• ১১ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Habas

খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

দুই দশকের ডুরান্ডের আক্ষেপ ঘোচানোর লড়াই, ডার্বির আগে হাবাসের মন্ত্র—‘আবেগ নয়, বুদ্ধিই শেষ কথা’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর থেকে সময় গড়িয়েছে, বদলেছে দল, কোচ, ফুটবলারকিন্তু লাল-হলুদ শিবিরের ডুরান্ড-খরা কাটেনি। ২২ বছর পর সেই আক্ষেপ মুছে ফেলার সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চে প্রতিপক্ষ আবারও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান।রবিবারের ডুরান্ড ফাইনাল তাই শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়। একদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটানোর তাগিদ, অন্যদিকে ডার্বির অতিরিক্ত উত্তেজনাসব মিলিয়ে ম্যাচের আবহ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। তবে এই আবেগকেই নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি বলে মনে করছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।হাবাসের কাছে ডার্বি মানেই শুধু আবেগের লড়াই নয়, বরং মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরীক্ষা। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটির গুরুত্ব যতই বেশি হোক, তাঁর দলকে মাঠে নেমে এটিকে একটি সাধারণ ম্যাচের মতোই খেলতে হবে।হাবাসের কথায়, ডার্বিতে আবেগ থাকবেই। কিন্তু সেই আবেগ যদি খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে কৌশল এবং পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। তাই তাঁর লক্ষ্য আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে প্রায় ২৫ শতাংশে নিয়ে আসা। ম্যাচের ৯০ মিনিটে কোন মুহূর্তে ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ধৈর্য ধরতে হবে এবং কখন কৌশল বদলাতে হবেসেই বুদ্ধিমত্তাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।ফাইনালের আগে ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় ধাক্কা পিভি বিষ্ণুর অনুপস্থিতি। সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের ফুটবলার। চলতি ডুরান্ডে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন বিষ্ণু। সিআইএসএফের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৮-০ জয়ের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। তাঁর গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একাধিক বার সমস্যায় ফেলেছে।বিষ্ণুকে না পাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে হাবাসকে। তাঁর জায়গায় প্রথম একাদশে বিপিন সিংয়ের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ভাবনায় রয়েছেন জেসিন টিকে। ডুরান্ডেই সিআইএসএফের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে নিজের দাবিও জোরালো করেছেন তিনি।শুধু বিষ্ণু নন, ফাইনালে এফিয়ংকেও পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন হাবাস। বিদেশি স্ট্রাইকার এবং ডিফেন্ডার ছাড়া এমন গুরুত্বপূর্ণ ডার্বিতে নামা যে সহজ নয়, তা স্বীকার করেছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। তবে সমস্যাকে সামনে রেখে অজুহাত তৈরি করতে তিনি একেবারেই রাজি নন।হাবাসের বক্তব্য, রেফারিং, প্রতিপক্ষ কিংবা দলের কোনও নির্দিষ্ট ফুটবলার না থাকার মতো বিষয়কে সামনে রেখে ম্যাচের আগে অজুহাত খোঁজা অর্থহীন। মাঠে যে ফুটবলাররা থাকবেন, তাঁদের নিয়েই সেরাটা দিতে হবে। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইস্টবেঙ্গল নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে সক্ষম।অন্যদিকে, মোহনবাগানকে যথেষ্ট সমীহ করছেন লাল-হলুদ কোচ। সবুজ-মেরুন দলের প্রত্যেক ফুটবলারকেই বিপজ্জনক বলে মনে করছেন তিনি। বিশেষ করে গোলরক্ষক বিশাল কাইথের প্রশংসা করেছেন হাবাস। তবে নিজের দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন সিং গিলের উপরও তাঁর আস্থা অটুট। ফলে ফাইনালে দুই গোলরক্ষকের পারফরম্যান্সও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ডার্বির উত্তাপের মধ্যেও অবশ্য প্রস্তুতির ধরন বদলে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল। ফাইনালের আগে মাঠের অনুশীলন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। হাবাসের মতে, এই মুহূর্তে আরও একটি অনুশীলনের চেয়ে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া বেশি জরুরি। গত কয়েক দিনে ম্যাচের প্রস্তুতি এবং রিকভারির জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া গিয়েছে। তাই ফুটবলারদের শরীরকে তরতাজা রাখাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।মাঠের বদলে হোটেলেই চলবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। জিমে অনুশীলন, ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং ইনডোর সেশনের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারবে দল।সব মিলিয়ে রবিবারের ফাইনাল ইস্টবেঙ্গলের কাছে একাধিক কারণে বিশেষ। ২২ বছরের ডুরান্ড-খরা কাটানোর হাতছানি, সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান, আবার ২০০৪ সালের ফাইনালের স্মৃতিও ফিরছে। কিন্তু ইতিহাস কিংবা আবেগ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না হাবাস। তাঁর কাছে হিসাবটা একেবারেই সরল৯০ মিনিট মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে হবে, সঠিক মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কোনও অজুহাত ছাড়াই ট্রফির জন্য লড়াই করতে হবে।২২ বছর আগের সেই জয়ের স্মৃতি কি আবারও লাল-হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাবে? নাকি ডার্বির মঞ্চেই ইস্টবেঙ্গলের দীর্ঘ অপেক্ষা আরও বাড়বেউত্তর মিলবে রবিবারের মহারণে।

আগস্ট ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

মুম্বই সিটি–র বিরুদ্ধে বদলার ম্যাচ এটিকে মোহনবাগানের, কী বলছেন জুয়ান ফেরান্দো?‌

সোমবার মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে আইএসএলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামছে এটিকে মোহনবাগান। এই মুহূর্তে ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে পঞ্চম স্থানে রয়েছে সবুজমেরুণ শিবির। জুয়ান ফেরান্দোর দলের সামনে চতুর্থ স্থানে উঠে আসার সুযোগ। সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া এটিকে মোহনবাগান। মুম্বই সিটি এফসিকে হারালেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার পাশাপাশি শীর্ষস্থানে থাকা হায়দরাবাদ এফসির সঙ্গে ব্যবধান অনেকটাই কমে আসবে। সেই দিকেই তাকিয়ে সবুজমেরুণ শিবির। এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বিতে জয় আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে এটিকে মোহনবাগানের। সেই আত্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে মুম্বই সিটি এফসিকে বদ করতে চাইছে জুয়ান ফেরান্দোর দল। আইএসএলের প্রথম পর্বে ৫১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। এবার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া সবুজমেরুণ শিবির। ডার্বিতে জয় আশাবাদী করে তুলেছে জু্য়ান ফেরান্দোর দলকে।আইএসএলে সবথেকে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নজর কেড়েছেন কিয়ান নাসিরি। সবার নজর এখন ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের দিকে। রয় কৃষ্ণা, হুগো বোমাস, ডেভিড উইলিয়ামসের মতো বিদেশিদের ভিড়ে ফেরান্দো তাঁকে শুরু থেকেই মাঠে নামান কিনা, এখন সেটাই দেখার। তবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিক মনোবল অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে জামশিদ নাসিরির পুত্র কিয়ান নাসিরির। গোটা সবুজমেরুণ শিবিরের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে।মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ডার্বিতে জয় মাথায় রাখছেন না এটিকে মোহনবাগান কোচ জুয়ান ফেরান্দো। আইএসএলে এখনও পর্যন্ত মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে জয় পায়নি এটিকে মোহনবাগান। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে পরিসংখ্যানও মাথায় রাখছেন না সবুজমেরুণ কোচ। তিনি বলেন, অতীত মাথায় রাখাটা জরুরি নয়। ফুটবলে কোনও কিছু নির্দিষ্ট নয়। প্রত্যেকটা ম্যাচই আলাদা। এবারের আইএসএলে ভাল শুরু করেও ছন্দপতন হয়েছে মুম্বইয়ের। ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট পেয়ে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলে এটিকে মোহনবাগানের ঠিক পরেই রয়েছে মু্ম্বই সিটি এফসি। তা সত্ত্বেও বিপক্ষ শিবিরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন এটিকে মোহনবাগান কোচ।জুয়ান ফেরান্দোর দলকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন মুম্বই সিটি এফসি কোচ ডেস বাকিংহাম। এমনকি প্রথম পর্বের জয়ও মাথায় রাখছেন না। এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, আমি এই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। এটিকে মোহনবাগানকে হারালেই লিগ টেবিলে ওপরের দিকে উঠে আসব। প্রথম পর্বে যে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, সেই মোহনবাগানের সঙ্গে এই দলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আগের থেকে অনেকটাই সংঘবদ্ধ।

ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২২
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : হাবাসের জায়গায় এফসি গোয়ার কোচ জুয়ান ফেরান্দোকে হাইজ্যাক করে নিয়ে আসছে এটিকে মোহনবাগান!‌

আন্তোনীয় লোপেজ হাবাসের জায়গায় এফসি গোয়ার কোচকে হাইজ্যাক করে নিয়ে আসছেন এটিকে মোহনবাগান কর্তারা! সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দুএকদিনের মধ্যেই সবুজমেরুণের হেড কোচ হিসেবে যোগ দিচ্ছেন জুয়ান ফেরান্দো। এফসি গোয়াও এই স্প্যানিশ কোচকে রিলিজ দিতে রাজি হয়েছে।শনিবার কর্তাদের চাপেই পদত্যাগ করেন এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে হাবাসের সহকারী ম্যানুয়েল কাসকালানাকে দায়িত্ব দেন এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। পাশাপাশি নতুন কোচের সন্ধানও করতে থাকেন। হোসে মলিনার কথা ভেবেছিলেন সবুজমেরুণ কর্তারা। কিন্তু স্পেন থেকে ভারতে এসে কোয়ারেন্টিন পর্ব মিটিয়ে দলের দায়িত্ব নিতে মলিনার অনেকটা সময় কেটে যেত। তাই শেষ পর্যন্ত মলিনার কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর এফসি গোয়ার কোচ জুয়ান ফেরান্দোকে প্রস্তাব দেন এটিকে মোহনবাগান কর্তারা। তিনি সবুজমেরুণ কর্তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।জুয়ান ফেরান্দো এটিকে মোহনবাগান কর্তাদের কথায় রাজি হলেও অন্য সমস্যা দেখা দেয়। তিনি সবুজমেরুণ কর্তাদের প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার পর এফসি গোয়ার কর্তাদের কাছে রিলিজ চান। তাঁর এই আচরণে প্রচন্ড রেগে যান এফসি গোয়ার কর্তা অক্ষয় ট্যান্ডন। প্রথম দিকে এফসি গোয়ার কর্তারা তাঁকে ছাড়তে রাজি হচ্ছিলেন না। বিশাল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এফসি গোয়ার কর্তারা শেষ পর্যন্ত জুয়ান ফেরান্দোকে রিলিজ দিতে রাজি হন।হাবাস পদত্যাগ করায় তাঁর নিয়ে আসা সাপোর্ট স্টাফরাও আর এটিকে মোহনবাগানে থাকবেন কিনা এটাই দেখার। তবে জুয়ান ফেরান্দো গোয়া থেকে ফিটনেস ট্রেনারকেও এটিকে মোহনবাগানে নিয়ে আসছেন। হাবাসকে সরানোর পেছনে উঠে আসছে নানা কারণ। দলের অন্দরমহল থেকে জানা গেছে, ফুটবলারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন হাবাস। যার ফলে একেকটা ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে ফুটবলারদের মধ্যে দোষারোপের পালা চলছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই হাবাসকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেন এটিকে মোহনবাগান কর্তারা।এদিকে, এসসি ইস্টবেঙ্গলের কোচ বদলের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। ইতিমধ্যেই নতুন কোচের সন্ধানে নেমে পড়েছেন কর্তারা। ভারতীয় কোচ যেমন সন্ধান করা হচ্ছে, তেমনই বিদেশি কোচের দিকেও নজর রয়েছে। দল বদলের দ্বিতীয় উইন্ডোতে ছাঁটাই করা হচ্ছে টমিস্লাভ মার্সেলো, আমির দেরভিসেভিচকে।

ডিসেম্বর ১৯, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : পদত্যাগ, না অপসারিত?‌ এটিকে মোহনবাগানের দায়িত্ব ছাড়লেন হাবাস

আইএসএল অভিযানের প্রথম ম্যাচেই কেরালা ব্লাস্টার্সকে ৪২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। তারপর ডার্বিতেও দুর্দান্ত জয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসসি ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল ৩০ ব্যবধানে। তারপর টানা ৪ ম্যাচে জয়হীন। পরপর দুটি পরাজয়ের পর দুটি ড্র। ভাল দল হাতেও পেয়েও দলের জঘন্য পারফরমেন্স। খারাপ পারফরমেন্সের দায় নিয়ে পদত্যাগ করলেন এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস। বলা ভাল, টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে সমালোচিত হয়েই অপমানে দায়িত্ব ছাড়লেন তিনি। আপাতত দায়িত্ব সামলাবেন সহকারী কোচ ম্যানুয়েল কাসকালান।গতবছরের থেকেও এবছর শক্তিশালী দল গড়েছে এটিকে মোহনবাগান। আক্রমণভাগে রয় কৃষ্ণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন হুগো বোমাস। দলে নেওয়া হয়েছে জনি কাউকোর মতো তারকাকে। ডেভিড উইলিয়ামস, মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসোরা তো রয়েছেনই। তা সত্ত্বেও খারাপ পারফরমেন্স এটিকে মোহনবাগানের। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে আগের ম্যাচে ড্র করার পর হাবাস নিজেই প্লে অফে খেলা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। কোচ হিসেবে খুব একটা খারাপ পারপরমেন্স নেই হাবাসের। আইএসএলে তিনি অন্যতম সফল কোচ। দুদুবার তিনি আইএসএল খেতাব জিতেছেন। গতবছর রানার্স করেছেন এটিকে মোহনবাগানকে। এবছর তাঁর হাতে শক্তিশালী দল তুলে দিয়েছেন কর্তারা। তা সত্ত্বেও সাফল্য নেই। আসলে রয় কৃষ্ণার খারাপ ফর্ম এবং রক্ষণ সমস্যায় প্রতি ম্যাচেই ডুবতে হচ্ছে এটিকে মোহনবাগানকে। সব দায় নিতে হচ্ছে আন্তোনীয় লোপেজ হাবাসকে। রক্ষণে সন্দেশ ঝিংঘানের না থাকাটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটিকে মোহনবাগানের কাছে। সূত্রের খবর, বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচের পরই কর্তাদের রোষানলে পড়েন হাবাস। তাঁর কাছে দলের একের পর এক ব্যর্থতার কারণ জানতে চান কর্তারা। কর্তাদের আচরণে অসম্মানিত বোধ করেছিলেন হাবাস। আকার ইঙ্গিতে অপসারনের কথা বলেছিলেন কর্তারা। কিন্তু সম্মান বজায় রাখতে কর্তাদের সেই সুযোগ দিলেন না হাবাস। আপাতত তাঁর সহকারী হিসেবে কাজ করা ম্যানুয়েল কাসকালানা দায়িত্ব সামলাবেন। ইতিমধ্যেই এটিকে মোহনবাগান কর্তারা নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছেন। কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। সামনের সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচ ঠিক হয়ে যাবে।

ডিসেম্বর ১৮, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন, কিন্তু কেন আতঙ্কে এটিকে মোহনবাগান কোচ হাবাস?‌

আইএসএলে বেঙ্গালুরু এফসি একসময় ছিল সব দলের কাছেই আতঙ্ক। সুনীল ছেত্রিদের সেই ঐতিহ্য আর নেই। গত কয়েকবছর ধরে পারফরমেন্স একেবারে তলানিতে। এবছর তো যথেষ্ট করুণ অবস্থা। ৬ ম্যাচে মাত্র ১টা জয়, ১টা ড্র। চারটিতে হার। লিগ টেবিলে রয়েছে নবম স্থানে। একেবারেই ছন্দে নেই বেঙ্গালুরুর দলটি। ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে কোনও প্রতিপক্ষ যে এইরকম দলকেই বেছে নেবে, সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাসও ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচকেই বেছে নিচ্ছেন।এবারের আইএসএলে দারুণ শুরু করেছিল গতবারের রানার্স এটিকে মোহনবাগান। প্রথম দুটি ম্যাচেই জয়। তার মধ্যে আবার একটা ম্যাচ ডার্বি। সমর্থকরা আশা করেছিলেন, প্রথম দুটি ম্যাচ জেতায় অশ্বমেধের ঘোড়ার মতোই ছুটবে এটিকে মোহনবাগান। কিন্তু বিধি বাম। ডার্বি জেতার পর থেকেই ছন্দপতন। টানা ৩ ম্যাচে জয় নেই। দুটিতে হার, একটা ড্র। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে জয়ে ফিরতে মরিয়া হাবাস ব্রিগেড।সুনীল ছেত্রির ছন্দে নেই। এটাই সমস্যায় ফেলেছে বেঙ্গালুরু এফসিকে। তা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিতে রাজি নন এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, সুনীল ছেত্রি অনেক বড় মাপের স্ট্রাইকার। ভারতের সেরা ফুটবলার। দুএকটা ম্যাচে গোল না পেলেও সেটা কোনও ব্যাপার নয়। যে কোনও দিন জ্বলে উঠতে পারে। ওকে গুরুত্ব দিতেই হবে। তবে শুধু ওকে গুরুত্ব দিলে চলবে না, গোটা দলকেই গুরুত্ব দিতে হবে। শেষ ৪ ম্যাচে জয় না এলেও বেঙ্গালুরু এফসিকে সমীহ করছেন হাবাস। তিনি বলেন, দুএকটা ম্যাচে হারলেও বিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। আইএসএলের সব দলের শক্তিই উনিশবিশ। ওরাও চেষ্টা করবে ঘুরে দাঁড়ানোর। সুনীলের খারাপ ফর্ম বাড়তি কোনও সুবিধা দেবে না বলে মনে করছেন ৭এটিকে মোহনবাগান কোচ।চেন্নাইন এফসি ম্যাচের আগে তিনটি ম্যাচে রক্ষণ সমস্যায় ভুগতে হয়েছে এটিকে মোহনবাগানকে। তিরিকে প্রথম একাদশে ফিরিয়ে ও প্রীতম কোটালকে তাঁর পাশে নিয়ে এসে রক্ষণ কিছুটা মজবুত করেছেন হাবাস। তবে রোগ এখনও পুরোপুরি সারেনি। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে রক্ষণ সংগঠনের ওপর জোর দিতে চান। মাঝমাঠের ফুটবলারদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রয়োজনে নেমে এসে রক্ষণকে সাহায্য করতে। কয়েকটা ম্যাচে রেফারিং নিয়ে ভুগতে হয়েছে এটিকে মোহনবাগানকে। বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে রেফারিং নিয়ে চিন্তা যাচ্ছে না হাবাসের।

ডিসেম্বর ১৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ISL-ATK Mohun Bagan : ‌‌চেন্নাইনের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়ে এটিকে মোহনবাগান। কে হবেন হাবাসের অস্ত্র?‌

এবছর আইএসএলেও সেই মুম্বই সিটি এফসির আধিপত্য। ৫ ম্যাচ খেলে চারটিতে জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এখনও লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েচে মুম্বইয়ের দলটি। কলকাতার দুই প্রধানের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। এটিকে মোহনবাগান ৪ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও করুণ অবস্থা এসসি ইস্টবেঙ্গলের। ৪ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের একেবারে শেষে। পরপর দুটি ম্যাচ হেরে যথেষ্ট চাপে এটিকে মোহনবাগান। এই অবস্থায় শনিবার চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামছে সবুজমেরুণ শিবির। চেন্নাইনের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া হাবাস ব্রিগেড।এই মরশুমে আক্রমণভগের শক্তি বেড়েছে এটিকে মোহনবাগানের। রয় কৃষ্ণার সঙ্গে হুগো বোমাস ষুক্ত হয়েছেন। লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিংরাও রয়েছেন। তা সত্ত্বেও আক্রমণভাগের গোলখরা চলছে। রয় কৃষ্ণা ও হুগো বোমাসরা এখনও পর্যন্ত সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। শক্তিশালী রক্ষণের কাছে আটকে যাচ্ছেন। এসব ঘটনাকে একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পরপর দুম্যাচে হার তাঁর কাছে অতীত। একেবারেই মাথায় রাখছেন না। চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস বলেন, লম্বা প্রতিযোগিতা। উত্থানপতন থাকবে। পরপর দুটো ম্যাচ হেরেছি বলে আমরা বিশ্বের সবথেকে খারাপ দল হয়ে গেছি, এইরকম ভাবলে চলবে না। কঠিন পরিস্থিতিতে খেলতে হচ্ছে। কয়েকটা জিনিস ঠিক করতে হবে। তাহলেই দল আবার ছন্দে ফিরে আসবে।প্রথম দুই ম্যাচে ৭ গোল করেছিল এটিকে মোহনবাগান। আগের দুটি ম্যাচে রক্ষণের ভুলে হারতে হয়েছে। তিরি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে প্রথম একাদশে খেলাননি হাবাস। তাঁর স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু রক্ষণ নয়, গোটা দলের খেলায় উন্নতি করতে হবে বলে মনে করছেন হাবাস। তিনি বলেন, শুধু ডিফেন্স নয়, গোটা দলের খেলা নিয়ে ভাবছি। সব জায়গায় উন্নতি করতে হবে। গোটা ম্যাচে একই ছন্দ ধরে রাখতে হবে। রক্ষণ শক্তিশালী করতে চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে ম্যাকহিউয়ের পরিবর্তে তিরিকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে হাবাসের। চেন্নাইন এফসিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন সবুজমেরুণ কোচ। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তিনি বলেন, চেন্নাইন এফসি যথেষ্ট লড়াকু দল। ওদের দলে দেশি ও বিদেশি, সব ফুটবলারই বেশ ভাল। রক্ষণ দারুণ শক্তিশালী। লড়াইটা কঠিন হবে।

ডিসেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ISL : রেফারিং নিয়ে ক্ষোভের মাঝেই জয়ে ফিরতে মরিয়া এটিকে মোহনবাগান

ডার্বিতে দুরন্ত জয়ের পর পরের ম্যাচেই কুপোকাত পালতোলা নৌকা। গতবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই সিটি এফসির কাছে ৫১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। মুম্বইয়ের কাছে হেরে রেফারিং নিয়ে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল সবুজমেরুণ শিবির। সেই ক্ষোভ এখনও যায়নি। সোমবার এটিকে মোহনবাগানের সামনে জামশেদপুর এফসি। রেফারিং নিয়ে ক্ষোভের মাঝে জয়ে ফিরতে মরিয়া বাগান শিবির।জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে মুম্বই এফসি ম্যাচের কথা মাথায় রাখতে চান না এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তোনীও লোপেজ হাবাস। তবে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ যাচ্ছে না। হাবাস বলেন, মুম্বই সিটি এফসি ম্যাচ আমাদের কাছে অতীত। হারের জন্য কোনও অজুহাত দিতে চাই না। মুম্বই আমাদের থেকে অনেক ভাল খেলেছিল। তবে হ্যাঁ, রেফারিংয়ের জন্য আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে মনোবল ভেঙে পড়েছিল। তার ওপর দ্বিতীয় গোলটা অবৈধভাবে করেছিল মুম্বই। তৃতীয় গোলের আগেও ফাউল হয়েছিল। রেফারি এড়িয়ে গিয়েছিলেন। চতুর্থ গোল তো পরিস্কার অফসাইড থেকে। রেফারি এতগুলো ভুল না করলে এত বড় ব্যবধানে হারতাম না। তার ওপর আমাদের দীপক টাঙরিকে লালকার্ড দেখিয়ে বার করে দিয়েছিলেন। তবে হ্যাঁ, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, মুম্বই আমাদের থেকে অনেক ভাল ফুটবল খেলেছিল। অতীত নিয়ে আর মাথা ঘামাতে চাই না। এখন জামশেদপুর এফসি ম্যাচে ফোকাস করছি। জেতার জন্য ঝাঁপাতে হবে।জামশেদপুর এফসিকে যথেষ্ট সমীহ করছেন হাবাস। তিনি বলেন, জামশেদপুর যথেষ্ট শক্তিশালী দল। আক্রমণ ও রক্ষণ খুবই ভাল। ভালস্কিস, জর্ডান মারে, লিমার মতো দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি ফুটবলার রয়েছে। ওয়েন কোলও দারুণ বিচক্ষণ কোচ। সুতরাং গুরুত্ব দিতেই হবে। ওদের শক্তির কথা মাথায় রেখে দল সাজাতে হবে। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে কোন ছকে দল সাজাবেন, তা অবশ্য ভাঙেননি সবুজমেরুণ কোচ। চোট সারিয়ে তিরি প্রথম একাদশে ফিরছেন। বাকি দল অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। তবে আগের ম্যাচে রয় কৃষ্ণা ও হুগো বোমাসের ছন্দহীনতা চিন্তায় রাখছে এটিকে মোহনবাগান শিবিরকে।

ডিসেম্বর ০৫, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : এই মরশুমে নেতা হিসেবে কাদের বেছে নিলেন হাবাস?‌ জানতে পড়ুন

কয়েকদিন আগেই আইএসএলের জন্য অধিনায়ক নির্বাচিত করেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। একজন নেতাই বেছে নিয়েছেন লালহলুদ কোচ মানেলো দিয়াজ। নেতৃত্বের আর্ম ব্যান্ড তুলে দিয়েছেন অভিজ্ঞ গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যর হাতে। সহকারী হিসেবে বেছে নিয়েছেন টমিস্লাভ মার্সেলোকে। এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তোনীয় লোপেজ হাবাস অবশ্য একজন অধিনায়কের নীতিতে বিশ্বাসী নন। গত বছর আইএসএলে একাধিক অধিনায়ক বেছে নিয়েছিলেন। সেই পথ অনুসরণ করে এবছরও তিনজন অধিনায়ক বেছে নিয়েছেন আন্তোনীয় লোপেজ হাবাস। রয় কৃষ্ণা, প্রীতম কোটালের সঙ্গে এবছর সবুজমেরুণ ব্রিগেডকে নেতৃত্ব দেবেন শুভাশিস বসু। আইএসএল অভিযানে নামার একদিন আগে এই মরশুমের নেতা বেছে নিয়েছেন হাবাস।এটিকে মোহনবাগান কোচ হাবাস মনে করেন, একক নেতৃত্বের ওপর সেরা পারফরমেন্স হয় না। দলগত সংহতিই আসল। তাই তিনি একাধিক অধিনায়কের দর্শনে বিশ্বাসী। এতে দলের পারফরমেন্স নাকি ভাল হয়, এমনই মনে করেন সবুজমেরুন কোচ। গত বছর একাধিক নেতা থাকায় পারফরমেন্স ভাল হয়েছিল। সেই ধারণা থেকেই এই সিদ্ধান্ত হাবাসের। গত মরশুমে আইএসএলে এটিকে মোহনবাগানকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা এবং প্রীতম কোটাল। এবার তাঁদের সঙ্গে বেছে নেওয়া হয়েছে শুভাশিস বসুকে।আবার এটিকে মোহনবাগানকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত প্রীতম কোটাল। কোচ আন্তোনীয় লোপেজ হাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা ঝড়ে পড়েছে এই বাঙালী ডিফেন্ডারের গলায়। তিনি বলেন, গত মরশুমে কোচ আমাকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিল। এবছরও সেই গুরুদায়িত্ব দিয়েছে। আমরা ওপর আস্থা রাখায় খুব ভাল লাগছে। এটা আমার কাছে খুব বড় প্রাপ্তি। এটিকে মোহনবাগানের মতো দলকে নেতৃত্ব দেওয়া দারুণ সম্মানের। নিয়মের জন্য হয়তো একজনের হাতে আর্ম ব্যান্ড থাকবে। কিন্তু দলের সবাই নেতা। মাঠে নেমে নিজেদের পজিশনে সব ফুটবলারকেই নেতৃত্ব দিতে হয়। আমিও সেটাই করব। আশা করছি এবছর দলকে সাফল্য এনে দিতে পারব।দুবছর ধরে এটিকে মোহনবাগান রক্ষণের অন্যতম ভরসা শুভাশিস বসু। তিনিও কোচ আন্তোনীয় লোপেজ হাবাসকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। শুভাশিস বলেছেন, এটিকে মোহনবাগানের মতো দলকে নেতৃত্ব দেওয়াটা বাঙালী ফুটবলারদের কাছে অন্য আবেগ। আমি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। নেতৃত্বের দায়িত্ব আমাকে আরও ভাল খেলতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল। গতবছরও সবুজমেরুণের আর্ম ব্যান্ড ছিল রয় কৃষ্ণার হাতে। এবছরও দায়িত্ব পেয়ে তিনি খুশি।

নভেম্বর ১৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : ২৭ নভেম্বরের ডার্বি নিয়ে কী ভাবছেন এটিকে মোহনবাগানের কোচ হাবাস?

আইএসএলের প্রস্তুতি যখন জোর কদমে শুরু করেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল, কিছুটা হলেও পিছিয়ে এটিকে মোহনবাগান। কারণ অন্যকিছু নয়। প্রস্তুতি ম্যাচের অভাব। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ১৯ নভেম্বর আইএসএল অভিযানে নামার আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ভাবছেন না এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীও লোপেজ হাবাস। তাঁর কাছে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাটা বিশেষ জরুরি নয়।সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এটিকে মোহনবাগান কোচ বলেন, আমার কাছে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। গত মরশুমে আইএসএল অভিযানে নামার আগে আমরা কোনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলিনি। কারণ, যাদের বিপক্ষকে প্রস্তুতি ম্যআচ খেলব, তারা কেউই সেরা দল নামায় না। মাঠে নেমে সেরা খেলাও উপহার দেয় না। তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলা হয় না। তাছাড়া ম্যাচ খেলার মতো সেরা পরিবেশও পাওয়া যায় না। ফলে এইরকম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে দলের কোনও লাভ হয় না। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার তুলনায় ভালভাবে অনুশীলন করে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়িয়ে তোলাটাই সবথেকে ভাল দিক। গত বছরের মতো এবছরও সেই পথেই এগোচ্ছি।১৯ নভেম্বর কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচই ডার্বি। ২৭ নভেম্বর এটিকে মোহনবাগান খেলতে নামবে এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। গত বছর আইএসএলে দুটি ডার্বিতেই জিতেছিল হাবাসের এটিকে মোহনবাগান। তবে এখনই ডার্বি নিয়ে ভাবছেন না এটিকে মোহনবাগান কোচ। তাঁর মাথায় এখন শুধুই কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ। তিনি বলেন, ডার্বি ম্যাচের এখনও ১৫ দিন বাকি। এত আগে থাকতে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে ভাবতে চাই না। তাছাড়া আমি কখনওই বিপক্ষ শিবিরকে নিয়ে বেশি ভাবি না। নিজের দলের পারফরমেন্সের ওপর বেশি গুরুত্ব দিই। তাঁর দল প্রস্তুতি ম্যাচ ছাড়াই এবারের আইএসএলে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, এসসি ইস্টবেঙ্গল আইএসএল অভিযানে নামার আগে বেশ কয়েকটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে মাঠে নামায় মানেলো দিয়াজের দল বাড়তি সুবিধা পাবে কিনা সে প্রসঙ্গে হাবাস বলেন, সময় মতো এর উত্তর পাওয়া যাবে।গত মরশুমে ফাইনালে উঠেও শেষরক্ষা হয়নি। ফাইনালে মুম্বই সিটি এফসির কাছে হেরে রানার্স হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল এটিকে মোহনবাগানকে। নতুন মরশুমে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আক্ষেপ মেটাতে চান আন্তোনীও লোপেজ হাবাস। এই মরশুমের প্রত্যাশা সম্পর্কে তিনি বলেন,নতুন মরশুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব। লক্ষ্য থাকবে সব ম্যাচে জয়ের জন্য ঝাঁপানো। আমি কখনও ফুটবলারদের ড্রয়ের কথা বলি না।

নভেম্বর ১০, ২০২১
খেলার দুনিয়া

A‌TK Mohun Bagan : প্রতিশ্রুতি দিয়েও কেন কলকাতা লিগ খেলল না এটিকে মোহনবাগান?‌

এটিকে মোহনবাগান কর্তারা আইএফএকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তাঁরা কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে দল নামাবে। আইএসএলের প্রস্তুতি হিসেবে কলকাতা লিগে খেলার কথা ভেবেছিলেন কর্তারা। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁরা আর দল নামাতে চাইছেন না। এর আসল কারণ কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাসের অনিচ্ছা। ইতিমধ্যেই তিনি ফুটবলারদের পুজো পর্যন্ত ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। দল নিয়ে এটিকে এবং মোহনবাগান কর্তাদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে। সবুজমেরুণ কর্তারা চেয়েছিলেন দল কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে খেলুক। কিন্তু কোচ হাবাস ও এটিকে কর্তারা তা চান না। নাসাফের বিরুদ্ধে খেলতে যাওয়ার আগে এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তোনীয় লোপেজ হাবাস বলেছিলেন, কলকাতা ফুটবল লিগের মতো অপেশাদার প্রতিযোগিতায় খেলতে চান না। নাসাফের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক হারের পর তিনি ফুটবলারদের ছুটিও দিয়ে দেন। কেন কলকাতা লিগে খেলতে চাননি হাবাস? সামনে উঠে আসছে অন্য কারণ। এটিকে মোহনবাগানের একঝাঁক ফুটবলার সাফ কাপের জন্য ভারতীয় শিবিরে ডাক পেয়েছেন। মালদ্বীপে হবে সাফ কাপের প্রস্তুতি শিবির। সাফ কাপের গ্রুপ লিগের খেলা চলবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। ফাইনালে উঠলে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় দলে আটকে থাকতে হবে ফুটবলারদের। কয়েকজন ফুটবলারদের চোট রয়েছে। বিদেশি ফুটবলাররা জৈব সুরক্ষা বলয়ের বাইরে থেকে কলকাতা লিগে খেলতে রাজি নন। শুধু স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে কলকাতা লিগ খেলতে রাজি হননি আন্তোনীয় লোপেজ হাবাস। যদি কলকাতা লিগে খারাপ ফল হত, তাহলে ফুটবলারদের মনোবলে আঘাত লাগত। তাই কলকাতা লিগে খেলার ঝুঁকি নিতে চাননি বাগান কোচ। এটিকে মোহনবাগান কর্তার ঠিক করেছিলেন পুজোর আগে কলকাতায় কয়েকদিন আইএসএলের প্রস্তুতি সারবেন ফুটবলাররা। যুবভারতীর ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুশীলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ হাবাস সব ফুটবলারকে ইতিমধ্যেই ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। তাই কলকাতায় অনুশীলনের পরিকল্পনা বাতিল করে গোয়াতেই একেবারে আইএসএলের প্রস্তুতি শিবিরের আয়োজন করছে। ১৮ অক্টোবর গোয়ায় এই প্রস্তুতি শিবির শুরু হবে। কোচ আন্তোনীয় লোপেজ হাবাসসহ সব ফুটবলার একেবারে গোয়াতেই প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দেবেন। জাতীয় শিবিরে থাকা ফুটবলাররাও সাফ কাপ খেলে সরাসরি গোয়ার শিবিরে যোগ দেবেন। ফুটবলারদের বাধ্যতামূলক ৮ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। কোয়ারেন্টিন পর্ব চলাকালীন অনুশীলন করবেন ফুটবলাররা। তবে অনুশীলন ছাড়া হোটেল থেকে বার হতে পারবেন না। প্রস্তুতি শিবির চলাকালীন কয়েকটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলারও পরিকল্পনা রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের।

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

‌ATK Mohun Bagan : ৫ বছর পর আবার এএফসি কাপের নক আউট পর্বে এটিকে মোহনবাগান

ড্র করলেই এএফসি কাপের পরের রাউন্ডে যাওয়া নিশ্চিত। বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ড্র করেই পরের রাউন্ডে পৌঁছে গেল এটিকে মোহনবাগান। ম্যাচের ফল ১১। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে হাবাসের দল। বসুন্ধরার বিরুদ্ধে বাগানের রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়ালেন ডেভিড উইলিয়ামস। গোল করে তিনি দলের মান বাঁচালেন। ৭ পয়েন্ট পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হল এটিকে মোহনবাগান। ২০১৬ সালের পর আবার এএফসি কাপের নক আউট পর্বে পৌঁছে গেল সবুজমেরুণ।পরের রাউন্ডে যেতে গেলে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না বসুন্ধরা কিংসের কাছে। তাই শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বসুন্ধরা কিংস। এটিকে মোহনবাগানের রক্ষণে চাপও তৈরি করছিল। অন্যদিকে, হাবাসের লক্ষ্য ছিল প্রতি আক্রমণে গোল তুলে নেওয়া। বিক্ষিপ্ত লগ্নে আক্রমণে উঠে আসছিলেন রয় কৃষ্ণারা। এভাবেই প্রতি আক্রমণে উঠে এসে ১৮ মিনিটে এগিয়ে যেত পারত এটিকে মোহনবাগান। রয় কৃষ্ণা বসুন্ধরা কিংসের গোলকিপারকে টেনে এসে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন লিস্টন কোলাসোকে। ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন লিস্টন কোলাসো। আরও পড়ুনঃ বেড পেতে গেলে আরেকটি শিশুর মৃত্যু অবধি অপেক্ষা করতে হবে!২৮ মিনিটে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। এটিকে মোহনবাগানের পেনান্টি বক্সের ডানদিকে বল পান ব্রাজিয়ান ফুটবলার ফার্নান্ডেজ। ছোট্ট জায়গার মধ্যে সবুজমেরুণের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে ডানপায়ের দুরন্ত শটে গোল করেন তিনি। এটিকে মোহনবাগানের মাঝমাঠে এদিন হুগো বুমাসের অভাব বারবার চোখে পড়ছিল। দুটি হলুদ কার্ড দেখায় তিনি বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেননি। সেই সুযোগে মাঝমাঠে রাজত্ব করে গেলেন বসু্ন্ধরার ফুটবলাররা। ডেভিড উইলিয়ামসকে বারবার নীচে নেমে আসতে হচ্ছিল। প্রথমার্ধে লেনি রডরিগেজ একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন। ৪০ মিনিটে সমতা ফেরাতে পারত এটিকে মোহনবাগান। রয় কৃষ্ণার শট বসুন্ধরা কিংসের এক ফুটবলারের পায়ে লেগে বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে বসুন্ধরা কিংসের সুশান্ত ত্রিপুরা বিপজ্জনক ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যান।আরও পড়ুনঃ কলকাতায় টিকাকরণের নিয়মে বড়সড় বদলগ্রুপ লিগের আগের ম্যাচে মাজিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে খেলায় ফিরে এসেছিল এটিকে মোহনবাগান। বসুন্ধরার বিরুদ্ধেও সেই একই ছবি। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নেয়ে হাবাসের ফুটবলাররা। তবে সবুজমেরুণ ব্রিগেডের কাজ সহজ করে দিয়েছিল বসুন্ধরা কিংসের ১ জনের কম থাকাটা। বিপক্ষের ১ জন কম থাকার সুযোগ নিয়ে ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে এটিকে মোহনবাগান। ৬২ মিনিটে সমতাও ফেরায় সবুজমেরুণ। লিস্টন কোলাসোর কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মাঝখান থেকে দুরন্ত শটে গোল করেন ডেভিড উইলিয়ামস। জয়ের জন্য শেষ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বসুন্ধরা কিংস। ৮৪ মিনিটে রবসনের শট পোস্টের বাইরে লেগে বেরিয়ে যায়। অল আউট আক্রমণে গেলেও আর গোল তুলে নিতে পারেনি বসুন্ধরা কিংস।

আগস্ট ২৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohunbagan : বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কী বলছেন হাবাস?‌

গ্রুপ লিগে পরপর দুটি ম্যাচ জিতে এএফসি কাপের পরের পর্বে যাওয়ার রাস্তা অনেকটাই পরিস্কার করে ফেলেছে এটিকে মোহনবাগান। মঙ্গলবার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে ড্র করলেই পরের পর্বে যাওয়া নিশ্চিত। তবে ড্রয়ের কথা ভাবছে না। জয়ের দিকেই তাকিয়ে এটিকে মোহনবাগান। ফুটবলারদের জয়ের জন্য ঝাঁপানোর নির্দেশ দিয়েছেন সবুজমেরুণ কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস।আরও পড়ুনঃ অভিষেক বচ্চন হাসপাতালে, চিন্তায় পরিবার থেকে অনুরাগীরাটানা দুটি ম্যাচে জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে রয়েছে এটিকে মোহনবাগান। বসুন্ধরা কিংস মাজিয়াকে প্রথম ম্যাচে হারালেও বেঙ্গালুরু এফসির সঙ্গে ড্র করেছে। এই পরিস্থিতিতে সুনীল ছেত্রীদের সঙ্গে নক আউটে ওঠার দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছে মাজিয়া। বসুন্ধরা পয়েন্ট তালিকায় রয়েছে এটিকে মোহনবাগানের পরেই, ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। ফলে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই সবুজমেরুণ পৌঁছে যাবে এএফসি কাপের নক আউটে। অন্যদিকে, পরের রাউন্ডে যেতে গেলে জিততেই হবে বসুন্ধরা কিংসকে।আরও পড়ুনঃ অক্টোবরেই চরম আকার নেবে তৃতীয় ঢেউ!বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে কিছুটা হলেও সমস্যায় এটিকে মোহনবাগান। হলুদ কার্ডের জন্য হাবাস গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে পাবেন না মিডফিল্ডার হুগো বুমাসকে। নিঃসন্দেহে বাগান শিবিরের কাছে এটা একটা বড় ধাক্কা। কারণ, প্রথম দুটি ম্যাচেই দলের জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিয়েছিলেন। তবে হাবাস তাঁর না থাকাকে বড় করে দেখছেন না। তিনি বসুন্ধরা বধের পরিকল্পনা তৈরি করেছেন।আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ত্রিপুরা-চ্যালেঞ্জে নতুন তাস দেবপরপর দুটি ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রয়েছে সবুজমেরুণ শিবিরের। তবে নিজেদের ফেবারিট হিসেবে দেখছেন না হাবাস। বসুন্ধরার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি বলেন, নিজেদের ফেবারিট ভেবে মাঠে নামতে চাই না। ফুটবল খেলাটা খুবই কঠিন। অনেক সময় অঙ্ক মেলে না। বসুন্ধরা কিংসের খেলা দেখেছি। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন দল। ওদের সমীহ করতেই হবে। এই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে নকআউটে যাওয়া। লক্ষ্য থাকবে গোল না খাওয়া। তার মানে এই নয় আমরা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব। খেলায় ভারসাম্য রাখতে হবে। জেতার জন্য ফুটবলারদের সেরাটা দিতে হবে। আরও পড়ুনঃ পুজোর পর কি খুলবে স্কুল? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীরএদিকে, এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নিজেদের পিছিয়ে রাখছেন বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজো। হাবাসের দলকে ফেবারিট হিসেবে মেনে নিলেও, বিনা লড়াইয়ে জমি ছাড়তে নারাজ। তিনি বলেন, এটিকে মোহনবাগান নিঃসন্দেহে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে ওদের হারিয়ে নকআউটে যাওয়া সম্ভব। ভারতীয় ক্লাবে কোচিংয়ের সূত্রে ওদেশের ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় আছে। এটিকে মোহনবাগানের শক্তি ও ওদের কোচ হাবাসের কোচিং সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা আছে। সেটা মাথায় রেখেই জেতার জন্য মরিয়া হবে আমার ফুটবলাররা।

আগস্ট ২৩, ২০২১
খেলার দুনিয়া

ATK Mohun Bagan : ‌এএফসি কাপের প্রথম প্রতিপক্ষ নিয়ে কেন সতর্ক হাবাস?‌

মালদ্বীপ উড়ে যাওয়ার আগে এটিকে মোহনবাগান শিবির জানত না, গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কে। রবিবার প্লে অফ ম্যাচে মালদ্বীপের ক্লাব ঈগলসকে হারিয়ে মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ডি গ্রুপে তারা খেলবে এটিকে মোহনবাগান, মেজিয়া স্পোর্টস ও বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে। বুধবার এটিকে মোহনবাগানের গ্রুপ লিগে প্রথম ম্যাচই বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে। চেনা প্রতিপক্ষ হলেও প্রথম ম্যাচ নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক এটিকে মোহনবাগান কোচ আন্তেনীয় লোপেজ হাবাস। আইএসএলে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে এটিকে মোহনবাগানের ট্র্যাক রেকর্ড বরাবরই যথেষ্ট ভাল। গত মরশুমেও হাবাসের দল ভাল পারফরমেন্স করেছে। নতুন মরশুমে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে যথেষ্ট সতর্ক সবুজমেরুণ কোচ হাবাস। অতীত নিয়ে তিনি একেবারেই ভাবতে নারাজ। সুনীল ছেত্রীদের বিরুদ্ধে এএফসি কাপ অভিযান শুরু করার আগে বিপক্ষকে দারুণ সমীহ করছেন এটিকে মোহনবাগানের হেড কোচ। সে কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ।বুধবার বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে নামার আগে হাবাস বলেন, এবছর বেঙ্গালুরু এফসি বেশ কয়েকজন নতুন বিদেশি ফুটবলার সই করিয়েছে। কোচিং স্টাফও পরিবর্তন করেছে। বেশ কয়েকজন ভাল স্বদেশি ফুটবলারও নিয়েছে। ফলে ওদের শক্তির তারতম্য ঘটেছে। তবে আমরা একে অপরকে চিনি। একসাথে অনেক ম্যাচ খেলেছি। এবার আরওও ভাল লড়াই হবে। হাবাস আরও বলেন, আগে কোথায় জিতেছি, সেকথা মাথায় রাখছি না। অতীত পরিসংখ্যান নিয়ে ভেবে লাভ নেই। এখন প্রতিটা ম্যাচেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। নতুন মাঠ, নতুন পরিবেশ। সব কিছুর সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। এএফসি কাপ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। সবাই নিজেকে প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হবে। যারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই সাফল্য পাবে। শনিবার মালদ্বীপে পৌঁছে যায় সবুজমেরুন শিবির। রবিবার থেকে কৃত্রিম ঘাসের মাঠে অনুশীলনে নেমে পড়েছেন রয় কৃষ্ণা, ব্র্যাড উইলিয়ামসরা। হোটেল থেকে প্রায় ২০ মিনিট দুরে অনুশীলনের মাঠ। এটিকে মোহনবাগান ফুটবলারদের জলপথে অনুশীলনে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে আয়োজকরা।

আগস্ট ১৬, ২০২১

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

ডিজিটাল ক্লাস থেকে খুদেদের প্রাতরাশ, জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে মনোনীত বর্ধমানের পলাশ

শুধু চক-ডাস্টার আর পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষাকে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে খুদে পড়ুয়াদের কাছে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশ, পরিবারের ভূমিকা এবং পুষ্টির দিকেও তাঁর নজর। এই বহুমুখী উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবেই চলতি বছর জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।এ বছর পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুজন শিক্ষক জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। প্রায় আট বছর পর সেই তালিকায় বর্ধমানের কোনও স্কুলশিক্ষকের নাম উঠে আসায় খুশি পড়ুয়া থেকে অভিভাবকসকলেই। এর আগে ২০১৮ সালে বর্ধমানের কাঞ্চননগর ডি এন দাস হাইস্কুলের শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দত্ত জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পেয়েছিলেন।পলাশ চৌধুরীর শিক্ষাদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তির ব্যবহার। শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ডিজিটাল ছবি ও লেখার সাহায্যে বিভিন্ন বিষয় পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হয়। কঠিন বিষয়কে সহজ করে বোঝাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিও কাজে লাগানো হয়েছে। মহাকাশ কিংবা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয়গুলিকে ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পাচ্ছে পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, এর ফলে শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ এবং জানার কৌতূহল দুটোই বেড়েছে।শিক্ষার বাইরেও পড়ুয়াদের ব্যক্তিত্ব বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। স্কুলের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা পড়ুয়াদের পুরস্কৃত করা হয় না। সেরা হাতের লেখা, উদীয়মান প্রতিভা কিংবা ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ-এর মতো নানা বিভাগে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে শিশুদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিভা ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।পড়ুয়াদের সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকেও সামনে এনেছেন পলাশবাবু। সন্তানদের সারা বছর পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের দেওয়া হয় সেরা আপনজন সম্মান। তাঁর মতে, একটি শিশুর সাফল্যের পিছনে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই তাঁদের অবদানকেও সম্মান জানানো প্রয়োজন।প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও স্কুলের উদ্যোগ রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, অনেক অভিভাবক সরাসরি সন্তানদের পড়াশোনায় সাহায্য করতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা জানলে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করা তাঁদের পক্ষে সহজ হবে।তবে পলাশ চৌধুরীর উদ্যোগ শুধু শ্রেণিকক্ষ কিংবা প্রযুক্তির মধ্যেই থেমে নেই। পড়ুয়াদের শারীরিক পুষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে স্কুলে। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় চালু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক শিশু সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, পড়ুয়াদের প্রতিভার স্বীকৃতি, অভিভাবকদের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের পুষ্টির প্রতি নজর, সব মিলিয়ে বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন পলাশ চৌধুরী। আর সেই কাজেরই স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারের মনোনয়ন তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করেছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
দেশ

আরও বাড়তে পারে গঙ্গার জল, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকায় উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ফরাক্কা থেকে সামশেরগঞ্জ, সুতী, লালগোলা, জিয়াগঞ্জ হয়ে জলঙ্গী পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার উপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা আসায় ভয় আরও বাড়ছে স্থানীয়দের।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার ছাড়িয়ে বর্তমানে ২২.৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে জলস্তর আরও বেড়ে ২২.৮৫ মিটারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নেপালে সাম্প্রতিক ধ্বংসাত্মক হড়কা বানের জেরে অতিরিক্ত জল গণ্ডক নদী হয়ে পাটনায় গঙ্গায় মিশছে। বিহারের পাটনা ও রাজমহল হয়ে সেই জল ফরাক্কায় পৌঁছনোর কারণেই দ্রুত জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ফরাক্কা ব্যারেজের জেনারেল ম্যানেজার আরডি দেশপান্ডে জানিয়েছেন, আপস্ট্রিম থেকে আসা জলের মধ্যে ফরাক্কার ফিডার ক্যানাল দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ফরাক্কার ডাউনস্ট্রিমে প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ কিউসেক জল প্রবাহিত হচ্ছে।সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আধিকারিক সঞ্জীব কুমার জানিয়েছেন, বিকেল ৩টের সময় গঙ্গার জলস্তর ২২.৭৭ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। বিপদসীমার তুলনায় যা অনেকটাই বেশি। তাঁর কথায়, জলস্তর এখনও ঊর্ধ্বমুখী এবং পাটনা ফোরকাস্ট স্টেশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল রাত ৮টার মধ্যে তা ২২.৮৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। নেপালের হড়কা বানের প্রভাবেই এই জলবৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত শহরে জল ঢোকার কোনও রেকর্ড নেই এবং পরিস্থিতি সেফ জোনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রশাসন ও রাজ্য সরকারকে জানানো হচ্ছে। ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী জানিয়েছেন, জলস্তর বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও ব্লক প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।তবে প্রশাসনের সতর্কবার্তায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। ফরাক্কার গঙ্গাপাড়ের বাসিন্দা শরৎ হালদার বলেন, প্রশাসনের দফতর থেকে বারবার সাবধান থাকার মেসেজ আসছে। তাঁর আশঙ্কা, আরও এক মিটার জল বাড়লেই নালা দিয়ে গ্রামে জল ঢুকে পড়তে পারে। টিনের ঘরবাড়িতে বসবাসকারী গরিব মানুষজন বন্যা হলে কোথায় যাবেন, কীভাবে থাকবেনসেই চিন্তাতেই এখন রাত কাটছে তাঁদের।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানির শিল্পমহল শিল্পস্থাপনে যথেষ্ট আগ্রহী, দাবি মন্ত্রী তাপস রায়ের

রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল আগ্রহী বলে দাবি করেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং জাপান, মিতসুবিশি-সহ বিভিন্ন দেশের শিল্পপতি ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে সেমিকন্ডাক্টর হাব, ডেটা সেন্টার, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে একটি শক্তিশালী শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের হারানো শিল্পগৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। রাজ্যের শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। শিল্পনীতি, ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড পলিসি, ইনসেন্টিভ স্কিম এবং Single Window ব্যবস্থাকে কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন GoM বৈঠকের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও তিনি জানান।রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরও কিছু ক্ষেত্রে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছে। এই প্রসঙ্গে তাপস রায় সরকারের Zero Tolerance নীতির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে যে কোনও ধরনের বেআইনি তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেট কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ করবে। অতীতে এই ধরনের কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইন অমান্য করে কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।এদিন ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসে হানা দেয় কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ। ওই অফিসে বসেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনও তিনি ও ডেরেক ওব্রায়েন অফিসে ছিলেন। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের আইনানুগ দায়িত্ব পালন করবে। সেই কাজে বাধা সৃষ্টি করলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-সহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
কলকাতা

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরে পুরসভার হানা, ভেঙে ফেলা হল তৃণমূলের সাইনবোর্ড! ধস্তাধস্তি, আটক ১২

তৃণমূলের দ্বিতীয় ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরকে ঘিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল কলকাতায়। ৯, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ছাদে থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডকে বেআইনি বলে অভিযোগ তুলে সেটি খুলে দিল কলকাতা পুরসভা। অভিযান ঘিরে পুরকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ-পুরসভার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুলিশের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পুরসভাকে জানায়, অভিষেকের দফতরের মাথায় লাগানো ওই বড় বিলবোর্ডটি নিয়ম মেনে বসানো হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের আধিকারিকেরা বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছন।খবর পেয়ে দফতরে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন-সহ কয়েক জন। পুরসভার আধিকারিকেরা যে নির্দেশের কপি নিয়ে এসেছিলেন, তার বৈধতা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্ক-বিতর্কের পর প্রথম দফায় পুরকর্মীরা ফিরে যান।কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দফতরে পৌঁছন পুরসভার আধিকারিকেরা। এ বার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনী হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে। যে অংশে সাইনবোর্ডটি ছিল, সেখানে যাওয়ার পথে বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।অভিযোগ, তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-কর্মী সিঁড়িতে বসে বা শুয়ে পড়ে পুলিশ ও পুরকর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির সময় কয়েক জন পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ছাদে পৌঁছন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেই খুলে ফেলা হয় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা সাইনবোর্ডটি। পরে তার ভাঙা অংশ ছাদেই পড়ে থাকতে দেখা যায়।এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়। ঘটনাস্থল থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি এবং রাজ্যের বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুরসভার মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।অভিষেক বলেন, তৃণমূলকে মিটিং-মিছিলের অনুমতি না দেওয়া, দলের নেতাদের আক্রমণ করা এবং পার্টি অফিস ও বিলবোর্ড ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, ঘাসফুলকে যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন তিনি।অভিষেকের আরও অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই এলাকায় ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানের উপরে একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে। অথচ শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডকেই কেন নিশানা করা হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বেআইনি নির্মাণ ও অন্যান্য অবৈধ বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটছে তৃণমূল। অভিষেকের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ ও পুরসভার ভূমিকার বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করা হবে। ইতিমধ্যেই বিষয়টি আদালতে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি শুক্রবার বিষয়টি মেনশন করার অনুমতি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।অন্যদিকে, এর আগে ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের সাংসদ কার্যালয়ের একাংশ বেআইনি নির্মাণ-এর অভিযোগে প্রশাসনের তরফে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনাও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার পর এ বার খোদ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরের দলীয় সাইনবোর্ড ভাঙাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল।ঘটনাস্থলে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি অবশ্য তেমন ছিল না। খবর ছড়ালেও বড় কোনও জমায়েত দেখা যায়নি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যার পর থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটে বাহিনী বাড়িয়ে দেয়। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজায় বিরোধী শিবিরও পিছিয়ে থাকেনি। অভিষেকের দফতরে পুলিশের অভিযান প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, অভিষেক উচ্চমার্গের চার্টার্ড মাফিয়া। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো সময় তাঁর নেই।সব মিলিয়ে, এক সময় তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ৯, ক্যামাক স্ট্রিট এখন নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। একটি সাইনবোর্ড অপসারণকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, ১২ জনকে আটক এবং আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিসব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা, উদ্বেগে একাধিক পরিবার

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকের পরিবারে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে যাওয়া রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা ছাড়াও হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং এবং উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দারা রয়েছেন।বুধবার নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ হড়পা বান নামে। ভোটেকোশী নদীর জল আচমকা ফুলে ওঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিপর্যয়ের জেরে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। সেই নিখোঁজদের তালিকাতেই রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া পর্যটকেরা।কলকাতা থেকে নেপাল, তারপর আর কোনও খোঁজ নেইকলকাতার নাকতলা ও কসবার দুই বাসিন্দা রিনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুস্মিতা ভট্টাচার্যও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। দুজনেই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন।২১ অগস্ট একটি ৩০ জনের দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন সুস্মিতা। কাঠমান্ডু পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর দলটি কেরুং হয়ে তিব্বত সীমান্তের দিকে এগোয়। সেখান থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ দিকে হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর পুত্রবধূ।একই ভাবে ২১ অগস্ট নেপালে যাওয়া রিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবার। ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূওনিখোঁজ পর্যটকদের তালিকায় রয়েছেন প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। গত ২১ অগস্ট একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালে গিয়েছিলেন তিনি। বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।স্বামী শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।সোনারপুরের লোপামুদ্রারও সন্ধান নেইদক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও নিখোঁজ। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, চিন সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন।২১ অগস্ট ৩০ জনের একটি দলের সঙ্গে নেপাল যান লোপামুদ্রা। বুধবার সকালেও পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। এরপর থেকেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।দুর্গাপুরের দুই দম্পতিকে ঘিরে উৎকণ্ঠাপশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর থেকেও একাধিক পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। অম্বুজা টাউনশিপের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ অগস্ট কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপাল যান। দেবাশিস দুর্গাপুর ইস্পাত হাসপাতালের কর্মী এবং সঙ্ঘমিত্রা শিক্ষক।একই সঙ্গে দুর্গাপুরের তপোবন সিটি এলাকার বাসিন্দা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় ও মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।বসিরহাটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দম্পতিও নিখোঁজউত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডলও নেপালে গিয়ে নিখোঁজ। দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। ফলে পরিবারের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।তারকেশ্বরের পর্যটকদের নিয়েও দুশ্চিন্তাহুগলির তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত এবং একই এলাকার ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালও ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। পরিবারের দাবি, বুধবার তিব্বত সীমান্ত পেরোনোর কথা ছিল তাঁদের।স্নেহাশিসের স্ত্রী সোমা দত্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা অভিবাসন দফতরের দিকে যাচ্ছেন। এরপর থেকেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শিলিগুড়ির সমরের খোঁজে কাঠমান্ডু পাড়ি দাদারদার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শান্তিনগর-বউবাজার এলাকার বাসিন্দা সমর মণ্ডলও নিখোঁজ। ১৬ অগস্ট একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শেষ বার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়।কৈলাস যাত্রার পথে তাঁর শারীরিক অসুস্থতাও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বুধবার কাঠমান্ডু ফিরে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বিপর্যয়ের পর আর কোনও খবর না মেলায় ভাইয়ের খোঁজে তাঁর দাদা ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।৬৮ বছরের অনিতাকে ঘিরেও উৎকণ্ঠাহাওড়ার আন্দুল হাটগাছা এলাকার ৬৮ বছরের অনিতা দাসও নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বলে পরিবার জানিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাওয়ার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল তাঁর।মঙ্গলবার সকালে ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল অনিতার। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁরা সীমান্তের কাছাকাছি রয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ।প্রশাসনের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে পরিবারনেপালের বিপর্যয়ের পর একের পর এক পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে বাংলার বিভিন্ন পরিবারে। কেউ শেষ ফোনকলের অপেক্ষায়, কেউ আবার আত্মীয়ের খোঁজে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত উৎকণ্ঠা কাটছে না পরিবারগুলির। উদ্ধারকাজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরাকখন আসে বহু প্রতীক্ষিত সেই ফোন, সেই আশাতেই দিন গুনছেন স্বজনেরা।

আগস্ট ২৭, ২০২৬
রাজ্য

৩১ অগস্টের পরেও কি থাকবে চাকরি? ২৬ হাজার মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলায় আপাতত বড় স্বস্তি পেলেন যোগ্য প্রার্থীরা। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে। ফলে নতুন করে শুনানি এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাকরি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে না।২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল শীর্ষ আদালত ২০১৬ সালের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের নির্ভুল ভাবে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সংকটের কথা মাথায় রেখে যোগ্য শিক্ষকদের সাময়িক ভাবে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাঁদের চাকরি বহাল থাকার কথা ছিল। একই সঙ্গে নতুন করে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আদালতের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের বক্তব্য, এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হলে যোগ্য শিক্ষকরা ফের চাকরি হারানোর আশঙ্কায় পড়বেন।এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে জানানো হয়েছে, নতুন অন্তর্বর্তী আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। ফলে আপাতত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য স্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি হল।তবে এই নির্দেশকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২৬ হাজার চাকরি মামলায় যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ। ফলে আপাতত স্বস্তি মিললেও পুরোপুরি অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আগস্ট ২৫, ২০২৬
রাজ্য

লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? বিষয়টা হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী। আসল অভিমুখের সমস্যা দেখুন।

মানবিক আচরণ করুন, পার্কস্ট্রিটের ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে কুণালফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই পার্কস্ট্রিটের ওই ফুটপাথবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এদিন তিনি ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সঙ্গে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশের কাছেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আবেদন জানান তিনি।কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ফুটপাথে বসবাসকারী মানুষও সমাজেরই অংশ। তাঁদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও মানবিক আচরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও পরিবারের শিশু, মহিলা বা অসহায় সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত বলেই মনে করেন তিনি।অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ ও মন্তব্য প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্যের মূল সুর ছিলকোনও সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অসহায় মানুষকে হেয় বা অপমান করা উচিত নয়। ফুটপাথে কেন কোনও পরিবারকে থাকতে হচ্ছে, সেই বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক সমস্যাটিও প্রশাসনকে দেখতে হবে। সামাজ মাধ্যমে এক ব্যক্তির প্রশ্নের উত্তরে কুনাল ঘোষ লেখেন, দিল্লী বা লন্ডনের রাস্তায় ভিক্ষুক কেন? রাস্তায় ভিক্ষুক এ বিষয়টার থেকেও গুরুত্বপূর্ন হল মন্ত্রীর বাচনভঙ্গী বলেন কুনাল ঘোষ।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম ও তৃণমূল শিবির থেকে অগ্নিমিত্রা পালের সমালোচনা শুরু হয়েছে। বাম নেত্রী কনীনিকা ঘোষও পুরমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করেছেন।যদিও রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই অগ্নিমিত্রা পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি। তাঁর দাবি, ওই পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই পুরমন্ত্রী পদক্ষেপ করেছিলেন। বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।ফলে ফুটপাথে শিশুর দুধ গরম করা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমেই রাজনৈতিক তরজায় পরিণত হয়েছে। একদিকে ফুটপাথবাসী পরিবারের প্রতি মানবিক আচরণের দাবি, অন্যদিকে তাঁদের নিরাপত্তার যুক্তিদুই ভিন্ন অবস্থানকে ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

আগস্ট ২৪, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

যুবভারতীতে লাল-হলুদ ঝড়, বাগানকে উড়িয়ে ২২ বছর পর ডুরান্ড ইস্টবেঙ্গলের

২২ বছরের অপেক্ষার অবসান। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফের ট্রফি ঘরে তুলল ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির মঞ্চে এমন একতরফা জয় যে লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছেও ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। আর সেই জয়ের কেন্দ্রে একটাই নামএডমুন্ড লালরিনডিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে তিনিই হয়ে উঠলেন রাতের নায়ক।গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে হারের যন্ত্রণা ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ফাইনালের মঞ্চে সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু জবাবটা যে এতটা নির্মম হবে, তা সম্ভবত কেউই ভাবেননি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ইস্টবেঙ্গল কার্যত ম্যাচের ভাগ্য লিখে ফেলে।শুরুটা করেন বিপিন সিংহ। মোহনবাগানের রক্ষণ তখনও নিজেদের মধ্যে সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সেই সুযোগেই ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ পৌঁছে যায় বিপজ্জনক জায়গায়। বিপিনের গোলের পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে লাল-হলুদ আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যে জোড়া গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন এডমুন্ড।৩-০ পিছিয়ে গিয়ে মোহনবাগান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। মনবীর সিংহ ব্যক্তিগত দক্ষতায় একটি গোল শোধও করেন। কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ফের গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন এডমুন্ড। এক ফাইনালের প্রথমার্ধেই চার গোলতার মধ্যে তিনটি একই ফুটবলারের! যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন কার্যত লাল-হলুদ উৎসব।দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে। সবুজ-মেরুন আক্রমণে সেই ধার দেখা যায়নি, যা একটি ডার্বি ফাইনালে প্রত্যাশিত। বরং ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে এসেছে এবং আরও গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ স্কোরলাইনেই শেষ হয় ম্যাচ।ইস্টবেঙ্গলের সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের সামগ্রিক সংগঠন। মাঝমাঠে মহম্মদ রশিদ ছিলেন অসাধারণ। বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং খেলা পরিচালনায় বারবার তিনি মোহনবাগানের ছন্দ নষ্ট করেছেন। তাঁর সঙ্গে জিকসন সিংহ, আনোয়ার আলি এবং জয় গুপ্তারাও নিজেদের দায়িত্ব নিখুঁত ভাবে পালন করেন।অন্যদিকে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায় রক্ষণ। শুভাশিস বসু, আলবের্তো রদ্রিগেজ়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বারবার প্রকট হয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের দ্রুত আক্রমণের সামনে তাঁরা অনেক সময়ই দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণভাগের ভুল চোখে পড়ার মতো।মাঝমাঠেও মোহনবাগান প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেনি। আপুইয়া এবং অনিরুদ্ধ থাপা কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। মনবীর গোল করলেও দলকে ম্যাচে ফেরানোর মতো ধারাবাহিকতা তৈরি করতে পারেননি।ফাইনালের আগে মোহনবাগানের ক্লান্তি নিয়ে আলোচনা ছিল। শিলংয়ে সেমিফাইনাল, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কর্দমাক্ত মাঠে খেলার ধকলসবই ছিল। কিন্তু ডার্বির মতো বড় ফাইনালে সেই ক্লান্তিকে অজুহাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইস্টবেঙ্গলও একই টুর্নামেন্টের চাপ সামলে মাঠে নেমেছিল, অথচ তাদের ফুটবলারদের মধ্যে ছিল অনেক বেশি তাগিদ, ক্ষুধা এবং জয়ের মানসিকতা।আর সেই মানসিকতারই সবচেয়ে বড় প্রতিফলন এডমুন্ডের হ্যাটট্রিকে। তিন গোল করে শুধু ম্যাচের সেরা ফুটবলারই হলেন না, ডুরান্ডের ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গলের প্রত্যাবর্তনের রাতটিকেও নিজের নামে লিখে দিলেন তিনি।মজার বিষয়, ম্যাচের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে মোহনবাগান কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও তার কোনও প্রভাব পড়েনি স্কোরলাইনে। কারণ ফুটবল শুধু বল দখল বা শটের সংখ্যা দিয়ে জেতা যায় নাবড় ম্যাচে প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। সেই পরীক্ষায় রবিবার সম্পূর্ণ সফল ইস্টবেঙ্গল।২২ বছর আগে শেষ বার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা এবং একের পর এক অসম্পূর্ণ স্বপ্ন। সেই অপেক্ষার অবসান হল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়েই। ফলে এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে এটি দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া গৌরবের রাত।একদিকে এডমুন্ডের হ্যাটট্রিক, অন্যদিকে মোহনবাগানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়সব মিলিয়ে যুবভারতীতে রবিবারের ডার্বি যেন হয়ে রইল এক লাল-হলুদ ঝড়ের রাত।তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে হয়তো শেষ পর্যন্ত একটাই আক্ষেপ থেকে গেলচার নয়, আরও কয়েকটি গোল হতে পারত!

আগস্ট ২৩, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal