থামেননি অধীর। তাঁর মন্তব্য, খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজিয়াম হয়ে যাবে।জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করেছেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, দিদি আগামী দিনে কী করবেন, সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি। তবে এটা নিশ্চিত, শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর কাছেই তাঁকে যেতে হবে।প্রসঙ্গত, শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের পর বিজেপিকে রুখতে বিরোধী জোট গঠনের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আসতে হবে। বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মমতা স্পষ্ট বলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।যদিও তৃণমূল নেত্রীর এই বার্তায় এখনও ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বামেরা। আপাতত তারা একাই লড়াই করার অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে এখনও তৃণমূলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মে ১০, ২০২৬
কলকাতা

টোল প্লাজার ক্যামেরায় ধরা পড়ল খুনিদের গাড়ি! ইউপিআই সূত্রে চাঞ্চল্যকর মোড়

চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে বড় সূত্র পেল পুলিশ। খুনে ব্যবহৃত গাড়ির ফাস্ট্যাগ পেমেন্ট থেকে একটি ইউপিআই লিঙ্কের খোঁজ মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।তদন্তকারীদের দাবি, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি বালি টোলপ্লাজা হয়ে এলাকায় ঢুকেছিল। টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে টোলের টাকা ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। সেই অনলাইন পেমেন্টের সূত্র ধরেই কোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গিয়েছে, তা জানতে পেরেছে পুলিশ।চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্ক ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। চন্দ্রনাথ ছিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলুপ এলাকার ঈশ্বরপুর পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েতে। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন সময় থেকেই তাঁদের পরিচয়। ধীরে ধীরে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন চন্দ্রনাথ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।বুধবার রাতে আচমকাই খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তারপর থেকেই তদন্তে নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল। আততায়ীদের গতিবিধি জানতে প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তদন্তকারীরা টাওয়ার ডাম্পিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার আগে এবং পরে এলাকার মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কোন কোন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল বা কল রিসিভ করা হয়েছিল, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক নম্বর চিহ্নিত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক মোবাইল টাওয়ারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।বিশেষ সফটওয়্যারের সাহায্যে বহু ফোন কলের মধ্যে থেকে সন্দেহভাজন নম্বর আলাদা করার কাজ চলছে। তদন্তকারীরা দেখছেন, ঘটনার আগে ও পরে কোন কোন নতুন নম্বর থেকে হঠাৎ ফোন আদানপ্রদান হয়েছে। সেই নম্বরগুলির টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে আততায়ীদের গতিবিধি জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মে ১০, ২০২৬
দেশ

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বড় ঘোষণা থলপতি বিজয়ের! বিনামূল্যে বিদ্যুৎ থেকে নারী সুরক্ষায় একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি

রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার থলপতি বিজয়। শপথ নেওয়ার পরই প্রথম ভাষণে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়ের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।চেন্নাইয়ে শপথ গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে বিজয় বলেন, আমি সাধারণ মানুষ। আপনাদের ভালবাসা আর সমর্থনেই আজ এখানে পৌঁছেছি। সরকারের সমস্ত সিদ্ধান্ত এবং কাজের দায়ভার আমারই থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগের ডিএমকে সরকার বিপুল ঋণের বোঝা রেখে গিয়েছে। তবে মানুষের সমর্থন থাকলে তাঁর সরকার সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করার চেষ্টা করবে।এদিন জোট রাজনীতি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন বিজয়। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার কোনও জোটসঙ্গীর চাপের কাছে মাথা নত করবে না। সরকার নিজের নীতি মেনেই চলবে।অনুরাগীদের উদ্দেশেও আবেগঘন বার্তা দেন দক্ষিণী তারকা। তিনি বলেন, আপনারাই আমার জীবন। আপনাদের ভালোর জন্যই আমি কাজ করব। আপনাদের ছাড়া আমি কিছুই নই। তাঁর মুখে শোনা যায় জনপ্রিয় তামিল শব্দবন্ধ এন নেনজিল কুডিয়িরুক্কুম, যার অর্থ, যাঁরা আমার হৃদয়ে থাকেন।মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন বিজয়। তিনি জানান, তামিলনাড়ুর মানুষ মাসে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবেন। মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা নারী সুরক্ষা বাহিনী গঠন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।এছাড়াও রাজ্যে মাদক রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতির দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিজয়ের দাবি, নতুন সরকার স্বচ্ছভাবে কাজ করবে এবং নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পূরণ করার চেষ্টা করবে।এদিন বিজয়ের সঙ্গে আরও নজন শপথ নেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেই তালিকায় রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান, আধব অর্জুন, নির্মল কুমার, এন আনন্দ, অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু, প্রাক্তন আইআরএস আধিকারিক অরুণ রাজ, পি ভেঙ্কটারামনন এবং সর্বকনিষ্ঠ বিধায়ক কীর্তনা। বিরুধুনগর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন কীর্তনা।

মে ১০, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal