• ৭ ভাদ্র ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Iran,

বিদেশ

‘আমিই এক নম্বর টার্গেট!’ ইরানকে ঘিরে বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের, হঠাৎ বিমান বদলে বাড়ল জল্পনা

নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের হত্যার তালিকায় প্রথম নাম তাঁরই। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক সফর শেষে ফেরার পথে ট্রাম্পের হঠাৎ বিমান বদল ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।ন্যাটোর শীর্ষ বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের অবস্থান আগের মতো শক্তিশালী নয়। তাঁর দাবি, একের পর এক নেতৃত্বে পরিবর্তন হয়েছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, তিনিও যে কোনও সময় হামলার শিকার হতে পারেন। কারণ, ইরানের লক্ষ্যবস্তুদের তালিকায় তাঁর নামই প্রথম।ট্রাম্পের কথায়, তিনি জানেন ইরানের প্রধান নিশানা তিনি নিজেই। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আচরণ একই রকম রয়েছে। দেশের এবং বিশ্বের স্বার্থে যা প্রয়োজন, তিনি সেই কাজই করছেন বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।এই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে আরেকটি তথ্য। ন্যাটোর বৈঠকে যোগ দিতে যে বিমানে তিনি তুরস্ক গিয়েছিলেন, ফেরার সময় সেই বিমান ব্যবহার করেননি ট্রাম্প। পরিবর্তে অন্য বিমানে ওয়াশিংটনে ফেরেন তিনি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি। ট্রাম্পও এ নিয়ে মুখ খোলেননি।তবে তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কার মন্তব্য এবং হঠাৎ বিমান বদলের ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই কি এই অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

জুলাই ০৯, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে বড় বিস্ফোরণ! ক্ষোভে ফেটে পড়ে সরাসরি ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলল ইরান

বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচ ড্র করার পর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে ইরান। মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি এবার ফিফার বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তুলেছে দলটি। অধিনায়ক মেহদি তারেমি এবং কোচ আমির ঘালেনোইর দাবি, আয়োজনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে শুরু থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সেই পরিস্থিতির প্রভাব দলের পারফরম্যান্সেও পড়েছে বলে অভিযোগ।গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে এক-এক গোলে ড্র করার পর ড্রেসিংরুমে একটি আবেগঘন বার্তা লিখে রেখে যায় ইরান দল। সেই বার্তায় তারা জানায়, তাদের কাছে ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, সম্মান এবং চরিত্রেরও পরীক্ষা। বার্তায় আরও বলা হয়, পয়েন্ট জেতা সম্ভব, কিন্তু সম্মান অর্জন করা যায় না। স্বচ্ছতা ও মর্যাদা নিয়েই ইতিহাসের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায় তারা। পাশাপাশি সিয়াটলের আতিথেয়তা এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়।এটি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার ড্রেসিংরুমে বার্তা রেখে যাওয়ার ঘটনা। এর আগেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর একই ধরনের বার্তা লিখেছিল ইরান দল।ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মেহদি তারেমি বলেন, এই বিশ্বকাপ তাঁদের কাছে অত্যন্ত হতাশাজনক অভিজ্ঞতা। তাঁর অভিযোগ, শুরু থেকেই বিভিন্ন সমস্যার কথা জানানো হলেও ফিফার পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর সমাধান করা হয়নি। এমনকি ফিফার সভাপতি প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।ইরানের অভিযোগ, দলের বেশ কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক কর্মী ভিসা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতার সময় দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। এর ফলে ফুটবলারদের যাতায়াত, অনুশীলন এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সমস্যা তৈরি হয়। তারেমির দাবি, একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এমন পরিস্থিতি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যদি কোনও দলকে বিদায় দিতেই হয়, তা মাঠের খেলায় হোক, আয়োজনের সমস্যার কারণে নয়।একই সুরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ আমির ঘালেনোইও। তাঁর অভিযোগ, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। যদি দলকে আরও আগে আয়োজক দেশে পৌঁছতে দেওয়া হত, তাহলে ফুটবলাররা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ভালো অবস্থায় থাকতেন। ভবিষ্যতে কোনও দলের সঙ্গে এমন পরিস্থিতি যেন না হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।গ্রুপ পর্ব শেষে ইরানের পরের পর্বে ওঠা এখন অন্য ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগও বিশ্ব ফুটবলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জুন ২৭, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে চরম অপমান! ম্যাচ খেলেই দেশছাড়া, ক্ষোভে ফুঁসছে ফুটবল দুনিয়া

বিশ্বকাপ খেলতে এসে একের পর এক সমস্যার মুখে পড়ছে ইরান ফুটবল দল। দীর্ঘ যাত্রা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই দেশ ছাড়ার নির্দেশ সব মিলিয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ইরান শিবিরে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হেদায়াত মোম্বেইনি এই পরিস্থিতিকে ফুটবল ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন।বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পরও স্বস্তি মেলেনি মেহদি তারেমিদের। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হতেই দলকে আমেরিকা ছেড়ে মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হয়েছে। জানা গিয়েছে, ইরানি ফুটবলারদের জন্য শুধুমাত্র ম্যাচের সময়সীমা অনুযায়ী ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে দলের সদস্যদের বারবার যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা প্রস্তুতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।ইরানের কোচ আমির ঘালেনোইও এই পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ইরানের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় ফুটবলারদের মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।এই ঘটনার প্রতিবাদে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে চলেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। হেদায়াত মোম্বেইনি বলেন, আগে যে নিয়ম জানানো হয়েছিল, শেষ মুহূর্তে তা বদলে দেওয়া হয়েছে। এতে শুধু ইরান নয়, গোটা প্রতিযোগিতার ভাবমূর্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই ঘটনাকে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেই মনে রাখা হবে।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা চলেছে। সেই প্রভাবই বিশ্বকাপেও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের অনেক কর্মকর্তা ভিসা পাননি। এমনকি বহু সমর্থক টিকিট থাকা সত্ত্বেও আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে অভিযোগ।এদিকে আগামী ২২ জুন শক্তিশালী বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে ভালো ফল করতেই হবে তারেমিদের। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের প্রতিকূলতার সঙ্গেও সমান তালে লড়তে হচ্ছে ইরানকে।

জুন ২০, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

বিশ্বকাপে জিতেই বিপাকে ইরান! ম্যাচ শেষ হতেই দেশ ছাড়ার নির্দেশ, ক্ষোভ ফুটবলারদের

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্সের পরই নতুন বিতর্কে জড়াল ইরান ফুটবল দল। দলের অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা পুনরুদ্ধারের সময় না দিয়েই তাদের দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা।সূত্রের খবর, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ইরান দলকে সীমিত সময়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে ম্যাচ ছাড়া বাকি সময় তারা অন্য দেশে অবস্থান করছে এবং সেখানেই অনুশীলন চালাচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ম্যাচের পর যুক্তরাষ্ট্রেই একটি রাত কাটানোর কথা ছিল দলের। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি ইরান শিবিরের।দলের অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হতেই তাদের দ্রুত রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরই ইরান দলকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হয়। সেখানেই বর্তমানে তাদের বেস ক্যাম্প রয়েছে।ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, খেলোয়াড়দের জন্য ম্যাচের পর বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তে দলের প্রস্তুতি এবং শারীরিক অবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে।কোচ আরও বলেন, শুরুতে যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে ম্যাচের আগে এবং পরে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরান শিবির জানিয়েছিল, তারা মাঠের বাইরের বিতর্কে জড়াতে চায় না। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের একাংশের মতে, তাদের প্রতি আলাদা ধরনের আচরণ করা হচ্ছে।অন্যদিকে, অধিনায়ক মেহদি তারেমি নাকি এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের অভিযোগের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।

জুন ১৬, ২০২৬
রাজ্য

হরমুজ প্রণালিতে বড়সড় সংঘাত! ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়ে দখল নিল আমেরিকা

হরমুজ প্রণালির কাছে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি ইরান-চিহ্নিত পণ্যবাহী জাহাজ দখল করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত করে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়, তারপর সেটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।ট্রাম্প জানান, ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ একটি ইরানি জাহাজকে আটকায়, যখন সেটি আমেরিকার আরোপ করা অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। হামলার ফলে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেটি আর চলতে পারেনি। পরে মার্কিন সেনারা জাহাজটির দখল নেয় এবং সেটির ভেতরে কী আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও দেখা গিয়েছে, হামলার আগে জাহাজের ক্রুদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়, ইঞ্জিন কক্ষ খালি করে দিতে, না হলে গুলি চালানো হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরণের দৃশ্যও দেখা যায়।এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচলের উপর আমেরিকা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তাই এর উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।একই সময়ে ইরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা পরবর্তী বৈঠকে অংশ নেবে না। তাদের অভিযোগ, আমেরিকা অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে এবং অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা চুক্তির পরিপন্থী।ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জমা দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দিতে হবে।বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এপ্রিল ২০, ২০২৬
বিদেশ

ভারতের বদলে চিনের দিকে মোড় নিল ইরানের তেলবাহী জাহাজ! মাঝসমুদ্রে কী ঘটল?

হরমুজ প্রণালী পেরোনোর পর মাঝসমুদ্রে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করল ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ। ভারতের দিকে আসতে আসতেই সেটি ঘুরে চিনের দিকে চলে যায়। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পিং শান নামে ওই জাহাজটি একটি বড় তেলবাহী জাহাজ। প্রথমে এটি ভারতের পশ্চিম উপকূলে ভাদিনার বন্দরের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরে আচমকাই দিক বদলে দক্ষিণ দিকে ঘুরে চিনের একটি বন্দরের দিকে যেতে শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি কোথায় পৌঁছবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।প্রায় সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতের উদ্দেশে তেল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে এই পরিবর্তনে সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।জানা গেছে, জাহাজটিতে প্রায় ছয় লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালের পর এটি ভারতের জন্য প্রথম ইরানি তেলের চালান হতে পারত।২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ রেখেছে। সেই সময় আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়ায় আবার তেল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অর্থ লেনদেন, পরিবহণ এবং বিমা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সেই প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, এই তেল ভাদিনার একটি রিফাইনারিতে পৌঁছবে। কিন্তু এখন সেই পরিকল্পনা বদলে গেছে।একসময় ভারত ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ছিল। দেশের মোট তেল আমদানির একটি বড় অংশই ইরান থেকে আসত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার পরে সেই সম্পর্ক পুরোপুরি থেমে যায়।এই পরিস্থিতিতে মাঝসমুদ্রে জাহাজের দিক পরিবর্তন নতুন করে নানা প্রশ্ন তুলেছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার স্পষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

এপ্রিল ০৩, ২০২৬
বিদেশ

ট্রাম্প বললেন আলোচনা চলছে, ইরানের জবাব— ‘সব মিথ্যা!’ যুদ্ধবিরতি ঘিরে বড় বিস্ফোরণ

যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে এবং খুব শিগগিরই চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই দাবি একেবারে খারিজ করে দিয়েছে ইরান।ইরানের বিদেশমন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমেরিকার সঙ্গে কোনও সরাসরি আলোচনা হয়নি। তাদের বক্তব্য, কেবলমাত্র বিভিন্ন দেশের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, কিন্তু কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, টানা একত্রিশ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্যে তারা আত্মরক্ষাতেই মন দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে আমেরিকার দেওয়া পনেরো দফা শর্তের বেশিরভাগই মেনে নিয়েছে ইরান। তিনি জানান, আলোচনা দ্রুত এগোচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশাবাদী তিনি। তাঁর কথায়, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।কিন্তু ইরানের তরফে এই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তেহরানের এই অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মার্চ ৩১, ২০২৬
বিদেশ

ইজরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রের কাছে ভয়াবহ হামলা! আতঙ্কে বিশ্ব, তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষের আবহে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল। ইজরায়েলের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান। ডিমোনা এবং আরাদ এলাকার দুই পরমাণু কেন্দ্রের কাছাকাছি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হামলার পর থেকেই তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ানোর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, শনিবার রাতে প্রথমে ডিমোনার শিমন পেরেস নেগেভ পরমাণু কেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। কিছুক্ষণ পর আরাদ এলাকার আর একটি পরমাণু কেন্দ্রের দিকেও হামলা চালানো হয়। তবে সরাসরি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি ক্ষেপণাস্ত্রগুলি। তার বদলে কাছাকাছি বহুতল আবাসনে আঘাত হানে, ফলে বহু বাড়ি ভেঙে পড়ে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।এই হামলার পর ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ছড়ানোর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও তার সত্যতা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি আছড়ে পড়ে। এই হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।প্রসঙ্গত, এর আগে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ইজরায়েল। সেই ঘটনারই পালটা জবাব হিসেবে এই হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মার্চ ২২, ২০২৬
বিদেশ

ইরান ভেঙে পড়ছে! আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় কার্যত শেষ পরমাণু শক্তি, দাবি নেতানিয়াহুর

ইরানকে ঘিরে চলা যুদ্ধে নতুন করে বড় দাবি করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকাকে এই যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়ো। তাঁর কথায়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিজে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁকে কেউ প্রভাবিত করতে পারে না।একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে এই যুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রয়েছে এবং তারা খুব দ্রুত নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করছে। তাঁর দাবি, টানা কুড়ি দিনের হামলার ফলে ইরান এখন আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে না, এমনকি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সামর্থ্যও অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে।নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের মিসাইল ও ড্রোন শক্তি কার্যত ধ্বংসের মুখে। এখন মূলত সেই সব কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখান থেকে এই অস্ত্র তৈরি হত। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।তিনি আরও দাবি করেন, ইরান এখন আগের থেকে অনেক দুর্বল, আর ইজরায়েল এই অঞ্চলের শক্তিশালী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। প্রয়োজন হলে এই অভিযান আরও দীর্ঘ সময় চলবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।এদিকে, নেতানিয়াহুর সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীনই ইরান ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ইজরায়েলের সেনাবাহিনীও জানায়, নতুন করে হামলা হয়েছে তাদের দিকে।ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই হামলা ইজরায়েল নিজের সিদ্ধান্তেই চালিয়েছিল। তবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভবিষ্যতে এমন হামলা না করার অনুরোধ করেছেন, তাই আপাতত সেই সিদ্ধান্ত মেনে চলছে ইজরায়েল।নেতানিয়াহু আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। কিন্তু সেই কৌশল সফল হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ যে আরও জটিল আকার নিতে পারে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্চ ২০, ২০২৬
বিদেশ

পাঁচ হাজার পাউন্ডের বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা! ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি

হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের উপকূল অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিতে বড়সড় হামলা চালিয়েছে আমেরিকার সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, এই হামলায় শক্তিশালী বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করা হয়েছে, যার ওজন প্রায় পাঁচ হাজার পাউন্ড।আমেরিকার কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই বোমাগুলি এমনভাবে তৈরি, যা মাটির নিচে বা শক্তভাবে সুরক্ষিত ঘাঁটি ধ্বংস করতে পারে। তারা জানিয়েছে, ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।আমেরিকার দাবি, ওই এলাকায় থাকা জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় বিপদ তৈরি করছিল। তাই সেই হুমকি দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ন্যাটোর বেশিরভাগ দেশ এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে চায় না। যদিও তারা আমেরিকার পদক্ষেপকে সমর্থন করছে, তবুও সামরিকভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না।ট্রাম্প বলেন, সবাই আমেরিকার সঙ্গে একমত হলেও সাহায্য করতে চায় না, যা তাঁর কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, এই অবস্থানের জন্য তিনি মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেবেন কি না।এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হরমুজ প্রণালী নিরাপদ করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে।কিন্তু জার্মানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই সংঘাতে অংশ নেবে না। ফ্রান্সও জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনও সামরিক পদক্ষেপে যাবে না।অন্যান্য দেশগুলিও এই বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি, ফলে আমেরিকা কার্যত একাই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে চলা যুদ্ধের কারণে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহে বড় প্রভাব পড়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

মার্চ ১৮, ২০২৬
বিদেশ

বন্ধু দেশ পাশে নেই, ক্ষোভে বিস্ফোরণ ট্রাম্পের, বললেন আমাদের কাউকে দরকার নেই

বিপদের সময়ে কে সত্যিই পাশে থাকে, সেই প্রশ্নই যেন সামনে এনে দিল হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই ডাকে সাড়া দেয়নি কোনও দেশই। এরপরেই সোশ্যাল মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জানান, আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ এবং তাদের কাউকে প্রয়োজন নেই।ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের উপর হামলা চালানোর পর থেকেই উত্তেজনা বেড়েছে। পালটা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালী কার্যত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে। আমেরিকাতেও তার প্রভাব পড়ছে এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে।এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হরমুজে রণতরী পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি ন্যাটোর সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু কোনও দেশই তার প্রস্তাবে আগ্রহ দেখায়নি।এরপরেই ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার শক্তিশালী সেনাবাহিনী রয়েছে এবং তারা নিজেরাই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, তিনি আসলে দেখতে চেয়েছিলেন, তার ডাকে অন্য দেশগুলি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। তার দাবি, অনেক সময় প্রয়োজনের মুহূর্তে এই দেশগুলি পাশে থাকে না।তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা বিভিন্ন দেশকে আর্থিক সাহায্য দিয়ে এসেছে। তবুও এই পরিস্থিতিতে তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেনের মতো দেশের নাম উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু কেউই এগিয়ে আসেনি। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনা হয়নি। তবে ইরানের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং নিজেদের জ্বালানিবাহী জাহাজ নিরাপদে পার করার চেষ্টা চালাচ্ছে।সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতিতে বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা কিছুটা একা হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা এখনও বজায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মার্চ ১৭, ২০২৬
বিদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র সংঘাত! ইরানের খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ বোমাবর্ষণের দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের আবহে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরানের খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ চালিয়েছে আমেরিকার সেনা। তিনি এই হামলাকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বোমাবর্ষণ বলে উল্লেখ করেছেন।নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় ট্রাম্প জানান, তাঁর নির্দেশে আমেরিকার কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এই হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে থাকা সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।তবে তিনি এটাও জানান, এখনও পর্যন্ত ওই দ্বীপের তেল শোধনাগারে হামলা করা হয়নি। কিন্তু যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সেখানেও হামলা করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় তেত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আয়তনে খুব বড় না হলেও এই দ্বীপই ইরানের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই ইরান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অপরিশোধিত তেল পাঠায়। তাই এই দ্বীপে বড় আঘাত মানেই ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা বলে মনে করা হয়।এর মধ্যেই আমেরিকার প্রশাসনের দাবি, ইরানের অন্তত পনেরো হাজার সামরিক ঘাঁটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েল একসঙ্গে হামলা চালিয়েছে। তাদের আরও দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিরাপত্তার কারণে গোপন স্থানে চলে গিয়েছে। এমনকি দেশের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে খার্গ দ্বীপে হামলার খবর সামনে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে হরমুজ দিয়ে কোনও তেলবাহী জাহাজকে যেতে দেওয়া হবে না।ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বাইরে এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না। এর জবাবে আমেরিকার পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়া হবে।এই অবস্থায় খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি সামনে আসায় সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

মার্চ ১৪, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ কি আমেরিকার মাটিতেও? ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করল এফবিআই

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সেই সংঘাতের আঁচ এবার আমেরিকার মাটিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই। সংস্থার দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালাতে পারে ইরান। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে সতর্ক করেছে এফবিআই।বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। ইজরায়েল ও আমেরিকার লাগাতার হামলার মুখে ইরানও পালটা আক্রমণ চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিশোধ নিতে ইরান মার্কিন ভূখণ্ডেও হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এফবিআই একটি সতর্কবার্তায় জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ইরান মার্কিন ভূখণ্ডে হঠাৎ হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তখনও আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেনি। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।তবে তদন্তকারীদের উদ্বেগের বড় কারণ হল, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও তাদের হাতে নেই। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার হামলার পরেও পিছু হটতে রাজি নয় ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে পালটা আঘাত হানছে তারা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।খবর পাওয়া গেছে, ইরাকের একটি বাণিজ্য বন্দরে তেলবাহী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়াও কুয়েত, কাতার, আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের দেশেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সেই হামলা প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।এরই মধ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য তিনটি শর্তও দিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রথমত সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর তৃতীয়ত ভবিষ্যতে আর কোনও আগ্রাসন হবে না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিশ্চয়তা দিতে হবে।অন্যদিকে নতুন খবর, ইরাকের একটি বন্দরে আমেরিকার একটি সংস্থার দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও হরমুজ প্রণালীর কাছে ভাসমান একাধিক জাহাজেও হামলার খবর মিলেছে।সৌদি আরব দাবি করেছে, ইরানের হামলায় তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একাধিক হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে কার্যত অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে ইরান। এর ফলে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের উপর যুদ্ধ থামানোর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ১২, ২০২৬
বিদেশ

যুদ্ধ থামাতে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে তিন শর্ত! হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্টের

পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সংঘর্ষ থামার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইতিমধ্যেই যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে আমেরিকা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে এবং কার্যত জয় নিশ্চিত হয়েছে। তাই খুব শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ থামবে কি না তা ঠিক করবে তেহরানই। এই পরিস্থিতিতে সংঘর্ষবিরতির জন্য আমেরিকা ও ইজ়রায়েলকে তিনটি শর্ত দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই শর্তগুলি না মানলে কোনওভাবেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।বুধবার রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যমের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে এই তিনটি শর্তের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি লেখেন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি শান্তির প্রতি ইরানের অঙ্গীকার আবারও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইজ়রায়েল সরকার এবং আমেরিকার শুরু করা এই যুদ্ধের শেষ করার একমাত্র উপায় হল ইরানের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া।অর্থাৎ ইরানের দাবি, তাদের ন্যায্য অধিকার কোনওভাবেই খর্ব করা যাবে না। পাশাপাশি চলতি সংঘর্ষে যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও দিতে হবে।তৃতীয় শর্তটি নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। ইরানের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আবারও হামলা চালাতে পারে ইজ়রায়েল বা আমেরিকা। তাই ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি আর না তৈরি হয়, তার নিশ্চয়তা চাইছে ইরান। এই তিনটি শর্ত মানা হলে তবেই সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তেহরান।অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে চলেছে। তাঁর দাবি, ইরানে আক্রমণ করার মতো প্রায় কিছুই আর বাকি নেই এবং এই যুদ্ধে আমেরিকা অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তাই তিনি চাইলে খুব শিগগিরই যুদ্ধ থামতে পারে।তবে ইরানের এই কড়া অবস্থান নতুন করে চাপ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।এখন প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধ থামাতে ইরানের এই তিন শর্ত কি মেনে নেবে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল? নাকি সংঘাত আরও বাড়বে? মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

মার্চ ১২, ২০২৬
বিদেশ

“ট্রাম্পকে ছাড়ব না” হুমকিতে কাঁপছে বিশ্ব, প্রতিশোধের বার্তা ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তাঁকে এর মূল্য চোকাতে হবে। এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। সরাসরি ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। সেই ঘটনার পর থেকেই ইরানের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিশোধের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটি। দিন যত যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতিও ততই জটিল হয়ে উঠছে।এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে হুমকি দিয়ে লারিজানি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, তাঁদের নেতা খামেনেই এবং দেশের মানুষের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ট্রাম্পকে এর মূল্য দিতেই হবে। শত্রুদের হামলার জবাব ইরান অবশ্যই দেবে বলেও জানান তিনি।লারিজানির দাবি, ইতিমধ্যেই কয়েকজন মার্কিন সেনাকে বন্দি করেছে ইরান। ইরানের এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প তাঁদের নেতাকে হত্যা করেছেন এবং প্রায় এক হাজার ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ইরানেই এখনও পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত পাঁচ দিনে ইরান প্রায় পাঁচশো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজার ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলও ইরানের দুই হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।

মার্চ ০৮, ২০২৬
বিদেশ

শ্রীলঙ্কার কাছে ডুবল ইরানের যুদ্ধজাহাজ! মার্কিন সাবমেরিনের হামলার অভিযোগে তীব্র হুঁশিয়ারি তেহরানের

শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগাছি আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি সাবমেরিন হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই ঘটনার জন্য আমেরিকাকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট IRIS Dena চার মার্চ ভোরে শ্রীলঙ্কার গলের দক্ষিণে প্রায় চল্লিশ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল বলে দাবি তেহরানের। প্রায় একশো তিরিশ জন নাবিক জাহাজে ছিলেন। জাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর অতিথি হিসাবেও এসেছিল বলে জানানো হয়েছে।শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী সূত্রে খবর, ভোর পাঁচটা আট থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে বিপদ সংকেত আসে। জলের নীচে ভয়াবহ বিস্ফোরণে জাহাজের তলায় বড় ফাটল তৈরি হয় এবং দ্রুত জল ঢুকতে শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাহাজটি রাডার থেকে হারিয়ে যায় এবং ডুবে যায়। ঘটনাকে সাবমেরিন থেকে টর্পেডো হামলা বলেই মনে করা হচ্ছে।আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth জানিয়েছেন, একটি মার্কিন সাবমেরিন থেকেই টর্পেডো ছোড়া হয়েছিল। তবে কেন এই হামলা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।উদ্ধারকারীরা গল হাসপাতালে সাতাশি জনের দেহ নিয়ে আসেন। বত্রিশ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় ষাট জন এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। জাহাজে মোট প্রায় একশো আশি জন ছিলেন বলে অনুমান। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার বুদ্ধিকা সম্পথ জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় হলেও বিপদ সংকেত পেয়ে দ্রুত সাহায্য করা হয়।ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটি সম্প্রতি ভারতের আয়োজিত মিলান দুই হাজার ছাব্বিশ নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। বঙ্গোপসাগরে আয়োজিত এই মহড়া আঠারো থেকে পঁচিশ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলেছিল। ভারতীয় নৌবাহিনী বিশাখাপত্তনমে জাহাজটিকে স্বাগত জানিয়েছিল এবং ভারত-ইরানের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছিল।এই ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হয়েছে। তবে জাহাজটি ডুবেছে উপসাগর থেকে বহু দূরে, ভারত মহাসাগরের গভীর জলে। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, এই ঘটনা সংঘাতকে নতুন দিকে ছড়িয়ে দিতে পারে এবং ভারতের সামুদ্রিক অঞ্চলেও তার প্রভাব পড়তে পারে।সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই নৌ-হামলা ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনার জবাব দেওয়া হবে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে একাধিক দেশ।

মার্চ ০৫, ২০২৬
বিদেশ

খামেনেইয়ের পর যেই হোক নেতা, তাকেই খতম! সরাসরি হত্যার হুমকি ইজরায়েলের

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। খামেনেইয়ের উত্তরসূরি যিনিই হোন না কেন, তাঁকে হত্যা করা হবেএই ভাষাতেই প্রকাশ্য হুমকি দিল ইজরায়েল।বুধবার ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্জ সমাজমাধ্যমে লেখেন, ইরান যাঁকেই সর্বোচ্চ নেতা করবে, তাঁকেই ইজরায়েল শেষ করে দেবে। তাঁর দাবি, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ইজরায়েল এবং আমেরিকার জন্য বিপজ্জনক হবেন। পাশাপাশি, তাঁর নেতৃত্বে ইরানের সাধারণ মানুষের উপর দমনপীড়ন চলবে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।কাট্জ জানান, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তিনি ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজন হলে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতাকে টার্গেট করে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার সহযোগিতায় ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার অভিযান চালানো হবে।ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেই-এর নাম জোরালো ভাবে শোনা যাচ্ছে। যদিও তেহরান সরকার এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।গত শনিবার সকালে তেহরানে খামেনেইয়ের দপ্তরে হামলার ঘটনা ঘটে। সেই হামলায় খামেনেই-সহ অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ ইরানি আধিকারিক নিহত হন বলে খবর। নিহতদের মধ্যে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এর পর ইরানের প্রেসিডেন্ট একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেন এবং তাদের হাতে শাসনভার তুলে দেন। একই সঙ্গে নতুন সর্বোচ্চ নেতা বাছাইয়ের দায়িত্বও দেওয়া হয় সেই কাউন্সিলকে।এই পরিস্থিতিতেই মোজতবা খামেনেইকে পরবর্তী নেতা করা হতে পারে বলে জল্পনা ছড়ায়। আর সেই জল্পনার মাঝেই নতুন নেতাকে হত্যার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও বিস্ফোরক করে তুলল ইজরায়েল। ফলে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
বিদেশ

খামেনেইয়ের পর ক্ষমতায় তাঁরই ছেলে! ইরানে কি শুরু হল নতুন অধ্যায়?

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করা হল আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতাবা খামেনেইয়ের নাম। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস তাঁকেই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। সম্প্রতি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতোল্লা খামেনেই। ওই হামলায় তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যেরও মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তারপর থেকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কে নেবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল।খামেনেই মৃত্যুর আগে কোনও উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করে যাননি। তাঁর মৃত্যুর পর তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়। সেই কাউন্সিলে ছিলেন আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রধান বিচারপতি মোহসেনি এজেই। অন্তর্বর্তী দায়িত্ব সামলাচ্ছিল এই পরিষদ। আয়াতোল্লা আলিরেজা আরাফি অস্থায়ী ভাবে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন। শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদের সিদ্ধান্তে মোজতাবা খামেনেইকেই স্থায়ী সুপ্রিম লিডার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে খবর।ছাপ্পান্ন বছর বয়সি মোজতাবা দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত। জানা যায়, তিনি ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে যুক্ত এবং একাধিক শিয়া সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে চলমান যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও তাঁর হাতেই থাকবে।সুপ্রিম লিডারের দৌড়ে আরও কয়েকটি নাম ঘুরছিল। আলি লারিজানির নাম নিয়েও জল্পনা ছিল। তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আরেকটি বড় জল্পনা ছিল, ইরানে কি রাজতন্ত্র ফিরে আসতে পারে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পেহলভির নামও আলোচনায় উঠে আসে। শোনা যাচ্ছিল, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রেজা পেহলভিকে সমর্থন করতে পারেন। এমনকি তাঁকে ইরানে ফেরানোর চেষ্টাও হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছিল।তবে শেষ পর্যন্ত সেই সব জল্পনায় ইতি টেনে মোজতাবা খামেনেইয়ের হাতেই ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা তুলে দেওয়া হল। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
বিদেশ

বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র! বুশেহরে হামলার পর থমকাল রাশিয়ার পারমাণবিক কাজ

ইজরায়েলের লাগাতার হামলায় ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এল। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, বুশেহর শহরের বিমানবন্দরে ইজরায়েলি হামলায় মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা ইরান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে।বুশেহর শহর পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত। এই শহরেই রয়েছে ইরানের একমাত্র কার্যকর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিমানটি হামলার সময় পরিষেবায় ছিল কি না বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।ইরানের অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর মেহরাবাদও হামলার মুখে পড়েছে বলে খবর। মূলত অভ্যন্তরীণ উড়ান পরিচালনা করা হয় এই বিমানবন্দর থেকে। স্থানীয় সংবাদসংস্থার প্রকাশিত ছবিতে রানওয়ের পাশ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। চলতি হামলার পর্বে একাধিক বিমান চলাচল কেন্দ্র টার্গেট হওয়ায় বেসামরিক বিমান পরিষেবা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা বুশেহরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন ইউনিট নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা করেছে। সংস্থার প্রধান আলেক্সেই লিখাচেভ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ইউনিটের নির্মাণস্থলে কাজ আপাতত থামানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানে চলা সামরিক অভিযানের ফলে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুমান করা কঠিন। তবে রুশ কর্মীরা সেখানেই থাকবেন এবং এই প্রকল্প তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে।লিখাচেভ আরও জানান, পারমাণবিক কেন্দ্রের কয়েক কিলোমিটার দূরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যদিও কেন্দ্রটিকে সরাসরি টার্গেট করা হয়নি। বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হলেও নির্মাণস্থলে কর্মরত সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।রাশিয়ার দাবি, ইরানে এখনও ছয়শোরও বেশি রুশ কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হামলা শুরু হওয়ার পর প্রায় একশো কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আকাশপথে হামলা সাময়িক থামলেই আরও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে।ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত যে ক্রমশ সামরিক ক্ষেত্র ছাড়িয়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক প্রকল্পগুলিকেও প্রভাবিত করছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

মার্চ ০৪, ২০২৬
দেশ

মাঝ আকাশে মৃত্যুভয়! ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের বিভীষিকা শুনে শিউরে উঠছেন ফিরতি ভারতীয়রা

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আগুনে জ্বলতে থাকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বহু ভারতীয়। কিন্তু স্বদেশে পা রাখার পরও তাঁদের চোখে-মুখে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাপ। সাইরেনের শব্দ, আকাশে মিসাইলের ঝলক, মোবাইলে একের পর এক সতর্কবার্তা সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনের অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে ফিরছে তাঁদের।মঙ্গলবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে অনেকেই জানালেন, মাঝ আকাশেও তাঁরা ভয়ে সিঁটিয়ে ছিলেন। কেউ বললেন, এখন দেশে ফিরেও আতঙ্ক কাটছে না। তবে নিজের দেশে ফেরার স্বস্তির সঙ্গে কোনও কিছুর তুলনা হয় না বলেও জানান তাঁরা।শনিবার থেকে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ কার্যত আকাশপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একের পর এক বিমান সংস্থা উড়ান বাতিল করে। বেড়াতে বা কাজে গিয়ে আটকে পড়েন বহু ভারতীয়। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অজানা আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় তাঁদের। সেলেব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ, হঠাৎ যুদ্ধের মুখে সবাই এক সারির পথিক হয়ে যান।পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই মঙ্গলবার সকাল থেকে আংশিকভাবে উড়ান পরিষেবা চালু করে এয়ার ইন্ডিয়া। দুবাই থেকে একটি বিমানে অন্তত দেড়শো যাত্রী দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু ও অভিনেত্রী ইশা গুপ্তাও।দুবাই থেকে ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, ফোনে বারবার সতর্কবার্তা আসছিল। মাঝেমধ্যে সাইরেন বেজে উঠত। তখনই বোঝা যেত কোথাও মিসাইল ছোড়া হয়েছে। চারপাশে অনিশ্চয়তা আর ভয়। কেউ বলেন, পকেটে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকাও কঠিন। দেশে ফিরেও সেই দুঃস্বপ্নের রেশ কাটাতে সময় লাগবে বলে জানান অনেকে।মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি যে শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন দেশে ফেরা ভারতীয়রা।

মার্চ ০৪, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
টুকিটাকি

কাঁচা কুমড়ো না পাকা কুমড়ো, কোনটি বেশি উপকারী?

কুমড়ো বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সবজি। কাঁচা সবুজ কুমড়ো হোক বা পাকা হলুদ-কমলা কুমড়ো, দুটিরই রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। তবে পরিপক্বতার সঙ্গে কুমড়োর পুষ্টি উপাদানে কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে পাকা কমলা কুমড়ো বিটা-ক্যারোটিনের অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে পরিচিত।কাঁচা কুমড়োতে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন C-এর পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। এতে ক্যালোরিও কম, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণের খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। কিছু জাতের অপরিপক্ব কুমড়োতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকারিতাও দেখা যায়। তবে কাঁচা কুমড়ো রান্না করে খাওয়াই ভালো, কারণ তাতে হজম সহজ হয়।অন্যদিকে, পাকা হলুদ বা কমলা কুমড়োর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রচুর বিটা-ক্যারোটিন। শরীর এই উপাদানকে ভিটামিন A-তে রূপান্তর করে। ফলে চোখের স্বাস্থ্য, ত্বক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে পাকা কুমড়ো উপকারী। এতে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। রান্না করলে কুমড়োর বিটা-ক্যারোটিন শরীর তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে।কুমড়োকে ক্যানসারের ওষুধ বা নিশ্চিত প্রতিরোধক বলা যায় না। তবে এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড, পলিফেনল, ভিটামিন C ও E এবং খাদ্যআঁশ শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কুমড়ো খাওয়া উপকারী হতে পারে।কুমড়োর বীজেও রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি, জিঙ্ক, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন E। হৃদ্স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য এগুলি গুরুত্বপূর্ণ।পুষ্টিগত বিচারে বিটা-ক্যারোটিনের জন্য পাকা কমলা কুমড়ো কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কাঁচা কুমড়োকেও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কারণ নেই। অল্প তেলে রান্না করে, অতিরিক্ত ভাজা বা চিনি এড়িয়ে কুমড়ো খাওয়াই ভালো। সব মিলিয়ে, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে কুমড়ো রাখলেই মিলবে বেশি সুষম পুষ্টি।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

ওয়াকফ-অশান্তির মামলায় নাম, এবার তৃণমূল ছেড়ে অধীরের হাত ধরে কংগ্রেসে ইনজামুল! কেন এই দলবদল?

ওয়াকফ সংশোধিত আইনকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বিতর্কে ছিলেন ধুলিয়ানের পুরপ্রধান ইনজামুল ইসলাম রাজা। এবার সেই ইনজামুলই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। রবিবার প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। তাঁর এই দলবদল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।গত বছর সংশোধিত ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানে অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনায় ইনজামুল ইসলাম রাজার বিরুদ্ধে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সেই মামলা চলছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইনজামুল। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।রবিবার ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলা ঘাটে কংগ্রেসের যোগদান সভায় বড়সড় দলবদল হয়। ইনজামুল ইসলাম রাজার পাশাপাশি ধুলিয়ান পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, কাউন্সিলর শরিফ শেখ, ফারহানা খাতুন-সহ একাধিক কাউন্সিলর এবং তৃণমূলের কর্মীরা কংগ্রেসে যোগ দেন। একই দিনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহকারী সভাধিপতি ওবায়দুর রহমানও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।ইনজামুলের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি মিলন ঘোষ কটাক্ষ করে দাবি করেন, তৃণমূলের দুর্নীতি থেকে বাঁচতেই অনেকে দলবদল করছেন। সামশেরগঞ্জের অশান্তিতে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁরাও নিজেদের বাঁচাতে দল পরিবর্তন করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে দলবদল করেও তাঁরা আইনি পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবেন না বলেও দাবি করেন বিজেপি নেতা।বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি খারিজ করেছেন ইনজামুল ইসলাম রাজা। তাঁর দাবি, সামশেরগঞ্জের অশান্তির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের এই ভাঙন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ধুলিয়ান পুরসভার একাধিক জনপ্রতিনিধির একসঙ্গে দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ওয়াকফ-অশান্তির মামলা চলার মধ্যেই ইনজামুলের কংগ্রেসে যোগদান ঘিরে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।এ দিনের যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী, দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী, ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং জঙ্গিপুর মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি আলফাজুদ্দিন বিশ্বাস-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের কংগ্রেস নেতৃত্ব।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

হঠাৎ বাংলায় এত বড় বিনিয়োগ! জাহাজ শিল্পে পাঁচ প্রকল্পের সূচনায় বাড়ল আশার আলো

পশ্চিমবঙ্গে জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের ভবনে পাঁচটি সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই পাঁচটি প্রকল্পে মোট ৩৪০৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে রাইচক CPR, টিম্বার পন্ট শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, দামোদর শিপবিল্ডিং ফ্যাসিলিটি, রেডিয়াল ফোরজিং প্ল্যান্ট এবং ৩০০০ টন ওপেন-ডাই ফোরজিং প্রেস প্রকল্প। জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে বাংলায় বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় জমি, দক্ষ মানবসম্পদ, পরিকাঠামো এবং কাঁচামাল রয়েছে। এতদিন এই সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করলে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের আমলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের ফলে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ছে।সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য জমি দেওয়া কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বলেই মন্তব্য করেন তিনি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় জমির প্রায় ৯০ শতাংশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জনগণনা সংক্রান্ত কাজও ফের শুরু হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যে বেকারত্ব কমাতে শিল্পায়ন এবং বড় বিনিয়োগের উপর জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্সের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার জমি এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ৩৪০৪ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ দিয়েই উদ্যোগ শেষ নয়, আগামী দিনে বাংলায় আরও বড় বিনিয়োগ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।জাহাজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি এই ধরনের শিল্প প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাকে ফের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
কলকাতা

মহাকাশে বদলে যাচ্ছে ভারতের ছবি! স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে কী বললেন মোদী?

জাতীয় মহাকাশ দিবসে দেশের মহাকাশ ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার দেশের প্রথম সারির মহাকাশ স্টার্টআপগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে স্টার্টআপগুলির উদ্যম, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নতুন ভাবনার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন আরও সহজ করতে মহাকাশ প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বার করার পরামর্শ দেন তিনি।মোদী বলেন, মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু প্রচলিত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সেই বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি।ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্টার্টআপ প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করে তিনি সরকারি নীতির ধারাবাহিকতার উপর জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের সিদ্ধান্তের উপর মহাকাশ ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।বিশ্বের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন মোদী। তাঁর আশা, আগামী দিনে মহাকাশ ক্ষেত্রে কোনও বড় প্রযুক্তিগত সাফল্য এলেই বিশ্বের নজর ভারতের স্টার্টআপগুলির দিকে ঘুরবে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যেন বিশ্ব মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোতে হবে বলে বার্তা দেন তিনি।মহাকাশ স্টার্টআপ, মহাকাশ সংস্থা এবং বৃহত্তর প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে কাজ করা ভারতীয় দক্ষ পেশাদারদের দেশে ফিরে আসার প্রবণতাকেও ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতে এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ মানুষ মহাকাশ ক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার জন্য ভারতকে অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে বেছে নেন।মোদীর বক্তব্য, ভারতীয় মহাকাশ স্টার্টআপগুলির দ্রুত বৃদ্ধি আগামী দিনে বিশ্বের প্রতিভাবান পেশাদারদের আকৃষ্ট করতে পারে। শুধু দেশের প্রতিভা নয়, গোটা বিশ্বের দক্ষ মানুষকে ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এগোতে হবে। জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
রাজ্য

আবার নিম্নচাপের চোখরাঙানি! রবিবার থেকে মঙ্গলবার ভিজবে বাংলা, কোথায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা?

রবিবার থেকেই বাংলার আবহাওয়ায় ফের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। উপকূলের দিকে ইতিমধ্যেই মেঘ ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে রবিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলতে পারে।গত সপ্তাহে নিম্নচাপের জেরে প্রবল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কলকাতা-সহ প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছিল। বহু জায়গায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ফের একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসে এটি তৃতীয় নিম্নচাপ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নতুন নিম্নচাপটি বাংলা ও ওড়িশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বেশি হতে পারে। কলকাতায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে নিম্নচাপের মূল প্রভাব পড়তে পারে ওড়িশা এবং ছত্তীসগঢ়ে।দক্ষিণবঙ্গের পর মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।বৃহস্পতিবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে সপ্তাহের শুরু থেকেই ফের বৃষ্টির দাপট দেখা দিতে পারে বাংলায়। নতুন নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তি বদলালে বৃষ্টির পূর্বাভাসেও পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক বাইচুংয়ের, ‘স্থানীয় রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল! যুবভারতীর ম্যাচ ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারত বনাম ব্রাজিলের বহু প্রতীক্ষিত ফুটবল ম্যাচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ভারতের মাঠে নামার খবরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বিতর্কও। একদিকে এই ম্যাচ আয়োজনকে ঘিরে বিপুল খরচ এবং দেশের ফুটবল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এর জন্য ঘরোয়া ফুটবল সূচি ও জাতীয় দলের পরিকল্পনায় প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।এই পরিস্থিতিতেই ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি বাইচুং ভুটিয়া সরাসরি ব্রাজিল ম্যাচ বয়কটের ডাক দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি মাত্র প্রদর্শনী ম্যাচের পিছনে বিপুল অর্থ খরচ না করে সেই টাকা দীর্ঘমেয়াদি ভাবে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত। বাইচুংয়ের মতে, এমন ম্যাচের পিছনে অর্থ ব্যয় করলে তা দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নেওয়ার বদলে উল্টে পিছিয়ে দিতে পারে।বাইচুংয়ের কথায়, ম্যাচ বয়কট করলে একটি স্পষ্ট বার্তা যাবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় ম্যাচ আয়োজনের আগে ফেডারেশনকে আরও সতর্ক হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিপুল খরচ, প্রশ্নের মুখে ঘরোয়া ফুটবলকলকাতায় ব্রাজিলকে নিয়ে ম্যাচ আয়োজন করতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ব্রাজিলের পর্যবেক্ষক দল যুবভারতী পরিদর্শনও করেছে। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো নিয়ে তাদের তরফে কিছু উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে।এর পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারতীয় ফুটবলের ঘরোয়া কাঠামো নিয়ে। ব্রাজিল ম্যাচকে কেন্দ্র করে আইএসএলের সূচি পিছিয়ে যাওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে ক্লাবগুলির প্রস্তুতি এবং গোটা মরসুমের পরিকল্পনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।অন্যদিকে ফিফা এশিয়ান কাপের বিষয়টিও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং অন্যান্য সূচির সংঘাতের কারণে ভারত এশিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ব্রাজিল ফুটবল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের কাছে নেই বলেই জানানো হয়েছে।বাইচুংয়ের প্রশ্নএক ম্যাচের জন্য এত টাকা কেন?বাইচুং ভুটিয়ার যুক্তি, ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের ম্যাচ নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই আবেগের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ভাবতে হবে।তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এত বড় অঙ্কের অর্থ হাতে থাকে, তবে তা আগামী কয়েক বছরের জন্য দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো, প্রতিভা অন্বেষণ, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরিতে বিনিয়োগ করা যায় না কেন? তাঁর মতে, সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কমনওয়েলথ গেমস বা অলিম্পিক্সের মতো মঞ্চে পদক পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।এবার পাল্টা বার্তা ব্রাজিলেরভারতীয় ফুটবল মহলে যখন ম্যাচ বয়কট নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন ব্রাজিলের ফুটবল কর্তাদের বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে এই ম্যাচ নিয়ে কী ধরনের বিতর্ক চলছে, তা নিয়ে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ বিশেষ চিন্তিত নয়। ম্যাচের সূচি পরিবর্তনেরও কোনও সম্ভাবনা নেই।বয়কট নিয়ে ব্রাজিলের তরফে বিশেষ মাথাব্যথা নেই বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বরং এই ধরনের বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনৈতিক বা অভ্যন্তরীণ বিতর্কের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি।এশিয়ান কাপ থেকে ভারতের নাম প্রত্যাহারের বিষয়েও ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ফুটবল পরিস্থিতির সঙ্গে ব্রাজিলের কলকাতা সফরকে যুক্ত করার কোনও কারণ দেখছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ভারত আমাদের সমর্থন করেছে, বলছে ব্রাজিলব্রাজিল দলের পক্ষ থেকে রড্রিগো কেতানোও এই ম্যাচের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুরভারত বিশ্বকাপের সময়ে ব্রাজিলকে যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য তারা কৃতজ্ঞ। কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনকে তাই শুধু বাণিজ্যিক বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে দেখছে না ব্রাজিল।ব্রাজিলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ম্যাচে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দিতে চায়। অর্থাৎ ভারতের মাটিতে এসে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা সারাই তাদের লক্ষ্য নয়; বরং ভালো পারফরম্যান্স করে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলতে চায় তারা।স্টিমাচের কটাক্ষেও বাড়ছে বিতর্কব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ভারতের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচও। তাঁর বক্তব্য, দেশের ঘরোয়া লিগ এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনার মধ্যে এখনও প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য তৈরি হয়নি। সেই সমস্যা সমাধান না করে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার মতো দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ আয়োজন করা হলে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য উল্টে অস্বস্তির কারণ হতে পারে।অর্থাৎ একদিকে বাইচুংয়ের আর্থিক অগ্রাধিকারের প্রশ্ন, অন্যদিকে স্টিমাচের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামো নিয়ে অভিযোগসব মিলিয়ে ৩ অক্টোবরের ম্যাচ এখন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচে সীমাবদ্ধ নেই।ম্যাচ হবে, বিতর্কও চলবে?একদিকে ব্রাজিলের মতো দলের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে ভারতকে দেখার স্বপ্নে ফুটবলপ্রেমীরা উত্তেজিত। অন্যদিকে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ, বিপুল খরচ, আইএসএলের সূচি এবং জাতীয় দলের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচেরা।ব্রাজিলের তরফে অবশ্য এখনও পর্যন্ত বার্তা স্পষ্টতারা ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত এবং সূচি বদলের কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিতর্কও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মাঠের ৯০ মিনিট কি সমস্ত বিতর্ককে ছাপিয়ে যেতে পারে, নাকি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই প্রশ্নগুলি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

আগস্ট ২২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal