• ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Holi

রাজ্য

বিশ্বকর্মা পুজোয় ছুটি কোনদিন? ১৭ না ১৮ সেপ্টেম্বর, ধন্দে সরকারি কর্মীরা

বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার। আর সেই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন ধোঁয়াশা। আগে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে ১৪ সেপ্টেম্বরের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ বছর বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ছুটি থাকবে ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। কিন্তু আগের ১৭ সেপ্টেম্বরের ছুটি বাতিল করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। ফলে দুদিনই ছুটি থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে।রাজ্যের অর্থ দফতরের অডিট ব্রাঞ্চের ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকারি ছুটি থাকবে। ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা, স্ট্যাটুটরি বডি, বোর্ড, কর্পোরেশন এবং রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বা মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।শুধু সরকারি দফতরই নয়, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অফিস ও প্রতিষ্ঠানও ওই দিন বন্ধ থাকবে।কিন্তু গোল বেঁধেছে ১৭ সেপ্টেম্বরের ছুটি নিয়ে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরে বিশ্বকর্মা পুজো ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হবে বলে জানিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।এই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ১৮ সেপ্টেম্বরের ছুটির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও, ১৭ সেপ্টেম্বরের পূর্বঘোষিত ছুটি বাতিল করা হয়েছেএমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি কর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কি ১৭ এবং ১৮ সেপ্টেম্বরটানা দুদিনই সরকারি ছুটি থাকছে?অর্থ দফতরের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরছে সরকারি কর্মী মহলে। কেউ মনে করছেন, নতুন বিজ্ঞপ্তির অর্থ হল ১৭ সেপ্টেম্বরের ছুটি সরিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। আবার অন্য অংশের বক্তব্য, যেহেতু ১৭ সেপ্টেম্বরের ছুটি বাতিলের কথা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি, তাই আগের ছুটিও বহাল রয়েছে।ফলে বিশ্বকর্মা পুজোর ছুটি নিয়ে আপাতত ১৭ না ১৮এই প্রশ্নের সঙ্গে জুড়েছে আরও একটি প্রশ্ন, দুদিনই কি ছুটি? সরকারি কর্মীদের মধ্যে সেই ধোঁয়াশাই এখন সবচেয়ে বেশি।

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রাজ্য

দোলের দিন দোকান না খোলায় মারধর, দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ, তিরে পঞ্চায়েত প্রধানের অনুগামীরা

মদ্যপানের অভিযোগ, দোকান না খোলায় মারধর, পাল্টা অভিযোগ। এতেই জড়িয়ে পড়েছেন স্থানীয় গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান। যা নিয়ে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা। বাগদার কৃষক বাজারের সামনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পার্টি অফিসের উল্টোদিকের দোকান। অভিযোগ এখানে প্রতিদিন মদ্যপান করে প্রধানের অনুগামীরা। সাম্প্রতিক দোকানের সামনে বসতে নিষেধ করেছিল দোকানের মালিক। অভিযোগ, হোলির দিন কেন দোকান খোলেনি সেই আক্রোশে দোকানের মালিক রাজু বিশ্বাস ঘর থেকে বেরোতেই তাকে হেনস্তা করে। প্রতিবাদ করতে গেলে প্রধানের অনুগামীরা একত্রিত হয়ে রাজু বিশ্বাসকে মারধর করে বলে অভিযোগ। রাজুকে বাঁচাতে গেলে তার অন্তসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ির উদ্দেশ্য করে বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জিত সরদার ইট নিয়ে আক্রমণ করে, তার ছোড়া ইঁট ওই মহিলার লাগে বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় রাজু বিশ্বাসের দোকান। এই বিষয়ে বাগদা থানার দ্বারস্থ হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। প্রধান কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।অন্তঃসত্ত্বা মহিলা অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনের দোকানে বিভিন্ন সময় মদ্যপান করে গালাগাল করে প্রধানের অনুগামীরা। গতকাল তাঁর স্বামীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করলে স্বামী প্রতিবাদ করতেই তাঁকে মারধর শুরু করে। তিনি ঠেকাতে গেলে তাঁকে ধাক্কা মারা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের আশ্বাসে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন । যদিও এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত শুভেন্দু মন্ডল। শুভেন্দুর দাবি, একজন প্রতিবন্ধী ছেলেকে মারধর করছিল দোকান মালিক, তিনি ঠেকাতে গেলে তাকেও মারধর করে বলে অভিযোগ। তিনিও পাল্টা থানায় অভিযোগ করেছেন রাজুর বিরুদ্ধে। বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। পুলিশ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়।

মার্চ ১৫, ২০২৫
রাজ্য

রং তোলার ভয়ে যারা দোল খেলেন না তাদের জন্য, দোলের রং তোলার সহজ উপায়

নানারকম দোলের রং মেখে সারা মুখে এক কিম্ভুতকিমাকার দশা। স্নানের সময় বার বার সাবান দিয়ে ধুয়েও কোনও ভাবে যাচ্ছেই না, বেশী ত্বক ঘসার জন্য ত্বকে জ্বালা, অফিস যেতে সমস্যা। না! রং তোলা মোটেই খুব কঠিন বিষয় নয়। আমাদের হাতের কাছেই থাকা কয়েকটা উপাদান দিয়ে অতি সহজেই ত্বকের রং তুলে ফেলা যায়। কিন্তু এগুলির অনেকই আবার ত্বকের জন্য ততটা নিরাপদ নয়। তা হলে? দেখে নেওয়া যাক, রং তোলার কিছু সহজ প্রক্রিয়া, যারা ক্ষতি তো করবেই না, বরং এগুলিতে উপকার হবে ত্বকের।পাতিলেবুঃ একটু হালকা রং তোলার জন্য পাতিলেবুর বিকল্প নেই। লেবু, মধু, জলপাই তেল আর হলুদ আছে এমন ফেস প্যাক ব্যবহার করে রং তুললে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। ত্বকের নমনীয়তাও বাড়ে। এছাড়া পাতিলেবুর রস তুলো দিয়ে ত্বকে বুলিয়ে নিয়ে ৩-৪ মিনিট রেখে জলে ধুয়ে নিয়ে রঙের প্রলেপ অনেকটা হালকা হয়।ডিমঃ রং খেলার নাম করে মাথায় ডিম ফাটানোর রেওয়াজ আজকের নয়। অনেকেরই দাবি, এতে চুলের উপকার হয়। কথাটা খুব একটা ভুলও নয়। চুলের এবং মাথার ত্বকের রং তুলতে ডিমের হলুদ অংশ খুবই পারদর্শী। ডিমের হলুদ অংশ রং লাগা জায়গাগুলিতে মাখিয়ে রেখে, পরে তা হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে তুলে ফেললেই হল। রং পরিষ্কার।বিয়ারঃ পানীয় হিসেবে দোলের দিনে এটি অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু শুধুমাত্র পানীয় হিসেবে নয়, এটিকে রং তোলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের রং আর মুখের রং তুলতে বিয়ার ব্যবহার করা যেতেই পারে। এতে চুলের এবং ত্বকের উভয়েরই উপকার হয়। শুধু বিয়ার দিয়ে রং সাফ করার আগে, এক বোতল এই পানীয়ের সঙ্গে এক চামচ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারলে ভাল হয়।হোলির বা দোলের রং সহজে তুলতে অলিভ অয়েল অতি উপকারী উপাদান। যারা আলিভ অয়েল যগার করতে পারবেন না তারা অলিভের পরিবর্তে নারকেল তেল ও ব্যবহার করতে পারেন। রং খেলার আগে তেল মেখে নিলে রং সহজে উঠে যায় এবং ত্বকের ক্ষতিও হয় না।এখানে রং খেলার পর সেটি তোলার জন্য অলিভ অয়েল ব্যবহারের কিছু উপায় দেওয়া হলোঃরং খেলার আগেরং খেলার আগে ভালো করে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল হাতে, পায়ে, এবং মুখে লাগিয়ে নিন। রং খেলার পরঃরং খেলার পর সাবান বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার আগে, অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। ত্বকের জন্য প্যাকঃরং তোলার জন্য দই, বেসন, হলুদ গুঁড়ো, অলিভ অয়েল এবং লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।চুলের জন্যঃচুলের রং তুলতে ডিমের সাদা অংশ বা নারকেলের দুধ ব্যবহার করতে পারেন।ত্বকের যত্নঃরং তোলার পর ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না।বিঃদ্রঃ ত্বকে এই উপাদানের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকলে এই ধরনের উপকরণ ব্যবহারের করবেন না।

মার্চ ১৫, ২০২৫
রাজ্য

বিধাননগরে রঙের উৎসবে একই মঞ্চে হাজির সুজিত বসু ও সব্যসাচী দত্ত

ব্যক্তিগত দূরত্ব সরিয়ে রঙের খেলায় এক মঞ্চে হাজির হলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু ও বিধাননগরের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। একসঙ্গে গানের তালে কিছুটা নাচেন দুজনে। আবিরও মাখেন তাঁরা।শুক্রবার দোলের দিন সকালে করুণাময়ী মেলা প্রাঙ্গণে রঙের উৎসবের আয়োজন করা হয়। গানে গানে রঙের খেলায় মেতে ওঠে ছোট বড় সকলে। করুণাময়ী মেলা মাঠে একই সময়ে উপস্থিত হন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু এবং বিধান লনগর কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত। একসঙ্গে দুজনে মঞ্চে। গানের তালে বেশ কিছুটা নাচের প্রচেষ্টা তাদের। বেশ অনেকটা সময় একসঙ্গেই মঞ্চে থাকেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত দূরত্বের জল্পনা শোনা গেলেও এদিনের মঞ্চে একেবারেই ভিন্ন চিত্র ধরা পড়ে।

মার্চ ১৪, ২০২৫
রাজ্য

নেই রাজা, নেই রাজ্যপাট, অব্যাহত ঐতিহ্যের ধারা, শনিবার রঙের উৎসবে মাতবে বর্ধমান

দোল পূর্ণিমার দিন আবির, রঙের উৎসবে মাতোয়ারা সারা বাংলা। কিন্তু এখনও বর্ধমান শহরে সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত। আজ, শুক্রবার বর্ধমান শহরের সাধারণ মানুষ রঙের উৎসবে মেতে নেই। আগামিকাল রঙীন হবে শহর বর্ধমান। এখানে রঙের উৎসব পালিত হয় দোল পূর্ণিমার পরের দিন। রাজা নেই, নেই রাজ্যপাট, কিন্তু রাজ ঐতিহ্যের ধারা এখনও মেনে চলে বর্ধমান শহরের মানুষ।একই রকম ভাবে সাবেকি রীতি মেনে এই জেলার কালনা শহর ও জামালপুর ব্লকের রাধাবল্লভবাটি মৌজার বাসিন্দারাও দোলের দিন আবিরের রঙে রাঙা হন না। দোল পূর্ণিমার পরের দিন এই এলাকায় পালিত হয় দোল উৎসব। যা জোড়া রাধাবল্লভের দোল নামেই খ্যাত। কেন দোল পূর্নিমার পরের দিন উৎসবে মেতে ওঠে বর্ধমানবাসী?এর পিছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। সাধারণ ঠাকুরের পায়ে আবির উৎসর্গ করা হয় দোল পূর্ণিমার দিন। রাজবাড়ির কূলদেবতা লক্ষীনারায়ন জিউ মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ দোল যাত্রায় অংশ নেয়। কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা মহতাব চাঁদ এই প্রথা চালু করেন। পঞ্জিকা মতে দোল পূর্ণিমার দিনটিকে বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল হিসাবে মানা হয়। এও কথিত আছে বর্ধমানে দোল পূর্ণিমা তিথিটি হল ঠাকুর দেবতার দোল উৎসবের দিন। সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে। সেই উপলক্ষে রাজবাড়ির অন্দর মহলে দোল খেলা হয়ে থাকে। পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় বর্ধমানের সাধারণের রঙের উৎসব। আজও সেই রীতির সার্থক উত্তরাধিকারী বর্ধমানের মানুষ।বর্ধমান রাজবাড়ির প্রধান পুরোহিত উত্তম মিশ্র বলেন, প্রায় তিনশো বছর আগে বর্ধমানের মহারাজ ছিলেন মহতাবচাঁদ । ফাল্গুন মাসে পূর্ণিমার দিনে রাজবাড়ির কুলদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণ জিউকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবির নিবেদন করতেন। যেহেতু ওইদিন দেবতাকে রং অর্পণ করা হত ফলে সাধারণ মানুষের সেদিন রং খেলা উচিত নয় বলে মনে করা হত। তখন থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দোলের পরের দিন রং খেলতেন রাজা । রাজ নিয়মকে অনুসরণ করে বর্ধমানে আজও সেই রীতি চলে আসছে ।বর্ধমানের মতই একই রকম ঐতিহ্য মেনে দোল পূর্ণিমা তিথির পরে জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবে মাতোয়ারা হন পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজা এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ প্রায় চার শতাধিক বছর ধরে জোড়া রাধাবল্লভ পূজিত হয়ে আসছেন জামালপুরের রায় পরিবারের মন্দিরে। রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে তারপর বিকালে জামালপুরবাসী রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হবেন। ওইদিন মন্দির প্রাঙ্গনে বসে মেলা। জোড়া রাধাবল্লভের পুজো দেখতে আশপাশের বহু মানুষ মন্দির প্রাঙ্গনে জড়ো হন। জেলায় আজও অন্যতম ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব ।জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব নিয়ে প্রচলিত রয়েছে নানা লোককথা। জামালপুরের রায় পরিবারের সদস্য প্রশান্ত রায় জানান , তাঁদের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন রাজপুত । প্রায় চার শতাধিক বছর কাল আগে রাজস্থান থেকে বর্ধমানে বানিজ্য করতে এসেছিলেন রাজপুত সিংহ বংশীয় তাঁদের এক পূর্ব পুরুষ।অবিভক্ত বর্ধমান জেলার জামালপুরে তিনি আস্তানা গাড়েন। শত্রু আক্রমণ ঠেকাতে গড়কাটা হয় আস্তানার চারপাশ জুড়ে। সেই গড়কাটার সময় মাটি থেকে উদ্ধার হয় রাধাকৃষ্ণের অষ্টধাতুর একটি মূর্তি। রাধাকৃষ্ণ মূর্তিটি রাজপুত পরিবারের কাছে রাধাবল্লভ নামে পরিচিতি পায় । আস্তানা এলাকায় ছোট্ট একটি মন্দির গড়ে রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ শুরু করেন তদানিন্তন রাজপুত পরিবারের সদস্যরা । সেই সমসাময়িক কালেই কোন এক বৈষ্ণব সাধক ওই মন্দিরের সামনে কষ্টিপাথরের একটি কৃষ্ণ মূর্তি এবং অষ্ট ধাতুর একটি রাধা মূর্তি ফেলে রেখে দিয়ে চলে যান ।সেই থেকেই দোল পূর্ণিমা তথি পরবর্তীতে প্রতিপদ তিথিতে জোড়া রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ হয়ে আসছে রাধাবল্লভ মন্দিরে।

মার্চ ১৪, ২০২৫
রাজ্য

বিশ্ব কবির বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব ১১ মার্চ, এবারও প্রবেশ নিষেধ সাধারণের

কবি গুরুর বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসব হবে ১১ মার্চ। এবারও গতবারের মতো সাবেকি প্রথায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বসন্ত উৎসব। সেখানে একমাত্র বিশ্বভারতীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্তরাই অংশ গ্ৰহণ করতে পারবে। এবারও সাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকছে। শুক্রবার বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসন্ত উৎসব নিয়ে বিশ্বভারতীর কর্মীমণ্ডলীর বৈঠক বসে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য বিনয় কুমার সোরেন, পাঠভবন, শিক্ষাসত্র সহ বিভিন্ন ভবনের অধ্যক্ষ এবং আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিক জানান, যেহেতু গৌর প্রাঙ্গন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, এখানে কয়েক ঘন্টার অনুষ্ঠানে পাঁচ লক্ষ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। পৌষ মেলা হয় মেলার মাঠে। সেখানে ৬ দিন ধরে মেলা হয়েছে। তাই জনসমাগমের সংখ্যা ভাগ হয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বভারতী সাধারণত দোলের দিন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে না। আশ্রমে বসন্ত উৎসবের সাথে যুক্ত নয় কোনও ধর্মীয় অনুষঙ্গ। তাছাড়া হেরিটেজ তকমা রক্ষার্থে এবারও বিশ্বভারতী বেশি সতর্ক। ১১ মার্চ পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিকদের নিয়ে বসন্তোৎসব করবে বিশ্বভারতী। সেখানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বহাল থাকছে। ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষা করতে এবার সতর্ক বিশ্বভারতী। স্বাভাবিক ভাবে দোলপূর্ণিমার দিন হচ্ছে না বসন্তোৎসব। দোলপূর্ণিমা ১৪ মার্চ৷ তার কয়েক দিন আগে ১১ মার্চ বসন্তোৎসব পালন করবে বিশ্বভারতী। কারণ, ১৪ মার্চ শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের ভিড় থিক থিক করে৷ তাই ওই দিন বসন্তোৎসব করলে বহিরাগতরা আশ্রমে প্রবেশ করে যেতে পারে৷ এদিন, বসন্তোৎসব নিয়ে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিমণ্ডলীর সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয় কুমার সরেন। তাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ বিশ্বভারতীতে বসন্তোৎসব হতো আশ্রম মাঠে৷ আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘন্টা লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হত৷ উৎসবের সূচনার পরেই বহিরাগতদের তাণ্ডবের সাক্ষী বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, আশ্রমিক, শান্তিনিকেতনবাসী সকলেই৷ এই আশ্রম মাঠ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে ঐতিহ্যবাহী চৈতি বাড়ি, গৌরপ্রাঙ্গণ, ঘন্টা তলা, কালো বাড়ি, রামকিঙ্কর বেইজের মূল্যবান ভাস্কর্য প্রভৃতি। তাতেও আবির ছুঁড়ে দেওয়া হতে পারে৷ এছাড়া অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, বসন্তোৎসব শেষে বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসজুড়ে মিলত মদের রাশি রাশি বোতল, প্ল্যাস্টিক প্রভৃতি। এমনকি, বহিরাগতদের হেনস্থার শিকারও হতে হয়েছে বিশ্বভারতীর বহু ছাত্রীকে। এই বিশ্বভারতী বর্তমানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। এই হেরিটেজ তকমা রক্ষার্থে আর বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার দিয়ে বসন্তোৎসব করতে চায় না বিশ্বভারতী। তাই এবারও বিশ্বভারতীর বসন্তোৎসবে বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবেন না৷ রবীন্দ্রসংগীত ও নৃত্যের মধ্যদিয়ে পড়ুয়ারা উদযাপন করবে বসন্তোৎসব।শেষবার ২০১৯ সালে আশ্রম মাঠে হয়েছিল বসন্তোৎসব। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল উৎসব। ২০২১ সাল থেকে তৎকালীন বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বসন্তোৎসবে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন৷ এমনকি, ভিড় এড়াতে দোলপূর্ণিমার দিন বসন্তোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন৷

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৫
উৎসব

বাংলায় ব্যতিক্রম: রাজ ঐতিহ্যের রীতি মেনে আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে মেতেছে বর্ধমান

দোল পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ গতকাল, সোমবার সারা বাংলা রঙের উৎসবে মেতেছে। লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা এই উৎসবের আবহে ভোট প্রচারও করেছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল একদা রাজাদের শহর বর্ধমান। ঐতিহ্যের পরম্পরা বজায় রেখে আজ, মঙ্গলবার রঙের উৎসবে মেতেছে বর্ধমান। অবশ্য হাল আমলের দুএকটি হাউসিং কমপ্লেক্সে ও কিছু কলা ও সংস্কৃতি শিক্ষাকেন্দ্র গতকাল সোমবার হোলি বা দোল পূর্ণিমা পালন করেছে। যা বর্ধমানের ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন নগর বর্ধমানের বাসিন্দারা দোল উৎসব পালন করেন দোল পূর্ণিমার পরের দিন। রাজাদের আমল চলে গেলেও সেই রীতিনীতি মেনেই রঙের উৎসব পালন করে চলেছেন বর্ধমানবাসী। শুধু শহর বর্ধমান নয় সাবেকি রীতি মেনে অম্বিকা কালনা সহ আরও বেশ কয়েক জায়গায় আজ চলছে রঙের উৎসব।কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাব এই প্রথা চালু করেন। প্রথম দিন অর্থাৎ দোল পূর্ণিমার দিনটি বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল। এও কথিত আছে বর্ধমানে দোল পূর্ণিমা তিথিটি হল কূল দেবতার দোল উৎসবের দিন। লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দিরে দোল পালন হয়েছে গতকাল। সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে। সেই উপলক্ষে রাজবাড়ির অন্দর মহলে দোল খেলা হয়ে থাকে। পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে সাধারণের রঙের উৎসব। সেই রীতির আজও চালু রয়েছে।

মার্চ ২৬, ২০২৪
উৎসব

আড়াল আবডালেও যেন 'রাজনীতির রঙ' না লাগে! রঙ নিয়ে ছুতমার্গী রঙীন বাঙালি

দিনগুলি মোর - সোনার খাঁচায় রইল না- সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি। বাঙালির কোনও অনুষ্ঠানই সম্পূর্ন হয় না কবিগুরুর গান ছাড়া, সে পয়লা বৈশাখ হোক বা বসন্ত উৎসব। সোনার খাঁচার সোনার দিন অনেকটা কল্পনিক লাগলেও বাঙালি আজও রঙ খেলে, সে হোলি বা দোলযাত্রা বা বসন্ত উৎসব যে নামেই হোক।রাত পোহালেই দোলযাত্রা। সাজো সাজো রব বাজারে। নিত্যসামগ্রীর দোকানের নিত্যদ্রব্য সরিয়ে সাময়িক ভাবে জায়গা হয়েছে রঙ-র। নানা রঙের শোভায় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে। অতীতে লাল, হলুদ, গোলাপি, নীল, কমলা মত স্বাভাবিক কয়েকটি রঙের আবির-ই দেখা যেত, এখন নানা-রঙের বাহার। বেনিআসহকলা (বেগুনী, নীল, আকাশি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল) বাইরেও বেশ কিছু রঙের দেখা মিলছে বাজারে।শহর বর্ধমানে রঙের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, অপ্রচলিত (uncommon) রঙের চাহিদা-ই সবচেয়ে বেশী এইবারে। ভরা ভোট মরসুমে কেউই তাঁর নিজের রঙ চেনাতে নারাজ। তাই লাল, নীল, সবুজ বা গেরুয়ার পরিবর্তে অপ্রচলিত রঙের দিকেই বেশী ঝুঁকেছেন জনগণ। শহরের তেঁতুলতলা পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, দোল উৎসবে রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা নিজ-নিজ দলের রঙের আবিরই কিনছেন।এবারে লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যেই দোলযাত্রা অনুষ্টিত হতে চলেছে। শিল্পাঞ্চল থেকে বর্ধমান গ্রামীণ-এ শুরু হয়ে গেছে জোড় প্রচার পর্ব। শহর থেকে শহরতলী চলছে দোলের প্রস্তুতি। মল থেকে শুরু করে ছোট-বড় বাজারে আবির ও রঙের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বাজারে কচি কাঁচাদের ভিড় লক্ষণীয়। রঙের ব্যাপারীরা জানাচ্ছেন, ক্রেতাদের মধ্যে এ বার আবিরের চাহিদা বেশী। কিন্তু তারা আবিরের রঙ নিয়ে বেশ সজাগ। সাধারণ ভাবে যে যে রঙ (লাল, নীল, সবুজ, গেরুয়া) রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত বা কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের ছাপ বহন করে, সেই সেই রঙের আবিরের থেকে তারা এড়িয়েই চলছেন। এবারে ক্রেতারা মজেছেন হলুদ, বেগুনি, আকাশি, হালকা গোলাপির মত অনেক নাম না জানা রঙে।রবিবার বর্ধমানে বিরহাটার এক রঙের দোকানে ক্রেতা জানান, এবারে বেশীরভাগ স্কুলের পরীক্ষা হয়ে রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে বলে ছাত্র-ছাত্রীদের রঙ মেখে শরীর খারাপ হয়ে পরীক্ষা খারাপ হবে-র মত ব্যাপার নেই। তাই বাচ্ছারা এবারে জোড় কদমে রঙ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্ধমান শহরে বেশ কয়েকটি জায়গায় দোল উৎসব পালন করার আয়োজন করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র টাউনহলে এক দোল উৎসব কমিটির আয়োজনে তিন দিন ব্যাপী দোল উদযাপন অনুষ্ঠান চলছে।বর্ধমান শহরের বীরহাটার আবির বিক্রেতা জনতার কথা কে জানান, এবারে গোলা রঙের চাহিদা সেই ভাবে নেই বললেই হয়, তাঁর বদলে আবিরের চাহিদা দারুন। বিক্রেতার দাবি, এ বার সবচেয়ে বেশি বিক্রী হচ্ছে হলুদ ও আকাশি আবির। তার পরে বেগুনি ও হালকা আকাশি রঙের আবিরও কিনছেন ক্রেতারা।পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রধান দুই শহর কালনাও বর্ধমান-এ নির্ধারিত দোলের দিনে কোনোরূপ রঙ খেলা হয় না। প্রথামত এইদিন বর্ধমান মহারাজার পরিবার তাঁদের অধিষ্টাত্রী দেবীর পায়ে আবির দিয়ে দোল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন, এবং পরের দিন শহরের আম জনতা সকলে রঙের উৎসবে মাতেন। মহারাজাদের শাসনকাল থেকেই এই রীতি চলে আসছে যা আজও প্রবাহমান।শহরের এক বাচিক শিক্ষা কেন্দ্র শ্রুতিশ্রীর প্রধান সুদেষ্ণা আচার্য জনতার কথা কে জানান, তাঁরা তাঁদের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও বসন্ত উৎসব পালন করছেন। এবার তারা তাদের উৎসব নতুন পল্লী আদি কালীবাড়িতে পালন করছেন। তিনি বলেন, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা কোনও অনুষ্ঠান-ই কবিগুরুকে ছাড়া পালন করতে পারিনা, সে ভাবেই তাঁর গান ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান......র মধ্যেই আমরা আমাদের মনের রঙের ফেরী করব আগামীকাল।।বিশিষ্ট নৃত্য শিল্পী তুনা রুদ্র জনতার কথা কে বলেন, দোল মানেই রঙের উৎসব। দোল মানেই শত দুঃখকে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেকে রঙিন করে তোলা। সকল দুঃখ কষ্টকে দূরে সরিয়ে রেখে আনন্দের পথে এগিয়ে চলাই জীবন। আর এই রঙের উৎসব পরিবারের সাথে কাটানোতেই তাঁর সবচেয়ে বেশী অনন্দ বলে তিনি মনে করেন।

মার্চ ২৪, ২০২৪
দেশ

রঙের উৎসবে স্পেশাল ট্রেন পূর্ব রেলওয়ের, হোলি উদযাপনের সুবর্ণ সুযোগ

রঙের উৎসব হোলি, যা সমগ্র ভারতে উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয় এবং ঐক্য ও আনন্দের মুহুর্তগুলিকে ধারণ করে। সম্প্রদায়গুলিকে একত্রিত করার ঐতিহ্যকে বজায় রেখে, পূর্ব রেলওয়ে তাদের হোলি স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা চালু রাখার ঘোষণা করেছে। এই উৎসবের মরসুমে জনপ্রিয় গন্তব্যস্থলে ভ্রমণরত যাত্রীদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এই আনন্দময় উৎসব উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার প্রয়োজনে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছুক জনগণের চাহিদাও পূরণ করবে এই ট্রেনগুলি।এবারের হোলির উৎসবে পূর্ব রেল ২২টি হোলি স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করার কথা গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ৬টি ওয়ান ওয়ে স্পেশাল ট্রেন রয়েছে। এই ট্রেনগুলি রাক্সৌল, ইন্দোর, বেনারস, জাগী রোড, আনন্দ বিহার, উধনা, নতুন দিল্লি, নিউ জলপাইগুড়ি, ওয়ালসাড, গোরক্ষপুর, পুরী, বারমের, খতিপুরা, চণ্ডীগড়, পাটনা, দিল্লি ও গয়া সহ বিভিন্ন গন্তব্যস্থানকে একসূত্রে বাঁধবে। যাত্রীদের সুবিধাজনক ও আরামদায়ক ভ্রমণের বিকল্প উপলব্ধ করার লক্ষ্যে হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা, আসানসোল, ভাগলপুর ও মালদহ সহ প্রধান স্টেশন থেকে এই বিশেষ পরিষেবাগুলি পরিচালনা করা হবে।যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পূর্ব রেল হোলি উৎসবে উপলক্ষ্যে এই স্পেশাল ট্রেনগুলি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫৩৬৫২ টি অতিরিক্ত বার্থের ব্যবস্থা করে পূর্ব রেল নিয়মিত পরিষেবার চাপ কমিয়ে যাত্রীদের জন্য একটি সুগম ও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে আগের বছরের তুলনায় পূর্ব রেল আরও ১৯টি অতিরিক্ত হোলি স্পেশাল ট্রেন চালিয়ে তাদের পরিষেবাযর মান উন্নত করেছে। এটি যাত্রী চাহিদার প্রতি সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি এই উৎসব উপলক্ষ্যে এক সুখময় ও আনন্দদায়ক উদযাপন নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে পূর্ব রেলওয়ের অঙ্গীকারেরই পুনর্ব্যক্তি।ভারতের অন্যতম শীর্ষ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক হিসাবে, পূর্ব রেল যাত্রী সন্তুষ্টি বৃদ্ধি এবং সমগ্র যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সবদাই অঙ্গীকারবদ্ধ।পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী কৌশিক মিত্র বলেছেন, হোলি স্পেশাল ট্রেনগুলির নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনার মাধ্যমে, পূর্ব রেল, হাজার হাজার যাত্রীদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের সুযোগ ও সৃজনের ভূমিকায় নিজেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করবে।

মার্চ ২৩, ২০২৪
রাজ্য

স্বাধীনতার পর এই প্রথম ১৫ই অগাস্ট ছুটি বাতিল করল রাজ্য সরকার, মিশ্র পতিক্রিয়া জনমানসে

দে স্বাধীনের ৭৫ বছর পর মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসের ছুটি বাতিল করে দিলেন। এই ঘোষণায় তোলপাড় দেশজুড়ে। ২০২২ এর স্বাধীনতা দিবসে আর ছুটি নেই। ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে বিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে না। সরকারি-বেসরকারি অফিসও খোলা রাখতে হবে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রীতিমত নির্দেশিকা জারি করা হল সারা রাজ্যে। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ রাজ্য সরকার নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, আগামী ১৫ অগাস্ট সবাইকে অন্যান্য দিনের মতোই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে হাজির হতে হবে। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত?২০২২ ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি সেই উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে আজাদী কা অমৃত মহোৎসব। এই দিনটি উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি জেলায় বিশেষভাবে পালিত হবে। সরকার বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তবে অন্যান্য বারের মত এবার স্কুল-কলেজ-অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা ছোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা উচিত নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। যোগী আদিত্যনাথ সকল রাজ্যবাসীকে ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।এই প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব ডিএস মিশ্র জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণত প্রতিবার উত্তরপ্রদেশে দীপাবলির সময় এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আয়োজন করা হয়। তবে এবারের লক্ষ্য এই অভিযানকে জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সমস্ত জায়গায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসকে শুধু সরকারি অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। এই কর্মসুচীর সাথে জনগণকে যুক্ত করতে হবে।উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব আরও বলেছেন যে, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (NGO), এনসিসি (NCC), এনএসও-র (NSO) ক্যাডেটদের পাশাপাশি জনগণেরও স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে অংশ নেওয়া উচিত। সেখানে সাধারণ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ১৫ অগাস্ট দিনটা যেন একটা নিছক ছুটির দিন না হয়ে থাকে সেই কারনেই এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে, স্বাধীনতা দিবসে স্কুল-কলেজ, সরকারি, বেসরকারি অফিস খোলার পথে হাঁটল যোগী প্রশাসন। যা স্বাধীনতার পর এই প্রথম।

জুলাই ১৭, ২০২২
সম্পাদকীয়

'ছুটির সংস্কৃতি' রাজ্য তথা দেশকে কতটা এগিয়েছে!

বিআর আম্বেদকরের জন্মদিনে জাতীয় ছুটি। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে ছুটি। এমন নানা ছুটি রয়েছে এই দেশে। ঈদ-পুজো-বড়দিনে ছুটি। তাছাড়া শনি-রবিবার তো রয়েছেই। নিত্যনতুন ছুটির বাহানা তো আছে। স্থানীয় উৎসবে ছুটি। তবে এই ছুটির বহর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরকারি স্তরে। দেশ এভাবেই এগিয়ে যাবে! না এসব নিয়ে কারও মুখে টু-শব্দটি নেই। প্রশ্ন তুললেই পাছে রেরে করে ওঠ।মাস মাইনে না বাড়লেই আন্দোলন। নিশ্চয় আন্দোলন করার হক রয়েছে। কিন্তু সরকারি স্তরের অধিকাংশ ক্ষেত্রের চাকরিজীবীরা কখনও ভেবে দেখেছেন তাঁরা বছরে কতদিন ছুটি উপভোগ করেন। আর কতদিন কাজ করেন। সরকার কখনও কি ভেবেছে? জরুরি পরিষেবায় সেই উপায় নেই। সেখানে বরং অনেক সময় একটু বেশিই ডিউটি করতে হয়। তাঁদের কিন্তু যথাযথ আর্থিক সংস্থান করা হয় না, এই অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু ছুটির দেশে কখনও দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব। রাজ্যে যেভাবে ছুটির ঘোষণা হয় তাতে তো এখানে ছুটির সংস্কতি বাড়ছে।কাজের গতি বৃদ্ধির কথা চিন্তা করা প্রয়োজন কেন্দ্র ও রাজ্য দুই সরকারের। বিশেষত শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত। প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত। গবেষণার আরও প্রয়োজন রয়েছে। সবাই যে ফাঁক গলে অধ্যাপক হচ্ছেন তা নয়। রীতিমতো পড়াশুনা করে যোগ্যতার সঙ্গে অধ্যাপনা করেন এমন অধ্যাপকের সংখ্যা অনেক। কিন্তু এরই মধ্যে প্রত্যক্ষ রাজনীতি করে কোন যাদুবলে অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ তাতেও সন্দেহ বাড়ে। ছাত্র নেতৃত্বের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে চাকরি জুটে যায়। বাম-তৃণমূল দুই আমলেই তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারওপর এদের কাজের প্রতি অনীহা থাকাই স্বাভাবিক। তৈলমর্দন বা রাজনীতিই যখন মূল পন্থা। বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে কত ঘন্টা ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ান, লাইব্রেরিতে কতটা সময় দেন, গবেষণায় কতটা মন দেন, এসব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক নয় কি? তাছাড়া নানা সেমিনারের কারিজুড়ি আছে। তাতে পড়াশুনা বা সমাজ ব্যাবস্থায় কতটা উপকারে লাগে তা-ও ভাবনার বিষয়। তারওপর ছুটির বন্যা।এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির খোঁজে আদালতের নির্দেশে তদন্ত করছে সিবিআই। অর্থের যাদুতে শিক্ষক হয়ে যাচ্ছেন। তাঁরাও পড়াবেন! শিক্ষাক্ষত্রে যদি এই হাল হয় আর সবাই বলবে দেশ এগোচ্ছে! সরকারি বিমান সংস্থায় খোঁজ নিয়ে দেখুন বংশপরম্পরায় চাকরি করছেন। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিন এই বংশপরম্পরার উদাহরণ পাবেনই। এমনকী নানা জেলা শাসকের অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে। চাকরি জুটছে ঘুরপথে, তাঁরা দেশের উন্নয়নে সামিল হবেন কী করে?সরকারি দফতরগুলিতে যেখানে সরসারি মানুষের যোগাযোগ নেই, সেখানে ফাঁকি দেওয়া অনেক সহজ। কোনও দফতরে কর্মীর অভাবে গাধার খাটুনি খাটছে কেউ কেউ, কোনও দফতরে হাওয়া খেয়ে বেড়াচ্ছে লোকজন। দুয়ারে সরকার হোক আর দুয়ারে সমাধান, সরকারি দফতরে নিয়মিত কাজ করলে কি এসব শিবিরের কোনও প্রয়োজন পড়ে?আশির দশকে একবার জাপানে কলকারখানার কর্মী সংগঠন ধর্মঘট ডেকেছিল। তা স্বত্তেও একটি জুতো প্রস্তুতকারি সংস্থায় ১০০% হাজিরা ছিলো। তারা সবাই কাজে এসেছিলো। গনমাধ্যমের লোকেরা কারখানায় গিয়ে দেখে তারা সবাই কাজ করছে। কেউ বসে বা অলস সময় কাটাচ্ছে না। তাঁদের নেতাকে এটা কি ধরনের ধর্মঘট জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, কারখানার উৎপাদন থেকেই আমাদের মাসমাইনে জোটে। তাই আমরা উৎপাদন বন্ধ রাখিনি। আমাদের দাবী আমরা জানিয়ে রেখে শুধু বাম-পায়ের জুতো বানাচ্ছি। দাবী মেনে নিলে ডান পায়েরটা বানিয়ে দেবো, শুধু বাম পায়ের জুতো তো বিক্রি হবে না, আর দাবী মেনে নিলে সময়টাও বেচে যাবে।সব থেকে বড় কথা মণিষীদের জন্ম বা মৃত্যু দিনের ছুটি দিলে কি বিশাল একটা সম্মান জানানো হয়? তাঁরা তো নিজের কর্মের জন্যই খ্য়াতি পেয়েছেন। তাঁরা ছুটি নিয়ে অলস দিনযাপন করেননি। বিআর আম্বেদকর হোন বা মহাত্মাগান্ধী বা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। এঁরা দিনরাত এক করে দেশের কথা ভেবেছেন। হাড়ভাঙা খেটেছেন। দেশের মানুষের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। আর স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের সরকার ছুটি দিয়ে কর্মদিবস নষ্ট করছে। কর্মের মাধ্যমে এঁদের সম্মান দেওয়া যায় না? তাতে দেশের অগ্রগতি হবে না দেশ পিছিয়ে যাবে? বরং ছুটির সংখ্যা কমানো প্রয়োজন। তাহলেই মণিষীদের প্রকৃত সম্মান দেওয়া হবে। ছুটির সংস্কৃতি তুলে দেওয়া উচিত। তাহলে সরকারি দফতরে ফাইলের পাহাড় হবে না। অফিস চলাকালীন ক্যারাম বা তাস খেলার এন্টারমেন্ট আর কত দিন চলবে এই অভাগা দেশে? দেশের অগ্রগতি চাইলে একমাত্র উপায় কর্ম। একেই তো নেপোটিজম করে অনেকের চাকরি জোটে, রয়েছে মন্ত্রীদের কোটা। তাঁদের কাজের নেশা আসবে কোথা থেকে। একেই তো সারা দেশ দুর্নীতির জালে জড়িয়ে গিয়েছে।

এপ্রিল ১৪, ২০২২
রাজ্য

জামালপুরে দোল খেলতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত রাজ্য বিজেপি নেতা

শ্বশুর বাড়ির দোল উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবার পথে দুস্কৃতি হামলার শিকার হলেন রাজ্য বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে। শুক্রবার বিকাল পৌনে চারটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার মসাগ্রাম রেল গেট এলাকায়। ঘটনা বিষয়ে এদিন সন্ধ্যায় জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কল্যান চৌবে। তাঁর অভিযোগের তীর যদিও তৃণমূলের দিকেই। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি নেতার আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার উল্টোডাঙ্গা নিবাসী কল্যাণ চৌবে দলের উত্তর কলকাতার সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি রাজ্য বিজেপিরও সদস্য। জামালপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে কল্যান চৌবে জানিয়েছেন, শ্বশুর বাড়ির দোল উৎসব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এদিন তিনি জামালপুরের রাজারামপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। সামনের গাড়িতে তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছিলেন। পিছনের গাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যা। বিকাল পৌনে চারটে নাগাদ তাঁরা মেমারি তারকেশ্বর রোডে মসাগ্রাম লেবেল ক্রসিং এর কাছে পৌছান। কলাণবাবু দাবি করেছেন, তাঁর গাড়ির সামনে বিজেপির একটি পতাকা লাগানো ছিল। এছাড়াও ড্যাসবোর্ডে রাখা ছিল উত্তরীয় ও ব্যাচ। এইসব দেখেই মসাগ্রাম রেল গেট এলাকায় থাকা দুস্কৃতি দল তাঁকে প্রাণে মেরে দেবার উদ্দেশ্যে আচমকাই তাঁর গাড়ির উপর চড়াও হয়। কল্যাণবাবু দাবি করেছেন, তাঁর নিরাপত্তা রক্ষীরা কোনক্রমে তাঁকে ও তাঁর পরিবার সদস্যদের রক্ষা করেন। হামলায় তাঁদের দুটি গাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন কল্যাণ চৌবে। থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ফের স্বপরিবার রাজারামপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন বিজেপি নেতা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিজেপির নেতার আনা এই অভিযোগ কতটা সত্য তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন জেলা তৃণমূলের মুখপত্র প্রসেনজিৎ দাস। পাল্টা অভিযোগে তিনি বলেন, ওই বিজেপি নেতার বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজনই হয়তো এইসব ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। পুলিশের তদন্তেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।

মার্চ ১৯, ২০২২
রাজ্য

প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে দোল পূর্ণিমায় রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হন না বর্ধমান ও রাধাবল্লভবাটির বাসিন্দারা

দোল পূর্ণিমার দিন সারা বাংলা মাতোয়ারা থাকলো রঙের উৎসবে।কিন্তু সুপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে এই দিনটিতে আবিরের রঙে রাঙা হন না রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রাচীন নগর বর্ধমানের বাসিন্দারা।এখানে দোল উৎসব পালিত হয় দোল পূর্ণিমার পরের দিন ।রাজা না থাকলেও শতাব্দী প্রাচীন কাল ধরে রাজরীতি মেনেই এই ভাবেই রঙের উৎসব পালন করে চলেছেন বর্ধমানবাসী। একই রকম ভাবে সাবেকী রীতি মেনে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের। রাধাবল্লভবাটি মৌজায় দোল পূর্ণিমার পরদিন পালিত হয় দোল উৎসব। যা জোড়া রাধাবল্লভের দোল নামেই খ্যাত।দোল পূর্ণিমার দিন বর্ধমানবাসী কেন রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হন না তার পিছনেও রয়েছে দেবতাদের প্রতি ভক্তির কাহিনী। কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা বিজয় চাঁদ মহতাব এই প্রথা চালু করেন। প্রথম দিন অর্থাৎ দোল পূর্ণিমার দিনটি বর্ধমানের অধিষ্টাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলা দেবীর দোল। এও কথিত আছে বর্ধমানে দোল পূর্ণিমা তিথিটি হল ঠাকুর দেবতার দোল উৎসবের দিন। সেদিন শুধুমাত্র দেব-দেবীর রাঙা চরণ আবির ও কুমকুমে চর্চিত হবে। সেই উপলক্ষে রাজবাড়ির অন্দর মহলে খেলা হবে দোল। পরের দিন অনুষ্ঠিত হবে মানব সাধারণের রঙের উৎসব। সেই রীতির আজও সার্থক উত্তরাধিকারী বর্ধমানের মানুষ। ঐতিহ্য মেনে আজও দোল পূর্ণিমা তিথিতে প্রাচীন বর্ধমানের প্রানকেন্দ্র সর্ব্বমঙ্গলা বাড়িতে দোল উৎসব পালিত হয় এবং বর্ধমানবাসী পরের দিন দোল উৎসব পালন করে।একই রকম ঐতিহ্য মেনে দোল উৎসবের পরদিন জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবে মাতোয়ারা হন জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজা এলাকার বাসিন্দারা। দীর্ঘ প্রায় চারশো বছর ধরে জোড়া রাধাবল্লভ পূজিত হয়ে আসছেন জামালপুরের রায় পরিবারের মন্দিরে। শনিবার রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে তারপর বিকালে রঙের উৎসবে মাতোয়ারা হবেন জামালপুরবাসী। মন্দির প্রাঙ্গনে বসবে মেলা। জোড়া রাধাবল্লভের পুজো দেখতে আশপাস এলাকারও বহু মানুষ মন্দির প্রাঙ্গনে এইদিন জড়ো হন। পূর্ব বর্ধমান জেলায় আজও অন্যতম ঐতিহ্যের সাক্ষ বহন করেচলেছে জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব।জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসব ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা লোককথা। জামালপুরের রায় পরিবারের সদস্য প্রশান্ত কুমার রায় জানালেন, তাদের পূর্ব পুরুষরা ছিলেন রাজপুত। প্রায় চার শতাধিক বছর কাল আগে রাজস্থান থেকে বর্ধমানে বানিজ্য করতে এসেছিলেন তাদের রাজপুত সিংহ বংশিয় এক পূর্ব পুরুষ। বর্ধমান জেলার জামালপুরে তিনি আস্তানা গাড়েন। শত্রু আক্রমণ ঠেকাতে গড়কাটা হয় আস্তানার চারপাশ জুড়ে। সেই গড়কাটার সময় মাটি থেকে উদ্ধার হয় রাধাকৃষ্ণের অষ্টধাতুর একটি মূর্তি। রাধাকৃষ্ণ মূর্তিটি রাজপুত পরিবারের কাছে রাধাবল্লভ নামে পরিচিতি পায়। আস্তানা এলাকায় ছোট্ট একটি মন্দির গড়ে রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ শুরু করে রাজপুত পরিবার। সেই সমসাময়িক কালেই কোন এক বৈষ্ণব সাধক ওই মন্দিরের সামনে কষ্টিপাথরের কৃষ্ণ মূর্তি এবং অষ্ট ধাতুর রাধা মূর্তি ফেলে রেখে দিয়ে চলে যান। সেই থেকে দোল উৎসবের পরদিন প্রতিপদ তিথিতে জোড়া রাধাবল্লভের মূর্তির পুজোপাঠ হয়ে আসছে রাধাবল্লভ মন্দিরে। প্রশান্ত বাবু জানালেন পূর্বতন বর্ধমান মহারাজা জামালপুরের কয়েকটি মৌজা এলাকার জমিদারি দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তাদের পূর্ব পুরুষদের। সেই সময় কালেই রাধাবল্লভ কে স্মরণ করে এখানকার জমিদারি মৌজা রাধাবল্লভবাটি মৌজা নামে পরিচিতি পায়। বর্ধমান মহারাজা কর্তৃক রায় উপাধিতে ভূষিত হয় রাজস্থান থেকে জামালপুরে আস্তানা গাড়া সিংহ পরিবার। ভক্তিতে ভর করেই জোড়া রাধাবল্লভের দোল উৎসবের দিনেই রঙের উৎসবে মাতেন জামালপুরের রাধাবল্লভবাটি মৌজার বাসিন্দারা।রায় পরিবারের অপর সদস্য পার্থপ্রতিম রায় জানালেন, দোল পূর্ণিমার দিন রাধাবল্লভ মন্দির প্রাঙ্গনে পরিবারের সকল সদস্য মিলে চাঁচর পোড়ান। পূর্ণিমার পর দিন প্রতিপদ তিথিতে বংশের মন্দিরে হয় রাধা বল্লভের পুজোপাঠ। পার্থপ্রতিম বাবু বলেন, রাধাবল্লভের ভোগ অন্নে শুক্তো চাই। এদিন সকাল থেকে শুরু হয় পুজোপাঠ। রাধাবল্লভের চরণে আবির দিয়ে বিকালে মন্দির চত্ত্বরে এলাকাবাসী আবির খেলায় মাতেন। সন্ধ্যায় বিতরণ করা হয় অন্ন ভোগ।

মার্চ ১৮, ২০২২
রাজ্য

রাজ্যে করোনা বিধিনিষেধের মেয়াদবৃদ্ধি ৩১ মার্চ পর্যন্ত

রাজ্যে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও আপাতত কোনও ঝুঁকি নিচ্ছে না রাজ্য সরকার। তাই আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে করোনার বিধিনিষেধ বাড়ানো হলো। পাশাপাশি বজায় থাকবে নৈশ কার্ফু। যদিও হোলিকা দহনের জন্য আগামী ১৭ মার্চ নৈশ কার্ফুর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় এ কথা জানানো হয়েছে।কিন্তু ফের মারণ ভাইরাস নতুন করে তাণ্ডব চালাতে পারে, এমন আশঙ্কায় বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হচ্ছে না। গত মাসেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল ১৫ মার্চ পর্যন্ত করোনার বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এদিন সন্ধ্যায় বিধিনিষেধ ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হলো। মুখ্যসচিবের স্বাক্ষরিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিধিনিষেধের পাশাপাশি রাত বারোটা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত নৈশ কার্ফু চালু থাকবে। তবে দোলের আগের দিন ন্যাড়া পোড়ানো বা হোলিকা দহনের জন্য নৈশ কার্ফু শিথিল থাকবে। বিধিনিষেধ চলাকালীন মাস্ক পরা যেমন বাধ্যতামূলক, তেমনই শারীরিক দুরত্বও বজায় রাখতে হবে।রাজ্যে গত মাসখানেক ধরেই করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে। দৈনিক সংক্রমণ যেমন একশোর গণ্ডির নিচে নেমে এসেছে, তেমনই দৈনিক মৃত্যুও হ্রাস পেয়েছে। সংক্রমণের হার কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশে। মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় ধীরে-ধীরে কোভিড বিধিনিষেধ শিথিল করার পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র যেমন খুলে দেওয়া হয়েছে, তেমনই নৈশ কার্ফুতেও অনেকটা ছাড় দেওয়া হয়েছে।

মার্চ ১৫, ২০২২
বিনোদুনিয়া

সুলগ্না আকাডেমি ট্রাস্টের বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট

সামনেই দোলযাত্রা। বসন্ত উৎসবের আয়োজন বিভিন্ন জায়গায় যেমন হবে করোনা কালের এই ঘরবন্দি সময় থেকে একটু বেরিয়ে সবার সাথে রঙ মেলানোর এই উদ্যোগে সামিল সুলগ্না আকাডেমি ট্রাস্ট। আগামী ১৭মার্চ ঠিক দোলের আগের দিন আয়োজিত হতে চলেছে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, রাঙিয়ে দিয়ে যাও- তৃতীয় বর্ষ।বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী সুলগ্না রায় ভট্টাচার্য এর পৃষ্ঠপোষোকতায় হাওড়ার শিবপুরের নেতাজী সঙ্ঘের মাঠে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ অনুষ্ঠান। সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী অভিরূপ সেনগুপ্ত, মন্দাক্রান্তা রায়,দীপঙ্কর দাস থাকছেন গুরু পৌষালি মুখোপাধ্যায়, বিশেষ উপস্থিতি ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায়ের, গানে চন্দ্রাবলী রূদ্র দত্ত, দীপাবলি দত্ত, সঞ্চালনায়, পাঠে সুদীপ দে,প্রদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। থাকবে সুলগ্না রায় ভট্টাচার্য এর আকাডেমির ছাত্র-ছাত্রীরা। রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে শুরু করে ছবির গান, ট্রাডিশনাল সুর থেকে আধুনিক গান বসন্তের বন্দনায় প্রস্তুত সুলগ্না আকাডেমি ট্রাস্ট।সুলগ্না রায় ভট্টাচার্য বললেন, অনেক দিন সবাই গৃহবন্দি ছিলাম। করোনার দাপট সামলে আমরা আস্তে, আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছি। আমাদের জীবনে ফিরছে সেই চিরাচরিত অনুষ্ঠান গুলো। মাঝে করোনার দাপটে আমরা কেউ এই উৎসব গুলোর উদযাপন করে উঠতে পারিনি। এইবার করোনার চোখ রাঙানি একটু কম হওয়ায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারছি। আসা করছি সবার ভালো লাগবে।

মার্চ ১৪, ২০২২
রাজ্য

ক্রমশ চড়ছে পারদ, কালঘাম ছুটবে দোলে

মার্চ পড়তে না পড়তেই চড়া রোদের তাপে ছাতি ফাটা অবস্থা। একটু বেলা বাড়তেই রীতিমত হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে। রোদ চশমা, ছাতা ছাড়া বাইরে বেরোনোই দায় হয়ে পড়েছে এখন। তবে এই মাসের শুরুতেও কিন্তু তাপমাত্রা এমনটা ছিল না। হালকা শীতের আমেজ ছিল। পাশাপাশি সঙ্গী ছিল বৃষ্টি। কিন্তু দিন যত এগোচ্ছে চড়া রোদ আর গরমের বাড়বাড়ন্ত ততটাই বেড়েছে। পাশাপাশি ত্বকে পড়ছে টান।হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, যত দিন এগোবে দিনের তাপমাত্রা ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি পাবে। কলকাতায় আগামীকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩০ থেকে ৩৪ ডিগ্রি। অন্যদিকে, সর্বনিম্ম তাপমাত্রা থাকবে ২১ থেকে ২২ ডিগ্রির আশেপাশে। তবে শীত শেষে গরম পড়তে শুরু করলেও এই ভ্যাপসা আবহাওয়া থাকে অন্তত পক্ষে তিন থেকে চারদিন থাকবেই।এদিকে, কাঠফাটা রোদে সামান্য বৃষ্টির জন্য মুখিয়ে রয়েছেন প্রত্যেকে। তবে এখনই রেহাই মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী চার থেকে পাঁচদিন উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোনও বৃষ্টির সম্ভবনা নেই। অর্থাৎ এই কাঠফাটা গরম সহ্য করতে হবে। এদিকে, ১৭ মার্চ দোল এবং ১৮ তারিখ হোলি। আর দোলে এখনও অবধি আবহাওয়ার যা খবর মিলছে তাতে বৃষ্টির কোনও সম্ভবনা নেই বললেই চলে। রঙের উৎসবে মাততে যে যথেষ্ঠ কালঘাম ছুটবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দোলের দিন যে ভালোই গরম অনুভূত হবে তার পূর্বাভাস আগে থেকেই করছে আবহাওয়া দপ্তর।

মার্চ ১২, ২০২২
টুকিটাকি

দোলের রং উঠবে, ত্বক আর চুলের লাভও হবে, জেনে নিন সহজ উপায়

দোলের রং সারা মুখে ভর্তি, স্নানের সময় বার বার সাবান দিয়ে ধুয়েও কোনও ভাবে যাচ্ছেই না, অফিস যেতে সমস্যা, না, রং তোলা মোটেই খুব কঠিন বিষয় নয়। হাতের কাছে থাকা কয়েকটা উপাদান দিয়েই সহজেই তুলে ফেলা যায় রং। কিন্তু এর অনেকগুলিই আবার ত্বকের জন্য ততটা নিরাপদ নয়। তা হলে? দেখে নেওয়া যাক, রং তোলার কিছু সহজ প্রক্রিয়া, যারা ক্ষতি তো করবেই না, বরং এগুলিতে উপকার হবে ত্বকের।লেবুর ব্যবহার: একটু হালকা রং তোলার জন্য লেবুর বিকল্প নেই। লেবু, মধু, জলপাই তেল আর হলুদ আছে এমন ফেস প্যাক ব্যবহার করে রং তুললে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। ত্বকের নমনীয়তাও বাড়ে।ডিম: রং খেলার নাম করে মাথায় ডিম ফাটানোর রেওয়াজ আজকের নয়। অনেকেরই দাবি, এতে চুলের উপকার হয়। কথাটা খুব ভুলও নয়। চুলের এবং মাথার ত্বকের রং তুলতে ডিমের হলুদ অংশ খুবই পারদর্শী। এই হলুদ অংশ রং লাগা জায়গাগুলিতে মাখিয়ে রেখে, পরে তা হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে তুলে ফেললেই হল। রং পরিষ্কার।বিয়ার: পানীয় হিসেবে দোলের দিনে অনেকেরই পছন্দ। কিন্তু শুধু পানীয় হিসেবে নয়, এর ব্যবহার হতে পারে রং তোলার ক্ষেত্রেও। চুলের রং আর মুখের রং তুলতে বিয়ার ব্যবহার করা যেতেই পারে। এতে চুলের এবং ত্বকের উভয়েরই উপকার হয়। শুধু বিয়ার দিয়ে রং সাফ করার আগে, এক বোতল এই পানীয়ের সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারলে ভাল হয়।

মার্চ ২৯, ২০২১
কলকাতা

দোলযাত্রায় সীমিত মেট্রোরেল পরিষেবা

সামনেই দোলযাত্রা এবং হোলি । আর সেজন্য ওই দুদিন বদলে যাবে মেট্রো পরিষেবার সময়সীমা। রবিবার সকাল ৯টার পরিবর্তে পরিষেবা শুরু হবে দুপুর আড়াইটে থেকে। ১০৪টি নয়, চলবে মোট ৬০টি ট্রেন। আর সোমবার হোলির দিন ২৫২টির বদলে চলবে ১৭৬টি ট্রেন। মঙ্গলবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।এদিন মেট্রোর তরফ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার মেট্রো পরিষেবা শুরু হবে দুপুর আড়াইটে থেকে। চলবে ১০টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। ১০৪টির বদলে চলবে ৬০টি ট্রেন। সকাল ৯টার পরিবর্তে দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষগামী প্রথম মেট্রোটি ছাড়বে দুপুর আড়াইটের সময়। একই সময়ে আবার দমদম থেকেও কবি সুভাষগামী মেট্রোটিও ছাড়বে। অন্যদিকে, কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রো এবং দমদম থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রোটিও ছাড়বে দুপুর আড়াইটের সময়। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই শেষ মেট্রোর ছাড়ার সময় অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ রাত ১০টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা মিলবে।এরপর সোমবার আবার হোলি উপলক্ষ্যেও চলবে কম মেট্রো। সাধারণত সপ্তাহের প্রথম দিন ২৫২টি ট্রেন চললেও, হোলির দিন চলবে ১৭৬টি ট্রেন। অর্থাৎ ডাউন এবং আপে চলবে ৮৮টি ট্রেন। সকাল ৬ টা ৫০ মিনিটে ছাড়বে প্রথম ট্রেনটি। চলবে ১০ টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত। এর মধ্যে ১৭২টি ট্রেন চলবে কবি সুভাষ এবং দক্ষিণেশ্বরের মধ্যে।

মার্চ ২৩, ২০২১
টুকিটাকি

দোল খেলুন, কিন্তু ত্বক ও চুলের যত্নে দিন বিশেষ নজর

খেলবো হোলি রং দেব না, তাই কখনও হয়... ফের বাড়তে থাকা করোনা আবহের মধ্যেই সামনেই হোলি উৎসব। এবছর উপরি পাওয়া ছুটির দিনে পড়েছে রঙের উৎসব। গতবছর করোনার দাপটে হোলি খেলা কার্যত হয়ইনি। এবছর করোনার সতর্কতা থাকবে নিশ্চিত। তবে অনেকেই জমিয়ে হোলি খেলার পরিকল্পনা করে ফেলেছেন। সতর্কতা মেনেই তৈরি হয়ে গিয়েছে প্ল্যান। কিন্তু হোলি খেলতে গেলে রং-আবিরে চুল এবং ত্বকের বারোটা বাজার অবস্থা হয়। তাই চুল এবং ত্বক ভাল রাখতে হোলির প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা।জেনে নিন দোলের দিন ত্বক এবং চুলের ক্ষতি আটকাতে কী কী করণীয়..১। ভাল করে বডি অয়েল মেখে তবেই হোলি খেলতে নামুন। রঙ তোলার ক্ষেত্রেও তেলের মতো ভাল আর কিছু হয় না। এর ফলে আপনার ত্বক রুক্ষ হবে না। সহজে রং ত্বকে বসে যাবে না। ফলে রং তুলতে সুবিধা হবে।২। আবির বা রং ভীষণ ভাবে নখে ঢুকে যায়। তারপর সেই রং নখে ধরে যায়। তাই নখের পরিচর্যা করতে হলে অবশ্যই গাঢ় রঙের নেলপলিশ পরুন।৩। যেহেতু দিনের বেলায় দোল খেলবেন, তাই সানস্ক্রিন লাগান অতি অবশ্যই। নাহলে ট্যান পড়তে বাধ্য। এর ফলে কেবল রোদ নয় রঙ থেকেও রক্ষা পাবে আপনার স্ক্রিন।৪। সারাবছর তেল না মাখলেও দোল খেলতে নামার আগে মাথায় ভাল করে অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। এর ফলে চুলে রং বসে যাবে না। যেটুকু রং বা আবির লাগবে সেটা সহজেই শ্যাম্পু করে তুলে নেওয়া যাবে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার বা সিরাম লাগান। পারলে বাড়িতেই স্পা করে নিন। অবশ্যই হোলি খেলার সময় চুল বেঁধে রাখবেন। নাহলে চুলের সর্বনাশ হয়ে যাবে। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে মাথায় হেয়ার ক্যাপ পরে নিতে পারেন। কিংবা রঙিন ওড়না বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা পেঁচিয়ে রাখতেও পারেন।এ এর ফলে স্টাইলও হবে। আবার রং-আবির থেকে চুল বাঁচানোও সম্ভব হবে।সামান্য এই কয়েকটি জিনিস মেনে চললেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন চুল ও ত্বকের কোনওরকম ক্ষতি না করেই। আর কোভিড বিধি মানতে যেন ভুলবেন না। তাহলেই কিন্তু বিপদ..

মার্চ ২০, ২০২১
রাজনীতি

"আমাকে বিধায়কের টিকিট দেওয়ার দরকার নেই"-শুভেন্দু

বিধানসভার টিকিট চান না সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একটাই লক্ষ্য রাজ্যে পরিবর্তন আনা। পূর্বস্থলীতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম জনসভায় কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তৃণমূল কংগ্রেসকে। তাঁর কথায় দেড় জনে মিলে তৃণমূল চালাচ্ছে। শনিবার মেদিনীপুরে এক জনসভায় অমিত শাহর(amit shah) হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)। তারপর পূর্ব বর্ধমানে এটাই ছিল তাঁর প্রথম জনসভা। এই জনসভায় হাজির ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আরও পড়ুন--প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু বলেন, দলকে আমাকে বিধায়কের টিকিট দেওয়ার দরকার নেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্য়ে ১৬ ঘণ্টা খাটবো। যেখানে বলবে সেখানে যাব। হারবই হারাব। আমরা জিতবই। নতুন বাংলা গড়ব, সোনার বাংলা গড়ব। পরিবর্তনের পরিবর্তন চাই। দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে যা নির্দেশ দেবে তা আমরা পালন করব। মীরজাফরের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীকে। বিজেপি যোগ নিয়েই তৃণমূল নেতৃত্ব তোপ দেগে চলেছে শুভেন্দুকে। প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী মীরজাফরের জবাবে বলেন, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৮-এ পঞ্চায়েত ভোট, ১৯৯৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে কারা ছিল। সেদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী তৃণমূল কংগ্রেসকে আশ্রয় না দিতেন, লালকৃষ্ণ আদবানী আশ্রয় না দিতেন এই দলটা ২০০১ সালেই উঠে চলে যেত। এটাকে অস্বীকার করতে পারবেন না। আরও পড়ুন--এক মাসেই ২২৩টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত বাংলায়, টুইটে তোপ মালব্যের বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের যোগ নিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালে তমলুক লোকসভায় কেউ লড়তে রাজি হয়নি। সেদিন আমি এনডিএ-র প্রার্থী হয়ে লড়েছিলাম। একদিকে বিজেপির ঝান্ডা অন্যদিকে তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে লড়েছিলাম। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের গণহত্য়ার দিন অন্য় কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা আসেননি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পাশে ছিলেন।

ডিসেম্বর ২২, ২০২০
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

কলকাতা

ইডেনে মোদীর জন্য ‘হোম’ ড্রেসিংরুম, শুভেন্দু'র ‘অ্যাওয়ে’! ১০ হাজার শিল্পীর অনুষ্ঠান, সাজছে ক্রিকেটের নন্দনকানন

কলকাতা: ইডেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে তৎপরতা। সূত্র মারফত জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ইডেন গার্ডেন্সের হোম ড্রেসিংরুমযে ড্রেসিংরুম ব্যবহার করে ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জন্য রাখা হবে অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম। দুই ড্রেসিংরুমের মাঝখানের মাঠে যাওয়ার কমন পথটিও থাকবে ব্যবহারের উপযোগী।দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি সংস্থার হাতেই থাকছে ড্রেসিংরুম দুটির সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত। ড্রেসিংরুমে আহার-সহ আপ্যায়নের যাবতীয় ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে ড্রেসিংরুমের সামনের লনেই।মাঠের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য মাঠের ভিতরে প্রায় ১২ ফুট জায়গা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঘাসের ক্ষতি না করেই যাবতীয় কাজ করার পরিকল্পনা। সামান্য বদল আসতে পারে শুধু ঘাসের রঙে।অনুষ্ঠান চলাকালীন গল্ফ কার্টে করে মাঠ প্রদক্ষিণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। মঞ্চের উপর থাকবে ছাউনি। ইডেনের বিভিন্ন ব্লকে চেয়ার সরিয়ে জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ইডেন উদ্যান থেকে আতশবাজির প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন প্রায় ১০ হাজার সাংস্কৃতিক শিল্পী। তাঁদের পারফরম্যান্সের জন্য ইডেনের উল্টো দিকে থাকা মাঠ এবং নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া ব্যবস্থা। ৯ অক্টোবর অফিসের সময় শেষ হওয়ার পর থেকেই এসপিজি নিরাপত্তার আওতায় ইডেনের ক্লাব হাউস কার্যত সিল করে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী যতক্ষণ সেখানে থাকবেন, প্রায় তিন ঘণ্টা ক্লাব হাউসের গতিবিধিতে থাকবে কড়া নিয়ন্ত্রণ। গোটা অনুষ্ঠান চলবে বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।এদিকে, ক্লাব হাউসে সিএবির আধিকারিকদের উপস্থিতি নিয়ে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পাঁচ অফিস বেয়ারার, সিইও এবং সিএও যাতে ক্লাব হাউসে থাকতে পারেন, তার জন্য এসপিজির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অন্তত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার জন্যও অনুরোধ রাখা হয়েছে।সিএবির অ্যাফিলিয়েট সদস্যদের জন্যও বিশেষ বন্দোবস্তের আবেদন করা হয়েছে। অন্তত প্রতিটি ক্লাব থেকে দুজন করে যাতে অনুষ্ঠানটি দেখতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল তৈরির কাজ থেকে শুরু করে নৈশালোকের বন্দোবস্তসব ক্ষেত্রেই সিএবির তরফে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর ইডেনের ১৪ নম্বর গেটের কাছে কনফারেন্স রুমে অস্থায়ী অফিস তৈরি করবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা। অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসা তারকা শিল্পীদের সেখানে অথবা কর্পোরেট বক্সে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।ইডেনের সাজসজ্জা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শীঘ্রই পরিদর্শনে আসবে পূর্ত দফতর (PWD)। মাঠ, মঞ্চ, নিরাপত্তা এবং দর্শক ব্যবস্থাপনাসব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।সব মিলিয়ে ক্রিকেটের বাইরের এক অন্য ভূমিকায় এবার সেজে উঠতে চলেছে ইডেন গার্ডেন্স। ক্রিকেটের নন্দনকাননেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে হতে চলেছে এক বর্ণময়, বিশাল আয়োজন।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
দেশ

নেপালের বিপর্যয়ে চারপেয়ে ত্রাতা! ভারতের সাম্বার নাকেই মিলল ২০টি দেহের সন্ধান

নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু দিন। ধ্বংসস্তূপের নীচে নিখোঁজদের জীবিত অবস্থায় পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছেন তাঁদের পরিজনেরা। কিন্তু উদ্ধারকাজ এখনও থামেনি। কাদামাটি, ভেঙে পড়া বাড়ির অংশ এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খুঁজে চলেছেন নেপালের সেনা, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে প্রশিক্ষিত সারমেয় বাহিনীও।তাদের মধ্যেই অন্যতম সাম্বা। ল্যাব্রাডর প্রজাতির এই সারমেয় নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষিত সারমেয় দলের সদস্য। তবে সাম্বার সঙ্গে ভারতেরও যোগ রয়েছে। নেপালের প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেই তাকে আনা হয়েছিল। পরে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে উদ্ধারকাজের উপযোগী করে তোলা হয়।মানুষের দেহের গন্ধ শনাক্ত করে ধ্বংসস্তূপের নীচে কোথায় দেহ থাকতে পারে, তা খুঁজে বার করাই সাম্বার মূল দায়িত্ব। সেই দায়িত্বই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে সে। রাসুয়া এবং ত্রিশূলী এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোর সময় সাম্বার দেওয়া সংকেতের ভিত্তিতে ২০টি দেহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কিন্তু কী ভাবে এত নিখুঁত ভাবে কাজ করে সাম্বা? তার প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বক্তব্য, সাম্বা ধ্বংসস্তূপের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেত এবং মাটি শুঁকত। কোথাও মানুষের দেহের গন্ধ পেলে আচমকাই থেমে যেত সে। এরপর জোরে ডাকতে শুরু করত। সেটিই ছিল তার হ্যান্ডলারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।সাম্বার সংকেত পাওয়ার পর নিরাপত্তারক্ষীরা সেই জায়গায় পৌঁছে মাটি খুঁড়ে দেখতেন। অনেক সময় সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে দেহ। সাম্বার কাজের সময় সবসময় তার সঙ্গে থাকেন এক জন প্রধান হ্যান্ডলার এবং এক জন সহযোগী। দুজনই নিরাপত্তারক্ষী। সাম্বার আচরণের অর্থ বুঝে সঠিক জায়গায় উদ্ধারকাজ শুরু করাই তাঁদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।সাম্বা সবসময় একই ভাবে সংকেত দেয় না। কখনও হাঁটতে হাঁটতে আচমকা থেমে যায়। কখনও কোনও নির্দিষ্ট জায়গার চারপাশে বার বার ঘুরতে থাকে। আবার কখনও মাটিতে বসে পড়ে পায়ের নখ দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করে। তার প্রতিটি আচরণই আসলে একটি সংকেত। সেই সংকেতের অর্থ বুঝতে পারেন শুধু তার সঙ্গে কাজ করা হ্যান্ডলার এবং সহযোগী।এই ভাবেই কাদামাটি এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিনের পর দিন কাজ করে চলেছে সাম্বা। নিখোঁজদের সন্ধানে তার ভূমিকা এখন নেপালের উদ্ধারকারী দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী সাম্বার মতো আরও পাঁচটি প্রশিক্ষিত সারমেয়কে উদ্ধারকাজে নামিয়েছিল। পাশাপাশি নেপাল সেনার তরফেও আরও ছটি সারমেয়কে কাজে লাগানো হয়েছে। বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ যত দীর্ঘ হচ্ছে, প্রশিক্ষিত এই সারমেয়দের ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিনোদুনিয়া

প্রাদার পর এবার রালফ লরেন! ভারতীয় নকশা ‘চুরি’র অভিযোগে তোলপাড়

কিছুদিন আগেই নকশা চুরির অভিযোগ উঠেছিল প্রাদার বিরুদ্ধে। এ বার একই ধরনের অভিযোগের মুখে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড রালফ লরেন। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের নকশা ব্যবহার করে যথাযথ স্বীকৃতি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।সম্প্রতি রালফ লরেনের একটি গোলাপি পোশাক প্রকাশ্যে এসেছে। সেই পোশাকে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ছোঁয়া স্পষ্ট বলে দাবি করেছেন ফ্যাশন জগতের অনেকে। কিন্তু পোশাকটির বর্ণনায় ভারত বা ভারতীয় কারিগরদের কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু হাতের কাজ করা সজ্জা হিসাবে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।১২ সেপ্টেম্বর রালফ লরেনের সমাজমাধ্যম পাতায় পোশাকটির ছবি প্রকাশ করা হয়। পোশাক তৈরির কাপড় এবং সুতো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলেও হাতের কাজের বিষয়ে মাত্র একটি শব্দে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পোশাকটির নকশায় যদি কোনও দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রভাব থাকে, তা হলে সেই শিল্প এবং কারিগরদের যথাযথ পরিচয় দেওয়া হল না কেন?এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার প্রখর রাও সিং চান্ডেল। তাঁর বক্তব্য, পোশাকের কাপড় নিয়ে দীর্ঘ বিবরণ দেওয়া হলেও যে কারিগররা সূক্ষ্ম হাতের কাজ করেছেন, তাঁদের শিল্পকে একটি অস্পষ্ট শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।রালফ লরেনের প্রচারে বলা হয়েছিল, প্রতিটি পোশাকের যেন নিজস্ব ইতিহাস ও চরিত্র থাকে। সেই কথাকেই সামনে রেখে প্রখর প্রশ্ন তুলেছেন, সেই পোশাকে আসলে কার ইতিহাস এবং কার চরিত্র তুলে ধরা হচ্ছে?প্রখরের দাবি, বিতর্কিত পোশাকটিতে ভারতের ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্প জরদৌসির ব্যবহার রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লখনউ এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের চর্চা চলছে। বহু কারিগর এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাই এটিকে শুধুমাত্র পোশাকের অলঙ্করণ হিসেবে দেখলে সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষের ইতিহাস ও পরিশ্রমকে আড়াল করা হয়।এই প্রসঙ্গে প্রখর গত বছর প্রাদাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কোলাপুরি চটির নকশা ব্যবহার করা হলেও সেটিকে শুধুমাত্র চামড়ার স্যান্ডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে মহারাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য সংগঠনের তরফে চিঠি দেওয়ার পর ভারতের নাম যুক্ত করা হয় বলে দাবি তাঁর।নিজের দলের সঙ্গে কাজ করা জরদৌসি শিল্পী বাবলু ভাইয়ের কথাও উল্লেখ করেছেন প্রখর। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের শিল্পের পিছনে বহু কারিগরের বছরের পর বছর পরিশ্রম রয়েছে। তাঁদের পরিচয় বাদ দিয়ে শুধু নকশাকে ব্যবহার করলে সেই শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না।রালফ লরেনের এই পোশাক নিয়ে শুধু জরদৌসি নয়, আরও একটি ভারতীয় সূচিশিল্প আরির ব্যবহার নিয়েও সমাজমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু নেটিজেনের দাবি, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিদেশি ফ্যাশন সংস্থাগুলি ব্যবহার করলেও অনেক সময় সেই শিল্প বা কারিগরদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।কোলাপুরি চটি ছাড়াও বাঁধনি ছাপ, তামবুরা, কুমকোর মতো বিভিন্ন ভারতীয় নকশা নিয়েও বিদেশি ফ্যাশন সংস্থার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু কারিগর নিজেদের পরিশ্রমে এই শিল্পগুলিকে টিকিয়ে রেখেছেন। তাঁদের পরিচয় এবং প্রাপ্য সম্মান না পেলে ধীরে ধীরে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে পারে।ফলে রালফ লরেনের নতুন পোশাক ঘিরে বিতর্কটি শুধু একটি নকশা বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের ব্যবহার, কারিগরদের স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থাগুলির দায়িত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
দেশ

মেটার উপর কেন্দ্রের চাপ, অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত! নজরে শিশুদের ক্ষতিকারক কনটেন্ট

প্রায় দুমাস ধরে আলোচনা ও বৈঠকের পর কেন্দ্রের দাবি মেনে কাজ করতে রাজি হয়েছে মেটা। সরকারি সূত্রের খবর, শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক এবং আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে প্রশাসনকে তথ্য জানাতে রাজি হয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। শিশুদের জন্য সমাজমাধ্যমকে আরও নিরাপদ করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রায় দুমাস আগে মেটার উপর চাপ বাড়ানো হয়েছিল। ডিপফেক, বিকৃত তথ্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের মতো কনটেন্ট রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সংস্থাকে। পাশাপাশি মেটার অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত পরিকল্পনাও জমা দিতে বলা হয়েছিল।তবে শুরু থেকেই শিশুদের নিয়ে তৈরি আপত্তিকর এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট বন্ধ করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছিল কেন্দ্র। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বৈঠকের পর সেই দাবিতে মেটা সম্মত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট চিহ্নিত হওয়ার পর সেই বিষয়ে প্রশাসনকে জানাবে মেটা। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। শুধু মেটা নয়, আগামী দিনে অন্যান্য সমাজমাধ্যম সংস্থাকেও একই ধরনের ক্ষতিকারক কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত এবং আটকানোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে কেন্দ্র।শিশু নির্যাতনের কনটেন্টের পাশাপাশি ডিপফেক, ভুয়ো খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়েও মেটাকে সতর্ক করেছিল কেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে এই ধরনের কনটেন্টের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।এর আগে প্রধানমন্ত্রীর একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে কেন্দ্র ও মেটার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু পরে প্রধানমন্ত্রীর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেয় মেটা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পরে মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সরানো হয়েছিল। ক্ষমা চেয়ে পরে পোস্টটি ফের প্রকাশ করা হয়।ঘটনার পর মেটার শীর্ষ কর্তাদের তলব করেছিল কেন্দ্র। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টের উপর আরও কড়া নজরদারির বার্তাও দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্র এবং মেটার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে চাপানউতোর চলছিল।এখন শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক কনটেন্ট প্রশাসনের নজরে আনার বিষয়ে মেটার সম্মতির খবর সামনে আসায় সেই টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কী ভাবে কার্যকর হবে এবং অন্যান্য সমাজমাধ্যম সংস্থার ক্ষেত্রেও কেন্দ্র একই ব্যবস্থা নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
বিদেশ

ভ্রমণের ভিডিও করতেই কি বিপদ? আফগানিস্তানে কেরলের মহিলা ভ্লগারের ‘গ্রেপ্তার’ ঘিরে চাঞ্চল্য

কেরলের জনপ্রিয় মহিলা ভ্লগার অরুণিমা আফগানিস্তান সফরে গিয়ে বিপদে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। সোমবার সোশাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি জানান, বামিয়ান শহরে তাঁকে মুজাহিদিনরা গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সাহায্য চেয়েছেন তিনি। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে।ব্যাকপ্যাকার অরুণিমা নামে সোশাল মিডিয়ায় পরিচিত ওই তরুণী কিছুদিন আগে ভারত থেকে আফগানিস্তানে যান। সেখানে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পাশাপাশি নিয়মিত ভিডিও এবং ছবি প্রকাশ করছিলেন। সোমবার একটি পোস্টে অরুণিমার দাবি, আফগানিস্তানে গিয়ে তিনি বিপদে পড়েছেন এবং বামিয়ান শহরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করার জন্যও আবেদন জানিয়েছেন তিনি। নিজের সোশাল মিডিয়া পাতায় স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া বলে দাবি করা গ্রেপ্তারি সংক্রান্ত কিছু নথিও প্রকাশ করেছেন অরুণিমা। ফলে তাঁর দাবি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।তবে ঠিক কী কারণে অরুণিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন বা আফগানিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী বলা হয়েছে, সেটিও এখনও পরিষ্কার নয়।এই ঘটনায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। অরুণিমার প্রকাশ করা পোস্ট এবং নথির সত্যতাও স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর দাবি কতটা সত্য, তা নিয়েও আপাতত ধোঁয়াশা রয়েছে।গত কয়েকদিন ধরে আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলেন অরুণিমা। সেখান থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। বিশেষ করে তালিবান শাসনে মহিলাদের জীবন, তাঁদের উপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং ভয়-আতঙ্কের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের সঙ্গেও সময় কাটানোর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন অরুণিমা। সেই সফরের মধ্যেই হঠাৎ তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি কী কারণে আটক হয়েছেন, কোথায় রয়েছেন এবং ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে কেরলের এই জনপ্রিয় ভ্লগারের আফগানিস্তান সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রহস্য। অরুণিমার দাবি এবং প্রকাশ করা নথি যাচাই হওয়ার পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত ছবি স্পষ্ট হবে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
কলকাতা

বামেদের নবান্নে ডেকে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণ! গণেশ পুজোর মঞ্চে শুভেন্দুর বিস্ফোরক বার্তা

গণেশ পুজোর সূচনা করে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধর্মকে আফিং বলা এবং নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনও উপদেশ নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোকে শারদোৎসব বলা নিয়ে বিতর্ক এবং গণেশ পুজোর বিস্তারসবকিছু নিয়েই নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন শুভেন্দু।সোমবার গণেশ পুজোর সূচনা করে শুভেন্দু বলেন, সনাতন ধর্মের রীতিনীতি নিয়ে বাইরের কারও কাছ থেকে উপদেশ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্য, কোনও দিন নিরামিষ খাবার দিয়ে পুজো হয়, আবার কোনও দিন মাছ দিয়ে দেবতাকে ভোগ দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মের মানুষ কোন পুজোয় কী নিয়ম মানবেন, তা তাঁরা নিজেরাই জানেন।বাগেশ্বর বাবা বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, পুজোর পদ্ধতি, পুজোর পাঠ এবং পঞ্জিকার নিয়ম বদলে একসময় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রাদেশিকতার নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা হয়েছিল।এর আগে বালিগঞ্জে ভারত সেবাশ্রম সংঘের পুজোর সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানেও পুজো এবং শারদোৎসব নিয়ে চলা বিতর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। কমিউনিস্ট নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাঁদের পুজো নিয়ে আপত্তি রয়েছে, তাঁরা নবান্নে এসে তাঁর সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দিতে পারেন।শুভেন্দুর বক্তব্য, তিনি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নবান্নে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। কমিউনিস্ট নেতাদেরও সেখানে এসে একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কটাক্ষ, তাতে তাঁরাও পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন।পুজোর নাম নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুজোকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান না কি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসাবে দেখা হবে, তা নিয়ে যে রাজনৈতিক তরজা চলছে, সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাঁর বক্তব্য।এ দিন বামেদের আক্রমণ করার পাশাপাশি আগের সরকারের আমলে পিতৃপক্ষে দুর্গাপুজোর সূচনা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর মন্তব্য, পিতৃপক্ষে কাঁচি নিয়ে বের হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।দেশবিরোধী শক্তি নিয়েও এ দিন সতর্ক করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, অসুরদের থেকে সাবধানে থাকতে হবে এবং তাঁদের থেকে দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী শক্তি এবং টুকরে টুকরে গ্যাং থেকেও দূরে থাকার বার্তা দেন তিনি।গণেশ পুজো কেন বাড়ছে, তা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদেরও এ দিন পাল্টা জবাব দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, গণপতি পুজো শুধু মহারাষ্ট্রের বিষয় নয়। সনাতন ধর্মের ঐক্যের মধ্যেই এর বিস্তার রয়েছে।শুভেন্দুর দাবি, একসময় মারাঠি, গুজরাতি, বিহারি-সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি প্রাচীর তুলে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, সেই প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গণেশ পুজোর বিস্তারকে তিনি সনাতনীদের ঐক্যের প্রতীক হিসাবেই তুলে ধরেন।গণেশ পুজোর সূচনা থেকে বাগেশ্বর বাবা বিতর্ক, পুজোর নাম নিয়ে রাজনৈতিক তরজা থেকে বামেদের নবান্নে পুষ্পাঞ্জলির আমন্ত্রণসব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সোমবারের বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

পুজোর পরই কি বাড়ছে বাসভাড়া? মন্ত্রীর কথায় বড় ইঙ্গিত, কত হতে পারে ন্যূনতম ভাড়া?

পুজোর পর রাজ্যে বাসভাড়া বাড়তে পারে। সরকারি ও বেসরকারি বাসের পাশাপাশি দূরপাল্লার বাসের ভাড়াতেও পরিবর্তন হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে পুজোর আগে ভাড়া বাড়ানোর কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। সোমবার বেসরকারি বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।বৈঠক শেষে পরিবহণমন্ত্রী বলেন, পুজোর আগে বাসভাড়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না। তবে পুজোর পরে বেসরকারি বাসের ভাড়া বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে একই ভাড়া চলছে। ২০১৮ সাল থেকে বাসভাড়ার তালিকায় কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই অনির্দিষ্টকাল ভাড়া না বাড়িয়ে রাখা সম্ভব নয়।বাসভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে গিয়ে বাম আমলেরও সমালোচনা করেন পরিবহণমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই সময় নেতারা নিজেদের গাড়িতে যাতায়াত করলেও বাসের ভাড়া বাড়ানো হত না। এর ফলে ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটতে চায় না বলেও জানান তিনি। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য আরও বেশি বাস রাস্তায় নামানোর পাশাপাশি পরিষেবার মান উন্নত করার কথাও বলেন মন্ত্রী।২০১৮ সালে শেষ বার সরকারি ভাবে বাসভাড়ার তালিকা পরিবর্তন হয়েছিল। তখন ন্যূনতম ভাড়া ছিল ৭ টাকা। যদিও কোভিডের সময় থেকে অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী দিনে বাসভাড়া বাড়লে ন্যূনতম ভাড়া কত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।বাস মালিকদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল টোল নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, একই জেলার মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় আলাদা হারে টোল নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্যা মেটাতে সব টোল প্লাজায় নির্দিষ্ট হারে টোল চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ছদিনের সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওড়িশার মতো নিয়ম চালুর কথাও জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী।বড় রাস্তায় টোটো চলাচল নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি। মূল রাস্তায় টোটো চলাচল বন্ধ করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মন্ত্রী। টোটো চলাচল নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সমাধানে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান তিনি।বাস মালিকদের দীর্ঘদিনের আরও একটি সমস্যা ছিল রাতের বাস রাখার জায়গা নিয়ে। বৈঠকের পর সেই সমস্যা মিটেছে বলে জানিয়েছেন বাস মালিকদের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে যেসব বাস মালিকের দীর্ঘদিনের কর বকেয়া রয়েছে, তাঁদের জরিমানা কিছুটা কমানোর বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।এর মধ্যেই সামনে দুর্গাপুজো। পুজোর সময় রাস্তায় মানুষের ভিড় এবং যাতায়াতের চাপ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পুজোর আগেই আরও প্রায় ৩০০ সরকারি বাস রাস্তায় নামানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। ফলে শহর ও শহরতলির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বৈঠক নিয়ে খুশি বাস মালিকদের সংগঠনগুলিও। সারা বাংলা বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং তাঁরা খুশি। টোলের সমস্যা প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও মন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানান তিনি।বাসভাড়া বাড়ানো নিয়েও পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর আশা, পুজোর পর এবার বাসভাড়া বাড়ানো হবে। একই সুর শোনা গিয়েছে সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসেসের সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহার বক্তব্যেও। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের নাইট পার্কিংয়ের সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। বৈঠকে খুশি ওয়েস্টবেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বসুও।সব মিলিয়ে পুজোর আগে যাত্রীদের জন্য বাড়তি সরকারি বাস নামানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দিলেও পুজোর পর বাসভাড়া বাড়তে পারেপরিবহণমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই সম্ভাবনাই জোরালো হয়েছে। তবে ভাড়া কত বাড়বে বা নতুন ন্যূনতম ভাড়া কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পুজোর পর রাজ্যের বাসযাত্রীদের পকেটে কতটা অতিরিক্ত চাপ পড়বে, এখন সেটাই দেখার।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬
রাজ্য

প্রার্থী ঘোষণার পরেও কংগ্রেসের দরজায় মমতা! নন্দীগ্রাম নিয়ে কেন এত মরিয়া তৃণমূল?

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শুরু হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, বিজেপিকে আটকাতে দুই কেন্দ্রে একসঙ্গে লড়াই করার জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বিষয়ে তিনি এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।সূত্রের খবর, ফোনে মমতা নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করুক, সেই আবেদনও জানান তিনি। এমনকি নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের ঘোষিত প্রার্থীকে সরিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন বলে খবর।এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের মধ্যে জোট হতে চলেছে? তবে সূত্রের খবর, মমতার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। বরং প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে পাল্টা বার্তা দেওয়া হয়েছে, জোট চাইলে দুই আসনেই কালীঘাট তৃণমূলকে কংগ্রেসকে সমর্থন করতে হবে।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, কালীঘাট তৃণমূল যদি সত্যিই জোট চায়, তা হলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরদুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, এমনটা হলে ভবিষ্যতে জোটের রাস্তা আরও খোলা থাকতে পারে।আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ইতিমধ্যেই দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেস এবং কালীঘাট তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। ফলে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে প্রতীক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ের পাশাপাশি কংগ্রেস ও বিজেপির লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী এহতেশামুল হক। রেজিনগরে তাঁদের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। অন্য দিকে, কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে।নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করা নিয়েও স্থানীয় স্তরে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তাঁর নাম ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় জড়িয়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সেই কারণেই প্রার্থীর ভাবমূর্তি নিয়ে দলের স্থানীয় স্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে খবর। যদিও প্রকাশ্যে এখনও কোনও বড় ধরনের ক্ষোভ দেখা যায়নি।এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে অস্বস্তির কারণেই কি মমতা কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেন? নাকি মূল লক্ষ্য ছিল নন্দীগ্রামে বিজেপিকে আটকাতে বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় আনা? রাজনৈতিক মহলে এই দুই সম্ভাবনা নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।সোমবার সন্ধ্যায় কেসি বেনুগোপালকে ফোন করে মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করার প্রস্তাব দেন বলে সূত্রের খবর। নন্দীগ্রাম কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলকে সমর্থনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসের তরফে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। রেজিনগরে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।মমতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পিছনে পুরনো রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও সামনে আনছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বামেদের সরাতে তৎকালীন সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল তৃণমূল। সেই জোটের সুবিধা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন মমতা। এরপর রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা এবং খুনের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে দাবি কংগ্রেসের।মমতার এবারের জোটের প্রস্তাব সামনে আসার পর কংগ্রেসের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই ক্ষোভকে গুরুত্ব দিয়েই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে আপাতত আলাদা পথেই লড়াই করতে চলেছে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূল। তার উপর দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রার্থী থাকায় লড়াই আরও জটিল হয়েছে। মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে যায়, নন্দীগ্রামে বিজেপি, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal