• ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার ০১ জুন ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Left Front

কলকাতা

বিজেপিকে ঠেকাতে বাম-অতিবামদের ডাক মমতার! কালীঘাট থেকে বড় বার্তা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

একসময় তৃণমূলকে হারাতে সব বিরোধী শক্তিকে একজোট হওয়ার ডাক দিত বিজেপি। এবার বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর একই বার্তা শোনা গেল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। বিজেপিকে রুখতে বাম, অতিবাম-সহ সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে আসার আহ্বান জানালেন তিনি।শনিবার রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে কালীঘাটে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ-সহ তৃণমূলের একাধিক নেতা। সেই অনুষ্ঠান থেকেই বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।মমতা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমি আবেদন জানাচ্ছি, বিজেপির বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছে তারা সবাই একজোট হোন। ছাত্র, যুব, রাজনৈতিক সংগঠন সবাই এক প্ল্যাটফর্মে আসুন। বাম, অতিবামদের নিয়েও আমার কোনও আপত্তি নেই। আমার কোনও ইগো নেই। বিজেপিকে রুখতে হলে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন একক শক্তিতে লড়াই করা তৃণমূল এখন বুঝতে পারছে যে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী জোট গড়া জরুরি। সেই কারণেই বাম ও অতিবাম দলগুলিকেও পাশে চাওয়ার বার্তা দিলেন মমতা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বামের ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে যাওয়াই এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই বাম ভোটব্যাঙ্ককে ফের একত্রিত করার চেষ্টা শুরু করেছে তৃণমূল। একই সঙ্গে বিজেপি বিরোধী সব শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা।তবে মমতার এই আহ্বান নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে ঠিক করুন তিনি বিরোধী রাজনীতি করবেন কি না। বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের কথা যখনই উঠেছে, তখনই তিনি ভাঙনের রাজনীতি করেছেন। তাই এখন তাঁর কথায় কতটা বিশ্বাস করা যায়, সেটাই প্রশ্ন।অন্যদিকে সিপিএমএল নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকেই রাস্তায় নামতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মতো আন্দোলন করুন, আমরাও করব।বাংলার রাজনীতিতে এই মুহূর্তে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিজেপির উত্থানের পর বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে নতুন করে জোট রাজনীতির আলোচনা শুরু হওয়ায় রাজ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

মে ০৯, ২০২৬
কলকাতা

ভোট ঘোষণার পরই বড় চমক, ১৯২ প্রার্থীর নাম ঘোষণা বামফ্রন্টের

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। মোট একশো বিরানব্বইটি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই তালিকায় যেমন একাধিক নতুন মুখ রয়েছে, তেমনই রয়েছে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতারাও। পাশাপাশি কয়েকজন পরিচিত ও ভারী ওজনের নেতাকেও লড়াইয়ের ময়দানে নামানো হয়েছে।যাদবপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে। দুই হাজার উনিশ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেও গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা থেকে শুরু করে বকেয়া ভাতা সংক্রান্ত মামলাতেও তিনি আদালতে সক্রিয় ছিলেন এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাফল্যও পেয়েছেন।উত্তরপাড়া কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। তিনি বাম শিবিরের অন্যতম তরুণ ও পরিচিত মহিলা মুখ। এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মতো বড় নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবে তাঁর সরাসরি বক্তব্য এবং তীব্র বক্তৃতা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচিত হয়েছে।রানিবাঁধ কেন্দ্রে আবারও প্রার্থী করা হয়েছে দেবলীনা হেমব্রমকে। তিনি দীর্ঘদিন রানিবাঁধের বিধায়ক ছিলেন। দুই হাজার ছয় থেকে দুই হাজার এগারো পর্যন্ত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভায় তিনি অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি সিপিএমের জেলা নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। দলের তরফে তাঁকে লড়াকু নেত্রী হিসেবেই তুলে ধরা হয়।মহেশতলা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং সিপিএমের তরুণ মুখ হিসেবে পরিচিত। আগের লোকসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন।পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে কলতান দাসগুপ্তকে। তিনি বামেদের অন্যতম পরিচিত সংগঠক। অতীতে একটি বিতর্কের জেরে তাঁর নাম আলোচনায় উঠেছিল। পরে তিনি জামিন পান এবং নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে বামেদের মুখপাত্র হিসেবেও তাঁকে দেখা গেছে।দমদম উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে দীপ্সিতা ধরকে। তিনি বামেদের অন্যতম তরুণ নেত্রী। আগের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন। পরে লোকসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও জয় পাননি, তবে দলের তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।এই প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে বামফ্রন্ট একদিকে অভিজ্ঞ নেতাদের ভরসা রাখার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকেও সামনে আনার চেষ্টা করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এখন দেখার, আসন্ন নির্বাচনে এই প্রার্থী তালিকা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্চ ১৬, ২০২৬
কলকাতা

বড় সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের, বামেদের ছাড়াই বিধানসভা ভোটে নামছে দল

জোট নিয়ে জল্পনার মধ্যেই কংগ্রেসের একলা চল নীতি নিয়ে বারবার আলোচনা চলছিল। আগেই জানা গিয়েছিল, প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশ, বিশেষ করে শুভঙ্কর সরকার ঘনিষ্ঠ শিবির জোট না করার পক্ষেই রয়েছে। আবার প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর শিবির বামেদের সঙ্গে জোট বজায় রাখার পক্ষে ছিল বলেও শোনা যাচ্ছিল। সেই জল্পনার মধ্যেই এবার এল বড় সিদ্ধান্ত।আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বামেদের সঙ্গে জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। অর্থাৎ, কোনও জোট নয়, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই এককভাবে লড়াই করবে কংগ্রেস। কংগ্রেস হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তে বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম মীর জানিয়েছেন, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এবার দলের কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই চাইছেন কংগ্রেস একাই লড়াই করুক। তাই ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বাম বা অন্য দলের সঙ্গে জোটের ফলে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়েছিল। সেই কারণেই জোট না করে এককভাবে লড়াইয়ের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের এই ইচ্ছাকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি দলের একজন কর্মী হিসেবে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেবেন। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের পর প্রতিক্রিয়া এসেছে বামেদের তরফেও। বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য খানিক কটাক্ষ করে বলেন, কংগ্রেস একটি স্বাধীন দল এবং এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তাঁর ধারণা, এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকেই সুবিধা করে দেবে।এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বলেন, মালদহ ও মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস মুসলিম ভোট পায় এবং তৃণমূলও মুসলিম ভোটের উপর ভর করেই সরকার চালাচ্ছে। তবে বিজেপির সে সব নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, বিজেপির লক্ষ্য হিন্দু ভোটকে এক করা।

ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬
দেশ

“হিন্দুদের কালিমালিপ্ত করা হয়েছিল!”— তীব্র ক্ষোভ মোদীর, অর্থনীতি নিয়ে বামপন্থীদের সরাসরি আক্রমণ

ভারতের বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনীতি যখন দুর্বল ছিল, তখন সেই পরিস্থিতিকে ভর করে হিন্দুদের সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করা হয়েছিল। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই বক্তব্য রাখেন তিনি এবং সরাসরি আক্রমণ করেন বাম মনোভাবাপন্নদের।মোদী বলেন, এখন এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে আছে ভারত, যখন একবিংশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ ইতিমধ্যেই পার হয়ে গেছে। বিশ্ব নানা আর্থিক ঝড়, সঙ্কট এবং মহামারি দেখেছে। এখনও বিশ্ব অর্থনীতি অনিশ্চিত। কিন্তু এই কঠিন সময়েও ভারত নিজেকে এক নতুন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে এবং আজ দেশ আত্মবিশ্বাসে ভরপুর।বিশ্বের বহু দেশ ধীরগতির অর্থনীতিতে দিশেহারা, সেই সময় ভারতকে উদীয়মান সূর্য বলে উল্লেখ করছেন বহু অর্থনীতিবিদ। জিডিপি বৃদ্ধির হার, আয়ের পরিমাণ, আমদানি-রফতানি সবকিছুই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নয়াদিল্লির জিডিপি হিসেব নিয়ে বিতর্কও কম নয়।এই প্রসঙ্গে মোদী বলেন, আজ সবাই প্রশংসা করছে। কিন্তু একসময় আমাদের অর্থনীতি ধুঁকছিল, আর তখনই দেশের মানুষকে অপমান করা হয়েছিল। কে কোনও দেশের অর্থনীতিকে হিন্দু রেট অব গ্রোথ বলে? এই শব্দ বলেছিল কারা? এখন তাঁরা কোথায় গেলেন? ভারতের ধীরগতির জন্য হিন্দু সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে দোষ দেওয়া হয়েছিল। এটা দাসত্বের মানসিকতার ফল ছাড়া আর কিছু নয়।উল্লেখ্য, ১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সালের ধীর অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে হিন্দু রেট অব গ্রোথ শব্দে চিহ্নিত করেছিলেন অর্থনীতিবিদ রাজ কৃষ্ণ। পরে অনেক বিশেষজ্ঞ এই শব্দ ব্যবহার করে ভারতকে ব্যঙ্গ করেছিলেন। একাংশের মতে, রাজ কৃষ্ণ বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং তাঁর তত্ত্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোদীর মন্তব্যে সেই বিতর্কই আবার নতুন করে উথলে উঠল।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২৫
দেশ

সেদিন প্রধানমন্ত্রী হলে

গত ৮ই জুলাই ছিল প্রয়াত জ্যোতি বসুর ১১১তম জন্মদিন। নিউটাউনে Jyoti Basu Centre for social studies and research য়ের নির্মীয়মান প্রাঙ্গণে পালিত হয় তাঁর জন্মদিন। বক্তা ছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ ও সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম। অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সিপিএমের দীর্ঘকালীন রেওয়াজ ছিল মুজফ্ফর আহমেদের জন্মদিন পালন। ১৯৬৩ সালের ৫ অগাষ্ট কাকাবাবুর জন্মদিন প্রথম পালিত হয়। সেই সময় অবিভক্ত কম্যুনিস্ট পার্টি ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে ছিল। দলের মধ্যে যারা Dange বিরোধী ছিলেন তাঁরাই কাকাবাবুর জন্মদিন পালন করেছিলেন। উপলক্ষ ছিল শোধনবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই। পরের বছর-ই সিপিআই ভেঙে সিপিএম তৈরি হয়। সেই সময় থেকে দল প্রকাশ্যে শুধুমাত্র কাকাবাবুর জন্মদিনই পালন করে আসছে। ৮ই জুলাই জ্যোতি বসুর জন্মদিন। ওইদিন সকালে Saltlake য়ে ইন্দিরা ভবনে সুভাষ চক্রবর্তী ও রমলা চক্রবর্তী পথের পাঁচালীর ব্যানারে অনুষ্ঠান করতেন। দল কোনো অনুষ্ঠান করতো না। ২০২১ সেই ছবিটা বদলে গেল। ওই বছর ৮ই জুলাই দলের রাজ্য কমিটির অধীন Jyoti Basu Center for Social Studies and Research Trust নিউটাউনে অনুষ্ঠান করেন। সেই অনুষ্ঠানে ও সভাপতি ছিলেন বিমান বসু। পরের দিন গনশক্তিতে জ্যোতি বসুর জন্মদিন পালনের খবর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়। অর্থাৎ কাকাবাবু ছাড়া আর কারুর জন্মদিন পালন করা হবে না এই নিয়ম নিঃশব্দে উঠে যায়।আরও পড়ুনঃ গ্রামের বার্তা২০২১ সালে এই পরিবর্তনে মনে হয়েছিল বিরোধী অবস্থানে এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সংসদীয় গণতন্ত্রের আঁকা বাঁকা পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তির ছায়া দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছিল তাঁকে শরণে বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। মনে হয়েছিল বিরোধী অবস্থানের কঠিন জমিতে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে সিপিএমের রণকৌশলে নতুন পথ নতুন ভাবনা দেখতে পাওয়ার সুচনা হল। কিন্তু তিন বছর পর মনে হচ্ছে হাতে থেকে যাচ্ছে শুধুমাত্র অনুষ্ঠান সর্বস্বতা। জন্মদিনে প্রয়াত জ্যোতি বসু কে স্মরণ করা যতটা সহজ তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অনুশীলন রপ্ত করা ঠিক ততটাই কঠিন। বিশেষত দলের সাফল্যের ছায়ায় বেড়ে ওঠা নেতা নেত্রীদের পক্ষে তা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। আজ যখন শুধু রাজ্যে নয় সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও সিপিএম ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে তখন মনে হয় জ্যোতি বসু কে সামনে রেখে রাজনৈতিক জমি ঊর্বর করার যে সুযোগ এসেছিল তা হেলায় হারিয়েছে সিপিএম।আরও পড়ুনঃ রুষ্ট গনদেবতা১৯৮৯ ও ৯১ সালের মত ১৯৯৬-তেও ত্রিশঙ্কু হয়েছিল লোকসভা। ১৬১ টি আসন পেয়ে বিজেপি হয়েছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। বিজেপির সরকার গঠনের পথ বন্ধ করতে বিরোধী দল গুলি আলোচনায় বসে ছিল। ভি পি সিং, মুলায়ম সিং, লালুপ্রসাদ, করুনা নিধি সহ বহু নেতা প্রস্তাব দিয়েছিলেন জ্যোতি বসু-কে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গড়া হোক। কারণ coalition সরকার চালানোর দক্ষতা এবং দিশা তাঁর থেকে বেশি আর কারুর নেই। কিন্তু সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। সেদিন সিপিএমের যুক্তি ছিল বুর্জোয়া - জমিদার রাষ্ট্রের প্রতিভূ কেন্দ্রীয় সরকারে যোগ দেওয়া যাবে না। ভি পি সিং পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে দ্বিতীয় দিনে ভোটাভুটি-তে একই সিদ্ধান্ত হয়। সিপিএম প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে সরকার গড়েছিল বিজেপি। ১৩ দিন পরে সেই সরকারের পতন হয়। এর পরে কংগ্রেসের সমর্থনে দেবগৌড়া কে প্রধানমন্ত্রী করে coalition government তৈরি হয়। বছর খানেক পরেই কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়া কে পছন্দ হচ্ছেনা বলে জানায়। তখন হরকিসান সিং সুরজিৎ য়ের মধ্যস্থতায় প্রধানমন্ত্রী পদে I K Gujral কে মেনে নেয় কংগ্রেস। কিন্তু কিছু দিন পরেই তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে কংগ্রেস সমর্থন তুলে নিলে সরকার পড়ে যায়।আরও পড়ুনঃ ভোটের সুনামিকেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে সাত মাস পরে জ্যোতি বসু দলের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক ভুল বলেছিলেন। এরপরে BBC র Hard Talk অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর বিদেশ নীতি ও আর্থিক নীতি কী হবে এই প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতি বসু যা বলেছিলেন তা এক সুসংবদ্ধ বিকল্প নীতি হিসেবেই সেদিন রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছিল। ৯৬ সালে জ্যোতি বসু প্রধানমন্ত্রী হলে কী হতে পারতঃ* জ্যোতি বসুর সরকারকে মেয়াদ ফুরোনোর আগে ফেলে দিতে পারতোনা কংগ্রেস। কারণ জ্যোতি বসুর গভীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বভারতীয় স্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে তাঁর গ্রহন যোগ্যতা।* দেশজুড়ে ভূমি সংস্কারের কাজ গতি পেতো।* কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন পথ দেখা যেত।* হাতে গোনা কিছু শিল্পপতি একচেটিয়া পুঁজি ফুলে ফেঁপে উঠত। * আরো কিছু বিদেশী ও বেসরকারি ব্যাংক জাতীয়করণ হত।* বিমান , প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও অন্যান্য উৎপাদন ক্ষেত্রের দরজা বিদেশি পুঁজির সামনে অবাধে খোলা হত না।* বেকারি, দারিদ্র্য, বৈষম্য কিছুই থাকতো না তা নয় , তবে আজকে যে চেহারা দেখা যাচ্ছে তা দেখা যেত না।* বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র অবহেলা নয় অগ্ৰাধিকার পেত।* কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে বিরোধীদের হেনস্থা করার অভিযোগ উঠতো না।* কলকাতা বিমানবন্দরে রাজ্যে লগ্নির প্রস্তাব নিয়ে প্রথম সারির শিল্পপতিদের বিমান নামত।* সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম সিপিএমের পতনের প্রতীক হত না।* বরং কেরল, পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বাইরে সিপিএমের রাজনৈতিক জমি শক্ত হত।

জুলাই ১৭, ২০২৪
রাজ্য

নেতৃত্বের গভীর সংকট

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে নেতারা আত্মসমীক্ষায় বসেছেন। কম্যুনিস্ট পার্টি তে নির্বাচনের পরে আত্মসমীক্ষা বা বিশ্লেষণ নতুন কিছু নয়। তবে এবারে কারণ খোঁজাটা অত্যন্ত জরুরি। দেশ জুড়ে India জোটের মাটি কামড়ে লড়াই এবং সফলতার সামনে এ রাজ্যে কংগ্রেস ও বামেদের জোটের ফলাফল অত্যন্ত পীড়াদায়ক। রাজ্যে ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র একটি আসন এসেছে জোটের ঝোলায়। তাও আবার সেই আসন কংগ্রেসের সৌজন্যে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাসের মধ্যেও কয়েকটি জেলায় সিপিআইএমের প্রাপ্ত ভোটের হার আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনের পরে দেখা যাচ্ছে সিপিআইএমের ভাঁড়ারে এসেছে মাত্র ছয় শতাংশ ভোট। যা বিগত দুটো লোকসভা নির্বাচনের থেকেও কম। ২০১৬ সালে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলের মধ্যেই দেওয়ালের লিখন ছিল। সেবার বাম ও কংগ্রেস দুই শিবির যে পরিমাণ ভোট হারিয়ে ছিল সেই পরিমাণ ভোট বিজেপির ঝোলায় ঢুকে তাদের দ্বিতীয় স্থানে তুলে দিয়েছিল। সেবার ও নিশ্চয়ই আত্ম বিশ্লেষণে বসেছিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। সেই মন্থনে কী উঠে এসেছিল তা আমাদের জানা নেই। সাদা চোখে যা দেখা যাচ্ছে তা হল নির্বাচনে সিপিএমের প্রধান প্রতিপক্ষ কে তা নিয়ে চুড়ান্ত ধোঁয়াশা। সম্ভবত সিপিএম নেতৃত্বের কাছেও তা পরিষ্কার নয়। ২০১৯-২০২৪ দুটি লোকসভা নির্বাচন। মাঝে ২০২১শে বিধানসভা নির্বাচন। সিপিএমের নির্বাচনী প্রচার পর্বে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ কে এই প্রশ্নের সোজা সাপটা কোনো উত্তর নেই। ২০০৮ সালে UPA সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার পরে যে কারণ দেখানো হয়েছিল তার মধ্যেও একইরকম ধোঁয়াশা ছিল। তাই সেই কারণ সাধারণ মানুষের বোধগম্য হয়নি। হরেকৃষ্ণ কোঙার, প্রমোদ দাশগুপ্ত, বিনয় চৌধুরী, হরকিষান সিং সুরজিৎ, জ্যোতি বসুরা সরে যাওয়ার পরে সেই শূন্য স্থান drawing room politician রা পূর্ণ করায় যা হওয়ার তাই হয়েছে। সিপিএম নেতৃত্বে দেখা দিয়েছে গভীর সংকট। এই ধারাবাহিকতায় রাজ্যে একমাত্র ব্যতিক্রম বিমান বসু। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের সাম্প্রতিক কালে সিপিএমের গরীব মানুষের সমর্থন হারানোয় কোনও ছেদ পড়েনি। পশ্চিমবঙ্গে গরীব ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন জীবিকা রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শাসক দলের সঙ্গে থাকলে লাভ এই প্রত্যয় সুপ্রতিষ্ঠিত। অনেক বছর আগের কথা মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচন কভার করতে গেছি। সেখানে দেখেছিলাম বামেদের প্রচার সভা বা মিছিলে ভালোই ভিড়। তাহলে ভোটে ফল পাওয়া যায় না কেন। সিপিআইয়ের এক প্রবীণ নেতাকে এই প্রশ্ন করতে তিনি বলেছিলেন, গরীব নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের বিরুদ্ধে অনাচার অবিচারের প্রতিবাদ মিছিলে বামেদের পতাকাকেই দেখে কিন্তু ভোট বাক্সে তার প্রতিফলন হয় না। কারণ তারা জানে কর্মসংস্থান বা উপার্জনের প্রধান ক্ষেত্র হল শাসক দল। এর পরেও যে গরীব নিম্নবিত্ত মানুষ শাসকদলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারে তার অসংখ্য উদাহরণ অতীতে যেমন রয়েছে তেমনি সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের মধ্যেও রয়েছে। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট তথা সিপিআইএম ক্ষমতায় আসার পরে ৮২ আর ৮৭ র নির্বাচনে যে বিপুল জয় এসেছিল তার মূল কারিগর ছিল গ্ৰাম বাংলা। সিপিএমের এই শক্তির ভিতে নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ই বোঝা যাচ্ছিল ইতিউতি ফাটল ধরছে। যার বড় উদাহরণ Diamond Harbour লোকসভা কেন্দ্র। ১৯৯৮ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতগাছিয়া বিধানসভায় সিপিএম সদ্যজাত তৃণমূলের থেকে ২১২৩ ভোটে পিছিয়ে ছিল। তাও আবার কংগ্রেস প্রার্থী ১১৫২৭ ভোট পেয়েছিলেন। এই সাতগাছিয়া তখন ছিল মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নির্বাচনী কেন্দ্র। শুধু যে ওই বিধানসভায় ভোটের ব্যবধান কমেছে তা নয়, ওই এলাকায় গ্ৰাম পঞ্চায়েত গুলিতেও কংগ্রেস সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছিল। জ্যোতি বাবুর নির্বাচনী এলাকায় বজবজ এক ও দু-নম্বর ব্লকের একাংশের পনেরোটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মধ্যে আটটিই ছিল কংগ্রেসের দখলে। ওই এলাকায় সব কটি পঞ্চায়েত মিলে বিজেপির পঞ্চায়েত সংখ্যা ও খুব খারাপ ছিল না। এই অশনিসংকেত নজর এড়ায়নি জ্যোতি বসুর। বিপদের গন্ধ পেয়ে দলীয় কর্মীদের কাছে অশীতিপর মুখ্যমন্ত্রীর নতুন স্লোগান ছিল, চলুন যাই সাধারণ মানুষের কাছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যিনি কার্যত একাই সংসদীয় রাজনীতির আঁকাবাঁকা পথে দলকে টেনে নিয়ে চলেছিলেন বয়সের ভারে, অসুস্থতার কারণে তিনি সরে দাঁড়াতেই নেতৃত্বের সংকট শুরু সিপিএমের। যার অন্তিম পরিণতি আজকের গভীর সংকট।নেতৃত্বের দিশাহীনতার কারণে ওই সময় থেকেই ভদ্রলোক প্রীতি বাড়তে থেকেছে দলের। যা ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরেও রয়ে গিয়েছে। অনেক বছর আগে শিল্পপতি অমিয় গুপ্তর নিউ আলিপুরের বাসভবনে রুশী মোদী সহ প্রথম সারির শিল্পপতিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন Politburo র সদস্য সীতারাম ইয়েচুরি। শিল্পপতির বাড়ির সম্পন্ন লনে মায়াবী আলোয় শিল্পপতিদের সঙ্গে interactive session য়ে সীতারাম কে যতটা স্বচ্ছন্দ দেখেছিলাম মাঠে ঘাটে দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমাবেশে তার সিকিভাগও দেখিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মুখে শুনেছি গ্রামগঞ্জে সভায় হরেকৃষ্ণ কোঙারের কথা শুনতে সন্ধার অন্ধকারে আল ভেঙে লন্ঠন হাতে, লাল পতাকা কাঁধে নিয়ে আসা মানুষের ঢল নামতো। আবার যখন কেন্দ্রের আমন্ত্রণে আইএএসদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে হরেকৃষ্ণ কোঙার হবু আমলাদের ভারতের ভূমি সম্পর্কও সমস্যা বোঝাতেন তাঁরা মুগ্ধ হয়ে শুনতেন। শীত, গ্ৰীষ্ম, বর্ষায় মাঠে ঘাটে রাজনীতি সিপিএমকে মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছিল। তার পরিবর্তে দল এখন সমাজ মাধ্যম ও টেলিভিশন মাধ্যমের মহিমায় আবিষ্ট। তাই এখন ঘামে ভেজা নেতার প্রচারের ছবি দিয়ে সমাজ মাধ্যমে লেখা হয়, তীব্র গরম উপেক্ষা করে মানুষের মাঝে প্রচার। লোরেটো ও St Xaviers School তারপরে প্রেসিডেন্সি কলেজ, সেখান থেকে পাশ করে ব্যারিস্টারি পড়তে বিলেত গিয়েছিলেন জ্যোতি বসু। সে সময় সুভাষচন্দ্র বসু লন্ডনে গেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন জ্যোতি বসু। নেতাজির এক প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতি বাবু জানিয়েছিলেন দেশে ফিরে তিনি কম্যুনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হবেন। ১৯৪০ সালে ব্যারিস্টারি পাশ করে দেশে ফিরে মুজাফফর আহমেদের নির্দেশে শ্রমিক মহল্লায় গিয়ে শ্রমিক ফ্রন্টে কাজ শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার Constituent Assembly তে রেল শ্রমিক কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের ৬ ই নভেম্বর শারীরিক কারণে মুখ্যমন্ত্রীত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু মাঠে নেমে রাজনীতির অভ্যাস তাঁর বদলায়নি। ২০০১ সালের মে মাসে নির্বাচনী প্রচারে দেখেছি প্রচন্ড গরমে সকালে উত্তর বঙ্গ থেকে ফিরে তিনি বিকেলে বাঁকুড়ায় নির্বাচনী জনসভায় গিয়েছেন। তবে এ নির্বাচন পর্বে দেখা গিয়েছে ছাত্র যুবরা নতুন করে পথ খুঁজতে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের উজ্জ্বল মুখ চোখে পড়ছে। এরাই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ হতে পারেন। ব্যর্থতার কারণ হিসেবে যে রাজনৈতিক কারণগুলো সামনে আসছে তার উত্তর হয়তো এরাই খুঁজে বের করবেন।

জুলাই ০১, ২০২৪
রাজনীতি

দ্বিতীয় দফায় ৪ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে ঘটা করে সাংবাদিক বৈঠক সিপিএমের

প্রথম দফায় ১৭ আসনের পর দ্বিতীয় দফায় বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। মাত্র চারটি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয় শনিবার। এই ঘোষণা করা হয় ঘটা করে সাংবাদিক বৈঠক করে।এদিন, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান-দুর্গাপুর, বোলপুর এবং রানাঘাট কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান।একনজরে চার কেন্দ্রের বামেদের প্রার্থী?মুর্শিদাবাদ- মহঃ সেলিমবর্ধমান-দুর্গাপুর- ডঃ সুকৃতি ঘোষালবোলপুর- শ্যামলী প্রধানরানাঘাট- অলোকেশ ঘোষশনিবার যে চার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এঁরা সকলেই সিপিআইএম প্রার্থী। সবমিলিয়ে এখনও বামেরা ২১ আসনে প্রার্থী দিল। প্রথম দফার তালিকায় মতুন মুখ, অপেক্ষাকৃত নবীনদের উপর ভরসা রেখেছিল সিপিআইএম। তবে, দ্বিতীয় পর্বের তালিকায় তরুণ মুখ নেই।এরকম ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা বামফ্রন্টে আগে খুব একটা ঘটেনি। তাহলে কী শরিকি চাপ, কংগ্রেস-আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতায় চাপে বামেরা? শনিবার প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গেই সব পক্ষের সহমতে না হওয়ার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বিমানবাবু। এ দিন বিমান বসু বলেছেন, সব কেন্দ্রের প্রার্থী নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে এখনও কিছু আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। সেটি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে পারছি না। একটু সময় লাগবে।আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে বাম শরিকদের সঙ্গে সিপিআইএমের ও কংগ্রেসের জট রয়েছে। যেমন, উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাট আসটির দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস৷ আবার ওই আসনে বরাবরই সিপিআই প্রার্থী দিয়েছে৷ কিন্তু, এবার বসিরহাটে প্রার্থী দিয়েছে সিপিআইএম। বসিরহাট লোকসভা আসনটি কংগ্রেসকে ছাড়া নিয়ে বামেদের মধ্যেও জটিলতা রয়েছে৷ সিপিআইএম চাইছে বসিরহাটের পরিবর্তে বনগাঁ কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছাড়তে৷ পুরুলিয়া আসনে এবার কংগ্রেসের প্রার্থী নেপালদেব মাহাতো৷ এই আসনটিতে লড়াই করে ফরওয়ার্ড ব্লক। ফলে অসন্তোষ রয়েছে ফ্রন্ট শরিক দলের নেতৃত্বের। আইএসএফ-ও এমন বেশ কয়েকটি আসন দাবি করেছে যেগুলোতে ইতিমধ্যেই বাম বা কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করেছে বা করতে পারে। তাই এইসব জটিলতা মিটিয়েই বাকি কয়েকটি লোকসভা আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে বামফ্রন্ট।আইএসএফ-এর সঙ্গে এখনও জোট হয়নি বলে এ দিন সাফ বলে দিয়েছেন বিমান বসু। তাঁর দাবি, আইএসএফের সঙ্গে এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও বোঝাপড়া হয়নি। ওরা আন্তরিক থাকলে আলোচনা হবে। আলোচনা হলে আমরা সংবাদ মাধ্যমকে সব জানাব।

মার্চ ২৩, ২০২৪
রাজনীতি

বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী সুকৃতি ঘোষাল

শনিবার বামেদের দ্বিতীয় দফায় পার্থী ঘোষণা করা হল। বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) পার্থী করা হয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডঃ সুকৃতি ঘোষাল কে। বর্ধমান শহরেরই মানুষ সুকৃতি ঘোষাল, শহরের বোরহাট অঞ্চলে থাকেন ৬৩ বছর বয়সী সুকৃতি। পিতা: চিত্তরঞ্জন ঘোষাল।তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে এমএ ও পিএইচডি (MA, PhD , English)। হুগলীর রবীন্দ্র মহাবিদ্যালইয় ও হাওড়া বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজে অধ্যাপনা করেন এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ। এবং ২০০২ থেকে ২০২০, মোট ১৮ বছর জেলার স্বনামন্য কলেজ বর্ধমান শহরে অবস্থিত মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন যা বর্ধমান উইমেন্স কলেজ নামে অধিক পরিচিত। সুকৃতি ঘোষাল ২০২০ সালে ওই পদ থেকে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। কিছু কাল রি-এমপ্লয়মেন্ট স্কিমের অধীনে হাওড়ায় নবগঠিত হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক (Register) হিসেবে কর্মপ্রদান করেন। বর্তমানে তিনি সেই পদ থেকেও অবসর গ্রহণ করেন।ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে সুকৃতি ঘোষালের বাম রাজনীতিতে প্রবেশ, পরে অধ্যাপক আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত হন, অবস্র কালে নতুন চিঠি পত্রিকার প্রকাশনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।

মার্চ ২৩, ২০২৪
রাজনীতি

১৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামেদের, ভোটে বাজিমাত করতে নতুন মুখের ছড়াছড়ি

বিজেপি, তৃণমূলের পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৬ আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।একনজরে ১৬ আসনে বামেদের প্রার্থী তালিকা-কোচবিহার- নীতীশচন্দ্র বর্মনজলপাইগুড়ি- দেবরাজ বর্মনবালুরঘাট- জয়দেব সিদ্ধান্তকৃষ্ণনগর- এস এম সাদিদমদম- সুজন চক্রবর্তীযাদবপুর- সৃজন ভট্টাচার্যকলকাতা দক্ষিণ- সায়রা শাহ হালিমহাওড়া- সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় (আইনজীবী)শ্রীরামপুর- দীস্পিতা ধরহুগলী- মনোদীপ ঘোষতমলুক- সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় (আইনজীবী)মেদিনীপুর- বিপ্লব ভট্টবাঁকুড়া- নীলাঞ্জন দাশগুপ্তবিষ্ণুপুর- শীতল কৈবর্ত্যবর্ধমান পূর্ব- নীরব খানআসানসোল- জাহানারা খানপ্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় বামেদের ১৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জনই সিপিআইএম-এর। একটি করে আসন ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই ও আরএসপি-কে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে তালিকায় এবার তাঁদের নতুন মুখ ১৪ জন, তিন জন মহিলা।বাম-কংগ্রেস জোট গড়েই ২০১৬ এবং ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়েই করেছিল। একুশের রাজ্য বিধানসভার সেই আসন সমঝতার শরিক হয়েছিল আইএসএফ-ও। চব্বিশের লোকসভায় কি জোট হচ্ছে? জবাবে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, বামফ্রন্টের শরিকদলগুলি ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কোনওদিনই জোট ছিল না। ভোটে লড়ার জন্য আসন সমঝতা হয়েছিল। এবারেও হতে পারে।জোটের আশা কি এ দিন প্রথম দফায় ১৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল বামফ্রন্ট? উত্তরে বিমান বসু বলেন, আশা যে ২দিনের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। তখন আমরাও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করব। ততদিনে বাকিরাও নিশ্চয়ই তাঁদের মত জানিয়ে দেবেন। এই বাকি বলত সম্ভবত কংগ্রেস, আইএসএফের কথা বলেছেন বিমান বসু।

মার্চ ১৪, ২০২৪
রাজ্য

হঠাৎ বুকে ব্যথা! হাসপাতালে ভর্তি সূর্যকান্ত মিশ্র

আচমকা বুকে ব্যথা! নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।বুধবার রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। স্বাস্থ্য থেকে পঞ্চায়েত, বাম জমানায় দীর্ঘদিন রাজ্যের মন্ত্রী, পরবর্তীতে বিরোধী দলনেতা, নানা ভূমিকায় সূর্যকান্ত মিশ্রকে দেখেছে রাজ্য রাজনীতি। আগের দিন মুজফফর আহমেদ ভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র।স্বভাবতই এদিন বিভিন্ন মহল থেকে এই চিকিৎসক-নেতার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। সেই উদ্বেগ নিরসন করে হাসপাতালের পক্ষে জানানো হয়েছে, প্রাক্তন মন্ত্রী বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের এই পলিটব্যুরো সদস্য আরও কিছুদিন এসএসকেএমে ভর্তি থাকবেন। চিকিৎসকরা তাঁকে নজরদারিতে রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন।আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের রাজ্য দফতরের কাছেই বেকবাগানে সূর্যকান্ত মিশ্রের মেয়ের বাড়ি। তিনি সেখানেই থাকেন। প্রতি বুধবার মুজফফর আহমেদ ভবনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক হয়। কিন্তু, এদিন (বুধবার) সকাল থেকেই শরীর খারাপ থাকায় সিপিএমের এই পলিটব্যুরো নেতা বৈঠকে যোগ দেননি। বদলে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।কিছু দিন আগেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে। গত বুধবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। ঠিক তার একসপ্তাহ পরেই হাসপাতালে ভর্তি করাতে হল বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রিসভার এই সদস্যকে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হাসপাতালে থাকাকালীন, দলের সঙ্গে হাসপাতালের সংযোগ রক্ষায় বড় ভূমিকা নিতেন সূর্যকান্ত মিশ্র।রাজ্য রাজনীতিতে সূর্যকান্ত মিশ্রর উত্থান ১৯৭৮ সালে। তিনি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার সভাধিপতি হয়েছিলেন। তারপর থেকে ক্রমশ রাজ্য রাজনীতিতে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে বামেদের পরাজয়ের পর তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হন। ২০১৫ সালে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পদে বসেন। ২০২২ সালের মার্চ অবধি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

আগস্ট ১৬, ২০২৩
রাজনীতি

বাংলায় ক্ষমতায় থাকার কৌশল বদলেছে সময়ের তালে, রাজনৈতিক সংঘর্ষের বীজ লুকিয়ে অতীতের ছায়ায়

বিশেষজ্ঞদের মতে মনিপুর মেইতি আর কুকিদের মধ্যে সংঘর্ষ দুই সম্প্রদায়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়। সারা দেশে যে সংখ্যাগুরুবাদের রাজনীতির প্রতিষ্ঠা হচ্ছে তারই ফল। অনেকেই এখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার ঘটনার সঙ্গে মনিপুরের তুলনা টানছেন। আমার মতে এই তুলনা স্থান-কাল বিচারে অত্যন্ত ভুল। কয়েক দশক ধরেই এই রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা প্রায় প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর উৎস খুঁজতে হলে ফিরতে হবে ছয়ের দশকের শেষ দিকে। অনেকেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসার উৎস খুঁজতে গিয়ে নকশাল আন্দোলনের কথা বলেন। এই দিকচিহ্নেও অনেক ভ্রান্তি রয়েছে। এই রাজ্যের রাজনৈতিক হিংসার উৎস মুখ রয়েছে ছয়ের দশকের গ্ৰাম বাংলায় অর্থ সামাজিক ও সামাজিক রাজনৈতিক পরিবেশের এক বড় পরিবর্তনের মধ্যে।১৯৪২সালে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গনদেবতা উপন্যাসে এই পরিবর্তনের ভিত্তিভূমির ছবিটি নিপুণ শৈলীতে এঁকেছিলেন। তাঁর উপন্যাসে যে জনপদের পরিচয় পাওয়া যায় সেখানে প্রকৃতি অফুরান সম্পদ নিয়ে ছড়িয়ে আছে আর সমাজকাঠামো এক কঠিন নিগড়ে বাঁধা। সেই জনপদে আদিগন্ত বিস্তৃত জমি আছে আর সে জমিতে যারা খাটে তাদের কারো সামান্য জমিও নেই। সেখানে নাপিত সারাদিন খেটেও পেট ভরার অন্ন যোগাতে পারে না। ধাইমা সম্পন্ন ঘরের সাস্থবান পুত্র-কন্যার জন্মের সহায়ক কিন্তু তার সন্তানদের শরীর অপুষ্টিতে ভরা। কামার উদয়াস্ত খাটে তবু তার পেট চালাতে মহাজনের কাছে চড়া সুদে ধার নিতে হয়। ছুতর এর অবস্থা আরওই বেহাল।এমন এক নির্মম আর্থসামাজিক ব্যাবস্থার সামনে আমাদের দাঁড় করায় তারাশঙ্করের গনদেবতা উপন্যাস। এই উপন্যাস লেখকের কল্পনা থেকে জন্ম নেয়নি, আজকের টেলিভিশনের ভাষায় গ্রাউন্ড জিরোতে দাঁড়িয়ে লেখা। ছয়ের দশকের কথায় ফিরি। যুগান্তর সংবাদ পত্রে ১৯৬৩ সালে ২৭শে জুলাই থেকে ১৯৬৮ সালের ২৭শে মে পর্যন্ত প্রকাশিত হয় তারাশঙ্করের গ্রামের চিঠি, সেখানে গ্ৰাম বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে রিপোর্টিং রয়েছে তার অনেক নামী সাংবাদিক কে লজ্জায় ফেলবে। গ্রাম বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের যে লেখচিত্র তারাশঙ্করের গ্রামের চিঠিতে রয়েছে তার উপরিকাঠামোয় রাখতে হবে ১৯৬৭ সালের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে।১৯৬৭ সালে বামপন্থীরা প্রথম ক্ষমতায় আসে। তার পেছনে ছিল ১৯৫১সাল থেকে একটার পর একটা আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৬৭ সালে শেষবারের মতো একসঙ্গে লোকসভা ও সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। ১৯৫১ সাল থেকে যে গত আন্দোলনগুলিতে রাজ্য উত্তাল হয়েছিল তার পেছনে ছিল তারাশঙ্করের উপন্যাসের গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ। এই আন্দোলনগুলো কংগ্রেস নামের মহীরুহকে ধাক্কা দিতে শুরু করেছিল। যার ফলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে পাঁচ বছরে রাজ্যে চারবার বিধানসভা ভোট হয়।১৯৬৭ থেকে ৭২ এই চার বছরে চার বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। যা ভারতের আর কোথাও হয়নি। ১৯৬৭ সাল থেকে রাজনৈতিক ভারসাম্যের পরিবর্তন শুরু হলেও তখন শাসক শাসিতের দ্বন্দ্ব ছিল পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী রাজনীতির। এই দ্বন্দ্বে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের হিংসাত্মক সংঘর্ষের চেহারাটা প্রথম ধরা পড়ে ৭০ সালে বাংলায় হরতালের দিনে। ১৯৭০ সালের ১৭ই মার্চ বাংলায় হরতাল হয়েছিল। নৈহাটির গৌরিপুর চটকলে সিপিএম - আইএনটিউসির সংঘর্ষে চার জনের মৃত্যু হয়। সেদিনই বর্ধমানে সাঁই বাড়ির ঘটনা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে একদিনে চৌত্রিশ জনের মৃত্যু হয়। কংগ্রেস বনাম বামপন্থীদের রাজনৈতিক সংঘর্ষে সেখান থেকেই ক্রমশ জটিল আকার নেয়। এই হিংসার আবহে নতুন মাত্রা যোগ করে নকশালপন্থিরা।তবে গ্রাম বাংলায় বামপন্থীরা কংগ্রেসী আধিপত্যের বেদী ইউনিয়ন বোর্ডে ধাক্কা দিতে শুরু করে। কংগ্রেস সমর্থক জোতদার, জমিদার ও গ্রামীন ব্যাবসায়ী দের আধিপত্যে ভিত ও বামপন্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনে কাঁপতে শুরু করে। এই উত্তাল সময় বিস্তৃত আলোচনা সংক্ষিপ্ত পরিসরে সম্ভব নয়। তাই চলে আসি ১৯৭৭ সালে। সেই বছর জুন মাসে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে। ভাগ চাষীদের উচ্ছেদ রুখতে ও ফসলের ন্যায্য ভাগ দিতে সরকার শুরু করে অপারেশন বর্গা। শুরু হয় হাজার হাজার একর বেনামী জমি উদ্ধার করে ভূমিহীন চাষীদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। ১৯৭৩ সালে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের সরকার পঞ্চায়েত আইন করলেও তারা পঞ্চায়েত নির্বাচন করতে পারেনি। ১৯৭৮ সালের ৪ঠা জুন বামফ্রন্ট সরকার প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচন করে। পঞ্চায়েত ভোটের পরে গ্রাম বাংলার গরীব ও প্রান্তিক মানুষের যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক ক্ষমতায়নের পর্ব শুরু হয় তা সারা দেশে আগে দেখা যায় নি। এর দুই তিন দশক পরে গ্রাম বাংলায় কম্যুনিস্ট পার্টি হয়ে ওঠে দাতা, আর সাধারণ মানুষ হয় গ্রহীতা। সেদিন থেকেই রাজ্যের মানুষের সিটিজেন থেকে বেনিফিসিয়ারী তে পরিণত হওয়া শুরু। একটি দলের রাজনৈতিক আধিপত্য সর্বগামী হওয়ায় কোথাও কোথাও মানুষের স্বাধীন পছন্দের উপরে নির্ভরতা কমে পেশীবলে ক্ষমতা দখলের পর্ব শুরু হয়। এর ফলে শুধু বিরোধী দল নয় বামফ্রন্টের শরিক দলের সঙ্গে ও সিপিআইএম এর রাজনৈতিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এরই মাঝে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বিপুল হারে বাড়তে থাকা ক্ষমতা ব্যবহার করে পঞ্চায়েত দখলে রাখা দস্তুর হয়ে পড়ে।সাতের দশক থেকে রাজ্যের যুবশক্তি ব্যবহারেও পরিবর্তন আসে। বামপন্থী ছাত্র যুব দলের মোকাবিলায় রাজ্যের নব কংগ্রেস যুব কংগ্রেস ও ছাত্রপরিষদের ছাতার তলায় যুবকদের সংঘটিত করে। এই যুবশক্তি কে আর্থিক সুবিধা দিতে পথে নামে মিনিবাস। সিদ্ধার্থ সরকারের বদান্যতায় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের ঋনে মিনিবাসের মালিক হয় তারা। জানা যায়, সেই ঋনের প্রায় নব্বই শতাংশই ফেরত পায়নি ব্যাঙ্ক। এর পরে বামফ্রন্টের আমলে বাম দলের ছাতার তলায় থাকা বেকার, অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত যুবকের সংখ্যা পথে নামে অটো রিক্সা ও টোটো। বর্তমানে তৃনমূলের আমলে এই সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ায় সেই জায়গা নিয়েছে অবৈধ বালি খাদান, পাথর খাদান, কয়লা খাদান ও সিন্ডিকেট ব্যবসা। এরই পাশাপাশি বেড়ে উঠেছে বামফ্রন্ট আমলে সৃষ্টি হওয়া প্রোমোটার রাজ। যার অবসম্ভাবী ফল রাজনীতিতে পেশীশক্তি ব্যাবহারের প্রথমাবস্থা পার করে পর্বতের আকার নেওয়া।এখন এই রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং এই সব সুবিধা পাইয়ে দিতে গ্রাম বাংলায় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত জোরালো হাতিয়ার। তাই রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে আদর্শ নয় ক্ষমতা ধরে রাখাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্ম দিয়ে চলেছে। এর শেষ কোথায়, কী ভাবে হবে সেই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ভবিষ্যতের গর্ভে। তবে রাজনীতি তো সমাজ নিরপেক্ষ নয়। আমরা যারা সমাজে বাস করি, সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নই তারাও এর দায় এড়াতে পারি না। আমাদের এড়িয়ে চলার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ক্ষমতার দর্শনের মান্যতা। আমরা মুখে বলি ভারতবর্ষ শান্তির পথ যাত্রী আমরা বুদ্ধদেব, মহাবীর, শিবের পূজারী। অথচ এই উচ্চারনে বিপরীত মেরুতে আমাদের অবস্থান।প্রাক্তন রাজ্যপাল ও প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ গোপালকৃষ্ণ গান্ধী সম্প্রতি এক দৈনিক ইংরেজি সংবাদপত্রে তাঁর লেখা আমাদের দ্বিচারিতার ছবিটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, রোজ সকালে যে পার্কে তিনি হাঁটতে যান সেখানে অনেক দুর্লভ প্রজাতির গাছ রয়েছে। তার পাশাপাশি রয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর অস্ত্রাগারে থাকা বিভিন্ন ক্ষেপনাস্ত্র, বিবিধ ট্যাঙ্ক ও অস্ত্রের রেপ্লিকা। সেখানে তিনি দেখেন অনেক বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ওই পার্কে আসেন। পার্কে এসে তাঁরা সন্তানদের সেই সব রেপ্লিকার সামনে দাঁড় করিয়ে গর্বিত মুখে ছবি তোলেন। অনেকে সেলফি ও তোলেন। কিন্তু কেউই পার্কে থাকা দূর্লভ বনানীকুলের কাছে ছেলেমেয়েদের নিয়ে গিয়ে পরিচয় করান না। মহাত্মা গান্ধীর বংশধরের এই অনুভব কি আমাদের কিছু শিখতে বলে? আমরা কি তাঁর সেই অনুভবের সামনে মনের দরজা খুলে দাঁড়াবো?

জুলাই ৩১, ২০২৩
রাজনীতি

বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচি গণ্ডগোলে আরও দুইজন গ্রেফতার

বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচির ঘটনায় গ্রেফতার হল আরও দুজন। যার মধ্যে একজনের জামিন হলেও অপর জনের তিন দিনের পুলিশি হেভফাজত হয়েছে। পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর চার দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত পাওয়া ৭ জনের আবার তিন দিনের পুলিশি আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। গত ৩১ আগষ্ট বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচির ঘটনায় পুলিশ ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল। ধৃতদের মধ্যে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায় চৌধুরী রয়েছে। এই ঘটনায় বাকি ৩৪ জনের ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে রয়েছে।বুধবার বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচি ঘিরে এই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। পুলিশের সাথে সিপিএম কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। ভাঙচুর করা হয় বিশ্ববাংলা লোগো লাগানো গ্লোব, রাস্তার দুই পাশে থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি লাগানো একাধিক গ্লোসাইন। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটর সাইকেলে। বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী আন্দোলনকারীদের মারে আহত হয়। আন্দোলনকারীদের বাগে আনতে লাঠি চার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়।

সেপ্টেম্বর ০৫, ২০২২
রাজনীতি

বুধবার বামেদের 'আইন অমান্য' কাণ্ডে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা প্রশাসন ও তৃণমূলের, ৩৪ জনের জেল হেপাজত

বুধবারের বামেদের আইন অমান্য কি ঘিরে যে ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে যায় তাতে ৫০ জনের উপর বাম কর্মীকে সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বর্ধমান শহর সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় রাতে পুলিস কাস্টডি করে রাখা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা করে তাদের আদালতে পেশ করা হয়।বাম কর্মী সমর্থকদের হয়ে আদালতে সাওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কমল দত্ত। তিনি জানান বর্ধমান কোর্টে ২টি কেস ফাইল করা হয়। একটি কেস নং ১০০৪ অপরটি ১০০৫। ১০০৪ কেসটি প্রশাসনের তরফে করা হয়েছে, কেস নং ১০০৫ তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। সিপিএম রজ্য নেতৃত্ব সহ জেলার নেতাদের নামে এই কেস দুটি করা হয়েছে। তিনি জানান, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম, আভাস রায়চৌধুরি, অচিন্ত্য মল্লিক,অমল হালদার, তাপস সরকার সহ ছাত্র নেতৃত্ব শ আরও অনেকের নামে কেস ফাইল করা হয়েছে।কমল দত্ত জানান, কেস নং ১০০৪ এ ৫৭ জনের নাম আছে। আর ১০০৫ কেসে ১১ জনের নাম আছে। ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০৭,৩৭৯, ৩৫৩, ৩৩২, ৩৩৩ এছাড়াও ৩৪ বিপি অ্যাক্ট ও আরও কিছু উপধারাতে এই কেসদুটি করা হয়েছে। তিনি জানান, মোট ৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তিনজন আশিতিপর ও দুইজন বয়স ১৯ নিচে। জেল কাস্টডি দেওয়া হয়েছে মোট ৩৪ জনকে। ৭ জনকে পুলিস রিমান্ডে তিন দিনের জন্য অ্যালাও করেছে কোর্ট। তাঁরা হলেন, অর্নিবান রায় চৌধুরী (এসএফআই জেলা সম্পাদক),সৌমেন্দ্র নাথ মালিক, তারক নাথ চ্যাটার্জী, মহসীন সেখ, সাহাবুল ইসলাম, সঞ্জয় মৃধা, আনারুল সেখ

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২২
রাজ্য

'আইন অমান্য' কান্ডে ধৃত বাম কর্মীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার পক্রিয়া বর্ধমানে

বুধবার বর্ধমানে বামেদের আইন অমান্য কর্মসূচির ঘটনায় পুলিশ মোট ৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হলো। বর্ষিয়ান বাম নেতা কমঃ আভাস রায় চৌধুরী কেউও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। প্রথমে তাদের বর্ধমান থানা নিয়ে যাওয়া হয়, পড়ে স্থানাভাবে তাদের বিভিন্ন থানায় ভাগ করে রাখা হয়। বাম কর্মীদের দেওয়ানদিঘি, রায়না, মেমারি,গালসি থানায় রাতে রাখা হয়। তাদেরকে আজ সকাল থেকেই বর্ধমান থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্ধমান থানা থেকে নাম লিখে নিয়ে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের প্রাথমিক মেডিকেল চেকআপ করে বর্ধমান আদালতে তোলার পক্রিয়া শুরু হয়েছে।সুত্র মারফত জানা যাচ্ছে বাম কর্মীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হচ্ছে। যাতে ৪৬ জন সি পি এম কর্মী সহজে জামিন না পায়।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২২
রাজ্য

এক মাসের জাঠা শেষে কলকাতায় বৃহৎ সমাবেশ এসএফআইয়ের

এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় জাঠা শুরু হয়েছে ১লা আগস্ট। শিক্ষা বাঁচাও, সংবিধান বাঁচাও, দেশ বাঁচাও স্লোগানে মুখরিত জাঠা। পূর্ব ভারতের দুটি জাঠার একটি ত্রিপুরায় শুরু হয়ে বাংলায় প্রবেশ করবে ১৯ অগাস্ট। আরেকটি বিহারে শুরু হয়ে বাংলায় প্রবেশ করবে ২০ অগাস্ট। কালিম্পং বাদ দিয়ে মোট ২২টি জেলায় ঘুরে ১লা সেপ্টেম্বর কলকাতায় প্রবেশ করবে জাঠা। ২রা সেপ্টেম্বর কলকাতার কলেজস্ট্রিটে অনুষ্ঠিত হবে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ ছাত্র সমাবেশ। এই জাঠা বাংলায় তার যাত্রাপথে ছুঁয়ে আসবে নানান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সৌধ, ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ স্থান, শহিদদের বাড়ি। মূলত জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বিরোধিতা এবং স্বাধীনতা ৭৫ কে সামনে রেখে এসএফআই বাংলার বুকে প্রায় এক কোটি ছাত্রছাত্রীর কাছে পৌঁছে তাদের মতামত নিয়ে তৈরি করবে বিকল্প শিক্ষানীতি। একাজে তাঁরা রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, কেরলের শিক্ষামন্ত্রী এবং বিভিন্ন শিক্ষাবিদের পরামর্শও নেবে। এই শিক্ষানীতি প্রকাশিত হবে ২রা সেপ্টেম্বরের মঞ্চে। এই জাঠাকে কেন্দ্র করে সারা মাসজুড়ে একাধিক ধরণের কর্মসূচি করবে এসএফআই। ৩-৬ই অগাস্ট এসএফআইয়ের ডিজিটাল সেমিনার চলছে শ্যামল চক্রবর্তী- সুভাষ চক্রবর্তী স্মরণে। হাজার হাজার সভা, মিছিলের পাশাপাশি স্বাধীনতা উৎযাপনে বিপ্লবীদের স্মরণ করার অভিনব পদ্ধতি ঘোষণা করেছে তাঁরা। ১৫ই আগস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ১৬ই আগস্ট এই রাজ্যের দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলিতে সম্প্রীতির রাখি বন্ধন পালন করার পরিকল্পনাও নিয়েছে এসএফআই পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় স্লোগান ছাড়াও এরাজ্যের জন্য নিজস্ব স্লোগান স্থির হয়েছে এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে।

আগস্ট ০৪, ২০২২
রাজনীতি

Left-Manifesto: প্রার্থী তালিকার পর ইস্তাহারেও অনেকটাই এগিয়ে বামেরা

প্রাথী তালিকা সবার আগেই প্রকাশ করেছিল বামেরা। ইস্তাহারে টিজার, খসড়া এবং চূড়ান্ত প্রকাশ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকল বামেরা। জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক দায়বদ্ধতা, রাজনৈতিক লড়াই বিভিন্ন ভাবনার মিশেলের এই ইস্তাহারে বাকিদের অনেকটাই পিছনে ফেলেছে বামেরা।কোভিড কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উঠোনে পাঠশালা হোক কিংবা শ্রমজীবীদের ক্যান্টিন, রেড ভলান্টিয়ার টিম থেকে শুরু করে বয়স্কদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অ্যাপ বা তৃতীয় লিঙ্গের জন্য বিশেষ ভাবনা, প্রতিটি ইস্যুকেই দেওয়া হয়েছে বাড়তি গুরুত্ব।বাম ইস্তাহারে পরিবেশ ধ্বংস কিংবা খেলার মাঠ নষ্ট, সে সব নিয়ে স্পষ্ট নীতির কথা বলা হয়েছে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতি পালন করতে চান বাম নেতারা। একইসঙ্গে এক পদ এক ব্যক্তি নীতি কার্যকর করারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মেয়রের হাতেই সব নয়, বরং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কথা বলা হয়েছে। ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে শ্রমিকদের সুরক্ষার কথাও। কলকাতা পুরনিগমের প্রতিটি ওয়ার্ডে শ্রমজীবী ক্যান্টিন এবং শ্রমজীবী বাজার চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ১০০ দিনের কর্মী জন্য দৈনিক মজুরি ন্যূনতম ৩২৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, পুরনিগমের প্রতিটি বরো এলাকায় অন্তত একটি করে নাইট শেল্টার তৈরি করা হবে দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষদের জন্য।এ ছাড়া দূষণমুক্ত কলকাতা গড়ার দিকেও নতুন দিশা দেখানোর ইঙ্গিত দিয়েছে বামেরা। সিএনজি অথবা ইলেকট্রিক বাস চালু করার পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় গ্রিন জোন তৈরি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে । এর পাশাপাশি পুকুর ভরাট কিংবা গাছ কাটার মতো সমস্যগুলির মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বামেরা। প্রতিটি বাজার এলাকায় পরিবেশ বান্ধব ক্যারিব্যাগের স্টোর তৈরি করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২১
নিবন্ধ

Kazi Nazrul Islam: পূজার ছলে ভুলে থাকি

তালিবান আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পরেই ওই পাহাড় মরুভূমি ঘেরা দেশের মেয়েরা বুঝেছেন, এ মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়। তালিবানের মুরুব্বিরা বলছেন দেশ শৃঙ্খলমুক্ত হলো। আর আফগান মেয়েরা ও মুক্তমনারা বুঝতে পারছেন তাঁদের পায়ে বেড়ি পড়ল। তাঁরা স্বাধীনতা হারালেন। এই স্বাধীনতা-পরাধীনতার প্রশ্নে পৃথিবী জুড়ে মতামতের ঝড় বইছে। নেট মাধ্যমে সেই ঝড়ে বাঙালিদের সদম্ভ উপস্থিতি। দূর দেশে স্বাধীনতার মৃত্যুতে বাঙালি যখন সরব ঠিক তখনই গত সপ্তাহে স্বাধীনতা র পুজারী এক বাঙালির পঁয়তাল্লিশ তম মৃত্যুবার্ষিকী বড় নিঃশব্দে চলে গেল। স্বাধীনতার সঙ্গে যাকে সমার্থক করেছেন আর এক বাঙালি সামসুর রহমান। বাংলা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কবির অজেয় কলম লিখেছেস্বাধীনতা তুমি কাজি নজরুলঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষস্বাধীনতা যার আকন্ঠ তৃষ্ণার কারণ ছিল সেই কাজি নজরুল ইসলামের ২৯ এ অগাস্ট, পঁয়তাল্লিশতম মৃত্যু বার্ষিকী র দিনটি বড় অবহেলায়, অনাদরে চলে গেল। প্রায় একশ বছর আগে ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা র যুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনে নজরুলের শানিত কলম তাঁর মাথায় পরিয়ে দিল বিদ্রোহী কবির মুকুট। শুধু তো কবিতা নয় এই অসাধারণ প্রতিভাধর মানুষ টি প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন যা বাংলা গানের চালচিত্রে নজরুল গীতি হিসেবে ভিন্নধারার পরিচিতি পেয়েছে। পরাধীন ভারতবর্ষের উপনিবেশবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে নজরুলের কলম কখনও ক্লান্ত হয়নি। বাঙলার এক প্রত্যন্ত গ্ৰাম থেকে অজানার পথে পা বাড়ানো বালক ই পরবর্তী কালের নাট্যকার, কবি, ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক ও স্বাধীনতা সংগ্রামী। উত্তর কলকাতার যে অঞ্চলে আমার বাড়ি, সেই পাইকপাড়ায় থাকতেন নজরুলের কনিষ্ঠ পুত্র কাজী সব্যস্যাচি। ছেলেবেলায় তাঁকে দেখলে কানে বাজতো মেঘমন্দ্র স্বরের প্রতিধ্বনি, বল বীর বল উন্নত মম শির। সেই বড় হবার দিনে পুজো প্যান্ডেলে, রাজনৈতিক মিছিলে, দেওয়াল লিখনে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল। স্কুলে, পাড়ায়, আবৃত্তি প্রতিযোগিতাতেও এই কবিতার শরীর ঝলসে উঠতো। গত তিন দশকে কবি ও তার কবিতাকে অগস্ত্য যাত্রায় পাঠিয়েছে বাঙালি। রবীন্দ্রনাথ অপঠিত হলেও ২৫শে বৈশাখ ও বাইশে শ্রাবনে স্মরনীয় আছেন।বর্তমান সময়ে দেশ, সমাজ, সংস্কৃতি সবই অবশ্য রাজনীতির আখড়ায় গন্যমান্যতা পায়। এর প্রমাণ বঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোট। সেই ভোটে বাংলা বিজয়ের স্বপ্নে বিজেপি র গায়ে বঙ্গ সংস্কৃতির চাদর জড়ানোর তাগিদ ছিল। অতএব ডাক পড়েছিল রবীন্দ্রনাথের, রামমোহন রায়ের, বিদ্যাসাগরের। ভোট বড় বালাই। তাই বিস্মৃতির অতল থেকে তুলে আনা হয়েছিল মধ্যযুগের এক বাঙালি কবি কেও। সংস্কৃতির সেই রাজনৈতিক আবাহনে বাদ পড়েছিলেন নজরুল ইসলাম। হিন্দুত্ববাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিতে নজরুল অপাংক্তেয় বলে তখন সরব হয়েছিল বুদ্ধিজীবী থেকে সাধারণ বাঙালি। ভোট মিটৈ যাওয়ার একশ একত্রিশ দিন পর বঙ্গ জীবনে সেই নজরুল সম্পর্কে অপার নৈঃশব্দ।১৮৯৯ এ আসানসোলের চুরুলিয়া গ্ৰামে এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে নজরুলের জন্ম। ধর্মীয় শিক্ষায় তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা। স্থানীয় মসজিদে কিছুদিন মোয়াজ্জিন থাকার পরে স্কুলে প্রবেশ নজরুলের। স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত তাঁর শিক্ষা। এরপরে বাড়ির পরিচারক। বেকারিতে জোগাড়ের কাজ করে পেট চালাতে হয় তাঁকে। শেষে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন নজরুল। পরবর্তী কালে আরবি ও ফার্সি র পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্য নিয়ে গভীর পড়াশোনা করেন বিদ্রোহি কবি । নজরুলের বাঙালিয়ানা নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাঁদের জানাই বঙ্গললনা প্রমিলা দেবী কে বিবাহ করেছিলেন তিনি। নজরুল ভাগ্যবান তখন লাভ জেহাদের জন্ম হয়নি। নজরুল তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের নাম রেখেছিলেন কৃষ্ণ মহম্মদ ও অরিন্দম খালেদ। দুই সন্তানের-ই অল্প বয়সে মৃত্যু হয়। পরে যে দুই ছেলের জন্ম হয় তাদের নাম কাজী সব্যস্যাচি ও কাজী অনিরুদ্ধ। নজরুলের সৃষ্টিতে ও দুই ধর্মের মধ্যে অবাধ যাতায়াত। তাঁর গানে কবিতায় ঈশ্বর আল্লাহ দুইয়ের নামই জপ করেছেন। তাঁর এই মেলবন্ধনের সফর খুব মসৃন হয়নি। টিকি - দাড়ি দু পক্ষই তাঁকে ছেড়ে কথা কয়নি। সমালোচনা শুধুমাত্র মুখের গন্ডীতেই থাকেনি, শারীরিক আক্রমন ও সইতে হয়েছিল কবিকে। দুই ধর্মের কারবারিদের এই আঘাতে কবির কলম লিখেছে, নর বলে আমি বড় নারী ঘেঁষা, নারী বলে আমি নারী বিদ্বেষী। তৎকালীন বামপন্থী পত্রিকা গণবানীতেও নজরুল গদ্যে এই অচলায়তন ভেঙে মুক্ত মনের জানালা দরজা খুলতে চেয়েছেন। তবে ধর্মান্ধদের এই আক্রমন কে ভোঁতা করে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী রা ও স্বাধীনতা প্রিয় মানুষ। তারা নজরুল কে আলোর পথযাত্রী হিসেবেই দেখেছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কলম ধরে কবি-কে একবছর জেলে থাকতে হয়েছিল। আমরা ভুলে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি তে নজরুল অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সিডিশন অর্থাৎ দেশদ্রোহের অপরাধে তাঁর গারদ বাস করতে হয়েছিল। বর্তমান ভারতে এই সিডিশনে অভিযুক্ত হয়ে বহু মানবাধিকার কর্মী, অধ্যাপক ও লেখকের জেল খাটার ভুরিভুরি উধাহরন রয়েছে। আমি অনেক মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিজীবীর হাতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ফিদেল কাস্ত্রোর সওয়ালের বিবরণ On Trial বইটি দেখেছি। কিন্তু সেদিন ইংরেজদের আদালতে দাঁড়িয়ে নজরুলের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাজবন্দীর জবানবন্দী নিয়ে আলোচনা কখনো শুনিনি। যদিও নজরুলের সাম্যবাদী ও উদার ভাবধারা যাঁর দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুজফ্ফর আহমেদ। নজরুল ও মুজফ্ফর আহমেদ যৌথভাবে প্রকাশ করেছিলেন বামপন্থার পত্রিকা লাঙ্গল।বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে নজরুলের কবিতা স্কুলপাঠ্যতে অন্তর্ভুক্ত হয়। তৈরি হয় নজরুল অ্যাকাডেমি ও মঞ্চ। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসে তৈরি করেছে কাজি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ও নজরুল তীর্থ। আসানসোলে তৈরি হয়েছে নজরুল গবেষনা কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠান রয়েছে, কিন্তু কবির প্রতি বাঙালির মন নেই। বাঙালির মন থেকে নির্বাসিত বিদ্রোহী কবি। অবশ্য বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ নজরুল কে তাঁর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর পদ অনুসারে হাবিলদার কবি বলে ই মনে করেন। তারা খুশি ই হবেন। যদি বাঁশি আর না বাজে প্রবন্ধে কবি লিখেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাকে প্রায়ই বলতেন, দেখ উন্মাদ তোর জীবনে শেলির মত, কিটসের মত খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে, তুই প্রস্তুত হ কিন্তু জীবনের সেই ট্র্যাজেডি দেখার জন্য। সেই ট্র্যাজেডি দেখার আগে ই দূরারোগ্য মস্তিষ্কের ব্যাধিতে চলাফেরা, কথাবলার, অনুভব করার শক্তি হারিয়েছিলেন। মৃত্যুর পরে এই নির্বাসনেও তাই ট্র্যাজেডি থাকলেও কবির ছবির অনুভূতি নেই।বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য(রাজনৈতিক বিশ্লেষক)

সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২১
কলকাতা

Fake Vaccination: ভুয়ো টিকা-কাণ্ডে বামেদের বিক্ষোভে উত্তাল পুরসভা চত্বর

কসবা ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের (Kasba Fake Vaccine Case) প্রতিবাদে বামেদের বিক্ষোভ ঘিরে কলকাতা পুরসভার সামনে ধুন্ধুমার। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন তাঁরা। তাতেই পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকরা। গ্রেপ্তার করা হয় বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। পুলিশ সূত্রে খবর, এলিট সিনেমা হলের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর কথা ছিল বামেদের। সেখানেই ব্যারিকেড তৈরি করেছিল পুলিশ। তবে সেই বাধা উপেক্ষা করে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) দিকে এগোতে থাকেন বাম কর্মী-সমর্থকরা। তাতেই বাধা দেয় পুলিশ। তার ফলে পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাম (Left Front) কর্মী-সমর্থকরা। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, পুরসভার ভিতরে ঢুকে কমিশনারের হাতে স্মারকলিপি জমা দেবেন। তবে দাবিপূরণ না হওয়ায় কলকাতা পুরসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল বাম কর্মী-সমর্থকরা। খবর পাওয়মাত্রই বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভ হঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড়। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশ বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, আগাম অনুমতি না থাকায় বাম কর্মী-সমর্থকদের স্মারকলিপি জমা দিতে পুরসভার ভিতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়। কলকাতা পুরসভার পাশাপাশি এদিন সল্টলেকে স্বাস্থ্যভবনের সামনেও বিক্ষোভ দেন বাম কর্মী-সমর্থকরা।

জুন ২৮, ২০২১
রাজনীতি

Left Alliance: বামফ্রন্টেই থাকছে ফরওয়ার্ড ব্লক

আলিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে ইতি ফরওয়ার্ড ব্লকের (Forward Bloc)। বামফ্রন্ট ভেঙে বেড়িয়ে আসার রাস্তায় হাঁটল না শরিক নেতারা। মান বাঁচাতে এবার তাঁরা টার্গেট করল কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে (ISF)। এই দুই জোট শরিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাল ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য নেতারা। মঙ্গলবার বামফ্রন্টের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে শরিকের দাবির কাছে পাল্টা কৌশলী চাল চেলেছে সিপিএম।ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব বাড়ছিল বামফ্রন্টের দুই শরিকের মধ্যে। কংগ্রেস (Congress) ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বা আসনরফার সময় তাঁদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাননি যোগ্য সম্মান। সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে আসনরফা করা হয়। ফলে বঞ্চিত হয় শরিকরা। অভিযোগের সব আঙুলই ছিল সিপিএমের (CPIM) দিকে। এইভাবে চললে বামফ্রন্ট থাকার প্রয়োজন নেই। আপাতত বামফ্রন্ট ভেঙে দেওয়ার দাবি করে ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব। এক পা এগিয়ে ফ্রন্ট চেয়ারম্যানের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ করে তাঁরা। বামফ্রন্ট থাকার প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যতে চলার পথ কী হবে সেই ব্যাখ্যা দাবি করা হয়। শরিকের এহেন মনোভাবে রুষ্ট হয় আলিমুদ্দিন। মাঝে দু-দুবার বৈঠক ডেকেও বাতিল করেন বিমান বসু। তবে শরিকের দাবি মেনে লিখিত দেন। সেখানে আগামীদিনে বামফ্রন্টের লক্ষ্য কী সেই উল্লেখ থাকলেও জোট বা আসনরফা নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। দ্বন্দ্ব মেটাতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেয় আলিমুদ্দিন। প্রস্তাব মেনে শনিবার আলিমুদ্দিন যান দলের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়। দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর বিপ্লবে ইতি টানে নেতাজির দল। মঙ্গলবার বামফ্রন্টের (Left Front) বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি। বামফ্রন্ট একাই চলবে বলে দাবি করেন তিনি। বিমান বসুর আশ্বাসে আপাতত বামফ্রন্টেই থাকছেন বলে জানানো হয়।

জুন ১২, ২০২১
কলকাতা

নবান্ন অভিযানে আহত বাম ছাত্রনেতার মৃত্যু, পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন

নবান্ন অভিযানে আহত বাম যুবনেতার মৃত্যু। সোমবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় ডিওয়াইএফআই নেতা মইদুল ইসলাম মিদ্দার। ১১ ফেব্রুয়ারি বাম সংগঠনগুলির নবান্ন অভিযান চলাকালীন পুলিশের লাঠির ঘায়ে গুরুতর আহত হয়ছিলেন ওই যুবনেতা। এদিকে বাম কর্মীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই গর্জে উঠেছে বাম ছাত্র-যুবরা। নবান্ন অভিযানে ডিওয়াইএফআইয়ের কর্মীকে পুলিশ ইচ্ছা করে খুন করেছে বলেই দাবি করেছেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কাজ চাইতে গিয়ে আমাদের কমরেডকে খুন করেছে তৃণমূল সরকারের পুলিশ। এই ঘটনার ধিক্কার জানাই। এই হত্যার বিচার চাই। পরবর্তী ক্ষেত্রে আমরা কী ধরনের কর্মসূচি নেব তা নিয়ে শীঘ্রই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।হাসপাতাল সূত্রে খবর, পুলিশের প্রচণ্ড মারে মইদুলের শরীরের একাধিক মাংসপেশিতে গুরুতর আঘাত লাগে। পেটে ও পিঠে ভয়ংকর আঘাত পান তিনি। ফলে তাঁর কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দেয়। যার ফলে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যু হয় বাঁকুড়ার কোতলপুরের বাসিন্দা মইদুলের। এই ঘটনা তীব্র প্রতিক্রিয়া বাম নেতৃত্বের। মানবাধিকার কমিশনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, মৃত্যু নয়, এটা খুন। সরকার ইতরতার সীমা ছাড়িয়েছে। এই বাচ্চা ছেলেটকে কীভাবে মেরেছে। সরকার ভয় পেয়েছে। তাঁর বুকে, পিঠে প্রচণ্ড আঘাত করেছে পুলিশ। চিকিৎসক চাপের মুখে সবটা বলতে পারছেন না। সিপিএম নেতা ফুয়াদ হালিমের অভিযোগ, পুলিশ মাথা ও বুক লক্ষ্য করেই লাঠি চালিয়েছে। সিপিআইএমের বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি জানিয়েছেন, বাঁকুড়া জেলা পার্টি অফিসে এই বিষয়ে বেলা ১১ টার সময় একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য।এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন বাম যুব নেতা জামির মোল্লা বলেন, এই মৃত্যুতে আজ সমস্ত থানায় বিক্ষোভ-অবস্থান থাকবে। এটা এটা মর্মান্তিক বিষয়। কাজ নেই, চাকরি নেই সেই বিচার চাইতে গিয়ে মেরে ফেলা হল। এটা তো প্রশাসন-সরকার খুন করল। বেকার যুবদের কাজ চাওয়ার অভিযোগকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিজেদের দাবি রাখলে যদি পুলিশের হাতে এবার মৃত্যুবরণ করতে হয়, তাহলে এ সরকারের এক মুহুর্ত আর থাকার কোনও অধিকার নেই।উল্লেখ্য, এর আগে নবান্ন অভিযানে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া বাহারপোতা গ্রামের এক বামকর্মী। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েও যুবকের সন্ধান পায়নি পরিবার। এবার এক যুবনেতার মৃত্যুতে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পুলিশ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যধিক বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে সমাজের একটা বড় অংশ। প্রসঙ্গত, চাকরি, শিক্ষা-সহ একাধিক দাবিতে বৃহস্পতিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল বাম ছাত্র সংগঠন। সেখানেই পুলিশ ও বামকর্মীদের মধ্যে তীব্রই সংঘাত শুরু হয়। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ। ওই ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে আহত হন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশকর্মী।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজনীতি

নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি নিয়ে সরব প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেক-কল্যাণের ওপর হামলায় বিজেপিকে নিশানা

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলা, গ্রেফতারি এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগকে সামনে এনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, বাংলায় বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা এবং রাজনৈতিক হিংসার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যার পিছনে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত কয়েক দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তার পরদিনই লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের ঘটনা সামনে আসে। এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলিকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে নারাজ। তাঁর মতে, বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।আক্রান্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি জানান, দলের পক্ষ থেকে আক্রান্ত নেতার পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে উসকে দিয়ে বিজেপি স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের নামে নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামাচ্ছে। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক বিরোধিতাকে দমন করতে রাজনৈতিক হিংসাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নীরবতা বা প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের ঘটনা এত ঘনঘন ঘটতে পারে কি না।সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলা বরাবরই সৌজন্য, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক চর্চার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে হিংসা, ভয় দেখানো বা গুন্ডামির কোনও স্থান নেই। তাই এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনি দুই ক্ষেত্রেই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হিংসা ও সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে। সেই আবহেই তাঁর এই বার্তা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেকের সফরে ‘নীরব’ সোনারপুরের তৃণমূল! হামলা ঘিরে সামনে এল দলের অন্দরেই অস্বস্তির ইঙ্গিত

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচি এক সময় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে ছিল মর্যাদা ও গুরুত্বের বিষয়। তাঁর জেলা সফর মানেই নেতাদের ব্যস্ততা, মঞ্চে নেতার সাথে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ছিল প্রতিযোগিতা। কিন্তু শনিবার সোনারপুরের ঘটনাপ্রবাহ যেন সম্পূর্ণ উল্টো ছবি তুলে ধরল।ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন তৃণমূল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর এই কর্মসূচিতে স্থানীয় তৃণমূলের প্রথম সারির অধিকাংশ নেতা-কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যে এলাকায় অভিষেকের উপর বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগ উঠেছে, সেটি রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। অথচ সেই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাদের কাউকেই কার্যত দেখা যায়নি ঘটনাস্থলের আশপাশে।তৃণমূল সূত্রে দাবি, অভিষেকের সফরের আগে থেকেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কার কথা স্থানীয় নেতৃত্ব জানিয়েছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সেই সতর্কবার্তা সত্ত্বেও কর্মসূচি বাতিল হয়নি। ফলস্বরূপ, নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভ, স্লোগান এবং হামলার মুখে পড়তে হয় অভিষেককে।রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার অধিকাংশ কাউন্সিলর তৃণমূলের হলেও তাঁদের কাউকেই সামনে দেখা যায়নি। দলের একাধিক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এলাকায় এমন এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যে অনেকেই প্রকাশ্যে বেরোতে সাহস পাননি। অন্যদিকে, পুরসভার চেয়ারম্যানের ডাকা বৈঠকও শেষ মুহূর্তে হয়নি বলে খবর, যা ঘটনাকে ঘিরে আরও জল্পনা বাড়িয়েছে।সোনারপুর উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক ও তৃণমূল নেত্রী ফিরদৌসি বেগমও জানিয়েছেন, তিনি অভিষেকের সঙ্গে যেতে চাইলেও তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু হওয়ায় বেরোতে পারেননি। ফলে অভিষেকের পাশে স্থানীয় নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এদিকে হামলায় ধৃত কয়েক জনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপির দাবি, গ্রেফতার হওয়া কয়েক জনকে অতীতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় দেখা যেত। যদিও লাভলি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ধৃতরা তৃণমূলের কেউ নন, বরং বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে তিনি পুলিশ প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বকেও তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, হামলার ঘটনার পাশাপাশি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দলীয় সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতার কর্মসূচিতে স্থানীয় নেতৃত্বের এই দূরত্ব নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক অস্বস্তি সেই জল্পনাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

মে ৩১, ২০২৬
কলকাতা

বন্ধ ফ্ল্যাটে দু’টি দেহ, পাশে নেশাগ্রস্ত তিন বন্ধু! গল্ফ গ্রিন কাণ্ডে চাঞ্চল্য

দক্ষিণ কলকাতার গল্ফ গ্রিন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে এক যুবক ও এক যুবতীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার দুপুরে অরবিন্দ নগরের একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে ওই দুই জনের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম দিলশাদ। তাঁর বয়স প্রায় ছাব্বিশ বছর। মৃত যুবতীর বয়স একুশ বছর। দুজন ওই ফ্ল্যাটে একসঙ্গে থাকতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, দেহ দুটিতে পচন ধরেছিল। ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকজাতীয় সামগ্রীও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শনিবার বিকেল থেকেই ওই আবাসনের আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। প্রথমে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও রবিবার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে শুরু করেন এলাকাবাসীরা। তখন সন্দেহ হয় একটি নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটকে ঘিরে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং সেখান থেকেই উদ্ধার হয় যুবক ও যুবতীর দেহ।তদন্তে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন যুবক ও যুবতী। যুবকের বাড়ি তিলজলায় এবং যুবতীর বাড়ি রামগড় এলাকায় বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা একসঙ্গে থাকতেন বলে প্রতিবেশীদের দাবি।পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে আরও দুই যুবক ও এক যুবতী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই তিন জনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, ওই ফ্ল্যাটে থাকা যুবক-যুবতী নিয়মিত নেশা করতেন বলে এলাকায় পরিচিত ছিল। তিনি জানান, ঘটনার রাতে ফ্ল্যাটে আরও কয়েক জনের উপস্থিতির কথা স্থানীয়রা জানতে পেরেছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাঁদের নিয়ে যায়।দুই তরুণ-তরুণীর মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। একই সঙ্গে ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকজাতীয় সামগ্রীর উৎস এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গল্ফ গ্রিনের এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রহস্যমৃত্যু, মাদক এবং ফ্ল্যাটে উপস্থিত অন্য তিন জনকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

এবার মদন মিত্রের বাড়িতে পুলিশ! হঠাৎ তল্লাশিতে জোর চাঞ্চল্য

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিক তদন্ত এবং গ্রেপ্তারির ঘটনার মধ্যেই এবার কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতে পৌঁছল পুলিশ। রবিবার দুপুরে তাঁর কামারহাটির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা।পুলিশ সূত্রের খবর, বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। যে বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, সেটি প্রথমে তালাবন্ধ ছিল। পরে পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করে।প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কামারহাটির ওই বাড়ির নাম উদয় ভিলা। সেখানে মদন মিত্রের একটি দলীয় কার্যালয়ও রয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, যে জমির উপর বাড়িটি নির্মিত হয়েছে, সেই জমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, জমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সংস্থার অধীন। অতীতে সেখানে মহিলাদের স্বনির্ভর করার বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কাজ পরিচালিত হতো। তবে স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল, ওই জায়গার ব্যবহার এবং দখল নিয়ে নানা অনিয়ম হয়েছে।তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, জমিটি আইন মেনে ব্যবহার করা হয়েছে কি না এবং সেখানে কোনও বেআইনি কার্যকলাপ চলত কি না। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই পুলিশের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।এদিকে রাজ্যে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিধায়কদের স্বাক্ষর সংক্রান্ত মামলাতেও তদন্ত এগোচ্ছে। সেই আবহেই মদন মিত্রের বাড়িতে পুলিশের এই অভিযান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।যদিও এই বিষয়ে মদন মিত্রের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেক ইস্যুতে বিক্ষোভ, তারপরই বড় পদক্ষেপ! গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হলেন চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার-সহ ১০ জন। পুলিশকে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির অভিযোগে রবিবার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার হুগলির পিপুলপাতি এলাকায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল তৃণমূল। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার অভিযোগের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। অবরোধের জেরে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামেন।অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বচসা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশ অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।এই ঘটনার পর তদন্তে নেমে রবিবার সকালে অসিত মজুমদার-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমিত্র ঘোষ, ভাইস চেয়ারম্যান পার্থ সাহা, কাউন্সিলার রঞ্জন রাহা, নির্মল চক্রবর্তী, সমীর সরকার-সহ আরও কয়েক জন তৃণমূল নেতা ও কর্মী।পুলিশের দাবি, সরকারি কাজে বাধা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর ধৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। এরপর তাঁদের আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।প্রসঙ্গত, শনিবার সোনারপুরে যাওয়ার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তাঁর দিকে ডিম, জুতো এবং বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কর্মসূচি শুরু করে তৃণমূল। হুগলির পিপুলপাতির বিক্ষোভও ছিল সেই কর্মসূচিরই অংশ।এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। বিরোধী ও শাসক শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

মে ৩১, ২০২৬
কলকাতা

মেসি-কাণ্ডে বড় মোড়! প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা, শুরু জোর রাজনৈতিক চর্চা

যুবভারতীতে মেসির সফর ঘিরে বিতর্কের ঘটনায় নতুন মোড় এল। আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শতদ্রু। তিনি লিখেছেন, সত্যের জয়। পাশাপাশি বর্তমান প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ ব্যক্তিকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, ভয় দেখানো, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং একাধিক ব্যক্তির যৌথভাবে অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনার মতো বিষয়।ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো দে পল কলকাতায় এসেছিলেন একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। যুবভারতীতে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠান ঘিরে বিপুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। দর্শকদের মধ্যে টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে কালোবাজারির অভিযোগও সামনে আসে।তবে অনুষ্ঠান ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। দর্শকদের একাংশ গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে পড়েন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দেশের অন্য শহরগুলিতে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলেও কলকাতার অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই সময় আয়োজক শতদ্রু দত্তও আইনি সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে মুখ খুলেছেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী তাঁর কাছে বিপুল সংখ্যক টিকিট ও প্রবেশপত্র চেয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, টিকিট দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানানো হলে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এছাড়া অনুষ্ঠানের দিন একাধিক অনিয়ম এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।শতদ্রুর আরও দাবি, অনুষ্ঠান শুরুর আগেই সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তার যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাঁকেই দায়ী করা হয়েছিল।এদিকে এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সকলের। অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণিত হবে কি না, তা নির্ভর করছে তদন্তের ফলাফলের উপর। তবে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর যুবভারতীর সেই বহুচর্চিত মেসি-কাণ্ড আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

মে ৩১, ২০২৬
রাজ্য

অভিষেকের পর কল্যাণ! পরপর হামলায় বিস্ফোরক মমতা, বিজেপিকে বললেন ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী’

পরপর দুদিনে দুই তৃণমূল সাংসদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ ও হেনস্তার ঘটনার পর রবিবার হুগলির চণ্ডীতলায় আক্রান্ত হন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুই ঘটনার পর সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংসদের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনাগুলি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিজেপিকে গণতন্ত্র হত্যাকারী বলেও কটাক্ষ করেছেন।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং লোকসভায় দলের অন্যতম প্রধান মুখ। অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে রয়েছেন। এই দুই নেতার উপর পরপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই তুলে ধরেছেন মমতা।শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম, জুতো এবং বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির ঘটনায় তাঁর পোশাক ও ব্যক্তিগত সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবার চণ্ডীতলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁর দিকে ঢিল ছোড়া হয় এবং চোর স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।এই ঘটনাগুলির পর তৃণমূল কংগ্রেসও সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করে। দলের দাবি, ঘটনাগুলি পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।এদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে হাসপাতাল-সংক্রান্ত বিতর্কও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সোনারপুরের ঘটনার পর তাঁকে শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষার পর ভর্তি করার প্রয়োজন দেখেননি। এই বিষয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তা সত্ত্বেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।পরপর দুই সাংসদের উপর হামলার অভিযোগ, হাসপাতাল বিতর্ক এবং পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক আক্রমণকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মে ৩১, ২০২৬
কলকাতা

অভিষেককে ভর্তি না নেওয়া নিয়ে বিতর্ক! ভাইরাল অডিও ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ঝড়

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হেনস্তার ঘটনার পর এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল। একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তবে ওই অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।শনিবার সোনারপুরের ঘটনায় উত্তেজনার মধ্যে কলকাতায় ফিরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানানো হয়, তাঁর শরীরে গুরুতর কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই।এরপর তাঁকে শহরের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসকরা একই মত দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল, বাড়িতেই পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা করা সম্ভব।এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হচ্ছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একটি বেসরকারি হাসপাতালের শীর্ষ কর্তার মধ্যে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। যদিও ওই অডিওর সত্যতা এখনও নিশ্চিত নয়।এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী শিবিরের তরফে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা নিয়ে অযথা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। দলের একাংশের অভিযোগ, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টিকে অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে।প্রসঙ্গত, শনিবার সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দিকে ডিম, জুতো এবং বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির ঘটনায় তাঁর চশমা, ঘড়ি এবং পোশাকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।ঘটনার পর থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে ভাইরাল অডিও এবং হাসপাতালকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। ফলে সোনারপুর কাণ্ডের রেশ এখন রাজনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

মে ৩১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal