• ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Kolka

কলকাতা

কলকাতায় রাতভর তাণ্ডব বৃষ্টি! সোমবার পর্যন্ত আরও ভয়ংকর পরিস্থিতির সতর্কতা

রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত নাজেহাল কলকাতা। শুক্রবার সকাল হতেই শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় অফিসযাত্রী থেকে সাধারণ মানুষ, সকলেরই ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে, কোথাও আবার জল জমে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। স্ট্র্যান্ড রোডে রাতের বৃষ্টিতে একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ব বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর আকাশ মেঘলা ছিল। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি, যা রাতভর চলেছে এবং শুক্রবারও তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার কলকাতায় বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় নব্বই শতাংশ। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় একত্রিশ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ছাব্বিশ ডিগ্রি থাকতে পারে।দক্ষিণবঙ্গের জন্য সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং হাওড়ায় তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য জেলাগুলিতেও আগামী কয়েক দিন দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।এদিকে শুক্রবার ও শনিবার উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই দিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সমুদ্রে ঘণ্টায় পঞ্চাশ থেকে ষাট কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর। তাই অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ১০, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতায় অমিত শাহ, ভার্চুয়ালি মোদী! শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতার অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মিলন মেলায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সেখান থেকেই দেশের উদ্দেশে বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।বক্তব্যের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদী বলেন, আজ গোটা দেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর আদর্শ, চিন্তাধারা এবং দেশগঠনের ভাবনা আজও কোটি মানুষের কাছে প্রেরণার উৎস। নতুন সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।কলকাতার এই অনুষ্ঠান থেকে মোদী বলেন, রাষ্ট্রবাদী সরকার থাকলে দেশের মহান নেতাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় এবং তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করেই সরকার পরিচালিত হয়। তাঁর দাবি, গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর এই উদ্যাপন আরও বড় আকারে হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন শুধু একজন নেতার জীবন নয়, এটি একটি জনআন্দোলনের অনুপ্রেরণা। তাঁর চিন্তাধারা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দিশা দেখিয়েছিল। যে সময় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন চারদিকে কংগ্রেসের প্রবল প্রভাব ছিল। সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজের আদর্শে অটল থেকে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। প্রতিকূল পরিবেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তাঁর এই উদ্যোগ আজও বহু মানুষের কাছে অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ, বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রবাদ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে জোর চর্চা চলছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
রাজ্য

নিম্নচাপের দাপটে ভিজছে বাংলা! দিঘা–বালেশ্বর উপকূল দিয়ে আজই স্থলভাগে প্রবেশ, কলকাতায় টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করে পশ্চিমবঙ্গওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই স্পষ্ট দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। রবিবার গভীর রাত থেকে কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে টানা বৃষ্টি, যা সোমবারও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবারের মধ্যেই এই নিম্নচাপ ওড়িশার চান্দবালি ও পশ্চিমবঙ্গের দিঘার মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, হুগলী, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান জেলাগুলিকে আগাম সতর্কতা জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপ অঞ্চলটি রবিবার ঘনীভূত হয়ে পূর্ণাঙ্গ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এর অবস্থান ছিল ওড়িশার বালেশ্বরের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং পশ্চিমবঙ্গের দিঘার প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। বর্তমানে এটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্থলভাগে প্রবেশের পরও এর শক্তি বজায় থাকবে এবং মঙ্গলবারের মধ্যে ওড়িশা পেরিয়ে ছত্তীসগঢ় সীমান্তের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।এই নিম্নচাপের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে বর্ষাকালীন অক্ষরেখাও। দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই অক্ষরেখা নিম্নচাপকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সোমবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।কলকাতায় রবিবার রাত থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কখনও হালকা, কখনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিতে শহরের একাধিক এলাকায় জল জমার খবর মিলেছে। সোমবারও সারাদিন আকাশ মেঘলা থাকবে এবং মাঝেমধ্যে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অফিস টাইমে জলজট ও যানজটের আশঙ্কাও রয়েছে।দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। নদী সংলগ্ন ও নিচু এলাকায় জল জমার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গলবারের পর থেকে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে প্রবল বর্ষণের সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।এদিকে নিম্নচাপের জেরে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রও উত্তাল রয়েছে। উপকূল সংলগ্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইছে, যার দমকা হাওয়ার গতি ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদে ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।আবহবিদদের মতে, নিম্নচাপটি স্থলভাগে প্রবেশ করলেও তার প্রভাব দ্রুত কাটবে না। বরং সপ্তাহজুড়েই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কমবেশি বৃষ্টি চলবে। ফলে নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনো, জলমগ্ন রাস্তা এড়িয়ে চলা এবং আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ সতর্কবার্তার উপর নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জুলাই ০৬, ২০২৬
কলকাতা

পুলিশ অনুমতি না দিলেও একুশে জুলাই হবেই! রিকশায় দাঁড়িয়ে সভার হুঁশিয়ারি মমতার

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল। ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও বাধাই তাঁদের শহিদ দিবস পালন আটকাতে পারবে না। প্রয়োজন হলে রিকশায় দাঁড়িয়েও শহিদ দিবস পালন করা হবে।শনিবার সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুলিশ অনুমতি না দিলেও একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি বাতিল হবে না। তাঁর অভিযোগ, মধ্য কলকাতায় জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে কোনও বাধাই তাঁদের থামাতে পারবে না। কোথায় অনুষ্ঠান হবে, সেই সিদ্ধান্ত পুলিশের অনুমতির পর জানিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, কোনও উদ্বেগের কারণ নেই। দল আগেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকবে। মানুষের ভালোবাসাই তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও দাবি করেন তিনি।এদিন তৃণমূলের মেট্রোপলিটন পার্টি অফিসে তালা পড়ার ঘটনাও তুলে ধরেন মমতা। তিনি বলেন, ওই দফতরটি দল নিয়ম মেনে ভাড়ায় নিয়েছিল এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভাড়ার চুক্তিও রয়েছে। প্রতি মাসে নিয়মিত ভাড়া ও বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। সমস্ত নথিও দলের কাছে রয়েছে। তাঁর দাবি, একটি অফিসে তালা ঝোলানো যেতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তালা লাগানো সম্ভব নয়। এই ঘটনায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, মমতার বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁর দাবি, কালীঘাটে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে বহু নেতা স্বস্তি পাচ্ছেন না। সেই কারণেই একের পর এক বর্ষীয়ান নেতা অন্য শিবিরে চলে আসছেন। তাঁর আরও দাবি, তাঁদের শিবিরে যে সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করা হয়েছে, সেটাই এখনও বহাল রয়েছে। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরে বারবার সাংগঠনিক দায়িত্বে পরিবর্তন হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।একুশে জুলাইয়ের সভা কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

জুলাই ০৪, ২০২৬
কলকাতা

আর মাত্র ৭ দিন! কলকাতার দুই বড় সেতুর নিচে যা হতে চলেছে, জানতেই চমকে উঠবেন

কলকাতায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুরসভা। এবার নজরে এসেছে শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু এবং সুকান্ত সেতুর নিচের বেআইনি দখল। শনিবার কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে এই দুই জায়গায় নোটিস টাঙিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সমস্ত বেআইনি দোকান ও দখল সরিয়ে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুরসভার নোটিসে জানানো হয়েছে, যাদবপুর ও সন্তোষপুরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে বাজার ও হকারদের দোকান বসে আসছে। একইভাবে শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতুর নিচেও বহু দোকান ও বড় বাজার গড়ে উঠেছে। অভিযোগ, এই সবই অনুমতি ছাড়া দখল করে তৈরি হয়েছে। তাই এবার ওই সমস্ত জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর আগে তপসিয়া, কসবা, পার্ক সার্কাস-সহ শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযান চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম-সহ বিভিন্ন রেল স্টেশনের আশপাশের অবৈধ দোকানও উচ্ছেদ করা হয়েছে। এবার সেই অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্যদিকে, গত সপ্তাহেই ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন বস্তি এলাকাও খালি করার নোটিস দিয়েছে পুরসভা। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দখল করে গড়ে ওঠা ওই এলাকায় হাজার হাজার মানুষের বসবাস। শুধু অস্থায়ী ঘর নয়, বহু পাকা ও দোতলা বাড়িও তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরসভা ইতিমধ্যেই সেই এলাকাও খালি করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ফলে শহরে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

জুন ২৮, ২০২৬
কলকাতা

রিষড়ায় স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীর মর্মান্তিক পরিণতি! সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

হুগলির রিষড়ায় এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মৃত ব্যক্তি ওই মহিলার স্বামী। এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।শনিবার সকালে রিষড়ার তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বত্রিশ বছরের মণিকা ওঝার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার সময় পাশের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল দম্পতির ছয় বছরের মেয়ে। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই তাঁরা মহিলার নিথর দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।প্রতিবেশীদের দাবি, শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসার শব্দ শোনা গিয়েছিল। জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকা দীপঙ্কর সরকার কয়েক দিন আগে বাড়ি ফিরেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধান শুরু করেন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, মহিলার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনে এক ব্যক্তি মেট্রো লাইনে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। পরে তাঁর পরিচয় জানতে গিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনি রিষড়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দীপঙ্কর সরকার। এরপর থেকেই দুই ঘটনার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক অশান্তি এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে দীপঙ্করের মনে সন্দেহ ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে দম্পতির ছয় বছরের শিশুকন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশীরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই রয়ে গিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বড় সিদ্ধান্ত! এক মাসের জন্য থামছে বহুতল নির্মাণ, বাতিল হতে পারে অনুমোদন!

গার্ডেনরিচ ও তারাতলার মতো একের পর এক দুর্ঘটনার পর আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না রাজ্য সরকার। সেই কারণেই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতল নিয়ে। আগামী এক মাস কলকাতা-সহ একাধিক পুর এলাকায় পাঁচ তলার বেশি বাণিজ্যিক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এই সময়ে বিশেষ অডিট কমিটি প্রতিটি নির্মাণের নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে। গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট বহুতলের অনুমোদন পর্যন্ত বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নগরায়ণ থামানো সরকারের উদ্দেশ্য নয়। তবে কোনওভাবেই মানুষের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হবে না।সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী এক মাস কলকাতা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, পূজালি, বারুইপুর, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালিতে নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের কাজ বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই এগারো সদস্যের একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই কমিটি প্রথমে বহুতলের নকশা নিয়ম মেনে তৈরি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করবে। এরপর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি রয়েছে কি না, তাও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।সরকার জানিয়েছে, যেখানে সামান্য ত্রুটি থাকবে সেখানে নির্মাণ সংস্থাকে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে বহুতলের অনুমোদন সম্পূর্ণ বাতিল করে দেওয়া হতে পারে।অডিট কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে নব্বই দিন। তবে যে সব বহুতল নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, সেগুলির নির্মাণকাজ আগামী এক আগস্ট থেকে আবার শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।সরকার আরও জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি নির্মাণ বা সংস্কারের কাজে কোনও বিধিনিষেধ থাকছে না। ফলে আগামী এক মাস নিজের বাড়ির নির্মাণ বা মেরামতির কাজ স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যেতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

জুন ২৬, ২০২৬
কলকাতা

কালো মেঘে ঢাকল আকাশ, বজ্রপাতের দাপট! আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বড় সতর্কবার্তা

দুপুর গড়াতেই কালো মেঘে ঢেকে গেল কলকাতার আকাশ। দিনের আলো ম্লান হয়ে অনেকটাই রাতের আবহ তৈরি হয় শহরে। তারপরই শুরু হয় বৃষ্টি। সঙ্গে ছিল ঘন ঘন বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়া। শুধু কলকাতাই নয়, সংলগ্ন একাধিক জেলাতেও বৃষ্টির খবর মিলেছে। আবহাওয়া দপ্তর আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেই পূর্বাভাস মেনেই বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তন দেখা গেল।কয়েক দিন আগেই প্রবল বৃষ্টিতে কলকাতার একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপর একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরাও।

জুন ২৫, ২০২৬
কলকাতা

‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর নায়ককে সম্মান, কলকাতায় রাস্তার নাম বদলে চমক

কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার সুরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কলকাতা পৌরনিগমের কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে তিনি কলকাতা পৌরনিগমকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, প্রকৃত নায়কদের সম্মান জানানোর সময় এসেছে।গোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি গোপাল পাঁঠা নামে বেশি পরিচিত, কলকাতার বউবাজারের মলঙ্গা লেন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁদের পরিবারের একটি পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল কলেজ স্ট্রিটে। পেশায় কসাই হওয়ায় তিনি গোপাল পাঁঠা নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে-র পর কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। ইতিহাসে যা গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং নামে পরিচিত। সেই সময় বহু মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। গোপাল পাঁঠাকে ঘিরে প্রচলিত বিভিন্ন বর্ণনায় দাবি করা হয়, তিনি নিজের দলবল নিয়ে আক্রান্ত হিন্দুদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন। এই কারণেই অনেকের কাছে তিনি সাহস ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।গত বছর গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং-এ নিহতদের স্মরণে আয়োজিত একটি পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই মিছিলে তাঁর হাতে ছিল গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি। পরে আলিপুরে গোপাল পাঁঠার একটি মূর্তিরও উন্মোচন করা হয়েছিল।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে ইতিহাস ও রাজনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়াতে পারে।উল্লেখ্য, গোপাল পাঁঠার জীবন ও ১৯৪৬ সালের কলকাতার ঘটনাবলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমানসে কৌতূহল রয়েছে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা বিতর্কও। তবে নতুন করে রাস্তার নামকরণের সিদ্ধান্ত তাঁকে আবারও জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এল।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা থেকেই বদলে গেল ভারতের নৌ-শক্তির ছবি! একসঙ্গে জলে নামল তিন দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

ভারতের নৌ-সামর্থ্যে যুক্ত হল আরও তিনটি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ। কলকাতার গার্ডেনরিচ এলাকার শ্যামাপ্রসাদ বন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধজাহাজ তিনটি ভারতীয় নৌসেনার হাতে তুলে দেন। এই তিন জাহাজ হল আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস অগ্রয় এবং আইএনএস সংশোধক।অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা এমন এক ভূমি, যা ভারতকে সমুদ্রপথে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তাঁর মতে, দেশের পুনর্জাগরণ ও অগ্রগতিতে বাংলার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের দিন বাংলার মাটিতে এসে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন।মোদী বলেন, একটি শক্তিশালী দেশের জন্য শক্তিশালী নৌবাহিনী অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সমুদ্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয় এবং বিভিন্ন দেশের তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কও সমুদ্রের নীচ দিয়েই বিস্তৃত।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, যে দেশের সমুদ্র শক্তি যত বেশি উন্নত হবে, সেই দেশের অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থানও তত বেশি শক্তিশালী হবে। ভারত সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলি আত্মনির্ভর ভারতের বড় সাফল্যের প্রতীক।মোদীর দাবি, ভারত এখন শুধু উৎপাদনকারী দেশ নয়, ভবিষ্যতে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী দেশ হিসেবেও উঠে আসবে। তিনি জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার বিপুল আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতেও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে।তাঁর কথায়, আত্মনির্ভরতা থেকেই প্রকৃত শক্তির জন্ম হয়। আগামী দিনে ভারত সমুদ্র শক্তির ক্ষেত্রে আরও বড় উচ্চতায় পৌঁছবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

জুন ২১, ২০২৬
কলকাতা

মেসিকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ! কলকাতা পুলিশকে চিঠি, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

মেসিকে ঘিরে বিতর্কে ফের নতুন মোড়। এবার কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠালেন আর্জেন্টিনার মহাতারকার ম্যানেজমেন্ট টিমের প্রতিনিধিরা। সেই চিঠিতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, মেসির মাঠে উপস্থিতির সময় নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা বিধি আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের ভেতরে কোনও বিশেষ অতিথি বা ভিআইপির থাকার অনুমতি ছিল না। শুধুমাত্র কয়েকজন অনুমোদিত ক্যামেরা কর্মী উপস্থিত থাকতে পারতেন। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ।ম্যানেজমেন্ট টিমের দাবি, নির্ধারিত তালিকার বাইরে একাধিক ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। এমনকি অনেক অননুমোদিত ফটোগ্রাফার ও ক্যামেরা কর্মীকেও সেখানে দেখা যায়। এর ফলে মাঠের পরিবেশ বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি বারবার মেসির খুব কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর ও স্বাচ্ছন্দ্য নষ্ট হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে পরিকল্পিত কিছু কর্মসূচি বাতিল করে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন মেসি এবং তাঁর দলের সদস্যরা।এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, মেসির সফরের পরামর্শদাতা ও প্রতিনিধি পুলিশকে পাঠানো ইমেলে স্পষ্টভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, মাঠে বহু অননুমোদিত ব্যক্তি প্রবেশ করেছিলেন এবং সেই কারণেই সফরের কিছু অংশ বাতিল করতে হয়েছিল।শতদ্রু দত্ত আরও দাবি করেছেন, এতদিন যেসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছিল, সেই চিঠি নাকি তারই সমর্থন করছে। তাঁর মতে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী এই অভিযোগগুলির কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।এদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে হ্যাটট্রিক করে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মেসি। সেই আবহের মধ্যেই এই চিঠি সামনে আসায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ফুটবল মহল থেকে রাজনৈতিক মহলসব জায়গাতেই এখন আলোচনা একটাই, যুবভারতীতে সেদিন আসলে কী ঘটেছিল?চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে আসার পর গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে তদন্ত ও আলোচনার দাবি উঠেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।

জুন ১৭, ২০২৬
রাজ্য

বিকেলে বদলাবে আবহাওয়া! দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট, উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

খাতায়-কলমে বর্ষা ঢুকে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু তার প্রভাব এখনও সেভাবে অনুভূত হচ্ছে না দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তবে মঙ্গলবার বিকেলের পর আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে জারি হয়েছে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর সম্ভাবনাআবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলিতে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।আবহাওয়াবিদদের মতে, স্থানীয়ভাবে মেঘ সঞ্চারের ফলে কালবৈশাখী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিকেল গড়াতেই আকাশের চেহারা বদলাতে পারে। ঝড়বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।নদিয়া-মুর্শিদাবাদেও বৃষ্টির পূর্বাভাসশুধু পশ্চিমাঞ্চল নয়, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি বিচ্ছিন্ন ও স্বল্পস্থায়ী হতে পারে। ফলে বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় ফের অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে।কলকাতার আকাশে কি মিলবে স্বস্তির ছোঁয়া?গত কয়েকদিন ধরে গরম ও গুমোট আবহাওয়ায় নাজেহাল কলকাতাবাসী। মঙ্গলবার শহরের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দুপুরের পর থেকে মেঘের আনাগোনা বাড়তে পারে।হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বিকেল কিংবা সন্ধ্যার দিকে কলকাতার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। যদিও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবুও এই বৃষ্টি শহরবাসীকে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট অব্যাহতদক্ষিণবঙ্গ যখন বৃষ্টির অপেক্ষায়, তখন উত্তরবঙ্গে বর্ষা কার্যত পূর্ণ শক্তিতে সক্রিয়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পাহাড়ি অঞ্চল ছাড়াও জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।ধস ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কাপাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি নদ-নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় নিচু এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।এক নজরে আজকের আবহাওয়া* পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও পুরুলিয়ায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা।* ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।* নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বা।* কলকাতায় বিকেল বা সন্ধ্যায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।* দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা।* পাহাড়ি এলাকায় ধস এবং নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা।বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে প্রবেশ করলেও দক্ষিণবঙ্গে এখনও তার পূর্ণ প্রভাব দেখা যায়নি। তবে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে গরমে নাজেহাল মানুষের জন্য স্বস্তির সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হচ্ছে।

জুন ১৬, ২০২৬
রাজ্য

ভোররাতে কালীঘাটে ‘পুলিশি অভিযান’! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি, ছুটে গেলেন মমতা

কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িকে ঘিরে শনিবার ভোররাতের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী, সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান সব মিলিয়ে কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে ঘিরে ফেলা হয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাসভবন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ৩টা নাগাদ একাধিক পুলিশ গাড়ি কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার ওই বাড়ির সামনে এসে পৌঁছয়। শালবনি থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের আধিকারিক এবং মহিলা পুলিশকর্মীরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হলেও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশ আধিকারিকেরা।এরপর শুরু হয় বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিস্তৃত তল্লাশি অভিযান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এই তৎপরতা। বাড়ির বাইরে অবস্থান নেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পরিণত হয়।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকালে দ্রুত কালীঘাটে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন এবং পুলিশি তল্লাশির অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনিও ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।সকাল ৮টার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। সমস্ত কিছু রেকর্ড করা রয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক তদন্তমূলক মামলায় অভিষেককে ঘিরে চাপ বাড়ছে। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি সিআইডির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। ভবানী ভবনে টানা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে তিনি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান।এদিকে শুক্রবারও তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছেছিল সিআইডি। একটি সাইবার অভিযোগের তদন্তে তাঁকে নোটিস দিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল গোয়েন্দাদের। পরে অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এর পাশাপাশি সই জাল-কাণ্ডে ১৪ জুন ফের সিআইডির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আবার ১৫ জুন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছে ইডি। ফলে একের পর এক তদন্তকারী সংস্থার নোটিস ও জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে শনিবার ভোরের এই পুলিশি অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।তদন্তের প্রকৃত কারণ ও অভিযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললেও, কালীঘাটের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতির পারদ যে আরও চড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

জুন ১৩, ২০২৬
কলকাতা

তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকল পুলিশ, ঘর থেকে টেনে বের করা হল তৃণমূল কাউন্সিলরকে

কলেজ স্ট্রিটে রবিবার ভোর থেকে চলে টানটান উত্তেজনা। প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টার নাটকীয় অভিযানের পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হল ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ কাউন্সিলরের বাড়িতে পৌঁছে যায় জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পরেও তিনি দরজা খোলেননি।পুলিশের দাবি, কাউন্সিলর বাড়ির ভিতরেই ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। তবুও দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত চাবিওয়ালাকে ডাকা হয়। সদর দরজা ও একাধিক কোলাপসিবল গেটের তালা খুলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এরপর ঘর থেকে কাউন্সিলরকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।কাউন্সিলরকে বাড়ি থেকে বের করার সময় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সমর্থকেরা বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারাও বিক্ষোভে সামিল হন। কাউন্সিলরকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং জমায়েত সরাতে বাহিনী তৎপর হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে এক নাবালিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে পকসো আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় কাউন্সিলর এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জনের নাম ছিল। অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিতার পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।শনিবার নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই তরুণীকে একা পেয়ে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন প্রথমে কটূক্তি করে। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আক্রান্ত তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঘটনার পর আশপাশের একাধিক নজরদারি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই রবিবার সকালে পুলিশ কাউন্সিলরের বাড়িতে অভিযান চালায়।দীর্ঘ সাড়ে ৫ ঘণ্টার টানাপোড়েনের পর কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কাউন্সিলরসহ মোট দুই জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

জুন ০৭, ২০২৬
কলকাতা

ইস্তফা কি সত্যিই দিচ্ছেন ফিরহাদ? দু’দিন পরেও মিলল না উত্তর

কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিতে চলেছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। তবে দুদিন ধরে নানা জল্পনা চললেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি মেয়রের পদ ছাড়তে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম?সম্প্রতি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, ফিরহাদ হাকিম দলনেত্রীর কাছে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না এবং সেই কারণেই ইস্তফা দিতে চান। কুণালের দাবি অনুযায়ী, এই বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও জানানো হয়েছিল।কিন্তু সেই মন্তব্যের পর কয়েক দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত ইস্তফা সংক্রান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। বরং এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফিরহাদ হাকিম মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি কোনও কথা বলবেন না।এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। গত কয়েক দিনে একাধিক সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে ফিরহাদ হাকিমকে। পরিবেশ দিবসের কর্মসূচিতেও তাঁকে কলকাতা পুরনিগমের কমিশনারের সঙ্গে দেখা যায়।শুধু তাই নয়, প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিয়মিত বৈঠক করতে দেখা যাচ্ছে মেয়রকে। পুর প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়েও তিনি সক্রিয় রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। ফলে ইস্তফার জল্পনার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে আসছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি সত্যিই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণত প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে ফিরহাদ হাকিমের ভূমিকা সে ধরনের কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে না।ফলে মেয়র পদ নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ফিরহাদ হাকিম শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে এখন কৌতূহল রাজনৈতিক মহলে। তবে সরকারি ভাবে কিছু ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই বিতর্ক ও জল্পনা যে চলতেই থাকবে, তা বলাই যায়।

জুন ০৫, ২০২৬
কলকাতা

বড় ধাক্কা তৃণমূলে! মেয়র পদ ছাড়লেন ফিরহাদ, কালীঘাটে কী হল ভিতরে ভিতরে?

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়।দিনভর রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনি নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানান।দলীয় সূত্রের দাবি, গত কিছুদিন ধরেই মেয়র হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুরসভার বিভিন্ন কাজকর্ম পরিচালনা নিয়ে তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলেও আলোচনা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। সেই কারণেই তিনি একাধিকবার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা যায়।মঙ্গলবারই কলকাতা পুরসভার এক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীর ইস্তফার পর রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফিরহাদ হাকিমের একটি মন্তব্যও বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা একটি দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও একসঙ্গেই নেন। এরপর থেকেই তাঁর ইস্তফা নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।বুধবার শেষ পর্যন্ত কালীঘাটে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ইচ্ছা জানান তিনি। প্রথমে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হলেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন ফিরহাদ। পরে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।আরও পড়ুনঃ হেভিওয়েট-র ওয়েট লস, ভাইপো-র মত হেলমেট পরে আদালতে বর্ধমানের কাকাতৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মেয়র হিসেবে কাজ করতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। সেই কারণেই তিনি সম্মানের সঙ্গে পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বও তাঁর সিদ্ধান্তকে মর্যাদা দিয়েছে।ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের ফলে কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব আপাতত পুর কমিশনারের হাতে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।এদিকে চলতি বছরের শেষের দিকে পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

জুন ০৩, ২০২৬
রাজ্য

বুধে' ই 'নব তৃণমূল'-র আত্মপ্রকাশ? বিধানসভায় বিরোধী কারা? জল্পনায় উত্তাল বঙ্গরাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক গোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বলে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বুধবারই বিধানসভায় সংখ্যার জোর দেখিয়ে নতুন শিবিরের অস্তিত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে এসেছে। একাধিক বিধায়ক ও নেতা দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সেই আবহেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।মঙ্গলবার বিধানসভা চত্বরে ঋতব্রতের উপস্থিতি ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি ছিল, প্রায় ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনপত্র তিনি বিধানসভা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারেন। যদিও দিনভর সেই জল্পনার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত স্পষ্টভাবে জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজেই বিধানসভায় এসেছিলেন এবং কোনও চিঠি জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁর জানা নেই।শুধু তাই নয়, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে গোপন বৈঠকের যে খবর ছড়িয়েছিল, সেটিও তিনি অস্বীকার করেন। তবে তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। বরং তিনি বলেন, আমি আজকে বিশ্বাস করি। আগামীকাল কী হবে, তা এখনই বলতে পারব না। এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার খোরাক জুগিয়েছে।সূত্রের দাবি, বুধবার পরিস্থিতি অন্য মোড় নিতে পারে। খবর অনুযায়ী, ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে একটি পৃথক পরিষদীয় গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে বিধানসভায় একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দেওয়া হতে পারে। যদি এমনটা ঘটে, তবে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।তবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নও উঠে আসছে। কেবলমাত্র উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন থাকলেই কি কোনও গোষ্ঠী নিজেকে মূল দলের উত্তরাধিকারী হিসেবে দাবি করতে পারে? দলীয় প্রতীক, সংগঠনের সম্পত্তি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিষয়টি এতটা সরল নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রকৃত উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিধায়কদের সংখ্যা নয়, দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের সমর্থন এবং অন্যান্য একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে কয়েক ডজন বিধায়কের সমর্থন পাওয়া গেলেও দলীয় প্রতীক বা সংগঠনের মালিকানা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বুধবার যদি সত্যিই কোনও নতুন গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশ ঘটে, তবে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। এখন নজর বিধানসভার দিকেসেখানে সংখ্যার অঙ্ক কতটা বাস্তব এবং কতটা রাজনৈতিক জল্পনা, তার উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।বঙ্গ রাজনীতির চলমান অস্থিরতার আবহে নতুন তৃণমূল ঘিরে এই জল্পনা এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক বিষয়। বুধবারের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে এই আলোচনা শুধুই গুঞ্জন হয়ে থাকে, নাকি তা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দেয়।

জুন ০৩, ২০২৬
কলকাতা

কলেজের আলমারিতে লুকিয়ে ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা! খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ সবার

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে রহস্যজনকভাবে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলেজের ইউনিয়ন রুমের একটি পুরনো আলমারি থেকে উঁই ধরা অবস্থায় টাকা ভর্তি একাধিক বাক্স উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মঙ্গলবার কলেজ চত্বরে এই ঘটনা সামনে আসতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। এরপর ইউনিয়ন রুম থেকে টাকা ভর্তি ব্যাগ ও বাক্সগুলি উদ্ধার করে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নেয়।প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে। তবে ঠিক কত টাকা পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নোটগুলির একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আলমারিতে পড়ে থাকার কারণে উঁইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।ঘটনার পরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কলেজের ইউনিয়ন রুমে কীভাবে এল, কে বা কারা সেখানে টাকা রেখে গিয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে তা জমা রাখা হয়েছিল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, এর সঙ্গে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না এবং কতদিন ধরে ওই টাকা সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও আর্থিক অনিয়ম রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কলকাতার অন্যতম প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। রহস্যময় এই টাকার উৎস খুঁজতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

জুন ০২, ২০২৬
কলকাতা

ধর্মতলায় মমতার ধরনা ঘিরে বড় ধাক্কা! শেষ মুহূর্তে অনুমতি দিল না পুলিশ

ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে মঙ্গলবার ধরনায় বসার ঘোষণা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলার কথা। দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।তবে ধরনার একদিন আগে সামনে এসেছে বড় জটিলতা। সূত্রের খবর, রানি রাসমণি রোডে এই কর্মসূচির জন্য এখনও পুলিশের অনুমতি মেলেনি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ওই স্থানে ধরনার অনুমতি না দিয়ে বিকল্প হিসেবে ওয়াই চ্যানেলে কর্মসূচি করার প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবে এখনও সম্মতি দেওয়া হয়নি বলে সূত্রের দাবি। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কীভাবে এবং কোথায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অতীতে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েও একাধিকবার সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। সে সময় অনুমতি না মেলায় তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।অন্যদিকে, ধরনা বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি তাঁরা দলের বিরুদ্ধে সই জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে একদিকে ধরনা বিতর্ক, অন্যদিকে দুই বিধায়কের বহিষ্কার সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

জুন ০১, ২০২৬
কলকাতা

পুরসভার নোটিসের মাঝেই অভিষেকের বাড়িতে কলকাতা পুলিশ! হঠাৎ তৎপরতায় বাড়ছে জল্পনা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি এবং বাড়ির বেআইনি অংশ ভাঙা নিয়ে কলকাতা পুরসভার দেওয়া নোটিস ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সোমবার ছিল পুরসভার দেওয়া সময়সীমার শেষ দিন। তার আগেই সময় বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতা পুরসভা আরও ১০ দিনের সময় দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই আবহেই সোমবার বিকেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি রোডের বাড়ি শান্তিনিকেতন-এ পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশের একটি দল। আর তাতেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।সূত্রের খবর, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার সম্পত্তির মধ্যেই পড়ে অভিষেকের এই বাড়ি। তৃণমূল জমানায় এই সংস্থাকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামনে এসেছিল। ফলে পুরসভার নোটিসের পর আচমকা পুলিশের উপস্থিতি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ মনে করছেন, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংক্রান্ত কোনও বিষয়েই নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। আবার কারও মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতেই পুলিশের এই সফর।যদিও বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি পুলিশ আধিকারিকরা। ফলে জল্পনা আরও বেড়েছে।উল্লেখ্য, গত সোমবারই কলকাতা পুরসভার তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি ঠিকানায় নোটিস পাঠানো হয়েছিল। বাড়ির অতিরিক্ত নির্মাণের জন্য পুরসভার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে শান্তিনিকেতন-এর বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি অভিষেকের ১৭টি সম্পত্তিও নজরে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কয়েক দিন আগেই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন অভিষেক। পুরসভার নোটিস নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতেই প্রথমে কোনও উত্তর দেননি তিনি। পরে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে কিছুটা বিরক্তির সুরে বলেন, বাড়ির কোন অংশ অবৈধ, সেটা নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, আমি উত্তর দেব।সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে এবার সময় বাড়ানোর আবেদন এবং পুরসভার সেই আবেদন মঞ্জুর করার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

মে ২৫, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 27
  • 28
  • ›

ট্রেন্ডিং

দেশ

বাড়ির সামনেই জমা জল, খেলতে গিয়ে আর ফেরা হল না! তিন বছরের শিশুর মৃত্যুতে উত্তাল দিল্লি

একটানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন দিল্লি। সেই জল জমেই ঘটে গেল হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। গাজিয়াবাদের একটি গলিতে জমে থাকা জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তিন বছরের এক শিশুকন্যার। ঘটনাটি ঘটেছে বাড়ির কাছেই। দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।স্থানীয়দের দাবি, যে গলিতে শিশুটি ডুবে যায় সেখানে প্রায় তিন ফুট জল জমেছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর প্রায় চার ঘণ্টা পরে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সড়কের একটি অংশ সম্প্রসারণের পর থেকেই ওই এলাকায় জল জমার সমস্যা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পুর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।বুধবার থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বহু রাস্তায় জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হয়েছে। এর আগের রাতে রোহিনী এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়ি ভেঙে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টি আরও কিছু সময় চলতে পারে। রাজধানীর একাধিক এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় রাস্তা কার্যত জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিওয়ারা, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নতুন দিল্লি রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জল জমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

জুলাই ০৯, ২০২৬
কলকাতা

চারশো চল্লিশ কোটি টাকার তহবিল ঘিরে বড় লড়াই! এবার কি সুপ্রিম কোর্টে মুখোমুখি দুই তৃণমূল?

তৃণমূলের দলীয় তহবিল নিয়ে আইনি লড়াই এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। সূত্রের খবর, দল পরিচালনায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি তুলে দলীয় তহবিলের উপর অধিকার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ অনুমতি প্রার্থনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। আসল-নকল তৃণমূল বিতর্কের মাঝেই এই সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে তদন্তে বড় পদক্ষেপ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তকারী সংস্থা কালীঘাট তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা চারশো চল্লিশ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দলীয় তহবিল থেকে প্রায় একশো ষাট কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে এসেছে। সেই লেনদেনের উৎস এবং প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দলীয় অর্থ দিয়ে বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পর সেই যানই আবার ভাড়ায় ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গোটা বিষয়টি আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হতে পারে এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত এগোলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগের বিষয়ে কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন।এদিকে ঋতব্রত শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতির প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে। দুই দিন ধরে চলা এই বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়, বিভিন্ন রাজ্যের সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, বৈঠকের শেষে সংগঠন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে।

জুলাই ০৯, ২০২৬
কলকাতা

দরজা বন্ধ বলেই দাবি ছিল, তবে কেন তৃণমূলের তিন নেতাকে নিল বিজেপি? জানালেন শমীক

রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বুধবার। এক মাস আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়া তিন প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে তাঁরা দলে যোগ দেন। এই যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, এর আগে বিজেপির তরফে জানানো হয়েছিল, তৃণমূলের জন্য দলের দরজা বন্ধ। তবে এ দিন সেই অবস্থানের ব্যাখ্যাও দেন শমীক ভট্টাচার্য।শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে এমন রাজনীতি চলেছে, যেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আস্থা রেখে তৃণমূল ছেড়ে আসা তিন প্রাক্তন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ থাকার পরও কেন এই তিন নেতাকে দলে নেওয়া হল, সেই প্রশ্নের উত্তরে শমীক বলেন, রাজনীতিতে ব্যতিক্রম থাকেই। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি জানান, যাঁরা দুর্নীতি, কাটমানি, চাকরি বিক্রি, সিন্ডিকেট বা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা সব সময় খোলা।তিনি আরও বলেন, এই তিন নেতাকে শুধু প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। তাঁদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে। এখন থেকে তাঁদের একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়, তাঁরা বিজেপির সদস্য। তাই তাঁদের নামের আগে দলত্যাগী বা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা বলার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।তিন প্রাক্তন সাংসদের বিজেপিতে যোগদানের ঘটনাকে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। আগামী দিনে এই যোগদানের প্রভাব রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

জুলাই ০৯, ২০২৬
কলকাতা

নবান্নে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ খুললেন প্রসেনজিৎ, জল্পনার মাঝেই বড় ঘোষণা

বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনা শুরু হয়। সম্প্রতি অমিত শাহর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর এই বৈঠককে ঘিরেও নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে নবান্ন থেকে বেরিয়েই সমস্ত জল্পনায় ইতি টেনে দেন প্রসেনজিৎ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বৈঠকে রাজনীতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।প্রসেনজিৎ বলেন, তিনি যদি কোনও দিন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই খবর তিনি নিজেই সকলকে জানাবেন। তাঁর কথায়, এ দিনের বৈঠকের মূল বিষয় ছিল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের উন্নয়ন এবং মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের পরিকল্পনা।অভিনেতা জানান, আগামী তিন সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বড় আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই বিষয়েই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পে ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও নিয়ে কথা হয়েছে। যদিও এখনই কোনও ঘোষণা নয়, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইতিবাচক খবর আসতে পারে বলেও আশাবাদী তিনি।প্রসেনজিৎ আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে অতীতেও কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি, এখনও হয়নি। তিনি শুধু নিজের শিল্প, নিজের ইন্ডাস্ট্রি এবং মহানায়ক উত্তম কুমারকে ঘিরে পরিকল্পনা নিয়েই কথা বলতে গিয়েছিলেন। তাঁর মতে, উত্তম কুমার শুধু বাংলার নন, তিনি গোটা দেশের গর্ব।চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে কোনও বিশেষ দায়িত্ব পেতে পারেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি। তবে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থে যখনই প্রয়োজন হবে, তিনি সব সময় পাশে থাকবেন। তাঁর কথায়, এই ইন্ডাস্ট্রিই তাঁর পরিচয়, তাই এর উন্নয়নের জন্য যে কোনও সময় কাজ করতে তিনি প্রস্তুত।

জুলাই ০৯, ২০২৬
বিদেশ

‘আমিই এক নম্বর টার্গেট!’ ইরানকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের, হঠাৎ বিমান বদলে বাড়ল জল্পনা

নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের হত্যার তালিকায় প্রথম নাম তাঁরই। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক সফর শেষে ফেরার পথে ট্রাম্পের হঠাৎ বিমান বদল ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।ন্যাটোর শীর্ষ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অবস্থান আগের মতো শক্তিশালী নয়। তাঁর দাবি, একের পর এক নেতৃত্বে পরিবর্তন হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, তিনিও যে কোনও সময় হামলার শিকার হতে পারেন। কারণ, ইরানের লক্ষ্যবস্তুদের তালিকায় তাঁর নামই প্রথম।ট্রাম্পের কথায়, তিনি জানেন ইরানের প্রধান নিশানা তিনি নিজেই। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আচরণ একই রকম রয়েছে। দেশের এবং বিশ্বের স্বার্থে যা প্রয়োজন, তিনি সেই কাজই করছেন বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে আরেকটি তথ্য। ন্যাটোর বৈঠকে যোগ দিতে যে বিমানে তিনি তুরস্ক গিয়েছিলেন, ফেরার সময় সেই বিমান ব্যবহার করেননি ট্রাম্প। পরিবর্তে অন্য বিমানে ওয়াশিংটনে ফেরেন তিনি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি। ট্রাম্পও এ নিয়ে মুখ খোলেননি।তবে তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কার মন্তব্য এবং হঠাৎ বিমান বদলের ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই কি এই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জুলাই ০৯, ২০২৬
রাজ্য

চৌদ্দ বছর পর হঠাৎ খুলল বরুণ হত্যা মামলা! সিআইডি পৌঁছতেই জ্যোতিপ্রিয়কে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি পরিবারের

চৌদ্দ বছর আগে নিহত প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের হত্যা মামলায় ফের নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার তদন্তকারী আধিকারিকেরা উত্তর চব্বিশ পরগনায় বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।পরিবারের দাবি, আগের তদন্তে প্রকৃত সত্য সামনে আসেনি। তাই নতুন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এরপরই সিআইডির এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় দাবি করেছেন, তাঁর ভাই তোলাবাজি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।দুই হাজার বারো সালের পাঁচ জুলাই গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে গুলি করে খুন করা হয় বরুণ বিশ্বাসকে। এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রকৃত দোষীদের শাস্তি এখনও হয়নি।পরিবার জানিয়েছে, তারা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্ত চেয়েছে। নতুন করে তদন্ত শুরু হওয়ায় বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

জুলাই ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হাসপাতালের ভিতরে কে দালাল, কে আসল কর্মী! এবার এক নজরেই ধরা পড়বে, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

হাসপাতাল থেকে দালালচক্র নির্মূল করতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এবার থেকে হাসপাতালগুলির উপর সরাসরি নজরদারি চলবে স্বাস্থ্যভবন থেকেই। দালালদের চিহ্নিত করতে নতুন পরিচয় ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাই কর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের জন্য আলাদা রঙের পরিচয়পত্র থাকবে। রোগীদের হাতে থাকবে এক ধরনের রঙিন ব্যান্ড এবং রোগীর পরিজনদের জন্য থাকবে অন্য রঙের ব্যান্ড। এই পরিচয়চিহ্নের বাইরে হাসপাতালের ভিতরে যাঁদের দেখা যাবে, তাঁদের পরিচয় যাচাই করা হবে। এর মাধ্যমে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হাসপাতালের প্রত্যেক শ্রেণির মানুষের জন্য আলাদা রঙের পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও রোগীর পরিজনদের সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। হাসপাতালের নিরাপত্তা এবং পরিষেবা আরও স্বচ্ছ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ত্রিশ জুলাইয়ের মধ্যে এই নতুন ব্যবস্থা চালু করার কাজ শেষ করতে হবে। স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হবে। হাসপাতালের ভিতরে অনিয়ম, ভুয়ো পরিচয়ে ঘোরাফেরা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের জন্য ল্যামিনেশন করা আলাদা পরিচয়পত্র তৈরি করা হবে। অতীতে হাসপাতালের ভিতরে ভুয়ো পরিচয়ে বিভিন্ন কাজ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই ধরনের ঘটনা বন্ধ করতেই এই নতুন পরিচয় ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জুলাই ০৯, ২০২৬
রাজ্য

বাংলাদেশে আটকে থাকার অবসান! বাড়ি ফিরেই প্রথমবার সন্তানের মুখ দেখলেন বাবা, আবেগে ভাসল গোটা গ্রাম

এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আদালতের নির্দেশে অবশেষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরলেন বীরভূমের পাইকর গ্রামের বাসিন্দা দানিশ শেখ, সুইটি বিবি এবং তাঁদের দুই ছেলে। বুধবার মালদার মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করার পর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাতে নিজের গ্রামে পৌঁছন তাঁরা। পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের আবেগঘন মুহূর্তে আনন্দে ভেসে যায় গোটা পরিবার।সবচেয়ে আবেগের মুহূর্ত ছিল দানিশ শেখের জীবনে। চার মাস আগে তাঁর ছোট ছেলে আপনের জন্ম হলেও এতদিন সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ পাননি তিনি। বাড়ি ফিরে প্রথমবার ছেলেকে কোলে নিয়ে দানিশ বলেন, জন্মের পর এই প্রথম তিনি নিজের সন্তানের মুখ দেখলেন। পরিবারের সবাইকে কাছে পেয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের কষ্ট যেন এক মুহূর্তে দূর হয়ে গেছে।জীবিকার খোঁজে বহু বছর ধরে দিল্লিতে কাজ করতেন পাইকর গ্রামের এই পরিবার। গত বছরের তেইশ জুন তাঁদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, নাগরিকত্বের পূর্ণাঙ্গ যাচাই ছাড়াই তাঁদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘদিন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।এরপর তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশের পর ধাপে ধাপে পরিবারের সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুন ও তাঁর ছোট সন্তান দেশে ফিরলেও দানিশ শেখ, সুইটি বিবি এবং তাঁদের দুই ছেলে বাংলাদেশেই ছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে তাঁরাও দেশে ফিরতে সক্ষম হন।বাড়ি ফিরে দানিশ শেখ জানান, পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, যদি নিজের রাজ্যেই কাজের সুযোগ পান, তাহলে আর বাইরে কাজ করতে যেতে চান না। নিজের পরিচয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি সম্পূর্ণ করার জন্যও তিনি আবেদন করেছেন।সুইটি বিবিও বাড়ি ফিরে স্বস্তির কথা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দিল্লিতে আটক হওয়ার সময় তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বারবার ভারতীয় নাগরিক হওয়ার কথা জানালেও তাঁদের কথা শোনা হয়নি। দীর্ঘ এক বছর বাড়ির বাইরে কাটানোর পর অবশেষে নিজের গ্রামে ফিরতে পেরে তিনি এবং তাঁর পরিবার নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় রয়েছেন।

জুলাই ০৯, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal