মেষ/ ARIES: আজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে। বৃষ/ TAURUS: ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিতে পারে।মিথুন/ GEMINI : পরিবারে সম্পত্তি বিরোধ দেখা দিতে পারে। কর্কট/ CANCER : বেহিসাবি খরচ করে ফেলতে পারেন। সিংহ/ LEO: কোনও কারণে বিপর্যয় আসতে পারে। কন্যা/ VIRGO: কূটনৈতিক ক্ষেত্রে জয় হতে পারে। তুলা/ LIBRA: আজ ভোগবিলাসে মেতে থাকতে পারেন। বৃশ্চিক/ Scorpio: কোনও গোপন কথা ফাঁস হয়ে যেতে পারে। ধনু/ SAGITTARIUS: অযথা চিন্তা দেখা দিতে পারে। মকর/ CAPRICORN: সৃষ্টিশীল কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন।কুম্ভ/ AQUARIUS: শরীরে কোনও অসুখ দেখা দিতে পারে। মীন/ PISCES : কোনও কারণে অনুশোচনা দেখা দিতে পারে।
টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় নারী শক্তির দাপট। ভারোত্তোলনে পদক জিতে দেশে ফিরে এসেছেন মীরাবাই চানু। বক্সার লাভলিনা বরগোঁহাইয়ের বক্সিংয়ে পদক নিশ্চিত করেছেন। এবার পদকের দিকে পিভি সিন্ধুও অনেকটাই এগিয়ে গেলেন।২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকের রুপোজয়ী ভারতীয় শাটলার সিন্ধু এদিন কোয়ার্টার ফাইনালে হারালেন চতুর্থ বাছাই জাপানের আকানে ইয়ামাগুচিকে। সিন্ধু জেতেন ২১-১৩, ২২-২০ ব্যবধানে। এদিনের আগে ১৮টি সাক্ষাতেই ইয়ামাগুচি পরাস্ত হয়েছিলেন সিন্ধু কাছে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না।বিশ্বের ষষ্ঠ বাছাই সিন্ধু প্রথম গেমে আগাগোড়া দাপট বজায় রাখেন। ইয়ামাগুচিও যথেষ্ট ভালোই টক্কর দিচ্ছিলেন ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকার সঙ্গে। কিন্তু সিন্ধুর সঙ্গে পেরে উঠছিলেন না। ২৩ মিনিটে প্রথম গেম জিতে নেন ২১-১৩ ব্যবধানে। দ্বিতীয় গেমের প্রথম দিকেও সমানে সমানে টক্কর দিতে থাকেন ইয়ামাগুচি। কিন্তু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সিন্ধু দাপট দেখাতে থাকেন। দ্বিতীয় গেমের মাঝামাঝি অবস্থাতেও সিন্ধু এগিয়ে ছিলেন ১১-৬ ব্যবধানে। এরপর দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে এসে সমতা ফেরান ইয়ামাগুচি। ১৫-১৫ করে ফেলেন ইয়ামাগুচি, পরে এগিয়েও যান। যদিও স্নায়ুযুদ্ধ জিতে শেষ হাসি হাসেন সিন্ধু। খেলার ফল ২১-১৩, ২২-২০। ৩১ জুলাই তাঁর সেমিফাইনাল ম্যাচ। তবে শীর্ষ বাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে না সেমিফাইনালে।
কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। পুল এ-তে কত নম্বর স্থান দখল করে, সেটাই ছিল দেখার। জাপানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে টোকিও অলিম্পিকের হকির শেষ আটে ভারত। টানা ৩ ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে গেল।অলিম্পিকে ভারতের সবচেয়ে বেশি সাফল্য হকিতেই। অথচ ১৯৮০ সালের অলিম্পিকে সোনা জেতার পর আর পদকই আসেনি।একের পর এক অলিম্পিকে শুধুই ব্যর্থতায় হতাশ হতে হয়েছে ভারতীয় হকিকে। এবার মনপ্রীতরা ৪১ বছরের পদকের খরা মেটাতে পারেন কিনা সেদিকেই সকলের নজর।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-২ গোলে জয় দিয়ে টোকিও অলিম্পিক অভিযান শুরু করেছিল ভারত। তারপর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৭-১ ব্যবধানে হার। অনেকেই মনপ্রীতদের নিয়ে সংশয়ে ছিলেন। তবে স্পেনকে তিন গোলে হারানোর পর শক্তিশালী আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে ৩-১ গোলে জয় ভারতের জায়গা সুনিশ্চিত করে দেয় অলিম্পিক হকির কোয়ার্টার ফাইনাল।এদিন প্রথম কোয়ার্টারে ভারত এগিয়ে ছিল ১-০ গোলে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারতের লিড গিয়ে হয় ২-১। তৃতীয় কোয়ার্টারে ফল ছিল ৩-২। চতুর্থ কোয়ার্টারে হল সবচেয়ে বেশি গোল। এর ফলে ৫-৩ গোলে জিতে পুল এ-র দুইয়ে থেকে শেষ আটে জায়গা পাকা করলেন মনপ্রীতরা।১৭ ও ৫৬ মিনিটে ম্যাচে জোড়া গোল করেন গুরজন্ত সিং। ১৩ মিনিটে প্রথম গোলটি করেছিলেন হরমনপ্রীত সিং। এ ছাড়া ৩৪ মিনিটে শমশের সিং ও ৫১ মিনিটে নীলকান্ত শর্মাও গোল করে দলের জয়ে অবদান রাখেন।গ্রুপ পর্যায়ের খেলার শেষে পুল এ-র শীর্ষে রইল অস্ট্রেলিয়া। পাঁচটির মধ্যে চারটিতে জিতে ভারত রইল দুইয়ে। অস্ট্রেলিয়া চারটি ম্যাচে জিতেছে এবং একটি ড্র করেছে। প্রতি পুলে ছটি করে দলের মধ্যে থেকে চারটি করে দল পৌঁছায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ভারতের পরের প্রতিপক্ষ অবশ্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি।হকিতে ভারত শেষ অলিম্পিক সোনা জিতেছিল ১৯৮০ সালে। ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে পঞ্চম, ১৯৮৮-র সিওল অলিম্পিকে ষষ্ঠ, ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে সপ্তম, ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে ভারত অষ্টম স্থানে শেষ করেছিল হকিতে। ২০০০ সালে সিডনি ও ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে ভারত হকিতে ছিল সপ্তম স্থানে। ২০০৮ সালে অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে দ্বাদশ ও ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে ভারতকে অষ্টম স্থানে থেকেই অভিযান শেষ করতে হয়েছিল।
টোকিও অলিম্পিকের শুটিংয়ে ভারতের হতাশা অব্যাহত। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিশ্র বিভাগে ব্যর্থতার পর মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তলের যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকেই ছিটকে গেলেন ভারতীয় শুটাররা। মানু ভাকের কিছুটা লড়াই করলেও অনেক পিছিয়ে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেন রাহি সার্নোবত ২৫ মিটার পিস্তল ইভেন্টের প্রিসিশন ও র্যাপিড কোয়ালিফিকেশন রাউন্ড মিলিয়ে মোট ৫৮২ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হন মানু। ৪৪ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি শেষ করেন ১১ নম্বরে। অন্যদিকে ৫৭৩ পয়েন্টে থেমে যান রাহি সার্নোবত। তিনি শেষ করেন ৩২ নম্বরে।অলিম্পিক শুটিংয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল। সবথেকে বেশি পদক জয়ের সম্ভাবনা ছিল এই ইভেন্টেই। দলগত, মিশ্র বিভাগে চূড়ান্ত ব্যর্থ ভারতীয় শুটাররা। এর মধ্যেই অলিম্পিকের ষষ্ঠ দিনে ২৫ মিটার এয়ার পিস্তলের মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নেমেছিলেন মানু ভাকের ও রাহি সার্নোবত।রাহি সার্নোবত এই প্রথম টোকিও অলিম্পিকের শুটিং রেঞ্জে কোনও ইভেন্টে নামলেন। মানু ভাকের অবশ্য আগের দলগত ও মিশ্র ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। দুটি বিভাগেই তিনি হতাশ করেছেন। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে প্রিসিশন রাউন্ডে অবশ্য ভাল ফল করলেন। প্রথম দিন প্রিসিশন রাউন্ডে মানু ভাকের মোট স্কোর করেন ২৯২। ছিলেন ৫ নম্বরে। দ্বিতীয় দিনে র্যাপিড ফায়ার রাউন্ডে স্কোর করেন ২৯০। দুই রাউন্ড মিলিয়ে স্কোর ৫৮২।অন্যদিকে, এই ইভেন্টে রাহি সার্নোবতের ওপর প্রত্যাশা বেশি ছিল ক্রীড়াপ্রেমীদের। এই তরুণ মহিলা শুটার প্রিসিশন রাউন্ডের প্রথম দিনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ২৮৭ পয়েন্টে থেমে যান। শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থান হয় ২৫ নম্বরে। র্যাপিড ফায়ার রাউন্ডে তিনি সংগ্রহ করেন ২৮৬। দুই রাউন্ড মিলিয়ে সংগ্রহ করেন ৫৭৩। প্রিসিশন রাউন্ডে পিছিয়ে পড়ায় রাহি সার্নোবতের কাছে ফাইনালে ওঠার কাজ কঠিন হয়ে গিয়েছিল।
অলিম্পিক ভারতকে পদকের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বক্সাররা। আগেরদিন মেরি কম ব্যর্থ হলেও পুরুষের সুপার হেভিওয়েট ক্যাটেগরির প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছেন সতীশ কুমার। শুক্রবার ইতিহাস গড়লেন লাভলিনা বরগোঁহাই। টোকিও অলিম্পিকের মহিলা বক্সিংয়ের সেমিফাইনালে পৌঁছে দেশের হয়ে পদক নিশ্চিত করলেন ভারতের এই বক্সার। ৬৯ কেজি বিভাগের শেষ চারে পৌঁছেছেন লাভলিনা বরগোঁহাই। অলিম্পিকে দিনটা অবশ্য ভারতের কাছে মিশ্রভাবে কাটল। দীপিকা কুমারী তিরন্দাজিতে জিতলেও শুটিং থেকে বিদায় নেন মানু ভাকের ও রাহি সর্নোবত। মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগের বক্সিং থেকে বিদায় নেন সিমরনজিত কাউর। এই পাঞ্জাব তনয়া প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন।সিমরনজিত বিদায় নিলেন পদক নিশ্চিত করেন লাভলিনা বরগোঁহাই। মহিলাদের ৬৯ কেজি ওয়েলটারওয়েট বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ৪-১ ব্যবধানে হারান নিয়েন-চিন চেনকে। লাভলিনা বরগোঁহাই-এর সামনে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি নিয়েন-চিন চেন। সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন লাভলিনা বরগোঁহাই। এখন দেখার এই পদক তিনি সোনা কিংবা রূপো পরিণত করতে পারেন কিনা। সেমিফাইনালে তাঁর সামনে বিশ্বের ১ নম্বর তুরস্কের বুসেঞ্জে সেরমেনলি।অন্যদিকে, মহিলাদের ৬০ কেজি লাইট বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে সিমরনজিত কাউর হারেন সুদাপর্ন সিসন্দির কাছে।
অলিম্পিক তিরন্দাজিতে তাঁকে ঘিরেই পদকের স্বপ্ন দেখেছিল দেশবাসী। মিক্সড ইভেন্টে চূড়ান্ত ব্যর্থ। মহিলাদের রিকার্ভ বিভাগে পদকের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছিলেন দীপিকা কুমারী। পৌঁছে গিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। কোয়ার্টার ফাইনালে চূড়ান্ত আত্মসমর্পণ। রিপাবলিক কোরিয়ার আন সানের কাছে উড়ে গেলেন ৬-০ ব্যবধানে।প্রথম সেট ৩০-২৭ ব্যবধানে জিতে ২-০ পয়েন্টে এগিয়ে যান আন সান। তিনটি শটে স্কোর করেন ১০,১০,১০। দীপিকা করেন ৭,১০,১০। সান দ্বিতীয় সেট জেতেন ২৬-২৪ ব্যবধানে। স্কোর করেন ৯,১০,৭। দীপিকার স্কোর ১০,৭,৭। তৃতীয় সেটেও ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ দীপিকা। ২৬-২৪ ব্যবধানে জিতে নেন আন সান। তাঁর স্কোর ৮,৯,৯। দীপিকার স্কোর ৭,৮,৯।প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দীপিকা হারিয়েছিলেন রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির কসিনা পেরোভাকে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণভাবে শুরু করেন দীপিকা। প্রথম তিন শট থেকে যথাক্রমে ৯, ১০ ও ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। মোট ২৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম সেট জেতেন দীপিকা। রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির কসিনা পেরোভা প্রথম সেট থেকে ২৫ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হন। দ্বিতীয় সেটও দারুণভাবে শুরু করেন দীপিকা। প্রথম দুটি শট থেকে ১০ ও ৯ পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। কিন্তু তৃতীয় শটে মাত্র ৭ পয়েন্ট ঘরে তুলতে সক্ষম হয়। ফলে সবমিলিয়ে ওই সেটে ২৬ পয়েন্ট অর্জন করেন দীপিকা। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় সেট জিতে যান কসিনা দীপিকা।তৃতীয় সেটে দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটান দীপিকা কুমারী। তাঁর প্রথম দুটি শট থেকে ১০ ও ৯ পয়েন্ট অর্জন করে। তৃতীয় শট থেকেও ৯ পয়েন্ট অর্জন করেন দীপিকা। মোট ২৮ পয়েন্ট অর্জন করে ওই সেট জিতে ব্যবধান বাড়ান ভারতীয় আর্চার। চতুর্খ সেটে দুটি ৯ পয়েন্ট জিতলেও তৃতীয় শটে ৮ পয়েন্ট পান। চতুর্থ সেটা দুজনই ২৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। পঞ্চম সেট ২৮-২৫ ব্যবধানে হেরে যান দীপিকা কুমারী।ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। ওয়ান শট টাইব্রেকারের মাধ্যমে ম্যাচের ফয়সালা হয়। রাশিয়া অলিম্পিক কমিটির কসিনা পেরোভা স্কোর করেন ৭। অন্যদিকে দীপিকা ১০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান।
মেষ/ ARIES: পরীক্ষায় সাফল্য আসতে পারে।বৃষ/ TAURUS: অনুশোচনা হতে পারে। মিথুন/ GEMINI : কাজে অনিহা জন্মাতে পারে। কর্কট/ CANCER : বিদ্যার্থীদের জন্য শুভ সময়। সিংহ/ LEO: আজ ঝগড়া-বিবাদ হতে পারে।কন্যা/ VIRGO: আজ কারুর সাহায্য লাভ করতে পারেন। তুলা/ LIBRA: অবৈধ প্রণয়ে জড়িয়ে পড়তে পারেন। বৃশ্চিক/ Scorpio: অপযশ হতে পারে। ধনু/ SAGITTARIUS: ক্রমে উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।মকর/ CAPRICORN: মনের কোনও ইচ্ছা পূরণ হতে পারে।কুম্ভ/ AQUARIUS: আজ প্রাপ্তিযোগ আছে। মীন/ PISCES : বাড়িতে চোরের উপদ্রব হতে পারে।
লাভলিনা বরগোঁগাই ও পূজা রানির পর টোকিও অলিম্পিকে পদক জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হল বক্সার সতীশ কুমারের। পৌঁছে গেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। সুপার হেভিওয়েট ক্যাটেগরির প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জামাইকার রিকার্ডো ব্রাউনকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন এই ভারতীয় বক্সার। আর এক ধাপ এগোতে পারলে দেশের হয়ে পদক নিশ্চিত সতীশ কুমারের। ৯১ কেজি বিভাগে সরাসরি প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে নেমেছিলেন সতীশ কুমার। এই ম্যাচে প্রথম রাউন্ড থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন জামাইকার বক্সার। অন্যদিকে, শুরুর দিকে রক্ষণাত্মক রণনীতি নেন সতীশ। পরের দিকে ধীরে ধীরে নিজের রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। প্রতিপক্ষের দুর্বল ফুটওয়ার্কের ফায়দা তোলেন কেরিয়ারের প্রথম অলিম্পিক খেলতে নামা ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় বক্সার।প্রথম রাউন্ডেই এগিয়ে যান এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুবারের ব্রোঞ্জজয়ী সতীশ। দ্বিতীয় রাউন্ডে রিকার্ডো ব্রাউন কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের রাশ সতীশের হাতে চলে যায়। তৃতীয় রাউন্ডে প্রতিপক্ষকে একেবারে দাঁড়াতেই দেননি। প্রথম ভারতীয় হিসেবে অলিম্পিকের সুপার হেভিওয়েট ক্যাটাগরির জিতে ইতিহাস রচনা সতীশ। আর একটি ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনালে পৌঁছে যাবেন সতীশ। শেষ চারে পৌঁছলেই একটি পদক নিশ্চিত। ১ অগাস্ট কোয়ার্টার ফাইনালে উজবেকিস্তানের বাকোদির জালোলভের মুখোমুখি হবেন অর্জুন পুরস্কার জয়ী এই ভারতীয় বক্সার। উল্লেখ্য, এর আগে মহিলাদের বক্সিংয়ের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছেন লাভলিনা বরগোঁহাই ও পূজা রানি।
চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স। পঞ্চম সেটেও ফয়সালা হল না। অবশেষে ম্যাচ গড়াল শুট অফে। আর শুট অফে স্নায়ুচাপ ধরে রেখে বাজিমাত অতনু দাসের। চারবারের অলিম্পিক পদকজয়ী রিপাবলিক কোরিয়ার জিহায়েক ওহকে হারিয়ে অঘটন ঘটিয়ে ৬৫ ব্যবধানে জিতে অলিম্পিক তিরন্দাজিতে পুরুষদের ব্যক্তিগত বিভাগের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেলেন ভারতের অতনু দাস।দলগত ও মিক্সড ইভেন্টের পর ব্যক্তিগত ইভেন্টেও ব্যর্থতা শুরু হয়েছিল। ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছলেও আগের দিন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তরুণদীপ রাই, প্রবীণ যাদবরা। এদিন দেশবাসীর নজর ছিল অতনু দাসের ওপর। র্যাঙ্কিং রাউন্ডে অতনু হারান চাইনিজ তাইপের ডেং ইউচেংকে। প্রথম সেট জিতে ২০ ব্যবধানে এগিয়ে যান অতনু। দ্বিতীয় সেট জিতে সমতা ফেরান ডেং ইউচেং। তৃতীয় সেট জিতে ৪২ ব্যবধানে এগিয়ে যান অতনু দাস। পরের সেটে আবার সমতা ফেরান ডেং ইউচেং। পঞ্চম সেট জিতে ৬৪ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেন অতনু দাস।দ্বিতীয় রাউন্ডে অবশ্য ভারতীয় তিরন্দাজের লড়াই সহজ ছিল না। ভারতের এই ১ নম্বর তিরন্দাজের প্রতিপক্ষ ছিলেন চারবারের অলিম্পিক পদকজয়ী কোরিয়ার জিনহায়েক ওহ। প্রথম সেট থেকেই লড়াই দারুণ জমে উঠেছিল। যদিও প্রথম সেটে দুই তিরন্দাজই দক্ষতার শীর্ষে উঠতে পারেননি। তবে ২৬২৫ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন জিনহায়েক। এগিয়ে যান ২০ ব্যবধানে। দ্বিতীয় সেট ২৭২৭ স্কোরে ড্র হয়। তৃতীয় সেটও ২৭২৭ পয়েন্টে ড্র হয়। ম্যাচের স্কোর দাঁড়ায় জিনহায়েকের অনুকূলে ৪২।এরপরই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান অতনু দাস। ২৭২২ ব্যবধানে চতুর্থ সেট জিতে সমতা ফেরান। স্কোর দাঁড়ায় ৪৪। নির্ণায়ক পঞ্চম সেটও ড্র হয়। অতনু ও জিনহায়েক দুজনই স্কোর করেন ২৮। পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫৫। ম্যাচ শুট অফে গড়ায়। কোরিয়া জিনহায়েক প্রথম শটে স্কোর করেন ৯। অন্যদিকে পারফেক্ট ১০ করে শুট অফে ম্যাচ জিতে নেন অতনু দাস। পৌঁছে যান প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে।
অলিম্পিক হকিতে এগিয়ে চলেছে ভারত। গ্রুপ লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গতবারের সোনাজয়ী আর্জেন্টিনাকে ৩১ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পাশাপাশি পুল এতে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করল।একপ্রকার কঠিন গ্রুপে রয়েছে ভারত। বর্তমান বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে রয়েছে আগের অলিম্পিকে সোনাজয়ী আর্জেন্টিনা। পুলের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতলেও অস্ট্রেলিয়াআর কাছে বড় ব্যবধানে হারে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরের ম্যাচে স্পেনের বিরুদ্ধে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান মনপ্রীতরা। ৩০ ব্যবধানে জিতে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিল। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এদিন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ভারত।আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া নিশ্চিত ছিল ভারতের। পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত জয় তুলে নিলেন মনপ্রীতরা। অলিম্পিকে যাওয়ার আগে আর্জেন্টিনায় প্রস্তুতি সফরে গিয়েছিল ভারত। শেষ ম্যাচে ৪২ ব্যবধানে জিতেছিল। যদিও সেই জয়ের কথা মাথায় রেখে মাঠে নামেননি মনপ্রীতরা। গুটিয়ে না থেকে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত। ৪ মিনিটে প্রায় ভারতকে এগিয়ে দিচ্ছিলেন দলপ্রীত। খুব কাছ থেকে নেওয়া তাঁর ফ্লিক আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার। ১৫ মিনিটে ড্রিবল করতে গিয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সিমরণজিৎ সিং। ১৭ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। স্কোরিং সার্কেলের মধ্যে লুকাস রোসিকে আটকে দেন ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। যদিও ভারতের আধিপত্য বেশি ছিল।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ভারত। ৪২ মিনিটে পরপর দুটি পেনাল্টি কর্ণার পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রুপিন্দাররা। ৪৩ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। পেনাল্টি কর্ণার থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন বরুণ কুমার। চতুর্থ কোয়ার্টারে নাটক জমে ওঠে। ৪৮ মিনিটে প্রথম পেনাল্টি কর্ণার পায় আর্জেন্টিনা। মাইকো ক্যাসেলা গোল করে সমতা ফেরান। অনেকেই মনে করছিলেন ম্যাচ হয়তো ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে। তখনই জ্বলে ওঠেন ভারত। ৫৭ মিনিটে বিবেক প্রসাদ সাগর গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ২ মিনিট পর আবার গোল ভারতের। ৮ নম্বর পেনাল্টি কর্ণার কাজে লাগিয়ে হরমনপ্রীত সিং ৩১ করেন। ৪ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট পেয়ে পুল এতে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করল ভারত।
রাজ্যে কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ ফের বাড়ল। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হল এই সময়সীমা। সেই সঙ্গে কোভিড নিয়ন্ত্রণ বিধিতে কিছু ছাড় এবং কিছু বাড়তি বিধি নিষেধও আরোপ করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিবের তরফে জারি করা একটি নোটিসে জানানো হয়েছে, শনিবার, ৩১ জুলাই থেকেই নতুন নিয়ম জারি হবে।আরও পড়ুনঃ পদকের দিকে আরও একধাপ এগোলেন সিন্ধুবৃহস্পতিবার সকালে নবান্ন থেকে সেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিধি-নিষেধের এই নতুন পর্যায়ে তেমন কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না নিয়মে। লোকাল ট্রেন চালু করার কথা এ বারও জানায়নি রাজ্য। শুধু সরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন করে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। নয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এ বার থেকে কোনও সরকারি অনুষ্ঠান করতে গেলে ৫০ শতাংশের উপস্থিতিতে কোনও ঘেরা জায়গায় তা করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রত্যেক সেক্টরের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব ওয়ার্ক ফ্রম হোম করানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাত ৯ টা থেকে ভোর ৫ টা নাইট কার্ফুর ক্ষেত্রে আরও কড়া ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন। সব জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নাইট কার্ফুর বিষয়টিতে তাঁরা আরও বেশি জোর দেন। রাতে কোনও গাড়ি চলাচলের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া মাস্ক ব্যবহারের থাকছে বিশেষ কড়াকড়ি।তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আশঙ্কার আবহেই করোনা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণবিধির মেয়াদ বাড়ানো হল। তবে সরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, আইন শৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত পরিষেবা এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা ছাড়া এই সময়ে যানবাহন এবং রাস্তাঘাটে সাধারণ মানুষের চলাফেরাতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সরকারি বিবৃতিতে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ কমিশনারেটগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আইন যাতে যথাযথভাবে পালন করা হয় তাতে কড়া নজর রাখতে।
টোকিও অলিম্পিক থেকেও কি পদক নিয়ে ফিরবেন পিভি সিন্ধু? সেই সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল হল। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ডেনমার্কের মিয়া ব্লিচফেল্ডকে হারিয়ে পৌঁছে গেলে মহিলাদের সিঙ্গলসের কোয়ার্টার ফাইনালে। শেষ আটে সিন্ধুর সামনে জাপানের ইয়ামাগুচি।অলিম্পিক অভিযানে নামার পর থেকেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দারুণ ছন্দে রয়েছেন। পিভি সিন্ধুর ঝড়ে প্রথম ম্যাচেই উড়ে গিয়েছিলেন ইজরায়েলের কেসিনিয়া পোলিকারপোভা। হংকংয়ের এনগান চেয়াংকে গ্রুপ লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে হারিয়ে পৌঁছে যান প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে। ডেনমার্কের মিয়া ব্লিচফেল্ড একেবারেই অপরিচিত প্রতিপক্ষ ছিলেন না। এর আগে দুজনে দুবার মুখোমুখি হয়েছিলেন। দুজনেই ১টি করে ম্যাচ জিতেছিলেন। অলিম্পিকের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে জিতে এগিয়ে গেলেন পিভ সিন্ধু।গ্রুপ লিগের মতো সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে। যথেষ্ট লড়াই করে প্রথম গেম জিততে হয় পিভি সিন্ধুকে। যদিও প্রথম গেমের শুরুতেই ২০ পয়েন্টে এগিয়ে যান ব্লিচফেল্ড। সেখান থেকে সমতা ফিরিয়ে ক্রমশ আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। একসময় ১৩৬ ব্যবধানে এগিয়ে যান সিন্ধু। এরপরই ছন্দ হারান এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। সেই সুযোগে পরপর পরপর ৫ পয়েন্ট তুলে নিয়ে স্কোর ১৩১১ করে ফেলেন ব্লিচফেল্ড। প্রথম গেমের শেষদিকে লড়াই দারুণ জমে ওঠে। সিন্ধুকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি ডেনমার্কের তারকা। তবে ১৬১৫ অবস্থা থেকে ব্লিচফেল্ডকে আর কোনও সুযোগ দেননি সিন্ধু। স্নায়ুচাপ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ২১১৫ ব্যবধানে প্রথম গেম জিতে নেন এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা।প্রথম গেম জিতে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল পিভি সিন্ধুর। দ্বিতীয় গেমের শুরু থেকেই অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এই ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা। রীতিমতো দাপট দেখিয়ে ৫০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। এরপর প্রথম পয়েন্ট পান ব্লিচফেল্ড। তবে সিন্ধুকে খুব বেশি চাপে ফেলতে পারেননি। দ্বিতীয় গেমেও আধিপত্য রেখে এগিয়ে যান। তবে ১২৭ অবস্থায় সিন্ধুর পরপর কয়েকটা আনফোর্সড এররের সুযোগে ৯১৩ করে ফেলেন ব্লিচফেল্ড। শেষ পর্যন্ত ২১১৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান সিন্ধু। রিও অলিম্পিকে রুপো জিতেছিলেন। টোকিও থেকে সোনা নিয়ে আসার স্বপ্ন। স্বপ্নপূরণের দিকে আরও একধাপ এগোলেন।
১০ মিটার এয়ার পিস্তলের মিশ্র বিভাগে ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়ালেন ভারতীয় মহিলা শুটার মানু ভাকের। মহিলাদের ব্যক্তিগত ২৫ মিটার পিস্তল বিভাগে প্রিসিশন রাউন্ডে প্রথম দিনে শেষ করলেন পঞ্চম স্থানে। তবে বিশ্বের ২ নম্বর মহিলা তারকা রাহি সার্নোবত অলিম্পিকের প্রথম ম্যাচেই হতাশ করলেন।প্রিসিশন রাউন্ডে প্রথম দিনে শেষ করলেন ২৫ নম্বর স্থানে।অলিম্পিক শুটিংয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল। সবথেকে বেশি পদক জয়ের সম্ভাবনা ছিল এই ইভেন্টেই। দলগত, মিশ্র বিভাগে চূড়ান্ত ব্যর্থ ভারতীয় শুটাররা। এর মধ্যেই অলিম্পিকের ষষ্ঠ দিনে ২৫ মিটার এয়ার পিস্তলের মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগের যোগ্যতা অর্জন পর্বে নেমেছিলেন মানু ভাকের ও রাহি সার্নোবত।রাহি সার্নোবত এই প্রথম টোকিও অলিম্পিকের শুটিং রেঞ্জে কোনও ইভেন্টে নামলেন। মানু ভাকের অবশ্য আগের দলগত ও মিশ্র ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। দুটি বিভাগেই তিনি হতাশ করেছেন। মহিলাদের ব্যক্তিগত বিভাগে প্রিসিশন রাউন্ডে অবশ্য ভাল ফল করলেন। মানু ভাকের মোট স্কোর করেন ২৯২। প্রথম স্টেজে তিনি সংগ্রহ করেন ৯৭ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্টেজেও তিনি সংগ্রহ করেন ৯৭ পয়েন্ট। তৃতীয় স্টেজে ৯৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পৌঁছে যান ২৯২ পয়েন্টে। এই বিভাগে মোট প্রতিযোগীর সংখ্যা ৪৪। অন্যদিকে, এই ইভেন্টে রাহি সার্নোবতের ওপর প্রত্যাশা বেশি ছিল ক্রীড়াপ্রেমীদের। এই তরুণ মহিলা শুটার প্রিসিশন রাউন্ডের প্রথম দিনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। প্রথম স্টেজে তিনি সংগ্রহ করেন ৯৬। দ্বিতীয় স্টেজে ৯৭ এবং তৃতীয় স্টেজে ৯৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ২৮৭ পয়েন্টে থেমে যান। শেষ পর্যন্ত তাঁর স্থান হয় ২৫ নম্বরে। শুক্রবার ভারতের এই দুই শুটার রাপিড ফায়ার রাউন্ডে নামবেন। এই রাউন্ডেও ৩টি সিরিজ। প্রত্যেক সিরিজে ১০ বার করে ফায়ার করার সুযোগ পাবেন। ৪৪ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৮ জন ফাইনাল রাউন্ডে উঠবেন। প্রিসিশন রাউন্ডে পিছিয়ে পড়ায় রাহি সার্নোবতের কাছে ফাইনালে ওঠার কাজ কঠিন হয়ে গেল। মানু ভাকেরের সামনে অবশ্য ভাল সুযোগ রয়েছে। তবে দ্বিতীয় দিন এই দুই শুটারকে জ্বলে উঠতেই হবে।
মেষ/ ARIES: আজ বিরক্তিভাব আসতে পারে। বৃষ/ TAURUS: আজ আশাহত হতে পারেন।মিথুন/ GEMINI : মানহানি হতে পারে। কর্কট/ CANCER : আজ ধনাগম হতে পারে। সিংহ/ LEO: আজ কোনও আত্মীয়বিয়োগ হতে পারে। কন্যা/ VIRGO: আজ অনর্থপাত হতে পারে।তুলা/ LIBRA: সৎকাজে ব্যয় করতে পারেন। বৃশ্চিক/ Scorpio: মানসিক অবসাদ আসতে পারে। ধনু/ SAGITTARIUS: উন্নতির সুযোগ আসতে পারে। মকর/ CAPRICORN: শ্লেষ্মাবৃদ্ধি পেতে পারে। কুম্ভ/ AQUARIUS: মনে প্রফুল্লতা হতে পারে।মীন/ PISCES : আগুনের থেকে দূরে থাকবেন।
প্রথম ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়াল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল। শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক ধনঞ্জয় ডিসিলভা। ৩৪ বলে অপরাজিত ৪০ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতালেন।টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনকা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ১৩২ রান। সর্বাধিক ৪০ রান করেন অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান। এই ম্যাচে ভারতীয় টি ২০ দলে অভিষেক হয় রুতুরাজ গায়কোয়াড়, দেবদত্ত পাড়িক্কল, নীতীশ রানা ও চেতন সাকারিয়ার। শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের ওপেনার রুতুরাজ। ৭ ওভারে দলের ৪৯ রানের মাথায় তিনি আউট হন ১৮ বলে ২১ রান করে। এরপর ঝোড়ো গতিতে রান তোলা অব্যাহত রাখেন শিখর ধাওয়ান ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জ ব্যাঙ্গালোরের ওপেনার দেবদত্ত পাড়িক্কল। ১৩তম ওভারে প্রথম বলে আকিলা ধনঞ্জয়ের বলে বোল্ড হন অধিনায়ক হন শিখর ধাওয়ান। ৫টি চারের সাহায্যে ৪২ বলে ৪০ রান করে তিনি। ভারতের রান তখন ৮১। ১৫.৩ ওভারের মাথায় আউট হন দেবদত্ত পাড়িক্কল। একটা চার ও ভারতীয় ইনিংসের একমাত্র ছক্কা মেরে তিনি ২৩ বলে ২৯ রান করেন। ১৩ বলে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি সঞ্জু স্যামসন। শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় কিছুটা সফল ভুবনেশ্বর কুমার। ১২ বলে ৯ রান করে শেষ ওভারে আউট হন নীতীশ রানা। ১১ বলে ১৩ করে অপরাজিত থাকেন ভুবি।জয়ের জন্য ১৩৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। আভিস্কা ফার্নান্ডোকে (১৩) তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। সমরাউইক্রমাকে (৮) ফেরান বরুণ চক্রবর্তী। কুলদীপের বলে স্টাম্পড হন দাসুন শনাকা (৩)। মিনোদ ভানুকাকেও (৩১ বলে ৩৬) ফেরান কুলদীপ। হাসারাঙ্গা করেন ১৫। তাঁকে তুলে নেন রাহুল চাহার। ৩৪ বলে ৪০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ধনঞ্জয় ডিসিলভা। ২ বল বাকি থাকতে ১৩৩/৬ তুলে ম্যাচ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা।
ধর্ম যার যাই হোক মনবতাই সবথকে বড় ধর্ম। শুধু মনে প্রাণে এ কথা বিশ্বাস করাই নয়, বাস্তবেও সেই পথই অনুসরণ করে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন ইব্রাহিম মল্লিক ও তারাপদ রায়। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার প্রত্যন্ত গ্রাম উখরিদে পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস অভিন্ন হৃদয় এই দুই ব্যক্তির। তাঁদের একে অপরের প্রতি স্নেহ, ভালবাসা ও মানবিক হৃদয় বন্ধনে আবদ্ধ থাকা দেখে মুগ্ধ খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ বাবুরাও। আইনের রক্ষকরা অকপটে বলছেন, হ্যাঁ ,এটাই আমাদের দেশ। আমাদের সর্বধর্ম সমন্বয়ী মাতৃভূমি ভারতবর্ষের মাটতে এখনও বেঁচে আছে মানবতা। উখরিদ গ্রামের তারাপদ রায় বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত। তাঁর শরীরও তেমন সুস্থ সবল নয়। তবে ইব্রাহিম মল্লিকও যে একেবারে সুস্থ তাও বলা যাবে না। ব্যাঙ্কের পাস বইটি হারিয়ে যাওয়ায় তারাপদবাবু সমস্যায় পড়েন। মনের মানুষ, কাছের মানুষ ইব্রাহিম মল্লিককে নিজের সমস্যার কথা জানান তারাপদবাবু। তা শুনে ইব্রাহিম পাশে থাকার আশ্বাস দেয় তারাপদ বাবুকে। সম্প্রতি বৃদ্ধ তারাপদবাবুকে সঙ্গে নিয়ে ইব্রাহিম স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে হেঁটেই হাজির হয় খণ্ডঘোষ থানায়। সেই সময়ে থানায় ডিউটি অফিসার হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন পিএসআই রিটন সেখ।ইব্রাহিম ও তারাপদ বাবু ডিউটি অফিসার রিটন বাবুর কাছে গিয়ে দাঁড়ান। রিটন বাবু জানান, তিনি থানায় আগত ওই দুই ব্যক্তির সমস্যার কথা জানতে চান । তখন তারাপদ রায় জানান, তাঁর ব্যাংকের পাস বইটি কিছুদিন আগে হারিয়ে গেছে। সেই কারণে তিনি ব্যাংকে লেনদেন করতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাংকে গিয়েছিলেন। ব্যাঙ্কের অফিসারা তাঁকে বলেছেন এই বিষয়ে থানা থেকে মিসিং ডায়েরি করা কপি আনতে হবে। রিটন বাবু জানান, তাঁর খারাপ লাগলো এই কথা ভেবে যে বৃদ্ধ তারাপদবাবু নিজেই ঠিকমত চলতে পারেন না।অথচ সেই ব্যক্তি প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে থানায় এসেছে একটা মিসিং ডায়েরি করতে।তাই বিলম্ব না করে বৃদ্ধার অবস্থা বুঝে সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি মিসিং ডায়েরি করে জিডি নাম্বার কার্তিকবাবুকে দিয়ে দেন। ডিউটি অফিসার রিটন বাবু হতবাক হয়ে পড়েন থানায় তারাপদ রায়ের সমস্যা মিটিয়ে দিয়ে ইব্রাহিমের কাছে তার সমস্যার কথা জানতে চেয়ে। ডিউটি অফিসার বলেন, ইব্রাহিম সরল মনে জানায়, স্যার আমার কোন সমস্যা নেই।ব্যাঙ্কের পাস বই হারিয়ে যাওয়ায় তারাপদ দাদা খুব সমস্যা পড়ে গিয়েছিলেন। দাদা এতটা রাস্তা পেরিয়ে একা থানায় আসতে পারবেন না বলেছিলেন । তাই তারাপদদাদাকে সাহায্য করার জন্য তিনি স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে হেঁটেই দাদাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় এসেছেন। এই কথা শুনে অভিভূত হয়ে পড়া ডিউটি অফিসার রিটন সেখ কাছে ডেকে নেন তারাপদ বাবু ও ইব্রাহিম সেখকে। এই দুজনকে চেয়ারে বসিয়ে তাঁদের সঙ্গে আরও নানা কথা বলেন ডিউটি অফিসার। কথোপকথনে ডিউটি অফিসার রিটন সেখ জানতে পারেন পাশাপাশি বাড়িতে বসবাস করেন তারাপদ রায় ও ইব্রাহিম মল্লিক। তাঁরা একে অপরের সুখ -দুঃখের নিত্যসঙ্গী। বিপদে আপদে তাঁরা একে অপরের ভরসা। কোনও দিনের জন্য তারাপদবাবু ও ইব্রাহিম মল্লিক একে অপরের সঙ্গে বিভেদ অশান্তিতে জড়াননি। তাঁরা দুজনে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বোঝে না, ধর্মীয় সুড়সুড়ি বোঝে না। বুঝতে চানও না।খুশির ঈদ থেকে শুরু করে বখরিদ, মহরম, দুর্গাপুজো, কালীপুজো সবই তাদের কাছে এক বিশেষ মহাত্মের বলে খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ বাবুদের জানান তারাপদ রায় ও ইব্রাহিম মল্লিক। যা শুনে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান থানার ডিউটি অফিসার রিটন সেখ সহ অন্য পুলিশ বাবুরা। তাঁরা সবাই মুগ্ধ হয়ে ইব্রাহিম ও তারাপদকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে তাঁদের ছবিও তোলেন। পুলিশ কর্তারা এদিন বলেন, তারাপদ ও ইব্রাহিমের এই স্নেহ ভালবাসার বন্ধন প্রমাণ করছে,স্বার্থান্বেষীরা চক্রান্ত যতই করুক না কেন মানবতা আজও বেঁচে আছে সর্বধর্ম সমন্বয়ী মাতৃভূমি ভারতবর্ষের মাটিতে খণ্ডঘোষ থানার ওসি প্রসেনজিৎ দত্ত বলেন, ইব্রাহিম মল্লিক ও তারাপদ বাবুর এই স্নেহের বন্ধন অটুট থাক। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ুক তাঁদের পারস্পরিক স্নেহ ও ভালোবাসার বন্ধনের মায়াজাল।
তিরন্দাজিতে একের পর এক ব্যর্থতার পর আশার আলো দীপিকা কুমারী। মহিলাদের রিকার্ভ সিঙ্গলসে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেলেন এই ভারতীয় তিরন্দাজ। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৬৪ ব্যবধানে তিনি হারান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার মুসিনোফার্নান্ডেজকে। অলিম্পিকের শুরু থেকেই একের পর এক ব্যর্থতা ভারতের। মিশ্র বিভাগ, দলগত বিভাগে ব্যর্থতার পর ব্যক্তিগত বিভাগেও ব্যর্থ তরুণদীপ রাই ও প্রবীণ যাদবরা। দেশের সম্মানরক্ষার দায়িত্ব ছিল দীপিকা কুমারীর ওপর। যদিও শুরুটা ভাল হয়নি এই ভারতীয় মহিলা তিরন্দাজের। আশা জাগিয়েও প্রথম সেট হেরে যান। ২৫ পয়েন্ট (৭+৯+৯) অর্জন করতে সক্ষম হন দীপিকা। অন্যদিকে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী ২৬ পয়েন্ট নিয়ে ওই সেট জিতে যান।পরের দুই সেটে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন দীপিকা কুমারী। দ্বিতীয় সেটের প্রথম শট থেকে ৮ পয়েন্ট পেলেও দীপিকার পরের দুটি শট লক্ষ্যভেদ করে। মোট কুড়ি পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। ওই সেটে ২৫ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয় আমেরিকার তিরন্দাজ। তৃতীয় সেট থেকে ২৭ পয়েন্ট (১০+৯+৮) অর্জন করেন দীপিকা। সেখানে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ওই মোকাবিলা হেরে যান মার্কিন তারকা।ম্যাচের শেষ দুই সেটে দুই প্রতিযোগীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। চতুর্থ সেটে ২৪ পয়েন্ট অর্জন করেন ভারতীয় তিরন্দাজ। তিন শট থেকে যথাক্রমে ৯, ৬ ও ৯ পয়েন্ট পান দীপিকা। অন্যদিকে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে ওই সেট জেতেন আমেরিকার তিরন্দাজ। পঞ্চম সেটে দীপিকার হাত থেকে যথাক্রমে ৯, ৯ ও ৮ পয়েন্ট আসে। ২৬ পয়েন্ট অর্জন করে ওই সেট জিতে যান ভারতীয় তিরন্দাজ। পৌঁছে যান কোয়ার্টার ফাইনালে।
অন্য ইভেন্টে যখন একের পর এক ব্যর্থতা, ভারতবাসীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বক্সিং। আগের দিনই টোকিও অলিম্পিকের শেষ আটে পৌঁছে গিয়েছিলেন লভলিনা বরগোঁহাই। বুধবার আরও এক ভারতীয় মহিলা বক্সার পৌঁছে কোয়ার্টার ফাইনালে। ৭৫ কেজি বিভাগের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে হরিয়ানার পূজা রানি বোরা দাপটের সঙ্গে উড়িয়ে দিলেন আলজেরিয়ার ইচরাক চাইবকে।পূজা রানি ও আচরিকা চাইবের কাছে এটাই প্রথম অলিম্পিক। আর মিডলওয়েট বক্সিংয়ে এদিন তাঁদের ছিল প্রথম বাউট। ৩০ বছরের পূজার চেয়ে চাইব বছর দশেকের ছোট। দুবারের এশিয়া চ্যাম্পিয়ন পূজা রানি শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখেন। তিনটি রাউন্ডেই তিনি পেছনে ফেলে দেন ইচরাক চাইবকে। চাইব জোরালোভাবে পাঞ্চ করতে চাইছিলেন। কিন্তু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পূজা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখায় চাইব সুবিধা করতে পারেননি। বরং পূজার কাউন্টার অ্যাটাক সামলাতে বারবারই বেগ পেতে হল চাইবকে। শেষে ৫-০ ব্যবধানে জিতে অলিম্পিকের শেষ আটে পৌঁছে গেলেন পূজা। কোয়ার্টার ফাইনালে শনিবার তাঁর সামনে চিনের লি কিয়ান।পরিবারের অমতেই বক্সিংয়ে আসা পূজা রানির। হরিয়ানার ভিওয়ানি জেলার নিমড়িওয়ালি গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন। বাবাকে না জানিয়েই ভর্তি হন হাওয়া সিং বক্সিং আকাদেমিতে। কারণ, তিনি জানতেন পুলিশ অফিসার বাবা কখনোই বক্সার হওয়ার অনুমতি দেবেন না। পূজা আগে জানিয়েছিলেন, তাঁরা বাবা চাননি তিনি বক্সার হোন। বাবা বলতেন, আচ্ছে বাচ্চে বক্সিং নেহি খেলতে। মার লাগ জায়েগি। অর্থাৎ ভাল বাচ্চারা বক্সিংয়ে খেলেনা। এই খেলায় চোট লাগবে! পূজার বাবার ধারণা ছিল, যাঁরা খুব আগ্রাসী মনোভাবসম্পন্ন তাঁদের জন্যই বক্সিং, কিন্তু পূজার মতো মেয়েদের জন্য নয়। কিন্তু পূজা তাঁর বাবামাকে বরাবরই বোঝানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন, তিনি বক্সিংয়ে ভালো করবেন এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বক্সিং রিংয়ে চোট পেলেও বাবা যাতে বুঝতে না পারেন, সে কারণে চোট না সারা অবধি বন্ধুর বাড়িতেও কাটিয়েছেন। বাবাকে রাজি করাতে না পারায় পেশাদার বক্সিংয়ে নামার জন্য প্রস্তুত হয়েও পূজাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে মাস ছয়েক! কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন যে আকাশকুসুম কল্পনা ছিল না সেটা পূজা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। পরিবারের আস্থা পূজা অর্জন করেছিলেন ২০০৯ সালে ৬০ কেজি বিভাগে জাতীয় যুব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জয়ের পর। এর দুই মাস পর হরিয়ানার নামি বক্সার প্রীতি বেনিওয়ালকে হারিয়ে দেন পূজা। এই জয়ের পর আর তাঁকে বক্সিং নিয়েই এগিয়ে যেতে পরিবার বাধা দেয়নি। হরিয়ানা সরকারের আয়কর অফিসারের চাকরিও পান পূজা। ২০১২ ও ২০১৫ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে যথাক্রমে রুপো ও ব্রোঞ্জ জেতেন মিডলওয়েটে। ২০১৪ সালের ইনচেয়ন এশিয়ান গেমসে জেতেন ব্রোঞ্জ। ২০১৯ সালে ব্যাঙ্ককে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে লাইট হেভিওয়েটে সোনা জেতার পর চলতি বছর দুবাইয়ে মিডলওয়েটেই সোনা জেতেন।তবে অলিম্পিকে আসার যাত্রা পথ একেবারেই মসৃণ ছিল না পূজা রানির কাছে। ২০১৭ সালে দেওয়ালির সময় বাজি ফাটাতে গিয়ে হাত পুড়ে যায়, তখনও ছয় মাস বক্সিং অনুশীলন চালাতে পারেননি। এই সময় নষ্টের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্রেনিংয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কাঁধে মারাত্মক চোট পান, যা তাঁর কেরিয়ার শেষ করে দিতে পারত। রানির ইচ্ছা ছিল ৮১ কেজি বিভাগে খেলা চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্যে। অলিম্পিকে নেমে পদক জয়ের লক্ষ্যে আপাতত পেরোলেন প্রথম বাধা। অভিজ্ঞতা, অদম্য মানসিকতা আর কৌশলের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দেশের হয়ে পদক আনুন পূজা রানি, এটাই এখন কামনা।
তিরন্দাজির ব্যক্তিগত বিভাগে প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকেও শেষরক্ষা হল না ভারতের প্রবীন যাদবের। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যাডি এলিসনের কাছে হেরে অলিম্পিকের ব্যক্তিগত বিভাগ থেকেও বিদায় নিলেন।প্রথম রাউন্ডে বিশ্বের ২ নম্বর রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটির গালসান বাজারঝাপভকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন প্রবীন যাদব। প্রথম সেটে প্রবীন যাদব স্কোর করেন ২৯। অন্যদিকে গালসান বাজারঝাপভ করেন ২৭। প্রথম সেট ২৯২৭ স্কোরে জিতে ১০ ব্যবধানে এগিয়ে যান প্রবীন যাদব। দ্বিতীয় সেটে মরিয়া হয়ে ওঠেন গালসান বাজারঝাপভ। প্রথম দুটি শটে তিনি পারফেক্ট ১০ করেন। কিন্তু শেষ শটে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। দ্বিতীয় সেটে তাঁর পয়েন্ট দাঁড়ায় ২৭। অন্যদিকে প্রবীন যাদব সংগ্রহ করেন ২৮ পয়েন্ট। ২০ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে যান ভারতীয় এই তিরন্দাজ।আরও পড়ুনঃ একনজরে টোকিও অলিম্পিক ভিলেজের অন্দরমহলকিন্তু প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দুটি সেটে কিছুটা লড়াই করলেও তৃতীয় সেটে জঘন্য পারফরমেন্স প্রবীন যাদবে। প্রথম সেটে বিশ্বের ১ নম্বর তারকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যাডি এলিসন করেন ২৮ (৯+১০+৯) স্কোর। অন্যদিকে প্রবীণ যাদব করেন ২৭ (৯+৮+১০)। প্রথম সেট জিতে ২০ ব্যবধানে এগিয়ে যান ব্র্যাডি এলিসন। দ্বিতীয় সেটে প্রবীণ যাদব স্কোর করেন ২৬ (১০+৯+৭)। এলিসন করেন ২৭ (৮+১০+৯)। তৃতীয় সেটে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন ভারতীয় তিরন্দাজ। এলিসন যেখানে স্কোর করেন ২৮ (৮+৯+৯)। প্রবীণ যাদব স্কোর করেন ২৬ (৮+৮+৭)। ৬০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান ব্র্যাডি এলিসন।আরও পড়ুনঃ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধুপ্রবীণ যাদবের আগে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেন তরুণদীপ রাই। তবে তিনি ইজরায়েলের ইটে সানির বিরুদ্ধে দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন। প্রবীণ যাদব কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি। মিক্সড ইভেন্টে দীপিকা কুমারীর সঙ্গে জুটি বেঁধে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পুরুষদের দলগত বিভাগেও ব্যর্থতা। তিরন্দাজি থেকে পদকের আশা প্রায় শেষ ভারতের।
দলগত ও মিক্সড ইভেন্টের পর ব্যক্তিগত ইভেন্টেও ব্যর্থতা শুরু হল। ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছলেও কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ তরুণদীপ রাই। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ইজরায়েলের। ইটে সানির সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করেও ৬৫ ব্যবধানে হেরে অলিম্পিক থেকে বিদায় নিতে হল।দলগত ইভেন্টের ব্যর্থতা কাটিয়ে ব্যক্তিগত ইভেন্টের দারুণভাবে শুরু করেছিলেন ভারতের এই অভিজ্ঞ তিরন্দাজ। রাউন্ড অফ ৩২এ তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল ইউক্রেনের ওলেক্সি হুনবিন। তাঁকে ৬৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিলেন তরুণদীপ রাই। ওলেক্সি হুনবিনের বিরুদ্ধে সেরা ছন্দে ছিলেন তিনি।আরও পড়ুনঃ কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে পদকের আরও কাছাকাছি পিভি সিন্ধুপ্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় এই তিরন্দাজকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছিল। আর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তরুণদীপ। প্রথম সেটে তিনটি শটে তিনি সংগ্রহ করেন ২৪ স্কোর। অন্যদিকে ইটে সানি স্কোর করেন ২৮। প্রথম সেট জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন ইজরায়েলি এই তিরন্দাজ। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান তরুণদীপ। ২৭২৬ ব্যবধানে জিতে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সমতা ফেরান। তৃতীয় সেটে লড়াই আরও জমে ওঠে। দুজনই স্কোর করেন ২৭। তৃতীয় সেট অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ায় দুজনই ১ পয়েন্ট করে পান। চতুর্থ সেট জিতে এগিয়ে যান তরুণদীপ রাই। দুর্দান্ত পারফরমেন্সের ভিত্তিতে তিনি স্কোর করেন ২৮। অন্যদিকে ইটে সানি স্কোর করেন ২৭। চতুর্থ সেটের শেষে তরুণদীপ ৫৩ এগিয়ে যান।আরও পড়ুনঃ লম্বা চুল রাখা যাবে না, লক্ষ্মীর ফতোয়াপঞ্চম সেটে লড়াই জমে ওঠে। কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষরক্ষা করতে পারেননি তরুণদীপ রাই। ২৭২৮ ব্যবধানে পঞ্চম সেটে হেরে যান। দুজনের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫৫। কিন্তু মোট স্কোরের বিচার এগিয়ে থাকার সুবাদে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে পৌঁছে যান ইজরায়েলি তিরন্দাজ। আজই পুরুষদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রবীণ যাদব ও মহিলাদের সিঙ্গলস রিকার্ভে নামবেন দীপিকা কুমারী।